বিশ্ব

অবসরে গেলেন ৬০৮ দিন মহাকাশে কাটানো নভোচারী সুনীতা

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ২১, ২০২৬


 
নাসায় ২৭ বছরের কর্মজীবন শেষে গত ২৭ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে অবসর গ্রহণ করেছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন নভোচারী সুনীতা উইলিয়ামস। উইলিয়ামস তিনটি আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন (আইএসএস) মিশন সম্পন্ন করেছেন এবং তার ক্যারিয়ারে বহু মানব মহাকাশযান রেকর্ড তৈরি করেছেন।

উইলিয়ামস মহাকাশে মোট ৬০৮ দিন কাটিয়েছেন—এটি নাসার নভোচারীদের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সময়। তিনি একক মহাকাশ মিশনে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় কাটানো আমেরিকানদের তালিকায় ষষ্ঠ স্থানে আছেন, যেখানে নাসার নভোচারী বাচ উইলমোরের সঙ্গে ২৮৬ দিন সময় একই।

 

তিনি মোট নয়টি স্পেসওয়াক সম্পন্ন করেছেন, যার সময় ৬২ ঘণ্টা ৬ মিনিট, যা নারীদের মধ্যে সর্বোচ্চ এবং সবমিলিয়ে চতুর্থ স্থানে।

এ ছাড়া তিনি মহাকাশে ম্যারাথন দৌড়ানো প্রথম ব্যক্তি। নাসার জনসন স্পেস সেন্টারের পরিচালক ভ্যানেসা উইচ বলেন, ‘সুনির ক্যারিয়ার জুড়ে তিনি একজন পথপ্রদর্শক নেতা ছিলেন। মহাকাশ স্টেশনে তার অবদান, বোয়িং স্টারলাইনার মিশনে প্রাথমিক পরীক্ষা—সবই ভবিষ্যতের অনুসন্ধানকারীদের অনুপ্রেরণা হবে।



১৯৯৮ সালে নাসায় যোগ দেওয়া সুনি উইলিয়ামস তার দীর্ঘ কর্মজীবনে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন (আইএসএস)-এ তিনটি অভিযান সম্পন্ন করেছেন। সব মিলিয়ে তিনি মহাকাশে কাটিয়েছেন ৬০৮ দিন, যা নাসার ইতিহাসে মহাকাশচারীদের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। ২০০৬ সালের ডিসেম্বরে স্পেস শাটল ডিসকভারি থেকে প্রথমবার মহাকাশে যাত্রা শুরু করেন সুনি। তিনি এক্সপিডিশন ১৪/১৫-এ ফ্লাইট ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং সেই অভিযানে চারটি স্পেসওয়াক করে বিশ্বরেকর্ড গড়েন।

 

২০১২ সালে দ্বিতীয়বার মহাকাশে গিয়ে ১২৭ দিনের অভিযানে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন সুনি। ২০২৪ সালে তার তৃতীয় ও শেষ মহাকাশযাত্রা হয় বোয়িংয়ের স্টারলাইনার মহাকাশযানে। সহযাত্রী ছিলেন মার্কিন নভোচারী বাচ উইলমোর। মাত্র ১০ দিনের পরিকল্পিত অভিযানে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে প্রায় ১০ মাস মহাকাশে আটকে থাকতে হয় তাদের। অবশেষে ২০২৫ সালের মার্চে, মোট ২৮৬ দিন পর পৃথিবীতে ফেরেন।

 

নাসার প্রশাসক জ্যারেড আইজ্যাকম্যান সুনি উইলিয়ামসের অবদানকে স্মরণ করে বলেন, ‘মানববাহী মহাকাশ অভিযানে সুনি একজন পথিকৃৎ। আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে দক্ষ নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে বাণিজ্যিক মহাকাশ অভিযানের পথও তিনি প্রশস্ত করেছেন। তার কাজ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বড় স্বপ্ন দেখতে ও সীমা অতিক্রম করতে অনুপ্রাণিত করবে।’

পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতক সুনি ফ্লোরিডার মেলবোর্ন ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যানেজমেন্টে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীতে যোগ দেন। হেলিকপ্টার ও ফিক্সড-উইং বিমানে ৪০টিরও বেশি উড়োজাহাজে ৪ হাজার ঘণ্টারও বেশি উড্ডয়নের অভিজ্ঞতা রয়েছে তার।

কর্মজীবনে তিনি মোট ৯টি স্পেসওয়াক সম্পন্ন করেছেন, যার মোট সময় ৬২ ঘণ্টা ৬ মিনিট। এটি যেকোনো নারী নভোচারীর মধ্যে সর্বোচ্চ। মহাকাশে ম্যারাথন দৌড়ানো প্রথম মানুষও ছিলেন সুনি। অবসরের বিষয়ে সুনি বলেন, ‘যারা আমাকে চেনেন, তাঁরা জানেন মহাকাশ আমার কতটা প্রিয়। মহাকাশচারী হতে পারা এবং তিনবার মহাকাশে যাওয়ার সুযোগ পাওয়া আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মানগুলোর একটি। নাসায় ২৭ বছরে সহকর্মীদের কাছ থেকে যে ভালোবাসা ও সমর্থন পেয়েছি, তা আমি আজীবন মনে রাখব।’

নাসার আসন্ন আর্টেমিস-২ চন্দ্রাভিযান নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি হাসতে হাসতে বলেন, ‘যেতে তো চাই, কিন্তু আমার স্বামী আমাকে মেরে ফেলবেন!।’ তিনি আরো বলেন, ‘এবার ঘরে ফেরার সময়। মহাকাশযাত্রার ইতিহাসে পরবর্তী প্রজন্মই এবার তাদের জায়গা করে নিক।’

সূত্র : নাসা

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান।
সিরিয়ার সামরিক ঘাঁটিতে ইসরায়েলি বিমান হামলার তীব্র নিন্দা জানাল তুরস্ক

সিরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের আবু আল-দুহুর বিমানঘাঁটিতে ইসরায়েলের বিমান হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে তুরস্ক। একই সঙ্গে সিরিয়ায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে দেশটি। খবর দ্য টাইমস অব ইসরায়েলের।       মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এই নিন্দা জানায়।       বিবৃতিতে বলা হয়, আমরা রাতভর ইসরায়েল পরিচালিত বিমান হামলার তীব্র নিন্দা জানাই। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সিরিয়ার বিরুদ্ধে ইসরায়েলের আগ্রাসন বন্ধ করতে এবং আইন লঙ্ঘনকারী এই কর্মকাণ্ডের জন্য জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে আরও দৃঢ় অবস্থান গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি।       এর আগে সিরিয়ার সরকারি গণমাধ্যম জানিয়েছিল, দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের ইদলিবে অবস্থিত আবু আল-দুহুর সামরিক বিমানঘাঁটির রানওয়েতে আট দফায় বিমান হামলা চালানো হয়েছে। এতে ঘাঁটিটির ক্ষয়ক্ষতি হলেও কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।     দামেস্ক এ হামলার জন্য ইসরায়েলকে দায়ী করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সিরিয়া বিষয়ক বিশেষ দূত টম ব্যারাকও হামলাটিকে নিশ্চিত ইসরায়েলি বিমান হামলা হিসেবে উল্লেখ করে এর নিন্দা জানিয়েছেন।     তবে ইসরায়েল এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে হামলার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।     সিরিয়ায় তুরস্কের ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে ইসরায়েলের উদ্বেগ রয়েছে। নতুন সিরীয় সরকারের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে তুরস্ক সহায়তা করছে বলে আশঙ্কা করে ইসরায়েল অতীতেও সিরিয়ার সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে।     বিশেষ করে সিরিয়ার নতুন সরকারের বিমানবাহিনী গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তুরস্কের সম্ভাব্য সহায়তা ঠেকাতে ইসরায়েল সক্রিয় রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।       আবু আল-দুহুর বিমানঘাঁটিটি সিরিয়ার দীর্ঘ গৃহযুদ্ধের সময় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর সিরিয়ার সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের প্রচেষ্টার মধ্যেই ঘাঁটিটিতে নতুন করে হামলার ঘটনা ঘটল।   সূত্র : দ্য টাইমস অব ইসরায়েল

মারিয়া রহমান আগস্ট ১৮, ২০২৬

১৪ লাখ কৃষকের ঋণ মওকুফের ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের

সরকার ছয় মাসে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি দেখাতে পারেনি: জামায়াত

ছবি: সংগৃহীত

৯০ শতাংশ ইউরোপীয় বিদেশে থাকতে চান, পছন্দের শীর্ষে স্পেন

ছবি: সংগৃহীত
গাজায় যুদ্ধের সরাসরি প্রভাব পড়েছে চিড়িয়াখানায়

গাজার নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরের কাছে একটি চিড়িয়াখানায় যুদ্ধের ভয়াবহ প্রভাব পড়েছে। খাদ্য, ওষুধ ও টিকার সংকটে সেখানকার অনেক প্রাণী অপুষ্টি ও দুর্বলতায় ভুগছে। পশু চিকিৎসকেরা বলছেন, বর্তমানে প্রাণীদের যে খাবার দেওয়া হচ্ছে, তা তাদের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।    রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চিড়িয়াখানায় আসা শিশুরা খাঁচার ভেতর একটি সিংহকে প্রায় নিস্তেজ অবস্থায় দেখতে পায়। অন্যদিকে শিম্পাঞ্জিরাও ছিল বেশ দুর্বল ও নিষ্প্রাণ। তবে নানা সংকটের মধ্যেও প্রাণীগুলোকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন চিড়িয়াখানার মালিক মাহমুদ গোমা।   গোমা আগে দক্ষিণ গাজার রাফাহ শহরে চিড়িয়াখানা পরিচালনা করতেন। ২০২৪ সালে ইসরায়েলি সেনারা ওই এলাকার একটি অংশে হামলা ও দখল শুরু করলে তাকে সেখান থেকে পালিয়ে যেতে হয়। যুদ্ধের মধ্যে তিনি বেঁচে থাকা প্রাণীগুলোকে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সরিয়ে নেন। চলতি বছরের শুরুতে মধ্য গাজার নুসেইরাতে একটি জায়গা পেয়ে সেখানে আবার চিড়িয়াখানা চালু করেন।   গোমা বলেন, যুদ্ধ শুরুর পর মানুষ যেখানে নিজেদের বাঁচানোর চেষ্টা করছিল, সেখানে তিনি নিজের চেয়েও বেশি প্রাণীগুলোকে বাঁচানোর চিন্তা করেছেন।   তবে প্রাণীদের খাবার জোগাড় করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। গাজার মানুষের জন্যই যেখানে পর্যাপ্ত খাবার নেই, সেখানে বন্যপ্রাণীদের জন্য প্রয়োজনীয় খাবার সংগ্রহ করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।   পশু চিকিৎসক নিদাল ফাদেল বলেন, বর্তমানে প্রাণীদের হিমায়িত মাংস খাওয়ানো হচ্ছে। তার মতে, এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং সঠিক পুষ্টি পরিকল্পনা নয়। কারণ প্রকৃতিতে এসব প্রাণী তাজা শিকার খেয়ে থাকে।   যুদ্ধের সরাসরি প্রভাবও পড়েছে প্রাণীদের ওপর। রাফাহ থেকে পালানোর সময় গোমা তিনটি সিংহ, কয়েকটি কুমির ও আফ্রিকান উটপাখি রেখে যেতে বাধ্য হন। কয়েক মাস পর সেখানে ফিরে তিনি শুধু কুমির ও উটপাখিগুলোর হাড় দেখতে পান। খাঁচায় থাকা তিনটি সিংহও নিখোঁজ হয়ে যায়। যুদ্ধের গোলাবর্ষণ ও বিস্ফোরণের শব্দেও প্রাণীদের ওপর ব্যাপক মানসিক চাপ তৈরি হচ্ছে। পশু চিকিৎসক আমির খলিল বলেন, সিংহ এমন শব্দ ও পরিবেশগত পরিবর্তনও টের পায়, যা মানুষ অনেক সময় বুঝতে পারে না। নিয়মিত বোমাবর্ষণ ও সংঘাত তাদের মধ্যে ভয় ও তীব্র চাপ তৈরি করে।   নুসেইরাতের চিড়িয়াখানায় থাকা সিংহটি দর্শনার্থীদের দিকে প্রায় তাকাচ্ছিলই না। তবে কিছু প্রাণীর সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ পেয়েছে শিশুরা। কেউ তোতা কাঁধে বসিয়েছে, কেউ ছোট বানরকে আদর করেছে।   যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় শিশুদের জন্য এমন বিনোদনের সুযোগ এখন খুবই সীমিত। চিড়িয়াখানায় আসা ৪২ বছর বয়সী কারাম আল-মাজিন বলেন, শিশুদের খেলার মতো জায়গা এখন নেই। চারপাশে শুধু ধ্বংসস্তূপ, পাথর আর তাঁবু। ফলে শিশুরা একদিকে যেমন বিরক্ত, অন্যদিকে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও দিন কাটাচ্ছে।   সূত্র: রয়টার্স

মোঃ নাহিদ হোসেন আগস্ট ১৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

রাশিয়ার ভূখণ্ডে ইউক্রেনের হামলায় ব্রিটিশ ড্রোন, চটল মস্কো

ছবি: সংগৃহীত

জাপানের সামরিক শক্তি বাড়ছে, উদ্বিগ্ন চীন

ইমরান খানকে কারাগার থেকে হাসপাতালে নেওয়ার নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

ছবি: সংগৃহীত
যুদ্ধের প্রভাবে অর্থনৈতিক সংকটে ইরান, ১৯ আগস্ট পেট্রোল বিক্রি শুরু

আগামী ১৯ আগস্ট ইরান জ্বালানি এক্সচেঞ্জে ২ লাখ ৪০ হাজার লিটার উন্নতমানের পেট্রোল বিক্রি করবে। ইরান সরকারের বিক্রির জন্য নির্ধারিত এই পেট্রোল বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা হয়েছে।       ইরনা নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উন্নতমানের এই পেট্রোলের প্রতি লিটারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৮ লাখ ৯৭ হাজার ইরানি রিয়াল। মার্কিন ডলারের হিসাবে এর মূল্য প্রতি লিটারে প্রায় ০.৪৮ ডলার।     রোববার (১৬ আগস্ট) ইরানের সরকারি বার্তাসংস্থা ইরনা নিউজ এ তথ্য জানিয়েছে।     প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব পেট্রোলের সর্বনিম্ন দাম হবে ৮ লাখ ৫২ হাজার ১৫০ রিয়াল। আর সর্বোচ্চ দাম হবে ৯ লাখ ৪১ হাজার ৮৫০ রিয়াল।     ইরান ২০২৫ সালের নভেম্বরে প্রথম আমদানিকৃত পেট্রোল বিক্রি করে। ওই সময় প্রতি লিটার পেট্রোলের দাম পড়েছিল ৬ লাখ ৫৮ হাজার রিয়াল।     অভাব-অনটনে পড়েছেন ইরানিরা   যুক্তরাষ্ট্র ও দখলদার ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে ইরানের অর্থনীতিতে। এতে করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন অনেকে।     রাজধানী তেহরানের বাসিন্দা সাঈদ। তিনি বলেছেন, নিজের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়ে তিনি হতভম্ব। সাঈদ একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। তবে বর্তমানে এখান থেকে যে বেতন পান তা দিয়ে তার সংসার চলছে। এখন এরচেয়ে ভালো বেতনের একটি চাকরি খুঁজছেন তিনি।     রোববার সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে ২৬ বছর বয়সী সাঈদ বলেছেন, বর্তমানে চাকরির বাজারও বেশ খারাপ। অনেকে চাকরি খুঁজেও তা পাচ্ছেন না। তিনি বলেন, “অনলাইন বা সরাসরি—যেখানেই হোক না কেন, চাকরির বাজারের বর্তমান হালচালের দিকে একবার তাকালেই বুঝতে পারবেন কেন আজকালকার অনেক তরুণ-তরুণী কাজের খোঁজে বের হওয়াটাকেও আর অর্থহীন মনে করে।”     সাঈদ জানিয়েছেন শিক্ষকতা, ক্যাশিয়ার ও বিক্রির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মীরা মাসে এখন ২০০ মিলিয়ন ইরানি রিয়াল বা ১০৭ ডলার পান। এমনও কিছু চাকরি আছে যেখানে মাসে ১৬৬ মিলিয়ন রিয়াল বা মাত্র ৮৮ ডলার বেতন দেওয়া হয়। বাংলাদেশি অর্থে এ বেতন ১৫ হাজার টাকারও কম।       আলজাজিরা জানিয়েছে, একজন সাধারণ কর্মী সরকারি সহায়তা ও মাসিক বেতনসহ যে অর্থ পান তা থেকে যদি মাত্র ১ কেজি ভেড়ার মাংস কেনেন তাহলে তার মাসিক আয়ের ১০ শতাংশ চলে যাবে। আর মাত্র ১০ কেজি ইরানি চাল কিনলে মোট অর্থের পাঁচ ভাগের এক ভাগ চলে যায়। যা নির্দেশ করছে বর্তমানে দেশটিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম অত্যন্ত চড়া।       এরসঙ্গে বাড়িভাড়া অতিদ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিল, যাতায়াত খরচ এবং চিকিৎসা খরচও আগের চেয়ে অনেক বেশি।   সূত্র: ইরনা, আলজাজিরা

মারিয়া রহমান আগস্ট ১৮, ২০২৬
পবিত্র কাবা শরিফ।

হজযাত্রীদের নিরাপত্তায় নতুন আবাসন নীতি অনুমোদন দিল সৌদি আরব

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি। ছবি : আইআরএনএ

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আইআরজিসির গোপন আলোচনার খবর অস্বীকার করল ইরান

ছবি: সংগৃহীত

সরকারের ৬ মাস: রাজনৈতিক সংস্কৃতি বদলের ইতিবাচক চেষ্টা প্রধানমন্ত্রীর

0 Comments