জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে আনীত দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে তীব্র কটাক্ষ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী (সচিব পদমর্যাদা) রাশেদ খাঁন। তার দাবি, নানা দুর্নীতির অভিযোগ ও রাজনৈতিক চাপ থেকে দায়মুক্তি পেতে এবং নিজেকে সুরক্ষার স্বার্থেই আসিফ মাহমুদ জামায়াত জোটে যোগ দিয়েছেন। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খাঁন লেখেন, আসিফ মাহমুদ যখন জামায়াতবিরোধী অবস্থান নিয়েছিলেন, আসিফ মাহমুদ যেসময় জামায়াত বিরোধী ছিলেন, সেসময় তার বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ সত্য ছিলো! এবং সেসময় দুর্নীতির অভিযোগে ড. মুহাম্মাদ ইউনূসের অনুরোধ সত্ত্বেও জামায়াতের আমির তাকে ঢাকা-১০ আসনের নমিনেশন পর্যন্ত দেননি। এখন যেহেতু তিনি জামায়াত জোটের রাজনীতির চর্চা করেন, সুতরাং তার বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ ভিত্তিহীন! একজন ব্যক্তি অপরাধী নাকি নিরপরাধ, তা বর্তমানে তিনি জামায়াতের সঙ্গে আছেন কি না তার ওপর নির্ভর করছে বলে মন্তব্য করেন রাশেদ খাঁন। তিনি বলেন, একজন ব্যক্তি অপরাধী নাকি নিরপরাধ ,সেটি নির্ভর করে সে জামায়াতের লোক কি না! জামায়াত করলে বা জামায়াতকে সমর্থন করলে, একজন ব্যক্তির সমস্ত অপরাধ ধুয়েমুছে যায় এবং তিনি পুরোদস্তুর ফেরেস্তা হয়ে যান! আর তাই আসিফ মাহমুদও তার অভিযোগ থেকে দায়মুক্তি পেতে জামায়াত জোটে যোগদান করেছেন! তিনি আরও বলেন, এখন আসিফ মাহমুদ পুরোপুরি নিষ্পাপ ,একদম কলঙ্কমুক্ত! আবার যদি কখনো এনসিপি জামায়াত জোট ছাড়ে, তখন আর দুদক লাগবে না, জামায়াত শিবিরই তার দুর্নীতির বিচারের রায় দিয়ে দিবে! দেখা যাক, আসিফ মাহমুদ আর কতোদিন জমায়াত জোটের রাজনীতি করে নিজেকে সেইফ করতে পারেন! তবে এতোটুকু জানতে পারলাম, বাঁচার জন্য তিনি ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন থেকে সেইফ এক্সিট নিয়েছেন! জামায়াত তাকে ঢাকা দক্ষিণ ছাড়বে না, সাফ জানিয়ে দেওয়ার পর তিনি উত্তরে গেছেন! পরবর্তীতে জামায়াত নেতা সেলিম উদ্দিনকে সমর্থন দিয়ে তিনি বসে পড়বেন! গণঅভ্যুত্থানের একজন গুরুত্বপূর্ণ মুখপাত্রকে জামায়াতের সমর্থনে দুর্নীতি থেকে বাঁচতে এতো বড় ত্যাগ স্বীকার করতে হচ্ছে... খুবই দুঃখজনক , খুবই দুঃখজনক!
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী ও ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছেন এনসিপির আহবায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) এ উপলক্ষে দুই মহানগরের বিভিন্ন ওয়ার্ডের সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত সমন্বয় সভায় তিনি এই ঘোষণা দেন। সভায় সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী অন্বেষণ, ওয়ার্ডভিত্তিক নাগরিক সমস্যা চিহ্নিত করে তা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ এবং জুলাই শহিদ ও আহতদের পরিবারের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ ছাড়া পতিত ও পলাতক আওয়ামী লীগের নাশকতামূলক তৎপরতার বিষয়ে সতর্ক থেকে কঠোর নজরদারি রাখার নির্দেশনা দেন নাহিদ ইসলাম। সভায় ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর মহানগর এনসিপির আহবায়ক ইসহাক সরকার ও আরিফুল ইসলাম আদীবসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয় সংসদে বিএনপি সরকারের সমালোচনা করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার দেওয়া বক্তব্যের প্রতিবাদে ঝাড়ু মিছিল করেছে বিএনপি। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে এ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। এ সময় সংসদে দেওয়া বক্তব্য প্রত্যাহার না করলে রুমিন ফারহানাকে আশুগঞ্জে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করারও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। শনিবার বিকেলে আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে থেকে ঝাড়ু মিছিলটি বের হয়। মিছিলটি প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। বক্তারা বলেন, জ্বালানি সংকটের অজুহাতে রুমিন ফারহানা অসংসদীয় ভাষায় বিএনপি সরকারের সমালোচনা করেছেন। তার এ বক্তব্য আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপি ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছে। বিতর্কিত এ বক্তব্য প্রত্যাহার না করলে আশুগঞ্জের মাটিতে তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করারও হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা। আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান সিরাজের সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সভায় জেলা বিএনপির সহসভাপতি জাকির হোসেন, আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক কামাল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে ঢাকাসহ সারা দেশে প্রচারপত্র বিতরণ করবে বিএনপি। দেশের নামকরা চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞদের তৈরি করা এই প্রচারপত্রের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে ডেঙ্গু সম্পর্কে সচেতন করা হবে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, রেডিও ও টেলিভিশনে ডেঙ্গু সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান বারবার প্রচারের সিদ্ধান্ত হয়েছে। শনিবার রাতে দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সভা শেষে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সাংবাদিকদের এ কথা জানান। বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় গুলশানের চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ সভা হয়। সভায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রধানমন্ত্রীর নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের বিষয়ে আলোচনা হয়। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সব হাসপাতালে মশারি সরবরাহের বিষয়টি বিশেষভাবে আলোচনায় আসে। এ ছাড়া গার্ল গাইডস, স্কাউটসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও শিক্ষার্থীদের ডেঙ্গু সচেতনতার কাজে সম্পৃক্ত করতে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান নিয়েও আলোচনা হয়। দলের পক্ষ থেকে এ উদ্যোগগুলো সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রচার করা হবে। সভায় স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও হাটবাজারে আবর্জনা রাখার নির্দিষ্ট জায়গা করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। এক দিনের মধ্যে এসব আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে রাখার ব্যবস্থা করতে সচেতনতামূলক কাজ করবে বিএনপি। প্রয়োজনে দলীয়ভাবে এসব কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হবে। আবর্জনা থেকে এডিস মশার বিস্তার ঠেকাতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান রিজভী। ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন উদ্যোগ ও সচেতনতামূলক কর্মসূচির জন্য স্থায়ী কমিটির সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। স্থায়ী কমিটির দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, সাংগঠনিক বিষয়েও সভায় আলোচনা হয়েছে। দলের বিভিন্ন কমিটিতে কেউ মারা গেলে, বহিষ্কৃত হলে বা অন্য কোনো কারণে পদ শূন্য হলে তাঁর ঠিক নিচের পদে থাকা ব্যক্তিকে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী পদোন্নতি দিয়ে শূন্য পদ পূরণের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। দলীয় গঠনতন্ত্রের বিধান অনুযায়ী এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান। ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন প্রসঙ্গে সভায় ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী বাছাইয়ের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। আগামী ২৯ অক্টোবর ওই আসনে নির্বাচন হবে। দলের সাবেক মহাসচিব ও বর্তমান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি হওয়ায় তাঁর আসনটি শূন্য হয়। স্থায়ী কমিটির সভায় এ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য শিডিউল ঘোষণা করা হয়েছে। শিডিউল অনুযায়ী, ১৫ সেপ্টেম্বর পল্টনে দলীয় কার্যালয় থেকে আগ্রহী প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে পারবেন। ১৬ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র পূরণ করে জমা দিতে হবে। ১৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় জাতীয় স্থায়ী কমিটির (মনোনয়ন বোর্ড) সভায় চূড়ান্ত প্রার্থী নির্বাচন করা হবে। সভায় স্থায়ী কমিটির নতুন চার সদস্য রুহুল কবির রিজভী, আমানউল্লাহ আমান, ইসমাইল জবিউল্লাহ ও ফরহাদ হালিম ডোনার প্রথমবারের মতো অংশ নেন। জানা গেছে, সভার শুরুতে নতুন সদস্যদের অভ্যর্থনা জানানো হয়। এ সময় একজন সদস্য বলেন, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব থেকে আসা দুজন নেতা প্রথমবারের মতো বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হলেন। সভায় বিএনপির সপ্তম জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠানের বিষয়ে কোনো আলোচনা বা সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, কাউন্সিল নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। তিনি জানান, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিভিন্ন কমিটির পদ শূন্য হওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, আবদুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান, এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনে উপনির্বাচনে দলীয় প্রার্থী বাছাই করতে ১৫ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র বিক্রি করবে বিএনপি। শনিবার রাতে গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে দলের নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। ব্ঠৈক শেষে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানান, আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করতে পারবেন আগ্রহী প্রার্থীরা। মনোনয়ন ফরম জমা দিতে হবে পরদিন এবং সাক্ষাৎকার হবে ১৮ সেপ্টেম্বর। তিনি বলন, গুলশানে চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে মনোনয়ন বোর্ড প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নেবে। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় ঠাকুরগাঁ-১ আসনটি শূন্য হয়েছে। এ আসনে উপনির্বাচন হবে আগামী ২৯ অক্টোবর। শনিবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় গুলশানে চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে দলের চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকে কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান, এজেডএম জাহিদ হোসেন, রুহুল কবির রিজভী, আমান উল্লাহ আমান, ইসমাইল জবিহউল্লাহ, ফরহাদ হালিম উপস্থিত ছিলেন। এ বৈঠকে আরেকটি সিদ্ধান্তের কথা তুলে ধরে রিজভী বলেন, দলের যেসব কমিটির সদস্য মারা গেছেন কিংবা বহিষ্কার হয়েছেন সেসব শূন্য পদ গঠনতন্ত্র অনুযায়ী পুরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বৈঠকে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারের তিন মাসের যে অভিযান শুরু হয়েছে তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যে আহ্বান জানিয়েছে সেজন্য বৈঠকে তাকে ধন্যবাদ জানানো হয়। “বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সাধারণ মানুষকে সচেতনতার জন্য প্রচারপত্র বিতরণ করা হবে ঢাকাসহ সারাদেশে। দেশের নামকরা যেসব চিকিৎসক রয়েছেন, বিশেষজ্ঞ যারা রয়েছেন তাদের নেতৃত্বে এই প্রচারপত্র তৈরি করা হবে। এছাড়া টিভি-বেতারে সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টির জন্য দলের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠান প্রচার করা হবে। স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও হাটবাজারে আর্বজনা যাতে একটা জায়গায় রাখতে পারে সে বিষয়ে বিএনপি কাজ করবে বলে তুলে ধরেন তিনি।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে চলে যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দীর্ঘ ১৫ বছরের টানা একচ্ছত্র ক্ষমতা ‘তাসের ঘরের’ মতো চুরমার হয়ে যায় সেদিন। এরপর থেকে ভারতেই আছেন তিনি। দুই বছর পর আগামী ডিসেম্বরে দেশের ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা। এদিকে বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের একাংশ মনে করছেন, তাদের দলের সভাপতি শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে দলটি নতুন করে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হওয়ার সুযোগ পাবে। আর তিনি না ফিরলে দলের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। ফলে সব ঝুঁকি মাথায় নিয়ে ঘোষিত সময়েই শেখ হাসিনা দেশে ফিরবেন বলে আশা করছেন তারা। দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক বৈঠকেও এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। এসব আলোচনার অংশ হিসাবে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার আগে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতার দেশে ফেরার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি তার সঙ্গে আরও অনেক নেতাকর্মী দেশে ফিরবেন বলেও ঘোষণা দিয়েছেন। শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ফের শুরু হয়েছে নানা আলোচনা ও গুঞ্জন। তিনি সত্যিই দেশে ফিরবেন কিনা- তা নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যেও। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ডিসেম্বরের মধ্যে শেখ হাসিনার ফেরা কিংবা না ফেরা- দুই পরিস্থিতিরই বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ তাৎপর্য রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তার দেশে ফেরার বিষয়ে যেসব বক্তব্য সামনে আসছে, সেগুলো আসলেই দেশে ফেরার কোনো বাস্তব প্রস্তুতির ইঙ্গিত, নাকি দলীয় নেতাকর্মীদের চাঙা রাখা ও রাজনৈতিকভাবে চাপ তৈরির কৌশল-নানা মহলে সেই আলোচনাও ঘুরপাক খাচ্ছে। কারণ বর্তমান পরিস্থিতি ও বাস্তবতায় তার দেশে ফেরার পথ সহজ নয়, বরং কঠিন। ফিরতে চাইলে বহুমুখী ঝুঁকি নিয়েই তাকে ফিরতে হবে। আবার ঘোষণা দিয়ে দেশে না ফিরলে তার ওপর দলের নেতাকর্মীদের আস্থার সংকট তৈরি হবে। এতে করে মূলত তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের মৃত্যু হবে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা নিছক কোনো বক্তব্য নয়; এর পেছনে রয়েছে সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্র। এর গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক তাৎপর্যও রয়েছে। একই সঙ্গে এই ঘোষণার মধ্যে বড় ধরনের রাজনৈতিক ঝুঁকিও রয়েছে বলে মনে করছেন তারা। তাদের মতে, সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো- ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে শেখ হাসিনা শেষ পর্যন্ত দেশে ফিরতে না পারলে ১ জানুয়ারি থেকেই তার রাজনৈতিক নেতৃত্ব বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়তে পারে। দলের নেতৃত্ব প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এমনকি এরপর তিনি দেশে ফেরার বিষয়ে যে কোনো ঘোষণা দিলে সেটি নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের কাছে আগের মতো বিশ্বাসযোগ্যতা নাও পেতে পারে। তাছাড়া সরকার যেখানে তাকে আইনের মুখোমুখি করতে দেশে ফিরিয়ে আনতে অনড় অবস্থানে রয়েছে, সেখানে তিনি অন্য কোনো অজুহাত হাজির করতে পারবেন না। তাছাড়া তিনিও তো বিচারের মুখোমুখি হতে চান বলে ঘোষণা দিয়েছেন। শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বিন্দুমাত্র নৈতিক অবস্থান নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। যুগান্তরকে তিনি বলেন, জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের পর প্রাণহানির ঘটনায় তার প্রথম দায়িত্ব ছিল মানুষের কাছে দুঃখ প্রকাশ ও অনুশোচনা করা। কিন্তু তার বক্তব্যে এখনো বলপ্রয়োগ ও জেদের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। এই অবস্থান নিয়ে শেখ হাসিনা আবার দেশে ফিরে আওয়ামী লীগকে সংগঠিত করবেন- এটি ‘অমাবস্যার দিনে পূর্ণিমার চাঁদ দেখার মতো একটা স্বপ্ন’। তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনা নিজেই এখন তার উত্তরাধিকার হিসাবে শেখ সেলিমকে দায়িত্ব দেওয়ার কথা বলেছেন। শেখ সেলিমের যদি সেই সৎ সাহস থাকে, তাহলে তিনি দেশে ফিরে আসুক; তাকে তো কেউ বাধা দিচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিকভাবে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে নিষিদ্ধ। সেই নিষেধাজ্ঞার গেজেট চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিটও হয়েছে। বিষয়টি এখন বিচার বিভাগের এখতিয়ারাধীন হওয়ায় এ মুহূর্তে এ নিয়ে মন্তব্য করা কঠিন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামিম যুগান্তরকে বলেন, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বাংলাদেশে অনেক মামলা বিচারাধীন, ট্রাইব্যুনালে একটি মামলায় তিনি দণ্ডপ্রাপ্ত। ফলে আমরা চাই ভারত প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় তাকে গ্রেফতার করে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাবে। এছাড়া তিনি বাংলাদেশে এলে বিমানবন্দরেই গ্রেফতার হবেন। এরপর তার রায় কার্যকর হবে। এর বাইরে আর কোনো সুযোগ নেই। তিনি আরও বলেন, কারণ ট্রাইব্যুনাল আইনে বলা আছে, রায়ের কপি পাওয়ার ৩০ দিন পর আর কোনো আপিল করা যাবে না। অনেক আগেই ৩০ দিন অতিবাহিত হয়েছে, মৃত্যুদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার আপিল করার আর কোনো সুযোগ নেই।
পাকিস্তানের প্রথম গভর্নর জেনারেল মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ৭৮তম মৃত্যুবার্ষিকীতে তাকে ‘শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায়’ স্মরণ করেছে শহিদ শরীফ ওসমান হাদির প্রতিষ্ঠিত সংগঠন ‘ইনকিলাব মঞ্চ’। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাতে সংগঠনটির ফেসবুক পেজে জিন্নাহর একটি সাদাকালো ছবি প্রকাশ করে তাকে স্মরণ করা হয়। ছবির সঙ্গে দেওয়া বার্তায় সংগঠনটি লিখেছে, ‘উপমহাদেশের অন্যতম রাজনীতিবিদ, দ্বিজাতিতত্ত্বের প্রবক্তা, পাকিস্তান রাষ্ট্রের অন্যতম স্বপ্নদ্রষ্টা ও পাকিস্তানের প্রথম গভর্নর জেনারেল কায়েদে আজম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর মৃত্যুবার্ষিকীতে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ।’ পাকিস্তানের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ ১৮৭৬ সালের ২৫ ডিসেম্বর করাচিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৪৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর মারা যান। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর তিনি দেশটির প্রথম গভর্নর জেনারেলের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৪৮ সালের মার্চে ঢাকার রেসকোর্স ময়দান ও কার্জন হলে দেওয়া বক্তব্যে জিন্নাহ উর্দুকে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ঘোষণা করেন। তার এই বক্তব্যের প্রতিবাদে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের ছাত্রসমাজে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। জিন্নাহর ওই অবস্থান বাঙালি জনগোষ্ঠীর মধ্যে গভীর অসন্তোষের জন্ম দেয়। পরবর্তী সময়ে ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে গড়ে ওঠা আন্দোলন ১৯৫২ সালের ঐতিহাসিক রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে রূপ নেয়।
কুমিল্লার দেবিদ্বারে বিএনপিতে যোগ দিয়েও রক্ষা হয়নি কার্যক্রম নিষিদ্ধ সেচ্ছাসেবক লীগ নেতা ও ইউপি সদস্য মো. আলম হাজারীর। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার বড়শালঘর গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মো. আলম হাজারী (৪৫) বড়শালঘর গ্রামের আবুল হাসেম হাজারীর ছেলে। তিনি বড়শালঘর ইউপি সদস্য ও ইউনিয়ন সেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি এবং উপজেলা সেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর ২০২৫ সালের ২১ ডিসেম্বর দেবিদ্বারের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য প্রকৌশলী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর বাসায় আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দেন তিনি। পুলিশ এবং স্থানীয়রা জানায়, আলম হাজারী বিএনপিতে যোগদানের পর এলাকায় অবস্থান করছিলেন। সম্প্রতি শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন, আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও সব রাজবন্দিদের মুক্তির দাবিতে তিনি সক্রিয় হয়ে ওঠেন। পুলিশ শুক্রবার বিকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার দাউদকান্দি এলাকায় বিক্ষোভ মিছিলে অংশগ্রহণের অভিযোগ তুলেন আলম হাজারীর বিরুদ্ধে। দেবিদ্বার থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান বলেন, আলম হাজারী নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের গোপন কার্যক্রমে সক্রিয় রয়েছেন। সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শুক্রবার বিকালে ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার দাউদকান্দিতে আওয়ামী লীগের বিক্ষোভ মিছিলের অর্থ যোগানদাতা ছিলেন তিনি। তার বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী বলেছেন, ‘সমাজ থেকে ধর্ষণ, নারী নির্যাতনসহ সব ধরনের অপরাধ মুছে দেবে বিএনপি।’ শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে মহিলা দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। রিজভী বলেন, ‘নারীর ক্ষমতায়ন ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। এ কাজে মহিলা দলের নেতাকর্মীদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘আজকে বিএনপি ক্ষমতায়, আমাদের প্রত্যেকেই সরকারের অংশ। শুধু পদ-পদবি থাকলেই সরকারের অংশ হতে হবে, তা নয়।’ মহিলা দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে রিজভী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সরকারে মহিলা দলেরও রক্ত-ঘাম আছে। আপনারাও এই সরকারের অংশ।’ নারীর ক্ষমতায়নে সরকারের নেওয়া ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচিকে যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেন, ‘সরকারের এ কর্মসূচি সফল করতে মহিলা দলের নেত্রীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।’ নারীর ক্ষমতায়ন ও সামাজিক নিরাপত্তায় সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরতে মহিলা দলের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বানও জানান তিনি।
নেতাকর্মীদের পদত্যাগে সাংগঠনিক কার্যক্রমে স্থবিরতার পর রাঙামাটিতে নতুন করে জেলা আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। ছয় মাসের জন্য অনুমোদন পাওয়া ৪৯ সদস্যের কমিটিতে প্রিয় চাকমাকে আহ্বায়ক, শাহিদুল ইসলাম খানকে সদস্যসচিব এবং শাহেদুল আলম শাকিলকে সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়েছে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) নতুন এ কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। এর আগে গত ২৬ আগস্ট এনসিপির রাঙামাটি জেলার সাংগঠনিক সমন্বয় সভায় জেলা আহ্বায়ক কমিটি গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। ওই সভায় দলটির কেন্দ্রীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সদস্যসচিব সারোয়ার তুষার ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম সুজা উদ্দিনসহ সংশ্লিষ্ট নেতারা উপস্থিত ছিলেন। রাঙামাটিতে বিভিন্ন সময়ে এনসিপির শীর্ষ নেতাসহ বেশ কয়েকজন নেতা পদত্যাগ করেন। পরে পদত্যাগ করা অনেক নেতাকর্মী অন্য রাজনৈতিক দলেও যোগ দেন। এতে রাঙামাটি পার্বত্য জেলায় দলটির সাংগঠনিক কার্যক্রম অনেকটা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটি আগামী ছয় মাস দায়িত্ব পালন করবে। এ সময়ের মধ্যে দলটির সাংগঠনিক কার্যক্রমকে গতিশীল করতে একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করবে।
আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর রংপুরে দ্বিতীয় লং মার্চ অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ ঘোষণা দেন। এ সময় সরকারের বিরুদ্ধে জনগণের দেওয়া রায় উপেক্ষা এবং প্রতিশ্রুতি পূরণ না করার অভিযোগ তোলে জামায়াত আমির বলেন, ‘জাতির সঙ্গে দেওয়া ওয়াদা সরকার পালন করেনি। জনগণের গণরায় সরকার উপেক্ষা করেছে।’ বিল পাসের সময় জামায়াতের পক্ষ থেকে দেওয়া মতামত প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, কয়েকটি বিষয় ছাড়া তাদের মতামত সরকার আমলে নেয়নি। ভোটের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না করা হলে সেটিকে প্রতারণার শামিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী নির্বাচনের ফলাফল মেনে না নেওয়ায় মুক্তিযুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। একইভাবে জনগণের ভোটের রায় সরকার উপেক্ষা করলে সেটি তারা মেনে নেবেন না বলে জানান তিনি। সংস্কার বাস্তবায়নের গুরুত্ব তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যকর হলে কোনো সরকার স্বেচ্ছাচারিতা করতে পারবে না। সরকার সংস্কার বাস্তবায়ন না করলেও জনগণের রায় থেকে তারা সরে দাঁড়াবেন না। সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়ে তার অবস্থান তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘সরকার ভালো কাজ করলে আমরা সমর্থন করব। খারাপ কাজ করলে তার বিরোধিতা করব এবং প্রতিরোধ গড়ে তুলব।’ র্যাব বিলুপ্ত করে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) গঠনের বিষয়েও সমালোচনা করেন তিনি। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘র্যাব জাতির সঙ্গে চরম অন্যায় করেছে, তাই আমরা এর বিলুপ্তি চেয়েছিলাম। কিন্তু পুরাতন সদস্য এবং আগের সব কার্যক্রম রেখে নতুন মোড়ক দেওয়া হয়েছে এসআরবি গঠনের মাধ্যমে।’ এ ছাড়া সম্পদ বণ্টন আইন নিয়েও আপত্তি জানান জামায়াত আমির। তিনি বলেন, ‘কোরআনের বিপরীতে তারা সম্পদ বণ্টন আইন করেছে। এমন দুঃসাহস ইংরেজরাও করেনি।’
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার ঐতিহ্যবাহী চুনতীতে শুরু হয়েছে ১৯ দিনব্যাপী ৫৬তম আন্তর্জাতিক মাহফিলে সীরাতুন্নবী (সা.)। দীর্ঘ ৫৬ বছরের পথচলায় এ মাহফিল এখন চুনতি বা লোহাগাড়ার গণ্ডি ছাড়িয়ে দেশের অন্যতম বৃহৎ সীরাত মাহফিলে পরিণত হয়েছে। এতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আলেম-ওলামা ও লাখো ধর্মপ্রাণ মানুষ অংশ নিচ্ছেন। মাহফিলে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর জীবন, আদর্শ, সাম্য, ন্যায়, ইনসাফ ও মানবিকতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করছেন আলেম-ওলামারা। পাশাপাশি ইসলামী শিক্ষা ও মূল্যবোধ চর্চার মাধ্যমে একটি ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক সমাজ গঠনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ঐতিহ্যবাহী এ মাহফিলে উপস্থিত হয়ে ধর্মপ্রাণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দিন পাটওয়ারী। এ সময় তিনি বক্তব্য দেন। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর জীবন ও আদর্শ থেকে ন্যায়, ইনসাফ, মানবিকতা ও মানুষের অধিকার রক্ষার শিক্ষা নিতে হবে। সেই শিক্ষা ধারণ করে একটি বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, ইসলাম ও ইসলামী মূল্যবোধের মর্যাদা রক্ষার পাশাপাশি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে এ দেশের মানুষকে সবসময় সজাগ ও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। দেশের স্বার্থ, মানুষের অধিকার এবং ন্যায় ও ইনসাফের প্রশ্নে কোনো আপস করা যাবে না। তিনি আরও বলেন, আলেম-ওলামা, তরুণ প্রজন্মসহ দেশের সর্বস্তরের মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে একটি স্বাধীন, মর্যাদাশীল ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ নির্মাণে ভূমিকা রাখবে এটাই প্রত্যাশা। চুনতির ঐতিহাসিক সীরাত মাহফিল প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে মহানবী (সা.)-এর আদর্শ ও মানবতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি মানুষের মধ্যে ন্যায়, ইনসাফ ও দেশপ্রেমের চেতনাকে আরও শক্তিশালী করবে বলেও প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখার সাবেক সভাপতি ও ন্যাশনাল পিপলস অ্যাকশনের (এনপিএ) কেন্দ্রীয় কাউন্সিল সদস্য মেঘমল্লার বসুকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়েছে। শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি হওয়ায় বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান জানান, মঙ্গলবার থেকেই মেঘমল্লার বসুর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় শুরুতে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। তবে বুধবার সন্ধ্যা থেকে তীব্র শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে চিকিৎসকদের সিদ্ধান্তে তাকে আইসিইউ থেকে লাইফ সাপোর্টে স্থানান্তর করা হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অতিরিক্ত মাত্রায় ঘুমের ওষুধ সেবন করায় তার শরীরে এই জটিলতা তৈরি হয়েছে। চিকিৎসকরা তার শারীরিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এর আগে গত সোমবার রাতে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এলাকা থেকে মেঘমল্লার বসুকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করেন তার পরিচিত ব্যক্তিরা। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে চিকিৎসকরা তার পাকস্থলী পরিষ্কার (স্টমাক ওয়াশ) করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউ এবং পরবর্তীতে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়।
অভিনেত্রী ও মডেল আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনাটি একটি ঘৃণ্য ও ন্যক্কারজনক অপরাধ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, যারা নারীদের ওপর আক্রমণ চালায় তারা কাপুরুষ। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর চন্দ্রিমা উদ্যানে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এসব কথা বলেন। রুহুল কবির রিজভী বলেন, নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দল-মত নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষকে সোচ্চার ও ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। গত মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, একজন জুলাই যোদ্ধার ওপর হামলা মানে এই দেশের গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার ওপর হামলা। হামলার ঘটনা তুলে ধরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে পার্কে হাঁটার সময় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কর্মীরা কাপুরুষোচিত হামলা চালান। প্রতিমন্ত্রী সংসদকে আরও জানান, অভিনেত্রী বাঁধন পুলিশের কাছে ও দূতাবাসে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করবেন। বাংলাদেশ দূতাবাস বিষয়টি ইতালির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে অত্যন্ত জোরালোভাবে তুলে ধরবে। বাংলাদেশের বর্তমান নির্বাচিত সরকার এই সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে পিছপা হবে না বলেও জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
জামায়াতের আমির সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করে আওয়ামী লীগকে নরমালাইজ করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এমন মন্তব্য করেন। তার পোস্টটি যুগান্তরের পাঠকদের জন্য হুবহু দেওয়া হলো- ‘গণঅভ্যুত্থানের ১ মাস যেতে না যেতেই আওয়ামী লীগকে সাধারণ ক্ষমা করেন জামায়াতের আমির! মূলত ভোটের রাজনীতির কারণে তিনি আওয়ামী লীগের প্রতি নমনীয়তা দেখান। আর এটিই হয়ে যায় আওয়ামী লীগের বিচারের পথে বড় বাধা। ধীরে ধীরে আওয়ামী লীগ নরমালাইজড হয়ে যায়। এরপর আওয়ামী লীগের নেতারা বলা শুরু করেন, যারা আওয়ামী লীগ করতেন, তারা জামায়াতে যোগদান করলে পুরো দায়দায়িত্ব নেওয়া হবে। এরপর বিভিন্ন জায়গায় প্রকাশ্যে, বিভিন্ন জায়গায় গোপনে সব আওয়ামী লীগ রাতারাতি জামায়াত হয়ে যায়! আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংকে জামায়াতের ক্ষমতায় যাওয়ার লিপ্সার কারণে আওয়ামী অপরাধীদের সঠিক বিচার হয়নি। আর অপরাধের বিচার না হলে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে যায়। অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের সঙ্গে সেই বেপরোয়া আচরণ পরিলক্ষিত হলো। আওয়ামী লীগ জাস্ট সুযোগের অপেক্ষায় আছে। জামায়াত যতোই আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন করে ভোটব্যাংক বাড়াতে চেষ্টা করুক না কেন, ওরা কখনো কামব্যাক করতে পারলে সবার আগে জামায়াতকে দিয়েই প্রতিশোধ শুরু করবে। তাই জামায়াত-এনসিপির প্রতি অনুরোধ থাকবে আওয়ামী ব্যবসায়ী ও নেতাদের থেকে লংমার্চ বা কর্মসূচির জন্য অর্থ ও প্রাডো গাড়ি নিয়ে পুনর্বাসন বন্ধ করুন। আওয়ামী লীগ জাতির শত্রু, দল হিসেবে আওয়ামী লীগের ও আওয়ামী অপরাধীদের বিচারে সামাজিক ও রাজনৈতিক ঐক্য দরকার। যেহেতু জামায়াতের আমির গণঅভ্যুত্থানের পরপর আওয়ামী লীগকে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করে বিচারের পথে বাধা সৃষ্টি করেছে। সুতরাং জামায়াতের আমিরের উচিত সংসদে জাতির কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়া এবং আওয়ামী লীগের বিচারের দাবিতে রাজনৈতিক ঐক্যমতের প্রস্তাব করা। বিএনপি সরকার বিচার করবে, আর ভোটের জন্য জামায়াত তলে তলে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন করতে চাইলে, ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগ প্রাসঙ্গিক হয়ে ফিরে আসবে।’
নানা ধরনের অপশক্তি ও চক্রান্তকারীরা দেশের ধর্মীয় সম্প্রীতি বারবার নষ্ট করার চেষ্টা করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, ‘আমাদের এই অটুট বন্ধন যুগ যুগ ধরে টিকে থাকবে, আমরা একে অপরের পূজা-পার্বণে অংশগ্রহণ করি।’ মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর জিয়া উদ্যানে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টের সদস্যদের নিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। রুহুল কবির রিজভী বলেন, ধর্মীয় বিষয়গুলো দেখার জন্য এসব ট্রাস্ট গঠন করা হয়েছে। রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি সকলের স্থান নিশ্চিত করেছে এবং তা প্রতিষ্ঠিত করেছে জিয়াউর রহমান।
ভোটার এলাকা পরিবর্তন করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। সম্প্রতি তার ভোটার এলাকা পরিবর্তন করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাধীন আফতাবনগর এলাকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর আগে তিনি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত ছিলেন। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে এক পোস্টে এ তথ্য জানান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি জানান, ভোটার এলাকা পরিবর্তনের জন্য নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত ফরম-১৩-এর মাধ্যমে আবেদন করেন তিনি। আবেদনের পর প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই ও দাফতরিক নথিপত্র পরীক্ষা শেষে নির্বাচন কমিশন তার আবেদন অনুমোদন করেছে। এর ফলে আসিফ মাহমুদের ভোটার নিবন্ধন এখন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাভুক্ত হয়েছে।
জাতীয় সংসদে দুটি ‘কালো আইন’ পাসের প্রতিবাদে মুখ ও কানে কালো কাপড় বেঁধে ওয়াকআউট করেছেন সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেম। তার অভিযোগ, এসব আইন গুমের ঘটনায় অভিযুক্তদের জবাবদিহির আওতায় আনার পরিবর্তে দায়মুক্তির সুযোগ তৈরি করবে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টায় তার ভেরিফাইড ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এসব কথা জানান তিনি। স্ট্যাটাসে মীর আহমাদ বিন কাসেম লেখেন, জাতীয় সংসদে দুটি কালো আইন পাস হলো। আমরা প্রতিবাদ করেছি। মুখে ও কানে কালো কাপড় বেঁধে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছি। কারণ এই আইন সেই রাষ্ট্রের প্রতীক— যে রাষ্ট্র গুমের শিকার মানুষের মুখ বন্ধ করে দেয়, আর তার স্বজনদের আর্তনাদ শুনেও শোনে না। তিনি আরও লেখেন, আমি আয়নাঘরে আট বছর কাটিয়েছি। আমি জানি অন্ধকারে কেমন লাগে। জানি, বাইরে মা কেমন করে অপেক্ষা করেন। আজ সংসদে দাঁড়িয়ে আমার বারবার মনে হচ্ছিল— এই আইন থাকলে আমাকে কেউ খুঁজে পেত না। আগামীকাল যদি আরেকজন হারিয়ে যায়, এই আইন তাকেও খুঁজে পাবে না। যে বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ, সেই বাহিনীই তদন্ত করবে— এ কেমন বিচার? গুমের মামলা যাবে সেই পুলিশের হাতে, যে প্রতিষ্ঠান নিজেই জবাবদিহির কাঠগড়ায়। এ আইন গুম বন্ধ করবে না, গুমকারীদের দায়মুক্তি দেবে। জাতিসংঘের সনদে আমরা যে ওয়াদা করেছিলাম, এই আইন সেই ওয়াদারও বরখেলাপ বলেও লেখেন তিনি। মীর আহমাদ বিন কাসেম লেখেন, শহীদদের রক্তের উপর দাঁড়িয়ে যে সংসদ, সেই সংসদে ফ্যাসিবাদের আইনই যদি ফিরে আসে— তাহলে এত ত্যাগ কীসের জন্য ছিল? আমাদের দাবি স্পষ্ট, ২০২৫ সালের অধ্যাদেশ ফিরিয়ে আনুন— যেখানে কমিশনের নিজস্ব স্বাধীন তদন্তের ক্ষমতা ছিল, যা আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়েছিল। মুখে কালো কাপড় বাঁধা যায়, কিন্তু সত্যকে চিরকাল বেঁধে রাখা যায় না। গুমের বিরুদ্ধে, দায়মুক্তির বিরুদ্ধে— এই লড়াই চলবে, ইনশাআল্লাহ।
জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে সংসদীয় কমিটিতে রাখা এবং তার সংসদ সদস্য পদ বহাল থাকা নিয়ে জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের মধ্যে বিতর্ক হয়েছে। বিরোধীদলীয় নেতা নৈতিকতার প্রশ্নে গাজী নজরুল ইসলামকে কোনো সংসদীয় কমিটিতে না রাখার আহ্বান জানালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়া বা ভোটদানে বিরত থাকার ক্ষেত্রে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বিধান প্রযোজ্য হতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত বিরোধীদলীয় নেতার অনুরোধের প্রতি সম্মান জানিয়ে তাকে কমিটি থেকে বাদ দেওয়ার কথা জানান তিনি। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে বিরোধীদলীয় নেতা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে এ বিতর্ক হয়। স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমাদের কোটা থেকে যেহেতু উনাকে (গাজী নজরুল ইসলামকে সংসদীয় কমিটির সদস্য পদে সুপারিশ) দেওয়া হয়নি সেক্ষেত্রে কোনো আপত্তি নাই।’ তবে নৈতিকতার দিক থেকে যেহেতু তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনকে চিঠিও দেওয়া হয়েছে, তাই দেশের সর্বোচ্চ আইনসভা জাতীয় সংসদের কোনো কমিটিতে তাকে না রাখাই উত্তম বলে জানান বিরোধীদলীয় নেতা। এর জবাবে স্পিকারের অনুমতি নিয়ে আলোচনায় অংশ নেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ‘এখানে কনফিউশনের কোনো সুযোগ নেই। একজন সংসদ সদস্য হিসেবে জাতীয় সংসদের কোনো না কোনো কমিটিতে রাখতে হয়। মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিগুলোতে যেহেতু বিরোধী দলের পক্ষ থেকে যে নামগুলো দেওয়া হয়েছে ওখানে তার (গাজী নজরুল) নাম ছিল না সেখানে রাখা হয়নি। সংসদীয় যে কমিটিগুলো আছে সেখানে দুটিতে তাদের আপত্তি ছিল রাখা হয়নি। এখন কোনো না কোনো কমিটিতে রাখতে গিয়ে গাজী নজরুল ইসলামকে রাখতে হয়েছে।’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা নিজেই বলেছেন- গাজী নজরুল ইসলাম তাদের পক্ষ থেকে মনোনীত হয়ে ওই কমিটিতে যাননি। ফলে এ বিষয়ে বিভ্রান্তির কোনো সুযোগ নেই। এরপর গাজী নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্য পদ নিয়ে আলোচনা শুরু হলে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জামায়াতে ইসলামী তার সদস্য পদ শূন্য করার জন্য নির্বাচন কমিশন ও স্পিকারকে চিঠি দিয়েছে। কিন্তু শুধু দল থেকে বহিষ্কার করা হলে সংবিধান অনুযায়ী একজন সংসদ সদস্যের আসন শূন্য হয় না। মন্ত্রী বলেন, ‘৭০ অনুচ্ছেদ সেখানে আসে না, যদি নিজে পদত্যাগ না করেন। এখন বিষয় হচ্ছে, বুদ্ধি বাড়িয়ে দিব কিনা?’ বিরোধীদলীয় নেতার উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আপনারা যদি সত্যি সত্যিই চান তার আসনটা শূন্য হোক, তাহলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলের পক্ষে ভোট দেয় নাই এবং ভোটদানে বিরত ছিল; সেই জায়গায় ৭০ অনুচ্ছেদ কিন্তু আসে। এখন সেটা কগনিজেন্সে (আমলে) নিয়ে যদি আপনারা মাননীয় স্পিকারকে মনোযোগ আকর্ষণ করেন, চিঠি দেন বা নির্বাচন কমিশন দেন, আমরা সেই হিসেবে বিধি মোতাবেক সাংবিধানিকভাবে সহযোগিতা করতে পারি। এই বুদ্ধিটা বিনা পয়সা দিলাম।’ এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের জবাবে ডা. শফিকুর রহমান রসিকতার সুরে বলেন, ‘গ্রামে একটা কথা চালু আছে আর কি যে, কোনো দুর্বল মানুষের উপরে প্রতিশোধ নিতে হলে তারে মেম্বার ইলেকশনে দাঁড় করায়ে দেওয়া। আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাঝে মাঝে এরকম আমাদের কিছু টিপস দেন, আমরা এনজয় করি। এইজন্য সেদিন বলছিলাম যে, উনি থাকলে সংসদ প্রাণবন্ত হয়- আইদার পজিটিভ অর নেগেটিভ, কিছু একটা হয়। আমরা এখন তাকে ফ্লোর ক্রসিংয়ের কথা বলব কেন? আমরা তো তাকে দল থেকে বহিষ্কার করেছি। আমরা তো এখন এটা বলতে পারি না যে, তিনি আমাদের দলের সদস্য হয়ে ফ্লোর ক্রসিং করেছেন। আমাদের সিদ্ধান্ত ভায়োলেট করেছেন। এটুকু বলার কোনো সুযোগ নাই।’ বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘তবে আমরা আগেই অনাপত্তি বলেছিলাম, যেহেতু আমাদের কোটায় আসে নাই। কিন্তু মহান জাতীয় সংসদের মতো প্রেস্টিজিয়াস হাউজে, যাকে আমরা নৈতিক কারণে বহিষ্কার করে চিঠিও দিয়েছি- কোনো কমিটিতে না রাখাটা উত্তম ছিল, সেটা নৈতিকতার দিক থেকে বললাম। এখন এটা রিথিংক করার সুযোগ আছে। কারণ, বিভিন্ন সময় পুনর্মূল্যায়ন হয়, অদল-বদল হয়, ড্রপ হয়, আবার অ্যাড হয়। আমি মনে করি নৈতিকতার দৃষ্টিকোণ থেকে এটা একটা এক্সাম্পল হবে যদি উনাকে কোথাও রাখা না হয়।’ বিরোধীদলীয় নেতার এমন বক্তব্যের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এর দ্বারা আমাদের হয়তো বুঝে নিতে হবে, গাজী নজরুল ইসলামের সদস্যপদটা বহাল থাকল; কিন্তু কমিটিতে রাখা যাবে না। আমি এর বেশি কিছু বুঝি নাই। কারণ, বিরোধীদলীয় নেতার অনুরোধে ইচ্ছা করলে এই কমিটি থেকে তাকে বাদ দেওয়া যায়। এখন পুনর্গঠন আবার করা যাবে, এখনো এপ্রুভ হয় নাই। বাদ দেওয়া গেলে বিরোধীদলীয় নেতার প্রতি সম্মান প্রদর্শন হবে।’ মন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমি কারও বিরুদ্ধে কোনো কিছু বলতে চাচ্ছি না। বাদ দেওয়া হলো। কিন্তু আমরা বুঝে গেলাম তার সদস্য পদ শূন্য করার পক্ষে তিনি নন। মানে এটাই বুঝে গেলাম। কারণ দল থেকে বহিষ্কার করলে সংবিধান অনুযায়ী সদস্য পদ যায় না। সংসদ সদস্য যদি দলের বিপক্ষে ভোট দেন, ভোটদানে বিরত থাকেন- ৭০ বিধি অনুসারে তার আসন শূন্য হবে অথবা তিনি যদি নিজে দল থেকে পদত্যাগ করেন। যেহেতু মার্কা নিয়ে নির্বাচন করেছেন, তিনি অস্বীকার করতে পারবেন না যে তার দলীয় সদস্য পদ বহিষ্কার করার পরে তার সদস্য যায় না; এটা অস্বীকার করা যাবে না আইনের ভাষা হিসেবে। সুতরাং বৈধ এটাই যে, তার সদস্যপদটা বহাল থাকল। যদি বিরোধী দল ওই রাষ্ট্রপতির নির্বাচনের সময় তার অনুপস্থিতি কাউন্ট করে ৭০ আর্টিকেল অনুসারে চিঠি না দেন; তাহলে তার সদস্যপদটা বহাল থাকে। এটা আমরা তাইলে বুঝে নিলাম। মানে সদস্যপদ বহাল থাকল কিন্তু কমিটিতে রাখা যাবে না।’ তবে গাজী নজরুল ইসলামকে সংসদীয় কমিটিতে রাখার বিষয়ে বিরোধীদলীয় নেতার অনুরোধকে গুরুত্ব দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যদি বিরোধীদলীয় নেতা চান যে তার দলের মার্কা নিয়ে নির্বাচিত একজন সংসদ সদস্য দলের সিদ্ধান্তের বাইরে ভোটদানে বিরত ছিল; সেই প্রেক্ষিতে তিনি ৭০ অনুচ্ছেদে তার সংসদের আসন শূন্য করার জন্য চিঠি দিতে পারেন। আর যদি তিনি না চান অন্য কোনো বিধি নাই তার সদস্য পদ শূন্য হওয়ার ক্ষেত্রে। এখন যদি সংসদের এই কমিটি থেকে নাম বাদ দিতে হয় আমরা বিরোধীদলীয় নেতার সম্মানার্থে আমরা বাদ দিয়ে দেব। আর তার সম্পর্কে চর্চা করবো না।’ পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার নৈতিকতার প্রশ্নে করা আবেদনকে সমর্থন করেছেন এবং এজন্য তিনি ধন্যবাদ জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ড. শফিকুর রহমান বলেন, ‘৭০ অনুচ্ছেদ বলছে দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভোট দিলে, ভোটদানে বিরত থাকলে কথা নাই আমার জানামতে। এটা প্রযোজ্য হবে না এ ব্যাখ্যা।’ উল্লেখ্য, গাজী নজরুল ইসলাম সাতক্ষীরা-৪ আসন থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বিতর্কিত ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর নৈতিক স্খলনের অভিযোগে গত ২২ জুলাই তাকে দল থেকে বহিষ্কার করে জামায়াতে ইসলামী। তবে দল থেকে বহিষ্কৃত হলেও সংবিধান অনুযায়ী তার সংসদ সদস্য পদ বহাল রয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই তাকে সংসদীয় কমিটিতে রাখা এবং তার সংসদ সদস্য পদ নিয়ে জাতীয় সংসদে রাজনৈতিক ও আইনি আলোচনা তৈরি হয়।
জীবনকালীন ভোগাধিকার রেখে সম্পত্তি হস্তান্তরের বিধানসংবলিত ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (সংশোধন) আইন, ২০২৬ শরিয়াহর আলোকে পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে সংসদে তড়িঘড়ি করে এ আইন পাস করায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি এ দাবি জানান। মামুনুল হক বলেন, ‘সংসদে সদ্য পাস হওয়া আইনটির কয়েকটি ধারা ইসলামের হেবা ও ফারায়েজ–সংক্রান্ত বিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে। জীবনকালীন ভোগাধিকার রেখে সম্পত্তি হস্তান্তরের এই নতুন বিধানটি শরিয়াহর আলোকে পুনর্বিবেচনা করা জরুরি।’ মামুনুল হক বলেন, ‘বৃদ্ধ মা-বাবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন হলেও সে জন্য এমন কোনো বিধান করা উচিত নয়, যা শরিয়াহ নির্ধারিত উত্তরাধিকার ও হেবার নীতিকে পাশ কাটানোর সুযোগ সৃষ্টি করে। তার মতে, জীবিত অবস্থায় হেবা এবং মৃত্যুর পর ফারায়েজ অনুযায়ী সম্পত্তি বণ্টন দুটি পৃথক বিষয়। নতুন আইন যেন কোনো ওয়ারিশকে তার শরিয়াহ নির্ধারিত অধিকার থেকে বঞ্চিত করার হাতিয়ার না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।’ তিনি দাবি করেন, ‘ইসলামে হেবার ক্ষেত্রে মালিকানা হস্তান্তরের পাশাপাশি সম্পত্তির বাস্তব দখল ও কর্তৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কিন্তু নতুন আইনে সরকার বলছে সাধারণ হেবা বা মুসলিম আইনের হেবাকে প্রভাবিত করবে না। প্রশ্ন হলো-বাস্তবে এই আইন কি হেবার শরয়ী কাঠামোকে পাশ কাটিয়ে সম্পত্তির মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণের একটি নতুন ব্যবস্থা তৈরি করছে না? বিশেষ করে দাতা জীবিত থাকা অবস্থায় ভোগ ও নিয়ন্ত্রণ নিজের কাছে রেখে যদি নির্দিষ্ট ব্যক্তির নামে সম্পত্তি হস্তান্তর করেন, তাহলে প্রকৃত কবয, পূর্ণ মালিকানা এবং হস্তান্তরের চূড়ান্ততা নিয়ে গুরুতর শরয়ী প্রশ্ন সৃষ্টি হয়।’ খেলাফত মজলিসের আমির আরও বলেন, ‘হেবার নামে নির্দিষ্ট কোনো উত্তরাধিকারীকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার সুযোগ তৈরি হলে তা ইসলামের উত্তরাধিকার ব্যবস্থার ন্যায়বিচারের পরিপন্থী হতে পারে। তিনি অভিযোগ করেন, শরিয়াহ বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়ার দাবি থাকলেও বিলটি দ্রুত পাস করা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘বিএনপি তাদের বিভিন্ন রাজনৈতিক অঙ্গীকারে ধর্মীয় মূল্যবোধ ও নৈতিকতা সমুন্নত রাখা এবং মহান আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাসের ভিত্তিতে ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। একই সঙ্গে বিএনপির পক্ষ থেকে ইসলামবিরোধী কোনো আইন না করার অঙ্গীকারের কথাও বলা হয়েছে। তাহলে ইসলামের হেবা ও ফারায়েজের মতো সুস্পষ্ট শরিয়াহ বিধানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি আইন এত দ্রুত পাস করা হলো কেন?’ মামুনুল হক আইনটির ১২২-এ ও ১২২-বি ধারা পুনর্বিবেচনা করে আলেম, মুফতি, ফকীহ ও শরিয়াহ বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সংশোধনের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘বৃদ্ধ মা-বাবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, তবে তা করতে গিয়ে ইসলামের হেবা ও ফারায়েজ–সংক্রান্ত বিধানকে দুর্বল করা উচিত হবে না।
জ্বালানি তেলের চলমান সংকটের মধ্যেই বিশাল গাড়িবহর নিয়ে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চ কর্মসূচি পালন করেছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্য। তবে জ্বালানি সংকট নিরসনসহ বিভিন্ন দাবিতে করা এ কর্মসূচির যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বলা হচ্ছে, দেশে যখন জ্বালানি সংকট তীব্র তখন শত শত গাড়ির বহর নিয়ে দীর্ঘ পথের এই লংমার্চ কর্মসূচি দেওয়া কতটা যৌক্তিক? লংমার্চ কর্মসূচি থেকে নানান উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগও সামনে এসেছে। এ কর্মসূচি ঘিরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ মানুষ। কোথাও কোথাও তৈরি হয় বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি। তারপরও সরকার লংমার্চে কোনো প্রতিবন্ধতা সৃষ্টি করেনি। বরং অত্যন্ত ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছে। এটিকে ‘সহনশীল রাজনীতির বার্তা’ হিসেবে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, অতীতে এমনটি দেখা যায়নি। দীর্ঘ দেড় যুগ পর সরকারের কোনো রকম বাধা ছাড়া বিরোধীদল এত বড় একটি কর্মসূচি পালনের সুযোগ পেলো। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের চিত্র ছিল পুরো উল্টো। তখন বিরোধী দল ও মতের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতেও দমন-পীড়ন চালানো হতো। যা রাজনীতির জন্য ছিল খুবই নেতিবাচক ধারা। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে সুস্থ রাজনীতির চর্চা শুরু করে। অতীতের পথে হাঁটছে না বর্তমান সরকারের প্রশাসন। বিশ্লেষকরা এ বিষয়টিকে খুবই ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিএনপির লংমার্চ, রোডমার্চ, সভা-সমাবেশ ও আন্দোলন কর্মসূচিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দমন-পীড়ন ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়েছে। কর্মসূচির আগে থেকেই চলেছে গণগ্রেফতার। অনেক ক্ষেত্রে কর্মসূচি পণ্ড করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু গত ৫ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচি ছিল সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-জ্বালানি ও সারের সংকট নিরসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং প্রশাসনে সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধসহ ছয় দফা দাবিতে লংমার্চ করে ১১-দলীয় ঐক্য। এ লংমার্চে সরকার কোনো প্রকার প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা তো দূরের কথা, চেষ্টাও করেনি। এজন্য সরকারকে সাধুবাদ দিচ্ছেন বিশিষ্টজনেরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী জাগো নিউজকে বলেন, এটি তো একটি গণতান্ত্রিক সরকার। জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে। আমার মনে হয় এ সরকারের নীতিটাই এমন যে, ভিন্ন মত দমন করা হবে না। এখানে ভিন্ন মত প্রচার ও প্রকাশের অবাধ সুযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, তারা (১১-দলীয় ঐক্য) লংমার্চ করেছে, এটি তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার। সরকার কোনো বাধা দেয়নি, বাধা দেওয়ার কোনোরকম চেষ্টাও করেনি। আমি এটিকে খুব ভালো লক্ষণ মনে করি। গণতন্ত্রে এটিই হওয়া উচিত। এজন্য আমি সরকারকে সাধুবাদ জানাই। বিরোধীদলকে বলবো, আপনারা প্রতিবাদ করেন; তবে তা সুশৃঙ্খল এবং নিয়মতান্ত্রিকভাবে করেন। লংমার্চের আগে জোটের নেতারা ধারণা করেছিলেন হয়তো অতীতের মতো ঘটনা ঘটতে পারে। সরকার হয়তো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে। সেজন্য তারা কর্মসূচিতে বাধা না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত সরকারও তাদের যাত্রাপথে কোনো রাজনৈতিক প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেনি। তারা পথসভা করেছে, সরকারের সমালোচনা করেছে এবং নির্ধারিত সমাপনী কর্মসূচিও পালন করেছে। জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক জাগো নিউজকে বলেন, জামায়াত আসলে গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে বলে মনে হয় না। তারা ছয় মাসের একটি সরকারকে পতন ঘটানোর দাবি তুলছে। এটি তো দেশের জন্য মঙ্গলজনক নয়। তিনি বলেন, তবে বিএনপি সরকার লংমার্চ করার জন্য তাদের নিরাপত্তা দিয়ে ও কোনো ধরনের বাধা না দিয়ে উদারতার প্রমাণ দিয়েছে। যেটি আমরা বিগত সরকারের সময় দেখিনি। অতীত কী বলে? ১৯৯৮ সালে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে পার্বত্য চট্টগ্রাম অভিমুখে বিএনপির লংমার্চ কাঁচপুরে আটকে দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ২০১৩ সালের ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’, ২০২৩ সালের ঢাকার প্রবেশমুখে অবস্থান কর্মসূচি এবং ২০২৪ সালের কালো পতাকা মিছিলেও বাধার মুখে পড়তে হয় বিএনপিকে। বিভিন্ন কর্মসূচিতে দলটির নেতাকর্মীদের ওপর চালানো হয় হামলাও। ২০১০ সালে বিএনপি চট্টগ্রামে লংমার্চ করে। ওই লংমার্চে তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার বড় রকমের বাধা দেয়। বিএনপি নেতাকর্মীদের গণগ্রেপ্তার করা হয়। ২০১২ সালে তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি নিয়ে করা লংমার্চে গাড়ি বহরে পুলিশি তল্লাশি চালানো হয়। কয়েক জেলার নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হয়। ২০১৪ সালে তিস্তা লংমার্চেও সরকার বাধা দেয়। ২০২৪ সালে সিপিবি-বাসদের লংমার্চেও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে সরকার। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, আওয়ামী লীগ সরকার সমালোচনা নিতে পারতো না। তারা ক্ষমতায় থাকাকালে বিরোধী দল যেসব লংমার্চ ও রোডমার্চ করেছে সেগুলোয় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিতে বেশ কয়েকটি পন্থা অবলম্বন করতো। যার মধ্যে রয়েছে, গণগ্রেফতার, পরিবহন নিয়ন্ত্রণ, রেল-নৌ-সড়কপথে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া। এমনকি তখন কর্মসূচি ঘিরে নির্ধারিত তারিখের আগে-পরে অঘোষিত সরকারি হরতাল চলতো। চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশির নামে হয়রানি করা হতো। গোয়েন্দা নজরদারির নামে আতঙ্ক সৃষ্টি করতো। এছাড়া সমাবেশস্থল বারবার পরিবর্তন করানো হতো। সমাবেশের জন্য সরকারের অনুমিত মিলতো না। অনুমতি মিললেও স্থান পরিবর্তনের নামে চলতো নানান টালবাহানা। সেই অভিজ্ঞতার বিপরীতে ১১ দলের লংমার্চ ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত যেতে কোনো বাধার মুখে পড়েনি। ঢাকার শাপলা চত্বর থেকে শুরু হওয়া লংমার্চটি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক হয়ে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে গিয়ে শেষ হয়। পথে বিভিন্ন স্থানে পথসভা করেন জোটের নেতারা। সরকারের বিরুদ্ধে বক্তব্য, দাবি ও রাজনৈতিক চাপ তৈরির কর্মসূচি হওয়া সত্ত্বেও তা প্রশাসনিক বা দলীয় শক্তি দিয়ে ঠেকানো হয়নি। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই লংমার্চ অন্তত একটি বার্তা দিয়েছে—রাজনৈতিক বিরোধিতার জবাব বাধা বা হামলা দিয়েই দিতে হবে, এমন নয়। সরকার বিরোধী দলের দাবির সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেও তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচির সুযোগ দিতে পারে। এ চর্চা অব্যাহত থাকলে তা বাংলাদেশের রাজনীতিতে আরও সহনশীল সংস্কৃতি তৈরিতে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।