ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে তলব করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। রোববার (১৪ ডিসেম্বর) দুপুরে তাকে মন্ত্রণালয়ে ডেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের উদ্বেগের কথা জানানো হয়।
তলবকালে জানানো হয়, বাংলাদেশে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন বানচালের উদ্দেশ্যে ভারতে অবস্থানরত পলাতক শেখ হাসিনা তার সমর্থকদের উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়াতে আহ্বান জানাচ্ছেন। এ ধরনের বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া নিয়ে ভারত সরকারের প্রতি বাংলাদেশ সরকারের গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, নিয়মিতভাবে দেওয়া এসব উসকানিমূলক বক্তব্য বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য গুরুতর হুমকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এ সময় শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে আদালতের দেওয়া দণ্ড কার্যকরের লক্ষ্যে দ্রুত প্রত্যর্পণের আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করে বাংলাদেশ।
তলবকালে ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের পলাতক সদস্যদের বাংলাদেশবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিষয়টিও ভারতীয় হাইকমিশনারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব ব্যক্তি আসন্ন নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশে সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিকল্পনা, সংগঠন ও বাস্তবায়নে সহায়তা করছে। এ ধরনের অপরাধমূলক তৎপরতা বন্ধে ভারতের জরুরি ও কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করা হয়।
এ ছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশি রাজনৈতিক নেতা শরিফ ওসমান হাদির ওপর সংঘটিত হত্যাচেষ্টার ঘটনায় জড়িত সন্দেহভাজনদের ভারতে পালিয়ে যাওয়া ঠেকাতে ভারতের সহযোগিতা চাওয়া হয়। কেউ যদি ইতোমধ্যে ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করে থাকে, সে ক্ষেত্রে তাদের তাৎক্ষণিক গ্রেপ্তার ও বাংলাদেশে প্রত্যর্পণের আহ্বান জানানো হয়।
প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সুরক্ষায় ভারতের পক্ষ থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রত্যাশা করা হয় বলেও জানানো হয়েছে।
জবাবে ভারতের হাইকমিশনার জানান, বাংলাদেশে একটি শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক এটাই ভারতের প্রত্যাশা। এ লক্ষ্যে তার দেশ প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘লক্ষ্যভিত্তিক এবং সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার মাধ্যমে যাকাত দেওয়া হলে ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে শুধু যাকাত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেই দেশে দারিদ্র্য বিমোচনে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব।’ তিনি বলেছেন, ধনী-দরিদ্র সবমিলিয়ে দেশে বর্তমানে পরিবারের সংখ্যা কমবেশি ৪ কোটি। এসব পরিবারগুলোর মধ্যে যদি দরিদ্র কিংবা হতদরিদ্র পরিবারগুলোকে চিহ্নিত করে প্রতিবছর পর্যায়ক্রমে ৫ লাখ পরিবারকে ১ লাখ টাকা করে যাকাত দেওয়া হয়, আমার বিশ্বাস— এসব পরিবারগুলোর মধ্যে বেশিরভাগ পরিবারকে পরের বছর আর যাকাত নাও দিতে হতে পারে। লক্ষ্যভিত্তিক এবং সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার মাধ্যমে যাকাত দেওয়া হলে ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে শুধু যাকাত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেই দেশে দারিদ্র্য বিমোচনে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব। শনিবার (৭ মার্চ) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এতিম শিশু এবং ওলামা-মাশায়েখদের সম্মানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আয়োজিত ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইফতার পূর্ববর্তী সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলাম রনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ইসলামের বিধান অনুযায়ী আমাদের সমাজে অনেক বিত্তবান নিজ উদ্যোগেই যাকাত দিয়ে থাকেন। কেউ কেউ সরকারের ‘যাকাত বোর্ডের’ মাধ্যমেও যাকাত পরিশোধ করে থাকেন। বিভিন্ন গবেষণা রিপোর্টে দেখা গেছে, প্রতি বছর বাংলাদেশে এই যাকাতের পরিমাণ ২০-২৫ হাজার কোটি টাকার বেশি হয়ে থাকে। কেউ কেউ এর পরিমাণ আরও অনেক বেশি বলেছেন। তবে সুপরিকল্পিত এবং সুসংগঠিতভাবে যাকাত বণ্টন না করায় বিত্তবান ব্যক্তির যাকাত আদায় হয়ে গেলেও যাকাতের অর্থ দারিদ্র্য বিমোচনে কতটা ভূমিকা রাখতে সক্ষম হচ্ছে এটি একটি বড় প্রশ্ন।’ তিনি বলেন, ‘যতদূর জানি, যাকাত দাতাদেরকে ইসলামী বিধান এমনভাবে যাকাত বণ্টনে উৎসাহিত করে, যাতে একজন যাকাত গ্রহীতা প্রথম বছর যাকাত গ্রহণের পর পরের বছর আর যাকাত গ্রহণ করতে না হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিকল্পিতভাবে যাকাত বণ্টন করা গেলে দারিদ্র্য বিমোচনে যাকাত যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করতে পারে। এমন বাস্তবতায় সরকার যাকাত ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর এবং লক্ষ্যভিত্তিক করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।’ আলেম-ওলামা মাশায়েখ এবং এতিমদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের চলমান বাস্তবতায় এবার আমাদেরকে একটু দেরি করেই আপনাদের সঙ্গে নিয়ে ইফতারের আয়োজন করতে হয়েছে। তবে বৈশ্বিক পরিস্থিতিটির কারণে গ্যাস, বিদ্যুৎ, জ্বালানিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যয় সংকোচন এবং কৃচ্ছ্রতা সাধনের অংশ হিসেবে এবারের রমজানে আজ এবং গতকালের (শুক্রবার) ইফতার মাহফিলসহ মোট দুটি ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেছি।’ বৈশ্বিক পরিস্থিতির উন্নতি না হলে এবারের রমজানে এটিই হয়তো শেষ ইফতার মাহফিল। আজকের এই ইফতার মাহফিলের অংশগ্রহণকারী ‘ইয়াতিম সন্তানেরাই’ আজকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মেহমান। পবিত্র কুরআন এবং হাদিসে ‘এতিমের হক’ আদায়ের ব্যাপারে মুমিন মুসলমানদের প্রতি ইসলামের কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। এতিমের প্রতি ‘হক আদায়ের’ গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এতিমদের ব্যাপারে রাষ্ট্র এবং সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরার ক্ষেত্রে এই ইফতার মাহফিলের অবশ্যই প্রতীকী তাৎপর্য রয়েছে। এই ইফতার মাহফিল এতিমদের প্রতি বিত্তবানদের দৃষ্টিভঙ্গি এবং দায়-দায়িত্ব পালনের ব্যাপারে একটি ইতিবাচক বার্তা দেবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’ তিনি বলেন, ‘প্রতিজন বিত্তবান যদি অসহায় এতিমদের প্রতি পবিত্র কুরআন-হাদিসের নির্দেশনা অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করতে সচেষ্ট থাকেন, তাহলে আমি বিশ্বাস করি পিতৃহারা এতিম সন্তানেরা একবুক বেদনা নিয়েও রাষ্ট্র এবং সমাজে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা খুঁজে পাবে।’ পবিত্র রমজান ত্যাগ এবং সংযমের মাস উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘অপ্রিয় হলেও সত্য— রমজান আসলেই আমাদের কেউ কেউ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বাড়িয়ে দেন। রমজান মাসকে লোভ-লাভের মাস বানিয়ে ফেলেন। পবিত্র রমজান মাসেও যারা অসাধুপন্থা অবলম্বন করছেন, আপনাদের প্রতি আমার বিনীত আহ্বান, অনুগ্রহ করে আপনারা মানুষের কষ্টের কারণ হবেন না।’ এতিম শিশু ও ওলামা-মাশায়েখদের সঙ্গে ইফতার মাহফিলে ধর্মমন্ত্রী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সমাজকল্যাণ বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা এজেডএম জাহিদ হোসেন, এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী মীর শাহ আলম, জাতীয় সংসদের হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহম্মেদ অপু, আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ, জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আব্দুল মালেক প্রমুখ অংশ নেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. একেএম শামছুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী ও অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন ইফতার মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন।
রাজধানীর মার্কেটগুলোতে নতুন পণ্যের পসরা বসেছে। ক্রেতাও রয়েছে বেশ। জমে উঠেছে ঈদের কেনাকাটা। এর ফলে বাজারে বাড়তি চাহিদা তৈরি হয়েছে। আর এ চাহিদাকে পুঁজি করে বাজারে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী অতিমুনাফা করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। শুক্রবার (৭ মার্চ) ছুটির দিন হওয়ায় ঢাকার নিউ সুপারমার্কেট, গাউছিয়া, চাঁদনীচক, চন্দ্রিমা, নূরজাহান সুপারমার্কেট, প্রিয়াঙ্গন শপিং সেন্টারসহ নানা মার্কেটে উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে। মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, এবার ঈদ ঘিরে নারীর পোশাকে এসেছে নানা বৈচিত্র্য । ফারসি সালোয়ার কামিজ, পাকিস্তান-ভারতীয় নকশা ও প্যাটার্নের নানা পোশাক, কুর্তি-সিঙ্গেল কামিজ, টু-পিস, সারারা, ঘারারার দেখা মিলেছে গাউছিয়ার দোকানে দোকানে। ঈদের দুই সপ্তাহ আগেই ক্রেতার পকেট কাটতে পোলাওর চাল কেজিপ্রতি ২০-৩০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। সরবরাহ থাকলেও এক দিনের ব্যবধানে ৫০-৬০ টাকা বেড়েছে ব্রয়লার মুরগির দাম। সঙ্গে কেজিপ্রতি ৫০ টাকা বেড়ে গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকা। পাশাপাশি দুধ, চিনি, সেমাই ও কিসমিস বাড়তি দরে বিক্রি করা হচ্ছে। সঙ্গে মসলা পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি করা হয়েছে। ফলে বরাবরের মতো এবারও ঈদ ঘিরে পণ্য কিনতে বাজারে ঠকছেন ভোক্তা। শুক্রবার রাজধানীর জিনজিরা বাজার, নয়াবাজার ও রায়সাহেব বাজার ঘুরে খুচরা বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এদিন প্রতি কেজি পোলাওর চাল মানভেদে বিক্রি হয়েছে ১৫০-১৬০ টাকা, যা এক সপ্তাহ আগে ১২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এই এক সপ্তাহের মধ্যে প্রতি কেজি পোলাওর চালে ২০-৩০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। বাজারে প্রতি কেজি মুগ ডাল বিক্রি হয়েছে ১৫০-১৬০ টাকা, যা এক সপ্তাহ আগে ১৪০-১৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। সে ক্ষেত্রে সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিপ্রতি ১০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। মাংসের মধ্যে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হয়েছে সর্বোচ্চ ২৩০ টাকা, যা ৭ দিন আগেও ১৭০-১৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। প্রতি কেজি কক মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ টাকা। প্রতি কেজি লেয়ার ৩৬০ টাকা ও দেশি মুরগি ৭৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া প্রতি কেজি গরুর মাংস ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা ৭ দিন আগেও ৭৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। পাশাপাশি প্রতি কেজি খাসির মাংস বিক্রি হয়েছে ১২০০ টাকা। রাজধানীর নয়াবাজারে পণ্য কিনতে আসা জাহিদুল ইসলাম বলেন, বাজারে কোনো স্বস্তি নেই। প্রতিদিনের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বেচায় বিক্রেতারা কারসাজি করেন। রোজা এলেই বিক্রেতারা এমন কারসাজি করে থাকেন। আবার ঈদ আসার আগে বিক্রেতারা আরেক দফা পণ্যের দাম বাড়িয়ে ক্রেতার পকেট শূন্য করে দেয়। প্রতি বছরের মতো এবারও একই অবস্থার পুনরাবৃত্তি হয়েছে। এসব দেখার যেন কেউ নেই। কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এসএম নাজের হোসাইন যুগান্তরকে বলেন, রোজা-ঈদসহ কোনো ধর্মীয় অনুষ্ঠান এলে দেশে একশ্রেণির ব্যবসায়ী অতিমুনাফা করতে মরিয়া হয়ে ওঠে। এবারও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। ভোক্তাকে স্বস্তি দিতে হলে সংশ্লিষ্টদের কঠোরভাবে বাজার মনিটরিং করতে হবে। তিনি বলেন, ভোক্তার স্বার্থ সংরক্ষণে আইন আছে। সেই আইন বাস্তবায়ন করতে হবে। এতে যদি ভোক্তা কিছুটা সুফল পান। খুচরা বাজার ঘুরে ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে আরও জানা গেছে, বাজারে গুঁড়া দুধের মধ্যে প্রতি কেজি ডানো ৮৬০ টাকা, ডিপ্লোমা ৯২০ টাকা, ফ্রেশ ৮৯০ টাকা ও মার্কস ৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি ২০০ গ্রামের প্যাকেটজাত লাচ্চা সেমাই বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা, যা আগে ৪৫ টাকাতেও পাওয়া গেছে। আর ২০০ গ্রামের প্যাকেটজাত চিকন সেমাই বিক্রি হয়েছে ৪৫ টাকায়। প্রতি কেজি চিনি বিক্রি হচ্ছে ১০৫ টাকা, যা ৭ দিন আগেও ১০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা। রসুন প্রতি কেজি সর্বোচ্চ ২৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি হলুদ বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ৪০০ টাকা। আদা কেজিপ্রতি সর্বোচ্চ ২২০ টাকা। পাশাপাশি প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন ১৮৫ টাকা। বোতলজাত সয়াবিন বিক্রি হচ্ছে প্রতি লিটার বিক্রি হচ্ছে ১৯৫ টাকা। শুক্রবার জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, রোজা ও ঈদ ঘিরে অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা সার্বিকভাবে বাজারে তদারকি অব্যাহত রেখেছে। শুক্রবারও রাজধানীতে ৬টি টিম বাজারে তদারকি করেছে। প্রত্যেকটি বিভাগীয় অফিস থেকেও কর্মকর্তারা বাজারে কঠোরভাবে তদারকি করছেন। অনিয়ম পেলেই আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ট্রেনের আসনের টিকিট বিক্রি শুরু করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। শনিবার (৭ মার্চ) অগ্রিম টিকিট বিক্রির পঞ্চম দিন। যাত্রীদের সুবিধার্থে শতভাগ টিকিট অনলাইনে বিক্রি করছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। আজ পাওয়া যাচ্ছে ১৭ মার্চের ট্রেনের আসনের টিকিট। এদিন সকাল ৮টা থেকে অনলাইনে বিক্রি শুরু হয়েছে টিকিট। আজ সকালে পাওয়া যাচ্ছে রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের সব আন্তঃনগর ট্রেনের আসনের টিকিট। অন্যদিকে দুপুর ২টা থেকে বিক্রি শুরু হবে পূর্বাঞ্চলের সব আন্তঃনগর ট্রেনের আসনের অগ্রিম টিকিট। চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে আগামী ২০, ২১ ও ২২ মার্চের টিকিট বিক্রি করা হবে। যাত্রীদের অনুরোধে নন-এসি কোচের ২৫ শতাংশ দাঁড়িয়ে যাওয়ার টিকিট যাত্রা শুরুর আগে প্রারম্ভিক স্টেশন থেকে সংগ্রহ করা যাবে। ঈদযাত্রার অগ্রিম টিকিট একজন যাত্রী সর্বোচ্চ একবার কিনতে পারবেন। এক্ষেত্রে সর্বোচ্চ চারটি আসন সংগ্রহ করা যাবে। কোনো টিকিট রিফান্ড করা হবে না। যাত্রীরা মোবাইল অ্যাপ ‘রেল সেবা’ অথবা বাংলাদেশ রেলওয়ের ওয়েবসাইট ব্যবহার করে সহজেই অগ্রিম ট্রেনের টিকিট সংগ্রহ করতে পারেন। ওয়েবসাইটের মাধ্যমে টিকিট কিনতে প্রথমে বাংলাদেশ রেলওয়ের নির্ধারিত ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে নিজের ই-মেইল ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করতে হবে। লগইন করার পর ভ্রমণের তারিখ, যাত্রার প্রারম্ভিক স্টেশন, গন্তব্য স্টেশন এবং ভ্রমণের শ্রেণি নির্বাচন করে ‘Find Ticket’ বাটনে ক্লিক করতে হবে। এরপর পরবর্তী পেজে ট্রেনের নাম, ট্রেন ছাড়ার সময় এবং আসন খালি আছে কি না—এসব তথ্য দেখা যাবে। সেখান থেকে পছন্দের ট্রেনের ‘View Seats’ অপশনে গিয়ে খালি আসন থাকলে নিজের পছন্দ অনুযায়ী সিট নির্বাচন করতে হবে। এরপর ‘Continue Purchase’ বাটনে ক্লিক করে টিকিট কেনার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যাবে। টিকিটের মূল্য পরিশোধ করা যাবে ভিসা কার্ড, মাস্টারকার্ড বা বিকাশের মাধ্যমে। পেমেন্ট সফলভাবে সম্পন্ন হলে একটি ই-টিকিট স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডাউনলোড হবে এবং একই সঙ্গে যাত্রীর ই-মেইলেও টিকিটের কপি পাঠানো হবে। পরবর্তীতে ই-মেইল থেকে টিকিটটি প্রিন্ট করে এবং সঙ্গে একটি ফটো আইডি নিয়ে যাত্রার আগে সংশ্লিষ্ট স্টেশন থেকে ছাপানো টিকিট সংগ্রহ করা যাবে।