প্রবাসী

ভালো চাকরির প্রলোভনে মালদ্বীপে প্রতারণার শিকার প্রবাসীরা

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ২১, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

উন্নত জীবনের আশায় মালদ্বীপে গিয়ে আবারও এক প্রবাসী বাংলাদেশি সর্বস্বান্ত হয়েছেন। ভুয়া ড্রাইভিং ভিসার মাধ্যমে মালদ্বীপে পাঠিয়ে তাকে কাজ না দিয়ে আটকে রাখা হয় এবং শেষ পর্যন্ত দেশে ফিরতে বাধ্য করা হয়।

 

সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার চালতেবাড়ীয়া গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম নামে একজন ড্রাইভার এই প্রতারণার শিকার হয়েছেন। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, মালদ্বীপ প্রবাসী ব্যবসায়ী আসাদুল ইসলাম ওরফে রাজা বাবু জাহাঙ্গীরকে ভালো বেতনের চালকের চাকরি দেওয়ার কথা বলে প্রায় সাড়ে ৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। জাহাঙ্গীরকে মালদ্বীপে পাঠানোর পর কোনো কাজ দেওয়া হয়নি; বরং তাকে এক দালালের হাতে তুলে দেওয়া হয়। তিন মাস মানবেতর জীবনযাপন করার পর, অবশেষে পরিবারের পাঠানো টিকিটের টাকায় শূন্য হাতে দেশে ফিরতে বাধ্য হন জাহাঙ্গীর।

 

জাহাঙ্গীরের বাবা আদর আলী গাজী সাতক্ষীরা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় মূল অভিযুক্ত আসাদুল ইসলাম ওরফে রাজা বাবু, তার বাবা মজিবর শেখ ও মা নাসিমা খাতুনকে আসামি করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইউনিয়ন পরিষদে তদন্ত চলাকালে আসাদুল ইসলাম প্রকাশ্যে সাড়ে ৪ লাখ টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন, তবে টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়ে কোনো স্পষ্ট জবাব দেননি।

 

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র মালদ্বীপে ভালো চাকরির ভুয়া প্রলোভন দেখিয়ে তরুণদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। অনেক প্রবাসী সেখানে গিয়ে কাজ না পেয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। অনেকে ভয় ও লোকলজ্জার কারণে মুখ খুলতেও পারছেন না।

 

অভিবাসী বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিয়েছেন, বিদেশ যাওয়ার আগে সরকারি অনুমোদিত এজেন্সির মাধ্যমে বৈধ কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা এবং কোনো ধরনের দালালের প্রলোভনে পা না দেওয়ার জন্য সচেতন হওয়া অত্যন্ত জরুরি।

 

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

প্রবাসী

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
ওমানে অনুমতি ছাড়া কারও ছবি বা তথ্য ফেসবুক-টিকটকে দিলে সর্বোচ্চ ১ বছরের জেল

ওমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যের ছবি, ভিডিও বা ব্যক্তিগত তথ্য অনুমতি ছাড়া প্রকাশ করলে কঠোর আইনি শাস্তির মুখে পড়তে হবে বলে সতর্ক করেছে দেশটির পাবলিক প্রসিকিউশন।   কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কোনো ব্যক্তির সম্মতি ছাড়া তার ছবি, মন্তব্য বা ব্যক্তিগত তথ্য ফেসবুক, টিকটকসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রকাশ করা হলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এমনকি প্রকাশিত তথ্য সত্য হলেও অনুমতি ছাড়া শেয়ার করা দণ্ডনীয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।   ওমানের দণ্ডবিধির ৩৩০ নম্বর ধারার অধীনে এ ধরনের অপরাধ প্রমাণিত হলে দোষী ব্যক্তির সর্বোচ্চ এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।   জনসচেতনতা বাড়াতে ‘মিসিং লিংক’ নামের একটি বিশেষ প্রচারণার অংশ হিসেবে এই সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, অনেক প্রবাসী না জেনে বা বিনোদনের উদ্দেশ্যে অন্যের ছবি ও ব্যক্তিগত তথ্য অনলাইনে ছড়িয়ে দেন, যা আইনত শাস্তিযোগ্য অপরাধ।   প্রশাসন অনলাইনে তথ্য শেয়ার করার ক্ষেত্রে আরও দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানিয়েছে। অন্যের সম্মান, গোপনীয়তা ও ব্যক্তিগত জীবনে আঘাত করতে পারে—এমন কোনো কনটেন্ট প্রকাশ না করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।   কমিউনিটির নেতারাও প্রবাসীদের অনলাইনে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন, যাতে অনাকাঙ্ক্ষিত আইনি জটিলতা এড়ানো যায়।

আক্তারুজ্জামান মে ২১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

রুশ সেনাবাহিনীর কাছে ৩০ বাংলাদেশি বিক্রি, দেওয়া হচ্ছে যুদ্ধের প্রশিক্ষণ

নিখোঁজ বিল্লাল শেখ (ইনসেটে) ও তার পরিবার।

মালয়েশিয়ায় ৯ দিন ধরে নিখোঁজ বাংলাদেশি যুবক

ছবি : সংগৃহীত

মালয়েশিয়ায় রাষ্ট্র সংস্কার ও গণভোট বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা সভা

ছবি : সংগৃহীত
ইংলিশ চ্যানেলে মানবপাচারের মূল হোতা কুর্দিস্তানে গ্রেফতার

আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্রের এক সদস্যকে ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে সম্প্রতি গ্রেফতার করা হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে তার প্রকৃত পরিচয় প্রকাশ পাওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে আটক করে।   গ্রেফতার ব্যক্তির নাম কারদো জাফ। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ‌‘কারদো রানিয়া’ নামে পরিচিত ছিলেন এবং বিভিন্ন ছদ্মনাম ব্যবহার করে মানবপাচারের কার্যক্রম পরিচালনা করতেন।   অভিযোগ রয়েছে, তার নেতৃত্বাধীন নেটওয়ার্ক আফগানিস্তানসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে মানুষকে অবৈধভাবে ইউরোপ ও যুক্তরাজ্যে পাঠাতো।   বিবিসির অনুসন্ধান অনুযায়ী, এই চক্র ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেওয়ার জন্য বিপজ্জনক ছোট নৌকা ব্যবহার করত। অনেক ক্ষেত্রে অভিবাসীদের অতিরিক্ত ভিড়যুক্ত নৌকায় তুলে গভীর রাতে সমুদ্রে পাঠানো হতো, যা তাদের জীবনের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করত।   কারদো জাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে তার কার্যক্রম প্রচার করতেন। সেখানে উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে যুক্তরাজ্যে পৌঁছানোর বিভিন্ন ‘প্যাকেজ’ অফার করা হতো। ধনী গ্রাহকদের জন্য বিশেষ বিমানের ব্যবস্থার কথাও বলা হতো, যার বিনিময়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ দাবি করা হতো।   তবে দরিদ্র অভিবাসীদের জন্য পরিস্থিতি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। অনেকেই জানিয়েছেন, তাদের নিরাপত্তার কোনো নিশ্চয়তা ছাড়া বিপজ্জনক সমুদ্রপথে পাঠানো হতো। এসব ঘটনায় বহু মানুষের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ে।   বিবিসির সাংবাদিক সু মিচেল ও রব লরির অনুসন্ধানী কাজের মাধ্যমে কারদো জাফের আসল পরিচয় সামনে আসে। এরপর কুর্দিস্তান আঞ্চলিক নিরাপত্তা বাহিনী তাকে মানবপাচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার করে। বর্তমানে তিনি তদন্তাধীন রয়েছেন।   অভিবাসী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক মানবপাচার এখন একটি সংঘবদ্ধ অপরাধে পরিণত হয়েছে। যুদ্ধ, দারিদ্র্য, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নিরাপত্তাহীনতার সুযোগ নিয়ে এসব চক্র সাধারণ মানুষকে বিপজ্জনক পথে বিদেশে পাঠাচ্ছে। অনেক সময় অভিবাসীরা উন্নত জীবনের আশায় প্রতারিত হন এবং জীবনসংকটের মুখোমুখি হন।  

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ২১, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

ভালো চাকরির প্রলোভনে মালদ্বীপে প্রতারণার শিকার প্রবাসীরা

গবেষক ড. মো. আবু জায়েদ। ছবি: সংগৃহীত

জ্বালানি ও পরিবেশ গবেষণায় আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেলেন বাংলাদেশি গবেষক

ছবি : সংগৃহীত

বিদেশি নাগরিকদের জন্য রেসিডেন্সি কার্ড বাধ্যতামূলক করল মিশর সরকার

ছবি : সংগৃহীত
ওমানে রহস্যজনকভাবে নিহত চার প্রবাসী ভাইয়ের মরদেহ দেশে পৌঁছালো

ওমানের দক্ষিণ আল বাতিনাহর মুলাদ্দা এলাকায় গাড়ির ভেতরে রহস্যজনক মৃত্যুবরণ করা চার প্রবাসী ভাইয়ের মরদেহ মঙ্গলবার (১৯ মে) বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে রাত ৮টা ১৫ মিনিটে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়।   বিমানবন্দরে সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করেন। অনাকাঙ্ক্ষিত এমন ঘটনায় শোক প্রকাশের পাশাপাশি দ্রুত সময়ে মরদেহ দেশে আনার ব্যবস্থা করায় প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও দূতাবাসের প্রচেষ্টা প্রশংসিত হয়। এ সময় মন্ত্রণালয় থেকে ৩৫ হাজার টাকা করে মরদেহ পরিবহণ ও দাফনের জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। রাতেই চার ভাইয়ের মরদেহ চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় নেওয়া হবে। বুধবার (২০ মে) সকালে নামাজের জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন করা হবে।  

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ২০, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

মালয়েশিয়া থেকে ৩১ বাংলাদেশি দেশে ফেরত

ছবি : সংগৃহীত

সাড়ে চার মাসে মালয়েশিয়ায় আটক ১৬ হাজারেরও বেশি অভিবাসী

ছবি : সংগৃহীত

সান ডিয়েগো হামলা: প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ভয়

0 Comments