যে আক্ষেপ ছিল, ২০২২ বিশ্বকাপেই তা ঘুচে গেছে। লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা এবার ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলবে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হয়ে। তবে এই দলের সামনে মেসি এমন এক সুযোগ দেখছেন, যা নেই আর কারো।
সম্প্রতি ইএসপিএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বিষয়টি জানিয়েছেন। সেখানে উঠে এসেছে আর্জেন্টিনা, ইন্টার মিয়ামি, ২০২৬ বিশ্বকাপসহ আরও অনেক বিষয়।
মেসি জানান বিশ্বকাপ জেতার মতো পর্যাপ্ত রসদ তার দলের আছে। তিনি বলেন, ‘সত্যি কথা হলো, আমাদের দলে অসাধারণ খেলোয়াড় আছে। এটি অনেক বছর ধরেই প্রমাণিত। বিশেষ করে স্কালোনি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে দলের ইচ্ছা ও স্পৃহা আরও বেড়েছে।’
মেসির অভিমত, দল মানসিকভাবে এখন অনেক শক্ত। তিনি বলেন, ‘দলে এমন খেলোয়াড় আছে যারা সব সময় জিততে চায়। এই মানসিকতা খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। অনুশীলনে হোক বা ম্যাচে, সবাই নিজের সবটুকু দেয়। আমরা দারুণ একটি দল। সবাই একে অন্যের সঙ্গে খুব ভালোভাবে মিশে যায়। কিন্তু অনুশীলনের খেলার ক্ষেত্রেও যদি দ্রুত দৌড়ে যেতে হয়, তারা দ্রুতই যায়। সবাই নিজের সর্বোচ্চটা দেয়। এটিই এই দলের বড় শক্তি।’
এই মানসিকতার পেছনে কোচ লিওনেল স্কালোনির অবদানই সবচেয়ে বেশি, জানালেন মেসি। তার কথা, ‘স্কালোনি এবং তার স্টাফরা সব গড়ে তুলেছেন। প্রতিদিনের পরিবেশ তাদের হাত ধরেই এসেছে।’
দলে নতুন খেলোয়াড় আসছে নিয়মিত। মেসিকে আশা দেখাচ্ছে এই বিষয়টিও, ‘আগে যারা ছিল তাদের পাশাপাশিও নতুন মুখ উঠে আসছে। যখন দলের পরিবেশ এমন হয়, তখন নতুনদের মানিয়ে নিতে খুব সহজ হয়।’
তবে এবারের বিশ্বকাপে এমন এক সুযোগ আর্জেন্টিনার আছে, যা নেই অন্য কারো। ২০২৫ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা খেলছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে, যার ফলে তাদের ওপর চাপও থাকবে না এবার, বিশ্বাস মেসির।
তিনি বলেন, ‘আর্জেন্টিনাকে এই সময়টাকে কাজে লাগাতে হবে। বিশ্বকাপ জিতে আসার পর আত্মবিশ্বাস বাড়ে। মানসিক চাপ কমে। ফলে নতুন প্রতিযোগিতার প্রস্তুতিও ভিন্নভাবে নেওয়া যায়।’
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
ব্রাজিল জাতীয় দলের হয়ে শেষবারের মতো ফুটবল বিশ্বকাপে খেলতে মরিয়া নেইমার জুনিয়র। যে কারণে সান্তোসের হয়ে প্রায় প্রতিটি ম্যাচ খেলার মধ্য দিয়ে নিজেকে ফিট প্রমাণের জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন। মাঠের পারফরম্যান্স তার আশার পারদ বাড়িয়ে দিলেও, নেতিবাচক ঘটনা ফের আলোচনায় এনেছে নেইমারকে। তরুণ সতীর্থ রবিনহো জুনিয়রকে চড় মারার পর নাকি মিটমাটও হয়েছে। তবুও প্রকাশ্যে এসে ক্ষমা চাইতে হলো তাকে! একসময় ব্রাজিলের সাবেক তারকা রবিনহোর সঙ্গে খেলেছিলেন নেইমার, এখন তার ছেলেও ক্লাবের সতীর্থ। গত রোববার সান্তোসের অনুশীলনে রবিনহো জুনিয়র ড্রিবল করে নেইমারকে কাটিয়ে যাচ্ছিলেন। এতে অপমানিতবোধ করায় ক্ষিপ্ত হয়ে ১৮ বছর বয়সী ফুটবলারের ওপর চড়াও হন ব্রাজিলের শীর্ষ গোলদাতা। এতটাই ক্ষিপ্ত ছিলেন যে রবিনহোকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন, তারপর দুজনের মধ্যে বাদানুবাদ শুরু হলে অন্য সতীর্থরা তাদের আলাদা করেন। রবিনহোর করা তিনটি অভিযোগের ভিত্তিতে যা নিয়ে তদন্ত করছে সান্তোস। এদিকে, এই ঘটনা ব্রাজিলসহ বিদেশি গণমাধ্যমে বেশ আলোচিত হচ্ছে। পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রকাশ্যে ক্ষমা চান নেইমার, ‘রযদি বিনহো জুনিয়রের প্রতিনিধিরা চান সংবাদমাধ্যমে ক্ষমা চাই, তাহলে এখন সেটাই করছি। আমি আগেই রবিনহো ও তার পরিবারের কাছে ক্ষমা চেয়েছি। আমার প্রতিক্রিয়াটা বাড়াবাড়ি মাত্রায় হয়ে গিয়েছে, পরিস্থিতি ভিন্নভাবে সামাল দেওয়া যেত। কিন্তু আমি মেজাজ হারিয়ে ফেলেছি। সবাই ভুল করে। আমারও ভুল হয়েছে, তারও হয়েছে, তবে আমার ভুলটা একটু বেশিই ছিল।’ ‘সোমবার দলের সবার সামনে তার কাছে ক্ষমা চেয়েছি। সবার সঙ্গে কথা বলেছি, সেও ক্ষমা চেয়েছিল। আমরা ভেবেছিলাম বিষয়টি সেখানেই শেষ’, আরও যোগ করেন নেইমার। সঙ্গে সঙ্গেই মিটমাট হলেও, সেটি অতিরঞ্জিত করা হয়েছে বলে মনে করেন ব্রাজিল তারকা, ‘অবশ্যই (আমার নামের কারণে) বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে এখানে (ব্রাজিলে) প্রতিদিন আমার নাম আলোচিত হয়। যারা ফুটবল খেলে তারা সবাই জানে যে এমনটা ঘটে, ঝগড়া-হাতাহাতি-চড় থাপ্পড় যাই বলুন না কেন। এটা ফুটবল এবং খেলারই অংশ। মাঝেমধ্যে মানুষ এসবে জড়াতে গিয়ে আসল ঘটনাকে সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করতে শুরু করে...শেষ পর্যন্ত এটি অত্যন্ত বাজেভাবে অতিরঞ্জিত হয়ে দাঁড়ায়।’ নেইমারের কথার সঙ্গে মিল পাওয়া গেল রবিনহো জুনিয়রের বক্তব্যেও, ‘চড় মারার ঘটনা সত্য। তবে তিনি (নেইমার) সঙ্গে সঙ্গেই সীমালঙ্ঘনের বিষয় বুঝতে পেরে কয়েকবার ক্ষমা চান। আমিও সেটি মেনে নিয়েছি, যা আগেই বলেছি আমি। নেইমার ছোটবেলা থেকেই আমার আদর্শ, তাই ঘটনাটি আমাকে কষ্ট দিয়েছে। মানুষ এমন অনেক কিছু বলছে, যা সত্য নয়। বিষয়টি এই পর্যায়ে চলে গেছে, যা দেখে খারাপ লাগছে। তবে আমি ঠিক আছি, তাকে আমি অনেক পছন্দ করি। আমাদের মধ্যে ইতোমধ্যে কথা হয়েছে এবং সব মিটমাট হয়ে গেছে।’ ওই ঘটনার পরই অবশ্য মঙ্গলবার দেপোর্তিভো রিকলেতার বিপক্ষে ১-১ ড্র ম্যাচে গোল করে নেইমার বেঞ্চে থাকা রবিনহো জুনিয়রকে জড়িয়ে ধরে উদযাপন করেন। এর আগে নেইমারের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ আনেন রবিনহো জুনিয়র- চড় মারা, অপমান করা ও ফেলে দেওয়া। পুরো ঘটনায় সান্তোসই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দাবি করার পাশাপাশি দুঃখপ্রকাশ করেন ক্লাবটির কোচ কুকাও।
চোটে জেগেছিল শঙ্কা, বিশ্বকাপে খেলতে পারবেন তো জিওন সুজিকি? সব দুর্ভাবনা পেছনে ফেলে মাঠে ফিরেছেন তিনি। নড়বড়ে শুরুর পর, ধীরে ধীরে ফিরে পেয়েছেন আত্মবিশ্বাস। এখন দৃপ্ত কণ্ঠ বলছেন, আসন্ন বিশ্বকাপের জন্য তিনি তৈরি। ২৩ বছর বয়সী সুজুকিকে ঘিরে ভক্তদের যে প্রত্যাশা, সেই সঙ্গে পারফরম্যান্সের মেলবন্ধন ঘটাতে পারলে আগামী এক দশক জাপানের প্রথম পছন্দের গোলরক্ষক থাকতে পারেন তিনিই। দারুণ শারীরিক গঠনের পাশাপাশি ইউরোপে খেলার অভিজ্ঞতায় আরও ধারাল হয়ে উঠেছেন সুজুকি। কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়ার সামর্থ্য ও ধীরস্থির মানসিকতার মিশেলে পার্মা গোলরক্ষক হয়ে উঠেছেন আস্থার প্রতীক। স্কোয়াডের ভেতরে ও বাইরে যে আস্থা তিনি অর্জন করেছেন, সেটি সহজে আসেনি। শুরুর কঠিন সময়ের কথা ফিফার সঙ্গে আলাপচারিতায় বলেছেন ২৩ বছর বয়সী সুজুকি। জাপানের প্রথম পছন্দের গোলরক্ষক হিসেবে শুরুতে আমি বেশ কিছু ভুল করেছিলাম এবং নিজের অনভিজ্ঞতা প্রকাশ করেছিলাম। এশিয়ান কাপ দিয়ে ঘুরে দাঁড়ান সুজুকি। দলের প্রতিটা ম্যাচে খেলেন তিনি এবং নিজেকে এক নম্বর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। একই সঙ্গে অবশ্য তার দুর্বলতাগুলোও সামনে চলে আসে। বিশেষ করে ক্রস সামলানো ও বল ধরা নিয়ে চলে কঠোর সমালোচনা। সেগুলো সুজুকির উন্নতিতে জ্বালানি হিসেবে কাজ করেছে। এখন আমি মনে করি, নিজের মানসিকতা দিয়ে আমি দলে স্থিরতা নিয়ে আসতে পারি। উন্নতির স্পষ্ট ছাপ আছে তার পারফরম্যান্সে। ক্রস বুঝতে পারা, শট সামলানো কিংবা নিচ থেকে খেলা গড়ে তোলায় ভূমিকা রাখা এবং ধারাবাহিকতা হয়ে উঠেছে তার খেলার ভিত্তি। তার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে সেরি আর অভিজ্ঞতা। ২০২৫ সালের নভেম্বরে এসি মিলানের বিপক্ষে খেলার সময় বাঁ হাত ভেঙে যায় সুজুকির। এতে তার বিশ্বকাপে খেলা নিয়ে শঙ্কা জাগে। মাঠে ফিরে ধীরে ধীরে নিজেকে ফিরে পেয়েছেন তিনি। গত মার্চে ইউরোপের দুই দল স্কটল্যান্ড ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চমৎকার পারফরম্যান্সে দিয়েছেন স্বরূপে ফেরার প্রমাণ। প্রায় একই ধরনের শক্তির নেদারল্যান্ডস, তিউনিসিয়া ও সুইডেনের বিপক্ষে বিশ্বকাপে ‘এফ’ গ্রুপে খেলবে জাপান। এই সব ম্যাচে নিজের অনেক প্রাপ্তি দেখছেন সুজুকি। ইউরোপের শীর্ষ পর্যায়ের দলের বিপক্ষে ফল পাওয়া খুব গুরুত্বপূর্ণ। আর জাল অক্ষত রাখা আমাকে আত্মবিশ্বাস যোগায়। প্রীতি ম্যাচ দুটিতে এমন সময় এসেছিল, যখন বেশ চাপে ছিল জাপান। তবে পোস্টে দৃঢ়তা দেখান সুজুকি। দুই ম্যাচেই গুরুত্বপূর্ণ কিছু সেভ করেন তিনি। কঠিন সময়ে দলের রক্ষণ জমাট রাখতে সহায়তা করেন সতীর্থদের। এই পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা বিশ্বকাপের উত্তর আমেরিকা আসরে নিয়ে যেতে চান তিনি। জাপানের হয়ে খেলা আমার সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা। আমাদের কাছে যে ফল প্রত্যাশিত, তা পূরণে চাপের মুখে পারফর্ম করতে পারা, সেই লক্ষ্যে মাঠে নামতে আমি উন্মুখ হয়ে আছি। সবার ওপরে আমি এমন একজন গোলরক্ষক হতে চাই, যে দলে স্থিরতা নিয়ে আসবে। সহজ কাজগুলো ভালোভাবে করা, ধারাবাহিক হওয়া, গোল হজম না করার সংকল্প নিয়ে খেলা। আমি বিশ্বাস করি, যারা খেলা দেখে, এগুলোই শেষ পর্যন্ত তাদের অনুপ্রাণিত করে। ক্যারিয়ারের শুরুতে প্রত্যাশা ও সমালোচনা, দেশের বাইরে খেলার চ্যালেঞ্জ, চোট থেকে ফেরা- প্রতিটি পদক্ষেপে ঋদ্ধ হয়েছেন সুজুকি। এখন তিনি জাপানের রক্ষণের শেষ ভরসা।
চলতি বছর নভেম্বরে সৌদি আরবে বসবে ই-স্পোর্টসের বিশ্বকাপ খ্যাত ‘ই-স্পোর্টস নেশনস কাপ’। প্রথমবারের মতো এই আসরে অংশ নেবে বাংলাদেশ দল। রাজধানীর তোপখানা রোডের হোটেল এশিয়া অ্যান্ড রিসোর্টসে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান বাংলাদেশ ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ইলেকট্রনিক স্পোর্টস অ্যাসোসিয়েশনেসর সভাপতি ড. ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. মুনিরুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে সভাপতি মুনিরুল ইসলাম বলেন, ‘ই-স্পোর্টস নেশনস কাপে বাংলাদেশ ১৫ ভিন্ন ইস্পোর্টস শিরোনামে অংশগ্রহণ করবে। যেখানে মোট প্রাইজপুল ২২০ কোটি টাকারও বেশি। এটি দেশভিত্তিক ইস্পোর্টস টুর্নামেন্টগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় আয়োজন। এই ঐতিহাসিক আসরের অংশ হতে পেরে আমরা গর্বিত।’ বাংলাদেশসহ ১৫০ দেশ অংশ নেবে এবারের আসরে। ১৫ ইভেন্টে বাংলাদেশ থেকে অংশ নেবে ৫০ জন গেমার। টিম বাংলাদেশের প্রস্তুতি সম্পর্কে দলের ম্যানেজার আগা রাফসান জানান, বাছাইপ পর্বে বাংলাদেশকে প্রথম এশিয়ার দেশ গুলোর বিপক্ষে লড়তে হবে। লিডার বোর্ডের দুই কিংবা তিনে থাকলেই মূল পর্বে খেলতে পারবে বাংলাদেশ। মূলত সেই লক্ষ্য নিয়েই প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছেন বাংলাদেশের গেমাররা। সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, আসরের জন্য সারা দেশ থেকে প্রায় ১৫০০ গেমার নিবন্ধন করেছিল। সেখান থেকে ট্রায়াল এবং একাধিক ধাপের বাছাই প্রক্রিয়া শেষে চূড়ান্ত দল গঠন করা হয়েছে। ইভেন্টের তিন কোচ ফারহান ইসলাম, মো. আবিদ হোসেন এবং নাজমুস সাকিব বাংলাদেশ দলের প্রস্তুতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানান। তারা বলেন, সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ভাবে জাতীয় দলের জন্য গেমার বাছাই করা হয়েছে। বেশ জোরেশোরে চলছে দলের প্রস্তুতি। যেহেতু মূল আসর শুরু হতে এখনো দুই মাস বাকি,তাই প্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি থাকবে না বলে বিশ্বাস তাদের।