জাতীয়

আলিমে বাদপড়া শিক্ষার্থীদের আবারো রেজিস্ট্রেশনের সুযোগ

খবর৭১ ডেস্ক, ডিসেম্বর ০৯, ২০২৫

২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষে আলিম শ্রেণির রেজিস্ট্রেশন থেকে বাদপড়া শিক্ষার্থীদের বিশেষ বিবেচনায় অনলাইনে রেজিস্ট্রেশনের আবারো সুযোগ দেয়া হয়েছে। 

অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন ফি জমা দেয়া যাবে চলতি মাসের ১৭ ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত। তথ্য এন্ট্রির শেষ সময় ১৯ জানুয়ারি।

মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের রেজিস্ট্রার প্রফেসর ছালেহ আহমদ স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে সোমবার এ তথ্য জানানো হয়েছে। এ সংক্রান্ত নির্দেশনা সব মাদরাসা প্রধানদের পাঠানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন আলিম পর্যায়ে ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষে পরীক্ষা-২০২৭ আলিম শ্রেণিতে যে সব শিক্ষার্থী অনলাইনে কোনো মাদরাসায় ভর্তি ও রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করতে পারেনি, সে সব শিক্ষার্থী রেজিস্ট্রেশন বোর্ডের (ইএসআইএফ) পূরণের মাধ্যমে সম্পন্ন করার জন্য বলা হলো।

অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন ফি জমা দিতে হবে আগামী ১৭ ডিসেম্বর থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত। তথ্য এন্ট্রির শেষ সময় ১৯ জানুয়ারি। আলিম শ্রেণির নিয়মিত শিক্ষার্থীর রেজিস্ট্রেশনসহ অন্যান্য ফি ৬৮৫ টাকা। অনিয়মিত শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে পাঠ বিরতি ফি ১৫০ টাকাসহ ৮৩৫ টাকা।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: পিআইডি
গণতন্ত্রে ভিন্নমত থাকবে, শত্রুতা নয়: জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী

গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোর মধ্যে বিভেদ তৈরি হলে এর সুযোগ পরাজিত ফ্যাসিস্ট শক্তি নিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ‘গণতন্ত্রে ভিন্নমত থাকবে, রাজনৈতিক প্রতিযোগিতাও থাকবে- এটাই গণতান্ত্রিক চর্চা। কিন্তু ভিন্নমত যেন শত্রুতায় রূপ না নেয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।’      সংসদ নেতা আরও বলেন, রাজনৈতিক বিভেদ ও বিরোধ যদি গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোর মধ্যে এমন পর্যায়ে পৌঁছে যায়, যাতে পরাজিত ফ্যাসিস্ট শক্তি পুনরুজ্জীবিত হওয়ার সুযোগ পায়, তাহলে গণতন্ত্রের জন্য তা হবে বড় বিপদ। তাই দলমত নির্বিশেষে দায়িত্বশীল রাজনৈতিক আচরণ এবং পারস্পরিক সহনশীলতার মাধ্যমে সবার আগে বাংলাদেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ- এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।        বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় সংসদে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।     প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে চলমান গ্যাস-বিদ্যু সংকট সমাধানে সরকারের উদ্যোগ, জাতীয় সংসদকে সমস্যা সমাধানের কেন্দ্রবিন্দুতে রাখা, খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমিয়ে আনার উদ্যোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ তুলে ধরেন। দেশের সংকট সমাধানে বিরোধী দলকে সঙ্গে নিয়ে সমাধানেরও কথা বলেন সংসদ নেতা। বিরোধী দলের সাম্প্রতিক লং মার্চেরও সমালোচনা করেন তিনি।        প্রধানমন্ত্রী বলেন, গাড়ির লংমার্চ করে যদি গ্যাস-বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান করা যেত, তাহলে সরকারই সবার আগে লংমার্চের আয়োজন করত। জাতীয় সংকট মোকাবিলায় জনগণকে উত্তেজিত না করে কার্যকর সমাধানের পথে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।       গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটকে জাতীয় সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে বিরোধী দলকে সঙ্গে নিয়ে এ সংকট মোকাবিলার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, জনগণের ভোগান্তি কমাতে সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে এবং সময়ের সঙ্গে এ সংকটের সমাধান করা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, বর্তমান গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট হঠাৎ সৃষ্টি হয়নি। দীর্ঘদিন দেশীয় উৎস থেকে গ্যাস উত্তোলনে পর্যাপ্ত উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। পাশাপাশি আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থার মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়া এবং দেশের একটি এলএনজি টার্মিনালে দুর্ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। তিনি বলেন, সরকার কোনো অজুহাত দেখিয়ে জনগণের দুর্ভোগ এড়িয়ে যেতে চায় না। সংকটের বাস্তব চিত্র বিবেচনায় নিয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।       তারেক রহমান বলেন, গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট শুধু সরকারের সমস্যা নয়; এটি জাতীয় সমস্যা। সরকারি ও বিরোধী দলের প্রত্যেক সংসদ সদস্যের দায়িত্ব হচ্ছে জনগণের সামনে পরিস্থিতির সঠিক চিত্র তুলে ধরা এবং সংকট মোকাবিলায় দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখা। তিনি বলেন, বিরোধী দলও সরকারের অংশ। তাই বিরোধী দলের সহকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে দেশ ও জাতিকে বর্তমান জ্বালানি সংকট থেকে বের করে আনা হবে।        ভবিষ্যৎ জ্বালানি নিরাপত্তার প্রসঙ্গে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ শুধু বিদ্যুতের গ্রাহক নয়; ভবিষ্যতে সৌরবিদ্যুতের উৎপাদক দেশেও পরিণত হতে পারে।       তারেক রহমান বলেন, জাতীয় সংসদকে দেশের সব আলোচনা ও জাতীয় সমস্যার সমাধানের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে গড়ে তুলতে চায় সরকার। তিনি বলেন, সরকার ও বিরোধী দল- উভয়পক্ষই দেশ ও জনগণের স্বার্থে কাজ করছে এবং জাতীয় সংসদকে কার্যকর ও প্রাণবন্ত রাখার দায়িত্ব সবার। জনগণের প্রত্যাশা, সংসদে আলোচনা করে তাদের সমস্যার কিছুটা হলেও সমাধান হবে এবং এ সংসদ দেশের মানুষের জন্য শান্তি ও সমৃদ্ধি বয়ে আনবে।       প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক দলগুলো জনগণের সামনে তাদের নির্বাচনি ইশতেহার তুলে ধরেছিল। জনগণ বিএনপির ইশতেহারের পক্ষে রায় দিয়েছে এবং একই সঙ্গে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। কার্যকর সংসদীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থায় বিরোধী দলও সরকারের অংশ। তাই বিরোধী দলকে সঙ্গে নিয়েই দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজ করতে চায় সরকার।       রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশের বিভিন্ন খাতের বিদ্যমান সংকট প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন- গ্যাস, বিদ্যুৎ, শিল্প, শিক্ষা, ব্যাংকিংসহ প্রায় প্রতিটি খাতে দুর্নীতি ও অনিয়মের পাহাড় তৈরি হয়েছিল। এসব সমস্যা উত্তরাধিকার সূত্রে পেলেও সরকার এগুলোকে অজুহাত হিসেবে দাঁড় করাতে চায় না, বরং সমস্যাগুলোর সমাধানে পরিকল্পনা গ্রহণ ও তা বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।       দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় বিভিন্ন খাতে ভঙ্গুর পরিস্থিতি পেয়েছে। ব্যাংকিং ব্যবস্থা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতেও নানা সমস্যা ছিল। এসব সমস্যা সমাধানে সরকার কাজ করছে। তিনি বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে অতীতের ব্যর্থতাকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করতে চায় না সরকার, বরং জনগণের জীবনযাত্রায় শান্তি, সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।       ঋণখেলাপির বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, বর্তমানে বিএনপির ওপর আরেকটি বড় দায়িত্ব পড়েছে। তা হলো উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া ঋণখেলাপির বোঝা থেকে দেশকে মুক্ত করা। তিনি বলেন, ২০২৪ সালে দেশে খেলাপি ঋণের যে হিসাব দেখানো হয়েছিল, পরবর্তী ফরেনসিক অডিটে প্রকৃত চিত্র আরও বেশি পাওয়া যায়। সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগে খেলাপি ঋণের অনুপাত কমতে শুরু করেছে বলেও সংসদে জানান তিনি।       সংসদে বাকস্বাধীনতা ও রাজনৈতিক সংস্কৃতি নিয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশে এখন গণতান্ত্রিক পরিবেশ বিরাজ করছে এবং বাকস্বাধীনতা রয়েছে। তবে বাকস্বাধীনতা যেন বাকশালীনতার সীমা লঙ্ঘন না করে, সেদিকেও সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে। তারেক রহমান বলেন, কোনো বিবেকবান মানুষই চান না দেশে আবার ফ্যাসিবাদী বা স্বৈরাচারী শাসন ফিরে আসুক। একইভাবে রাজনৈতিক সংস্কৃতি যেন গালাগালিতে পরিণত না হয়, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। পারিবারিক পরিবেশে যে ধরনের শব্দ ব্যবহারে মানুষ স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে না, জনপরিসরেও সেসব শব্দ পরিহার করা উচিত।       গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে আত্মত্যাগকারীদের স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে লাখো মানুষ জীবন দিয়েছেন। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানেও বহু মানুষ প্রাণ দিয়েছেন এবং অনেকে আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ন্যায়পরায়ণতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শহীদদের রক্তের ঋণ পরিশোধ করা সবার পবিত্র দায়িত্ব।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬

র‌্যাব বিলুপ্তিসহ ৬টি বিল পাসের মধ্য দিয়ে শেষ হলো সংসদ অধিবেশন

ছবি: সংগৃহীত

পিলখানা ঘটনায় চাকরিচ্যুত ৮,৭৯৬ বিডিআর সদস্যের পুনর্বহালের সুযোগ নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

ব্রিকস নিয়ে ভারতীয় সাংবাদিকের প্রশ্ন, জাতিসংঘে কড়া বার্তা খলিলুর রহমানের

ছবি: সংগৃহীত
পাবনায় ১০ বছরের শিশু নিখোঁজ, একদিনেও মেলেনি খোঁজ

পাবনার সদর উপজেলায় কামরুন্নাহার কলি (১০) নামে এক শিশু নিখোঁজ হয়েছে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় নিজ এলাকা থেকে নিখোঁজ হওয়ার পর ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও তার সন্ধান পায়নি পরিবার।   কামরুন্নাহার কলি সদর উপজেলার দোগাছী ইউনিয়নের কলুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা কামাল প্রামানিকের (৪০) মেয়ে।   পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বিকেলে বাবার সঙ্গে স্থানীয় শ্রীপুর বাজারে যায় কলি। বাজার শেষে বাবার সঙ্গে বাড়িতে ফেরে সে। বাড়িতে ফিরে বাজারের ব্যাগ মায়ের কাছে দিয়ে কিছু সময়ের জন্য বাড়ির পাশের দিকে যায়। এরপর সন্ধ্যা হয়ে গেলেও সে আর বাড়িতে ফেরেনি।   পরিবারের সদস্যরা প্রথমে আশপাশের বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে বাড়ি থেকে প্রায় ২০০ গজ দূরে কলির পরা একটি স্যান্ডেল পাওয়া যায়। পরে শিশুটির বাবা পাবনা সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।   এরপর স্বজনদের বাড়িসহ সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজ চালানো হলেও এখন পর্যন্ত শিশুটির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।   পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজের সময় কলির গায়ের রং উজ্জ্বল এবং উচ্চতা আনুমানিক চার ফুট।   কলির বাবা কামাল প্রামানিক বলেন, বুধবার সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টা ৪৫ মিনিটের দিকে মেয়েকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। এরপর পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করেন এবং আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান মেলেনি।   তিনি বলেন, মেয়েকে নিয়ে তারা চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। কেউ শিশুটির সন্ধান পেয়ে থাকলে দ্রুত পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানান তিনি।   এদিকে নিখোঁজ শিশুটিকে উদ্ধারে পুলিশ কাজ করছে বলে জানিয়েছেন পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম।   ওসি বলেন, শিশুটির নিখোঁজের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তাকে খুঁজে বের করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।   তিনি আরও জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ কয়েক দফা শিশুটির বাড়িতে গেছে। স্থানীয়ভাবে প্রচারণাও চালানো হয়েছে। তবে এখনো শিশুটির সন্ধান পাওয়া যায়নি। দ্রুত তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বাসি খাবার ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, চট্টগ্রামে তিন রেস্টুরেন্টকে জরিমানা

ছবি: সংগৃহীত

মুক্তাগাছায় যুবকের শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন, হাসপাতালে মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত

শেখ হাসিনা দেশ ছাড়লেও অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছেন: শফিকুর রহমান

ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রামে প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগে পুলিশ কর্মকর্তা গ্রেপ্তার

চট্টগ্রাম নগরের আকবরশাহ এলাকায় প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে মোহাম্মদ নুরুন্নবী মুন্না (৩৮) নামে এক পুলিশ কর্মকর্তাকে আটক করে স্থানীয়রা। পরে পুলিশ তাকে ও ওই নারীকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠিয়েছে।   মোহাম্মদ নুরুন্নবী মুন্না ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) হিসেবে কর্মরত। অভিযুক্ত নারী কাজী পারভীন আক্তার (৩৯) চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার মরিয়মনগর এলাকার বাসিন্দা। তিনি সৌদি আরবপ্রবাসী মো. জহির শাহের স্ত্রী।   মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, জহির শাহ ২০১৮ সালের ২৯ মার্চ সৌদি আরবে পাড়ি জমান। এরপর পরিবারের দেখাশোনার দায়িত্বে ছিলেন তার ছোট ভাই নাদিম। এ সময় পূর্বপরিচয়ের সূত্র ধরে নুরুন্নবী মুন্নার সঙ্গে জহিরের পরিবারের যোগাযোগ তৈরি হয়।   এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, ২০২১ সালের ২০ জুন থেকে নুরুন্নবী জহিরের বাসায় যাতায়াত শুরু করেন। একপর্যায়ে পারভীনের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়। বিষয়টি জানতে পেরে জহির শাহ স্ত্রীকে ওই পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ না রাখার জন্য একাধিকবার নিষেধ করেন। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, এরপরও তাদের যোগাযোগ অব্যাহত ছিল।   গত ৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় নুরুন্নবী আকবরশাহ থানার বিশ্ব কলোনি আই-ব্লকের ৮০ নম্বর প্লটে জহির শাহের মালিকানাধীন একটি ফ্ল্যাটে যান। সেখানে তিনি পারভীনের সঙ্গে অবস্থান করছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।   পরবর্তীতে বিষয়টি জানতে পেরে ৯ সেপ্টেম্বর বিকেলে স্থানীয় কয়েকজন ওই ফ্ল্যাটে গিয়ে নুরুন্নবী ও পারভীনকে আটক করেন। খবর পেয়ে নাদিম ঘটনাস্থলে গেলে পারভীন তাকে মারধর করেন এবং তার শার্টের বোতাম ছিঁড়ে ফেলেন বলেও মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।   এজাহারে আরও বলা হয়, স্থানীয়দের সামনে নুরুন্নবী দাবি করেন, জহির শাহের সঙ্গে পারভীনের বিয়ে বহাল থাকা অবস্থাতেই তিনি পারভীনকে বিয়ে করেছেন।   পরে স্থানীয়রা পারভীনকে আকবরশাহ থানায় নিয়ে যান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নুরুন্নবীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।   এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় দুই আসামির বিরুদ্ধে পরস্পর যোগসাজশে বাসা থেকে ১৩ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ১৫ লাখ টাকা চুরির অভিযোগও আনা হয়েছে। চুরি যাওয়া স্বর্ণালংকারের আনুমানিক মূল্য ২৬ লাখ টাকা বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।   আকবরশাহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুজ্জামান জানান, প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় স্থানীয়দের হাতে ওই পুলিশ কর্মকর্তা আটক হন। পরে প্রবাসী জহির শাহের ভাই বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন। মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে দুজনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬
ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)। ছবি: সংগৃহীত

রাষ্ট্রীয় সম্মানী পাবেন ২ লাখ ৫৬ হাজার ধর্মীয় নেতা-সেবাকর্মী

অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। ছবি: সংগৃহীত

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে রদবদল

সংগৃহীত ছবি

সংসদে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করা হয়েছে: রুমিন ফারহানা

0 Comments