২০২৭ সালের মধ্যে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া একটি ব্যাপকভিত্তিক মুক্তবাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করতে চায়। একই সঙ্গে বাংলাদেশ, বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে মালয়েশিয়ার যৌথ বিনিয়োগ আহ্বান করেছে। এছাড়া, মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের অব্যাহত নিরাপদ ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক অভিবাসন নিশ্চিত করতে যৌথ কার্যনির্বাহী গ্রুপ (জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ-জেডব্লিউজি) গঠনে সম্মত হয়েছে উভয় পক্ষ।
সোমবার (২২ জুন) মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠক শেষে এক যৌথ বিবৃতিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, দক্ষিণ এশিয়ায় মালয়েশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার বাংলাদেশের সঙ্গে ২০২৭ সালের মধ্যে একটি ব্যাপকভিত্তিক মুক্তবাণিজ্য চুক্তি (এমবিএফটিএ) সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে মালয়েশিয়া। দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে এ সমঝোতা ত্বরান্বিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়। চলতি বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে একটি পারস্পরিক লাভজনক ও দূরদর্শী চুক্তি বাস্তবায়নে দুই পক্ষই তাদের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।
অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং দ্বিমুখী বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পথ সুগম করতে দুই দেশের বেসরকারি খাতের মধ্যে কাঠামোগত সংলাপের জন্য ‘মালয়েশিয়া-বাংলাদেশ যৌথ বিজনেস কাউন্সিল’ (জেবিসি) গঠনের অগ্রগতিকে স্বাগত জানিয়েছেন দুই প্রধানমন্ত্রী। সেমিকন্ডাক্টর, ডিজিটাল অর্থনীতি, হালাল শিল্প, শক্তি এবং অবকাঠামো খাতের মতো উচ্চ-মূল্যবান শিল্পে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
বিবৃতিতে দুই দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে দ্বিপক্ষীয় শক্তি সহযোগিতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া। তরলীকরা প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ, এলএনজি অবকাঠামো এবং পেট্রোলিয়াম পণ্যের বিষয়ে দুই দেশের সরকারের মধ্যকার বিদ্যমান সমঝোতা স্মারককে পূর্ণ ব্যবহারের তাগিদ দেওয়া হয়েছে, যাতে পেট্রোনাস ও পেট্রোবাংলার মধ্যে সরাসরি আলোচনা এগিয়ে নেওয়া যায়।
একইসঙ্গে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে মালয়েশিয়ার কোম্পানিগুলোকে বঙ্গোপসাগরে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান, কয়লা ও চুনাপাথরের মতো খনিজ সম্পদ উত্তোলন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি রূপান্তর খাতে বিনিয়োগের জন্য বিশেষ আহ্বান জানানো হয়েছে।
মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের অব্যাহত, নিরাপদ ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক অভিবাসন নিশ্চিত করতে যৌথ কার্যনির্বাহী গ্রুপ (জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ-জেডব্লিউজি) গঠনে সম্মত হয়েছে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া।
এ প্রসঙ্গে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, দুই দেশের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত এই গ্রুপ শ্রমবাজার-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করবে এবং কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর ও স্বচ্ছ করার লক্ষ্যে কাজ করবে।
জেডব্লিউজির অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হবে বিদ্যমান সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) মূল্যায়ন করা। বর্তমান চুক্তির কার্যকারিতা ও সীমাবদ্ধতাগুলো পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রণয়ন করবে গ্রুপটি।
এ ছাড়া, উভয় দেশের বর্তমান চাহিদা, শ্রমবাজারের বাস্তবতা এবং অভিবাসন ব্যবস্থার পরিবর্তিত পরিস্থিতি বিবেচনায় একটি নতুন ও হালনাগাদ এমওইউ প্রণয়নের ভিত্তি তৈরি করাও এই গ্রুপের অন্যতম লক্ষ্য।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বৈঠকে দুই দেশের নেতারা মানুষে মানুষে যোগাযোগের গুরুত্বকে স্বীকৃতি দেন এবং মালয়েশিয়ার উন্নয়নে বাংলাদেশি কর্মীদের অবদানকে স্বাগত জানান। তারা আরও উল্লেখ করেন, মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বিনিময় এবং অভিন্ন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড জোরদারে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটি ভূমিকা পালন করে।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগ বৃদ্ধির প্রস্তাবকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছে দেশটি। তবে বিদেশি শ্রমিক নিয়োগের ক্ষেত্রে মালয়েশিয়ার বিদ্যমান নীতিমালা অনুসারে নতুন কর্মী কোটার অনুমোদন নিয়োগকর্তাদের যাচাই করা চাহিদা এবং খাতভিত্তিক নির্ধারিত সীমার ওপর ভিত্তি করে পৃথকভাবে মূল্যায়ন করা হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
যৌথ বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অনুমোদিত যেকোনো কর্মী কোটার ক্ষেত্রে নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, ন্যায্য, বৈষম্যহীন ও প্রতিযোগিতামূলক করতে উভয় দেশ কেবল বিশ্বাসযোগ্য ও যোগ্যতাসম্পন্ন নিয়োগকারী সংস্থার মাধ্যমে কর্মী নিয়োগের বিষয়ে প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।
প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব বিদ্যমান প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেছে। এ লক্ষ্যে একটি কাঠামোবদ্ধ প্রতিরক্ষা রোডম্যাপ প্রণয়নের জন্য দ্রুত ‘যৌথ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা কমিটি’ (জেসিডিসি) গঠনের বিষয়ে সম্মত হয়েছে উভয় পক্ষ। নতুন এই উদ্যোগের আওতায় বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ এবং কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজগুলোর মধ্যে আসন বরাদ্দ বাড়ানো হবে। পাশাপাশি সামরিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা বিনিময় এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে অংশীদারত্ব আরও সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, গ্লোবাল হালাল বাজারের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে বাংলাদেশের হালাল খাত উন্নয়নে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে মালয়েশিয়া। কুয়ালালামপুরে সম্পন্ন হওয়া ‘এক্সচেঞ্জ অব নোটস অন কোঅপারেশন ইন দ্য ফিল্ড অব হালাল ইকোসিস্টেমের’ মাধ্যমে মালয়েশিয়ার হালাল সার্টিফিকেশন ব্যবস্থা ও নিয়ন্ত্রক কাঠামোর অভিজ্ঞতা বাংলাদেশ কাজে লাগাতে পারবে। এ সহযোগিতা মালয়েশিয়ার জাকিম এবং বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে ধারাবাহিকভাবে পরিচালিত হবে।
বিবৃতিতে সাইবার নিরাপত্তা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ফিনটেক এবং ডিজিটাল গভর্ন্যান্সের মতো উদীয়মান প্রযুক্তি খাতে যৌথ বিনিয়োগ ও জ্ঞান বিনিময়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার, প্রযুক্তি পার্ক এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ সহজ করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। দুই দেশের এই নতুন উদ্যোগকে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার বাইরে অর্থনীতি, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনভিত্তিক কৌশলগত অংশীদারত্ব সম্প্রসারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ রয়েছে।
রাজনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, দুই শীর্ষ নেতা উচ্চ পর্যায়ের সফরসহ নিয়মিত সংলাপ ও আদান-প্রদানে একমত হয়েছে। তারা পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক বিষয়গুলোতে সম্পৃক্ততা বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেন। নেতারা বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার মাধ্যমে নিয়মিত সংলাপের গুরুত্ব স্বীকার করেছেন এবং এ প্রসঙ্গে যত দ্রুত সম্ভব দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত যৌথ কমিশন বৈঠক (জেসিএম) এবং দ্বিপাক্ষিক আলোচনা (বিসি) পুনরায় শুরু করতে সম্মত হয়েছেন।
শিক্ষা খাত নিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, উভয় নেতা কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাকে (টিভিইটি) কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিশ্ববিদ্যালয় অংশীদারিত্ব এবং যৌথ গবেষণা কর্মসূচিসহ শিক্ষা ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদার করতে সম্মত হয়েছেন। উভয় পক্ষ পারস্পরিকভাবে স্বীকৃত যোগ্যতা, যৌথ ডিগ্রি প্রোগ্রাম এবং নমনীয় শিক্ষাপথ সম্প্রসারণের ওপর জোর দিয়েছেন। নেতারা উভয় দেশের শ্রমবাজারের চাহিদা এবং অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতের সঙ্গে একাডেমিক প্রোগ্রামগুলোকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার গুরুত্বের ওপরও জোর দিয়েছেন।
এছাড়া, উভয় নেতা দীর্ঘস্থায়ী রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। মালয়েশিয়া জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের মানবিক উদ্যোগের প্রশংসা করেছে এবং বাংলাদেশের প্রতি তার সংহতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। মালয়েশিয়া এই সংকটের একটি স্থায়ী সমাধান অর্জনের লক্ষ্যে পরিচালিত প্রচেষ্টাকে সমর্থন করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে, যার মূল ভিত্তি হলো বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ এবং টেকসই প্রত্যাবাসন।
বাংলাদেশ আসিয়ান, ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি), জাতিসংঘ এবং অন্যান্য বহুপাক্ষিক ফোরামসহ দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক মঞ্চে রোহিঙ্গা ইস্যুতে মালয়েশিয়ার অব্যাহত সমর্থন এবং নীতিগত প্রতিনিধিত্বের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আসিয়ান সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার মর্যাদা অর্জনের মাধ্যমে আসিয়ানের সঙ্গে সম্পৃক্ততাকে আনুষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের দৃঢ় আকাঙ্ক্ষা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বাংলাদেশের এই আগ্রহকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং আসিয়ান কাঠামোর মধ্যে ঢাকার আকাঙ্ক্ষা পূরণে মালয়েশিয়ার গঠনমূলক সমর্থনের প্রস্তুতির কথা প্রকাশ করেছেন।
মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকে এই অঞ্চলে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক গুরুত্ব ও কৌশলগত ভূমিকা স্বীকার করে, আঞ্চলিক সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব (আরসিইপি)-তে যোগদানের আকাঙ্ক্ষার প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করা হয়েছে।
উভয় নেতা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় করেন এবং ফিলিস্তিনি জনগণের জন্য একটি ন্যায়সঙ্গত ও স্থায়ী শান্তির প্রতি তাদের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। এছাড়া, এই অঞ্চলে একটি টেকসই ও পূর্ণাঙ্গ শান্তির লক্ষ্যে চলমান সংলাপ এবং কূটনৈতিক প্রচেষ্টার প্রতিও সমর্থন ব্যক্ত করেন।
তারা জলবায়ু পরিবর্তন, খাদ্য নিরাপত্তা, মানব পাচার এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধের মতো প্রচলিত ও অপ্রচলিত নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যৌথ প্রচেষ্টার গুরুত্বের ওপর জোর দেন। উভয় নেতা এই চ্যালেঞ্জগুলোকে একটি সামগ্রিক পদ্ধতিতে মোকাবিলা করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
তীব্র গরমে সারা দেশের লোডশেডিং অব্যাহত রয়েছে। ঢাকার বাইরে কোথাও বিদ্যুৎ থাকছে না। কোথাও ঘণ্টায় ঘণ্টায় বিদ্যুৎ যাচ্ছে। কোথাও একবার গেলে কয়েক ঘণ্টায়ও আসছে না। তীব্র গরমে মানুষ চরম ভোগান্তিতে আছে। বিতরণ কোম্পানির সূত্র জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে লোডশেডিং আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে। গড়ে প্রায় তিন হাজার মেগাওয়াট লোডশেডিং হচ্ছে। দেশজুড়ে প্রচণ্ড গরমের মধ্যে তীব্র লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। শহরের তুলনায় গ্রামের পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। কিছু এলাকায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ সময় বিদ্যুৎ থাকছে না। লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে তীব্র গরমের সঙ্গে বেড়েছে লোডশেডিং। দিন-রাত মিলিয়ে ১২ থেকে ১৩ ঘণ্টা বিদুৎ ছাড়া থাকতে হচ্ছে দাগনভূঞার গ্রাহকদের। মাদারীপুরে চাহিদার বিপরীতে কম বিদ্যুৎ সরবরাহে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে বাসিন্দারা। লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে তীব্র গরমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে অসহনীয় লোডশেডিং। দিনে-রাতে দফায় দফায় বিদ্যুতের ভেলকিবাজিতে স্থবির হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা। একদিকে প্রচণ্ড তাপপ্রবাহ, অন্যদিকে রাতে লোডশেডিংয়ের ফলে অনেকেই না ঘুমিয়ে রাত পার করছেন। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সন্ধ্যার পর থেকেই লোডশেডিংয়ের তীব্রতা বাড়ে, যা চলে ভোর পর্যন্ত। উপজেলার কাকিনা ইউনিয়নের ইশোরকোল গ্রামের দিনমজুর আজগার আলী আক্ষেপ করে বলেন, সারা রাত বিদ্যুৎ থাকে না, গরমে একফোঁটাও ঘুমাতে পারি না। শরীর এত দুর্বল লাগে যে সকালে কাজে যাওয়া সম্ভব হয় না। একদিন কাজ না করলে ঘরে চাল ওঠে না, পরিবার নিয়ে এখন কী করব বুঝতে পারছি না। একই ভোগান্তির কথা জানান স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও। কাকিনা বাজারের ব্যবসায়ী মমিনুর রহমান লিটন বলেন, ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য একপ্রকার বন্ধ হওয়ার উপক্রম। ফ্রিজে রাখা আইসক্রিম, কোমল পানীয়সহ পচনশীল পণ্য নষ্ট হয়ে চরম লোকসানে পড়ছি। এদিকে বিদ্যুৎ না থাকায় চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা। মোমবাতি বা কুপির আলোতে তীব্র গরমে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। কাকিনা মহিমা রঞ্জন স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী আবু শাহাদত সিয়াম বলেন, সামনে তাদের টেস্ট পরীক্ষা; কিন্তু লোডশেডিংয়ের কারণে প্রস্তুতি নিতে চরম সমস্যা হচ্ছে। কালীগঞ্জ নেসকো পিএলসির (বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. তরিকুল ইসলাম জানান, কালীগঞ্জে বর্তমানে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১৬ মেগাওয়াট, অথচ তার বিপরীতে জাতীয় গ্রিড থেকে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৭ থেকে ৮ মেগাওয়াট। ফেনীর দাগনভূঞায় বেপরোয়া লোডশেডিংয়ে গ্রামের কোথাও সরকারি শিডিউল মানা হচ্ছে না। গ্রাহকরা অতিষ্ঠ হয়ে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জোনাল অফিস বা উপকেন্দ্রে অথবা অভিযোগ অফিসগুলোতে ফোন করলে কেউ রিসিভও করছে না। প্রতিদিন সমিতির আওতাধীন দাগনভূঞা এলাকায় ১২ থেকে ১৩ ঘণ্টা করে বিদ্যুৎ থাকছে না। কোথাও কোথাও ১৫ থেকে ১৬ ঘণ্টাও লোডশেডিং হচ্ছে। অতিমাত্রার লোডশেডিংয়ের ফলে ক্ষুদ্র শিল্পে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। আরইবির ফেনী সমিতি বলছে, তারা প্রতিদিন চাহিদার অর্ধেকেরও কম বিদ্যুৎ পাচ্ছেন। এ কারণে তারা সরকারি শিডিউল মানতে পারছেন না। সাধারণ সময়েও সমিতিগুলো গড়ে ২ থেকে ৩ ঘণ্টা লোডশেডিং করে থাকে। এখন বিদ্যুৎ সাশ্রয় করতে গিয়ে সেটি ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা করতে হচ্ছে। গরম বাড়লে এ লোডশেডিং আরও ১-২ ঘণ্টা বেড়ে যায়। চাহিদা তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ মাদারীপুরবাসী। শহর থেকে গ্রাম কোনো জায়গায়ই যেন রেহাই নেই। দিন-রাত মিলিয়ে ১০-১২ ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। সবচেয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির গ্রাহকরা। এদিকে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ না থাকায় কারখানার উৎপাদনও নেমে গেছে অর্ধেকে। শ্রমিক-কর্মচারীরা অলস সময় কাটাচ্ছেন। এতে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। কবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে জানা নেই বিদ্যুৎ বিভাগের। রংয়ের ছোঁয়া প্রেসের মালিক রুবেল মাতুব্বর বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় প্রেসের কোনো কাজই করতে পারছি না। কাস্টমার এতে বিরক্ত হচ্ছে। আর্থিকভাবে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। বিদ্যুৎ বিভাগ অফিস সূত্র জানিয়েছে, ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ওজোপাডিকো) প্রায় ৪০ হাজার গ্রাহকের ১৭ মেগাওয়াটের বিদ্যুতের চাহিদার বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে ১১ মেগাওয়াট। অপরদিকে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ৪ লাখ ২৩ হাজার গ্রাহকের ১০৬ মেগাওয়াটের বিদ্যুতের চাহিদার বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে ৫২ মেগাওয়াট। ১৪টি সাবস্টেশনের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা বিবেচনা করে লোডশেডিং ভাগ করছে কর্তৃপক্ষ।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জনগণের অর্থনৈতিক সক্ষমতা নিশ্চিত করা গেলে রাষ্ট্র শক্তিশালী হয়। সাধারণ মানুষকে অভাবের মধ্যে রেখে কিংবা তাদের মুখ বন্ধ করে কোনো রাষ্ট্র শক্তিশালী হতে পারে না। দেশকে অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাওয়াই সরকারের লক্ষ্য বলেও মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, রাজনৈতিক অধিকারের পাশাপাশি মানুষের অর্থনৈতিক সক্ষমতা নিশ্চিত করা জরুরি। এ জন্য দেশীয় উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে উৎসাহিত করতে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের নীতি সহায়তা দেবে। মঙ্গলবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে বন্ধ থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত তিনটি পাটকল বেসরকারি দুই প্রতিষ্ঠানের কাছে লিজ দেওয়ার চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু এ কথা জানান। অনুষ্ঠানে দেশের প্রকৃত উদ্যোক্তাদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার তাদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেবে। উদ্যোক্তাদের সহযোগিতা করা গেলে একদিকে মানুষের কর্মসংস্থান ও জীবনের নিশ্চয়তা তৈরি হবে, অন্যদিকে সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি হবে। সরকারপ্রধান বলেন, ‘আমরা এমন একটি দেশ তৈরি করতে চাই, যেখানে সবাই এখন যে অবস্থায় আছে, তার থেকে ভালো থাকবে। এটাই আমাদের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।’ বিদেশি বিনিয়োগের পাশাপাশি দেশীয় বিনিয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদেশি বিনিয়োগ অবশ্যই আসবে এবং সরকার সেটি চায়। তবে দেশের নিজস্ব বিনিয়োগকারী ও উদ্যোক্তাদেরও উৎসাহিত করতে হবে। তাদের ব্যবসা ও বিনিয়োগের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে যতটুকু নীতি সহায়তা দরকার, তা দেওয়া হবে। সরকারের নীতির মূল উদ্দেশ্য সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য সুযোগ তৈরি করা- উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, সবার সহযোগিতায় একটি সুন্দর ও শক্তিশালী দেশ গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। তিনটি মিলের দায়িত্ব নেওয়া দুই ব্যবসায়ী গ্রুপকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী। নতুন বিনিয়োগে প্রতিষ্ঠানগুলো সফল হবে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, বস্ত্র ও পাট সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান আহসান খান চৌধুরী এবং হ্যামকো গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ টি এম মোস্তফা। অনুষ্ঠানে বিজেএমসি ও লিজ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ভারত জানিয়েছে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দ্বিপাক্ষিক সফর এবং দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ পর্বে অংশ নেওয়ার জন্য পৃথকভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, “গতকাল বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমাদের হাইকমিশনারের বৈঠক হয়েছে। সেখানে দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। দ্বিপাক্ষিক সফর এবং দিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।” তবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এখনো ব্রিকস সম্মেলনে অংশগ্রহণের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেছেন, আমন্ত্রণটি ‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে নয়, বরং বিমসটেকের চেয়ারপারসন হিসেবে দেওয়া হয়েছে। আগামী ১২-১৩ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আউটরিচ পর্বে অংশ নিতে বিমসটেকের চেয়ারপারসন হিসেবে তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।