স্বপ্ন বড়, কিন্তু সক্ষমতা সীমিত। দীর্ঘ ১৯ বছর পর ক্ষমতায় এসে একটি দুর্বল, চাপগ্রস্ত এবং নানা সংকটে জর্জরিত অর্থনীতি পেয়েছে বর্তমান বিএনপি সরকার। এ অবস্থায় আজ সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পেশ করতে যাচ্ছে দলটি। জানা যায়, বাজেটে উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও কল্যাণ রাষ্ট্র গঠনের নানা প্রতিশ্রুতি রয়েছে। কিন্তু রাজস্ব আদায়ের দুর্বল ভিত্তি, বিনিয়োগে স্থবিরতা এবং অর্থনীতি পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ার মধ্যে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের বিশাল লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার বিশাল ঘাটতি ও ঋণনির্ভর অর্থায়ন নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন উদ্বেগ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বর্তমান বিএনপি সরকারের প্রথম এই বাজেট উপস্থাপন করবেন।
সরকার বলছে, করের হার নয়, বাড়ানো হচ্ছে আওতা। করদাতার সংখ্যা বাড়ানো, ডিজিটাল নজরদারি জোরদার করা এবং অর্থনীতির আনুষ্ঠানিক খাত সম্প্রসারণকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। করমুক্ত আয়সীমা বৃদ্ধি, ফ্রিল্যান্সারদের জন্য ভ্যাট অব্যাহতি এবং স্টার্টআপের স্বীকৃতি মিলছে। তবে আমদানিনির্ভর পণ্য এবং ডিজিটাল সেবায় কর বাড়ছে। ফলে বাড়তি ব্যয়ের মুখে পড়বে এসব খাত। করব্যবস্থা আরও প্রযুক্তিনির্ভর, তথ্যভিত্তিক এবং বিস্তৃত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রচেষ্টা হিসাবে বিবেচিত হতে পারে। তবে এর প্রকৃত প্রভাব নির্ভর করবে বাস্তবায়নের দক্ষতা, কর প্রশাসনের সক্ষমতা এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখার ওপর।
জানতে চাইলে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ বাজেটের কেন্দ্রীয় অগ্রাধিকার হতে হবে। কারণ, উচ্চ মূল্যস্ফীতির সবচেয়ে বড় চাপ বহন করে নিম্ন-আয়ের ও মধ্যবিত্ত মানুষ। যদি মানুষের প্রকৃত আয় কমে যায়, তাহলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফলও সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাবে না। তিনি বলেন, রাজস্ব আহরণ, মুদ্রানীতি ও বাজার ব্যবস্থাপনার মধ্যে সমন্বয় ছাড়া শুধু বাজেট ঘোষণার মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়।
ব্যয়, আয় ও ঘাটতি :
প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। বিপরীতে আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মাধ্যমে আদায়ের লক্ষ্য ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা। এনবিআরবহির্ভূত কর ২৫ হাজার কোটি টাকা এবং করবহির্ভূত রাজস্ব ৬৬ হাজার কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে আয় ও ব্যয়ের ব্যবধান দাঁড়াচ্ছে প্রায় ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা, যা মোট জিডিপির ৩ দশমিক ৫৬ শতাংশ। একদিকে বাংলাদেশের ইতিহাসে এটি যেমন অন্যতম বড় বাজেট; আবার ঘাটতির দিক থেকেও এটি সবচেয়ে বড়। প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী ব্যাংকব্যবস্থা থেকে প্রায় ১ লাখ ১২ হাজার কোটি, সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য উৎস থেকে প্রায় ১৫ হাজার কোটি এবং বৈদেশিক ঋণ থেকে প্রায় ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে। মোট জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীতকরণ এবং মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা হবে। বাজেটে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের ঘোষণা দেওয়া হবে এবং এ খাতে বরাদ্দ থাকবে ৩৫ হাজার কোটি টাকা। স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষা খাতে বরাদ্দ রাখা হচ্ছে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬৪৬ কোটি টাকা। যেখানে উচ্চশিক্ষায় গবেষণা খাতে ৫২৯ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকবে।
জানতে চাইলে সাবেক অর্থ সচিব মাহবুব আহমেদ বলেন, বাজেটের আকার বড় হলেও পুরো অর্থ ব্যয় করার সক্ষমতা সরকারের আছে কি না, সেটাই বড় প্রশ্ন। আমাদের অভিজ্ঞতা বলছে, বছর শেষে উন্নয়ন ও পরিচালন ব্যয়ের একটি অংশ অব্যয়িত থেকে যায়। আবার রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যও অনেক সময় পূরণ হয় না। ফলে ঘাটতি অর্থায়নে ঋণের ওপর নির্ভরতা বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। যেহেতু বড় বাজেট নেওয়া হয়েছে, এখন রাজস্ব আদায়ের সক্ষমতা বাড়ানো এবং ব্যয়ের গুণগত মান নিশ্চিত করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হবে।
করমুক্ত আয়সীমা বাড়ল :
ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের করমুক্ত আয়সীমা ২৫ হাজার টাকা বাড়ানো হয়েছে। নতুন আইনে করমুক্ত আয়সীমা ৩ লাখ ৫০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন কাঠামো অনুযায়ী, ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করমুক্ত থাকবে। এর পরের ৩ লাখ টাকার ওপর ১০ শতাংশ, পরবর্তী ৪ লাখ টাকার ওপর ১৫ শতাংশ এবং এর পরবর্তী ধাপগুলোয় ক্রমান্বয়ে উচ্চহারে কর আরোপ করা হবে।
ডিজিটাল অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক বার্তা :
এবার ডিজিটাল অর্থনীতির প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন দেখা গেছে। ফ্রিল্যান্সার এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের নির্দিষ্ট সেবা ভ্যাটমুক্ত করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম ফ্রিল্যান্সিং কর্মবাজারে বাংলাদেশের লাখো তরুণ অনলাইনভিত্তিক সেবার মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করছেন। ফলে এ খাত ভ্যাটের চাপমুক্ত রাখা সরকারের স্মার্ট অর্থনীতির লক্ষ্য বাস্তবায়নে সহায়ক হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্টার্টআপ পেল আইনি পরিচয় :
অর্থ আইন ২০২৬-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হলো ‘স্ট্যান্ডার্ড স্টার্টআপ’ সংজ্ঞা অন্তর্ভুক্ত করা। উদ্ভাবনী প্রযুক্তি, নতুন ব্যবসায়িক মডেল, কর্মসংস্থান সৃষ্টি কিংবা নতুন পণ্য উন্নয়নে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যদিও এ মুহূর্তে স্টার্টআপের জন্য বড় কোনো করছাড় ঘোষণা করা হয়নি। তবে নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, ভবিষ্যতে বিনিয়োগ, কর সুবিধা ও নীতিগত সহায়তার ভিত্তি তৈরির ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
কর নেটের বাইরে থাকা ব্যবসাকে চিহ্নিত করার উদ্যোগ :
অর্থ আইনের অন্যতম বড় বার্তা হলো ব্যবসাকে আরও বেশি আনুষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় আনা। এখন ব্যবসা পরিচালনার বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যবসা শনাক্তকরণ নম্বর (বিআইএন) বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। ব্যাংক হিসাব খোলা, ঋণ গ্রহণ, ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন, মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট পরিচালনা এবং অন্যান্য ব্যবসায়িক সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে বিআইএন প্রয়োজন হবে। রাজস্ব বোর্ডের কর্মকর্তারা মনে করছেন, এর ফলে দীর্ঘদিন করব্যবস্থার বাইরে থাকা বহু ব্যবসা ও লেনদেন শনাক্ত করা সম্ভব হবে।
কর ফাঁকির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান :
অর্থ আইন ২০২৬-এ আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিটের ক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। নতুন বিধান অনুযায়ী, কর ফাঁকি শনাক্ত করতে তথ্য সংগ্রহ, তদন্ত, তল্লাশি পরিচালনা, নথি জব্দ এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য বিশ্লেষণের সুযোগ আরও বিস্তৃত করা হয়েছে। সূত্র বলছে, রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে শুধু নতুন কর আরোপ নয়, বিদ্যমান করের যথাযথ বাস্তবায়নই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। সেই লক্ষ্যেই তদন্ত ও গোয়েন্দা কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে।
ডিজিটাল হিসাবব্যবস্থার আইনি স্বীকৃতি :
ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ডিজিটাল রূপান্তরের অংশ হিসাবে ইআরপি (এন্টারপ্রাইজ রিসোর্স প্ল্যানিং) এবং অনুমোদিত সফটওয়্যারে সংরক্ষিত হিসাবকে আইনি স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কাগজনির্ভর হিসাবব্যবস্থার পরিবর্তে প্রযুক্তিনির্ভর হিসাব ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব বাড়বে। একই সঙ্গে কর কর্তৃপক্ষের জন্যও তথ্য যাচাই ও নিরীক্ষা সহজ হবে।
বিদেশি ডিজিটাল সেবায় ১৫ শতাংশ ভ্যাট :
প্রস্তাবিত বাজেটে বিদেশ থেকে আমদানি করা বিভিন্ন ডিজিটাল সেবায় ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে। এর আওতায় ক্লাউড কম্পিউটিং, সফটওয়্যার সাবস্ক্রিপশন, অনলাইন ডেটা সেবা, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং অন্যান্য প্রযুক্তিভিত্তিক সেবা অন্তর্ভুক্ত হবে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, এতে প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিষ্ঠানের পরিচালন ব্যয় বাড়বে। বিশেষ করে সফটওয়্যার, ডেটা সেন্টার এবং ক্লাউডভিত্তিক সেবা ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠানগুলো অতিরিক্ত ব্যয়ের মুখে পড়তে পারে।
আমদানিনির্ভর পণ্যে বাড়তি কর :
রাজস্ব আহরণের আরেকটি বড় উৎস হিসাবে আমদানিকৃত বিভিন্ন পণ্যের ওপর সম্পূরক শুল্ক বাড়ানো হয়েছে। আমদানি করা আম, আপেল, আঙ্গুরসহ বিভিন্ন ফলের ওপর ৩০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। একই সঙ্গে চকলেট, বিস্কুট, ওয়েফার, আলুর চিপস এবং অন্যান্য প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্যের ওপরও উচ্চহারে কর নির্ধারণ করা হয়েছে।
তামাক ও কোমল পানীয় খাতে উচ্চকর অব্যাহত : জনস্বাস্থ্য ও রাজস্ব-উভয় বিবেচনায় তামাকজাত পণ্য, কোমল পানীয় এবং মদ্যপণ্যের ওপর উচ্চ করহার বহাল রাখা হয়েছে। কোমল পানীয়র ওপর ১০০, বিয়ারে ২৫০ এবং বিভিন্ন ধরনের মদের ওপর ৩৫০ শতাংশ পর্যন্ত সম্পূরক শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে। সিগারেট, নিকোটিন পাউচ এবং অন্যান্য তামাকজাত পণ্যের ক্ষেত্রেও উচ্চকর আরোপ অব্যাহত রাখা হয়েছে।
বৈদ্যুতিক গাড়ির জন্য নতুন করনীতি :
ইলেকট্রিক যানবাহনের জন্য পৃথক মূল্যভিত্তিক কর কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। কম মূল্যের বৈদ্যুতিক গাড়ির ক্ষেত্রে করহার কম রাখা হলেও উচ্চমূল্যের গাড়ির ক্ষেত্রে কর উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। এতে একদিকে পরিবেশবান্ধব যানবাহনের ব্যবহার উৎসাহিত হবে, অন্যদিকে বিলাসী শ্রেণির উচ্চমূল্যের গাড়ি থেকে বাড়তি রাজস্ব আদায়ের সুযোগ তৈরি হবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
মহান জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক, জবাবদিহিমূলক ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বুধবার (৫ আগস্ট) দিবসটি উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি বলেন, আসুন, মহান জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক, বৈষম্যহীন ও সুখী-সমৃদ্ধ নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলি। একই সঙ্গে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ ও গণ-অভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের স্বপ্ন, আদর্শ ও আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে একযোগে কাজ করি। বাণীতে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার সম্মিলিত প্রতিরোধের মুখে দীর্ঘদিনের বৈষম্যমূলক ও ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটে। গণরোষের মুখে তৎকালীন সরকার দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়। এ অর্জনের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে তিনি বীর জুলাই যোদ্ধাসহ দেশপ্রেমিক সব নাগরিককে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। তিনি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে আন্দোলনের শহীদ আবু সাঈদ, মুগ্ধ, ওয়াসিম, ইয়ামিন, ফারহান, নাফিজ, তাইম, নাঈমা, শিশু রিয়া গোপ ও আহাদসহ আত্মোৎসর্গকারী সকল শহিদকে স্মরণ করেন। পাশাপাশি আন্দোলনে আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারী জুলাই যোদ্ধাদের প্রতিও সম্মান ও সহমর্মিতা প্রকাশ করেন। হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ছিল দীর্ঘ দেড় দশকের দুঃশাসন, বৈষম্য, দুর্নীতি, শোষণ, গুম-খুন, দলীয়করণ, গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও বাকস্বাধীনতা হরণ এবং জেল-জুলুমের বিরুদ্ধে জনগণের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের অপ্রতিরোধ্য বহিঃপ্রকাশ। তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের রাষ্ট্রীয় অনিয়ম, নিপীড়ন ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনঅসন্তোষ কোটা সংস্কার আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় নিরস্ত্র শিক্ষার্থী-জনতার ওপর নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর সর্বব্যাপী গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নেয়। বাণীতে আন্দোলনে অংশ নেওয়া সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থী-শিক্ষক, তরুণ-যুবসমাজ, রাজনৈতিক কর্মী, শ্রমজীবী-কর্মজীবীসহ সর্বস্তরের মানুষকে ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বলেন, জনগণই সকল রাষ্ট্রক্ষমতার উৎস। গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে এই চিরন্তন সত্য আবারও প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাই শহীদদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষায় এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে ফ্যাসিবাদ, স্বৈরাচার ও উগ্রপন্থার কোনো স্থান থাকবে না। একই সঙ্গে বৈষম্য, দুর্নীতি, দুঃশাসন ও অন্যায়ের অবসান ঘটিয়ে ভোটাধিকার, ন্যায়বিচার, মানবিক মর্যাদা, মৌলিক অধিকার, সুশাসন ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। তিনি আন্দোলনে শহীদ ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের যথাযথ সম্মান, তাদের পরিবারের কল্যাণ, আহতদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও মানবতাবিরোধী অপরাধের নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন। বাণীর শেষে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের শান্তি, সাম্য, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সকল শহিদের রুহের মাগফেরাত ও শান্তি কামনা করেন।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলের চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম বলেছেন, বিপ্লবের দুই বছর পার হলেও সাধারণ মানুষের জীবনে প্রত্যাশিত স্বস্তি ফিরে আসেনি। বুধবার (৫ আগস্ট) জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এ মন্তব্য করেন। নাহিদ ইসলাম বলেন, ৫ আগস্ট বাংলাদেশের জাতীয় ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। তিনি একে দীর্ঘ সংগ্রাম, আত্মত্যাগ ও গণআকাঙ্ক্ষার প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেন। বার্তায় তিনি দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস, স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায় তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, দীর্ঘদিনের বৈষম্য, বঞ্চনা ও দমনপীড়নের বিরুদ্ধে জনগণের আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও দমন-পীড়নের ঘটনাগুলো দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে নতুন মোড়ে নিয়ে যায় এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে একটি বৃহত্তর গণআন্দোলনের সৃষ্টি হয়। নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক নেতৃত্বের অসহযোগিতার কারণে প্রত্যাশিত পরিবর্তন পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। তার মতে, ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ, প্রশাসনিক দুর্বলতা ও সংস্কার কার্যক্রমে অগ্রগতির অভাব দেশের বর্তমান সংকটকে আরও গভীর করেছে। তিনি সরকারের প্রতি দ্রুত সংস্কার বাস্তবায়ন, রাজনৈতিক সহাবস্থান নিশ্চিত করা এবং সহিংসতার বিচার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান। বার্তার শেষে তিনি শহীদদের স্মরণ করে ন্যায়, ইনসাফ ও মানবিক মর্যাদাভিত্তিক বাংলাদেশ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র নাউরু আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের নাম পরিবর্তন করে ‘রিপাবলিক অব নাওয়েরো’ করেছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট ডেনিস অ্যাডিয়াং মূল ভাষার উচ্চারণ ও বানানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছেন। সরকার জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে বিদেশিদের উচ্চারণের সুবিধার্থে ‘নাউরু’ নামটি ব্যবহৃত হলেও স্থানীয় ভাষায় দেশের ঐতিহাসিক নাম ‘নাওয়েরো’। নতুন সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সেই ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক পরিচয়কে পুনরায় সামনে আনা হয়েছে। নাম পরিবর্তনের ফলে দেশটির আন্তর্জাতিক সংক্ষিপ্ত কোড ‘NRU’ পরিবর্তিত হয়ে ‘NRO’ হবে। পাশাপাশি নাগরিকদের আর ‘নাউরুয়ান’ বলা হবে না; তাদের নতুন পরিচয় হবে ‘দেই-নাওয়েরো’। গত জানুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট অ্যাডিয়াং পার্লামেন্টে নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব উত্থাপন করেন। সে সময় তিনি বলেন, এই পদক্ষেপ দেশের ঐতিহ্য, ভাষা ও জাতীয় পরিচয়ের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের অংশ। মে মাসে এ বিষয়ে গণভোট আয়োজনের আলোচনা থাকলেও পরে সরকার জানায়, ‘নাওয়েরো’ নামটি কখনোই রাষ্ট্রীয় ব্যবহার থেকে হারিয়ে যায়নি এবং এটি জাতীয় প্রতীকেও বিদ্যমান রয়েছে। তাই আলাদা গণভোটের প্রয়োজন হয়নি। প্রায় ১২ হাজার জনসংখ্যার এই দ্বীপরাষ্ট্র ভ্যাটিকান সিটি ও টুভালুর পর বিশ্বের তৃতীয় ক্ষুদ্রতম স্বাধীন দেশ হিসেবে পরিচিত। নাউরুর ইতিহাসে রয়েছে উপনিবেশিক শাসনের দীর্ঘ অধ্যায়। দেশটি একসময় জার্মান উপনিবেশ ছিল এবং পরে অস্ট্রেলিয়ার প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণে আসে। ১৯৬৮ সালে স্বাধীনতা লাভের পর ১৯৭০-এর দশকে ফসফেট খনি থেকে বিপুল সম্পদ অর্জন করে। তবে ১৯৯০-এর দশকে সেই সম্পদ কমে গেলে দেশটি অর্থনৈতিক সংকটে পড়ে। বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি দেশটির জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠেছে। ভবিষ্যৎ পুনর্বাসন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নাউরু সরকার পেইড সিটিজেনশিপ কর্মসূচিও পরিচালনা করছে। নাম পরিবর্তনের ফলে দেশটির উড়োজাহাজ, জাহাজ ও বিভিন্ন সরকারি নথির নামও পরিবর্তন করা হবে। ইতোমধ্যে জাতিসংঘ, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের দূতাবাস তাদের ওয়েবসাইটে নতুন নাম ‘নাওয়েরো’ ব্যবহার শুরু করেছে। উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আরও কয়েকটি দেশ নিজেদের ঐতিহাসিক বা স্থানীয় পরিচয় পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নাম পরিবর্তন করেছে। ২০১৮ সালে সোয়াজিল্যান্ড ‘এসওয়াতিনি’ এবং ২০২২ সালে তুরস্ক আন্তর্জাতিকভাবে ‘তুরকিয়ে’ নাম ব্যবহার শুরু করে। সূত্র: এপি