বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ-এ দারুণ ছন্দে ঢুকেছে নোয়াখালী এক্সপ্রেস। আগের ম্যাচে রংপুর রাইডার্সকে হারিয়ে প্রথম জয়ের স্বাদ পাওয়া দলটি এবার ঢাকা ক্যাপিটালসকে ৪১ রানে পরাজিত করে জয়ের ধারা অব্যাহত রাখল। ম্যাচের মূল আকর্ষণ ছিলেন বাবা-ছেলের জুটি— হাসান ইসাখিল ও মোহাম্মদ নবি।
প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নোয়াখালী এক্সপ্রেস সংগ্রহ করে ১৮৪ রান। ওপেনিংয়ে ঝড়ো সূচনা এনে দেন হাসান ইসাখিল ও সৌম্য সরকার। ১০ ওভারেই দলীয় শতক স্পর্শ করে তারা। সৌম্য সরকার হাফসেঞ্চুরির আগেই ৪৮ রানে আউট হলেও একপ্রান্তে আগ্রাসন ধরে রাখেন ইসাখিল। তিনি ৬০ বলে ৯২ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন, যেখানে ছিল নিয়ন্ত্রিত ব্যাটিং ও সময়োপযোগী আক্রমণ।
মাঝপথে দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারালেও ইসাখিলের সঙ্গে চতুর্থ উইকেটে ৫৩ রানের কার্যকর জুটি গড়েন তার বাবা মোহাম্মদ নবি। নবি ১৭ রান করে ফিরলেও এই জুটি ইনিংসের ভিত গড়ে দেয়। শেষ দিকে বড় কোনো ইনিংস না এলেও নোয়াখালীর স্কোর দাঁড়ায় লড়াই করার মতো ১৮৪।
লক্ষ্য তাড়ায় নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় ঢাকা ক্যাপিটালস। মাত্র ১৯ রানের মধ্যেই টপ অর্ডারের চার ব্যাটারকে হারায় তারা। চতুর্থ ওভারে জোড়া আঘাত হানেন ইহসানউল্লাহ। পরে অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুন ও শামীম হোসেন পাটোয়ারি ৫৩ রানের জুটি গড়ে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করেন। শামীম ১৬ বলে ২৯ রান করে আউট হলে আবার ছন্দ হারায় ঢাকা। মিঠুনও ৩৩ রান করে বিদায় নেন।
শেষ দিকে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ২০ বলে ৩৪ রান করলেও ব্যবধান কমানো সম্ভব হয়নি। ঢাকার ইনিংস থামে ১৪৩ রানে।
নোয়াখালীর বোলিংয়ে দুটি করে উইকেট নেন ইহসানউল্লাহ, মেহেদী হাসান রানা, হাসান মাহমুদ ও মোহাম্মদ নবি। একটি উইকেট শিকার করেন আবু জায়েদ রাহি।
সব মিলিয়ে বাবা-ছেলের অনবদ্য পারফরম্যান্সেই নোয়াখালী এক্সপ্রেস তুলে নেয় টানা দ্বিতীয় জয়। এতে বিপিএলে দলের অবস্থান আরও শক্ত হলো।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
বাংলাদেশের ২০২৬-২৭ ফুটবল মৌসুম শুরু হওয়ার কথা আগামী সপ্তাহে বসুন্ধরা কিংস ও ঢাকা আবাহনীর ম্যাচ দিয়ে। তবে মৌসুম শুরুর আগে দেশের দুই শীর্ষ ক্লাবই এখনও ফিফার নিষেধাজ্ঞার মধ্যে রয়েছে। বর্তমানে বসুন্ধরা কিংসের বিরুদ্ধে ১৪টি এবং ঢাকা আবাহনীর বিরুদ্ধে একটি ফিফা নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) ক্লাব লাইসেন্সিংয়ের শেষ সময় ছিল ১১ আগস্ট। কিন্তু দুই ক্লাব নিষেধাজ্ঞামুক্ত না হওয়ায় ফেডারেশন সময়সীমা ১৭ আগস্ট পর্যন্ত বাড়িয়েছে। এ ছাড়া খেলোয়াড় নিবন্ধনের শেষ সময় ছিল ১৩ আগস্ট, যা বাড়িয়ে ১৯ আগস্ট করা হয়েছে। ঘরোয়া ফুটবলে অংশ নিতে হলে ক্লাব লাইসেন্সিং বাধ্যতামূলক। লাইসেন্স পেতে ক্লাবের বিরুদ্ধে ফুটবলারদের বকেয়া, আর্থিক জটিলতা বা ফিফার নিষেধাজ্ঞা থাকলে আবেদন সম্পন্ন করা যায় না। এ কারণেই আবাহনী ও কিংস এখন পর্যন্ত লাইসেন্সিংয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করতে পারেনি। দুই ক্লাবের অনিশ্চয়তার মধ্যে বাফুফে ঢাকা ওয়ান্ডারার্স, আরামবাগ ক্রীড়া সংঘ ও ফকিরেরপুল ইয়ংমেন্স ক্লাবকে লিগে খেলার সুযোগ দিয়েছে। তবে ফকিরেরপুল ইয়ংমেন্সের বিরুদ্ধেও দুটি ফিফা নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ক্লাবটি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের চেষ্টা চালালেও এখনো সফল হয়নি। অন্যদিকে ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ও আরামবাগ নতুন মৌসুম সামনে রেখে প্রিমিয়ার লিগের জন্য দল গঠনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
দুর্দান্ত এক গোলে পিএসজিকে এগিয়ে দেন খাভিচা কাভারাৎসখেলিয়া। তবে সেই ধাক্কা সামলে পাল্টা আক্রমণে ম্যাচে ফেরে অ্যাস্টন ভিলা। অভিষিক্ত টিনএজার ব্রায়ানের নৈপুণ্যে সমতায় ফেরে ইংলিশ ক্লাবটি। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে দেজিরে দুয়ের গোলে আবারও এগিয়ে যায় পিএসজি। শেষ পর্যন্ত সেই লিড ধরে রেখে উয়েফা সুপার কাপ নিজেদের কাছেই রাখল লুইস এনরিকের দল। অস্ট্রিয়ার রেড বুল অ্যারেনায় বুধবার (১২ আগস্ট) আগের মৌসুমের চ্যাম্পিয়নস লিগ ও ইউরোপা লিগ জয়ীর লড়াইয়ে ২-১ গোলে জিতেছে পিএসজি। গত মৌসুমে টটেনহ্যাম হটস্পারকে টাইব্রেকারে হারিয়ে প্রথম এ শিরোপা জিতেছিল পিএসজি। গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন ফুটবলারের দল ছেড়ে যাওয়া এবং বর্তমান স্কোয়াডে চোটের থাবায় জেরবার অবস্থা ভিলার। আরেকদিকে, প্রস্তুতির ঘাটতিতে মূল খেলোয়াড়দের অনেককে ছাড়া খেলতে নামে পিএসজি। তাতে খুব ভালো ফুটবল দেখার সম্ভাবনা ছিল কম। পিএসজি কোচ লুইস এনরিকেও ম্যাচের আগে দিয়েছিলেন তেমন বার্তা। তবে, মৌসুমের প্রথম শিরোপা লড়াইয়ে উত্তাপ ছড়াল বেশ, লড়াই হলো জমজমাট। মাঠে বল গড়ানোর পর, দ্রুত নিজেদের গুছিয়ে নিয়ে পজেশনে একচেটিয়া আধিপত্যের পাশাপাশি আক্রমণেও ছড়ি ঘোরাতে শুরু করে পিএসজি, এবং ২০তম মিনিটে দারুণ এক গোলে এগিয়ে যায় দলটি। সতীর্থের পাস ডি-বক্সে প্রথম ছোঁয়ায় নিয়ন্ত্রণে নিয়ে, দ্বিতীয় ছোঁয়ায় একজনকে কাটিয়ে, জোরাল শটে ঠিকানা খুঁজে নেন জর্জিয়ান উইঙ্গার কাভারাৎসখেলিয়া।কিছুক্ষণ পর দ্বিতীয় গোল পেতে পারতো পিএসজি। ডি-বক্সে বাঁ দিক থেকে মাঝে দারুণভাবে কাটব্যাক করেন নুনো মেন্দস, তার কয়েকজন সতীর্থ ছিলেন নিশ্চিত স্কোরিং পজিশনে; কিন্তু কেউই বলে পা ছোঁয়াতে পারেননি। দুই মিনিট পর পাল্টা আক্রমণে ভালো সুযোগ পায় ভিলা, ডান দিক থেকে সতীর্থের ক্রসে লাফিয়ে হেড করেন ৬ ফুট ৪ ইঞ্চি লম্বা ফরোয়ার্ড ব্রায়ান; কিন্তু বল চলে যায় পোস্টের বাইরে। ধীরে ধীরে পজেশন বাড়িয়ে আক্রমণে জোর দেয় ভিলা। মূলত ক্রসনির্ভর আক্রমণ করতে থাকে তারা, তাতে সুযোগও তৈরি হয় একের পর এক। বিরতির আগের কয়েক মিনিটে দারুণ দুটি সুযোগ পান ১৭ বছর বয়সী ব্রায়ান; এবার প্রথম দফায় বল যায় ক্রসবারের ওপর দিয়ে, খানিক পর তার কোনাকুনি শটও হয় লক্ষ্যভ্রষ্ট। অবশেষে ৪৫তম মিনিটে সফল হন তিনি। আরো একটি দারুণ ক্রস বাড়ান জন ম্যাকগিন এবং ছয় গজ বক্সের মুখ থেকে নিখুঁত শটে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন ব্রায়ান। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিল অ্যাস্টন ভিলা। ৫০তম মিনিটে ব্রায়ানের পাস পেয়ে ডি-বক্সে জোরাল শট নেন দলটির অধিনায়ক জন ম্যাকগিন। তবে ঝাঁপিয়ে পড়ে সেই চেষ্টা ব্যর্থ করে দেন পিএসজির গোলরক্ষক। এরপর ৬১তম মিনিটে চোখধাঁধানো এক পাল্টা আক্রমণে ফের এগিয়ে যায় পিএসজি। বিরতির পর বদলি হিসেবে নামা উসমান দেম্বেলের দারুণ পাস ধরে সবাইকে পেছনে ফেলে ডান দিক দিয়ে ডি-বক্সে ঢোকেন দেজিরে দুয়ে। এরপর কোনাকুনি শটে গোলরক্ষককে পরাস্ত করে দলের জয়সূচক গোলটি করেন ফরাসি এ উইঙ্গার। গোল শোধ দেওয়ার জন্য যথেষ্ট সময় পেয়েছিল ভিলা। তবে প্রথমার্ধের শেষ দিকে যেমন আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছিল, দ্বিতীয়বার আর তেমনভাবে ম্যাচে ফিরতে পারেনি তারা। এই জয়ে ২০২৩ সালে পিএসজির দায়িত্ব নেওয়ার পর এনরিকের ট্রফি সংখ্যা দাঁড়াল ১৩টিতে। এর মধ্যে রয়েছে টানা তিনটি লিগ ওয়ান এবং টানা দুটি চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা।
প্রায় দুই যুগ পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট সিরিজে নামছে বাংলাদেশ। দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টে আগামীকাল (বৃৃহস্পতিবার) দু’দল ডারউইনে মুখোমুখি হবে। এর আগে ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ড্রপ-ইন পিচে খেলার অভিজ্ঞতা হয়েছিল বাংলাদেশের। প্রথমবারের মতো তারা অস্ট্রেলিয়ার এই ভিন্ন ধাচের উইকেটে টেস্ট খেলতে নামবে। সিরিজ শুরুর আগেরদিন আজ (বুধবার) আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রফি উন্মোচিত হয়েছে। পরে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন টাইগার অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। ড্রপ-ইন উইকেটে খেলা প্রসঙ্গে শান্ত বলেন, ‘ড্রপ-ইন উইকেটে খেলার সুযোগ আমাদের হয়নি। তবে পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে আমাদের এই চ্যালেঞ্জগুলো মানিয়ে নিতে হবে। আর আমি যেমনটা বলেছি, প্রস্তুতি ভালো হয়েছে। আশা করি আমরা এই কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারব।’ ডারউইনের উইকেটে বোলার-ব্যাটারদের জন্য সুবিধা ও চ্যালেঞ্জ দুই–ই দেখছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক, ‘উইকেটে অবশ্যই ঘাস আছে। তবে আমার মনে হয় উইকেটটা ভালো হবে। এখানে বোলিং এবং ব্যাটিং, দুই বিভাগেই সাহায্য থাকবে। বোলাররা হয়তো একটু বেশি সুবিধা পেতে পারে। উইকেট দেখে ভালোই মনে হয়েছে। আমার মনে হয় ব্যাটিং-বোলিং দুই দিক থেকেই চ্যালেঞ্জ থাকবে। চেষ্টা করতে হবে দুই বিভাগেই ভালো করার।’ প্রস্তুতি ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে ৫৪ রানে অলআউট হয়েছিল বাংলাদেশ। তবে এখন সেই তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা ভাবছেন না শান্ত, ‘ওটা তো প্রস্তুতি ম্যাচ ছিল, এমন হতেই পারে। আমরা আগেভাগেই এসেছিলাম নিজেদের প্রস্তুত করার জন্য। আমার মনে হয় আমরা ভালো প্রস্তুতি নিতে পেরেছি। ভালো ক্রিকেট খেলতে পারব বলেই আশাবাদী।’ আগামীকাল ডারউইনে বাংলাদেশ সময় ভোর সাড়ে ৬টায় শুরু হবে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়ার প্রথম টেস্ট। দুই দল এখন পর্যন্ত ৬ বার মুখোমুখি হয়ে বাংলাদেশের জয় স্রেফ একটি। বাকি ৫টি টেস্টের মধ্যে অজিদের তিনটি জয়ই ইনিংস ব্যবধানে।