স্বপ্নের মত এক বছর পার করলো ফরাসি ক্লাব প্যারিস সেইন্ট জার্মেই। সুপার কাপের শিরোপা উঁচিয়ে ধরে বছর শুরু করে দলটি। এরপর ফরাসি কাপ, লিগ ওয়ান এবং প্রথমবারের মতো উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতে ট্রেবল জয়ের স্বাদ পায় প্যারিসিয়ানরা।
বছরের শেষটাও শিরোপা উৎসব দিয়েই শেষ করল এনরিকের দল। প্রথমবারের মত ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ জিতে বিশ্বসেরা ক্লাব হিসেবেই বছরটি শেষ করল পিএসজি।
ম্যাচজুড়ে বল দখল ও আক্রমণে শুরু থেকেই আধিপত্য ছিল পিএসজির। ফেভারিটের তকমা নিয়েই মাঠে নামে ক্লাবটি। কিন্তু ছেড়ে কথা বলেনি ব্রাজিলিয়ান ক্লাব ফ্লামেঙ্গো। প্যারিসিয়ানদের চোখে চোখ রেখে লড়াই করেছে কদিন আগে কোপা লিবের্তাদোরেস ও ব্রাজিলিয়ান সিরি আ জেতা ক্লাবটি।
জালের দেখা পেতে অনেকটা বেগ পেতে হয়েছে পিএসজিকে। অপেক্ষা করতে হয়েছে ম্যাচের ৩৮ মিনিট পর্যন্ত। কাভারাৎসখেলিয়ার গোলে ডেড লক ভাঙ্গার পাশাপাশি লিডে থেকেই বিরতিতে যায় এনরিকের দল।
তবে বিরতি থেকে ফিরেই জবাব দিতে বেশি সময় নেয়নি ফ্লামেঙ্গো। ৫৯ মিনিটে ডি বক্সে প্রতিপক্ষের প্লেয়ারকে ফাউল করে বসেন মার্কিনিয়োস। ভিএআরের সাহায্যে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। সফল স্পট কিকে সমতা ফেরান ইতালিয়ান মিডফিল্ডার জর্জিনিয়ো। এরপর অতিরিক্ত সময়েও কোনো পক্ষ গোল করতে না পারায় ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে।
পেনাল্টি শুটআউটে প্রথম শটে দুই দলই জালের দেখা পায়। এরপরই শুরু হয় পিএসজি গোলরক্ষক সাফানভ শো। রুখে দেন স্প্যানিশ তারকা সাউল নিগেসের শট। এরপর পিএসজিকে হতাশায় ফেলেন বর্ষসেরা দেম্বেলে বল উঁচিয়ে মারলে।
কিন্তু সাফানভ ছিলেন অদম্য। লড়াই যখন তুঙ্গে, তখন লিও পেরেইরা ও লুইস আরাউহোর টানা দুটি শট ঠেকিয়ে দিয়ে পিএসজির শিরোপা নিশ্চিত করেন সাফানভ। তার গ্লাভসের জাদুতে প্রথম বারের মত ফিফা ইন্টারকন্টিনেন্টাল শিরোপা জয়ের উল্লাসে মাতে এনরিকের শিষ্যরা।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক জাহানারা আলমের উত্থাপিত যৌন হয়রানির তদন্ত প্রতিবেদন জমা পড়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে। আজ সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে স্বাধীন তদন্ত কমিটি। এক বিবৃতিতে বিসিবি জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়সীমা অর্থাৎ ৩১ জানুয়ারির মধ্যেই তদন্ত শেষ করেছে তদন্ত কমিটি। আজ সেই কমিটি বিসিবির হাতে প্রতিবেদন হস্তান্তর করেছে। বিসিবি সভাপতি বুলবুলের কাছে প্রতিবেদনটি তুলে দিয়েছে৷ তদন্ত কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মুহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান খান, ব্যারিস্টার সারওয়াত সিরাজ শুক্লা এবং বিসিবির পরিচালক রুবাবা দৌলা। কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. নাঈমা হক বিদেশে অবস্থান করায় অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারেননি। তবে তদন্তে কী বেরিয়ে এল, সে বিষয়ে এখনও জানা যায়নি। তদন্ত কমিটির চেয়ারম্যান বিচারপতি তারিক উল হাকিম জানিয়েছেন, ‘কমিটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই অভিযোগগুলোর বিষয়ে বিস্তারিতভাবে অনুসন্ধান সম্পন্ন করেছে এবং আজ তা আনুষ্ঠানিকভাবে বিসিবির কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।’ এর আগে, গত নভেম্বরে এক ইউটিউব চ্যানেলে দেয়া সাক্ষাৎকারে বিসিবির নারী বিভাগের সাবেক নির্বাচক ও ম্যানেজার, সাবেক জাতীয় পেসার মঞ্জুরুল ইসলাম এবং ওই বিভাগের সাবেক ইনচার্জ তৌহিদ মাহমুদের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি এবং পক্ষপাতিত্বমূলক আচরণের অভিযোগ তোলেন। এ বিষয়ে তখন বোর্ডের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েও কোনো প্রতিকার পাননি বলেও দাবি করেন তিনি। জাহানারার এমন অভিযোগ জানার পরপরই বিসিবির পক্ষ থেকে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। পরে গত ৯ নভেম্বর সেখানে আরও দুই জন সদস্য যোগ করা হয় তাদের ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়। তবে সেই সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর জানা যায়, আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ জমা দিতে জাহানারা নিজ থেকে ১৫ দিন সময় চেয়ে নিয়েছেন। তখন তদন্তের সময় বাড়িয়ে ৩১ জানুয়ারি ডেডলাইন দেয়া হয়।
নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে চলছিল যোগ করা সময়ের খেলা। যেকোনো সময়ই শেষ বাঁশি বাজাতে পারেন ম্যাচ রেফারি। এমন সময় পেনাল্টি পেয়ে যায় রিয়াল মাদ্রিদ। পেনাল্টি থেকে গোল করতে ভুল করেননি দলের ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপে। শেষ মুহূর্তের এই গোলেই রায়ো ভায়েকানোর বিপক্ষে ২-১ গোল ব্যবধানে জয় পেয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। সান্তিয়াগো বার্ন্যাবুতে তুলনামূলক কম শক্তিশালী দল রায়ো ভায়েকানোর বিপক্ষে সহজ জয়ই পাবে রিয়াল মাদ্রিদ, এমনটিই ভেবেছিলেন সবাই। ম্যাচের পরিসংখ্যানও রয়েছে স্বাগতিকদের পক্ষেই। বল দখল ও আক্রমণে এগিয়ে ছিল রিয়াল। পুরো ম্যাচের ৫৭ শতাংশ সময় নিজেদের অধীনে বল ধরে রাখে স্বাগতিকরা। আর প্রতিপক্ষের গোলবার বরাবর শট নেয় মোট ২৩টি। অন্যদিকে রায়ো ভায়েকানো নিজেদের অধীনে বল ধরে রেখেছে ৪৩ শতাংশ সময়। আর রিয়াল মাদ্রিদের গোলবার লক্ষ্য করে শট নিয়েছে ১৪টি। ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত ম্যাচের ১৪তম মিনিটে গোল করে এগিয়ে যায় রিয়াল মাদ্রিদ। দলের স্প্যানিশ তারকা ব্রাহিম দিয়াজের বাড়ানো বলে নিখুঁত শট মেরে গোল আদায় করেন ভিনিসিয়ূস জুনিয়র। বিরতির আগ পর্যন্ত লিড ধরে রাখেন আলভারো আরবেওলার শিষ্যরা। প্রথমার্ধ শেষ জয় ১-০ গোল ব্যবধানে। দ্বিতীয়ার্ধে নেমেই গোলের দেখা পায় রায়ো ভায়েকানো। মাঠে নামার চতুর্থ মিনিটেই গোল করে দলকে সমতায় ফেরান জর্জ ডি ফ্রুটোস। এরপর প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে একের পর এক আক্রমণ চালায় রিয়াল মাদ্রিদ। কিন্তু রক্ষণভাগ ভেদ করে আর গোল আদায় করা হচ্ছিল না তাদের। এমতাবস্থায় মনে হচ্ছিল, ১-১ ব্যবধানেই শেষ হচ্ছে ম্যাচ। কিন্তু ম্যাচের নাটকীয়তা তখনও বাকিই ছিল। যোগ করা সময়ের দশম মিনিটে ডি-বক্সের ভেতরে অবৈধভাবে বাধা দেওয়ার কারণে হলুদ কার্ড দেখেন আলফোনসো এস্পিনো। তাতেই পেনাল্টি পেয়ে যায় রিয়াল মাদ্রিদ। স্পট কিক থেকে গোল করে দলের জয় নিশ্চিত করেন কিলিয়ান এমবাপে। এ জয়ের মাধ্যমে বার্সেলোনার সঙ্গে পয়েন্ট ব্যবধান কমালো রিয়াল। ২২ ম্যাচ শেষে ৫৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দুই নম্বরে অবস্থান করছেন আরবেওলার শিষ্যরা। সমান ম্যাচে ৫৫ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে বার্সেলোনা। তিনে রয়েছে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ। তাদের সংগ্রহ ৪৫ পয়েন্ট। আর ২২ পয়েন্ট নিয়ে ১৭তম স্থানে আছে রায়ো ভায়েকানো।
আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি শনিবার থেকে শুরু হচ্ছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। এবারের আসর অনুষ্ঠিত হবে ভারত ও শ্রীলঙ্কার মাটিতে। তবে পাকিস্তানের অংশগ্রহণ এখনও নিশ্চিত নয়। সোমবার এ বিষয়ে ঘোষণা আসার কথা থাকলেও রোববার পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) সিদ্ধান্ত জানা যেতে পারে। একই সঙ্গে, বিশ্বকাপ না খেললে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের জন্য বিকল্প টুর্নামেন্ট আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। এ পরিস্থিতি ইতোমধ্যেই বাংলাদেশের জন্য বাস্তব হয়েছে। বিশ্বকাপে না যাওয়ায় দেশের ক্রিকেটারদের এখন কোনো কাজ নেই। তাই তাদের জন্য আড়াই কোটি টাকার ঘরোয়া টুর্নামেন্টের আয়োজন করছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। ইতোমধ্যেই অধিনায়ক ও কোচের নামও ঘোষণা করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে পাকিস্তানও বাংলাদেশের পথ অনুসরণ করতে যাচ্ছে। শেষ পর্যন্ত সালমান ও বাবরের মতো তারকা ক্রিকেটাররা বিশ্বকাপে খেলতে না পারলে পিসিবি তাদের জন্য বিকল্প পরিকল্পনা করছে। সূত্র জানিয়েছে, বিশ্বকাপে না গেলে লাহোরে চার দলের অংশগ্রহণে একটি ঘরোয়া টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হবে। বাংলাদেশ ইতিমধ্যেই তিন দলের ঘরোয়া লিগ আয়োজন করছে। পিসিবির চারটি দল হবে ‘দ্য পাকিস্তান’, ‘শাহিন্স’ এবং অনূর্ধ্ব-১৮ দল। খেলোয়াড়দের ভাগ করে এই দলগুলো অংশগ্রহণ করবে। বাংলাদেশও একই পথে হেঁটেছে; তাদের তিন দলের ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি লিগ আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হবে।