অস্ট্রেলিয়া ও ইন্দোনেশিয়া শুক্রবার একটি নিরাপত্তা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তি অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ ইন্দোনেশিয়ার ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা ও নতুন সামরিক প্রশিক্ষণ সুবিধা গড়ার পথ খোলার প্রতিশ্রুতি দেয়।
জাকার্তা থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ চুক্তি স্বাক্ষরের পর এক যৌথ বিবৃতিতে জানান, চুক্তি অনুযায়ী প্রতিরক্ষা উদ্যোগের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা বাহিনীতে একজন সিনিয়র ইন্দোনেশীয় কর্মকর্তাকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
তিনি আরও বলেন, অস্ট্রেলিয়া ইন্দোনেশিয়ার যৌথ মহড়ার সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য সামরিক প্রশিক্ষণ সুবিধা উন্নয়নে সহায়তা করবে।
ক্যানবেরা এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবিলায় নিজের সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করতে চায়।
অন্যদিকে, ইন্দোনেশিয়া তার পররাষ্ট্র নীতিতে বেশি সতর্কতা অবলম্বন করে। তারা চীনের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চায়, কারণ চীন তাদের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার।
আলবানিজ চুক্তিটিকে তার দেশের সম্পর্কের একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত বলে অভিহিত করেন।
তিনি আরও বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে বিশ্বের দীর্ঘতম সামুদ্রিক সীমান্তের একটি আছে, যা আমাদের স্বাভাবিকভাবে ঘনিষ্ঠ অংশীদার বানায়। কিন্তু আজ আমরা শুধু অংশীদার নই, আমরা ঘনিষ্ঠ বন্ধু।’
ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোভো সুবিয়ান্তো বলেন, নতুন চুক্তিটি ‘সু-প্রতিবেশী নীতির প্রতি দৃঢ় অঙ্গীকার’ এবং ইন্দোনেশিয়ার ‘স্বাধীন ও সক্রিয়’ পররাষ্ট্রনীতির প্রতিফলন।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, এই চুক্তি আমাদের অঞ্চলের স্থিতিশীলতা ও সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভের একটি হবে।’
আলবানিজ তার পঞ্চম সরকারি সফরে জাকার্তায় অবস্থান করছেন, যা শনিবার শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
তিনি চুক্তিটিকে তাদের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতার বড় সম্প্রসারণ হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং অস্ট্রেলিয়ায় ইন্দোনেশিয়ার ক্রমবর্ধমান বিনিয়োগের প্রশংসা করেছেন।
চুক্তিটি ২০২৪ সালের প্রতিরক্ষা চুক্তির ভিত্তিতে তৈরি, যা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। সেই চুক্তির কয়েক মাস পরে ইন্দোনেশিয়ার ও অস্ট্রেলিয়ার হাজার হাজার সেনা পূর্ব জাভায় যৌথ মহড়া পরিচালনা করেছিল।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা ও তাদের সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত করার প্রতিবাদে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কয়েকজন মার্কিন ইহুদি অধিকারকর্মীর ইসরায়েলে প্রবেশের অনুমতি বাতিল করা হয়েছে। শুক্রবার মার্কিন ইহুদি সংবাদমাধ্যম দ্য ফরওয়ার্ডের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন অধিকারকর্মী স্যাম শেরম্যান অধিকৃত পশ্চিম তীরের মাসাফের ইয়াত্তা এলাকায় সাত সপ্তাহের একটি স্বেচ্ছাসেবী কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছিলেন। সেখানে তিনি ফিলিস্তিনিদের সহায়তায় কাজ করছিলেন। ওই সময় ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তার ভ্রমণ অনুমতি বাতিলের একটি ই-মেইল পান তিনি। শেরম্যান জানান, একই সময়ে তার দলের আরও কয়েকজন কর্মীও একই ধরনের ই-মেইল পেয়েছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় ইসরায়েলি সেনা, পুলিশ ও সশস্ত্র বসতি স্থাপনকারীরা তার পাসপোর্টের ছবি তুলেছিলেন। তিনি বলেন, তারা মূলত স্থানীয় মানুষের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছিলেন এবং তাদের সহায়তা করছিলেন। কিন্তু তাদের সঙ্গে এমন আচরণ করা হয়েছে, যেন সেখানে উপস্থিত থাকাই প্রায় অপরাধ। শেরম্যান আরও জানান, অভিজ্ঞ কয়েকজন ইহুদি অধিকারকর্মী তাকে বলেছেন, স্থায়ীভাবে ইসরায়েলে অভিবাসন না করলে ভবিষ্যতে তাকে দেশটিতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া নাও হতে পারে। তবে মার্কিন ইহুদি কর্মীদের ভ্রমণ অনুমতি বাতিলের বিষয়ে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ কোনো কারণ প্রকাশ করেনি। এদিকে, ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের অভিযোগ, অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলা অব্যাহত রয়েছে। ফিলিস্তিনি সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে ফিলিস্তিনি নাগরিক ও তাদের সম্পত্তির বিরুদ্ধে ৩ হাজার ৪৮৮টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার মধ্যে ব্যক্তিদের ওপর হামলা, সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি, নতুন অবৈধ বসতি স্থাপনের ফাঁড়ি তৈরি এবং ফিলিস্তিনি কৃষকদের নিজ জমিতে প্রবেশে বাধা দেওয়ার মতো ঘটনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
টাইফুন ডলফিনের মধ্যে তাইওয়ান প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে চীনের দেওয়া নির্দেশের প্রতিবাদ জানিয়েছে তাইওয়ান। শনিবার তাইওয়ানের মেইনল্যান্ড অ্যাফেয়ার্স কাউন্সিল (এমএসি) বলেছে, তাইওয়ানের জলসীমায় চলাচল নিয়ন্ত্রণের কোনো অধিকার চীনের নেই। খবর শাফাক নিউজের। টাইফুনের প্রভাবে প্রণালিতে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হলে চীনের গুয়াংডং মেরিটাইম সেফটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন দক্ষিণ দিক থেকে প্রণালিতে প্রবেশকারী জাহাজগুলোকে নির্দিষ্ট নির্দেশনা মেনে চলতে বলে। তবে তাইওয়ান এই নির্দেশ প্রত্যাখ্যান করেছে। তাইওয়ানের এমএসি বলেছে, চীনের এ ধরনের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘের সমুদ্র আইনবিষয়ক কনভেনশনের নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাইওয়ানের কোস্ট গার্ডও বাণিজ্যিক ও পণ্যবাহী জাহাজগুলোকে চীনের সম্প্রচারিত নির্দেশ উপেক্ষা করতে বলেছে। কোনো ধরনের বাধা বা হস্তক্ষেপের মুখে পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে জানাতেও বলা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত জাহাজ চলাচলে অস্বাভাবিক কোনো পরিস্থিতি দেখা যায়নি বলে জানিয়েছে তাইওয়ান। টাইফুন ডলফিন এরই মধ্যে জাপানের ওকিনাওয়া এলাকায় আঘাত হেনেছে। এরপর এটি উত্তর-পশ্চিম দিকে চীনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। রোববার রাত থেকে সোমবার ভোরের মধ্যে টাইফুনটি চীনের উপকূলে আঘাত হানতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। টাইফুনের কারণে চীনের ঝেজিয়াং প্রদেশে সর্বোচ্চ মাত্রার উপকূলীয় সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বন্দরগুলোর কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে এবং ১৬২টি যাত্রীবাহী ফেরি চলাচল স্থগিত করা হয়েছে। প্রদেশটির কিছু এলাকায় ৬০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে সতর্ক করেছে আবহাওয়া বিভাগ। এদিকে টাইফুনে জাপানের ওকিনাওয়ায় পাঁচজন আহত হয়েছেন এবং প্রায় ১৪ হাজার ভবনে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। তাইওয়ানেও ৬৩টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
ওয়েব সিরিজের রোমহর্ষক অপরাধের গল্প এবার বাস্তবে রূপ নিলো খোদ ভারতের রাজধানী দিল্লিতে। সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত বিখ্যাত ক্রাইম সিরিজ ‘দ্য স্টেয়ারকেস’ দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে নিজের স্ত্রীকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছেন এক প্রকৌশলী। লোমহর্ষক এই হত্যাকাণ্ডের পর স্ত্রীর জমানো সব টাকাপয়সা ও মূল্যবান সামগ্রী লুট করে পালিয়ে যান ওই প্রযুক্তিবিদ। শুক্রবার (৭ আগস্ট) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিরিজটি দেখে একই কৌশল অনুসরণ করে দিল্লির এক সফটওয়্যার প্রকৌশলী দীর্ঘদিনের সম্পত্তি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে তার স্ত্রীকে হত্যা করেন। এরপর তিনি হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র লুকিয়ে ফেলেন এবং তদন্তকারীদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেন। গত ৩০ জুলাই অভিযুক্ত কমল সিং ও তার স্ত্রী কোমল সিং বাড়িতে একা থাকাকালে এ ঘটনা ঘটে। সে সময় তাদের ছেলে লাইব্রেরিতে এবং মেয়ে অফিসে ছিলেন। বাড়ির গৃহকর্মীও কাজ শেষ করে চলে গিয়েছিলেন। দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটের দিকে কোমল বারান্দায় কাপড় শুকাচ্ছিলেন। এ সময় কমল পেছন থেকে অস্ত্র দিয়ে তার মাথায় আঘাত করেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রথম আঘাতটি প্রাণঘাতী না হওয়ায় কোমল চিৎকার করে রান্নাঘরে গিয়ে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করেন। এরপর কমল তার চুল ধরে বসার ঘরে টেনে আনেন এবং কাঁচি দিয়ে বারবার আঘাত করেন। পুলিশ জানিয়েছে, ভুক্তভোগীর চিৎকার আশপাশের লোকজন শুনতে পেলেও কেউ হস্তক্ষেপ করেনি। কমলের বাবা এমনকি তার মাকেও গিয়ে খোঁজ নিতে বলেছিলেন। কিন্তু কমল তাকে তাদের ব্যাপারে নাক না গলানোর অনুরোধ করেন। স্ত্রীকে হত্যার পর কমল রক্তমাখা পোশাক ও হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র ব্যাগে ভরে প্রায় ১৫ মিনিট গোসল করেন। এরপর নিজের স্কুটারে করে পালিয়ে যান। যাওয়ার পথে একটি নির্জন স্থানে ব্যাগটি ফেলে দেন। এনডিটিভি জানিয়েছে, কমল তার স্ত্রীর ঘর থেকে আগে থেকেই নেওয়া নগদ ৫ লাখ রুপি ছাড়াও দুটি পৃথক ব্যাংক হিসাব থেকে প্রায় ৭ লাখ রুপি তুলে নেন। সব মিলিয়ে তার কাছে প্রায় ১২ লাখ ৭৫ হাজার রুপি ছিল। কমল নিখোঁজ থাকায় পুলিশ এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে। পাশাপাশি প্রযুক্তিগত নজরদারি ও ইলেকট্রনিক প্রমাণের মাধ্যমে তার অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা চালায়। প্রাথমিকভাবে কমল মোবাইল ফোন চালু রেখে গোরখপুরের দিকে রওনা দেন। এতে পুলিশ ধারণা করে, তিনি নেপালে পালিয়ে যেতে পারেন। তবে গোরখপুরে পৌঁছে তদন্তকারীদের বিভ্রান্ত করতে তিনি মোবাইল ফোন বন্ধ করে মথুরার দিকে রওনা দেন। তিন দিন ধরে ব্যাপক তল্লাশির পর দিল্লি পুলিশ মথুরা রেলস্টেশনের কাছ থেকে কমলকে গ্রেপ্তার করে। অভিযানে তার স্কুটার জব্দ করা হয়। পাশাপাশি তার কাছ থেকে নগদ অর্থও উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, কমল নেপালে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। গত এক বছর ধরে তাদের দাম্পত্য জীবনে চরম টানাপোড়েন চলছিল। মুম্বাই সফরের সময় কমল অন্য এক নারীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হয়ে পড়েছিলেন। এতে তাদের দাম্পত্য সম্পর্কে আরও অবনতি ঘটে। তারা একই বাড়িতে থাকলেও বিদ্যুতের বিল আলাদাভাবে পরিশোধ করতেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কমল জগৎপুরীতে একটি জমি কিনতে চেয়েছিলেন। তিনি জমিটি তার বাবার নামে নিবন্ধন করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু কোমল সেখানে নিজের অংশ দাবি করায় তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। সম্পত্তি-সংক্রান্ত এই বিরোধের জেরেই হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।