ভারতীয়দের ভিসামুক্ত ভ্রমণ সুবিধা প্রত্যাহার করেছে দুই দেশ। হেনলি পাসপোর্ট সূচক ২০২৬ অনুযায়ী ভারতের পাসপোর্টের অবস্থান উন্নত হয়েছে। ২০২৫ সালে যেখানে ভারতের অবস্থান ছিল ৮৫তম। তবে ২০২৬ সালে তা ৮০তম স্থানে উঠে এসেছে। তবে র্যাঙ্কিং উন্নত হলেও ভিসা ছাড়া বা সহজ শর্তে ভ্রমণযোগ্য দেশের সংখ্যা কমেছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, ২০২৫ সালে ভারতীয় পাসপোর্টধারীরা ৫৭টি দেশে ভিসা ছাড়া যেতে পারতেন। তবে ২০২৬ সালে সেই সংখ্যা ৫৫তে নেমে এসেছে। এই পরিবর্তনের মূল কারণ দুই দেশ ভারতীয় নাগরিকদের জন্য তাদের প্রবেশনীতি পরিবর্তন করেছে। এই দুই দেশ হলো ইরান ও বলিভিয়া।
২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ভিসা-মুক্ত প্রবেশ ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে কিছু ভারতীয় নাগরিককে প্রতারণার মাধ্যমে ইরানে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। কাজ বা অন্য দেশে যাওয়ার মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে সেখানে পৌঁছানোর পর অনেককে মুক্তিপণের জন্য অপহরণ করা হয়। এই নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণে ইরান ২২ নভেম্বর ২০২৫ থেকে সাধারণ ভারতীয় পাসপোর্টধারীদের জন্য ভিসা-মুক্ত প্রবেশ স্থগিত করে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এখন ইরানে ভ্রমণ বা ট্রানজিটের জন্য আগেভাগেই ভিসা নিতে হবে। একই সঙ্গে ভারতীয় নাগরিকদের ইরানের মাধ্যমে ভিসা-মুক্ত যাত্রার প্রলোভন দেখানো এজেন্টদের থেকে দূরে থাকতে সতর্ক করা হয়েছে।
এনডিটিভি জানিয়েছে, ভিসা-মুক্ত ভ্রমণের অর্থ হলো, স্বল্প সময়ের জন্য আগাম ভিসা ছাড়াই কোনো দেশে প্রবেশের সুযোগ। সাধারণত এটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি বা পর্যটন নীতির আওতায় দেওয়া হয়। তবে এর সঙ্গে অবস্থানকাল, অর্থের প্রমাণ ও বৈধ ভ্রমণ নথির মতো শর্ত থাকতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সাল থেকে ভারতীয় পাসপোর্টধারীদের বলিভিয়া যেতে হলে ই-ভিসা নিতে হবে। ই-ভিসার ক্ষেত্রে অনলাইনে আবেদন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আপলোড এবং ফি পরিশোধ করতে হয়। অনুমোদিত ভিসা ডিজিটালভাবে ইস্যু করা হয়। এরপর এটি প্রবেশের সময় দেখাতে হয়। হেনলি পাসপোর্ট সূচকে ই-ভিসাকেও ‘ভিসা প্রয়োজন’ হিসেবে গণ্য করা হয়। কারণ ভ্রমণের আগে অনুমোদন নিতে হয়।
২০২৫ সালে বলিভিয়া ভারতীয়দের জন্য ‘ভিসা অন অ্যারাইভাল’ সুবিধা দিত। এতে আগাম কোনো অনুমোদন ছাড়াই বিমানবন্দরে ফরম পূরণ ও ফি দিয়ে ভিসা পাওয়া যেত। এই সুবিধা প্রায় ভিসা-মুক্ত ভ্রমণের মতোই সহজ হওয়ায় হেনলি সূচকে এটি উচ্চ স্কোর পেত।
ইরান ও বলিভিয়া আর ভিসা-মুক্ত বা ভিসা অন অ্যারাইভাল সুবিধা বন্ধ করে দিয়েছে। এর ফলে ২০২৬ সালে ভারতীয় পাসপোর্টধারীদের সহজ প্রবেশযোগ্য দেশের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৫টিতে। র্যাঙ্কিং উন্নত হলেও এই দুই দেশে যেতে চাইলে এখন আগেভাগে প্রস্তুতি ও ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
ইউরোপজুড়ে তীব্র দাবদাহে স্পেন, ফ্রান্স, জার্মানি, বেলজিয়াম ও নেদারল্যান্ডসসহ বিভিন্ন দেশে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। অতিরিক্ত গরমে স্পেনে অন্তত ৩২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। ফ্রান্সেও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিভিন্ন দেশে জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং বড় বড় অনুষ্ঠান বাতিল করা হচ্ছে। স্পেনের সরকারি মোমো মনিটরিং সিস্টেম জানিয়েছে, চলমান দাবদাহে দেশটিতে অন্তত ৩২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। বার্সেলোনার একটি বনে ভয়াবহ দাবানলের কারণে প্রায় ১৬ হাজার মানুষকে ঘরের ভেতরে থাকতে বলা হয়েছে। ফ্রান্সে চরম গরমের কারণে প্যারিসের সব হাসপাতালে জরুরি পরিকল্পনা চালু করা হয়েছে। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হাসপাতালে রোগীর চাপের পাশাপাশি বাড়িতে আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনাও বাড়ছে। এছাড়া দাবদাহ শুরু হওয়ার পর থেকে অনিরাপদ স্থানে সাঁতার কাটতে গিয়ে পানিতে ডুবে ৫৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। দাবদাহের প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে ইউরোপের অন্যান্য দেশেও। জার্মানির সারব্রুকেনে তাপমাত্রা ৪১.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে, যা নতুন রেকর্ড। বেলজিয়ামের ক্লাইন ব্রোগেলে ৪০ ডিগ্রি, নেদারল্যান্ডসের লিমবার্গে ৩৯.৪ ডিগ্রি এবং যুক্তরাজ্যের সাফোকে ৩৭.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। শুক্রবার ইউরোপের অন্তত ১৫ কোটি মানুষ ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রার মুখোমুখি হয়েছে। আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, আগামী কয়েক দিনে তাপপ্রবাহ আরও উত্তর ও পূর্ব ইউরোপে ছড়িয়ে পড়তে পারে। চেক প্রজাতন্ত্র ও অস্ট্রিয়ায়ও নতুন তাপমাত্রার রেকর্ড ভাঙার আশঙ্কা রয়েছে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার (ডব্লিউএমও) মুখপাত্র ক্লেয়ার নুলিস বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এমন চরম আবহাওয়ার ঘটনা এখন বাস্তবতা। এ পরিস্থিতির সঙ্গে মানুষকে মানিয়ে নেওয়া ছাড়া উপায় নেই। বিজ্ঞানীদের মতে, একটি শক্তিশালী উচ্চ-চাপ বলয়ের কারণে ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, স্পেন ও দক্ষিণ ইংল্যান্ডে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় ৫ থেকে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি রয়েছে। কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিস জানিয়েছে, ইউরোপ বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত উষ্ণ হয়ে ওঠা মহাদেশ। এখানে বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় দ্বিগুণ হারে তাপমাত্রা বাড়ছে। চরম গরমের প্রভাব পড়েছে বিদ্যুৎ ও পরিবহন ব্যবস্থাতেও। সুইজারল্যান্ডের বেজনউ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি রিয়্যাক্টর সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। কারণ, রিয়্যাক্টর শীতল করতে ব্যবহৃত নদীর পানির তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে। অন্যদিকে কোলন থেকে প্যারিসগামী একটি ইউরোস্টার ট্রেন বিকল হয়ে পড়ায় প্রায় ৪০০ যাত্রী দুর্ভোগে পড়েন। তীব্র গরমে অসুস্থ হয়ে তিনজনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণে প্যারিস প্রাইড মার্চ, মিউজিক ফেস্টিভ্যাল, ম্যারাথনসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বহু গণআয়োজন বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে সুইজারল্যান্ডের হিমবাহ গবেষকরা সতর্ক করেছেন, তীব্র গরমের কারণে এ বছর স্বাভাবিক সময়ের অনেক আগেই হিমবাহ গলতে শুরু করেছে, যা জলবায়ু পরিবর্তনের আরেকটি উদ্বেগজনক সংকেত।
ইবোলা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো (ডিআরসি), উগান্ডা ও দক্ষিণ সুদানের নাগরিকদের জন্য সাময়িক ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সৌদি আরব। একই সঙ্গে দেশ তিনটির নাগরিকদের জন্য নতুন ভিসা ইস্যু এবং সৌদিতে প্রবেশও স্থগিত করা হয়েছে। শুক্রবার (২৬ জুন) গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। সৌদি প্রেস এজেন্সির (এসপিএ) বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, নিষেধাজ্ঞা এড়াতে তৃতীয় কোনো দেশের মাধ্যমে সৌদি আরবে প্রবেশের সুযোগও থাকছে না। পাশাপাশি, সৌদিতে প্রবেশের আগের ২১ দিনের মধ্যে ডিআরসি, উগান্ডা বা দক্ষিণ সুদানে অবস্থান করেছেন এমন বিদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রেও একই বিধিনিষেধ কার্যকর হবে। সৌদি আরবের পাবলিক হেলথ অথরিটি (ওয়াকায়া) জানিয়েছে, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং সংক্রামক রোগের আন্তঃসীমান্ত বিস্তার রোধে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে স্বাস্থ্য নজরদারি ও মহামারি প্রতিরোধ ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। এ ছাড়া আক্রান্ত দেশগুলোর প্রতিবেশী রাষ্ট্র থেকে আসা যাত্রীদের জন্যও বাড়ানো হয়েছে স্বাস্থ্য সতর্কতা। দেশের সব প্রবেশপথে স্বাস্থ্য পরীক্ষা, রোগ শনাক্তকরণ, নজরদারি এবং জরুরি সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। ওয়াকায়া জানিয়েছে, বর্তমানে সৌদি আরবের জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে। নতুন এই বিধিনিষেধ কার্যকর হওয়ার পর এখন পর্যন্ত দেশে ইবোলা ভাইরাসে আক্রান্ত বা সন্দেহভাজন কোনো ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়নি। সৌদি কর্তৃপক্ষ বলছে, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক মহামারি পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পরিস্থিতির প্রয়োজন অনুযায়ী জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় আরও ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং যে কোনো ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় দেশটি প্রস্তুত রয়েছে। সূত্র: গালফ নিউজ
উত্তর কোরিয়ার হুমকি মোকাবেলায় দ্রুত ড্রোন ও ড্রোন-বিধ্বংসী ক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। এর অংশ হিসেবে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পাঁচ লাখ ‘ড্রোন যোদ্ধা’ গড়ে তুলবে দেশটি। সম্মুখসারির যুদ্ধক্ষেত্রের সামরিক ইউনিটগুলোতেও দেশীয়ভাবে তৈরি শতশহস্র মানববিহীন ড্রোন মোতায়েন করা হবে। শুক্রবার দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন গিউ-বাক জানান, ২০২৯ সালের মধ্যে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী ও মেরিন বাহিনীর জন্য ১ লাখ ১০ হাজার ড্রোন উৎপাদনের পরিকল্পনা ছিল। তবে পরে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ সংখ্যা কমিয়ে প্রায় ৬০ হাজারে নামিয়ে আনে। এর মধ্যে প্রায় ১১ হাজার ড্রোন ২০২৬ সালেই চালু করা হবে। মন্ত্রণালয় জানায়, এসব ড্রোন সব বাহিনীকেই দেওয়া হবে, যাতে প্রতিটি সেনার জন্য ড্রোন একটি নিয়মিত হাতিয়ারে পরিণত হয়। সেনা, নৌ, বিমান ও মেরিন বাহিনীর পাঁচ লাখ সেনাসদস্যকে ‘ড্রোন যোদ্ধা’ হিসাবে গড়ে তুলতে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন গিউ-বাক বলেন, “ড্রোন আর সীমিতসংখ্যক ইউনিটের ব্যবহারের জন্য রাখা উচিত না, বরং এটি হবে সর্বজনীন যুদ্ধাস্ত্র।” তিনি আরও বলেন, ড্রোনকে ‘দ্বিতীয় ব্যক্তিগত অস্ত্র’ হিসেবে সেনাদের ব্যবহার করা উচিত। নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ড্রোন তৈরিতে চীনা যন্ত্রাংশের পরিবর্তে শতভাগ দেশীয়ভাবে উৎপাদিত উপাদান ব্যবহার করবে সিউল। দক্ষিণ কোরিয়ার এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এল যখন দুই কোরিয়াই ড্রোন সক্ষমতা গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন গিউ-বাক বলেন, ইউক্রেইন যুদ্ধ এবং পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ দেখিয়ে দিয়েছে যে ড্রোন এখন লড়াইয়ের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো একটি প্রযুক্তিতে পরিণত হয়েছে। স্বল্প খরচে আনেক বেশি ড্রোনের ব্যবহার যুদ্ধের প্রকৃতিই বদলে দিচ্ছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, উত্তর কোরিয়াও নিজেদের মনুষ্যবিহীন হাতিয়ার তৈরির সক্ষমতা বাড়িয়ে চলেছে। এতে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনাগুলোর জন্য হুমকি বাড়ছে। দক্ষিণ কোরিয়ার পরিকল্পনায় লেজার ও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন মাইক্রোওয়েভ অস্ত্রের মতো ড্রোন-রোধী ব্যবস্থা সম্প্রসারণের বিষয়টিও রয়েছে। তাছাড়া, অভিযান পরিচালনার কাঠামোও এমনভাবে বদলানো হবে, যাতে প্রতিটি বাহিনী কেন্দ্রীয় কমান্ডের ওপর নির্ভর না করে নিজস্ব ড্রোন ব্যবহার করে নজরদারি চালানো এবং হামলা পরিচালনা করতে পারে। এক ঊর্ধ্বতন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা জানান, সেনাবাহিনী শিগগিরই ২০ হাজারের বেশি স্বল্পমূল্যের একবার-ব্যবহার্য ড্রোন সংগ্রহ করবে। একইসঙ্গে কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ভিত্তিক ড্রোন-সোয়ার্ম ব্যবস্থা এবং লয়টারিং মিউনিশনও অর্জন করবে। সূত্র: রয়টার্স।