জাতীয়

বিদায়ের আগে কী বার্তা দিয়ে গেলেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী?

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ০৯, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

২০২০ সালের ডিসেম্বরে তুরস্কের তখনকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত সাভাসগলু ঢাকা সফর করেছিলেন। করোনাভাইরাস সংক্রমণের আগে ওই সফরের তাৎপর্য বোঝাতে গিয়ে তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের ওয়েবসাইটে মেভলুত সাভাসগলুকে উদ্ধৃত করে লিখেছিল, ‘বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম উদীয়মান তারকা এবং আমাদের “এশিয়া এনিউ” উদ্যোগের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারদের মধ্যে অন্যতম।’

 

ছয় বছরের মাথায় তুরস্কের বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বাংলাদেশে এলেন। তিন দিনের সফর শেষে ফিরে গেছেন তিনি। তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। ওই বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্ককে পরের ধাপে নিতে তিনটি কাঠামো প্রতিষ্ঠার ঘোষণা আসে। তা হলো দুই দেশের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের অংশগ্রহণে প্রতিবছর ‘২+২ বৈঠক’, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক বৈঠক পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে উন্নীত করা এবং রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতা আরও জোরদার করার লক্ষ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি পরামর্শক কমিটি গঠন।

 

তুরস্কের কাছে বাংলাদেশের গুরুত্বের বিষয়ে মেভলুত সাভাসগলু ছয় বছর আগে যেটা বলে গিয়েছিলেন, প্রথমবারের মতো ঢাকায় এসে হাকান ফিদান ঢাকার সঙ্গে সম্পর্ককে পরের ধাপে নিতে আঙ্কারা কী কী করতে চায়, তা স্পষ্টভাবে জানিয়ে গেলেন।

 

এ মুহূর্তে বিশ্বের বড় ও উদীয়মান শক্তিগুলো তাদের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারদের সঙ্গে পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের অংশগ্রহণে প্রতিবছর ‘২+২ বৈঠক’ করে থাকে। যে বৈঠকে দুই পক্ষের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের পাশাপাশি প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়।

 

যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, নেদারল্যান্ডস আর ভারত—বিশ্বের চারটি দেশের সঙ্গে এই কাঠামোর আওতায় নিয়মিত বৈঠক করে থাকে তুরস্ক। তালিকায় পঞ্চম দেশ হিসেবে যুক্ত হলো বাংলাদেশ। অবশ্য অনিয়মিতভাবে ইউক্রেন আর ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে তুরস্ক ‘২+২ বৈঠক’ করে।

 

কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, হাকান ফিদানের সফরে ঘোষিত নতুন তিনটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ঢাকার সঙ্গে সম্পর্ককে আর কেবল বাণিজ্য বা উন্নয়ন সহযোগিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না আঙ্কারা। বরং নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত সহযোগিতাকে অন্তর্ভুক্ত করে সম্পর্ককে আরও প্রাতিষ্ঠানিক ও দীর্ঘমেয়াদি ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে। এটি বাংলাদেশের প্রতি তুরস্কের ক্রমবর্ধমান কৌশলগত আগ্রহেরও প্রকাশ ঘটায়।

 

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে তুরস্কের অগ্রাধিকার আর ‘এশিয়া এনিউ’ নীতি বা উদ্যোগের গুরুত্বটা কোথায়। আর বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কটা তুরস্ক কীভাবে এগিয়ে নিতে চায়?

 

তুরস্কের এশিয়া নীতি কী

তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, ২০১৯ সালের আগস্টে ‘এশিয়া এনিউ’ শিরোনামে পররাষ্ট্রনীতি ঘোষণা করে রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান সরকার। এ উদ্যোগ মূলত নেওয়া হয় এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক, শিক্ষা ও কৌশলগত পরিসরে সম্পর্ক জোরদারের জন্য।

 

বৈশ্বিক অর্থনীতি ও ভূরাজনীতির ভরকেন্দ্র যে ক্রমশ এশিয়ার দিকে সরে যাচ্ছে, তুরস্ক এটা বুঝতে পেরেই এশিয়া এনিউ উদ্যোগটি গ্রহণ করেছে। আঞ্চলিক, উপ–আঞ্চলিক ও দেশভিত্তিক কৌশল গ্রহণের মাধ্যমে এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে তুরস্কের সম্পর্ককে আরও সুসংগঠিত, ধারাবাহিক ও টেকসই করাই এর উদ্দেশ্য।

 

এই উদ্যোগের অন্যতম অগ্রাধিকার হলো পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য, অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও বিনিয়োগপ্রবাহ বৃদ্ধি করা।

 

কাঠামোর মূল অগ্রাধিকার

তুরস্কের এশিয়া নীতির প্রধান অঙ্গ চারটি। এগুলো হচ্ছে সরকারি পরিসরে সহযোগিতা জোরদার; বাণিজ্য, বিনিয়োগের পাশাপাশি বেসরকারি সহযোগিতা বাড়ানো; শিক্ষা, বিজ্ঞান ও কারিগরি খাতে সহযোগিতার সম্প্রসারণ; সাংস্কৃতিক বিনিময় ও জনপরিসরে সহযোগিতা বাড়ানো।

 

বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ১৩০ কোটি ডলার থেকে ২০০ কোটি ডলারে উন্নীত করার সম্ভাব্য উপায়গুলো খুঁজে দেখার কথা ভাবছে আঙ্কারা। হাকান ফিদান ঢাকায় বলে গেছেন, ‘বিভিন্ন ক্ষেত্রে, বিশেষ করে প্রতিরক্ষাশিল্পে আমাদের সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য আমরা পদক্ষেপ নিতে পারি।’

 

‘এশিয়া এনিউ’ উদ্যোগে উচ্চ মূল্যসংযোজন ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর শিল্প, পর্যটন, অর্থনীতি, প্রতিরক্ষা শিল্প, অবকাঠামো, পরিবহন, লজিস্টিকস, সবুজ জ্বালানি ও টেকসই উন্নয়ন খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

 

এশিয়ার দেশগুলোকে ঘিরে তুরস্কের পররাষ্ট্রনীতি–বিষয়ক উদ্যোগে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপসহ দক্ষিণ এশিয়া, আসিয়ানভুক্ত সব দেশ, চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়াসহ পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো, মধ্য এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো অন্তর্ভুক্ত আছে।

 

বাংলাদেশের গুরুত্ব কোথায়

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এশিয়া এনিউ উদ্যোগ ক্রমেই বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। কারণ, এ উদ্যোগই এমন একটি নীতিগত কাঠামো তৈরি করেছে, যার আওতায় তুরস্ক ঢাকা-আঙ্কারা সম্পর্ককে নতুন মাত্রায় সম্প্রসারণ করছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়গুলোতে জোর দেওয়া হচ্ছে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ অবকাঠামো উন্নয়ন, উচ্চশিক্ষা বিনিময়, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন, সুনীল অর্থনীতি ও সমুদ্রবিষয়ক সহযোগিতায়।

 

ঢাকায় দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে হাকান ফিদান বলেছিলেন, ‘আমরা বিস্তৃত পরিসরে আমাদের দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারত্বকে আরও গভীর করার এবং দৃঢ় ভিত্তির ওপর এটিকে আরও শক্তিশালী ও দূরদর্শী পর্যায়ে উন্নীত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখছি।’

 

দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা থেকে কৌশলগত অংশীদার

বাংলাদেশকে আর শুধু একটি দ্বিপক্ষীয় অংশীদার নয়, বরং একটি কৌশলগত অংশীদার হিসেবে দেখতে শুরু করেছে তুরস্ক। কারণ, ‘২+২ বৈঠক’ সাধারণত যেসব দেশের সঙ্গে নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছায়, তাদের ক্ষেত্রেই চালু করা হয়।

 

পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের একই কাঠামোয় আনা সম্পর্ককে বাণিজ্য ও উন্নয়ন সহযোগিতার বাইরে নিরাপত্তা ও ভূরাজনৈতিক মাত্রায়ও উন্নীত করার ইঙ্গিত দেয়।

 

বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি ও প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায় তুরস্ক। অনেক সময় ব্যক্তিনির্ভর বা সরকারনির্ভর সম্পর্ক রাজনৈতিক পরিবর্তনের সঙ্গে দুর্বল হয়ে পড়ে। কিন্তু বার্ষিক পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক ও পরামর্শক কমিটি গঠনের মাধ্যমে তুরস্ক বোঝাতে চাইছে যে তারা সম্পর্ককে নিয়মিত, কাঠামোবদ্ধ ও স্থায়ী ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে আগ্রহী।

 

বাংলাদেশের প্রতি তুরস্কের কৌশলগত গুরুত্ব বেড়েছে।

 

সামগ্রিকভাবে দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের পাশাপাশি বাংলাদেশ এখন দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতি, বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক ভূরাজনৈতিক অবস্থান এবং মুসলিম বিশ্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ফলে এশিয়া এনিউ উদ্যোগের আওতায় বাংলাদেশকে আঞ্চলিক অংশীদার হিসেবে অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে তুরস্ক।

 

নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও গবেষণাপ্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের (বিআইপিএসএস) প্রেসিডেন্ট মেজর জেনারেল (অব.) আ ন ম মুনীরুজ্জামান মনে করেন, দুই দেশের সম্পর্ককে পরের ধাপে নিতে যে তিনটি কাঠামোর বিষয়ে দুই দেশ রাজি হয়েছে, তা অংশীদারত্বে যোগ করবে নতুন মাত্রা।

 

আ ন ম মুনীরুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, ঢাকা-আঙ্কারা সম্পর্ককে কৌশলগত মাত্রায় উন্নীত করতে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে নজর থাকবে। সার্বিকভাবে ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা যে গভীর হবে, সেটা বোঝাই যাচ্ছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
কীর্তিনাশায় নৌকাবাইচ, বৈঠার তালে মেতেছে হাজারো দর্শক

বৈঠার ছন্দে নদীর বুকে ছুটছে একের পর এক নৌকা। প্রতিযোগীদের দ্রুতগতির লড়াই দেখতে কীর্তিনাশা নদীর দুই পাড়ে জড়ো হন হাজারো মানুষ। দর্শকদের উচ্ছ্বাস ও করতালিতে উৎসবমুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।   শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শরীয়তপুর সদর উপজেলার ডোমসার ইউনিয়নের তেতুলিয়া থেকে রাজগঞ্জ ব্রিজ হেলিপ্যাড পর্যন্ত নদীপথে নৌকাবাইচের চূড়ান্ত প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।   ফাইনালে আমগ্রাম এক্সপ্রেস প্রথম, সাত সমাজ এক্সপ্রেস-১ দ্বিতীয় এবং মামা ভাগিনা এক্সপ্রেস তৃতীয় স্থান অর্জন করে।   আয়োজক কমিটি জানায়, তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখা, খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ বাড়ানো এবং সুস্থ বিনোদনের মাধ্যমে সামাজিক সচেতনতা তৈরির লক্ষ্য নিয়ে প্রতিযোগিতাটির আয়োজন করা হয়। গত ১৪ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া এ আয়োজনে বিভিন্ন এলাকার ১৪টি নৌকা অংশ নেয়। ১৪ ও ১৮ সেপ্টেম্বর প্রথম ও দ্বিতীয় রাউন্ড শেষে শুক্রবার ফাইনালের মধ্য দিয়ে প্রতিযোগিতা শেষ হয়।   ফাইনাল ঘিরে সকাল থেকেই কীর্তিনাশা নদীর দুই পাড়ে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। শিশু-কিশোরসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ নদীর তীরে দাঁড়িয়ে নৌকাবাইচ উপভোগ করেন। নৌকাগুলো দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাওয়ার সময় দর্শকদের করতালি ও উল্লাসে মুখর হয়ে ওঠে নদীর পাড়।   প্রতিযোগীদের নিরাপত্তা এবং দর্শনার্থীদের জরুরি সেবায় মেডিকেল টিম, ফায়ার সার্ভিস ও স্বেচ্ছাসেবকদের দায়িত্বে রাখা হয়। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারী নৌকার জন্য একটি করে ফ্রিজ এবং অংশ নেওয়া প্রতিটি নৌকার জন্য একটি করে টেলিভিশন পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হয়।   আয়োজকেরা বলেন, বিনোদনের পাশাপাশি গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচকে ধরে রাখা এবং নতুন প্রজন্মকে এই সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত করাও আয়োজনটির অন্যতম উদ্দেশ্য।   অনুষ্ঠানে শরীয়তপুর সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুব মোর্শেদ টিপুর সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি ছিলেন শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাঈদ আহমেদ আসলাম। প্রধান বক্তা ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা সরদার এ. কে. এম. নাসির উদ্দিন কালু।   এ ছাড়া জেলা বিএনপির সহসভাপতি ও শরীয়তপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল হোসেন সরদার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন বাদল বেপারী, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি সিরাজুল হক মোল্লাসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে ৭৭৮ জনের নিয়োগপত্র না পাওয়ার অভিযোগ, প্রশ্ন তুললেন গোলাম পরওয়ার

ছবি: সংগৃহীত

জুরাইনে পরিত্যক্ত টয়লেট থেকে কিশোরের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার

ছবি: সংগৃহীত

ইসলামী যুব আন্দোলনের নতুন সভাপতি মানসুর সাকী, সেক্রেটারি রহমাতুল্লাহ

ছবি: সংগৃহীত
টাঙ্গাইলে টুকুর হুঁশিয়ারি, ‘বিশৃঙ্খলা করলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ’

দেশের স্থিতিশীলতা নষ্টের উদ্দেশ্যে কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র বা অপতৎপরতা চালানো হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তা প্রতিহত করার কথা জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী এবং টাঙ্গাইল-৫ আসনের সংসদ সদস্য সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।   শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে টাঙ্গাইলের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে জেলা বিএনপির আয়োজিত এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ‘পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার প্রতিবাদে’ এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।   সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, রাজপথে কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে দেশের স্থিতিশীলতা নষ্টের চেষ্টা করলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। তিনি দাবি করেন, একটি গোষ্ঠী বিভিন্নভাবে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।   বিএনপির দীর্ঘদিনের আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, দলটির নেতাকর্মীরা দীর্ঘ সময় ধরে জনগণের দাবি ও গণতন্ত্রের জন্য রাজপথে আন্দোলন করেছেন। ভবিষ্যতেও জনগণের সঙ্গে থেকে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার কথা জানান তিনি।   টুকু আরও বলেন, দেশের ক্ষতি করতে পারে—এমন যেকোনো অপতৎপরতার বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। পাশাপাশি সাংগঠনিক কার্যক্রমের পাশাপাশি সরকারকে সহযোগিতা এবং জনগণের উন্নয়নে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।   সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন। সঞ্চালনা করেন জেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মাহমুদুল হক সানু।   এর আগে কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শুরু হয়। জেলা বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা পৃথক মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে যোগ দেন।   সমাবেশে জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী শফিকুল রহমান লিটন, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক অমল ব্যানার্জি, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফ পাহেলী ও শফিকুর রহমান খান শফিক, জেলা ছাত্রদল ও যুবদলের সাবেক সভাপতি আহমেদুল হক শাতিল, জেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক একেএম মনিরুল হক, সদর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক অ্যাডভোকেট আজিমুদ্দিন বিপ্লবসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।   এ ছাড়া জেলা, উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দলসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও কর্মসূচিতে অংশ নেন।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামে গেটপাসের তথ্য পরিবর্তন করে পোশাক সরানোর অভিযোগে যুবলীগ নেতা গ্রেপ্তার

ছবি: সংগৃহীত

রংপুরে ‘পরিকল্পিত সন্ত্রাসের’ প্রতিবাদে যুবদল-স্বেচ্ছাসেবক দল-ছাত্রদলের মিছিল

ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীতে পৃথক ঘটনায় দুই নারীর মৃত্যু, একজন নির্মাণশ্রমিক

ছবি: সংগৃহীত
মাগুরায় ঘুমন্ত স্বামীকে হত্যার অভিযোগ, স্ত্রী আটক

মাগুরার শ্রীপুরে ঘুমন্ত অবস্থায় রাব্বি মণ্ডল (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ফারজানা বেগম (৩০) নামে ওই নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।   শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার আমতৈল গ্রামে তার বাবার বাড়ি থেকে ফারজানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।   নিহত রাব্বি মণ্ডল আমলসার ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের নজরুল ইসলাম মণ্ডলের ছেলে। তিনি পেশায় বালু ব্যবসায়ী ছিলেন।   পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাতে বাইরে থাকার পর শুক্রবার ভোরে বাড়িতে ফেরেন রাব্বি। ভোর ৫টার দিকে তিনি ঘুমিয়ে পড়েন। এ সময় ধারালো দা দিয়ে তার গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ।   ঘটনার পর পাঁচ বছর বয়সী মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান ফারজানা। পরে তার বাবা রক্তমাখা অবস্থায় শিশুটিকে দেখতে পেয়ে রাব্বির পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে রাব্বির মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।   পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ফারজানা জানিয়েছেন, সংসারের প্রতি স্বামীর উদাসীনতা ও দায়িত্বহীনতার কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি এ ঘটনা ঘটিয়েছেন। তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে তদন্ত চলছে।   নিহতের বাবা নজরুল ইসলাম বলেন, তার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের আইনানুগ বিচারের দাবি জানান।   মাগুরার পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন বলেন, প্রাথমিকভাবে পারিবারিক বিরোধের জেরে হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিহতের স্ত্রী হত্যার দায় স্বীকার করেছেন বলে জানান তিনি। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

সিগারেটের টাকা নিয়ে ইবি শিক্ষার্থীকে মারধর, পরে দোকানির ক্ষমা চেয়েছেন

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমলে দেশেও কমবে : প্রতিমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

বিকেলের মধ্যেই গ্যাসের চাপ স্বাভাবিক হবে: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী

0 Comments