স্বপ্ন বড়, কিন্তু সক্ষমতা সীমিত। দীর্ঘ ১৯ বছর পর ক্ষমতায় এসে একটি দুর্বল, চাপগ্রস্ত এবং নানা সংকটে জর্জরিত অর্থনীতি পেয়েছে বর্তমান বিএনপি সরকার। এ অবস্থায় আজ সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পেশ করতে যাচ্ছে দলটি। জানা যায়, বাজেটে উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও কল্যাণ রাষ্ট্র গঠনের নানা প্রতিশ্রুতি রয়েছে। কিন্তু রাজস্ব আদায়ের দুর্বল ভিত্তি, বিনিয়োগে স্থবিরতা এবং অর্থনীতি পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ার মধ্যে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের বিশাল লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার বিশাল ঘাটতি ও ঋণনির্ভর অর্থায়ন নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন উদ্বেগ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বর্তমান বিএনপি সরকারের প্রথম এই বাজেট উপস্থাপন করবেন।
সরকার বলছে, করের হার নয়, বাড়ানো হচ্ছে আওতা। করদাতার সংখ্যা বাড়ানো, ডিজিটাল নজরদারি জোরদার করা এবং অর্থনীতির আনুষ্ঠানিক খাত সম্প্রসারণকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। করমুক্ত আয়সীমা বৃদ্ধি, ফ্রিল্যান্সারদের জন্য ভ্যাট অব্যাহতি এবং স্টার্টআপের স্বীকৃতি মিলছে। তবে আমদানিনির্ভর পণ্য এবং ডিজিটাল সেবায় কর বাড়ছে। ফলে বাড়তি ব্যয়ের মুখে পড়বে এসব খাত। করব্যবস্থা আরও প্রযুক্তিনির্ভর, তথ্যভিত্তিক এবং বিস্তৃত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রচেষ্টা হিসাবে বিবেচিত হতে পারে। তবে এর প্রকৃত প্রভাব নির্ভর করবে বাস্তবায়নের দক্ষতা, কর প্রশাসনের সক্ষমতা এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখার ওপর।
জানতে চাইলে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ বাজেটের কেন্দ্রীয় অগ্রাধিকার হতে হবে। কারণ, উচ্চ মূল্যস্ফীতির সবচেয়ে বড় চাপ বহন করে নিম্ন-আয়ের ও মধ্যবিত্ত মানুষ। যদি মানুষের প্রকৃত আয় কমে যায়, তাহলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফলও সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাবে না। তিনি বলেন, রাজস্ব আহরণ, মুদ্রানীতি ও বাজার ব্যবস্থাপনার মধ্যে সমন্বয় ছাড়া শুধু বাজেট ঘোষণার মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়।
ব্যয়, আয় ও ঘাটতি :
প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। বিপরীতে আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মাধ্যমে আদায়ের লক্ষ্য ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা। এনবিআরবহির্ভূত কর ২৫ হাজার কোটি টাকা এবং করবহির্ভূত রাজস্ব ৬৬ হাজার কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে আয় ও ব্যয়ের ব্যবধান দাঁড়াচ্ছে প্রায় ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা, যা মোট জিডিপির ৩ দশমিক ৫৬ শতাংশ। একদিকে বাংলাদেশের ইতিহাসে এটি যেমন অন্যতম বড় বাজেট; আবার ঘাটতির দিক থেকেও এটি সবচেয়ে বড়। প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী ব্যাংকব্যবস্থা থেকে প্রায় ১ লাখ ১২ হাজার কোটি, সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য উৎস থেকে প্রায় ১৫ হাজার কোটি এবং বৈদেশিক ঋণ থেকে প্রায় ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে। মোট জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীতকরণ এবং মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা হবে। বাজেটে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের ঘোষণা দেওয়া হবে এবং এ খাতে বরাদ্দ থাকবে ৩৫ হাজার কোটি টাকা। স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষা খাতে বরাদ্দ রাখা হচ্ছে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬৪৬ কোটি টাকা। যেখানে উচ্চশিক্ষায় গবেষণা খাতে ৫২৯ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকবে।
জানতে চাইলে সাবেক অর্থ সচিব মাহবুব আহমেদ বলেন, বাজেটের আকার বড় হলেও পুরো অর্থ ব্যয় করার সক্ষমতা সরকারের আছে কি না, সেটাই বড় প্রশ্ন। আমাদের অভিজ্ঞতা বলছে, বছর শেষে উন্নয়ন ও পরিচালন ব্যয়ের একটি অংশ অব্যয়িত থেকে যায়। আবার রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যও অনেক সময় পূরণ হয় না। ফলে ঘাটতি অর্থায়নে ঋণের ওপর নির্ভরতা বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। যেহেতু বড় বাজেট নেওয়া হয়েছে, এখন রাজস্ব আদায়ের সক্ষমতা বাড়ানো এবং ব্যয়ের গুণগত মান নিশ্চিত করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হবে।
করমুক্ত আয়সীমা বাড়ল :
ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের করমুক্ত আয়সীমা ২৫ হাজার টাকা বাড়ানো হয়েছে। নতুন আইনে করমুক্ত আয়সীমা ৩ লাখ ৫০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন কাঠামো অনুযায়ী, ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করমুক্ত থাকবে। এর পরের ৩ লাখ টাকার ওপর ১০ শতাংশ, পরবর্তী ৪ লাখ টাকার ওপর ১৫ শতাংশ এবং এর পরবর্তী ধাপগুলোয় ক্রমান্বয়ে উচ্চহারে কর আরোপ করা হবে।
ডিজিটাল অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক বার্তা :
এবার ডিজিটাল অর্থনীতির প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন দেখা গেছে। ফ্রিল্যান্সার এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের নির্দিষ্ট সেবা ভ্যাটমুক্ত করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম ফ্রিল্যান্সিং কর্মবাজারে বাংলাদেশের লাখো তরুণ অনলাইনভিত্তিক সেবার মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করছেন। ফলে এ খাত ভ্যাটের চাপমুক্ত রাখা সরকারের স্মার্ট অর্থনীতির লক্ষ্য বাস্তবায়নে সহায়ক হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্টার্টআপ পেল আইনি পরিচয় :
অর্থ আইন ২০২৬-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হলো ‘স্ট্যান্ডার্ড স্টার্টআপ’ সংজ্ঞা অন্তর্ভুক্ত করা। উদ্ভাবনী প্রযুক্তি, নতুন ব্যবসায়িক মডেল, কর্মসংস্থান সৃষ্টি কিংবা নতুন পণ্য উন্নয়নে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যদিও এ মুহূর্তে স্টার্টআপের জন্য বড় কোনো করছাড় ঘোষণা করা হয়নি। তবে নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, ভবিষ্যতে বিনিয়োগ, কর সুবিধা ও নীতিগত সহায়তার ভিত্তি তৈরির ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
কর নেটের বাইরে থাকা ব্যবসাকে চিহ্নিত করার উদ্যোগ :
অর্থ আইনের অন্যতম বড় বার্তা হলো ব্যবসাকে আরও বেশি আনুষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় আনা। এখন ব্যবসা পরিচালনার বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যবসা শনাক্তকরণ নম্বর (বিআইএন) বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। ব্যাংক হিসাব খোলা, ঋণ গ্রহণ, ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন, মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট পরিচালনা এবং অন্যান্য ব্যবসায়িক সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে বিআইএন প্রয়োজন হবে। রাজস্ব বোর্ডের কর্মকর্তারা মনে করছেন, এর ফলে দীর্ঘদিন করব্যবস্থার বাইরে থাকা বহু ব্যবসা ও লেনদেন শনাক্ত করা সম্ভব হবে।
কর ফাঁকির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান :
অর্থ আইন ২০২৬-এ আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিটের ক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। নতুন বিধান অনুযায়ী, কর ফাঁকি শনাক্ত করতে তথ্য সংগ্রহ, তদন্ত, তল্লাশি পরিচালনা, নথি জব্দ এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য বিশ্লেষণের সুযোগ আরও বিস্তৃত করা হয়েছে। সূত্র বলছে, রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে শুধু নতুন কর আরোপ নয়, বিদ্যমান করের যথাযথ বাস্তবায়নই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। সেই লক্ষ্যেই তদন্ত ও গোয়েন্দা কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে।
ডিজিটাল হিসাবব্যবস্থার আইনি স্বীকৃতি :
ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ডিজিটাল রূপান্তরের অংশ হিসাবে ইআরপি (এন্টারপ্রাইজ রিসোর্স প্ল্যানিং) এবং অনুমোদিত সফটওয়্যারে সংরক্ষিত হিসাবকে আইনি স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কাগজনির্ভর হিসাবব্যবস্থার পরিবর্তে প্রযুক্তিনির্ভর হিসাব ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব বাড়বে। একই সঙ্গে কর কর্তৃপক্ষের জন্যও তথ্য যাচাই ও নিরীক্ষা সহজ হবে।
বিদেশি ডিজিটাল সেবায় ১৫ শতাংশ ভ্যাট :
প্রস্তাবিত বাজেটে বিদেশ থেকে আমদানি করা বিভিন্ন ডিজিটাল সেবায় ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে। এর আওতায় ক্লাউড কম্পিউটিং, সফটওয়্যার সাবস্ক্রিপশন, অনলাইন ডেটা সেবা, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং অন্যান্য প্রযুক্তিভিত্তিক সেবা অন্তর্ভুক্ত হবে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, এতে প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিষ্ঠানের পরিচালন ব্যয় বাড়বে। বিশেষ করে সফটওয়্যার, ডেটা সেন্টার এবং ক্লাউডভিত্তিক সেবা ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠানগুলো অতিরিক্ত ব্যয়ের মুখে পড়তে পারে।
আমদানিনির্ভর পণ্যে বাড়তি কর :
রাজস্ব আহরণের আরেকটি বড় উৎস হিসাবে আমদানিকৃত বিভিন্ন পণ্যের ওপর সম্পূরক শুল্ক বাড়ানো হয়েছে। আমদানি করা আম, আপেল, আঙ্গুরসহ বিভিন্ন ফলের ওপর ৩০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। একই সঙ্গে চকলেট, বিস্কুট, ওয়েফার, আলুর চিপস এবং অন্যান্য প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্যের ওপরও উচ্চহারে কর নির্ধারণ করা হয়েছে।
তামাক ও কোমল পানীয় খাতে উচ্চকর অব্যাহত : জনস্বাস্থ্য ও রাজস্ব-উভয় বিবেচনায় তামাকজাত পণ্য, কোমল পানীয় এবং মদ্যপণ্যের ওপর উচ্চ করহার বহাল রাখা হয়েছে। কোমল পানীয়র ওপর ১০০, বিয়ারে ২৫০ এবং বিভিন্ন ধরনের মদের ওপর ৩৫০ শতাংশ পর্যন্ত সম্পূরক শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে। সিগারেট, নিকোটিন পাউচ এবং অন্যান্য তামাকজাত পণ্যের ক্ষেত্রেও উচ্চকর আরোপ অব্যাহত রাখা হয়েছে।
বৈদ্যুতিক গাড়ির জন্য নতুন করনীতি :
ইলেকট্রিক যানবাহনের জন্য পৃথক মূল্যভিত্তিক কর কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। কম মূল্যের বৈদ্যুতিক গাড়ির ক্ষেত্রে করহার কম রাখা হলেও উচ্চমূল্যের গাড়ির ক্ষেত্রে কর উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। এতে একদিকে পরিবেশবান্ধব যানবাহনের ব্যবহার উৎসাহিত হবে, অন্যদিকে বিলাসী শ্রেণির উচ্চমূল্যের গাড়ি থেকে বাড়তি রাজস্ব আদায়ের সুযোগ তৈরি হবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বাজেট ঘোষণা করেছে বিএনপি সরকার। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। তবে এই বিশাল বাজেটেও স্থান পায়নি বহুল আলোচিত তিস্তা মহাপরিকল্পনা। ফলে উত্তরাঞ্চলের মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে হতাশা ও ক্ষোভ। প্রতিবছর বাজেট ঘোষণার সময় নতুন করে জেগে ওঠে তিস্তা পাড়ের মানুষের স্বপ্ন। নদীভাঙন, পানির সংকট ও কৃষি সমস্যার স্থায়ী সমাধান হিসেবে তারা দীর্ঘদিন ধরে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে আসছেন। কথা ছিল এবারের বাজেটে প্রকল্পটির জন্য বরাদ্দ দেওয়া হবে। কিন্তু প্রস্তাবিত বাজেটে এ বিষয়ে কোনো বরাদ্দ কিংবা বাস্তবায়নের সুস্পষ্ট রূপরেখা না থাকায় হতাশ স্থানীয়রা। তিস্তা বাঁচাও নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম হক্কানী বলেন, উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ছিল তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু হবে। কিন্তু বাজেটে এ বিষয়ে কোনো অগ্রগতি না থাকায় মানুষ হতাশ হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা পরামর্শ দিয়েছিলাম, প্রয়োজনে তিস্তা বন্ড চালু করে, কাজ শুরু হওয়ার পর বালু ও পাথর বিক্রি করে নিজস্ব অর্থায়নে মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হোক। বিদেশি বিনিয়োগের উপর নির্ভরশীলতা নয়, আমরা চাই নিজস্ব অর্থায়নে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হোক। বিশ্লেষকদের মতে, তিস্তা মহাপরিকল্পনা শুধু নদী খনন বা বাঁধ নির্মাণের প্রকল্প নয়। এটি উত্তরাঞ্চলের কৃষি, সেচ ব্যবস্থা, নদীভাঙন নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্ট অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক উমর ফারুক বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতি ও জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। তাই এ বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন। রিভারাইন পিপলের পরিচালক ড. তুহিন ওয়াদুদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অনিশ্চয়তায় থাকা তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন বিলম্বিত হলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে নদী, প্রকৃতি ও নদীপাড়ের মানুষ। তিনি বলেন, বাজেটে সব ক্ষেত্রেই পিছিয়ে রংপুর। রংপুর বিভাগকে বাংলা মায়ের সতিন হিসেবে পরিচিত না করে দ্রুত বিশেষ বরাদ্দ দিয়ে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা উচিত। সংশ্লিষ্টদের দাবি, উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং নদীকেন্দ্রিক সংকট নিরসনে সরকারকে দ্রুত দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় তিস্তা ঘিরে মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা আরও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে থাকবে।
ঢাকার জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেছেন, বৃক্ষরোপণ আমাদের দায়িত্ব নয়, আমাদের দায়। ঢাকাকে বাসযোগ্য হিসেবে গড়ে তুলতে বৃক্ষরোপণকে সামাজিক আন্দোলনে রূপ দিতে হবে। শনিবার (১৩ জুন) রাজধানীর আজিমপুর সরকারি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজে আয়োজিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি। জেলা প্রশাসক বলেন, দ্রুত নগরায়ণ, পরিবেশ দূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে রাজধানী ঢাকা ক্রমেই নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ব্যাপক সবুজায়নের কোনো বিকল্প নেই। একটি গাছ শুধু পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে না, এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি বলেন, আমরা প্রায়ই বৃক্ষরোপণকে একটি আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি হিসেবে দেখি। কিন্তু বাস্তবে এটি কোনো সৌখিনতা নয় বরং আমাদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। প্রতিটি নাগরিক যদি বছরে অন্তত একটি করে গাছ রোপণ ও পরিচর্যার দায়িত্ব নেয়, তাহলে রাজধানীর পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা সম্ভব। ফরিদা খানম আরও বলেন, সবুজ ঢাকা গড়তে শুধু সরকারের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক, সামাজিক সংগঠন এবং সাধারণ মানুষ— সবার অংশগ্রহণ প্রয়োজন। বৃক্ষরোপণকে সামাজিক আন্দোলনে রূপ দিতে পারলেই আমরা আগামী প্রজন্মের জন্য একটি পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও বাসযোগ্য ঢাকা উপহার দিতে পারব। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক এবং জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভা শেষে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হয়। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ সংরক্ষণ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানানো হয়।
রাজধানীর আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ৬ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ অবস্থায় হাসপাতালটিতে ভর্তি থাকা রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে ঢাকার ৬টি হাসপাতালকে নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। শুক্রবার (১২ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার পরিচালক ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসানের সই করা এক আদেশে এ তথ্য জানানো হয়। আদেশে বলা হয়, গত ১১ জুনের স্মারক অনুযায়ী আদ্-দ্বীন উইমেনস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। এ অবস্থায় ওই হাসপাতাল থেকে রেফার করা রোগীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনায় তাদের তাৎক্ষণিক ও যথাযথ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলোকে নির্দেশ দেয়া হলো। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল এবং বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট— এই ৬ হাসপাতালে রেফারের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ নিয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগীরা। নতুন করে রোগী ভর্তি না করা বা বহির্বিভাগ পুরোপুরি বন্ধ থাকায় চিকিৎসা নিতে আসা অনেককেই ফিরে যেতে হচ্ছে। চিকিৎসা পাবেন কি না—এমন শঙ্কা থেকেই হাসপাতাল পরিবর্তনের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন রোগীর স্বজনরা। তবে দীর্ঘদিন ধরে এই হাসপাতালে কিডনি ডায়ালাইসিসসহ নানা রোগের চিকিৎসা করাচ্ছেন যারা, তারা পড়েছেন বিপাকে। শুক্রবার (১২ জুন) বিকেল পর্যন্ত ১৭৩ জন রোগী হাসপাতাল ছেড়েছেন। ২৪৩ জন রোগী এখনও ভর্তি রয়েছেন। তাদের মধ্যে এনআইসিইউতে ৫০টি নবজাতক, আইসিইউতে ১৩ জন এবং সিসিইউতে ৬ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। স্বজনদের দাবি, যেসব রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন, তারা হঠাৎ করে অন্য কোথাও যেতে পারছেন না।