বরগুনার পাথরঘাটা উপকূলে মাছ ধরার সময় জেলেদের জালে একটি যান্ত্রিক বস্তু উঠে এসেছে, যা দেখতে অনেকটা পানির নিচে চলাচলকারী স্বয়ংক্রিয় যানের মতো। লাল ও হলুদ রঙের প্রায় আট ফুট দীর্ঘ যন্ত্রটি উদ্ধার হওয়ার পর স্থানীয় জেলে সম্প্রদায় থেকে শুরু করে প্রশাসন ও গবেষক মহলে কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে সমুদ্রবিজ্ঞানীদের ধারণা, এটি ‘অটোনোমাস আন্ডারওয়াটার ভেহিকেল’ (এইউভি) বা স্বয়ংক্রিয় পানির নিচের গবেষণা যান হতে পারে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সমুদ্র গবেষণা, পরিবেশ পর্যবেক্ষণ, সমুদ্রতল মানচিত্রায়ণ, জলবায়ু তথ্য সংগ্রহ এবং সামরিক নজরদারির কাজে এ ধরনের যান ব্যবহার করা হয়। বঙ্গোপসাগরের বাংলাদেশ উপকূলসংলগ্ন এলাকায় এমন একটি যান কীভাবে এল, তা নিয়ে কৌতূহল দেখা দিয়েছে।
‘জাল তুলে দেখি মাছ নয়, একটা যন্ত্র’
স্থানীয় জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রোববার বিকেলে পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী ইউনিয়নের খলিফার হাট এলাকার একটি মাছ ধরার ট্রলার বঙ্গোপসাগরের মোহনা এলাকায় মাছ শিকারে ছিল। জাল তোলার সময় জেলেরা অস্বাভাবিক ভার অনুভব করেন।
ট্রলারের জেলে মিরাজ হোসেন বলেন, ‘প্রথমে মনে হয়েছিল বড় কোনো পাখি মাছ (সেইলফিশ) জালে আটকা পড়েছে। পরে জাল তুলে দেখি এটা মাছ নয়, একটা যন্ত্র। আমরা আগে কখনো এমন কিছু দেখিনি।’
মিরাজ বলেন, যন্ত্রটির গায়ে পাখার মতো অংশ এবং ভেতরে নানা ধরনের যন্ত্রপাতি (ইলেকট্রনিক ডিভাইস) দেখতে পেয়ে তাঁরা কিছুটা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। প্রথম দিকে অনেকেই এটিকে ক্ষেপণাস্ত্রের অংশ বা সামরিক কোনো বস্তু মনে করেছিলেন। পরে জেলেরা সেটি ট্রলারে তুলে সোমবার সকালে পাথরঘাটায় নিয়ে আসেন এবং পাঘরঘাটা থানায় খবর দেন। পরে পাথরঘাটা থানার পুলিশ যন্ত্রটি হেফাজতে নিয়েছে।
কী দেখা গেছে যন্ত্রটিতে
উদ্ধার হওয়া যন্ত্রটির ছবিতে দেখা যায়, এটি টর্পেডোর মতো দীর্ঘ সিলিন্ডার আকৃতির। এর উভয় প্রান্ত গোলাকার এবং পেছনের অংশে স্থিতিশীলতার জন্য ফ্যান বা পাখা রয়েছে। ওপরের অংশ খুললে ভেতরে বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মডিউল, ব্যাটারি ইউনিট, সেন্সর, নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা এবং একটি অ্যানটেনাসদৃশ যোগাযোগ ডিভাইস দেখা যায়।
যন্ত্রটি সম্পর্কে জানতে দেশের খ্যাতনামা ডলফিন ও সামুদ্রিক প্রাণিবিজ্ঞানী বিশেষজ্ঞ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ আবদুল আজিজের কাছে ছবি পাঠানো হয়। তিনি ছবিটি পর্যবেক্ষণ করার পর প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে দেখে আমার ধারণা, এটি অটোনোমাস আন্ডারওয়াটার ভেহিকেল বা এইউভি হতে পারে। আমাদের সমুদ্রসীমায় নিয়মিত এ ধরনের যান ব্যবহারের তথ্য আমার জানা নেই। তবে ছবিতে যা দেখা যাচ্ছে, তাতে মনে হচ্ছে এটি সচল অবস্থায় ছিল না। সম্ভবত যান্ত্রিক ত্রুটি বা শক্তি হারানোর কারণে স্রোতের টানে উপকূলের দিকে ভেসে এসেছে।’
অধ্যাপক আবদুল আজিজ বলেন, এই ধরনের যান সাধারণত দীর্ঘ সময় পানির নিচে থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তথ্য সংগ্রহ করে এবং পরে নির্ধারিত স্থানে ফিরে আসে অথবা তথ্য প্রেরণ করে।
বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণাপ্রতিষ্ঠান, আবহাওয়া সংস্থা, নৌবাহিনী এবং অফশোর তেল-গ্যাস কোম্পানিগুলো নিয়মিত এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে থাকে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। অধ্যাপক আবদুল আজিজ বলেন, ‘আমাদের দেশে এমন যান ব্যবহারের বিষয়ে আমার কাছে তথ্য নেই। আর যদি এটা অন্য কোনো দেশের হয়ে থাকে, তাহলে অচল হওয়ার পর যানটি ভাসতে ভাসতে আমাদের জলসীমায় চলে আসতে পারে।’
সোমবার দুপুরে বরগুনার পাথরঘাটায় উদ্ধার হওয়া যন্ত্রটির ভেতরে বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মডিউল, ব্যাটারি ইউনিট, সেন্সর, নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা এবং একটি অ্যানটেনাসদৃশ যোগাযোগ ডিভাইস দেখা যায়।
প্রয়োজন প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ
গবেষকদের মতে, যন্ত্রটির প্রকৃত পরিচয় জানতে এর গায়ে থাকা সিরিয়াল নম্বর, প্রস্তুতকারকের নাম, মেমোরি ডেটা, সেন্সর কনফিগারেশন এবং যোগাযোগব্যবস্থার প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ প্রয়োজন। যদি অভ্যন্তরীণ ডেটা সংরক্ষিত থাকে, তাহলে এটি কোথা থেকে এসেছে, কত দিন সমুদ্রে ছিল এবং কী ধরনের তথ্য সংগ্রহ করছিল, সে সম্পর্কেও ধারণা পাওয়া যেতে পারে।
পাথরঘাটা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ সোহান বলেন, ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে যন্ত্রটি হেফাজতে নিয়েছেন। এটি কী ধরনের প্রযুক্তি এবং কোথা থেকে এসেছে, তা জানার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।
পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাপস পাল বলেন, ‘বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞ মতামতের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের একোয়াকালচার বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও সমুদ্রপ্রাণী–গবেষক মীর মোহাম্মদ আলী প্রথম আলোকে বলেন, যদি এটি সত্যিই একটি অটোনোমাস আন্ডারওয়াটার ভেহিকেল (এইউভি) হয়ে থাকে, তাহলে বাংলাদেশের উপকূলে প্রকাশ্যে এমন প্রযুক্তিগত যন্ত্র উদ্ধারের ঘটনা বেশ বিরল। একই সঙ্গে ঘটনাটি বঙ্গোপসাগরে পরিচালিত আন্তর্জাতিক সমুদ্র গবেষণা, জলবায়ু পর্যবেক্ষণ, সামুদ্রিক সম্পদ অনুসন্ধান এবং আঞ্চলিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা কার্যক্রম সম্পর্কে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের মাধ্যমে এর প্রকৃত পরিচয় জানা গেলে সমুদ্র গবেষণা ও সামুদ্রিক ব্যবস্থাপনা বিষয়ে মূল্যবান তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনালকে ঘিরে রাজধানী ঢাকায় তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। ফুটবলপ্রেমীদের জন্য বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, উন্মুক্ত মাঠ, পার্ক, হোটেল ও কনভেনশন সেন্টারে বড় পর্দায় আর্জেন্টিনা-স্পেনের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচ দেখার আয়োজন করা হয়েছে। রবিবার (১৯ জুলাই) দিবাগত রাত ১টায় যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে বহুল প্রতীক্ষিত এই ফাইনাল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় সবচেয়ে বড় আয়োজন করেছে কোকা-কোলা বাংলাদেশ। তাদের সহযোগিতায় টিএসসিতে হাজারো দর্শকের জন্য বড় পর্দায় খেলা দেখানো হবে। এছাড়া হাজী মুহম্মদ মহসীন হলে বিশেষ ওয়াচ পার্টির আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া ও জাতীয় দলের ফুটবলার শেখ মোরসালিন। একই সঙ্গে জগন্নাথ হল ও হলপাড়া এলাকাতেও থাকবে বড় পর্দার ব্যবস্থা। মিরপুরের দর্শকদের জন্য মিরপুর সিটি ক্লাব মাঠ এবং মিরপুর ডিওএইচএস সেন্ট্রাল ফিল্ডে খেলা দেখার সুযোগ রাখা হয়েছে। বনানীর কামাল আতাতুর্ক পার্কেও থাকছে বিশেষ আয়োজন। ম্যাচ শুরুর আগে সেখানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ফিফা বিশ্বকাপের অফিশিয়াল অ্যালবামের শিল্পী সঞ্জয় সংগীত পরিবেশন করবেন। এ ছাড়া মোহাম্মদপুরের তিন রাস্তার মোড়, ধানমন্ডির পুরাতন ১৯ নম্বর সড়ক এবং পশ্চিম রামপুরার ওমর আলী লাইসিয়াম গ্রামার স্কুলের সামনেও বড় পর্দায় ম্যাচ উপভোগ করতে পারবেন দর্শকরা। তবে ধানমন্ডি ও রামপুরার এসব স্থানে বসার ব্যবস্থা থাকবে না। আরও আরামদায়ক পরিবেশে খেলা দেখতে চাইলে রাজধানীর কয়েকটি পাঁচতারকা হোটেলেও বিশেষ আয়োজন রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও ঢাকা, দ্য আলট্রাস ফেস্টিভ্যাল (গুলশান), লেকশোর গ্র্যান্ড, হোটেল আমারি ঢাকা, লে মেরিডিয়ান ঢাকা এবং ক্রাউন প্লাজা। এ ছাড়া এলিট কনভেনশন হল (গুলশান-১), আর্টিসান ওয়াচ পার্টি (তেজগাঁও) এবং আইসিসিএল কনভেনশন হল (মিরপুর টেকনিক্যাল মোড়ের পাশে) সহ কয়েকটি বাণিজ্যিক ভেন্যুতেও বড় পর্দায় ফাইনাল ম্যাচ দেখানো হবে। তবে এসব স্থানে প্রবেশের জন্য নির্ধারিত টিকিট বা ফি পরিশোধ করতে হবে। ফাইনাল উপলক্ষে দর্শকদের ব্যাপক সমাগমের সম্ভাবনা থাকায় আয়োজকরা ম্যাচ শুরুর অন্তত এক ঘণ্টা আগে ভেন্যুতে পৌঁছানোর পরামর্শ দিয়েছেন। পাশাপাশি গভীর রাতে যাতায়াতের সময় নিরাপত্তার বিষয়েও সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, আমি রাষ্ট্রীয় কাজে বিদেশে থাকার কারণে বন্যার মূল সময়ে আপনাদের কাছে ছুটে আসতে পারিনি, সে জন্য আপনাদের কাছে ক্ষমা চাচ্ছি। পরে উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে তিনি প্রশ্ন করেন, আপনারা নিশ্চয়ই আমাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন? এ সময় তিনি জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান সরকার সবসময় জনগণের পাশে রয়েছে এবং যে কোনো দুর্যোগে সাধারণ মানুষের সহায়তায় কাজ করে যাচ্ছে। শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেলে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার লক্ষ্যারচর এলাকায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) আয়োজিত বন্যাদুর্গতদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠান শেষে তিনি এসব কথা বলেন। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, মেজর মোজাফফর আহমদ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত একজন পলাতক আসামি। তিনি এতদিন পলাতক ও আত্মগোপনে ছিলেন। তার হদিস পাওয়া মাত্রই আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাকে গ্রেপ্তার করেছে। বর্তমানে তাকে সেনা হেফাজতে দেওয়া হয়েছে, যেন যে আইনি প্রক্রিয়ায় তাদের বিচার করা হয়েছিল- সে আইনেই তার বিচার সম্পন্ন করা যায়। বিষয়টি সেনাবাহিনী দেখছে। চকরিয়া উপজেলার ফাঁসিয়াখালী এলাকায় বন্যাদুর্গতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, বিএনপি হচ্ছে জনগণের সরকার এবং দলটি সবসময় জনগণের পাশে থাকবে। যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। বন্যাদুর্গত ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বর্তমানে সরকারিভাবে জরিপ চলছে। এই জরিপের ভিত্তিতে দুর্গত মানুষের সহায়তায় সরকারি ও বেসরকারি সব ধরনের পুনর্বাসন উদ্যোগ অব্যাহত রাখা হবে। মন্ত্রী জানান, দেশের যেসব এলাকা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেসব এলাকায় জরিপ কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বেড়িবাঁধসহ বিভিন্ন অবকাঠামো দ্রুত সংস্কার করা হবে। একইসঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে, যেন তারা দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে পারেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, নারী সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামিম আরা স্বপ্না, বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী, বিজিবির কক্সবাজার রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকসার খান, সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মো. মহিউদ্দিন আহমেদ, কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল মান্নান, পুলিশ সুপার মো. সাজেদুর রহমান, জেলা পরিষদের প্রশাসক এটিএম নুরুল বশর চৌধুরী, চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহিন দেলোয়ার, জেলা ও উপজেলা বিএনপির নেতারা এবং স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে আচমকা আঘাত হেনেছে একটি মিনি টর্নেডো। এতে সৈকতে পর্যটকদের বসার জন্য রাখা ৫২টি কাঠের চেয়ার ও ৬১টি ছাতা দুমড়ে-মুচড়ে যায়। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেল পৌনে ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, টর্নেডোটি ৩ থেকে ৫ মিনিট স্থায়ী ছিল। সাগরের মাঝখান থেকে কালো মেঘের মতো একটি ঘূর্ণি দ্রুত সুগন্ধা পয়েন্টের বালুচরের দিকে ধেয়ে আসে। মুহূর্তেই সৈকতে থাকা পর্যটকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং তারা নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ছোটাছুটি শুরু করেন। কক্সবাজার কিটকট ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন, সাগর থেকে সৃষ্ট শক্তিশালী ঘূর্ণিটি ধীরে ধীরে বালুচরের দিকে এগিয়ে এসে সুগন্ধা পয়েন্টে আঘাত হানে। এতে ব্যবসায়ীদের ৫২টি কাঠের চেয়ার ও ৬১টি ছাতা ভেঙে যায়। ঘটনার সময় সৈকতে থাকা পর্যটক মেহেদী হাসান বলেন, ‘মুহূর্তের মধ্যে সাগরের মাঝ থেকে কুণ্ডলী পাকিয়ে বাতাসটি বিচের দিকে ধেয়ে আসে। চোখের সামনে চেয়ার-ছাতাগুলো বাতাসে উড়তে দেখে সবাই দিগ্বিদিক ছুটতে শুরু করে।’ এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ঘটনার একটি ভিডিওতে এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, এটি সাগর থেকে পানি টেনে আনা একটি ঘূর্ণি, যা তীরে এসে বালির ঘূর্ণিবাত বা ছোট টর্নেডোর রূপ নেয়। তার ভাষ্য, এটি কোনো বড় সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড় নয়; বরং তীরবর্তী এলাকায় মেঘ ও বাতাসের তারতম্যের কারণে এমন স্বল্পস্থায়ী ঘূর্ণির সৃষ্টি হতে পারে।