ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ আগামী ৩১ মার্চ থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত জাপান সফর করবেন। এরপর তিনি দক্ষিণ কোরিয়া যাবেন। শুক্রবার টোকিও ও সিউল এ তথ্য জানিয়েছে।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
জাপান সরকারের মুখপাত্র মিনোরু কিহারা বলেন, ‘৩১ মার্চ থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ ও ফ্রান্সের ফার্স্ট লেডিকে রাষ্ট্রীয় অতিথি হিসেবে গ্রহণ করতে আমরা সম্মত হয়েছি।’
সাংবাদিকদের তিনি আরও বলেন, ‘জাপান ও ফ্রান্স এমন দুটি বিশেষ অংশীদার দেশ যারা মৌলিক মূল্যবোধ ও নীতিমালায় একমত। এই সফর দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার বন্ধনকে আরও গভীর করবে বলে আমরা আশা করি।’
ম্যাখোঁ এর আগে বেশ কয়েকবার জাপান সফর করেছেন। এবার তিনি প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে বৈঠক করবেন। গত বছর দক্ষিণ আফ্রিকায় জি-২০ সম্মেলনে দুজনের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয়েছিল।
কিহারা জানান, ফরাসি দম্পতি জাপানের সম্রাট ও সম্রাজ্ঞীর সঙ্গেও সাক্ষাৎ করবেন।
এই সফর এমন এক সময়ে হচ্ছে যখন চীন-জাপান সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছে। গত নভেম্বরে তাকাইচি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, চীন তাইওয়ান দখলের চেষ্টা করলে টোকিও সামরিক হস্তক্ষেপ করতে পারে। আর ম্যাখোঁও গত ডিসেম্বরে চীন সফর করেছিলেন।
এদিকে দক্ষিণ কোরিয়া জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট লি জে মিউংয়ের আমন্ত্রণে ম্যাখোঁ ২ থেকে ৩ এপ্রিল দেশটিতে রাষ্ট্রীয় সফর করবেন।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানায়, ‘নতুন সরকার গঠনের পর ম্যাখোঁ হবেন দক্ষিণ কোরিয়ায় রাষ্ট্রীয় সফরে আসা প্রথম ইউরোপীয় নেতা।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘এটি ২০১৭ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর তার প্রথম দক্ষিণ কোরিয়া সফর এবং কোনো ফরাসি প্রেসিডেন্টের ১১ বছরের মধ্যে প্রথম সফর।’
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা ও কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে ইরানের হামলা চলছে। এ পরিস্থিতিতে বিভিন্ন ঘাঁটি খালি করে কৌশলগত অবস্থান নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর ফলে তীব্র আবাসন সংকট দেখা দিয়েছে। এ সমস্যা সমাধানে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায় বাসাবাড়ি ও হোটেলে আত্মগোপনে থাকছেন তারা। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজের বরাত দিয়ে মিডল ইস্ট আই বলেছে, আবাসিক এলাকায় আশ্রয় বা আত্মগোপনে থাকা মার্কিন সেনাদের অবস্থান জানাতে মধ্যপ্রাচ্যের জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) গোয়েন্দা শাখা। আইআরজিসির গোয়েন্দা শাখার এক বিবৃতিতে বলা হয়, হাজার হাজার মার্কিন সেনা হোটেল ও ব্যক্তিগত আবাসনে বা বাসাবাড়িতে অবস্থান করছে। ওয়াশিংটন আমাদের আরব ভাইদের মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে। আমরা বাধ্য হচ্ছি আমেরিকানদের শনাক্ত করতে এবং লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করতে। তাই হোটেলগুলোতে তাদের আশ্রয় না দেওয়াই ভালো এবং তাদের অবস্থান থেকে অন্যদের দূরে থাকা উচিত। মার্কিন সন্ত্রাসীদের লুকিয়ে থাকার জায়গাগুলো সঠিকভাবে জানানো আপনার ইমানি দায়িত্ব। সেই তথ্য আমাদের কাছে টেলিগ্রামে পাঠিয়ে দিন। এদিকে ইরাকের কুর্দিস্তানে হামলায় ফ্রান্সের একজন সেনা নিহত এবং আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। আহতদের অবস্থাও গুরুতর। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ এ তথ্য জানিয়েছেন। সেনা নিহতের তথ্য জানিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মাখোঁ। তিনি বলেছেন, ইরবিল অঞ্চলে ফরাসি বাহিনীর ওপর হামলা ‘অগ্রহণযোগ্য’। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এর আগে ফ্রান্সের সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, ওই অঞ্চলে ইরাকি অংশীদারদের সঙ্গে সন্ত্রাসবিরোধী প্রশিক্ষণে নিয়োজিত ছয় ফরাসি সেনা ড্রোন হামলায় আহত হয়েছেন।
অস্কার মনোনীত চলচ্চিত্র ‘দ্য সিক্রেট এজেন্ট’-কে ঘিরে উচ্ছ্বাসে ভাসছে ব্রাজিলের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর রেসিফে। শহর টি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। চলচ্চিত্রের শুটিং লোকেশন দেখতে সেখানে ভিড় করছেন পর্যটকেরা। একই সঙ্গে স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী একটি শার্টের বিক্রিও হু হু করে বাড়ছে। ব্রাজিলের রেসিফে শহর থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি এ খবর জানায়। চলচ্চিত্র ‘দ্য সিক্রেট এজেন্ট’- ইতোমধ্যে বিশ্বজুড়ে বহু পুরস্কার জিতেছে। এবার এটি অস্কারের চারটি বিভাগে মনোনয়ন পেয়েছে- সেরা চলচ্চিত্র, সেরা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র, সেরা অভিনেতা এবং সেরা কাস্টিং। তাই অস্কারের আগে ‘দ্য সিক্রেট এজেন্ট’ সাফল্যে উচ্ছ্বসিত ব্রাজিলের রেসিফে। চলচিত্রটিতে অভিনয় করেছেন জনপ্রিয় ব্রাজিলিয়ান অভিনেতা ওয়াগনার মৌরা। রহস্য, অন্ধকার রসিকতা, ম্যাজিক্যাল রিয়ালিজম এবং পপ সংস্কৃতির মিশেলে নির্মিত ছবিটির গল্পে দেখা যায়, ১৯৬৪ থেকে ১৯৮৫ সালের সামরিক শাসনের রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে এক বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপককে ভাড়াটে খুনিরা অনুসরণ করছে। ওয়াগনার মৌরার সম্পূর্ণ নাম ওয়াগনার ম্যানিকোবা দে মৌরা। এই ব্রাজিলিয়ান অভিনেতা ও চলচ্চিত্র নির্মাতা এ পর্যন্ত গোল্ডেন গ্লোব, কান চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং পাঁচটি ব্রাজিলিয়ান একাডেমি চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন। এছাড়া একাডেমি অ্যাওয়ার্ডস, অ্যানি অ্যাওয়ার্ডস ও ক্রিটিকস চয়েস অ্যাওয়ার্ডসের জন্য মনোনয়নও পেয়েছেন। এই চলচ্চিত্র ব্রাজিলের তুলনামূলকভাবে প্রান্তিক উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে বিরলভাবে আলোচনায় এনেছে। এতে অঞ্চলটির লোকজ ঐতিহ্যের আভাস যেমন রয়েছে, তেমনি এটিকে আধুনিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক পরিমণ্ডল হিসেবেও তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি এতে রেসিফের কম পরিচিত ব্রুটালিস্ট স্থাপত্যও দেখানো হয়েছে। ইতিহাসবিদ দুরভাল মুনিজ ডি আলবুকার্ক জুনিয়র বলেছেন যে ছবিটি টেলিভিশনে প্রায়শই দেখানো উত্তর-পূর্বের একটি ‘প্রথাগত’ চিত্রকে ভেঙে দেয়, যা একটি ‘ব্যঙ্গচিত্রিত, নিম্নমানের, পশ্চাদপদ এবং ঐতিহ্যবাহী’ স্থান হিসাবে দেখা যায়। চলচ্চিত্রটির পরিচালক ক্লেবার মেন্ডোনকা ফিলহো, রেসিফেরই বাসিন্দা। তিনি এএফপি’কে বলেন, ‘ঐতিহাসিকভাবে অডিওভিজ্যুয়াল প্রযোজনা সবসময়ই দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের রিও ডি জেনিরো ও সাও পাওলোয় কেন্দ্রিক ছিল। এখন স্পটলাইট ও মাইক্রোফোন অন্যত্র চলে যাওয়া সত্যিই দারুণ বিষয়।’ ইতিহাসবিদ দুরভাল মুনিজ ডি আলবুকার্ক জুনিয়র বলেন, চলচ্চিত্রটি টেলিভিশনে প্রায়ই দেখানো উত্তর-পূর্বাঞ্চল সম্পর্কে প্রচলিত ‘স্টেরিওটাইপ’ ধারণা ভেঙে দিয়েছে। সেখানে অঞ্চলটিকে প্রায়ই ‘কার্টুনধর্মী, নিকৃষ্ট, পিছিয়ে পড়া ও প্রথাগত’ হিসেবে দেখানো হতো। ট্যুর গাইড রডারিক জর্দাও বলেন, ‘এই চলচ্চিত্র রেসিফেকে এমনভাবে আলোচনায় এনেছে, যা কোনো সরকারি প্রচারাভিযানেও সম্ভব হতো না।’ চলচ্চিত্রটি দুটি গোল্ডেন গ্লোব এওয়ার্ডস জয়ের পরই জনপ্রিয়তা পায়। প্রায় ১০ দিন পর অস্কার মনোনয়ন ঘোষণার পর ট্যুরের চাহিদা আরও বেড়ে যায়। তিনি জানান, পের্নাম্বুকে রাজ্যসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে। ২২ বছর বয়সী অভিনেতা টমাস সান্তা রোজা ছবিটি দেখার পর রিওডিজেনেরিও থেকে রেসিফে ভ্রমণে আসেন। তিনি বলেন, ‘সাধারণত উল্টোটা ঘটে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের শিল্পীদের কাজের জন্য বা সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা নিতে দক্ষিণ-পূর্বে যেতে হয়। এখন সেই ধারা উল্টে যাওয়া দারুণ রোমাঞ্চকর।’ ট্যুরের একটি জনপ্রিয় গন্তব্য হলো প্রায় ২০০ বছর পুরোনো স্কুল জিনাসিও পের্নাম্বুকানো। চলচ্চিত্রে এটিকে একটি সিভিল রেজিস্ট্রি অফিস হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান আন্তনিও রোজা বলেন, চলচ্চিত্রটি ‘বিশাল প্রভাব’ ফেলেছে।
তুরস্কের উত্তরাঞ্চলীয় Tokat Province প্রদেশে শুক্রবার সকালে ৫.৫ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। দেশটির দুর্যোগ ও জরুরি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ Disaster and Emergency Management Authority (এএফএডি) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। এএফএডির প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূগর্ভে প্রায় ৬.৩৭ কিলোমিটার (প্রায় ৩.৯৫ মাইল) গভীরে। কম্পনের কেন্দ্রস্থল ছিল তোকাত প্রদেশেই। ভূমিকম্পের ঝাঁকুনি আশপাশের কয়েকটি এলাকাতেও অনুভূত হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এখন পর্যন্ত কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। ভবন বা অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতির বিষয়েও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত রয়েছে। ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় Turkey-এ প্রায়ই ছোট-বড় ভূকম্পন অনুভূত হয়। সম্প্রতি দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে শক্তিশালী ৭.৮ মাত্রার ভূমিকম্পে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটে এবং ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের সৃষ্টি হয়। সেই ঘটনার পর থেকে দেশজুড়ে ভূমিকম্প নিয়ে সতর্কতা আরও জোরদার করা হয়েছে। এএফএডির বরাতে তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা Anadolu Agency জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তা দ্রুত জানানো হবে।