বিশ্ব

১৫ স্যাটেলাইট নিয়ে ছিটকে পড়ল ভারতের রকেট

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ১২, ২০২৬ 0

ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থার (ইসরো) উৎক্ষেপণের পরপরই ত্রুটির কারণে ১৫টি স্যাটেলাইট নিয়ে নির্ধারিত পথ থেকে ছিটকে পড়েছে একটি রকেট। সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ১৮ মিনিটে দেশটির অন্ধ্র প্রদেশের শ্রীহরিকোটা দ্বীপের সতীশ ধাওয়ান মহাকাশ কেন্দ্র থেকে উৎক্ষেপণের সময় এই ঘটনা ঘটে। ভারতের এ ঘটনাকে দেশটির মহাকাশ গবেষণা সংস্থার (ইসরো) বড় ধরনের ব্যর্থতা হিসেবে মনে করা হচ্ছে।

 

ইসরো বলেছে, রকেটটি পৃথিবী পর্যবেক্ষণকারী একটি উপগ্রহ ও বাণিজ্যিক পেলোড বহন করছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইসরো বলেছে, চার ধাপের উৎক্ষেপণযান পিএসএলভি-সি৬২ তৃতীয় ধাপের শেষের দিকে একটি অস্বাভাবিক পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়।

 

তবে কী ধরনের ত্রুটির কারণে রকেটটি নির্ধারিত পথ থেকে ছিটকে পড়েছে, সেই বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু জানায়নি ইসরো। ভারতীয় এই মহাকাশ গবেষণা সংস্থা বলেছে, এই বিষয়ে বিস্তারিত জানতে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে।

 

উৎক্ষেপণ দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচারের ভিডিওতে রকেটটিকে আকাশে ছুটে যেতে দেখা যায়। তবে ত্রুটির কারণে রকেটটির উড্ডয়নপথে বিচ্যুতি ঘটে বলে ইসরোর প্রধান ভি নারায়ণন জানিয়েছেন।

 

দীর্ঘদিন ধরে ভারতের জাতীয় মহাকাশ কর্মসূচির প্রধান ভরসা হিসেবে পরিচিত পিএসএলভি রকেট দেশটির বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মিশন উৎক্ষেপণ করেছে; যার মধ্যে প্রথম চন্দ্র ও মঙ্গল অভিযানের কক্ষপথযানও রয়েছে।

 

২০১৭ সালে একক মিশনে ১০৪টি উপগ্রহ উৎক্ষেপণ করে বিশ্ব রেকর্ড গড়েছিল পিএসএলভি।

 

সোমবার উৎক্ষেপিত পিএসএলভি-সি৬২ রকেটটি একটি পৃথিবী পর্যবেক্ষণ উপগ্রহসহ দেশি ও বিদেশি গ্রাহকদের জন্য ১৫টি উপগ্রহ বহন করছিল বলে ইসরো পৃথক এক বিবৃতিতে জানিয়েছে।

 

ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন দূরদর্শনকে নারায়ণন বলেন, তৃতীয় ধাপের শেষের দিকে আমরা যানটিতে কিছুটা বেশি অস্থিরতা লক্ষ্য করছি। তিনি বলেন, এর পরপরই যানটির উড্ডয়নপথে বিচ্যুতি দেখা যায়।

 

বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ ভারত গত এক দশকে মহাকাশ অভিযানে নিজেদের সক্ষমতা জোরালোভাবে তুলে ধরেছে। তুলনামূলক কম খরচে প্রতিষ্ঠিত শক্তিধর দেশগুলোর অর্জনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে মহাকাশ কর্মসূচি আকার ও গতি ব্যাপক বাড়িয়েছে দেশটি।

 

২০২৩ সালের আগস্টে রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের পর চতুর্থ দেশ হিসেবে চাঁদে মনুষ্যবিহীন একটি যান অবতরণ করায় ভারত। ২০২৪ সালে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ২০৪০ সালের মধ্যে চাঁদে মানুষ পাঠানোর পরিকল্পনার ঘোষণা দেন।

 

সূত্র: এএফপি।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

যুদ্ধে বিশ্ব অর্থনীতি টালমাটাল। ছবি : সংগৃহীত
বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা

চলতি বছরের শুরু থেকেই বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতি যে দ্রুতগতিতে পরিবর্তিত হচ্ছে, তা রীতিমতো নজিরবিহীন। গত কয়েক দশকে বিশ্বায়ন যেভাবে দেশগুলোর অর্থনীতিকে একে অন্যের ওপর নির্ভরশীল করে তুলেছে, বর্তমান মধ্যপ্রাচ্য সংকট সেই ভিত্তিমূল্যেই আঘাত হেনেছে। বিশেষ করে ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সামরিক সংঘাত শুধু একটি আঞ্চলিক যুদ্ধ নয়, বরং এটি বিশ্ব অর্থনীতির জন্য এক মহাবিপর্যয়ের সংকেত হিসেবে দেখা দিয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনায় এটি স্পষ্ট যে, যুদ্ধের স্থায়িত্ব এবং হরমুজ প্রণালির ওপর দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ কতটা সচল থাকে, তার ওপরই নির্ভর করছে আগামী দিনগুলোতে বিশ্বের মানুষের জীবনযাত্রার মান।   এই সংকটের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের আকাশচুম্বী দাম। ইরান সীমান্ত ঘেঁষে অবস্থিত বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি বর্তমানে কার্যত অবরুদ্ধ। বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের ২০ শতাংশ এবং এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) সরবরাহের একটি বড় অংশ এই সরু পথটি দিয়ে পরিবাহিত হয়। যুদ্ধের প্রভাবে গত কয়েক দিনে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম প্রতি ব্যারেলে ৮৩-৮৪ ডলারে উঠে গেছে, যা গত কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। যদি এই যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং হরমুজ প্রণালি দীর্ঘ সময়ের জন্য বন্ধ থাকে, তবে বিশ্ব অর্থনীতি এক ভয়াবহ ‘স্ট্যাগফ্লেশন’ বা স্থবিরতা ও উচ্চ মুদ্রাস্ফীতির মুখে পড়বে। ২০২২ সালের ইউক্রেন যুদ্ধের পর বিশ্ব যখন মাত্র ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছিল, ঠিক তখনই এই নতুন সংকট সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতাকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। বিশেষ করে এশিয়া ও ইউরোপের দেশগুলো, যারা মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল, তারা এখন থেকেই জরুরি অবস্থা মোকাবিলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। জ্বালানি তেলের দাম ১৫০ ডলারে উঠতে পারে, বলছেন বিশ্লেষকরা: অর্থনৈতিক বিশ্লেষক ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার পূর্বাভাস অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিরতা যদি অবিলম্বে প্রশমিত না হয়, তবে জ্বালানি তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে ১৫০ ডলার পর্যন্ত ছাড়িয়ে যেতে পারে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন যে পরিমাণ তেল ও গ্যাস যাতায়াত করে, তার বিকল্প কোনো পথ নেই। ইরানের পক্ষ থেকে এই নৌপথটি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকির পর আন্তর্জাতিক বীমা কোম্পানিগুলো এই রুটে চলাচলকারী জাহাজের নিরাপত্তা ঝুঁকি গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। ফলে সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। জ্বালানি তেলের দাম ১৫০ ডলারে পৌঁছানো মানে হলো বিশ্বজুড়ে পরিবহন খরচ, কৃষি উৎপাদন এবং শিল্প কারখানার উৎপাদন ব্যয় কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়া। ব্লুমবার্গের এক অর্থনৈতিক মডেলে দেখা গেছে, তেলের সরবরাহ মাত্র ১ শতাংশ কমলেই দাম ৪ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। সেই হিসাবে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ হলে তেলের দাম বর্তমানের তুলনায় ৮০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। এটি শুধু তেলের দামেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; প্লাস্টিক, সার এবং গৃহস্থালির রান্নার কাজে ব্যবহৃত গ্যাসের দামও পাল্লা দিয়ে বাড়বে। উচ্চ জ্বালানি মূল্যের কারণে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর জন্য অসম্ভব হয়ে পড়বে, যা শেষ পর্যন্ত বিশ্বকে এক গভীর অর্থনৈতিক মন্দার দিকে ধাবিত করতে পারে। হরমুজ প্রণালি ও বৈশ্বিক সরবরাহ চেইনের ঝুঁকি: হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব অপরিসীম। কারণ এর মাধ্যমেই বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল সরবরাহ হয়। বর্তমান যুদ্ধে শুধু ইরান নয়, সৌদি আরব ও কাতারও পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ড্রোন হামলার আশঙ্কায় সৌদি আরবের বৃহত্তম তেল শোধনাগার এবং কাতারের এলএনজি উৎপাদন কেন্দ্রগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। কাতার থেকে আসা এলএনজি সরবরাহ বন্ধ হওয়ায় এশিয়ার দেশগুলো যেমন ভারত, পাকিস্তান ও দক্ষিণ কোরিয়া চরম জ্বালানি সংকটের মুখে পড়েছে। মুদ্রাস্ফীতির নতুন ঢেউ ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চ্যালেঞ্জ: ২০২২ সালের মুদ্রাস্ফীতির ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই এই নতুন যুদ্ধ বিশ্বজুড়ে দাম বৃদ্ধির এক নতুন ঢেউ তৈরি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রে এরই মধ্যে মুদ্রাস্ফীতি লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক বেড়ে গেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক নীতির কারণে আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পণ্যের দাম চড়া ছিল, এখন যুদ্ধের প্রভাবে তা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইউরোপের দেশগুলো, যারা রাশিয়ার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প উৎসের সন্ধানে ছিল, তারা এখন নতুন করে জ্বালানি সংকটের মুখে পড়েছে। ব্যাংক অব ইংল্যান্ড এবং ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখন এক কঠিন দ্বিধায়— মুদ্রাস্ফীতি কমাতে সুদের হার বাড়াবে নাকি অর্থনীতিকে মন্দা থেকে বাঁচাতে সুদের হার কমাবে? ব্রিটেন ও ইউরোপের বিশেষ ঝুঁকি: যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের দেশগুলো এই সংকটে বিশেষভাবে নাজুক অবস্থায় রয়েছে। ব্রিটেনের মতো দেশগুলো তাদের প্রয়োজনীয় খাদ্য ও জ্বালানির একটি বড় অংশ আমদানি করে। হরমুজ প্রণালি এবং বাব-আল-মান্দেব প্রণালির অস্থিরতা সরাসরি তাদের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দিয়েছে। স্পট মার্কেটে গ্যাসের দাম গত কয়েক দিনে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের হিটিং খরচ এবং বিদ্যুতের বিল জুলাই নাগাদ ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। খাদ্য আমদানির ক্ষেত্রেও এই দেশগুলো এখন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল, যা বর্তমানে সংকটের মুখে। আলোচনায় বিকল্প জ্বালানি: মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ বিশ্বকে একটি কঠোর বার্তা দিয়েছে—শুধু খনিজ জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতা যে কোনো সময় জাতীয় নিরাপত্তাকে বিঘ্নিত করতে পারে। গ্রিনপিসসহ বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠন এখন দেশগুলোকে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে আরও দ্রুত ঝুঁকে পড়ার আহ্বান জানাচ্ছে। ইউরোপ এরই মধ্যে জীবাশ্ম জ্বালানির চেয়ে ১০ গুণ বেশি অর্থ ব্যয় করছে ক্লিন এনার্জি খাতে। দীর্ঘমেয়াদে এই যুদ্ধ হয়তো বিশ্বকে সৌর ও বায়ু শক্তির মতো বিকল্প উৎসের দিকে ঠেলে দেবে, কিন্তু স্বল্পমেয়াদে সাধারণ মানুষকে এক কঠিন অর্থনৈতিক লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হবে। সামনে কঠিন পথ: পরিশেষে, মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ যদি দুই সপ্তাহের মধ্যে শেষ না হয়ে কয়েক মাস দীর্ঘায়িত হয়, তবে বিশ্ব অর্থনীতি যে গভীর খাদে পড়বে, তা থেকে উত্তরণ সহজ হবে না। এমন পরিস্থিতিতে শান্তি স্থাপন এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন বিশ্বনেতাদের সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ। সূত্র: ব্লুমবার্গ, টাইম ও গার্ডিয়ান।

মোঃ ইমরান হোসেন মার্চ ০৬, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

ইসরায়েলে ভয়াবহ ক্লাস্টার ব্যালিস্টিক মিসাইল হামলা

ভারতে যুদ্ধবিমান নিখোঁজ

ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি : সংগৃহীত

খামেনির ছেলেকে নিয়ে ট্রাম্প বললেন, সে দুর্বল

আল-আকসায় আজ জুমার নামাজ আদায়ে নিষেধাজ্ঞা দিলো ইসরায়েল

  ফিলিস্তিনের দখলকৃত জেরুজালেমে আল-আকসা মসজিদে আজ শুক্রবার (৬ মার্চ) জুমার নামাজ আদায়ে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে দখলদার ইসরায়েল। গতকাল বৃহস্পতিবার ইসরায়েলি বেসামরিক প্রশাসন এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এ সপ্তাহে আল-আকসায় শুক্রবারের নামাজ বাতিল করা হয়েছে। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ এবং নিরাপত্তা শঙ্কায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জেরুজালেম ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড। তবে ১৯৬৭ সালের ছয়দিনের যুদ্ধের পর জেরুজালেম দখল করে নেয় ইসরায়েল। এরপর থেকে পবিত্র এ অঞ্চলের প্রশাসনিক সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করে ইসরায়েলিরা। ইসরায়েলি বেসামরিক প্রশাসনের প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হিশাম ইব্রাহিম এক বিবৃতিতে বলেছেন, “জেরুজালেমের পুরান শহরের সব পবিত্র স্থান— যারমধ্যে আছে ওয়েস্টার্ন ওয়াল, আল-আকসা মসজিদ এবং খ্রিষ্টানদের চার্চ অব দ্য হোলি সেপালকার কাল শুক্রবার বন্ধ থাকবে। সেখানে কোনো ইবাদতকারী, পর্যটকসহ কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।”

মারিয়া রহমান মার্চ ০৬, ২০২৬ 0

‘অপেক্ষা করছি’, যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য স্থল হামলা নিয়ে বলল ইরান

মার্কিন বিমানবাহী রণতরী লক্ষ্য করে ইরানের ড্রোন হামলা

মার্কিন বিমানবাহী রণতরী লক্ষ্য করে ইরানের ড্রোন হামলা

ছবি : সংগৃহীত

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যুদ্ধ নিয়ে রাশিয়ার সতর্ক বার্তা

ছবি : সংগৃহীত
ইসরায়েলের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

  ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা ইসরাইলের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। বৃহস্পতিবার দেওয়া এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, খোররামশাহর-৪ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে বিমানবন্দর এলাকা লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। আইআরজিসির দাবি, একই সঙ্গে কুয়েত, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটির প্রায় ২০টি লক্ষ্যবস্তুতেও হামলা করা হয়েছে। এদিকে ইরানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা তেল আবিবে ড্রোন হামলা চালিয়েছে এবং ইসরাইলের উত্তরাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ রাডার স্থাপনা মেরনেও আঘাত হেনেছে। এছাড়া ইরান-ইরাক সীমান্তের কাছে কাসর-ই শিরিন এলাকায় একটি ইসরাইলি হারমিস ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে তারা। অন্যদিকে ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরানের রাজধানী তেহরান ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ও সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে। এতে আইআরজিসি, বাসিজ বাহিনী ও ইরানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনীর বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, তেহরানের আজাদি স্টেডিয়ামের ভেতরের একটি বড় স্পোর্টস হল হামলায় ধ্বংস হয়েছে। দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামলায় কিছু পানি ও বিদ্যুৎ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইরানের শহীদ ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলা শুরুর পর থেকে দেশটিতে এখন পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ২৩০ জন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে কুয়েতে একটি মার্কিন কমান্ড সেন্টারে ড্রোন হামলায় ছয় মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছে পেন্টাগন। ইসরাইলেও কয়েকটি হামলায় অন্তত ১২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। সূত্র : শাফাক নিউজ

মারিয়া রহমান মার্চ ০৬, ২০২৬ 0
দখলদার ইসরায়লের হামলায় ধ্বংস হয়ে যাওয়া গাজার একটি শহর।

বৈরুতে গাজার মতো ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর হুমকি ইসরায়লের

ছবি : সংগৃহীত

ইরান ও উপসাগরজুড়ে নতুন হামলা, আরও বিস্তৃত হচ্ছে যুদ্ধ

ছবি : সংগৃহীত

তেহরান দূতাবাস থেকে নারী ও শিশুদের সরিয়ে নিয়েছে রাশিয়া

0 Comments