জাতীয়

আন্তর্জাতিক সংলাপ দিবসে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কে নতুন বার্তা

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ১১, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বলেছেন, চীন সবসময় সংলাপের মাধ্যমে সবধরনের দ্বন্দ্ব-সংঘাত নিরসনের পক্ষে। সমতাভিত্তিক উন্নয়ন, শান্তি ও ঐক্যের জন্য চীন সংলাপকে সমর্থন করে বলে জানান তিনি। চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেছেন, সমতা ভিত্তিক উন্নয়ন অর্জনে চীন বাংলাদেশের সাথে একত্রে কাজ করতে প্রস্তুত। 

 

জাতিসংঘ ঘোষিত আন্তর্জাতিক সংলাপ দিবস উপলক্ষে বুধবার (১০ জুন) রাজধানীর গণগ্রন্থাগার অডিটরিয়ামে যৌথভাবে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে চীনা দূতাবাস ও বাংলাদেশ-চীন অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন। এতে ভিডিও বার্তায় অংশ নেন চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রী ওয়াং ই। 

 

তিনি বলেন, গোটা বিশ্ব এখন দ্বন্দ্ব সংঘাতে বিভক্ত হয়ে আছে। সংলাপের মাধ্যেম এ বিভেদ দুর করা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি। চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, বাংলাদেশের সাথে জনগণ পর্যায়ে চীন সহযোগিতা বাড়াতে চায়। এজন্য সংস্কৃতি, শিক্ষা, গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যোগাযোগ ও বিনিময় বাড়ানোর ওপর জোর দেন তিনি।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
সৎ ও যোগ্য মানুষদের রাজনীতিতে আসা প্রয়োজন: তথ্যমন্ত্রী

দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিকে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই করতে যোগ্য, মেধাবী ও সৎ মানুষকে রাজনীতিতে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান।   তিনি বলেছেন, ভালো রাজনৈতিক নেতৃত্ব তৈরি করা না গেলে দেশের উন্নয়ন নিয়ে যত স্বপ্নই দেখা হোক, তা দীর্ঘস্থায়ী করা কঠিন হবে। শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর সংসদ ভবনের এলডি হলে বরিশাল ডিভিশনাল জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত ‘আগামীর বরিশাল বিভাগ: সম্ভাবনা ও করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।   রাজনীতি থেকে দূরে সরে যাচ্ছে মেধাবীরা তথ্যমন্ত্রী বলেন, গত ১৭ বছরে দেশে নেতৃত্বের বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে। এর ফলে ভালো ও মেধাবী তরুণদের একটি অংশ রাজনীতি থেকে দূরে সরে গেছে। একই সঙ্গে রাজনীতিবিদদের প্রতি সাধারণ মানুষের মধ্যেও এক ধরনের অনাস্থা তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, এমনকি অনেক রাজনীতিবিদের সন্তানও রাজনীতিতে আসতে আগ্রহী নয়। এই পরিস্থিতি থেকে বের হয়ে আসতে হলে রাজনীতিতে যোগ্য ও ভালো মানুষদের অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে।   তরুণদের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরির আহ্বান আন্দালিভ রহমান বলেন, বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মেধাবী তরুণদের রাজনীতিতে আসতে উৎসাহিত করা প্রয়োজন। এ জন্য তাদের সামনে রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে হবে। তিনি বলেন, বর্তমানে যারা রাজনীতি করার সুযোগ পেয়েছেন, তাদের অন্যতম দায়িত্ব হলো পরবর্তী প্রজন্মের যোগ্য ও মেধাবী তরুণদের রাজনীতিতে আসার পথ তৈরি করে দেওয়া। তরুণদের রাজনীতিতে উৎসাহিত করার পাশাপাশি তাদের স্বাচ্ছন্দ্যে কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।   অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি দরকার মানসম্মত নেতৃত্ব তথ্যমন্ত্রী বলেন, অবকাঠামো উন্নয়ন, গ্যাস সরবরাহ ও শিল্পায়ন উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে দেশের জন্য এখন প্রয়োজন মানসম্মত ও টেকসই উন্নয়ন। আর এই উন্নয়ন ধরে রাখতে হলে ভালো মানুষকে নেতৃত্বে আসতে হবে। তিনি বলেন, অনেক কিছু তৈরি করে যাওয়া সম্ভব হলেও দক্ষ ও ভালো নেতৃত্ব তৈরি করা না গেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সেই অর্জন ধরে রাখা কঠিন হবে।   বরিশাল থেকে নতুন নেতৃত্ব প্রত্যাশা বরিশালের ঐতিহাসিক রাজনৈতিক ভূমিকার কথা তুলে ধরে আন্দালিভ রহমান বলেন, পাকিস্তান আমল থেকে স্বাধীনতার পর পর্যন্ত এই অঞ্চল থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতা উঠে এসেছেন। শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকসহ বহু নেতা জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও বরিশাল থেকে যোগ্য, মেধাবী ও ভালো নেতৃত্ব দেশের সামনে আসবে। তথ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের মেধাবী ও শিক্ষিত তরুণদের কেউ যদি চিকিৎসক, প্রকৌশলী, আইনজীবী বা সফটওয়্যার প্রকৌশলী হওয়ার পাশাপাশি রাজনীতিতে এসে দেশ পরিবর্তনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন, সেটিই ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে। সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি।

মোঃ নাহিদ হোসেন সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি কনফারেন্সে যোগ দিতে দক্ষিণ আফ্রিকা যাচ্ছেন ডেপুটি স্পিকার

সংগৃহীত ছবি

পদ্মা ব্যারেজ উদ্বোধনের তারিখ জানালেন পানিসম্পদমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

পাথরঘাটায় ৩৫০ কেজি হরিণের মাংসসহ আটক যুবক, এক বছরের কারাদণ্ড

সংগৃহীত ছবি
নিজ আসনের ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর অনুদান

নিজ সংসদীয় আসনে ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানে অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।   শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের হাতে অনুদানের অর্থ তুলে দেন তিনি।   বিএনপি মিডিয়া সেল থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী।   মিডিয়া সেল জানায়, ঢাকা-১৭ আসনের বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানা ও মন্দিরে আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়েছে। আজ বিকালে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিদের হাতে অনুদান তুলে দেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।  দেশের ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সামাজিক উন্নয়নের অংশ হিসেবে এই আর্থিক অনুদান দেওয়া হয় বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন।   ঢাকা-১৭ আসনটি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১৫, ১৮, ১৯ ও ২০ ওয়ার্ড এবং ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট থানার ক্যান্টনমেন্ট এলাকা নিয়ে গঠিত। মূলত গুলশান, বনানী, নিকেতন, মহাখালী, কড়াইল বস্তি, বারিধারা, শাহজাদপুর, কালাচাঁদপুর, ভাষানটেক, মাটিকাটা এবং ঢাকা সেনানিবাসের একাংশ নিয়ে এই আসনটি।   বিএনপি চেয়ারম্যান এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই আসনের সংসদ সদস্য।

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

মৎস্য উৎপাদন বাড়াতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে জোর প্রতিমন্ত্রী টুকুর

জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি। ফাইল ছবি

ভারতের সঙ্গে হাসিনা আমলের ১০১ চুক্তি পর্যালোচনা করছে সরকার: চিফ হুইপ

ছবি: সংগৃহীত

ব্রিকস সম্মেলনে পুতিন-শি, অংশ নিচ্ছেন না বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
সাড়ে ৩ লাখ মানুষের স্বাক্ষর, দীর্ঘ আন্দোলনের পর ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর

একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবিতে বছরের পর বছর আন্দোলন। কখনো মানববন্ধন, কখনো শোভাযাত্রা, সভা-সমাবেশ কিংবা স্মারকলিপি প্রদান। এমনকি জেলার মানুষের সমর্থন আদায়ে সংগ্রহ করা হয়েছিল প্রায় সাড়ে ৩ লাখ গণস্বাক্ষর। দীর্ঘ সেই আন্দোলন ও অপেক্ষার পর অবশেষে দৃশ্যমান হয়েছে ঠাকুরগাঁওবাসীর বহুদিনের স্বপ্ন—ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন।   গত ৭ সেপ্টেম্বর দুপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে বিশ্ববিদ্যালয়টির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। সদর উপজেলার মহেশালী এলাকায় প্রায় ৮৬ একর জমিতে গড়ে উঠতে যাওয়া এই বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে নতুন করে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে।   আন্দোলনের শুরু যেভাবে: ঠাকুরগাঁওয়ে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি নতুন নয়। তবে ২০১৩ সালের দিকে এ দাবি সংগঠিত আন্দোলনের রূপ নেয়। ‘ঠাকুরগাঁও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়ন ঐক্য পরিষদ’-এর ব্যানারে শুরু হয় ধারাবাহিক কর্মসূচি। এসব কর্মসূচিতে শিক্ষাবিদ, শিক্ষক, আইনজীবী, সাংবাদিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। আন্দোলনকারীদের যুক্তি ছিল, উত্তরাঞ্চলের তুলনামূলক পিছিয়ে থাকা এই জেলায় উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় অত্যন্ত প্রয়োজন। এ দাবিকে কেন্দ্র করে ধীরে ধীরে জেলার বিভিন্ন পর্যায়ে জনসম্পৃক্ততা বাড়তে থাকে।   সাড়ে ৩ লাখ মানুষের স্বাক্ষর: আন্দোলনের অন্যতম বড় কর্মসূচি ছিল গণস্বাক্ষর সংগ্রহ। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবির পক্ষে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ মানুষের স্বাক্ষর সংগ্রহ করেন আন্দোলনকারীরা। শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কৃষক, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এতে অংশ নেন। বিপুলসংখ্যক মানুষের স্বাক্ষর আন্দোলনটিকে একটি সংগঠন বা নির্দিষ্ট কয়েকজনের দাবির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেনি; বরং এটি হয়ে ওঠে জেলার মানুষের সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। গণস্বাক্ষরের পাশাপাশি মানববন্ধন, মিছিল, শোভাযাত্রা, সভা-সমাবেশ ও সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে স্মারকলিপি দেওয়ার মতো কর্মসূচিও অব্যাহত ছিল। ঘোষণা আসে ২০১৮ সালে: দীর্ঘ আন্দোলনের পর ২০১৮ সালের ২৯ মার্চ একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি আসে। ওইদিন ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয় মাঠে এক জনসভায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঠাকুরগাঁওয়ে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন। ঘোষণার পর আন্দোলনকারীদের মধ্যে আশার সৃষ্টি হলেও বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়নে আরও কয়েক বছর সময় লাগে। শুরু হয় প্রশাসনিক ও আইনগত নানা প্রক্রিয়া। ২০২২ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ‘ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২২’-এর খসড়া মন্ত্রিসভায় নীতিগত অনুমোদন পায়। পরবর্তী সময়ে ২০২৩ সালের ১২ জুন ‘ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২৩’-এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। এরপর জাতীয় সংসদে বিল উত্থাপনের পর ২৯ অক্টোবর ‘ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয় বিল, ২০২৩’ পাস হয়। ১৩ নভেম্বর গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে আইনটি কার্যকর হয়।   প্রথম উপাচার্য নিয়োগ: আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রশাসনিক কার্যক্রম এগিয়ে নিতে ২০২৬ সালের ৭ মে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ইস্রাফীলকে প্রথম উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রশাসনিক কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়ার পথ তৈরি হয়। একই সময়ে সদর উপজেলার মহেশালী এলাকায় প্রায় ৮৬ একর জমিতে স্থায়ী ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠার কাজ এগিয়ে নেওয়া হয়।   যাদের স্বপ্ন ছিল, তারা অনেকেই নেই: এই দীর্ঘ আন্দোলনের গল্পের সঙ্গে আনন্দের পাশাপাশি জড়িয়ে আছে বেদনার স্মৃতিও। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবিতে যারা রাজপথে ছিলেন, মানুষের কাছে গিয়ে স্বাক্ষর সংগ্রহ করেছেন কিংবা বিভিন্ন কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দিয়েছেন, তাদের অনেকেই আজ বেঁচে নেই। তাদের কেউ হয়তো স্বপ্ন দেখেছিলেন—একদিন ঠাকুরগাঁওয়ের মাটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হবে। কিন্তু সেই দিনটি দেখার সুযোগ হয়নি তাদের। তবে আন্দোলনের অনেক পুরোনো কর্মী এখনো সেই দিনগুলোর স্মৃতি বয়ে চলেছেন। মানববন্ধন, মিছিল, সভা কিংবা মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে স্বাক্ষর সংগ্রহের সেই সময়ের কথা তাদের স্মৃতিতে এখনো জীবন্ত।   ভিত্তিপ্রস্তর শেষ নয়, নতুন শুরুর অপেক্ষা: বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ঠাকুরগাঁওবাসীর জন্য দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটালেও এটি মূলত একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা। এখন সামনে রয়েছে স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণ, শিক্ষা কার্যক্রম চালু, শিক্ষক-কর্মকর্তা নিয়োগ, শিক্ষার্থী ভর্তি এবং গবেষণার পরিবেশ তৈরির মতো বড় কাজ।   এখনো বিশ্ববিদ্যালয়টির পূর্ণাঙ্গ শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়নি। অবকাঠামো নির্মাণও চলমান। তবে মহেশালীর ৮৬ একর জমিতে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মধ্য দিয়ে বহু বছরের আন্দোলনের স্বপ্ন এবার বাস্তব রূপ পাওয়ার পথে এগিয়ে গেল। ঠাকুরগাঁওবাসীর প্রত্যাশা, শুধু একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা নয়—এটি যেন উত্তরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত উচ্চশিক্ষা, গবেষণা ও নতুন সম্ভাবনার একটি শক্তিশালী কেন্দ্র হয়ে ওঠে।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬
ফাইল ছবি

এসএসসির খাতা পুনর্মূল্যায়নে বড় পরিবর্তন, নতুন জিপিএ-৫ পেল ৩০৭৯ জন

কারাগারে বন্দি কয়েদি ও সরকারের লোগো। ছবি: সংগৃহীত

বিদেশের কারাগারে বন্দি ১০ হাজার বাংলাদেশি, দেশে ফেরাতে তৎপরতা

সংগৃহীত ছবি

তরুণদের জন্য ফ্রি এআই প্রশিক্ষণ, মিলবে ভাতা ও খাবার

0 Comments