অপেক্ষা ছিল দীর্ঘ ৫২ বছরের। নাম বদলেছে, প্রজন্ম বদলেছে, কিন্তু স্বপ্নটা থেকে গিয়েছিল একই। অবশেষে সেই স্বপ্ন পূরণ করল কঙ্গো। প্লে-অফ ফাইনালের অতিরিক্ত সময়ের নাটকীয় জয়ে জ্যামাইকাকে হারিয়ে আবারও বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরছে আফ্রিকার এই দল।
১৯৭৪ সালে ‘জাইর’ নামে একবার বিশ্বকাপে খেলেছিল তারা। এরপর দীর্ঘ বিরতি। এবার নতুন পরিচয়ে, নতুন দল নিয়ে ইতিহাসে ফেরার দরজা খুলে গেল তাদের সামনে।
বুধবার (০১ এপ্রিল) ভোর ৩টায় শুরু হওয়া প্লে-অফ ফাইনালটা ছিল শুরু থেকেই জমজমাট। ম্যাচের মাত্র চার মিনিটেই এগিয়ে যেতে পারত কঙ্গো, কিন্তু বাকাম্বুর হেড অফসাইডে বাতিল হয়। এরপরও আক্রমণ থামায়নি তারা। একের পর এক ক্রস আর লং বল দিয়ে চাপ তৈরি করে গেছে জ্যামাইকার রক্ষণে।
জ্যামাইকাও পিছিয়ে ছিল না। মাঝামাঝি সময়ে কেসি পামারের শট প্রতিহত করতে হয় কঙ্গোর ডিফেন্ডারদের। আর গোলরক্ষক ব্লেক বারবার বাঁচিয়েছেন দলকে, বিশেষ করে এলিয়ার একাধিক আক্রমণে।
প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকলেও সুযোগের কমতি ছিল না। দ্বিতীয়ার্ধেও একই চিত্র। কঙ্গো বল দখলে রেখে আক্রমণ চালিয়ে গেছে, তবে শেষ মুহূর্তে ঠিকানা খুঁজে পাচ্ছিল না শটগুলো। জ্যামাইকা পাল্টা আক্রমণে ভয় দেখালেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধীরে ধীরে কঙ্গোর দিকেই ঝুঁকে যায়।
নির্ধারিত সময়ের শেষ দিকে কয়েকটি ভালো সুযোগ পেয়েও গোল করতে পারেনি কেউ। ফলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।
সেখানেই আসে সেই কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত। ১০১ মিনিটে কর্নার থেকে আসা বলে হেড করে জালে পাঠান তুয়ানজেবে। গোলটি নিশ্চিত হতে কিছুটা সময় নেয় ভিএআরের সিদ্ধান্তে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটিই হয়ে ওঠে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণী মুহূর্ত।
গোল হজমের পর মরিয়া হয়ে ওঠে জ্যামাইকা। শেষ দিকে কয়েকটি আক্রমণ তুললেও কঙ্গোর রক্ষণভাগ ভেঙে ফেলা যায়নি।
শেষ বাঁশি বাজতেই শুরু হয় উদ্যাপন। কঙ্গোর ফুটবলে নতুন অধ্যায়, বিশ্বমঞ্চে ফিরে আসার আনন্দ।
এই জয় শুধু একটি ম্যাচ জেতা নয়, এটি এক দীর্ঘ ইতিহাসের পরিসমাপ্তি। ৫২ বছর আগে যে গল্প শুরু হয়েছিল, সেটিই আবার নতুন করে লিখতে প্রস্তুত কঙ্গো—এবার ভিন্ন নামে, ভিন্ন পরিচয়ে, কিন্তু একই স্বপ্ন নিয়ে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অপেক্ষা ছিল দীর্ঘ ৫২ বছরের। নাম বদলেছে, প্রজন্ম বদলেছে, কিন্তু স্বপ্নটা থেকে গিয়েছিল একই। অবশেষে সেই স্বপ্ন পূরণ করল কঙ্গো। প্লে-অফ ফাইনালের অতিরিক্ত সময়ের নাটকীয় জয়ে জ্যামাইকাকে হারিয়ে আবারও বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরছে আফ্রিকার এই দল। ১৯৭৪ সালে ‘জাইর’ নামে একবার বিশ্বকাপে খেলেছিল তারা। এরপর দীর্ঘ বিরতি। এবার নতুন পরিচয়ে, নতুন দল নিয়ে ইতিহাসে ফেরার দরজা খুলে গেল তাদের সামনে। বুধবার (০১ এপ্রিল) ভোর ৩টায় শুরু হওয়া প্লে-অফ ফাইনালটা ছিল শুরু থেকেই জমজমাট। ম্যাচের মাত্র চার মিনিটেই এগিয়ে যেতে পারত কঙ্গো, কিন্তু বাকাম্বুর হেড অফসাইডে বাতিল হয়। এরপরও আক্রমণ থামায়নি তারা। একের পর এক ক্রস আর লং বল দিয়ে চাপ তৈরি করে গেছে জ্যামাইকার রক্ষণে। জ্যামাইকাও পিছিয়ে ছিল না। মাঝামাঝি সময়ে কেসি পামারের শট প্রতিহত করতে হয় কঙ্গোর ডিফেন্ডারদের। আর গোলরক্ষক ব্লেক বারবার বাঁচিয়েছেন দলকে, বিশেষ করে এলিয়ার একাধিক আক্রমণে। প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকলেও সুযোগের কমতি ছিল না। দ্বিতীয়ার্ধেও একই চিত্র। কঙ্গো বল দখলে রেখে আক্রমণ চালিয়ে গেছে, তবে শেষ মুহূর্তে ঠিকানা খুঁজে পাচ্ছিল না শটগুলো। জ্যামাইকা পাল্টা আক্রমণে ভয় দেখালেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধীরে ধীরে কঙ্গোর দিকেই ঝুঁকে যায়। নির্ধারিত সময়ের শেষ দিকে কয়েকটি ভালো সুযোগ পেয়েও গোল করতে পারেনি কেউ। ফলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। সেখানেই আসে সেই কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত। ১০১ মিনিটে কর্নার থেকে আসা বলে হেড করে জালে পাঠান তুয়ানজেবে। গোলটি নিশ্চিত হতে কিছুটা সময় নেয় ভিএআরের সিদ্ধান্তে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটিই হয়ে ওঠে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণী মুহূর্ত। গোল হজমের পর মরিয়া হয়ে ওঠে জ্যামাইকা। শেষ দিকে কয়েকটি আক্রমণ তুললেও কঙ্গোর রক্ষণভাগ ভেঙে ফেলা যায়নি। শেষ বাঁশি বাজতেই শুরু হয় উদ্যাপন। কঙ্গোর ফুটবলে নতুন অধ্যায়, বিশ্বমঞ্চে ফিরে আসার আনন্দ। এই জয় শুধু একটি ম্যাচ জেতা নয়, এটি এক দীর্ঘ ইতিহাসের পরিসমাপ্তি। ৫২ বছর আগে যে গল্প শুরু হয়েছিল, সেটিই আবার নতুন করে লিখতে প্রস্তুত কঙ্গো—এবার ভিন্ন নামে, ভিন্ন পরিচয়ে, কিন্তু একই স্বপ্ন নিয়ে।
অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি লেগ স্পিনার শেন ওয়ার্ন মাঠে তার অসাধারণ বোলিং দক্ষতার জন্য যেমন বিখ্যাত ছিলেন, তেমনি মাঠের বাইরেও তার দূরদর্শিতা ছিল অনন্য। ২০০৮ সালে আইপিএলের প্রথম আসরে রাজস্থান রয়্যালসের অধিনায়ক হিসেবে যোগ দেওয়ার সময় তিনি এমন এক চুক্তি করেছিলেন, যার আর্থিক সুফল ১৮ বছর পর তার পরিবারের হাতে পৌঁছাতে যাচ্ছে। আইপিএলের উদ্বোধনী মৌসুমে রাজস্থান রয়্যালসের দায়িত্ব নেওয়ার সময় ওয়ার্ন শুধু দলের অধিনায়কই হননি, বরং তাকে দলের ক্রিকেট সংক্রান্ত সব সিদ্ধান্ত নেয়ার পূর্ণ স্বাধীনতাও দেওয়া হয়। কোচিং থেকে শুরু করে দল পরিচালনা সব কিছুতেই তার একচ্ছত্র কর্তৃত্ব ছিল। এই বিশেষ ভূমিকার পাশাপাশি চুক্তিতে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা যুক্ত করা হয়েছিল, যা তখন খুব একটা আলোচনায় না এলেও এখন তার মূল্য স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। চুক্তি অনুযায়ী, রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে প্রতি মৌসুম খেলার জন্য ওয়ার্নকে ফ্র্যাঞ্চাইজিটির ০.৭৫ শতাংশ করে মালিকানা শেয়ার দেওয়া হতো। তিনি মোট চার মৌসুম আইপিএল খেলেন। ফলে সময়ের সঙ্গে তার মোট মালিকানা দাঁড়ায় ৩ শতাংশে। তার নেতৃত্বেই ২০০৮ সালে প্রথম আসরেই শিরোপা জেতে রাজস্থান, যা আইপিএলের ইতিহাসে অন্যতম চমকপ্রদ সাফল্য হিসেবে বিবেচিত। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি কনসোর্টিয়ামের কাছে প্রায় ১.৬৩ বিলিয়ন ডলারে রাজস্থান রয়্যালস বিক্রি হওয়ার খবর প্রকাশ্যে আসে। এই বিপুল অঙ্কের লেনদেনের পরই সক্রিয় হয় ওয়ার্নের সেই পুরনো চুক্তির ধারা। বর্তমান বাজারমূল্য অনুযায়ী, তার ৩ শতাংশ শেয়ারের মূল্য দাঁড়িয়েছে আনুমানিক ৪৬০ কোটি ভারতীয় রুপি, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা ৫৮৯ কোটি টাকার বেশি। জানা গেছে, এ বছর আইপিএল মৌসুম শেষে ওয়ার্নের পরিবার এই শেয়ার বিক্রি করে নগদ অর্থ গ্রহণ করতে পারবে। তবে এর জন্য ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) আনুষ্ঠানিক অনুমোদন প্রয়োজন হবে। সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে তার পরিবার এই বিপুল অর্থের মালিক হবে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ২০০৮ সালে মাত্র ৬৭ মিলিয়ন ডলারে কেনা হয়েছিল রাজস্থান রয়্যালস ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। সময়ের ব্যবধানে দলটির মূল্য কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়ে এখন হাজার কোটি রুপির ঘরে পৌঁছেছে। এই উত্থানই ওয়ার্নের শেয়ারের বর্তমান বিশাল মূল্য নির্ধারণে প্রধান ভূমিকা রেখেছে। ২০২২ সালের ৪ মার্চ থাইল্যান্ডের কোহ সামুই দ্বীপে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ৫২ বছর বয়সে মারা যান শেন ওয়ার্ন। তার মৃত্যু বিশ্ব ক্রিকেটে গভীর শোকের ছায়া ফেলেছিল। তবে তার জীবদ্দশায় নেওয়া বিচক্ষণ আর্থিক সিদ্ধান্ত আজও তার পরিবারের জন্য বড় আশীর্বাদ হয়ে উঠছে।
বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সফল ওপেনার Tamim Iqbal। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে লাল-সবুজের জার্সি গায়ে দীর্ঘ সময় দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন তিনি। জাতীয় দলের হয়ে তিন সংস্করণেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এই বাঁহাতি ওপেনার দীর্ঘদিন দলের নেতৃত্বও দিয়েছেন। ২০২৩ সালের বিশ্বকাপের আগে হঠাৎ করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দেন তামিম। যদিও পরে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে একটি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছিলেন তিনি। তবে নানা জটিলতায় শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপে খেলা হয়নি তার। এরপর আর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরেননি এই তারকা ব্যাটার। এরই মধ্যে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে খেলতে গিয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন তামিম। ম্যাচ চলাকালে তিনি বড় ধরনের হৃদ্রোগে আক্রান্ত হন। পরে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার পর সুস্থ হলেও সেই ঘটনার পর থেকে প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেট থেকে দূরেই আছেন তিনি। তবে মাঠের বাইরে থেকেও ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন তামিম। বিশেষ করে ক্লাব ক্রিকেটে একজন সংগঠক হিসেবে বেশ সক্রিয় ভূমিকা রাখতে দেখা যাচ্ছে তাকে। সম্প্রতি একটি পডকাস্টে অংশ নিয়ে তিনি ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার ইচ্ছার কথাও প্রকাশ করেছেন। পডকাস্টে তাকে প্রশ্ন করা হয়, তিনি কি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি হতে চান? জবাবে তামিম বলেন, সুযোগ এলে অবশ্যই তিনি সেই দায়িত্ব নিতে আগ্রহী। নিজের যোগ্যতা প্রসঙ্গে তিনি জানান, ক্রিকেটের সঙ্গে দীর্ঘদিন যুক্ত থাকার কারণে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের সামর্থ্য তার রয়েছে বলে তিনি মনে করেন। সাবেক এই অধিনায়ক বলেন, ক্রিকেটাঙ্গনের অনেকেই তার সংগঠক হিসেবে কাজ করার ধারণা সম্পর্কে জানেন। তার মতে, শুধু অভিজ্ঞতা বা বয়সই নয়, একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সৎ উদ্দেশ্য ও আন্তরিকতা। তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা বোর্ড পরিচালনা করেছেন, কিন্তু তাতে সবসময় প্রত্যাশিত উন্নতি হয়নি। তাই একবার নতুন ও তুলনামূলক অনভিজ্ঞদের ওপরও আস্থা রাখার সুযোগ দেওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে Bangladesh Cricket Board–এও পরিবর্তনের আভাস দেখা যাচ্ছে। সেই পরিস্থিতিতে ভবিষ্যতে তামিম ইকবালের এই ইচ্ছা বাস্তবে রূপ নেয় কি না, তা নিয়েই এখন আলোচনা চলছে ক্রিকেট মহলে।