সংযুক্ত আরব আমিরাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও সহজ ও গতিশীল করতে ওয়ার্ক পারমিট ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কার এনেছে দেশটির মানবসম্পদ ও আমিরাতীকরণ মন্ত্রণালয়। নতুন এই উদ্যোগের আওতায় ওয়ার্ক পারমিটের আবেদন প্রক্রিয়া সহজ করার পাশাপাশি প্রশাসনিক জটিলতা কমানো এবং ডিজিটাল সেবার পরিধি বাড়ানো হয়েছে। ফলে নিয়োগকর্তা ও কর্মী—উভয় পক্ষই দ্রুত ও স্বল্প খরচে সেবা নিতে পারবেন বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
সোমবার (৮ জুন) জারি করা এক পরিপত্রে মন্ত্রণালয় জানায়, সংস্কার কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে আগামী ৩০ জুলাই পর্যন্ত একটি অনলাইন জনপরামর্শ কর্মসূচি চালু রাখা হবে। এতে নাগরিক, নিয়োগকর্তা ও সেবাগ্রহীতারা বিদ্যমান ওয়ার্ক পারমিট ব্যবস্থা সম্পর্কে মতামত ও প্রস্তাব দিতে পারবেন।
বিশেষ করে পারমিট অনুমোদন প্রক্রিয়া আরও সহজ করা এবং অপ্রয়োজনীয় শর্ত কমানোর বিষয়ে মতামত নেওয়া হবে।
মন্ত্রণালয় বলছে, এই উদ্যোগ দেশটির ‘জিরো গভর্নমেন্ট ব্যুরোক্রেসি’ কর্মসূচির অংশ। সংস্কারের আওতায় সহায়ক নথি জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা অনেক ক্ষেত্রে বাতিল করা হয়েছে। কিছু পারমিটের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্যের পরিমাণ ৭৫ থেকে ৯৭ শতাংশ পর্যন্ত কমানো হয়েছে। পাশাপাশি আবেদন নিষ্পত্তির সময়ও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। একীভূত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এখন ঘরে বসেই অধিকাংশ সেবা গ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই ব্যবস্থা বিদেশি কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া আরও দ্রুত করবে এবং শ্রমবাজারে দক্ষ জনশক্তি যুক্ত করতে সহায়ক হবে। বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আসা প্রবাসী কর্মীদের জন্যও ওয়ার্ক পারমিট সংক্রান্ত জটিলতা অনেকটাই কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
১৩ ধরনের ওয়ার্ক পারমিট
আমিরাতের শ্রম আইনের নির্বাহী বিধিমালা অনুযায়ী বর্তমানে ১৩ ধরনের ওয়ার্ক পারমিটের সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে বিদেশ থেকে কর্মী নিয়োগের পারমিট, নিয়োগকর্তা পরিবর্তনের জন্য ট্রান্সফার পারমিট, পরিবারের স্পন্সরশিপে থাকা ব্যক্তিদের জন্য ওয়ার্ক পারমিট, সাময়িক ওয়ার্ক পারমিট, ওয়ান-মিশন ওয়ার্ক পারমিট, পার্ট-টাইম ওয়ার্ক পারমিট, অপ্রাপ্তবয়স্কদের ওয়ার্ক পারমিট, শিক্ষার্থী প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থান পারমিট, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও জিসিসি নাগরিকদের জন্য বিশেষ পারমিট, গোল্ডেন ভিসাধারীদের ওয়ার্ক পারমিট, ন্যাশনাল ট্রেইনি পারমিট, ফ্রিল্যান্স পারমিট এবং গৃহকর্মীদের জন্য পৃথক ওয়ার্ক পারমিট।
বিদেশ থেকে কর্মী নিয়োগের পারমিটের মাধ্যমে আমিরাতের বাইরে অবস্থানরত ব্যক্তিদের সরাসরি নিয়োগ দেওয়া যাবে। ট্রান্সফার ওয়ার্ক পারমিটের মাধ্যমে দেশটিতে অবস্থানরত কোনো কর্মী এক প্রতিষ্ঠান থেকে অন্য প্রতিষ্ঠানে চাকরি পরিবর্তন করতে পারবেন।
পরিবারের সদস্যের স্পন্সরশিপে থাকা বাসিন্দারাও বিশেষ পারমিটের মাধ্যমে চাকরিতে যুক্ত হতে পারবেন। একইভাবে নির্দিষ্ট মেয়াদের প্রকল্পভিত্তিক কাজের জন্য সাময়িক ও ওয়ান-মিশন পারমিটের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
পার্ট-টাইম ওয়ার্ক পারমিটের আওতায় একজন কর্মী একাধিক প্রতিষ্ঠানে খণ্ডকালীন ভিত্তিতে কাজ করতে পারবেন। এছাড়া ১৫ থেকে ১৮ বছর বয়সী তরুণদের জন্য অপ্রাপ্তবয়স্ক ওয়ার্ক পারমিট এবং শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থান পারমিট চালু রয়েছে।
গোল্ডেন ভিসাধারী, জিসিসিভুক্ত দেশের নাগরিক এবং আমিরাতি নাগরিকদের জন্যও পৃথক ওয়ার্ক পারমিট ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি স্বাধীনভাবে কাজ করতে ইচ্ছুকদের জন্য রয়েছে ফ্রিল্যান্স পারমিট, যা কোনো নির্দিষ্ট নিয়োগকর্তার অধীনে না থেকেও কাজ করার সুযোগ দেয়।
এছাড়া গৃহকর্মী, ন্যানি, ব্যক্তিগত চালকসহ গৃহস্থালি পেশায় নিয়োজিতদের জন্য পৃথক ডোমেস্টিক ওয়ার্কার্স ওয়ার্ক পারমিট কার্যকর রয়েছে।
দেশটির মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই উদ্যোগের ফলে বেসরকারি খাতের টেকসই উন্নয়ন, শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষা এবং একটি আধুনিক প্রতিযোগিতামূলক শ্রমবাজার গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে যুদ্ধ শেষ করার আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত সপ্তাহে এক ফোনালাপে নেতানিয়াহুকে এ আহ্বান জানান ট্রাম্প। মার্কিন এক কর্মকর্তার বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে অ্যাক্সিওস। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফোনালাপে ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে জানান, ইরানের সঙ্গে আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে এবং কয়েক দিনের মধ্যেই একটি চুক্তি হতে পারে। অ্যাক্সিওস বলছে, ট্রাম্প সম্ভাব্য চুক্তিটিকে ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বলেন, চলমান সংঘাতের অবসান ঘটানোর সময় এসেছে। ওই কর্মকর্তা জানান, ফোনালাপের সময় নেতানিয়াহু বুঝতে পেরেছিলেন যে, তেহরানের সঙ্গে চুক্তির পথে এগোতে ওয়াশিংটনকে তিনি বাধা দিতে পারবেন না। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনার বেশ অগ্রগতি হয়েছে। দুই দেশ সমঝোতা চুক্তির প্রায় কাছাকাছি পৌঁছে গেছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক সই করতে জেনেভা সফরে যেতে পারেন। মার্কিন এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি-সংক্রান্ত নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণের ওপরই যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিষয়টি নির্ভর করবে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সমঝোতা স্মারক সইয়ের পরও যেসব কারিগরি বিষয় অমীমাংসিত থাকবে, সেগুলো নিয়ে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে আরও আলোচনা হতে পারে।
বিদেশি পর্যটকদের জন্য নতুন এক প্রিমিয়াম ভিসা সেবা চালু করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। আগামী জুলাই থেকে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হওয়া এই কর্মসূচির আওতায় অতিরিক্ত ৭৫০ ডলার ফি প্রদান করলে নির্দিষ্ট কিছু আবেদনকারী মাত্র ১০ কর্মদিবসের মধ্যে ভিসা সাক্ষাৎকারের সময় পেতে পারবেন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত একটি অস্থায়ী বিধিমালার মাধ্যমে এ উদ্যোগের ঘোষণা দিয়েছে। মূলত ব্যবসায়িক ও পর্যটন ভ্রমণের জন্য ব্যবহৃত বি১ ও বি২ ক্যাটাগরির ভিসা আবেদনকারীদের জন্য এই সুবিধা প্রযোজ্য হবে। পাইলট প্রকল্পটি ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত চালু থাকবে। বর্তমানে বি১ ও বি২ ভিসার আবেদন ফি ১৮৫ ডলার। নতুন প্রিমিয়াম সেবা গ্রহণ করতে চাইলে আবেদনকারীদের অতিরিক্ত ৭৫০ ডলার পরিশোধ করতে হবে। ফলে মোট খরচ দাঁড়াবে ৯৩৫ ডলারে। তবে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ করলে শুধু দ্রুত সাক্ষাৎকারের সময় পাওয়া যাবে। এর সঙ্গে ভিসা অনুমোদনের সম্ভাবনা বৃদ্ধির কোনো সম্পর্ক নেই। এই সেবা সব মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটে চালু হবে না। প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত কয়েকটি মিশনে এটি কার্যকর করা হবে। কোন কোন দূতাবাস ও কনস্যুলেট এই কর্মসূচিতে অংশ নেবে, সে তালিকা পরে প্রকাশ করা হবে। মার্কিন সরকারের ধারণা, আগামী কয়েক বছরে দেশটিতে আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে। ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বিশেষভাবে ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ এবং ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক গেমসকে সামনে রেখে বাড়তি চাপের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৬ সালের বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক দেশ হবে যুক্তরাষ্ট্র, আর ২০২৮ সালের অলিম্পিক অনুষ্ঠিত হবে লস অ্যাঞ্জেলেসে। কর্মকর্তাদের মতে, এই পরীক্ষামূলক প্রকল্পের মাধ্যমে দ্রুত সাক্ষাৎকার সেবার চাহিদা কতটা রয়েছে তা মূল্যায়ন করা হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন সেবা স্থায়ীভাবে চালুর সম্ভাবনাও যাচাই করা হবে। নতুন প্রিমিয়াম সুবিধাটি শুধু বি১ ও বি২ ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সীমাবদ্ধ থাকবে, যা ব্যবসায়িক ও পর্যটন উদ্দেশ্যে স্বল্পমেয়াদি সফরের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। তবে যেসব দেশের নাগরিকরা ভিসা ওয়েভার প্রোগ্রামের আওতায় ভিসা ছাড়াই স্বল্পমেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারেন, তারা এই সুবিধার অন্তর্ভুক্ত হবেন না।
উত্তর কোরিয়ার হ্যাকাররা গত এক বছরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতের বিরুদ্ধে চালানো রাষ্ট্র-সমর্থিত সাইবার হামলার প্রায় অর্ধেকের সঙ্গে জড়িত ছিল বলে জানিয়েছে সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ক্রাউডস্ট্রাইক। প্রতিষ্ঠানটির সাম্প্রতিক বার্ষিক সাইবার নিরাপত্তা প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হ্যাকার গোষ্ঠীগুলো আগের চেয়ে আরো বেশি সংগঠিত ও দক্ষ হয়ে উঠেছে। তারা এখন শুধু কম্পিউটার সিস্টেমে অনুপ্রবেশই করছে না, বরং ভুয়া পরিচয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরিও নিচ্ছে। এ কাজে তারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি ছবি ও ভিডিও ব্যবহার করছে। পাশাপাশি ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরির ঘটনাতেও তাদের সম্পৃক্ততা বাড়ছে। ক্রাউডস্ট্রাইকের তথ্য অনুযায়ী, 'ফেমাস চোল্লিমা' নামে পরিচিত একটি উত্তর কোরীয় হ্যাকার গোষ্ঠী ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত প্রযুক্তি খাতের বিরুদ্ধে পরিচালিত রাষ্ট্র-সমর্থিত সাইবার কার্যক্রমের ৪৭ শতাংশের জন্য দায়ী। প্রতিষ্ঠানটি এই গোষ্ঠীকে বিশ্বের প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর জন্য সবচেয়ে সক্রিয় সাইবার হুমকিগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তর কোরিয়ার হ্যাকাররা প্রায়ই যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দূর থেকে কাজ করার চাকরির জন্য আবেদন করে। তারা নিজেদের সফটওয়্যার ডেভেলপার, প্রোগ্রামার বা তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচয় দেয়। এই পরিচয়কে বিশ্বাসযোগ্য করতে তারা এআই প্রযুক্তিতে তৈরি ছবি ব্যবহার করে। অনেক ক্ষেত্রে চুরি করা পাসপোর্ট, জাল পরিচয়পত্র এবং ভুয়া নথিও কাজে লাগানো হয়। চাকরি পাওয়ার পর তারা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নেটওয়ার্ক, সফটওয়্যার এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থায় প্রবেশের সুযোগ পায়। বাইরে থেকে তাদের সাধারণ কর্মী মনে হলেও ভেতরে তারা গোপনে তথ্য সংগ্রহ করে। ক্রাউডস্ট্রাইক বলছে, এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে উত্তর কোরিয়া আর্থিক ও কৌশলগত- দুই ধরনের সুবিধাই পায়। হ্যাকারদের বেতন শেষ পর্যন্ত দেশটির সরকারের কাছে পৌঁছায় বলে ধারণা করা হয়। একই সঙ্গে তারা কোম্পানির গোপন তথ্য, প্রযুক্তিগত নকশা, মেধাস্বত্ব এবং ব্যবসায়িক তথ্য সংগ্রহ করে। কিছু ক্ষেত্রে চুরি করা তথ্য পরে চাঁদাবাজির হাতিয়ার হিসেবেও ব্যবহার করা হয়। হ্যাকাররা প্রতিষ্ঠানের কাছে অর্থ দাবি করে এবং অর্থ না দিলে সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশ করে দেওয়ার হুমকি দেয়। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, উত্তর কোরিয়ার হ্যাকারদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য এখনো ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ব্লকচেইন খাত। বিশেষ করে ক্রিপ্টোকারেন্সি কোম্পানি, ডিজিটাল সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান এবং ব্লকচেইন ডেভেলপারদের তারা নিয়মিত লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে। ক্রাউডস্ট্রাইকের মতে, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এবং বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে উত্তর কোরিয়া এখন ক্রমেই সাইবার চুরি ও ডিজিটাল সম্পদ হাতিয়ে নেওয়ার ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে উঠছে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সাইবার অপরাধীরা প্রায় ২০০ কোটি ডলারের সমপরিমাণ ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরি করেছে। এর আগেও বিশ্বের বিভিন্ন বড় ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরির ঘটনায় উত্তর কোরিয়ার নাম উঠে এসেছে। ক্রাউডস্ট্রাইক আরো জানিয়েছে, বর্তমানে 'হ্যান্ডস-অন-কিবোর্ড' ধরনের সাইবার হামলার ব্যবহার বাড়ছে। এ ধরনের হামলায় শুধু স্বয়ংক্রিয় ক্ষতিকর সফটওয়্যারের ওপর নির্ভর করা হয় না। বরং হামলাকারীরা সরাসরি কম্পিউটার নিয়ন্ত্রণ করে প্রতিষ্ঠানের নেটওয়ার্কে দীর্ঘ সময় ধরে সক্রিয় থাকে। চুরি করা ব্যবহারকারীর নাম ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে তারা প্রতিষ্ঠানের ভেতরে আগে থেকেই থাকা বৈধ সফটওয়্যার ও সরঞ্জাম কাজে লাগায়। ফলে অনেক সময় তাদের কার্যক্রম স্বাভাবিক ব্যবহারকারীর কাজের মতো দেখায় এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার নজর এড়িয়ে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের হামলা শনাক্ত করা তুলনামূলকভাবে কঠিন। কারণ হামলাকারীরা দীর্ঘ সময় ধরে গোপনে তথ্য সংগ্রহ করতে পারে এবং প্রতিষ্ঠানের ভেতরের বিভিন্ন সিস্টেমে প্রবেশের সুযোগ পায়।