ডিসিপি জটিলতায় ঈদের প্রথম দিন স্টার সিনেপ্লেক্সে চলেনি শাকিব খানের সিনেমা ‘প্রিন্স’। এর ফলে প্রথম দিনে অনেক দর্শক ছবিটি দেখতে না পেয়ে হতাশ হয়েছেন, বেশিরভাগ দর্শকই শাকিবের সিনেমা না দেখে অন্য সিনেমা দেখেছেন। তবে দ্বিতীয় দিন রাতে প্রদর্শনের সমস্যা সমাধানের পর স্টার সিনেপ্লেক্সের সব শাখায় শো পায় ঈদের অন্যতম আলোচিত এই সিনেমা। রাজধানীর সিনেপ্লেক্সে প্রিন্স সিনেমার ৮:১০ থেকে শো শুরু হতেই মুহূর্তের মধ্যে সব টিকিট বিক্রি হয়ে যায় বলে খবর! শাকিবের ক্রেজে দর্শকদের আগ্রহ ও উন্মাদনা দেখে ধারণা করা হচ্ছে, ঈদ মৌসুমে সিনেপ্লেক্সে বক্স অফিসে ভালো সাড়া ফেলতে পারে এই ছবিটি। স্টার সিনেপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, দর্শকের চাহিদার কারণে অতিরিক্ত শো যুক্ত করার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। ঈদে দেশে সর্বোচ্চ ১৩৩টি সিনেমা হলে মুক্তি পেয়েছে আবু হায়াত মাহমুদ পরিচালিত ‘প্রিন্স’। নির্মাতা সূত্রে জানা গেছে, মুক্তির আগে বুকিংয়ে রেন্টালে কয়েক কোটি টাকা তুলে নিয়েছে প্রিন্স। প্রথম দিনের মতো দ্বিতীয় দিনেও সারা দেশের রমরমিয়ে সিনেমাটি চলছে।
ঢালিউড তারকা শাকিব খানের সঙ্গে অভিনেত্রী তাসনিয়া ফারিণের আইটেম গান ‘জ্বালা জ্বালা’ নিয়ে উন্মাদনা ছড়িয়েছে। ‘প্রিন্স’ সিনেমার গানটি প্রকাশ্যে আসতেই এর প্রশংসা চলছে। নায়কের স্টাইলিশ গেট আপ এবং আবেদনময়ী লুকে নায়িকার দারুণ নাচে মজে গেছেন দর্শকেরা। চমকপ্রদ ব্যাপার হলো, গানটি গেয়েছেন বরেণ্য সংগীতশিল্পী রুনা লায়লা। তার সঙ্গে এতে কণ্ঠ দিয়েছেন প্রীতম হাসান। ‘ইনসাফ’ ছবির ‘আকাশেতে লক্ষ তারা ২.০’ গানের পর ‘জ্বালা জ্বালা’য় জমকালো সাজে নাচের ঝড় তুললেন তাসনিয়া ফারিণ। শাকিবের সঙ্গে প্রথমবার তার রসায়ন নজর কেড়েছে ভক্তদের। নায়িকার ঝলমলে উপস্থিতি চমকে দিয়েছে অনেককে। গানটির সেট ডিজাইন, ভিজ্যুয়াল, কালার গ্রেডিংসহ সব কিছুতেই স্টাইলিশ আমেজ রয়েছে। শাকিবের ছবি মানেই প্রীতম হাসানের আইটেম গান যেন অবধারিত! গত দুই বছরে চারটি ঈদে এমনটাই ঘটেছে। এর আগে শাকিবের ‘তুফান’ সিনেমার ‘লাগে উরাধুরা’ ও ‘বরবাদ’-এর ‘চাঁদ মামা’ ও ‘তাণ্ডব’ ছবির ‘লিচুর বাগানে’ আইটেম গানগুলো তৈরি করে আলোচিত হন প্রীতম হাসান। এ তালিকায় যুক্ত হলো ‘জ্বালা জ্বালা’। তিনিই এর সুর ও সংগীত পরিচালনা করেছেন। গানটি লিখেছেন রাসেল মাহমুদ রুশো। পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে শাকিব খানের বহুল প্রতীক্ষিত চলচ্চিত্র ‘প্রিন্স’ মাল্টিপ্লেক্স ও সিঙ্গেল স্ক্রিন মিলিয়ে ১৩২টি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে। ছবিটির ট্যাগলাইন ‘ওয়ান্স আপন অ্যা টাইম ইন ঢাকা’। ছোট পর্দার নির্মাতা আবু হায়াত মাহমুদ পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র এটি। নব্বই দশকের পটভূমিতে ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ডের গল্প রয়েছে এতে। ‘প্রিন্স’-এ শাকিবের আরেক নায়িকা পশ্চিমবঙ্গের জ্যোতির্ময়ী কুণ্ডু। বাংলাদেশে এটাই তার অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্র। তিনি ছাড়াও পশ্চিমবঙ্গের পিয়ান সরকার, লোকনাথ দে, মৃত্যুঞ্জয় ভট্টাচার্য এতে অভিনয় করেছেন। নেতিবাচক চরিত্রে পর্দায় এসেছেন বলিউড অভিনেতা দিব্যেন্দু ভট্টাচার্য। এছাড়া আছেন ইন্তেখাব দিনার, ডা. এজাজ, রাশেদ মামুন অপু, শরীফ সিরাজসহ অনেকে। বাংলাদেশ, ভারতের রাজস্থান ও শ্রীলঙ্কার কলম্বোতে এর শুটিং হয়েছে। ক্রিয়েটিভ ল্যান্ড ফিল্মসের ব্যানারে শিরিন সুলতানা প্রযোজিত ছবিটি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডের ‘এ’ (প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্রযোজ্য) সনদ পেয়েছে। এর দৈর্ঘ্য ২ ঘণ্টা ২৯ মিনিট। পরিচালকের সঙ্গে মিলে ‘প্রিন্স’-এর গল্প, চিত্রনাট্য ও সংলাপ রচনা করেছেন মেজবাহ উদ্দীন সুমন ও মোহাম্মদ নাজিমউদ্দিন। আবহ সংগীত পরিচালনায় আরাফাত মহসীন নিধি।
চারদিকে বইছে ঈদ উৎসবের আমেজ, আর সেই আমেজে বাড়তি মাত্রা যোগ করেছে আবু হায়াত মাহমুদ পরিচালিত সিনেমা ‘প্রিন্স: ওয়ান্স আপন এ টাইম ইন ঢাকা’। নব্বই দশকের আলোচিত আন্ডারওয়ার্ল্ড ফিগার কালা জাহাঙ্গীরের ছায়া অবলম্বনে নির্মিত এই সিনেমাটি নিয়ে মুক্তির আগে থেকেই দর্শকদের মাঝে ছিল তুঙ্গে থাকা কৌতূহল। বিএমআরের দেওয়া তথ্যমতে, দেশের জনপ্রিয় মাল্টিপ্লেক্স চেইন স্টার সিনেপ্লেক্সে শো না থাকলেও ই-টিকেটিং সুবিধা সম্বলিত অন্যান্য প্রেক্ষাগৃহে সিনেমাটি ভালোই সূচনা করেছে। প্রথম দিনেই ডাবল ডিজিট কালেকশন তুলে নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন ‘প্রিন্স’। প্রাপ্ত হিসাব অনুযায়ী, গতকাল লায়ন সিনেমাস (৫টি শো), গ্র্যান্ড সিলেট মুভি থিয়েটার (২টি শো), মন ইন (৪টি শো), মনিহার সিনেপ্লেক্স (৪টি শো), মধুবন সিনেপ্লেক্স (৪টি শো), শ্যামলী (৪টি শো), সিনেস্কোপ (৪টি শো) এবং গ্র্যান্ড রিভারভিউ সিনেপ্লেক্স (৪টি শো) মিলিয়ে সিনেমাটির মোট ৩১টি শো প্রদর্শিত হয়েছে। এর মধ্যে ৩১টি শো’র মধ্যে ২৬টি শো-ই ছিল পুরোপুরি ‘হাউজফুল’। এছাড়া একটি শো ছিল অলমোস্ট ফুল। দিন শেষে সিনেমাটির মোট আয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৬.১৯ লাখ টাকা। শিরিন সুলতানা প্রযোজিত এই সিনেমাটি কেবল মারপিট বা অ্যাকশন নির্ভর নয় বরং মেজবাহ উদ্দিন সুমনের চিত্রনাট্যে এটি তৎকালীন ঢাকার রাজনীতি ও অপরাধ জগতের এক গভীর আখ্যান হিসেবে ফুটে উঠেছে। শাকিব খান তার চেনা ছক ভেঙে কালা জাহাঙ্গীর চরিত্রে অভিনয় করে ক্যারিয়ারে নতুন এক মোড় নিয়েছেন। বৈচিত্র্যময় লোকেশনে চিত্রায়িত এই সিনেমায় শাকিবের বিপরীতে দেখা গেছে তসনিয়া ফারিণকে। ওপার বাংলার জ্যোতির্ময়ী কুণ্ডুর পাশাপাশি এতে আরও অভিনয় করেছেন ইন্তেখাব দিনার, রাশেদ মামুন অপু ও ড. এজাজের মতো শক্তিমান অভিনেতারা।
ঈদের আনন্দকে আরও রঙিন করতে দর্শকদের সামনে হাজির হচ্ছে জনপ্রিয় টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’। বরাবরের মতোই খ্যাতিমান নির্মাতা ও উপস্থাপক হানিফ সংকেতের পরিকল্পনা ও উপস্থাপনায় এবারের ঈদ বিশেষ পর্ব সাজানো হয়েছে নানা তারকাবহুল আয়োজনে। রোববার (২২ মার্চ) রাত ৮টা ৩০ মিনিটে একযোগে বিটিভি ও বিটিভি ওয়ার্ল্ডে সম্প্রচারিত হবে বহুল প্রতীক্ষিত এ অনুষ্ঠান। প্রতি বছরের ধারাবাহিকতায় এবারের পর্বেও থাকছে ব্যতিক্রমধর্মী নাট্যাংশ, মনোমুগ্ধকর সংগীত পরিবেশনা, নান্দনিক মঞ্চসজ্জা এবং সমসাময়িক বিষয় নিয়ে বিনোদনধর্মী উপস্থাপনা। ঈদের বিশেষ এই আয়োজনকে ঘিরে দর্শকদের মধ্যে ইতোমধ্যেই তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। বৈচিত্র্যময় উপস্থাপনা ও সামাজিক বার্তাসমৃদ্ধ বিনোদনের কারণে দীর্ঘদিন ধরেই ‘ইত্যাদি’ দর্শকদের কাছে বিশেষ জনপ্রিয়। এবারের পর্বেও থাকছে হাস্যরস, সমাজচিত্র এবং নির্মল বিনোদনের সমন্বয়। অনুষ্ঠানের শুরুতেই থাকছে কালজয়ী গান ‘ও মন রমজানের ওই রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ’-এর বিশেষ পরিবেশনা। তবে এবারের অন্যতম আকর্ষণ একটি দেশাত্মবোধক গান, যেখানে কণ্ঠ দিয়েছেন নন্দিত শিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন। তার সঙ্গে রয়েছেন মনির খান, আগুন, রবি চৌধুরী, ফাহমিদা নবী, আঁখি আলমগীর ও প্রিয়াংকা গোপ। এ ছাড়া জনপ্রিয় শিল্পী হাবিব ওয়াহিদ গেয়েছেন একটি ব্যতিক্রমধর্মী গান। চমকপ্রদ আয়োজন হিসেবে থাকছে অভিনেত্রী শবনম বুবলী ও সংগীতশিল্পী ইমরান মাহমুদুলের কণ্ঠে দ্বৈত গান। নৃত্য পরিবেশনায় অংশ নিয়েছেন চিত্রনায়িকা তমা মির্জা ও অভিনেত্রী জান্নাতুল সুমাইয়া হিমি। এছাড়া ‘ইত্যাদি’র জনপ্রিয় পর্ব ‘মিউজিক্যাল ড্রামা’তেও আনা হয়েছে নতুনত্ব। ঈদ কেনাকাটা ও সামাজিক বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে এতে অভিনয় করেছেন তৌসিফ মাহবুব, সারিকা সাবরিন, সজল নূর, কুসুম শিকদার, আরফান আহমেদ এবং নাসির উদ্দিন খান। অন্য একটি পর্বে উপস্থিত থাকবেন তারকা দম্পতি শহীদুজ্জামান সেলিম ও রোজী সিদ্দিকী। বরাবরের মতো দর্শকপর্বেও থাকছে বিশেষ চমক। এবারের অতিথি হিসেবে থাকছেন জনপ্রিয় অভিনেতা মোশাররফ করিম। তিনি দর্শকদের মধ্য থেকে বাছাই করা কয়েকজনকে নিয়ে তাৎক্ষণিক অভিনয়ে অংশ নিয়ে জমিয়ে তুলবেন অনুষ্ঠান। ফাগুন অডিও ভিশনের প্রযোজনায় নির্মিত এ অনুষ্ঠানের শিল্প নির্দেশনায় রয়েছেন মুকিমুল আনোয়ার মুকিম। সহকারী পরিচালনায় দায়িত্ব পালন করেছেন রানা সরকার ও মামুন মোহাম্মদ।
ঈদুল ফিতর উপলক্ষে এবার প্রেক্ষাগৃহে পাঁচটি সিনেমা মুক্তি পেয়েছে। এর মধ্যে দর্শকদের সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ছে আফরান নিশো চঞ্চল চৌধুরী ও পূজা চেরি অভিনীত সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত অ্যাকশন ও ড্রামা ঘরানার সিনেমা ‘দম’। ঈদের প্রথম দিন থেকেই সিনেমাটি ঘিরে দর্শক চাহিদা তুঙ্গে। স্টার সিনেপ্লেক্সের বসুন্ধরা সিটি শপিং মলে সিনেমাটি দেখতে উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। গতকাল সিনেমাটির ২৭টি শো চললেও দর্শক চাহিদার কারণে আজ তা বেড়ে ২৯টিতে দাঁড়িয়েছে। জানা গেছে দম এখন স্টার সিনেপ্লেক্সে সর্বোচ্চ শো নিয়ে চলছে। সিনেমাটির প্রযোজক শাহরিয়ার শাকিল জানিয়েছেন গতকাল সবগুলো শো হাউসফুল ছিল এবং আজকের শোগুলোরও বেশির ভাগ টিকিট বিক্রি শেষ হয়ে গেছে। ক্রমেই দম ঘিরে দর্শকদের আগ্রহ বাড়ছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সিনেমাটি নিয়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। সিনেমাটি দেখে বের হতে থাকা দর্শকদের কাছে সাংবাদিকেরা তাদের অভিমত জানতে চাইলে কেউ অভিনয়শিল্পীদের অভিনয়ের দারুণ প্রশংসা করেছেন আবার কেউ মুগ্ধ হয়েছেন ভিজ্যুয়ালের কাজ দেখে। সিনেমার কোন সংলাপটি সবচেয়ে ভালো লেগেছে জানতে চাইলে এক দর্শক বলেন আমি শাহজাহান ইসলাম নূর বাংলাদেশি মুসলমান মনে রাইখো। দম কি সত্যিই দম ধরে রাখতে পারল এমন প্রশ্নের উত্তরে আরেক দর্শক জোর দিয়ে জানান অবশ্যই। অপর এক দর্শকের ভাষ্যমতে সিনেমাটি তার খুব ভালো লেগেছে এবং নিশো বছরে একটি সিনেমা করলেও সারা বছরে তেমন সিনেমা আর কেউ দিতে পারে না। অনেক দিন পর একটি ভালো বাংলাদেশি সিনেমা দেখার তৃপ্তি নিয়ে হল ছেড়েছেন দর্শকরা। এসভিএফ আলফা আই এন্টারটেইনমেন্ট লিমিটেড এবং চরকি প্রযোজিত এই সিনেমাটি নিয়ে ঘোষণার সময় থেকেই দর্শকদের মাঝে ব্যাপক কৌতূহল ছিল। বিশেষ করে দশ বছর পর বড় পর্দায় নির্মাতা রেদওয়ান রনির প্রত্যাবর্তন এবং প্রথমবারের মতো আফরান নিশো ও চঞ্চল চৌধুরীর মতো দুই শক্তিশালী অভিনেতার একসঙ্গে পর্দায় উপস্থিতি সিনেমাটি ঘিরে বাড়তি উত্তেজনা তৈরি করেছে। সিনেমাটির বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে যুক্ত হয়েছেন বাংলা গানের জীবন্ত কিংবদন্তি সাবিনা ইয়াসমিন। দীর্ঘ ৪৪ বছর পর তিনি নিজের গাওয়া কালজয়ী এই মন তোমাকে দিলাম গানটি নতুন সংগীতায়োজনে দমের জন্য প্লেব্যাক করেছেন। আফরান নিশো পূজা চেরি চঞ্চল চৌধুরী ও ডলি জহুর অভিনীত এই সিনেমাটির চিত্রনাট্য লিখেছেন রেদোওয়ান রনি রবিউল আলম রবি সৈয়দ আহমেদ শাওকী আল আমিন হাসান নির্ঝর এবং মো সাইফুল্লাহ রিয়াদ।
ঈদের দিন মুম্বাইয়ের বান্দ্রায় সালমান খানের ‘গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্ট’-এর সামনের দৃশ্যটি ছিল কানায় কানায় পূর্ণ। প্রিয় তারকাকে একনজর দেখার জন্য সেখানে ভিড় করেছিলেন শত শত ভক্ত-অনুরাগী। তবে এবারের ঈদ কেবল আনন্দ নয়, বরং স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে খান পরিবারে। প্রায় এক মাস হাসপাতালে কাটানোর পর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন কিংবদন্তি চিত্রনাট্যকার ও সালমানের বাবা সেলিম খান। শনিবার (২১ মার্চ) ঈদুল ফিতরের সকালে প্রথা মেনেই বারান্দায় উপস্থিত হন সালমান খান। তবে এবার তার পাশে ছিলেন পিতা সেলিম খান। প্রিয় তারকাকে দেখে ভক্তরা উল্লাসে ফেটে পড়েন; কেউ হাত নাড়ছিলেন, কেউবা ছুড়ে দিচ্ছিলেন উড়ন্ত চুমু। বুলেটপ্রুফ কাঁচের নিরাপত্তা বলয়ের ভেতর থেকে সালমানও ভক্তদের শুভেচ্ছার জবাব দেন। সেই ভিডিও নিজের সোশ্যাল হ্যান্ডেলে প্রকাশ করেছেন বলিউড ভাইজান নিজেই। সালমান খান তার প্রকাশিত ভিডিওর ক্যাপশনে লেখেন, ‘ঈদ মোবারক, আপনাদের আশীর্বাদের জন্য অনেক ধন্যবাদ। বাবা বাড়ি ফিরে এসেছেন, ধন্যবাদ’। প্রসঙ্গত, সালমান খানের বাবা সেলিম খান অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। প্রায় এক মাস হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে ঈদের কয়েক দিন আগে বাড়ি ফিরেন। হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর এটিই তার প্রথম জনসমক্ষে উপস্থিতি। সেলিম খানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে ভক্তদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। কারণ তার হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছিল। তবে চিকিৎসকরা জানান, তার মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়েছিল, যা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। এদিকে সালমান খানকে দেখা যাবে আসন্ন ‘মাতৃভূমি’ সিনেমায়। শুরুতে এ সিনেমার নাম রাখা হয়েছিল ‘ব্যাটল অব গালওয়ান’। ছবিতে কর্নেল বিকুমা সন্তোষ বাবুর চরিত্রে দেখা যাবে সালমানকে।
বলিউডের গ্ল্যামার আর নোরা ফাতেহির জাদুকরী নৃত্যের মিশেলে যে ধামাকার অপেক্ষায় ছিল ভক্তরা, তা এখন চরম এক দুঃস্বপ্নে রূপ নিয়েছে। সঞ্জয় দত্তের বহুল আলোচিত ছবি ‘কেডি : দ্য ডেভিল’-এর ‘সারকে চুনার তেরি সারকে’ গানটি মুক্তির পর থেকেই শুরু হয়েছে তুমুল গর্জন— তবে তা প্রশংসার নয়, প্রতিবাদের। নোরার শরীরী হিল্লোল আর গানের কথামালায় কুরুচিপূর্ণ ইঙ্গিত রয়েছে, এমন অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বয়ে যাচ্ছে সমালোচনার প্রলয়। জনরোষের মুখে ভারতের আদালত গানটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করায় বড় ধরনের আইনি গ্যাঁড়াকলে ফেঁসে গেছেন এই বলিউড সুন্দরী। ভারতীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, পরিস্থিতি বেগতিক দেখে প্রকাশ্যেই ক্ষমা চেয়েছেন নোরা ফাতেহি। তিনি জানান, প্রায় তিন বছর আগে কন্নড় ভাষায় গানটির শুটিং হয়েছিল। সে সময় এর বিষয়বস্তু নিয়ে আপত্তির কোনো কারণ তিনি খুঁজে পাননি। তবে হিন্দি সংস্করণ সামনে আসার পর গানের কিছু অংশ নোরার কাছেও অস্বস্তিকর মনে হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। একই সঙ্গে নিজের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টার অভিযোগ তুলে নোরা বলেন, ‘আমি কোনো তারকাসন্তান নই, নিজের পরিশ্রম আর সম্মানই আমার একমাত্র পুঁজি।’ অভিনেত্রীর দাবি, গানের বিষয়ে তিনি আপত্তি জানালেও নির্মাতারা সেটিকে গুরুত্ব দেননি। তবে ক্ষমা চেয়েও পার পাচ্ছেন না নোরা। ১০ আইনজীবীর একটি দল ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নোরার বিরুদ্ধে একটি অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন। তাদের দাবি, নোরা বারবার এমন সব কনটেন্টে যুক্ত হচ্ছেন যা অশালীন, যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ এবং ভারতীয় সমাজের মূল্যবোধের পরিপন্থি। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, এই ধরনের উপস্থাপনা নারীর মর্যাদার জন্য অসম্মানজনক এবং তরুণ প্রজন্মের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। আইনজীবীরা ‘ফরেনার্স অ্যাক্ট, ১৯৪৬’ বা বিদেশি আইনের কথা উল্লেখ করে জানিয়েছেন, কোনো বিদেশি নাগরিকের কার্যকলাপ যদি দেশের শালীনতা বা জনস্বার্থের পরিপন্থি হয়, তবে সরকার তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারে। তাদের দাবি ভারতে নোরা ফাতেহির কাজ করার অনুমতি বা ‘ওয়ার্ক পারমিট’ বাতিল করা হোক।
ঢালিউড কিং শাকিব খান শনিবার (২১ মার্চ) সন্ধ্যায় মালয়েশিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন। জানা যায় রকস্টার নামের নতুন একটি সিনেমার শুটিং করতেই তিনি বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন। তবে ঈদের উৎসবের এই সময়ে তার এমন আকস্মিক বিদেশযাত্রা ভক্তদের মাঝে বেশ নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। অন্যদিকে এবারের ঈদে মুক্তি পাওয়া শাকিব খানের সিনেমা প্রিন্স নিয়ে দেশজুড়ে নানা জটিলতা শুরু হয়েছে। সার্ভার সমস্যার কারণে অনেক হলে সিনেমাটি না চলায় বিক্ষুব্ধ দর্শকরা ভাঙচুর চালিয়েছেন। এর পাশাপাশি সিনেমাটি নিয়ে দর্শকদের কাছ থেকে ক্রমাগত খারাপ রিভিউ বা নেতিবাচক প্রতিক্রিয়াও আসতে শুরু করেছে। ঈদের ছবির এমন সংকটময় মুহূর্তে প্রচার প্রচারণার কাজ পুরোপুরি বাদ দিয়ে সুপারস্টারের এই বিদেশযাত্রা ভক্তরা মোটেও ভালোভাবে নিচ্ছেন না। হঠাৎ কেন তিনি সিনেমার প্রচারণায় অংশ না নিয়ে বিদেশে উড়াল দিলেন তা নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন উঠছে। অনেকে খোঁচা দিয়ে বলছেন হয়তো শাকিব খান আগেই বুঝে গেছেন যে প্রিন্স সিনেমাটি বক্স অফিসে ভালো চলবে না এবং ব্যর্থতার দায় এড়াতেই তিনি তড়িঘড়ি করে নতুন সিনেমার কাজ শুরু করে দিয়েছেন। তবে তার এই আকস্মিক গমনের আসল কারণ এখনো পরিষ্কারভাবে জানা যায়নি।
ঈদের আনন্দে ভক্তদের বড় চমক দিলেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী নীলাঞ্জনা নীলা। দীর্ঘ আট বছরের প্রেমের পর বিয়ে করেছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একগুচ্ছ বিয়ের ছবি পোস্ট করে অভিনেত্রী নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, চলতি বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি দুই পরিবারের ভালোবাসা আর দোয়ায় খুব ঘরোয়া ও সাধারণ আয়োজনে তাদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে। তবে এই বিশেষ খবরটি ভক্তদের সঙ্গে শেয়ার করার জন্য তিনি বেছে নিয়েছেন পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিনটিকে। বিয়ের একগুচ্ছ ছবির সঙ্গে ক্যাপশনে নীলা লিখেছেন, আট বছর আগে আমাদের কোনো ধারণাই ছিল না যে জীবন আমাদের কোথায় নিয়ে যাবে। আমরা ছিলাম শুধু দুজন মানুষ একসঙ্গে বড় হওয়া, হাসাহাসি করা, কিছুটা বন্য আর কিছুটা উদাসীন। কখনো জানতাম না যে একদিন আমরা এভাবে একে অপরকে খুঁজে পাব। নীলার জীবনসঙ্গী সায়ান, তার প্রতি নিজের ভালোবাসা প্রকাশ করে নীলা লেখেন, তুমি যেভাবে ভালোবাসা, শ্রদ্ধা আর একরাশ সারল্য নিয়ে আমার হাত ধরেছিলে, তা দেখে আমি বুঝেছিলাম জীবনের প্রতিটি অধ্যায়ে আমি তোমাকেই বেছে নেব। আর আমি তোমাকে কথা দিচ্ছি, জীবন যেমনই হোক না কেন, তুমি সবসময় আমাকে তোমার পাশেই পাবে। অভিনেত্রী বলেন, আজ এই সুন্দর ঈদের দিনে, আমার হৃদয়ের এই বিশেষ অংশটি আপনাদের সবার সঙ্গে ভাগ করে নিচ্ছি। আমাদের আপনাদের দোয়ায় রাখবেন। সায়ান, আমি তোমাকে ভালোবাসি।
২১ মার্চ ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশের সিনেমা হলগুলোতে মুক্তি পেয়েছে পাঁচটি ছবি। এগুলো হলো ‘প্রিন্স-ওয়ানস আপন আ টাইমস ইন ঢাকা’, ‘দম’, ‘বনলতা এক্সপ্রেস’, ‘রাক্ষস’ ও ‘প্রেশার কুকার’। এর মধ্যে সর্বাধিক ১৩৩ হলে চলার কথা থাকলেও সার্ভার জটিলতায় দুপুর পর্যন্ত ৫০টির বেশি হলে শাকিব খান অভিনীত ‘প্রিন্স’ সিনেমাটির কোনো শো চলেনি। কাঙ্ক্ষিত সিনেমা দেখতে না পেরে বিক্ষুব্ধ দর্শকরা বেশ কয়েকটি সিনেমা হলে ভাঙচুর চালিয়েছেন। আবু হায়াত মাহমুদ পরিচালিত এই সিনেমায় শাকিব খানের বিপরীতে অভিনয় করেছেন তাসনিয়া ফারিণ ও কলকাতার জ্যোতির্ময়ী কুণ্ডু। সিনেমা হল মালিকদের মধ্যকার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটের স্ক্রিনশট ও ভয়েস রেকর্ড থেকে জানা যায় সার্ভার সমস্যার কারণে তারা সিনেমাটি চালাতে পারছেন না। বাধ্য হয়ে অনেক হল মালিক সকালের শোয়ের টিকিটের টাকা দর্শকদের ফেরত দিয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক হল মালিক জানান অধিকাংশ সিনেমা হলে এক যুগের বেশি সময় ধরে জাজ মাল্টিমিডিয়ার সার্ভার ব্যবহার করা হচ্ছে। সম্প্রতি দেওয়া নতুন সার্ভারে সিনেমা চালাতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন তাঁরা। অধিকাংশ হলে সিনেমা চলছে না এবং যেখানে চলছে সেখানে শব্দ আসছে না। অনেকে ফাইল পেলেও পাসওয়ার্ড পাননি আবার অনেক হলের সার্ভারে দুপুর পর্যন্ত সিনেমাটি আপলোডই হয়নি। টেকের হাট সোনালী সিনেমা হলের মালিক রাহুল খান জানান কয়েক লাখ টাকা দিয়ে সিনেমাটি নিলেও সার্ভারে তা লোড হয়নি। বাধ্য হয়ে দুপুরের শোয়ের ১৫ হাজার টাকার টিকিট ফেরত দিয়েছেন তিনি। এর আগে সকালের শো চালাতে না পারায় বিক্ষুব্ধ দর্শকরা তার হলের চেয়ার ভাঙচুর করেছেন। শুধু সাধারণ সিনেমা হল নয় দেশের সবচেয়ে বড় মাল্টিপ্লেক্স চেইন স্টার সিনেপ্লেক্সও এই সিনেমার কোনো ডিজিটাল সিনেমা প্রজেকশন বা ডিসিপি ফাইল পায়নি। স্টার সিনেপ্লেক্সের মিডিয়া ও মার্কেটিং বিভাগের এজিএম মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ জানান ঈদের পাঁচটি সিনেমাই তারা চালাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু দুপুর পর্যন্ত অন্য চারটির ফাইল পেলেও প্রিন্সের কোনো ফাইল তারা পাননি। তিনি আক্ষেপ করে জানান উৎসবের এই সময়ে দর্শকরা সিনেমা দেখতে আসেন কিন্তু প্রযোজকরা ঈদের দিনেও ফাইল দিতে না পারায় তাদের কয়েক লাখ টাকার বড় ক্ষতি হয়ে গেল। প্রিন্স সিনেমার পরিবেশক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে পরিচালক অনন্য মামুনের প্রতিষ্ঠান অ্যাকশন কাট এন্টারটেইনমেন্ট। হল মালিকরা এই পরিস্থিতির জন্য তাকেই দোষারোপ করছেন এবং আগামী কয়েকদিনের মধ্যে কমিটি গঠন করে ক্ষতিপূরণ চাওয়ার কথা জানিয়েছেন। এ বিষয়ে অনন্য মামুন ও প্রযোজনা সংস্থা ক্রিয়েটিভ ল্যান্ডসের কর্ণধার শিরিন সুলতনার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা কোনো সাড়া দেননি। তবে প্রদর্শক সমিতির সভাপতি আওলাদ হোসেন উজ্জ্বল জানিয়েছেন তারা বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছেন। ২১ মার্চ ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশের সিনেমা হলগুলোতে মুক্তি পেয়েছে পাঁচটি ছবি। এগুলো হলো ‘প্রিন্স-ওয়ানস আপন আ টাইমস ইন ঢাকা’, ‘দম’, ‘বনলতা এক্সপ্রেস’, ‘রাক্ষস’ ও ‘প্রেশার কুকার’। এর মধ্যে সর্বাধিক ১৩৩ হলে চলার কথা থাকলেও সার্ভার জটিলতায় দুপুর পর্যন্ত ৫০টির বেশি হলে শাকিব খান অভিনীত ‘প্রিন্স’ সিনেমাটির কোনো শো চলেনি। কাঙ্ক্ষিত সিনেমা দেখতে না পেরে বিক্ষুব্ধ দর্শকরা বেশ কয়েকটি সিনেমা হলে ভাঙচুর চালিয়েছেন। আবু হায়াত মাহমুদ পরিচালিত এই সিনেমায় শাকিব খানের বিপরীতে অভিনয় করেছেন তাসনিয়া ফারিণ ও কলকাতার জ্যোতির্ময়ী কুণ্ডু। সিনেমা হল মালিকদের মধ্যকার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটের স্ক্রিনশট ও ভয়েস রেকর্ড থেকে জানা যায় সার্ভার সমস্যার কারণে তারা সিনেমাটি চালাতে পারছেন না। বাধ্য হয়ে অনেক হল মালিক সকালের শোয়ের টিকিটের টাকা দর্শকদের ফেরত দিয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক হল মালিক জানান অধিকাংশ সিনেমা হলে এক যুগের বেশি সময় ধরে জাজ মাল্টিমিডিয়ার সার্ভার ব্যবহার করা হচ্ছে। সম্প্রতি দেওয়া নতুন সার্ভারে সিনেমা চালাতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন তাঁরা। অধিকাংশ হলে সিনেমা চলছে না এবং যেখানে চলছে সেখানে শব্দ আসছে না। অনেকে ফাইল পেলেও পাসওয়ার্ড পাননি আবার অনেক হলের সার্ভারে দুপুর পর্যন্ত সিনেমাটি আপলোডই হয়নি। টেকের হাট সোনালী সিনেমা হলের মালিক রাহুল খান জানান কয়েক লাখ টাকা দিয়ে সিনেমাটি নিলেও সার্ভারে তা লোড হয়নি। বাধ্য হয়ে দুপুরের শোয়ের ১৫ হাজার টাকার টিকিট ফেরত দিয়েছেন তিনি। এর আগে সকালের শো চালাতে না পারায় বিক্ষুব্ধ দর্শকরা তার হলের চেয়ার ভাঙচুর করেছেন। শুধু সাধারণ সিনেমা হল নয় দেশের সবচেয়ে বড় মাল্টিপ্লেক্স চেইন স্টার সিনেপ্লেক্সও এই সিনেমার কোনো ডিজিটাল সিনেমা প্রজেকশন বা ডিসিপি ফাইল পায়নি। স্টার সিনেপ্লেক্সের মিডিয়া ও মার্কেটিং বিভাগের এজিএম মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ জানান ঈদের পাঁচটি সিনেমাই তারা চালাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু দুপুর পর্যন্ত অন্য চারটির ফাইল পেলেও প্রিন্সের কোনো ফাইল তারা পাননি। তিনি আক্ষেপ করে জানান উৎসবের এই সময়ে দর্শকরা সিনেমা দেখতে আসেন কিন্তু প্রযোজকরা ঈদের দিনেও ফাইল দিতে না পারায় তাদের কয়েক লাখ টাকার বড় ক্ষতি হয়ে গেল। প্রিন্স সিনেমার পরিবেশক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে পরিচালক অনন্য মামুনের প্রতিষ্ঠান অ্যাকশন কাট এন্টারটেইনমেন্ট। হল মালিকরা এই পরিস্থিতির জন্য তাকেই দোষারোপ করছেন এবং আগামী কয়েকদিনের মধ্যে কমিটি গঠন করে ক্ষতিপূরণ চাওয়ার কথা জানিয়েছেন। এ বিষয়ে অনন্য মামুন ও প্রযোজনা সংস্থা ক্রিয়েটিভ ল্যান্ডসের কর্ণধার শিরিন সুলতনার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা কোনো সাড়া দেননি। তবে প্রদর্শক সমিতির সভাপতি আওলাদ হোসেন উজ্জ্বল জানিয়েছেন তারা বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছেন।
তাইওয়ানের তাওয়ুয়ান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুই ইউটিউবারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। কম্বোডিয়া থেকে নির্বাসিত হয়ে তাইওয়ানে ফিরছিলেন দেশটির দুই নাগরিক। ভুয়া ভিডিও ছড়ানোর অপরাধে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি ছিল। শুক্রবার (২০ মার্চ) তাইওয়ানের সংবাদ সংস্থা তাইওয়ান ফোকাস এক প্রতিবেদনে জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে এ দুই ইউটিউবারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার দুজন হলেন চেন নেং-চুয়ান এবং লু সু-হসিয়েন। চেন নেং-চুয়ান ‘গুডনাইট চিকেন’ এবং লু সু-হসিয়েন ‘অ্যানো’ নামে পরিচিত। স্বাধীনতায় বাধা এবং প্রতারণাসহ একাধিক অপরাধে অভিযুক্ত তারা। তাইপের শিলিন, কিনমেন ও মিয়াওলির প্রসিকিউটররা দীর্ঘদিন ধরে তাদের খুঁজছিলেন। ২০২৪ সালে অস্বাভাবিকভাবে কনটেন্টের জন্য পরিচিতি লাভ করেন চেন নেং-চুয়ান। ইউটিউবে তার সাবস্ক্রাইবার রয়েছে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার। গত ১২ ও ১৩ ফেব্রুয়ারি লাইভস্ট্রিম করেন চেন, এতে তিনি লু সু-হসিয়েনের সহায়তায় একটি অপহরণের চেষ্টা থেকে পালিয়ে যাওয়ার নাটক সাজান। ভিডিওগুলো দেখার পর স্থানীয় পুলিশ তদন্তে নেমে অপহরণের ঘটনা সাজানোর জন্য ব্যবহৃত জিনিসপত্রসহ একটি অ্যাপার্টমেন্ট থেকে তাদের খুঁজে পায়। এরপর গ্রেপ্তার করা হয় তাদেরকে। তারপর প্রে সিহানুক প্রাদেশিক আদালত ‘সামাজিক বিশৃঙ্খলায় উসকানি ও তা ঘটানোর’ দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে দুই বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেন তাদের। এদিকে বিমানবন্দরে গ্রেপ্তারের পর আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তাদের নিরাপত্তায় থেকে চেন নেং-চুয়ান সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে গত দু-এক বছরে তাইওয়ানের সম্পদ অপচয়ের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং ভুয়া ভিডিওর জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।
ঢালিউডের ঝলমলে আলো, তারকার ব্যস্ততা আর ক্যামেরার ঝলকানির মাঝেও আজ যেন অন্য এক আবেগে ভেসে যাচ্ছে দুই তারকা পরিবার। ঢাকাই সিনেমার আলোচিত চিত্রনায়িকা শবনম বুবলী ও শীর্ষ নায়ক শাকিব খান এর আদরের সন্তান শেহজাদ খান বীরের জন্মদিন আজ। তবে এবারের উদযাপন শুধু জন্মদিনেই সীমাবদ্ধ নয়,পবিত্র ঈদুল ফিতর-এর আনন্দে মিশে গেছে এই বিশেষ দিনটি, তৈরি করেছে এক অনন্য আবেগঘন মুহূর্ত। বিশেষ এই দিনে ছেলের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন মা বুবলী।ফেসবুক পেজে ছেলের সঙ্গে কয়েকটি ছবি শেয়ার করে একটি আবেগঘন বার্তা দেন বুবলী। সেখানে তিনি বীরকে ‘বাপজান’ সম্বোধন করে মনের গভীর অনুভূতি প্রকাশ করেন। পোস্টে বুবলী লেখেন, ‘ঈদের দিনের মতো কত সুন্দর পবিত্র একটি দিনে এবার তোমার জন্মদিন পড়েছে বাপজান, আল্লাহ সবসময় তোমাকে ওনার রহমতে রাখুক, সুস্থ রাখুক। অনেক ভালো একজন মানুষ হিসেবে বড় হও লক্ষ্মী আব্বা, শুভ জন্মদিন।’ সন্তানের ভবিষ্যৎ জীবনের সাফল্য কামনায় বুবলী আরও বলেন, ‘সবাই শেহজাদ খান বীর বাপজানের জন্য দোয়া রাখবেন। আপনাদের প্রত্যেকের ঈদ কাটুক নিরাপদে, হাসি-আনন্দে পরিবারের সাথে। ঈদ মোবারক।’ বুবলীর এই পোস্টের নিচে মন্তব্যের ঘরে ভক্ত-অনুরাগীদের শুভেচ্ছার বন্যা বয়ে যাচ্ছে। উল্লেখ্য, আজ প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে রায়হান রাফির পরিচালনায় নির্মিত ও বুবলী অভিনীত সিনেমা ‘প্রেসার কুকার’। এ সিনেমায় আরও অভিনয় করেছেন নাজিফা তুষি, মারিয়া শান্ত, স্নিগ্ধা চৌধুরী সহ আরও অনেকে।
ঈদের চাঁদ উঠতেই যেন বদলে যায় চারপাশের রঙ— আনন্দ, ভালোবাসা আর মিলনের এক অনন্য আবহে ভেসে যায় শহর থেকে প্রত্যন্ত গ্রাম। ধনী-গরিবের সব বিভাজন ভুলে মানুষ যখন একে অপরকে আপন করে নেওয়ার উৎসবে মেতে ওঠে, ঠিক সেই আবেগঘন মুহূর্তেই ভক্তদের হৃদয়ে নতুন করে সাড়া জাগালেন ঢালিউড কিং শাকিব খান। পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে থাকা তার অসংখ্য ভক্ত-অনুরাগীর উদ্দেশে প্রাণঢালা শুভেচ্ছা জানিয়ে এই তারকা যেন আরও একবার প্রমাণ করলেন— পর্দার বাইরেও তিনি ভক্তদের হৃদয়ের সবচেয়ে কাছের মানুষ। নিজের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘এসকে ফিল্মস’-এর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক আবেগঘন বার্তায় শাকিব খান সবার সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নেন। তার এই বার্তাটি মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায় এবং ভক্তদের মনে এক আলাদা উচ্ছ্বাস তৈরি করে। শুভেচ্ছা বার্তায় শাকিব খান লেখেন, ‘দেশ ও প্রবাসের সবাইকে জানাই পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা, ঈদ মোবারক।’ আরও লেখা হয়েছে, ‘পবিত্র এই উৎসব আপনার এবং আপনার পরিবারকে আনন্দ, শান্তি ও সমৃদ্ধিতে ভরিয়ে তুলুক, আমিন। উপভোগ করুন পৃথিবীময় বাংলা ভাষাভাষীদের ঈদের জনপ্রিয় গান।’ প্রসঙ্গত, এবারের ঈদুল ফিতর উপলক্ষে মুক্তির প্রতীক্ষায় রয়েছে ‘প্রিন্স’, ‘বনলতা এক্সপ্রেস’, ‘দম’, ‘রাক্ষস’ ও ‘প্রেশার কুকার’। বাংলাদেশের চলচ্চিত্র বাজারে ঈদ মানেই শাকিব খানের একচ্ছত্র আধিপত্যের গল্প; কিন্তু সময় বদলেছে। এখন দর্শকরা কেবল তারকাখ্যাতি দেখে নয়, বরং নির্মাণের মুন্সিয়ানা দেখে হলে ফেরেন। এবারের ঈদের পাঁচটি সিনেমা ভিন্ন ভিন্ন ঘরানার দর্শকদের আকর্ষণ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। একদিকে নব্বই দশকের আন্ডারওয়ার্ল্ড নিয়ে ‘প্রিন্স’, অন্যদিকে হুমায়ূন আহমেদের কালজয়ী উপন্যাসের আধারে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’। আবার জীবনযুদ্ধের করুণ আখ্যান নিয়ে ‘দম’ আর হাই-ভোল্টেজ অ্যাকশনের পসরা নিয়ে ‘রাক্ষস’। সবশেষে নাগরিক জীবনের চাপ নিয়ে ‘প্রেশার কুকার’। এই বৈচিত্র্যময়তা নিয়েই সাজানো হয়েছে এবারের ঈদ ক্যালেন্ডার।
সারা দেশে যথাযোগ্য ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও আনন্দ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। নাড়ির টানে কেউ ফিরেছেন গ্রামে, কেউবা ব্যস্ত ইট-পাথরের রাজধানীর উৎসবে। সাধারণ মানুষের মতো শোবিজ তারকারাও মেতেছেন ঈদের আমেজে। তবে এই উৎসবের আবহেও বিশ্ব পরিস্থিতির অস্থিরতা নিয়ে নিজের বিষাদ মেশানো অনুভূতির কথা জানিয়েছেন জনপ্রিয় লাক্স তারকা ও অভিনেত্রী জাকিয়া বারী মম। ঈদ উপলক্ষে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মম। তবে তার সেই শুভেচ্ছাবার্তায় ফুটে উঠেছে চলমান বিশ্ব রাজনীতির অস্থিরতা এবং যুদ্ধবিগ্রহ নিয়ে গভীর উদ্বেগ। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতি এই অভিনেত্রীর মনকে ভারাক্রান্ত করে তুলেছে। নিজের সোশ্যাল হ্যান্ডেল ফেসবুকে ঈদবার্তায় মম লিখেছেন, ‘বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ। হতাশা-কান্না-অস্থিরতা-বিশ্বাসহীনতা; তবু আমাদের ধূসর জীবনে ঈদ আসে।‘ উৎসবের রঙিন দিনেও পৃথিবীর অন্য প্রান্তের মানুষের দুঃখ-দুর্দশার কথা স্মরণ করে তিনি আরও যোগ করেন, ‘তারপরও এই ঈদ হোক পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহযোগিতা, সহমর্মিতা আর ভালোবাসার। সকলের জীবন হয়ে উঠুক নিরাপদ, সুস্থ ও মনের মতো। ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা সবাইকে। ঈদ মোবারক।’ মমর এই মানবিক ও সংবেদনশীল বার্তাটি সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ সাড়া ফেলেছে। ভক্ত-অনুরাগীরা যেমন তাকে ঈদের ফিরতি শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন, তেমনি যুদ্ধের বিরুদ্ধে তার এই অবস্থানের প্রশংসাও করছেন সহকর্মীরা। ব্যক্তিগত জীবনে উৎসব পালন করলেও, বিশ্বশান্তির প্রতি তার এই আকুতি বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে এক বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।
অভিনেত্রী জয়া আহসান মানেই পর্দায় এক জাদুকরী উপস্থিতি আর বাস্তব জীবনে এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী স্টাইল আইকন। দুই বাংলার দর্শকদের দশকের পর দশক মুগ্ধ করে রাখা এই অভিনেত্রী এবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধরা দিলেন এক ভিন্ন ও স্নিগ্ধ অবতারে। কোনো চলচ্চিত্রের দৃশ্য নয়, বরং প্রকৃতির মাঝে খরগোশের সঙ্গে কাটানো তার কিছু একান্ত মুহূর্ত এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রীতিমতো ভাইরাল। সম্প্রতি জয়া আহসান তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন, যেখানে তাকে এক মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশে একজোড়া সাদা খরগোশের সঙ্গে সময় কাটাতে দেখা যায়। প্রকাশিত ভিডিওটিতে দেখা যায়, লকা সবুজ রঙের একটি দৃষ্টিনন্দন শাড়িতে। শাড়িটির পাড় এবং আঁচলের নকশা তার সাজে এনেছে এক আলাদা আভিজাত্য। এর সঙ্গে মানানসই এমব্রয়ডারি করা ব্লাউজ, গয়না আর চুলের সাজে জয়াকে বেশ মানিয়েছে। পরম মমতায় একটি খরগোশকে কোলে নিয়ে আদর করছেন তিনি, আর খরগোশটিও শান্ত হয়ে তার কোলে মিশে আছে। আবার কখনো নিজের হাতে তাদের ঘাস খাওয়াচ্ছেন। ভিডিওটি শেয়ার করার পরপরই তা ভক্তদের নজরে আসে। কমেন্ট বক্সে ভক্তরা জয়ার স্নিগ্ধ রূপের এবং প্রাণীদের প্রতি তার এই মমতার ভূয়সী প্রশংসা করছেন। কেউ তাকে ‘চিরযৌবনা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন, আবার কেউ বলছেন— জয়ার প্রতিটি সাধারণ মুহূর্ত যেন একেকটি শৈল্পিক ফ্রেম।
সিয়াম আহমেদ অভিনীত বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা 'রাক্ষস'-এর আইটেম গান ‘বিলেত রাজা’ মুক্তি পাওয়ার পর থেকেই ভার্চুয়াল জগতে ঝড় তুলেছে। গানটিতে কণ্ঠ দিয়ে প্লেব্যাক মাতালেন জি এম আশরাফ ও দোলা রহমান। আসন্ন ঈদুল ফিতরের অন্যতম আলোচিত সিনেমা ‘রাক্ষস’। মেহেদি হাসান হৃদয় পরিচালিত এই সিনেমার আইটেম গান ‘বিলেত রাজা’ সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে। গানটি প্রকাশের পর থেকেই ইউটিউব ও ফেসবুকে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। জাঁকজমকপূর্ণ এই গানে কণ্ঠ দিয়েছেন তরুণ প্রজন্মের পরিচিত দুই শিল্পী জি এম আশরাফ ও দোলা রহমান। ‘বিলেত রাজা’ গানটিতে সিয়াম আহমেদের সঙ্গে নেচেছেন ইউরোপিয়ান বংশোদ্ভূত বলিউড অভিনেত্রী নাতালিয়া জানোসজেক। গানটির কোরিওগ্রাফি করেছেন বলিউডের নামী কোরিওগ্রাফার আদিল শেখ। গানটির সংগীত পরিচালনাও করেছেন জি এম আশরাফ এবং কথা লিখেছেন রিয়াজ এ মাহমুদ। গানটির ভিডিওতে সিয়ামের ভিন্নধর্মী লুক এবং নাতালিয়ার নাচ দর্শকদের নজর কেড়েছে। প্রকাশের মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই গানটি লক্ষ লক্ষ ভিউ অতিক্রম করেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই মন্তব্য করেছেন যে, অনেক দিন পর বাংলা সিনেমায় এমন ‘এনার্জেটিক’ গান পাওয়া গেল। উল্লেখ্য, সিয়াম আহমেদ ছাড়াও সিনেমাটিতে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন সুস্মিতা চ্যাটার্জি, আবরার আতহার, সাদনিমা বিনতে নোমান সহ আরও অনেকে। ‘বিলেত রাজা’ গানটি প্রকাশের পর এখন দর্শকরা অধীর আগ্রহে সিনেমাটির মুক্তির জন্য অপেক্ষা করছেন।
বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ভক্তের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে রাজকীয় প্রত্যাবর্তন করল দক্ষিণ কোরিয়ান মেগাস্টার বয় ব্যান্ড দল বিটিএস। শুক্রবার (২০ মার্চ) আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্তি পেয়েছে তাদের পঞ্চম স্টুডিও অ্যালবাম 'আরিরাং'। একইসঙ্গে অ্যালবামের প্রধান গান ‘সুইম’-এর চোখ ধাঁধানো মিউজিক ভিডিও প্রকাশের মাধ্যমে চার বছর পর ফিরল এই জনপ্রিয় দলটি। বিটিএস-এর এবারের প্রত্যাবর্তনে বড় চমক হিসেবে হাজির হয়েছেন হলিউড অভিনেত্রী লিলি রাইনহার্ট। জনপ্রিয় সিরিজ 'রিভারডেল' খ্যাত এই অভিনেত্রী মিউজিক ভিডিওটিতে এক অনন্য মাত্রা যোগ করেছেন। প্রখ্যাত পরিচালক তানু মুইনোর নির্দেশনায় নির্মিত এই ভিডিওতে বিটিএস সদস্য আরএম, জিন, সুগা, জে-হোপ, জিমিন, ভি এবং জাং কুককে গভীর সমুদ্রে পাল তুলে এক রোমাঞ্চকর যাত্রা করতে দেখা যায়। সমুদ্রের উত্তাল ঢেউয়ের মাঝে লিলি রাইনহার্টের একটি হৃদয়স্পর্শী নাচ ভিডিওটিকে এক নান্দনিক রূপ দিয়েছে। নতুন এই অ্যালবামে মোট ১৪টি গান স্থান পেয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার অনানুষ্ঠানিক জাতীয় সংগীত হিসেবে পরিচিত একটি জনপ্রিয় লোকগানের নামানুসারে অ্যালবামটির নামকরণ করা হয়েছে 'আরিরাং'। আগের সুপারহিট গান ‘বাটার’ ও ‘পারমিশন টু ড্যান্স’-এর মতো ‘সুইম’ গানটিও ইংরেজি ভাষায় করা হয়েছে। গানটিতে রয়েছে গভীর ও মর্মস্পর্শী লিরিক্স এবং লিডার আরএম-এর একটি শক্তিশালী র্যাপ পার্ট। অ্যালবাম প্রকাশের রেশ কাটতে না কাটতেই আগামীকাল ২১ মার্চ সিউলের প্রাণকেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিটিএস-এর বিশেষ ওপেন এয়ার কামব্যাক কনসার্ট। প্রায় চার বছর পর এটিই হতে যাচ্ছে দলটির প্রথম লাইভ পারফরম্যান্স। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এই কনসার্টে ৩ লাখেরও বেশি মানুষের সমাগম ঘটবে, যা দক্ষিণ কোরিয়ার সংগীত ইতিহাসে এক নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করতে পারে।
রাজধানীর বুকে এক অনন্য সন্ধ্যার সাক্ষী হতে যাচ্ছে রবীন্দ্র সরোবর। আজ শুক্রবার (২০ মার্চ), ঢাকার এই প্রাণকেন্দ্রে রাজনীতির কঠোর স্লোগান ছাপিয়ে শোনা যাবে সুরেলা কণ্ঠ। তিন দিনব্যাপী ‘নাগরিক ঈদ উৎসব’-এর প্রথম দিনে মাইক্রোফোন হাতে গান গাইতে মঞ্চে উঠছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। ঢাকার প্রাচীন নাগরিক ঐতিহ্য ও উৎসবের সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের কাছে ফিরিয়ে লক্ষ্যে এই আয়োজন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ঈদ উৎসব আয়োজক কমিটি। ঈদ উৎসব আয়োজক কমিটির ভাষ্যমতে, যান্ত্রিক এই শহরে নাগরিকদের মাঝে সম্প্রীতি ও আনন্দের ছোঁয়া পৌঁছে দিতেই এই বর্ণাঢ্য আয়োজন। উৎসবের প্রথম দিন রবীন্দ্র সরোবরে মেহেদি উৎসব ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার আয়োজন রয়েছে, ঈদের দিন আয়োজন করা হবে বর্ণাঢ্য ঈদ মিছিল, যা শুরু হবে হাইকোর্ট প্রাঙ্গণ থেকে। উৎসবের তৃতীয় দিনে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যান প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে ঘুড়ি উৎসব। বিভিন্ন বয়সী মানুষের অংশগ্রহণে আকাশজুড়ে রঙিন ঘুড়ি উড়ানোর মধ্য দিয়ে ঈদের আনন্দ উদযাপন করা হবে।
ছোটপর্দার গণ্ডি পেরিয়ে বড় পর্দার রূপালি জগতে নিজের রাজত্ব কায়েম করেছেন তিনি। প্রতিটি চরিত্রে নিজেকে ভেঙে নতুন করে গড়ার যে লড়াই, তাতে আশনা হাবিব ভাবনা বরাবরই অনবদ্য। তবে অভিনয়ের নিপুণতা ছাপিয়ে এবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রীতিমতো আগ্নেয়গিরির মতো ফেটে পড়লেন এই অভিনেত্রী! পুরানো ভিডিও ‘ভাইরাল’ করার নামে নেটিজেনদের একাংশের অপ্রাসঙ্গিক চর্চা আর অপপ্রচারে ত্যাক্ত-বিরক্ত ভাবনা এবার আর চুপ থাকলেন না। সরাসরি কড়া ভাষায় সতর্ক বার্তা দিলেন সমালোচকদের। প্রকাশিত সেই পোস্টে ভাবনা লিখেছেন, ‘আপনারা এক ভিডিও আর কতবার ভাইরাল করবেন। যে ভিডিও ভাইরাল করছেন, সেটিও যেমন স্টেজে আমার নৃত্যনাট্যের একটি অংশ। আমি নাচের কাপড় পরে আছি। মুক্তিযুদ্ধের নৃত্যনাট্য। নৃত্যনাট্য কী, সেটা গুগলে সার্চ করে নেবেন। আবার এখন যেসব রাজনৈতিক মানুষের সাথে আমার ছবি দেখছেন, সেটিও ঈদের অনুষ্ঠানের।’ এক বিন্দু সুবিধা নেননি দাবি করে ভাবনা বলেন, ‘৫০ মিনিটে তাদের সাথে কী কী কথা হয়েছে, সব টেলিভিশনে দেখতে পারবেন। অনেকদিন চুপ ছিলাম। একজন শিল্পী হিসেবে আমি জীবনেও কারও কাছ থেকে এক বিন্দু সুবিধা নিইনি। তবুও যেভাবে আমি বুলিং, অপমান থেকে শুরু করে আরও ভয়ংকর অনেক কিছুর শিকার হয়েছি, তা বলব কোনো একদিন।’ ‘আমাকে রাজনৈতিক ট্যাগ দিয়ে লাভ নেই। আমি একজন শিল্পী, আমি কাজ করব। সবার সাথেই কাজ করব। যেমন একজন ব্যবসায়ী সবার সাথে কাজ করে, যেমন একজন চাকরিজীবী সবসময় কাজ করে। একজন শিল্পী হিসেবে আমাকে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে ডাকলে আমি যাব, আমি কাজ করব।’ শেষে লিখেছেন, ‘আমি কোনো দলের হয়ে কাজ করিনি, রাজনীতির প্রতি কোনো আগ্রহ নেই, ছিলও না। ভবিষ্যতে হলে অবশ্যই আপনারা জানবেন। আমি কেবলমাত্র একজন শিল্পী হয়ে থাকতে চাই। অনেক পেছনে লাগছেন, এবার একটু আমাকে কাজ করতে দিন। ছবি আঁকতে দিন, কবিতা লিখতে দিন।’
ঈদ মানেই আনন্দ, ঈদ মানেই খুশির ব্যস্ততা আর নানা আয়োজনে অংশ থাকা। তবে এই আনন্দের মধ্যেই অনেকের রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে। হঠাৎ করে রক্তচাপ বেড়ে গেলে অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। আতঙ্কিত না হয়ে সঠিক পদক্ষেপ নিলে পরিস্থিতি সহজেই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। সাধারণত উচ্চ রক্তচাপের তেমন কোনো লক্ষণ থাকে না। তবে কখনো কখনো বুক ধড়ফড় করা, মাথা ঘোরা, মাথাব্যথা কিংবা বমিভাবের মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে এসব উপসর্গ আরও গুরুতর সমস্যার পূর্বাভাসও হতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, হঠাৎ রক্তচাপ বেড়ে যাওয়া মানেই সব সময় বড় বিপদের সংকেত নয়, তবে বিষয়টি একেবারেই অবহেলা করাও উচিত নয়। কারণ রক্তচাপ খুব বেশি বেড়ে গেলে তা হৃদরোগ, স্ট্রোক বা কিডনির সমস্যার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। হঠাৎ রক্তচাপ বেড়ে গেলে করণীয় ১. নিজেকে শান্ত রেখে নিরিবিলি কোনো জায়গায় বসে ধীরে ধীরে গভীর শ্বাস নেওয়ার চেষ্টা করুন। এতে শরীর ও মন দুটোই কিছুটা স্বস্তি পাবে। ২. ধীরে ধীরে এক গ্লাস স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি পান করুন। অনেক সময় শরীরে পানির ঘাটতির কারণে রক্তনালিগুলো সংকুচিত হয়ে রক্তচাপ বাড়তে পারে। ৩. শরীর গরম লাগলে বা ঘাম হলে মাথা বা ঘাড়ের পেছনে ঠান্ডা সেঁক দিতে পারেন। ৪. ভেজা কাপড় বা আইস প্যাক ব্যবহার করলে শরীরের তাপমাত্রা কিছুটা কমে এবং স্বস্তি পাওয়া যায়। ৫. প্রতি ১৫-২০ মিনিট পরপর রক্তচাপ পরিমাপ করে দেখুন তা কমছে কি না। যদি রক্তচাপ ১৮০/১২০ বা তার বেশি থাকে, অথবা বুকব্যথা, শ্বাসকষ্ট, দৃষ্টি ঝাপসা হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। যা করা উচিত নয় ১. অনেকেই হঠাৎ রক্তচাপ বেড়ে গেলে ঘরোয়া টোটকা হিসেবে তেঁতুলের শরবত বা অন্য কিছু খেয়ে থাকেন। তবে এগুলোর মাধ্যমে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আসে-এমন কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। ২.চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজে থেকে কোনো ওষুধ খাওয়া ঠিক নয়। ভুল ওষুধ বা মাত্রা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। সতর্ক থাকা জরুরি যাদের আগে থেকেই উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। হঠাৎ রক্তচাপ বেড়ে গেলেও অস্থির না হয়ে বিশ্রাম নেওয়া এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ উপায়। নিজের স্বাস্থ্যের প্রতি সচেতন থাকা খুবই জরুরি।
জাপানি অ্যানিমেশন জগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র এবং বিশ্বখ্যাত কার্টুন সিরিজ ‘ডোরেমন’-এর পরিচালক সুতোমু শিবায়ামা আর নেই। গত ৬ মার্চ ৮৪ বছর বয়সে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি ফুসফুসের ক্যানসারে ভুগছিলেন। সম্প্রতি তার প্রতিষ্ঠিত অ্যানিমেশন স্টুডিও ‘আজিয়াদো’ (যা আজিয়া-ডু অ্যানিমেশন ওয়ার্কস নামেও পরিচিত) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মাধ্যমে এই খবর নিশ্চিত করেছে। সুতোমু শিবায়ামাকে জাপানি অ্যানিমেশন শিল্পের অন্যতম পথপ্রদর্শক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ১৯৬৩ সালে একটি খ্যাতনামা অ্যানিমেশন প্রতিষ্ঠানে কর্মজীবন শুরু করার পর তিনি একে একে বহু জনপ্রিয় কাজ উপহার দেন এবং একপর্যায়ে নিজেই স্টুডিও গড়ে তোলেন। বিশেষ করে ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ‘ডোরেমন’ সিরিজ ও এর পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রগুলোর পরিচালনার দায়িত্ব পালন করে তিনি এই সিরিজটিকে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় করে তোলেন। তার নিপুণ পরিচালনায় নবিতা, শিজুকা ও ডোরেমনের মতো চরিত্রগুলো কোটি ভক্তের হৃদয়ে চিরস্থায়ী স্থান করে নিয়েছে। ডোরেমন ছাড়াও ‘নিন্তামা রান্তারো’, ‘চিবি মারুকো-চান’ এবং ‘মাজিমে নি ফুমাজিমে কায়েকেতসু জোরোরি’র মতো জনপ্রিয় ধারাবাহিকে তিনি প্রধান পরিচালকের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। এর বাইরেও ‘ডোকোনজো গায়েরু’ ও ‘গানসো টেনসাই বাকাবন’-এর মতো প্রজেক্টে অ্যানিমেশন ডিরেক্টর হিসেবে তার কাজের স্বাক্ষর রয়েছে। অ্যানিমেশন শিল্পে এমন অসামান্য ও কালজয়ী অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১২ সালে জাপান সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় তাকে আজীবন সম্মাননায় ভূষিত করে। তার মৃত্যুতে জাপানের সাংস্কৃতিক অঙ্গনসহ বিশ্বজুড়ে অ্যানিমেশন প্রেমীদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্টুডিওর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিবারের ইচ্ছা অনুযায়ী অত্যন্ত ব্যক্তিগত পরিসরে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে। ভক্তদের ভালোবাসা ও সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে পরিবারের পক্ষ থেকে এই মুহূর্তে সরাসরি সমবেদনা জানানো বা ভিড় করা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করা হয়েছে। ২২ শতকের রোবট বিড়াল ডোরেমন আর তার বন্ধু নবিতার গল্পের মধ্য দিয়ে সুতোমু শিবায়ামা তার অগণিত ভক্তের মাঝে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।