সৌদি আরবে আবাসন, শ্রম ও সীমান্ত সুরক্ষা আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে এক সপ্তাহের বিশেষ অভিযানে ১৪ হাজারের বেশি অবৈধ প্রবাসীকে বহিষ্কার করেছে কর্তৃপক্ষ। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ থেকে ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশজুড়ে চালানো যৌথ অভিযানে আটক করা হয়েছে ১৮ হাজার ২০০ জন আইনভঙ্গকারী।
মন্ত্রণালয় জানায়, আটকদের মধ্যে ১১ হাজার ৪৪২ জন আবাসন (রেসিডেন্সি) আইন ভঙ্গ করেছেন। পাশাপাশি ৩ হাজার ৯৩১ জন সীমান্ত নিরাপত্তা আইন এবং ২ হাজার ৮২৭ জন শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে শনাক্ত হন।
অভিযানের বড় অংশজুড়ে ছিল অবৈধ সীমান্ত পারাপার রোধ। এ সময়ে অবৈধভাবে সৌদিতে প্রবেশের চেষ্টাকালে ১ হাজার ৭৬২ জনকে আটক করা হয়; তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশ ইয়েমেনি ও ইথিওপীয় নাগরিক। একই সঙ্গে অনিয়মিত পথে সৌদি ত্যাগের চেষ্টাকালে আরও ৪৬ জনকে আটক করার তথ্যও দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এ ছাড়া অবৈধ অভিবাসীদের পরিবহন, আশ্রয়, অবৈধভাবে নিয়োগ বা অবস্থান গোপন করার অভিযোগে ১১ জনকে আটক করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বর্তমানে ২৫ হাজার ৪৭৭ জন প্রবাসী আবাসন, শ্রম বা সীমান্ত আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় রয়েছেন।
আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ১৮ হাজার ৬৮৫ জনকে প্রয়োজনীয় ভ্রমণ নথি সংগ্রহে নিজ নিজ দেশের কূটনৈতিক মিশনে পাঠানো হয়েছে এবং আরও ৩ হাজার ১১ জনকে ভ্রমণের টিকিটসহ অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে ১৪ হাজার ৪৫১ জনকে দেশ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জানায় মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে অবৈধ প্রবেশে সহায়তা, পরিবহন বা আশ্রয় প্রদানকারীদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ১৫ বছর কারাদণ্ড, ১০ লাখ রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা এবং ব্যবহৃত যানবাহন/সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের মতো কঠোর শাস্তির সতর্কবার্তাও পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
সৌদি আরবে আবাসন, শ্রম ও সীমান্ত সুরক্ষা আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে এক সপ্তাহের বিশেষ অভিযানে ১৪ হাজারের বেশি অবৈধ প্রবাসীকে বহিষ্কার করেছে কর্তৃপক্ষ। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ থেকে ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশজুড়ে চালানো যৌথ অভিযানে আটক করা হয়েছে ১৮ হাজার ২০০ জন আইনভঙ্গকারী। মন্ত্রণালয় জানায়, আটকদের মধ্যে ১১ হাজার ৪৪২ জন আবাসন (রেসিডেন্সি) আইন ভঙ্গ করেছেন। পাশাপাশি ৩ হাজার ৯৩১ জন সীমান্ত নিরাপত্তা আইন এবং ২ হাজার ৮২৭ জন শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে শনাক্ত হন। অভিযানের বড় অংশজুড়ে ছিল অবৈধ সীমান্ত পারাপার রোধ। এ সময়ে অবৈধভাবে সৌদিতে প্রবেশের চেষ্টাকালে ১ হাজার ৭৬২ জনকে আটক করা হয়; তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশ ইয়েমেনি ও ইথিওপীয় নাগরিক। একই সঙ্গে অনিয়মিত পথে সৌদি ত্যাগের চেষ্টাকালে আরও ৪৬ জনকে আটক করার তথ্যও দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া অবৈধ অভিবাসীদের পরিবহন, আশ্রয়, অবৈধভাবে নিয়োগ বা অবস্থান গোপন করার অভিযোগে ১১ জনকে আটক করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বর্তমানে ২৫ হাজার ৪৭৭ জন প্রবাসী আবাসন, শ্রম বা সীমান্ত আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় রয়েছেন। আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ১৮ হাজার ৬৮৫ জনকে প্রয়োজনীয় ভ্রমণ নথি সংগ্রহে নিজ নিজ দেশের কূটনৈতিক মিশনে পাঠানো হয়েছে এবং আরও ৩ হাজার ১১ জনকে ভ্রমণের টিকিটসহ অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে ১৪ হাজার ৪৫১ জনকে দেশ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জানায় মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে অবৈধ প্রবেশে সহায়তা, পরিবহন বা আশ্রয় প্রদানকারীদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ১৫ বছর কারাদণ্ড, ১০ লাখ রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা এবং ব্যবহৃত যানবাহন/সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের মতো কঠোর শাস্তির সতর্কবার্তাও পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
আবাসন, শ্রম ও সীমান্ত সুরক্ষা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে সৌদি আরবে এক সপ্তাহে ১৮ হাজারের বেশি প্রবাসীকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলাবাহিনী। রোববার (২৫ জানুয়ারি) সৌদির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে গালফ নিউজ। সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, গত ১৫ জানুয়ারি থেকে ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশটির বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত নিরাপত্তা অভিযানে মোট ১৮ হাজার ২০০ প্রবাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দেশজুড়ে চলমান সমন্বিত নিরাপত্তা অভিযানের অংশ হিসেবে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়। গ্রেপ্তারদের মধ্যে আবাসন আইন লঙ্ঘনের দায়ে ১১ হাজার ৪৪২ জন, সীমান্ত নিরাপত্তা আইন ভঙ্গের অভিযোগে ৩ হাজার ৯৩১ জন এবং শ্রম আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় ২ হাজার ৮২৭ জন রয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। বিভিন্ন নিরাপত্তা বাহিনী ও সরকারি সংস্থা যৌথভাবে এসব অভিযান পরিচালনা করে। এছাড়া অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে সৌদি আরবে প্রবেশের চেষ্টাকালে আরও ১ হাজার ৭৬২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদের মধ্যে ৫৩ শতাংশ ইথিওপিয়ার নাগরিক, বাকিরা ইয়েমেনসহ অন্যান্য দেশের বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। একই সময়ে অবৈধভাবে সৌদি আরব ত্যাগের চেষ্টা করার অভিযোগে ৪৬ প্রবাসীকে আটক করা হয়। পাশাপাশি অবৈধ প্রবাসীদের পরিবহন ও আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে সৌদিতে বসবাসরত ১১ জনকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানায়, বর্তমানে দেশটিতে ২৫ হাজার ৪৭৭ জন প্রবাসীর বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তাদের মধ্যে ২৩ হাজার ৪৪৩ পুরুষ এবং ২ হাজার ৩৪ নারী। গ্রেপ্তার হওয়া প্রবাসীদের মধ্যে ১৮ হাজার ৬৮৫ জনকে দেশে ফেরত পাঠানোর আগে প্রয়োজনীয় ভ্রমণ নথি সংগ্রহের জন্য সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক মিশনে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া আরও ৩ হাজার ১১ জনকে সৌদি আরব থেকে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করার নির্দেশ ও ইতোমধ্যে ১৪ হাজার ৪৫১ প্রবাসীকে নিজ নিজ দেশে প্রত্যাবাসন করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশটির আইন অনুযায়ী, অবৈধভাবে দেশটিতে প্রবেশে সহায়তার দায়ে সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ সৌদি রিয়াল জরিমানার বিধান রয়েছে। এ বিষয়ে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বারবার সতর্ক করে আসছে। উল্লেখ্য, সৌদি আরবে বর্তমানে প্রায় ৩ কোটি ৪৮ লাখ মানুষের বসবাস। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিপুলসংখ্যক অভিবাসী শ্রমিক দেশটিতে কর্মরত রয়েছেন। স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোতে নিয়মিতভাবে আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে অবৈধ প্রবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান ও আটকের খবর প্রকাশিত হচ্ছে।
মালয়েশিয়ায় সদ্য কার্যকর হওয়া আবর্জনাবিরোধী আইনের আওতায় প্রথমবারের মতো আদালতে অভিযুক্ত দুই বিদেশি নাগরিকের মধ্যে একজন বাংলাদেশি রয়েছেন। অপর অভিযুক্ত একজন ইন্দোনেশীয় নারী। নববর্ষের প্রথম দিন জোহর বাহরুর শহর এলাকায় পৃথক দুটি ঘটনায় তাদের আটক করা হয় এবং বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) সকালে জোহর বাহরু সেশন কোর্টে হাজির করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। আদালত সূত্রে জানা যায়, খণ্ডকালীন শ্রমিক আনিতা লুকমান (৪৯) স্টুলাং লাউতের জালান ইব্রাহিম সুলতান এলাকায় রাত ১২টা ৪১ মিনিটে ফুটপাথে সিগারেটের টুকরা ও একটি পানীয়ের বোতল ফেলে দেওয়ার অভিযোগ স্বীকার করেন। নির্ধারিত ডাস্টবিন ব্যবহার না করায় তার বিরুদ্ধে ‘সলিড ওয়েস্ট অ্যান্ড পাবলিক ক্লিনজিং ম্যানেজমেন্ট অ্যাক্ট ২০০৭’-এর ৭৭এ(১) ধারায় মামলা করা হয়। আইনজীবী ছাড়া আদালতে উপস্থিত হয়ে তিনি ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং পারিবারিক দায়ের কথা তুলে ধরেন। রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি সিতি আদোরা রাহতিমান আদালতে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আবেদন জানান। তার বক্তব্যে, এ ধরনের সাজা অভিযুক্তসহ জনসাধারণকে সতর্ক করবে এবং জনপরিসরে পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় আইন মানার প্রবণতা বাড়াবে। বিচারক নর আজিয়াতি জাফার আনিতাকে ৫০০ রিঙ্গিত জরিমানা করেন; জরিমানা অনাদায়ে ১৫ দিনের কারাদণ্ডের আদেশ দেন। পাশাপাশি তাকে ছয় মাসের মধ্যে ছয় ঘণ্টা কমিউনিটি সার্ভিস সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে; নির্দেশনা না মানলে অতিরিক্ত জরিমানার বিধানও উল্লেখ করা হয়। অন্যদিকে একই এলাকায় রাত ১টা ২৭ মিনিটে ময়লা ফেলার অভিযোগে অভিযুক্ত কারখানা শ্রমিক সুলতান এমডি (২৮) অভিযোগটি পুরোপুরি বুঝতে না পারার কথা জানিয়ে বাংলা ভাষার দোভাষী চান। আদালত তার আবেদন মঞ্জুর করে মামলার পরবর্তী শুনানির দিন হিসেবে ২৮ জানুয়ারি নির্ধারণ করেন। উল্লেখ্য, ‘সলিড ওয়েস্ট অ্যান্ড পাবলিক ক্লিনজিং ম্যানেজমেন্ট অ্যাক্ট ২০০৭’-এর সংশোধিত বিধান চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে দেশব্যাপী কার্যকর হয়েছে। আইনে জনসমক্ষে বর্জ্য ফেলার জন্য সর্বোচ্চ ২ হাজার রিঙ্গিত জরিমানা এবং প্রয়োজনে ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত কমিউনিটি সার্ভিসের বিধান রাখা হয়েছে।