রান্নাঘরে কাজ করতে গিয়ে অনেক সময়ই দেখা যায় সংরক্ষিত আলু, পেঁয়াজ বা রসুনে অঙ্কুরোদগম হয়েছে। এমন অবস্থায় এগুলো খাওয়া নিরাপদ কি না, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে প্রায়ই সংশয় জাগে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অঙ্কুরিত সবজি খাওয়ার বিষয়টি সব ক্ষেত্রে সমান নয় এবং বিশেষ করে আলুর ক্ষেত্রে এটি বেশ ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। আলু যখন অঙ্কুরিত হতে শুরু করে, তখন এতে গ্লাইকোঅ্যালকালয়েড নামক এক ধরণের প্রাকৃতিক বিষাক্ত উপাদান তৈরি হয়, যার মধ্যে সোলানাইন অন্যতম। এই উপাদানটি মূলত উদ্ভিদকে ছত্রাক ও পোকামাকড় থেকে রক্ষা করলেও মানুষের শরীরের জন্য এটি ক্ষতিকর।
শেষ করে আলুর রঙ যদি সবুজ হয়ে যায়, তবে তা সরাসরি বিষক্রিয়ার কারণ হতে পারে।
অঙ্কুরিত আলুর ঝুঁকি সম্পর্কে উদ্ভিদ বিজ্ঞানীরা জানান, গ্লাইকোঅ্যালকালয়েড আলুর স্বাদকে তিক্ত করে তোলে এবং এটি গ্রহণের ফলে বমিভাব, ডায়রিয়া ও পেটে ব্যথার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। যদি আলুর অঙ্কুর খুব ছোট হয় এবং আলুটির গঠন শক্ত থাকে, তবে অঙ্কুরিত অংশটি গভীরভাবে কেটে ফেলে দিয়ে বাকি অংশ খাওয়া যেতে পারে।
কিন্তু যদি আলু নরম হয়ে যায়, কুঁচকে যায় অথবা অঙ্কুর এক ইঞ্চির বেশি লম্বা হয়, তবে তা ফেলে দেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। এছাড়া সবুজ হয়ে যাওয়া আলু কোনোভাবেই খাওয়া উচিত নয়, কারণ সবুজ অংশটি উচ্চমাত্রার বিষাক্ত পদার্থের উপস্থিত নির্দেশ করে।
সোলানাইন বিষক্রিয়া বিরল হলেও এটি গুরুতর ক্ষেত্রে দৃষ্টিশক্তির সমস্যা, দুর্বলতা এমনকি অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটাতে পারে।
অন্যদিকে, অঙ্কুরিত পেঁয়াজ ও রসুনের বিষয়টি আলুর চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা এবং তুলনামূলক অনেক বেশি নিরাপদ। এগুলোতে আলুর মতো বিষাক্ত উপাদানের ঝুঁকি থাকে না। পেঁয়াজ ও রসুনের অঙ্কুর মূলত এতে জমা থাকা পুষ্টি থেকেই জন্মায়। তবে অঙ্কুরিত হওয়ার ফলে এগুলোর স্বাদ কিছুটা তিতকুটে হতে পারে এবং গঠন নরম হয়ে যেতে পারে। তবে যদি এগুলোতে পচন ধরে, ছত্রাক দেখা দেয় বা দুর্গন্ধ বের হয়, তবে অবশ্যই তা বর্জন করা উচিত।
অন্তঃসত্ত্বা নারী, শিশু বা যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাদের ক্ষেত্রে অঙ্কুরিত বা সন্দেহজনক সবজি এড়িয়ে চলাই ভালো।
সবজি দীর্ঘদিন সতেজ রাখতে সঠিক উপায়ে সংরক্ষণের গুরুত্ব অপরিসীম। আলু সবসময় ঠান্ডা, শুষ্ক ও অন্ধকার স্থানে রাখা উচিত, যেখানে তাপমাত্রা তিন থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকে। আলু সংরক্ষণের আগে ধোয়া উচিত নয়, কারণ পানি পচন ত্বরান্বিত করে।
এছাড়া আলু ও পেঁয়াজ কখনো একসাথে রাখা ঠিক নয়; কারণ এই দুটি সবজি থেকে নির্গত আর্দ্রতা ও গ্যাস একে অপরের অঙ্কুরোদগম প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করে তোলে। পেঁয়াজ ও রসুন সংরক্ষণের জন্য প্লাস্টিকের ব্যাগ ব্যবহার না করে বায়ু চলাচল করতে পারে এমন জাল বা কাগজের ব্যাগ ব্যবহার করা সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি।
নিয়ম মেনে সবজি সংরক্ষণ করলে অপচয় যেমন কমে, তেমনি স্বাস্থ্যঝুঁকিও এড়ানো সম্ভব হয়।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করে সরকার একদলীয় শাসন কায়েম করতে চায় নাকি আওয়ামী লীগকে ফেরাতে চায়- এই প্রশ্ন তুলেছেন জামায়াতের নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম। রংপুর-২ আসনের এই সংসদ সদস্য (এমপি) রোববার সংসদে বাজেট আলোচনায় বলেছেন, ‘আপনারা জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার কথা বলেছেন। শুধু একটা কথা বলছি, ধরলাম আমরা নিষিদ্ধ হয়ে গেলাম। এই শূন্যস্থান পূর্ণতা করবে কে? আপনারা কি একাই দেশ চালাবেন? আপনারা কি একদলীয় শাসন কায়েম করবেন?’ বিএনপি সরকার কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে ফেরাতে চাইছে বলে দাবি করেন এটিএম আজহার। তিনি বলেন, ‘আপনারা কি আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করতে চাচ্ছেন? আমি মনে করি- আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করতে চাচ্ছেন। কারণ চার মাস আপনারা একজন লোক খুঁজে পেলেন না যে- প্রেসিডেন্ট কে হবে?’ সরকারি দলের উদ্দেশে আজহার বলেন, ‘আপনাদের ফ্যাসিস্ট সরকারের লোক পছন্দ হয়, তাকেই রাখার চেষ্টা করতেছেন। বিএনপি দল এত বড়, তাকে এত পছন্দ হয় কেন? কোন দিক থেকে ইঙ্গিত পেয়েছেন যে তাকে রাখতে হবে?’ বক্তব্যের শুরুতে মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত জামায়াতে ইসলামীর নেতা মতিউর রহমান নিজামী, আলী হাসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, কামারুজ্জামান, আব্দুল কাদের মোল্লা, মীর কাশেম আলীকে স্মরণ করে আজহার বলেন, অন্যায়ভাবে মিথ্যা মামলা সাজিয়ে তাদের জুডিশিয়ালি ক্লিয়ং এর মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে। জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি। একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডের সাজা হয়েছিল আজহারের। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর রিভিউয়ে খালাস পান তিনি। আজহার বলেন, এই বাজেট অতি উচ্চাভিলাসী এবং ঋণ নির্ভর এবং বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নানা সীমাবদ্ধতায় আক্রান্ত। প্রস্তাবিত বাজেটে আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ঘাটতি প্রায় ২ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকা। এ বিশাল আকারে বাজেট বাস্তবায়নই হবে সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। জামায়াত নায়েবে আমির বলেন, রাজস্ব আহরণ অনিশ্চয়তা, ঋণের অতিরিক্ত নির্ভরতা এবং উন্নয়ন ব্যয়ের সংকোচন বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন হতে পারে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক হল- পরিচালন ব্যয়ের ক্রমবর্ধমান চাপ। বাজেটে পরিচালন ব্যয় ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৫৭ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে শুধু সুদ পরিশোধ ব্যয় হবে ১ লাখ ২৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। সুদ পরিশোধের এই রেকর্ড সরকারের আর্থিক সক্ষমতার উপর গুরুতর চাপ সৃষ্টি করবে। এই পরিস্থিতির উত্তরণে সুদমুক্ত আর্থিক উপকরণ ফিনান্সিয়াল ইন্স্ট্রুমেন্ট চালুর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। আজহার বলেন, সুদ বড় পাপ। সুদের জর্জরিত আছে বাংলাদেশের জনগণ। বেশির ভাগ মুসলিমের দেশে সুদ আমরা চলতে দিতে পারি না। সুদভিত্তিক ঋণের পরিবর্তে যদি ইসলামী শরিয়া মোতাবেক সুকুক ইস্যুর মাধ্যমে জনগণের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহের বিকল্প বিবেচনা করতে পারে। যদি বাংলাদেশকে আমরা সুদ থেকে মুক্ত করতে চাই এক বছরে দুই বছরে পারবো না। তবে যদি প্রচেষ্টা শুরু করি ধীরে ধীরে বাংলাদেশ সুদমুক্ত হওয়ার পথে এগিয়ে যাবে। যা সবার জন্য কল্যাণকর হবে।
জামালপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবং বকশীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সভাপতি নূর মোহাম্মদকে রাজধানীর গুলশানের একটি বাসা থেকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। তার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলাসহ সাম্প্রতিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। রোববার (২৮ জুন) ডিএমপির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তথ্যটি নিশ্চিত করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গ্রেপ্তার নূর মোহাম্মদ জামালপুর জেলায় দায়ের করা বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের একটি মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। এছাড়া গত ১৮ জুন রাজধানীর মহাখালী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সংঘটিত মিছিল ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তিনি সন্দেহভাজন আসামি। বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, গ্রেপ্তার আসামির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য মেট্রো রেলে ভাড়ায় ৫০ শতাংশ ছাড়ের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। শনিবার (২৭ জুন) সকালে রাজধানীর কড়াইল বস্তিতে প্রতিবন্ধী ও সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত শিশুদের জন্য নবনির্মিত পুনর্বাসন কেন্দ্র সিএসএফ সেন্টার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ ঘোষণা দেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার বাজেট ও নীতিনির্ধারণে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। তাদের অন্যান্য নাগরিকের মতো সমান অধিকার ও প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পাশাপাশি দেশের প্রতিটি জেলায় প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য শিক্ষাব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও জানান, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের যাতায়াত সহজ করতে মেট্রো রেলে তাদের জন্য ভাড়ায় ৫০ শতাংশ ছাড়ের ব্যবস্থা করা হবে। এর আগে, প্রবীণ ও শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য মেট্রো রেল ও ট্রেনে ভাড়ার ওপর ২৫ শতাংশ ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় রেলপথ মন্ত্রণালয় ও সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়। গত ২৫ জুন থেকে এ সুবিধা কার্যকর হয়েছে।