সারাদেশ

ভোটের দিন মেট্রো রেল চলাচল নিয়ে নতুন নির্দেশনা

মারিয়া রহমান ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬



আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের দিন ভোটারদের যাতায়াত সহজ করতে মেট্রো রেল চালু রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)।

রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে ডিএমটিসিএলের পরিচালক (প্রশাসন) এ কে এম খায়রুল আলম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, নির্বাচনের দিন মেট্রো রেল চলাচল কেবল স্বাভাবিকই থাকবে না, বরং ট্রেনের সংখ্যা আরো বাড়ানো হবে।

ডিএমটিসিএলের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, ভোটের জন্য ছুটির দিনগুলোতেও স্বাভাবিক কর্মদিবসের মতোই মেট্রো ট্রেন চলাচল করবে।


তবে নিরাপত্তার স্বার্থে যেসব স্টেশনের গেট ভোটকেন্দ্রের একেবারে পাশে অবস্থিত, সেসব গেট বন্ধ রাখা হবে। অন্য গেটগুলো খোলা থাকবে। এদিকে নির্বাচনকালীন সময়ে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ডিএমটিসিএল ও সংশ্লিষ্ট সবার ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

অন্যদিকে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে সারা দেশে যান চলাচলের ওপর বিধি-নিষেধ আরোপ করে ২ ফেব্রুয়ারি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয়ের সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের উপসচিব আল-আমিন মো. নূরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, ভোটের দিন অর্থাৎ ১২ ফেব্রুয়ারি ট্যাক্সি ক্যাব, পিকআপ, মাইক্রোবাস ও ট্রাক চলাচল বন্ধ থাকবে। এই নিষেধাজ্ঞা ১১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত মধ্যরাত ১২টা থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি দিবাগত মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

এ ছাড়া মোটরসাইকেল চলাচলের ক্ষেত্রে আরো কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ১০ ফেব্রুয়ারি দিবাগত মধ্যরাত ১২টা থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি দিবাগত মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত অর্থাৎ মোট ৭২ ঘণ্টা সারা দেশে মোটরসাইকেল চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।


তবে জরুরি প্রয়োজনে এবং নির্বাচনসংশ্লিষ্ট কাজে এই বিধি-নিষেধের ক্ষেত্রে বেশ কিছু শিথিলতা রাখা হয়েছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

সারাদেশ

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
খুলনায় নদী খননের মাটির নিচে চাপা পড়ছে শতাধিক গৃহহীনের স্বপ্ন

খুলনার বুড়িভদ্রা নদী খননের মাটি চাপা পড়েছে ডুমুরিয়া উপজেলার দুটি আশ্রয়ণ প্রকল্পের শতাধিক ঘর। সেখানে বসবাস করা পরিবারগুলো এখন উপজেলার চুকনগর বাজারের পাশে গরুর হাটে খোলা মাঠে বসবাস করছেন।   তারা বলছেন, ছোট ছোট দুটি কক্ষ বিশিষ্ট আধাপাকা ঘর আর জমির মালিকানা ছিল বাসিন্দাদের বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন। নদী ভাঙন, দারিদ্র্যতা আর ঠিকানাহীন জীবনের অবসান ঘটিয়ে মাথা গোঁজার যে শেষ আশ্রয়স্থল তারা পেয়েছিলেন, আজ তা ধ্বংসের মুখে।   উপজেলার চুকনগর এবং কাঁঠালতলার বরাতিয়া সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্প লাগোয়া বুড়িভদ্রা নদী খননের কাজ শুরু হওয়ার পর থেকে এই মানবিক বিপর্যয়ের সূচনা।   প্রকল্প বাস্তবায়নকারী যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ ব্যানার্জী বলেন, নদী খননের ৫৭ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। বাকি কাজ ২০২৭ সালের জুনে শেষ হবে। খননের মাটি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলোর পাশে রাখায় মানুষের যাতায়াতে একটু সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। এতে কিছু ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।   ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সবিতা সরকার বলেন, ২০২১ সালে আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর আওতায় তিনটি ধাপে ডুমুরিয়ার চুকনগর, বরাতিয়া এবং খর্নিয়া এলাকায় শতাধিক ভূমি ও গৃহহীন পরিবারকে পুনর্বাসন করে সরকার। তাদের জন্য দুই কক্ষবিশিষ্ট সেমি-পাকা ঘর নির্মাণ করা হয়।   ভুক্তভোগীরা জানান, বুড়িভদ্রা নদীর চরে চুকনগর অংশে ১৪৫টি এবং কাঁঠালতলার বরাতিয়া অংশে ১২৪টি ঘর নির্মাণ করেছিল সরকার। কিন্তু পাঁচ মাস আগে বুড়িভদ্রা নদী খনন শুরু হওয়ায় চুকনগর অংশে উচ্ছেদ করা হয় ১৪৩টি ঘর। বর্তমানে সেখানে অক্ষত আছে মাত্র দুটি ঘর।   ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলো চুকনগর বাজারের পাশে পুরনো টিন, পলিথিন আর কাপড় দিয়ে বানানো ছোট ছোট ঝুপড়িতে প্রচণ্ড রোদ, কাদা-বৃষ্টির মধ্যেই মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন।   এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে আটলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ হেলাল উদ্দীন বলেন, প্রায় এক হাজার মানুষ কয়েক মাস ধরে চুকনগর বাজারের পাশে খোলা একটি মাঠে বাস করছে। সেখানে বিদ্যুৎ নেই, পানি নেই, নিরাপত্তা নেই, খাবারের কষ্টও আছে।   বিষয়টি অনেকবার প্রশাসনকে জানানো হয়েছে দাবি করে হেলাল বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ছিল ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষের মাথা গোঁজার ঠাঁই নিশ্চিত করা; কিন্তু চুকনগরে সেই প্রকল্পের বাসিন্দাদেরই এখন খোলা মাঠে আশ্রয় নিতে হয়েছে।   তিনি বলেন, একদিকে নদী খনন প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা, অন্যদিকে আশ্রয়হীন মানুষের মানবিক সংকট- দুই বাস্তবতার মাঝখানে আটকে পড়েছে প্রায় এক হাজার মানুষের জীবন। পুনর্বাসনের আশ্বাস মিললেও কবে তারা আবার স্থায়ী ঠিকানায় ফিরতে পারবেন, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনো অজানা।   চুকনগরে উচ্ছেদের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন সংকটে পড়েছেন কাঁঠালতলার বরাতিয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দারা। নদী খননের মাটি বাসিন্দাদের ঘরগুলোর পাশে রাখা হয়েছে স্তূপ করে। সেই মাটির চাপেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অন্তত ১০টি ঘর। বন্ধ হয়েছে বাসিন্দাদের চলাচলের পথ। বর্ষা শুরু হওয়ায় মাটির স্তূপ ঘিরে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। নদীতে ধসে যাওয়ার হুমকিতে রয়েছে অনেক ঘর।   বরাতিয়া আশ্রয়ণ প্রকল্প ঘুরে দেখা যায়, খননের মাটি একেবারেই নদীর পাড়ে ফেলায় কোথাও কোথাও তৈরি হয়েছে বিশাল স্তূপ; যা বৃষ্টিতে ধুয়ে নামছে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরের উপর।   পলিমাটিতে অনেক ঘরের পেছনের দেয়াল ও জানালা ভেঙে ভেতরে কাঁদা ঢুকে গেছে। মাটির ভারে ঘরের দেয়াল ও মেঝেতে ফাটল ধরেছে। বেশ কয়েকটি পরিবার ঘরের খাট, হাঁড়ি-পাতিলসহ আসবাবপত্র বাইরে বের করে খোলা আকাশের নিচে রেখেছেন।   কাঁঠালতলার স্থানীয় বাসিন্দা রোজিনা বেগম বলেন, নদী খননের মাটি পাহাড়ের মত উঁচু করে রাখা হয়েছে। এতে বন্ধ হয়েছে বাসিন্দাদের চলাচলের পথ। কয়েক দিন আগে বৃষ্টির সময় সেই মাটি ধসে তিন বছরের এক শিশু চাপা পড়ে। পরে আশপাশের লোকজন উদ্ধার করায় বেঁচে যায়।   বরাতিয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা ৬৫ বছর বয়সি রহিমা বেগম অশ্রুসিক্ত চোখে বলেন, নদী ভাঙনে সব হারায়ে এইহানে একটু মাথা গোঁজার ঠাঁই পাইছিলাম। সরকার ঘর দিছিল। এহন নদীর কাঁদা-মাটি এনে আমাদের ঘরের ওপর ফেলছে। ঘরের দেয়াল চড়চড় করে ফাটতেছে। রাইতে ঘুমাতে পারি না, মনে হয় এই বুঝি মাটি চাপা পড়ে মরে গেলাম।   খননের সময় মেশিন দিয়ে ঘরের একদম গোড়া পর্যন্ত মাটি কাটা হয় দাবি করে রহিমা বলেন, একটু বৃষ্টি হলেই ঘরগুলো নদীতে ধসে যাবে। মাটির অতিরিক্ত চাপের কারণে ঘরের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় নিজেরাই মাটি সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছেন।   প্রকল্পের বাসিন্দা ৫০ বছর বয়সি ময়না বেগম বলেন, প্রচন্ড গরমে ঘরে থাহার উপায় নেই। ঘরে দরজার অংশ ভেঙে গেছে। কাঠামো নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। শিশুদের নিয়ে ঘরে নিরাপদে থাকতি পারতিছি নে। রান্না করার জায়গা নেই। বাথরুম, টিউবওয়েল নষ্ট হয়ে গেছে। ঘরের জিনিসপত্রও সরিয়ে রাখতে হয়ছে।   পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে জানা গেছে, খুলনা ও যশোর অঞ্চলে প্রায় ১৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে তিনটি নদীর ৮১ দশমিক পাঁচ কিলোমিটার খননকাজ চলছে।   যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ ব্যানার্জী বলেন, যশোর সদরের আংশিক, অভয়নগর, মণিরামপুর ও কেশবপুর উপজেলা এবং খুলনার ডুমুরিয়া ও ফুলতলা উপজেলার ৫৪টি বিলের পানি নিষ্কাশিত হয় শ্রী নদীর ওপর নির্মিত ভবদহ স্লুইস গেইট দিয়ে।   নদীতে পলি পড়ে এলাকার মুক্তেশ্বরী, টেকা, শ্রী ও হরি নদীর বুক উঁচু হয়ে গেছে। ফলে বৃষ্টির পানি জমে এলাকার বিলগুলো প্লাবিত হচ্ছে। ২০১৬ সাল থেকে ভবদহ এলাকায় জলাবদ্ধতার কারণে বোরো আবাদ হচ্ছে না। এতে মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।   তিনি বলেন, এর মধ্যে নদী খননের ৫৭ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। বাকি কাজ ২০২৭ সালের জুনে শেষ হবে। খননের মাটি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলোর পাশে রাখায় মানুষের যাতায়াতে একটু সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। কিছু ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।   প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত পুনর্বাসনে কোনও অর্থ বরাদ্দ নেই। তবে মাটি দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত ঘরগুলো মেরামত করে দেওয়া হবে।   বরাতিয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পে নদী খননের মাটি সরিয়ে নেওয়া ও ক্ষতিগ্রস্ত ঘর মেরামতের উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন ডুমুরিয়ার ইউএনও সবিতা সরকারও।   চুকনগর আশ্রয়ণ প্রকল্প থেকে উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের বিষয়ে ইউএনও বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জানানো হয়েছে; তবে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ১৭, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

রাজশাহীর কালাইরুটি খেয়ে মুগ্ধ মার্কিন রাষ্ট্রদূত

ছবি: সংগৃহীত

পুলিশের গাড়িবহরে হামলা, ১০ সদস্য আহত

ছবি: সংগৃহীত

সকালে কুপিয়ে ছিনতাই, বিকেলে অভিযানে যাওয়া পুলিশকে কুপিয়ে জখম

ছবি : সংগৃহীত
দৌলতপুরে সাপের ছোবলে ৮ জন আক্রান্ত, বাঁচানো গেল না শিশুকে

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় সাপের উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। গত দুই সপ্তাহে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সাপের কামড়ে আটজন আক্রান্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে সাতজন চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।   সোমবার (১৫ জুন) সন্ধ্যার পর মাত্র তিন ঘণ্টার ব্যবধানে উপজেলার হোগলবাড়িয়া ইউনিয়নের শশীধরপুর গ্রামে সাপের কামড়ের শিকার হন তিনজন নারী। এর আগের দিন একই গ্রামের সিয়াম (১২) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়। সাপে আক্রান্তরা হলেন- শশীধরপুর গ্রামের সোলাইমান হোসেনের স্ত্রী মাসেদা খাতুন (৩৬), নাহিদুল ইসলামের স্ত্রী বিথী খাতুন (২৬), মহাসিন হোসেনের স্ত্রী বিলকিস আরা (৪৯) এবং রিফাত আলীর ছেলে সিয়াম (১২)।   হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ২ জুন থেকে দৌলতপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আরও চারজন সাপের কামড়ের শিকার হন। তারা হলেন- বৈরাগীর চর এলাকার তহোর আলীর ছেলে ইন্তাজ আলী (৫৩), চক কৃষ্ণপুর গ্রামের সাদেক আলীর ছেলে আল আমিন (২১), মতিউর রহমানের মেয়ে তাইবা (১০) এবং বাহিরমাটি গ্রামের আসিত হোসেনের স্ত্রী লিপিয়ারা (২২)। স্থানীয় সূত্রে জানান, প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে শশীধরপুর গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় সাপের উপদ্রব বেড়েছে। রোববার রাতে মাঠসংলগ্ন ডীব এলাকায় নিজ বাড়িতে ঘুমন্ত অবস্থায় সিয়ামকে সাপে কামড় দেয়। প্রথমে বিষয়টি বুঝতে না পারলেও রাত ১টার দিকে তাকে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে সকালে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।পরদিন একই গ্রামে আরও ৩ নারী সাপের কামড়ের শিকার হন। স্থানীয়দের দাবি, বর্তমানে মাঠে-ঘাটে, ফসলি জমিতে এবং বাড়ির আশপাশেও সাপের উপস্থিতি বেড়ে গেছে। ফলে সন্ধ্যার পর বাইরে বের হতে ভয় পাচ্ছেন গ্রামবাসীরা। পুরো এলাকায় বিরাজ করছে আতঙ্ক।   সাপের কামড়ে আক্রান্ত বিথী খাতুন ও মাসেদা খাতুন বলেন, সন্ধ্যার দিকে বাড়ির বাইরে বের হওয়ার সময় হঠাৎ পায়ে কামড় অনুভব করেন। পরে স্থানীয়রা এটিকে সাপের কামড় বলে সন্দেহ করেন। দ্রুত দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা সাপে কামড়ানোর বিষয়টি নিশ্চিত করে অ্যান্টিভেনম প্রয়োগ করেন। বর্তমানে তারা সুস্থ রয়েছেন।   দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (ভারপ্রাপ্ত আরএমও) ডা. মোছা. দিলরুবা ইয়াসমিন জানান, গত দুই সপ্তাহে হাসপাতালে মোট ৮ জন সাপে কাটা রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে ৭ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। তবে সিয়াম নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।   হাসপাতালে বর্তমানে পর্যাপ্ত পরিমাণ অ্যান্টিভেনম মজুত রয়েছে বলে জানান তিনি।   বর্ষা মৌসুমে সাধারণত সাপের উপদ্রব বৃদ্ধি পায়। তাই সাপে কামড়ালে ওঝা বা ঝাড়ফুঁকের আশ্রয় না নিয়ে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার জন্য তিনি সবাইকে আহ্বান জানান।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ১৬, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

নরসিংদীতে দুই পক্ষের গোলাগুলিতে যুবক নিহত

অভিযুক্ত পুলিশ পরিদর্শন খোরশেদ আলম

কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ: পুলিশ পরিদর্শকের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি

ছবি: সংগৃহীত

বিএসএফের পুশইনের অপচেষ্টা রুখে দিল বিজিবি ও স্থানীয়রা

সংগৃহীত ছবি
মহাখালী-তেজগাঁও সড়কে গার্মেন্টস শ্রমিকদের অবরোধ

রাজধানীর মহাখালী-তেজগাঁও সড়ক অবরোধ করেছেন গার্মেন্টস শ্রমিকরা। মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকাল থেকে বকেয়া বেতনের দাবিতে তারা সড়কে অবস্থান নেন।এর ফলে সড়কটির দুই পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। শ্রমিকদের অবরোধের ফলে ওই এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি করেছে। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রী ও অফিসগামী মানুষ। এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত আছেন। এ সময় গার্মেন্টস শ্রমিকরা ৭টি দাবি জানান। সেগুলো হলো— ১) গত মে মাসের বেতন। ২) ২০২৫ সালের ছুটির টাকা। ৩) ডিসেম্বর-২০২৫ এর এরিয়া বিলের টাকা। ৪) নোটিশ পে-বিল পরিশোধ করতে হবে। ৫) শ্রম আইন অনুযায়ী পরবর্তী ৪ (চার) মাস তথা ১২০ (একশত বিশ) দিনের বেতন-ভাতা পরিশোধ করতে হবে। ৬) শ্রম আইন অনুযায়ী সব শ্রমিক-কর্মচারীর সার্ভিস বেনিফিট ১০০ শতাংশ পরিশোধ করতে হবে। ৭) শ্রমিক-কর্মচারীদের প্রাপ্য পরিশোধের ক্ষেত্রে কোন হ্যারাসমেন্ট (পুলিশি মামলা, হুমকি, ভয়ভীতি প্রদর্শন, শারীরিক মানুষিক অত্যাচার) করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

মারিয়া রহমান জুন ১৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকার তিন বাস টার্মিনাল সরছে শহরের বাইরে, কোথায় যাচ্ছে কোনটি?

নিম্নাঞ্চল প্লাবিত। ছবি : সংগৃহীত

তিন জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা

নিখোঁজ মফিজ ও আরিফ। ছবি: সংগৃহীত

রাশিয়ায় যুদ্ধ করতে গিয়ে সন্ধান মিলছে না ২ বাংলাদেশির

0 Comments