স্বপ্নের মত এক বছর পার করলো ফরাসি ক্লাব প্যারিস সেইন্ট জার্মেই। সুপার কাপের শিরোপা উঁচিয়ে ধরে বছর শুরু করে দলটি। এরপর ফরাসি কাপ, লিগ ওয়ান এবং প্রথমবারের মতো উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতে ট্রেবল জয়ের স্বাদ পায় প্যারিসিয়ানরা।
বছরের শেষটাও শিরোপা উৎসব দিয়েই শেষ করল এনরিকের দল। প্রথমবারের মত ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ জিতে বিশ্বসেরা ক্লাব হিসেবেই বছরটি শেষ করল পিএসজি।
ম্যাচজুড়ে বল দখল ও আক্রমণে শুরু থেকেই আধিপত্য ছিল পিএসজির। ফেভারিটের তকমা নিয়েই মাঠে নামে ক্লাবটি। কিন্তু ছেড়ে কথা বলেনি ব্রাজিলিয়ান ক্লাব ফ্লামেঙ্গো। প্যারিসিয়ানদের চোখে চোখ রেখে লড়াই করেছে কদিন আগে কোপা লিবের্তাদোরেস ও ব্রাজিলিয়ান সিরি আ জেতা ক্লাবটি।
জালের দেখা পেতে অনেকটা বেগ পেতে হয়েছে পিএসজিকে। অপেক্ষা করতে হয়েছে ম্যাচের ৩৮ মিনিট পর্যন্ত। কাভারাৎসখেলিয়ার গোলে ডেড লক ভাঙ্গার পাশাপাশি লিডে থেকেই বিরতিতে যায় এনরিকের দল।
তবে বিরতি থেকে ফিরেই জবাব দিতে বেশি সময় নেয়নি ফ্লামেঙ্গো। ৫৯ মিনিটে ডি বক্সে প্রতিপক্ষের প্লেয়ারকে ফাউল করে বসেন মার্কিনিয়োস। ভিএআরের সাহায্যে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। সফল স্পট কিকে সমতা ফেরান ইতালিয়ান মিডফিল্ডার জর্জিনিয়ো। এরপর অতিরিক্ত সময়েও কোনো পক্ষ গোল করতে না পারায় ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে।
পেনাল্টি শুটআউটে প্রথম শটে দুই দলই জালের দেখা পায়। এরপরই শুরু হয় পিএসজি গোলরক্ষক সাফানভ শো। রুখে দেন স্প্যানিশ তারকা সাউল নিগেসের শট। এরপর পিএসজিকে হতাশায় ফেলেন বর্ষসেরা দেম্বেলে বল উঁচিয়ে মারলে।
কিন্তু সাফানভ ছিলেন অদম্য। লড়াই যখন তুঙ্গে, তখন লিও পেরেইরা ও লুইস আরাউহোর টানা দুটি শট ঠেকিয়ে দিয়ে পিএসজির শিরোপা নিশ্চিত করেন সাফানভ। তার গ্লাভসের জাদুতে প্রথম বারের মত ফিফা ইন্টারকন্টিনেন্টাল শিরোপা জয়ের উল্লাসে মাতে এনরিকের শিষ্যরা।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
আধুনিক ফুটবলে রাইট-ব্যাকের দায়িত্ব এখন আর শুধু রক্ষণ সামলানো নয়। আক্রমণ গড়া, সুযোগ তৈরি করা এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত রক্ষণে ফিরে এসে দলকে বাঁচানো—সব ক্ষেত্রেই সমান দক্ষ হতে হয়। বর্তমান সময়ের সেরা রাইট-ব্যাকদের নিয়ে আলোচনা হলে সবচেয়ে এগিয়ে রাখা হচ্ছে মরক্কোর তারকা আশরাফ হাকিমিকে। ইউরোপের শীর্ষ লিগগুলোতে আর্সেনাল, বার্সেলোনা, টটেনহাম, চেলসি ও রিয়াল মাদ্রিদের মতো ক্লাবে খেলছেন একাধিক মানসম্পন্ন রাইট-ব্যাক। কেউ আক্রমণে বেশি কার্যকর, কেউ রক্ষণে বেশি নির্ভরযোগ্য। তবে সেরা ফুটবলাররা দুই দিকই সমান দক্ষতায় সামলাতে পারেন। ৫. ড্যানিয়েল মুনোজ (ক্রিস্টাল প্যালেস): প্রিমিয়ার লিগে গত মৌসুমে ক্রিস্টাল প্যালেসের সবচেয়ে ধারাবাহিক পারফর্মারদের একজন ছিলেন ড্যানিয়েল মুনোজ। পরে জাতীয় দল কলম্বিয়ার হয়েও দারুণ নৈপুণ্য দেখিয়ে নিজেকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। অনেকের মতে, ক্যারিয়ারের শুরুতেই বড় ক্লাবে সুযোগ পেলে তিনি আরও বড় মঞ্চে নিজের সেরা সময় কাটাতে পারতেন। ৪. পেদ্রো পোরো (টটেনহাম): কিছুদিন আগেও পেদ্রো পোরোকে এই তালিকায় রাখা নিয়ে প্রশ্ন ছিল। টটেনহামের হতাশাজনক মৌসুমে তার পারফরম্যান্সও সমালোচিত হয়েছিল। তবে স্পেন জাতীয় দলে লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে খেলেই তিনি নিজের প্রকৃত সামর্থ্যের পরিচয় দেন। আক্রমণ ও রক্ষণ—দুই দিকেই পরিণত ও কার্যকর পারফরম্যান্স তাকে শীর্ষ পর্যায়ের রাইট-ব্যাকদের কাতারে তুলেছে। ৩. রিস জেমস (চেলসি): রিস জেমসের সবচেয়ে বড় শক্তি তার বহুমুখিতা। রাইট-ব্যাকের পাশাপাশি মিডফিল্ডেও সমান দক্ষ চেলসি অধিনায়ক। তবু তার সেরা অবস্থান এখনো রাইট-ব্যাক বলেই মনে করেন অনেক বিশ্লেষক। চোটের কারণে গত মৌসুমের বড় অংশ মাঠের বাইরে থাকতে হলেও শারীরিকভাবে পুরোপুরি ফিট থাকলে বিশ্বের সেরা রাইট-ব্যাকদের সঙ্গে লড়াই করার সামর্থ্য রয়েছে তার। ২. ইউরিয়েন টিম্বার (আর্সেনাল): গোল বা অ্যাসিস্টের পরিসংখ্যান খুব বেশি না থাকলেও ইউরিয়েন টিম্বারের আসল শক্তি রক্ষণে। ওয়ান-টু-ওয়ান ডিফেন্ডিংয়ে তাকে বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম সেরা হিসেবে ধরা হয়। আর্সেনালের সাম্প্রতিক সাফল্যে তার অবদান ছিল গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে দলকে প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা লড়াইয়ে এবং চ্যাম্পিয়ন্স লিগে শক্ত অবস্থানে রাখতে। ১. আশরাফ হাকিমি (পিএসজি): বর্তমান সময়ের বিশ্বসেরা রাইট-ব্যাকের প্রশ্নে আশরাফ হাকিমির নামই সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হচ্ছে। ২০২২ আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের সময় কিলিয়ান এমবাপে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছিলেন, “হাকিমি, বিশ্বের সেরা রাইট-ব্যাক।” সময়ের সঙ্গে সেই মূল্যায়ন আরও শক্তিশালী হয়েছে। পিএসজির হয়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স, চ্যাম্পিয়ন্স লিগে সফলতা এবং আন্তর্জাতিক ফুটবলে মরক্কোকে অন্যতম শক্তিশালী দলে পরিণত করার পথে তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান—সব মিলিয়ে অন্য সবার চেয়ে অনেকটাই এগিয়ে আছেন হাকিমি। বর্তমান ফুটবলে আক্রমণ ও রক্ষণের ভারসাম্যই একজন রাইট-ব্যাককে আলাদা করে দেয়। সেই বিচারে আশরাফ হাকিমি এখন এই পজিশনের সবচেয়ে পরিপূর্ণ ও প্রভাবশালী ফুটবলার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান কোচ হিসেবে মরিসিও পচেত্তিনোর সাথেই নতুন চুক্তি সই করেছে ইউএস সকার ফেডারেশন। চার বছরের চুক্তিতে ৫৪ বছর বয়সী আর্জেন্টাইন এই কোচের ওপর ভরসা রাখল দেশটি। সোমবার চুক্তি নবায়নের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে দেশটির ফেডারেশন। ২০২৬ বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রকে শেষ ষেলোতে নিয়ে যাওয়ার পর ইউএস সকার তার ওপর এই দীর্ঘমেয়াদি আস্থা প্রকাশ করে। টুর্নামেন্টে বেলজিয়ামের কাছে ৪-১ ব্যবধানে হেরে বিদায় নিলেও গ্রুপ পর্বে দলের লড়াকু পারফরম্যান্স ফেডারেশনকে মুগ্ধ করেছিল। তাই ফেডারেশন শুরু থেকেই পচেত্তিনোকে রেখে দেওয়ার ব্যাপারে স্পষ্ট ইচ্ছা প্রকাশ করেছিল। গত সপ্তাহে দ্য গার্ডিয়ান এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, উভয় পক্ষ চুক্তি চূড়ান্ত করার একদম শেষ পর্যায়ে রয়েছে। চুক্তি নবায়নের পর পচেত্তিনো বলেন, ‘আমাদের কাছে এটি স্পষ্ট যুক্তরাষ্ট্রকে আরো শক্তিশালী করার বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। বিশ্বকাপজুড়ে ভক্তদের কাছ থেকে আমরা যে উন্মাদনা দেখেছি, তা এখানে কী করা সম্ভব সেই বিশ্বাসকে আরো দৃঢ় করেছে।’ ফেডারেশনজুড়ে খেলোয়াড়, কোচ এবং দলগুলোর পথকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করার পাশাপাশি ইউএস সকারের আরো অনেক ক্ষেত্রে আমাদের অভিজ্ঞতা ও জ্ঞানকে কাজে লাগানোর বিশাল সুযোগ পেয়ে আমরা রোমাঞ্চিত বলে যোগ করেন তিনি। এদিকে চুক্তির আর্থিক বিবরণী প্রকাশ করা না হলেও, এই আর্জেন্টাইন তার আগের চুক্তির বার্ষিক ৬ মিলিয়ন ডলার বেতনের চেয়ে আরো বেশি পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এটি ইতিমধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো কোচের জন্য সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক। এবারও এই নতুন চুক্তির প্রধান অর্থায়নকারী হিসেবে কাজ করছেন মার্কিন ধনকুবের এবং হেজ ফান্ড ম্যানেজার কেন গ্রিফিন। যিনি পচেত্তিনোর প্রথম চুক্তির টাকা জুগিয়েছিলেন। এবার জাতীয় দল পরিচালনার পাশাপাশি পুরো কোচিং স্টাফ ইউএস সকারের সামগ্রিক উন্নয়নে বড় ভূমিকা হিসেবে কাজ রাখবে। তারা একাডেমি ও যুব ফুটবলের জন্য কৌশলগত উন্নয়ন পরিকল্পনা তৈরিসহ স্থানীয় ও প্রফেশনাল লিগগুলোর সাথে সমন্বয় করে কাজ করবে।
আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার ভ্যালেন্তিন বারকোকে দলে ভেড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে ইংলিশ ক্লাব চেলসি। রবিবার (২ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করে ক্লাবটি। ফরাসি ক্লাব আরসি স্ট্রাসবুর্গ থেকে স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে যোগ দিয়েছেন ২১ বছর বয়সী এ ফুটবলার। গোল ডটকমের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়। চেলসির সঙ্গে ২০৩৩ সালের জুন পর্যন্ত দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করেছেন বারকো। ব্লুকো মালিকানাধীন দুই ক্লাবের মধ্যে খেলোয়াড় স্থানান্তরের ধারাবাহিকতায় স্ট্রাসবুর্গ থেকে চেলসিতে যোগ দেওয়া সর্বশেষ ফুটবলার তিনি। আগামী ২০২৬-২৭ মৌসুমকে সামনে রেখে জাবি আলোনসোর দলে যোগ দিচ্ছেন আর্জেন্টাইন এ আন্তর্জাতিক ফুটবলার। প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতির বাকি সূচিতে তিনি নতুন সতীর্থদের সঙ্গে যোগ দেবেন।