আন্তর্জাতিক

ভেনেজুয়েলায় মার্কিন অভিযানে নিহত অন্তত ৪০ : নিউইয়র্ক টাইমস

আক্তারুজ্জামান জানুয়ারী ০৪, ২০২৬

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করতে চালানো মার্কিন সামরিক অভিযানে বেসামরিক নাগরিক ও সেনাসদস্যসহ অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছেন। নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভেনেজুয়েলার একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই হামলায় সৈন্য ও সাধারণ মানুষসহ অন্তত ৪০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। 

 

মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, স্থলবাহিনী নামানোর আগে ভেনেজুয়েলার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অকেজো করতে একটি বড় ধরনের বিমান অভিযান চালানো হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ভেনেজুয়েলার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গুঁড়িয়ে দিতে ১৫০টিরও বেশি মার্কিন বিমান মোতায়েন করা হয়েছিল, যাতে সামরিক হেলিকপ্টারগুলো মাদুরোর অবস্থানস্থলে সেনা নামাতে পারে। 

 

তবে নিহতের সংখ্যা বা অভিযানের পরিধি সম্পর্কে হোয়াইট হাউস বা পেন্টাগন থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

এর আগে শনিবার ভোরে এক নাটকীয় অভিযানে মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যায় মার্কিন বাহিনী। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক ঘোষণায় জানান, ভেনেজুয়েলায় একটি ‘নিরাপদ, যথাযথ ও বিচক্ষণ অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা’ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র দেশটি পরিচালনা করবে।

 

নিউইয়র্কের একটি আদালতের প্রসিকিউটরদের দাখিল করা নতুন অভিযোগপত্রে মাদুরো দম্পতির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে ‘টন টন কোকেন’ পাচারসহ আরও বেশ কিছু অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।

 

তবে এই অভিযানের সমালোচনাও শুরু হয়েছে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে এবং মার্কিন কংগ্রেসকে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। এর ফলে ভেনেজুয়েলাসহ ওই অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদী অস্থিরতা তৈরি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। 

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
আর্জেন্টিনাকে ২০০ কোটি ডলারের ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক

বিশ্বব্যাংক আর্জেন্টিনাকে ঋণ সহায়তা প্রদানের জন্য ২০০ কোটি ডলারের একটি প্যাকেজ অনুমোদন করেছে। আর্থিক সংকটে জর্জরিত দেশটিকে ‘গ্যারান্টি-ব্যাকড ফিন্যান্সিং’ নামের একটি বিশেষ পরিকল্পনা বা প্যাকেজের আওতায় দেওয়া হচ্ছে এই ঋণ।   ঋণগ্রহীতা যদি নির্ধারিত সময়ে কিস্তির অর্থ কোনো কারণে জমা দিতে না পারে, সেক্ষেত্রে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান ওই গ্রহীতার হয়ে কিস্তির অর্থ প্রদান করবে— এমন ব্যবস্থাকে গ্যারান্টি-ব্যাংকড ফিন্যান্সিং বলা হয়।   মঙ্গলবার (১৬ জুন) আর্জেন্টিনার সরকারকে এ ঋণের অর্থ ছাড়ের অনুমতি দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। দুটি প্রতিষ্ঠানের গ্যারান্টি বা নিশ্চতয়তার ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছে এ ঋণ। প্রতিষ্ঠান দুটি হলো ইন্টারন্যাশনাল ব্যাংক ফর রিকনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট এবং মাল্টিলিটারাল ইনভেস্টমেন্ট গ্যারান্টি এজেন্সি।   বিশ্বব্যাংকের এই বাণিজ্যিক ঋণের মেয়াদ ৬ বছর; সেই সঙ্গে গ্রেস পিরিয়ড বা অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়েছে আরও ৩ বছর। অর্থাৎ, ৬ বছরের মধ্যে সময়সীমার মধ্যে যদি আর্জেন্টিনার সরকার ঋণ শোধ করতে পারে, তাহলে ভালো; আর যদি না পারে— তাহলে আরও ৩ বছর সময় পাবে দেশটির সরকার।   প্রসঙ্গত, ডলারের মজুত তলানিতে ঠেকে যাওয়ায় করোনা মহামারির পর থেকে মূল্যস্ফীতি বাড়ছে আর্জেন্টিনায়। ২০২৪ সালে দেশটির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মূল্যস্ফীতির হার ছুঁয়েছে ১০০-র কোঠা। ফলে খাদ্য-ওষুধ-জ্বালানিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্যের লাগামহীন আকাশছোঁয়া মূল্যে নাভিশ্বাস উঠছে দেশটির সাধারণ জনগণের।   আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট জাভিয়ের মিলেই এই ব্যাপক অর্থনৈতিক চাপ সামাল দিকে বেশ কিছু সংস্কার কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন, কিন্তু এখনো দেশটির অর্থনীতি পুরোপুরি গতিশীল হয়নি। সূত্র: রয়টার্স

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ১৮, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

আমিই বস’, ম্যাক্রোঁ-মেলোনির সামনেই ট্রাম্পের ঘোষণা

ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন অবরোধ পেরিয়ে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করল ইরানি তেলবাহী ট্যাংকার

ছবি : সংগৃহীত

হোয়াইট হাউসে ড্রোন ও স্নাইপার হামলার পরিকল্পনা নস্যাৎ করার দাবি এফবিআইয়ের

ছবি : সংগৃহীত
শিগগিরই সামনে আসছে যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সমঝোতার রূপরেখা: ট্রাম্প

যুদ্ধ অবসানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার প্রাথমিক চুক্তির বিস্তারিত তথ্য গতকাল মঙ্গলবার থেকে প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, এ চুক্তির মাধ্যমে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখা হবে। এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর ইরান আবারও তেল বিক্রি করতে পারবে।   চলতি সপ্তাহে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকটি এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তবে এর মাধ্যমে এপ্রিল মাসে ঘোষিত নাজুক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিনের জন্য বাড়ানো হয়েছে, যেন দুই দেশ স্থায়ী একটি শান্তিচুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে পারে। প্রাথমিক চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত অবরোধ তুলে নেবে। বিনিময়ে ইরান আবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী ট্যাংকারসহ অন্য জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করবে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে তেহরান এ গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে। ট্রাম্প বলেন, চুক্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, ইরানের কাছে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না। তিনি আরও বলেন, কয়েক দিনের মধ্যেই একটি আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে চুক্তির পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা প্রকাশ করা হবে। ইরান দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, তারা কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। শুধু শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে তারা তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পরিচালনা করছে। ইরানে হামলার পক্ষে বিভিন্ন সময় ভিন্ন ভিন্ন যুক্তি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তিনি যে লক্ষ্যগুলোর কথা বলেছিলেন, তার খুব কমই অর্জিত হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। ইরানের সরকার এখনো টিকে আছে। দেশটির ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ভেঙে দেওয়া যায়নি। হিজবুল্লাহর মতো ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি তেহরানের সমর্থনও বন্ধ হয়নি। এ চুক্তির কারণে ট্রাম্প নিজ দলের মধ্যেই সমালোচনার মুখে পড়তে পারেন। আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ইরানের নেতারাও চাপের মধ্যে পড়তে পারেন। কারণ, যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির নেতারা যদি দেশের অর্থনৈতিক সংকট কমাতে ব্যর্থ হন, তবে তাঁদেরও নতুন করে গণবিক্ষোভের মুখোমুখি হতে হবে। ইসরায়েল সরাসরি চুক্তির আলোচনায় অংশ নেয়নি। দেশটি এপ্রিলের যুদ্ধবিরতি ও সর্বশেষ যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি—দুটো থেকেই নিজেকে দূরে রেখেছে। তাই নতুন এই যুদ্ধবিরতি কতটা টেকসই হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকে গেছে। মধ্যপ্রাচ্যের বেশির ভাগ দেশেই এ যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে। এ সংঘাতকে কেন্দ্র করে ৭ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। তাঁদের বেশির ভাগই ইরান ও লেবাননের। গত মার্চ মাসে ইরানের মিত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ যুদ্ধে যোগ দেওয়ার পর লেবাননে সামরিক অভিযান জোরদার করেছে ইসরায়েল। যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, এ চুক্তির আওতায় ইসরায়েল ও লেবাননও আছে। তবে তাঁর এ বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি গত সোমবার বলেন, ইসরায়েল এ চুক্তি মানার বাধ্যবাধকতায় নেই। তাঁরা দক্ষিণ লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহার করবেন না। হিজবুল্লাহর এক মুখপাত্র রয়টার্সকে বলেন, লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি দখলদারি চলতে থাকলে ইরান স্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হবে বলে তাঁরা মনে করেন না। ইরানের সামরিক কমান্ডের কেন্দ্রীয় দপ্তর খাতাম আল–আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স সতর্ক করে বলেছে, লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে হামলা বন্ধ না করলে ইসরায়েলকে কঠোর জবাবের মুখোমুখি হতে হবে। এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, এ চুক্তির কারণে ইরান অবিলম্বে তেল ও অন্য জ্বালানি রপ্তানি শুরু করতে পারবে। এ ছাড়া তেল বিক্রি সহজ করতে ব্যাংকিং, পরিবহন ও বিমাসংক্রান্ত সেবাও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তাদের মতে, ভবিষ্যতে এ চুক্তি ইরানকে বড় ধরনের অর্থনৈতিক সুবিধা দিতে পারে। এর মধ্যে আছে—আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা ও বিদেশে জব্দ থাকা সম্পদ মুক্ত করা। এ ছাড়া ইরান যদি চুক্তির শর্ত মেনে চলে তবে দেশটির জন্য ৩০ হাজার কোটি ডলারের একটি পুনর্গঠন তহবিল গড়ার পথ তৈরি হতে পারে। যেসব উপসাগরীয় দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি আছে এবং যুদ্ধ চলাকালে যেগুলো ইরানের হামলার শিকার হয়েছিল, তারা এ তহবিলের অর্থ দেবে।   কঠিন আলোচনা এখনো বাকি আগামী ৬০ দিনে আলোচকেরা আবারও কয়েকটি জটিল বিষয় নিয়ে আলোচনা শুরু করবেন। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ। যুদ্ধ শুরুর আগে ফেব্রুয়ারিতে ইরান ও ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা এ বিষয়ে আলোচনা করছিলেন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ শুরু করার সিদ্ধান্তের কারণে সেই আলোচনা মাঝপথে থেমে যায়। তবে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু যে দুটি বিষয়কে সামনে টেনে যুদ্ধের পক্ষে যুক্তি দিয়েছিলেন, সেগুলো বর্তমান আলোচনার এজেন্ডায় নেই বলে মনে হচ্ছে। বিষয় দুটি হলো—আঞ্চলিক মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি ইরানের সমর্থন বন্ধ করা এবং দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সীমিত করা। এদিকে ট্রাম্প সম্প্রতি প্রকাশ্যে নেতানিয়াহুর সমালোচনা করেছেন ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। গতকাল মঙ্গলবার তিনি বলেন, ইসরায়েল যেভাবে চলছে, তাতে তিনি খুশি নন। ইরানের সঙ্গে পরবর্তী ধাপের আলোচনা সম্পর্কে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘ইরান চুক্তিটি করতে চায়।’ যুদ্ধের শুরু থেকেই ট্রাম্প একই ধরনের বক্তব্য দিয়ে আসছেন। ট্রাম্প আরও বলেন, ‘তাদের আবার ব্যবসা-বাণিজ্যে ফিরতে হবে। এখন সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়ে গেছে। তাই আমি মনে করি, আলোচনা খুব দ্রুত এগোবে।’ এর আগে ট্রাম্প এ চুক্তিকে ইরানের জন্য ‘পারমাণবিক অস্ত্রের পথে একটি দেয়াল’ বলে উল্লেখ করেছিলেন। ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্য কয়েকটি দেশের সঙ্গে ইরান একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল। এর মাধ্যমে দেশটি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম উল্লেখযোগ্যভাবে সীমিত করতে রাজি হয়। তবে ট্রাম্প তাঁর প্রথম মেয়াদে একতরফাভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে সেই চুক্তি থেকে প্রত্যাহার করে নেন। ফলে ইরান উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের একটি বড় মজুত গড়ে তোলে, যা ট্রাম্প এখন অপসারণ বা ধ্বংস করতে চান। ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি৭ বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, তিনি ইরান চুক্তিটি পর্যালোচনার জন্য মার্কিন কংগ্রেসে পাঠানোর বিষয়ে একমত। কারণ, তাঁর নিজ দলের কিছু রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা অভিযোগ করেছেন, এ বিষয়ে তাঁদের অন্ধকারে রাখা হয়েছে। কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই ইরানে যুদ্ধ শুরু করার কারণে ট্রাম্প সমালোচনার মধ্যে আছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ জনগণের মধ্যেও এ যুদ্ধ খুব একটা গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। চুক্তির খবর প্রকাশের পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম দ্রুত কমতে শুরু করেছে। সোমবার প্রায় ৫ শতাংশ পতনের পর গতকাল তেলের দাম আরও ২ শতাংশের বেশি কমে তিন মাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে। তবে জ্বালানি খাতের কর্মকর্তারা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে তেল ও গ্যাস উৎপাদন পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে এখনো কয়েক মাস লাগতে পারে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ১৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

এআই যুগে ১২ হাজার ডিগ্রি বাতিল করল চীন

ছবি: সংগৃহীত

লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারও যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির অংশ: ইরান

ছবি: সংগৃহীত

লেবাননে ইসরাইলি হামলায় নিহত ৪, কড়া হুঁশিয়ারি ইরানের

ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতাকে স্বাগত জানাল কাতার

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া সমঝোতা স্মারককে (এমওইউ) স্বাগত জানিয়েছে কাতার। দেশটি জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রথম পদক্ষেপ।   কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি বলেন, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মতপার্থক্য কমিয়ে আনার প্রচেষ্টায় কাতার সহযোগিতা করেছে। তবে কাতার সরাসরি মধ্যস্থতাকারী নয়, বরং সহযোগী হিসেবে কাজ করেছে। তিনি জানান, আলোচনার মূল বিষয় ছিল হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ আবারও জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা।   কাতার আশা করছে, আসন্ন সমঝোতার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে যাবে এবং সেখানে টোলমুক্ত ও স্বাভাবিক নৌ চলাচল নিশ্চিত হবে। মাজেদ আল-আনসারি আরও জানান, আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অনুষ্ঠিতব্য বৈঠকে কাতারের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন। চুক্তি সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য দেশটি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে। এদিকে, এই চুক্তিতে কাতার কোনো আর্থিক সহায়তা দিয়েছে, এমন দাবি নাকচ করেছে দেশটি। কাতারের দাবি, তারা কোনো অর্থ দেয়নি; বরং সংকটের অর্থনৈতিক প্রভাব মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয় চলছে।   গাজা ও লেবাননের পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কাতার। দেশটি গাজায় যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে এবং লেবাননে ইসরায়েলের হামলাকে দেশটির সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি না করার আহ্বান জানিয়েছে দোহা।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ১৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

শান্তি আলোচনার পরবর্তী ধাপ আরও কঠিন হবে : চীন

ছবি: সংগৃহীত

ইরানের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে ৩০ হাজার কোটি ডলারের তহবিল

ছবি: সংগৃহীত

উপসাগরে তেল পাচারে ইরানের ‘চোরাচালান’ কৌশল ব্যবহার করছে যুক্তরাষ্ট্র

0 Comments