ধর্মীয় নিপীড়নের কারণে বাংলাদেশ থেকে ভারতে গিয়ে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের আওতায় আবেদন করা যোগ্য শরণার্থীদের আগামী ৬ মাসের মধ্যে ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন দেশটির কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়ার।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) শিলিগুড়ির কাওয়াখালিতে আয়োজিত সভায় দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন। শাহ বলেছেন, বাংলাদেশ থেকে যাওয়া হিন্দু, শিখ ও জৈন শরণার্থীরা আগামী ছয় মাসের মধ্যে নাগরিকত্ব পাবেন। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রাজ্য প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে এবং তাদের প্রয়োজনীয় ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
অমিত শাহ বলেন, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের আওতায় যোগ্য আবেদনকারীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার জন্য পশ্চিমবঙ্গের আটটি জেলার জেলা প্রশাসকদের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। সব শরণার্থীকে মর্যাদার সঙ্গে ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়া হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এর আগে বুধবার ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পশ্চিমবঙ্গসহ আটটি সীমান্তবর্তী রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের জেলা প্রশাসকদের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের আওতায় জমা থাকা আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের ক্ষমতা দেয়।
এর আগে নাগরিকত্বের আবেদনগুলো কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত ক্ষমতাপ্রাপ্ত কমিটির মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করা হতো। এসব কমিটিতে আদমশুমারি, গোয়েন্দা ব্যুরো ও ডাক বিভাগের কর্মকর্তারাও থাকতেন।
নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরোধিতা করায় পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও কটাক্ষ করেন অমিত শাহ।
শাহ বলেন, আইনটি চালুর সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাকে নিয়ে ঠাট্টা করতেন। তিনি বলতেন, পশ্চিমবঙ্গ সরকার আইনটি বাস্তবায়ন করতে দেবে না।
শাহ বলেন, মমতা তখন আইনটি বাস্তবায়নে সম্মতি দেননি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তার সরকারই চলে গেছে এবং এখন পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির সরকার রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, রাজ্য সরকার পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি অনুপ্রবেশকারীকে শনাক্ত করে রাজ্য থেকে বের করে দেবে।
সূত্র : এএনআই
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
ভারতের বিহার রাজ্যে চলন্ত ট্রেনের জানালা দিয়ে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন এক যুবক। যাত্রীরা তার হাত ধরে ফেলায় ট্রেনের বাইরেই ঝুলে থাকতে হয় তাকে। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ ঘটনার বিস্তারিত তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিহারের ভাগলপুর জেলার শিবনারায়ণপুর রেলস্টেশন এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। ট্রেনটি স্টেশন ছেড়ে যাত্রা শুরু করার সময় জানালার বাইরে থেকে এক যাত্রীর মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন ওই যুবক। তবে তার পরিকল্পনা সফল হয়নি। মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা বুঝতে পেরে কামরার ভেতরে থাকা কয়েকজন যাত্রী দ্রুত তার হাত চেপে ধরেন। এ সময় ট্রেনটি চলতে শুরু করলেও যাত্রীরা তাকে ছাড়েননি। ফলে চলন্ত ট্রেনের বাইরে ঝুলন্ত অবস্থায় থাকতে বাধ্য হন ওই যুবক। ভাইরাল ভিডিওতে শ্বাসরুদ্ধকর দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ট্রেনটি সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, আর জানালার বাইরে ঝুলে থাকা ওই ব্যক্তি নিজেকে সামলানোর আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। এ সময় স্টেশনে অবস্থানরত অনেকেই ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেন। একপর্যায়ে কিছু দূর যাওয়ার পর ওই যুবক প্ল্যাটফর্মে পড়ে যান। পরে ঘটনাস্থলে থাকা নিরাপত্তাকর্মীরা তাকে আটক করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ঘটনার ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নেটিজেনদের একাংশ মোবাইল ছিনতাইয়ের চেষ্টার জন্য ওই যুবকের শাস্তি দাবি করেছেন। অন্যদিকে অনেকেই চলন্ত ট্রেনের বাইরে একজন মানুষকে এভাবে ঝুলিয়ে রাখার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, অপরাধের অভিযোগ থাকলেও কাউকে এমন প্রাণঘাতী ঝুঁকির মধ্যে ফেলা উচিত নয়। ঘটনাটি ঘিরে যাত্রীদের নিরাপত্তা, রেলস্টেশন এলাকায় ছিনতাই প্রতিরোধ এবং আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তবে আটক যুবকের পরিচয়, শারীরিক অবস্থা কিংবা তার বিরুদ্ধে পরবর্তী সময়ে কী ধরনের আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের অবিলম্বে পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) বাতিলের দাবিতে মঙ্গলবার কলকাতায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসকে প্রতিবাদ মিছিল করতে দেয়নি পুলিশ। তৃণমূল কংগ্রেস আগেই ঘোষণা দিয়েছিল, মঙ্গলবার বেলা দুইটায় কলকাতার রাজাবাজার মোড় থেকে মিছিল বের হবে। মিছিলটি যাওয়ার কথা ছিল পার্ক সার্কাস মোড় পর্যন্ত। এতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের যোগ দেওয়ার কথা ছিল। কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ জানান, রাজাবাজার থেকে পার্ক সার্কাস পর্যন্ত মিছিল করার জন্য তৃণমূল কংগ্রেস পুলিশের কাছ থেকে কোনো আগাম অনুমতি নেয়নি। মিছিল কোথা থেকে শুরু হবে, কোথায় শেষ হবে, তাতে কতজন থাকবেন—এসব কিছুই পুলিশকে জানানো হয়নি। তাই বেলা দুইটার আগেই পুলিশ গিয়ে রাজাবাজার মোড় আটকে দেয়। সেখানে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যরাও উপস্থিত হন। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, সেখান থেকে মিছিল করার অনুমতি নেয়নি তৃণমূল। তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা মিছিলে যোগ দিতে রাজাবাজার মোড়ে জড়ো হলেও পুলিশ কার্যত তাঁদের সেখানেই আটকে দেয়। তৃণমূলের বিধায়ক কুণাল ঘোষ, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় ও অশোক দেব এবং সাংসদ দোলা সেনসহ দলের নেতারা সেখানে উপস্থিত হন। মিছিলে যোগ দিতে না পেরে তাঁরা রাজাবাজার মোড়েই অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। সেখানে বসেই তৃণমূলের নেতারা কয়েকটি দাবি তোলেন। এর মধ্যে রয়েছে সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের অবিলম্বে অপসারণ ও গ্রেপ্তার, এসআইআর বাতিল, বাদ পড়া ভোটারদের নাম অবিলম্বে ভোটার তালিকায় তোলা এবং পুরোনো ভোটার তালিকা অনুযায়ী ভোট দেওয়ার অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজাবাজার মোড়ের জমায়েতে আসেননি। মিছিলে যোগ দিতে বাড়ি থেকে বের হওয়ার কোনো উদ্যোগও নেননি তিনি। এদিকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, অনুমতি না নিয়ে যেন কোনো মিছিল বের না হয়। পুলিশও কার্যত সেই নির্দেশ দিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, যেখান থেকে মিছিল শুরু হওয়ার কথা, পুলিশ সেখানেই তা শেষ করুক।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আবার যুদ্ধ শুরু হলে উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা ডেটা সেন্টার, ইন্টারনেট ক্যাবল ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) অবকাঠামোয় হামলা চালানো হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান মোহসেন রেজায়ি। তার এই হুঁশিয়ারিতে মধ্যপ্রাচ্যের দ্রুত সম্প্রসারিত ডিজিটাল অর্থনীতি এবং ইউরোপ-এশিয়ার ইন্টারনেট সংযোগের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। লোহিত সাগরের উপকূলবর্তী ইয়েমেনের কিছু ভূখণ্ড গত মাসে ইরান-সমর্থিত হুতিদের নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার পর সমুদ্রতলের ইন্টারনেট ক্যাবলগুলোর নিরাপত্তা নিয়েও আশঙ্কা বেড়েছে। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকার ও হুতিদের মধ্যে বাব আল-মানদেব প্রণালিসহ বিভিন্ন এলাকায় তীব্র লড়াই চলছে। গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বের মোট ইন্টারনেট ট্রাফিকের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ চলাচল করে বলে ধারণা করা হয়। এর আগে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ চলাকালে বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে ডেটা সেন্টার এবং মার্কিন ব্যবসায়িক স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনায় হামলার ঘটনা ঘটেছে। তেহরান দাবি করেছিল, ইরানের বেসামরিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাব হিসেবেই এসব পাল্টা হামলা চালানো হয়েছিল। গত জুনে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর বড় ধরনের সক্রিয় যুদ্ধ অনেকটাই থেমে গেছে। তবে বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজে হামলার ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে, উপসাগরীয় অঞ্চলের ইন্টারনেট অবকাঠামো আসলে কতটা ঝুঁকিতে? সম্ভাব্য হামলা কীভাবে বিশ্ব অর্থনীতি ও প্রযুক্তি খাতকে প্রভাবিত করতে পারে? কেন ঝুঁকিতে ডেটা সেন্টার ও ইন্টারনেট ক্যাবল? বিশ্বের বিপুল পরিমাণ তথ্য অল্প কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পথে পরিবাহিত হওয়ায় এসব অবকাঠামো তুলনামূলকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। গবেষণা প্রতিষ্ঠান টেলিজিওগ্রাফির হিসাব অনুযায়ী, ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে ডেটা পরিবহনের সক্ষমতার ৯০ শতাংশের বেশি লোহিত সাগরের তলদেশে থাকা ক্যাবলগুলোর ওপর নির্ভরশীল। এসব ক্যাবল বাব আল-মানদেব প্রণালি দিয়ে লোহিত সাগরে প্রবেশ করেছে। সবচেয়ে সংকীর্ণ স্থানে প্রণালিটির প্রস্থ প্রায় ২৬ কিলোমিটার। ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে সমুদ্রপথে যোগাযোগের অন্যতম ব্যস্ত রুট এটি। সমুদ্রতলের ক্যাবল জাহাজের নোঙরের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। আবার পরিকল্পিত নাশকতার মাধ্যমেও এগুলো কেটে দেওয়া সম্ভব। যুদ্ধ চলাকালে এসব ক্যাবল মেরামত করাও কঠিন হয়ে পড়ে। মেরামতকারী জাহাজের চলাচলের অনুমতি, নিরাপত্তার নিশ্চয়তা এবং সংঘাতপূর্ণ এলাকায় কাজ করার সুযোগ- সবকিছুই তখন বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। অন্যদিকে, ডেটা সেন্টার হলো বড় আকারের স্থায়ী স্থাপনা, যেখানে ব্যাংকিং অ্যাপ, ক্লাউড কম্পিউটিং, ব্যবসায়িক সফটওয়্যার এবং বিভিন্ন অনলাইন সেবা পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সার্ভার ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি রাখা হয়। লন্ডনের কিংস কলেজের নিরাপত্তা অধ্যয়ন বিভাগের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক আন্দ্রেয়াস ক্রিগ আল-জাজিরাকে বলেন, একটি স্থাপনার সব সার্ভার ধ্বংস না করেও হামলার মাধ্যমে পুরো কেন্দ্রটিকে অকার্যকর করে দেওয়া সম্ভব। তার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ডেটা সেন্টার সচল রাখতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, শীতলীকরণব্যবস্থা এবং টেলিযোগাযোগ সংযোগ অপরিহার্য। এসবের যেকোনও একটি গুরুতরভাবে ব্যাহত হলে পুরো স্থাপনার কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যেতে পারে। সমুদ্রতলের কেবলগুলোও সার্বক্ষণিকভাবে সুরক্ষিত রাখা কঠিন। একটি গুরুত্বপূর্ণ কেবল ক্ষতিগ্রস্ত হলে একই সঙ্গে একাধিক দেশের ইন্টারনেট সংযোগ ব্যাহত হতে পারে। বারবার হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই ইরান ডেটা সেন্টার ও প্রযুক্তি অবকাঠামোকে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে চিহ্নিত করে আসছে। ১১ মার্চ আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানায়, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) ‘ইরানের নতুন লক্ষ্যবস্তু’ শিরোনামে একটি তালিকা প্রকাশ করেছে। এতে ইসরায়েল ও উপসাগরীয় কয়েকটি দেশে গুগল, মাইক্রোসফট এবং ওরাকলের ক্লাউড অবকাঠামোর কথা উল্লেখ করা হয়। একই মাসে আইআরজিসি টেলিগ্রামে প্রকাশিত এক পোস্টে ১৭টি মার্কিন প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ছিল গুগল, মেটা ও অ্যাপল। তালিকায় সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক এআই প্রতিষ্ঠান জি৪২-এর নামও ছিল। ক্রিগ বলেন, রেজায়ির হুঁশিয়ারিকে গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া উচিত। তবে উপসাগরীয় অঞ্চলে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি করার সক্ষমতা এবং সেখানকার পুরো ডিজিটাল অবকাঠামো পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করার সক্ষমতা এক বিষয় নয়। তার মতে, রেজায়ির বক্তব্যের তাৎপর্য হলো, তিনি শুধু নতুন কিছু লক্ষ্যবস্তুতে হামলার হুমকি দেননি; বরং এমন এক ধরনের কৌশলগত অবকাঠামোকে সামনে এনেছেন, যা উপসাগরীয় দেশগুলোর অর্থনৈতিক বহুমুখীকরণের পরিকল্পনাকে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিগত শক্তির সঙ্গে সংযুক্ত করে। ক্রিগের বিশ্লেষণ, এই হুমকির মূল উদ্দেশ্য প্রতিরোধমূলক চাপ সৃষ্টি করা। এর লক্ষ্য শুধু ওয়াশিংটন নয়; আবুধাবি, রিয়াদ ও দোহাও। এর মাধ্যমে উপসাগরীয় সরকারগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন কোনও সামরিক অভিযান নিরুৎসাহিত করার জন্য চাপের মুখে ফেলা হতে পারে। আগেও হামলার শিকার হয়েছে প্রযুক্তি অবকাঠামো মধ্যপ্রাচ্যের ডেটা সেন্টার ও ইন্টারনেট অবকাঠামোয় হামলার আশঙ্কা ক্যাবল ভবিষ্যতের কোনও সম্ভাবনা নয়। এরই মধ্যে এ ধরনের স্থাপনায় হামলা ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। মার্চে অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেস (এডব্লিউএস) জানায়, সংযুক্ত আরব আমিরাতে তাদের দুটি স্থাপনা সরাসরি ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে। বাহরাইনে তাদের আরেকটি স্থাপনার কাছে হামলায় অবকাঠামোগত ক্ষতিও হয়েছে। এডব্লিউএসের এসব স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সময় আবুধাবি কমার্শিয়াল ব্যাংক জানিয়েছিল, পুরো অঞ্চলে তথ্যপ্রযুক্তিগত বিঘ্নের কারণে তাদের অ্যাপ ব্যবহার করা যাচ্ছিল না। তবে ব্যাংকটি সরাসরি এই সমস্যার জন্য এডব্লিউএসের ক্ষয়ক্ষতিকে দায়ী করেনি। গত সেপ্টেম্বরে এডব্লিউএস জানায়, বাহরাইনের কয়েকটি স্থাপনা এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি স্থানে তাদের সেবা পুরোপুরি পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এসব ঘটনা দেখিয়ে দিয়েছে, সামরিক প্রতিরক্ষাব্যবস্থা থাকলেই বাণিজ্যিক প্রযুক্তি স্থাপনাগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিরাপদ হয়ে যায় না। ক্রিগের মতে, উপসাগরীয় দেশগুলোর সামরিক বাহিনী আকাশপথে আসা অধিকাংশ হুমকি প্রতিহত করতে পারলেও অল্প কয়েকটি হামলা সফল হলেই অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। তুলনামূলক কম খরচের ড্রোন দিয়েও শত শত কোটি ডলারের যন্ত্রপাতি থাকা স্থাপনার কার্যক্রম ব্যাহত করা সম্ভব। সমুদ্রতলের ক্যাবলও আগেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সমুদ্রতলের ইন্টারনেট কেবল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার নজিরও রয়েছে। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে লোহিত সাগরে তিনটি ক্যাবল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ডেটা সেন্টার ডায়নামিকসের প্রতিবেদনে শিল্পসংশ্লিষ্ট মহলের মূল্যায়নের ভিত্তিতে বলা হয়, হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অচল হয়ে পড়া রুবিমার নামের একটি পণ্যবাহী জাহাজের টেনে নিয়ে যাওয়া নোঙরের আঘাতেই সম্ভবত কেবলগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। সেগুলো মেরামত করতে কয়েক মাস লেগেছিল। তবে এ ঘটনায় হুতিরা সরাসরি ক্যাবল কাটার চেষ্টা করেছিল- এমন কোনও নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। গোষ্ঠীটি ২০২৪ সালের ক্ষয়ক্ষতির জন্য নিজেদের দায়ও অস্বীকার করেছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে সৌদি আরবের জেদ্দার কাছে আরও দুটি ক্যাবল কেটে যায়। এতে মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন এলাকায় ইন্টারনেটের গতি কমে গিয়েছিল। তবে ক্যাবল দুটি কী কারণে কাটা পড়েছিল, তা নিশ্চিত করা যায়নি। এই ঘটনাগুলো দেখায়, সরাসরি সামরিক হামলা ছাড়াও দুর্ঘটনা, জাহাজের নোঙর কিংবা অজ্ঞাত কারণে ক্যাবল ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে আন্তর্জাতিক যোগাযোগব্যবস্থায় বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হতে পারে। বাব আল-মানদেব ঘিরে হুতিদের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উদ্বেগ হুতিরা সরাসরি সমুদ্রতলের ইন্টারনেট কেবল আক্রমণ করেছে- এমন কোনও নিশ্চিত তথ্য নেই। তবে বাব আল-মানদেব প্রণালি ও আশপাশের ভূখণ্ডে তাদের সাম্প্রতিক অগ্রগতি ক্যাবলগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে হুতিরা মোখা বন্দর এবং বাব আল-মানদেব প্রণালির আশপাশের ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ নেয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ১১ সেপ্টেম্বর তারা মাইয়ুন দ্বীপেও পৌঁছে যায়। দ্বীপটি প্রণালিকে দুটি অংশে বিভক্ত করেছে। তবে গত ৫ অক্টোবর ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার দাবি করে, তারা মোখা বন্দর এবং প্রণালির কাছে কয়েকটি অবস্থান পুনর্দখল করেছে। হুতিরা এ দাবি অস্বীকার করেছে। এই এলাকায় সংঘাত অব্যাহত থাকলে সমুদ্রতলের ক্যাবল মেরামত, নতুন ক্যাবল স্থাপন এবং নিরাপদে রক্ষণাবেক্ষণের কাজ আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। লোহিত সাগরের বিকল্প পথ তৈরি হচ্ছে লোহিত সাগরের ওপর নির্ভরতা কমাতে বিকল্প স্থলপথ ও নতুন যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এবং আঞ্চলিক সরকারগুলো। তবে এসব বিকল্পের ব্যয় বেশি এবং অনেক প্রকল্প এখনও নির্মাণাধীন। গত ১০ সেপ্টেম্বর ইরাকের যোগাযোগ মন্ত্রণালয় জানায়, উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে ইরাকের ভূখণ্ড হয়ে ইউরোপে ডেটা পরিবহনের জন্য কাতারভিত্তিক ওরেদুর সঙ্গে চুক্তি করেছে বাগদাদ। ইরাকের সংবাদ সংস্থাকে দেশটির যোগাযোগমন্ত্রী মোস্তফা জাবার সানাদ জানান, পরিকল্পিত ভূগর্ভস্থ ক্যাবলটি আল-ফাও থেকে তুরস্কের সীমান্তসংলগ্ন রাবিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। গত ৭ অক্টোবর ওরেদুর আন্তর্জাতিক শাখা ইরাকের আইকিউ নেটওয়ার্কসের কাছ থেকে ফাইবার সংযোগ কেনার বিষয়ে সম্মত হয়। এর মাধ্যমে তুরস্কের দিকে যোগাযোগপথ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে সরকারি অনুমোদন প্রয়োজন। মাইক্রোসফটও গত সেপ্টেম্বরে জানায়, ২০৩০ সালের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে সমুদ্রতলের ও স্থলভিত্তিক যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নে তারা ৪০ কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগ করবে। প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ‘রেস্ট অব ওয়ার্ল্ড’ গত ৭ অক্টোবর নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্রের বরাতে জানায়, গুগল ও মেটা ইরাকের মধ্য দিয়ে কিছু ইন্টারনেট ট্রাফিক পাঠানো শুরু করেছে। তবে এ বিষয়ে আল-জাজিরার মন্তব্যের অনুরোধে প্রতিষ্ঠান দুটি সাড়া দেয়নি। ক্রিগের মতে, ডিজিটাল যোগাযোগব্যবস্থাকে সত্যিকার অর্থে ঝুঁকিমুক্ত করতে হলে একই ভৌগোলিক অঞ্চলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প সংযোগ তৈরি করতে হবে। প্রয়োজনে উপসাগরীয় অঞ্চলের বাইরেও কিছু স্থাপনা গড়ে তুলতে হবে। তবে এতে একটি জটিলতা রয়েছে। উপসাগরীয় দেশগুলো তাদের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও কম্পিউটিং অবকাঠামো নিজস্ব সীমানার মধ্যে রাখতে ব্যাপক বিনিয়োগ করেছে। একদিকে তথ্যের ওপর জাতীয় নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা, অন্যদিকে অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা- এই দুই লক্ষ্য সব সময় একসঙ্গে অর্জন করা সহজ নয়। এআই প্রযুক্তির কেন্দ্র হওয়ার উচ্চাকাঙ্ক্ষায় প্রভাব তেলনির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে প্রযুক্তি ও জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতিতে রূপান্তর উপসাগরীয় দেশগুলোর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এ জন্য ডেটা সেন্টার, ক্লাউড কম্পিউটিং এবং এআই খাতে বিপুল বিনিয়োগ করা হচ্ছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে দেশটির প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান জি৪২ ওপেনএআই, এনভিডিয়াসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মিলে ‘স্টারগেট ইউএই’ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এটি পরিকল্পিত পাঁচ গিগাওয়াট সক্ষমতার একটি বৃহৎ ইউএই-যুক্তরাষ্ট্র এআই ক্যাম্পাসের অংশ। সৌদি আরবের সরকারি বিনিয়োগ তহবিল পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড ২০২৫ সালের মে মাসে ‘হুমেইন’ নামে একটি এআই প্রতিষ্ঠান চালু করে। সৌদি প্রেস এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। ডেটা সেন্টার নির্মাণ এবং আরবি ভাষাভিত্তিক এআই মডেল তৈরির লক্ষ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি কাজ করছে। কাতারের সার্বভৌম সম্পদ তহবিলও ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে মার্কিন বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ব্লু আউলের সঙ্গে তিন শ’ কোটি ডলারের ডেটা সেন্টার বিনিয়োগ উদ্যোগে যুক্ত হয়। এছাড়া মাইক্রোসফট গত সেপ্টেম্বরে জানায়, ২০৩০ সাল পর্যন্ত কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে ১০ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করবে তারা। এ পরিকল্পনায় ‘ডিজিটাল স্থিতিস্থাপকতা’ বা সংকট মোকাবিলায় ডিজিটাল অবকাঠামোর সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাহরাইনের কিছু স্থাপনায় থাকা তথ্য পুনরুদ্ধারের বিষয়ে এডব্লিউএস জানিয়েছে, তারা সম্ভাব্য সব বিকল্পই চেষ্টা করেছে। তবু কিছু তথ্য ও সেবা পুনরুদ্ধার করা যায়নি। ক্রিগের মূল্যায়ন, ইরানের হুমকি উপসাগরীয় দেশগুলোর এআই ও প্রযুক্তিকেন্দ্র হওয়ার উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে পুরোপুরি থামিয়ে দেবে না। তবে এর ফলে বিনিয়োগের ব্যয়, অবস্থান নির্বাচন এবং নিরাপত্তা পরিকল্পনায় বড় পরিবর্তন আসতে পারে। তিনি বলেন, উপসাগরীয় দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের অস্থিতিশীল অঞ্চলের মধ্যে স্থিতিশীল বিনিয়োগকেন্দ্র হিসেবে তুলে ধরেছে। কিন্তু যুদ্ধ সেই ধারণাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে সংযুক্ত আরব আমিরাত? ক্রিগের মতে, উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। কারণ, দেশটির এআই কৌশল মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। এতে আমিরাতের প্রযুক্তি অবকাঠামো ইরানের কাছে আরও আকর্ষণীয় লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠতে পারে। অন্যদিকে, তেহরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক থাকায় কাতার রাজনৈতিকভাবে কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে বলে মনে করেন তিনি। তবে এর অর্থ এই নয় যে কাতারের অবকাঠামো সম্পূর্ণ নিরাপদ। ইরানের হুমকির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ক্রিগ বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলের উদীয়মান ডিজিটাল অর্থনীতির ক্ষেত্রে ইরান এমন পরিস্থিতি তৈরি করতে চাইছে, যা দেশগুলোর সামুদ্রিক অর্থনীতিতে ইতোমধ্যে দেখা গেছে। অর্থাৎ, নির্ভরযোগ্য যোগাযোগ ও অবকাঠামোকে ভূরাজনৈতিক দর-কষাকষির হাতিয়ারে পরিণত করা। আঞ্চলিক সংকটের প্রভাব ছড়িয়ে পড়তে পারে বিশ্বজুড়ে উপসাগরীয় অঞ্চলে ডেটা সেন্টার ও ইন্টারনেট ক্যাবল ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার প্রভাব শুধু সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে বিপুল পরিমাণ ডেটা পরিবহন এই অঞ্চলের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় একাধিক দেশের ব্যাংকিং, অনলাইন ব্যবসা, ক্লাউড সেবা এবং ডিজিটাল যোগাযোগব্যবস্থা বিঘ্নিত হতে পারে। একই সঙ্গে এআই খাতে উপসাগরীয় দেশগুলোর বিপুল বিনিয়োগের ভবিষ্যৎও নিরাপত্তাঝুঁকির হিসাবের ওপর নির্ভর করবে। নতুন ডেটা সেন্টার নির্মাণের পাশাপাশি বিকল্প বিদ্যুৎ, একাধিক ইন্টারনেট সংযোগ, ভৌগোলিকভাবে বিচ্ছিন্ন ব্যাকআপ ব্যবস্থা এবং দ্রুত মেরামতের সক্ষমতা গড়ে তোলার প্রয়োজন বাড়বে। তবে ইরানের হুমকির অর্থ এই নয় যে পুরো অঞ্চলের ইন্টারনেট অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে যাওয়া অনিবার্য। বরং বর্তমান পরিস্থিতি দেখাচ্ছে, অল্প কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বা যোগাযোগপথে বিঘ্ন ঘটিয়েও বড় অর্থনৈতিক ক্ষতি করা সম্ভব। সুতরাং বলা যায়, উপসাগরীয় অঞ্চলের ডিজিটাল ভবিষ্যৎ এখন শুধু প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও বিনিয়োগের ওপর নির্ভর করছে না; এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সামরিক নিরাপত্তা, ভূরাজনীতি এবং বিকল্প যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলার সক্ষমতা। মধ্যপ্রাচ্যকে এআই ও প্রযুক্তির বৈশ্বিক কেন্দ্রে পরিণত করার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তাই অবকাঠামোর নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করাই হয়ে উঠছে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। সূত্র: আল-জাজিরা