বিনোদন

ছবি: সংগৃহীত
আলিয়ার সঙ্গে সেলফি তুলতে গিয়ে ভক্তকে ধাক্কা, নীরব থাকলেন অভিনেত্রী

প্রিয় তারকার সঙ্গে একটি ছবি তোলার সুযোগ পেতে ভক্তদের মধ্যে আগ্রহের কমতি থাকে না। তবে বলিউড অভিনেত্রী আলিয়া ভাটের সঙ্গে সেলফি তুলতে গিয়ে অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন এক ভক্ত। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, আলিয়ার কাছাকাছি যাওয়ার চেষ্টা করলে ওই ভক্তকে অভিনেত্রীর দেহরক্ষী ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেন।   ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শুক্রবার মুম্বাইয়ে আলিয়ার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের নতুন সিনেমা ‘ডোন্ট বি শাই’-এর ট্রেলার প্রকাশ অনুষ্ঠানে ঘটনাটি ঘটে। অনুষ্ঠান শেষে ভেন্যু থেকে বের হওয়ার সময় আলিয়াকে ঘিরে ধরেন উপস্থিত ভক্তরা।   এ সময় আলিয়া বেশ স্বাভাবিকভাবেই ভক্তদের সঙ্গে ছবি তুলছিলেন। এর মধ্যেই ভিড়ের মধ্যে থেকে এক যুবক অভিনেত্রীর একেবারে কাছে গিয়ে সেলফি তোলার চেষ্টা করেন। বিষয়টি দেখতে পেয়ে আলিয়ার নিরাপত্তাকর্মী দ্রুত এগিয়ে এসে তাকে সরিয়ে দেন।   পরে ওই ভক্ত আবারও আলিয়ার সঙ্গে ছবি তোলার চেষ্টা করেন। তবে দ্বিতীয়বারও নিরাপত্তাকর্মীরা তাকে আলিয়ার কাছ থেকে দূরে সরিয়ে দেন।   ভিডিওতে দেখা যায়, ঘটনাটি আলিয়ার একেবারে পাশে ঘটলেও তিনি তখন অন্য ভক্তদের সঙ্গে ছবি তুলছিলেন। ওই ভক্তকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় অভিনেত্রীর পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি।   ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ নিরাপত্তাকর্মীর আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, আবার কেউ ভিড়ের মধ্যে তারকার নিরাপত্তার বিষয়টি তুলে ধরেছেন।   এদিকে আলিয়ার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান থেকে নির্মিত ‘ডোন্ট বি শাই’ সিনেমাটি আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর অ্যামাজন প্রাইম ভিডিওতে মুক্তির কথা রয়েছে। সিনেমাটিতে আলিয়ার অভিনয়ের পাশাপাশি তার প্রযোজনার সঙ্গেও যুক্ত থাকার বিষয়টি নিয়েও আলোচনা চলছে।   অন্যদিকে সঞ্জয় লীলা বানসালির ‘লাভ অ্যান্ড ওয়ার’ সিনেমাতেও দেখা যাবে আলিয়াকে। এতে তার সঙ্গে অভিনয় করছেন রণবীর কাপুর ও ভিকি কৌশল। সিনেমাটি ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পরিকল্পনা রয়েছে।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
অভিনেত্রী ও মডেল শেহনাজ গিল
ভক্তের বুকে নিজের ছবি দেখে অবাক অভিনেত্রী

ভারতীয় অভিনেত্রী ও মডেল শেহনাজ গিলের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করতে তার এক অনুরাগী নিজের বুকে এই তারকার মুখাবয়বের ট্যাটু করিয়েছেন। সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে এ ঘটনা সামনে আসার পর বিস্ময় প্রকাশ করেছেন শেহনাজ।    সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওতে দেখা যায়, অনুরাগী ব্যক্তিটি শার্টের বোতাম খুলে শেহনাজকে তার বুকে আঁকা ট্যাটুটি দেখাচ্ছেন। বিষয়টি দেখে কিছুটা অবাক হয়ে পাঞ্জাবি ভাষায় ওই ভক্তের কাছে শেহনাজ জানতে চান, কেন নিজেকে কষ্ট দিয়ে তিনি এই ট্যাটু করিয়েছেন।   জবাবে সেই ব্যক্তি জানান, তিনি শেহনাজের বড় ভক্ত। পরবর্তীতে শেহনাজ তাকে ধন্যবাদ জানান এবং করমর্দন করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।   ভিডিওটি প্রকাশের পর সামাজিক মাধ্যমে নেটিজেনদের নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। এক নেটিজেন মন্তব্য করেন, ওই ব্যক্তি এর আগেও হাতে শেহনাজের নাম বা ছবি ট্যাটু বানিয়েছিলেন। তখন শেহনাজ তাকে বুকে আর কোনো ট্যাটু না করতে অনুরোধ করেছিলেন।   উল্লেখ্য, ‘বিগ বস’ খ্যাত পাঞ্জাবি তারকা শেহনাজ গিল ভক্তদের সঙ্গে খোলামেলা মিথস্ক্রিয়া ও সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের জন্য প্রায়ই আলোচনার শিরোনামে থাকেন।

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
আমিশার বাড়ি থেকে ৫ লাখ টাকার গয়না চুরি, গ্রেপ্তার পরিচারিকা

বলিউড অভিনেত্রী আমিশা প্যাটেলের বাড়িতে চুরির অভিযোগ উঠেছে। মুম্বাইয়ের চার্চগেট এলাকার ওই বাড়ি থেকে প্রায় ৫ লাখ টাকা মূল্যের সোনা ও হিরের গয়না চুরি যাওয়ার অভিযোগে এক পরিচারিকাকে গ্রেফতার করেছে মুম্বাই পুলিশ। চুরি যাওয়া গয়না উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।   পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চার্চগেটের ওই বাড়িতে আমিশার মা আশা প্যাটেল থাকতেন। সেখানে প্রায় দেড় বছর ধরে কাজ করছিলেন ৪০ বছর বয়সী সীমা ঘাটে। তিনি পালঘরের বাসিন্দা।   অভিযোগ, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ওই বাড়ি থেকে হিরে বসানো একটি সোনার বালা চুরি হয়। বালাটির আনুমানিক মূল্য প্রায় ৫ লাখ টাকা। ঘটনার পর থেকেই আমিশার মায়ের সন্দেহের তালিকায় ছিলেন ওই পরিচারিকা।   পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, গত কয়েক মাস ধরে আশা প্যাটেল সীমাকে গয়নাটি ফেরত দেওয়ার জন্য বলছিলেন। একই সঙ্গে চুরির কথা স্বীকার করার জন্যও তাকে অনুরোধ করা হয়েছিল। কিন্তু গয়নাটি ফেরত না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত পুলিশের দ্বারস্থ হন তিনি।   অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্তে নামে মেরিন ড্রাইভ থানার পুলিশ। তদন্তের পর সীমাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর তাকে আদালতে তোলা হলে আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   তবে চুরি যাওয়া গয়নাটি এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। গয়নাটি উদ্ধারের পাশাপাশি অভিযুক্ত সীমার বিরুদ্ধে আগে কোনো অপরাধের অভিযোগ রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬
‘আলহামদুলিল্লাহ’ লিখে বিয়ের খবর দিলেন ইসরাত পায়েল

‘আলহামদুলিল্লাহ’ একটি ছোট্ট শব্দেই বদলে গেল উপস্থাপিকা ইসরাত পায়েলের জীবনের গল্প। এত দিন মঞ্চের আলোয় অন্যদের গল্প বললেও এবার নিজের জীবনের সবচেয়ে বড় খবরটি নিজেই জানালেন তিনি। বিয়ের ছবি প্রকাশ করে জানালেন, পরিবারের সম্মতিতেই ব্যবসায়ী আল-আমিন চৌধুরীর সঙ্গে জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করেছেন।   শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিয়ের কয়েকটি ছবি প্রকাশ করেন ইসরাত পায়েল। ছবিতে লাল জমকালো শাড়িতে স্বামী ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে হাসিমুখে দেখা যায় তাকে।   ছবির সঙ্গে পায়েল লেখেন, ‘আসসালামু আলাইকুম। আলহামদুলিল্লাহ, পরিবারের সম্মতিতে আল-আমিন চৌধুরীর সাথে আমার বিয়ে হয়েছে।’

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসবে চালু হচ্ছে ‘উত্তম পুরস্কার’

তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে দর্শক ও চলচ্চিত্রপ্রেমীদের আকর্ষণের কেন্দ্র কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব। আগামী ১৬ ডিসেম্বর শুরু হতে যাচ্ছে উৎসবটির ৩২তম আসর। এবারের আয়োজনে থাকছে বেশ কিছু পরিবর্তন ও নতুনত্ব। এর মধ্যে অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে যুক্ত হচ্ছে মহানায়ক উত্তম কুমারের নামে বিশেষ ‘উত্তম পুরস্কার’।   চলতি বছর মহানায়ক উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে পশ্চিমবঙ্গ সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। সেই আয়োজনের অংশ হিসেবেই কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রবর্তন করা হচ্ছে এই বিশেষ পুরস্কার। তবে কোন বিভাগে বা কী ধরনের কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ‘উত্তম পুরস্কার’ দেওয়া হবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত জানানো হয়নি।   এবারের চলচ্চিত্র উৎসব কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকছেন অভিনেতা প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জি। মুখ্য উপদেষ্টা হিসেবে থাকছেন অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত এক বৈঠকের পর আয়োজকেরা জানান, এবারের উৎসবের লোগোতেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে।   আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এবারের উৎসবের সার্বিক পরিকল্পনায় নেতৃত্ব দেবেন মিঠুন চক্রবর্তী। বৈঠকে তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জি, জিৎ, হিরণ চট্টোপাধ্যায়, অগ্নিমিত্রা পাল, রুদ্রনীল ঘোষ, রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায়, জুন মালিয়া, লকেট চট্টোপাধ্যায়, ধ্রুব বন্দ্যোপাধ্যায়, পাপিয়া অধিকারী, সুদেষ্ণা রায়, অঞ্জনা বসু, হরনাথ চক্রবর্তী ও প্রেমেন্দুবিকাশ চাকিসহ চলচ্চিত্র অঙ্গনের আরও অনেকে।   ১০ দিনব্যাপী এবারের কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব চলবে ১৬ থেকে ২৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত। ২৩ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে সমাপনী অনুষ্ঠান। সেদিনই উৎসবের বিভিন্ন বিভাগে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে।   উল্লেখ্য, কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের গত আসরে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছিলেন নির্মাতা ও অভিনেতা গৌতম ঘোষ।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
কমলা গাউনে সাফা কবিরের নতুন লুক, প্রশংসায় ভক্তরা

ছোট পর্দার পরিচিত মুখ সাফা কবির। অভিনয়ের পাশাপাশি নিজের ফ্যাশন ও ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত শেয়ার করেন এই অভিনেত্রী। এবার কমলা রঙের গাউনে তোলা কয়েকটি ছবি প্রকাশ করে আবারও ভক্তদের নজর কেড়েছেন তিনি।   শুক্রবার বিকেলে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে পাঁচটি ছবি পোস্ট করেন সাফা। ছবিগুলোতে তাকে কমলা রঙের স্লিভলেস গাউনে দেখা যায়। বিভিন্ন ভঙ্গিতে ক্যামেরার সামনে পোজ দিয়েছেন তিনি।   ছবিগুলোতে সাফার সাজ ছিল বেশ সাদামাটা ও পরিপাটি। হালকা মেকআপের সঙ্গে পোশাকের উজ্জ্বল রঙ তার লুকে আলাদা আকর্ষণ যোগ করেছে। দিনের আলোয় ঘরোয়া পরিবেশে তোলা ছবিগুলোতে স্বাভাবিক ভঙ্গিতেই ধরা দিয়েছেন অভিনেত্রী।   ছবি প্রকাশের পরপরই সাফার পোস্টে ভক্ত ও অনুসারীদের নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেকেই তার পোশাক, সাজ ও পুরো লুকের প্রশংসা করেছেন। কমেন্ট বক্সে ভালোবাসা ও শুভেচ্ছাও জানিয়েছেন অনেকে।   সাফা কবির দীর্ঘদিন ধরে নাটক, টেলিফিল্ম ও ওটিটি কনটেন্টে অভিনয় করছেন। মডেলিংয়েও রয়েছে তার পরিচিতি। অভিনয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও ফটোশুটে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সক্রিয় এই অভিনেত্রী।   নিজের কাজের আপডেটের পাশাপাশি মাঝেমধ্যেই নতুন ফটোশুটের ছবি ভক্তদের সঙ্গে ভাগ করে নেন সাফা। এবার কমলা গাউনে তার নতুন লুকও সেই ধারাবাহিকতারই অংশ।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
আমেরিকা ছেড়ে নতুন জীবনের পথে অ্যাঞ্জেলিনা জোলি

যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে অন্য দেশে পাড়ি জমানোর গুঞ্জন বেশ কিছুদিন ধরেই ছিল হলিউড তারকা অ্যাঞ্জেলিনা জোলিকে ঘিরে। এবার সেই জল্পনাই বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে। লস অ্যাঞ্জেলেসের দীর্ঘদিনের বাসিন্দা ‘লারা ক্রফট’খ্যাত এই অভিনেত্রী ছয় সন্তানই প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে নতুনভাবে জীবন কাটানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন।   ফ্যাশন ম্যাগাজিন ল’অফিশিয়েল-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জোলি জানিয়েছেন, আপাতত কোনো একটি দেশে স্থায়ীভাবে বসবাসের পরিকল্পনা নেই তার। বরং কিছু সময়ের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে বেড়িয়ে ‘যাযাবর’ জীবন উপভোগ করতে চান তিনি। নিজের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শেষ হতে চলেছে বলেও উল্লেখ করেন অস্কারজয়ী এই অভিনেত্রী।   বিশ্বভ্রমণের পরিকল্পনা প্রসঙ্গে জোলি জানান, দেশের বাইরে গেলেও এখনই কোথাও স্থায়ীভাবে বসতি গড়তে চান না। তবে নিজের মায়ের স্মৃতি এবং পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ ছবিগুলো একটি নির্দিষ্ট জায়গায় সযত্নে সংরক্ষণ করে রাখার ইচ্ছা রয়েছে তার।   যুক্তরাষ্ট্র ছাড়লেও নিজের সৃজনশীল ফ্যাশন হাউসের আন্তর্জাতিক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে চান জোলি। পাশাপাশি জাতিসংঘ ও তার অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ‘ম্যাডক্স ফাউন্ডেশন’-এর মাধ্যমে বিভিন্ন দেশে মানবিক কর্মকাণ্ডেও যুক্ত থাকবেন তিনি। শুরুতে কয়েক মাস কম্বোডিয়ায় থাকার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন এই তারকা।   এর আগে চলতি বছরের মে মাসে ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের ২৯ দশমিক ৮৫ মিলিয়ন ডলারের ঐতিহাসিক বাড়িটি বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নেন জোলি। সে সময় তার ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছিল, লস অ্যাঞ্জেলেস ছেড়ে যাওয়ার বিষয়টি বহু বছর ধরেই ভাবছিলেন তিনি।   তবে এতদিন যুক্তরাষ্ট্রে থাকার পেছনে ব্যক্তিগত ইচ্ছার পাশাপাশি আইনি বিষয়ও ছিল। সাবেক স্বামী ব্র্যাড পিটের সঙ্গে বিচ্ছেদ চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, সন্তানদের ১৮ বছর বয়স পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত জোলির যুক্তরাষ্ট্রে থাকার বাধ্যবাধকতা ছিল।   জোলি ও পিটের ছয় সন্তান হলেন ম্যাডক্স, প্যাক্স, জাহারা, শিলো এবং যমজ ভিভিয়েন ও নক্স। গত জুলাইয়ে যমজ সন্তান দুজনই ১৮ বছর পূর্ণ করায় সেই বাধ্যবাধকতাও শেষ হয়েছে।   এর আগেও লস অ্যাঞ্জেলেসে থাকা নিয়ে নিজের অসন্তোষের কথা জানিয়েছিলেন জোলি। গত আগস্টে দ্য হলিউড রিপোর্টার-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, বিবাহবিচ্ছেদের কারণে বাধ্য হয়েই তাকে লস অ্যাঞ্জেলেসে থাকতে হচ্ছে।   ব্র্যাড পিট ও অ্যাঞ্জেলিনা জোলির বিচ্ছেদের আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল ২০১৬ সালে। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর ২০২৪ সালে তাদের বিচ্ছেদ আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত হয়।

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
গাজায় ইসরায়েলি হামলা নিয়ে তথ্যচিত্রে ২৪ মিনিট ৩০ সেকেন্ড করতালি, ভেনিসে রেকর্ড

গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বেসামরিক ফিলিস্তিনিদের হত্যার পেছনে থাকা সামরিক ব্যবস্থাকে অনুসন্ধান করা ইসরায়েলি তথ্যচিত্র ‘নাজা’ ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শনের পর ২৪ মিনিট ৩০ সেকেন্ডের করতালি পেয়েছে। উৎসবের ইতিহাসে এটি অন্যতম দীর্ঘস্থায়ী করতালির ঘটনা। ৮০ মিনিটের তথ্যচিত্রটি নির্মাণ করেছেন ইসরায়েলি নির্মাতা ইউভাল আব্রাহাম ও র‍্যাচেল সোর। দুজনই ২০২৫ সালে সেরা তথ্যচিত্র বিভাগে অস্কারজয়ী ‘নো আদার ল্যান্ড’-এর পরিচালক। ওই ছবিতে ফিলিস্তিনি সহপরিচালক বাসেল আদরা ও হামদান বাল্লালের সঙ্গে তারা অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ এবং ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার চিত্র তুলে ধরেছিলেন। ‘নাজা’ নির্মাণে প্রায় তিন বছর সময় নিয়েছেন আব্রাহাম ও সোর। এ সময় তারা ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক ও বর্তমান সদস্যদের সাক্ষাৎকার নেন। নিরাপত্তাজনিত কারণে সাক্ষাৎকারদাতাদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। তাদের মুখ ও কণ্ঠ ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে পরিবর্তন করে দেওয়া হয়েছে। সাক্ষাৎকারগুলোর বেশির ভাগই তেল আবিবের বিভিন্ন ছাদে রাতের আঁধারে ধারণ করা হয়। তথ্যচিত্রটির নামও ইসরায়েলি সামরিক ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত। ‘নাজা’ ইসরায়েলি গোয়েন্দা ব্যবস্থায় ব্যবহৃত একটি শব্দ, যা কোনো বিমান হামলায় সম্ভাব্য বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা বোঝাতে ব্যবহার করা হয়। ছবিতে সাক্ষাৎকার দেওয়া সামরিক কর্মকর্তারা গাজায় লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণের পদ্ধতি এবং এআইনির্ভর প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে কথা বলেছেন। বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে ‘ল্যাভেন্ডার’ নামের একটি এআই-সহায়ক ব্যবস্থা। নির্মাতাদের দাবি, গাজায় নজরদারি করা টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক থেকে সংগৃহীত ফোনকল, মানুষের চলাচল এবং পারস্পরিক যোগাযোগের তথ্য বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য হত্যার লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করতে ‘ল্যাভেন্ডার’ ব্যবহার করা হয়েছে। তথ্যচিত্রের এক সাক্ষাৎকারদাতা এই প্রক্রিয়াকে ‘কারখানার মতো’ বলে বর্ণনা করেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিপুলসংখ্যক লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণের ক্ষেত্রে এটি ছিল একটি পদ্ধতিগত ব্যবস্থা। আরেক সাক্ষাৎকারদাতা বলেন, দূর থেকে পুরো প্রক্রিয়া পরিচালিত হওয়ায় বিষয়টি তার কাছে অনেকটা ভিডিও গেমের মতো মনে হতো। সাক্ষাৎকারে অংশ নেওয়া কয়েকজন ইসরায়েলি সামরিক সদস্য বেসামরিক মানুষের বাড়িঘর ধ্বংস, মানবিক আইন উপেক্ষা এবং ফিলিস্তিনিদের প্রতি সামরিক বাহিনীর মধ্যে তৈরি হওয়া ঘৃণার পরিবেশ নিয়েও কথা বলেছেন। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানতেন যে হামলার জন্য চিহ্নিত অনেক বাড়িতেই পরিবার বসবাস করত। নির্মাতা ইউভাল আব্রাহাম জানিয়েছেন, পশ্চিমা দেশগুলো ইসরায়েলকে দেওয়া সমর্থন পুনর্বিবেচনা করুক এবং নিষেধাজ্ঞার মতো পদক্ষেপ নিয়ে চাপ সৃষ্টি করুক—এটাই তার প্রত্যাশা। ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনে মানবাধিকার এবং রাজনৈতিক সমাধানের পক্ষে কাজ করা ব্যক্তিদের অবস্থান শক্তিশালী করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন বলেও মনে করেন তিনি। আব্রাহাম ও সোর ‘+৯৭২ ম্যাগাজিন’-এ যৌথভাবে লিখেছেন, তাদের অনুসন্ধানে গাজায় ফিলিস্তিনি বেসামরিক মানুষ হত্যাকে শুধু যুদ্ধের অনিচ্ছাকৃত বা দুঃখজনক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তাদের তথ্যচিত্রের উপসংহার অনুযায়ী, এসব হত্যাকাণ্ড পরিকল্পিত ও হিসাব করে পরিচালিত কর্মকাণ্ডের অংশ ছিল। ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবের মূল প্রতিযোগিতা বিভাগে ‘নাজা’ শেষ মুহূর্তে যুক্ত হয়। জুলাইয়ে উৎসবের প্রাথমিক তালিকা প্রকাশের প্রায় এক মাস পর ছবিটিকে প্রতিযোগিতায় নেওয়া হয়। নির্মাতারা জানিয়েছেন, প্রায় তিন বছর ধরে কাজ চলায় শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তারা ছবিটি সম্পন্ন করার চেষ্টা করছিলেন। ভেনিসে প্রদর্শনী শেষে আব্রাহাম ও সোরকে আবেগাপ্লুত দেখা যায়। দর্শকদের মধ্যেও ছিল তীব্র প্রতিক্রিয়া। কয়েকজন দর্শক ফিলিস্তিনি পতাকা তুলে ধরেন। ছবিটির নির্বাহী প্রযোজক ও অস্কারজয়ী নির্মাতা জোনাথন গ্লেজারও নির্মাতাদের পাশে দাঁড়িয়ে করতালিতে অংশ নেন। ‘দ্য জোন অব ইন্টারেস্ট’-এর প্রযোজক জেমস উইলসনের সঙ্গে গ্লেজার এই তথ্যচিত্রের প্রযোজনার সঙ্গেও যুক্ত। এর আগে ভেনিসে সবচেয়ে দীর্ঘ স্ট্যান্ডিং ওভেশনের রেকর্ড ছিল ‘দ্য ভয়েস অব হিন্দ রজব’ ছবির দখলে। ২০২৫ সালে গাজাভিত্তিক ওই ছবির প্রদর্শনী শেষে নির্মাতা কাউথের বেন হানিয়া প্রায় ২২ থেকে ২৩ মিনিট করতালি পেয়েছিলেন। পরে ছবিটি উৎসবের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পুরস্কারও অর্জন করে। এবারের উৎসবে বেন হানিয়া বিচারকমণ্ডলীর সদস্য। এবারের ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবের মূল প্রতিযোগিতায় জায়গা পাওয়া একমাত্র তথ্যচিত্র ‘নাজা’। আগামীকাল শনিবার উৎসবের পুরস্কার ঘোষণা হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে প্রায় ২৫ মিনিটের কাছাকাছি দর্শক অভ্যর্থনা ছবিটিকে এবারের উৎসবের আলোচিত চলচ্চিত্রগুলোর একটি করে তুলেছে। গাজা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে নির্মিত ‘নাজা’তে যুদ্ধের প্রযুক্তি, এআইয়ের ব্যবহার এবং বেসামরিক মানুষের জীবনের ওপর এর প্রভাব অনুসন্ধান করা হয়েছে। ভেনিসে দীর্ঘস্থায়ী দর্শক প্রতিক্রিয়ার পর এসব বিষয় নিয়ে ছবিটির আলোচনা আরও বিস্তৃত হয়েছে।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
মঞ্চে ‘রণডঙ্কা’, উঠে এলো নূরলদীনের কৃষক বিদ্রোহের ইতিহাস

ঐতিহাসিক নূরলদীন কৃষক বিদ্রোহের পটভূমিতে নির্মিত মঞ্চনাটক ‘রণডঙ্কা’ প্রদর্শিত হয়েছে রংপুরে। বিকন নাট্যকেন্দ্রের আয়োজনে বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাতে রংপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমির মিলনায়তনে নাটকটি মঞ্চস্থ হয়।   বিকন নাট্যকেন্দ্রের ৩৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী কর্মসূচির প্রথম দিনে নাটকটির প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়।   নাটকটিতে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শোষণমূলক করব্যবস্থা এবং ইজারাদার দেবী সিংহের নির্যাতনের বিরুদ্ধে রংপুর অঞ্চলের কৃষকদের ঐতিহাসিক প্রতিরোধের কাহিনি তুলে ধরা হয়েছে। এর কেন্দ্রীয় চরিত্র নূরলদীনের নেতৃত্বে সাধারণ কৃষকদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে যাওয়ার ইতিহাসই নাটকের মূল উপজীব্য।   রংপুরের আঞ্চলিক ভাষা ও সংস্কৃতির ব্যবহার নাটকটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য। এর মাধ্যমে তৎকালীন মানুষের জীবনসংগ্রাম, দুঃখ-কষ্ট এবং শোষণের চিত্র দর্শকদের সামনে তুলে ধরা হয়।   ‘রণডঙ্কা’ নাটকটি রচনা ও নির্দেশনা দিয়েছেন নাট্যনির্মাতা আরিফুল হক রুজু। প্রায় ৫০ মিনিটের এই প্রযোজনায় বিকন নাট্যকেন্দ্রের নতুন ও পুরোনো মিলিয়ে ১৪ জন শিল্পী অভিনয় করেন।   নাটকের পরিবেশনায় পলাশীর প্রান্তর থেকে শুরু করে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ৩ মার্চ পর্যন্ত দীর্ঘ ঐতিহাসিক পর্বকে বিভিন্ন অভিনয়শৈলীর মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়েছে।   নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্র নূরলদীনে অভিনয় করা ভূপেন পাল বলেন, দেশের মানুষের ওপর যখনই অন্যায়-অত্যাচার নেমে আসে কিংবা রাজনৈতিক ও সামাজিক সংকট তৈরি হয়, তখন নূরলদীনের সংগ্রামী চেতনা নতুন করে স্মরণ করা হয়। তার মতে, নূরলদীন কেবল ইতিহাসের একটি চরিত্র নন; তিনি শোষণ ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের প্রতিরোধের প্রতীক।   নাট্যকার ও নির্দেশক আরিফুল হক রুজু বলেন, নতুন প্রজন্মের সামনে দেশের ইতিহাসকে জীবন্ত করে তোলার প্রয়োজন রয়েছে। পলাশী থেকে মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত দীর্ঘ সময়ের ইতিহাসে রংপুরের মানুষের আন্দোলন, সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় রয়েছে। ‘রণডঙ্কা’র মাধ্যমে সেই ইতিহাসই দর্শকদের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।   তিনি আরও বলেন, নূরলদীনের সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় রংপুরের মানুষ পরবর্তী সময়েও বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে নিজেদের অবদান রেখেছে। তাদের আত্মত্যাগ ও ঐতিহাসিক ভূমিকা যেন বিস্মৃত না হয়, সে লক্ষ্যেই নাটকটি নির্মাণ করা হয়েছে।   নাটকটি দেখতে আসা দর্শকরাও এর প্রশংসা করেন। দীর্ঘদিন পর মঞ্চনাটক দেখতে আসা অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক সিদ্দিকুর রহমান বলেন, রংপুরের মানুষের আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাসকে আবেগ ও বেদনার সঙ্গে নাটকের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। এমন ইতিহাসনির্ভর নাটকের নিয়মিত মঞ্চায়ন হওয়া প্রয়োজন।   দর্শকদের ভাষ্য, ‘রণডঙ্কা’ শুধু একটি নাট্যপ্রদর্শনী নয়; বরং রংপুরের কৃষক বিদ্রোহ ও মানুষের দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাসকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
দ্বিতীয় সন্তানকে ঘিরে নতুন ফ্রেমে রণবীর-দীপিকা, সঙ্গে মেয়ে দুয়া

তারকা দম্পতি রণবীর সিং ও দীপিকা পাড়ুকোনের জীবনে এসেছে নতুন আনন্দ। দ্বিতীয় সন্তানের আগমন ঘিরে বিশেষ মুহূর্তের ছবি সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করেছেন তারা। ছবিগুলোতে প্রথম সন্তানের সময়কার সেই পরিচিত সাদাকালো আবহের ছোঁয়া থাকলেও এবার ফ্রেমে যুক্ত হয়েছে তাদের মেয়ে দুয়া।   প্রথম সন্তান দুয়াকে স্বাগত জানানোর সময়ও একই ধরনের সাদাকালো ফ্রেমে ক্যামেরাবন্দি হয়েছিলেন রণবীর ও দীপিকা। কয়েক বছর পর এবার সেই স্মৃতির সঙ্গে নতুন অধ্যায় যোগ হয়েছে। মা-বাবার সঙ্গে ফ্রেমে দেখা গেছে ছোট্ট দুয়াকেও।   দুয়ার জন্মদিন উপলক্ষে ইনস্টাগ্রামে মাতৃত্বকালীন ফটোশুটের বেশ কিছু ছবি প্রকাশ করেন এই তারকা দম্পতি। ছবিতে দীপিকাকে সাদা লেসের পোশাকে দেখা যায়। পাশে রণবীর এবং তাদের মেয়ে দুয়াও ছিলেন মানানসই পোশাকে।   একটি ছবিতে রণবীরকে দীপিকার বেবি বাম্পে হাত রেখে মমতাভরা দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতে দেখা যায়। দুয়াও কৌতূহলী ভঙ্গিতে মায়ের গর্ভে থাকা নতুন অতিথির দিকে হাত বাড়িয়ে দিয়েছে।   ছবিগুলো শেয়ার করে রণবীর-দীপিকা লিখেছেন, ‘দুয়া ও আমাদের নতুন অতিথি এখন আরও বড় হচ্ছে! সবার আশীর্বাদের জন্য ধন্যবাদ।’   দ্বিতীয় সন্তান আসার ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই দম্পতিকে শুভেচ্ছা জানিয়ে আসছেন ভক্ত ও সহকর্মীরা। নতুন ছবিগুলো প্রকাশের পরও বলিউডের একাধিক তারকা তাদের ভালোবাসা ও শুভকামনা জানিয়েছেন।   বরুণ ধাওয়ান, অর্জুন রামপাল, প্রীতি জিনতা, নীনা গুপ্তা ও কাজল আগরওয়ালের মতো তারকারাও দম্পতিকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।   এদিকে নতুন ছবিগুলো প্রকাশের পর রণবীর-দীপিকার পারিবারিক মুহূর্তটি ভক্তদের মধ্যেও বেশ সাড়া ফেলেছে। প্রথম সন্তানের সময়কার স্মৃতিকে নতুন অতিথিকে ঘিরে বর্তমান আনন্দের সঙ্গে মিলিয়ে দেওয়ায় ছবিগুলো হয়ে উঠেছে আরও বিশেষ।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ভেনিসে আলোচনায় ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’, কী বলছেন আন্তর্জাতিক সমালোচকরা

বাংলাদেশি নির্মাতা রুবাইয়াত হোসেনের চতুর্থ পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের ৮৩তম আসরে সিনেমাটির প্রিমিয়ার হয়েছে। পাশাপাশি লন্ডন ও টরন্টো চলচ্চিত্র উৎসবেও এটি অফিসিয়াল সিলেকশন পেয়েছে।   উৎসবগুলোতে প্রদর্শনের পর আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রবিষয়ক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও রিভিউ প্ল্যাটফর্মে সিনেমাটি নিয়ে পর্যালোচনা প্রকাশিত হয়েছে। সৌন্দর্যচর্চার চাপ, নারীর মানসিক টানাপোড়েন, সামাজিক শ্রেণিবৈষম্য এবং বডি-হররের মতো বিষয়কে একসঙ্গে তুলে ধরার কারণে ছবিটি সমালোচকদের নজরে এসেছে।   ইন্ডিওয়্যার: সম্ভাবনা থাকলেও গল্পে গভীরতার ঘাটতি: আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ইন্ডিওয়্যারে সিনেমাটি নিয়ে লিখেছেন সমালোচক মিরিয়াম বালানেস্কু। তার মতে, বিয়ে ও সৌন্দর্যচর্চাকে কেন্দ্র করে নির্মিত হলেও ছবিটির মূল আলোচনার জায়গা বাংলাদেশের সামাজিক শ্রেণিবৈষম্য এবং নারীর অবস্থান। ঢাকার একটি বিউটি পার্লারকে কেন্দ্র করে গল্প এগিয়েছে। সেখানে একদিকে বিলাসী পোশাক, আয়না, ফুল ও সাজসজ্জার জগত, অন্যদিকে শহরের দরিদ্র মানুষের জীবনযাপন—দুটি ভিন্ন বাস্তবতা পাশাপাশি তুলে ধরা হয়েছে। এর সঙ্গে মৃত এক সাবেক কনের আত্মা, শরীরে ক্ষত, রক্ত ও নানা অস্বস্তিকর দৃশ্য ছবিতে ভৌতিক আবহ তৈরি করেছে। সমালোচকের মতে, বিষয়বস্তুর কারণে সিনেমাটি সহজেই গতানুগতিক ভূতের গল্পে পরিণত হতে পারত। তবে তা হয়নি। বরং জাইনিন ও নিম্নবিত্ত নারী মিনোতির সম্পর্কের মধ্য দিয়ে শ্রেণিগত বৈষম্য ও নারীর স্বাধীনতার পার্থক্য তুলে ধরা হয়েছে। তবে ইন্ডিওয়্যারের পর্যালোচনায় ছবিটির দুর্বলতাও উঠে এসেছে। সমালোচকের মতে, সৌন্দর্য, নারী ও শ্রেণিবৈষম্য নিয়ে আরও গভীরে যাওয়ার সুযোগ থাকলেও শেষ পর্যন্ত কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর অমীমাংসিত থেকে গেছে। ইন্ডিওয়্যার সিনেমাটিকে ‘C’ গ্রেড দিয়েছে।   আই ফর ফিল্ম: মনস্তাত্ত্বিক চাপের সঙ্গে বডি-হরর: ‘আই ফর ফিল্ম’-এর সমালোচক অ্যাম্বার উইলকিনসন ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’-কে মনস্তাত্ত্বিক ড্রামা, বডি-হরর ও ভূতের গল্পের সংমিশ্রণ হিসেবে দেখেছেন। তার মতে, বিয়ের আগে নিজেকে সমাজের নির্ধারিত সৌন্দর্যের মানদণ্ডে নিয়ে আসার জন্য জাইনিনের ওপর পরিবার ও সমাজের চাপই গল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক। ওজন কমানো, ত্বকের চিকিৎসা এবং বিভিন্ন প্রসাধনী প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাওয়ার বিষয়গুলোকে সিনেমায় আনন্দের প্রস্তুতির পরিবর্তে এক ধরনের মানসিক চাপ ও হুমকি হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। সিনেমার আবহ, শব্দ পরিকল্পনা ও ক্যামেরার ব্যবহারও প্রশংসা পেয়েছে। সাজসজ্জা ও সৌন্দর্যের দৃশ্যগুলোকে শব্দ ও ভিজ্যুয়াল নির্মাণের মাধ্যমে অস্বস্তিকর করে তোলা হয়েছে। শরীরের ভেতর অস্বাভাবিক কিছু চলাচলের অনুভূতি, নিজের শরীর আঁচড়ানোর দৃশ্য এবং মৃত কনের উপস্থিতি ভৌতিক আবহকে আরও জোরালো করেছে। জাইনিন চৌধুরী করিমের অভিনয়ও সমালোচকের প্রশংসা পেয়েছে। তবে বডি-হররের মাত্রা কিছু দর্শকের কাছে কম মনে হতে পারে এবং সিনেমায় উত্থাপিত কয়েকটি সামাজিক প্রশ্নের পুরোপুরি সমাধান মেলে না বলেও মন্তব্য করা হয়েছে।   এশিয়ান মুভি পালস: নারীর স্বাধীনতা ও পুরুষতান্ত্রিক সমাজ: এশিয়ান মুভি পালস-এ সিনেমাটি নিয়ে লিখেছেন সমালোচক তোবিয়াস দুনিন। তার পর্যালোচনায় পুরুষতান্ত্রিক সামাজিক কাঠামোর কারণে নারীর মানসিক চাপ ও একাকিত্বের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। তার মতে, ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ কেবল একজন নারীর বিয়ের প্রস্তুতির গল্প নয়। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের সামাজিক বৈষম্য, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও আন্দোলনের মতো বৃহত্তর বাস্তবতাও গল্পে স্থান পেয়েছে। চিত্রগ্রাহক লিওনোর তেলেসের ক্লোজ-আপ শট এবং আয়নার ব্যবহার জাইনিনের বন্দিত্ব ও অন্যের দৃষ্টির মধ্যে থাকার অনুভূতিকে আরও তীব্র করেছে বলে মনে করেন তিনি। সহকারী পরিচালক থেকে প্রধান অভিনেত্রী হওয়া জাইনিন চৌধুরী করিমের অভিনয়েরও প্রশংসা করেছেন এই সমালোচক। নিজের শরীর নিয়ে দ্বিধা, পারিবারিক প্রত্যাশা এবং মানসিক চাপের মধ্যে থাকা এক নারীর চরিত্রে তার অভিনয়কে শক্তিশালী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে মিনতির চরিত্রে রিকিতা নন্দিনী শিমুর অভিনয় এবং দুই নারীর মধ্যকার শ্রেণিগত ব্যবধানও সিনেমাটিকে বাড়তি মাত্রা দিয়েছে বলে মনে করেন তিনি। সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক সমালোচকদের পর্যালোচনায় ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’-এর গল্প, অভিনয়, ভিজ্যুয়াল নির্মাণ এবং সামাজিক বক্তব্যের প্রশংসার পাশাপাশি কিছু সীমাবদ্ধতার কথাও উঠে এসেছে। তবে বাংলাদেশের নিজস্ব সামাজিক বাস্তবতা থেকে উঠে আসা সৌন্দর্যচর্চা, নারীর ওপর সামাজিক চাপ ও শ্রেণিবৈষম্যের বিষয়গুলো আন্তর্জাতিক দর্শকের সামনে তুলে ধরার ক্ষেত্রে সিনেমাটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬
এআই দিয়ে এসব ছবি বানাতে গিয়ে অনেকেই পড়তে পারেন অনাকাঙ্ক্ষিত বিপদে
এআই অ্যাপে ছবি শেয়ারে সতর্কতা: ট্রেন্ডের আড়ালে ডিপফেকের চরম ঝুঁকি

ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রাম খুললেই এখন চোখে পড়ে বন্ধুদের নব্বই দশকের চেনা-অচেনা সব রূপ। কারো পরনে সেই সময়ের পোশাক, কারো পেছনে পুরোনো ঢাকার আমেজ, আবার কেউ বনে গেছেন পুরোনো সিনেমার নায়ক-নায়িকা!      আর এই জাদু দেখাতে কোনো স্টুডিও বা ক্যামেরার দরকার হচ্ছে না; একটি মাত্র এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) অ্যাপে নিজের ছবি দিলেই কেল্লাফতে! মাত্র কয়েক সেকেন্ডেই বদলে যাচ্ছে চেহারা, চুলের ছাঁট আর পেছনের পরিবেশ।       বিনোদনের জন্য এই ট্রেন্ড দারুণ হলেও, এর আড়ালে লুকিয়ে আছে এক বড় প্রশ্ন—আমরা কি নিজেদের অজান্তেই সব ব্যক্তিগত তথ্য এআইয়ের হাতে তুলে দিচ্ছি?       এআই প্ল্যাটফর্মে ছবি আপলোড করার মানে শুধু নিজের চেহারাই নয়, বরং ছবির পেছনের ঘরবাড়ি, অফিসের আইডি কার্ড, কিংবা মেটাডেটায় থাকা লোকেশনের তথ্যও তাদের কাছে পৌঁছে যাওয়া। পাসওয়ার্ড চুরি হলে তা সহজে বদলে ফেলা যায়, কিন্তু মানুষের মুখের গঠন তো আর বদলানো যায় না! তাই কোনো অপরিচিত অ্যাপে হুড়মুড় করে ছবি আপলোড করার আগে কিছু বিষয় জেনে রাখা খুব দরকার।     ছবি দেওয়ার আগে যে বিষয়গুলো খেয়াল রাখবেন:   মেয়াদ ও নিয়মকানুন: অ্যাপটি আপনার ছবি কতদিন জমা রাখবে, কাজ শেষে মুছে ফেলবে কি না, কিংবা আপনার ছবি দিয়ে তাদের এআই মডেলকে নতুন করে প্রশিক্ষণ দেবে কি না—সেসব শর্ত আগেই দেখে নিন।     অপ্রয়োজনীয় অনুমতি এড়িয়ে চলুন: একটি ছবি এডিট করতে গিয়ে পুরো ফোনের গ্যালারি, লোকেশন, ক্যামেরা বা কন্টাক্টসের পারমিশন (‘Allow All Photos’) দেওয়ার কোনো দরকার নেই। শুধু যে ছবিটি এডিট করবেন, সেটুকুরই অ্যাকসেস দিন।     জাতীয় পরিচয়পত্র ও গোপন নথি নয়: জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স বা ব্যাংক কার্ডের মতো সংবেদনশীল কোনো কাগজপত্রের ছবি ভুলেও এআই টুলে দেবেন না।     ছবি মুছলেই কি সব শেষ?: অ্যাপ থেকে ছবি বা অ্যাকাউন্ট ডিলিট করে দিলেই তথ্য যে তাদের সার্ভার থেকে পুরোপুরি মুছে যায়, তা কিন্তু নাও হতে পারে। অনেক সময় তাদের ব্যাকআপ সার্ভারে তথ্য থেকে যায়।     আজকের রেট্রো লুক, কালকের ‘ডিপফেক’?   আপনার ছবি আর কণ্ঠের নমুনা যদি সহজে অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ে, তবে অসৎ উদ্দেশ্যে তা ব্যবহার করে ভুয়া প্রোফাইল বা বিভ্রান্তিকর 'ডিপফেক' ভিডিও বানিয়ে ফেলা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।     তবে তাই বলে কি এআই ব্যবহার একেবারেই বন্ধ করে দেবেন? একদমই নয়! এআই আমাদের ফটো এডিটিংয়ের কাজকে যেমন সহজ করেছে, তেমনি কম সময়ে সৃজনশীল ভাবনার চমৎকার সুযোগ এনে দিয়েছে। শুধু খেয়াল রাখুন—আজকের এই চমৎকার রেট্রো লুক কালকেই পুরোনো হয়ে যাবে, কিন্তু অনলাইনে একবার যে তথ্যটা চলে গেল, তা কিন্তু এত সহজে মুছবে না। তাই ট্রেন্ডে মেতে উঠুন, তবে নিজের তথ্যের লাগামটা থাকুক নিজের হাতেই!

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬
হৃদরোগ ও ঘুমের ধরন: যে ভঙ্গিতে ঘুমানো এড়িয়ে চলবেন

ঘুমের সময় আমরা কোন ভঙ্গিতে শুয়ে থাকছি, তা শুধু আরামের বিষয় নয়। বিশেষ করে হৃদরোগে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে ঘুমের অবস্থান কখনো কখনো শ্বাস-প্রশ্বাস ও শারীরিক অস্বস্তির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।     তাহলে হার্টের রোগীদের জন্য কোন ভঙ্গিতে ঘুমানো সবচেয়ে ভালো? খবর হিন্দুস্তান টাইমস কার্ডিওথোরাসিক সার্জন ডা. সৌরভ জুনেজার মতে, সব হার্টের রোগীর জন্য নির্দিষ্ট কোনো একটি ঘুমের ভঙ্গি সেরা নয়। ব্যক্তির হৃদরোগের ধরন, শ্বাসকষ্ট ও অন্যান্য উপসর্গের ওপর বিষয়টি নির্ভর করে। যে অবস্থায় স্বস্তিতে এবং কোনো ধরনের শ্বাসকষ্ট ছাড়াই ঘুমানো যায়, সেটিই সাধারণত সবচেয়ে ভালো।     এক কাতে ঘুমানো কি নিরাপদ? অনেক হৃদ্‌রোগীর জন্য এক কাতে ঘুমানো আরামদায়ক হতে পারে।     বাঁ কাতে ঘুমানো নিয়ে নানা আলোচনা থাকলেও, সবার জন্য এটিই সবচেয়ে ভালো এমনটা বলা যায় না। যাদের শুয়ে থাকলে শ্বাসকষ্ট বাড়ে, তারা শরীরের ওপরের অংশ কিছুটা উঁচু করে বা এক কাতে শুয়ে আরাম পেতে পারেন। বিশেষ করে হৃদ্‌যন্ত্রের দুর্বলতার কারণে যাদের শ্বাসকষ্ট হয়, তারা বালিশ দিয়ে মাথা ও বুক কিছুটা উঁচু করে ঘুমালে উপকার পেতে পারেন।     চিৎ হয়ে ঘুমানো কি ক্ষতিকর চিৎ হয়ে ঘুমানো নিজে থেকে হৃদ্‌রোগীদের জন্য ক্ষতিকর নয়।     তবে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে, বিশেষ করে শরীরে অতিরিক্ত তরল জমা বা হার্ট ফেইলিউরের সমস্যা থাকলে, একেবারে সমতল হয়ে শুলে শ্বাসকষ্ট বেড়ে যেতে পারে। রাতে ঘুমানোর সময় বারবার শ্বাসকষ্টে জেগে ওঠা, শুয়ে পড়ার পরপরই হাঁপিয়ে ওঠা কিংবা ঘুমাতে অনেকগুলো বালিশের প্রয়োজন হওয়াকে শুধু ‘ভুলভাবে ঘুমানোর’ সমস্যা মনে করা উচিত নয়। এগুলো হৃদ্‌যন্ত্রের সমস্যার সতর্কসংকেতও হতে পারে।     যেসব লক্ষণ অবহেলা করা যাবে না : রাতে শোয়ার পর যদি— শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায়, হঠাৎ দম বন্ধ লাগায় ঘুম ভেঙে যায়, পা ফুলে যায়, অল্প সময়ে অস্বাভাবিকভাবে ওজন বেড়ে যায়,     তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া জরুরি।       হার্টের রোগীদের জন্য একেবারে নিষিদ্ধ কোনো নির্দিষ্ট ঘুমের ভঙ্গি নেই।     তবে উপুড় হয়ে শুলে যদি বুকে চাপ লাগে বা শ্বাস নিতে সমস্যা হয়, তাহলে সেই অবস্থায় ঘুমানো এড়িয়ে চলাই ভালো।সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো যে ভঙ্গিতে বুক ব্যথা, তীব্র শ্বাসকষ্ট, মাথা ঘোরা বা অস্বাভাবিক অস্বস্তি হয়, সেই ভঙ্গিতে জোর করে ঘুমানো উচিত নয়। বারবার একই সমস্যা হলে ঘুমের ভঙ্গি বদলানোর পাশাপাশি চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া ভালো। 

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৬
ঢালিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী পূজা চেরি।
জীবনের পরের ঢেউ যেদিকেই ভাসিয়ে নিক, শান্তিতে থাকতে প্রস্তুত: পূজা চেরী

সম্প্রতি ঢালিউড অভিনেত্রী পূজা চেরীকে নিয়ে বেশ কয়েক দিন ধরে সামাজিক মাধ্যমে নেটিজেনদের মাঝে বিয়ের জল্পনা-কল্পনা চলছে। আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর নাকি বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হতে পারে অভিনেত্রীর। যদিও তিনি এ খবর মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।  অভিনেত্রী বলেছেন, 'তার বিয়ের তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি।'  ] চলতি বছরের মার্চে এক সাক্ষাৎকারে তিনি এনগেজড বলে জানিয়েছিলেন। পূজা বলেন, ‘আমি এনগেজড, কিন্তু আমি বিয়ে করিনি। আমার বিয়ের ডেটও ফিক্সড হয়নি। হলে আমি জানাবো।’  তার জীবনসঙ্গী মিডিয়াঙ্গনের কেউ নন বলেও জানিয়েছিলেন তিনি। তবে সেই সময় পাত্রের পরিচয় কিংবা বিয়ের দিনক্ষণ প্রকাশ করেননি পূজা চেরী।   তবে এ মুহূর্তে অভিনেত্রী বেশ নজর কাড়ছেন নেটিজেনদের। কারণ অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি নান্দনিক ফ্যাশন ও আকর্ষণীয় লুকের কারণেও নিয়মিত আলোচনায় থাকেন। এবারও লাল জবা ফুলে সাজানো মায়াবী রূপে ভক্তদের নজর কেড়েছেন অভিনেত্রী।   সামাজিক মাধ্যমে বেশ কিছু ছবি পোস্ট করেছেন পূজা চেরী। সেই ছবিগুলো প্রকাশের পরপরই শুরু হয়েছে ভক্ত-অনুরাগীসহ নেটিজেনদের মাঝে নানা গুঞ্জন। ভক্তদের অনেকেই তার এ নতুন লুকের প্রশংসায় মেতেছেন।   জবা ফুল দিয়ে মুখের একাংশ আড়াল করা ক্লোজআপ ছবিটি বাড়িয়েছে তার লুকের রহস্যময়তা। সেই সঙ্গে হালকা সবুজ ও গোলাপি শেডের পোশাকের সঙ্গে লাল জবার এই বৈপরীত্য পূজার সৌন্দর্যকে আরও ফুটিয়ে তুলেছে। প্রকৃতির মাঝে তার এই স্নিগ্ধ উপস্থিতি সহজেই নজর কেড়েছে নেটিজেনদের। সেই ছবিগুলোর সঙ্গে নিজের অনুভূতিও প্রকাশ করেছেন অভিনেত্রী।  ছবির ক্যাপশনে পূজা চেরী লিখেছেন— ‘কখনো এই মুহূর্তের সৌন্দর্যে হারিয়ে যাই, কখনো জীবনের রঙে মুগ্ধ হই। জীবনের পরের ঢেউ আমাকে যেদিকেই ভাসিয়ে নিক, আমি সেখানেই শান্তিতে থাকতে প্রস্তুত।’    পূজা চেরীর এ পোস্টের পর মন্তব্যের ঘরে ভক্ত-অনুরাগীদের ভালোবাসা ও প্রশংসায় ভরে গেছে। কেউ মুগ্ধ হয়েছেন তার সৌন্দর্য প্রশংসা করেছেন, আবার কেউ তার ফ্যাশন ও নান্দনিক উপস্থাপনার প্রশংসা করেছেন। সব মিলিয়ে লাল জবা ফুলে অভিনেত্রীর এই নতুন রূপ আবারও যৌবনের ডাক আলোচনায় এনেছে।   পোস্ট করা ছবিগুলোতে পূজাকে দেখা গেছে ভিন্ন ভিন্ন মেজাজে। একটি ছবিতে কোনো এক মনোরম ক্যাফেতে বসে সময় কাটাতে দেখা যায় তাকে। আবার সামনে রাখা কফির মগ ও ফলের জুস। সাদা রঙের লেসের কাজ করা টপস, আর চোখে সানগ্লাস।— সব মিলিয়ে তার ক্যাজুয়াল লুকটিও ছিল বেশ আকর্ষণীয়।   আরেক ছবিতে অবশ্য আরও নান্দনিক রূপে ধরা দিয়েছেন পূজা চেরী। সবুজ গাছপালায় ঘেরা শান্ত পরিবেশে পাথুরে পথের পাশে দাঁড়িয়ে পোজ দিয়েছেন অভিনেত্রী। আর হাতে ও মুখের পাশে ছিল উজ্জ্বল লাল জবা ফুল। 

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
মেয়ের জন্মদিনে আসন্ন সন্তান নিয়ে বার্তা দীপিকা-রণবীরের

বলিউড অভিনেতা রণবীর সিং বর্তমানে ‘প্রলয়’ সিনেমার শুটিং নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। তবে দ্বিতীয় সন্তানের বাবা হওয়ার পর তিনি নাকি সংসারে মন দেবেন বলে জানিয়েছেন।   রণবীর সিং আগস্ট মাস থেকে তার নতুন সিনেমা ‘প্রলয়’-এর কাজ শুরু করেছিলেন। দীপাবলি পর্যন্ত শুটিং করবেন এ অভিনেতা। এরপর তিনি পিতৃত্বকালীন ছুটিতে যাবেন। আগামী ২০২৭ সালে ফের সিনেমার দ্বিতীয় দফার শুটিং শুরু হওয়ার কথা।   অন্যদিকে মা হওয়ার পর অভিনেত্রী দীপিকা পাড়ুকোন শর্ত দিয়েছিলেন— আট ঘণ্টার বেশি কাজ করবেন না। কন্যা দুয়ার সঙ্গে সময় কাটাবেন। তবে রণবীর ব্যস্ত ছিলেন সেই সময়ে ‘ধুরন্ধর’ সিনেমার শুটিং নিয়ে। কিন্তু দ্বিতীয় সন্তানের জন্মের পর সংসারে সময় দিতে চাইছেন রণবীর।   দ্বিতীয় সন্তানের অপেক্ষায় দিন গুনছেন দীপিকা পাড়ুোকন ও রণবীর সিং। এর মধ্যেই দেখতে দেখতে দুয়া পাড়ুকোন সিংয়ের বয়স দুই বছর হয়ে গেল। বাবা-মায়ের মধ্যমণি সে। কন্যার জন্মদিনের একগুচ্ছ ছবি সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করে নিলেন এ তারকা দম্পতি।   সেই সঙ্গে অভিনেত্রীর মাতৃত্বের দুই বছর পূর্ণ হলো মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর)। এই দিনে দীপিকার স্ফীতোদরও প্রকাশ্যে এলো। আসন্ন সন্তানও তাদের ভাগ করা ছবিতে জায়গা করে নিল।    সাদা রঙের লেসের তৈরি প্যান্ট ও ক্রপ টপ, মুখ প্রসাধনহীন। এমন বেশে দেখা গেছে দীপিকা  পাড়ুকোনকে। রণবীরের পরনেও ছিল সাদা রঙের প্যান্ট ও লিনেন শার্ট। আর ছোট্ট দুয়ার পরনেও সাদা রঙের ফ্রিল দেওয়া টপ ও প্যান্ট। মাথায় ফিতে দিয়ে বাঁধা ঝুঁটি। বাবা-মায়ের সঙ্গে হাসির ফোয়ারা তার মুখেও।   একটি ছবিতে দেখা গেছে, দীপিকা ও রণবীরের মাঝখানে দাঁড়িয়ে ছোট্ট দুয়া। সে মুখ ঢেকে আহ্লাদিত হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আবার কোথাও দেখা যাচ্ছে দীপিকার স্ফীতোদর ছুঁয়ে দেখছে দুয়া ও রণবীর। আরেক ছবিতে দেখা গেছে, দুয়াকে কোলে নিয়ে খেলছেন রণবীর সিং।   সামাজিক মাধ্যমে ছবিগুলো শেয়ার করে ক্যাপশনে দীপিকা ও রণবীর লিখেছেন— বেবি দুয়া এবং আমাদের মন— দুটোই বড় হচ্ছে। আপনাদের আশীর্বাদের জন্য ধন্যবাদ।    দুয়াকে ভক্ত-অনুরাগীরা জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। আর আসন্ন সন্তানের জন্য তারকা দম্পতিকেও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তারা।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ফিট থাকার রহস্য জানালেন মালাইকা

বলিউডের মডেল-অভিনেত্রী মালাইকা অরোরার ফিটনেস নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে নেটিজেনদের মাঝে বেশ আলোচনার ঝড় ওঠে। যতই দিন যাচ্ছে, ততই যেন মোহময়ী হয়ে উঠছেন অভিনেত্রী। এমন চেহারা ধরে রাখতে যে ধরনের ব্যায়াম করা জরুরি তা নিজেই শিখিয়ে দিলেন তিনি।   আপনি ব্যায়াম করেও পেটের মেদ কমাতে পারছে না। ভুঁড়ি দিন দিন বেড়েই চলেছে। পূজার আগে রোগা হওয়ার চেষ্টা চালাতে অনেকেই কঠোর ডায়েট শুরু করে দিয়েছেন। একবেলা উপোস করে ওজন কমানোর চেষ্টা করে যাচ্ছেন। তবে খাওয়া-দাওয়া যদি পছন্দমতো করেও ওজন কমাতে হয়, তাহলে ব্যায়াম করতে হবে।    সামাজিক মাধ্যমে নিজের ইনস্টাগ্রামে প্রায়ই নানা ধরনের ব্যায়ামের পদ্ধতি শেখান মালাইকা অরোরা। অভিনেত্রীর ফিটনেস নিয়ে আলোচনা সর্বত্রই। পেট-কোমর ও নিতম্বের মেদ কমাতে কেমন ব্যায়াম করা উচিত তা শিখিয়ে দিয়েছেন তিনি। তার মতো নির্মেদ চেহারা পাওয়া অসম্ভব নয়। যোগাসনের কিছু পদ্ধতিতেই তা সম্ভব করে গড়ে তুলবে।   অভিনেত্রী জানিয়েছেন, ৪০ পেরিয়ে অনেকের পক্ষেই জিমে গিয়ে ভারি যন্ত্রপাতি নিয়ে ব্যায়াম করা সম্ভব হয় না। তাই যোগাসনই ভালো বিকল্প হতে পারে। সঠিক নিয়ম মেনে অভ্যাস করলে পুরো শরীরের মেদ ঝরবে। এর পাশাপাশি পিঠ ও কোমরের পেশির জড়তাও দূর হবে। চলুন পূজার আগেই ছিপছিপে হবে চেহারা, জেনে নেওয়া যাক কীভাবে—   কপোতাসন প্রথমে ম্যাটের ওপর হামাগুঁড়ি দেওয়ার ভঙ্গিতে বসুন। এবার ডান হাঁটু ভাঁজ করে বাঁ হাতের পাশ দিয়ে প্রসারিত করুন। বাঁ পা ঠেলে দিন পেছনের দিকে। এবার দুই হাতের তালু মাটিতে রাখুন। ঘাড়, পিঠ ও কোমর থাকবে টান টান। এ অবস্থান ধরে রাখুন ১০ সেকেন্ড। এবার বাঁ হাঁটু উল্টো দিকে ভাঁজ করে কোমরের কাছাকাছি টেনে আনতে চেষ্টা করুন। দুই হাত মাটি থেকে তুলে নিয়ে যেতে হবে মাথার পেছন দিকে। বাঁ পায়ের পাতা আর ডান হাতের কনুই একে অপরকে স্পর্শ করে থাকবে।   শলভাসন উপুড় হয়ে ম্যাটের ওপর শুয়ে পা দুটি একসঙ্গে টান টান করে রাখুন। দুই হাত রাখুন দুই ঊরুর নিচে। ধীরে ধীরে শ্বাস নিতে নিতে এবার বাঁ পা ওপরের দিকে তুলুন। হাঁটু যেন ভাঁজ না হয়। ডান পা একেবারে টান টান থাকবে। এ অবস্থানে থাকুন ৫ সেকেন্ড। এরপর শ্বাস ছাড়তে ছাড়তে নিচে নামান। একই পদ্ধতিতে শ্বাস নিতে নিতে দুই পা ওপরের দিকে তুলুন। ৫ সেকেন্ড এ অবস্থানে থেকে শুরুর ভঙ্গিতে ফিরে আসুন। এভাবে তিন সেট অভ্যাস করতে হবে।   সিটেড হিপ রোটেশন ম্যাটে পা ছড়িয়ে সোজা হয়ে বসুন। এবার শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখুন। হাঁটু সামান্য ভাঁজ করুন। এরপর নিতম্বের ওপর ভর দিয়ে পা ও কোমর বৃত্তাকারে ঘোরাতে হবে ধীরে ধীরে। এটি করার সময়ে মেরুদণ্ড যথাসম্ভব সোজা রাখার চেষ্টা করুন। এ ব্যায়ামে নিতম্বের মেদ কমবে, কাফ মাসলের ব্যায়ামও হবে। শরীরের নিম্নাংশের পেশির জোর বাড়বে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
বাঁধনের ওপর হামলার অভিযোগ, প্রতিবাদে ১২২ দৃশ্যশিল্পী

ইতালির ভেনিসে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিতে গিয়ে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন ও তাঁর পরিবারের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশের দৃশ্যশিল্পী সমাজ। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি হামলায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ১২২ জন শিল্পী।   এক যৌথ বিবৃতিতে শিল্পীরা বলেন, একজন শিল্পী তাঁর রাজনৈতিক মতাদর্শ, মতপ্রকাশ কিংবা গণআন্দোলনের সময় নিপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কারণে হামলার শিকার হতে পারেন না। তাদের মতে, এ ধরনের ঘটনা শুধু নিন্দনীয় নয়; এটি শিল্পীর স্বাধীনতা, মানবাধিকার ও ব্যক্তিগত মর্যাদার ওপরও আঘাত।   বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের সময় দেশের অনেক শিল্পীর মতো আজমেরী হক বাঁধনও অন্যায়, হত্যা, দমন ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে নিজের অবস্থান প্রকাশ করেছিলেন। তবে কোনো ব্যক্তির রাজনৈতিক মত বা অবস্থান ভিন্ন হওয়ার কারণে তাকে অপমান, ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা শারীরিকভাবে হেনস্তা করার অধিকার কারও নেই।   দৃশ্যশিল্পী সমাজের পক্ষ থেকে বলা হয়, রাজনৈতিক মতপার্থক্য কোনোভাবেই সহিংসতার বৈধতা দিতে পারে না। বিশেষ করে একজন নারী শিল্পীকে শারীরিকভাবে আক্রমণ বা প্রকাশ্যে হেনস্তা করা কোনোভাবেই প্রতিবাদের গ্রহণযোগ্য ভাষা হতে পারে না।   শিল্পীরা আরও বলেন, বাঁধনের প্রতি তাদের দৃঢ় সংহতি রয়েছে। কোনো শিল্পীর শারীরিক নিরাপত্তা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হওয়া উচিত নয় এবং ভয় দেখিয়ে শিল্পীর কণ্ঠ রুদ্ধ করার চেষ্টাও গ্রহণযোগ্য নয়।   ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন, হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী ১২২ শিল্পী।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৬
ইতালিতে বাঁধনের ওপর হামলায় জড়িত ৫ জন শনাক্ত: বাংলাফ্যাক্ট

ইতালিতে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলায় জড়িতদের মধ্যে পাঁচ জনের পরিচয় শনাক্ত করেছে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) ফ্যাক্ট চেক ও মিডিয়া রিসার্চ টিম বাংলাফ্যাক্ট।   বাংলাফ্যাক্ট জানায়, ইতালিতে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলায় জড়িতদের মধ্যে পাঁচ জনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে।   হামলার বিভিন্ন ভিডিও থেকে তাদের শনাক্ত করা হয়। শনাক্তকৃত সকলেই ইতালিতে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় বলে শনাক্ত করেছে বাংলাফ্যাক্ট অনুসন্ধান টিম।    বাংলাদেশে চব্বিশের জুলাইয়ে দুনিয়া কাঁপানো আন্দোলন নির্মূলে আওয়ামী সরকারের পরিচালিত হত্যা গণহত্যার বিরুদ্ধে এবং শিক্ষার্থীদের দাবি পক্ষে সোচ্চার ছিলেন খ্যাতিমান অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন।    একটি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিতে বর্তমানে ইতালিতে অবস্থান করছেন আজমেরী হক বাঁধন। সেখানে তার ভাইয়ের সঙ্গে রাস্তায় বের হলে বাংলাদেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ কর্মীদের হেনস্তার শিকার হন তিনি। এ ঘটনা ছড়িয়ে পরার পর দেশ বিদেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে দাবি উঠেছে।   ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে দেশ ও প্রবাস থেকে পরিচালিত বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট এবং কিছু ফেসবুক পেজ থেকে বাংলাদেশকে ঘিরে নানা ভুয়া তথ্য ছড়ানোর প্রবণতা বেড়েছে। এসব অপতথ্য বিশেষ করে বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, চব্বিশের আন্দোলনে অংশ নেওয়া দল ও সংগঠনকে লক্ষ্য করে ছড়ানো হয়। পাশাপাশি, সাম্প্রতিক নানা বিষয়ে বিএনপি ও বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে গুজব মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা শনাক্ত করা হচ্ছে।    ‘বাংলাফ্যাক্ট’ প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ পিআইবি’র ফ্যাক্টচেক, মিডিয়া রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস টিম, যারা নিয়মিত ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য যাচাই করে সত্য তুলে ধরে এবং গণমাধ্যম ও সংবাদ নিয়ে গবেষণা করে।   ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া শত শত ভুল তথ্য শনাক্ত করেছে বাংলাদেশের ফ্যাক্ট চেকিং প্রতিষ্ঠান বাংলাফ্যাক্ট। বাংলাদেশে চলমান গুজব এবং ভুয়া খবর, অপতথ্য প্রতিরোধ এবং জনগণের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়ায় দায়িত্ব পালন করছে বাংলাফ্যাক্ট। খবর: বাসস

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৬
বাঁধনসহ আরও অনেকে। ছবি: সংগৃহীত
জুলাই আন্দোলনে ছাত্রদের পাশে দাঁড়িয়ে কী বলেছিলেন বাঁধন

২০২৪ সালে ১ আগস্টের ছাত্র আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে ‘দৃশ্যমাধ্যম শিল্পীসমাজ’-এর ব্যানারে রাজপথে নামেন চলচ্চিত্র, আলোকচিত্র, থিয়েটারসহ শোবিজের বিভিন্ন অঙ্গনের কর্মীরা। বৃষ্টিতে ভিজে সেদিন ফার্মগেট এলাকায় ব্যানার হাতে স্লোগান দিতে দিতে এসে দাঁড়ান তারা।   এদিন শোবিজের জনপ্রিয় অভিনেত্রী আজমেরি হক বাঁধনও উপস্থিত ছিলেন। সংস্কারের পক্ষে সরব দেখা যায় তাকে।   রাজপথে সেদিন বাঁধন বলেন, ‘যে রাষ্ট্র প্রকাশ্যে নিরীহ মানুষের ওপর নির্বিচারে গুলি চালায়, যে রাষ্ট্র নির্বিচারে গণগ্রেফতার করে, সেই রাষ্ট্র কখনও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রতিচ্ছবি হতে পারে না। এই রাষ্ট্র আমাদের নিরাপত্তা দিতে পারে নাই, এর দায় রাষ্ট্রের নিতে হবে। মারা যাওয়া বাচ্চাগুলোর জায়গায় আমার মেয়ে থাকতে পারতো, ওই মানুষগুলোর জায়গায় আমি থাকতে পারতাম। এই দায় রাষ্ট্রের নিতে হবে। আমাদের নিরাপত্তা দিতে হবে।’     তিনি আরও বলেন, ‘আমি যখন আমার অধিকারের জন্য রাস্তায় দাঁড়াবো তখন কোনও অত্যাচার করতে পারবে না। এই রাজনীতি থেকে বের হতে হবে। আমার অন্য কোনও দেশের পাসপোর্ট নাই। আমি এই দেশেই থাকবো, আমার অধিকার, স্বাধীনতা নিয়ে থাকবো। এইভাবে নিপীড়িত হয়ে থাকবো না। আমার সন্তান এই পরিবেশে বেড়ে উঠবে না। সংস্কার আমরাই করবো।’   বাঁধন ছাড়াও সেদিন আরও উপস্থিত ছিলেন জনপ্রিয় অভিনেতা মামুনুর রশীদ, মোশাররফ করিম, ইরেশ যাকের, সিয়াম আহমেদ, মোস্তফা মনওয়ার, সাবিলা নূর, মিথিলা, নাজিয়া হক অর্ষা, শ্যামল মওলা, নির্মাতা নুরুল আলম আতিক, আকরাম খান, অমিতাভ রেজা চৌধুরী, মাতিয়া বানু শুকু, রেদওয়ান রনি, আশফাক নিপুণ, আদনান আল রাজিব, পিপলু আর খান, সৈয়দ আহমেদ শওকি প্রমুখ।

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
মিথিলার সঙ্গে আলাদা থাকছেন সৃজিত, বিচ্ছেদের জল্পনা

টলিউডের নির্মাতা সৃজিত মুখোপাধ্যায় ও বাংলাদেশি অভিনেত্রী রাফিয়াত রশিদ মিথিলার সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছে। এবার নিজের জীবনে ‘স্টেবল পার্টনারশিপ’ বা স্থায়ী সঙ্গীর অভাবের কথা জানিয়েছেন সৃজিত। তার এই মন্তব্যের পর মিথিলার সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।   সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের টকশো ‘স্ট্রেইট আপ উইথ শ্রী’ তে অতিথি হয়ে নিজের অতীত সম্পর্ক, সাবেক প্রেমিকাদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং একাকিত্ব নিয়ে কথা বলেন সৃজিত। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, জীবনের এই বয়সে এসে তিনি স্থায়ী সঙ্গীর অভাব অনুভব করেন।   সৃজিত ও মিথিলার বিয়ের প্রায় ছয় বছর পেরিয়ে গেছে। তবে দীর্ঘ সময় ধরে তাদের একসঙ্গে সংসার করা নিয়ে নানা আলোচনা রয়েছে। গত কয়েক বছরেও একাধিকবার তাদের বিচ্ছেদের গুঞ্জন ছড়িয়েছে। এবার সরাসরি মিথিলার নাম না নিলেও সৃজিতের ‘স্থায়ী সঙ্গী নেই’ মন্তব্য সেই জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে। তবে সৃজিত বা মিথিলা কেউই তাদের সম্পর্কের অবস্থা নিয়ে নতুন করে কোনো ঘোষণা দেননি। ফলে আপাতত বিষয়টি সৃজিতের মন্তব্য ঘিরে তৈরি হওয়া জল্পনাতেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।   সাক্ষাৎকারে সাবেক প্রেমিকাদের সঙ্গেও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক থাকার কথা জানান সৃজিত। স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় ও ঋতাভরী চক্রবর্তীর সঙ্গে সম্পর্ক ভেঙে গেলেও তাদের সঙ্গে ভালো যোগাযোগ রয়েছে বলে জানান তিনি।   সুস্মিতা চট্টোপাধ্যায়ের প্রসঙ্গেও কথা বলেন সৃজিত। তিনি জানান, একসময় সুস্মিতা তার খুব ঘনিষ্ঠ ছিলেন। তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সব সম্পর্কের নির্দিষ্ট লেবেল থাকে না। সময়ের সঙ্গে তাদের সেই ঘনিষ্ঠতা কমে গেছে, তবে তারা এখনো একে অপরের শুভাকাঙ্ক্ষী।   সৃজিতের ভাষায়, জীবন একটি যাত্রার মতো, অনেকে কয়েকটি স্টেশন পর ট্রেন থেকে নেমে যায়। সুস্মিতাও নেমে গেছেন, হয়তো অন্য কোনো ট্রেনে উঠেছেন।

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
‘আক্রমণের লক্ষ্য সব সময় নারীরাই’, তৃষাকে সমর্থন জানিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ কঙ্গনার

ভারতের দক্ষিণী চলচ্চিত্রের শীর্ষ অভিনেত্রী তৃষা কৃষ্ণান এবং তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী ও তামিলগা ভেট্রি কাজাগাম (টিভিকে) প্রধান থালাপতি বিজয়কে ঘিরে চলা আপত্তিকর ও বিতর্কিত মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী ও সংসদ সদস্য কঙ্গনা রানাওয়াত। সম্প্রতি হিমাচল প্রদেশের মান্ডির এই বিজেপি সংসদ সদস্য কোনো নারীর নাম সরাসরি মুখে না এনেও তৃষার প্রতি তার পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেছেন।    হিমাচলের কুল্লুতে জেলা উন্নয়ন সমন্বয় ও পর্যবেক্ষণ কমিটির (দিশা) বৈঠকে সভাপতিত্ব করার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি মন্তব্য করেন যে, সমাজে যেকোনো সম্পর্ক বা ঘটনায় নারীকেই সব সময় কটূক্তি ও চরিত্রহননের প্রধান লক্ষ্য বানানো হয়।   সংবাদ সম্মেলনে সাম্প্রতিক বিতর্ক টেনে কঙ্গনা বলেন, আপনারা তামিলনাড়ুতে যা ঘটেছে তা দেখেছেন, যেখানে একজন অত্যন্ত সম্মানিত শিল্পী ও অভিনেত্রীকে এমন একটি বিষয়ে জড়ানো হয়েছে যেখানে বিষয়টি ছিল উভয়পক্ষের সম্পর্কের। কিন্তু যখনই গালিগালাজ বা চরিত্রহননের প্রশ্ন আসে, তখন সব সময় কেবল নারীকেই লক্ষ্যবস্তু করা হয়। তিনি আরও যোগ করেন, এটি কেবল ভারতে সীমাবদ্ধ নয়, বিশ্বজুড়েই এই মানসিকতা বিদ্যমান। যেসব কর্মজীবী নারী সমাজে সফল, যারা অভিনেত্রী, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব কিংবা ক্ষমতাবান ও দায়িত্বশীল পদে অধিষ্ঠিত—তাদের সম্মানহানি করে নিচে নামিয়ে আনার জন্যই এমন কুৎসিত আক্রমণ চালানো হয়।   এর আগে, তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয় নিজেই নারীদের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের অবমাননাকর মন্তব্যকারীর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। বিজয়ের সেই কড়া বার্তা এবং উদয়নিধি স্ট্যালিনের বিতর্কিত বক্তব্যের কয়েক সপ্তাহের মাথায় কঙ্গনার এই শক্তিশালী বক্তব্য রাজপথ থেকে বিনোদনজগতে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।   বিতর্কের মূল সূত্রপাত হয়েছিল কাবেরী পানি বণ্টন বিরোধ ও কর্ণাটকের প্রস্তাবিত মেকেদাতু প্রকল্পের প্রতিবাদে থানজাভুরে ডিএমকের আয়োজিত একটি কর্মসূচিতে। সেখানে বক্তব্য রাখার সময় ডিএমকে নেতা উদয়নিধি স্ট্যালিন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী বিজয়কে নিশানা করে তামিল ভাষায় একটি দ্বি-অর্থবোধক মন্তব্য করেন, যার অর্থ দাঁড়ায়—যেখানেই পানি আসুক, আসুক বা না আসুক, পানি সেখানে আসা উচিত। পরিস্থিতি ঘোলাটে দেখে তিনি সঙ্গে সঙ্গেই স্পষ্ট করে দেন যে তিনি কাবেরীর পানি সম্বন্ধেই কথা বলছিলেন। কিন্তু ততক্ষণে তার মন্তব্য রাজনৈতিক ও সামাজিক মাধ্যমে বড় ধরনের বিতর্কের জন্ম দেয়।   ক্ষমতাসীন তামিলগা ভেট্রি কাজাগাম (টিভিকে) দল উদয়নিধির বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে একজন নারীকে বস্তু হিসেবে উপস্থাপন করা এবং চরম অবমাননাকর উক্তি করার অভিযোগ তোলে। এর প্রতিবাদে তোলপাড় শুরু হলে গত ৪ আগস্ট চেন্নাইয়ের নিজ বাসভবন থেকে গ্রেফতার হন উদয়নিধি স্ট্যালিন। তার মন্তব্যের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পর তাকে আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয় এবং পরবর্তীতে তিনি জামিনে মুক্তি পান। সূত্র: মিড-ডে

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২৬
Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সপ্তাহের সেরা

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
জাতীয়

বাংলাদেশিদের জন্য ওমানের শ্রমবাজার উন্মুক্ত করতে ঢাকায় বৈঠক

মোঃ নাহিদ হোসেন সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৬