গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর গঠিত তদন্ত কমিশন জানিয়েছে, বিডিআর হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের তারা চিহ্নিত করেছে এবং পরবর্তী পদক্ষেপ এখন সরকারের হাতে। কমিশনের প্রধান জানান, সেনাবাহিনীকে দুর্বল করা ও ক্ষমতা ধরে রাখার উদ্দেশ্যেই এ ঘটনা ঘটানো হয়েছিল। তদন্তে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রীসহ একটি রাজনৈতিক দলের কয়েকজন নেতা এবং প্রতিবেশী দেশের সম্পৃক্ততার কথাও পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়।
কমিশনের প্রতিবেদন জমা পড়ার পর সরকারের পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করা হলেও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এদিকে আইন বিশেষজ্ঞদের মত হলো নতুন করে মামলা করার সুযোগ নেই। তবে আদালত চাইলে তদন্ত পুনরায় শুরু হতে পারে, কারণ কমিশনের প্রতিবেদন আদালতে সরাসরি গ্রহণযোগ্য নয়। অন্যদিকে, কূটনৈতিক বিচারে প্রতিবেদনটির কিছু অংশ দুই দেশের সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিডিআর বিদ্রোহে নিহতদের পরিবার তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ, দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে। তারা বলছেন, হত্যা মামলার বিচার যেমন চলছে তা অব্যাহত থাকবে এবং নতুন করে যাদের অভিযুক্ত করা হয়েছে তাদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে।
অন্যদিকে বিডিআর কল্যাণ পরিষদের একাংশ দাবি করেছে যে সাধারণ বিডিআর সদস্যরা এ ঘটনায় জড়িত নন; তাই যারা সাজা ভোগ করছেন তাদের মুক্তি ও ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। বিস্ফোরক আইনের মামলায় এখনো যারা আটক রয়েছেন তাদের জামিনের দাবি জানানো হয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদনের মূল বিষয়গুলো
কমিশনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বিডিআর হত্যাকাণ্ডের মূল সমন্বয়কারী ছিলেন তৎকালীন এক সংসদ সদস্য। আরও কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা, নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ ব্যক্তি এবং সেনাবাহিনীর সাবেক কিছু কর্মকর্তা ঘটনার সাথে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেই সময় প্রায় ৯০০ এর বেশি বিদেশি নাগরিক বাংলাদেশে প্রবেশ করেছিলেন, যাদের মধ্যে কয়েক ডজনের অবস্থান স্পষ্ট নয়। বিষয়টি তদন্ত করার এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দেশের কাছে জানার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
কমিশন জানিয়েছে, প্রাপ্ত তথ্যপ্রমাণ যথেষ্ট এবং যাদের জড়িত পাওয়া গেছে তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে বিচার প্রক্রিয়া চালানোর সুপারিশ করা হয়েছে।
পরবর্তী আইনগত পরিস্থিতি
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বিডিআর হত্যাকাণ্ডের মামলা ইতোমধ্যে উচ্চ আদালতে বিচারাধীন থাকায় নতুন মামলা বা পুরোনোটির বাতিল হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। প্রয়োজন হলে আদালত আবার তদন্তের নির্দেশ দিতে পারেন, তবে তাতে পূর্ববর্তী রায় স্থগিত হয়ে যাবে যা অনেক জটিলতা তৈরি করবে।
পরিবারের অবস্থান
শহীদ পরিবারগুলো চাইছে কমিশনের প্রতিবেদন যাতে প্রকাশ করা হয় এবং যাদের নাম এসেছে তারা যেন আইনের বাইরে না থাকে। পাশাপাশি তারা নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি তুলেছে।
বিডিআর হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপট
২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি সকালে বিডিআরের বার্ষিক দরবার চলাকালে হঠাৎ বিদ্রোহ শুরু হয়। বিদ্রোহী সদস্যরা তৎকালীন মহাপরিচালকসহ বহু সেনা কর্মকর্তাকে হত্যা করেন এবং তাদের পরিবারকে জিম্মি করে রাখেন। ৩৬ ঘণ্টার ভয়াবহ ঘটনার পর পিলখানায় গণকবর ও বহু বেসামরিক এবং সামরিক সদস্যের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।
এই ঘটনায় একাধিক মামলা হয় একটি বিস্ফোরক আইনে এবং একটি হত্যা মামলায়। হত্যা মামলায় বিচারিক আদালত ১৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ড, বহুজনকে যাবজ্জীবন এবং আরও অনেকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেন। পরে উচ্চ আদালত বেশিরভাগ রায় বহাল রাখে। বিস্ফোরক আইনের মামলা এখনো বিচারাধীন।
বিদ্রোহের পর বিডিআর এর নাম পরিবর্তন করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) রাখা হয় এবং হাজারো সদস্যের অভ্যন্তরীণ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
চলতি অর্থবছরের নভেম্বর পর্যন্ত জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব ঘাটতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪ হাজার কোটি টাকা। ডিসেম্বর পর্যন্ত ঘাটতি আরও বেড়ে ৪৬ হাজার কোটি টাকা হয়েছে। প্রস্তাবিত নতুন বেতনকাঠামোয় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল বেতন হবে সর্বনিম্ন ২০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। এক্ষেত্রে বর্তমান কাঠামোর চেয়ে ১০০ থেকে ১৪৭ শতাংশ পর্যন্ত বেতন-ভাতা বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। অর্থাৎ কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিদ্যমান বেতন-ভাতার চেয়ে দ্বিগুণের বেশি বাড়বে। আর এ সুপারিশ বাস্তবায়ন করতে হলে সরকারকে অতিরিক্ত ব্যয় করতে হবে ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা। তবে বেতনের ধাপ শেষ পর্যন্ত ২০টিই থাকছে। বুধবার (২১ জানুয়ারি) অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে বেতন কমিশনের জমা দেওয়া প্রতিবেদনে সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন ২৩ সদস্যের বেতন কমিশন এই সুপারিশ করেছে। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বুধবার এই প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী ও অর্থ সচিব খায়রুজ্জামান মজুমদারসহ কমিশনের সদস্যরা। সরকার পে-কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনা করে বেতন-ভাতা বৃদ্ধির পরিমাণ চূড়ান্ত করতে একটি কমিটি গঠন করবে। এরপর ওই প্রস্তাব নিয়ে উপদেষ্টা পরিষদে আলোচনা শেষে চূড়ান্ত পে-স্কেল অনুমোদন করা হবে। তবে জাতীয় নির্বাচনের মাত্র তিন সপ্তাহ আগে বিষয়টির সুরাহা হচ্ছে না। অন্তর্বর্তী সরকার হয়তো পর্যালোচনা কমিটি গঠন করে যেতে পারবে। কিন্তু সবকিছু চূড়ান্ত হবে পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের মেয়াদে। কার্যত সরকারি কর্মচারীদের বিশাল ব্যয় বৃদ্ধির চাপ পড়বে নির্বাচিত সরকারের ওপর। অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, বেতন কমিশন ১৪৭ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করেছে। এটি অত্যন্ত অযৌক্তিক এবং অস্বাভাবিক। বেতন বৃদ্ধির এ সুপারিশ অত্যন্ত বেশি। এর আগে কোনো কমিশন এই হারে বেতন বাড়ানোর সুপারিশ করেনি। এই সুপারিশ আর্থিক শৃঙ্খলা নষ্ট করবে। তিনি বলেন, এই পরিমাণ ব্যয়ের ভার বহন করার সক্ষমতা দেশের অর্থনীতির নেই। এর ফলে পরবর্তী সরকারের ওপর চাপ তৈরি হবে। বেসরকারি খাতেও চাপ বাড়বে। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে দেশের অর্থনীতি এক দুষ্টচক্রের মধ্যে রয়েছে। কারণ রাজস্ব বাজেটের ৭০ শতাংশ চলে যায় বেতন-ভাতায়। ২৫ শতাংশ যায় ঋণের সুদ পরিশোধে। এ অবস্থায় বেতন কমিশনের এই সুপারিশ বাস্তবায়ন হলে এর পরিমাণ আরও বাড়বে। এ কারণে সুপারিশ বাস্তবায়ন আরও বিলম্ব করা উচিত। তার মতে, সরকারি চাকরিজীবীদের আকার আরও ছোট করতে হবে। কারণ দেশে এতগুলো মন্ত্রণালয় দরকার নেই। মন্ত্রণালয়গুলো দিয়ে শুধু ব্যয় বাড়ানো হচ্ছে। বেতন বাড়ানোর আগে অবশ্যই এই বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। পে-কমিশনের সুপারিশ করা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সরকারি চাকরিজীবীরা আগের মতো ২০টি স্কেলেই বেতন পাবেন। সর্বনিম্ন বেতন স্কেল (মূল বেতন) ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন স্কেল ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে এক লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। কমিশনপ্রধান জাকির আহমেদ খান বলেন, প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়ন করতে হলে অতিরিক্ত এক লাখ ৬ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে। বর্তমানে ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগীর জন্য সরকারের ব্যয় হচ্ছে এক লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা। কমিশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীদের জন্য স্বাস্থ্যবিমা প্রবর্তন, পেনশন ব্যবস্থার সংস্কার, সরকারি কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড পুনর্গঠন, সার্ভিস কমিশন গঠন, বেতন গ্রেড ও স্কেলের যৌক্তিক পুনর্বিন্যাস, সরকারি দপ্তরগুলোয় ভাতাসমূহ পর্যালোচনার জন্য কমিটি গঠন এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে মানবসম্পদ উন্নয়নের সুপারিশ করা হয়েছে। চলতি ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে আংশিক বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হয়েছে। এটি পুরো মাত্রায় কার্যকর হবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দিন অর্থাৎ আগামী ১ জুলাই থেকে। এছাড়া সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বৈশাখী ভাতা ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার সুপারিশ করা হয়েছে। ১০ম ধাপ থেকে ২০তম পর্যন্ত সরকারি চাকরিজীবীদের যাতায়াতের ভাতাও বাড়ানো হবে। পেনশনভোগীদের পেনশনের হারও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। প্রতিবেদন গ্রহণ করে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি কমিশনের সদস্যদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন। ড. ইউনূস বলেন, ‘এটি একটি মস্ত বড় কাজ। সরকারি চাকরিজীবীরা বহুদিন ধরে এর জন্য অপেক্ষা করছে। আউটলাইন দেখে বুঝলাম, এটি খুবই সৃজনশীল কাজ হয়েছে।’ এ সময়ে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, এই প্রস্তাব বাস্তবায়নই এখন পরবর্তী কাজ। এ লক্ষ্যে একটি কমিটি গঠন করা হবে। ওই কমিটি বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে কাজ করবে। কমিশনপ্রধান সাবেক সচিব জাকির আহমেদ খান বলেন, গত এক দশকে বৈশ্বিক ও জাতীয় পর্যায়ে অর্থনীতির প্রায় সব সূচকে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। বিশেষ করে নিত্যপণ্যের মূল্য বহুগুণ বেড়েছে। কিন্তু সময়োপযোগী ও যথাযথ বেতন কাঠামো নির্ধারণ না হওয়ায় সরকারি কর্মচারীদের জন্য জীবনযাত্রার ব্যয় ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে সুস্পষ্ট কার্যপরিধি নির্ধারণপূর্বক বিদ্যমান বেতন, ভাতা ও অন্যান্য সুবিধাদি পর্যালোচনা এবং প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রণয়নের লক্ষ্যে কমিশন কাজ করে। নির্ধারিত কার্যপরিধি অনুসরণ করে সময়োপযোগী ও বাস্তবসম্মত সুপারিশ প্রণয়নের উদ্দেশ্যে কমিশন বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে অনলাইন ও অফলাইনে ১৮৪টি সভা করে এবং ২,৫৫২ জনের মতামত ও প্রস্তাব গ্রহণ করে। পাশাপাশি বিভিন্ন সমিতি ও অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা সভার আয়োজন করে ব্যাপক মতবিনিময় করা হয়। কমিশনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ছিল প্রস্তাবিত বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় আর্থিক সংস্থান নির্ধারণ এবং এর বাস্তবায়নযোগ্যতা পর্যালোচনা করা। গত বছরের ২৭ জুলাই সরকার ২৩ সদস্যবিশিষ্ট নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করে। কমিশনকে ছয় মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। প্রতিবেদন তৈরির ক্ষেত্রে অনলাইন জরিপের মাধ্যমে ২ লাখ ৩৬ হাজার অংশগ্রহণকারী মতামত দিয়েছেন। ২০১৩ সালে অষ্টম বেতন কমিশন গঠনের পর দীর্ঘ ১২ বছর পর এই কমিশন গঠিত হয়। কমিশনের প্রতিবেদন দাখিলের নির্ধারিত শেষ তারিখ ছিল আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি। কমিশন তাদের জন্য নির্ধারিত বাজেটের মাত্র ১৮ শতাংশ ব্যয় করে তিন সপ্তাহ আগে প্রতিবেদন দিতে সক্ষম হয়েছে। এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের (প্রথম শ্রেণির সরকারি কর্মকর্তাদের সংগঠন) সভাপতি ও উপসচিব আব্দুল খালেক বলেন, ‘কমিশন প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। আমরা গণমাধ্যমে দেখেছি। কিন্তু পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন এখনো হাতে পাইনি। বৃহস্পতিবার (আজ) এই প্রতিবেদন পাব। এরপর পুরো প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে প্রতিক্রিয়া জানাব। তবে আমি অবশ্যই চাইব, কমিশন যে সুপারিশ করেছে, তা যেন চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে বাস্তবায়ন হয়।’
রাজধানীর উত্তরায় বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় দগ্ধ মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী আবিদুর রহিম (১২) দীর্ঘ ৬ মাস চিকিৎসা ও ৩৬ বার অস্ত্রোপচারের পর অবশেষে বাড়ি ফিরেছে। সে বর্তমানে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী। বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক অধ্যাপক নাসির উদ্দিন। সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার রূপবাটি ইউনিয়নের মোয়াকোলা পূর্বপাড়া গ্রামের আবুল কালাম আজাদের ছেলে আবিদ। পরিবারের সবাইকে নিয়ে ঢাকার উত্তরায় বসবাস করে সে। তার বড় মেয়ে রাইসা (১৩) মাইলস্টোন স্কুলে অষ্টম শ্রেণিতে ও ছেলে আবিদ পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে। বিমান দুর্ঘটনায় তার দুই হাত, মুখ ও শরীরের বিভিন্ন অংশ সহ ২৫ ভাগ আগুনে পুড়ে যায়। এ ছাড়া তার শ্বাসনালীও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। উল্লেখ্য, গত ২১ জুলাই দুপুরে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি দোতলা ভবনে বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়। এ ঘটনায় মোট ৩৬ জন নিহত এবং ১২৪ জন আহত হয়। তদন্ত কমিটি দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে যুদ্ধবিমানের পাইলটের উড্ডয়ন-ত্রুটি চিহ্নিত করেছে।
গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটারদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ভোটাধিকার প্রয়োগে উদ্বুদ্ধ করতে কমিউনিটি ব্রডকাস্ট কার্যক্রম জোরদার করেছে বাংলাদেশ বেতার। এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ বেতার রাজশাহী-এর আয়োজনে ‘গণভোট ও নির্বাচনে ভোটার সচেতনতায় বাংলাদেশ বেতারের কমিউনিটি ব্রডকাস্ট’ শীর্ষক একটি বিশেষ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিকেলে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভোটকেন্দ্রে গমন, ভোট প্রদান এবং গণভোটে অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ বেতারের মহাপরিচালক এএসএম জাহীদ। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, গণভোটের মাধ্যমে দেশের জনগণ ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে নিজেদের ভূমিকা রাখার সুযোগ পাচ্ছে। ভোটাধিকার প্রয়োগের মধ্য দিয়েই কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন বাস্তবায়ন সম্ভব। তিনি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, এ ভোটের মধ্য দিয়ে বৈষম্যহীন ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশের পথে এগোনোর সুযোগ তৈরি হবে। জনগণের হাতেই ভবিষ্যৎ নির্মাণের চাবি রয়েছে—এই চাবি ব্যবহারের আহ্বান জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, ক্ষমতার অপব্যবহার ও সহিংস রাজনীতির অবসান ঘটিয়ে জনগণের ক্ষমতা জনগণের হাতেই ফিরিয়ে দিতে গণভোট একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। সুষ্ঠু ও টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতনতা ও ইতিবাচক প্রচারণা চালানোর আহ্বান জানান তিনি। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার ড. মো. জিল্লুর রহমান। বক্তারা বলেন, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় ভোটারদের সচেতনতা অপরিহার্য। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম হিসেবে বাংলাদেশ বেতার দীর্ঘদিন ধরে নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য তথ্য প্রচারের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জন করেছে। তাঁরা আরও বলেন, গণভোট ও নির্বাচনের সময় সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়া, গুজব প্রতিরোধ এবং ভোটাধিকার প্রয়োগে উদ্বুদ্ধ করতে বাংলাদেশ বেতারের সম্প্রচার কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। গ্রাম-শহর সর্বত্র বেতারের বিস্তৃত শ্রোতা পরিসরের কারণে সাধারণ মানুষের কাছে নির্বাচনী বার্তা দ্রুত ও কার্যকরভাবে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ বেতার রাজশাহীর আঞ্চলিক পরিচালক কিশোর রঞ্জন মল্লিক। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করতে বাংলাদেশ বেতার আগামীতেও জনস্বার্থে এ ধরনের কমিউনিটি ব্রডকাস্ট ও সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান অব্যাহত রাখবে।