ইরানের চলমান গণবিক্ষোভ এবং দেশটির রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) তিনি বলেন, ইরান বর্তমানে বড় ধরনের সংকটে রয়েছে এবং দেশটির জনগণ এমন কিছু শহরের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে, যা কয়েক সপ্তাহ আগেও কেউ কল্পনা করতে পারত না।
ট্রাম্প ইরানি নেতাদের উদ্দেশে বলেন, “আপনারা গুলি চালানো শুরু করবেন না। কারণ, আপনারা গুলি চালালে আমরাও পাল্টা গুলি চালাব।” তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, অতীতের মতো যদি তারা আবারও সাধারণ মানুষ হত্যা শুরু করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র এতে সরাসরি হস্তক্ষেপ করবে।
যদিও ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন, এর অর্থ মার্কিন সেনারা ইরানের মাটিতে নামবে না। বরং ইরানের গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর লক্ষ্যবস্তুতে কঠোর আঘাত হানার মাধ্যমে দেশটিকে বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন করা হবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই মন্তব্যকে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি ইরান সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করার পাশাপাশি বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানানোর উদ্দেশ্য বহন করছে। এতে অঞ্চলটিতে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে।
উল্লেখ্য, ইরানে সম্প্রতি শুরু হওয়া গণবিক্ষোভ বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক ইস্যুর প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই আন্দোলন দেশের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়েছে এবং অনেক এলাকায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত রয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
নগরের ভেতরে বন বা ঘন সবুজ এলাকা গড়ে তোলা গেলে নগর তাপমাত্রা অনেকাংশে কমবে। তবে এর জন্য প্রকৃতি ও মানুষের চাহিদা দুটোই বুঝে পরিকল্পনা করতে হবে। ইংল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব ম্যানচেস্টারের জলবায়ু অভিযোজন বিষয়ে গবেষক ধনপাল গোবিন্দরাজুলু তার এক গবেষণায় বলেন, ভারতের দ্রুত নগরায়নের ফলে শহরগুলোতে তাপমাত্রা বেড়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে চেন্নাইয়ের মতো শহরে গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত ওঠে। গবেষণায় বলা হয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতের এক-তৃতীয়াংশ বিদ্যুৎ খরচ হবে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ (এসি) যন্ত্রে। পরিকল্পিত নগর বন বাড়ানো গেলে এ বিদ্যুৎচাহিদা কমানো সম্ভব। চেন্নাই শহরে বর্তমানে প্রায় ২৬ বর্গমাইল এলাকায় গাছ ও সবুজ আছে। এর বড় অংশই একটি সংরক্ষিত বনাঞ্চল। তবে শহরের আশপাশে আরও প্রায় ৯ বর্গমাইল জমি রয়েছে, যা নগর বন গড়ে তোলার জন্য উপযোগী। কোয়েম্বাটোর ও তিরুচিরাপল্লির মতো অন্যান্য ভারতীয় শহরেও এমন সম্ভাবনা আছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সুপারিশ অনুযায়ী, শহরে প্রতি নাগরিকের জন্য অন্তত ৯ বর্গমিটার সবুজ জায়গা থাকা উচিত। শহরের মোট এলাকার অন্তত ৩০ শতাংশ গাছপালা থাকা প্রয়োজন। কিন্তু ভারতের বেশিরভাগ শহর এই মানদণ্ড পূরণ করতে পারেনি। তবে গবেষণায় সতর্ক করে বলা হয়েছে, শুধু শহর ঠান্ডা করার জন্য গাছ লাগালেই সমস্যার সমাধান হবে না। চেন্নাইয়ের মতো গরম ও পানির সংকটপূর্ণ শহরে কিছু ক্ষেত্রে গাছ উল্টো তাপ ধরে রাখতে পারে। এ ছাড়া সব গাছই বন্যপ্রাণীর জন্য উপযোগী নয়—বিশেষ করে বিদেশি প্রজাতির গাছ পাখি ও কীটপতঙ্গের উপকারে কম আসে। গবেষকরা আরও বলেন, অনেক সময় নগর এলাকায় থাকা খোলা জমি বা ঘাসভূমিকে অব্যবহৃত জমি ধরে নিয়ে সেখানে গাছ লাগানো হয়। অথচ এসব জমি দরিদ্র মানুষের পশুচারণ ও জ্বালানি সংগ্রহের গুরুত্বপূর্ণ উৎস। এতে তাদের জীবিকা হুমকির মুখে পড়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নগর বন পরিকল্পনায় স্থানীয় প্রজাতির গাছ, বন্যপ্রাণীর চলাচলের পথ এবং মানুষের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিতে হবে। রাস্তার ধারে বা খালের পাশে গাছ লাগিয়ে শহরের সবুজ এলাকাগুলোকে সংযুক্ত করা যেতে পারে। গবেষকরা মনে করেন, বৃক্ষরোপন বাড়াতে হবে। পাশাপাশি ঠিকভাবে নগর পরিবেশ নকশা করতে হবে। এতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং সহনশীল, বাসযোগ্য ও সবুজ শহর নির্মাণ সম্ভব হবে। তথ্যসূত্র : দ্য কনভারসেশন
আগাম জাতীয় নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণের লক্ষ্যে শুক্রবার সংসদ ভেঙে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি নিউজ এ তথ্য জানায়। ভোটারদের সমর্থন আদায়ে বাড়তি সরকারি ব্যয়, করছাড় এবং নতুন নিরাপত্তা কৌশল বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই এই নির্বাচন ডাকছেন প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। প্রস্তাবিত নিরাপত্তা নীতির মাধ্যমে জাপানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও জোরদার করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তিনি। 'এই নির্বাচনের মাধ্যমেই আমি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ বাজি রাখছি। দেশের দায়িত্ব আমাকে দেওয়া হবে কি না, সে সিদ্ধান্ত জনগণ সরাসরি নেবে,' বলেন তাকাইচি। নির্বাচনী অঙ্গীকার হিসেবে খাদ্যপণ্যের ওপর আরোপিত ৮ শতাংশ কর দুই বছরের জন্য স্থগিত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তাকাইচি। তার দাবি, এতে কর্মসংস্থান বাড়বে, গৃহস্থালি ব্যয় বৃদ্ধি পাবে এবং পরোক্ষভাবে অন্যান্য কর রাজস্বও বাড়বে। দেশটির সরকারি হিসাব অনুযায়ী, খাদ্যদ্রব্যে আরোপিত কর ছাড় কার্যকর হলে বছরে প্রায় ৫ ট্রিলিয়ন ইয়েন রাজস্ব হারাতে পারে সরকার। এই ঘোষণার পরই সোমবার (১৯ জানুয়ারি) জাপানের ১০ বছর মেয়াদি সরকারি বন্ডের সুদের হার সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। এই আগাম নির্বাচনে, জাপানের সংসদের নিম্নকক্ষের ৪৬৫টি আসনে ভোট হবে। গত বছরের অক্টোবরে জাপানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই তাকাইচির প্রথম জাতীয় নির্বাচনী পরীক্ষা। বিশ্লেষকদের মতে, আগাম নির্বাচন ডেকে ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টিতে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করতে চান তাকাইচি। একই সঙ্গে জোট সরকারের নড়বড়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা মজবুত করাও এই কৌশলের অংশ। তবে বাড়তি সরকারি ব্যয়ের প্রশ্নে ভোটারদের সমর্থন আদায় বড় চ্যালেঞ্জ। জাপানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থা এনএইচকের সাম্প্রতিক জরিপে ৪৫ শতাংশ জাপানিজ জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধিকে প্রধান 'উদ্বেগ' হিসেবে উল্লেখ করেছেন। কূটনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তা উদ্বেগের তালিকায় রয়েছে দ্বিতীয় স্থানে। বলা যায়, অর্থনীতি, করনীতি আর নিরাপত্তা—এই তিন ইস্যুতেই ঘুরছে জাপানের আসন্ন নির্বাচন। ফলাফল নির্ধারণ করবে দেশটির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র মনে করে দেশটির ক্ষমতা আন্তর্জাতিক আইনের চেয়েও বড়। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক আইনের তুলনায় তার নিজের ক্ষমতা ও প্রভাবকেই বেশি মূল্য দেয়। বিবিসি রেডিও-র প্রোগ্রামে দেওয়া সাক্ষাৎকারে গুতেরেস আরও বলেন, ওয়াশিংটনের 'স্পষ্ট বিশ্বাস' হলো বহুপাক্ষিক সমাধানগুলোকে অপ্রাসঙ্গিক হিসেবে দেখা হয়। এই মন্তব্য এমন সময় এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালিয়ে প্রেসিডেন্টকে ধরে নিয়ে আসে এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকি দিচ্ছেন। গুতেরেস আরো বলেন, জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠাকালীন নীতিগুলো, বিশেষ করে, সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সমতার নীতি আজ গুরূতরভাবে হুমকির মুখে আছে। তিনি স্বীকার করেছেন, আজ অনেকে চাইছেন 'আইনের শক্তিকে বদলে ক্ষমতাকে প্রাধান্য দেয়া হোক।