আকাশপথ ও সড়কপথের পাশাপাশি রেলপথেও প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের যোগাযোগ ছিল। তিনটি আন্তঃদেশীয় ট্রেনে দুই দেশের যাত্রীরা যাতায়াত করতেন। তবে প্রায় দুই বছর ধরে সেই সেবা বন্ধ রয়েছে।
এদিকে গত ২৮ জুন থেকে বাংলাদেশিদের জন্য ভারতের মেডিকেল ভিসার পাশাপাশি পর্যটন ভিসাও চালু করা হয়েছে। এতে বাংলাদেশি পর্যটকদের মধ্যে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এরপর থেকেই আবার আলোচনায় এসেছে আন্তঃদেশীয় ট্রেন চলাচলের বিষয়টি। প্রশ্ন উঠেছে, কবে আবার চালু হবে বাংলাদেশ-ভারত রেল যোগাযোগ?
ঢাকা পোস্টের কাছে থাকা বাংলাদেশ রেলওয়ের তথ্য বলছে, ট্রেন চালুর বিষয়ে ভারতীয় রেলওয়েকে পাঠানো সর্বশেষ চিঠির উত্তর এখনও আসেনি। নতুন করে রেলপথ মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা এলে আবারও যোগাযোগ করা হবে।
অন্যদিকে রেলপথ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দুই দেশের মধ্যে ট্রেন চালুর বিষয়ে আবারও আলোচনা শুরু হতে পারে।
বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে ট্রেন চালু হওয়ার বিষয়টি মূলত ভিসা সহজ হওয়া, যাত্রীর সংখ্যা এবং সেবাটির বাণিজ্যিক লাভজনকতার ওপর নির্ভর করছে। এটি রাজনৈতিক নয়; বরং ব্যবসায়িক বাস্তবতা ও দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থের বিষয়। ভিসা শিথিল হয়ে যাত্রী বাড়লে ব্যবসায়িক প্রয়োজনেই দুই দেশ ট্রেন চালু করতে আগ্রহী হবে বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ।
কেন বন্ধ হলো বাংলাদেশ-ভারতের ট্রেন চলাচল?
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে যাত্রীবাহী আন্তর্জাতিক ট্রেন চলাচল শুরু হয় ‘মৈত্রী এক্সপ্রেস’ দিয়ে। পরে চালু হয় ‘বন্ধন এক্সপ্রেস’ এবং সর্বশেষ ‘মিতালী এক্সপ্রেস’। এই তিনটি ট্রেন দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ, পর্যটন, বাণিজ্য ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।
মৈত্রী এক্সপ্রেস প্রথম চালু হয় ২০০৮ সালের ১৪ এপ্রিল। এটি ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট স্টেশন থেকে ভারতের কলকাতা পর্যন্ত চলাচল করত। তখন প্রায় ৪৩ বছর পর এই ট্রেনের মাধ্যমে দুই দেশের যাত্রীবাহী রেল যোগাযোগ পুনঃস্থাপিত হয়। এরপর ২০১৭ সালের ৯ নভেম্বর চালু হয় বন্ধন এক্সপ্রেস, যা খুলনা-কলকাতা রুটে চলাচল করত। সর্বশেষ ২০২১ সালের ২৭ মার্চ দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর ভার্চ্যুয়াল উদ্বোধনের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে মিতালী এক্সপ্রেস। পরে ২০২২ সালের ১ জুন বাণিজ্যিকভাবে চলাচল শুরু করে ট্রেনটি। এটি ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট রেলওয়ে স্টেশন থেকে ভারতের নিউ জলপাইগুড়ি (এনজেপি) রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত চলাচল করত। বাংলাদেশ সীমান্তের চিলাহাটি ও ভারত সীমান্তের হলদিবাড়ি রেলপথ ব্যবহার করে সরাসরি রেল যোগাযোগ পুনঃস্থাপন করে ট্রেনটি, যা পর্যটন ও বাণিজ্যে নতুন মাত্রা যোগ করেছিল।
তবে ২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের ডাকা ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচিকে ঘিরে সহিংসতার ঘটনায় দেশের বিভিন্ন স্থানে ধাপে ধাপে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এর ধারাবাহিকতায় মৈত্রী এক্সপ্রেস ওই বছরের ১৬ জুলাই, বন্ধন এক্সপ্রেস ১৭ জুলাই এবং মিতালী এক্সপ্রেস ১৮ জুলাই থেকে বন্ধ রয়েছে। সেই হিসেবে প্রায় দুই বছর ধরে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে আন্তঃদেশীয় যাত্রীবাহী রেল যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। বাংলাদেশে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার পর দেশে থাকা ভারতীয় রেলওয়ের কোচ ও ওয়াগনগুলো ভারতে ফেরত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।
কী বলছে বাংলাদেশ রেলওয়ে ও রেলপথ মন্ত্রণালয়?
বাংলাদেশ রেলওয়ের একাধিক সূত্র ঢাকা পোস্টকে জানিয়েছে, দুই দেশের মধ্যে ট্রেন চলাচল নিয়ে শিগগিরই আলোচনা হতে পারে। এ বিষয়ে একটি বৈঠকেরও পরিকল্পনা রয়েছে। আগে মৈত্রী এক্সপ্রেস জয়দেবপুর, যমুনা সেতু, ঈশ্বরদী ও দর্শনা হয়ে চলাচল করত। এখন সেটি পদ্মা সেতু হয়ে চালানো যায় কি না, সেই বিষয়টিও বৈঠকে আলোচনায় আসতে পারে।
রেলওয়ের আরেকটি সূত্র জানায়, বিষয়টি নিয়ে এখনও নতুন কোনো চিঠি আসেনি। ভারতীয় রেলওয়েকে আগে যে চিঠি পাঠানো হয়েছিল, তারও জবাব মেলেনি। মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা এলে আবারও যোগাযোগ শুরু করা হবে। এ বিষয়ে শুধু রেলপথ মন্ত্রণালয় নয়, স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও সম্পৃক্ত।
বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন দেশের বাইরে থাকায় এ বিষয়ে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
তবে রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব সোমবার (২৯ জুন) সকালে ঢাকা পোস্টকে বলেন, এ বিষয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হতে পারে। আলোচনা শুরু হলে ট্রেন চালু হবে কি না, সে বিষয়ে বলা যাবে।
এদিকে এ বিষয়ে সোমবার যোগাযোগ করা হলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট অনুবিভাগের কোনো কর্মকর্তা মন্তব্য করতে রাজি হননি।
ট্রেন চালু হলে ভাড়া আরও বাড়বে?
ঢাকা ও খুলনা থেকে কলকাতা এবং নিউ জলপাইগুড়ি রুটে চলাচলকারী আন্তঃদেশীয় তিন ট্রেনের ভাড়া ডলারের মূল্যবৃদ্ধির কারণ দেখিয়ে ২০২৪ সালের ১৫ জুন বাড়ানো হয়। করোনা মহামারির পর দুই বছরে এটি ছিল পঞ্চম দফা ভাড়া বৃদ্ধি। এইপর্যায়ে ট্রেনের ভাড়া বাসের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ এবং বিমান ভাড়ার কাছাকাছি পৌঁছে যায়।
সর্বশেষ নির্ধারিত ভাড়া অনুযায়ী, মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেনের এসি সিট (কেবিন) ভাড়া ৫ হাজার ১১০ টাকা এবং এসি চেয়ারের ভাড়া ৩ হাজার ৭৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। বন্ধন এক্সপ্রেস ট্রেনের এসি সিট (কেবিন) ভাড়া ৩ হাজার ৫৫ টাকা এবং এসি চেয়ারের ভাড়া ২ হাজার ৩৭০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। মিতালী এক্সপ্রেস ট্রেনের এসি বার্থ (শুয়ে যাওয়ার কেবিন) ভাড়া ৭ হাজার ২৫ টাকা, এসি সিটের ভাড়া ৪ হাজার ৫২০ টাকা এবং এসি চেয়ারের ভাড়া ৪ হাজার ১৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।
শুধু মিতালী এক্সপ্রেস ট্রেনের এসি সিটের ভাড়া ছাড়া বাকি প্রতিটি ট্রেনের আসনের ভাড়ার মধ্যে সরকারের ট্রাভেল ট্যাক্স অন্তর্ভুক্ত ছিল।
নতুন করে আবার ট্রেন চলাচল শুরু হলে ট্রেনের ভাড়া আবারও বাড়তে পারে বলে জানা গেছে। রেল ভবনের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো ঢাকা পোস্টকে জানিয়েছে, প্রায় ২ বছর হয়ে গেছে আন্তঃদেশীয় ট্রেন চলাচল বন্ধ। এরমধ্যে বাংলাদেশে ডলারের দাম বেড়েছে ১৪ থেকে ১৫ টাকা। জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। সবকিছু মিলিয়ে ট্রেন চলাচল শুরু হলে আবারও হয়তো ভাড়া সমন্বয় হতে পারে।
বাংলাদেশি পর্যটকদের ভারত ভ্রমণের আগ্রহ কেমন?
দীর্ঘ প্রায় দুই বছর পর বাংলাদেশিদের জন্য ভারতের পর্যটন ভিসার আবেদন গ্রহণ শুরু করেছে ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্র (আইভ্যাক)। তবে প্রথম দুই দিনে (২৮-২৯ জুন) প্রত্যাশিত ভিড় দেখা যায়নি।
সোমবার (২৯ জুন) সকালে রাজধানীর যমুনা ফিউচার পার্কে অবস্থিত আইভ্যাকে গিয়ে দেখা যায়, আবেদনকারীদের উপস্থিতি ছিল স্বাভাবিক। অধিকাংশই মেডিকেল ভিসার আবেদন জমা দিতে বা পাসপোর্ট সংগ্রহ করতে এসেছেন। এছাড়া দিল্লি হয়ে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের দূতাবাসে ভিসার আবেদন করতে আগ্রহী কয়েকজনও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়েছেন। তবে পর্যটন ভিসার আবেদনকারীর সংখ্যা ছিল তুলনামূলক কম।
ভ্রমণ ভিসার আবেদন করতে আসা ইন্দ্রজিৎ বলেন, দীর্ঘদিন পর ভারতের ভ্রমণ ভিসার আবেদন নেওয়া শুরু হওয়ায় আমরা খুশি। তবে আইভ্যাক যে স্লটভিত্তিক আবেদন জমার ব্যবস্থা করেছে, সেটি দীর্ঘ প্রসেসের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ কারণে আবেদনকারীদের কিছুটা ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
আরেক আবেদনকারী শফিকুল ইসলাম বলেন, ভ্রমণ ভিসা চালু হওয়াটা অবশ্যই ইতিবাচক খবর। কিন্তু স্লট ব্যবস্থা চালু থাকায় আবেদন জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া আগের তুলনায় জটিল হয়েছে। এই ব্যবস্থার কারণে অনেককেই অপেক্ষা করতে হচ্ছে, যা আবেদনকারীদের জন্য ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ব্যবসায়িক প্রয়োজনেই ট্রেন চালু হবে : আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ
দুই দেশের ট্রেন চালুর বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ ড. ইমতিয়াজ আহমেদ ঢাকা পোস্টকে বলেন, বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে যাত্রীবাহী ট্রেন চালুর ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি বিষয় হলো যাত্রীর সংখ্যা এবং এর বাণিজ্যিক লাভজনকতা। ভিসা সহজ না হলে পর্যাপ্ত যাত্রী পাওয়া যাবে না। আবার যাত্রী কম হলে ট্রেন পরিচালনাও লাভজনক হবে না। কোনো দেশই দীর্ঘদিন লোকসান দিয়ে এ ধরনের সেবা চালিয়ে যেতে চাইবে না।
তিনি বলেন, ট্রেন চালুর বিষয়টিকে রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার প্রয়োজন নেই। দুই দেশ যদি ভিসা নীতিতে শিথিলতা আনে এবং মানুষকে যাতায়াতের সুযোগ দেয়, তাহলে তারা প্লেনে যাবে, নাকি ট্রেনে যাবে, সেটি মূলত পরিবহন ব্যবস্থার বিষয়। তাই এটি রাজনীতির চেয়ে ব্যবসা ও দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্কের সঙ্গে বেশি সম্পৃক্ত।
ড. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, বর্তমানে ভিসা নীতিতে কিছুটা শিথিলতা এসেছে। এর ফলে মানুষের যাতায়াত বাড়লে দুই দেশই ট্রেন চালুর বিষয়টি বিবেচনা করতে বাধ্য হবে। কারণ, পর্যাপ্ত যাত্রী থাকলে ট্রেন বন্ধ রাখলে উভয় দেশেরই আর্থিক ক্ষতি হবে। তাই পরিস্থিতি কীভাবে এগোয়, তা বুঝতে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, গত দুই বছরে জ্বালানির দাম বেড়েছে, ফলে বিমান ভাড়াও বেড়েছে। একই সঙ্গে ট্রেন চালু হলে আগের ভাড়াও নতুন করে নির্ধারণ করতে হবে। তবে ট্রেন চালু হলে কম খরচে যাতায়াতের সুযোগ তৈরি হবে। এতে দুই দেশের সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকেও ট্রেন চালুর দাবি জোরালো হবে। ভিসা আরও সহজ হলে এবং যাত্রী বাড়লে ব্যবসায়িক প্রয়োজনেই দুই দেশ ট্রেন চালুর বিষয়ে সম্মত হতে বাধ্য হবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
‘ছোটবেলা থেকেই বাবা অনেক কষ্ট করে আমাদের মানুষ করেছেন। সমাজে আমরা অনেক অবহেলা ও বৈষম্যের শিকার হয়েছি। তবুও পড়াশোনা ছাড়িনি। এখন অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে পড়ছি। স্বপ্ন দেখি নিজের পায়ে দাঁড়ানোর। বসুন্ধরা শুভসংঘের মাধ্যমে বসুন্ধরা গ্রুপের দেওয়া এই সেলাই মেশিন আমার কাছে শুধু একটি মেশিন নয়, এটি নতুন জীবনের আশা। আমি বিভিন্ন ধরনের পোশাক, ব্লাউজ, ফ্রক, পাজামা ও শিশুদের পোশাক সেলাই করতে পারি। এখন ঘরে বসেই কাজ করে সংসারে আয় করতে পারব, পড়াশোনার খরচও চালাতে পারব। আমি চাই সমাজের বোঝা হয়ে নয়, নিজের যোগ্যতায় মাথা উঁচু করে বাঁচতে।’ তিন মাস প্রশিক্ষণ শেষে বসুন্ধরা গ্রুপের উপহার হিসেবে সেলাই মেশিন পেয়ে কথাগুলো বলছিলেন হরিজন সম্প্রদায়ের তরুণী আলোরাধা। আলোরাধার জীবনটি সংগ্রাম, বঞ্চনা আর ঘুরে দাঁড়ানোর অদম্য ইচ্ছার গল্পে সাজানো। গাইবান্ধা সদর উপজেলার কাচারিবাজার এলাকার হরিজন সম্প্রদায়ের এই তরুণী বর্তমানে অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে পড়াশোনা করছেন। দারিদ্র্য ও সামাজিক বৈষম্যের সঙ্গে লড়াই করেও তিনি হার মানেননি। এবার বসুন্ধরা শুভসংঘের দেওয়া একটি সেলাই মেশিন তাঁর স্বপ্নপূরণের পথে নতুন আশার আলো জ্বালিয়েছে। সম্প্রতি গাইবান্ধা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাকক্ষে আলোরাধার মতো দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করা ৩৬ নারীর হাতে বসুন্ধরা গ্রুপের উপহার হিসেবে সেলাই মেশিন তুলে দেওয়া হয়। কালের কণ্ঠের জেলা প্রতিনিধি ও জেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি অমিতাভ দাস হিমুনের সভাপতিত্বে ও সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে গাইবান্ধা সদর, ফুলছড়ি ও সাদুল্যাপুর উপজেলার এই ৩৬ নারীর হাতে সেলাই মেশিন তুলে দেন প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক বসুন্ধরা গ্রুপের উপদেষ্টা ও শুভসংঘের প্রধান ইমদাদুল হক মিলন। তিন মাস বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ শেষে দক্ষ হয়ে ওঠা নারীরা সেলাই মেশিন পেয়ে আবেগাপ্লুত হন। ইমদাদুল হক মিলন বলেন, ‘বসুন্ধরা শুভসংঘের দেওয়া এই সেলাই মেশিন আপনাদের আত্মনির্ভরশীল হওয়ার একটি মাধ্যম। এটি কাজে লাগিয়ে নিজের পরিবারের পোশাক তৈরির পাশাপাশি আয়ও করা সম্ভব। আমরা চাই আপনারা এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে স্বাবলম্বী হোন, সন্তানদের শিক্ষিত করুন এবং পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটান।’ অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন গাইবান্ধার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) যাদব সরকার, গাইবান্ধা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুন্নবী টিটুল, গাইবান্ধা সদর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল-মামুন, গাইবান্ধা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইদ্রিসুজ্জামান মোনা, নাট্যকর্মী মানিক বাহার প্রমুখ। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) যাদব সরকার বলেন, ‘বসুন্ধরার দেওয়া এই সেলাই মেশিন শুধু একটি যন্ত্র নয়, এটি নারীদের আত্মনির্ভরশীল হওয়ার একটি মাধ্যম। এই উদ্যোগের মাধ্যমে অনেক নারী ঘরে বসেই আয় করার সুযোগ পাবেন এবং পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারবেন। আপনারা নিজেরা স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি আশপাশের অন্য নারীদেরও এই কাজ শেখাবেন। আমরা বিশ্বাস করি, নারীর ক্ষমতায়ন পুরো পরিবার ও সমাজের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।’ গাইবান্ধা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুন্নবী টিটুল বলেন, ‘বসুন্ধরা শুভসংঘের এই সেলাই মেশিন বিতরণ কর্মসূচি দারিদ্র্য নারীদের আত্মনির্ভরশীল করে তোলার একটি উদ্যোগ। আমরা আশা করি, এই মেশিন ব্যবহার করে উপকারভোগীরা আয়মুখী কাজে যুক্ত হবেন এবং এলাকায় অন্য নারীদের জন্যও অনুপ্রেরণা হয়ে উঠবেন। বসুন্ধরা গ্রুপ দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে এমন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে নারীরা স্বাবলম্বী হয়ে নিজেদের পরিবারের পাশাপাশি সন্তানদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখবেন।’ অনুষ্ঠানের সার্বিক দায়িত্বে ছিলেন বসুন্ধরা শুভসংঘের সদস্য হুমায়ুন আহম্মেদ বিপ্লব, আহসানিয়া তাসনিম, সুমাইয়া আক্তার, ছামিউল বাসির, আশিদুল ইসলাম, সোহানুর রহমান, আহসান আজিম প্রধান, তৌহিদুল ইসলাম, আফিয়া ইভা, দীবাকর মোদক, সজীব সরকার, সুমাইয়া খাতুন, আবিদা আক্তার, আফরিন আক্তার ও সিনথিয়া আক্তার।
গ্যাসের জাতীয় চাহিদার বড় একটি অংশ সরবরাহ করে ‘গ্যাসের জেলা’ হিসেবে পরিচিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া। জেলার তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ২২টি সচল কূপ থেকে প্রতিদিন প্রায় ৩২৫ থেকে ৩৩৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হলেও বর্তমানে সেই জেলাতেই তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুর থেকে জেলার বিভিন্ন শ্রেণির গ্রাহকের গ্যাস সরবরাহে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটে। বাসাবাড়ি, ফিলিং স্টেশন ও কলকারখানায় দেখা দিয়েছে তীব্র সংকট। অনেক এলাকায় গ্যাস একেবারেই নেই, কোথাও আবার চাপ এতটাই কম যে চুলা জ্বলছে না। জেলায় আবাসিক ও বাণিজ্যিক খাতে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা মাত্র ৫ থেকে ৬ মিলিয়ন ঘনফুট। অথচ গ্যাস উৎপাদনের অন্যতম বড় কেন্দ্র হয়েও সংকটে পড়েছেন জেলার বাসিন্দারা। অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে মাটির চুলা কিংবা সিলিন্ডার গ্যাসে রান্না করছে। শহরের টেংকের পাড় এলাকার বাসিন্দা রুনা দাস বলেন, বুধবার সকাল ১১টার পর থেকেই গ্যাসের চুলা বন্ধ হয়ে গেছে। এরপর আর গ্যাস না আসায় মাটির চুলায় রান্না করতে হচ্ছে। একই এলাকার রানী দাস বলেন, গ্যাস না থাকায় লাকড়ি সংগ্রহ করে মাটির চুলায় রান্না করতে হচ্ছে। সংসারের অন্য কাজের পাশাপাশি এভাবে রান্না করা খুবই কষ্টকর। কাজীপাড়ার বাসিন্দা ইয়াদে রিবা পাপিয়া বলেন, আগে থেকেই চুলায় গ্যাসের চাপ কম ছিল। গত দুই দিন ধরে গ্যাস না থাকায় বাধ্য হয়ে সিলিন্ডার গ্যাস কিনেছেন। বন্ধ ফিলিং স্টেশন, বেড়েছে ভাড়া গ্যাস সংকটে জেলার পাঁচটি ফিলিং স্টেশনেও সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। বুধবার থেকে সরবরাহ সীমিত করার পর শুক্রবার সবকটি ফিলিং স্টেশন বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে সিএনজি অটোরিকশা ও অন্যান্য যানবাহনের চালকেরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। অনেক চালক বাধ্য হয়ে এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহার করছেন। এতে বেড়েছে যাতায়াতের খরচ। অটোরিকশাচালক জনি মিয়া জানান, কুমারশীল মোড় থেকে সরাইল-বিশ্বরোড মোড় রুটে নিয়মিত ভাড়া ৫০ টাকা হলেও গ্যাস সংকটের কারণে ভাড়া বাড়িয়ে ৭০ টাকা নেওয়া হচ্ছিল। এলপিজিতে গাড়ি চালানোর পর ভাড়া বেড়ে ৯০ টাকা হয়েছে। এক যাত্রী জানান, নিয়মিত ৪০ টাকার ভাড়া এলপিজি সংকটের কারণে ৭০ থেকে ৮০ টাকা পর্যন্ত চাওয়া হচ্ছে। ফাহাত ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক আমিনুল ইসলাম বলেন, বুধবার থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় ফিলিং স্টেশনটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আগামী রোববার অথবা সোমবার গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হতে পারে বলে তাদের জানানো হয়েছে। শিল্প উৎপাদনেও বড় ধাক্কা গ্যাস সংকটে জেলার শিল্পকারখানাগুলোতেও উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। বিসিক শিল্পনগরীর জিআই তার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান খলিল-বশির ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপক মো. গোলাম ছাদেক বলেন, দীর্ঘদিন ধরে গ্যাসের চাপ কম থাকায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছিল। এখন সরবরাহ বন্ধ থাকায় প্রতিদিন প্রায় দুই টন তার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং বড় ধরনের লোকসান হচ্ছে। এলএনজি সংকটেই সরবরাহে বিঘ্ন বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের ব্রাহ্মণবাড়িয়া শাখার উপমহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. শফিকুল হক বলেন, এলএনজি সংকটের কারণে গ্রাহকদের নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ করা যাচ্ছে না। কবে নাগাদ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষও নিশ্চিত করে কিছু জানাতে পারছে না। তিনি জানান, জেলায় আবাসিক ও বাণিজ্যিক মিলিয়ে প্রায় ২৬ হাজার গ্রাহক রয়েছে। বুধবার থেকে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় বাণিজ্যিক পর্যায়ে পুরোপুরি সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। আবাসিক পর্যায়ের কিছু এলাকায় গ্যাস থাকলেও অধিকাংশ এলাকায় সরবরাহ নেই। এর আগে বুধবার বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে এলএনজি টার্মিনাল থেকে এলএনজি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে। ফলে জাতীয় পর্যায়ে প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ কমে গেছে। এর প্রভাবে কুমিল্লা, নোয়াখালী, চাঁদপুর, ফেনী, লক্ষ্মীপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গ্যাসের স্বল্পচাপ দেখা দিয়েছে।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারিতে ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে ৯ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ৭ জন আহত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। শুক্রবার রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মতিউর রহমান (১৯) নামে আরও একজনের মৃত্যু হলে নিহতের সংখ্যা ৯ জনে দাঁড়ায়। এর আগে ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে আটজনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়। নিহতরা হলেন—সানি জলদাস (২৩), পলাশ জলদাস (৩৫), হাবিবুর রহমান (৫১), মোহাম্মদ মনসুর (৫৫), নাসির উদ্দিন (৫১), আবদুল আলীম (৩৬), রানা মিয়া (২৩), খোকন মিয়া (২৩) ও মতিউর রহমান (১৯)। নিহতদের মধ্যে সানি, পলাশ, হাবিবুর, মনসুর ও নাসির ভাটিয়ারীর বাসিন্দা। মনসুর ও নাসির দুই ভাই। খোকন ও রানা গাইবান্ধার এবং আবদুল আলীম পাবনার বাসিন্দা। শুক্রবার সকালে ভাটিয়ারি স্টেশন রোডের ওই শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়লে কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে উদ্ধারকাজ শুরু হলে একে একে হতাহতের তথ্য পাওয়া যায়।