আন্তর্জাতিক

জ্ঞানেশকে নিশানা করে দিল্লিতে মমতার হুঁশিয়ারি

মো: দেলোয়ার হোসাইন নভেম্বর ০১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ভোট চুরি করে গণতন্ত্র কেড়ে নেওয়া হয়েছে- দিল্লির রামলীলা ময়দানে বিরোধী জোট ইন্ডিয়ার সমাবেশ থেকে এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একই সঙ্গে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ‘ভ্যানিশ কুমার’ বলে কটাক্ষ করে তার পদত্যাগের দাবিতে সরব হন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী।

 

রোববার ‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে দিল্লির রামলীলা ময়দানে এই সমাবেশের আয়োজন করে বিরোধী জোট ইন্ডিয়া। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন, নির্বাচনী অনিয়ম এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টিসহ বিভিন্ন বিরোধী দলের নেতারা এতে অংশ নেন।

 

সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মমতা বলেন, ‘আমরা হারিনি, আমাদের হারানো হয়েছে। ভোট লুট করেছে বিজেপি, দেশের গণতন্ত্রকে হরণ করেছে।’ তার অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের নামে লক্ষ লক্ষ মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। তার দাবি, রাজ্যে এক কোটিরও বেশি মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

 

প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে আক্রমণ করে মমতা বলেন, শুধু ভোট নয়, গণনার প্রক্রিয়াও কার্যত অদৃশ্য করে দেওয়া হয়েছে। জ্ঞানেশ কুমারকে উদ্দেশ করে ‘ভ্যানিশ কুমার’ নাম ব্যবহার করে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি একসঙ্গে দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে দুর্বল করছে বলে তার অভিযোগ।

 

বিশেষ নিবিড় সংশোধনকে কটাক্ষ করে মমতা বলেন, এর প্রকৃত উদ্দেশ্য বিজেপিকে রাজনৈতিক সুবিধা দেওয়া। তার অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় শুধু ভোটাধিকার নয়, বাংলার মানুষের চাকরি, সম্মান এবং সাংবিধানিক অধিকারও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

 

সমাবেশে উপস্থিত বিরোধী নেতাদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, তেজস্বী যাদব, কপিল সিব্বল, অভিষেক মনু সিংভি, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, সুপ্রিয়া সুলেসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা গণতন্ত্র রক্ষার লড়াইয়ে এক মঞ্চে এসেছেন। তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে মমতা বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ রক্ষার দায়িত্ব যুবসমাজকেই নিতে হবে। প্রয়োজন হলে অভিভাবক হিসেবে তিনি তাদের পথ দেখাবেন।

 

জেন-জি প্রজন্মের প্রতিবাদ ও আন্দোলনের প্রশংসা করে তিনি দলমত নির্বিশেষে সবাইকে একসঙ্গে লড়াইয়ে শামিল হওয়ার আহ্বান জানান। কেন্দ্রীয় সংস্থা ও পুলিশের একাংশকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের অভিযোগও তোলেন তিনি। তার কথায়, বিজেপির বিদায়ের সময় ঘনিয়ে এসেছে। বক্তব্যের একপর্যায়ে রামপ্রসাদ বিসমিলের বিপ্লবী কবিতার পঙ্‌ক্তি উদ্ধৃত করে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় জানান তৃণমূল নেত্রী।

 

বিচার বিভাগের কাছেও নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের আবেদন জানান মমতা। তার বক্তব্য, গণতন্ত্র ও মানুষের ভোটাধিকার রক্ষায় বিচারব্যবস্থাকে সক্রিয় হতে হবে।

 

উল্লেখ্য, ভোটার তালিকার সংশোধন নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগ অস্বীকার করে নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, এই প্রক্রিয়ার উদ্দেশ্য ভুয়া, মৃত ও একাধিক জায়গায় নিবন্ধিত ভোটারের নাম বাদ দেওয়া। ভুলবশত নাম বাদ পড়লে পুনরায় নিবন্ধনের সুযোগও রয়েছে বলে কমিশন জানিয়েছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী।
‘সংবিধানের ঊর্ধ্বে কেউ নন’, মোদি-শাহকে নিশানা করে রাহুলের বার্তা

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোট কারচুপির অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনসহ একাধিক নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ এনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে সতর্ক করে রাহুল বলেছেন, নিজেদের যতই শক্তিশালী মনে করুন না কেন, তারা দেশের সংবিধানের ঊর্ধ্বে নন।   রোববার (১ নভেম্বর) দিল্লির রামলীলা ময়দানে বিরোধী জোটের আয়োজিত এক সমাবেশে এসব কথা বলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। বক্তব্যে তিনি বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পদ থেকে সরানোর পর তাদের পরবর্তী লক্ষ্য হবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।   রাহুল গান্ধীর অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের সহযোগিতা ছাড়া নরেন্দ্র মোদির পক্ষে প্রধানমন্ত্রী এবং অমিত শাহের পক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হওয়া সম্ভব হতো না। নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় অনিয়মের মাধ্যমে ক্ষমতায় থাকার সুযোগ তৈরি করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।   সমাবেশে ভোটার তালিকা থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ বিশেষ গুরুত্ব পায়। রাহুলের দাবি, দেশের বিভিন্ন রাজ্যে ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে প্রায় ১৫ শতাংশ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। তিনি একে সাধারণ কোনো অনিয়ম হিসেবে দেখতে নারাজ। তার ভাষায়, এ ধরনের কর্মকাণ্ড রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল এবং অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ।   ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের পাশাপাশি মধ্যপ্রদেশ, হরিয়ানা, ছত্তিশগড়, মহারাষ্ট্র ও কর্ণাটকের নির্বাচনেও পরিকল্পিতভাবে ভোট কারচুপি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন রাহুল। এসব অভিযোগের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ।   কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সাম্প্রতিক বক্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে রাহুল বলেন, নরেন্দ্র মোদি কোথাও যাচ্ছেন না বলে অমিত শাহ যে দাবি করেছেন, তার জবাব দেবে দেশের জনগণ। তার বক্তব্য, প্রথমে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পদ থেকে সরিয়ে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। এরপর নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি আসবে।     নির্বাচনি অনিয়মের অভিযোগের পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক বৈষম্য, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থা নিয়েও কথা বলেন কংগ্রেস নেতা। শিল্পপতি গৌতম আদানির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, দেশের সবকিছু গুটিকয়েক শিল্পপতির হাতে চলে যাওয়া উচিত নয়। কৃষক যেন তার পরিশ্রমের ন্যায্য মূল্য পান এবং শিক্ষার্থীরা যেন নিজেদের যোগ্যতা অনুযায়ী সুযোগ পান, এমন একটি ভারত গড়ার পক্ষে তিনি।   রাহুল গান্ধী বলেন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থা যদি নির্দিষ্ট কয়েকজন শিল্পপতির নিয়ন্ত্রণে চলে যায়, তাহলে সাধারণ মানুষের অধিকার ক্ষুণ্ন হবে। দেশের প্রত্যেক নাগরিকের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।      সমাবেশের শেষ পর্যায়ে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরে রাহুল বলেন, সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বরই তার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বিরোধী জোট ঘৃণা ও সহিংসতার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। তবে দেশের সংবিধান রক্ষার প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না।   রামলীলা ময়দানের এ সমাবেশে বিরোধী জোটের অন্যান্য নেতারাও নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, ভোটার তালিকা সংশোধন এবং নির্বাচনি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করেন। সমাবেশকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে নিরাপত্তাব্যবস্থাও জোরদার করা হয়। 

মো: দেলোয়ার হোসাইন নভেম্বর ০১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

৬৩০ কোটি ডলারের ক্রিপ্টো চুরিতে উত্তর কোরিয়াকে দায়ী করল এফবিআই

ছবি: সংগৃহীত

জ্ঞানেশকে নিশানা করে দিল্লিতে মমতার হুঁশিয়ারি

ছবি: সংগৃহীত

ইরানের পর এবার ক্লাস্টার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করল উত্তর কোরিয়া

ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে ফের যুদ্ধের শঙ্কা, বাড়ছে উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তা

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন শেষ হলেই ইরানে কি নতুন করে হামলা শুরু হবে? এই এক প্রশ্নে এখন থমথমে পুরো মধ্যপ্রাচ্য। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অস্পষ্ট বার্তা এবং ইরানের চরম হুঁশিয়ারির মুখে এই অঞ্চলের কোটি কোটি মানুষ চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। যুদ্ধ আবার শুরু হলে দৈনন্দিন জীবনযাত্রা, বিমানের টিকিট পাওয়া বা ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাবে কি না—তা নিয়ে চারদিকে এখন নানা জল্পনা-কল্পনা।   গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর এই যুদ্ধ শুরু হয়। আট মাস ধরে চলা এই যুদ্ধে কূটনৈতিক বা সামরিক—কোনো পক্ষই জয় বা সমাধানের মুখ দেখেনি। ট্রাম্প একদিকে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ফের হামলার ভয় দেখাচ্ছেন, অন্যদিকে আলোচনার কথাও বলছেন। পাল্টা জবাবে নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির নির্দেশ পাওয়ার পর ইরানও হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে তারা কেবল তেল ক্ষেত্র নয়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কেন্দ্রসহ পুরো অঞ্চলের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ধ্বংস করে দেবে।   সংঘাতের এই উত্তাপে সবচেয়ে বেশি আতঙ্কে আছেন উপসাগরীয় দেশগুলোতে থাকা লাখ লাখ বিদেশি নাগরিক ও চাকরিজীবী। দীর্ঘ দিন নিরাপদ মনে করলেও, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিকদের পরিবারগুলো নীরবে মধ্যপ্রাচ্য ছাড়তে শুরু করায় সাধারণ মানুষের সেই নিরাপত্তাবোধে বড় ধাক্কা লেগেছে। নিরাপত্তা আশঙ্কায় বড় বড় আন্তর্জাতিক সম্মেলন বাতিল হচ্ছে, সৌদি আরবে অফিসের কাজ ঘরে বসে করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং বাহরাইন থেকে শুরু করে আবুধাবির বাসিন্দারা সবাই এক অজানা আশঙ্কায় প্রহর গুনছেন।   এর মধ্যেই ব্যাকস্টেজে কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চিঠি ও বার্তার আদান-প্রদান এবং কূটনৈতিক আলোচনা জারি রয়েছে। তবে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, তেহরানের দেওয়া ৭টি শর্ত পূরণ ছাড়া কোনো সমঝোতা সম্ভব নয়। সব মিলিয়ে আলোচনা সফল হয়ে আপাতত সংঘাত থামবে, নাকি আগামী দিনগুলোতে মধ্যপ্রাচ্য নতুন এক বিধ্বংসী যুদ্ধের রূপ নেবে—সেই উত্তর পাওয়ার জন্যই এখন অপেক্ষা করছে বিশ্ব।   সূত্র: সিএনএন

মোঃ ইমরান হোসেন নভেম্বর ০১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত।

ইরানের শর্ত মেনেই খুলবে হরমুজ প্রণালি, অপেক্ষা আর মাত্র দুই দিন

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং বিরোধী নেতা ইয়ার গোলান। ছবি: সংগৃহীত

ক্ষমতা ধরে রাখতে ইরানে নতুন হামলার পথে হাঁটতে পারেন নেতানিয়াহু

ছবি: সংগৃহীত

মস্কোতে বড় হামলার আশঙ্কা, মার্কিন দূতাবাসের জরুরি সতর্কতা

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে ঝুঁকছে লাওস, বায়ুবিদ্যুৎ রপ্তানি করছে ভিয়েতনামে

দক্ষিণ লাওসের সবুজ পাহাড়ি এলাকায় মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে চীনে নির্মিত ১৩৩টি বায়ুবিদ্যুৎ টারবাইন। এসব টারবাইন থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ ভিয়েতনামের ক্রমবর্ধমান অর্থনীতিকে সচল রাখতে সহায়তা করছে। একই সঙ্গে এ প্রকল্প জ্বালানির উৎস বহুমুখী করার আঞ্চলিক উদ্যোগেরও অংশ।   ডাক ওয়াই গ্রামের কাঠের খুঁটির ওপর নির্মিত বাড়িতে বসে ২৩ বছর বয়সী তুকতা ফনসালা এএফপিকে বলেন, ‘দৃশ্যটা খুব সুন্দর। এগুলো গাছের চেয়েও বড়।’ এ সময় তার কোলে ছিল ছোট্ট শিশু।   লাওসের সেকং প্রদেশ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।   সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য অসংখ্য বাঁধ নির্মিত হয়েছে। তবে শুষ্ক মৌসুমে এসব বাঁধের বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যায়। পাশাপাশি, পরিবেশের ওপর এর ক্ষতিকর প্রভাব নিয়েও সমালোচনা রয়েছে।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবার বায়ুবিদ্যুতের প্রসারের সময় এসেছে। এ ক্ষেত্রে তারা লাওসের ৬০০ মেগাওয়াট সক্ষমতার ‘মুনসুন উইন্ড পাওয়ার প্রকল্পের’ উদাহরণ দিচ্ছেন। ২০২৫ সালের আগস্টে প্রকল্পটি উৎপাদন শুরু করে।   সিঙ্গাপুরের সমান আয়তনের এলাকায় বিস্তৃত ৭০০ মিলিয়ন ডলারের এ প্রকল্প এশিয়ার প্রথম আন্তসীমান্ত বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্প। একই সঙ্গে এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তম বায়ুবিদ্যুৎ কেন্দ্র।   চীনের একটি রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান প্রকল্পটি নির্মাণ করেছে। আর এর মালিকানায় রয়েছে থাইল্যান্ডের নেতৃত্বাধীন একটি কনসোর্টিয়াম। প্রকল্পের উৎপাদিত বিদ্যুৎ নির্দিষ্ট সঞ্চালন লাইনের মাধ্যমে সরাসরি ভিয়েতনামের জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডে সরবরাহ করা হয়।   দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দ্রুততম বর্ধনশীল অর্থনীতির দেশ ভিয়েতনাম একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্প উৎপাদন কেন্দ্র।    দেশটি আগে থেকেই তার দরিদ্র প্রতিবেশী লাওস থেকে জলবিদ্যুৎ আমদানি করে আসছে।   তবে অলাভজনক সংস্থা এনার্জি ল্যাব এশিয়ার কারিগরি কর্মসূচির প্রধান ট্রিস্টান বেলিংহাম বলেন, ‘অর্থনৈতিক হিসাব এখন বায়ুবিদ্যুতের পক্ষে যাচ্ছে।’   তিনি এএফপিকে বলেন, ‘২০ থেকে ৩০ বছর আগে জলবিদ্যুতের ক্ষেত্রে যেমনটা দেখা গিয়েছিল, এখন নতুন বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য জমি ব্যবহারের অনুমতি ও উন্নয়ন-অধিকার নিশ্চিত করতে তেমনই এক ধরনের প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে।’   লাওসে ইতোমধ্যে ৯০টি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র রয়েছে। প্রতিবেশী দেশগুলোতেও রয়েছে আরও কয়েক ডজন।    ফলে উপযুক্ত নতুন স্থান খুঁজে পাওয়া ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে।   উন্নয়নের জন্য ভালো-   বেলিংহাম বলেন, মুনসুন প্রকল্পের সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এখন অন্য বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোও এগিয়ে যাচ্ছে। লাওসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দেশজুড়ে ১০ থেকে ১৫টি প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চলছে।   তুকতা ফনসালা, তার সঙ্গে বসবাসকারী পরিবারের ১৮ সদস্য এবং টারবাইনের আশপাশের ধান ও কফিচাষিদের জন্য মুনসুন প্রকল্প নতুন সড়ক নির্মাণের পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানি ও স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ বাড়িয়েছে।   তবে প্রকল্পটি থেকে তাদের এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়নি।   স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভারী ঝড়ের সময় এখনো তাদের এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটে। লাওসের নিজস্ব বিদ্যুৎ অবকাঠামো পুরোনো। অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ সংস্থাটিও বিপুল ঋণের বোঝায় জর্জরিত।   তবু দেশের উৎপাদিত বিদ্যুৎ বিদেশে পাঠাতে পেরে খুশি তুকতা।   তিনি বলেন, ‘এটি উন্নয়নের জন্য ভালো এবং সমৃদ্ধি আনতে পারে।’   ভিয়েতনামের জন্য এ প্রকল্প তুলনামূলক কম খরচে নির্ভরযোগ্য বিদ্যুতের উৎস।   ২০২৩ সালে খরার কারণে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় দেশটিতে ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দিয়েছিল। এদিকে পরিকল্পিত বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব এবং চাহিদা বৃদ্ধির কারণে আগামী বছর থেকে বিদ্যুৎ সংকটের ঝুঁকি রয়েছে বলে সেপ্টেম্বরে সতর্ক করেছিল দেশটির সরকার।   ইন্দোচায়না এনার্জি পার্টনার্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক থমাস জ্যাকবসেন বলেন, ‘মুনসুন প্রকল্পের মাধ্যমে ভিয়েতনাম স্থানীয়ভাবে যে দামে বায়ুবিদ্যুৎ কিনছে, তার চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে কম দামে লাওস থেকে বিদ্যুৎ পাচ্ছে।’   তার হিসাব অনুযায়ী, ভিয়েতনামের রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ সংস্থা ইলেকট্রিসিটি ভিয়েতনাম (ইভিএন) মুনসুন প্রকল্প থেকে প্রতি কিলোওয়াট ঘণ্টা বিদ্যুৎ প্রায় ৬ সেন্টে কিনছে। স্থানীয় বাজারের দামের চেয়ে এ হার ২ থেকে ৪ সেন্ট কম।   তবে গত সপ্তাহে সাংবাদিকদের জন্য আয়োজিত এক সফরে মুনসুন উইন্ড, ইভিএন এবং প্রকল্পটির অর্থায়ন ব্যবস্থাপক এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) প্রতিনিধিরা বিদ্যুতের এ দাম জানাতে অস্বীকৃতি জানান।   ‘বিশেষ কিছু রয়েছে’-   ২০৫০ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ শূন্যে নামিয়ে আনার ভিয়েতনামের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনেও এ প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়েছেন ইভিএনের ন্যাশনাল পাওয়ার ট্রান্সমিশন করপোরেশনের কর্মকর্তা নিন সুয়ান হিয়েপ।   ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয়ের একটি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে তিনি এএফপিকে বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে লাওস থেকে আমদানি করা বিদ্যুৎ ভিয়েতনামের মোট স্থাপিত উৎপাদন সক্ষমতার প্রায় ১০ শতাংশের সমান হবে। স্থাপিত সক্ষমতা বলতে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদনের সামর্থ্যকে বোঝায়।   মুনসুন উইন্ড প্রকল্পের মহাব্যবস্থাপক নারুত বোয়াকাজর্ন জানান, প্রকল্পটির উৎপাদন সক্ষমতা আরও ১ হাজার মেগাওয়াট বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে বাড়তি বিদ্যুতের একটি অংশ যেন লাওসের অভ্যন্তরে ব্যবহার করা যায়, সে ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে।   ১১০ মিটার উঁচু একটি টারবাইনের ঘূর্ণায়মান পাখার নিচে এএফপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নারুত বলেন, ‘লাওসে প্রচুর প্রাকৃতিক সম্পদ রয়েছে। বায়ু, পানি ও সৌরশক্তি—সবই আছে।’   তিনি বলেন, ‘একই জায়গায় এতগুলো ভালো নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎস খুব বেশি দেশে নেই। এদিক থেকে লাওসের বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে।’   নারুতের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২৫ বছর মেয়াদি চুক্তির আওতায় কর এবং স্থানীয় উন্নয়ন ও পরিবেশ সুরক্ষা তহবিলসহ বিভিন্ন খাত থেকে লাওস সরকার ১৮০ মিলিয়ন ডলার আয় করবে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি নভেম্বর ০১, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

এনভিডিয়ার প্রধান চীনের গুপ্তচরবৃত্তির ষড়যন্ত্রের শিকার, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে: ট্রাম্প

ফ্লাভিও বলসোনারোর ব্রাজিল ত্যাগে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি জড়িত নয়: রুবিও

সংগৃহীত ছবি

ইরানের এক-দুটি স্থাপনায় এখনো হামলা চালানো বাকি: ট্রাম্প

0 Comments