বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালীর ওপর নির্ভরতা কমাতে বড় অগ্রগতি অর্জন করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটির পশ্চিম উপকূল থেকে পূর্ব উপকূল পর্যন্ত নির্মাণাধীন নতুন কৌশলগত তেল পাইপলাইন প্রকল্পের প্রায় ৫০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে।
এখন দেশটি জ্বালানি রপ্তানি নিরাপত্তা আরও জোরদার করার পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে চলেছে। হরমুজ প্রণালী এড়িয়ে সরাসরি ওমান উপসাগরে তেল পৌঁছাতেই এই প্রচেষ্টা দেশটির।
আমিরাতের শিল্প ও উন্নত প্রযুক্তিমন্ত্রী এবং আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানির (এডিএনওসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. সুলতান আহমেদ আল জাবের জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ের আগেই প্রকল্পটির কাজ শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে নির্মাণকাজ আরও ত্বরান্বিত করা হয়েছে। গতকাল বুধবার আটলান্টিক কাউন্সিল আয়োজিত এক লাইভস্ট্রিম অনুষ্ঠানে তিনি এ তথ্য জানান।
আল জাবের বলেন, ‘ইতোমধ্যে প্রকল্পের প্রায় ৫০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ২০২৭ সালের নির্ধারিত সময়সীমার আগেই এটি চালু করতে আমরা দ্রুতগতিতে কাজ করছি।’
হরমুজ প্রণালীর ওপর নির্ভরতা কমানোর জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি ও নিরাপত্তা কৌশলের অংশ হিসেবে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্স ও এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলের চেয়ারম্যান শেখ খালেদ বিন মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের নির্দেশনার পর কাজের গতি আরও বাড়ানো হয়। সম্প্রতি এডিএনওসি বোর্ডের নির্বাহী কমিটির এক বৈঠকেও দ্রুত কাজ শেষ করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
আল জাবের বলেন, ‘বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের বড় একটি অংশ এখনও অল্প কয়েকটি সংকীর্ণ সামুদ্রিক রুট বা চোকপয়েন্টের ওপর নির্ভরশীল। এ কারণেই এক দশকেরও বেশি সময় আগে সংযুক্ত আরব আমিরাত হরমুজ প্রণালী এড়িয়ে বিকল্প অবকাঠামো গড়ে তোলার দূরদর্শী সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।’
নতুন পাইপলাইনটি ওমান উপসাগরীয় উপকূলের ফুজাইরাহ বন্দরের সঙ্গে সংযুক্ত হবে। ২০২৭ সালে প্রকল্পটির কাজ শেষ হলে ফুজাইরাহর মাধ্যমে এডিএনওসি-র তেল রপ্তানি সক্ষমতা বর্তমানের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হবে।
বর্তমানে ‘হাবশান-ফুজাইরাহ পাইপলাইন’ নামে পরিচিত বিদ্যমান আবুধাবি ক্রুড অয়েল পাইপলাইনের মাধ্যমে দৈনিক সর্বোচ্চ ১৮ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন করা সম্ভব হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থির পরিস্থিতিতে এই বিকল্প রুটের কৌশলগত গুরুত্ব আরও বেড়েছে।
সূত্র: গালফ নিউজ
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
গত তিন দশকে দক্ষিণ এশিয়ায় চরম দারিদ্র্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ১৯৯০ সালে এ অঞ্চলের প্রায় অর্ধেক মানুষ চরম দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাস করলেও ২০২৬ সালে সেই হার নেমে এসেছে ২ শতাংশে। তবে আয়ের দারিদ্র্য কমলেও শিক্ষা, স্যানিটেশন ও মৌলিক সেবার ঘাটতি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে। বিশ্বব্যাংকের পভার্টি, প্রস্পারিটি অ্যান্ড প্ল্যানেট রিপোর্ট ২০২৬-এ উঠে এসেছে এসব তথ্য। প্রতিবেদনে বিশ্বজুড়ে দারিদ্র্য দূরীকরণে কর্মসংস্থানকে গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষা, সামাজিক সুরক্ষা ও জলবায়ু সহনশীলতা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বিশ্বজুড়ে থমকে আছে চরম দারিদ্র্য হ্রাসের গতি বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বিশ্বে আনুমানিক ৮১ কোটি ১০ লাখ মানুষ দৈনিক ৩ ডলারের কম আয়ে জীবনযাপন করছেন। ২০২১ সালের ক্রয়ক্ষমতা সমতা অনুযায়ী নির্ধারিত এ দারিদ্র্যসীমার নিচে রয়েছেন বিশ্বের প্রতি ১০ জনে প্রায় একজন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালের পর বিশ্বব্যাপী চরম দারিদ্র্যের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেনি। অথচ ২০০০ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে দারিদ্র্য কমার যে গতি ছিল, তা অব্যাহত থাকলে আরও ২৪ কোটি ৩০ লাখ মানুষ দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসতে পারতেন। তিন দশকে দক্ষিণ এশিয়ায় বড় পরিবর্তন বিশ্বের সামগ্রিক চিত্রের বিপরীতে দক্ষিণ এশিয়ায় চরম দারিদ্র্য হ্রাসে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। ১৯৯০ সালে এ অঞ্চলে চরম দরিদ্র মানুষের সংখ্যা ছিল ৫০ কোটি ৩০ লাখ। ২০২৬ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯০ লাখে। একই সময়ে বিশ্বের মোট চরম দরিদ্র মানুষের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার অংশ ২২ শতাংশ থেকে কমে ৪ শতাংশে নেমেছে। তবে ২০২৫ ও ২০২৬ সালের পরিসংখ্যান বিশ্বব্যাংকের অনুমানভিত্তিক। কিন্তু উচ্চতর দারিদ্র্যসীমা বিবেচনায় নিলে পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক। উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশগুলোর জন্য নির্ধারিত দৈনিক ৮ ডলার ৩০ সেন্টের নিচে আয় করেন দক্ষিণ এশিয়ার ৭১ শতাংশ মানুষ। সংখ্যার হিসাবে এ অঞ্চলে এমন মানুষের সংখ্যা ১২১ কোটি ৯০ লাখ। এ ছাড়া দৈনিক ৪ ডলার ২০ সেন্টের কম আয় করেন প্রায় ১৮ কোটি ৩০ লাখ মানুষ, যা দক্ষিণ এশিয়ার মোট জনসংখ্যার প্রায় ১১ শতাংশ। অর্থাৎ, বিপুলসংখ্যক মানুষ চরম দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে এলেও এখনো অর্থনৈতিকভাবে নিরাপদ অবস্থানে পৌঁছাতে পারেননি। আয় বা কর্মসংস্থানে সামান্য ধাক্কা এলেও তাঁদের আবার দারিদ্র্যে ফিরে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বাংলাদেশের দারিদ্র্য পরিস্থিতি বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বাংলাদেশের জন্য আলাদা বিশ্লেষণ সীমিত হলেও ২০২৪ সালের কিছু পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রায় ৩ কোটি মানুষ দৈনিক ৪ ডলার ২০ সেন্টের কম আয় করেন। এ শ্রেণির বিশ্বের মোট দরিদ্র মানুষের মধ্যে বাংলাদেশের অংশ প্রায় ২ শতাংশ। অন্যদিকে, দৈনিক ৮ ডলার ৩০ সেন্টের কম আয় করেন দেশের প্রায় ১১ কোটি ৯০ লাখ মানুষ। এ শ্রেণির বিশ্বব্যাপী জনসংখ্যার মধ্যে বাংলাদেশের অংশ ৩ দশমিক ২ শতাংশ। প্রতিবেদনে ‘সমৃদ্ধি ঘাটতি’ নামে একটি সূচকও ব্যবহার করা হয়েছে। দৈনিক ২৮ ডলারের আয়মানদণ্ডে পৌঁছাতে মানুষের আয় গড়ে কত গুণ বাড়তে হবে, তা এই সূচকের মাধ্যমে বোঝানো হয়। বিশ্বব্যাপী এ ঘাটক ১৯৯০ সালের ১০ দশমিক ৫ থেকে কমে ২০২৬ সালে ৪ দশমিক ৫-এ নেমেছে। তবে বৈশ্বিক সমৃদ্ধি ঘাটতিতে বাংলাদেশের অংশ ১৯৯০ সালের ২ দশমিক ১ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৬ সালে ২ দশমিক ৩ শতাংশ হয়েছে। শিক্ষার ঘাটতি দারিদ্র্য কমানোর পথে বাধা বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে শিক্ষা ও দারিদ্র্যের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তুলে ধরা হয়েছে। ২০২৪ সালের বৈশ্বিক হিসাবে, আনুষ্ঠানিক শিক্ষা পাননি এমন মানুষের মধ্যে চরম দারিদ্র্যের হার ২২ শতাংশ। মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত পড়াশোনা করা মানুষের মধ্যে এ হার ৬ শতাংশ এবং উচ্চশিক্ষিতদের মধ্যে মাত্র ১ শতাংশ। ২০১৩ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে শিক্ষাবঞ্চিত মানুষের দারিদ্র্য কমার প্রায় পুরো অগ্রগতিই হয়েছে বাংলাদেশ, চীন, ভারত, ইন্দোনেশিয়া ও পাকিস্তানে। এর মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশ অবদান ভারতের। প্রতিবেদনের একটি সিমুলেশন অনুযায়ী, দরিদ্র শ্রমিকদের শিক্ষার স্তর যদি দরিদ্র নন এমন শ্রমিকদের গড় স্তরে উন্নীত করা যায়, তাহলে বিশ্বব্যাপী চরম দারিদ্র্য প্রায় অর্ধেক কমানো সম্ভব। এ ছাড়া বহুমাত্রিক দারিদ্র্য নিরূপণে শুধু আয় নয়, শিক্ষা, বিদ্যুৎ, স্যানিটেশন ও নিরাপদ পানির মতো মৌলিক সেবাও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। ১০৩টি অর্থনীতির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ১৬ দশমিক ৭ শতাংশ মানুষ বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের মধ্যে রয়েছেন। অথচ শুধু আয়ের ভিত্তিতে হিসাব করলে এ হার ১১ দশমিক ৩ শতাংশ। দক্ষিণ এশিয়া ও সাব-সাহারান আফ্রিকায় এই দুই হিসাবের ব্যবধান সবচেয়ে বেশি। ২০২৩ সালের কাছাকাছি সময়ের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়ায় বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের হার ১৬ দশমিক ৪ শতাংশ, যেখানে চরম আয়দারিদ্র্যের হার ৫ দশমিক ৩ শতাংশ। শিক্ষা ও স্যানিটেশনের ঘাটতি এ ব্যবধানের অন্যতম প্রধান কারণ। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে দক্ষিণ এশিয়া দারিদ্র্যের পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিও দক্ষিণ এশিয়ার জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ অঞ্চলের ৮৮ শতাংশ মানুষ জীবদ্দশায় অন্তত একবার ক্ষতিকর জলবায়ুজনিত ঘটনার মুখোমুখি হতে পারেন। বিশ্বের সব অঞ্চলের মধ্যে এ হার সর্বোচ্চ। দক্ষিণ এশিয়ার প্রতি পাঁচজনের চারজন তাপজনিত ঝুঁকিতে রয়েছেন। অন্যদিকে, প্রতি ১০ জনে একজনের বেশি বন্যার ঝুঁকিতে আছেন। পানিসংকটও এ অঞ্চলের অন্যতম প্রধান সমস্যা। তবে ইতিবাচক দিক হলো, জলবায়ুজনিত ঝুঁকিতে থাকা এবং একই সঙ্গে সেই ঝুঁকি মোকাবিলায় অক্ষম মানুষের অনুপাত ২০১০ সালের পর কমে ২০ শতাংশের নিচে নেমেছে। বিশ্বব্যাংকের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এর অর্থ এই নয় যে জলবায়ুজনিত বিপদ কমেছে; বরং মানুষের ঝুঁকি মোকাবিলার সক্ষমতা কিছুটা বেড়েছে। এদিকে, দক্ষিণ এশিয়ায় অপুষ্টিতে ভোগা মানুষের হার ২০০৪-০৬ সালের ১৯ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে কমে ২০২৩-২৫ সালে ১০ দশমিক ৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এতে অপুষ্টিতে ভোগা মানুষের সংখ্যা প্রায় ১০ কোটি কমেছে। তারপরও বৃষ্টিনির্ভর কৃষি, ক্ষুদ্র কৃষকের আয় এবং খাদ্যনিরাপত্তা খরা, বন্যা ও তাপপ্রবাহের কারণে বড় ধরনের ঝুঁকিতে রয়েছে। কর্মসংস্থান থাকলেও আয় কম, কাজের মানও উদ্বেগজনক বিশ্বব্যাংকের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, দারিদ্র্যের মধ্যে থাকা মানুষেরা যে কাজ করেন না, বিষয়টি এমন নয়। দরিদ্র পরিবারের কর্মক্ষম প্রাপ্তবয়স্কদের কর্মসংস্থানের হার দরিদ্র নয় এমন পরিবারের তুলনায় মাত্র ৬ শতাংশ পয়েন্ট কম। তবে দরিদ্র শ্রমিকেরা সপ্তাহে গড়ে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা কম কাজ করেন। তাঁদের আয়ের ওপর নির্ভরশীল মানুষের সংখ্যাও তুলনামূলকভাবে তিন গুণ বেশি। চরম দরিদ্র শ্রমিকদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ কৃষিকাজে নিয়োজিত। ২০০৩ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ১৩৮টি অর্থনীতির মধ্যে ৮৮টিতে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান কমেছে। প্রতিবেদনের মতে, দারিদ্র্যের মূল সমস্যা শুধু বেকারত্ব নয়; বরং কাজের সুযোগ, কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণ, উৎপাদনশীলতা ও মজুরির মানও গুরুত্বপূর্ণ। নারীর কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও দক্ষিণ এশিয়ায় উল্লেখযোগ্য বাধা রয়েছে। শিশুযত্নের সুযোগের অভাব, নিরাপদ ও সাশ্রয়ী পরিবহনের সীমাবদ্ধতা এবং নারীর ভূমিকা নিয়ে সামাজিক ধারণা তাঁদের শ্রমবাজারে অংশগ্রহণকে বাধাগ্রস্ত করছে। দারিদ্র্য কমাতে কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়নে জোর বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে দারিদ্র্য কমানোর সম্ভাব্য কিছু পথও তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনের মডেলভিত্তিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, দরিদ্র পরিবারে কর্মসংস্থানের হার ৭৫ শতাংশে উন্নীত করা গেলে চরম দারিদ্র্য প্রায় এক-পঞ্চমাংশ কমানো সম্ভব। একইভাবে, কৃষির বাইরে অন্যান্য খাতের মজুরিভিত্তিক কাজে যুক্ত হওয়ার সুযোগ বাড়লে চরম দারিদ্র্য এক-চতুর্থাংশ থেকে এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত কমতে পারে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, নতুন কর্মসংস্থান দারিদ্র্যসীমার কাছাকাছি থাকা মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করতে পারে। এ জনগোষ্ঠীর মধ্যে কর্মহীন প্রাপ্তবয়স্ক নারীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। সামগ্রিকভাবে, বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে দক্ষিণ এশিয়ায় চরম দারিদ্র্য হ্রাসের অগ্রগতির পাশাপাশি শিক্ষা, মৌলিক সেবা, মানসম্মত কর্মসংস্থান ও জলবায়ু সহনশীলতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে। টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে শুধু আয় বাড়ানো নয়, মানুষের জীবনযাত্রার সামগ্রিক মান উন্নয়নের ওপরও গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
মেক্সিকোর জালিস্কো অঙ্গরাজ্যের চ্যাপালা হ্রদের তীরে অবস্থিত একটি এলাকা, যা আমেরিকান অবসরপ্রাপ্তদের জন্য দেশটির অন্যতম জনপ্রিয় একটি কমিউনিটি। এখানকার হ্রদ তীরবর্তী আজিজিক শহরে ৮ থেকে ১০ হাজার বিদেশি বসবাস করেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে মার্কিন রাজনীতি এখন তাদের দৈনন্দিন কথাবার্তার একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে। জেমস বার্নস তেমনই একজন অবসরপ্রাপ্ত প্রবাসী। ছয় বছর আগে তিনি অ্যারিজোনা ছেড়ে এখানকার মানুষের উষ্ণ আতিথেয়তায় মুগ্ধ হয়ে এই কমিউনিটিতে স্থায়ী হন। তিনি জানান, এখানে বসবাসকারী অনেক আমেরিকানই ইতিমধ্যে ডাকযোগে তাদের ভোট দিয়েছেন। দূরে থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন ও রাজনীতি নিয়ে তাদের ভাবনার শেষ নেই। আগামী ৩ নভেম্বর মার্কিন কংগ্রেসের হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের ৪৩৫টি আসনের সবকটিতে এবং সিনেটের ১০০টি আসনের মধ্যে ৩৫টি আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যা ওয়াশিংটনের ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে দিতে পারে। তবে কে জিতল বা হারল—তার চেয়েও বার্নসকে বেশি ভাবিয়ে তুলছে নির্বাচনের পরবর্তী পরিস্থিতি। তার চোখে নিজ দেশ এখন ক্রমশ চরম মেরূকরণের দিকে ধাবিত হচ্ছে। তিনি সিএনএন-কে বলেন, ‘এরপর কী হবে? আমরা দেখেছি কীভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পরিস্থিতি দিন দিন খারাপের দিকে গেছে। সত্যি বলতে, আমরা আশঙ্কা করছি যে সেখানে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়তে পারে, পাশাপাশি আমাদের পরিবার ও বন্ধুদের নিরাপত্তা নিয়েও আমরা উদ্বিগ্ন।’ মেক্সিকোতে বসে হাজার হাজার আমেরিকান দেশের রাজনীতির মূল বিষয়গুলোর ওপর গভীর নজর রাখছেন। যার মধ্যে রয়েছে বাণিজ্য ও শুল্ক নীতি এবং সেই সঙ্গে মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট-এর অভিবাসন সংক্রান্ত কড়াকড়ি ও বিভিন্ন অভিযান। এই বিষয়গুলো দেশে এবং বিদেশে থাকা সব বয়সী আমেরিকানদের মধ্যে এক ধরনের বিভাজন তৈরি করেছে। মেক্সিকো সিটিতে বসবাসকারী ৪৫ বছর বয়সী স্যামুয়েল ম্যাকক্রি তার দেশকে গ্রাস করতে থাকা এই রাজনৈতিক উত্তেজনা বেশ উদ্বেগের সঙ্গেই দেখছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে রক্ষা করা এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তিনি সিএনএন-কে বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে আমরা আমাদের গণতন্ত্রকে খুব সহজলভ্য বা চিরস্থায়ী কিছু একটা মনে করে এসেছি। এ কারণেই আমি বিশ্বাস করি যে এখন, আগের চেয়েও বেশি করে, আমাদের এটিকে সমর্থন ও রক্ষা করা উচিত।’ দুই বছর আগে ইউটাহ-এর সল্টলেক সিটি ছেড়ে এসে মেক্সিকোর রাজধানীতে স্থায়ী হন ম্যাকক্রি। তিনি একটি রাজনৈতিকভাবে সচেতন পরিবারে বড় হয়েছেন। তার মা পেগ ‘লিগ অব উইমেন ভোটারস’ নামের একটি নির্দলীয় নাগরিক সংগঠনের সদস্য। ১৯২০ সালে, ঠিক যে বছর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নারীদের ভোটাধিকারের স্বীকৃতি দিয়ে সংবিধান সংশোধন করেছিল, সে বছরঈ সংগঠনটি গড়ে ওঠে। পারিবারিক এই প্রভাবই ম্যাকক্রির চিন্তাভাবনাকে গড়ে তুলেছে, যিনি মনে করেন প্রবাসে থেকেও নিজের দেশের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তগুলোতে অংশ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। আজিজিক-এ ফিরে গিয়ে বার্নস বলেন যে, তার মতো বেশিরভাগ প্রবাসী ভোট দেওয়াকে অগ্রাধিকার দিলেও মেক্সিকো থেকে ভোট দেওয়া বেশ জটিল হতে পারে। ভোটারদের এমন কিছু নিয়মকানুন মেনে চলতে হয় যা তারা যুক্তরাষ্ট্রের কোন অঙ্গরাজ্যে নিবন্ধিত, তার ওপর ভিত্তি করে ভিন্ন হয়। এই কারণেই ‘ভোট ফ্রম অ্যাব্রোড’-এর মতো সংস্থাগুলো এই অঞ্চলের আমেরিকানদের তাদের নিবন্ধন হালনাগাদ করতে, ব্যালটের আবেদন জানাতে এবং সেগুলো সঠিকভাবে ফেরত পাঠানোর প্রয়োজনীয় নিয়মগুলো বুঝতে সাহায্য করেছে। বার্নস বলেন, ‘আমাদের ভোটার নিবন্ধন হালনাগাদ আছে কিনা তা নিশ্চিত করতে তারা আমাদের সাহায্য করেছে। কীভাবে আমাদের ব্যালট পেতে হবে এবং প্রতিটি রাজ্যের ছোট ও অদ্ভুত নির্বাচনী নিয়মগুলো মেনে চলার জন্য আমাদের কী করতে হবে তা তারা বুঝিয়ে দিয়েছে, যাতে আমাদের ভোটগুলো গণনা করা হয়।’ তবে দূর থেকে বা প্রবাস থেকে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে আরেকটি বড় বাধা হলো ডাক পরিষেবা। মেক্সিকো সিটিতে বসবাসকারী ম্যাকক্রি বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কোনো পার্সেল পাঠানো বেশ ব্যয়বহুল এবং কঠিন হতে পারে, যার আংশিক কারণ হলো মেক্সিকোর ডাক পরিষেবা কিছুটা নির্ভরযোগ্যতাহীন। সম্ভাব্য বিলম্ব এড়াতে ম্যাকক্রি তার ব্যালটটি মেক্সিকোতে তার কাছে বেড়াতে আসা এক বন্ধুর হাতে তুলে দিয়েছিলেন, যাতে তিনি সেটি যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে গিয়ে ডাকবাক্সে ফেলে দিতে পারেন। তিনি সিএনএন-কে বলেন, ‘আমি সত্যিই নিশ্চিত হতে চেয়েছিলাম যেন আমার ব্যালটটি সময়মতো পৌঁছায় এবং আমার ভোটটি গণনা করা হয়। আর একজন আমেরিকান হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়া অব্যাহত রাখা আমার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’ এই ধরনের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও, দেশের বাইরে বসবাসকারী আমেরিকানদের মধ্যে ভোটার উপস্থিতির হার ঐতিহাসিকভাবে বেশ কম থাকে, বিশেষ করে মধ্যবর্তী নির্বাচনগুলোতে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের ‘ফেডারেল ভোটিং অ্যাসিস্ট্যান্স প্রোগ্রাম’-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে মেক্সিকোতে প্রায় ৯১ হাজার মার্কিন ভোটার ছিলেন। কিন্তু সে বছর মধ্যবর্তী নির্বাচনে যোগ্য ভোটারদের মধ্যে মাত্র ৩.১ শতাংশ ভোট দিয়েছিলেন। লজিস্টিক বা প্রাতিষ্ঠানিক জটিলতার সঙ্গে এবার যোগ হয়েছে একটি আইনি বিতর্ক, যা বিদেশ থেকে ভোট দেওয়ার নিয়মের ক্ষেত্রে নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন নাগরিকদের বিদেশ থেকে ভোট দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত ফেডারেল ফর্মের একটি অংশ পরিবর্তন করেছে। তারা এমন একটি বিকল্প বা অপশন বাদ দিয়েছে যার মাধ্যমে প্রবাসীরা নিজেদের এমন মার্কিন নাগরিক হিসেবে চিহ্নিত করতে পারতেন, যারা কখনো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করেননি। এই বিভাগে মূলত সেইসব ব্যক্তিরা পড়েন যারা মার্কিন নাগরিকদের সন্তান হিসেবে বিদেশে জন্মগ্রহণ করেছেন এবং নির্দিষ্ট কিছু রাজ্যের আইন অনুযায়ী যাদের ভোট দেওয়ার অধিকার থাকতে পারে। ডেমোক্র্যাটিক ন্যাশনাল কমিটি এই পরিবর্তনের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা দপ্তর এবং ‘অফিস অব ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড বাজেট’-এর বিরুদ্ধে একটি মামলা করেছে। তাদের যুক্তি হলো, এই পরিবর্তনের ফলে ভোটারদের জন্য নিবন্ধন করা এবং ব্যালটের আবেদন জানানো আরো কঠিন হয়ে উঠতে পারে। যদিও এই বিতর্কটি একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর ভোটারদের প্রভাবিত করছে, তবে এটি ভোট দেওয়ার সুযোগ এবং নির্বাচনী নিয়মকানুন নিয়ে তৈরি হওয়া এক বৃহত্তর বিতর্কের মধ্যেই উন্মোচিত হচ্ছে। এই বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত ব্র্যাডলি নার্ডুজি, যিনি গত দুই দশক ধরে মেক্সিকো থেকে ভোট দিয়ে আসছেন। তিনি বলেন যে, এই ভোটদান প্রক্রিয়া নিয়ে এর আগে তিনি কখনো এত অনিশ্চয়তা অনুভব করেননি। নার্ডুজি সতর্ক করে বলেন, ‘এমন পরিস্থিতি আগে কখনো হয়নি যেখানে আপনার নিজের ভোট নিয়ে আপনাকে দুশ্চিন্তা করতে হবে। আমি এখন ৫০-এর কোঠায়। আমার জীবনে এই প্রথমবার আমি আমার ভোট নিয়ে চিন্তিত। এটি বেশ আশঙ্কাজনক।’ রাজনৈতিক মেরূকরণ, নির্বাচনী নিয়মকানুন নিয়ে প্রশ্ন এবং নির্বাচনের সততা সংক্রান্ত বিতর্ক মার্কিন ভোটারদের কিছু অংশের মধ্যে অবিশ্বাস তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে। যদিও নার্ডুজি বলেন যে তিনি এখনও তার দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থার ওপর আস্থা রাখেন। তবে তিনি স্বীকার করেন যে সবাই এই একই আত্মবিশ্বাস পোষণ করেন না। একজন ভিজ্যুয়াল আর্টিস্ট বা দৃশ্যশিল্পী হিসেবে নার্ডুজি প্রায়শই টেক্সাসে যাতায়াত করেন। সেখানে তিনি লক্ষ্য করেছেন যে মানুষ এখন নিজেদের মতামত প্রকাশের ক্ষেত্রেও অনেক বেশি সতর্ক হয়ে উঠছে। তিনি উদ্বেগের সঙ্গে বলেন, ‘তবে এটি আশঙ্কাজনক। অনেকেই লক্ষ্য করছেন কী ঘটছে। তারা কী করছেন, কী বলছেন এবং কী লিখছেন—সে বিষয়ে তারা অত্যন্ত সতর্ক।’ নার্ডুজির মতে, অভিবাসন হলো আরেকটি বিষয় যা এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরিতে অবদান রেখেছে। পুশ-ব্যাক, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং অভিবাসন কর্তৃপক্ষের ভূমিকা মার্কিন রাজনৈতিক বিতর্কের একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে এবং এটি এখন মানুষের ব্যক্তিগত কথাবার্তাতেও ছড়িয়ে পড়ছে। নার্ডুজি বলেন, ‘আমাদের একটি বড় অভিবাসন সমস্যা রয়েছে। তাই এটিও উদ্বেগের একটি কারণ। এবং হ্যাঁ, আমি মনে করি আমরা সবাই জানি যে আমরা একটি উত্তেজনাপূর্ণ সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। আমরা এক অস্থির সময়ে বাস করছি।’ সূত্র : সিএনএন
বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিপ্টোকারেন্সি বিনিময় প্ল্যাটফর্ম বাইন্যান্স থেকে রেকর্ড ৬৩০ কোটি ডলারের ভার্চ্যুয়াল সম্পদ চুরির ঘটনায় উত্তর কোরিয়াকে দায়ী করেছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই। সংস্থাটির দাবি, উত্তর কোরিয়ার হ্যাকাররা চুরি করা সম্পদের বেশির ভাগই ইথেরিয়াম ক্রিপ্টোকারেন্সিতে রূপান্তর করে অর্থ পাচার করছে। এদিকে চুরি হওয়া অর্থের ৯০ শতাংশ কোম্পানির নিজস্ব তহবিল থেকে পুনরায় কিনে গ্রাহকদের ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়ার কথা জানিয়েছে বাইন্যান্স। শনিবার (৩১ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে এফবিআই জানায়, উত্তর কোরিয়ার সাইবার অপরাধীরা চুরি করা সম্পদ বিভিন্ন মাধ্যমে পাচার করছে। এ ঘটনায় ‘ট্রেডারট্রেইটর’ নামে একটি গোষ্ঠীকে দায়ী করেছে সংস্থাটি। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে ক্রিপ্টো প্ল্যাটফর্ম বাইবিট থেকে ১৫০ কোটি ডলারের সম্পদ চুরির অভিযোগও ছিল একই গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে। এফবিআইয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, চুরি করা সম্পদ ধাপে ধাপে আরও পাচার করা হতে পারে। এ কারণে সাম্প্রতিক অর্থ পাচার কার্যক্রমে ব্যবহৃত লেনদেনগুলো বন্ধ করতে ভার্চ্যুয়াল সম্পদসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। পাশাপাশি সন্দেহভাজন ডিজিটাল ঠিকানাগুলোও প্রকাশ করেছে, যাতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো সেগুলো শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে। অন্যদিকে শনিবার দেওয়া পৃথক এক বিবৃতিতে বাইন্যান্স জানিয়েছে, চুরি হওয়া সম্পদের ৯০ শতাংশের সমপরিমাণ নতুন টোকেন কোম্পানির নিজস্ব অর্থ দিয়ে কিনে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। বাকি ১০ শতাংশ তুলনামূলক কম তারল্যসম্পন্ন টোকেনের। ফলে সেগুলো কিনতে আরও সময় লাগতে পারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে বাইন্যান্স বলেছে, ‘সব টোকেনের ক্ষেত্রে প্রতিস্থাপিত সম্পদের পরিমাণ ১০০ শতাংশে না পৌঁছানো পর্যন্ত আমরা অবশিষ্ট টোকেন সম্পদ কেনা অব্যাহত রাখব। চুরি হওয়া এসব তহবিলের আর্থিক ক্ষতি বিন্যান্স বহন করবে, গ্রাহকেরা নয়।’ চুরি হওয়া টোকেন পুনরায় কেনার অর্থ এসেছে গ্রাহকদের সুরক্ষায় বাইন্যান্সের রাখা এক বিলিয়ন ডলারের ‘সিকিউর অ্যাসেট ফান্ড ফর ইউজারস’ (সাফু) থেকে। নিরাপত্তা লঙ্ঘনের ঘটনায় গ্রাহকদের সুরক্ষা দিতে এ তহবিল গঠন করা হয়েছে। এতে থাকা বিটকয়েন রিজার্ভের পাশাপাশি কোম্পানির ফিউচার্স ইনস্যুরেন্স ফান্ড এবং করপোরেট কোষাগার থেকেও অর্থ ব্যবহার করা হয়েছে। বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ পরিচালনাকারী বাইন্যান্স গ্রাহকদের অর্থ নিরাপদ থাকার আশ্বাস দেওয়ার চেষ্টা করার মধ্যেই শুক্রবার ক্রিপ্টোকারেন্সির বাজারে দরপতন ঘটে। বিন্যান্সের সহপ্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রিচার্ড টেং শুক্রবার জানান, এটি ছিল একটি ‘জটিল সাইবার হামলা’। এতে একটি ল্যাপটপের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেওয়া হয়েছিল এবং হামলার কার্যক্রমের প্রমাণ মুছে ফেলার জন্য ক্ষতিকর সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয়। ফলে হামলার উৎস শনাক্ত করা ও তদন্ত পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়ে। হামলার পর গ্রাহকদের অর্থ উত্তোলনের সুযোগ বন্ধ করে দেয় বাইন্যান্স। তবে শনিবার পরে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, রোববার (১ নভেম্বর) থেকে আবার অর্থ উত্তোলনের কার্যক্রম চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। এ ছাড়া গ্রাহকদের সম্পদের বিপরীতে পর্যাপ্ত রিজার্ভ রয়েছে কি না, তা যাচাইয়ের সুযোগ দিতে নতুন ‘প্রুফ অব রিজার্ভস’ প্রতিবেদন প্রকাশের ঘোষণা দিয়েছে বাইন্যান্স। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা নিজেরাই যাচাই করতে পারবেন, তাদের জমা রাখা সম্পদের বিপরীতে কোম্পানির কাছে অন্তত সমপরিমাণ সম্পদ রয়েছে কি না। সূত্র: আল জাজিরা