বাংলাদেশ বিমানের টিকিটিং সিস্টেমে ডেটা ইন্টেগ্রেশন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণে কারিগরি পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশ তুলে ধরেছেন প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) নিজের ফেসবুকের এক পোস্টে এসব পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন তিনি।
ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, ‘সকলের অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে বাংলাদেশ বিমানের পরিচালক হিসেবে আমি জয়েন করিনি। হ্যাঁ, আমার নাম প্রস্তাব করা হয়েছিল। তবে জয়েনিং লেটারে স্বাক্ষর করিনি, অফিস করিনি, বোর্ডেও বসিনি কখনো।’
‘বিষয়টি আমি সাবেক উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ স্যার, সাবেক বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন এবং সাবেক প্রধান উপদেষ্টা মহোদয়কে জানিয়েছিলাম। তবে বাংলাদেশ বিমানের টিকিটিং সিস্টেমে জালিয়াতি রোধে, গ্রুপ ও ব্লক বুকিং-ক্যান্সেলেশন-বুকিং রিনিউ, এজেন্ট আইডি ব্যবহার ও পুনঃব্যব্যহার প্রক্রিয়াসহ GDS/NDC>PSS>RAPD/RMS ইত্যাদির সিস্টেম অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, লগ রেকর্ডিং, অডিট এবং ডেটা অ্যানালাইটিক্স সম্পর্কে আমার টিমকে নিয়ে একটি ছোট টেকনিক্যাল রিপোর্ট করেছিলাম।’
‘এখানে বিমানের সেলস/মার্কেটিং এবং আইটি টিম দুটির মধ্যে সমন্বয়হীনতাসহ জিডিএস, পিএসএস সিস্টেমের লগ রেকর্ডহীনতা, পেমেন্ট সেটেলমেন্টের সাথে গ্রুপ/ব্লক বুকিংয়ের ফারাক ইত্যাদি ধরা পড়ে। পাশাপাশি এমাডিউস/গ্যালিলিউ/সাব্রে সিস্টেমের রেভিনিউ ম্যাপিং, সফ্টওয়্যার সাপ্লায়ার থেকে ডেটা শেয়ারিং, এক্সেস টু বুকিং/পেমেন্ট/গ্রুপ ব্লকিং/ব্লকিং রিনিউ ডেটা এবং ডেটা অ্যানালাইটিক্স অনুপস্থিতি প্রকটভাবে ফুটে উঠে। প্রায়ই দেখা যায়, সেলস টিমের কর্তারাই পরবর্তীতে বিমানের এমডি হন, গ্রুপ বুকিং/ব্লকিংয়ের এই নেক্সাস সম্পর্কেও অবহিত হয়েছি। ফেইক প্যাসেঞ্জার ইনফো ও পাস্পোর্ট ডেটা দিয়ে গ্রুপ ও ব্লক বুকিং করে পরে প্যাসেঞ্জার ইনফো এবং পাস্পোর্ট তথ্য পরিবর্তন বিমানের বড় সমস্যা বলে আমাদের মনে হয়েছে।’
‘সাথে সাথে আন্তঃমন্ত্রণালয় কন্সাল্টেশন পর্যায়েও আমরা টিকিটিংয়ের কারিগরি প্রসেস, ডেটা/লগ এক্সেস এবং ডেটা অ্যানালাইটিক্স সংক্রান্ত কিছু পলিসি ইনপুট দিয়েছিলাম। বিমানের টপ ম্যানেজমেন্ট আমাদের কাজে খুশি হয়ে আমার নাম প্রস্তাব করে থাকতে পারেন, সেজন্য মৌখিকভাবে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছি।’
‘আমাদের পরামর্শ ছিল প্রতি সপ্তাহে অন্তত একবার রিয়েল টাইম এজেন্ট লগইন ডেটা টাইম-স্ট্যাম্পসহ দিতে হবে। এখানে যা যা থাকবে- ক। গ্রুপ ও ব্লক বুকিং এর তথ্য, ভলিউম, বুকিং ভ্যালু, বুকিং আইডি, বুকিং ও পেমেন্ট এর টাইম-স্ট্যাম্প ডেটা। খ। গ্রুপ ও ব্লক বুকিং এক্সপায়ারির ডেটা, রিনিউয়াল ডেটা, গ্রুপ ও ব্লক বুকিং এর রিএন্ট্রি ডেটা। গ। প্যাসেঞ্জার ইনফো, প্রথমবারের এন্টি এবং পরিবর্তিত এন্টি। নূন্যতম নাম, জন্ম তারিখ এবং পাস্পোর্ট। পাস্পোর্ট তথ্য পাস্পোর্ট ডেটাবেইজ থেকে রিয়েল টাইম API দিয়ে ভ্যালিডেট করা যাতে ফেইক নাম্বার এন্ট্রি দেয়া না যায়। ঘ। রিয়েল টাইম পেমেন্ট সেটেলমেন্ট এর বিপরীতে বুকিং এর ডেটা, রিয়েল টাইম পেমেন্টের বিপরীতে রি-বুকিং তথ্য। ঙ। এক বুকিং ব্লক (এলফাবেটিক ক্লাস বা টিকেটিং ক্যাটাগরি) থেকে অন্য ব্লকে বুকিং শুরুর শর্ত দিতে হবে। সব এজেন্ট মিলে সম্মিলিতভাবে কোনো ব্লকের মোট ৫০% বা তার বেশি রিয়েল টাইম পেমেন্ট ছাড়া ব্লক রাখা যাবে না।’
‘রিপোর্টের কিছু উল্লেখযোগ্য দিক এখানে শেয়ার করছি (কারগরি বিষয়, গোপনীয় আর্থিক বিবরনী নয়)- বাংলাদেশ বিমানের টিকিট বুকিং, সংরক্ষণ, ভাড়া নির্ধারণ, যাত্রী তথ্য ব্যবস্থাপনা এবং সংশ্লিষ্ট সব কার্যক্রম ডিজিটাল অপারেশনাল কাঠামোর মাধ্যমে পরিচালিত হয়। প্রতিটি ধাপের জন্য নির্দিষ্ট সফটওয়্যার ব্যবহৃত হয়, এবং এগুলো সম্পূর্ণভাবে সাবস্ক্রিপশন-ভিত্তিক অর্থাৎ বিমানের নিজস্ব কোনো ইন-হাউজ সিস্টেম নেই।
বাংলাদেশ বিমানের Revenue Management System (RMS) এর মাধ্যমে Revenue Booking Designator (RBD) - A/B/C/D/E/Y ভিত্তিক ভাড়া নির্ধারণ ও কৌশলগত সক্ষমতা মূল্যায়ন করা হয়। একই ভেন্ডরের RAPD সিস্টেম নির্দিষ্ট ব্লকের ভিত্তিতে ট্যারিফ তৈরি করে।
ট্রাভেল এজেন্সিগুলো GDS প্ল্যাটফর্ম, বিশেষ করে প্রচলিত Sabre, Amadeus এর মাধ্যমে বুকিং করে থাকে। মূলত Sabre প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশ বিমানের জন্য বুকিং গেটওয়ে হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যার মাধ্যমে বাল্ক বুকিং, ব্লকিং এবং ক্যান্সেলেশন সম্পাদন করা হয়।
বিপরীতে, IATA-র উদ্ভাবিত NDC-ও একটি ওপেন প্ল্যাটফর্ম। তবে এটি আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সে বেশি ব্যবহৃত হলেও অভ্যন্তরীণ অপারেশনে সীমিত সংখ্যক এয়ারলাইন্সে প্রযোজ্য। বাংলাদেশ বিমান NDC এডপ্ট করেনি।
Sabre পরিচালিত Passenger Service System (PSS) এ পুরো ইকোসিস্টেমের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটি বুকিং নেভিগেশন, টিকিট ম্যানেজমেন্ট, ট্যারিফ ডেটা এক্সচেঞ্জসহ RAPD ও RMS-এর সাথে সমন্বয় করে। যাত্রীরা ওয়েব বা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে টিকিট ক্রয় ও বাতিল করতে পারলেও এর পরিমাণ এখনো মোট বিক্রয়ের ৫% অতিক্রম করে না। ট্রাভেল এজেন্সি-ভিত্তিক বুকিংয়ের রেভিনিউ ইন্টেগ্রিটি যাচাইয়ের জন্য Accelya পরিচালিত Revenue Integrity (RI) সিস্টেম বিদ্যমান।
তবে সব সিস্টেম থাকা সত্ত্বেও এগুলোর মধ্যে কার্যকর ডেটা-ইন্টেগ্রেশন নেই। একটি কেন্দ্রীয়, রিয়েল-টাইম Analytics Platform না থাকায় সিস্টেমগুলোর অডিট লগ সময়মতো পাওয়া যায় না বা অনেক ক্ষেত্রে সক্রিয়ই নয়। উদাহরণস্বরূপ, PSS থেকে ASR বা Ticketed Sales File দিনে একবার RAPD-তে পাঠানো হয়, যা রিয়েল-টাইম দৃশ্যমানতা সম্পূর্ণ ব্যাহত করে। GDS থেকে RI সিস্টেমে লগ পাঠানো হলেও সেখানে এজেন্টদের IP Address নেই। PSS অডিট লগ তৈরি করতে সক্ষম হলেও তা বিশ্লেষণের কোনো প্ল্যাটফর্ম নেই। RMS সিস্টেমেও Audit Log সক্রিয় নয়।’
‘ফলে ট্রাভেল এজেন্টদের ব্লক বুকিং, রিজারভেশন, টিকিট ক্রয়, সিট ম্যানেজমেন্ট এবং অভ্যন্তরীণ ট্যারিফ পরিকল্পনা বা RBD কনফিগারেশনের ওপর যথাযথ তদারকি করা সম্ভব হচ্ছে না, যা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতায় গুরুতর প্রভাব ফেলছে।’
‘এই পরিস্থিতিতে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও Good Governance নিশ্চিতকল্পে নিম্নলিখিত উপাত্তসমূহ নিয়মিতভাবে উৎস সিস্টেম থেকে সংগ্রহ ও দ্রুত বিশ্লেষণ অপরিহার্য- ১) RBD-সংক্রান্ত সব সেটিংস নির্ধারিত ক্লাসিফিকেশন অনুযায়ী Definition File (JSON/XML/CSV) আকারে EDR ফরম্যাটে নিয়মিত সংগ্রহ। ২) এজেন্টভিত্তিক Block/Reservation Log (Daily) Agent ID (IATA), Timestamp, IP Address এবং সংশ্লিষ্ট RBD-Class এর তথ্য বাধ্যতামূলকভাবে প্রদান। ৩) Expiry, Cancellation, Rebooking (Weekly) Agent-wise লগ, যথাযথ Agent ID ও IP Address-সহ সরবরাহ করতে হবে। ৪) Booking এর সময় Price Change Log এজেন্ট কর্তৃক করা যেকোন মূল্য পরিবর্তনের অডিট লগ সরবরাহ; প্রয়োজনে সিস্টেমে ফিচার সক্রিয় করতে হবে। ৫) Passenger Information Consistency Check বুকিং ও টিকিট ক্রয়ের সময় প্রদত্ত যাত্রী তথ্য (PI) একই আছে কিনা তা Comparative Analytics-এর মাধ্যমে যাচাইয়ের জন্য GDS এবং PSS থেকে Passenger ID, Agent ID, IP Address, RBD ID, Ticket Price এই উপাত্তের দৈনিক লগ আবশ্যক। ৬) Transactional ID বিভিন্ন সিস্টেমের তথ্য পরস্পরের সাথে যুক্ত করতে প্রতিটি লগে ইনবাউন্ড ও আউটবাউন্ড Transactional ID অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এর মাধ্যমে API-ভিত্তিক ডেটা এক্সচেঞ্জের উৎস ও গন্তব্য স্পষ্টভাবে শনাক্ত করা যাবে। ৭) Real-Time Analytical Engine সংগ্রহিত উপাত্তের উপর দ্রুত ও নির্ভুল বিশ্লেষণ পরিচালনার জন্য একটি শক্তিশালী Real Time Analytical Engine প্রয়োজন। এই ইঞ্জিনের মাধ্যমে বুকিং, ক্যান্সেলেশন, ব্লকিং, এবং কমপ্লায়েন্স সংক্রান্ত অডিট কার্যক্রম তাৎক্ষণিকভাবে সম্পাদন করা সম্ভব হবে।’
‘উপরোক্ত উপাত্তসমূহ নিয়মিত সরবরাহ এবং সেগুলো বিশ্লেষণের জন্য একটি সমন্বিত Analytics Engine উন্নয়ন করা সম্ভব হলে বাংলাদেশ বিমানের অপারেশন, কমপ্লায়েন্স এবং রেভিনিউ ম্যানেজমেন্টকে আধুনিক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক স্তরে উন্নীত করা যাবে। একই সাথে নাগরিক ভোগান্তি, টিকেট–সংক্রান্ত অনিয়ম এবং কালোবাজারী উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।’
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
জুলাইয়ের কৃতিত্ব নেওয়ার জন্য সবাই প্রতিযোগিতায় নেমেছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর শেরেবাংলানগরের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান শহীদ পরিবার ও জুলাইযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্যকালে এমন মন্তব্য করেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যারা জুলাই চেতনার ওপর নির্ভর করে রাজনীতি করছে, সেই রাজনীতি করা যাবে না। একাত্তরের চেতনাকে বিক্রি করতে করতে ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনা দিল্লি গিয়ে বসে আছে। আমি অনেকবার বক্তব্য দিয়েছি—শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক মৃত্যু হয়েছে ঢাকায়, দাফন হয়েছে দিল্লিতে। তারা এই চেতনা বিক্রি করতে করতে দেশকে এমন একটি জায়গায় নিয়ে গিয়েছিল যে তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বললে মানুষ ঘৃণা করত। তিনি বলেন, ‘আমরা যেন জুলাইয়ের এই চেতনাকে কোনো দিন অসম্মান না করতে হয়, সেই রকম রাজনীতি করি। জুলাই আমাদের সবার, বাংলাদেশের ২০ কোটি মানুষের, সবার সম্মিলিত প্রয়াসেই জুলাই। কেউ কেউ আমরা হয়তো নেতৃত্ব দিয়েছি, তবে আমাদের সামনের সারিতে যারা শহীদ হয়েছেন, তারাই আসল জুলাইযোদ্ধা, আসল নেতা। তাদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করা আমাদের জন্য ফরজ। অথচ জুলাইয়ের কৃতিত্ব নেওয়ার জন্য, রাজনীতি করার জন্য সবাই প্রতিযোগিতায় নেমেছে। আর আমরা প্রতিযোগিতা করছি জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের জন্য।’ জুলাই জাতীয় সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, ‘গণভোটের রায় ও জনগণের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে রাজনৈতিক দলগুলোকে একসঙ্গে বসতে হবে।’ এ সময় সংশোধন কমিটিতে অংশ নিতে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানান তিনি। আওয়ামী লীগ প্রশ্নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ গণহত্যাকারী কোনো মাফিয়া শক্তিকে এই দেশে রাজনীতি করার আর অনুমতি দেবে না। বাংলাদেশের মানুষ আওয়ামী লীগের প্রশ্নে এক, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রামের জন্য এক। আমরা জাতীয় সংসদে সরকারি ও বিরোধী দল তর্ক-বিতর্ক করব, কিন্তু প্রশ্ন যখন আওয়ামী লীগের আসবে, তখন আমরা সমগ্র জাতি এক। আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকব ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে। এই জাতির সামনে কোনো দিন আমরা ফ্যাসিবাদের উৎপত্তি হতে দেব না।’
আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, আবৃত্তি ও সংস্কৃতিচর্চা মানুষকে গণতন্ত্র, মানবিক মূল্যবোধ, মুক্তচিন্তা এবং বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার আদর্শে উদ্বুদ্ধ করে। তিনি বলেন, একটি সুন্দর, গণতান্ত্রিক ও রক্তপাতহীন সমাজ গঠনে সংস্কৃতিচর্চার ভূমিকা অপরিসীম। বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মিলনায়তনে বাংলাদেশ আবৃত্তি ফেডারেশনের উদ্যোগে আয়োজিত ‘উৎসব ২০২৬’-এর অংশ হিসেবে ‘স্মৃতির দর্পণে জুলাই গণঅভ্যুত্থান’ শীর্ষক বিশেষ আলোচনা ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। একই সঙ্গে আহত আন্দোলনকারী এবং গত ১৬ বছরে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে নিহত, গুম ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, দীর্ঘ সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের সফল পরিণতি ছিল ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান। বাংলাদেশ আবৃত্তি ফেডারেশন দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে জুলাইয়ের চেতনা ছড়িয়ে দিতে এবং বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতার মাধ্যমে সেই চেতনাকে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগকে তিনি প্রশংসনীয় বলে উল্লেখ করেন। আবৃত্তিচর্চা দীর্ঘদিন ধরে দেশের শিল্প-সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেও প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত ছিল বলে উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী জানান, জাতীয় সংসদে আইন সংশোধনের মাধ্যমে আবৃত্তিকে দেশের শিল্প-সংস্কৃতির একটি স্বীকৃত শাখা হিসেবে প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আবৃত্তিশিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীরা কবিতা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির মাধ্যমে মানুষের মধ্যে গণতান্ত্রিক চেতনা, মানবিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেম জাগ্রত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। এ ধরনের উদ্যোগ একটি সুন্দর, বৈষম্যহীন ও মানবিক বাংলাদেশ গঠনে সহায়ক হবে। অনুষ্ঠানের শেষে আইনমন্ত্রী বাংলাদেশ আবৃত্তি ফেডারেশনের কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিক সাফল্য কামনা করেন এবং ভবিষ্যতেও সংগঠনটির ইতিবাচক উদ্যোগে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন।
সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার মোজাফফর হোসেনের ফেসবুক-মেসেঞ্জারের তথ্য চেয়ে মেটার কাছে চিঠি পাঠিয়েছে প্রসিকিউশন। বুধবার (৫ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ও আইটি বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা বিষয়টি বাংলা ট্রিবিউনকে নিশ্চিত করেছেন। মোজাফফরের সরাসরি মেসেঞ্জারে কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলার তথ্য প্রাপ্তির ভিত্তিতে মেটার কাছে এসব তথ্য চাওয়া হয়। এছাড়াও তিনি কিছু গ্রুপের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতেন। তার মুছে ফেলা কথোপকথন উদ্ধারের চেষ্টা চলছে বলেও জানান তানভীর হাসান জোহা। মানবতাবিরোধী অপরাধের অধিকতর তদন্তের স্বার্থে এসব তথ্য চাওয়া হয়। মেটার কাছে চাওয়া তথ্যগুলোর মধ্যে আছে, গ্রাহকের তথ্য এবং অ্যাকাউন্ট নিবন্ধনের বিবরণ, সব নিবন্ধিত এবং আগের ইমেল ঠিকানা এবং ফোন নম্বর, টাইমস্ট্যাম্প সহ সম্পূর্ণ লগইন ইতিহাস, অ্যাকাউন্টটি অ্যাক্সেস করতে ব্যবহৃত আইপি অ্যাড্রেস এবং ডিভাইস, ব্রাউজারের তথ্য, ফেসবুক মেসেঞ্জারের মুছে ফেলা যেসব কথোপকথন আছে সেগুলোসহ সব তথ্য মেটার কাছে চাওয়া হয়েছে। ১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোরে চট্টগ্রামে এক সেনা বিদ্রোহে নিহত হয়েছিলেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা এবং তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তার লাশ গায়েব করার পেছনে ভূমিকা ছিল সাবেক সেনা কর্মকর্তা মো. মোজাফফর হোসেনের। সে সময় তিনি ছিলেন সেনাবাহিনীর একজন মেজর পদ মর্যাদার কর্মকর্তা। হত্যাকাণ্ডের পর তিনি পালিয়ে যান। তাকে ধরিয়ে দিতে সে সময় পুরস্কারও ঘোষণা করা হয়েছিল। দীর্ঘ ৪৫ বছর পর বুধবার (১৫ জুলাই) রাতে রাজধানীর বনানী থেকে তাকে গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। এরপর সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর ২৩ জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক এই সেনা কর্মকর্তাকে গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। সেই সঙ্গে তাকে দুদিন জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও মোজাফফর হোসেনকে সেনা হেফাজতে রাখার আদেশও দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। এর আগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানান, মোজাফফর ও অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে। মাসুদ ২০০৭ সালের সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তি এবং তৎকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার অভিযুক্তদের মধ্যে অন্যতম। মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী যে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় গ্রেফতার হয়ে হেফাজতে রয়েছেন, সেই একই মামলায় মোজাফফরকেও গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম আরও বলেন, জিয়াউর রহমান হত্যা মামলায় সেনা আইনে তার বিচার হবে। এর সঙ্গে আমাদের কোনও সম্পর্ক নেই। আমাদের তদন্ত চলছে মানবতাবিরোধী অপরাধের। আওয়ামী লীগ সরকারের ১৬ বছরের কর্মকাণ্ডে তার কী সংশ্লিষ্টতা রয়েছে, সেটিই আমরা দেখবো। অর্থাৎ আমাদের বিচারের কার্যক্রম পুরোপুরি আলাদা। তবে তিনি সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে থাকবেন। আমাদের প্রয়োজনমতো সেখান থেকে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করবো। এছাড়া তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর ট্রাইব্যুনালের প্রচলিত আইনে বিচার চলবে।