সৌদি আরবে আবাসন, শ্রম ও সীমান্ত সুরক্ষা আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে এক সপ্তাহের বিশেষ অভিযানে ১৪ হাজারের বেশি অবৈধ প্রবাসীকে বহিষ্কার করেছে কর্তৃপক্ষ। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ থেকে ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশজুড়ে চালানো যৌথ অভিযানে আটক করা হয়েছে ১৮ হাজার ২০০ জন আইনভঙ্গকারী।
মন্ত্রণালয় জানায়, আটকদের মধ্যে ১১ হাজার ৪৪২ জন আবাসন (রেসিডেন্সি) আইন ভঙ্গ করেছেন। পাশাপাশি ৩ হাজার ৯৩১ জন সীমান্ত নিরাপত্তা আইন এবং ২ হাজার ৮২৭ জন শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে শনাক্ত হন।
অভিযানের বড় অংশজুড়ে ছিল অবৈধ সীমান্ত পারাপার রোধ। এ সময়ে অবৈধভাবে সৌদিতে প্রবেশের চেষ্টাকালে ১ হাজার ৭৬২ জনকে আটক করা হয়; তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশ ইয়েমেনি ও ইথিওপীয় নাগরিক। একই সঙ্গে অনিয়মিত পথে সৌদি ত্যাগের চেষ্টাকালে আরও ৪৬ জনকে আটক করার তথ্যও দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এ ছাড়া অবৈধ অভিবাসীদের পরিবহন, আশ্রয়, অবৈধভাবে নিয়োগ বা অবস্থান গোপন করার অভিযোগে ১১ জনকে আটক করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বর্তমানে ২৫ হাজার ৪৭৭ জন প্রবাসী আবাসন, শ্রম বা সীমান্ত আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় রয়েছেন।
আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ১৮ হাজার ৬৮৫ জনকে প্রয়োজনীয় ভ্রমণ নথি সংগ্রহে নিজ নিজ দেশের কূটনৈতিক মিশনে পাঠানো হয়েছে এবং আরও ৩ হাজার ১১ জনকে ভ্রমণের টিকিটসহ অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে ১৪ হাজার ৪৫১ জনকে দেশ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জানায় মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে অবৈধ প্রবেশে সহায়তা, পরিবহন বা আশ্রয় প্রদানকারীদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ১৫ বছর কারাদণ্ড, ১০ লাখ রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা এবং ব্যবহৃত যানবাহন/সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের মতো কঠোর শাস্তির সতর্কবার্তাও পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
ওমানে কর্মরত প্রবাসী কর্মীদের জন্য বাধ্যতামূলক অসুস্থতাজনিত (সিক লিভ) ও বিশেষ ছুটির বিমা সুবিধা চালু করতে যাচ্ছে দেশটির সরকার। আগামী ২০ জুলাই থেকে নতুন এই ব্যবস্থা কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ওমানের সোশ্যাল প্রটেকশন ফান্ডের জারি করা ১৩/২০২৬ নম্বর আদেশ অনুযায়ী, সরকারি ও বেসরকারি খাতে কর্মরত শ্রম আইনের আওতাভুক্ত সব প্রবাসী কর্মী এই বিমা সুবিধার অন্তর্ভুক্ত হবেন। তবে যেসব প্রবাসী কর্মী ওমানের শ্রম আইনের আওতায় পড়েন না, যেমন গৃহকর্মীরা, তারা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না বলে জানানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ওমানি নাগরিকদের জন্য অসুস্থতাজনিত ও বিশেষ ছুটির বিমা ব্যবস্থা ২০১৯ সালের জুলাই মাস থেকেই চালু রয়েছে। সে সময় সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চুক্তিভিত্তিক কর্মী, প্রশিক্ষণার্থী এবং অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদেরও এই সুবিধার আওতায় আনা হয়। সোশ্যাল প্রটেকশন ফান্ড জানিয়েছে, এবার প্রবাসী কর্মীদের অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে দেশের সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা এবং শ্রমবাজারে কর্মরত সব কর্মীর জন্য সমান কল্যাণমূলক সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়েই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন বিধান কার্যকর হওয়ার পর ওমানে কর্মরত বিপুল সংখ্যক প্রবাসী কর্মী অসুস্থতাজনিত ছুটি ও বিশেষ ছুটির ক্ষেত্রে বিমা সুরক্ষার সুবিধা পাবেন, যা তাদের কর্মজীবনে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ও আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করবে।
সৌদি আরবে বসবাসরত প্রবাসী কর্মীদের ওয়ার্ক পারমিট (কাজের অনুমতি) নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছে দেশটির প্রশাসন। দেশটির মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ‘কিওয়া’ প্ল্যাটফর্ম জানিয়েছে, আগামী ৩০ জুন (মঙ্গলবার) পর্যন্ত নিয়োগকর্তারা কর্মীদের ওয়ার্ক পারমিট নবায়ন অথবা তাদের সেবা অন্য প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তরের সুযোগ পাবেন। সৌদি আরবের সংবাদমাধ্যম ‘সৌদি গেজেটে’র প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে। কিওয়া প্ল্যাটফর্মের পক্ষ থেকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, আগামী ১ জুলাই থেকে যেসব কর্মীর ওয়ার্ক পারমিট তিন মাসের বেশি সময় ধরে মেয়াদোত্তীর্ণ রয়েছে, তাদের নিয়োগকর্তার প্রতিষ্ঠানের রেকর্ড থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অপসারণের প্রক্রিয়া শুরু হবে। অর্থাৎ কোনও কর্মীর ওয়ার্ক পারমিট তিন মাসের বেশি সময় ধরে নবায়ন করা না হলে তাকে প্রতিষ্ঠানের তালিকা থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাদ দেওয়া হবে। তবে কর্মীকে বৈধ ওয়ার্ক পারমিট ছাড়া যে সময় পর্যন্ত কাজ করানো হয়েছে, সেই সময় পর্যন্ত অর্জিত সব বকেয়া আর্থিক দায় ও ফি নিয়োগকর্তাকেই বহন করতে হবে। নির্ধারিত সময়সীমার আগেই সংশ্লিষ্ট কর্মীদের কাগজপত্র বৈধ করার আহ্বান জানিয়ে কিওয়া একটি ব্যতিক্রমী নিয়মের কথা উল্লেখ করেছে। এতে বলা হয়েছে নিয়মটি হলো, যদি কোনও কর্মীর ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়, কিন্তু তার ইকামার (বাসস্থান অনুমতি) মেয়াদ এখনও কমপক্ষে ১৮০ দিন বৈধ থাকে, তবে ওয়ার্ক পারমিট নবায়ন সম্ভব না হলেও তাকে প্রতিষ্ঠানের রেকর্ড থেকে তাৎক্ষণিক অপসারণ করা হবে না। কিন্তু ইকামার অবশিষ্ট মেয়াদ যদি ১৮০ দিনের কম হয়, তবে পরবর্তী প্রশাসনিক জটিলতা ও জরিমানা এড়াতে নিয়োগকর্তাকে একসঙ্গে ইকামা ও ওয়ার্ক পারমিট দুটিই নবায়ন করতে হবে। কিওয়া আরও জানিয়েছে, যেসব প্রবাসী কর্মী তিন মাসের বেশি সময় ধরে মেয়াদোত্তীর্ণ বা বৈধ ওয়ার্ক পারমিট ছাড়া কাজ করছেন, তাদের নাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে। বকেয়া ওয়ার্ক পারমিট ফি দ্রুত পরিশোধ করে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের পারমিট নবায়ন অথবা তাদের সেবা অন্য প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তরের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা ও অতিরিক্ত আর্থিক জরিমানা এড়াতে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সৌদির নিয়োগকর্তাদের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়েছে প্ল্যাটফর্মটি। সূত্র: সৌদি গেজেট
ফ্রান্স সফররত বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন ফ্রান্স বিএনপির প্রতিনিধিদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। এ সময় তিনি প্রবাসী বাংলাদেশিদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন। ফ্রান্সে বাংলাদেশ দূতাবাসে অনুষ্ঠিত এ সাক্ষাতে মন্ত্রী জানান, ফ্রান্স বিএনপির আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনায় উপস্থিত থাকতে না পারায় তিনি দুঃখিত। পরে প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বিভিন্ন সমসাময়িক বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করেন। আলোচনায় মন্ত্রী দেশের বিভিন্ন সংকটপূর্ণ সময়ে ফ্রান্স বিএনপির ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং দলীয় নেতা-কর্মীদের ঐক্য বজায় রেখে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির স্বার্থে কাজ করে যাওয়ার আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, সরকারবিরোধী অপপ্রচার বা বিভ্রান্তি সৃষ্টির যেকোনো প্রচেষ্টা মোকাবিলায় সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। পাশাপাশি দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে এগিয়ে নিতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সচেতনতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবি-দাওয়া প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, দেশে ফিরে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো সরকারের সঙ্গে আলোচনা করবেন এবং প্রবাসীদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদানে সচেষ্ট থাকবেন। সাক্ষাৎ শেষে ফ্রান্স বিএনপির নেতারা এবং সেখানে বসবাসরত বাংলাদেশিদের প্রতিনিধিরা সময় দেওয়ার জন্য মন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।