জাতীয়

১৪ কারণে লোকসানে কর্ণফুলী টানেল, বাড়ছে আর্থিক চাপ

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ১৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী টানেল প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে (ফিজিবিলিটি স্টাডি) বলা হয়েছিল, ২০২৫ সালে প্রতিদিন গড়ে ২৮ হাজার ৩০৫টি গাড়ি টানেলটি ব্যবহার করবে। তবে চালু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ব্যবহার করেছে মোট ৪১ লাখ ৭২ হাজার যানবাহন। এ হিসাবে প্রতিদিন গড়ে মাত্র ৩ হাজার ৮৬৫টি যানবাহন টানেল পাড়ি দিচ্ছে।

 

সেতু কর্তৃপক্ষের প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে। এ অবস্থায় কর্ণফুলী টানেলের টোল থেকে দৈনন্দিন খরচের টাকাও তোলা সম্ভব হচ্ছে না। পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণে এখন প্রতিদিন গড়ে ব্যয় হচ্ছে ২৩ লাখ টাকা; আর দৈনিক আয় গড়ে ১১ লাখ টাকা।

 

প্রতিবেদনে টানেলের লোকসানের ১৪টি কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। পাশাপাশি টোল আদায় বাড়ানোর লক্ষ্যে কিছু পদক্ষেপের কথাও বলা হয়েছে।

 

‘কর্ণফুলী টানেলের ফিজিবিলিটি স্টাডি, বাস্তবায়ন এবং বর্তমান আর্থিক অবস্থা’ শিরোনামে প্রতিবেদনটি গতকাল শনিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটিতে দেওয়া হয়। টানেলসংশ্লিষ্ট প্রকল্পের বাস্তবায়ন এবং আর্থিক লোকসানের কারণ খতিয়ে দেখতে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংসদীয় কমিটি।

 

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ১০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে কর্ণফুলী টানেল নির্মাণ করা হয়। যান চলাচল শুরু হয় ২০২৩ সালের ২৯ অক্টোবর।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সংসদীয় কমিটিতে দেওয়া প্রতিবেদনে লোকসানের প্রধান কারণগুলো তুলে ধরা হয়েছে। সেগুলোর মধ্যে আছে পর্যাপ্ত সড়ক সংযোগের অভাব, সংযোগ সড়কের সক্ষমতা ও উন্নয়ন ঘাটতি, কক্সবাজারের সোনাদিয়ায় প্রস্তাবিত গভীর সমুদ্রবন্দর না হওয়া, মেরিন ড্রাইভের মাধ্যমে সংযোগ স্থাপিত না হওয়া, কর্ণফুলীর দক্ষিণ তীরে পরিকল্পিত নগরায়ণ না হওয়া, আনোয়ারা প্রান্তে শিল্পায়ন প্রত্যাশিত পর্যায়ে না পৌঁছানো, বিনিয়োগ বাস্তবায়নে দেরি। এসব কারণে প্রত্যাশিত ট্রাফিক আসছে না।

 

এ ছাড়া আরও কিছু কারণও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আনোয়ারা এলাকায় পর্যটনসুবিধা প্রত্যাশিত মাত্রায় চালু না হওয়া, সার্ভিস এলাকার প্রত্যাশিত ব্যবহার নিশ্চিত না হওয়া, বন্দর ও শিল্পাঞ্চলের সঙ্গে কার্যকর সংযোগের সীমাবদ্ধতা, অতিরিক্ত ভারবাহী যান চলাচলে বিধিনিষেধ, স্ক্যানিংয়ের কারণে চালকদের মধ্যে ভীতিকেও লোকসানের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

কর্ণফুলী টানেলের রাজস্ব বাড়াতে সার্ভিস এরিয়া ইজারা দেওয়া, পরিচালন ব্যয় সংকোচন, চট্টগ্রাম শহরে প্রবেশ না করে দূরপাল্লার গাড়িগুলোকে কর্ণফুলী টানেলমুখী করাসহ বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

 

চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম সম্প্রসারণে কর্ণফুলী ড্রাইডক লিমিটেডের সাতটি জেটি নির্মাণের কাজ চলছে। এর মধ্যে তিনটি চালু হয়েছে। সব কটি জেটির কার্যক্রম শুরু হলে বছরে ১০০ থেকে ১২০ লাখ টন পণ্য হ্যান্ডলিং সম্ভব হবে। এতে টানেলের টোল আয় বছরে ২০০ থেকে ২৪০ কোটি টাকা বাড়তে পারে। চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনের নির্মাণকাজ গত ২৭ জুলাই উদ্বোধন করা হয়েছে। ১৮ মাসের মধ্যে প্রথম কারখানা উৎপাদনে যাওয়ার কথা আছে। এতেও যানবাহনের চলাচল বাড়বে।

 

বৈঠকে কর্ণফুলী টানেলের ফিজিবিলিটি স্টাডি (সম্ভাব্যতা যাচাই), বাস্তবায়ন এবং টানেলটির বর্তমান আর্থিক লোকসানের কারণ নিয়ে আলোচনা হয়। কমিটির আগামী বৈঠকে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। কর্ণফুলী টানেল–সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের বাস্তবায়ন এবং বর্তমান আর্থিক লোকসানের কারণ নিয়ে সুষ্ঠু তদন্তের নিরিখে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি কাজ করবে বলে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়।

 

২৬ মন্ত্রণালয় ও বিভাগ এডিপি বাস্তবায়নে পিছিয়ে

বৈঠকে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) প্রতিবেদন তুলে ধরে জানানো হয়, গত অর্থবছরে এডিপি বাস্তবায়নের জাতীয় গড় অগ্রগতি ছিল ৬৭ দশমিক ৫২ শতাংশ। ৫৬টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে ২৬টির অগ্রগতি এই গড়ের নিচে। বাকি ৩০টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের অগ্রগতি জাতীয় গড়ের ওপরে ছিল।

 

পিছিয়ে থাকা মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো হলো জনপ্রশাসন, মুক্তিযুদ্ধ, ভূমি, সংস্কৃতি, তথ্য, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, যুব ও ক্রীড়া, পরিবেশ, ধর্ম এবং মহিলা ও শিশু; তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগ, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ, সংসদ সচিবালয়, দুদক, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ এবং পরিকল্পনা বিভাগ।

 

গত অর্থবছরে যেসব প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে, সেগুলোর তালিকাও বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়। বৈঠকে জানানো হয়, এর আগের বৈঠকে (৮ সেপ্টেম্বর) জানানো হয়েছিল ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ২৫৬টি প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে এ সংখ্যা দাঁড়ায় ২৮৮।

 

সংসদ সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈঠকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ২৫৬টি প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর কারণ ব্যাখ্যা করা হয়। ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে জটিলতা, আমদানিনির্ভরতা, প্রকল্প পরিচালক নিয়োগে জটিলতা, অনেক ক্ষেত্রে প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই সঠিকভাবে না হওয়া, কিছু কিছু প্রকল্পে সময়মতো অর্থছাড় না হওয়া এবং আন্তমন্ত্রণালয় কনফ্লিক্টসহ বিভিন্ন কারণ তুলে ধরা হয়। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা নিরসনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কার্যকর উদ্যোগ নিতে সুপারিশ করেছে কমিটি।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় কমিটিকে জানায়, সরকারি প্রকল্পে পরিচালক নিয়োগের একটি নতুন নীতিমালার খসড়া তৈরি করা হয়েছে। এটি কার্যকর হলে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞ সাবেক কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞদের প্রকল্প পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ থাকবে।

 

এ বিষয়ে সংসদ সচিবালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রকল্প পরিচালক নিয়োগে নতুন নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলমান রয়েছে বলে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। নীতিমালা চূড়ান্ত হলে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগে জটিলতার গুণগত সমাধান হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

 

কমিটির সভাপতি জহির উদ্দিন স্বপনের সভাপতিতে বৈঠকে অংশ নেন কমিটির সদস্য পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, কাজী রফিকুল ইসলাম, মঈনুল ইসলাম খান, মো. সাইফুল আলম ও রাশেদুল ইসলাম।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
১৪ কারণে লোকসানে কর্ণফুলী টানেল, বাড়ছে আর্থিক চাপ

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী টানেল প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে (ফিজিবিলিটি স্টাডি) বলা হয়েছিল, ২০২৫ সালে প্রতিদিন গড়ে ২৮ হাজার ৩০৫টি গাড়ি টানেলটি ব্যবহার করবে। তবে চালু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ব্যবহার করেছে মোট ৪১ লাখ ৭২ হাজার যানবাহন। এ হিসাবে প্রতিদিন গড়ে মাত্র ৩ হাজার ৮৬৫টি যানবাহন টানেল পাড়ি দিচ্ছে।   সেতু কর্তৃপক্ষের প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে। এ অবস্থায় কর্ণফুলী টানেলের টোল থেকে দৈনন্দিন খরচের টাকাও তোলা সম্ভব হচ্ছে না। পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণে এখন প্রতিদিন গড়ে ব্যয় হচ্ছে ২৩ লাখ টাকা; আর দৈনিক আয় গড়ে ১১ লাখ টাকা।   প্রতিবেদনে টানেলের লোকসানের ১৪টি কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। পাশাপাশি টোল আদায় বাড়ানোর লক্ষ্যে কিছু পদক্ষেপের কথাও বলা হয়েছে।   ‘কর্ণফুলী টানেলের ফিজিবিলিটি স্টাডি, বাস্তবায়ন এবং বর্তমান আর্থিক অবস্থা’ শিরোনামে প্রতিবেদনটি গতকাল শনিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটিতে দেওয়া হয়। টানেলসংশ্লিষ্ট প্রকল্পের বাস্তবায়ন এবং আর্থিক লোকসানের কারণ খতিয়ে দেখতে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংসদীয় কমিটি।   আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ১০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে কর্ণফুলী টানেল নির্মাণ করা হয়। যান চলাচল শুরু হয় ২০২৩ সালের ২৯ অক্টোবর।   সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সংসদীয় কমিটিতে দেওয়া প্রতিবেদনে লোকসানের প্রধান কারণগুলো তুলে ধরা হয়েছে। সেগুলোর মধ্যে আছে পর্যাপ্ত সড়ক সংযোগের অভাব, সংযোগ সড়কের সক্ষমতা ও উন্নয়ন ঘাটতি, কক্সবাজারের সোনাদিয়ায় প্রস্তাবিত গভীর সমুদ্রবন্দর না হওয়া, মেরিন ড্রাইভের মাধ্যমে সংযোগ স্থাপিত না হওয়া, কর্ণফুলীর দক্ষিণ তীরে পরিকল্পিত নগরায়ণ না হওয়া, আনোয়ারা প্রান্তে শিল্পায়ন প্রত্যাশিত পর্যায়ে না পৌঁছানো, বিনিয়োগ বাস্তবায়নে দেরি। এসব কারণে প্রত্যাশিত ট্রাফিক আসছে না।   এ ছাড়া আরও কিছু কারণও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আনোয়ারা এলাকায় পর্যটনসুবিধা প্রত্যাশিত মাত্রায় চালু না হওয়া, সার্ভিস এলাকার প্রত্যাশিত ব্যবহার নিশ্চিত না হওয়া, বন্দর ও শিল্পাঞ্চলের সঙ্গে কার্যকর সংযোগের সীমাবদ্ধতা, অতিরিক্ত ভারবাহী যান চলাচলে বিধিনিষেধ, স্ক্যানিংয়ের কারণে চালকদের মধ্যে ভীতিকেও লোকসানের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।   কর্ণফুলী টানেলের রাজস্ব বাড়াতে সার্ভিস এরিয়া ইজারা দেওয়া, পরিচালন ব্যয় সংকোচন, চট্টগ্রাম শহরে প্রবেশ না করে দূরপাল্লার গাড়িগুলোকে কর্ণফুলী টানেলমুখী করাসহ বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।   চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম সম্প্রসারণে কর্ণফুলী ড্রাইডক লিমিটেডের সাতটি জেটি নির্মাণের কাজ চলছে। এর মধ্যে তিনটি চালু হয়েছে। সব কটি জেটির কার্যক্রম শুরু হলে বছরে ১০০ থেকে ১২০ লাখ টন পণ্য হ্যান্ডলিং সম্ভব হবে। এতে টানেলের টোল আয় বছরে ২০০ থেকে ২৪০ কোটি টাকা বাড়তে পারে। চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনের নির্মাণকাজ গত ২৭ জুলাই উদ্বোধন করা হয়েছে। ১৮ মাসের মধ্যে প্রথম কারখানা উৎপাদনে যাওয়ার কথা আছে। এতেও যানবাহনের চলাচল বাড়বে।   বৈঠকে কর্ণফুলী টানেলের ফিজিবিলিটি স্টাডি (সম্ভাব্যতা যাচাই), বাস্তবায়ন এবং টানেলটির বর্তমান আর্থিক লোকসানের কারণ নিয়ে আলোচনা হয়। কমিটির আগামী বৈঠকে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। কর্ণফুলী টানেল–সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের বাস্তবায়ন এবং বর্তমান আর্থিক লোকসানের কারণ নিয়ে সুষ্ঠু তদন্তের নিরিখে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি কাজ করবে বলে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়।   ২৬ মন্ত্রণালয় ও বিভাগ এডিপি বাস্তবায়নে পিছিয়ে বৈঠকে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) প্রতিবেদন তুলে ধরে জানানো হয়, গত অর্থবছরে এডিপি বাস্তবায়নের জাতীয় গড় অগ্রগতি ছিল ৬৭ দশমিক ৫২ শতাংশ। ৫৬টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে ২৬টির অগ্রগতি এই গড়ের নিচে। বাকি ৩০টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের অগ্রগতি জাতীয় গড়ের ওপরে ছিল।   পিছিয়ে থাকা মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো হলো জনপ্রশাসন, মুক্তিযুদ্ধ, ভূমি, সংস্কৃতি, তথ্য, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, যুব ও ক্রীড়া, পরিবেশ, ধর্ম এবং মহিলা ও শিশু; তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগ, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ, সংসদ সচিবালয়, দুদক, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ এবং পরিকল্পনা বিভাগ।   গত অর্থবছরে যেসব প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে, সেগুলোর তালিকাও বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়। বৈঠকে জানানো হয়, এর আগের বৈঠকে (৮ সেপ্টেম্বর) জানানো হয়েছিল ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ২৫৬টি প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে এ সংখ্যা দাঁড়ায় ২৮৮।   সংসদ সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈঠকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ২৫৬টি প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর কারণ ব্যাখ্যা করা হয়। ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে জটিলতা, আমদানিনির্ভরতা, প্রকল্প পরিচালক নিয়োগে জটিলতা, অনেক ক্ষেত্রে প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই সঠিকভাবে না হওয়া, কিছু কিছু প্রকল্পে সময়মতো অর্থছাড় না হওয়া এবং আন্তমন্ত্রণালয় কনফ্লিক্টসহ বিভিন্ন কারণ তুলে ধরা হয়। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা নিরসনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কার্যকর উদ্যোগ নিতে সুপারিশ করেছে কমিটি।   সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় কমিটিকে জানায়, সরকারি প্রকল্পে পরিচালক নিয়োগের একটি নতুন নীতিমালার খসড়া তৈরি করা হয়েছে। এটি কার্যকর হলে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞ সাবেক কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞদের প্রকল্প পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ থাকবে।   এ বিষয়ে সংসদ সচিবালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রকল্প পরিচালক নিয়োগে নতুন নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলমান রয়েছে বলে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। নীতিমালা চূড়ান্ত হলে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগে জটিলতার গুণগত সমাধান হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।   কমিটির সভাপতি জহির উদ্দিন স্বপনের সভাপতিতে বৈঠকে অংশ নেন কমিটির সদস্য পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, কাজী রফিকুল ইসলাম, মঈনুল ইসলাম খান, মো. সাইফুল আলম ও রাশেদুল ইসলাম।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ১৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ময়মনসিংহ মেডিকেলে হামে আরও এক শিশুর মৃত্যু, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৯

ছবি: সংগৃহীত

সরকার ও গণতন্ত্রকে সঠিক পথে রাখতে সাংবাদিকদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ: সড়ক পরিবহণমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

রিমান্ডের আগে আনিসুল হক, ইনুসহ চারজনের স্বাস্থ্য পরীক্ষা

ছবি: সংগৃহীত
একযোগে ৮ সচিবের বদলি, একজন ওএসডি

একসঙ্গে আট মন্ত্রণালয়, কমিশন ও একাডেমিতে সচিব ও সমমর্যাদার কর্মকর্তাদের বদলি করেছে সরকার।   তাদের মধ্যে একজন পদোন্নতি পেয়ে সচিব হয়েছেন, দুইজনকে ভারপ্রাপ্ত সচিব করা হয়েছে এবং ছয়জনকে অন্য মন্ত্রণালয় বা দপ্তরে বদলি করা হয়েছে। তাদের পাশাপাশি একজনকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়েছে।   রোববার রাতে তাদের নতুন দায়িত্ব দিয়ে পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।   ফেব্রুয়ারিতে সরকার গঠনের পর থেকে জনপ্রশাসনে নিয়মিত পরিবর্তন আনছে তারেক রহমানের সরকার। রোববার একসঙ্গে নয় সচিবকে রদবদল বড় বদলির একটি।   নতুন আদেশে এর মধ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আয়েশা আক্তারকে পদোন্নতি দিয়ে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব করা হয়েছে।   ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত সচিব মো. আবুল হাসনাত হুমায়ুন কবীর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিবের দায়িত্ব পেয়েছেন।   পৃথক আদেশে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মাহফুজুল আলম খানকে একই মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।   এছাড়া বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরীকে বাণিজ্য, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খানকে নৌ পরিবহন, নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকারিয়াকে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান (সচিব পদমর্যাদা), মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আশরাফুল ইসলামকে জাতীয় উন্নয়ন প্রশাসন একাডেমির রেক্টর (সচিব পদমর্যাদা), ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব বিলকিস জাহান রিমিকে পরিকল্পনা কমিশনে এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলমকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ১৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

গাইবান্ধায় জমি নিয়ে বিরোধে ছোট ভাই হত্যা, বড় ভাই গ্রেপ্তার

ছবি: সংগৃহীত

সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে জনসাধারণের অংশগ্রহণের সুযোগ, অধ্যাদেশে মন্ত্রিসভার সায়

ছবি: সংগৃহীত

মানবতার অনন্য দৃষ্টান্ত জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন: জুবাইদা রহমান

ছবি: সংগৃহীত
ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের খবর ভিত্তিহীন: প্রতিমন্ত্রীর প্রেস কর্মকর্তা

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন পদত্যাগ করেছেন কিংবা তাকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে—বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এমন তথ্য সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন তার প্রেস কর্মকর্তা মাহফুজ কবির মুক্তা।   রোববার (১৮ অক্টোবর) রাতে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এ দাবি করেন।   বিবৃতিতে মাহফুজ কবির মুক্তা জানান, প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন নিয়মিতভাবে তার সরকারি ও রাজনৈতিক দায়িত্ব পালন করছেন। সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে তাকে পদত্যাগের কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়নি। ফলে তার পদত্যাগের বিষয়টিও ভিত্তিহীন।   তিনি অভিযোগ করেন, একটি মহল রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরির উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে এ ধরনের অসত্য তথ্য প্রচার করছে।   সম্প্রতি নিজ সংসদীয় এলাকায় মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচিতে অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনাটিও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।   এ বিষয়ে প্রেস কর্মকর্তা দাবি করেন, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আত্মরক্ষার জন্য আইনসম্মতভাবে অস্ত্র প্রদর্শন করা হয়েছিল। ওই ঘটনা সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী ইতোমধ্যে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন।   তিনি আরও বলেন, ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগের খবর প্রচার করা অনৈতিক এবং সাংবাদিকতার নীতিমালার পরিপন্থি।   বিবৃতিতে গণমাধ্যম ও সাধারণ মানুষকে যাচাই-বাছাই ছাড়া প্রচারিত তথ্য বিশ্বাস না করার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি যেসব গণমাধ্যমে পদত্যাগসংক্রান্ত খবর প্রকাশিত হয়েছে, সেগুলো প্রত্যাহার করে সঠিক তথ্য তুলে ধরার অনুরোধ জানানো হয়।   অন্যথায় বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও বিবৃতিতে সতর্ক করা হয়েছে।

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ১৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

রাজবাড়ীতে পিয়ারুল হত্যা: অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে স্ত্রীর মামলা

ছবি: সংগৃহীত

মৃত্যুর আগে ভিডিওতে অভিযোগ, শার্শায় প্রবাসীর স্ত্রীর মৃত্যুতে মামলা

সংগৃহীত ছবি

আগারগাঁওয়ে স্থানান্তরিত হচ্ছে সচিবালয়: মন্ত্রিসভার বৈঠকে নকশা অনুমোদন

0 Comments