আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী নারী নেতাকর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ঢাকা মহানগরে ঘোষিত মহিলা সমাবেশ স্থগিত করেছে জামায়াতের কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগ। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বিকেল ৫টার দিকে দলটির মহিলা শাখার ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। পোস্টে বলা হয়, অনিবার্য কারণবশত নির্ধারিত মহিলা সমাবেশটি স্থগিত করা হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আগামী ৩১ জানুয়ারি (শনিবার) সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এই প্রতিবাদ সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছিল। জানা যায়, সারা দেশে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে গিয়ে জামায়াতের কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগের নেতাকর্মীরা ‘বিএনপির হামলা, হেনস্তা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের’ শিকার হচ্ছেন—এমন অভিযোগের প্রতিবাদেই এই সমাবেশের আয়োজন করার কথা ছিল। সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, “জামায়াতে ইসলামীর ইতিহাসে এই প্রথম নারী সংগঠনের নেতাকর্মীরা বাধ্য হয়ে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করতে যাচ্ছেন।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে হামলা ও হেনস্তার মাধ্যমে নির্বাচনী মাঠ থেকে নারীদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
শেরপুরের ঝিনাইগাতিতে চেয়ারে বসার মতো তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া সহিংসতা এবং জামায়াতের এক নেতাকে হত্যার ঘটনা উদ্বেগজনক বলে জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির (পীর সাহেব চরমোনাই) মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম। বৃহস্পতিবার সকালে এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর পরিবর্তিত রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এই ধরনের নৃশংসতা জাতিকে হতাশ করেছে। এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে রাজনৈতিক দল ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও দায়িত্বশীল ও সতর্কভাবে আচরণ করতে হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত হতে হবে এবং সহিংসতা তৈরি ও সহিংসতার সঙ্গে যারা দায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব পালনে কোনো অবহেলা বা শিথিলতা থাকলে তাও তদন্ত করা উচিত এবং কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। পীর সাহেব চরমোনাই শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি ও ফতেহপুর ফাজিল মাদ্রাসার আরবির প্রভাষক মাওলানা রেজাউল করীমের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন এবং শোকাহত পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়েছেন।
রাজশাহীর মাদ্রাসা মাঠের জনসভার মঞ্চে উঠেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুর ২টায় তারেক রহমান মঞ্চে উঠলে নেতা-কর্মী-সমর্থকরা করতালি দিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যানকে স্বাগত জানান; তিনি হাত নেড়ে শুভেচ্ছার জবাব দেন। সারাদেশে নির্বাচনি প্রচারের অংশ হিসেবে বিএনপির চেয়ারম্যান দুপুরে আকাশপথে রাজশাহী বিমানবন্দরে পৌঁছান। এরপর তিনি সুফি সাধক শাহ মখদুম (র.) এর মাজার জিয়ারত করেন। এর আগে সকাল সাড়ে ১১টায় কোরআন তেলোয়াতের মাধ্যমে সমাবেশের কার্যক্রম শুরু হয়। বেলা সাড়ের ১২টার মধ্যে মাদ্রাসা মাঠ কানায় কানায় ভরে যায়। আশপাশের মহানগরের বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে নেতা-কর্মী-সমর্থকরা এই সমাবেশে আসেন মিছিল নিয়ে। এর বাইরে নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে বাসে করে দলীয় নেতা-কর্মীরা এসেছেন। মঞ্চের দুই দিকে বড় পর্দা এবং মাঠের কোণায় আরও দুটি বড় পর্দা টানানো হয়েছে, যাতে মঞ্চের চিত্র দেখা যায়। এ জনসভায় অংশ নিচ্ছেন রাজশাহী, নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের ১৩টি সংসদীয় আসনের প্রার্থীরা। তারা হলেন— শরীফ উদ্দীন (রাজশাহী-১), মিজানুর রহমান মিনু (রাজশাহী-২), মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন (রাজশাহী-৩), ডি এম ডি জিয়াউর রহমান (রাজশাহী-৪), নজরুল ইসলাম, আবু সাইদ চাঁদ (রাজশাহী-৫); শাহ্জাহান মিঞা (চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১), আমিনুল ইসলাম (চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২), হারুনুর রশীদ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩); ফারজানা শারমীন (নাটোর-১), এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু (নাটোর-২), আনোয়ারুল ইসলাম (নাটোর-৩) ও আব্দুল আজিজ (নাটোর-৪)। মাদ্রাসা মাঠের সমাবেশ শেষ করে তারেক রহমান সড়কপথে যাবেন নওগাঁতে। বিকাল সাড়ে ৫টায় শহরের এটিম মাঠে নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্য বিএনপি চেয়ারম্যানের বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। এরপর রাত সাড়ে ৭টায় বগুড়ার আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে আরেকটি নির্বাচনি সমাবেশে বক্তব্য দেবেন তিনি। বিএনপি চেয়ারম্যান উত্তরাঞ্চলের তিন দিনের কর্মসূচির দ্বিতীয় দিন শুক্রবার যাবেন রংপুর। পীরগঞ্জে আবু সাঈদের কবর জিয়ারতের পর সেদিন বিকালে রংপুর ঈদগাহ মাঠে জনসভায় বক্তব্য দেবেন তারেক রহমান। এরপর শনিবার দুপুরে সিরাজগঞ্জে বিসিক শিল্প পার্কে এবং বিকালে টাঙ্গাইলের চরজানা বাইপাস এলাকায় তার নির্বাচনি জনসভা রয়েছে। এ সফর কালে বিএনপি চেয়ারম্যান দুইদিন বগুড়ায় হোটেল নাজ গার্ডেনে রাত্রিযাপন করবেন।
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বৃহস্পতিবার (২৮ জানুয়ারি) থেকে তিন দিনের নির্বাচনী সফরে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় যাচ্ছেন। আজ দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে তিনি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রাজশাহীর উদ্দেশে রওনা দেবেন। দুপুর দেড়টার দিকে তিনি রাজশাহীতে শাহ মাখদুম (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করবেন। এরপর রাজশাহী মাদরাসা মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন তিনি। আজ বিকেলে নওগাঁর এটিম মাঠ, কাজীর মোড়ে নির্বাচনী সমাবেশে যোগ দেবেন তারেক রহমান। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বগুড়ার আলফুন্নেছা খেলার মাঠে আরও একটি নির্বাচনী সমাবেশে অংশ নেবেন। প্রথম দিনের কর্মসূচি শেষে তিনি বগুড়া নাজ গার্ডেনে রাত্রি যাপন করবেন। রাজশাহী মাদরাসা মাঠে অনুষ্ঠিত সমাবেশের বিষয়ে রাজশাহী সদর আসনের বিএনপি প্রার্থী ও চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু বলেন, “বৃহস্পতিবার দুপুরে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন। ২২ বছর পর রাজশাহীতে তাঁর আগমনের জন্য পুরো মহানগরী জনসমুদ্রে পরিণত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।” বগুড়ায় প্রস্তুতি এবং জনসাধারণের উত্সাহ বগুড়ায় দীর্ঘ ১৯ বছর পর নির্বাচনী সফরে আসছেন তারেক রহমান। জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা ও সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) মোশারফ হোসেন জানান, দেশের মানুষ গণতন্ত্র ও দেশের সংরক্ষণের জন্য বিএনপিকে সমর্থন জানাচ্ছে। বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিপুল ভোটের ব্যবধানে নির্বাচনে জয়ী হওয়া দলের ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় এবার তারেক রহমান বগুড়া-৬ (সদর) আসন থেকে বিজয়ী হবেন বলে আশা করা হচ্ছে। তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে জেলাজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড ও পৌরসভা পর্যায়ের নেতাকর্মীরা দিন-রাত প্রস্তুতি নিয়ে নির্বাচনী কর্মসূচি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার চেষ্টা করছেন। বগুড়ায় পৌঁছে তিনি শহরের বায়তুর রহমান সেন্ট্রাল মসজিদ, দত্তবাড়ী শহীদ জিয়াউর রহমান শিশু হাসপাতাল ও জেলা বিএনপির কার্যালয় পরিদর্শন করবেন। পরদিন সকালে বগুড়া শহরের চারমাথা, বারপুর, সাবগ্রামসহ নির্বাচনী এলাকায় গণসংযোগ করবেন এবং পথসভায় বক্তব্য রাখবেন। বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনে একাধিক পথসভা শেষে গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ী বাবার জন্মস্থানে যাবেন। কর্মসূচি শেষে রংপুরের উদ্দেশে রওনা দেবেন। শুক্রবার বিকেল পৌনে ৪টায় শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় দিনের কর্মসূচি শুরু হবে। এরপর বিকেল সাড়ে ৪টায় রংপুর ঈদগাহ মাঠে নির্বাচনী সমাবেশে যোগ দেবেন। শনিবার সিরাজগঞ্জের বিসিক শিল্পপার্কে নির্বাচনী সমাবেশে অংশ নেবেন এবং বিকেল ৪টায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের দরুন চরজানা বাইপাসে নির্বাচনী জনসভায় উপস্থিত থাকবেন। রাত ৮টায় গুলশানের বাসভবনে সফর শেষ হবে।
শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনে নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে জামায়াত নেতা মাওলানা রেজাউল করিম নিহত হয়েছেন। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাত পৌনে ১০টার দিকে তিনি মারা যান। এ ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার রাতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)-এর নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল করেন শিক্ষার্থীরা। রাত সাড়ে ১১টার দিকে ভিসি চত্বর থেকে মিছিলটি শুরু হয়। বিভিন্ন হলের শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নেন। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে টিএসসিতে গিয়ে শেষ হয়। বিক্ষোভ-পরবর্তী সমাবেশে ডাকসু নেতারা অভিযোগ করেন, আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে পরাজয়ের আশঙ্কায় বিএনপি দেশব্যাপী সহিংসতায় জড়িয়ে পড়েছে। তারা নারীদের ওপর হামলা ও হত্যার রাজনীতি শুরু করেছে বলেও অভিযোগ করেন। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশন ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। সমাবেশ থেকে রেজাউল করিম হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি বিএনপিকে সন্ত্রাস, হত্যা ও চাঁদাবাজিমুক্ত করতে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি আহ্বান জানান বিক্ষোভকারীরা। এর আগে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান শেরপুরের ঘটনা নিয়ে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে জানান, শেরপুর-৩ আসনের সহকারী রিটার্নিং অফিসারের আয়োজিত ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতি হয়। একপর্যায়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জামায়াত সমর্থকদের ওপর হামলা চালানো হয়। পোস্টে আরও বলা হয়, ওই ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর ৫০ জনের বেশি সমর্থক আহত হন। আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে তাদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে রাত ৯টা ২০ মিনিটে রেজাউল করিম মারা যান।
দেশের উত্তরাঞ্চলে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের প্রচারাভিযান শুরু করতে যাচ্ছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) থেকে দুপুরে তিনি রাজশাহীর উদ্দেশে রওনা দেবেন। বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। রাজশাহীতে ৩ দিনের প্রচারাভিযান চলবে জানিয়ে তিনি বলেন, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বৃহস্পতিবার বেলা ২টায় রাজশাহী মাদ্রাসা মাঠ নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন। এরপর বিকাল সাড়ে ৫টায় নওগাঁর এটিম মাঠে এবং রাত সাড়ে ৭টায় আলফাতুন্নেসা খেলার মাঠে নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন তারেক রহমান। বিএনপি চেয়ারম্যানের তিন দিনের কর্মসূচির মধ্যে আছে- ৩০ জানুয়ারি ৩টা ৪৫ মিনিটে রংপুরের পীরগঞ্জের শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত, সাড়ে ৪টায় রংপুর ঈদগাহ মাঠে, ৩১ জানুয়ারি বেলা ২টায় বিসিক শিল্প পার্কে, ৪টায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের দরুন চরজানা বাইপাস এলাকায় নির্বাচনী জনসভা। এই সফরকালে দুদিন বগুড়ায় হোটেল নাজ গার্ডেনে রাত্রিযাপন করবেন বিএনপি চেয়ারম্যান। গত ২২ জানুয়ারি সিলেট থেকে নির্বাচনী প্রচারাভিযান শুরু করেন তারেক রহমান। এরপর ২৫ জানুয়ারি চট্টগ্রাম ও ২৭ জানুয়ারি ময়মনসিংহে যান তিনি। এ পর্যন্ত বিএনপি চেয়ারম্যান ১৬টা নির্বাচনী জনসভা করেছেন। এসব জনসভায় ব্যাপক মানুষের উপস্থিতির কারণে তারেক রহমান প্রতিটি সমাবেশে আসতে ৩/৫ ঘণ্টা বিলম্ব হয়েছে। গভীর রাত পর্যন্ত মানুষজন বসে ছিল বিএনপি চেয়ারম্যানের অপেক্ষায়।
ফেসবুকে ‘না’ ভোটের স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে শরীয়তপুরের নড়িয়ায় বিএনপি ও জামায়াতের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার নড়িয়া উপজেলার ভোজশ্বের ইউনিয়নের জেলেপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ভোজেশ্বর পুলিশ ফাঁড়ির রফিকুল ইসলাম জানান, দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি হয়েছে। এখনো কোনো মামলা হয়নি। সংঘর্ষের কারণে শরীয়তপুর-২ (নড়িয়া-সখীপুর) আসনের ভোটারদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মকবুল হোসাইন বলেন, আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর বিএনপির লোকজন অন্যায়ভাবে হামলা করেছে। জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জাকির হোসেন হাওলাদার বলেন, ফেসবুকে জামায়াত কর্মীরা আমাদের কর্মীদের ব্যাপারে মিথ্যা অপবাদ দিয়েছে। সিরাজগঞ্জ: সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বহুলী ইউনিয়নের ডুমুর ইছা গ্রামে সংঘর্ষ হয়। ছাত্রদলের কিছু নেতাকর্মী ধানের শীষের মিছিল করছিলেন। বিপরীত দিক থেকে জামায়াতের মিছিল আসার সময় উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু বলেন, জামায়াত নির্বাচন বানচালের অপচেষ্টা করছে। তারা মিছিলে হামলা চালিয়ে ছাত্রদলের ছয়জনকে আহত করেছে। জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি শহিদুল ইসলাম বলেন, বিএনপির ছেলেরা অতর্কিত হামলা চালায়। নারায়ণগঞ্জ: আড়াইহাজারে জামায়াতের মিছিলে বিএনপির নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার গোপালদী পৌরসভার মোল্লার চর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বিএনপি নেতারা বলছেন, জামায়াতের নারী কর্মীরা গ্রামে ঢুকে নারীদের কাছ থেকে এনআইডি কার্ড ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করছিল। বিএনপি কর্মীরা গিয়ে তাদের এসব না করার জন্য বলেন, কিন্তু শিবির কর্মীরা তর্কে জড়ালে ধাক্কাধাক্কি হয়। আড়াইহাজার উপজেলা বিএনপির সভাপতি ইউসুফ আলী ভূঁইয়া বলেন, জামায়াত মিথ্যাবাদী দল। জামায়াত প্রার্থী অধ্যাপক ইলিয়াছ মোল্লা বলেন, এ ধরনের ঘটনা কাম্য নয়। বগুড়া: বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনি কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে তিন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। হামলার জন্য বিএনপির লোকজনকে দায়ী করা হয়েছে। জামায়াতে ইসলামী শিবগঞ্জ উপজেলার কিচক ইউনিয়ন শাখার আমির মোফাজ্জল হোসেন সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন। চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনের বিএনপি প্রার্থী নাজমুল মোস্তফা আমিনের ব্যানার ও ফেস্টুন টানাতে গিয়ে জামায়াতের হামলায় দুই বিএনপি কর্মী আহত হয়েছেন। সাতকানিয়া পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। মোস্তফা আমিন বলেন, হামলা করেছেন জামায়াতের কর্মীরা। সাতকানিয়া উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি তারেক হোছাঈন বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে তাদের কর্মী-সমর্থকরা জড়িত নন। নেত্রকোনা: নেত্রকোনা-৩ (কেন্দুয়া-আটপাড়া) বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী রফিকুল ইসলাম হিলালী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়ার সমর্থকদের মধ্যে পালটাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটে। কেন্দুয়া উপজেলার দলপা ইউনিয়নের জল্লি পূর্বপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকেরা অভিযোগ করেন, ভোটারদের টাকা দেওয়ার সময় বিএনপির লোকজন প্রথমে হামলা চালায়। ভালুকা (ময়মনসিংহ): ভালুকায় নির্বাচনি সহিংসতায় স্বতন্ত্র বিদ্রোহী প্রার্থী মুহাম্মদ মোর্শেদ আলমসহ ১৩৫ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ৫০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা করা হয়েছে হত্যাচেষ্টা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে। রোববার পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কানার মার্কেট, বাটাজোড় বাজার ও হবিরবাড়িতে মারামারির ঘটনা ঘটে। সন্ধ্যায় মোর্শেদ আলমের লোকজন উপজেলা বিএনপি অফিসসহ আশপাশের দোকানপাট ভাঙচুর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ভালুকা মডেল থানার ওসি জাহিদুল ইসলাম জানান, নির্বাচনি সহিংসতার ঘটনায় মামলা হয়েছে। মোট হিসেবে বিভিন্ন জেলায় বিএনপি ও জামায়াতের সংঘর্ষে অন্তত ৪৫ জন আহত হয়েছেন। নির্বাচনি উত্তেজনা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা প্রতিদিন বাড়ছে, যা ভোটপ্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে।
রাজধানীর উত্তরায় একটি সরকারি হাসপাতাল নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান। তিনি বলেন, উত্তরাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি—বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের চিকিৎসাসেবার জন্য একটি সরকারি হাসপাতাল অত্যন্ত জরুরি। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক বিজয়ী হলে এই দাবির বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাত ১টার দিকে উত্তরা ৬ নম্বর সেক্টরের ঈদগাহ মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় এসব কথা বলেন তিনি। এসময় তিনি ঢাকা-১৮ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনকে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। তারেক রহমান বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে উত্তরাবাসীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল, যা ভবিষ্যৎ ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। তিনি উত্তরায় গ্যাস সংকটের বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, নিয়মিত বিল পরিশোধ করলেও মানুষ পর্যাপ্ত গ্যাস পাচ্ছে না। এটি শুধু উত্তরার নয়, সারা দেশের সমস্যা। বিগত সময়ে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে। বিএনপি ক্ষমতায় এলে এই সংকট সমাধানে নতুন গ্যাস অনুসন্ধান এবং শিল্পকারখানা স্থাপনে উদ্যোগ নেওয়া হবে। এছাড়াও তিনি পানির সংকট, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং যানজট কমাতে বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণের আশ্বাস দেন।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে দেশ ও জনগণের কল্যাণের স্বার্থে বিএনপির প্রতি পূর্ণ সমর্থন ঘোষণা করছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্ট। একইসঙ্গে ধানের শীষের প্রার্থীদের পক্ষে সর্বাত্মক নির্বাচনী কর্মকাণ্ড পরিচালনা, সমন্বয় ও মাঠে-ময়দানে কাজ করার জন্য দেশব্যাপী সংগঠনের নেতা ও সংগঠকদের সমন্বয়ে ৩৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) কল্যাণ ফ্রন্টের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।কমিটিতে বিজন কান্তি সরকারকে আহ্বায়ক ও রমেশ দত্তকে সমন্বয়ক করা হয়েছে। আর সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন- ম্যা ম্যা চিং, ড. সুকোমল বড়ুয়া, জয়ন্ত কুন্ডু, অমলেন্দু দাস অপ, জন গোমেজ, অপর্ণা রায় দাস, মনীষ দেওয়ান, সুশীল বড়ুয়া, দেবাশীষ রায় মধু, এলবার্ট পি কস্তা, পরিতোষ চক্রবর্তী, নিবাস চন্দ্র মাঝি, তপন কুমার বসু (মিন্টু), গৌরাঙ্গ সমাদ্দার, উত্তর সরকার, জয়দেব জয়, সুভাষ চন্দ্র দাস, মৃণাল কান্তি বৈষ্ণব, সঞ্জিত কুমার দেব জনি, বিশ্বজিৎ ভদ্র প্রমুখ। বিজ্ঞপ্তিতে কল্যাণ ফ্রন্টের সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীগণকে বিএনপি এবং তার জোটের প্রার্থীদের ভোটে জয়যুক্ত করার লক্ষ্যে সর্বাত্মক ভূমিকা রাখার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
ময়মনসিংহ বিভাগের নির্বাচনী সমাবেশ মঞ্চে উঠেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এটি নির্বাচনী প্রচারের পঞ্চম দিনে ঢাকার বাইরে তার তৃতীয় সমাবেশ। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) ময়মনসিংহ জেলা সার্কিট হাউস মাঠে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বিকেল ৪টা ৩ মিনিটে তিনি মঞ্চে ওঠেন। পূর্বে বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, বেলা ২টা ৩০ মিনিটে তার বক্তব্য শোনা যাবে। মঞ্চে ওঠার আগে তারেক রহমান সমাবেশস্থলের পাশে থাকা জুলাই আন্দোলনে আহত ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। সমাবেশে স্থানীয় নেতাকর্মীরা স্লোগানে স্লোগানে তাকে স্বাগত জানান। তারা ‘তারেক রহমানের আগমন, শুভেচ্ছা স্বাগতম’ এবং ‘আগামী দিনের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান’ স্লোগান দেন। ময়মনসিংহের পক্ষ থেকে তাকে লাল গোলাপ দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়। মঞ্চে ওঠার পর তার কাছে স্থানীয় নেতারা তারাকান্দাকে পৌরসভায় রূপান্তরের দাবি জানান। মঞ্চে ওঠার আগে ময়মনসিংহ বিভাগের ২৪টি আসনের ধানের শীষের প্রার্থীরা বক্তব্য রাখেন। প্রার্থীদের মধ্যে ছিলেন ইকবাল হোসেন, সুলতানা আহমেদ বাবু, মোতায়ের হোসেন বাবু, মাহমুদুল হক, ফরিদুল কবির তালুকদার, সিরাজুল হক, মাহবুব রহমান লিটন, মোস্তাফিজুর রহমান বাবলু ও লৎফুরজ্জামান বাবর। তারা নিজেদের মধ্যকার দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ভুলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে দলের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান এবং স্লোগান দেন—‘নৌকা গেছে ভারতে, ধানের শীষ গদিতে’। লৎফুরজ্জামান বাবর বলেন, আমরা ময়মনসিংহ বিভাগের ২৪টি আসন তারেক রহমানকে উপহার দিতে চাই এবং আগামী দিনে তাকেই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাই। সরেজমিনে দেখা গেছে, সমাবেশে উপস্থিত নেতাকর্মীদের একটি বড় অংশই মধ্যবয়সী ছিলেন। তারা স্মৃতিচারণ করে বলেন, এই মাঠেই তারা এর আগে সদ্যপ্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার সমাবেশে অংশ নিয়েছিলেন।
খুলনা-১ আসনে জামায়াত ইসলামী মনোনীত প্রার্থী কৃষ্ণনন্দী বলেছেন, জামায়াত ক্ষমতায় এলে হিন্দুদের ভারতে যেতে হবে না এবং তাদের এখানে ‘জামাই আদরে’ রাখা হবে। তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, জামায়াত কখনো ভোট কেনার জন্য টাকা ব্যবহার করে না। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুর ৩টায় খুলনা সার্কিট হাউস মাঠে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী জনসভায় কৃষ্ণনন্দী এ মন্তব্য করেন। তিনি অভিযোগ করেন, একটি দল চাঁদাবাজির টাকার বস্তার মুখ খুলে দিয়েছে ভোট কেনার জন্য এবং হাট-বাজারে গরু-ছাগল কেনার মতো করে ভোট কিনে বেড়াচ্ছে। তিনি ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলেন, জামায়াত কখনো ভোট কেনার জন্য বিকাশে টাকা দেয় না। খুলনার সার্কিট হাউসে খুলনা মহানগর ও জেলা জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে আয়োজিত নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দলের আমির ডা. শফিকুর রহমান।
ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) থেকে বাংলাদেশের পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার ঘটনাকে ‘চরম অপমান’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে সাতক্ষীরা সরকারি বালক বিদ্যালয় মাঠে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “এ ক্রিকেট বিশ্বে আপনাদেরকে আলোকিত করেছে, বাংলাদেশকে আলোকিত করেছে— মোস্তাফিজ; তাই না? এই ছেলেটাকে পার্শ্ববর্তী দেশ একটা ফ্রেন্ডলি ম্যাচে যেতে দিল না। দেশের প্রতি, ক্রিকেটের প্রতি এটা চরম অপমান।” জামায়াত আমির আরও বলেন, “বাংলাদেশের ক্রিকেট বোর্ড এরকম বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ভারতে গিয়ে আবার টি-টোয়েন্টি খেলার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করেছে। দাবি ছিল যে—‘এই খেলাটা শ্রীলঙ্কায় হোক, আমরা যাব’। ক্রিকেট বোর্ড (আইসিসি) এই সংগত দাবিটাকে মানল না; আমরা দুঃখিত, আমরা লজ্জিত।” আইসিসির উদ্দেশে শফিকুর রহমান বলেন, “এখনো সময় আছে, আমরা অনুরোধ করি—আপনারা আপনাদের সিদ্ধান্ত রিভিউ করুন।” উল্লেখ্য, কিছু উগ্রবাদী গোষ্ঠীর হুমকির কারণে গত ৩ জানুয়ারি বাংলাদেশি পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানায় বিসিসিআই। নিরাপত্তা শঙ্কার কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশ দল ভারতে গিয়ে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলবে না বলে জানায় বিসিবি। এরপর একাধিকবার বৈঠক করে আইসিসি-বিসিবি। গত বুধবার আইসিসির সভা শেষে বাংলাদেশকে ভারতে বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে ২৪ ঘণ্টা সময় বেধে দেয়। এরপর বৃহস্পতিবার ক্রিকেটারদের সঙ্গে বৈঠক করে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। বৈঠক শেষে নিজেদের সিদ্ধান্তে অনড় থাকার কথা জানান তিনি। পরবর্তীতে বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশকে বাদ দেয় আইসিসি এবং টাইগারদের বিকল্প হিসেবে স্কটল্যান্ডকে বেছে নেয় বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা বিজয়ী হলেও কারও বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেব না। সবাইকে ক্ষমা করে দেওয়া হবে। তবে যারা কালো টাকার দিকে হাত বাড়াবে, তাদের সেই হাত শক্তভাবে প্রতিহত করা হবে। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বেলা ১২টায় সাতক্ষীরা সরকারি বালক বিদ্যালয় মাঠে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, আমরা জয়ী হলে ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করব। মানুষের সম্পদ ও ইজ্জতের দিকে কেউ হাত বাড়াতে পারবে না। আমরা কোনো আধিপত্যের কাছে মাথা নত করব না। আমাদের ভয় দেখাবেন না। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা খবর পাচ্ছি, আমাদের মা-বোনদের ওপর হামলা করা হচ্ছে, তাদের সম্মানহানি করা হচ্ছে। একদিকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে, অন্যদিকে নারীদের অসম্মান করা হচ্ছে, এটি কীভাবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে? তিনি আরও বলেন, আমরা যুবসমাজকে ভাতা দিয়ে ছোট করতে চাই না। বরং তাদের দক্ষ ও যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলে দেশ গড়ার কাজে সম্পৃক্ত করতে চাই। এতে তাদের সম্মান আরও বৃদ্ধি পাবে। তিনি বলেন, আমরা দেখেছি অতীতে যারা জুলুমের শিকার হয়েছেন, তাদের মধ্য থেকেই অনেকে আজ জালিমের ভূমিকা পালন করছেন। বর্তমান প্রজন্মের যুবকেরা পরিবর্তনের পক্ষে, তারা সংস্কার চায়। তারা পুরোনো, জীর্ণ ও পচা রাজনীতির ধারা থেকে বেরিয়ে আসতে চায়। ডা. শফিকুর রহমান আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়ে দেশ গড়ার কাজে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। জেলা জামায়াতের আমির উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুলের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহসভাপতি ও দলীয় মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম, সাতক্ষীরা-০১ (তালা ও কলারোয়া) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ইজ্জত উল্লাহ, সাতক্ষীরা-০২ (সাতক্ষীরা সদর ও দেবহাটা) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক, সাতক্ষীরা-০৩ (আশাশুনি ও কালিগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মুহাদ্দিস রবিউল বাশার, সাতক্ষীরা-০৪ (শ্যামনগর) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী গাজী নজরুল ইসলাম প্রমুখ।
২২ বছর পর আজ ময়মনসিংহ যাচ্ছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুর ২টায় সার্কিট হাউস মাঠে নির্বাচনি জনসভায় ভাষণ দেবেন তিনি। এ জনসভায় স্মরণকালের সবচেয়ে বড় জমায়েত হবে বলে আশা করছেন নেতাকর্মীরা। জনসভায় ময়মনসিংহ বিভাগের ২৪টি সংসদীয় আসনের ধানের শীষের প্রার্থীদের এক মঞ্চে পরিচয় করিয়ে দেবেন তারেক রহমান এবং তাদের পক্ষে ভোট চাইবেন। একই সঙ্গে দলকে বিজয়ী করতে আগামীর পথচলা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেবেন তিনি। জনসভায় সভাপতিত্ব করবেন জেলা দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক জাকির হোসেন। দলীয় সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে চার জেলা ছাড়াও ময়মনসিংহ মহানগর, দক্ষিণ ও উত্তর জেলা এবং বিভিন্ন উপজেলার নেতাদের সঙ্গে প্রস্তুতিমূলক সভা সম্পন্ন হয়েছে। সব ইউনিটের নেতাকর্মীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মূল মঞ্চ নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। পুরো এলাকা জনসমুদ্রে রূপ নেবে ধরে নিয়ে সমাবেশস্থলের বিভিন্ন পয়েন্টে এলইডি স্ক্রিন স্থাপন করা হচ্ছে। নারীদের জন্যও আলাদা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বিএনপি নেতারা জানান, সর্বশেষ ২০০৪ সালে ময়মনসিংহে ইউনিয়ন প্রতিনিধি সভায় অংশ নিয়েছিলেন তারেক রহমান। প্রায় ২২ বছর পর তার আগমনকে ঘিরে এলাকাজুড়ে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে। সার্কিট হাউস মাঠ ছাড়াও পুরো শহরজুড়ে বিপুল লোকসমাগমের আশা করা হচ্ছে। জনসভাস্থলে সুপেয় পানির ব্যবস্থা রাখা হবে এবং পুরো এলাকা সিসি ক্যামেরার আওতায় থাকবে। এ বিষয়ে প্রশাসনের কাছে লিখিতভাবে আবেদন করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে বলেও নেতারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেছেন, ‘আগামীতে নারীদের প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা আছে। জামায়াতে নারী কর্মীদের প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে দলীয় সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হয় না। এটা তাদের সামগ্রিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে।’ সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ‘জামায়াতে ৪০ শতাংশই নারী কর্মী; যা অন্যকোনো দলে নেই। এই দলে নিজ থেকে প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশের কোনো সুযোগ নেই। মাঠ থেকে যেসব প্রস্তাবনা আসবে সে আলোকেই প্রার্থী নির্ধারণ করা হয়। তবে পুরুষের ক্ষেত্রে দলের সিদ্ধান্ত মেনে নিতে হয়। কিন্তু নারীদের ক্ষেত্রে তাদের নিজেদের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়। কারণ তাদের সামগ্রিক বাস্তব পরিস্থিতির ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়।’ এসময় নির্বাচনী প্রচারণার সময় বিভিন্ন এলাকায় জামায়াতের নারী কর্মীদের ওপর হামলা, হেনস্তা ও নাজেহাল করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। তিনি বলেন, ‘প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন যদি সঠিক ভূমিকা পালন করে তাহলে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত সম্ভব। যদি এসব নিয়ন্ত্রণ করা না হয়, তাহলে নির্বাচনের আগ পর্যন্ত পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে পারে।’ বৈঠকে ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। আর জামায়াতের প্রতিনিধিদলে ছিলেন দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য অলিউল্লাহ নোমান।
কুমিল্লা-৪ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, আইন বহির্ভূতভাবে যদি বিএনপির ঋণখেলাপিদের আপনি নির্বাচনে আনতে চান, তাহলে আওয়ামী লীগ কী দোষ করেছে? তিনি বলেন, লুটেরাদের জন্য আমরা বাংলাদেশকে হারাম করে দেবো। ব্যাংক চোরদের সংসদে পাঠিয়ে কখনই ব্যাংকচোর ধরা যাবে না। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন হাসনাত আবদুল্লাহ। জানা যায়, কুমিল্লা-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সির মনোনয়ন ফিরে পেতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা রিট সরাসরি খারিজ করেছেন হাইকোর্ট। শুনানি শেষে আইনজীবীরা জানান, এ রায়ের ফলে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। রিটের শুনানি উপলক্ষে এনসিপির প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ হাইকোর্টে উপস্থিত ছিলেন। এ প্রসঙ্গে এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির ‘লুটেরা’রা সক্রিয় হয়েছে। তাদের পরিচয় একটাই— তারা ব্যাংক খেলাপি ও ভোট ডাকাত। তিনি অভিযোগ করেন, এসব ব্যক্তি জনগণের অর্থ বিদেশে পাচার করে নিজেদের ও পরিবারের বিলাসী জীবনযাপনে ব্যয় করছে। জুলাই যোদ্ধা শহীদ শরিফ ওসমান হাদির বক্তব্য উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, ভোট ডাকাত, ব্যাংক ডাকাত, ঋণখেলাপি ও লুটেরাদের জন্য বাংলাদেশকে ‘হারাম’ করে দেওয়া হবে। এসব লোক কেবল নির্বাচনের সময় দেশে আসে। অনেকেই মূলত বিদেশি নাগরিক, যারা সুসময়ের পাখির মতো ভোটের সময়ই সক্রিয় হয়। হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, শিয়ালকে মুরগি পাহারার দায়িত্ব দিলে যেমন অযৌক্তিক হয়, তেমনি যারা ব্যাংক লুট ও চুরি করেছে, তাদের সংসদে পাঠিয়ে ব্যাংকচোর ধরা সম্ভব নয়। ব্যাংকচোরদের সংসদে বসালে কখনই ব্যাংকচোরদের ধরা যাবে না। তিনি বলেন, আমরা চাই জনগণের ম্যান্ডেটের ভিত্তিতে প্রতিনিধিত্বশীল ব্যবস্থায় যারা ক্ষমতায় আসবে আসুক, তাদের ক্ষমতায় আসায় কোনো আপত্তি নেই। তবে এটি আমাদের দীর্ঘমেয়াদি লড়াইয়ের অংশ। ঋণখেলাপিরা এ লড়াইয়ে জনগণের সমর্থন পাবে না। ৫ আগস্ট জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে, পরে নির্বাচন কমিশনও করেছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের মাধ্যমে জনগণ আবারও চূড়ান্তভাবে তাদের প্রত্যাখ্যান করবে বলে আমি আশা প্রকাশ করছি।
কুষ্টিয়ায় জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, নারীদের ঘরে তালাবদ্ধ করে রাখার কোনো পরিকল্পনা নেই। তিনি বলেন, আমাদের এত তালা কেনার টাকা নেই যে, নারীদের ঘরে তালাবদ্ধ করে রাখব। আমরা নারীদের জন্য নিরাপদ সমাজ এবং কর্মস্থল নিশ্চিত করব। বড় শহরগুলোতে আলাদা বাস সার্ভিস চালু করা হবে, যাতে নারীরা নিরাপদে চলাচল করতে পারেন। রোববার সকাল ৯টায় কুষ্টিয়া আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে শুরু হয় জনসভা। সকাল থেকেই দলটির নেতাকর্মীরা স্টেডিয়ামে জড়ো হতে থাকেন। স্বেচ্ছাসেবকরা শহরের বিভিন্ন মোড়ে অবস্থান নিয়ে পথ সুগম রাখার চেষ্টা চালান। ভোর থেকেই জনসভাস্থল প্রস্তুত করা হলেও কুয়াশার কারণে আমিরের আগমন কিছুটা বিলম্বিত হয়। জনসভাস্থলে তিনি পৌঁছান প্রায় দুপুর ১২টার দিকে। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, যারা ৫৪ বছর ধরে দেশকে খামখেয়ালীভাবে পরিচালনা করেছে, তাদের দৃষ্টিভঙ্গি ও চরিত্র পরিবর্তন না হলে দেশের জন্য ভালো কিছুই সম্ভব নয়। তিনি অভিযোগ করেন, ৫ আগস্টের পর শত শত মানুষকে অন্যায় মামলার আসামি করা হয়েছে। সেই তালিকায় সাধারণ জনগণ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা, এমনকি সিভিল সার্ভিসের কর্মকর্তারাও রয়েছেন। তিনি বলেন, এ তো হয়ে গেল মামলা বাণিজ্য। আমাদের ভাইদেরও চাঁদাবাজিতে লিপ্ত হতে দেখা গেছে। যারা দারিদ্র্যজনিত কারণে এমন কাজ করেছেন, তাদের প্রতি আমরা দরদ ভরা মনে বলতে চাই, আমাদের সঙ্গে ভাগাভাগি করার জন্য প্রস্তুত আছি। তিনি পুলিশের, বিজিবি ও আনসারের সীমিত উপস্থিতি নিয়ে আফসোস প্রকাশ করেন এবং বলেন, এই দেশ আমাদের দেশ। এত মজলুম সংগঠনকে নেতাদের হত্যা করা হলো, ফাঁসি দেওয়া হলো, জেলে পোড়া হলো, অফিস বন্ধ করা হলো। আমাদের নিবন্ধন কেড়ে নেওয়া হলো, এরপরও আমরা হাল ছাড়িনি। কুষ্টিয়ার নদী সমস্যার দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, পদ্মা নদী মরুভূমির মতো হয়ে গেছে। ঢলের পানি দুই কুল ভাসিয়ে সবকিছুকে তছনছ করে দেয়। নদী খননের জন্য বরাদ্দ থাকা বাজেট মুখে ঢুকে, পেটে চলে যায়; প্রকৃত খনন হয় না। দেশের দীর্ঘদিনের ক্ষমতাসীনরা এ ধরনের অনিয়ম চালিয়ে আসছেন। চাল খাজনার প্রসঙ্গেও তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। কুষ্টিয়া থেকে দেশজুড়ে চাল বোঝাই ট্রাকে প্রতি ট্রাক থেকে ৫,০০০ টাকা বেসরকারি খাজনা আদায় হয়। তিনি বলেন, আমরা নিজের জন্য বা দলের কর্মীদের জন্য রাজনীতি করি না, বরং দেশের দুঃখী ও অসহায় মানুষের মুখে খাবার এবং পিঠে কাপড় তুলে দিতে রাজনীতি করি। ডা. শফিকুর রহমান নদী বাঁচানোকে অগ্রাধিকার দিতে বলছেন। তিনি বলেন, “নদী বাঁচলে মাটি বাঁচবে, মাটি বাঁচলে মানুষের জীবন বাঁচবে। উত্তরবঙ্গের নদীও ধ্বংস হয়েছে, সেখানে জীবন বাঁচানোর সংগ্রাম শুরু হয়েছে। কুষ্টিয়াতেও আমরা একইভাবে নদী রক্ষা আন্দোলন শুরু করব।” তিনি কুষ্টিয়ার বন্ধ চিনিকল ও শিল্প পুনরুজ্জীবনের প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি স্মরণ করান, শহীদ মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী আমির থাকাকালে সরকারি কল-কারখানায় তালা ঝুলানো বন্ধ করেছিলেন এবং সেগুলো আড়াই বছরের মধ্যে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করেছিলেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, জনগণ সুযোগ দিলে দেশের সব সেক্টরে বিপ্লব ঘটানো সম্ভব হবে। জনসভায় জামায়াতের পাশাপাশি ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতে ইসলামের ভারপ্রাপ্ত আমির ও কুষ্টিয়া-২ আসনের দলীয় প্রার্থী আব্দুল গফুরের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়া-১, কুষ্টিয়া-৩, কুষ্টিয়া-৪ আসনের প্রার্থী এবং শহর জামায়াতে ইসলামের আমির।
নারায়ণগঞ্জ-৩ আসন থেকে নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ড. ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া। আসনটি জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোটের শরিক বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। রোববার (২৫ জানুয়ারি) নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। সংবাদ সম্মেলনে ড. ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া জানান, দলের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন। তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের শিবলী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এ সময় নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর জামায়াতে ইসলামী এবং ১০ দলীয় জোটের জেলার শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, জনগণের উন্নয়ন ও ভাগ্যের পরিবর্তন করাই তাদের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। দেশের উন্নয়ন কীভাবে করতে হয়, বিএনপি তা ভালোভাবেই জানে। রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাত ১১টায় কুমিল্লার সোয়াগাজীর ডিগবাজী মাঠে আয়োজিত এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছিলেন। আর ২০২৪ সালে সেই স্বাধীনতা রক্ষায় মানুষ আবারও জীবন দিয়েছে। এ সময়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ৪১৯ জন নেতাকর্মী শহীদ হয়েছেন। পাশাপাশি আরও সহস্রাধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। তিনি বলেন, জুলাই যোদ্ধারাই আমাদের স্বাধীনতাকে রক্ষা করেছে। বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে নারীদের জন্য বিনামূল্যে শিক্ষাব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল এবং বহু কৃষকের ঋণ মওকুফ করা হয়। বিএনপি দেশের ও মানুষের উন্নয়নে বিশ্বাসী। কীভাবে দুর্নীতির লাগাম টানতে হয়, কীভাবে শিক্ষার্থী ও তরুণদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হয়—সে বিষয়ে দলের বাস্তব অভিজ্ঞতা রয়েছে। সেই অভিজ্ঞতা ও পরিকল্পনা অনুযায়ীই ভবিষ্যতে এগিয়ে যাওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, বিএনপি অন্য রাজনৈতিক দলের সমালোচনায় যেতে চায় না। তারা মানুষের উন্নয়নের কথা বলতে চায় এবং উন্নয়নের পরিকল্পনা জনগণের সামনে তুলে ধরছে। সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন কুমিল্লা-৬ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মনিরুল হক চৌধুরী, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি জাকারিয়া তাহের সুমন, দলের কেন্দ্রীয় শিল্প বিষয়ক সম্পাদক মো. আবুল কালাম, কুমিল্লা-৫ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হাজী জসিম উদ্দিন, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন, কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সভাপতি উৎবাতুল বারী আবু এবং সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ মোল্লা টিপু।
ভারতের সাবেক পররাষ্ট্রসচিব ও বাংলাদেশে নিযুক্ত সাবেক হাই কমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলার সাম্প্রতিক বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে ঘিরে দেওয়া হর্ষ বর্ধন শ্রিংলার মন্তব্যকে অনাকাঙ্ক্ষিত ও অগ্রহণযোগ্য বলে আখ্যায়িত করেছে দলটি। রোববার (২৫ জানুয়ারি) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতিতে এ নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। এর আগে হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা মন্তব্য করেন, “বাংলাদেশে নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হলে জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা নেই।” তার এই বক্তব্যের পরই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায় জামায়াতে ইসলামী। বিবৃতিতে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, একটি সার্বভৌম ও স্বাধীন রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিষয়, নির্বাচন প্রক্রিয়া এবং একটি বৈধ ও নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল সম্পর্কে এ ধরনের মন্তব্য আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক শিষ্টাচার ও পররাষ্ট্রনীতির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। বিশেষ করে একজন সাবেক কূটনীতিক ও বর্তমান সংসদ সদস্যের কাছ থেকে এমন বক্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি আরও বলেন, হর্ষ বর্ধন শ্রিংলার মন্তব্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, তথ্যবিকৃত এবং রাজনৈতিকভাবে পক্ষপাতদুষ্ট। একটি দেশের জনগণ কাকে ভোট দেবে বা দেবে না—সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার একমাত্র অধিকার সেই দেশের জনগণেরই রয়েছে। কোনো বিদেশি রাজনীতিবিদের এ বিষয়ে মন্তব্য করার কোনো অধিকার নেই। মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বাংলাদেশের জনগণই এ দেশের প্রকৃত মালিক। তারাই অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করবেন। নির্বাচন কীভাবে হবে কিংবা কোন দল কত ভোট পাবে—এ ধরনের মন্তব্য শুধু বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করে না, বরং প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান কূটনৈতিক সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার পরিবেশ ক্ষুণ্ন করে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একটি নিবন্ধিত, গণতান্ত্রিক ও আদর্শভিত্তিক রাজনৈতিক দল। জনগণের অধিকার, গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও সুশাসনের প্রশ্নে দলটি সবসময় আপসহীন অবস্থানে রয়েছে। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে জনগণই তাদের প্রকৃত রায় দেবে—এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। শেষে মিয়া গোলাম পরওয়ার আশা প্রকাশ করেন, ভারতের দায়িত্বশীল মহল ভবিষ্যতে এ ধরনের বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত থাকবে এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করে পারস্পরিক সম্মান ও কূটনৈতিক সৌজন্য বজায় রাখবে। উল্লেখ্য, গত শুক্রবার ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিংয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা বলেন, “বাংলাদেশে নির্বাচন যদি অবাধ ও সুষ্ঠু হয়, তাহলে জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় আসতে পারবে না।” তিনি আরও বলেন, “নির্বাচনে কারচুপি হলে তাদের ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। অন্যথায় দলটির ভোটের হার পাঁচ থেকে সাত শতাংশের বেশি নয়, তাও আবার অন্য রাজনৈতিক দলের সহায়তায়।”
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৮ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী মির্জা আব্বাস বলেছেন, ‘একটি বিশেষ শক্তি ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে কিছু করার চেষ্টা করছে। যা জনগণ প্রতিহত করবে ইনশাআল্লাহ।’ রবিবার রাজধানীর শাহজাহানপুরে গণসংযোগের সময় সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। ‘ঢাকায় কোনো আসন দেব না’- জামায়াতের একজন প্রার্থীর এমন মন্তব্যের জবাবে মির্জা আব্বাস বলেন, ঢাকা শহরে তারা আমাদের কোনো সিট দেবেন না। আমার প্রশ্ন আসন দেওয়ার তারা কে? আসন দেওয়ার মালিক আল্লাহ ও জনগণ। জনগণের ওপরে কথা বলা স্বেচ্ছাচারিতা ও অগণতান্ত্রিক আচরণ। তারা এসব বলার শক্তি পায় কোথায়? জনগণের ভোটই ক্ষমতার একমাত্র উৎস। কোনো দল বা গোষ্ঠী কাউকে সিট দেওয়ার মালিক নয়। আল্লাহ ও জনগণই একমাত্র সিদ্ধান্তকারী। সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, আমার এলাকার জনগণ যেভাবে ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে আমাকে ভালোবেসে ভোট দিয়েছিলেন, সেভাবে তারা আমার ও আমার দলের কার্যক্রম বিবেচনা করে আবারও ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন, ইনশাআল্লাহ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘চাঁদাবাজি’ নিয়ে দেখানো ডকুমেন্টারি বিষয়ে মির্জা আব্বাস বলেন, একজন মানুষকে ঘায়েল করতে যেসব অস্ত্র দরকার তারা সব ব্যবহার করছে। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স দিয়ে মিথ্যা ডকুমেন্টারি বানানো হচ্ছে, বট বাহিনী দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া ভরিয়ে ফেলা হয়েছে। এসবের কোনো সত্যতা নেই। এই শ্রেণীর লোকেরা জাতির সামনে মিথ্যা বলে। আমরা তাদের ১৯৭১ ও ৮৬ সালে দেখেছি। তারা জাতির জন্য কখনো উপকারী নয়। ৭১ সালে খালি পায়ে লুঙ্গি পরে জনগণ পাকবাহিনীকে পরাজিত করেছে। আমরা আওয়ামী লীগকে প্রতিহত করেছি, এরশাদকে প্রতিহত করেছি, এবারও সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত হবে ইনশাআল্লাহ। নির্বাচনী এলাকার সমস্যা তুলে ধরে তিনি বলেন, ১৭ বছরে আমার এলাকাকে শেষ করে দেওয়া হয়েছে। মাদক, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস; এই এলাকা ধ্বংস করেছে। এই তিনটি থেকে এলাকাকে রক্ষা করাই এখন সবচেয়ে বড় প্রয়োজন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।