দীর্ঘ ১০ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আনন্দে ভাসছে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার সুমন-এনি দম্পতির পরিবার। একসঙ্গে জন্ম নেওয়া পাঁচ নবজাতককে নিয়ে আজ মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বিকেলে বাড়ি ফিরেছেন তারা।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সাতকানিয়া উপজেলার বাসিন্দা ওয়াহিদুল ইসলাম সুমনের স্ত্রী এনি আক্তার গত বৃহস্পতিবার একসঙ্গে পাঁচটি সন্তান জন্ম দেন। এর মধ্যে তিনজন কন্যা ও দুজন পুত্র সন্তান।
চিকিৎসক সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন নিঃসন্তান থাকার পর প্রসূতি বিশেষজ্ঞ ফরিদা ইয়াসমিন সুমির তত্ত্বাবধানে ইন্ট্রা-ইউটেরাইন ইনসেমিনেশন (IUI) পদ্ধতির মাধ্যমে চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি পিপলস হাসপাতালে পাঁচ নবজাতকের জন্ম হয়। জন্মের পর তাদের শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন থাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামের আরেকটি বেসরকারি হাসপাতাল পার্ক ভিউ হসপিটালের এনআইসিইউতে ভর্তি করা হয়।
সেখানে অভিজ্ঞ চিকিৎসক ও নার্সদের নিবিড় পর্যবেক্ষণ এবং আধুনিক চিকিৎসাব্যবস্থার মাধ্যমে টানা চিকিৎসা চলতে থাকে। অবশেষে একে একে পাঁচ নবজাতক সুস্থ হয়ে ওঠে এবং চিকিৎসকদের ছাড়পত্র পেয়ে তারা পরিবারের সঙ্গে বাড়ি ফিরেছে।
পার্ক ভিউ হসপিটালের পরিচালক ডা. এ টি এম রেজাউল করিম বলেন, ‘অভিজ্ঞ চিকিৎসক দল, আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং নিরবচ্ছিন্ন পরিচর্যার ফলেই পাঁচ নবজাতক সুস্থ হয়ে উঠেছে।’
প্রসূতি বিশেষজ্ঞ ফরিদা ইয়াসমিন সুমি জানান, সঠিক সময়ে উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে এমন জটিল ক্ষেত্রেও ইতিবাচক ফল পাওয়া সম্ভব। সুমন-এনি দম্পতির পাঁচ সন্তানের সুস্থতা তারই উজ্জ্বল উদাহরণ।
উল্লেখ্য, গত ৮ ডিসেম্বর চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার এই দম্পতির ঘরে একসঙ্গে পাঁচটি শিশু জন্মগ্রহণ করে।
প্রসবের পর অতিরিক্ত চিকিৎসার প্রয়োজন হওয়ায় নবজাতকদের এনআইসিইউতে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
সুনামগঞ্জে বজ্রপাতের ভয়াবহতা নিয়ে জাতীয় সংসদে আলোচনা চলাকালে হালকা হাস্যরসের সৃষ্টি হয়েছে। বজ্রপাতের ঘনত্বের তথ্য শুনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘এত বজ্রপাত সুনামগঞ্জে হয়, জানলে তো বিয়েই করতাম না ওখানে।’ সোমবার (২৭ এপ্রিল) স্পিকারের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে ৭১ বিধিতে জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশের ওপর আলোচনায় এক পর্যায়ে তিনি এ কথা বলেন। বজ্রপাত নিয়ে সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল তার বক্তব্যে বলেন, ‘মাননীয় স্পিকার, আমার নির্বাচনী আসনে চারটি উপজেলা হাওড়বেষ্টিত। কৃষি ও মৎস্য আহরণের জন্য সারা বছর এই এলাকার কৃষক ও মৎস্যজীবীদের হাওড়ে কাজ করতে হয়। কিন্তু গ্রীষ্ম ও বর্ষায় হাওড়ে কাজ করতে গিয়ে আকস্মিক বজ্রপাতে অনেকের প্রাণহানি ঘটে। অতি সম্প্রতি দেশে ১২ জনের প্রাণহানি ঘটেছে, এর মধ্যে আমার আসনেই চারজন। আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা নাসার মতে, সুনামগঞ্জ হাওড় অঞ্চলে বজ্রপাতের ঘনত্ব অনেক বেশি। এখানে প্রতি বর্গকিলোমিটারে ২৫টির বেশি বজ্রপাত সংঘটিত হয়। বিগত সরকার বজ্রপাতকে জাতীয় দুর্যোগ ঘোষণা করলেও এ ব্যাপারে কোনো দৃশ্যমান কর্মসূচি নেই।’ তিনি প্রতিটি হাওড়ে আশ্রয়কেন্দ্র এবং বজ্রনিরোধক দণ্ড স্থাপনের দাবি জানান। জবাবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, ‘বাংলাদেশ পৃথিবীর ৯টি দুর্যোগপ্রবণ দেশের একটি। সাম্প্রতিক কয়েক বছরে বজ্রপাত সবচেয়ে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে হাওড় ও উত্তরাঞ্চলে এর তীব্রতা বেশি। আমরা সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য ওই অঞ্চলে সাইরেন বসানোর পরিকল্পনা করছি, যাতে মেঘ জমলে কৃষকরা নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে পারে। এছাড়া তালগাছ রোপণ এবং বজ্রনিরোধক টাওয়ার স্থাপনের বিষয়েও গবেষণা চলছে। আমরা বিধিমালা সংশোধন করেছি, যাতে বজ্রপাতে গবাদি পশু মারা গেলেও কৃষকরা আর্থিক সহায়তা পান।’ মন্ত্রীর বক্তব্যের পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘এত বজ্রপাত সুনামগঞ্জে হয়, জানলে তো বিয়েই করতাম না ওখানে।’ স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সহধর্মিণী দিলারা হাফিজ ১৯৪৯ সালের ২ জানুয়ারি সুনামগঞ্জ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তাদের দাম্পত্য জীবন ছিল দীর্ঘ ৫৪ বছরের। গত ২৮ মার্চ সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন তিনি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে এক পুলিশ কনস্টেবলকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতা ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে। রোববার (২৬ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার রহনপুরের খয়রাবাদ এলাকায় রায়হান ফিলিং স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে। আহত কনস্টেবল শওকতকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছে পুলিশ। মারধরের শিকার কনস্টেবল শওকত নাচোল থানার গাড়িচালক। অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ আল রায়হান সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আশরাফ আলীর ছেলে এবং খয়রাবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি। রায়হানের রাজনৈতিক পরিচয় নিশ্চিত করেছেন গোমস্তাপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোয়াজ্জেম হোসেন। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কনস্টেবল শওকত নাচোল থানার একটি গাড়ির জন্য ইঞ্জিন অয়েল নিতে ওই ফিলিং স্টেশনে যান। এসময় স্টেশনের কর্মচারীদের সঙ্গে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে মালিক আব্দুল্লাহ আল রায়হান তাকে চড়-থাপ্পড় মারেন এবং লাঠি দিয়ে পেটান। খবর পেয়ে নাচোল ও গোমস্তাপুর থানা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত অবস্থায় শওকতকে উদ্ধার করে। পরে গোমস্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এ বিষয়ে জানতে আব্দুল্লাহ আল রায়হানের মোবাইলে একাধিকবার কল দিয়েও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। গোমস্তাপুর থানার ওসি নূরে আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় ফিলিং স্টেশনের তিন কর্মচারীকে আটক করা হয়েছে। মূল অভিযুক্ত রায়হানকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। নাচোল থানার ওসি সুকোমল চন্দ্র দেবনাথ জানান, ‘তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে এ হামলার ঘটনা ঘটে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।’ এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এপ্রিলের তাপপ্রবাহ শেষে সোমবার থেকে মে মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত টানা বৃষ্টির মুখে পড়তে যাচ্ছে দেশ। ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টি হতে পারে সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহে। টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে উত্তর-পূর্বের জেলা সুনামগঞ্জ, সিলেট, নেত্রকোনা, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারে আকস্মিক বন্যার শঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস ও বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। শেষ হতে চলেছে এপ্রিলের তাপপ্রবাহ। এ মাসের ২০ তারিখে শুরু হওয়া মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বিদায় নিয়েছে শনিবার। এ বছর এখন পর্যন্ত তাপমাত্রার পারদ উঠেছে রাজশাহীতে সর্বোচ্চ ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগামী ২৭ এপ্রিল থেকে শুরু হতে পারে বৃষ্টি। আবহাওয়া অধিদপ্তরের মহাকাশ পর্যবেক্ষণ বলছে—সিলেট, রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা ও চট্টগ্রামে ভারি বৃষ্টি হতে পারে। সঙ্গে কালবৈশাখী ও বজ্রপাতের শঙ্কা রয়েছে। জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ ড. আবুল কালাম মল্লিক বলেন, ‘রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগ, পরে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও বরিশালে বজ্রমেঘ তৈরির ঘনঘটা বৃদ্ধি পাবে এবং দেশের অভ্যন্তরে ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে। এটা আজকে সন্ধ্যা থেকে পরবর্তী চার দিনের জন্য।’ বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র বলছে, বৃষ্টির প্রকোপ বাড়লে উজানের ঢল তীব্র হয়ে ভাটির দিকে প্রবাহিত হবে। তাই সিলেট বিভাগের সারিগোয়াইন, যাদুকাটা, মনু, খোয়াই ও কংস নদ বিপৎসীমার ওপরে প্রবাহিত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। এতে সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারে আকস্মিক বন্যা হতে পারে। বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী পার্থ প্রতীম বড়ুয়া বলেন, ‘এই অঞ্চলগুলোতে হাওরে পানি প্রবেশ করতে পারে এবং সেখানে বন্যা পরিস্থিতির ঝুঁকি থাকতে পারে। ভারি বৃষ্টির সম্ভাবনা মেঘালয়ের এই অংশেই বেশি, কিন্তু পরে অব্যাহত থাকলে মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের কিছু অংশে বৃষ্টিপাতের প্রবণতার ফলে নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির ঝুঁকি রয়েছে।’ ২০১৭ সালে এপ্রিলের শুরুতে ভয়াবহ বন্যায় হাওরে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। ক্ষতি থেকে রক্ষায় এবারও বন্যা শুরুর আগেই ধান কাটার পরামর্শ দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।