আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত শরিয়াভিত্তিক পাঁচটি ব্যাংক মার্জার বা একীভূত করতে পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। একইসঙ্গে ব্যাংকগুলোকে অকার্যকর ঘোষণা করা হয়েছে। এতে করে নিয়মিত এমডিরা বাদ পড়েছে। ব্যাংকগুলোর দায়িত্ব নিয়েছে সরকার এবং পরিচালনার জন্য প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৫ নভেম্বর) বিকেল ৪টায় সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর।
অকার্যকর ঘোষণা করা ব্যাংকগুলো হলো— ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসি, এক্সিম ব্যাংক পিএলসি এবং সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি
সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর জানান, একীভূতকরণের বিষটি এতোদিন কাগজে কলমে ছিল আজ আনুষ্ঠানিক যাত্র শুরু করলো। বাংলাদেশ ব্যাংক ৫টি ব্যাংককে চিঠি দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে তারা অকার্যকর। পরিচালনা পর্ষদও ভেঙে দিয়েছে। এখন ব্যাংকগুলো পরিচালনার জন্য প্রত্যেক ব্যাংকের একজন করে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসকের সঙ্গে সহযোগীও দেওয়া হচ্ছে।
গভর্নর বলেন, পাঁচ ব্যাংক একীভূত করে সরকারি ব্যাংক হলেও এটি বেসরকারি ব্যাংকের মতই পরিচালিত হবে। ব্যাংকগুলোতে স্বাভাবিক সব ধরনের ব্যাংকিং কার্যক্রম চলবে, গ্রাহকসেবায় কোনো বিঘ্ন ঘটবে না। আগের নামেই ব্যাংকগুলোতে পেমেন্ট, আমদানি রপ্তানির এলসি খোলা যাবে, আমানত ও চেক নিষ্পত্তি হবে এবং রেমিট্যান্স কার্যক্রম আগের মতোই সচল থাকবে।

তিনি বলেন, ব্যাংকগুলোর দায়িত্ব সরকার নিলেও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন কাঠামোতে কোনো ধরনের পরিবর্তন হবে না। বিদ্যমান বেতন কাঠামো অনুযায়ী কর্মকর্তারা বেতন-ভাতা পাবেন।
সরকারি ব্যাংক হলেও এটা চলবে বেসরকারি ব্যাংকের মত জানিয়ে গভর্নর বলেন, ব্যাংকগুলোতে স্বাভাবিক ব্যাংকিং চলবে। ব্যাংকগুলোর নামেও রেমিট্যান্স আসবে। আমদানি-রপ্তানির এলসিও খুলতে পারবে। একই সঙ্গে আমানত ও চেক নিষ্পত্তি হবে নিজেদের নামে।
গ্রাহক কবে তুলতে পারবেন আমানত
এক প্রশ্নের উত্তরে গভর্নর জানান, অকার্যকর ঘোষণা করা পাঁচ ব্যাংকের আমানকারীরা চলতি নভেম্বর মাস থেকেই আমানতের অর্থ তুলতে পারবে। তবে যেসব আমানতকারীদের আমানতের পরিমাণ ২ লাখ টাকার নিচে তারাই প্রথমে আমানত তুলতে পারবেন। আর যাদের আমানতের পরিমাণ ২ লাখ টাকার উপরে তাদের অর্থ উত্তোলনের বিষয়ে শিগগিরই একটি নির্দেশনা জারি করবে বাংলাদেশ ব্যাংক।
তিনি জানান, পাঁচটি ব্যাংকের মোট ৭৫০টি শাখা ও ৭৫ লাখ আমানতকারী রয়েছে। আমরা তাদের নিরাপত্তা দিতে চায়। ব্যাংকগুলো যেহেতু সরকারের অধীনে যাচ্ছে তাই আমানতকারীদের আমানত সম্পূর্ণ নিরাপদ। ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়া হলেও যাদের প্রয়োজন আছে তারাই শুধু অর্থ উত্তোলন করবেন। অযথা ব্যাংকে টাকা তোলার জন্য ভীড় করবেন না।

কী পাবেন শেয়ারহোল্ডাররা?
অকার্যকর ঘোষণা করা ব্যাংকগুলোর শেয়ারহোল্ডারদের ভবিষ্যৎ নিয়ে পুঁজিবাজারে দেখা দিয়েছে নানা জল্পনা-কল্পনা। বিনিয়োগকারীদের প্রশ্ন— একীভূত হওয়ার পর তাদের শেয়ারের মূল্য কীভাবে নির্ধারিত হবে? এ বিষয়ে গভর্নর ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, এই পাঁচ ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডারদের ইকুইটির মূল্য এখন নেগেটিভ। তাই তাদের শেয়ারের ভ্যালু শূন্য (জিরো) হিসেবে বিবেচনা করা হবে। কাউকেই কোনো ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না। আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী, কোনো প্রতিষ্ঠানের মালিক যেমন লভ্যাংশ পান, তেমনি ক্ষতির দায়ও নিতে হয়। আমরা এখানে শেয়ারহোল্ডারদের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিচ্ছি না, কেবল তাদের শেয়ারমূল্যকে শূন্য ধরা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, অন্য দেশে হলে এই অবস্থায় শেয়ারহোল্ডারদের জরিমানা করা হতো। এখন এসব ব্যাংকের নেট অ্যাসেট ভ্যালু (এনএভি) ঋণাত্মক, কিছু ক্ষেত্রে তা ৪২০ টাকা পর্যন্ত নেগেটিভ।
আগামী জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে নতুন সরকার পরিবর্তনের পর এ প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যেতে পারে কি না— জানতে চাইলে গভর্নর বলেন, এটা দেশের স্বার্থে নেওয়া সিদ্ধান্ত। প্রত্যাশা করছি সরকার বদলালেও জনগণের স্বার্থেই সিদ্ধান্ত বজায় থাকবে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, প্রশাসক হিসেবে এক্সিম ব্যাংকে দায়িত্বে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক শওকাতুল আলম, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকে নির্বাহী পরিচালক সালাহ উদ্দিন, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকে প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন নির্বাহী পরিচালক মুহাম্মদ বদিউজ্জামান দিদার, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকে পরিচালক মো. মোকসুদুজ্জামান এবং ইউনিয়ন ব্যাংকে প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন পরিচালক মোহাম্মদ আবুল হাসেম।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের মূলধন হবে ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ২০ হাজার কোটি টাকা দিচ্ছে সরকার। আর আমানতকারীদের ১৫ হাজার কোটি টাকার শেয়ার দেওয়া হবে। একীভূত হতে যাওয়া পাঁচ ব্যাংকে ৭৫ লাখ আমানতকারীর বর্তমান জমা আছে এক লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকা। এর বিপরীতে ঋণ রয়েছে এক লাখ ৯৩ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে এক লাখ ৪৭ হাজার কোটি টাকা বা ৭৬ শতাংশ এখন খেলাপি।

গভর্নর জানান, ৫ ইসলামী ব্যাংক মিলেই দেশের সবচেয়ে বড় ইসলামী ব্যাংক হবে। নতুন এ সমন্বিত ব্যাংকের পেইড-আপ ক্যাপিটাল হবে ৩৫ হাজার কোটি টাকা। যা বর্তমানে দেশের যে কোনও ব্যাংকের তুলনায় অনেক বেশি।
এর আগে গত ৯ অক্টোবর সরকারি মালিকানাধীন ইসলামি ব্যাংক গঠনের অনুমোদন দেয় উপদেষ্টা পরিষদ। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রস্তাব এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সুপারিশের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত হয়। একীভূত করে একটি নতুন সরকারি মালিকানাধীন ইসলামি ব্যাংক গঠন করা হবে। যার নাম হবে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’।
গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে এসব ব্যাংকের আর্থিক অবস্থা ধারাবাহিকভাবে খারাপ হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, তারল্য সংকট, বিশাল অঙ্কের শ্রেণিকৃত ঋণ, প্রভিশন ঘাটতি এবং মূলধন ঘাটতি— এসব কারণে ব্যাংকগুলো কার্যত দেউলিয়া অবস্থায় পৌঁছেছে। অনেকবার তারল্য সহায়তা দেওয়ার পরও এই ব্যাংকগুলোর অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। বরং তাদের শেয়ার মূল্য মারাত্মকভাবে পড়ে গেছে এবং প্রতিটি ব্যাংকের নিট সম্পদ মূল্য বা নেট অ্যাসেট ভ্যালু (এনএভি) ঋণাত্মক অবস্থায় রয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দেশের অনুমোদিত কোরবানির পশুর হাটগুলোতে জাল নোট শনাক্তকরণ বুথ স্থাপন করার নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের (বিবি)। ঈদের ব্যস্ত বেচাকেনার সময়ে জাল নোটের প্রচলন ঠেকাতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জারি করা এক সার্কুলারে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে দেশজুড়ে পশুর হাটে নিরাপদ আর্থিক লেনদেন নিশ্চিত করতে ব্যাংকগুলোর জন্য একটি সমন্বিত কার্যক্রম কাঠামো তুলে ধরা হয়েছে। সার্কুলারে বলা হয়, পশুর হাট চালু হওয়ার দিন থেকে ঈদুল আজহার আগের রাত পর্যন্ত বুথগুলো নিরবচ্ছিন্নভাবে চালু রাখতে হবে। ক্রেতা ও বিক্রেতাদের জন্য নোট যাচাই ও টাকা গণনার সেবা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দিতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক নির্দেশ দিয়েছে, প্রতিটি বুথে আধুনিক নোট গণনা ও জাল নোট শনাক্তকরণ মেশিন রাখতে হবে। পাশাপাশি জাল নোট শনাক্তে দক্ষ অভিজ্ঞ ক্যাশ কর্মকর্তাদের দায়িত্বে রাখতে হবে। জনসচেতনতা ও সহজ শনাক্তকরণের জন্য প্রতিটি বুথে দৃশ্যমানভাবে ‘জাল নোট শনাক্তকরণ বুথ’ লেখা ব্যানার প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নে প্রতিটি তফসিলি ব্যাংককে একজন উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) পর্যায়ের কর্মকর্তাকে সমন্বয়কারী হিসেবে নিয়োগ দিতে বলা হয়েছে। যেসব জেলায় বাংলাদেশ ব্যাংকের শাখা নেই, সেখানে সোনালী ব্যাংক পিএলসি তাদের চেস্ট শাখার মাধ্যমে অন্যান্য তফসিলি ব্যাংকের সমন্বয়ে এ কার্যক্রম পরিচালনা করবে। সার্কুলারে আরও বলা হয়, বুথে দায়িত্ব পালনকারী কর্মীদের অতিরিক্ত দায়িত্বের স্বীকৃতি হিসেবে উপযুক্ত ভাতা ও আর্থিক সুবিধা দিতে হবে। এ ছাড়া সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে পুলিশ, র্যাব, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও আনসারের সহযোগিতায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। জাল নোট শনাক্ত হলে বিদ্যমান নীতিমালা কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। নীতিমালা অনুযায়ী, সন্দেহজনক জাল নোট সঙ্গে সঙ্গে জব্দ করতে হবে এবং নোট উপস্থাপনকারীর স্থানীয় ও স্থায়ী ঠিকানাসহ পূর্ণ পরিচয় সংরক্ষণ করতে হবে। এ ছাড়া নোটটির উৎস সম্পর্কে বক্তব্য নিতে হবে এবং জব্দ করা নোটের উল্টো পাশে উপস্থাপনকারীর স্বাক্ষর বা টিপসই নিতে হবে। পরে নোটটির ওপর লাল কালি দিয়ে ‘জাল’ বা ‘নকল’ সিল দিতে হবে। যদি ব্যাংক কর্মকর্তারা মনে করেন, জেনে-শুনে জাল নোট উপস্থাপন করা হয়েছে, তাহলে বিষয়টি তদন্তের জন্য পুলিশের কাছে পাঠাতে হবে। ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে জনসচেতনতা বাড়াতে সব ব্যাংক শাখাকে ব্যাংকিং সময়জুড়ে মনিটরে আসল নোটের নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্যসংবলিত ভিডিও প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঈদ কার্যক্রম শেষ হওয়ার ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে জাল নোট শনাক্তকরণ বুথের কার্যক্রম ও ফলাফল সম্পর্কে বিস্তারিত প্রতিবেদন মুদ্রা ব্যবস্থাপনা বিভাগে জমা দিতে হবে। রাজধানীর বড় পশুর হাটগুলোতে বুথ পরিচালনার জন্য বিভিন্ন ব্যাংককে দায়িত্বও দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গাবতলী স্থায়ী পশুর হাটে দায়িত্ব পেয়েছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি ও সীমান্ত ব্যাংক পিএলসি। সারুলিয়া বাজারে দায়িত্ব পালন করবে প্রিমিয়ার ব্যাংক পিএলসি ও উত্তরা ব্যাংক পিএলসি। উত্তরা দিয়াবাড়ি সেক্টর ১৬ ও ১৮ এলাকায় বুথ পরিচালনা করবে ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি ও বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক। মেরুল বাড্ডা কাঁচাবাজার এলাকায় দায়িত্বে থাকবে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসি। ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট সংলগ্ন এলাকায় বুথ পরিচালনা করবে আইএফআইসি ব্যাংক পিএলসি ও মেঘনা ব্যাংক পিএলসি। শ্যামপুর কদমতলী ট্রাকস্ট্যান্ড এলাকায় দায়িত্ব পেয়েছে যমুনা ব্যাংক পিএলসি এবং গোলাপবাগ মাঠ আউটফল স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় দায়িত্ব পালন করবে মার্কেন্টাইল ব্যাংক পিএলসি। বাংলাদেশ ব্যাংকের এ উদ্যোগ দেশের অন্যতম বড় মৌসুমি বাণিজ্যিক কার্যক্রম ঈদুল আজহার পশুর হাটে ব্যবসায়ী, খামারি ও সাধারণ ক্রেতাদের আর্থিক প্রতারণা থেকে সুরক্ষা দেওয়ার বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ। ব্যাংক, স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ের মাধ্যমে সহজলভ্য যাচাইসেবা নিশ্চিত করে ঈদুল আজহার পশুর হাটে লেনদেনে স্বচ্ছতা ও আস্থা বাড়ানোই এ উদ্যোগের লক্ষ্য।
পরিবেশবান্ধব অভ্যাস গড়ে তোলা এবং একবার ব্যবহারযোগ্য প্যাকেজিং কমানোর উদ্যোগ নিয়েছিল হস্ত ও কারুশিল্প ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান আড়ং। এর জেরে ২০২৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে গ্রাহকদের পণ্যের সঙ্গে বিনামূল্যে ব্যাগ দিচ্ছে না প্রতিষ্ঠানটি। এরপর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা কম হয়নি, হয় রিটও। নেটিজেনরা তুলে নানারকম প্রশ্ন। এতকিছুর পরেও গ্রাহকদের কাছে ব্যাগ বিক্রি করে বিপুল পরিমাণ অর্থ আয় করেছে আড়ং। মাত্র সাত মাসে গ্রাহকদের কাছে প্রায় তিন কোটি টাকার ব্যাগ বিক্রি করেছে তারা। রবিবার (১০ মে) রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে আড়ংয়ের ক্যাম্পেইনের প্রভাব তুলে ধরা হয়। জানানো হয়, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত সাত মাসে আড়ং প্রায় ২৩ লাখ ১২ হাজার পেপার ব্যাগ বিক্রি করেছে। এতে আয় হয়েছে দুই কোটি ৮৯ লাখ ৯০ হাজার ৮১২ টাকা। তুলনা করে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আগের বছরের একই সময়ে প্রায় ৬৯ লাখ ৯২ হাজার ব্যাগ বিনামূল্যে দেওয়া হয়েছিল। অর্থাৎ, সাত মাসে প্রায় ৪৬ লাখ ৭৯ হাজার ব্যাগের ব্যবহার কমেছে। আড়ংয়ের হিসাব অনুযায়ী, এই পরিমাণ পেপার ব্যাগ সাশ্রয় প্রায় ছয় হাজার গাছ রক্ষার সমতুল্য। ব্যাগ বিক্রির অর্থ থেকে ব্র্যাকের অতিদরিদ্র উত্তরণ কর্মসূচির আওতায় ৪০০ অতি-দরিদ্র নারীর মধ্যে ৮০০টি মেহগনি ও ফলজ গাছের চারা কিনে বিতরণ করা হবে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। এছাড়া বরেন্দ্র অঞ্চলে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর পুনরুদ্ধার ও বাস্তুসংস্থান সংরক্ষণে ৫০ লাখ টাকা সহায়তা এবং জাপানি ‘মিয়াওয়াকি’ পদ্ধতিতে ক্ষুদ্র বনাঞ্চল তৈরির জন্য ‘মিশন গ্রিন’ উদ্যোগে ৫০ লাখ টাকা দেবে আড়ং। আড়ংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তামারা হাসান আবেদ বলেন, “পচনশীল হলেও কাগজের ব্যাগ তৈরির জন্য বিপুল পরিমাণ গাছ কাটতে হয়। আমরা চাই মানুষ আবার ব্যাগ সঙ্গে নিয়ে আসার সংস্কৃতিতে ফিরুক। আড়ং কখনও পণ্যের মূল্যের সঙ্গে ব্যাগের দাম যুক্ত করেনি। আগে বিনামূল্যে দেওয়ায় অনেকে প্রয়োজনের অতিরিক্ত ব্যাগ নিতেন, যা অপচয় বাড়াতো। বর্তমানে ব্যাগ না আনলে বিলের সঙ্গে ১৫ টাকা ক্যাশব্যাক দেওয়া হচ্ছে।
দেশে বৈদেশিক মুদ্রার মোট রিজার্ভের পরিমাণ ৩৫ দশমিক ৬১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুসারে রিজার্ভের পরিমাণ ৩০ দশমিক ৯৬ বিলিয়ন ডলার। শুক্রবার (৮ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার (৭ মে) বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে দেশে রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে তিন হাজার ৯৬ কোটি ৪০ হাজার ডলার। অন্যদিকে, বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব হিসাবে মোট রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে তিন হাজার ৫৬১ কোটি ৬৬ লাখ ৯০ হাজার ডলার। যেখানে গত বুধবার বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে দেশে রিজার্ভ দাঁড়িয়েছিল তিন হাজার ৬৭ কোটি ৪০ লাখ ৭০ হাজার ডলার। অন্যদিকে, বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব হিসাবে মোট রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছিল তিন হাজার ৫৩৩ কোটি সাত লাখ ২০ হাজার ডলার। গত রোববার বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে দেশে রিজার্ভ ছিল তিন হাজার ৫১ কোটি ২২ লাখ ৯০ হাজার ডলার। অন্যদিকে, বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব হিসাবে মোট রিজার্ভের পরিমাণ ছিল তিন হাজার ৫২০ কোটি ৪৭ লাখ ২০ হাজার ডলার। এর আগে ২৩ এপ্রিল বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে দেশে রিজার্ভ ছিল তিন হাজার ৪৮ কোটি ৪০ লাখ ১০ হাজার ডলার। অন্যদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব হিসাবে মোট রিজার্ভের পরিমাণ ছিল তিন হাজার ৫১১ কোটি ৭৫ লাখ ডলার। গত ১৬ এপ্রিল বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে দেশে রিজার্ভ দাঁড়িয়েছিল তিন হাজার ৩৬ কোটি ৬২ লাখ ৪০ হাজার ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব হিসাবে মোট রিজার্ভের পরিমাণ ছিল তিন হাজার ৫০৩ কোটি ৮০ লাখ ডলার। এরও আগে ১৫ এপ্রিল বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে দেশে রিজার্ভ ছিল তিন হাজার ২০ কোটি ১৭ লাখ ১০ হাজার ডলার। অন্যদিকে, বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব হিসাবে মোট রিজার্ভের পরিমাণ ছিল তিন হাজার ৪৮৭ কোটি ৩৩ লাখ ২০ হাজার ডলার। এর আগে ৯ এপ্রিল বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভ ছিল দুই হাজার ৯৯৫ কোটি ২৬ লাখ ৬০ হাজার ডলার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে ছিল তিন হাজার ৪৬৪ কোটি ৫০ লাখ ৪০ হাজার ডলার। চার মাসে আগে গত ৮ জানুয়ারি আইএমএফের হিসাব অনুযায়ী, রিজার্ভ ছিল দুই হাজার ৭৮৪ কোটি ৫৩ লাখ ৮০ হাজার ডলার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিজস্ব হিসাবে ছিল তিন হাজার ২৪৩ কোটি ৯৫ লাখ ১০ হাজার ডলার। সেই তুলনায় বর্তমান রিজার্ভ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেড়েছে।