আন্তর্জাতিক

ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের শোকের মাঝেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন হংকংয়ে

আক্তারুজ্জামান ডিসেম্বর ০৭, ২০২৫ 0
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের শোকের মাঝেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন করছে চীনের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা হংকং। রোববার (৭ ডিসেম্বর) এক প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানায়। 

 

নির্বাচনে ৯০টি আসনের বিপরীতে ১৬১ জন প্রার্থী লড়ছেন। শহরজুড়ে পোস্টার টানিয়ে নাগরিকদের ভোট দিতে উৎসাহিত করছেন তারা।  পাশাপাশি, নির্বাচন উপলক্ষে উপহার আর কেনাকাটায় মূল্যছাড়ও দেয়া হচ্ছে। চীনের একটি বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চল হওয়ায় আইন ব্যবস্থা, আর্থিক ব্যবস্থা, করব্যবস্থা ও সামাজিক নীতিসহ অনেক ক্ষেত্রে স্বাধীন সিদ্ধান্ত নিতে পারবে হংকং প্রশাসন। 

 

তবে, ২০২১ সালে হংকংয়ের নির্বাচনী ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন আনে বেইজিং। নিয়ম করা হয়, একমাত্র চীনের প্রতি অনুগতরাই প্রার্থী হতে পারবেন। 

 

এদিকে, প্রায় ৮০ বছরের মধ্যে হংকংয়ের সবচেয়ে প্রাণঘাতী অগ্নিকাণ্ডের স্মরণে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন করেছে দেশটি। বুধবার (২৬ নভেম্বর) হংকংয়ের একাধিক টাওয়ার ব্লক আগুনে লুপ্ত হওয়ায় অন্তত ১২৮ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে, আর শতাধিক ব্যক্তি এখনও নিখোঁজ। এই ঘটনাকে প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে নির্বাচনী প্রচারণায়।   

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
জ্বালানি স্থাপনায় হামলায় যুদ্ধের নতুন ধাপ

ইসরাইলের সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে হামলা এবং কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের জ্বালানি স্থাপনায় ইরানের পাল্টা আক্রমণের পর মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ "জ্বালানি অবকাঠামো পর্যায়ে" প্রবেশ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন এক বিশ্লেষক।   জার্মান ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাফেয়ার্সের ভিজিটিং ফেলো হামিদরেজা আজিজি বলেন, ইসরাইলের হামলা "কেবল সামরিক সম্পদ নয়, দেশের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ডকে লক্ষ্যবস্তু করার দিকে এক ধরনের পরিবর্তন" নির্দেশ করে। তিনি আরও জানান, উপসাগরীয় অঞ্চল জুড়ে ইরানের পাল্টা হামলা "জ্বালানি সংঘাতকে আঞ্চলিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া এবং জ্বালানি বাজারে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে এর প্রভাব বিশ্বায়িত করার একটি পরিকল্পিত কৌশল" নির্দেশ করে।   আজিজি বলেন, "ইরানের বর্ধিত পাল্টা আক্রমণ তার কৌশলগত চিন্তার পরিবর্তনকে প্রতিফলিত করে: সমানুপাতিক জবাবের পরিবর্তে তেহরান ক্রমশ শত্রুপক্ষ নির্ধারিত সীমানার ঊর্ধ্বে উত্তেজনা বৃদ্ধির একটি নতুন কৌশল অনুসরণ করছে বলে মনে হচ্ছে, যা অতীতের সংযমের কারণে সৃষ্ট ভুল ধারণা সংশোধনের লক্ষ্য রাখে।"

আবরার আল মামুন সাহাফ মার্চ ১৯, ২০২৬ 0

হরমুজ প্রণালিতে টোল আরোপের পরিকল্পনা করছে ইরান

ছবি: সংগৃহীত

জ্বালানি স্থাপনায় হামলার জেরে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ব্যাপক হামলা

ছবি: সংগৃহীত

ইরানকে কড়া হুঁশিয়ারি সৌদি আরবের, সম্মিলিত সামরিক পদক্ষেপের হুমকি

ছবি: সংগৃহীত
ইরানের জ্বালানি খাতে নতুন হামলা চান না ট্রাম্প

ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে নতুন করে কোনো হামলা হোক—এমনটি চান না মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।   প্রতিবেদনে বলা হয়, বুধবার ইরানের একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্যাসক্ষেত্রে হামলা চালায় ইসরায়েল। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী-এ জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ইরান-কে কড়া বার্তা দিতে ওই হামলার প্রতি সমর্থন জানান ট্রাম্প।   তবে ওই বার্তা কার্যকর হয়েছে বলে মনে করার পর আপাতত নতুন করে ইরানবিরোধী কোনো সামরিক পদক্ষেপ নিতে আগ্রহী নন তিনি।   প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই অবস্থান চূড়ান্ত নয় এবং পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে ভবিষ্যতে সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের সম্ভাবনাও রয়েছে।

আক্তারুজ্জামান মার্চ ১৯, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

কাতারের বৃহত্তম শিল্পাঞ্চলে ইরানের হামলা

রিয়াদে ইরানি মিসাইলের ধ্বংসাবশেষে আহত ৪

ইসরাইলের হামলার জবাবে কাতারে ইরানের প্রতিআক্রমণ

দীর্ঘ মোতায়েনের চাপে জেরাল্ড ফোর্ডে আগুন?

আগুন নেভাতে ৩০ ঘণ্টারও বেশি সময় লেগেছে, ৬০০-রও বেশি ক্রু সদস্যকে বিছানা হারাতে হয়েছে, প্রায় ১১ মাস টানা সমুদ্রে থাকার পর বিমানবাহী রণতরীটিকে খোঁড়াতে খোঁড়াতে গ্রিসের পথ ধরতে হয়েছে। জেরাল্ড আর ফোর্ডে থাকা নাবিকরাই ইচ্ছাকৃতভাবে মার্কিন বিমানবাহী রণতরীটিতে আগুন দিয়েছিল কিনা তা খতিয়ে দেখতে আনুষ্ঠানিক তদন্তে নেমেছে মার্কিন নৌবাহিনী। গত বৃহস্পতিবার লাগা এ আগুন নেভাতে ৩০ ঘণ্টারও বেশি সময় লেগেছে, ৬০০-রও বেশি ক্রু সদস্যকে বিছানা হারাতে হয়েছে, প্রায় ১১ মাস টানা সমুদ্রে থাকার পর বিমানবাহী রণতরীটিকে খোঁড়াতে খোঁড়াতে গ্রিসের পথ ধরতে হয়েছে, বলছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস টাইমস। ইরানের বিরুদ্ধে চলমান 'মহাতাণ্ডব অভিযানে' সহায়তা লোহিত সাগরে থাকা অবস্থায় জাহাজের প্রধান লন্ড্রি কক্ষে লাগা আগুনে প্রথমে দুই নাবিক আহত হওয়ার কথা জানানো হয়, পরে তৃতীয় আরেকজনকে উন্নত সেবার জন্য অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়। আগুনটি 'সংঘাত-সংশ্লিষ্ট নয় এবং নিয়ন্ত্রণে এসেছে' বলে পরে জানায় মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড। তবে কী কারণে আগুন লেগেছে তা জানায়নি তারা; তদন্তকারীরা এখন ওই ফাঁক পূরণে কাজে নেমেছেন।   ১১ মাস ধরে সমুদ্রে নিয়ম অনুযায়ী গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে মার্কিন বাহিনীর ইউরোপিয়ান কমান্ডের অধীনে মোতায়েন হয় জেরাল্ড ফোর্ড। কিন্তু অক্টোবরে হুট করে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ রণতরীটিকে ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে যেতে নির্দেশ দেন, ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে 'সাউদার্ন স্পিয়ার' অভিযানে সহায়তা করতে। ওই অভিযানে ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণের পর ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে ক্রুদের জানানো হয়, মার্চের শুরুর দিকেই তারা বাড়ি ফিরতে পারতে পারবেন। কিন্তু এর ১২ ঘণ্টার মধ্যেই নির্দেশ বদলে যায়। রণতরীটিকে এবার পাঠানো হয় ভূমধ্যসাগরে, পরে লোহিত সাগরে, ইরানের বিরুদ্ধে ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধে সহায়তা দিতে। তাদের মোতায়েনকাল ১১ মাসে পৌঁছাতে পারে বলে সেনেটের সশস্ত্র বাহিনী বিষয়ক কমিটিকে বলেছিলেন ভাইস চিফ অব নেভাল অপারেশনস অ্যাডমিরাল জেমস কিলবি; ভিয়েতনাম যুদ্ধের পর আর কোনো রণতরীকে এতটা দীর্ঘ সময় সমুদ্রে কাটাতে হয়নি। ভিয়েতনাম যুদ্ধ-পরবর্তী সবচেয়ে বেশি সময় সমুদ্রে মোতায়েন থাকার রেকর্ড আপাতত ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের, ২৯৪ দিন। ১২ মার্চ আগুন লাগার দিন ফোর্ডের মোতায়েনকাল চলছিল ২৬২ দিন; মে-র শুরু পর্যন্ত থাকলে এটি ৩৩০ দিনের কাছাকাছি পৌঁছে যেত, প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামতে পারত যুদ্ধকালীন টনকিন উপসাগরে মোতায়েন থাকা রণতরীর রেকর্ডের সঙ্গে। তবে প্রস্তুতিবিহীন এ দীর্ঘ সময় যে বেশ ক্ষতিকর, জানুয়ারিতেই সারফেস নেভি অ্যাসোসিয়েশনের বার্ষিক সিম্পোজিয়ামে সতর্ক করেছিলেন নেভাল অপারেশনসের প্রধান অ্যাডমিরাল ডেরিল কডলে। "মেয়াদ বাড়ানোর ভক্ত নই আমি। প্রথমত, আমি নাবিক-প্রথম সিএনও (নেভাল অপারেশনস প্রধান)। ৭ মাসের মোতায়েনে যাওয়ার আগে লোকজন কিছু নিশ্চয়তা চায়। ওই সময়সীমা পেরিয়ে গেলে তা জীবনযাত্রায় ছন্দপতন ঘটায়। কোথাও শেষকৃত্য, কোথাও বিয়ের পরিকল্পনা, বাচ্চা নেওয়া সবখানেই ব্যাঘাত ঘটে," সাংবাদিকদের এমনটাই বলেছিলেন তিনি। তবে এসব আপত্তি ধোপে টেকেনি। দীর্ঘকাল সমুদ্রে অবস্থান যে নাবিকদের মনস্তত্ত্বেও বিরাট প্রভাব ফেলে তা স্বীকার করে নিচ্ছেন মার্কিন ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ টুয়েলভের কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল পল লানজিলোতাও। "ক্লান্তি জমতে থাকে এবং বাড়ি থেকে দূরে থাকার ভার নাবিকদের উপর চাপ সৃষ্টি করে। নেতা হিসেবে আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে তাদের সহায়তা নিশ্চিত করা—যেন জাহাজে থাকা অবস্থায় তারা সব ধরনের সেবা পান, স্পষ্ট যোগাযোগ, নিয়মিত আলোচনা করা," ফেব্রুয়ারিতে এক বিবৃতিতে এমনটাই বলেছিলেন লানজিলোতা। আগুন লাগার খবর পাওয়ার পর জেরাল্ড ফোর্ডে থাকা এক নাবিকের অভিভাবক ন্যাশনাল পাবলিক রেডিওকে (এনপিআর) বলেছিলেন, "তারা ক্লান্ত। আগুন অবশ্যই তাদের মনোবলে প্রভাব ফেলেছে, শেষবার মেয়াদ বৃদ্ধির তুলনায় মনোবল অনেক কমিয়েছে।"   আগুন, ক্ষয়ক্ষতি এবং নাশকতা তত্ত্ব ধারণা করা হচ্ছে, গত ১২ মে জেরাল্ড ফোর্ডের মূল লন্ড্রির স্থানে আগুন লাগে। মার্কিন নৌবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড সেদিনই বাহরাইনের মানামা থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানায়, অগ্নিকাণ্ডে আহত দুই নাবিককে চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া হচ্ছে, তাদের কারও অবস্থাই ঝুঁকিপূর্ণ নয়। আগুনে প্রপালশান প্ল্যান্টের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলেও তারা নিশ্চিত করে। বলে, জাহাজটি 'পুরোপুরি কার্যক্ষম' রয়েছে। তবে আগুনের কারণ বলেনি তারা। তবে কার্যত ওই আগুনের ফলে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতি যে বিবৃতিতে দেওয়া তথ্যের চেয়েও বেশি পরে তা জানা যায়। মঙ্গলবার নেভি টাইমস জানায়, আগুন বায়ুচলাচল ব্যবস্থার মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ঘুমানোর কক্ষগুলোর এতটাই ক্ষতি করে যে, ছয়শ'রও বেশি নাবিক মেঝে ও টেবিলে ঘুমাতে বাধ্য হন। নৌবাহিনী তড়িঘড়ি নির্মাণাধীন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জন এফ কেনেডি থেকে ম্যাট্রেস আনতে ছোটে। কয়েক ডজন ক্রু সদস্য ধোঁয়ার বিষক্রিয়ায় ভোগেন। এরপরও মার্কিন নৌবাহিনী কেবল তিনজন আহতের খবরেই সীমাবদ্ধ থাকে। এ ঘটনা নিয়ে তদন্তে যে অগ্নিসংযোগের বিষয়টিও থাকছে তা পরে গ্রিক সংবাদ সংস্থা কাথিমেরিনিসহ অন্যরা জানায়। এর অর্থ, কোনো ক্রু সদস্য ইচ্ছাকৃতভাবে আগুন লাগিয়ে জাহাজটিকে বন্দরে ভিঁড়তে এবং লম্বা মোতায়েনকালের ইতি টানতে বাধ্য করেছে কিনা তদন্তকারীরা এখন আরও অনেক কিছুর পাশাপাশি সেটাও খতিয়ে দেখবেন। ক্রিট বন্দরে ভেঁড়ার পরিকল্পনা বিষয়ে সরাসরি অবগত একাধিক সূত্র তদন্তে যে এ বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হবে তা নিশ্চিত করেছে বলে বুধবার জানিয়েছে গ্রিক সিটি টাইমস। তদন্তে অগ্নিসংযোগের বিষয়টি থাকছে কিনা সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি মার্কিন নৌবাহিনী। তারা কেবল বলছে, কীভাবে আগুন লেগেছে, তা বের করতে 'তদন্ত চলছে'। তার মানে হতে পারে, ইচ্ছাকৃত নাশকতার সম্ভাবনা যেমন আছে, তেমনি দুর্ঘটনাজনিত কারণে এটি হতে পারে সে সম্ভাবনাও প্রবল। এদিকে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর কেন্দ্রীয় সদরদপ্তর সংশ্লিষ্ট এক সূত্রের বরাত দিয়ে ইরানি রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম বলছে, ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানে অংশগ্রহণ এড়াতে মার্কিন সেনারা ইচ্ছা করেই রণতরীটিতে আগুন দিয়েছে। মার্কিন বাহিনীর ভেতর অসন্তোষের মাত্রা ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই তেহরান এ ভাষ্য বাজারে ছাড়তে পারে। তবে একাধিক স্বাধীন পশ্চিমা সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে, ইরানের ভাষ্যকে বিবেচনায় না নিয়েই নাশকতার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে মার্কিন তদন্তকারীরা।   আগে থেকেই চাপে থাকা রণতরী নাশকতার তদন্ত হাওয়া থেকে শুরু হয়নি। মাসের পর মাস ধরে জেরাল্ড ফোর্ড যুদ্ধজাহাজটিতে কিছু জটিল প্রযুক্তিগত ও মানবিক চাপের লক্ষণ দেখা যাচ্ছিল, যা এখন আগুনের তদন্তের প্রেক্ষাপটের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি যে সমস্যার কথা জানা যাচ্ছে, সেটি হল জাহাজটির পয়ঃনিষ্কাশন (ভিসিএইচটিএস) ব্যবস্থার ত্রুটি। ২০২০ সালেই জেনারেল অ্যাকাউন্টেবিলিটি অফিস এই ব্যবস্থাটিকে আকারে ছোট এবং নকশায় ত্রুটিপূর্ণ আখ্যা দিয়েছিল। সর্বশেষ মোতায়েনের পর থেকে এই ব্যবস্থাটি মেরামতের অনুরোধ জানিয়ে গড়ে প্রতিদিন একটি করে অভিযোগ জমা পড়েছে, বলছে ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস টাইমস। জেরাল্ড ফোর্ড ২০২৩ সাল থেকে ৪২ বার বাইরের সহায়তা চেয়েছে, যার মধ্যে ৩২ বারই সাহায্য চাওয়া হয়েছে ২০২৫ সালে। এনপিআর-এর দেখা একটি অভ্যন্তরীণ ইমেইলে চারদিনের মধ্যে ২০৫ বার এই পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা বিকল হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এর সরু পাইপগুলোতে টি-শার্ট ও চার ফুট লম্বা দড়ির টুকরোর মতো জিনিস আটকে থাকতে দেখা গেছে। এনপিআর-এর ১৭ মার্চের প্রতিবেদনে সম্প্রতি অবসরে যাওয়া নৌবাহিনীর ক্যাপ্টেন ও মানবীয় বিষয়ক প্রকৌশলী জন কর্ডলের বক্তব্য তুলে দেওয়া হয়। তিনি সমুদ্রে থাকা নাবিকদের ক্লান্তি নিয়ে গবেষণা করেছেন। কর্ডলে ২০২৫ সালে লোহিত সাগরে মোতায়েন হ্যারি এস ট্রুম্যানের সঙ্গে এবারের আগুনের ঘটনার তুলনা টেনেছেন। সেবার হ্যারি এস ট্রুম্যান সাগরে একটি এফ/এ-১৮ যুদ্ধবিমান হারিয়েছিল। "কাজ করতে পারার মনোভাব আর শুধু কাজটা সেরে ফেলার মনোভাবের মধ্যে ফারাক রয়েছে। ক্লান্ত নাবিকরা প্রায়ই ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করে," বলেছেন তিনি। যদি জেরাল্ড ফোর্ডে আগুন নাশকতার কারণে হয়েছে বলে তদন্তকারীরা নিশ্চিত হন, তাহলে তা ২০২০ সালে জুলাইয়ে স্যান ডিয়েগো পোতাশ্রয়ে ওয়াসপ-শ্রেণির উভচর আক্রমণকারী জাহাজ ইউএসএস বনহোমি রিচার্ডে আগুন লাগার ঘটনাকে মনে করিয়ে দেবে। ওই ঘটনায় ৬৩ নাবিক আহত হয়েছিলেন, জাহাজটি পুরোপুরি পরিত্যক্ত ঘোষণা করতে হয়। তদন্তে বেরিয়ে আসে, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ও প্রশিক্ষণে ঘাটতির বিষয়টিও। প্রশিক্ষণার্থী নাবিক রায়ান মেজের বিরুদ্ধে অগ্নিসংযোগের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়, অবশ্য ২০২২ সালে সামরিক আদালতে তিনি খালাস পান।

আবরার আল মামুন সাহাফ মার্চ ১৯, ২০২৬ 0
ইরানের খার্ক দ্বীপের একটি তেল টার্মিনালের স্যাটেলাইট ছবি

যুদ্ধেও হরমুজ দিয়ে তেল বিক্রি অব্যাহত ইরানের

মার্কিন-ইসরাইলি হামলায় যে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের হারাল ইরান

ছবি: সংগৃহীত

অস্ট্রেলিয়ায় ঈদুল ফিতর শুক্রবার

0 Comments