নতুন বছরের প্রথম প্রহরেই ঝলমলে হয়ে উঠেছে রুপালি দুনিয়া। ২০২৫-কে বিদায় জানিয়ে ২০২৬-কে বরণ করতে বলিউড থেকে দক্ষিণী ইন্ডাস্ট্রি—সবখানেই যেন উৎসবের রোশনাই। সোশ্যাল মিডিয়ার নিউজ ফিড ভরে গেছে হাসি, কৃতজ্ঞতা আর নতুন শুরুর অঙ্গীকারে। কারিনা কাপুর, সিদ্ধার্থ মালহোত্রা, কাজলদের উষ্ণ শুভেচ্ছার পাশাপাশি কেউ শেয়ার করেছেন উদ্যাপনের রঙিন মুহূর্ত, কেউবা ফিরে তাকিয়েছেন গত বছরের মধুর স্মৃতিতে। অন্যদিকে আল্লু অর্জুন, কমল হাসানের মতো দক্ষিণী তারকারা হৃদয়ছোঁয়া বার্তায় নতুন বছরের আশা আর ইতিবাচকতার আলো ছড়িয়ে দিয়েছেন—যেন ২০২৬ শুরু হলো তারকাদের আবেগ আর আনন্দের জোয়ারে।
কাজল
স্বামী অজয় দেবগনের সঙ্গে নতুন বছরের উদ্যাপনের ছবি শেয়ার করে বলিউড অভিনেত্রী কাজল লিখেছেন, ‘সবার জন্য শুভ নববর্ষ। গত বছর আমাদের যা দেখিয়েছে, তা হলো—জীবন খুবই মূল্যবান এবং অনিশ্চিত। তাই এমনভাবে বাঁচুন, যেন জীবনের সত্যিই কোনো অর্থ আছে।’
কারিনা কাপুর
নতুন বছরে কারিনা কাপুর স্বামী সাইফ আলি খানের সঙ্গে একটি ছবি পোস্ট করে সাইফকে ঘিরে ঘটে যাওয়া ছুরি হামলার ঘটনার কথা স্মরণ করে দীর্ঘ একটি নোট লিখেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘যখন আমরা বসে ভাবছি যে বছরের শেষ দিনটায় এসে পৌঁছেছি… তখন মনে হচ্ছে, আমরা এতটা পথ পেরিয়ে এসেছি।
২০২৫ সাল আমাদের জন্য, আমাদের সন্তানদের জন্য এবং আমাদের পরিবারের জন্য ভীষণ কঠিন একটি বছর ছিল, তবুও আমরা মাথা উঁচু করে, হাসতে হাসতে আর একে অপরকে আঁকড়ে ধরে সেই সময় পার করেছি। আমরা অনেক কেঁদেছি, অনেক প্রার্থনা করেছি, আর আজ আমরা এখানে দাঁড়িয়ে আছি।
২০২৫ আমাদের শিখিয়েছে মানুষের মন ভয়কে জয় করতে পারে, ভালোবাসাই শেষ পর্যন্ত সবকিছু জয় করে এবং শিশুরা আমাদের ধারণার চেয়েও অনেক বেশি সাহসী।’
তিনি আরও বলেন, ভক্তদের, বন্ধুদের এবং যারা আমাদের পাশে ছিলেন ও এখনো সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন, সবাইকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। আর সর্বোপরি সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের প্রতি কৃতজ্ঞতা। আমরা ২০২৬ সালে পা রাখছি নতুন উদ্দীপনা, গভীর কৃতজ্ঞতা ও ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে, আর যে কাজটি আমরা সবচেয়ে ভালোবাসি, সিনেমা, সেটার প্রতি অমর আবেগকে সঙ্গে নিয়ে সবাইকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানাই।
ঈশা দেওল
এদিকে নতুন বছরে ঈশা দেওল তার পোস্টে বাবা ধর্মেন্দ্রকে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। তিনি দুটি ছবি শেয়ার করেছেন। দ্বিতীয় ছবিতে ঈশাকে আকাশের দিকে আঙুল তুলতে দেখা যায়, যেখানে ভেসে উঠেছে ‘লাভ ইউ পাপা’। ক্যাপশনে ঈশা লিখেছেন, ‘সব সময় আশীর্বাদপুষ্ট থাকো, সুখী, সুস্থ ও শক্ত থাকো’।
সিদ্ধার্থ মালহোত্রা
নতুন বছরে সিদ্ধার্থ মালহোত্রা ২০২৫ সালের কিছু মিষ্টি মুহূর্তের ঝলক শেয়ার করে লিখেছেন, ‘শুটিং সেট আর বাড়ির মাঝামাঝি কোথাও গিয়ে জীবন যেন চিরদিনের জন্য বদলে গেছে আর তা আরও ভালোভাবে। জীবনে যুক্ত হয়েছে নতুন এক গভীরতা, নরম এক শক্তি, যা হয়ে উঠেছে পৃথিবীটাকে একটু ভিন্নভাবে দেখার এক কারণ। এই বেড়ে ওঠা, এই অনুগ্রহ আর সিনেমার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। চিয়ার্স ২০২৫! পূর্ণ হৃদয়, আরও স্পষ্ট লক্ষ্য আর অফুরন্ত কৃতজ্ঞতা নিয়ে ২০২৬-এ পা রাখছি। সবাইকে শুভ নববর্ষ। অনেক ভালোবাসা।’
আল্লু অর্জুন
নতুন বছরকে স্বাগত জানিয়ে দক্ষিণী তারকা আল্লু অর্জুন ভক্তদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। নিজের ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে দেওয়া এক উষ্ণ বার্তায় তিনি বলেন, বছরজুড়ে পাওয়া যাত্রা, শিক্ষা ও ভালোবাসার জন্য তিনি কৃতজ্ঞ। পাশাপাশি প্রতিটি পর্বে পাশে থাকার জন্য ভক্তদের ধন্যবাদ জানিয়ে আল্লু অর্জুন জানান, ভক্তদের বিশ্বাসই তাকে প্রতিদিন শক্তি ও লক্ষ্য জোগায়। সামনে আসা নতুন অধ্যায় শুরু করতে তিনি উদ্দীপনা ও আশাবাদ নিয়ে তাকিয়ে আছেন বলেও উল্লেখ করেন।
কমল হাসান
নতুন বছরে নিজের সোশ্যাল হ্যান্ডেল এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় কমল হাসান লিখেছেন, ‘আরেকটি নতুন বছর সামনে। আগের বছরের চেয়ে আরও ভালো, আরও সদয় ও আরও প্রজ্ঞাবান হয়ে ওঠার আরেকটি সুযোগ। উৎকর্ষতা হলো চলমান এক সাধনা। একটি উৎকৃষ্ট নতুন বছর কামনা করি। প্রতিটি আগামীর দিনই সুযোগে ভরা—তা কাজে লাগান। আপনার সব প্রচেষ্টা যেন আপনাকে সুখী করে তোলে।’
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
দীর্ঘ আট বছর পর বড় পর্দায় ফিরেছেন বলিউড অভিনেত্রী প্রীতি জিনতা। রাজকুমার সন্তোষী পরিচালিত ‘বাটওয়ারা ১৯৪৭’ সিনেমায় সানী দেওলের বিপরীতে অভিনয় করেছেন তিনি। সিনেমাটি মুক্তির এক দিন আগে নিজের চরিত্র হামিদার প্রথম লুকের স্মৃতি ভক্তদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন এই অভিনেত্রী। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সিনেমাটির লুক টেস্টের সময় তোলা একটি সাদাকালো ছবি প্রকাশ করেছেন প্রীতি। ছবিতে সাধারণ ফুলের পাড়ের শাড়িতে দেখা গেছে তাকে। মাথায় শাড়ির আঁচল, খোলা ঢেউ খেলানো চুল এবং হাতে সোনালি চুড়ি—সব মিলিয়ে সাদামাটা অথচ মায়াবী এক লুকে ধরা দিয়েছেন অভিনেত্রী। ছবিটি প্রকাশ করে প্রীতি লিখেছেন, ‘বাটওয়ারা ১৯৪৭' মুক্তির প্রাক্কালে, আমি সেই জায়গায় ফিরে যেতে চেয়েছিলাম যেখান থেকে সবকিছুর শুরু। এই ছবিটি সেই লুক টেস্টের সময় তোলা হয়েছিল, যেখানে আমি হামিদার প্রথম ঝলক দেখেছিলাম এবং অনুভব করেছিলাম।’ নিজের চরিত্র হামিদা সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি রুমির একটি বিখ্যাত উক্তি তুলে ধরেছেন। প্রীতি লিখেছেন, ‘আমার কাছে, রুমির এই বিখ্যাত উক্তিটির মাধ্যমে হামিদা চরিত্রটিকে সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে - ‘চারপাশের সবকিছু যদি অন্ধকার মনে হয়, তবে আবার তাকাও, তুমি নিজেই হয়তো আলো। ’ ১৪ই আগস্ট ‘বাটওয়ারা ১৯৪৭’-এর জন্য আপনাদের পাশের প্রেক্ষাগৃহে দেখা হচ্ছে! টিং!’ আজ শুক্রবার (১৪ আগস্ট) প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে ‘বাটওয়ারা ১৯৪৭’। সিনেমাটির মাধ্যমে প্রায় আট বছর পর বড় পর্দায় ফিরলেন প্রীতি জিনতা। ২০১৮ সালে মুক্তি পাওয়া ‘ভাইজাই সুপারহিট’-এর পর এটিই তার বড় পর্দায় প্রত্যাবর্তন। সেই সিনেমাতেও সানী দেওলের বিপরীতে অভিনয় করেছিলেন তিনি। রাজকুমার সন্তোষী পরিচালিত ‘বাটওয়ারা ১৯৪৭’ নির্মিত হয়েছে আসগর ওয়াজাহাতের প্রশংসিত নাটক ‘জিস লাহোর নাই ভেখ্যা, ও জাম্যা ই নাই’ অবলম্বনে। ১৯৪৭ সালের দেশভাগ এবং পাঞ্জাব বিভক্তির অস্থির সময়কে কেন্দ্র করে নির্মিত হয়েছে সিনেমাটি। দেশভাগের রাজনৈতিক ইতিহাসের পাশাপাশি সেই সময় সাধারণ মানুষের জীবনে ঘটে যাওয়া মানবিক গল্পগুলোই সিনেমাটির মূল উপজীব্য। প্রীতি জিনতা ও সানী দেওল ছাড়াও সিনেমাটিতে অভিনয় করেছেন শাবানা আজমি, কানিকা কাপুর, করণ দেওল, আলি ফজল, খুশি হাজারে ও অভিমন্যু সিং। সিনেমাটি প্রযোজনা করেছেন আমির খান।
শাড়ি আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) জামিন পেয়েছেন ছোটপর্দার দর্শকপ্রিয় অভিনেত্রী তানজিন তিশা। এদিন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালতে হাজির হয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে জামিনের আবেদন জানান তিনি। শুনানি শেষে আদালত তাকে জামিন মঞ্জুর করেন। তবে জামিন পাওয়ার পরই আদালত প্রাঙ্গণে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিশা। তার বিরুদ্ধে করা মামলার বাদী একজন নারী হয়েও স্বামীর ক্ষমতা ব্যবহার করে অভিনেত্রীকে হেনস্তা করতেই এই অপচেষ্টা চালিয়েছেন বলে সরাসরি অভিযোগ করেন তিনি। তিশা বলেন, ‘যিনি আমার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ এনেছেন, তিনি একজন নারী। তার স্বামীর ক্ষমতা দেখিয়ে আমার সঙ্গে এটা করেছে এবং সে আমাকে অনেক ধরনের হুমকিও দিয়েছে সেগুলো আমি প্রকাশ করব। সেই সংক্রান্ত অনেক বিষয়ই আমার কাছে আছে, যা আমি সময়মতো প্রকাশ্যে আনব।’ তার বিরুদ্ধে এই আইনি জটিলতা তৈরি করাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে তিশা আরও বলেন, ‘একটি ২৭ হাজার টাকা মূল্যের শাড়ির জন্য বলা হচ্ছে, আমি নাকি আত্মসাত করেছি! আমার দীর্ঘ ১৫ বছরের ক্যারিয়ার। এটি কোনোভাবেই কাম্য নয় যে, আমাকে মাত্র একটি শাড়ির জন্য আদালতে আসতে হবে। আমি যেন সঠিক ও ন্যায়বিচার পাই, এটাই আমার একমাত্র কামনা।’ তিশা অভিযোগকারীর প্রতি ইঙ্গিত করে আরও বলেন, ‘তারও একটা ছোট মেয়ে আছে, তারও সংসার ও একটা ব্যক্তিগত জীবন আছে। উনি নিজেও একজন নারী। সেই জায়গা থেকে আরেকজন নারীকে এভাবে হয়রানি করা কোনোভাবেই মানা যায় না। আমি আশা করি ভবিষ্যতে আর কাউকে যেন এমন হীন উদ্দেশ্যে হয়রানি না করা হয়। আমরা আদালতের কাছে ন্যায়বিচার পাব বলেই বিশ্বাস করি।’ মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, অনলাইন ফ্যাশন পেজ ‘অ্যাপোনিয়া’ থেকে ২৮ হাজার ৮০০ টাকা মূল্যের একটি শাড়ি নেন তানজিন তিশা। অভিযোগকারী পক্ষের দাবি, শাড়িটির প্রচার চালানো এবং এর মূল্য পরিশোধের আশ্বাস দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু পরবর্তীতে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন অভিনেত্রী। এ ঘটনায় শাড়িটির মূল্য পরিশোধ না করা এবং প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী প্রচার না চালানোর অভিযোগে তার বিরুদ্ধে প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের মামলা করা হয়। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালতে হাজির হয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে জামিনের আবেদন জানান তানজিন তিশা। শুনানি শেষে আদালত তাকে জামিন মঞ্জুর করেন।
বলিউড অভিনেত্রী মল্লিকা শেরাওয়াত সম্প্রতি রিয়েলিটি সিরিজ দ্য ট্রেইটরস ২-এর প্রচারণায় অংশ নিয়ে হলিউড তারকা টম ক্রুজকে ঘিরে একটি মন্তব্য করে আলোচনায় এসেছেন। একসময় বলিউডে একাধিক জনপ্রিয় আইটেম গানে পারফর্ম করা মল্লিকা এখন নতুন এই সিরিজের মাধ্যমে দর্শকদের সামনে ফিরছেন। সিরিজটিতে মুনাওয়ার ফারুকী, শ্বেতা তিওয়ারি, রণবীর ব্রার, রিয়া চক্রবর্তী, ক্রিস্টল ডি’সুজা, দালিপ তাহিল ও পারুল গুলাটিসহ আরও কয়েকজন তারকা অংশ নিয়েছেন। অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে সহ-প্রতিযোগী আদিত্য কুলশ্রেষ্ঠ জানতে চান, তার কখনও কারও প্রতি ‘ক্রাশ’ তৈরি হয়েছে কি না। জবাবে মল্লিকা বলেন, “সবাই আমার প্রেমে পড়েছে। ইদানিং টম ক্রুজও আমার প্রতি আকৃষ্ট হয়েছেন।” তিনি আরও দাবি করেন, টম ক্রুজ তাকে ভিডিও পাঠিয়েছেন। তবে ভিডিওগুলোর ধরন সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানাননি। মল্লিকা বলেন, “আমরা যখন বিভিন্ন পার্টিতে একসঙ্গে থাকতাম, তখন দেখা হতো। তিনি সত্যিই অসাধারণ একজন মানুষ।” তবে অভিনেত্রীর এ বক্তব্যের পক্ষে কোনো প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি এবং টম ক্রুজের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, দ্য ট্রেইটরস ২-এর প্রচারণা শুরু হবে বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) অ্যামাজন প্রাইম ভিডিওতে।