শেরপুরের শ্রীবরদী সীমান্তের চোরাপথ দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে অনুপ্রবেশের চেষ্টাকালে নারী ও শিশুসহ ৯ বাংলাদেশিকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ৩৯ বিজিবি ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়নের কর্ণঝোড়া বিওপির একটি টহলদল শ্রীবরদী উপজেলার হারিয়াকোনা সীমান্তসংলগ্ন পাহাড়ি জঙ্গল থেকে তাদের আটক করে। পরে রাত ৯টার দিকে আটক ব্যক্তিদের শ্রীবরদী থানায় হস্তান্তর করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন— ভোলা জেলার মনপুরা উপজেলার আন্ধিরপাড়া গ্রামের আপন জলদাস (৩০), নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার আঠারবেকী গ্রামের নয়নতারা (২৫), চর আমানউল্লাহ গ্রামের বিজয় হরি জলদাস (৪৬), লম্বরিয়া গ্রামের সুলক্ষী (৪২) এবং লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার বড়খেরী গ্রামের বীনা দাস (৩১)। এছাড়া তাদের সঙ্গে থাকা চার শিশুকেও আটক করা হয়েছে।
বিজিবি ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় একটি মানবপাচারকারী চক্র জনপ্রতি ৪০ হাজার টাকার বিনিময়ে শেরপুর সীমান্তের চোরাপথ দিয়ে তাদের ভারতে পাঠানোর পরিকল্পনা করেছিল।
এ ঘটনায় স্থানীয় মানবপাচারকারী চক্রের সদস্য সুমন মিয়া, মো. সাজু, মো. আজিবর ও কালু মিয়ার সঙ্গে জনপ্রতি ৪০ হাজার টাকায় মৌখিক চুক্তি হয়। সেই অনুযায়ী বুধবার রাতে তারা ঢাকা থেকে শেরপুরে পৌঁছে আন্তর্জাতিক সীমান্ত পিলার ১০৯৫-এর প্রায় ১৫০ গজ অভ্যন্তরে হারিয়াকোনা পাহাড়ি এলাকার জঙ্গলে অবস্থান নেন। তবে বিজিবির কঠোর নজরদারির কারণে সেদিন রাতে সীমান্ত অতিক্রম করতে পারেননি।
বৃহস্পতিবার রাতে পুনরায় ভারতে প্রবেশের পরিকল্পনা থাকলেও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কর্ণঝোড়া বিওপির টহলদল অভিযান চালিয়ে জঙ্গল থেকে তাদের আটক করে।
শ্রীবরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নুরুল আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আটক ৯ জনের মধ্যে তিনজন নারী ও চারজন শিশু রয়েছে। তাদের পরিচয় যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এ ঘটনায় মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন এবং পাসপোর্ট আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
তিনি আরও জানান, ঘটনায় জড়িত মানবপাচারকারী চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
শেরপুরের শ্রীবরদী সীমান্তের চোরাপথ দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে অনুপ্রবেশের চেষ্টাকালে নারী ও শিশুসহ ৯ বাংলাদেশিকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বৃহস্পতিবার দুপুরে ৩৯ বিজিবি ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়নের কর্ণঝোড়া বিওপির একটি টহলদল শ্রীবরদী উপজেলার হারিয়াকোনা সীমান্তসংলগ্ন পাহাড়ি জঙ্গল থেকে তাদের আটক করে। পরে রাত ৯টার দিকে আটক ব্যক্তিদের শ্রীবরদী থানায় হস্তান্তর করা হয়। আটক ব্যক্তিরা হলেন— ভোলা জেলার মনপুরা উপজেলার আন্ধিরপাড়া গ্রামের আপন জলদাস (৩০), নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার আঠারবেকী গ্রামের নয়নতারা (২৫), চর আমানউল্লাহ গ্রামের বিজয় হরি জলদাস (৪৬), লম্বরিয়া গ্রামের সুলক্ষী (৪২) এবং লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার বড়খেরী গ্রামের বীনা দাস (৩১)। এছাড়া তাদের সঙ্গে থাকা চার শিশুকেও আটক করা হয়েছে। বিজিবি ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় একটি মানবপাচারকারী চক্র জনপ্রতি ৪০ হাজার টাকার বিনিময়ে শেরপুর সীমান্তের চোরাপথ দিয়ে তাদের ভারতে পাঠানোর পরিকল্পনা করেছিল। এ ঘটনায় স্থানীয় মানবপাচারকারী চক্রের সদস্য সুমন মিয়া, মো. সাজু, মো. আজিবর ও কালু মিয়ার সঙ্গে জনপ্রতি ৪০ হাজার টাকায় মৌখিক চুক্তি হয়। সেই অনুযায়ী বুধবার রাতে তারা ঢাকা থেকে শেরপুরে পৌঁছে আন্তর্জাতিক সীমান্ত পিলার ১০৯৫-এর প্রায় ১৫০ গজ অভ্যন্তরে হারিয়াকোনা পাহাড়ি এলাকার জঙ্গলে অবস্থান নেন। তবে বিজিবির কঠোর নজরদারির কারণে সেদিন রাতে সীমান্ত অতিক্রম করতে পারেননি। বৃহস্পতিবার রাতে পুনরায় ভারতে প্রবেশের পরিকল্পনা থাকলেও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কর্ণঝোড়া বিওপির টহলদল অভিযান চালিয়ে জঙ্গল থেকে তাদের আটক করে। শ্রীবরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নুরুল আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আটক ৯ জনের মধ্যে তিনজন নারী ও চারজন শিশু রয়েছে। তাদের পরিচয় যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এ ঘটনায় মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন এবং পাসপোর্ট আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। তিনি আরও জানান, ঘটনায় জড়িত মানবপাচারকারী চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মা ও বোনসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীর মেঝো বোন কলেজছাত্রী ইকরা আক্তারকেও কুপিয়ে আহত করা হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। এদিকে এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এক যুবক গণপিটুনিতে নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রায়পুর পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের গোডাউন রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টাকালে উত্তেজিত জনতার ইটপাটকেলে পুলিশে ৬-৭ জন পুলিশ সদস্য আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে ঘটনার কারণ জানাতে পারেনি কেউ। নিহতরা হলেন- মা শাহিনুর বেগম (৩৮), বড় মেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী সায়মা আক্তার (২১) ও ছোট মেয়ে শিফা আক্তার (৯)। নিহত সায়মা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও আহত ইকরা রায়পুর কাজী ফারুকী কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন। তাদের পিতা কামাল হোসেন ২০১৯ সালে কেরোয়া গ্রামে রাস্তায় পড়ে থাকা তারে বিদ্যুৎস্পর্শে মারা যান। গণপিটুনিতে নিহত অভিযুক্ত যুবক নোয়াখালী জেলার সুবর্ণচরের বাসিন্দা কার্তিক মজুমদারের ছেলে অন্তর মজুমদার। নিহতদের রায়পুর ও সদর হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। এদিকে আহত মেঝো মেয়ে কলেজছাত্রী ইকরা আক্তারকে (১৭) আশংকাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, দীর্ঘ কয়েকবছর ধরে শাহীনুর তার সন্তানদের নিয়ে ঘটনাস্থলে একটি ভাড়া বাসায় থাকেন। তাদের বাড়ি কুমিল্লা জেলায়। তারা দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে ঘটনাস্থলে ভাড়া থাকেন। কয়েক বছর আগে তার স্বামী মো. কামাল বিদ্যুৎস্পর্শে মারা যান। এরপর থেকে ৩ মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে শাহীনুর ওই বাসায় বসবাস করে আসছিলেন। বৃহস্পতিবার সকালে তিন মেয়েসহ শাহীনুরকে বাসায় ঢুকে কুপিয়ে মারাত্মক আহত করে ওই যুবক। এ সময় ঘটনাস্থলেই মা ও ছোট মেয়ে মারা যান। অপর আহতদের হাসপাতালে নেওয়ার পর বড় মেয়ে সায়মাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে ইকরা নামের একজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় প্রেরণ করা হয়। এদিকে এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে ঘাতক যুবককে গণপিটুনি দেয় এলাকাবাসী। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে সদর হাসপাতালে ভর্তির পর তার মৃত্যু হয় বলে জানান কর্তব্যরত চিকিৎসক। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় উত্তেজিত জনতা তাদের ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন পুলিশ সুপার আবু তারেক। রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বাহারুল আলম বলেন, হাসপাতালে ৫ জনকে আহত অবস্থায় আনা হয়েছে। এর মধ্যে দুই মেয়ে ও তাদের মা মারা গেছেন। এছাড়া তার এক মেয়েকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। তাদের সবার শরীরের বিভিন্ন অংশে ধারাল অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। অভিযুক্ত একজনকে গণপিটুনি দিয়ে আহত করা হয়। তার মাথায় ধারাল অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। সহকারী পুলিশ সুপার (রায়পুর সার্কেল) মো. আব্দুর রাশেদ বলেন, তিনজন নিহত হয়েছেন। তাদের লাশ হাসপাতালে রয়েছে। একজনকে ঢাকায় পাঠানো হয়। এছাড়া অভিযুক্ত যুবককে গণপিটুনি দিয়েছে জনতা। তাকে সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হলে তিনি পথে মারা যান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে উত্তেজিতরা ইটপাটকেল ছুড়লে ৭ জন সদস্য আহত হয়। পুলিশ সুপার আবু তারেক ৪ জন নিহতের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এখনো ঘটনার কারণ জানা যায়নি। তবে তদন্ত চলছে বলে জানান তিনি।
রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে পেঁয়াজের ন্যায্য দাম না পেয়ে ক্ষোভে হড়াই নদীর পানিতে সেগুলো ফেলে দিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন এক কৃষক। মঙ্গলবার উপজেলার সোনাপুর বাজার সংলগ্ন সেতুর ওপর থেকে নদীতে এসব পেঁয়াজ ফেলেন কৃষক পলাশ মিয়া। পরে এ ঘটনার ভিডিও বুধবার দুপুর থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ১ মিনিট ৪০ সেকেন্ড দীর্ঘ ভিডিওতে দেখা যায়, সেতুর রেলিংয়ের পাশে পেয়াজের বস্তা ভর্তি একটি ভ্যানের ওপরে উঠেছেন একজন ব্যক্তি। এরপর ভ্যানে থাকা বস্তার রশি খুলে পেঁয়াজ নদীর পানিতে ফেলে দিচ্ছেন তিনি। এ সময় যে কৃষক মোবাইলে ভিডিও ধারণ করছেন তাকে পেঁয়াজ ফেলে দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে শোনা যায়। নিজের ভাষায় তিনি বলেন, “এই যে পেজ পানিতে ফেলে দিতিচি।পেজ ফেলে দিয়ে খালি বস্তা নিয়ে যাতিছি। যে দাম কয় তাতে কৃষকের পোষায় না এজন্নি পেজ পানিতে ফ্যালা দিয়ে যাতিচি। তিনি আরও বলেন, “কৃষকের মনে অনেক দুঃখ, অনেক কষ্ট। এই দেহেন ভালো পেজ। আমরা পেজ ফ্যালা দিছি সোনাপুর ব্রীজির পর। এই দেহেন পানিতে ভাসে যাচ্ছে। কৃষক ম্যালা কষ্টে পেজ ফ্যালা দিচ্ছে, হাটে পেজ চলতেছে না। সোনাপুর বাজারে মঙ্গলবারের দিন।” এরপর ভিডিওতে নদীর পানিতে পেয়াজগুলো ভেসে যেতেও দেখা যায়। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর খবর নিয়ে জানা যায় ভুক্তভোগী ওই কৃষকের নাম পলাশ মিয়া। তিনি বালিয়াকান্দি উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের হলুদবাড়িয়া গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক মিয়ার ছেলে। বৃহস্পতিবার তার সঙ্গে কথা হয় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের। এ বছর ১০ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ আবাদ করে, ভালো ফলন পেয়েছেন জানিয়ে পলাশ মিয়া বলেন, “বাজারে তো পেজের দাম নাই। যহন পেজ মাঠ থেকে তুলি তহন ১ হাজার থেকে ১১শ টাকা মণ পেজ বিক্রি করছি। এহন আসে সেই পেজ ৬শ-৭শ টাকায় বিক্রি করা লাগতেছে। “এক মণ পেজ ঘরে তুলতি প্রায় ১৫শ টাকা খরচ হইছে। আর বিক্রি হচ্ছে ৬শ-৭শ টাকায়। এতে তো অনেক লস যাচ্ছে আমাদের।” পেঁয়াজ নদীতে ফেলে দেওয়া প্রসঙ্গে এ চাষি বলেন, “পেজের তো মেলা গ্রেড আছে। ভালো পেজ বিক্রি হচ্ছে ৮শ টাকা মণ। মঙ্গলবার আমি যে পেজ আনছিলাম বাজারে তা ছিলো বি গ্রেডের পেজ। যে কারণে বাজারে কোনো ব্যাপারি দামই কয় নাই। যে কারণে রাগে-দুঃখে ব্রিজের ওপর থেকে পেজ নদী ফেলে দিয়ে খালি বস্তা কয়ডা নিয়ে আসি।” তিনটি বস্তায় চার মণ পেঁয়াজ ছিল বলেও জানান তিনি। ‘পিজ এহন বোঝার ওপর শাকের আঁটি’ এদিকে বৃহস্পতিবার সকালে বালিয়াকান্দি উপজেলার সোনাপুর পেঁয়াজ বাজারে গিয়ে দেখা যায়, ভোর থেকেই কৃষকেরা তাদের পেঁয়াজ বাজারে বিক্রির জন্য আনছেন। কেউ ভ্যানে, কেউ ইঞ্জিন চালিত নছিমনে। স্থানীয় ব্যাপারিরা কৃষকের কাছ থেকে ক্রয় করা পেঁয়াজ তাদের শ্রমিক দিয়ে বস্তায় ভরে ট্রাকে করে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় পাঠিয়ে দিচ্ছে। এ বাজারে মানভেদে প্রতিমণ পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা মণ। দাম কম থাকায় অনেক কৃষকই তাদের পেঁয়াজ বিক্রি না করেই চলে যাচ্ছে। পেঁয়াজের হাটে কথা হয় কৃষক আয়নাল শেখের সঙ্গে। তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “কৃষক এবার একদম শ্যাষ। পিজির দাম নাই। এক বিঘেয় পিজি উৎপাদনে ম্যালা খরচ হয়ছে। সারের দাম বেশি, ত্যালের দাম বেশি, শ্রমিকের দাম বেশি। প্রতি বিঘেয় খরচ পড়ছে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকায়। “আর যারা জমি শোনকারি নিছে তাদের তো আরও খরচ বেশি। এই দামে পিজি বেচে খরচ উটতেছে না।” পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন আরেক পেঁয়াজ চাষি কাশেম প্রামাণিক। তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “পিজ এহন বোঝার ওপর শাকের আঁটি। একে তো মণ প্রতি তিন চারশ করে লস যাচ্ছে তার ওপর বাড়িতে সংগ্রহ করে রাকতে গেলেও খরচ বাড়তেছে। “পিজ যাতে না পচে তার জন্য ঘরে ফ্যান লাগাইছি। বিদুতের দাম বাড়েচে ডাবল। আগে ৫শ টাকা লাগলি এহন লাগে ১ হাজার। তালি কন কোন দিক যাবো।” আরেক কৃষক সুলতান বিশ্বাস বলেন, “যে দাম পাচ্চি আরবছর আমি পিজির আবাদ কম করবো। পিজি যদি লস যায় তালি সেতা তো করা যাবি না। সরকার ব্যাটারে কন আমাগে ইটু বাচাক। পিজির দাম ইটু বাড়ালি আমরা বাচপো না হলি শ্যাষ।” কৃষকের ঘরে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টন পেঁয়াজ রাজবাড়ী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, এ বছর রাজবাড়ীতে পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হয়েছে। পেঁয়াজ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। স্থানীয় জাতের পেঁয়াজ আবাদ না করে হাইব্রিড জাতের পেঁয়াজ আবাদ করায় উৎপাদন বেড়েছে। তিনি বলেন, “এখনো কৃষকের ঘরে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টন পেঁয়াজ সংরক্ষণে আছে। বর্তমানে বাজারে দাম কম পাওয়ায় কৃষকদের মনটা খারাপ। সাথে সংরক্ষণ খরচও রয়েছে। আমি আশা করি সামনে পেঁয়াজের দাম বাড়বে, কৃষক ন্যায্য মূল্য পাবে।” রাজবাড়ী জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা নাঈম আহম্মেদ বলেন, “পেঁয়াজ নদীতে ফেলে দেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখেছি। মুক্তবাজার অর্থনীতিতে কোনো পণ্যের দাম নির্ধারণ করাটা চ্যালেঞ্জিং। সেক্ষেত্রে ডিমান্ড ও সাপ্লাইয়ের ওপরে মূল্য নির্ধারণ হয়ে থাকে। “কৃষি বিপণন অধিদপ্তর প্রতিবছর ন্যূনতম মূল্য বেঁধে দেয়। তবে এ বছর এখনো মূল্য নির্ধারণ করে দেয়নি।” নাঈম আহম্মেদ আরও বলেন, “আমি মনে করি চাহিদার থেকে উৎপাদন যখন বেশি হয় তখন বাজারটা কমে যায়। এক্ষেত্রে কৃষকের বাজার বুঝে উৎপাদন করাটায় তাদের কমতি আছে। অতিরিক্ত উৎপাদন করেছে এবং চাষিরা সঠিক পেঁয়াজের জাত নির্বাচন না করায় তারা সংরক্ষণ করতে পারছে না। তিনি বলেন, “কৃষক যদি উৎপাদনের আগে কৃষি অধিদপ্তর ও কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের সাথে যোগাযোগ করে উৎপাদন করে তাহলে তারা এ ধরণের ক্ষতি থেকে মুক্তি পাবে।” পেয়াজ চাষিদের জন্য সরকার কিছু ভালো উদ্যোগ নিয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের জেলাতে সাড়ে ৫ হাজার ব্লোয়ার মেশিন দিয়েছে। সেটা দিয়ে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ হাজার টন পেঁয়াজ সংরক্ষণ করা সম্ভব। পাশাপাশি সরকার যদি উপজেলা পর্যায়ে বা ইউনিয়ন পর্যায়ে কালেকশন সেন্টার করে এবং টিসিবির মাধ্যমে সরকার যদি পেঁয়াজ ক্রয় করে তাহলে কৃষকেরা কিছুটা মুক্তি পাবে।”