রাত তখন প্রায় ১১টা। সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের মালঞ্চ নদীর ‘বাচা কলাগাছিয়া’ এলাকায় কাঁকড়া শিকার করছিলেন দুই ভাই। হঠাৎ তিনটি নৌকায় এসে হাজির ১১-১২ জন সশস্ত্র দস্যু। নিজেদের ‘নানা ভাই বাহিনী’ পরিচয় দিয়ে তারা একজনকে জিম্মি করার চেষ্টা করে। প্রাণভয়ে অন্য ভাই জানান, বনে ঢোকার আগেই বিকাশে ২০ হাজার টাকা দিয়ে ‘অনুমতি’ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু দস্যুদের কাছে নম্বরের সঙ্গে সেই নম্বরের মিল না পাওয়ায় শেষ রক্ষা হয়নি। গভীর রাতে বাড়ি থেকে আরও ২০ হাজার টাকা পাঠানোর পর ভোরে মুক্তি মেলে দুই ভাইয়ের।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভুক্তভোগী দুই ভাই বলেন, ‘টাকা দিয়েও এখন বনে যেতে ভয় লাগে। দস্যুরা কীভাবে সব খবর আগেই পেয়ে যায়, সেটাই বুঝি না।’
গত ১১ মে খুলনার বটিয়াঘাটার মো. হাসান ও তার তিন সহযোগী শরীফ বাহিনীর হাতে জিম্মি হন। দস্যুরা মাথাপিছু ৫০ হাজার টাকা করে মুক্তিপণ দাবি করে। পরে ২০ মে শরণখোলা রেঞ্জে বন বিভাগের স্মার্ট প্যাট্রল টিমের অভিযানের পর তারা মুক্ত হন।
সুন্দরবনের বনজীবীদের কাছে এমন ঘটনা এখন আর বিচ্ছিন্ন নয়। মাছ, কাঁকড়া, মধু কিংবা গোলপাতা সংগ্রহে বনে ঢুকতে হলেই দিতে হচ্ছে চাঁদা। অনেক ক্ষেত্রে টাকা দিয়েও মিলছে না নিরাপত্তা। অপহরণ, নির্যাতন আর মুক্তিপণের আতঙ্কে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে উপকূলের হাজারো পরিবার।
দস্যুমুক্ত’ ঘোষণার পর ফের পুরোনো আতঙ্ক
২০১৮ সালে সুন্দরবনকে ‘দস্যুমুক্ত’ ঘোষণা করা হয়েছিল। তখন ছোট-বড় প্রায় ৩৫টি বাহিনীর কয়েকশ সদস্য আত্মসমর্পণ করে। কিন্তু বনজীবীদের দাবি, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর পরিস্থিতি আবার বদলে যায়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কারাগার ভাঙার ঘটনায় খোকা বাবু বাহিনীর প্রধান খোকা বাবুসহ কয়েকজন দস্যু সহযোগী পালিয়ে যায়– এ তথ্য নিশ্চিত করেন সাতক্ষীরা কারাগারের জেলার দুলাল কর্মকার।
বর্তমানে পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জে আলিম ওরফে আলিফ বাহিনী, জোনাব বাহিনী, নানা ভাই বাহিনী ও ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনী সক্রিয় রয়েছে বলে দাবি বনজীবীদের। একইভাবে পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই ও শরণখোলা রেঞ্জেও কয়েকটি নতুন উপদল মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। তাদের মধ্যে করিম শরীফ বাহিনী, ছোট সুমন বাহিনী, বড় জাহাঙ্গীর বাহিনী, ছোট জাহাঙ্গীর, শরীফ বাহিনী, আছাফুর বাহিনী, গাজী বাহিনী, মুক্তার বাহিনী ও দুলাভাই বাহিনী অন্যতম।
হরিনগর গ্রামের সবুর গাইন বলেন, ‘আগে বাঘ-কুমিরের ভয় ছিল, এখন তার চেয়েও বড় ভয় জলদস্যু।’ বাগেরহাটের শরণখোলার এক মৌয়াল বলেন, ‘এখন মধু কাটার চেয়ে ডাকাতদের চোখ ফাঁকি দেওয়া বেশি কঠিন।’
পশ্চিম বন বিভাগের ডিএফও এজেডএম হাসানুর রহমান জানান, সুন্দরবনের দস্যু দমনের মূল দায়িত্ব এখন কোস্টগার্ডের ওপর রয়েছে। খবর পাওয়া মাত্রই কোস্টগার্ডকে তথ্য দেওয়া ছাড়াও দস্যু দমনে যৌথ অভিযান জোরদার করা হয়েছে। নতুন কয়েকটি তালিকাভুক্ত বাহিনীর বিরুদ্ধে গোয়েন্দা নজরদারি চলছে। তবে সীমিত জনবল ও অস্ত্র নিয়ে বিস্তীর্ণ জলসীমায় সংঘবদ্ধ দস্যুদের নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়েছে।
‘ছয় মাসের কার্ড’, দেড় মাসেই নতুন দাবি
শ্যামনগরের দক্ষিণ কদমতলা গ্রামের বনজীবী জবেদ আলীর কণ্ঠে ক্ষোভ আর অসহায়ত্ব স্পষ্ট। প্রায় তিন দশক ধরে সুন্দরবনে যাতায়াত করা এই বনজীবী বলেন, এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে দুই সহযোগীসহ বনে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। বিভিন্ন বাহিনীকে প্রায় ৭০ হাজার টাকা দিয়ে ‘কার্ড’ও সংগ্রহ করেছিলেন। কিন্তু দেড় মাস পার হতেই আবার নতুন করে টাকা দাবি করা হচ্ছে। ‘সমিতির ঋণ শোধ করতে পারিনি। আবার ডাকাতরা টাকা চাইছে। এখন না পারছি বনে যেতে, না পারছি সংসার চালাতে’– বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।
একই ধরনের অভিজ্ঞতা পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই ও শরণখোলা রেঞ্জের জেলে-বাওয়ালিদেরও। মোংলার রামপাল থানার ভাগা বাজার এলাকার হাসান জানান, দস্যুদের দেওয়া টোকেন বা কার্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই বনের গহিন খালে নতুন কোনো উপদলের মুখে পড়তে হচ্ছে। সেখানে আগের কার্ডের কোনো স্বীকৃতি মিলছে না, দিতে হচ্ছে নতুন করে মোটা অঙ্কের চাঁদা।
স্থানীয় বনজীবীদের দাবি, আগে দস্যুরা বনের ভেতরে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করলেও এখন ‘কার্ড সংস্কৃতি’ চালু করেছে। ৫, ১০ ও ২০ এবং ৫০ টাকার নোটকে ‘কার্ড’ হিসেবে ব্যবহার করে আগেভাগেই টাকা আদায় করা হচ্ছে। পাঁচ টাকার নোটের ভিত্তিতে এক গোন আর ১০ ও ২০ টাকার নোটে এক মৌসুম এবং ৫০ টাকার নোটের মাধ্যমে ফিশিং ট্রলারের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। নির্দিষ্ট নম্বরের সেই নোট দেখিয়েই বনজীবীদের বনে চলাচল করতে হচ্ছে।
প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায়’ দস্যু তৎপরতা
সুন্দরবনের মাছ ধরার লাভজনক এলাকাগুলো নিয়ন্ত্রণে রাখতে কিছু প্রভাবশালী নৌকার মালিক, মাছ ব্যবসায়ী, আড়তদার ও মহাজন চক্র জলদস্যুদের পেছন থেকে সহায়তা দেয়। সাধারণ জেলেরা যাতে সব এলাকায় স্বাধীনভাবে মাছ ধরতে না পারে, সেজন্য দস্যুদের মাধ্যমে ভয়ভীতি ও নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
বুড়িগোয়ালিনী গ্রামের জেলে আব্দুল হাকিম গাজী বলেন, ‘বড় কোম্পানির সঙ্গে বিরোধ করে বনে টেকা যায় না। তাদের বিরাগভাজন হলে দস্যুদের নির্যাতনের শিকার হতে হয়।’ তবে অভিযুক্ত ব্যবসায়ী অয়ন কোম্পানির মালিক মোজাহিদুল ইসলাম অয়ন এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, দস্যুদের সঙ্গে কোনো আর্থিক সম্পর্ক নেই, বিপদে পড়া জেলেদের মানবিক সহায়তা করা হয় মাত্র।’
খুলনা রেঞ্জের কয়রা উপজেলার গোবরা এলাকার বনজীবী সফি ও বিল্লাল হোসেন জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনের মাছ, কাঁকড়া শিকার ও মধু সংগ্রহে জড়িত। বর্তমানে সুন্দরবনে যেতে হলে মহিদুল ও মিন্টুর মালিকানাধীন ‘খাটো মিন্টু কোম্পানি’ থেকে কার্ড সংগ্রহ করতে হয়।
কোটি টাকার ‘কার্ড বাণিজ্য’
২০২৫-২৬ অর্থবছরের সরকারি ও স্থানীয় তথ্য অনুযায়ী, সুন্দরবনের চারটি রেঞ্জ– সাতক্ষীরা, খুলনা, চাঁদপাই ও শরণখোলায় প্রায় ১১ হাজার অনুমোদিত নৌকার বিপরীতে প্রায় ২৬ হাজার বনজীবী ও জেলে লক্ষাধিকবার বনে প্রবেশ করেছেন। তবে এর মধ্যে সাতক্ষীরা রেঞ্জ ও চাঁদপাই রেঞ্জের চিত্র সবচেয়ে ভয়াবহ। সাতক্ষীরা রেঞ্জ থেকে বনজীবীদের কাছ থেকে চলতি মৌসুমে দস্যুরা মোট দুই কোটি ৭৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এই রেঞ্জে ১৫০০টি নৌকা থেকে ১০-২৫ হাজার টাকা দরে ‘অগ্রিম কার্ড’ বিক্রি করে এক কোটি ৮০ লাখ টাকা এবং দুই শতাধিক জেলেকে জিম্মি করে আরও ৪০ লাখ টাকা মুক্তিপণ নেওয়া হয়েছে। একইভাবে মধু সংগ্রহ করতে যাওয়া মৌয়ালদের কাছ থেকে মৌসুমি চাঁদা বাবদ ৪৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা এবং জিম্মি হওয়া ৩০ জন মৌয়ালের কাছ থেকে আরও ৯ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায় করা হয়েছে।
একইভাবে খুলনা ও শরণখোলা রেঞ্জ থেকে প্রায় সমপরিমাণ মুক্তিপণ ও চাঁদাবাজি বাবদ অর্থ আদায় করা হয়েছে। তবে চাঁদপাই রেঞ্জের আওতাধীন এলাকা থেকে সবচেয়ে বেশি চাঁদা আদায়ের তথ্য রয়েছে। চলতি মৌসুমে সেখানকার জেলেপ্রতি ২০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা আদায় করছে দস্যুরা। এভাবে অন্তত ২৫ কোটি টাকার ওপরে আদায় হয়েছে এ রেঞ্জ থেকে। সহজ কথায়, বৈধ পারমিট নিয়ে বনে গেলেও সুন্দরবনের নিরীহ জেলে ও মৌয়ালদের দস্যুদের হাত থেকে বাঁচতে কোটি কোটি টাকা চাঁদা দিতে হচ্ছে।
অভিযান চলছে, আতঙ্ক কাটছে না
কোস্টগার্ড জানায়, ‘রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ ও ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ অভিযানে গত ১৯ মাসে ৬৯ দস্যু ও সহযোগী আটক হয়েছে। উদ্ধার হয়েছে ৬৭টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৩০০ রাউন্ড গুলি। জিম্মিদশা থেকে মুক্ত হয়েছেন ১০৪ জেলে ও দুই পর্যটক।
শ্যামনগর থানার ওসি খালেদুর রহমান জানান, মুক্তিপণের টাকা লেনদেনে ব্যবহৃত মোবাইল ট্র্যাক করে কয়েকজন বিকাশ ব্যবসায়ী ও দস্যুদের সহযোগীকে আটক করা হয়েছে। তবে বনজীবীরা বলছেন, সমন্বিত অভিযান ও রাজনৈতিক সদিচ্ছা ছাড়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হবে। ‘দস্যুমুক্ত’ সুন্দরবন আবারও জলদস্যুদের অভয়ারণ্যে পরিণত হতে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
রাজধানীসহ দেশের সব দোকানপাট দুপুর ১২টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখার দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতি। সোমবার (৮ জুন) গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন সংগঠনটির সভাপতি নাজমুল হাসান। চিঠিতে বলা হয়, আমরা বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতির পক্ষ থেকে দেশের কোটি কোটি ভোক্তা এবং প্রায় ৭০ লাখ দোকান ব্যবসায়ী, কর্মচারী ও তাদের পরিবারের জীবিকা নির্বাহের স্বার্থে এ আবেদন। বাংলাদেশের খুচরা ব্যবসা দেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত। দেশের শহর, মফস্বল ও গ্রামাঞ্চলের অসংখ্য দোকান, মার্কেট ও শপিংমলকে কেন্দ্র করে লখো মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমান সময়ে ব্যবসায়িক ব্যয়, দোকান ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল, ব্যাংক ঋণের কিস্তি, কর্মচারীদের বেতন-ভাতা এবং অন্যান্য খরচ ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যবসায়ীরা অত্যন্ত সংকটের মধ্যে রয়েছেন। সন্ধ্যা ৭টার পর দোকান বন্ধ রাখার বর্তমান সিদ্ধান্ত দেশের খুচরা ব্যবসার ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।’ এতে বলা হয়, অনেক ক্রেতা কর্মব্যস্ততার কারণে দিনের বেলায় কেনাকাটা করতে পারেন না এবং বিকেল বা সন্ধ্যার পর বাজারে আসেন। ফলে দোকান ও শপিংমল রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখার সুযোগ না থাকলে ব্যবসায়ীরা তাদের প্রত্যাশিত বিক্রয় থেকে বঞ্চিত হন। এতে ব্যবসার পরিমাণ কমে যায়, কর্মসংস্থান হুমকির মুখে পড়ে এবং দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দেশের অর্থনীতি সচল রাখা, ব্যবসায়ীদের জীবিকা রক্ষা করা এবং সাধারণ জনগণের কেনাকাটার সুবিধার কথা বিবেচনা করে আমরা বিনীতভাবে আবেদন জানাচ্ছি যে, সরকারের বিবেচনায় নির্ধারিত সময় অনুযায়ী প্রতিদিন দুপুর ১২টা বা সরকারের উপযুক্ত মনে হওয়া যেকোনো সময় থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত দেশের সব দোকান, শপিং মল, মার্কেট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখার অনুমোদন প্রদান করা হোক। চিঠিতে আরও বলা হয়, এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে প্রায় ৭০ লাখ দোকান ব্যবসায়ী ও কর্মচারীর জীবিকা সুরক্ষিত হবে, ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে; সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পাবে; সাধারণ জনগণ সুবিধাজনক সময়ে কেনাকাটার সুযোগ পাবেন; দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল ও শক্তিশালী হবে। অন্যথায় বিপুলসংখ্যক ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বড় ব্যবসায়ী আর্থিক সংকটে পড়ে ব্যবসা বন্ধ করতে বাধ্য হতে পারেন, যার নেতিবাচক প্রভাব জাতীয় অর্থনীতির ওপর পড়বে।
হবিগঞ্জে পৃথক স্থানে বজ্রপাতে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৪ জন। রোববার (৭ জুন) বিকালে চুনারুঘাট পৌরসভার হাতুন্ডা এলাকায় বজ্রপাতে রিংকু দেবনাথ (৪০) নামে একজনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় পিযুষ দেবনাথ (৩০) নামে অপর একজন আহত হন। নিহত রিংকু বাহুবল উপজেলার মিরপুরের চকফাজিল গ্রামের সুরেশ দেবনাথের ছেলে। তিনি বেড়াতে এসে তার বোনের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। খবর পেয়ে চুনারুঘাট থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মৃদুল কুমার ভৌমিক সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বিকালে রিংকু তার ভাগিনা পিযুষকে সঙ্গে নিয়ে টিনের ঘরের চালায় উঠে পানির ট্যাংকি পরিষ্কার করছিলেন। এ সময় বৃষ্টিপাত শুরু হলে হঠাৎ বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। বজ্রপাতে দুজনই ঘরের ছাদ থেকে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে স্বজনরা তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক রিংকুকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত পিযুষ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অন্যদিকে একইদিন বিকালে বানিয়াচং উপজেলার পৈলারকান্দি ইউনিয়নের শ্রীমঙ্গলকান্দি গ্রামে বজ্রপাতে ৪ জন আহত হন। এর মধ্যে রাত সাড়ে ৯টার দিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সুজন (২০) নামে একজন মারা যান। অপর আহতদের সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তারা হলেন- সিয়াম (১৫), হাফিজ উদ্দিন (২২) ও পারভেজ (২৫)। বানিয়াচং থানার ওসি শেখ নাজমুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, গ্রামের একটি মাঠে ফুটবল খেলা দেখার সময় হঠাৎ বজ্রপাত হলে তারা আহত হন। তাদের মধ্যে সুজন নামে একজনের মৃত্যু হয়।
‘দোষীদের শুধু ফাঁসির আদেশ দিলেই হবে না, সেই ফাঁসি যেন কার্যকর হয় সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। তবেই আমার পরিবারসহ দেশের অন্য ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো কিছুটা হলেও শান্তি পাবে।’ মিরপুরে শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় শুনতে এসে এসব কথা বলেন জুলাই আন্দোলনে নিহত মিরাজুল ইসলাম মিরাজের বাবা আব্দুস সালাম। আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, সরকার এমন আইন করুক, যেখানে কোনো দুর্বলতা বা ফাঁকফোকর থাকবে না। তার আশঙ্কা, বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘসূত্রিতায় পড়লে তিনি তার ছেলে মিরাজ হত্যার বিচার নাও পেতে পারেন। একইভাবে যাত্রাবাড়িতে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডগুলোর বিচার নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। আব্দুস সালাম বলেন, ‘আমি আগেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাদের উপস্থিতিতে বলেছি, জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচারের জন্য আইনের সঠিক প্রয়োগ ও বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। কিন্তু এখনও কেন আইনের মাধ্যমে বিচার নিশ্চিত হচ্ছে না, কেন মামলাগুলোর অগ্রগতি দৃশ্যমান নয়—এ প্রশ্ন আমার।’ তিনি বলেন, তার ছেলে হত্যার ঘটনায় ভিডিও ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্যসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রমাণ তদন্ত সংস্থার কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। তারপরও কেন মামলার চার্জশিট আদালতে দেওয়া হচ্ছে না, সেটি তার বোধগম্য নয়। এর আগে রোববার (৭ জুন) বেলা ১১টা ৩৮ মিনিটে ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত আসামিদের উপস্থিতিতে সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্নাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। উল্লেখ্য, গত ১৯ মে রাজধানীর পল্লবীর একটি বাসা থেকে আট বছরের শিশুর খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ফ্ল্যাটটিতে বসবাসকারী সোহেল রানা ও তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়।