রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য ইউরেনিয়ামের চালান অক্টোবর থেকে বাংলাদেশে আসার তথ্য দিয়েছে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান রসাটম।
পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না মেলায় ইউরেনিয়ামের একটি চালান না আসার মধ্যে সোমবার এই তথ্য দিল রুশ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানটি।
এক বিবৃতিতে রসাটম বলেছে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহ শুরু হবে অক্টোবর মাসে এবং ডিসেম্বর পর্যন্ত সরবরাহ কার্যক্রম চলতে থাকবে। সরবরাহ শেষ হবে ডিসেম্বরের শেষে।
সব প্রস্তুতি থাকার পরও পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না মেলায় রূপপুরের পারমাণবিক জ্বালানির চালানবাহী বিমান রাশিয়া থেকে দেশে আসতে পারেনি। বাংলাদেশের একমাত্র পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটির প্রথম ইউনিটে রিফুয়েলিংয়ের জন্য ২৪ সেপ্টেম্বর ইউরেনিয়ামের চালানটি আসার কথা ছিল।
ইউরেনিয়ামের চালান আসতে না পারার ঘটনা বর্ণনা করে রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক কবির হোসেন বলেন, “আমার যে ফুয়েল আসার কথা…ইউনিট ওয়ানের ফুয়েল আমি লোড করেছি। এক বছর পরে ইউনিট ওয়ানের ফুয়েল পরিবর্তন করতে হবে।
“…আমার দুইটা ফ্লাইটে আসবে ৪৮টা অ্যাসেম্বলড। এইটা আসার কথা ছিল ২৪ তারিখে একটা ফ্লাইটে। অক্টোবরের ১ তারিখে একটা ফ্লাইট। এই দুই ফ্লাইটে আসার কথা।”
একইভাবে পরের সাতটি ফ্লাইটে রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটের ইউরেনিয়াম আসার সূচি থাকার তথ্য দিয়ে তিনি বলেন, “৮ অক্টোবর থেকে প্রতি সপ্তাহে একটি করে সাতটি ফ্লাইটে আসার কথা ছিল ইউনিট-২ এর ফার্স্ট লোড। ইউনিট-২ এর ফার্স্ট লোড অর্থাৎ ইউনিট-২ এর ফ্লাইট, মানে ফুয়েল।
“আমরা ইউনিট ওয়ানের ফুয়েল যে রকমে ২০২৩ সালে আনছিলাম, ওরকমের দ্বিতীয় ইউনিটের ফুল ফুয়েল আরকি। পুরো ফুয়েলটা যেখানে আগের মতই সাতটা ফ্লাইটে আসার কথা।”
সাধারণত কাজাখস্তান, তুর্কমেনিস্তান, আফগানিস্তান, পাকিস্তান এবং ভারতের আকাশসীমা দিয়ে এ ইউরেনিয়াম আসার তথ্য দেন প্রকল্প পরিচালক।
ইউরেনিয়াম গ্রহণ ও রূপপুরে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি তুলে ধরে কবির হোসেন বলেন, “হঠাৎ করে ২৩ তারিখ ৯টার দিকে জানাল (রসাটম), ফ্লাইটটা স্থগিত। বলছে, আমাদের একটু এয়ার স্পেসে সমস্যা হচ্ছে। সকলের পারমিশন পাওয়া যায়নি, যেসব দেশ থেকে আসবে। আমরা চেষ্টা করছি কূটনৈতিক পথে যাতে অনুমোদন পাওয়া যায়।
“২৪ তারিখ সকাল বেলা আবার ফোন দিলাম। তখনও বলল, আমরা এখনও কূটনৈতিক মাধ্যমে চেষ্টা চালাচ্ছি। সবশেষ ২৪ তারিখ রাতে জানানো হল, রুটের অনুমোদন পায় নাই; এই ফ্লাইট স্থগিত। আমরা তোমাদের পরবর্তীতে শিডিউল জানাব।”
এরপর নতুন করে শিডিউল দেওয়ার কথা তুলে ধরে ধরে কবীর হোসেন বলেন, ১ অক্টোবর থেকে ফ্লাইট শুরু হবে। অর্থাৎ এক সপ্তাহ পেছাল।
পিছিয়ে যাওয়া চালানটি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য আসার কথা বলা হচ্ছিল বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে। রসাটমের বিবৃতিতে আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না মেলায় জ্বালানির ওই চালান না আসতে পারার বিষয়ে কিছু বলা হয়নি।
দ্বিতীয় ইউনিটের জ্বালানির বিষয়ে রসাটম বলেছে, চুক্তির শর্ত এবং প্রকল্পের সময়সূচির সঙ্গে মিল রেখে কয়েকটি ফ্লাইটে সরবরাহ করা হবে ওই পারমাণবিক জ্বালানি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য ইউরেনিয়ামের চালান অক্টোবর থেকে বাংলাদেশে আসার তথ্য দিয়েছে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান রসাটম। পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না মেলায় ইউরেনিয়ামের একটি চালান না আসার মধ্যে সোমবার এই তথ্য দিল রুশ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানটি। এক বিবৃতিতে রসাটম বলেছে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহ শুরু হবে অক্টোবর মাসে এবং ডিসেম্বর পর্যন্ত সরবরাহ কার্যক্রম চলতে থাকবে। সরবরাহ শেষ হবে ডিসেম্বরের শেষে। সব প্রস্তুতি থাকার পরও পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না মেলায় রূপপুরের পারমাণবিক জ্বালানির চালানবাহী বিমান রাশিয়া থেকে দেশে আসতে পারেনি। বাংলাদেশের একমাত্র পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটির প্রথম ইউনিটে রিফুয়েলিংয়ের জন্য ২৪ সেপ্টেম্বর ইউরেনিয়ামের চালানটি আসার কথা ছিল। ইউরেনিয়ামের চালান আসতে না পারার ঘটনা বর্ণনা করে রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক কবির হোসেন বলেন, “আমার যে ফুয়েল আসার কথা…ইউনিট ওয়ানের ফুয়েল আমি লোড করেছি। এক বছর পরে ইউনিট ওয়ানের ফুয়েল পরিবর্তন করতে হবে। “…আমার দুইটা ফ্লাইটে আসবে ৪৮টা অ্যাসেম্বলড। এইটা আসার কথা ছিল ২৪ তারিখে একটা ফ্লাইটে। অক্টোবরের ১ তারিখে একটা ফ্লাইট। এই দুই ফ্লাইটে আসার কথা।” একইভাবে পরের সাতটি ফ্লাইটে রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটের ইউরেনিয়াম আসার সূচি থাকার তথ্য দিয়ে তিনি বলেন, “৮ অক্টোবর থেকে প্রতি সপ্তাহে একটি করে সাতটি ফ্লাইটে আসার কথা ছিল ইউনিট-২ এর ফার্স্ট লোড। ইউনিট-২ এর ফার্স্ট লোড অর্থাৎ ইউনিট-২ এর ফ্লাইট, মানে ফুয়েল। “আমরা ইউনিট ওয়ানের ফুয়েল যে রকমে ২০২৩ সালে আনছিলাম, ওরকমের দ্বিতীয় ইউনিটের ফুল ফুয়েল আরকি। পুরো ফুয়েলটা যেখানে আগের মতই সাতটা ফ্লাইটে আসার কথা।” সাধারণত কাজাখস্তান, তুর্কমেনিস্তান, আফগানিস্তান, পাকিস্তান এবং ভারতের আকাশসীমা দিয়ে এ ইউরেনিয়াম আসার তথ্য দেন প্রকল্প পরিচালক। ইউরেনিয়াম গ্রহণ ও রূপপুরে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি তুলে ধরে কবির হোসেন বলেন, “হঠাৎ করে ২৩ তারিখ ৯টার দিকে জানাল (রসাটম), ফ্লাইটটা স্থগিত। বলছে, আমাদের একটু এয়ার স্পেসে সমস্যা হচ্ছে। সকলের পারমিশন পাওয়া যায়নি, যেসব দেশ থেকে আসবে। আমরা চেষ্টা করছি কূটনৈতিক পথে যাতে অনুমোদন পাওয়া যায়। “২৪ তারিখ সকাল বেলা আবার ফোন দিলাম। তখনও বলল, আমরা এখনও কূটনৈতিক মাধ্যমে চেষ্টা চালাচ্ছি। সবশেষ ২৪ তারিখ রাতে জানানো হল, রুটের অনুমোদন পায় নাই; এই ফ্লাইট স্থগিত। আমরা তোমাদের পরবর্তীতে শিডিউল জানাব।” এরপর নতুন করে শিডিউল দেওয়ার কথা তুলে ধরে ধরে কবীর হোসেন বলেন, ১ অক্টোবর থেকে ফ্লাইট শুরু হবে। অর্থাৎ এক সপ্তাহ পেছাল। পিছিয়ে যাওয়া চালানটি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য আসার কথা বলা হচ্ছিল বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে। রসাটমের বিবৃতিতে আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না মেলায় জ্বালানির ওই চালান না আসতে পারার বিষয়ে কিছু বলা হয়নি। দ্বিতীয় ইউনিটের জ্বালানির বিষয়ে রসাটম বলেছে, চুক্তির শর্ত এবং প্রকল্পের সময়সূচির সঙ্গে মিল রেখে কয়েকটি ফ্লাইটে সরবরাহ করা হবে ওই পারমাণবিক জ্বালানি।
পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য ইউরেনিয়াম জ্বালানি বহনকারী ফ্লাইটের সময়সূচি এক সপ্তাহ পিছিয়েছে। নতুন সূচি অনুযায়ী, অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহ থেকে রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটের জ্বালানি সরবরাহ শুরু হবে। অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে সাতটি চার্টার্ড ফ্লাইটে এসব জ্বালানি বাংলাদেশে আনার কথা জানিয়েছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটম। রোসাটমের সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বরের) এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটের পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহ অক্টোবর থেকে শুরু হয়ে ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে। চুক্তি ও প্রকল্পের সময়সূচি অনুযায়ী কয়েকটি ফ্লাইটে এসব জ্বালানি আনা হবে এবং ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ সরবরাহ সম্পন্ন হবে। এর আগে ২৪ সেপ্টেম্বর রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে একটি ফ্লাইট বাংলাদেশে আসার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত রুটের পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় শেষ মুহূর্তে ফ্লাইটটি স্থগিত করা হয়। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম সোমবার সাংবাদিকদের বলেন, পাকিস্তান আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি। নির্ধারিত রুটটি আজারবাইজান, কাজাখস্তান, পাকিস্তান হয়ে ভারত পর্যন্ত। নতুন সূচি অনুযায়ী অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে রাশিয়া থেকে জ্বালানি আনা হবে। মন্ত্রী বলেন, এর আগে পাকিস্তান এই রুটে আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে। এবার কোনো ঘাটতি বা ভুলের কারণে অনুমতি পাওয়া যায়নি বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এর সঠিক কারণ জানা যায়নি। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক কবির হোসেন বলেন, রুটের সব দেশের প্রয়োজনীয় অনুমতি না পাওয়ায় ফ্লাইট স্থগিত করার কথা রোসাটম ২৩ সেপ্টেম্বর রাতে তাদের জানিয়েছিল। সংশোধিত সূচি অনুযায়ী, ফ্লাইট ১ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, প্রথম ইউনিটের জ্বালানি পরিবর্তনের জন্য ৪৮টি ফুয়েল অ্যাসেম্বলি দুটি ফ্লাইটে আনার কথা ছিল। একটি ফ্লাইট ২৪ সেপ্টেম্বর এবং অপরটি ১ অক্টোবর আসার কথা ছিল। অন্যদিকে দ্বিতীয় ইউনিটের প্রাথমিক জ্বালানি সাতটি সাপ্তাহিক ফ্লাইটে ৮ অক্টোবর থেকে আনার পরিকল্পনা ছিল। সব মিলিয়ে দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য সাতটি ফ্লাইটে ১৬৩টি ফুয়েল অ্যাসেম্বলি রাশিয়া থেকে বাংলাদেশে আনার কথা রয়েছে। এসব জ্বালানি বিশেষ কার্গো বিমানে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে পরিবহন করা হয়। বিমানটি যেসব দেশের আকাশসীমা ব্যবহার করে, সেসব দেশের আগাম অনুমতিও প্রয়োজন হয়। নির্ধারিত রুটে কার্গো বিমানটির কাজাখস্তান, আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও ভারত হয়ে বাংলাদেশে আসার কথা ছিল। তবে পাকিস্তানের অনুমতি না পাওয়ায় বিকল্প রুটে জ্বালানি আনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এদিকে পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। তবে ওই বৈঠকে পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতির বিষয়টি আলোচনা হয়নি বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, হাইকমিশনারের সঙ্গে এটি ছিল তার প্রথম সৌজন্য সাক্ষাৎ। পাবনার ঈশ্বরদীর পাকশী ইউনিয়নের রূপপুর গ্রামে পদ্মার তীরে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে। রাশিয়ার রোসাটমের কারিগরি সহায়তায় এবং বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের তত্ত্বাবধানে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। কেন্দ্রটিতে তৃতীয় প্রজন্মের দুটি ভিভিইআর-১২০০ রিয়্যাক্টর রয়েছে। দুটি ইউনিটের সম্মিলিত উৎপাদনক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট। এর আগে ২০২৩ সালের অক্টোবরে রোসাটমের নভোসিবিরস্ক কেমিক্যাল কনসেন্ট্রেটস প্ল্যান্টে উৎপাদিত ১৬৪টি তাজা ফুয়েল অ্যাসেম্বলি কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে রাশিয়া থেকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আনা হয়েছিল। পরে সেগুলো রূপপুর প্রকল্পে হস্তান্তর করা হয়।
আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত কথোপকথনের একটি ভিডিও গণমাধ্যমে প্রচারিত হওয়ার পর লক্ষ্মীপুরের বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নুরুল আমিনকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) পিডিবির তদন্ত ও শৃঙ্খলা পরিদপ্তরের এক দপ্তরাদেশে এ তথ্য জানানো হয়। দপ্তরাদেশে বলা হয়েছে, ‘মো. নুরুল আমিন, নির্বাহী প্রকৌশলী, বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ, বিউবো, লক্ষ্মীপুর এর বিরুদ্ধে আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত কথোপকথনের একটি ভিডিও গণমাধ্যমে প্রচারিত হওয়ায় বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (কর্মচারী) চাকরি বিধিমালা ১৯৮২ এর ১৪১ (১) নং বিধির অধীনে ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।’ এতে আরও বলা হয়, ‘ওই বিধিমালার ১৪১ (১) নং বিধি অনুসারে মো. নুরুল আমিন কে বিউবো’র চাকরি হতে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হলো।’ এর আগে গতকাল রোববার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে। এরমধ্যে কিছু অংশে নুরুল আমিনকে বলতে শোনা যায়, এসি স্যার রাজি হয়ে গেছে কোনো একটা কারণে, আমি দুই কোটি টাকা থেকে নড়বো না। ৬ কোটি টাকা তিনগুণ না, আমি দুই কোটি টাকার কমে নড়বো না, চেয়ারম্যানের কাছে যেতে হলে যাব। দেখি চেয়ারম্যান কি কয়। একটা বিলের জন্য যদি ২ কোটি টাকা নেই, তাহলে চেয়ারম্যান কি আমার বিরুদ্ধে যাবে? আমাকে জায়গা মতো পোস্টিং দেবে। সোজা হিসেব, ৩ লাখ টাকার ওয়ার্কে মালামাল লাগে ৩০ লাখ টাকা। তাহলে কত কোটি টাকার মাল সে আত্মসাৎ করছে। হিসেব করে দেখা যাবে ৫ কোটি টাকার মাল সে আত্মসাৎ করেছে। ৫ কোটি টাকা থেকে আমাকে ২ কোটি টাকা দেন আমি সব সই করে দেব। ভিডিওতে কয়েকজন ব্যক্তির কাছ থেকে নগদ টাকা গ্রহণ করতে দেখা গেছে। তবে ওইসব ব্যক্তিদের মুখ দেখা যায়নি। পরিচয়ও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ভিডিওতে তিনি ওইসব ব্যক্তিদের উদ্দেশ্যে বলেন, এখানে কত? ওই ব্যক্তি বলেন, এখানে ৩৫ স্যার। নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, এক লাখ ৩৫। ওই ব্যক্তি বলেন, আগে দিয়েছি এক লাখ স্যার। এ ঘটনায় পিডিবি চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘ভিডিওটির বিষয়ে জানার পরপরই আমি সংশ্লিষ্ট বিভাগকে এই ব্যক্তিকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করার নির্দেশ দিয়েছি। আমি ইতোমধ্যেই তাকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করেছি এবং তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরুর নির্দেশ দিয়েছি। এটি শেষ হলে তার চাকরির বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’ তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানের ভেতরে থাকা কোনো অসাধু ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পিডিবি পিছপা হবে না।’