বিদেশফেরত প্রবাসীরা এখন মোট তিনটি মোবাইল ফোন ট্যাক্স ছাড়াই দেশে আনতে পারবেন যাদের জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) রেজিস্ট্রেশন কার্ড আছে। একই সঙ্গে ক্লোন মোবাইল, চুরি বা ছিনতাই করা ফোন এবং রিফারবিশড মোবাইল আমদানি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
১ ডিসেম্বর সচিবালয়ে এনবিআর, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ এবং বিটিআরসির যৌথ বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় আরও সাতটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভার সিদ্ধান্তসমূহ
১. দেশে ছুটি কাটাতে আসা প্রবাসীরা ৬০ দিন পর্যন্ত স্মার্টফোন রেজিস্ট্রেশন ছাড়াই ব্যবহার করতে পারবেন। ৬০ দিনের বেশি অবস্থান করলে ফোন রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক।
২. বিএমইটি কার্ডধারী প্রবাসীরা মোট তিনটি ফোন ফ্রিতে আনতে পারবেন নিজের ব্যবহারের ফোনসহ অতিরিক্ত দুটি নতুন ফোন। চতুর্থ ফোন থেকে ট্যাক্স প্রযোজ্য হবে।
যাদের বিএমইটি কার্ড নেই, তারা নিজের ব্যবহারের ফোনের সঙ্গে অতিরিক্ত একটি নতুন ফোন ট্যাক্স ছাড়াই আনতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে বিদেশে ক্রয়ের বৈধ কাগজ রাখতে হবে, যাতে চোরাচালান প্রতিরোধ করা যায়।
৩. স্মার্টফোনের বৈধ আমদানিতে আরোপিত ৬১% শুল্ক উল্লেখযোগ্য হারে কমানো হবে। এতে মোবাইলের দাম কমে আসবে এবং বৈধ আমদানি বাড়বে।
৪. আমদানি শুল্ক কমানো হলে দেশের স্থানীয় মোবাইল উৎপাদনকারী কারখানাগুলোর শুল্ক–ভ্যাটও সমন্বয় করা হবে, যাতে প্রতিযোগিতায় ক্ষতি না হয়। এ বিষয়ে বিটিআরসি, এনবিআর এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয় যৌথভাবে কাজ করছে।
৫. নিজের নামে নিবন্ধিত সিম ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কোনো অনলাইন স্ক্যাম, সাইবার অপরাধ বা মোবাইল ব্যাংকিং সংক্রান্ত অপরাধে নিজের নামে নিবন্ধিত সিম ব্যবহার হচ্ছে কিনা তা নিয়ে সতর্ক থাকতে হবে।
ক্লোন ফোন, চোরাই ফোন এবং রিফারবিশড ফোন আমদানি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা হবে।
৬. ১৬ ডিসেম্বরের আগে অবৈধ পথে আমদানিকৃত স্টক ফোনগুলোর বৈধ আইএমইআই থাকলে তালিকা জমা দিয়ে হ্রাসকৃত শুল্কে বৈধ করার সুযোগ দেওয়া হবে। তবে ক্লোন বা রিফারবিশড ফোনের ক্ষেত্রে কোনো সুবিধা মিলবে না।
৭. বর্তমানে ব্যবহৃত কোনো সচল মোবাইল ফোন ১৬ ডিসেম্বরের আগে বন্ধ করা হবে না—এ নিয়ে ছড়ানো গুজব সম্পর্কে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
১৬ ডিসেম্বর থেকে এনইআইআর কার্যক্রম চালু হবে, তাই বৈধ আইএমইআইবিহীন ফোন কেনা থেকে বিরত থাকতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। চোরাচালান ও অবৈধ আমদানি রোধে বিমানবন্দর ও স্থলবন্দরগুলোতে বিশেষ নজরদারি জোরদার করা হবে।
প্রস্তাবিত টেলিযোগাযোগ (সংশোধনী) অধ্যাদেশ ২০২৫ এ সিমের ই–কেওয়াইসি ও আইএমইআই রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত ডেটা সুরক্ষার কঠোর বিধান যোগ করা হয়েছে এবং উপাত্ত লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তির ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের আর্থিক হিসাব-নিকাশে স্বচ্ছতা আনার উদ্যোগে কিছুটা তাড়াহুড়ো হয়েছে বলে মনে করেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, এ বিষয়ে জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনাই করা হয়নি। বুধবার রাতে সিলেট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মাজারের সাম্প্রতিক বিষয় নিয়ে কথা বলেন তিনি। তবে মাজারের হিসাব ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতা নিশ্চিতের বিষয়ে জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে সরকারও একমত তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, “সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আমাদের সরকার ও সিলেটের সব সংসদ সদস্য এ ব্যাপারে একমত। মাজারের জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে। মাজারকে ঘিরে যে বিতর্ক ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে, তা দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়ে আরিফুল হক বলেন, “অতীতে কোনো ভুলত্রুটি বা অনিয়ম হয়ে থাকলেও, ভবিষ্যতে তা আর হবে না।” এর আগে বিকালে সিলেটে এসে ওসমানী বিমানবন্দরে একই বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন আরিফুল হক। ওই সময়ও একই রকম কথা বলেন। এসময় শাহজালালের (রহ.) মাজারের দানবাক্স খোলা ও সেখানে গচ্ছিত অর্থ প্রকাশ্যে গণনার পদক্ষেপ নেওয়ায় সিলেটের সদ্য সাবেক (প্রত্যাহার) জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমের প্রশংসা করেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, “উনি (সারওয়ার আলম) আমাদের চোখ খুলে দিয়েছেন। আমরা সেদিকেই জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করব। এ ধরনের (প্রকাশ্যে টাকা গণনা) স্বচ্ছতার পদক্ষেপে আমাদের সহযোগিতা করা প্রয়োজন। সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করব এবং সবাইকে নিয়ে মাজারের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করব। এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।” সারওয়ার আলমের নেতৃত্বে সিলেট জেলা প্রশাসন গত বৃহস্পতিবার শাহজালালের (রহ.) মাজারে নতুন কয়েকটি দানবাক্স স্থাপন করে। সঙ্গে মাজারে থাকা দানের ঐতিহাসিক তিনটি ডেগ ‘সিলগালা’ করা হয়। তখণ ‘নিরাপত্তার জন্য’ আনসারও মোতায়েন করা হয়, যা নিয়ে পরে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মাজার ভক্তরা। এর মধ্যেই পরদিন শুক্রবার সিলেটের আরেক মাজার হযরত শাহপরাণ (রহ.) এর মাজার পরিদর্শন করে সেটির আয়-ব্যয়ে স্বচ্ছতা, পরিকল্পিত উন্নয়ন ও মাদকের আসর বন্ধে বিভিন্ন নির্দেশনা দেন ডিসি সারওয়ার। মাজারের দানবাক্স নিয়ে এ আলোচনার মধ্যেই রোববার তাকে সিলেট থেকে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়। ডিসি সারওয়ারের বদলি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, “বদলির বিষয়টা রুটিন ওয়ার্ক। এটা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিষয়। এটা এই ঘটনার (মাজার ইস্যু) সঙ্গে সংযুক্ত হয়। এটা আগে, পরেও হতে পারত। এদিকে জুলাইয়ের মধ্যে মালয়েশিয়ায় শ্রমবাজার নিয়ে ‘সুখবর’ আসতে পারে বলেও আশা প্রকাশ করেন প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী। বলেন, “আগামী জুলাই মাসের মধ্যে মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশ সফর করবেন এবং চলমান বিভিন্ন বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি জনগণ দেখতে পাবেন।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. শরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে বাবার ‘ভুয়া’ মুক্তিযোদ্ধা সনদে চাকরি লাভ এবং কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রণালয়। গত ১৬ জুন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দপ্তর থেকে বেবিচক চেয়ারম্যানকে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব মাহবুবুর রহমান স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে দৈনিক যুগান্তরসহ জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদের সত্যতা যাচাই করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণপূর্বক মন্ত্রণালয়কে অবহিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়। গত ১১ জুন বাবার ‘ভুয়া’ মুক্তিযোদ্ধা সনদে ২৫ বছর ধরে চাকরি শিরোনামে প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে প্রকৌশলী শরিফুল ইসলামের জালিয়াতি ও অনিয়মের খতিয়ান উঠে আসে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল, শরিফুল ইসলাম ২০০১ সালে একটি বিতর্কিত ও ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ ব্যবহার করে বেবিচকে সহকারী প্রকৌশলী পদে নিয়োগ পান। অনুসন্ধানে দেখা যায়, গোপালগঞ্জ জেলার গেজেটভুক্ত ৬৪০ জন মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় তার বাবার কোনো নাম নেই। এছাড়াও কর্মজীবনে ২০১৭ সালে কার্যালয়ের ফটক ও বিশ্রামাগার নির্মাণে আর্থিক অনিয়ম, কাওলায় বেবিচক কোয়ার্টারের রক্ষণাবেক্ষণে আড়াই কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং কক্সবাজার বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলা ও তদন্ত চলমান রয়েছে। এতসব গুরুতর অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও বিগত ৫ আগস্টের পট পরিবর্তনের পর রহস্যজনকভাবে তিনি নির্বাহী প্রকৌশলী থেকে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি পান। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার বিষয়ে বেবিচকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, মন্ত্রণালয়ের চিঠিটি তারা পেয়েছেন। এ বিষয়ে যথাযথ আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। দুদক এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, শরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট হওয়ায় এবারের তদন্তে তার বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা, এমনকি চাকরিচ্যুতির মতো সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
ব্যাংকিং খাতের অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে সৃষ্ট খেলাপি ঋণের অর্থ বিদেশ থেকে ফিরিয়ে আনতে আন্তর্জাতিক সংস্থাকে যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ৩০টি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ পুনরুদ্ধারে ৯টি আন্তর্জাতিক আইনি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নন-ডিসক্লোজার অ্যাগ্রিমেন্ট (এনডিএ) স্বাক্ষর করে ‘নো উইন, নো ফি’ ভিত্তিতে নিয়োগপ্রক্রিয়া শুরু করেছে। প্রথম ধাপে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, বিতর্কিত ব্যবসায়ী এস আলম এবং শিল্প গ্রুপ বেক্সিমকো, সিকদার, নাসা ও ওরিয়ন–সংশ্লিষ্ট ছয়টি মামলায় এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আজ বুধবার জাতীয় সংসদে কুড়িগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক আইনি প্রতিষ্ঠানগুলো অভিযুক্ত ঋণখেলাপিদের বিদেশে থাকা অর্থ ও সম্পদ শনাক্ত করে তা দেশে ফিরিয়ে আনতে ব্যাংকগুলোকে আইনি সহায়তা দেবে। পরবর্তী সময়ে এ কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। বেলা তিনটায় জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। দিনের কার্যসূচি অনুযায়ী প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপিত হয়। চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহম্মেদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, দেশে বর্তমানে মোট ব্যাংক হিসাবের (অ্যাকাউন্ট) সংখ্যা ১৯ কোটি ৩২ লাখ ৫১ হাজার ২৩২। এর মধ্যে সঞ্চয়ী হিসাব ১৭ কোটি ৭৯ লাখ ৫০ হাজার ৪৬৫টি এবং ঋণ হিসাবের সংখ্যা ১ কোটি ৫৩ লাখ ৭৬৭টি। অর্থমন্ত্রী আরও জানান, ২০২৬ সালের মধ্যে শতভাগ প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে আর্থিক ব্যবস্থার আওতায় আনতে সরকার জাতীয় আর্থিক অন্তর্ভুক্তি কৌশল (এনএফআইএস) প্রণয়ন করেছে। বর্তমানে দেশে আর্থিক অন্তর্ভুক্তির হার ৬৪ দশমিক ৫০ শতাংশ। বৈদেশিক ঋণের স্থিতি ৭৮ দশমিক ২৩ বিলিয়ন ডলার জামালপুর-৩ আসনের মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ ৭৮ হাজার ২৩৩ দশমিক ৪৪৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে কনসেশনাল ঋণ (নমনীয় শর্তের ঋণ) ৬১ দশমিক ৯৭ শতাংশ এবং নন-কনসেশনাল ঋণ (কঠিন শর্তের ঋণ) ৩৮ দশমিক ০৩ শতাংশ। রাজস্বদাতার সংখ্যা বেড়ে ১ কোটি ৩৮ লাখ ময়মনসিংহ-৮ আসনের লুৎফুল্লাহেল মাজেদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে নিবন্ধিত রাজস্ব প্রদানকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১ কোটি ৩৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৬। আগের অর্থবছরের তুলনায় এ সংখ্যা ১১ দশমিক ৮৬ শতাংশ বেড়েছে। ১৪ লাখ কৃষকের ঋণ মওকুফ গাইবান্ধা-৪ আসনের মোহাম্মদ শামীম কায়সারের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ কর্মসূচির আওতায় চলতি অর্থবছরে ১ হাজার ৫৬৭ কোটি ৯৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এতে ১৪ লাখ ১৪ হাজার ৪৩১ জন কৃষক উপকৃত হয়েছেন। তারল্যসংকটে ব্যাংকগুলোকে ৭৫ হাজার কোটি টাকার সহায়তা সংরক্ষিত আসনের সদস্য মোসাম্মৎ শাম্মী আক্তারের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, অর্থসংকটে গ্রাহকের আমানত ফেরত দিতে না পারা ব্যাংকগুলোকে বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়মিত জরুরি তারল্যসহায়তা দিচ্ছে। মন্ত্রী জানান, গত ১৫ জুন পর্যন্ত জরুরি তারল্যসহায়তা হিসেবে ৭৫ হাজার ৯০৩ কোটি ১১ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। দেশে ৬৩টি ব্যাংকের ১১ হাজারের বেশি শাখা সিরাজগঞ্জ-৫ আসনের আমিরুল ইসলাম খানের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশের ৬৩টি ব্যাংক ১১ হাজার ৩২৬টি শাখা এবং ৪ হাজার ৯২৯টি উপশাখার মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। রাজস্ব আদায়ে লক্ষ্যমাত্রার ৭৫ দশমিক ৩০ শতাংশ অর্জন সংরক্ষিত আসনের সদস্য সেলিনা সুলতানার প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ৭১ হাজার ৪৯৫ কোটি টাকা। এর বিপরীতে আদায় হয়েছে ১ লাখ ২৯ হাজার ৯০ কোটি ৪৫ লাখ টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রার ৭৫ দশমিক ৩০ শতাংশ। একীভূত পাঁচ ইসলামী ব্যাংক নিয়ে যা বললেন অর্থমন্ত্রী সরকারি ও বিরোধী দলের একাধিক সংসদ সদস্যের পৃথক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, এক্সপোর্ট ইমপোর্ট ব্যাংক অব বাংলাদেশ (এক্সিম ব্যাংক), ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক এবং ইউনিয়ন ব্যাংককে ব্যাংক রেজোল্যুশন স্কিম-২০২৫-এর আওতায় আনা হয়েছে। এসব ব্যাংকের আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়া হচ্ছে এবং আমানত সুরক্ষা আইন-২০২৬ অনুযায়ী প্রত্যেক গ্রাহককে সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা পর্যন্ত পরিশোধ করা হচ্ছে। অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে আরও যেসব ব্যাংক তারল্যসংকটে রয়েছে, সেগুলোর বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন বিভাগ কাজ করছে। প্রয়োজন হলে ব্যাংক রেজোল্যুশন আইন, ২০২৬ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, আমানত সুরক্ষা আইন-২০২৬ অনুযায়ী সুরক্ষিত আমানতের সীমা এক লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে দুই লাখ টাকা করা হয়েছে। সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চলতি হিসাবে আমানত সুরক্ষা তহবিল থেকে ইতিমধ্যে ১২ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। মুদির দোকানও আসবে ভ্যাটের আওতায় সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য সেলিনা সুলতানার প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মুদির দোকান, বিউটি পারলারসহ বেশ কয়েকটি ব্যবসায়িক খাতকে ভ্যাটের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রস্তাবিত খাতগুলোর মধ্যে রয়েছে তৈরি পোশাক ও কাপড়ের বিক্রেতা, কনফেকশনারি, কসমেটিকসের দোকান, প্লাস্টিক ও সিরামিকের গৃহস্থালি পণ্যের বিক্রেতা, জুতার দোকান, হার্ডওয়্যার ব্যবসা, ডেকোরেটরস, মোবাইল ফোন, এসি, ফ্রিজ, ওভেন ও অন্যান্য ইলেকট্রনিকস পণ্যের বিক্রেতা, পেইন্ট, স্যানিটারি ও ফিটিংস, টাইলস, ঢেউটিন, রড ও সিমেন্ট, ফার্নিচার, মিষ্টান্ন ভান্ডার এবং রেস্টুরেন্ট। মন্ত্রী আরও জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভ্যাট বাবদ মোট ১ লাখ ৪১ হাজার ৫৮৬ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে।