আন্তর্জাতিক

ভবিষ্যৎ যুদ্ধের প্রস্তুতি যেভাবে নিচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ২৬, ২০২৬
আইডিএফ-এর প্রযুক্তি ও ডিজিটাল প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়েল গ্রসম্যান। ছবি : সংগৃহীত
আইডিএফ-এর প্রযুক্তি ও ডিজিটাল প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়েল গ্রসম্যান। ছবি : সংগৃহীত

ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্রকে সামনে রেখে প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), মহাকাশ, সাইবার যুদ্ধ এবং ইলেকট্রনিক স্পেকট্রাম সক্ষমতা জোরদারে দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। আইডিএফের প্রযুক্তি ও ডিজিটাল প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়েল গ্রসম্যান দ্য জেরুজালেম পোস্টকে দেওয়া এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে বলেছেন, নতুন বাস্তবতায় শুধু অতীতের যুদ্ধের অভিজ্ঞতা নয়, আগামী দিনের সংঘাতের জন্যও বাহিনীকে পুনর্গঠন করা হচ্ছে।

 

তিনি বলেন, একটি তথ্য বিপ্লব চলছে। আইডিএফের প্রয়োজনীয় তথ্য ও সক্ষমতা আমাদের সর্বত্র নিয়ে যেতে হবে। শুধু আগের যুদ্ধের জন্য নয়, আসন্ন যুদ্ধের জন্যও প্রস্তুত থাকতে হবে। তাই আমাদের সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে সংগঠিত হতে হবে।

 

গ্রসম্যান বলেন, ইসরায়েল এখন উপলব্ধি করছে যে শক্তিশালী মহাকাশ কৌশল ছাড়া ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা করা সম্ভব নয়। কারণ, আধুনিক যুদ্ধের মূল চালিকাশক্তি হয়ে উঠছে ডেটা এবং নজরদারি।

 

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, আইডিএফ চিফ অব স্টাফ ইয়াল জামির চলতি বছরের জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে ঘোষিত পাঁচ বছর মেয়াদি সামরিক পরিকল্পনায় মহাকাশকে অগ্রাধিকারের তালিকায় রেখেছেন।

 

গ্রসম্যান বলেন, আইডিএফ প্রধান স্পষ্ট বলেছেন, আমরা মহাকাশকে উপেক্ষা করতে পারি না। এরপর থেকেই মহাকাশ-সংশ্লিষ্ট উদ্যোগে আমাদের বিপুল শক্তি ও সম্পদ বরাদ্দ করা হয়েছে।

 

তার তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৪৫ বছর আগে ইসরায়েল মহাকাশ কর্মসূচি শুরু করলেও বর্তমানে দেশটি স্যাটেলাইট যোগাযোগ ও স্যাটেলাইটভিত্তিক নজরদারিতে উল্লেখযোগ্য সক্ষমতা অর্জন করেছে।

 

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ২০২৫ সালের জুনে পরিচালিত ১২ দিনের অভিযানে ইরানের ১২ হাজারের বেশি ছবি সংগ্রহ করা হয়। পরে ২০২৬ সালের ইরান যুদ্ধ চলাকালে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৫০ হাজারেরও বেশি।

 

গ্রসম্যান জানান, ইসরায়েলের সীমান্ত থেকে হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে বিমানবাহিনীর অভিযান পরিচালনার অন্যতম ভিত্তি হয়ে উঠেছে নতুন স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থা।

 

তার মতে, ভবিষ্যতে আরও বেশি ডেটা স্থানান্তর এবং মহাকাশভিত্তিক নতুন সক্ষমতা তৈরির জন্য একাধিক পেলোডসহ নতুন স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করতে হবে এবং সেই সক্ষমতা ইসরায়েল অর্জন করছে।

 

রাশিয়া, চীন ও ইরানের মহাকাশে স্যাটেলাইট ধ্বংস কিংবা কক্ষপথ থেকে সরিয়ে দেওয়ার প্রযুক্তি উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মহাকাশ থেকেও হুমকি রয়েছে। আমরা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং বৃহত্তর প্রতিরক্ষা কাঠামোর বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করছি।

 

যুক্তরাষ্ট্রের মতো আলাদা স্পেস কমান্ড গঠনের বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ইসরায়েলের পুরো মহাকাশ ইকোসিস্টেমকে একই কাঠামোর আওতায় আনা।

 

তার ব্যাখ্যায়, এতে স্যাটেলাইট যোগাযোগ, নজরদারি, ইলেকট্রোম্যাগনেটিক স্পেকট্রাম, স্যাটেলাইট প্রতিরক্ষা, স্যাটেলাইট আক্রমণ এবং নতুন প্রকৌশল সক্ষমতার মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

 

২০২৫ সালের ডিসেম্বরে আইডিএফ তাদের সিফোরআই ও সাইবার প্রতিরক্ষা অধিদপ্তর পুনর্গঠন করে। এর আওতায় গঠন করা হয় নতুন এআই-কেন্দ্রিক ব্রিগেড স্ফেইরা এবং সম্প্রসারিত ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ইউনিট। এই ব্রিগেড ইলেকট্রোম্যাগনেটিক স্পেকট্রাম, এআই এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাত পরিচালনা করছে।

 

আইডিএফের দাবি, ২০২৫ সালের জুনে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ চলাকালে ইসরায়েলের দিকে ছোড়া প্রায় ১ হাজার ১০০টি ড্রোনের মধ্যে প্রায় ২৫ শতাংশ নিষ্ক্রিয় করে ৫১১৪তম স্পেকট্রাম ওয়ারফেয়ার ব্যাটালিয়ন।

 

সূত্রমতে, ইরান ও লেবাননে পরিচালিত স্পেকট্রাম-সম্পর্কিত অভিযান ছিল যুদ্ধের সবচেয়ে কম আলোচিত অথচ গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোর একটি।

 

গ্রসম্যান বলেন, ২৮শে ফেব্রুয়ারির আগের মাসগুলোতে, গ্রসম্যানের কমিউনিকেশনস কমান্ডের ক্ষেত্রে আইডিএফ প্রায় যুদ্ধকালীন প্রস্তুতির কাছাকাছি ছিল। অনেক দিক থেকেই, যদিও দুটি ঘটনার মধ্যে প্রায় আট মাস সময় কেটে যায়, অপারেশন রোয়ারিং লায়ন ছিল সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে জুন ২০২৫-এর যুদ্ধের একটি সম্প্রসারণ বা দ্বিতীয় পর্ব। অপারেশন রাইজিং লায়ন থেকে আমরা ইরানের সাথে যুদ্ধ করার বিষয়ে অনেক কিছু শিখেছি। আমরা সামরিক শক্তি ব্যবহারের একটি নতুন কৌশল শিখেছি, যা যুদ্ধ এবং তথ্যের কিছু নির্দিষ্ট ক্ষেত্রের উপর আলোকপাত করে।

 

বিষয়টি তিনি ব্যাখ্যা করলেন এভাবে, এর ফলে আমরা যুদ্ধ-সম্পর্কিত কয়েক ডজন নতুন সমাধান অর্জন করতে পেরেছিলাম। তবে তিনি কিছু গোপনীয় শিক্ষা গোপন রাখেন।

 

আইডিএফের অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তারা জেরুজালেম পোস্টকে জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের যুদ্ধের সময় বিমান বাহিনী ইরানের প্রতিরক্ষা শিল্পে ২,৬০০টি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে।

 

বিমান বাহিনী যখন এত বিপুল সংখ্যক লক্ষ্যবস্তুর সন্ধান করত, তখন তারা গ্রসম্যানের ব্রিগেডের সরবরাহ করা একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ওপর নির্ভর করত।

 

গ্রসম্যান বলেন, আমরা আইডিএফ-এর তথ্য কারখানা নির্মাণ ও পরিচালনা করছি। কমিউনিকেশনস কমান্ডের আগে থেকেই একটি ডেটা সেন্টার এবং ডেটাবেস ছিল। এখন বিমান বাহিনী, সামরিক গোয়েন্দা বিভাগ এবং স্থল বাহিনীর নিজস্ব ডেটাবেস রয়েছে যা নিয়মকানুনের অধীনে পরিচালিত হয় এবং তারা ডিজিটাল আর্কিটেকচার ব্যবহার করছে, যা আইডিএফ-এর কার্যকারিতা বৃদ্ধি করবে এবং তথ্যের আরও ভালো ব্যবহারে সহায়তা করবে।

 

অপারেশন রাইজিং লায়ন এবং রোয়ারিং লায়ন চলাকালীন, গ্রসম্যানের ব্রিগেড (যোগাযোগ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে) দীর্ঘ দূরত্বে বিপুল পরিমাণ ডেটা সংগ্রহ ও স্থানান্তর করতে সক্ষম হয়েছিল, যার ফলে ইসরায়েল দূরবর্তী দেশগুলোর তৃতীয় বৃত্তটিকে ইসরায়েলের সীমান্তবর্তী দেশগুলোর প্রথম বৃত্তের সমান করে ফেলে। এই অবকাঠামোর ফলে সীমান্তবর্তী দেশ এবং হাজার হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে কার্যত কোনো পার্থক্য থাকছে না।

 

তিনি বলেন, এতে কোনো জাদু নেই। যোগাযোগ স্থাপন, ছবি তোলা, হাজার হাজার কিলোমিটার জুড়ে তথ্য প্রেরণ এবং হাজার হাজার কিলোমিটারের ফুটেজ রেকর্ড করার জন্য স্যাটেলাইটের প্রয়োজন হয়।

 

গ্রসম্যান উল্লেখ করেন, এর জন্য পদার্থবিদ্যা, বিদ্যুৎ ব্যবহার এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে সৃজনশীলতার প্রয়োজন, যাতে বিমান বাহিনীর কমান্ডার মাহা ইরানে এমনভাবে কাজ করতে পারেন যেন এটি একটি প্রথম সারির দেশ। আমরা নিশ্চিত করি যে আইডিএফের সমস্ত শাখা যখন এবং যেখানে চায়, পদক্ষেপ নিতে পারে।

 

তবে তিনি সতর্ক করে দেন যে, ইরানও পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে নিয়েছে এবং ক্রমাগত নিজস্ব পরিবর্তন আনছে।

 

গ্রসম্যান জানান, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা শুধু ২০২৬ সালের যুদ্ধকে কেন্দ্র করে নয়; বরং ২০৩৫ সালের সম্ভাব্য যুদ্ধের চ্যালেঞ্জ মাথায় রেখে করা হচ্ছে।

 

কমিউনিকেশনস কমান্ডের মূল্যায়ন অনুযায়ী, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার প্রযুক্তি এবং কোয়ান্টাম কম্পিউটিং বিশ্বকে মৌলিক পরিবর্তনের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।

 

যদিও বেসামরিক পর্যায়ে ইসরায়েলকে এআই ও ডেটা সেন্টার উন্নয়নে পিছিয়ে পড়ার সমালোচনা রয়েছে, আইডিএফের দাবি, সামরিক প্রেক্ষাপটে তাদের আলাদা সক্ষমত আছ্যাঃ।

 

নতুন এআই ব্রিগেড ডেটা সেন্টার, সফটওয়্যার, অপারেশনাল মডেল, ডেটা সায়েন্স এবং ভবিষ্যৎ প্রযুক্তিগত চাহিদা মূল্যায়নের কাজ করছে।

 

এই ব্রিগেডের নেতৃত্ব দিচ্ছেন পরিচয় গোপন রাখা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল বি। বেসামরিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অধিদপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় প্রসঙ্গে কর্মকর্তারা বলেন, যেখানে যৌথভাবে কাজ করা সম্ভব, সেখানে তারা একসঙ্গে কাজ করেন; আর প্রয়োজন অনুযায়ী আলাদা দায়িত্বও পালন করেন।

 

গ্রসম্যানের মতে, সাইবার প্রতিরক্ষা শুধু নিজের নেটওয়ার্ক রক্ষা নয়; বরং শত্রুর ডিজিটাল অবকাঠামোতেই হুমকি মোকাবিলা করা বেশি কার্যকর। যোগাযোগ কমান্ড নিজের নেটওয়ার্কের বাইরেও কী ঘটছে তা পর্যবেক্ষণ করে আগাম প্রতিরোধ গড়ে তোলে।

 

তার মতে, আইডিএফের বিশেষ প্রযুক্তিগত অবকাঠামো রাষ্ট্র-সমর্থিত হ্যাকারদের হাত থেকেও গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ সুরক্ষিত রাখতে সক্ষম।

 

গাজায় মানবিক সহায়তা বিতরণে ব্যর্থতার প্রসঙ্গে আইডিএফের যোগাযোগ কমান্ড জানায়, তথ্য যতই নির্ভুল হোক, বাস্তব পরিস্থিতিতে সবসময় তা একইভাবে কার্যকর হয় না।

 

তাদের মতে, হামাস যদি সহায়তা দখল করতে চায়, তাহলে অ্যালগরিদম দিয়ে সেই বাস্তবতা প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। কারণ খাদ্য সহায়তাসহ সব বিষয়ে সরকার যে নীতি নির্ধারণ করে, আইডিএফ সেটিই অনুসরণ করে।

 

আইডিএফ জানায়, সব সেন্সর থেকে সংগৃহীত তথ্য একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল ডেটা প্ল্যাটফর্মে পাঠানো হয়। এই তথ্য বিশ্লেষণ করে এফপিভি ড্রোন এবং ক্লাস্টার যুদ্ধাস্ত্র মোকাবিলায় নতুন কৌশল তৈরি করা হচ্ছে।

 

তবে সামরিক বাহিনী স্বীকার করেছে, এফপিভি ড্রোনের বিরুদ্ধে এখনো কোনো পূর্ণাঙ্গ সমাধান তাদের হাতে নেই এবং এটি তৈরি করতে আরও কয়েক মাস বা কয়েক বছর লাগতে পারে।

 

গ্রসম্যান বলেন, শত্রুর হুমকির ধরন ও পরিস্থিতি বিশ্লেষণে এআইভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সংগৃহীত তথ্যই বহু সেনার জীবন রক্ষা করেছে।

 

আইডিএফের বহু প্রযুক্তি ইউনিটকে ধাপে ধাপে বেয়ারশেবা অঞ্চলের নতুন ক্যাম্পাসে স্থানান্তর করা হচ্ছে। ২০২০-এর দশকজুড়ে আইডিএফের বিভিন্ন ইউনিট এবং ইসরায়েল ন্যাশনাল সাইবার ডিরেক্টরেট সেখানে স্থানান্তরিত হয়েছে। খুব শিগগিরই আরও বড় পরিসরে এই স্থানান্তর সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
হরমুজে সাগরে ভাসছে আইফোন, কুড়াতে ছুটছেন ইরানিরা: টেলিগ্রাফ

পারস্য উপসাগরের ইরান উপকূলজুড়ে সাধারণত বানদারি সুর ভেসে আসে। যেখানে ভোরের আলো ফুটতেই ঢোল আর তালির ছন্দে কাঠের নৌকা নিয়ে জেলেরা সাগরে ভেসে পড়েন। তবে এই সপ্তাহে তারা একদমই অন্যরকম এক শিকারে বেরিয়েছেন।   শিপিং কন্টেইনার জাহাজ ‘জিএফএস প্রাইড’ গত ১৪ অক্টোবর ডুবে যাওয়ার পর হরমুজ প্রণালির পানিতে ভেসে ওঠে আইফোন, ফরাসি সুগন্ধি এবং হরেক রকমের মালামাল। সেগুলো তুলে আনতেই উদ্ধারকারী নৌকা ও স্কিফ নিয়ে প্রণালিজুড়ে ছড়িয়ে পড়েন শত শত জেলে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে এক ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, আমরা সবাই মিলে হরমুজ প্রণালীর দিকে যাচ্ছি। শুনতে পেলাম একটা কন্টেইনার জাহাজ ডুবে গেছে, তাই আইফোন আর সেন্ট কুড়াতে যাচ্ছি।   জাহাজটির ফ্ল্যাগ রাষ্ট্র ছিল সিঙ্গাপুর। তারা জানিয়েছে, জাহাজে আগুন লাগার পর এটি ডুবে যায়। তবে এর ২১ জন ক্রু সদস্যের সবাইকেই নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। অন্যদিকে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-র নৌবাহিনী দাবি করেছে, জাহাজটি একটি অননুমোদিত এবং ঝুঁকিপূর্ণ রুটে চলে গিয়েছিল এবং এটি একটি সামুদ্রিক মাইনের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরবর্তীতে সৃষ্ট আগুনে ২৫শ'রও বেশি কন্টেইনার নিয়ে জাহাজটি তলিয়ে যায়।   চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষভাগে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইরান বহু জাহাজে হামলা চালালেও খুব কম জাহাজই ডুবেছে। ২৩ সেপ্টেম্বর হামলা চালিয়ে ডুবিয়ে দেওয়া অ্যান্টিগুয়া অ্যান্ড বারবুডার পতাকাবাহী ‘কেপ দাও’-এর পর ‘জিএফএস প্রাইড’ হলো এই যুদ্ধের তৃতীয় ডুবে যাওয়া জাহাজ।   প্রকাশিত ফুটেজে দেখা যায়, অর্ধেক ডুবে থাকা কন্টেইনারগুলোর মাঝখান দিয়ে ডজন ডজন নৌকা একে অপরকে এড়িয়ে এগিয়ে যাচ্ছে এবং জেলেরা উত্তাল তরঙ্গ থেকে বাক্সগুলো টেনে নৌকায় তুলছেন। একটি ক্লিপে দেখা যায়, একটি মাত্র ছোট্ট নৌকা তার পেছনে আস্ত একটি বিশালাকার শিপিং কন্টেইনার টেনে নেওয়ার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।   যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে হরমুজ প্রণালি ও এর আশপাশে আইআরজিসি-র নৌ হামলার মাত্রা গত কয়েকদিনে সবচেয়ে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। তাদের নৌবাহিনী জাহাজগুলোকে এ এলাকা থেকে দূরে থাকার সতর্কতা জারির পাশাপাশি স্থানীয় জেলেদেরকেও ভেসে থাকা কন্টেইনারগুলোর আশপাশে সাবধানে নৌকা চালাতে অনুরোধ করেছে।   শুক্রবার ইরানের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামিনিয়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, আমেরিকা যদি এই অঞ্চল ছেড়ে চলে যায় তবে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে, আঞ্চলিক দেশগুলোর অংশগ্রহণে যৌথ নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠিত হবে এবং বিশ্ব অর্থনীতির উন্নতি ঘটবে। আর যদি আমেরিকা না যায়, তবে আমরা তাদের বিতাড়িত করব।   সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ১৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

‘মোহাম্মদ’ নাম নিয়ে ট্রাম্পের বিদ্রূপ, নির্বাচনী সমাবেশে বিতর্কিত মন্তব্য

ছবি: সংগৃহীত

রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি জেলেনস্কির আহ্বান

ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানে শক্তিশালী ভূমিকম্প, কেঁপে উঠল বিস্তীর্ণ এলাকা

ছবি: সংগৃহীত
পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্প

পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ বেলুচিস্তানে ৫ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ৬ মিনিটে এ কম্পন অনুভূত হয়। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত কোনো হতাহত বা ভবন ধসে পড়ার খবর পাওয়া যায়নি।   পাকিস্তানের আবহাওয়া দপ্তরের সিসমিক শাখার এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল বেলুচিস্তানের খুজদার জেলা থেকে প্রায় ৪৮ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে। ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে এর কেন্দ্র ছিল।   খুজদারসহ আশপাশের এলাকায় কম্পন পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল অগভীর হওয়ায় খুজদার এবং পার্শ্ববর্তী খারান ও কালাত জেলায় তীব্র কম্পন অনুভূত হয়েছে। প্রাদেশিক প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত প্রাণহানি বা ভবন ধসের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে খুজদারের আশপাশের গ্রামীণ এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থাগুলো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।   অগভীর ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি বেশি ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি হলে অনেক ক্ষেত্রে মাটিতে শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হতে পারে। কারণ, অগভীর ভূমিকম্পের কম্পন ভূপৃষ্ঠে পৌঁছানোর আগে তুলনামূলকভাবে কম শক্তি হারাতে পারে। এ ধরনের ভূমিকম্পে দুর্বল, মাটির ইট দিয়ে তৈরি কিংবা পর্যাপ্ত মজবুত কাঠামো না থাকা ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে। তবে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি নির্ভর করে ভূমিকম্পের মাত্রা, উৎপত্তিস্থলের গভীরতা, মাটির ধরন এবং ভবনের নির্মাণমানের ওপর।   ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল বেলুচিস্তান প্রায় ৩ লাখ ৪৭ হাজার ১৯০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের বেলুচিস্তান ভূতাত্ত্বিকভাবে সক্রিয় একটি অঞ্চল। ভারতীয়, ইউরেশীয় ও আরবীয় টেকটোনিক প্লেটের পারস্পরিক গতিবিধির প্রভাবে পাকিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় ভূমিকম্পের ঝুঁকি রয়েছে। এ অঞ্চলে মাঝারি থেকে শক্তিশালী ভূমিকম্পের ঘটনা ঘটে থাকে। তাই নতুন করে কম্পন অনুভূত হওয়ার পর সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি যাচাই এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা পর্যবেক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ।   সূত্র: রয়টার্স ও জি নিউজ

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ১৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

দিল্লিতে অভিজিৎ দীপকে প্রতিরোধমূলক গ্রেপ্তার, মুক্তি পেলেন নেহা বোরা

ছবি: সংগৃহীত

৮০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যা তুরস্কে, নিহত ৪

ছবি: সংগৃহীত

মাত্র ৫ দিনেই চাকরি হারালেন হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র কেটি জাকারিয়া

ছবি: সংগৃহীত
এবার বিক্ষোভে নামছে থালাপতি বিজয়ের দল

ভারতের তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী ও জনপ্রিয় অভিনেতা থালাপতি বিজয়ের দল ‘তামিলাগা ভেত্রি কাজাগাম’ (টিভিকে) ভারতের বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র জাতীয় পর্যায়ের বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নিতে যাচ্ছে।    ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে আয়োজিত বিরোধী জোটের কার্যক্রমে দলটির এই যুক্ত হওয়ার বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।   ‘বিদুথালাই চিরুথাইগাল কাচি’ (ভিসিকে) নেতা থল থিরুমাভালাভান সংবাদমাধ্যমকে জানান, সম্প্রতি তামিলনাড়ুতে ইন্ডিয়া জোটের রাজ্য শাখায় যুক্ত হয়েছে টিভিকে। এরই ধারাবাহিকতায় চেন্নাইয়ে জোটের আয়োজিত বিক্ষোভেও অংশ নেয় দলটি। ভবিষ্যতে জাতীয় স্তরের কর্মসূচিতেও তাদের দেখা যাওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।   মূলত ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে শুরু থেকেই আপত্তি জানিয়ে আসছে বিরোধীদের একাংশ। তাদের আশঙ্কা, এই প্রক্রিয়ার কারণে বহু যোগ্য ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ে যেতে পারে। সেই সাথে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণও দাবি করেছে তারা।   ইন্ডিয়া জোটের এই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে টিভিকের অবস্থান আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। গত ৩ অক্টোবর কংগ্রেস, সিপিএম, সিপিআই, ভিসিকে এবং এমডিএমকের মতো দলগুলোর সাথে রাজ্য পর্যায়ের এক বৈঠকে অংশ নেয় টিভিকে। সেখানে বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন এবং এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি টিভিকে-কে জোটে স্বাগত জানানো হয়। এরপর চেন্নাইয়ে বিজয়ের বাসভবনে গিয়ে তার সাথে সাক্ষাৎ করেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, যা দুই দলের রাজনৈতিক সমঝোতাকে আরও ত্বরান্বিত করেছে।   উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে অভিনেতা বিজয়ের হাত ধরে আত্মপ্রকাশ করা টিভিকে তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে একটি শক্ত বিকল্প হয়ে ওঠার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে। ইন্ডিয়া জোটের সাথে এই সম্পৃক্ততা দলটির রাজনৈতিক পরিধি আরও বাড়িয়ে দিলেও, জাতীয় রাজনীতিতে এই জোটের সাথে টিভিকের চূড়ান্ত ভূমিকা ঠিক কতদূর বিস্তৃত হবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।   সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ১৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বিজেপি কেন ‘সরকার বদলের পাঁয়তারা’ দেখছে, কেন আলোচনায় বাংলাদেশ?

ছবি: সংগৃহীত

ককরোচ জনতা পার্টির পতাকা উত্তোলন কর্মসূচি ঘিরে দিল্লিতে কঠোর নিরাপত্তা, মোতায়েন হাজারো পুলিশ

বারাক ওবামা। ছবি: সংগৃহীত

ফিলিস্তিনিদের ভূমি দখল করে নৈতিক অবস্থান হারিয়েছে ইসরাইল : বারাক ওবামা

0 Comments