হোমওয়ার্ক থেকে শুরু করে প্রেজেন্টেশন তৈরিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) চ্যাটবট চ্যাটজিপিটি অনেকেই ব্যবহার করছেন। এর নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই এবার দাবি করেছে, কেনাকাটা কিংবা দৈনন্দিন বাজেট তৈরির মতো মানুষের প্রাত্যহিক কাজগুলো এআই আরও নিখুঁতভাবে করতে শিখছে। এসব কাজে এআইয়ের দক্ষতা যাচাই করতে ওপেনএআই গত সোমবার একটি অভ্যন্তরীণ টুল এবং নিজেদের এআই মডেলগুলোর মূল্যায়নের ফলাফল প্রকাশ করেছে। ওপেনএআইয়ের তথ্যমতে, বাসা বদলের পর সঠিক কিন্ডারগার্টেন খুঁজে বের করার কাজে তাদের জিপিটি-৬ অ্যাস্ট্রা মডেল ৯৩ দশমিক ১ শতাংশ নম্বর পেয়েছে। এ ছাড়া বন্যার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া স্বেচ্ছাসেবকদের কাজে সাহায্য করতে এটি ৯৮ শতাংশ এবং ডায়াবেটিস রোগীর সঠিক খাবার রুটিন তৈরিতে ৯০ দশমিক ৪ শতাংশ নম্বর পেয়েছে। মেটা, অ্যানথ্রপিক ও গুগলের মতো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতার এই সময়ে ওপেনএআইয়ের এই মূল্যায়ন বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। গত বছর ওপেনএআই এআইয়ের দক্ষতা মাপতে ‘জিডিপিভ্যাল’ নামের একটি টুল প্রকাশ করেছিল, যার মাধ্যমে শিল্প, সরকার বা অর্থনৈতিক খাতের কাজে এআইয়ের পারদর্শিতা যাচাই করা হতো। কিন্তু দৈনন্দিন জীবনের নানা কাজে এআইয়ের মূল্যায়ন বেশ চ্যালেঞ্জিং। কারণ, মানুষের কাজের ধরন ও উত্তর ভিন্ন হয়। ওপেনএআই প্রায় ৪ হাজার ব্যবহারকারীর ওপর জরিপ চালিয়ে জেনেছে, তারা এআইয়ের কাছ থেকে কী ধরনের কাজ প্রত্যাশা করে। জরিপ অনুযায়ী, ব্যবহারকারীরা বাড়ি খোঁজা থেকে শুরু করে প্রিয়জনের যত্ন নেওয়ার মতো বিভিন্ন কাজে এআইয়ের সহায়তা চেয়েছেন। ওপেনএআই মূলত এআইয়ের ওয়েবসাইট ব্যবহার করার ক্ষমতা, পুরোনো চ্যাটের তথ্য মনে রেখে উত্তর দেওয়ার পারদর্শিতা এবং ব্যবহারকারীর প্রত্যাশা অনুযায়ী সমাধান দেওয়ার দক্ষতা যাচাই করছে। ওপেনএআই চায়, চ্যাটজিপিটি সাধারণ কনটেন্ট তৈরির পাশাপাশি দৈনন্দিন কাজেও একজন দক্ষ সহকারীর ভূমিকা পালন করুক, যাতে মানুষের জীবনের কাজগুলো আরও সহজ ও সময়সাশ্রয়ী হয়।
স্মার্টফোনে এখন সাধারণ সিমের পাশাপাশি ই-সিমের ব্যবহারও বাড়ছে। বিশেষ করে নতুন ফোন কেনার সময় অনেকেই দ্বিধায় পড়েন, কোনটি ব্যবহার করা বেশি সুবিধাজনক হবে। কারণ, দুই ধরনের সিমেরই রয়েছে কিছু ভালো দিক ও সীমাবদ্ধতা। তাই ফোন কেনার আগে এদের কাজের ধরন, সুবিধা ও অসুবিধা সম্পর্কে জেনে নেওয়া জরুরি। সাধারণ সিম কী এবং কীভাবে কাজ করে? সাধারণ সিম হলো ছোট আকারের একটি প্লাস্টিকের কার্ড, যার মধ্যে প্রয়োজনীয় তথ্য সংরক্ষিত থাকে। এটি ফোনের নির্দিষ্ট সিম স্লটে প্রবেশ করালেই মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা যায়। এই সিমের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো সহজে এক ফোন থেকে অন্য ফোনে ব্যবহার করা যায়। নতুন ফোন কিনলে পুরোনো সিমটি খুলে নতুন ফোনে লাগালেই সাধারণত সংযোগ পাওয়া যায়। এ জন্য অপারেটরের কাছে যাওয়ার বা নতুন করে সিম চালু করার প্রয়োজন হয় না। তবে সাধারণ সিমের কিছু অসুবিধাও রয়েছে। ছোট হওয়ায় এটি হারিয়ে যেতে পারে। ফোন থেকে খোলা বা লাগানোর সময় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কাও থাকে। এ ছাড়া ফোনে সিম রাখার জন্য আলাদা স্লট প্রয়োজন হয়। ই-সিম কী এবং এর সুবিধা কী? ই-সিম মূলত একটি ডিজিটাল সিম, যা স্মার্টফোনের ভেতরেই স্থায়ীভাবে যুক্ত থাকে। এতে সাধারণ সিমের মতো কোনো প্লাস্টিকের কার্ড ব্যবহার করতে হয় না। মোবাইল অপারেটরের দেওয়া কিউআর কোড স্ক্যান করে অথবা নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ করে এটি চালু করা যায়। ই-সিমের অন্যতম সুবিধা হলো এটি হারিয়ে যাওয়া বা ভেঙে যাওয়ার ভয় নেই। ফোন চুরি হলেও চোর সহজে সিম খুলে ফেলতে পারে না। ফলে ফোনে ইন্টারনেট সংযোগ চালু থাকলে সেটি খুঁজে পাওয়ার ক্ষেত্রে কিছুটা সুবিধা হতে পারে। এ ছাড়া ই-সিম ব্যবহারে ফোনের সিম স্লটের প্রয়োজন হয় না। অনেক ক্ষেত্রে একই ফোনে একাধিক সিম প্রোফাইল সংরক্ষণ করার সুবিধাও পাওয়া যায়। তবে ই-সিমের কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সাধারণ সিমের মতো খুলে অন্য ফোনে লাগানো যায় না। নতুন ফোনে ব্যবহার করতে হলে অপারেটরের নিয়ম অনুযায়ী আবার সক্রিয় করতে হতে পারে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, সব স্মার্টফোন ও মোবাইল অপারেটরে ই-সিম ব্যবহারের সুবিধা নেই। আপনার প্রয়োজন কোন সিম? কোন সিম ব্যবহার করবেন তা মূলত আপনার প্রয়োজনের ওপর নির্ভর করে। আপনি যদি প্রায়ই ফোন পরিবর্তন করেন কিংবা জরুরি প্রয়োজনে সহজে এক ফোন থেকে অন্য ফোনে সিম ব্যবহার করতে চান, তাহলে সাধারণ সিম আপনার জন্য ভালো বিকল্প হতে পারে। অন্যদিকে, আপনি যদি ডিজিটাল প্রযুক্তির সুবিধা নিতে চান এবং সিম কার্ড হারিয়ে যাওয়া বা নষ্ট হওয়ার ঝামেলা এড়াতে চান, তাহলে ই-সিম বেছে নিতে পারেন। বিশেষ করে ভ্রমণের সময় বিভিন্ন দেশের মোবাইল সংযোগ ব্যবহারের ক্ষেত্রেও ই-সিম বেশ সুবিধাজনক হতে পারে। তবে ই-সিম নেওয়ার আগে আপনার ফোনের মডেলে এই সুবিধা আছে কিনা এবং আপনার মোবাইল অপারেটর ই-সিম সেবা দিচ্ছে কিনা, তা জেনে নেওয়া প্রয়োজন। সাধারণ সিম ও ই-সিমের মধ্যে কোনটি সেরা, তার নির্দিষ্ট কোনো উত্তর নেই। যারা সহজে সিম পরিবর্তন করতে চান, তাদের জন্য সাধারণ সিম সুবিধাজনক। আর যারা বাড়তি নিরাপত্তা, সহজ ডিজিটাল ব্যবহার এবং আধুনিক প্রযুক্তির সুবিধা চান, তাদের জন্য ই-সিম ভালো পছন্দ হতে পারে। তাই নতুন ফোন কেনার সময় নিজের ব্যবহার, প্রয়োজন এবং অপারেটরের সুবিধা বিবেচনা করেই সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
নতুন স্মার্টফোন কেনার সময় ক্রেতাদের বড় একটি অংশ প্রথমেই জানতে চান, ফোনটিতে কত জিবি র্যাম রয়েছে। ৮ জিবি, ১২ জিবি কিংবা ১৬ জিবি র্যামের বিজ্ঞাপনও এখন বেশ চোখে পড়ে। ফলে অনেকের মধ্যেই ধারণা তৈরি হয়েছে, র্যাম যত বেশি হবে, ফোনের গতিও তত বেশি হবে। তবে বাস্তবতা কিছুটা ভিন্ন। একটি স্মার্টফোন কতটা দ্রুত ও সাবলীলভাবে কাজ করবে, তা শুধু র্যামের ওপর নির্ভর করে না। প্রসেসর, স্টোরেজ, সফটওয়্যারসহ আরও বেশ কিছু বিষয় এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই ফোন কেনার সময় র্যামের সংখ্যা দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে এর কাজ এবং পারফরম্যান্সের সঙ্গে সম্পর্কিত অন্যান্য বিষয়গুলোও জেনে নেওয়া প্রয়োজন। র্যামের কাজ কী? র্যাম বা র্যান্ডম অ্যাকসেস মেমোরি হলো ফোনের অস্থায়ী মেমোরি। ব্যবহারকারী যখন একাধিক অ্যাপ চালু রাখেন, তখন সেগুলোর প্রয়োজনীয় তথ্য সাময়িকভাবে র্যামে সংরক্ষিত থাকে। এর ফলে একটি অ্যাপ থেকে অন্য অ্যাপে যাওয়ার পর আগের অ্যাপে ফিরে এলে সেটি অনেক সময় আগের অবস্থাতেই পাওয়া যায়। ফোনের গতিতে প্রসেসরের ভূমিকা বেশি স্মার্টফোনের সামগ্রিক পারফরম্যান্স নির্ধারণে প্রসেসর বা চিপসেটের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অ্যাপ চালানো, গেম খেলা, ছবি তোলা কিংবা ভিডিও সম্পাদনার মতো কাজগুলো কত দ্রুত হবে, তার বড় একটি অংশ প্রসেসরের সক্ষমতার ওপর নির্ভর করে। এ কারণে ৮ জিবি র্যাম থাকা পুরোনো চিপসেটের ফোনের তুলনায় ৬ জিবি র্যামের আধুনিক প্রসেসরযুক্ত ফোন ভালো পারফরম্যান্স দিতে পারে। ফোন কেনার সময় শুধু প্রসেসরের ব্র্যান্ড নয়, নির্দিষ্ট মডেল, প্রজন্ম ও সক্ষমতাও যাচাই করা উচিত। স্ন্যাপড্রাগন, মিডিয়াটেক ডাইমেনসিটি, অ্যাপল এ-সিরিজ কিংবা এক্সিনোসের বিভিন্ন চিপসেটের মধ্যে পারফরম্যান্সের পার্থক্য রয়েছে। বিশেষ করে গেমিং বা ভারী কাজের জন্য ফোন কিনলে চিপসেটের বাস্তব পারফরম্যান্স সম্পর্কে ধারণা নেওয়া জরুরি। স্টোরেজের গতিও প্রভাব ফেলে ফোনের স্টোরেজ বলতে সাধারণত ছবি, ভিডিও, অ্যাপ ও অন্যান্য ফাইল রাখার জায়গাকে বোঝানো হয়। তবে স্টোরেজের ধারণক্ষমতার পাশাপাশি এর প্রযুক্তিও গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে স্মার্টফোনে বিভিন্ন ধরনের স্টোরেজ প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়। যেমন, ইএমএমসি তুলনামূলক ধীরগতির। অন্যদিকে ইউএফএস ২.২, ইউএফএস ৩.৩ এবং ইউএফএস ৪.০ ক্রমান্বয়ে আরও উন্নত গতি দিতে পারে। দ্রুত স্টোরেজ থাকলে অ্যাপ চালু করা, বড় ফাইল স্থানান্তর এবং গেম লোড করার মতো কাজ দ্রুত সম্পন্ন হয়। ফলে বেশি র্যাম থাকা সত্ত্বেও ধীরগতির স্টোরেজযুক্ত ফোনে কাঙ্ক্ষিত পারফরম্যান্স নাও পাওয়া যেতে পারে। সফটওয়্যারের মানও গুরুত্বপূর্ণ একই পরিমাণ র্যাম ও কাছাকাছি হার্ডওয়্যার থাকা সত্ত্বেও দুটি ফোনের ব্যবহারের অভিজ্ঞতায় পার্থক্য দেখা যায়। এর অন্যতম কারণ সফটওয়্যার অপটিমাইজেশন। ফোনের অপারেটিং সিস্টেম, ইউজার ইন্টারফেস এবং ব্যাকগ্রাউন্ডে চলা অ্যাপগুলো র্যাম ও প্রসেসরের ওপর প্রভাব ফেলে। কিছু ফোনে অতিরিক্ত প্রি-ইনস্টলড অ্যাপ এবং ভারী ইউজার ইন্টারফেস থাকায় সিস্টেমের রিসোর্স বেশি ব্যবহার হয়। অন্যদিকে ভালোভাবে অপটিমাইজ করা সফটওয়্যার তুলনামূলক সীমিত হার্ডওয়্যারেও সাবলীল অভিজ্ঞতা দিতে পারে। এ কারণেই আইফোনের মতো ডিভাইসে তুলনামূলক কম র্যাম থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে ভালো পারফরম্যান্স দেখা যায়। তাই ফোন কেনার আগে শুধু স্পেসিফিকেশন না দেখে সফটওয়্যার ব্যবহারের অভিজ্ঞতা, আপডেট সুবিধা এবং দীর্ঘমেয়াদি পারফরম্যান্সের রিভিউ দেখে নেওয়া ভালো। ভার্চুয়াল র্যাম কি সত্যিই কাজে আসে? বর্তমানে অনেক স্মার্টফোনের বিজ্ঞাপনে ৮ জিবি র্যামের পাশাপাশি আরও ৮ জিবি এক্সটেন্ডেড বা ভার্চুয়াল র্যামের কথা উল্লেখ করা হয়। এতে মোট ১৬ জিবি র্যাম মনে হলেও বিষয়টি আসলে তেমন নয়। ভার্চুয়াল র্যাম তৈরির জন্য ফোনের অভ্যন্তরীণ স্টোরেজের একটি অংশ ব্যবহার করা হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী এটি অস্থায়ী মেমোরির মতো কাজ করতে পারে। তবে স্টোরেজের গতি প্রকৃত র্যাম তুলনায় অনেক কম। ফলে ভার্চুয়াল র্যাম কিছু পরিস্থিতিতে ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাপ ব্যবস্থাপনায় সহায়তা করলেও এটি প্রকৃত বিকল্প হতে পারে না। তাই ৮ জিবি র্যামের ফোনে ভার্চুয়াল র্যাম যোগ করে ১৬ জিবি হিসেবে প্রচার করা হলে সেটিকে আসল ১৬ জিবি র্যাম মনে করা ঠিক হবে না। স্মার্টফোন কেনার আগে যে বিষয়গুলো যাচাই করবেন একটি ভালো স্মার্টফোন বেছে নিতে কয়েকটি বিষয় একসঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। প্রসেসর: চিপসেটের মডেল, প্রজন্ম ও পারফরম্যান্স সম্পর্কে জেনে নিন। স্টোরেজ: ফোনে ইএমএমসি নাকি ইউএফএস স্টোরেজ ব্যবহার করা হয়েছে, তা যাচাই করুন। ডিসপ্লে: পর্দার রিফ্রেশ রেট, রেজল্যুশন ও প্যানেলের মান দেখে নিন। ব্যাটারি: ব্যাটারির ধারণক্ষমতার পাশাপাশি চার্জিং প্রযুক্তি ও ব্যাকআপ কেমন, তা বিবেচনা করুন। সফটওয়্যার আপডেট: ফোনটি কত দিন অ্যান্ড্রয়েড ও নিরাপত্তা আপডেট পাবে, সেটি জেনে নিন। বাস্তব অভিজ্ঞতা: কেনার আগে নির্ভরযোগ্য প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট ও ইউটিউব চ্যানেলের রিভিউ দেখুন। সম্ভব হলে দোকানে ফোনটি নিজে ব্যবহার করে দেখুন। ওয়ারেন্টি ও দাম: অফিসিয়াল ওয়ারেন্টি, বিক্রয়োত্তর সেবা এবং বর্তমান বাজারদর যাচাই করে তারপর সিদ্ধান্ত নিন। স্মার্টফোনের ভালো পারফরম্যান্সের জন্য র্যাম অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, তবে এটিই সবকিছু নয়। শক্তিশালী প্রসেসর, দ্রুত স্টোরেজ এবং উন্নত সফটওয়্যার অপটিমাইজেশন একসঙ্গে কাজ করেই একটি ফোনকে দ্রুত ও সাবলীল করে তোলে। তাই শুধু বিজ্ঞাপনে বড় করে লেখা র্যামের সংখ্যা দেখে ফোন কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। নিজের ব্যবহারের ধরন, প্রয়োজন এবং বাজেট অনুযায়ী সঠিক সমন্বয়ের ফোন বেছে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
একটি নতুন অ্যানড্রয়েড ফোন কেনার পর পুরনো আইফোনের ছবি, ভিডিও, কন্টাক্ট, বার্তা ও অন্যান্য তথ্য স্থানান্তর নিয়ে অনেকেই ঝামেলায় পড়েন। গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হারানোর আশঙ্কাও থাকে। তবে এখন গুগল ও অ্যানড্রয়েড ফোন নির্মাতাদের দেওয়া বিভিন্ন সুবিধার মাধ্যমে সহজেই আইফোন থেকে নতুন অ্যানড্রয়েড ফোনে প্রয়োজনীয় তথ্য নেওয়া যায়। সম্প্রতি এ বিষয়ে একটি ধাপে ধাপে নির্দেশনা প্রকাশ করেছে টাইমস অব ইন্ডিয়া। প্রতিবেদন অনুযায়ী, কেবল ব্যবহার করে অথবা ‘সুইচ টু অ্যানড্রয়েড’ অ্যাপের সাহায্যে তারবিহীনভাবেও তথ্য স্থানান্তর করা সম্ভব। প্রথম ধাপ : নতুন অ্যানড্রয়েড ফোন চালু করুন প্রথমে নতুন অ্যানড্রয়েড ফোনটি চালু করে পর্দায় দেখানো নির্দেশনা অনুসরণ করুন। সেটআপ প্রক্রিয়া শুরু করতে ‘স্টার্ট’ অপশনে চাপ দিন। দ্বিতীয় ধাপ: ইন্টারনেট সংযোগ চালু করুন ফোন সেটআপের সময় ওয়াই-ফাই বা মোবাইল নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হতে হবে। ইন্টারনেট সংযোগ ছাড়া তথ্য স্থানান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যাবে না। ফিজিক্যাল সিম ব্যবহার করলে পুরোনো আইফোন থেকে সেটি খুলে নতুন অ্যানড্রয়েড ফোনে লাগানো যাবে। আর ই-সিম ব্যবহারকারীরা মোবাইল অপারেটরের সহায়তায় নতুন ফোনে ই-সিম চালু করতে পারবেন। তৃতীয় ধাপ: কেবল দিয়ে তথ্য স্থানান্তর করুন বেশি ধরনের তথ্য স্থানান্তরের জন্য কেবল ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে পুরোনো আইফোনের চার্জিং কেবলের এক প্রান্ত আইফোনে এবং অন্য প্রান্ত নতুন অ্যানড্রয়েড ফোনে সংযুক্ত করতে হবে। প্রয়োজনে উপযুক্ত অ্যাডাপ্টার ব্যবহার করা যাবে। সংযোগ দেওয়ার পর আইফোনে অনুমতি চাওয়া হলে ‘ট্রাস্ট’ অপশনে চাপ দিতে হবে। এরপর নতুন ফোনে গুগল অ্যাকাউন্টে সাইন ইন করতে হবে। অ্যাকাউন্ট না থাকলে নতুন করে তৈরি করা যাবে। এরপর নতুন ফোনে কোন কোন তথ্য স্থানান্তর করতে চান, তা নির্বাচন করে ‘কপি’ অপশনে চাপ দিতে হবে। দুই ফোনে নির্দেশনা অনুসরণ করলেই তথ্য স্থানান্তর শুরু হবে। চতুর্থ ধাপ: কেবল ছাড়াই তথ্য স্থানান্তর কেবল ব্যবহার করতে না চাইলে ‘সুইচ টু অ্যানড্রয়েড’ অ্যাপের সাহায্যে তারবিহীনভাবেও তথ্য নেওয়া যায়। এ জন্য নতুন অ্যানড্রয়েড ফোন চালু করে সেটআপের সময় পুরোনো ফোন থেকে অ্যাপ ও তথ্য কপি করার অপশন নির্বাচন করতে হবে। এরপর ‘নো কেবল’ অথবা ‘কেবল ডাজ়ন্ট ফিট’ অপশনে গিয়ে ‘সুইচিং ফ্রম আইফোন অর আইপ্যাড’ নির্বাচন করতে হবে। এরপর গুগল অ্যাকাউন্টে সাইন ইন করলে নতুন ফোনের পর্দায় একটি কিউআর কোড দেখা যাবে। পঞ্চম ধাপ: আইফোন দিয়ে কিউআর কোড স্ক্যান করুন পুরোনো আইফোনের ক্যামেরা দিয়ে নতুন অ্যানড্রয়েড ফোনে দেখানো কিউআর কোড স্ক্যান করতে হবে। এরপর অ্যাপ স্টোর থেকে ‘সুইচ টু অ্যানড্রয়েড’ অ্যাপ ডাউনলোড করে চালু করতে হবে। অ্যাপের পর্দায় দেখানো নির্দেশনা অনুসরণ করলে তথ্য স্থানান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হবে। এ ক্ষেত্রে আইফোন ও অ্যানড্রয়েড ফোন কাছাকাছি রাখতে হবে এবং পুরো প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত সংযোগ বজায় রাখতে হবে। হোয়াটসঅ্যাপের তথ্য স্থানান্তর করবেন যেভাবে আইফোন থেকে অ্যানড্রয়েডে হোয়াটসঅ্যাপের চ্যাট ও অন্যান্য তথ্য নেওয়ার জন্য আলাদা নির্দেশনা অনুসরণ করতে হতে পারে। নতুন অ্যানড্রয়েড ফোনে স্থানান্তরের সময় দেখানো কিউআর কোড আইফোন দিয়ে স্ক্যান করে পর্দায় আসা নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। তবে কোন কোন তথ্য স্থানান্তর করা যাবে, তা ফোনের মডেল ও ব্যবহৃত পদ্ধতির ওপর নির্ভর করে। কিছু অ্যাপের তথ্য, অর্থের বিনিময়ে কেনা অ্যাপ এবং আইক্লাউডে সংরক্ষিত ছবি-ভিডিও সরাসরি স্থানান্তর নাও হতে পারে। উল্লেখ্য নতুন ফোনে ছবি, ভিডিও, কন্টাক্ট ও বার্তাগুলো ঠিকভাবে এসেছে কি না, তা যাচাই করে নেওয়া ভালো।
ওপেনএআই অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমের জন্য চ্যাটজিপিটিতে ‘গুগল হেলথ’ যুক্ত করার কথা ভাবছে। এই সুবিধাটি চালু হলে স্মার্টওয়াচ এবং ফিটনেস ট্র্যাকারের মাধ্যমে সংগৃহীত স্বাস্থ্য ও ফিটনেস ডেটা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) চ্যাটবটটির সঙ্গে যুক্ত করার সুযোগ পাবেন ব্যবহারকারীরা। এই ডেটা বিশ্লেষণ করে চ্যাটবটটি ব্যবহারকারীদের স্বাস্থ্য সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দিতে পারবে। এমনকি অতীত স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য ঘেঁটে সময়ের সঙ্গে পরিবর্তনগুলোও চিহ্নিত করতে পারবে এটি। অ্যান্ড্রয়েড অথরিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, চ্যাটজিপিটির সর্বশেষ অ্যান্ড্রয়েড সংস্করণ (১.২০২৬.৩০০)-এর কোডে গুগল হেলথ যুক্ত হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে। কোডে ‘অ্যান্ড্রয়েড হেলথ কানেক্ট’ সংক্রান্ত কিছু অনুমতির উল্লেখ রয়েছে। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা তাদের স্বাস্থ্য সম্পর্কিত তথ্য চ্যাটজিপিটির সঙ্গে শেয়ার করতে পারবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য অনুমতি হলো ব্যাকগ্রাউন্ডে স্বাস্থ্য সম্পর্কিত তথ্য পড়ার সুবিধা। এর ফলে চ্যাটবটটি ব্যাকগ্রাউন্ড থেকেই এসব তথ্য সংগ্রহ করতে পারবে, ব্যবহারকারীকে বারবার অ্যাপ খোলার প্রয়োজন হবে না। এই অনুমতির আওতায় ওজন, শরীরের চর্বি, পেশি এবং হাড়ের ভরের মতো সাধারণ স্বাস্থ্য তথ্য থাকবে। এ ছাড়া ঋতুস্রাব ও ডিম্বস্ফোটনের মতো প্রজনন স্বাস্থ্যের তথ্যও এর অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। চ্যাটজিপিটি কেন নির্দিষ্ট স্বাস্থ্য তথ্যের অ্যাক্সেস চাইবে এবং কীভাবে সেই ডেটা ব্যবহার করবে, তা বোঝাতে প্রতিবেদনে হেলথ কানেক্ট-এর দুটি নতুন ধাপের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই প্রক্রিয়াগুলো ঠিক কীভাবে কাজ করবে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বর্তমানে আইফোন ব্যবহারকারীরা চ্যাটজিপিটির সঙ্গে অ্যাপল হেলথ যুক্ত করে তাদের স্বাস্থ্য রেকর্ড শেয়ার করতে পারেন। তবে অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের জন্য গুগল হেলথের এই ধরনের কোনো সমন্বিত ব্যবস্থা এখনো নেই। ওপেনএআই আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফিচারের ঘোষণা বা কবে নাগাদ এটি চালু হতে পারে, তা এখনো জানায়নি। কোডে শুধু ইঙ্গিত পাওয়া গেছে; চূড়ান্তভাবে এটি চালু হবে কি না, তা নিয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।
প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের কোনো শত্রুতা নেই বলে জানিয়েছে তেহরান। তবে অন্য কোনো দেশকে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেওয়া হলে তা মেনে নেওয়া হবে না বলে সতর্ক করেছে দেশটি। সোমবার (২ নভেম্বর) ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এসব কথা বলেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে তাঁর বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। ইসমাইল বাঘাই বলেন, নির্দিষ্ট কিছু দেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরানের ভৌগোলিক অখণ্ডতা লঙ্ঘন করা হলে এবং দেশটির নাগরিকদের হুমকির মুখে ফেলা হলে তেহরান নীরব থাকতে পারে না। সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় কয়েকটি আরব দেশে ইরানের হামলার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, এসব ঘটনার পেছনে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নীতিগত অবস্থান ও যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার ভূমিকা ছিল। তাঁর অভিযোগ, কিছু দেশ সরাসরি ইরানের বিরুদ্ধে হামলায় অংশ নিয়েছিল। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আরও বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে আস্থা ও সুসম্পর্ক প্রতিষ্ঠার দুটি পথ রয়েছে। তবে তেহরানের প্রধান প্রত্যাশা হলো, এসব দেশের ভূখণ্ড যেন ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা চালানোর কাজে ব্যবহার করা না হয়। নতুন হামলার আশঙ্কায় বাড়ছে উত্তেজনা এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলা হতে পারে—এমন আশঙ্কা ঘিরে আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য নতুন হামলার প্রেক্ষাপটে ইরানও কঠোর পাল্টা পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তেহরানের বক্তব্য অনুযায়ী, দেশটির ওপর আবারও হামলা হলে জবাব দেওয়ার ক্ষেত্রে আগের মতো ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা মেনে চলা হবে না। এ পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। প্রতিবেশী দেশগুলোর ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযান পরিচালিত হলে তার পরিণতি কী হতে পারে, তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। সূত্র: আলজাজিরা
নিয়মিত বিরতিতে কেঁপে ওঠে পৃথিবী। ঠিক প্রতি ২৬ সেকেন্ড পরপর সৃষ্টি হয় এক ধরনের ছন্দময় ভূকম্পন। এতটাই সূক্ষ্ম এই কম্পন যে সাধারণ মানুষের পক্ষে তা অনুভব করা সম্ভব নয়। তবে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে স্থাপিত অত্যাধুনিক ভূকম্পন পরিমাপক যন্ত্রে ধরা পড়েছে এই অস্বাভাবিক সংকেত। কয়েক দশক ধরে বিজ্ঞানীরা এর কারণ অনুসন্ধান করলেও এখনো নিশ্চিত কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। পৃথিবীর এই রহস্যময় স্পন্দন নিয়ে চলছে নানা গবেষণা। খবর এনডিটিভির। এই অদ্ভুত কম্পন প্রথম শনাক্ত করেন ভূ-পদার্থবিজ্ঞানী জ্যাক অলিভার। ষাটের দশকের শুরুর দিকে গবেষণার সময় তিনি লক্ষ্য করেন, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের সিসমোমিটারে নির্দিষ্ট বিরতিতে একই ধরনের কম্পন রেকর্ড হচ্ছে। পরবর্তী পর্যবেক্ষণে ধারণা করা হয়, এর উৎপত্তিস্থল নিরক্ষীয় আটলান্টিক মহাসাগরের কোনো একটি অঞ্চল। এমনকি বছরের নির্দিষ্ট কিছু মৌসুমে এই কম্পনের তীব্রতাও বেড়ে যায়। তবে সে সময় পর্যাপ্ত প্রযুক্তি ও গবেষণার সুযোগ না থাকায় রহস্যটির সমাধান করতে পারেননি অলিভার। ফলে দীর্ঘদিন বিষয়টি বিজ্ঞানীদের আলোচনার আড়ালে থেকে যায়। ২০০৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব কলোরাডো বোল্ডারের গবেষকেরা ডিজিটাল ভূকম্পনসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণের সময় আবারও এই অস্বাভাবিক সংকেত শনাক্ত করেন। গবেষক মাইক রিটজওলারের ভাষ্য অনুযায়ী, তারা এমন একটি সংকেত পান, যা ছিল অত্যন্ত অস্বাভাবিক, নিয়মিত এবং দীর্ঘস্থায়ী। পরবর্তী বিশ্লেষণে এর সম্ভাব্য উৎস হিসেবে পশ্চিম আফ্রিকার উপকূলবর্তী গিনি উপসাগরকে চিহ্নিত করা হয়। এরপর থেকেই পৃথিবীর এই রহস্যময় ‘হার্টবিট’ নিয়ে গবেষণায় নতুন গতি আসে। বিজ্ঞানীরা কম্পনটির উৎপত্তি সম্পর্কে কয়েকটি সম্ভাব্য তত্ত্ব সামনে এনেছেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো তত্ত্বই চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি। সমুদ্রের ঢেউয়ের আঘাত কি কারণ? বিজ্ঞানীদের একটি ধারণা হলো, সমুদ্রের শক্তিশালী ঢেউয়ের আঘাত থেকেই এই কম্পনের সৃষ্টি হতে পারে। বিশেষ করে মহাসাগরের তলদেশে অবস্থিত মহীসোপানে ঢেউ আছড়ে পড়লে সেখান থেকে ভূকম্পনের মতো সংকেত তৈরি হতে পারে। বিষয়টি বোঝাতে গবেষকেরা টেবিলের উদাহরণ দিয়েছেন। টেবিলের এক প্রান্তে আঘাত করলে যেমন অন্য প্রান্তেও কম্পন ছড়িয়ে পড়ে, তেমনি সমুদ্রের ঢেউয়ের শক্তিও সমুদ্রতলদেশে ছড়িয়ে পড়ে নিয়মিত ভূকম্পন সৃষ্টি করতে পারে। আগ্নেয়গিরির কার্যকলাপের যোগসূত্র এই রহস্যের আরেকটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা উঠে আসে ২০১৩ সালে চীনা বিজ্ঞানীদের একটি গবেষণায়। তাদের ধারণা, গিনি উপসাগরের বাইট অব বনি অঞ্চলে সাও তোমে দ্বীপের কাছাকাছি আগ্নেয়গিরির কার্যকলাপ থেকে এই কম্পনের উৎপত্তি হতে পারে। সম্ভাব্য উৎসস্থলের কাছাকাছি এই অঞ্চলটির অবস্থান তত্ত্বটিকে বিজ্ঞানীদের কাছে আরও আগ্রহের বিষয় করে তুলেছে। তবে আগ্নেয়গিরির কার্যকলাপের সঙ্গে প্রতি ২৬ সেকেন্ডের এই কম্পনের সরাসরি সম্পর্ক এখনো নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানীরা রহস্যময় এই ভূকম্পন নিয়ে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু এখনো এর প্রকৃত উৎস সম্পর্কে কোনো সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি। গবেষক মাইক রিটজওলারের মতে, পৃথিবীর এই নিয়মিত স্পন্দনের মৌলিক কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে বিজ্ঞানীদের আরও গবেষণা প্রয়োজন। ফলে প্রতি ২৬ সেকেন্ডে পৃথিবীর এই রহস্যময় ‘হার্টবিট’ ঠিক কী কারণে সৃষ্টি হচ্ছে, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনো অজানা।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মডেল প্রশিক্ষণের জন্য সংবাদমাধ্যমসহ বিভিন্ন ওয়েবসাইটের কনটেন্ট অনুমতি ছাড়া সংগ্রহ (স্ক্র্যাপিং) বন্ধে প্রকাশকদের নতুন একটি অভিন্ন ব্যবস্থা চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে প্রযুক্তি খাতের চার বড় প্রতিষ্ঠান—ওপেনএআই, গুগল, মাইক্রোসফট ও অ্যানথ্রোপিক। শুক্রবার প্রতিষ্ঠানগুলো জানায়, নতুন এ ব্যবস্থার মাধ্যমে সংবাদমাধ্যম ও অন্যান্য ওয়েবসাইট কর্তৃপক্ষ একটি মাত্র নির্দেশনার সাহায্যে এআই কোম্পানিগুলোকে তাদের ওয়েবসাইটের কনটেন্ট সংগ্রহ ও এআই মডেল প্রশিক্ষণে ব্যবহার করা থেকে বিরত রাখতে পারবে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র। বর্তমানে ইন্টারনেট থেকে তথ্য সংগ্রহকারী প্রতিটি বটের জন্য ওয়েবসাইট কর্তৃপক্ষকে আলাদাভাবে কনটেন্ট সংগ্রহ বন্ধের নির্দেশনা দিতে হয়। নতুন প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় একটি অভিন্ন ও নির্দিষ্ট ফরম্যাটের নির্দেশনা দিলেই হবে। যেসব এআই কোম্পানি এ পদ্ধতি গ্রহণ করবে, তাদের সবাই সেই নির্দেশনা মেনে চলবে। তবে নতুন ব্যবস্থাটি পুরোপুরি কার্যকর হতে আরও কয়েক মাস সময় লাগবে। মাইক্রোসফট ২০২৭ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে এ ব্যবস্থা চালু করবে। গুগল একই বছরের কোনো এক সময়ে এটি বাস্তবায়ন করবে। চ্যাটজিপিটির নির্মাতা ওপেনএআই জানিয়েছে, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে তারা এ ব্যবস্থা চালু করবে। আর ক্লডের নির্মাতা অ্যানথ্রোপিক বলেছে, তারা ইতোমধ্যে এটি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে। এ ঘোষণা এমন এক সময়ে এলো, যখন এআই মডেল প্রশিক্ষণের জন্য সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটের তথ্য সংগ্রহকারী বটের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। এ নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরোধও বাড়ছে। এমনকি নিউইয়র্ক টাইমসের মতো সংবাদমাধ্যম বিষয়টি আদালত পর্যন্ত নিয়ে গেছে। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে নিউইয়র্ক টাইমস ওপেনএআই ও মাইক্রোসফটের বিরুদ্ধে মামলা করে। পত্রিকাটির অভিযোগ, অনুমতি বা অর্থ পরিশোধ ছাড়াই তাদের প্রকাশিত লাখ লাখ প্রতিবেদন ব্যবহার করে চ্যাটজিপিটিকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। তবে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান দুটি কপিরাইট আইনের ‘ফেয়ার ইউজ’ বা ন্যায্য ব্যবহারের বিধানের কথা উল্লেখ করে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছে। এ বিধানের আওতায় নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে কপিরাইটযুক্ত উপাদান অনুমতি ছাড়াও ব্যবহার করা যেতে পারে। এদিকে, ইন্টারনেট অবকাঠামো সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ক্লাউডফ্লেয়ার ২০২৫ সালের জুলাই থেকে নতুন গ্রাহকদের ওয়েবসাইটে ডিফল্টভাবে এআই বটের প্রবেশ বন্ধ রাখার ব্যবস্থা চালু করেছে। অন্যদিকে, ‘রিয়েলি সিম্পল লাইসেন্সিং’ নামে একটি মানদণ্ডের মাধ্যমে ওয়েবসাইটে প্রবেশকারী বটগুলোর কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে। মাইক্রোসফট তাদের এক ব্লগ পোস্টে জানিয়েছে, নতুন এ ব্যবস্থা শুধু ভবিষ্যতে এআই মডেল প্রশিক্ষণের জন্য কনটেন্ট ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। এটি ওয়েবসাইটে বটের স্বাভাবিক প্রবেশ বা তথ্য সংগ্রহ পুরোপুরি বন্ধ করবে না। এ ছাড়া ওয়েবসাইট কর্তৃপক্ষ নিজেরা সেটিংস পরিবর্তন না করা পর্যন্ত কনটেন্ট সংগ্রহের অনুমতি স্বয়ংক্রিয়ভাবেই চালু থাকবে। মাইক্রোসফট ও গুগল পৃথক ব্লগ পোস্টে সতর্ক করে বলেছে, কোনো প্রকাশক যদি তাদের কনটেন্ট এআই মডেল প্রশিক্ষণে ব্যবহার করতে না দেন, তাহলে এআই অ্যাপ ও অন্যান্য সেবায় সেই প্রকাশকের কনটেন্ট দেখানোর সুযোগ কমে যেতে পারে। এ উদ্যোগের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে মেটাও। প্রতিষ্ঠানটির মুখপাত্র অ্যান্ডি স্টোন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘একটি অভিন্ন সংকেত বা নির্দেশনা তৈরি করা, যার মাধ্যমে একই সঙ্গে একাধিক সেবাদাতাকে কনটেন্ট ব্যবহারের বিষয়ে প্রকাশকদের পছন্দ জানানো যাবে, তা একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।’ তিনি আরও বলেন, এ খাতের অন্যান্য এআই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এ ধরনের মানদণ্ড তৈরি ও বাস্তবায়নে কাজ করতে তারা আগ্রহী।
পানির ওপর দিয়ে ছুটবে, আবার বিশেষ প্রযুক্তির সাহায্যে পানির ওপর ভেসে উড়তেও পারবে—এমন বৈদ্যুতিক ফেরি নিয়ে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে। ডিজেলচালিত ফেরির বিকল্প হিসেবে ব্যাটারিচালিত নৌযান চালুর উদ্যোগ নিচ্ছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। এতে একদিকে যেমন জ্বালানি খরচ কমতে পারে, অন্যদিকে কমবে পরিবেশদূষণও। গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, নিউইয়র্ক হারবারে স্ট্যাচু অব লিবার্টির পাশ দিয়ে চলার সময় এমনই একটি বৈদ্যুতিক নৌযানে চড়েছিলেন জলযান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ভেসেভের প্রধান নির্বাহী ও সহপ্রতিষ্ঠাতা এরিক লাকম্যান। নৌযানটি কাছের একটি পর্যটকবাহী ফেরির যাত্রীদেরও কৌতূহলের কারণ হয়ে ওঠে। ভেসেভের তৈরি এসব নৌযানে ব্যবহার করা হয়েছে হাইড্রোফয়েল প্রযুক্তি। এতে নৌযানের তলায় থাকা ডানার মতো বিশেষ অংশ পানির নিচে থেকে গতি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মূল কাঠামোকে পানির ওপরে তুলে ধরে। ফলে পানির সঙ্গে ঘর্ষণ ও বাধা কমে যায়। নৌযানটি তখন অনেকটা পানির ওপর ভেসে চলার মতো গতিতে এগিয়ে যায়। এরিক লাকম্যানের ভাষ্য, গতি বাড়ানোর পর নৌযানটির মূল কাঠামো পানির প্রায় দেড় ফুট ওপরে উঠে আসে। এতে ঢেউয়ের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে চলার বদলে যাত্রা অনেক বেশি মসৃণ হয়ে ওঠে। বৈদ্যুতিক নৌযান তৈরির অন্যতম চ্যালেঞ্জ হলো ব্যাটারির ওজন। ব্যাটারি ভারী হওয়ায় নৌযানের ওজন বেড়ে যায়। আবার পানির বাধা অতিক্রম করতেও প্রচুর শক্তি প্রয়োজন হয়। ফলে বৈদ্যুতিক নৌযানের চলার দূরত্ব ও কার্যকারিতা সীমিত হয়ে পড়ে। হাইড্রোফয়েল প্রযুক্তি এ সমস্যার সমাধানে ভূমিকা রাখতে পারে। নৌযানের বড় অংশ পানির ওপরে উঠে থাকায় পানির সঙ্গে ঘর্ষণ কম হয়। এতে কম শক্তি ব্যবহার করে বেশি গতিতে চলা সম্ভব হয়। ভেসেভের দাবি, তাদের নকশা পানির বাধা প্রায় ৬৬ শতাংশ কমাতে পারে। এতে তুলনামূলক ছোট ব্যাটারি ব্যবহার করেও নৌযান চালানো সম্ভব হয়। ফলে ব্যাটারির ওজন ও খরচ কমে আসে। তবে শুধু ডিজেল ইঞ্জিনের বদলে বৈদ্যুতিক মোটর বসালেই একটি নৌযান পুরোপুরি কার্যকর হয়ে ওঠে না। কত দূর চলতে হবে, কতজন যাত্রী বহন করতে হবে, কত দ্রুত চার্জ দেওয়া সম্ভব এবং নৌযান কতটা ওজন বহন করতে পারবে— এসব বিষয়ও বিবেচনায় নিতে হয়। ভেসেভ বর্তমানে নিউজিল্যান্ডে যাত্রী পরিবহনসেবা পরিচালনা করছে। অস্ট্রেলিয়াতেও কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। যুক্তরাষ্ট্রে তাদের প্রথম সেবা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে লেক তাহো এলাকায়। এরিক লাকম্যান মনে করেন, ভবিষ্যতে বৈদ্যুতিক নৌযান শুধু বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে নয়, নিয়মিত গণপরিবহনের অংশ হয়ে উঠতে পারে। পানিপথে এসব নৌযান বাস, পাতালরেল কিংবা ট্যাক্সির মতোই সাধারণ পরিবহনব্যবস্থায় জায়গা করে নিতে পারে বলে তার প্রত্যাশা। পানিপথ ব্যবহার করে যানজটপূর্ণ সড়কে অতিরিক্ত গাড়ি না বাড়িয়েও যাত্রী পরিবহন করা সম্ভব। পাশাপাশি বিদ্যুৎচালিত নৌযান ডিজেল পোড়ানো ফেরির ধোঁয়া ও দূষণ কমাতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে পরিবহন খাত গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণের সবচেয়ে বড় উৎস। সড়কযানের পাশাপাশি জাহাজ ও অন্যান্য জলযানও জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ায়। ফলে ডিজেলচালিত ফেরির পরিবর্তে বৈদ্যুতিক নৌযান চালু হলে ব্যস্ত নৌবন্দর এলাকার বায়ুর মান উন্নত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে সুইডিশ প্রতিষ্ঠান ক্যান্ডেলাও। স্টকহোমে তাদের তৈরি বৈদ্যুতিক হাইড্রোফয়েল ফেরিতে ইতোমধ্যে যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, প্রচলিত একই ধরনের নৌযানের তুলনায় তাদের প্রযুক্তিতে শক্তি খরচ সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব। উপকূলীয় পরিবহনসেবার জন্য নরওয়ে প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে ২০টি বৈদ্যুতিক হাইড্রোফয়েল নৌযান নেওয়ার আদেশ দিয়েছে। সান ফ্রান্সিসকোতেও চালু হচ্ছে বৈদ্যুতিক ফেরি যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোতে বছরে প্রায় ৩৫ লাখ যাত্রী পরিবহন করে শহরটির সবচেয়ে বড় ফেরি পরিচালনাকারী সংস্থা। সংস্থাটির প্রধান সীমাস মারফি জানান, উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াতের জন্য বহু মানুষ ফেরির ওপর নির্ভর করেন। তবে বর্তমানে সংস্থাটির বহরে থাকা ১৮টি ফেরিই জীবাশ্ম জ্বালানিচালিত। এ পরিস্থিতি বদলাতে আগামী দুই বছরে চারটি ব্যাটারিচালিত ফেরি যুক্ত করার প্রস্তুতি চলছে। এ জন্য প্রায় ৫০ কোটি ডলারের বৈদ্যুতিক রূপান্তর প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় ফেরিঘাটে চার্জ দেওয়ার অবকাঠামোও তৈরি করা হবে। নির্দিষ্ট সময়সূচি মেনে একের পর এক যাত্রা সম্পন্ন করতে হয় বলে ফেরির ব্যাটারিতে পর্যাপ্ত শক্তি থাকা জরুরি। পাশাপাশি ঘাটে অবস্থানের সময় দ্রুত চার্জ দেওয়ার ব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য নৌযানের চলার দূরত্ব, যাত্রার সময়সূচি ও চার্জিং সক্ষমতার মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন। সান ফ্রান্সিসকোর নতুন ফেরিগুলোতে আপাতত হাইড্রোফয়েল প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে না। তবে সংস্থাটির দাবি, এগুলো চালু হলে যুক্তরাষ্ট্রে তারাই হবে প্রথম সংস্থা, যারা উচ্চগতির সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক ফেরি পরিচালনা করবে। শুরুতে ব্যয় বেশি, দীর্ঘ মেয়াদে সাশ্রয়ের আশা বৈদ্যুতিক ফেরি চালুর ক্ষেত্রে বড় বাধা প্রাথমিক বিনিয়োগ। নতুন নৌযান কেনার পাশাপাশি চার্জিং অবকাঠামো নির্মাণেও বিপুল অর্থ প্রয়োজন। তবে বৈদ্যুতিক মোটর সাধারণত ডিজেল ইঞ্জিনের তুলনায় বেশি দক্ষ। ফলে দীর্ঘ মেয়াদে জ্বালানি ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় কমতে পারে। সীমাস মারফির মতে, শুরুতে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করতে হলেও সময়ের সঙ্গে পরিচালন ব্যয় কমে আসবে। ডিজেলের বাড়তি দাম এবং ব্যাটারি প্রযুক্তির উন্নতি বৈদ্যুতিক ফেরির পক্ষে অর্থনৈতিক যুক্তি আরও শক্তিশালী করেছে। তবে সব নৌপথের জন্য বৈদ্যুতিক ফেরি উপযোগী নয়। দীর্ঘ দূরত্ব, ব্যস্ত সময়সূচি, ব্যাটারির ওজন ও দাম এবং চার্জ দেওয়ার সীমিত সুযোগ— এসব বিষয় রূপান্তরের পথে চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে বাংলাদেশে কমিউনিটি গাইডলাইনস লঙ্ঘনের কারণে ১ কোটি ৪৭ লাখ ৯১ হাজার ৪৮৫টি ভিডিও সরিয়েছে টিকটক। এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত সময়ের তথ্য নিয়ে প্রকাশিত প্ল্যাটফর্মটির কমিউনিটি গাইডলাইনস এনফোর্সমেন্ট রিপোর্টে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে আপলোড করা মোট ভিডিওর প্রায় ০.৯ শতাংশ সরানো হয়েছে। এর মধ্যে ৯৯.৮ শতাংশ ভিডিও ব্যবহারকারীদের অভিযোগের আগেই টিকটকের নিজস্ব প্রযুক্তির মাধ্যমে শনাক্ত করে সরানো হয়। শনাক্ত হওয়া ভিডিওর ৯২.৭ শতাংশ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সরানো হয়েছে। পরবর্তী যাচাইয়ের পর ২ লাখ ৫ হাজার ১টি ভিডিও আবার প্ল্যাটফর্মে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিশ্বজুড়ে একই সময়ে টিকটক মোট ১৮ কোটি ৮২ লাখ ৯৮ হাজার ১৪১টি ভিডিও সরিয়েছে, যা আপলোড করা মোট ভিডিওর প্রায় ০.৫ শতাংশ। এর মধ্যে ১৮ কোটি ৩৩ লাখ ৪৪ হাজার ৭০৭টি ভিডিও স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করে সরানো হয়েছে। বিশ্বজুড়ে সরানো ভিডিওর ৯৯.৫ শতাংশ ব্যবহারকারীদের অভিযোগের আগেই শনাক্ত করা হয়। আর ৯২.৭ শতাংশ ভিডিও আপলোডের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সরানো হয়েছে। যাচাইয়ের পর ৬২ লাখ ৬২ হাজার ৩৮৩টি ভিডিও আবার ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। পুরোনো ভিডিও শনাক্ত ও অপসারণেও টিকটকের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-চালিত মডারেশন ব্যবস্থা ব্যবহার করা হচ্ছে। এ ছাড়া, সম্ভাব্য আপত্তিকর বা অনুপযুক্ত মন্তব্য নিয়ন্ত্রণে দ্বিতীয় প্রান্তিকে বিশ্বজুড়ে ২৭ কোটি ৮৩ লাখ ৮৪ হাজার ৪৬৩টি কমেন্ট সরিয়েছে প্ল্যাটফর্মটি। প্রথম প্রান্তিকে এ সংখ্যা ছিল ২৩ কোটি ৭৫ লাখ ১৭ হাজার ১২৮। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ সময়ে ১৪ কোটি ৬৮ লাখ ৭ হাজার ৪০০টি ভুয়া অ্যাকাউন্ট সরিয়েছে টিকটক। পাশাপাশি, ১৩ বছরের কম বয়সী ব্যবহারকারী বলে সন্দেহ হওয়ায় ২ কোটি ৬৮ লাখ ৪০ হাজার ৭৬৭টি অ্যাকাউন্ট সরানো হয়েছে। সরিয়ে ফেলা ভিডিওগুলোর মধ্যে ১৯.৫ শতাংশে সংবেদনশীল বা প্রাপ্তবয়স্কদের উপযোগী বিষয়বস্তু ছিল। প্ল্যাটফর্মের নিরাপত্তানীতি লঙ্ঘনের কারণে সরানো হয়েছে ১৩.৭ শতাংশ ভিডিও। বিপজ্জনক কর্মকাণ্ডের জন্য সরানো হয়েছে ১৩.৫ শতাংশ এবং শালীনতা লঙ্ঘনের কারণে ১৩.৮ শতাংশ ভিডিও। অন্যদিকে, এআই দিয়ে তৈরি বা সম্পাদিত কনটেন্টের কারণে সরানো ভিডিওর হার ছিল ১.৮ শতাংশ।
ফোন বা ল্যাপটপ চার্জে থাকা অবস্থায় সেটি স্পর্শ করে হাতে হালকা শিরশিরানি অনুভব করেছেন কখনো? অনেকেই এমন অভিজ্ঞতাকে তেমন গুরুত্ব দেন না। তবে চার্জে থাকা ডিভাইসের গায়ে বিদ্যুতের মতো অনুভূতি হলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়। চার্জারের নকশা, বৈদ্যুতিক লিকেজ, ক্ষতিগ্রস্ত কেবল কিংবা বাড়ির আর্থিংয়ের ত্রুটির কারণে এমন হতে পারে। অনুভূতিটি সামান্য হলেও এর পেছনে বৈদ্যুতিক নিরাপত্তার সমস্যা রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া জরুরি। চার্জে থাকা ফোনে শিরশিরানি হয় কেন? চার্জ দেওয়ার সময় ফোন, ল্যাপটপ বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইসের ধাতব অংশ স্পর্শ করলে হালকা ঝিনঝিন অনুভূতি হতে পারে। এর একটি সম্ভাব্য কারণ হলো চার্জারের ভেতরে থাকা বৈদ্যুতিক ফিল্টার সার্কিট। বিদ্যুতের অনাকাঙ্ক্ষিত প্রভাব কমাতে ব্যবহৃত এই সার্কিটের কারণে কিছু চার্জারে অতি সামান্য বৈদ্যুতিক কারেন্ট অনুভূত হতে পারে। তবে সব ক্ষেত্রে এর কারণ এক নয়। নিম্নমানের বা নষ্ট চার্জার, ক্ষতিগ্রস্ত তার, ত্রুটিপূর্ণ সকেট এবং বাড়ির বৈদ্যুতিক সংযোগের সমস্যাও এমন অনুভূতির কারণ হতে পারে। তাই শুধু শিরশিরানি হচ্ছে বলে চার্জার স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে, এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। আর্থিংয়ের সঙ্গে এর সম্পর্ক কী? বাড়ির বৈদ্যুতিক ব্যবস্থায় আর্থিং একটি গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষাব্যবস্থা। বৈদ্যুতিক ত্রুটির কারণে অনাকাঙ্ক্ষিত কারেন্ট তৈরি হলে সেটিকে নিরাপদ পথে মাটিতে প্রবাহিত হতে সাহায্য করে আর্থিং। এই ব্যবস্থা ঠিকমতো কাজ না করলে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে বৈদ্যুতিক শকের ঝুঁকি বাড়তে পারে। কোনো চার্জার বা ডিভাইসে সামান্য বৈদ্যুতিক লিকেজ থাকলে উপযুক্ত সুরক্ষাব্যবস্থার অভাবে সেটি স্পর্শ করার সময় শিরশিরানি অনুভূত হতে পারে। খালি পায়ে মেঝেতে দাঁড়িয়ে থাকলে বা শরীর অন্য কোনো পরিবাহী বস্তুর সংস্পর্শে থাকলে অনুভূতিটি বেশি স্পষ্ট হতে পারে। তবে শুধু এই লক্ষণ দেখে বাড়ির আর্থিংয়ে সমস্যা রয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া যায় না। প্রকৃত কারণ জানতে চার্জার, সকেট ও বৈদ্যুতিক সংযোগ পরীক্ষা করা প্রয়োজন। ফোন বা ল্যাপটপের ক্ষতি হতে পারে? চার্জে থাকা ডিভাইসে শিরশিরানি অনুভব হলেই যে ফোন বা ল্যাপটপ নষ্ট হয়ে যাবে, এমন নয়। আবার অনুভূতিটি হালকা বলে সেটিকে নিরাপদ বলেও ধরে নেওয়া যায় না। চার্জার বা বৈদ্যুতিক সংযোগে ত্রুটি থাকলে বিদ্যুতের ঝটকা, অতিরিক্ত গরম হওয়া কিংবা অন্য দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে চার্জার থেকে স্ফুলিঙ্গ বের হলে, পোড়া গন্ধ পাওয়া গেলে, কেবল ছিঁড়ে গেলে বা চার্জার অস্বাভাবিক গরম হয়ে উঠলে সতর্ক হতে হবে। এমন পরিস্থিতিতে ডিভাইস ব্যবহার বন্ধ করুন। নিরাপদে সম্ভব হলে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করুন। ভেজা হাতে বা ভেজা মেঝেতে দাঁড়িয়ে প্লাগ খুলতে যাবেন না। প্রয়োজনে যোগ্য ইলেকট্রিশিয়ান কিংবা অনুমোদিত সার্ভিস সেন্টারের সাহায্য নিন। এই সমস্যা এড়াতে কী করবেন? ১. বাড়ির আর্থিং পরীক্ষা করান চার্জে থাকা ডিভাইস স্পর্শ করলে বারবার শিরশিরানি অনুভব হলে যোগ্য ইলেকট্রিশিয়ান দিয়ে বাড়ির আর্থিং ও বৈদ্যুতিক সংযোগ পরীক্ষা করান। সমস্যা পাওয়া গেলে দ্রুত মেরামত করান। ২. ভালো মানের চার্জার ব্যবহার করুন ফোন বা ল্যাপটপের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, আসল অথবা নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠানের অনুমোদিত চার্জার ব্যবহার করুন। অজানা প্রতিষ্ঠানের নিম্নমানের চার্জার এড়িয়ে চলুন। ৩. কেবল ও সকেটের অবস্থা দেখুন চার্জারের তার কাটা, প্লাগ ঢিলা কিংবা সকেটে পোড়ার দাগ রয়েছে কি না, খেয়াল করুন। ক্ষতিগ্রস্ত সরঞ্জাম ব্যবহার করবেন না। নিজে খুলে মেরামতের চেষ্টা না করে বিশেষজ্ঞের সাহায্য নিন। ৪. তিন-পিনের প্লাগ দেখেই নিশ্চিন্ত হবেন না তিন-পিনের প্লাগ থাকলেই বাড়িতে কার্যকর আর্থিং রয়েছে, এমন নিশ্চয়তা নেই। সকেট ও বৈদ্যুতিক ব্যবস্থায় আর্থিং সঠিকভাবে সংযুক্ত রয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করা জরুরি। ৫. এক্সটেনশন বোর্ড ব্যবহারে সতর্ক থাকুন নিম্নমানের বা ক্ষতিগ্রস্ত এক্সটেনশন বোর্ড ব্যবহার করবেন না। প্রয়োজন হলে এতে উপযুক্ত আর্থিং ও সুরক্ষাব্যবস্থা রয়েছে কি না, ইলেকট্রিশিয়ান দিয়ে যাচাই করান। ৬. অতিরিক্ত সুরক্ষাব্যবস্থা রাখুন বাড়িতে আরসিসিবি (RCCB) বা উপযুক্ত রেসিডুয়াল কারেন্ট সুরক্ষাব্যবস্থা স্থাপন করা প্রয়োজন কি না, তা ইলেকট্রিশিয়ানের সঙ্গে আলোচনা করতে পারেন। এই যন্ত্র নির্দিষ্ট ধরনের বৈদ্যুতিক লিকেজ শনাক্ত করে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করতে পারে। তবে এটি আর্থিংয়ের বিকল্প নয় এবং সব ধরনের বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করতে পারে না। খালি পায়ে ফোন ব্যবহার না করলেই কি সমস্যার সমাধান? চার্জে থাকা ডিভাইসে শিরশিরানি অনুভব করলে খালি পায়ে মেঝেতে দাঁড়িয়ে সেটি ব্যবহার করা এড়িয়ে চলুন। তবে শুধু জুতা পরে বা অন্য কোনো নিরোধক ব্যবহার করে সমস্যাটিকে উপেক্ষা করা ঠিক নয়। এতে বৈদ্যুতিক ত্রুটি দূর হয় না। মনে রাখবেন: চার্জে থাকা ফোন বা ল্যাপটপ স্পর্শ করলে অস্বাভাবিক অনুভূতি হলে সেটিকে স্বাভাবিক ধরে নেওয়া উচিত নয়। সামান্য শিরশিরানির পেছনে চার্জারের স্বাভাবিক বৈদ্যুতিক বৈশিষ্ট্য থাকতে পারে, আবার বৈদ্যুতিক ত্রুটিও থাকতে পারে। তাই অনুমানের ওপর নির্ভর না করে চার্জার ও বাড়ির বৈদ্যুতিক সংযোগ পরীক্ষা করানোই সবচেয়ে নিরাপদ পদক্ষেপ।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রশিক্ষণের কাজে যুক্ত কর্মীদের অবৈধভাবে নজরদারি করার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্কেল এআই। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, তাদের প্ল্যাটফর্মে কী ধরনের তথ্য সংগ্রহ ও কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হয়, তা কর্মীদের জানানো হয় এবং এ জন্য তাঁদের সম্মতি নেওয়া হয়। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউরোপের চারটি দেশে স্কেল এআইয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছে গোপনীয়তা অধিকার নিয়ে কাজ করা সংস্থা নোইব (noyb)। মঙ্গলবার ফ্রান্স, ইতালি, নেদারল্যান্ডস ও অস্ট্রিয়ায় অভিযোগগুলো দায়ের করা হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, স্কেল এআইয়ের ‘আউটলিয়ার’ (Outlier) প্ল্যাটফর্ম এআই মডেলের প্রশিক্ষণ-উপাত্ত তৈরির কাজে যুক্ত ৯ লাখের বেশি ফ্রিল্যান্সারের কার্যক্রম অবৈধভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর কাছে প্রতিষ্ঠানটিকে জরিমানা করারও দাবি জানিয়েছে নোইব। তবে স্কেল এআই রয়টার্সকে দেওয়া এক বিবৃতিতে অভিযোগগুলোকে ভিত্তিহীন ও ভুল বলে উল্লেখ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, কর্মীদের পরিচয় যাচাই, জালিয়াতি ঠেকানো, গোপনীয় প্রকল্পের তথ্য সুরক্ষিত রাখা এবং সঠিক পারিশ্রমিক নিশ্চিত করতে তারা প্রচলিত কিছু প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা ব্যবহার করে। স্কেল এআইয়ের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, কিছু প্রকল্পে কাজের সময় ও কম্পিউটার স্ক্রিনে কর্মীদের কার্যক্রম রেকর্ড করার জন্য আলাদা একটি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মীরা সম্মতি দিয়ে কাজ শুরুর আগে নিজেরাই এই ব্যবস্থা চালু করেন বলে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। স্কেল এআই আরও বলেছে, কাজ গ্রহণের আগেই কর্মীরা তাঁদের পারিশ্রমিকের হার জানতে পারেন। দক্ষতা, প্রকল্পের ধরন ও কর্মীর অবস্থানের ভিত্তিতে এই হার নির্ধারণ করা হয়। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, কর্মীদের ব্যক্তিগত তথ্য তৃতীয় পক্ষের কাছে বিক্রি করা হয় না। গ্রাহকদের এআই মডেল প্রশিক্ষণ দিতেও এসব তথ্য ব্যবহার করা হয় না। তবে নজরদারির অভিযোগের বিষয়ে ইউরোপের সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর পরবর্তী পদক্ষেপ বা তদন্তের ফল সম্পর্কে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
ইসরায়েলের নির্বাচনে আরব নাগরিকদের ভোট ও তাদের প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোর রাজনৈতিক গুরুত্ব নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এবারের নির্বাচনে সরকার গঠনের হিসাব-নিকাশে আরব দলগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে দলগুলোর অবস্থান, শর্ত এবং অন্য রাজনৈতিক পক্ষগুলোর সঙ্গে মতপার্থক্য জোট গঠনের আলোচনাকে জটিল করে তুলেছে। ইসরায়েলের ১২০ আসনের পার্লামেন্ট নেসেটে সরকার গঠনের জন্য অন্তত ৬১টি আসন প্রয়োজন। নির্বাচনের আংশিক হিসাব ও বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলের পূর্বাভাসে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে কি না, তা নিয়ে ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে। ফলে আরব দলগুলোর সমর্থন সরকার গঠনের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে এসব পূর্বাভাস চূড়ান্ত ফল নয়। আরব দলগুলোর মধ্যে মানসুর আব্বাসের নেতৃত্বাধীন রা’আম সরকারে অংশ নেওয়ার পক্ষে। ২০২১ সালে নাফতালি বেনেট ও ইয়ার লাপিদের নেতৃত্বে গঠিত জোটকে সমর্থন দিয়ে সরকার টিকিয়ে রাখতে ভূমিকা রেখেছিল দলটি। এবারও একই ধরনের সমঝোতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। তবে আব্বাসের মতে, আগে নিশ্চিত হতে হবে সরকার গঠনের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে কি না, এরপর আলোচনা হতে পারে শর্ত নিয়ে। অন্যদিকে, হাদাশ, তা’আল ও বালাদকে নিয়ে গঠিত জয়েন্ট লিস্ট সরকারে সরাসরি যোগ দেওয়ার পরিবর্তে নেতানিয়াহুর বিকল্প সরকারকে বাইরে থেকে সমর্থন দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করতে আগ্রহী। দলটির নেতা ইউসেফ জাবারিন অপরাধ দমনে অর্থায়নসহ কার্যকর ও তদারকিযোগ্য পরিকল্পনার দাবি জানিয়েছেন। তবে যুদ্ধনীতি, বসতি সম্প্রসারণ ও জাতীয় ইস্যুতে দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠন নিয়ে ইসরায়েলের ইহুদি রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেও বিভক্তি রয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট রা’আমকে নিয়ে সরকার গঠনের বিরোধিতা করেছেন। অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাটস দলের নেতা ইয়ার গোলান আরব দলকে জোটে অন্তর্ভুক্ত করার পক্ষে। সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোটও আরব দলগুলোর সঙ্গে সহযোগিতার বিষয়ে কিছু শর্ত দিয়েছেন। এসব মতপার্থক্য সরকার গঠনের সমীকরণকে আরও জটিল করেছে। ইসরায়েলের আরব নাগরিকদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নিয়ে আন্তর্জাতিক আলোচনাতেও ভিন্নমত রয়েছে। একদিকে, আরব নাগরিকেরা ভোট দিয়ে পার্লামেন্টে প্রতিনিধি নির্বাচিত করছেন এবং সরকার গঠনের আলোচনায় ভূমিকা রাখছেন। অন্যদিকে, ইসরায়েলের ভেতরে বৈষম্য এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনিদের অধিকার ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে গুরুতর বিতর্ক রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এসব বিষয়কে আলাদা প্রেক্ষাপটে বিবেচনা করা জরুরি। আরব দলগুলোর রাজনৈতিক কৌশলেও পার্থক্য রয়েছে। কেউ সরাসরি সরকারে অংশ নিয়ে নীতি নির্ধারণে প্রভাব রাখতে চায়, আবার কেউ সরকারের বাইরে থেকে নির্দিষ্ট শর্তে সমর্থন দেওয়ার পক্ষে। ফলে কেবল আসনসংখ্যা নয়, অপরাধ দমন, জনসেবা, নিরাপত্তা ও জাতীয় নীতির মতো বিষয়েও সমঝোতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নির্বাচনের ফল শেষ পর্যন্ত যে সরকারই গঠন করুক, আরব দলগুলোর অবস্থান ইসরায়েলের জোট রাজনীতি ও নাগরিক প্রতিনিধিত্ব নিয়ে আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকবে। তবে তাদের রাজনৈতিক প্রভাব কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে চূড়ান্ত ফলাফল, সম্ভাব্য জোটের শর্ত এবং সংশ্লিষ্ট দলগুলোর মধ্যে সমঝোতার ওপর। সূত্র: দ্য জেরুজালেম পোস্ট
বর্তমান যুগকে বলা হয় তথ্য ও প্রযুক্তির যুগ। পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষ আজ ফেসবুক, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম, এক্স (টুইটার), টিকটকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত। প্রযুক্তির এই বিস্ময়কর অগ্রগতি মানবজীবনকে যেমন সহজ করেছে, তেমনি নতুন কিছু চ্যালেঞ্জও সৃষ্টি করেছে। আজ অনেকের দিন শুরু হয় মোবাইলের স্ক্রিন দেখে, আর শেষ হয় সোশ্যাল মিডিয়ার নিউজফিড স্ক্রল করতে করতে। ফলে অজান্তেই প্রযুক্তি মানুষের জীবন পরিচালনার একটি শক্তিশালী মাধ্যম হয়ে উঠেছে। নামাজে যেমন ইমাম সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন আর মুক্তাদি তাঁর অনুসরণ করেন, তেমনি আধুনিক সমাজে অনেক মানুষের জীবনযাত্রা, চিন্তাভাবনা, পছন্দ-অপছন্দ, এমনকি মূল্যবোধও অনেকাংশে সোশ্যাল মিডিয়ার অ্যালগরিদম দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। একজন মুমিনের জন্য এটি গভীরভাবে ভাবনার বিষয়। কারণ ইসলাম মানুষকে পরিস্থিতির দাস নয়, বরং আত্মনিয়ন্ত্রিত, সচেতন ও দায়িত্বশীল ব্যক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে চায়। তাইতো আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘সময়ের শপথ! নিশ্চয়ই মানুষ ক্ষতির মধ্যে রয়েছে।’(সুরা : আসর, আয়াত : ১-২) বর্তমানে অসংখ্য মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা সোশ্যাল মিডিয়ায় কাটিয়ে দেন, অথচ দিনের শেষে উপলব্ধি করেন যে তারা উল্লেখযোগ্য কোনো উপকারই অর্জন করেননি। ইসলাম আমাদের শিক্ষা দেয়, প্রতিটি মুহূর্তের হিসাব একদিন আল্লাহর কাছে দিতে হবে। মহানবী (সা.) বলেন, ‘কিয়ামতের দিন বান্দার পদযুগল নড়বে না, যতক্ষণ না তাকে জিজ্ঞাসা করা হবে—তার জীবন কোথায় ব্যয় করেছে।’ (তিরমিজি, হাদিস: ২৪১৭) সুতরাং সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যয় করা প্রতিটি মিনিটও আমাদের আমলনামার অংশ। যেভাবে চিন্তার স্বাধীনতা হারিয়ে ফেলছেন সোশ্যাল মিডিয়ার অন্যতম বড় প্রভাব হলো এটি মানুষের চিন্তাকে প্রভাবিত করে। কী ট্রেন্ডিং, কী জনপ্রিয়, কে কী বলছে—এসব দেখে অনেক মানুষ নিজের বিবেক ও বিচারশক্তির পরিবর্তে জনমতের অনুসারী হয়ে যায়।মহান আল্লাহ বলেন, ‘যে বিষয়ে তোমার জ্ঞান নেই, তার অনুসরণ করো না।’(সুরা : ইসরা, আয়াত : ৩৬) এই আয়াত আমাদের শিক্ষা দেয় যে অন্ধ অনুসরণ নয়, বরং যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়াই একজন মুমিনের বৈশিষ্ট্য। সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে এটি আরও বেশি প্রাসঙ্গিক। ইসলাম মানুষের প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করার শিক্ষা দেয়। একজন মুমিন কখনো তার ইচ্ছা, আবেগ কিংবা পরিবেশের অন্ধ অনুসারী হয় না। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যে ব্যক্তি তার রবের সামনে উপস্থিত হওয়ার ভয় রাখে এবং নিজের নফসকে কুপ্রবৃত্তি থেকে বিরত রাখে, তার আবাস হবে জান্নাত।;’ (সুরা : নাজিআত, আয়াত : ৪০-৪১) আজকের দিনে নফসের অন্যতম বড় পরীক্ষা হলো উদ্দেশ্যহীন স্ক্রলিং, সময় অপচয় এবং ডিজিটাল আসক্তি। একজন সচেতন মুসলিমকে এসব বিষয়ে আত্মনিয়ন্ত্রণ গড়ে তুলতে হবে। মহানবী (সা.) বলেন, ‘মানুষের ইসলামের সৌন্দর্যের অন্যতম লক্ষণ হলো, সে অনর্থক বিষয় পরিত্যাগ করে।’ (তিরমিজি, হাদিস : ২৩১৭) সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন অসংখ্য বিষয় রয়েছে যা মানুষের দুনিয়া ও আখিরাত—উভয়ের জন্যই কোনো কল্যাণ বয়ে আনে না। একজন মুমিনের উচিত উপকারী জ্ঞান, ইসলামী শিক্ষা, ব্যবসায়িক দক্ষতা, শিক্ষামূলক বিষয় এবং সমাজকল্যাণমূলক কনটেন্টকে অগ্রাধিকার দেওয়া। আর সোশ্যাল মিডিয়াকে মুক্তাদি বানানোর অর্থ প্রযুক্তি বর্জন করা নয়; বরং প্রযুক্তিকে নিজের লক্ষ্য ও মূল্যবোধের অধীনস্থ করা। অর্থাৎ— আমরা সোশ্যাল মিডিয়ার দাস হব না, আমরা সময় নির্ধারণ করে ব্যবহার করব, অপ্রয়োজনীয় স্ক্রলিং কমিয়ে আনব, উপকারী ও শিক্ষামূলক কনটেন্ট অনুসরণ করব, গিবত, অপবাদ, অশ্লীলতা ও ফিতনা থেকে দূরে থাকব, প্রযুক্তিকে দ্বীনের খেদমত, জ্ঞান অর্জন ও আত্মউন্নয়নের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করব ইত্যাদি। যখন প্রযুক্তি আমাদের নিয়ন্ত্রণ করবে না, বরং আমরা প্রযুক্তিকে নিয়ন্ত্রণ করব—তখনই সোশ্যাল মিডিয়া মুক্তাদি হবে আর আমরা নিজেদের জীবনের ইমাম হতে পারব। একজন মুমিনের ডিজিটাল নীতিমালা: ১. দিনের নির্দিষ্ট সময়ে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করা। ২. ফজর ও এশার পর অপ্রয়োজনীয় মোবাইল ব্যবহার কমানো। ৩. প্রতিদিন কিছু সময় কোরআন তিলাওয়াত ও ইসলামী জ্ঞানার্জনের জন্য নির্ধারণ করা। ৪. কোনো খবর শেয়ার করার আগে যাচাই করা। ৫. গিবত, তর্ক-বিতর্ক ও অশ্লীল কনটেন্ট থেকে দূরে থাকা। ৬. বাস্তব জীবনের পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও সমাজের সঙ্গে সম্পর্ককে অগ্রাধিকার দেওয়া। ৭. প্রতিদিন নিজের স্ক্রিন টাইম পর্যালোচনা করা। সোশ্যাল মিডিয়া একটি শক্তিশালী মাধ্যম। এটি মানুষের জ্ঞান বৃদ্ধি করতে পারে, আবার সময় ও চিন্তার স্বাধীনতাও কেড়ে নিতে পারে। তাই একজন মুমিনের দায়িত্ব হলো প্রযুক্তিকে নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখা, প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণে চলে না যাওয়া। ইসলাম আমাদের আত্মনিয়ন্ত্রণ, সচেতনতা এবং সময়ের মূল্য শেখায়। সুতরাং আসুন, আমরা সোশ্যাল মিডিয়াকে আমাদের জীবনের ইমাম না বানিয়ে তাকে মুক্তাদির আসনে বসাই। আমাদের চিন্তা, সময়, আমল এবং জীবন পরিচালনার নেতৃত্ব যেন থাকে কোরআন, সুন্নাহ ও বিবেকের হাতে। তখনই আমরা প্রযুক্তির সুফল ভোগ করতে পারব এবং দুনিয়া ও আখিরাত—উভয় ক্ষেত্রেই সফলতার পথে এগিয়ে যেতে পারব। মনে রাখতে হবে, একজন মুমিনের হাতে প্রযুক্তি একটি উপকারী হাতিয়ার; কিন্তু প্রযুক্তির হাতে একজন মুমিন কখনো খেলনা হতে পারে না।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে বিপুল বিনিয়োগের অর্থ জোগাতে নতুন ধরনের শেয়ার চালুর পরিকল্পনা করেছে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা। তবে এই পরিকল্পনার বিশেষ দিক হলো, নতুন শেয়ার বিক্রি করে অর্থ সংগ্রহ করলেও কোম্পানির ওপর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মার্ক জাকারবার্গের নিয়ন্ত্রণ কমবে না। এ জন্য ভোটাধিকারহীন ‘ক্লাস সি’ শেয়ার চালু করতে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার মেটা জানিয়েছে, নতুন শেয়ার ইস্যু করে এআই খাতে বিনিয়োগ, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান অধিগ্রহণ এবং কর্মীদের পারিশ্রমিক দেওয়ার জন্য অর্থ সংগ্রহ করা হবে। নতুন শেয়ারগুলো সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে কেনাবেচার সুযোগ থাকবে। তবে এসব শেয়ারের মালিকেরা কম্পানির গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে ভোট দিতে পারবেন না। মেটার নতুন শেয়ার পরিকল্পনা কী? মেটা ‘ক্লাস সি’ নামে নতুন এক ধরনের শেয়ার চালুর পরিকল্পনা করেছে। এ পরিকল্পনা অনুযায়ী, বর্তমান ক্লাস এ ও ক্লাস বি শেয়ারের প্রতিটির বিপরীতে একটি করে ক্লাস সি শেয়ার দেওয়া হবে। অর্থাৎ, কার্যত শেয়ারের সংখ্যা দুই গুণ হবে। নতুন শেয়ারগুলো ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে বাজারে লেনদেন শুরু করতে পারে। কম্পানিটি জানিয়েছে, নতুন শেয়ার থেকে পাওয়া অর্থ এআই প্রযুক্তির উন্নয়ন, অধিগ্রহণ এবং কর্মীদের পারিশ্রমিকসহ বিভিন্ন করপোরেট কাজে ব্যবহার করা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন সময়ে নতুন শেয়ারও ইস্যু করতে পারবে মেটা। কেন এআই খাতে বিনিয়োগের জন্য নতুন শেয়ার? এআই খাতে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে ডেটা সেন্টার নির্মাণ, উন্নত চিপ কেনা এবং কম্পিউটিং সক্ষমতা বাড়াতে বিপুল অর্থ ব্যয় করছে মেটা। প্রতিষ্ঠানটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে মূলধনি ব্যয় ১৩৫ থেকে ১৪৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। এত বড় বিনিয়োগের জন্য ঋণ নিলে কম্পানির ঋণের বোঝা বাড়তে পারে এবং ক্রেডিট রেটিং ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ কারণে ঋণের পরিবর্তে শেয়ার ইস্যু করে অর্থ সংগ্রহের পথ বেছে নিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। স্টক ট্রেডার নেটওয়ার্কের প্রধান বাজার কৌশলবিদ ডেনিস ডিকের মতে, এআই সম্প্রসারণে অর্থ সংগ্রহের জন্য নতুন শেয়ার ইস্যু করা ঋণ বাড়ানোর তুলনায় ভালো বিকল্প হতে পারে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এআই খাতে বিনিয়োগের জন্য ঋণ নেওয়ায় ওরাকল ও কোরউইভের মতো কোম্পানির শেয়ারের ওপর চাপ তৈরি হতে দেখা গেছে। কীভাবে ক্ষমতা ধরে রাখবেন জাকারবার্গ? মেটার নতুন পরিকল্পনার মূল বিষয় হলো, অর্থ সংগ্রহ করলেও জাকারবার্গের ভোটাধিকার কমানো হবে না। বর্তমানে কম্পানির ক্লাস বি শেয়ারের মাধ্যমে তিনি অন্য শেয়ারধারীদের তুলনায় বেশি ভোট দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন। নতুন ক্লাস সি শেয়ারে ভোটাধিকার না থাকায় এসব শেয়ার বিক্রি করলেও কম্পানির সিদ্ধান্ত গ্রহণে তার নিয়ন্ত্রণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে না। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ অক্টোবর পর্যন্ত জাকারবার্গের কাছে প্রায় ৩৪ কোটি ১২ লাখ ক্লাস বি শেয়ার এবং ১২ লাখ ক্লাস এ শেয়ার ছিল। এসব শেয়ারের মাধ্যমে মেটার মোট ভোটক্ষমতার প্রায় ৬০ দশমিক ৬ শতাংশ তাঁর নিয়ন্ত্রণে ছিল। যদিও কোম্পানিতে তার মালিকানার পরিমাণ প্রায় ১৩ দশমিক ৪ শতাংশ। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিদ্যমান শেয়ারগুলোর বিপরীতে তিনি প্রায় ৩৪ কোটি ২৪ লাখ ক্লাস সি শেয়ার পাবেন। তবে প্রতিষ্ঠাতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শেয়ারধারীদের জন্য করা আলাদা চুক্তি অনুযায়ী, এ গ্রুপের পাওয়া ক্লাস সি শেয়ারের মাত্র ২০ শতাংশ তাৎক্ষণিকভাবে বিক্রির জন্য উন্মুক্ত থাকবে। বাকি শেয়ার বিক্রির ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ থাকবে, যাতে ভোটক্ষমতা অক্ষুণ্ন রেখে নিজের শেয়ার থেকে বিপুল অর্থ তুলে নেওয়ার সুযোগ সীমিত থাকে। আগে কি এমন পরিকল্পনা নিয়েছে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান? এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য উদাহরণ গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেট। ২০১২ সালে গুগলও ভোটাধিকারহীন ক্লাস সি শেয়ার চালুর পরিকল্পনা ঘোষণা করেছিল। পরে এ নিয়ে শেয়ারধারীদের পক্ষ থেকে আইনি মামলা হয়। ২০১৩ সালে আদালত সমঝোতা অনুমোদন করে। সমঝোতা অনুযায়ী, প্রথম বছরে ক্লাস সি শেয়ারের দাম ক্লাস এ শেয়ারের তুলনায় ১ শতাংশের বেশি কমে গেলে সংশ্লিষ্ট শেয়ারধারীদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। ২০১৪ সালের এপ্রিলে শেয়ারগুলো বিতরণ করা হয়। পরের বছর গুগল নির্ধারণ করে, দামের পার্থক্যের ভিত্তিতে ক্লাস সি শেয়ারধারীদের ৫২২ মিলিয়ন ডলার সমন্বয়মূল্য দিতে হবে। জাকারবার্গের ব্যক্তিগত স্বার্থের বিষয়টিও কি আছে? রয়টার্সের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে বিলিয়নিয়ারদের সম্পদের ওপর প্রস্তাবিত করও এ পরিকল্পনার আলোচনায় এসেছে। ২০২৬ সালের নভেম্বরের ব্যালটে থাকা প্রস্তাবিত এ কর কার্যকর হলে ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দা হিসেবে বিবেচিত বিলিয়নিয়ারদের নিট সম্পদের ওপর এককালীন ৫ শতাংশ কর আরোপ করা হতে পারে। মেটার নথি অনুযায়ী, সম্ভাব্য এই করের কারণে জাকারবার্গ ক্যালিফোর্নিয়া ছেড়ে অন্য কোথাও যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছেন বলে বিশেষ কমিটিকে জানিয়েছেন। ভোটাধিকারহীন শেয়ার থাকলে তিনি নিজের ভোটক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে না কমিয়েও কিছু শেয়ার বিক্রি করে অর্থ সংগ্রহ করতে পারবেন। তবে মেটার পরিচালনা পর্ষদের বক্তব্য, কম্পানিতে জাকারবার্গের বিদ্যমান মালিকানাই শেয়ারধারীদের সঙ্গে তার স্বার্থের যথেষ্ট সামঞ্জস্য তৈরি করে। তাই তাকে অতিরিক্ত নগদ পারিশ্রমিক বা নতুন ইকুইটি পুরস্কার দেওয়ার প্রয়োজন নেই বলে মনে করে পর্ষদ। মেটার নতুন শেয়ার পরিকল্পনার লক্ষ্য একদিকে এআই খাতে বিপুল বিনিয়োগের অর্থ সংগ্রহ করা, অন্যদিকে কম্পানির ওপর জাকারবার্গের নিয়ন্ত্রণ অক্ষুণ্ন রাখা। তবে নতুন শেয়ার বাজারে আসার পর বিনিয়োগকারীরা কীভাবে সেগুলো গ্রহণ করেন, তা নির্ভর করবে শেয়ারের চাহিদা, মূল্য এবং কম্পানির ভবিষ্যৎ আর্থিক ফলাফলের ওপর।
প্রেমের প্রস্তাব দেওয়া, প্রথম ডেটে কী বলবেন কিংবা পছন্দের মানুষের সঙ্গে কথোপকথন কীভাবে এগিয়ে নেবেন, এসব বিষয়ে পরামর্শ নিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সাহায্য নিচ্ছেন ভারতের অনেক মানুষ। এক জরিপে দেখা গেছে, গত ১২ মাসে দিল্লির ৫৫ শতাংশ উত্তরদাতা কাউকে আকৃষ্ট করার কৌশল উন্নত করতে এআইভিত্তিক কথোপকথন সহকারীর সাহায্য নিয়েছেন। এ তালিকায় মুম্বাইয়ের ৪৯ শতাংশ, হায়দরাবাদের ৪৮ শতাংশ এবং বেঙ্গালুরুর ৪৭ শতাংশ উত্তরদাতাও রয়েছেন। ডেটিং অ্যাপ গ্লিডেন ও গবেষণা সংস্থা ইপসোসের সাম্প্রতিক জরিপে এসব তথ্য উঠে এসেছে। দেড় হাজারের বেশি মানুষের অংশগ্রহণে পরিচালিত জরিপটি থেকে বোঝা যায়, ভারতের ডেটিং সংস্কৃতিতে এআইয়ের ব্যবহার বাড়ছে। আগে প্রেম বা সম্পর্কের বিষয়ে পরামর্শের জন্য মানুষ বন্ধু কিংবা পরিচিতদের ওপর নির্ভর করতেন। এখন সেই তালিকায় যুক্ত হয়েছে চ্যাটবট। প্রেমের বিভিন্ন পর্যায়ে এআইয়ের ব্যবহার জরিপে দেখা গেছে, সম্ভাব্য সঙ্গীকে আকৃষ্ট করতে শুধু কথোপকথন নয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রোফাইল সাজাতেও এআইয়ের সাহায্য নিচ্ছেন অনেকে। দিল্লি ও মুম্বাইয়ের ৪৬ শতাংশ উত্তরদাতা গত এক বছরে নিজেদের ডেটিং বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রোফাইলের বিবরণ উন্নত করতে এআই ব্যবহার করেছেন। বেঙ্গালুরুতে এ হার ৩৫ শতাংশ এবং হায়দরাবাদে ২৬ শতাংশ। সম্ভাব্য সঙ্গীর সঙ্গে লিখিত কথোপকথন আরও আকর্ষণীয় করে তুলতেও এআইয়ের সাহায্য নিচ্ছেন অনেকে। দিল্লি ও বেঙ্গালুরুর ৪৬ শতাংশ উত্তরদাতা এ কাজে এআই ব্যবহারের কথা জানিয়েছেন। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে গ্লিডেন-ইপসোসের আরেকটি জরিপে দেখা গেছে, ৬৫ শতাংশ পুরুষ এবং ৬০ শতাংশ নারী জীবনের কোনো এক সময়ে কাউকে আকৃষ্ট করার কৌশল উন্নত করতে এআই ব্যবহার করেছেন। প্রথম ডেটের জন্য স্থান বা কার্যক্রম বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রেও এআইয়ের পরামর্শ নিচ্ছেন তারা। এ কাজে এআই ব্যবহারের কথা জানিয়েছেন ৬৪ শতাংশ পুরুষ ও ৬১ শতাংশ নারী। সম্পর্কের জটিলতা বুঝতেও এআই ডেটিং অ্যাপ আইসলের ৮ হাজার ২৪০ জন শহুরে অবিবাহিত মানুষের ওপর পরিচালিত আরেকটি প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ৫৩ দশমিক ১ শতাংশ নারী নিজেদের অনুভূতি ও সম্পর্ক নিয়ে উদ্বেগের কথা এআইয়ের সঙ্গে আলোচনা করেন। জেনারেশন জেড বা জেন-জি প্রজন্মের ৩৭ দশমিক ৩ শতাংশ মানুষ সম্ভাব্য সঙ্গীর পাঠানো দুর্বোধ্য বার্তার অর্থ বুঝতেও এআইয়ের সাহায্য নিয়েছেন। তবে এআই ব্যবহারের বিষয়ে মানুষের মনোভাবেও অসংগতি রয়েছে। জরিপে ২৪ দশমিক ৩ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, তারা নিজেরা এআই ব্যবহার করলেও সম্ভাব্য সঙ্গী একই কাজ করলে বিরক্ত বোধ করবেন। শহরভেদে এআই নিয়ে ভিন্ন মনোভাব আইসলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বেঙ্গালুরুর ৫৬ শতাংশ মানুষ মনে করেন, এআই দিয়ে লেখা বার্তা তারা শনাক্ত করতে পারেন। তবে ৮৮ শতাংশের ধারণা, এআই দিয়ে তৈরি প্রথম বার্তা ডেটিংয়ের ক্ষেত্রে এড়ানো কঠিন হয়ে উঠবে। দিল্লি ও এর আশপাশের অঞ্চলের ৪০ দশমিক ৫ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, বাস্তব ডেটের কথোপকথনের চেয়ে এআইয়ের সঙ্গে আলোচনা বেশি অর্থবহ মনে হয়। মুম্বাইয়ের ৬৯ দশমিক ১ শতাংশ মানুষ অবশ্য এআইয়ের চেয়ে নিজেদের সহজাত অনুভূতির ওপর বেশি আস্থা রাখেন। পুনের ৪২ শতাংশ উত্তরদাতার মতে, এআইয়ের পরামর্শ তাদের ডেটিংয়ের আত্মবিশ্বাস উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ায়। অন্যদিকে, হায়দরাবাদের ৫৫ শতাংশ মানুষ সম্পাদনাবিহীন স্বাভাবিক প্রোফাইল ছবি পছন্দ করেন। ৪৫ দশমিক ৫ শতাংশ জানিয়েছেন, এআই দিয়ে তৈরি ছবি দেখলে তারা সম্ভাব্য সঙ্গীর সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেবেন। কলকাতার ডেটিংপ্রত্যাশীদের মধ্যে এআই ব্যবহারের বিরোধিতা তুলনামূলক বেশি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অতিরিক্ত নির্ভরতা নিয়ে সতর্কতা এআইয়ের তাৎক্ষণিক পরামর্শ, বিচার না করার প্রবণতা এবং নিরপেক্ষ মনে হওয়ার কারণে অনেকে বন্ধুদের বদলে চ্যাটবটের সঙ্গে কথা বলতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। আইসলের প্রতিবেদনে ২১ দশমিক ৪ শতাংশ উত্তরদাতা এআইয়ের তাৎক্ষণিক প্রাপ্যতাকে এবং ১৮ দশমিক ৩ শতাংশ বিচারহীন পরিবেশকে এর প্রধান আকর্ষণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে বিশেষজ্ঞরা এআইয়ের ওপর অতিরিক্ত আবেগগত নির্ভরতা নিয়ে সতর্ক করেছেন। তাদের মতে, এতে কল্পনা ও বাস্তবতার সীমারেখা অস্পষ্ট হয়ে যেতে পারে। পাশাপাশি অবাস্তব প্রত্যাশা, একাকিত্ব, অতিরিক্ত আসক্তি এবং নিজের প্রতি অসন্তুষ্টিও বাড়তে পারে। প্রেমের ক্ষেত্রে এআই পরামর্শ দিতে পারে, কথোপকথন সাজাতে পারে কিংবা প্রথম ডেটের পরিকল্পনা করতে সাহায্য করতে পারে। তবে সম্পর্কের অনুভূতি, পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সিদ্ধান্তের জায়গায় মানুষের নিজস্ব ভূমিকার বিকল্প হয়ে উঠতে পারে না। সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) মাসে অন্তত ১৫টি মৌলিক ভিডিও পোস্ট করলেই মিলতে পারে ৩ হাজার ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩ লাখ ৬৯ হাজার টাকা। ভিডিও নির্মাতাদের উৎসাহিত করতে ‘ভিডিও কিকস্টার্ট বোনাস’ নামে নতুন কর্মসূচি চালু করেছে ইলন মাস্কের মালিকানাধীন প্ল্যাটফর্মটি। তবে এ সুযোগ সবার জন্য উন্মুক্ত নয়। আপাতত এক্সের কাছ থেকে আমন্ত্রণ পাওয়া নির্বাচিত নির্মাতারাই এই বোনাস পাওয়ার সুযোগ পাবেন। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এ কর্মসূচির আওতায় ৩০ দিনের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন দিনে অন্তত ১৫টি ভিডিও প্রকাশ করতে হবে। ভিডিওগুলোতে নির্দিষ্টসংখ্যক ভিউ, লাইক কিংবা দর্শক পাওয়ার কোনো শর্ত নেই। অর্থাৎ, নির্ধারিত নিয়ম মেনে ভিডিও প্রকাশ করতে পারলেই নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ পাওয়ার সুযোগ থাকবে। এক্স জানিয়েছে, প্ল্যাটফর্মে মানসম্মত ভিডিও কনটেন্ট তৈরিতে নির্মাতাদের উৎসাহিত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সাধারণত বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওর দর্শকসংখ্যা ও পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করে নির্মাতাদের আয় নির্ধারিত হয়। তবে ভিডিও কিকস্টার্ট বোনাস কর্মসূচিতে নির্ধারিত শর্ত পূরণ করলেই নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ পাওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। ভিডিও প্রকাশের ক্ষেত্রে যেসব শর্ত মানতে হবে ভিডিও কিকস্টার্ট বোনাসের আওতায় প্রকাশিত ভিডিওগুলো অবশ্যই মৌলিক হতে হবে। প্রতিটি ভিডিও খাড়াভাবে ধারণ করা এবং তিন মিনিটের কম দৈর্ঘ্যের হতে হবে। নির্মাতারা নিজেদের তৈরি এমন ভিডিওও এক্সে প্রকাশ করতে পারবেন, যেগুলো আগে অন্য প্ল্যাটফর্মে পোস্ট করা হয়েছে। তবে ভিডিওতে অন্য প্ল্যাটফর্মের ওয়াটারমার্ক থাকা যাবে না। অন্যের তৈরি ভিডিও পুনরায় পোস্ট করে এ কর্মসূচির আওতায় বোনাস পাওয়া যাবে না। অর্থাৎ, নিজের তৈরি ভিডিও নির্ধারিত নিয়মে প্রকাশ করাই এ কর্মসূচির মূল শর্ত। ভিডিওতে কত ভিউ বা লাইক এসেছে, সেটি বোনাস পাওয়ার ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক নয়। কারা পাবেন ৩ হাজার ডলারের বোনাস? এ কর্মসূচিতে অংশ নিতে হলে এক্সের কাছ থেকে আমন্ত্রণ পেতে হবে। এখন পর্যন্ত কাদের আমন্ত্রণ জানানো হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো মানদণ্ড প্রকাশ করেনি প্ল্যাটফর্মটি। আমন্ত্রণ পাওয়া নির্মাতাদের আগামী ৩০ অক্টোবরের মধ্যে এক্সের ক্রিয়েটর স্টুডিওর ‘প্রোগ্রামস’ বিভাগে নিবন্ধন করতে হবে। এরপর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কর্মসূচির শর্ত পূরণ করতে হবে। তবে আপাতত এটি পরীক্ষামূলক উদ্যোগ হওয়ায় সাধারণ ব্যবহারকারীরা সরাসরি নিবন্ধন করেই বোনাস পাওয়ার সুযোগ পাবেন না। এক্সের ‘অরিজিনাল কনটেন্ট রিওয়ার্ডস’ কর্মসূচির সঙ্গে নতুন ভিডিও কিকস্টার্ট বোনাসের কিছু গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। আগের কর্মসূচিতে অংশ নিতে প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন, অন্তত ৫০০ ভেরিফায়েড অনুসারী এবং নির্দিষ্টসংখ্যক ইমপ্রেশনসহ বেশ কিছু শর্ত পূরণ করতে হয়। কিন্তু নতুন ভিডিও কিকস্টার্ট বোনাসের ক্ষেত্রে এসব শর্ত বাধ্যতামূলক নয়। ফলে আমন্ত্রণ পাওয়া নির্মাতাদের জন্য নির্দিষ্টসংখ্যক মৌলিক ভিডিও প্রকাশ করে অর্থ উপার্জনের একটি নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। ভবিষ্যতে কি সবার জন্য চালু হবে? ভিডিও নির্মাতাদের আগ্রহ বাড়াতে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়েছে এ কর্মসূচি। তবে ভবিষ্যতে আরও বেশি নির্মাতাকে এর আওতায় আনা হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো কিছু জানায়নি এক্স। তাই মাসে ১৫টি ভিডিও প্রকাশ করলেই যে প্রত্যেক ব্যবহারকারী ৩ হাজার ডলার পাবেন, বিষয়টি এমন নয়। আপাতত এক্সের আমন্ত্রণ পাওয়া নির্বাচিত নির্মাতারাই নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে এই বোনাস পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপের মূল প্রতিষ্ঠান মেটাকে ২৫ বিলিয়ন ডলার জরিমানা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের একটি আদালত। ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করা এবং অঙ্গরাজ্যের আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে এ রায় দেওয়া হয়েছে। মেটার বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত আরোপ করা জরিমানার মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। গত বুধবার (২১ অক্টোবর) দেওয়া এ রায় চলতি বছরের শুরুতে অনুষ্ঠিত দুই সপ্তাহের বিচার শেষে জুরি বোর্ডের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে এসেছে। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, ফেসবুক ব্যবহারকারীদের তথ্য কীভাবে সংগ্রহ, ব্যবস্থাপনা ও ভাগাভাগি করা হয়, তা নিয়ে বছরের পর বছর ধরে জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করেছে মেটা। বিচারক ফ্রান্সিস ম্যাথিউ বলেন, মেটার মিথ্যাচার শুধু ব্যবহারকারীদের তথ্য ব্যবস্থাপনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং তা প্রতিষ্ঠানটির মূল ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও জড়িত ছিল। ২০১০ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ১১ বছরেরও বেশি সময় ধরে এসব অনিয়ম ঘটেছে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়। মেটার প্রধান আইনজীবী সি জে মাহোনি এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার ঘোষণা দিয়েছেন। তার দাবি, এ রায়ের কারণে নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসা পরিচালনা করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে। আপিলে মেটা জয়ী হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। মাহোনি অভিযোগ করেন, অনলাইনে মানুষ কী বলতে পারবে, সে বিষয়ে নতুন বিধিনিষেধ কার্যকর করার উদ্দেশ্যে এ মামলা করা হয়েছে। তার ভাষায়, এটি মূলত বক্তব্যের ওপর কর আরোপের একটি প্রচেষ্টা। ৪ কোটির বেশি আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ নিউ মেক্সিকোর আইনজীবীরা আদালতে অভিযোগ করেন, ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে মেটা দীর্ঘদিন ধরে অসত্য বক্তব্য দিয়ে এসেছে। প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহীরা বিভিন্ন সময়ে দাবি করেছিলেন, ব্যবহারকারীদের অনুমতি ছাড়া তাদের তথ্য তৃতীয় পক্ষের সঙ্গে ভাগাভাগি করা হয় না এবং তৃতীয় পক্ষেরও এসব তথ্যে প্রবেশের সুযোগ নেই। কিন্তু বাস্তবে এর বিপরীত ঘটেছে বলে দাবি করেন আইনজীবীরা। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, মেটার তথ্য ব্যবস্থাপনার অসততার কারণে অঙ্গরাজ্যটির প্রায় ২০ লাখ বাসিন্দা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। জুরি বোর্ডের সিদ্ধান্তে দেখা যায়, মেটা অঙ্গরাজ্যের আইন ৪ কোটিরও বেশি বার লঙ্ঘন করেছে। নিউ মেক্সিকোর অ্যাটর্নি জেনারেল রাউল তোরেজ বুধবার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এমনভাবে ব্যবসা পরিচালনা করেছে, যেন তাদের আকার ও প্রভাব তাদের আইনের ঊর্ধ্বে স্থান দিয়েছে। এ রায়ের মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়েছে, কোনো প্রতিষ্ঠানই এতটা ক্ষমতাবান নয় যে তাকে জবাবদিহির বাইরে রাখা যাবে। মেটার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ৪০ বিলিয়ন ডলার জরিমানা দাবি করেছিলেন অঙ্গরাজ্যটির আইনজীবীরা। অন্যদিকে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, ৩ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি জরিমানা আরোপ করা হলে তা হবে অসাংবিধানিক। বিচারক ম্যাথিউ অবশ্য জরিমানার ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থান নেন। অঙ্গরাজ্যের আইন হাজার হাজার বার লঙ্ঘনের ভিত্তিতে মেটার বিরুদ্ধে জরিমানার অঙ্ক ২১৯ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত তা কমিয়ে ২৫ বিলিয়ন ডলার করা হয়। বিচারকের আদেশে বলা হয়, মেটার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের মধ্যে আদান-প্রদান করা বিভিন্ন নথি জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছিল। ব্যবহারকারীদের তথ্য কীভাবে ব্যবহার ও ভাগাভাগি করা হয়েছে, সে বিষয়ে আইন লঙ্ঘন এবং জনগণকে বিভ্রান্ত করার ঘটনাগুলো ইচ্ছাকৃত ছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি। ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকা কেলেঙ্কারি থেকে মামলার সূত্রপাত নিউ মেক্সিকোর মামলাটির সূত্রপাত ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকা কেলেঙ্কারি থেকে। ওই সময় মেটা ফেসবুক নামেই ব্যবসা পরিচালনা করত। রাজনৈতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকা ফেসবুকের লাখ লাখ ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য কাজে লাগিয়েছিল। ২০১৬ সালের যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ঘিরেও এসব তথ্য ব্যবহার করা হয়েছিল। ওই নির্বাচনে প্রথমবারের মতো প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিউ মেক্সিকো কর্তৃপক্ষের অভিযোগ ছিল, বিদ্বেষমূলক বক্তব্যসংবলিত কনটেন্ট থেকে কীভাবে মেটা লাভবান হয় এবং এ ধরনের কনটেন্টের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানটির নীতিমালা কীভাবে প্রয়োগ করা হয়, সে বিষয়েও জনসাধারণকে ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্ত করা হয়েছে। জুরি বোর্ড এ অভিযোগেও মেটাকে দায়ী করেছে। এর আগে ২০১৯ সালে ব্যবহারকারীদের তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষায় ব্যর্থতার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ট্রেড কমিশন (এফটিসি) মেটাকে ৫ বিলিয়ন ডলার জরিমানা করেছিল। চলতি বছর শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্ল্যাটফর্মগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগেও নিউ মেক্সিকোতে মেটার বিরুদ্ধে আরেকটি মামলার বিচার হয়েছে। ওই মামলায় প্রতিষ্ঠানটিকে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার জরিমানা করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সেই মামলার বিচারক শিশুদের মানসিক ক্ষতি ও যৌন শোষণের সঙ্গে মেটার কার্যক্রমের তুলনা করেছিলেন শিল্পকারখানার বায়ুদূষণের সঙ্গে। তাঁর ভাষায়, মেটার ক্ষেত্রে দূষণের ধরন হলো শিশুদের মানসিক ক্ষতি ও যৌন শোষণ। জরিমানার পাশাপাশি এআই খাতে বিপুল বিনিয়োগ মেটার বিরুদ্ধে বড় অঙ্কের জরিমানার রায় এলেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর পরিকল্পনা থেকে সরে আসেনি প্রতিষ্ঠানটি। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে অবকাঠামো ও এআই-সংশ্লিষ্ট প্রকল্পে বিপুল অর্থ ব্যয় করছে তারা। আর্থিক বিশ্লেষকদের সঙ্গে এক ফোনালাপে মেটার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মার্ক জাকারবার্গ জানান, ভোক্তাদের জন্য তৈরি প্রতিষ্ঠানটির এআই টুল ‘মিউজ’ ইতিমধ্যে ১ কোটি মানুষ ব্যবহার করছেন। তার ভাষ্য, কোটি কোটি মানুষের ব্যবহারের উপযোগী করে মিউজকে গড়ে তোলাই প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য ও কৌশল। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে চলতি বছর মেটা অন্তত ১৩৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের পরিকল্পনা করেছে। এর বড় অংশ ব্যয় হবে এআই-সংশ্লিষ্ট প্রকল্পে। পরিস্থিতি অনুযায়ী মোট ব্যয়ের পরিমাণ ১৪৫ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। বিপুল বিনিয়োগের প্রভাবে প্রতিষ্ঠানটির নগদ অর্থপ্রবাহেও চাপ তৈরি হয়েছে। বিবিসির পর্যালোচনা করা মেটার আগের আর্থিক নথি অনুযায়ী, শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার ১৪ বছরের মধ্যে এবারই প্রথম প্রতিষ্ঠানটির নগদ অর্থপ্রবাহ ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি ঋণাত্মক হয়েছে। নগদ অর্থপ্রবাহ বলতে পরিচালন ব্যয় ও বিনিয়োগের অর্থ পরিশোধের পর একটি প্রতিষ্ঠানের হাতে অবশিষ্ট থাকা অর্থকে বোঝায়। অর্থাৎ মেটার আয় বাড়লেও প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করছে। তবে আয় ও মুনাফা—দুই ক্ষেত্রেই প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে মেটার আয় ২৬ শতাংশ বেড়ে ৬৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটির মুনাফা প্রায় তিন গুণ বেড়ে ৯ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। অর্থায়নে নমনীয়তা বাড়ানোর উদ্যোগ এআই খাতে বিনিয়োগ অব্যাহত রাখার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে শেয়ার কাঠামোয় পরিবর্তনের ঘোষণাও দিয়েছে মেটা। আর্থিক বিশ্লেষকদের সঙ্গে ফোনালাপে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান অর্থ কর্মকর্তা সুসান লি নতুন এক শ্রেণির শেয়ার চালুর কথা জানান। এর আওতায় বর্তমান শেয়ারধারীরা ভোটাধিকারবিহীন নতুন শ্রেণির একটি করে শেয়ার পাবেন। লি বলেন, নতুন শ্রেণির শেয়ার এখনই কোনো নির্দিষ্ট বিনিয়োগের জন্য বরাদ্দ করা হচ্ছে না। তবে এআই খাতে চলমান বিপুল ব্যয়ের প্রসঙ্গ তুলে তিনি ইঙ্গিত দেন, আগামী বছর প্রতিষ্ঠানটির অর্থায়নের ক্ষেত্রে আরও নমনীয়তার প্রয়োজন হতে পারে। একদিকে ব্যবহারকারীদের তথ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে বড় অঙ্কের জরিমানা ও আইনি চাপ, অন্যদিকে এআই খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর পরিকল্পনা—দুই দিক সামলে এগোতে হচ্ছে মেটাকে। আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির জন্য প্রযুক্তি ও অবকাঠামো খাতে ব্যয় অব্যাহত রাখার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
শিশুদের সাইবার হয়রানির শিকার হওয়ার ঘটনা দিন দিন বাড়ছে। ন্যাশনাল চাইল্ড হেল্পলাইনের তথ্য বলছে, গত বছরের তুলনায় চলতি বছরে শিশুদের সাইবার হয়রানির শিকার হওয়ার ঘটনা বেড়েছে ৪২ শতাংশ, যা শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাতে মোবাইল ফোন পেয়ে শিশুরা অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সম্পর্কে আগ্রহী হয়ে উঠছে। আবার কখনো কখনো অভিভাবকেরাই পড়াশোনা, যোগাযোগ কিংবা বিনোদনের জন্য বয়স বাড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশুর অ্যাকাউন্ট খুলে সাইবার বিপদের ঝুঁকি বাড়াচ্ছেন। এ জন্য অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধি ও তদারকির পাশাপাশি অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকা এবং শিশু নির্যাতনসংক্রান্ত অপরাধ তদন্তে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। একটি বহুজাতিক সংস্থার কর্মকর্তা জানান, তিনি করোনাকালে ২০২০ সালে অনলাইন ক্লাসের জন্য বয়স বাড়িয়ে মেয়েকে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খুলে দিয়েছিলেন। তখন মেয়ে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ত। পরে ওই অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে মেয়ের সঙ্গে সমবয়সী পরিচয় দেওয়া অপরিচিত এক ব্যক্তির বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে কৌশলে ওই ব্যক্তি মেয়ের পাসওয়ার্ড জেনে অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ নেয়। আপত্তিকর ছবি, ভিডিও ধারণ করে মেয়েকে ব্ল্যাকমেল করতে শুরু করে সে। ভয়ে-আতঙ্কে মেয়েটি প্রথমে কিছু জানায়নি। মেধাবী মেয়েটি একপর্যায়ে মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে। পড়াশোনা থমকে যায়। পরে দীর্ঘদিন মনোরোগ বিশেষজ্ঞের কাউন্সেলিংয়ে থেকে সে স্বাভাবিক হয়েছে। মাধ্যমিক পাস করেছে। কিন্তু এখনো মাঝে মাঝে পুরোনো ট্রমা ফিরে আসে। ওই মেয়ের মতো অসংখ্য শিশু এমন ঘটনার শিকার হয়ে বিভীষিকাময় সময় পার করছে। শিশুদের ক্রমবর্ধমান সাইবার হয়রানির বিষয়টি উঠে এসেছে সমাজসেবা অধিদপ্তর পরিচালিত ন্যাশনাল চাইল্ড হেল্পলাইন ১০৯৮-এর তথ্যেও। এই তথ্য বলছে, গত বছরের তুলনায় চলতি বছর হেল্পলাইনে শিশুদের সাইবার হয়রানি-সংক্রান্ত কল আসার পরিমাণ ৪২ শতাংশ বেড়েছে। ২০২৫ সালে এই হেল্পলাইনে মোট ৭ লাখ ৬৯ হাজার ৮৬১টি কল গ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে ৫৯৭টি ছিল শিশুদের সাইবার হয়রানি-সংক্রান্ত। এসব কলের মধ্যে ১৭৯টি ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত আট মাসে হেল্পলাইনে আসা ৫ লাখ ২৭ হাজার ৯৫৪টি কলের মধ্যে ৫৬৫টি ছিল সাইবার হয়রানি-সংক্রান্ত। এসব ঘটনায় ১৭০টি ক্ষেত্রে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। চাইল্ড হেল্পলাইনের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর সাইবার হয়রানি বিষয়ে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৫০টি কল এসেছিল। চলতি বছর প্রতি মাসে গড়ে ৭০টির বেশি কল এসেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এগুলো শুধু হেল্পলাইনে আসা ঘটনার হিসাব। এর বাইরেও শিশুদের সাইবার হয়রানির অনেক বেশি ঘটনা ঘটছে, যা হেল্পলাইনে না জানানোয় সামনে আসেনি। হেল্পলাইন ১০৯৮-এর ব্যবস্থাপক চৌধুরী মো. মোহায়মেন গত শনিবার আজকের পত্রিকাকে বলেন, পরিবারগুলো ভেঙে ছোট হচ্ছে। পরিবারের সদস্যদের বদলে শিশুরা অনলাইনে অপরিচিত মানুষের সংস্পর্শে আসছে। অথচ কে প্রকৃত পরিচয়ে যোগাযোগ করছে, আর কে ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করছে, তা বোঝার ক্ষমতা তাদের সব সময় থাকে না। অপরাধীরা অনেক সময় শিশুর সমবয়সী পরিচয় দিয়ে বন্ধুত্ব গড়ে তোলে। পরে ব্যক্তিগত ছবি, ভিডিও কিংবা তথ্য সংগ্রহ করে সেগুলো দিয়ে ব্ল্যাকমেল করার চেষ্টা করতে পারে। তাই সন্তানের অ্যাকাউন্ট খুলে দেওয়ার পর কারা তার বন্ধু হচ্ছে, কী ধরনের বার্তা আসছে এবং কেউ ব্যক্তিগত তথ্য চাইছে কি না, তা নিয়ে অভিভাবকদের সচেতন থাকা জরুরি। ফেসবুক, টিকটকসহ কয়েকটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ১৩ বছরের কম বয়সে অ্যাকাউন্ট করা যায় না। কিন্তু অনেকে বয়স বাড়িয়ে অ্যাকাউন্ট খোলে। এসব অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ ও সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এর সূত্র ধরে শিশুদের ঘর ছাড়ার ঘটনা মাঝে মাঝেই গণমাধ্যমে আসছে। সম্প্রতি কুমিল্লার পঞ্চম শ্রেণিপড়ুয়া তিন শিশু তৃতীয় শ্রেণিপড়ুয়া এক শিশুকে নিয়ে ঘর ছেড়েছিল। পরে তাদের হবিগঞ্জ থেকে উদ্ধার করা হয়। কুমিল্লারই সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীর মোবাইল ফোনে এক তরুণের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে কক্সবাজারে যাওয়া এবং বাড়ি ফেরার পথে ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হওয়ার ঘটনা ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি করে। বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, দেশে সাইবার নিরাপত্তাব্যবস্থা ব্যবহার করা হয় না। ইন্টারনেট সেবাদাতা (আইএসপি) প্রতিষ্ঠানগুলো প্যারেন্টাল গাইডলাইন মেনে চলে না। ফলে শিশুরা কার্টুন দেখার সময় বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম স্ক্রল করার সময় প্রাপ্তবয়স্কদের কনটেন্ট চলে আসতে পারে। এমন অভিজ্ঞতার শিকার হচ্ছে অনেক শিশু। অনেকে সেগুলোতে আসক্ত হচ্ছে। অনেক সময় এগুলো তাদের বিপদ ডেকে আনছে। ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে মে মাসে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ১০০টি পরিবারের ওপর সমীক্ষা চালায় বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন। ওই সমীক্ষায় দেখা যায়, দুই থেকে পাঁচ বছরের শিশুদের মধ্যে ৯৫ শতাংশ মোবাইল ফোনে আসক্ত। তার মধ্যে কার্টুন এবং ভিডিও গেম দেখে প্রায় ৯৫ শতাংশ। টিকটক দেখে প্রায় ৫০ শতাংশ শিশু। ২০১৯ সালে ইউনিসেফ বাংলাদেশ ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সী ১ হাজার ২৮১ শিশুর ওপর জরিপ করে। এই জরিপে অংশ নেওয়া ৩২ শতাংশ শিশু অনলাইনে সাইবার বুলিং, সহিংসতা বা হয়রানির শিকার হওয়ার কথা জানায়। ২৫ শতাংশ শিশু ১১ বছর বয়সের আগেই ডিজিটাল জগতে প্রবেশের কথা জানিয়েছিল। একই জরিপে ৭০ শতাংশ ছেলে ও ৪৪ শতাংশ মেয়ে অনলাইনে অপরিচিত ব্যক্তির বন্ধুত্বের অনুরোধ গ্রহণ করার কথা জানায়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমানে সাইবার বুলিং, সহিংসতা ও হয়রানির শিকার শিশুর সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়েছে। অনেক বাবা-মা সন্তানের জন্মদিন, স্কুলে যাওয়ার ছবি, পুরস্কার গ্রহণ, ঘুরতে যাওয়া কিংবা দৈনন্দিন জীবনের নানা ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন। এই প্রবণতাও পরে শিশুটিকে বিপদে ফেলতে পারে। সেই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) প্রসার শিশুর এই ঝুঁকি আরও বাড়াচ্ছে। সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা গত শনিবার বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে থাকা সাধারণ পারিবারিক ছবিও এআই ব্যবহার করে যৌন নিপীড়নমূলক ছবি বা ভিডিওতে রূপান্তর করা হচ্ছে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক ইন্টারনেট ওয়াচ ফাউন্ডেশন (আইডব্লিউএফ) ২০২৫ সালে এমন ৩ হাজার ৪৪০টি ভিডিও শনাক্ত করেছে। যেখানে ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল মাত্র ১৩টি। তিনি বলেন, অভিভাবকদের প্রথমে বুঝতে হবে, শিশু কোনো কনটেন্ট নয়। অপ্রয়োজনে শিশুর নামে প্রকাশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট খোলা উচিত নয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের সাইবার হয়রানি থেকে রক্ষা করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট ব্যক্তিগত রাখা, অনুসারীদের তালিকা নিয়মিত যাচাই করা, শক্তিশালী ও আলাদা পাসওয়ার্ড ব্যবহার এবং দ্বিস্তরীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা চালু রাখা জরুরি। শিশুদেরও অনলাইনে অপরিচিত ব্যক্তির পাঠানো সংযোগ বা লিংকে প্রবেশ, উপহার দেওয়ার প্রলোভন, ভিডিও কলে যুক্ত হওয়ার প্রস্তাব, গোপনে কথোপকথন চালানোর অনুরোধ কিংবা ব্যক্তিগত ছবি চাওয়ার বিষয়ে সতর্ক করতে হবে। কোনো অনলাইন যোগাযোগে অস্বস্তি বোধ করলে বা কেউ ভয় দেখালে যেন তারা নির্ভয়ে অভিভাবককে জানাতে পারে, সেই পরিবেশ তৈরি করা জরুরি। শিশু সুরক্ষায় কাজ করা সংগঠন ‘শিশুরাই সব’-এর আহ্বায়ক লায়লা খন্দকার বলেন, সন্তানের মোবাইল ফোন নিয়মিত পরীক্ষা করা কিংবা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ইন্টারনেট বন্ধ রেখে অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায় না। শিশুকে অনলাইনে ব্যক্তিগত তথ্যের গুরুত্ব, অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগের ঝুঁকি এবং হয়রানির শিকার হলে করণীয় সম্পর্কে শেখানোও জরুরি। অনলাইনে কোনো ছবি বা তথ্যের অপব্যবহার হলে তাড়াহুড়ো করে সব মুছে না ফেলে প্রথমে সংশ্লিষ্ট লিংক, ব্যবহারকারীর নাম, বার্তা, স্ক্রিনশট, ঘটনার সময় এবং মূল ফাইল সংরক্ষণ করতে হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কর্তৃপক্ষ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাকে জানানো উচিত। অভিভাবকদের পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোরও এ বিষয়ে সচেতন হওয়া উচিত। ডিজিটালি রাইট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিরাজ আহমেদ চৌধুরী বলেন, শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুধু সোশ্যাল মিডিয়ায় অ্যাকাউন্ট খোলা নিষিদ্ধ করা কোনো সমাধান নয়। এ জন্য নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজন ব্যাপক জনসচেতনতা। এ ক্ষেত্রে অভিভাবকদের সচেতনতা ও তদারকির পাশাপাশি অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকা এবং শিশু নির্যাতনসংক্রান্ত অপরাধ তদন্তে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে স্কুলপর্যায় থেকে অনলাইন নিরাপত্তাবিষয়ক শিক্ষা পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নিতে হবে। শিশুদের অনলাইন সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পরিবার, সরকার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মগুলোর সম্মিলিত উদ্যোগ জরুরি।
স্মার্টফোন হারিয়ে গেলে বা চুরি হলে শুধু ফোনের দাম নিয়েই দুশ্চিন্তা থাকে না, ব্যক্তিগত ছবি, বার্তা, যোগাযোগের নম্বর ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়। বিশেষ করে হোয়াটসঅ্যাপে ব্যক্তিগত কথোপকথন থাকলে সেগুলো অন্যের হাতে পড়ার আশঙ্কা থাকে। তবে দ্রুত কয়েকটি পদক্ষেপ নিলে হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়া এবং ব্যক্তিগত তথ্যের ঝুঁকি কমানো সম্ভব। প্রথমেই বন্ধ করুন হারানো সিম ফোন হারানোর পর যত দ্রুত সম্ভব মোবাইল অপারেটরের সঙ্গে যোগাযোগ করে সিম কার্ডটি বন্ধ করুন। এতে অন্য কেউ সিমটি ব্যবহার করে কল করা বা এসএমএসের মাধ্যমে যাচাইকরণ কোড পাওয়ার ঝুঁকি কমবে।এরপর একই ফোন নম্বরের একটি বিকল্প সিম সংগ্রহ করুন। হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধারের জন্য আগের নম্বরটির নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ। নতুন ফোনে হোয়াটসঅ্যাপ চালু করবেন যেভাবে নতুন বা অন্য একটি ফোনে হোয়াটসঅ্যাপ ইনস্টল করে আগের ফোন নম্বর দিয়ে নিবন্ধন শুরু করুন। এরপর এসএমএস বা ফোনকলের মাধ্যমে পাওয়া যাচাইকরণ কোড দিয়ে নম্বরটি নিশ্চিত করুন। নিবন্ধন সম্পন্ন হলে সাধারণত হারানো ফোনের হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট থেকে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। মনে রাখবেন, যাচাইকরণ কোড কখনো অন্য কারও সঙ্গে শেয়ার করবেন না। কেউ হোয়াটসঅ্যাপের কর্মী পরিচয় দিলেও তাঁকে এই কোড জানাবেন না। পুরোনো বার্তা কি ফিরে পাওয়া যাবে? নতুন ফোনে হোয়াটসঅ্যাপ চালু করলেই আগের সব কথোপকথন ফিরে আসবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। আগে থেকে চ্যাটের ব্যাকআপ রাখা থাকলে তা পুনরুদ্ধার করা যেতে পারে। অ্যান্ড্রয়েড ফোনে সাধারণত গুগল অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে এবং আইফোনে আইক্লাউডের মাধ্যমে চ্যাটের ব্যাকআপ রাখা যায়। ব্যাকআপ পুনরুদ্ধার করতে সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টে প্রবেশের সুযোগ থাকতে হবে। ব্যাকআপ না থাকলে পুরোনো বার্তা ফিরে পাওয়া কঠিন হতে পারে। তাই গুরুত্বপূর্ণ কথোপকথন হারানোর ঝুঁকি কমাতে নিয়মিত চ্যাট ব্যাকআপ চালু রাখা ভালো। হোয়াটসঅ্যাপ দিয়ে কি হারানো ফোন খুঁজে পাওয়া যায়? না, হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে সরাসরি হারানো ফোনের অবস্থান শনাক্ত করা যায় না। এ জন্য অ্যান্ড্রয়েডের ‘ফাইন্ড হাব’ (আগের ‘ফাইন্ড মাই ডিভাইস’) অথবা আইফোনের ‘ফাইন্ড মাই’ সুবিধা ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে ফোনে প্রয়োজনীয় সেটিংস চালু থাকা এবং সংশ্লিষ্ট শর্ত পূরণ হওয়া জরুরি। হোয়াটসঅ্যাপ ওয়েব বা ডেস্কটপ সংস্করণ থেকেও সরাসরি হারানো ফোনের অবস্থান জানা যায় না। তবে অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হোয়াটসঅ্যাপের ‘লিংকড ডিভাইসেস’ তালিকা পরীক্ষা করে অপরিচিত ডিভাইস থেকে লগআউট করা যেতে পারে। পুরোনো নম্বর ফিরে না পেলে কী করবেন? পুরোনো সিম হারিয়ে গেলে প্রথমে মোবাইল অপারেটরের কাছ থেকে একই নম্বরের বিকল্প সিম সংগ্রহের চেষ্টা করুন। হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট পুনরায় নিবন্ধনের জন্য ওই নম্বরে যাচাইকরণ কোড পাওয়ার সুযোগ থাকা প্রয়োজন। অন্য নম্বরে অ্যাকাউন্ট স্থানান্তর করতে চাইলে হোয়াটসঅ্যাপের ‘চেঞ্জ নম্বর’ সুবিধা ব্যবহার করা যায়। তবে এ জন্য পুরোনো অ্যাকাউন্টে প্রবেশের সুযোগ এবং নতুন নম্বরটি সচল থাকা প্রয়োজন। শুধু নতুন নম্বর দিয়ে নিবন্ধন করলেই পুরোনো অ্যাকাউন্টের তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্থানান্তরিত হবে না। ফোন হারালে আরও যেসব পদক্ষেপ নেবেন ফোন লক বা মুছে দিন: অ্যান্ড্রয়েডের ফাইন্ড হাব বা আইফোনের ফাইন্ড মাই সুবিধা দিয়ে সম্ভব হলে ফোনটি লক করুন। প্রয়োজন হলে দূর থেকে ফোনের তথ্য মুছে দেওয়ার ব্যবস্থা নিন। ই-মেইল ও গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্ট সুরক্ষিত করুন: সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টগুলোর পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করুন এবং অন্য ডিভাইসের সক্রিয় সেশন পরীক্ষা করুন। ব্যাংকিং অ্যাপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন: ফোনে আর্থিক সেবার অ্যাপ থাকলে প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা সেবা প্রদানকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করুন। চুরি হলে পুলিশকে জানান: ফোনের আইএমইআই নম্বর ও প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে অভিযোগ করুন। ফোন হারালে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত সিম বন্ধ করা, একই নম্বরের বিকল্প সিম সংগ্রহ এবং নতুন ফোনে হোয়াটসঅ্যাপ পুনরায় নিবন্ধনের উদ্যোগ নিন। পাশাপাশি ফোনের অবস্থান শনাক্ত করার সুবিধা ব্যবহার ও গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্ট সুরক্ষিত করলে ব্যক্তিগত তথ্যের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
ওপেনএআইয়ের ‘জিপিটি-৫.৬ সল’ পরিবারের একটি অভ্যন্তরীণ গবেষণা মডেল কোডিংয়ের কাজ করতে গিয়ে অনুমতি ছাড়াই অন্যের ডিজিটাল ওয়ালেট থেকে পরীক্ষামূলক ইথেরিয়াম কয়েন খরচ করেছে। ইথেরিয়ামের পরীক্ষামূলক নেটওয়ার্ক সেপোলিয়ায় গত ২৬ জুন ঘটনাটি ঘটলেও, ২৫ সেপ্টেম্বর কাজের লগ পর্যালোচনার সময় তা ওপেনএআইয়ের নজরে আসে। ১৫ অক্টোবর প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানটি এ তথ্য জানায়। জানা যায়, মডেলটিকে একটি পরীক্ষামূলক ক্রিপ্টোকারেন্সি প্ল্যাটফর্ম হালনাগাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। স্মার্ট কনট্রাক্ট চালুর অনুমতি থাকলেও, এর জন্য প্রয়োজনীয় ‘গ্যাস ফি’ বা নেটওয়ার্ক ফি দেওয়ার মতো কোনো কয়েনযুক্ত ওয়ালেট মডেলটিকে দেওয়া হয়নি। অন্যের ওয়ালেট ব্যবহারেরও অনুমতি ছিল না। কিন্তু কাজ সম্পন্ন করতে মডেলটি ৩৬২টি ওয়ালেটে খোঁজ চালিয়ে প্রকাশ্যে পরিচিত একটি ‘রিকভারি ফ্রেজ’ ব্যবহার করে একটি ওয়ালেটে প্রবেশ করে। আশ্চর্যজনকভাবে, তহবিল ব্যবহারের আগে এটি নিজেই নৈতিকতার বিচার করে। পরীক্ষামূলক কয়েনের নগণ্য আর্থিক মূল্য এবং রিকভারি ফ্রেজটি প্রকাশ্যে থাকাকে যুক্তি হিসেবে ধরে, ওয়ালেটের মালিক বা নির্দেশদাতার বিনা অনুমোদনেই মডেলটি ওই তহবিল ব্যবহার করে নেটওয়ার্ক ফি মেটায়। প্রথমবার ব্যর্থ হওয়ার পর বিকল্প নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে মডেলটি এই লেনদেন সম্পন্ন করে। তবে এতে কত কয়েন খরচ হয়েছে বা ওয়ালেটটির মালিক কে, তা প্রকাশ করেনি ওপেনএআই।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।