জাতীয়

বিএনপি বেশি আসনে জিতবে, মনে করছেন ৬৬ শতাংশ মানুষ

খবর৭১ ডেস্ক, ডিসেম্বর ০৯, ২০২৫ 0

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি আসনে বিএনপি জয়ী হবে বলে মনে করেন দেশের ৬৬ শতাংশ মানুষ। নির্বাচন নিয়ে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান কিমেকারস কনসাল্টিং লিমিটেডের জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে।

জরিপের শিরোনাম ছিল, ‘গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক-রাজনৈতিক বিষয়ে জাতীয় জনমত জরিপ ২০২৫’।

এতে বলা হয়েছে, বিএনপির পরই জনগণের পছন্দের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে জামায়াতে ইসলামী।

জরিপে অর্ধেকের বেশি নাগরিকের মত, বিএনপি ক্ষমতায় এলে দেশের পরিস্থিতির উন্নতি হবে। পাশাপাশি প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মনে করেন, জামায়াতে ইসলামী জিতলেও দেশ ভালোভাবে পরিচালিত হবে।

‘সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোন দল সবচেয়ে বেশিসংখ্যক আসন পাবে’—এমন প্রশ্নে প্রায় ৬৬ শতাংশ মানুষ জানিয়েছে, বিএনপিই সবচেয়ে বেশি আসন জয়লাভ করবে। নারী-পুরুষ ও বিভিন্ন বয়সশ্রেণির অংশগ্রহণকারীদের মধ্যেও মতামতে তেমন পার্থক্য নেই। অন্যদিকে প্রায় ২৬ শতাংশের ধারণা, বেশি আসন পাবে জামায়াতে ইসলামী।

একই প্রশ্নে ৭ শতাংশের কিছু বেশি মানুষ আওয়ামী লীগের কথা বলেছেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের দল জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) বেছে নিয়েছেন শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ। আর ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কথা বলেছেন শূন্য দশমিক ১ শতাংশ অংশগ্রহণকারী। আর মাত্র শূন্য দশমিক ১ শতাংশ উত্তরদাতা জাতীয় পার্টির (জাপা) কথা বলেছেন।

নির্বাচনে কোন দল জয়ী হলে দেশের জন্য সবচেয়ে উপকার হবে—এমন প্রশ্নে প্রায় ৫৭ শতাংশ মানুষ বিএনপিকে সর্বোত্তম বলে মনে করেছেন। সাড়ে ৩২ শতাংশ মানুষ মনে করেছেন, জামায়াতে ইসলামী জয়ী হলে দেশের জন্য ভালো হবে।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগ জয়ী হলে দেশের ভালো হবে মনে করেন সাড়ে ৮ শতাংশ মানুষ। এনসিপি জয়ী হলে দেশ ভালো হবে বলে মনে করেছেন শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ মানুষ। পাশাপাশি জাতীয় পার্টি (জাপা) এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পক্ষে শূন্য দশমিক ১ শতাংশ মানুষ মত দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, জাতীয় দৈনিক প্রথম আলোর উদ্যোগে এ জরিপটি পরিচালনা করা হয়েছে। এতে দেশের ৫টি নগর এবং ৫টি গ্রাম বা আধা-শহর এলাকার ১৮-৫৫ বছর বয়সী মোট ১ হাজার ৩৪২ জনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তাদের মধ্যে পুরুষ ৬৭৪ জন এবং নারী ৬৬৮ জন ছিলেন। তথ্য সংগ্রহ করা হয় গত ২১-২৮ অক্টোবর।

জরিপকারী প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, এটি নির্দিষ্টভাবে কোনো নির্বাচনী এলাকার প্রতিনিধিত্ব করে না। এখানে এমন মানুষদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে যারা অনলাইন অথবা ছাপা পত্রিকা পড়তে পারেন। একই সঙ্গে তাদের আগামী নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। জরিপের ফলাফলের মাত্রা ৯৯ শতাংশ নির্ভরযোগ্য বলেও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

ছবি : সংগৃহীত
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে গুরুত্ব দিতে হবে: শ্রম উপদেষ্টা

শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, আধুনিক বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। আজ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ওপরই বিশ্বের অগ্রগতি নির্ভরশীল, আর এই ধারার সাথে তাল রাখতে রাষ্ট্রের জন্য প্রয়োজন যথাযথ দক্ষতাসম্পন্ন গ্র্যাজুয়েট।   শুক্রবার কুমিল্লার সিসিএন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সমাবর্তন ২০২৬ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপদেষ্টা এ সব কথা বলেন। গ্র্যাজুয়েটদের উদ্দেশ্যে উপদেষ্টা বলেন, জীবনে দ্রুত সফলতা কামনা করা স্বাভাবিক, কিন্তু প্রকৃত সফলতা আসে ধৈর্য, অধ্যবসায় ও আত্মবিশ্বাসের মাধ্যমে। নিজের দুর্বলতাকে চিহ্নিত করে সেটিকেই সফলতার দিকে অগ্রসর হওয়ার শক্তিতে রূপান্তর করতে হবে। জীবনের লক্ষ্য স্থির করে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে গেলেই সফলতার পথ খুঁজে পাওয়া যাবে। উপদেষ্টা সিসিএন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্জনকে শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের অগ্রগতি নয়, বরং প্রাতিষ্ঠানিক আস্থার প্রতিফলন হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, এই আস্থা গড়ে উঠেছে সময়, দায়িত্বশীল ব্যবস্থাপনা এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে, গ্র্যাজুয়েটদের সাফল্যের মাধ্যমে। এই আস্থা ধরে রাখাই ভবিষ্যতের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এবং এই দায়িত্ব এখন সমাবর্তনোত্তর গ্র্যাজুয়েটদেরই বহন করতে হবে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য, বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য ও শিক্ষকবৃন্দ, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ, বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান, সদস্য, উপাচার্য, উপ-উপাচার্য এবং মিডিয়ার প্রতিনিধিরা।   উল্লেখ্য, এই সমাবর্তনে ২০২৩ থেকে ২০২৫ সময়কালে বিভিন্ন অনুষদ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রিপ্রাপ্ত মোট ৩৫২ জন গ্র্যাজুয়েটকে ডিগ্রি দেওয়া হয়। সমাবর্তনে সর্বোচ্চ সিজিপিএ পেয়ে চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন দুইজন। এছাড়া, বিওটি অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন ২ জন, ভাইস চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন ৩ জন এবং ডিনস অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন ৭ জন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ২৪, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

গণভোট ২০২৬ : সংস্কারের পথে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন

ছবি: সংগৃহীত

লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসে ই-পাসপোর্ট সেবার শুভ উদ্বোধন

ছবি: সংগৃহীত

তারেক রহমান নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন : আসিফ মাহমুদ

ঢাকাস্থ ব্রিটিশ হাইকমিশন। ছবি : সংগৃহীত
নির্বাচনের আগে তিন জেলায় না যাওয়ার পরামর্শ যুক্তরাজ্যের

বাংলাদেশের তিন জেলা ভ্রমণ না করার জন্য পরামর্শ দিয়েছে যুক্তরাজ্য। সাম্প্রতিক পরিস্থিতি ও জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) যুক্তরাজ্যের ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস (এফসিডিও) এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করেছে। এতে বলা হয়েছে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এজন্য ২২ জানুয়ারি থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হয়েছে। এ সময়ে বেশকিছু এলাকায় জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ভ্রমণের বিরুদ্ধে পরামর্শ দিয়েছে এফসিডিও। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, এ সময়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ভ্রমণ না করতে বলা হয়েছে। এর কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব এলাকার প্রত্যন্ত অঞ্চলে সহিংসতা এবং অন্যান্য অপরাধমূলক কার্যকলাপের নিয়মিত খবর পাওয়া যায়। এই এলাকাটি নিম্নলিখিত জেলাগুলো নিয়ে গঠিত। এগুলো হলো রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি এবং বান্দরবান। সন্ত্রাসবাদ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাজ্যের ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস (এফসিডিও) বাংলাদেশে সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে সতর্কতা জারি করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, এই সময়ে সন্ত্রাসীরা হামলা চালানোর চেষ্টা করতে পারে। এসব হামলা নির্বিচারে ঘটতে পারে এবং বিদেশি নাগরিকদের যাতায়াতের স্থানও এর লক্ষ্য হতে পারে। এফসিডিওর মতে, সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে সরকারি ও বেসরকারি ভবন, রেস্তোরাঁ ও ক্যাফে, গণপরিবহন ব্যবস্থা, জনাকীর্ণ এলাকা, ধর্মীয় উপাসনালয় এবং রাজনৈতিক সমাবেশস্থল। সংস্থাটি স্মরণ করিয়ে দিয়েছে যে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থানের সময় দেশজুড়ে ব্যাপক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে, যাতে বহু মানুষ নিহত ও আহত হন। এফসিডিও জানায়, আগামী ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্থিতিশীল নয়। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নিয়মিত সভা-সমাবেশ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছে, যা দ্রুত সহিংস রূপ নিতে পারে এবং সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি করছে। সংস্থাটি দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির প্রতি সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে রাজনৈতিক সমাবেশ, বিক্ষোভ ও বড় জমায়েত এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে। কোথাও বিক্ষোভ শুরু হলে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলা, স্থানীয় গণমাধ্যমের খবর নিয়মিত অনুসরণ করা এবং ভ্রমণ সতর্কতা হালনাগাদ হলে ই-মেইল নোটিফিকেশন গ্রহণের পরামর্শও দিয়েছে এফসিডিও।  

মোঃ ইমরান হোসেন জানুয়ারী ২৩, ২০২৬ 0
বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের পতাকা। ছবি : সংগৃহীত

রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলায় মিয়ানমারের বক্তব্যে ক্ষুব্ধ বাংলাদেশ

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে : ড. এম সাখাওয়াত হোসেন

অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২ : সারাদেশে ২৪ ঘণ্টায় ৩২১ জন গ্রেফতার

ছবি: সংগৃহীত
সরকার গঠন করতে পারলে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করব : শফিকুর রহমান

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারলে উত্তরবঙ্গে প্রথম তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। শুক্রবার সন্ধ্যায় রংপুর পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে ১০ দলীয় ঐক্য জোট আয়োজিত নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জামায়াত আমির বলেন, নদী জীবন ফিরে পেলে উত্তরবঙ্গ জীবন ফিরে পাবে। তাই তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করলে কারো ভালো লাগে এবং কারো লাগবে না, এতে আমাদের কিছু যায় আসে না। আপনারা আমাদের দায়িত্ব দিলে, উত্তরবঙ্গে প্রথম তিস্তাতেই কোদাল বসাব। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, কোনো একক দলের শাসন আমরা চাই না, আমরা চাই জনগণের শাসন। যেখানে আলেম-ওলামা থাকবেন, দেশপ্রেমিক মানুষ থাকবেন-যারা দেশকে ভালোবাসেন, কিন্তু আধিপত্যবাদ মেনে নেবেন না। সবাইকে নিয়েই আগামীর বাংলাদেশ গড়ব, ইনশাল্লাহ। তিনি বলেন, আমরা সবাইকে নিয়ে কাজ করতে চাই। তবে কাজ করার জন্য তিনটি শর্ত মানতে হবে-নিজে দুর্নীতি করবেন না, কোনো দুর্নীতিবাজকে প্রশ্রয় দেবেন না এবং গরিব-ধনী, নারী-পুরুষ, সব ধর্ম ও বর্ণের মানুষের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। বিচার বিভাগ হবে সম্পূর্ণ স্বাধীন; সেখানে কোনো রাজনীতিবিদের হস্তক্ষেপ থাকবে না। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের মানুষ গত ১৭ বছর ফ্যাসিবাদী শাসনে নিষ্পেষিত ছিল। মানবিক যে অধিকার পাওয়ার কথা ছিল, তা পাওয়া হয় নাই। কানাডার বিশাল একটি জায়গায় শুধু পালিয়ে যাওয়া লোকেদের পরিবার থাকে। যেহেতু ওই সমস্ত জায়গায় তাদের বেগমরা থাকে, তাই নাম দিয়েছে বেগমপাড়া। এত লুটপাট করে কী লাভ হলো? শান্তি তো পেলেন না। আপনারা আলেম-ওলামাদের খুন করেছেন। একটা মার্কায় ভোট দেওয়ার জন্য একটা নারীকে ছিন্নভিন্ন করেছিলেন। আমাদের মা-বোনদের ইজ্জত আব্রু নিয়ে নোংরামি করার চেষ্টা করেছেন। ২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাকাণ্ড থেকে শুরু করে চব্বিশের ৫ আগস্ট পর্যন্ত অসংখ্য মানুষকে হত্যা, আহত, গুম করা হয়েছে। জামায়াত শিবিরকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। জামায়াতের ১১ জন সিনিয়র নেতাকে হত্যা করা হয়েছে। আমাদের এক হাজারের ওপরে নেতা-কর্মীকে খুন করা হয়েছে। শত শত মানুষকে গুম করে আয়নাঘরে নিয়েছিল। ৫ তারিখের পর আমাদের আশা ছিল শান্তিতে বসবাস করব। কিন্তু আমাদের আশায় গুড়ে বালি। রংপুরের মানুষ শান্তশিষ্ট। তারা অল্পে তুষ্ট। তারা সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, আমরা নিরীহ কোনো মানুষকে মামলা দিয়ে হয়রানি করি নাই। নিরপরাধ কারো নাম ঢুকে গেলে আমরা তাদের মুক্ত করে দিয়েছি। কাউকে ছাড়ানোর জন্য খাজনা চাই নাই। আমরা চাই চাঁদাবাজ, দুর্নীতিমুক্ত, অসৎ ও প্রতারকমুক্ত বাংলাদেশ। কোনো অসৎ, মজার মজার মিথ্যা ওয়াদা দিলে তাদের লাল কার্ড দেখাবেন। এই দেশে আমরা চারটি ধর্মের মানুষ বসবাস করি। আল্লাহ আমাদের নিজ ইচ্ছায় এই দেশে পাঠিয়েছে। আল্লাহ সকল ধর্মের মানুষের জন্য রিজিকের ব্যবস্থা করেছেন। কোনো মুসলমান অন্য কোনো ধর্মের কোনো ক্ষতি করতে পারে না। আমরা বাংলাদেশকে পাকিস্তান, আফগানিস্তান বা ইরান বানাতে চাই না। আমরা বাংলাদেশকে প্রিয় গর্বের বাংলাদেশ হিসেবে তৈরি করতে চাই। কোনো বেকার ভাতা দিতে চান না-উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, বেকারভাতা বেকারের কারখানা তৈরি করে। আমরা নারী-পুরুষকে কাজ দিতে চাই। আমরা দেশের নারী-পুরুষকে সম্পদে পরিণত করতে চাই। আমাদের সকলের ঘরে মা-বোন আছে। সুতরাং নারীরা ঘরের পাশাপাশি বাইরেও সম্মানের সাথে কাজ করতে পারবে। রাসূল (সা.)-এর সময় নারীরা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিল। নারী কোন ধর্মের, আমরা তা দেখব না। আমরা দেখব কতটুকু যোগ্যতাসম্পন্ন। যোগ্যতা অনুযায়ী আমাদের মা-বোনদের সম্মানজনক কাজ দেওয়া হবে। জামায়াত আমির আরও বলেন, আমাদের সাথে সবাই আসতে পারবেন। তবে আসতে হলে তিনটি শর্ত মানতে হবে। প্রথমত, দুর্নীতি করা যাবে না। দ্বিতীয়ত, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ইচ্ছা থাকতে হবে; বিচার ব্যবস্থায় কোনো হস্তক্ষেপ করা যাবে না। তৃতীয়ত, গত ৫৪ বছরের বস্তাপচা রাজনীতি বাদ দিয়ে আসতে হবে। গত ৫৪ বছরের রাজনীতি দেশকে শুধু পেছনের দিকে নিয়ে গিয়েছে। আমরা উত্তরবঙ্গকে কৃষিশিল্পের রাজধানীতে পরিণত করব ইনশাআল্লাহ। উত্তরবঙ্গে প্রয়োজনে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করব। আমরা বলেছিলাম, কারো কোনো ক্ষতি করব না, আমরা করি নাই। উত্তরবঙ্গ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ সৃষ্টির পর থেকে উত্তরবঙ্গ গরিব ছিল না; ইচ্ছাকৃতভাবেই এই অঞ্চলকে পিছিয়ে রাখা হয়েছে। সৎ মায়ের সন্তানের মতো আচরণ করা হয়েছে, অথচ এই উত্তরবঙ্গই দেশকে খাদ্য ও পুষ্টি জোগান দেয়। আগামী দিনে উত্তরবঙ্গ থেকে আর কোনো বেকারের মুখ দেখতে চাই না। প্রত্যেক যুবক-যুবতীকে মর্যাদার কাজের মাধ্যমে দেশ গড়ার কারিগর বানানো হবে। বন্ধ থাকা চিনিকলগুলো চালু করে শ্রমিকদের কর্মসংস্থানে ফিরিয়ে আনা হবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন।  জামায়াত আমির বলেন, আমাদের কোনো কার্ড নেই-আপনারাই আমাদের কার্ড। আপনাদের ভালোবাসা, সমর্থন ও দোয়ায় দয়ার পাত্রমুক্ত একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই। তিনি দাবি করেন, বিপদের সময় দেশবাসীকে ফেলে আমরা কোথাও যাইনি, ভবিষ্যতেও যাব না। স্বাস্থ্যসেবা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, উন্নত চিকিৎসার জন্য উত্তরবঙ্গের মানুষকে ঢাকামুখী হতে হয়, যা সবার পক্ষে সম্ভব নয়। জামায়াত সরকার গঠনের সুযোগ পেলে দেশের কোনো জেলাই মেডিকেল কলেজবিহীন থাকবে না। ঠাকুরগাঁওয়েও একটি মেডিকেল কলেজ স্থাপন করা হবে। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা একা বাংলাদেশ গড়তে পারব না। তাই এবার শুধু জামায়াতে ইসলামী নয়, বাংলাদেশের মুক্তিকামী ১০ দলের জোটকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করতে হবে। জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেই নতুন বাংলাদেশ গড়তে হবে। বেকার ভাতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনেকে ক্ষমতায় গেলে বেকার ভাতা দেওয়ার কথা বলছেন। আমরা কারও হাতে অসম্মানের চাবি তুলে দিতে চাই না; আমরা সম্মানের কাজ তুলে দিতে চাই। ৫৪ বছরের রাজনৈতিক বাস্তবতা তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, বস্তাপচা রাজনীতি, দুর্নীতি ও দুঃশাসনে দেশকে ডুবিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই ব্যবস্থা বদলাতে হবে, বৈষম্যের অবসান ঘটাতে হবে। অর্থনৈতিক দুর্নীতির বিষয়ে তিনি আরও বলেন, দেশ থেকে চুরি করে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধার করা হবে এবং ভবিষ্যতে কাউকে আর লুটপাট করতে দেওয়া হবে না। ভোটাধিকার নিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ভোট দিতে না পারা মানুষের অধিকার রক্ষায় সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। বৈষম্য, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও স্বৈরতন্ত্রের অবসান না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। জামায়াত নেতা এ টি এম আজহার, এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি সিবগাতুল্লাহ সিবগা, ৬টি সংসদীয় আসনের জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী এবং ১০ দলীয় জোটের নেতারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জানুয়ারী ২৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

‘হ্যাঁ’ ভোট মানেই গণতন্ত্র ও ইনসাফের পক্ষে অবস্থান : ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব

ছবি : সংগৃহীত

পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রতি আইজিপির কড়া নির্দেশনা

সংগৃহীত ছবি

পোস্টাল ব্যালট সংরক্ষণে ইসির নির্দেশনা জারি

0 Comments