বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে অপহরণের ৪৮ ঘণ্টা পর আট লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে জিম্মিদশা থেকে মুক্তি পেয়েছেন রিদুয়ানুল করিম মিন্টু নামে এক কৃষক।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সন্ধ্যা ৭টার দিকে তাকে ছেড়ে দেয় অপহরণকারীরা। মুক্তি পেয়েই রাতে রামুর গর্জনিয়ার জাউচপাড়া গ্রামে নিজ বাড়িতে ফেরেন তিনি।
গত রোববার (২৯ মার্চ) রাতে নাইক্ষ্যংছড়ির বাইশারী ইউনিয়নের লতাবনিয়া উঠুনি নামক এলাকা থেকে কৃষক মিন্টুকে অপহরণ করে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা। মিন্টু নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের বাইশারীর লংগদুর মুখের লম্বাচর এলাকায় তামাক ও সবজি চাষ করতেন। ঘটনার দিন কাজ শেষ করে বাড়িতে ফেরার পথে অপহরণকারীদের কবলে পড়েন তিনি।
নিজ বাড়িতে ফিরে বুধবার (১ মার্চ) সকালে মিন্টু বলেন, ‘৭ জন বাঙালি ও ৪ জন উপজাতি অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী আমাকে অপহরণ করে। অপহরণের পর থেকে পাহাড়ি এলাকায় শিকল দিয়ে বেঁধে রাখে। ব্যাপক মারধর ও নির্যাতন করেছে।’
তিনি বলেন, অপহরণের পর ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ চায় সন্ত্রাসীরা। পরে দরকষাকষি শেষে আট লাখ টাকা মুক্তিপণ দেওয়ার পর মুক্তি মিলেছে। মোবাইল ফোনে খবর পাঠানোর পর পরিবারের পক্ষে বোনের স্বামী ছুরুত আলম ঘরের এবং আত্মীয়স্বজনের স্বর্ণ বিক্রি করে সেই আট লাখ টাকা অপহরণকারীদের দিয়েছেন।
মিন্টু জানান, অপহরণকারীদের মধ্যে কয়েকজনকে তিনি চিনতে পেরেছেন। এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি।
এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, কৃষককে অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের বিষয়টি জেনেছি। অপহৃত ব্যক্তি আইনের আশ্রয় নিতে চাইলে প্রশাসন সহায়তা করবে।
সপ্তাহ দুয়েক আগে একই গ্রামের কৃষক কবির আহমদের ছেলে রিয়াজুল হক ও তার কাজের ছেলে রবিউলকে অপহরণ করে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায় করে পাহাড়ি সন্ত্রাসীরা। এর আগে বৃদ্ধ আলী আকবর নামে এক ব্যক্তি অপহরণের শিকার হয়েছিলেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
আজ (১ এপ্রিল) শুরু হচ্ছে সুন্দরবনে দুই মাসব্যাপী মধু আহরণ মৌসুম, যা চলবে আগামী ৩১ মে পর্যন্ত। তবে বনদস্যুর নির্যাতন ও মুক্তিপণ দাবির ভয়কে সঙ্গে নিয়ে যাত্রা করতে হচ্ছে তাদের। খুলনার কয়রার মৌয়াল আবুল কালাম জানান, বন বিভাগকে কর দিয়ে অনেক আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে আজ সুন্দরবনের মধু আহরণ মৌসুমের উদ্বোধন। তিনি বলেন, পৃথিবীজুড়ে সুন্দরবনের মধুর বিশেষ চাহিদা রয়েছে। কিন্তু এই মধু সংগ্রহের পথে পথে মৌয়ালদের রয়েছে অনেক বাধা। বাঘের আক্রমণ এর মধ্যে অন্যতম। মধু সংগ্রহে গিয়ে এই বাঘের আক্রমণে প্রাণ হারিয়েছেন কয়রা, দাকোপ ও সাতক্ষীরার দেড় শতাধিক মৌয়াল। এবার তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বনদস্যু আতঙ্ক। আবুল কালাম বলেন, সুন্দরবনে এখন বাঘের আঘাতে মৃত্যু ভয়ের তুলনায় বনদস্যুর নির্মম নির্যাতন ও তাদের মুক্তিপণ দাবির ভয় অনেক বড়। হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে আহরণ করা মধু ছিনিয়ে নেওয়ার ভয়ও রয়েছে। বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এ বছর সুন্দরবন পশ্চিমে খুলনা রেঞ্জে ৭০০ কুইন্টাল মধু ও ২১০ কুইন্টাল মোম এবং সাতক্ষীরা রেঞ্জে ১১০০ কুইন্টাল মধু এবং ৬০০ কুইন্টাল মোম আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এখান থেকে প্রায় ৩০ লাখ টাকা রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সূত্র জানায়, পূর্ব সুন্দরবন থেকে মধু আহরণকারী মৌয়ালের সংখ্যা এক হাজার ৩০০। এ বছর ৭০০ কুইন্টাল মধু, ২০০ কুইন্টাল মোম আহরণ এবং এই খাত থেকে প্রায় ২০ লাখ টাকা রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতি কুইন্টাল মধুর জন্য মৌয়ালদের এক হাজার ৬০০ টাকা এবং মোমের জন্য দুই হাজার ৪০০ টাকা রাজস্ব দিতে হবে। প্রাথমিকভাবে খুলনা ও সাতক্ষীরা রেঞ্জের বিভিন্ন গাছে ফুটেছে রংবেরঙের ফুল, যার কারণে মৌমাছিরা মধু সংগ্রহে মুখরিত। মৌয়ালরা প্রধানত খলিশা, গরান, পশুর ও হারগোজা গাছের ফুলের মধু সংগ্রহ করবেন। সুন্দরী ও গেওয়া গাছে ফুল মে মাসের শেষে ফোটে। কিন্তু জুন থেকে তিন মাসের জন্য বনজসম্পদ আহরণের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকায় এই ফুলের মধু সংগ্রহের অনুমতি পান না। কয়রার মহেশ্বরীপুর এলাকার মৌয়াল আবু ইছা ও আফজাল হোসেন জানান, গত বছর ১২ সদস্যের দলের প্রত্যেক সদস্য দুই মণের বেশি মধু পেয়েছিলেন। মৌসুমে খরচ প্রতিজন প্রায় ১০ হাজার থেকে ১৩ হাজার টাকা। আর দুই মণ মধু বিক্রি করে আয় হতো প্রায় ৮০ হাজার টাকা। এ বছর আট সদস্য নিয়ে দলবেঁধে বন বিভাগ থেকে পাশ নিয়ে প্রথম দিনেই মধু আহরণের উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন। বনদস্যুদের উৎকোচ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য মূলের দাম বৃদ্ধি, মৌসুম শুরুর আগে চুরি করে মধু সংগ্রহ, মোটা সুদে মহাজনের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নেওয়াসহ এ বছর আশানারূপ বৃষ্টি না হওয়ায় কাঙ্ক্ষিত মধু না পেলে লোকসানের চিন্তায় রয়েছেন তারা। পাশ (অনুমতি পত্র) নিতে আসা কাশিয়াবাদ ফরেস্ট স্টেশনসংলগ্ন শাকবাড়িয়া নদীতে নৌকায় অবস্থানরত ৬ নম্বর কয়রা গ্রামের মৌয়াল মোস্তফা শেখ বলেন, প্রতিবছরই জীবনের ঝুঁকি নিয়েই মধু সংগ্রহ করতে হয় তাদের। বনের ভেতর রয়েল বেঙ্গল টাইগার, বিষধর সাপসহ নানা বন্যপ্রাণীর পাশাপাশি প্রতিকূল পরিবেশ তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এছাড়া সম্প্রতি সময়ে বনদস্যুদের উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় তারা শঙ্কিত এবং মৃত্যুভয় উপেক্ষা করেই তারা জীবনের তাগিদে মধু আহরণে যাচ্ছেন বলে জানান এ মৌয়াল। তিনি জানান, মুক্তিপণের দাবিতে একদিন আগেও এজন জেলেকে অপহরণ করেছে বনদস্যুরা।পরে কোস্টগার্ডের অভিযানে উদ্ধার হন ওই জেলে। সুন্দরবনে মৌয়ালদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান তিনি। মৌয়াল পরিবার ও বাঘ বিধবাদের নিয়ে কাজ করেন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ইনিশিয়েটিভ ফর কোস্টাল ডেভেলপমেন্ট (আইসিডি)-এর প্রতিষ্ঠাতা মো. আশিকুজ্জামান বলেন, আমরা যারা সুন্দরবনের মধু খেতে ভালোবাসি বা মধু খাই, আমরা কী জানি যারা এই মধু সংগ্রহ করেন, তাদের কী পরিমাণ ঝুঁকি নিতে হয়? এই মৌয়ালদের দুই মাসের মধু সংগ্রহ মৌসুমে খেতে হবে জঙ্গলের ভেতর। ভাত পাবেন না। সঙ্গে থাকা চিড়া ভিজিয়ে খাবেন গুড় দিয়ে। দল ছাড়া হয়ে প্রস্রাব-পায়খানা করার সময় বহু মৌয়ালকে বাঘ কুমিরের পেটে যেতে হয়েছে। রয়েছে বিষাক্ত সাপের কামড়ের ভয়। পুরনো আতঙ্ক থাকলেও এবার মুক্তিপণের দাবিতে বনদস্যুদের অপহরণ ও নির্মম নির্যাতনে বনদস্যু বাহিনীগুলোর তৎপরতা বেড়েছে। এ কারণে তাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। আমেন খাতুন জানান, মধু সংগ্রহ করতে গিয়ে কয়রা ও পার্শ্ববর্তী উপজেলাতে কতশত মৌয়ালের প্রাণ গেছে তাদের খোঁজ নেয় না কেউ। দেয় না প্রয়োজনীয় সাহায্য সহযোগিতা। এই সুন্দরবন উপকূলে রয়েছে এমন শতশত বাঘবিধবা যাদের স্বামীরা গেছে বাঘের পেটে। তারা এখনও অন্য মৌয়ালদের কথা চিন্তা করে। যারা বাঘ বিধবা হয়নি সেসব নারীরা এতিম না হওয়া সন্তানরা চোখের পানিতে বিদায় দেয় মৌয়ালদের মধু সংগ্রহে যাওয়ার সময়। পশ্চিম সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) এ জেড এম হাসানুর রহমান জানান, মৌয়ালদের ১৪ দিন করে পাস দেওয়া হচ্ছে। মৌয়ালদের জন্য বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যেমন মধু সংগ্রহে অগ্নিকুণ্ডলি সৃষ্টি না করা বা রাসায়নিক ব্যবহার না করা, বনজসম্পদের ক্ষতি না করা, বন্যপ্রাণী শিকার না করা। নির্দেশনা অমান্য করলে বন আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সুন্দরবনে মৌয়ালদের নির্বিঘ্নে মধু আহরণ ও সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বন বিভাগের টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
নাটোরের লালপুরে অবৈধভাবে কনটেইনারে জ্বালানি তেল বিক্রির চিত্র ধারণ করায় ওমর ফারুক নামে এক সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাতে উপজেলার কদিমচিলান এলাকার সাদিয়া ফিলিং স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে। আহত সাংবাদিক ওমর ফারুক বর্তমানে লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি এশিয়ান টেলিভিশনের লালপুর উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত। ভুক্তভোগী সাংবাদিক ওমর ফারুক জানান, ঘটনাস্থলে সাধারণ গ্রাহকদের মোটরসাইকেলে মাত্র ১০০ টাকার তেল সরবরাহ করা হচ্ছিল। অথচ একই সময়ে তিনটি ৫০ লিটারের কনটেইনারে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল দেওয়া হচ্ছিল। এ অনিয়মের ভিডিও ধারণ করতে গেলে স্থানীয় বিএনপি নেতা, কদিমচিলান ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি আব্দুল বারী তাকে বাধা দেন এবং গালিগালাজ করেন। একপর্যায়ে সেখানে উপস্থিত কয়েকজন ব্যক্তি পুলিশের সামনেই অতর্কিতভাবে তার ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাকে কিল-ঘুষি মেরে গুরুতর আহত করে। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে তাকে লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপি নেতা আব্দুল বারী হামলার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করে বলেন, তিনি কেবল ভিডিও ধারণে নিষেধ করেছিলেন। পরে অন্যরা তাকে মারধর করে। নাটোরের লালপুরে অবৈধভাবে কনটেইনারে জ্বালানি তেল বিক্রির চিত্র ধারণ করায় ওমর ফারুক নামে এক সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাতে উপজেলার কদিমচিলান এলাকার সাদিয়া ফিলিং স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে। আহত সাংবাদিক ওমর ফারুক বর্তমানে লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি এশিয়ান টেলিভিশনের লালপুর উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত। ভুক্তভোগী সাংবাদিক ওমর ফারুক জানান, ঘটনাস্থলে সাধারণ গ্রাহকদের মোটরসাইকেলে মাত্র ১০০ টাকার তেল সরবরাহ করা হচ্ছিল। অথচ একই সময়ে তিনটি ৫০ লিটারের কনটেইনারে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল দেওয়া হচ্ছিল। এ অনিয়মের ভিডিও ধারণ করতে গেলে স্থানীয় বিএনপি নেতা, কদিমচিলান ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি আব্দুল বারী তাকে বাধা দেন এবং গালিগালাজ করেন। একপর্যায়ে সেখানে উপস্থিত কয়েকজন ব্যক্তি পুলিশের সামনেই অতর্কিতভাবে তার ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাকে কিল-ঘুষি মেরে গুরুতর আহত করে। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে তাকে লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপি নেতা আব্দুল বারী হামলার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করে বলেন, তিনি কেবল ভিডিও ধারণে নিষেধ করেছিলেন। পরে অন্যরা তাকে মারধর করে।
নাটোর শহরের ‘নাটোর পেট্রোলিয়াম এজেন্সি’ নামের একটি ফিলিং স্টেশনে বোতলে তেল না দেওয়ায় পাম্প কর্মীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাতে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগীর নাম সানু রায়। তিনি ওই ফিলিং স্টেশনে সেলসম্যান হিসেবে কাজ করতেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতে শাহীন নামের এক ব্যক্তি ওই পাম্পে এসে বোতলে করে তেল নিতে চান।সরকারি ও নিরাপত্তাজনিত বিধিনিষেধের কারণে সেলসম্যান সানু রায় বোতলে তেল দিতে অস্বীকৃতি জানান। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি হয়। এর কিছুক্ষণ পর শাহীন একটি কাঠ নিয়ে এসে সানুর ওপর হামলা চালান। পরে আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। নাটোর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনার পর এলাকায় কিছুটা উত্তেজনা বিরাজ করছিল, তবে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।