সারাদেশ

১০৬টি পার্ক ও খেলার মাঠ রক্ষায় ডিএনসিসির কমিটি গঠন

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ০৫, ২০২৬ 0

 

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) আওতাধীন পার্ক, খেলার মাঠ ও গণপরিসরগুলোতে নাগরিকদের অবাধ প্রবেশ নিশ্চিত করা এবং এসব স্থাপনার সঠিক পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ তদারকির লক্ষ্যে ৯ সদস্যবিশিষ্ট একটি স্টিয়ারিং কমিটি গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সংস্থাটি।

সোমবার (৫ জানুয়ারি) গুলশান নগরভবনে অনুষ্ঠিত ডিএনসিসির ১৩তম করপোরেশন সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিএনসিসির মুখপাত্র জোবায়ের হোসেন।

তিনি বলেন, সভায় জানানো হয় ডিএনসিসির আওতাধীন ৫২টি ওয়ার্ডে অবস্থিত মোট ১০৬টি পার্ক, খেলার মাঠ ও গণপরিসর সঠিকভাবে পরিচালিত ও রক্ষণাবেক্ষণ হচ্ছে কি না সেটি নিয়মিতভাবে তদারকির জন্য এই স্টিয়ারিং কমিটি গঠন করা হচ্ছে।

সভায় এ বিষয়ে ডিএনসিসি প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ বলেন, ঢাকা শহরের পার্ক ও খেলার মাঠগুলো ভিন্ন ভিন্ন মালিকানা ও ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হচ্ছে। মাঠ ও পার্কের অব্যবস্থাপনা এবং দখলের অন্যতম কারণ হচ্ছে এই ভিন্ন মালিকানা। তাই সব পার্ক ও খেলার মাঠ পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করে এসব পার্ক ও মাঠের সার্বিক কার্যক্রম তদারকির জন্য এই স্টিয়ারিং কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, এই কমিটি প্রতি মাসে একবার পার্ক, খেলার মাঠ ও গণপরিসরগুলোর সার্বিক অবস্থা সম্পর্কে কর্পোরেশনে প্রতিবেদন দাখিল করবে। পাশাপাশি এসব পার্ক ও মাঠের নিরাপত্তা, রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা তদারকি করবে এবং সব শ্রেণি-পেশার নাগরিকের অবাধ প্রবেশ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। একইসঙ্গে কোনো ক্লাব বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান যেন পার্ক, মাঠ ও গণপরিসর দখল করতে না পারলে সেটিও এই কমিটি তদারকি করবে।

বোর্ড সভার নির্ধারিত আলোচনায় জানানো হয়, ডিএনসিসি প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজের নির্দেশনায় ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন মাঠ, পার্ক ও গণপরিসর চিহ্নিত করতে একটি সার্ভে পরিচালনা করা হয়।

ওই সার্ভেতে দেখা যায়, ডিএনসিসির আওতায় মোট ১০৬টি পার্ক, খেলার মাঠ ও গণপরিসর রয়েছে। বর্তমানে ডিএনসিসির আওতাধীন এই ১০৬টি পার্ক, খেলার মাঠ ও গণপরিসরের মধ্যে সরাসরি ডিএনসিসির মালিকানায় রয়েছে ৩৭টি, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের মালিকানায় রয়েছে ১৭টি এবং অবশিষ্ট পার্ক, মাঠ ও গণপরিসরগুলো অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার মালিকানাধীন। এছাড়া কিছু মাঠ ও গণপরিসর বিভিন্ন স্কুল ও কলেজ কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত ও রক্ষণাবেক্ষণ করা হচ্ছে।

বোর্ড সভায় স্টিয়ারিং কমিটিতে সিটি করপোরেশন, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক), গণপূর্ত অধিদপ্তর ও জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি), জেলা প্রশাসন এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে আমিনুর রসুল, জাকিয়া শিশির, মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ ও মো. হাফিজুর রহমান ময়নাকে সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এছাড়া ডিএনসিসির ১০টি অঞ্চলের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তার সভাপতিত্বে ওই এলাকার প্রতিটি পার্ক ও খেলার মাঠ স্থানীয়দের সমন্বয়ে নাগরিক কমিটি ও সোসাইটির মাধ্যমে রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় এ কমিটি পার্ক, মাঠগুলোতে অবাধ প্রবেশ, নিরাপত্তা এবং রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করবেন। স্টিয়ারিং কমিটি এসব আঞ্চলিক কমিটির মাধ্যমে মাঠ ও পার্কগুলোর কার্যক্রম তদারকি করবে।

এছাড়া নগরীর কিছু খেলার মাঠ বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের মালিকানাধীন হওয়ায়, সেসব মাঠ বিকেলে যেন স্থানীয় কমিউনিটির মানুষ ব্যবহার করতে পারে সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করবে স্টিয়ারিং কমিটি।

প্রসঙ্গত, স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন, ২০০৯-এর তৃতীয় তপশিলের ২৪ অনুচ্ছেদ এবং সপ্তম তপশিলের ২২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী পার্ক, খেলার মাঠ, উন্মুক্ত স্থান ও উদ্যান সংরক্ষণ, নিয়ন্ত্রণ ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব সিটি করপোরেশনকে প্রদান করা হয়েছে।

ডিএনসিসির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ডিএনসিসির আওতাধীন হলেও ডিএনসিসির মালিকানাভুক্ত নয় এমন পার্ক, খেলার মাঠ ও গণপরিসরের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উপযুক্ত প্রতিনিধিদের পাশাপাশি স্থানীয় সমাজসেবক/প্রতিনিধি এবং ডিএনসিসির প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করে উন্নয়নমূলক কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। যাতে এসব পার্ক, খেলার মাঠ ও গণপরিসর সব নাগরিকের ব্যবহারের জন্য আরও উপযোগী করে গড়ে তোলা যায়।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সারাদেশ

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
স্ত্রী-কন্যাকে হত্যার পর আত্মহত্যা করলেন যুবক

নওগাঁর আত্রাইয়ে ছুরিকাঘাতে স্ত্রী ও ৫ বছর বয়সী কন্যাকে হত্যার পর একই ছুরি দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন এক যুবক।   শুক্রবার (৬ মার্চ) সকালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ওই যুবক। এর আগে বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে উপজেলার বলরামচক চৌধুরীপাড়া গ্রামে স্ত্রী-কন্যাকে হত্যার নৃশংস এই ঘটনা ঘটে। তিনজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আত্রাই থানার এসআই শাহাজুল ইসলাম। এ ঘটনায় অভিযুক্ত যুবকের নাম জয় সরকার (২৭)। তিনি চৌধুরীপাড়া গ্রামের গৌতমের ছেলে। নিহত স্ত্রীর নাম বৃষ্টি সরকার (২২) ও কন্যা সন্তানের নাম জিনিয়া সরকার। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাতের খাবার শেষে স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে জয় তার ঘরে ঘুমাতে যায়। যে কোনো কারণবশত রাতে নিজ শয়নকক্ষে জয় তার স্ত্রী ও শিশু কন্যাকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে। এতে ঘটনাস্থলেই মা-মেয়ে প্রাণ হারায়। পরে একই ছুরি দিয়ে নিজের শরীরেও আঘাত করে আত্মহত্যার চেষ্টা চালান জয়। পরে শুক্রবার সকালে রাজশাহীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। খবর পেয়ে আত্রাই থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহত মা ও শিশুকন্যার মরদেহ উদ্ধার করে এবং পরবর্তীতে ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ সদর হাসপাতালে পাঠায়। প্রতিবেশীরা জানান, জয় দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিল। প্রায়ই সে বেপরোয়া আচরণ করত। পরিবারে অশান্তি সৃষ্টি করা ছিল তার নিত্যদিনের ঘটনা। স্থানীয়দের মতে, নিয়ন্ত্রণহীন জীবনযাপনের কারণে ভয়াবহ পরিণতি ঘটল তিনটি প্রাণের বিনিময়ে। মাদকাসক্তি এবং নিয়ন্ত্রণহীন জীবনযাপন একটি পরিবারকে কী ভয়াবহ পরিণতির দিকে ঠেলে দিতে পারে— এই ঘটনা তারই নির্মম উদাহরণ। আত্রাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, গুরুতর আহত অবস্থায় জয়কে হাসপাতালে আনা হলে তার শরীরে একাধিক ধারালো অস্ত্রের আঘাত দেখা যায়। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। আত্রাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আব্দুল করিমের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ না করায় এ বিষয়ে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

মোঃ ইমরান হোসেন মার্চ ০৬, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডের অপেক্ষায় তারাগঞ্জবাসী

টঙ্গী বাজারের রাবেয়া মার্কেটে আগুন

একযোগে এনসিপির সাত নেতার পদত্যাগ

মেঘনা ও পদ্মা অয়েল ডিপোতে নেই তেলের সংকট

  নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে অবস্থিত মেঘনা ও পদ্মা অয়েল ডিপোতে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে পেট্রোল পাম্প মালিকদের অতিরিক্ত তেল সংগ্রহের প্রবণতায় ডিপোর সামনে তেলবাহী ট্যাংকলরীর দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে। এর ফলে আশপাশের সড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকাল থেকে সিদ্ধিরগঞ্জের মেঘনা ও পদ্মা অয়েল ডিপোর সামনে শতাধিক তেলবাহী ট্যাংকলরী সারিবদ্ধভাবে অপেক্ষা করতে দেখা যায়। দীর্ঘ সময় ধরে এসব লরি সড়কে দাঁড়িয়ে থাকায় আশপাশের এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। স্থানীয়দের অভিযোগ, ডিপোতে তেল নিতে আসা ট্যাংকলরীগুলো সড়কের বিভিন্ন স্থানে দাঁড়িয়ে থাকায় সাধারণ যানবাহনের চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। মেঘনা অয়েল ডিপোর সহকারী ব্যবস্থাপক আমিনুল হক বলেন, ‘বর্তমানে ডিপোতে পর্যাপ্ত পরিমাণ জ্বালানি তেল মজুদ রয়েছে। তেলের কোনো ঘাটতি নেই। তবে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী পেট্রোল পাম্প মালিকদের নির্ধারিত বরাদ্দের তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ এবং এজেন্টদের ক্ষেত্রে প্রায় ৫০ শতাংশ কম তেল সরবরাহ করা হচ্ছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘অনেক পাম্প মালিক একসঙ্গে অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ ও মজুদ করার উদ্দেশ্যে ডিপোতে আসছেন। ফলে স্বাভাবিকের তুলনায় তেলবাহী গাড়ির চাপ বেড়ে গেছে এবং ডিপোর সামনে দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়েছে।’ মেঘনা অয়েল ডিপোর সহকারী ব্যবস্থাপক মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী পাম্প মালিক ও এজেন্টদের জন্য সরবরাহ কিছুটা কমানো হলেও ডিপোতে তেলের কোনো সংকট নেই।

মারিয়া রহমান মার্চ ০৬, ২০২৬ 0

চুরির অভিযোগে পিটিয়ে হত্যা : প্রধান আসামি ইউপি সদস্য সেলিম গ্রেপ্তার

সংগৃহীত ছবি

আগে উঠে সিট দখল, মতিঝিল মেট্রো স্টেশনে নতুন নিয়ম

ছবি : সংগৃহীত

প্রতিমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শন, অফিসে নেই কর্মকর্তারা

পাহাড় কেটে রিসোর্ট নির্মাণ কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না: পার্বত্য মন্ত্রী

  পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী জনাব দীপেন দেওয়ান কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, পরিবেশ ধ্বংস করে বা পাহাড় কেটে কোনো ধরনের রিসোর্ট বা পর্যটন কেন্দ্র নির্মাণ বরদাশত করা হবে না। তিনি স্পষ্ট জানান, পাহাড়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নষ্ট করে পর্যটন শিল্পের বিকাশ সরকার সমর্থন করে না; বরং পাহাড়ের পরিবেশ রক্ষা করে পরিবেশবান্ধব বা ‘ইকো-ট্যুরিজম’ গড়ে তোলাই লক্ষ্য হওয়া উচিত। আজ (মঙ্গলবার) রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে পরিষদের কর্মকর্তাদের সাথে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান আরও বলেন, বর্তমানে আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার হলো স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাত। তিনি বলেন, অবকাঠামো উন্নয়ন যতটুকু প্রয়োজন তা ইতিমধ্যে হয়েছে, তবে যেখানে একান্ত জরুরি সেখানে কাজ চলবে। তিনি সকল দপ্তরকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, অনেক ক্ষেত্রে দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতা দেখা যায়, যা কাজের গতি কমিয়ে দেয়। তাই প্রতিটি উন্নয়ন কাজে পার্বত্য জেলা পরিষদের সাথে সমন্বয় বজায় রাখা এবং নিয়মিত মনিটরিং করা আবশ্যক। প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়ে মন্ত্রী জনাব দীপেন দেওয়ান হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, উন্নয়নের নামে কেবল প্রজেক্ট তৈরি করে অর্থ অপচয় করার সুযোগ আর থাকবে না। যেখানে প্রয়োজন নেই সেখানে প্রকল্প নেওয়া যাবে না। প্রতিটি কাজের যথাযথ তদারকি নিশ্চিত করতে হবে। তিনি আরও যোগ করেন, জেলা পরিষদের কাজের মাধ্যমেই জেলার উন্নয়নের প্রতিচ্ছবি ফুটে ওঠে, তাই সেবার নামে কোনো প্রকার অনিয়ম মেনে নেওয়া হবে না। সভায় উপস্থিত কর্মকর্তারা পাহাড়ি অঞ্চলের ভূ-প্রকৃতি ও দুর্গমতার বিষয়টি তুলে ধরেন। তারা জানান, সমতলের তুলনায় পাহাড়ে পরিবহন ও শ্রমিক খরচ অনেক বেশি, তাই দরপত্রের (টেন্ডার) সিডিউল রেট সমতলের মতো হওয়া যৌক্তিক নয়। এ বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ এবং কাপ্তাই লেকের মৎস্য সম্পদ উন্নয়নসহ ইকো-ট্যুরিজম, শিক্ষা ও যোগাযোগ খাতে মন্ত্রীর বিশেষ সহযোগিতা কামনা করা হয়। রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কৃষিবিদ কাজল তালুকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব কংকন চাকমা, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান শেখ ছালেহ্ আহাম্মদ, রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মোহাম্মদ রিজাউল করিম, রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের সদস্য প্রতুল চন্দ্র দেওয়ান, বরুন বিকাশ দেওয়ান, হাবিব আজম, মিনহাজ মুরশিদ, নাইউপ্রু মারমা, সাগরিকা রোয়াজা, বৈশালী চাকমা ও দয়াল দাশ প্রমুখ। মো. রেজুয়ান খান জনসংযোগ কর্মকর্তা, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় মোবাইল: ০১৭৯৮৭৯২২৯৮

মারিয়া রহমান মার্চ ০৪, ২০২৬ 0

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতে ঢাকার ২ সিটির ‘দুরবস্থা’ জানালেন প্রশাসকরা

নেত্রকোনায় ৯ কেজি গাঁজাসহ দুই যুবক আটক

প্রতারণা চক্রের প্রধান চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব-৪)।

অস্ট্রেলিয়া পাঠানোর নামে লাখ লাখ টাকা প্রতারণা

0 Comments