স্মার্টফোন ব্যবহারের সময় অনেক ফিচার প্রয়োজন না থাকলেও ব্যাকগ্রাউন্ডে সক্রিয় থাকে। এসব ফিচারের কারণেই অজান্তেই ফোনের ব্যাটারি ও মোবাইল ডেটা খরচ হতে পারে। তাই ফোনের কিছু সেটিংস পরিবর্তন করে অপ্রয়োজনীয় ব্যাকগ্রাউন্ড কাযৃক্রম কমানো সম্ভব । ১. প্লে স্টোরের () অটো-আপডেট বন্ধ করুন অ্যাপে নতুন সংস্করণ এলেই স্বয়ক্রিয়ভাবে আপডেট হওয়ার সুবিধা থাকলেও একসঙ্গে অনেক অ্যাপ আপডেট হলে মোবাইল ডেটা ও ব্যাটারি বেশি খরচ হতে পারে। প্রয়োজন অনুযায়ী নিজ অ্যাপ আপডেট করতে চাইলে অটে-আপডেট বন্ধ রাখা যায়। এ জন্য Play Store > Profile picture > Settings > Network preferences > Auto-update apps-এ গিয়ে Don’t auto-update apps নির্বাচন করতে হবে। ২. Wi-Fi ও Bluetooth scanning বন্ধ রাখুন Wi-Fi বা Bluetooth বন্ধ থাকলেও ফোনের স্ক্যানিং ফিচার আশপাশের নেটওয়ার্ক বা ডিভাইস শনাক্ত করতে পারে। লোকেশন নির্ভুলভাবে নির্ধারণ বা কাছাকাছি ডিভাইস শনাক্ত করার ক্ষেত্রে এই ফিচারগুলো কাজে লাগে। তবে সবসময় এ ফিচার চালু রাখার প্রয়োজন নাও হতে পারে। বন্ধ করতে Settings > Location > Location Services-এ গিয়ে Wi-Fi scanning এবং Bluetooth scanning বন্ধ করা যায়। এতে অপ্রয়োজনীয় ব্যাকগ্রাউন্ড স্ক্যানিং কিছুটা কমতে পারে। ৩.কম ব্যবহৃত অ্যাপের ব্যাকগ্রাউন্ড ডেটা বন্ধ করুন কোনো অ্যাপ ব্যবহার না করলেও সেটি ব্যাকগ্রাউন্ডে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারে। বিশেষ করে কম ব্যবহৃত শপিং, গেম বা বিনোদনের অ্যাপের ক্ষেত্রে এ ধরনের ডেটা ব্যবহার অনেক সময় প্রয়োজনীয় নয়। নির্দিষ্ট কোনো অ্যাপের ব্যাকগ্রাউন্ড ডেটা বন্ধ করতে Settings > Apps > সংশ্লিষ্ট অ্যাপ > Mobile data usage-এ গিয়ে Background data বন্ধ করুন। এতে অ্যাপটি ব্যাকগ্রাউন্ডে মোবাইল ডেটা ব্যবহার করতে পারবে না। ৪. অ্যাপের অপ্রয়োজনীয় পারমিশন বন্ধ করুন অনেক অ্যাপ ব্যবহারের সময় লোকেশন, ক্যামেরা, মাইক্রোফোন বা কনট্যাক্টসের মতো বিভিন্ন অনুমতি চায়। তবে সব অ্যাপের জন্য এসব অনুমতি প্রয়োজনীয় নয়। তাই কোনো অ্যাপের কাজে লাগে না—এমন পারমিশন বন্ধ করে রাখা ভালো। এ জন্য Settings > Privacy > Permission Manager-এ গিয়ে প্রয়োজনীয় বিভাগ নির্বাচন করতে হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট অ্যাপ বেছে নিয়ে Don’t allow নির্বাচন করা যাবে। ৫. ‘Mobile data always active’ বন্ধ করুন অ্যান্ড্রয়েডের Developer options-এ থাকা Mobile data always active ফিচারটি Wi-Fi ব্যবহার করার সময়ও মোবাইল ডেটা সক্রিয় রাখে। এর ফেলে যাতে প্রয়োজন হলে দ্রুত নেটওয়ার্ক পরিবর্তন করা যায়। তবে সাধারণ ব্যবহারে এই সুবিধা সবার প্রয়োজন নাও হতে পারে। ফিচারটি বন্ধ করতে প্রথমে Settings > About phone > Build number-এ পরপর সাতবার ট্যাপ করে Developer options চালু করতে হবে। এরপর Settings > System > Developer options-এ গিয়ে Mobile data always active বন্ধ করা যাবে। তবে স্মার্টফোনের ব্র্যান্ড ও অ্যান্ড্রয়েড সংস্করণভেদে এসব সেটিংসের নাম বা অবস্থান কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। কোনো ফিচার বন্ধ করার আগে সেটি নিজের ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় কি না, তা নিশ্চিত হয়ে নেওয়া ভালো।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি তথ্য যাচাই না করে আদালতে জমা দেওয়ার খেসারত দিতে হলো যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকোর এক আইনজীবীকে। হত্যার মামলায় আপিলের শুনানির জন্য তৈরি করা নথিতে চ্যাটজিপিটির বানানো সাক্ষী ও পুলিশের মিথ্যা সাক্ষ্য ব্যবহারের ঘটনায় আইনজীবী স্টিফেন অ্যারনসকে ৫ হাজার ডলার জরিমানা এবং আদালত অবমাননার দায়ে দোষী করেছে নিউ মেক্সিকো সুপ্রিম কোর্ট। পাশাপাশি তাকে আইনজীবীদের শৃঙ্খলাবিষয়ক বোর্ডের তদন্তের জন্য পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। ঘটনার সূত্রপাত ২০২৫ সালের মার্চে। মার্কিন নাগরিক অস্কার রেনে স্যান্ডোভাল তার সন্তানদের মাকে হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করলেও পরে দোষী সাব্যস্ত হয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পান। সেই হত্যা মামলার আপিলের দায়িত্ব নেওয়ার পর আইনজীবী অ্যারনস প্রথমে রিভডটকম ব্যবহার করে মামলার শুনানির অডিও থেকে এআই-নির্ভর প্রতিলিপি তৈরি করেন। এরপর সেই প্রতিলিপি, মামলার নথি ও আপিল-সংক্রান্ত অন্যান্য তথ্য চ্যাটজিপিটিতে দেন। তার ধারণা ছিল, এআই এসব তথ্য থেকে একটি নির্ভুল সারসংক্ষেপ তৈরি করতে পারবে। কিন্তু পরবর্তীতে দেখা যায়, এই জেনারেটেড নথিতে ভুল তথ্যের পাশাপাশি সম্পূর্ণ কাল্পনিক সাক্ষী ও পুলিশের বক্তব্য যুক্ত করা হয়। আদালতের নথিতে এমন কাল্পনিক বক্তব্যও ছিল, যেখানে কথিতভাবে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে গাঢ় রঙের প্যান্ট ও সাদা শার্ট পরা অবস্থায় দেখানো হয়। চলতি বছরের ২১ আগস্টের শুনানিতে অ্যারনস জানান, চ্যাটজিপিটি যে এভাবে বানোয়াট তথ্য তৈরি করতে পারে, সে বিষয়ে তিনি অবগত ছিলেন না। এবিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি অনুতপ্ত, তবে আশা করি শৃঙ্খলাবিষয়ক বোর্ড এটিকে সৎ ভুল (অনেস্ট মিসটেক) হিসেবেই বিবেচনা করবে।’ তবে বিচারপতি সি শ্যানন বেকন তার ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হননি। মামলার শুনানিতে বিচারপতি বেকন বলেন, এআইয়ের ‘হ্যালুসিনেশন’ নিয়ে আইনজীবীদের সতর্কতার বিষয়টি এখন খবরের পাতায় নিত্যদিনের শিরোনাম হয়ে উঠেছে। তার ভাষ্য, এ ধরনের ঝুঁকি সম্পর্কে ছোট শিশু থেকে শুরু করে বয়োজ্যেষ্ঠরাও অবগত। এবিষয়ে আদালত স্পষ্ট করে জানায়, আইনজীবী নিজে নথিতে স্বাক্ষর করলে সেটির তথ্য যাচাইয়ের দায়িত্বও তারই। ঘটনার পর অ্যারনসকে নিউ মেক্সিকো সুপ্রিম কোর্টে মামলায় আইনজীবী হিসেবে উপস্থিত হওয়া থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। আদালত তাঁকে অবমাননার দায়ে ৫ হাজার ডলার জরিমানা করেছে এবং এই অর্থ স্টেট বার অব নিউ মেক্সিকোর ক্লায়েন্ট প্রোটেকশন ফান্ডে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি তার জমা দেওয়া আগের সব আপিল নথি বাতিল করে নতুন আইনজীবী নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়। গত ২ সেপ্টেম্বর মামলাটির দায়িত্ব পাবলিক ডিফেন্ডার কিম শ্যাভেজ কুকের কাছে দেওয়া হয়। ফলে নতুন আইনজীবীর মাধ্যমে আপিলের কার্যক্রম আবার শুরু হবে বলে জানানো হয়েছে।
দৈনিক আমার দেশ পত্রিকায় গত ৮ সেপ্টেম্বর ‘রাষ্ট্রীয় সংস্থার আইটি সেবায় এখনো জয়ের বন্ধুর কোম্পানি’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে দেশীয় তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ডিভাইন আইটি লিমিটেড এবং প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইকবাল আহমেদ ফখরুল হাসানকে ঘিরে রাজনৈতিক যোগাযোগ এবং বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের আইটি প্রকল্পে কাজ পাওয়ার বিষয়ে অভিযোগ ও তথ্য তুলে ধরা হয়। প্রকাশিত প্রতিবেদনের পর ডিভাইন আইটি কর্তৃপক্ষ এর প্রতিবাদ জানিয়ে একটি লিখিত বক্তব্য প্রকাশ করে। সেখানে প্রতিবেদনে উল্লিখিত কয়েকটি তথ্য ও অভিযোগের ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোকে ভুল ও বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করা হয়েছে। খবর৭১-এর পাঠকদের জন্য মূল প্রতিবেদনের দাবি এবং ডিভাইন আইটির বক্তব্যের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো এখানে পৃথকভাবে তুলে ধরা হলো। মূল প্রতিবেদনে যে অভিযোগ ও তথ্য তুলে ধরা হয়েছে দৈনিক আমার দেশের প্রতিবেদনে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি (বিএমটিএফ)-এর মতো প্রতিষ্ঠানে ডিভাইন আইটির আইটি সেবা দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে ও সাবেক তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলকের সঙ্গে ব্যবসায়িক ও রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতার মাধ্যমে সরকারি বিভিন্ন প্রকল্প পাওয়া হয়েছে। এছাড়া ‘আমরা প্রবাসী’ প্রকল্প, জাতীয় ডিজিটাল নিরাপত্তা সংস্থা এবং বিএমটিএফ-এ ডিভাইন আইটির কাজ বা সেবা প্রদানের বিষয়ও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। ডিভাইন আইটির বক্তব্য প্রকাশিত প্রতিবেদনের প্রতিবাদ জানিয়ে ডিভাইন আইটির সিইও ইকবাল আহমেদ ফখরুল হাসান দাবি করেন, প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠান ও তার ব্যক্তিগত সম্পর্ক সম্পর্কে বেশ কিছু তথ্য সঠিকভাবে উপস্থাপন করা হয়নি। প্রতিষ্ঠানের প্রতিবাদলিপিতে প্রধানত যেসব বিষয় বলা হয়েছে: - রাজনৈতিক যোগাযোগের দাবি: সজীব ওয়াজেদ জয় বা সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলকের সঙ্গে তার কোনো ব্যক্তিগত, ব্যবসায়িক বা রাজনৈতিক সম্পর্ক ছিল না বলে দাবি করেছেন ইকবাল আহমেদ ফখরুল হাসান। - ‘আমরা প্রবাসী’ প্রকল্প: ডিভাইন আইটির দাবি, ‘আমরা প্রবাসী’ প্রকল্পের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা ছিল না। - বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট সংস্থা: প্রতিবেদনে উল্লিখিত বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকল্প এবং জাতীয় ডিজিটাল নিরাপত্তা সংস্থাকে ডিভাইন আইটি তাদের গ্রাহক তালিকার অংশ নয় বলে দাবি করেছে। - বিএমটিএফের ERP সেবা: বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরিতে ডিভাইন আইটি ERP সেবা দিয়েছে—প্রতিবেদনের এই তথ্যও প্রতিষ্ঠানটি অস্বীকার করেছে। - আইনি ও দরপত্র প্রক্রিয়া: ডিভাইন আইটির বক্তব্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি সরকারি ও বেসরকারি প্রকল্পে প্রচলিত আইন, নিয়ম এবং দরপত্র প্রক্রিয়া অনুসরণ করে কাজ করেছে। তথ্য যাচাইয়ের গুরুত্ব এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে কোনো পক্ষের বক্তব্যকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে বিবেচনা না করে সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি, টেন্ডার ডকুমেন্ট, চুক্তিপত্র, প্রকল্পের কার্যাদেশ এবং অন্যান্য যাচাইযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে বিষয়গুলো মূল্যায়ন করা গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রভাব, অনিয়ম বা বিশেষ সুবিধা নেওয়ার মতো অভিযোগ প্রকাশিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য প্রকাশের সুযোগ দেওয়াও সাংবাদিকতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ডিভাইন আইটির পক্ষ থেকে প্রতিবেদনের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অস্বীকার করা হয়েছে। ফলে এসব দাবির চূড়ান্ত সত্যতা নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি ও স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য তথ্য পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। খবর৭১-এর পর্যবেক্ষণ ডিভাইন আইটি লিমিটেড দীর্ঘদিন ধরে দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। প্রতিষ্ঠানটির সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রকল্পে কাজের ইতিহাস রয়েছে বলে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে। তবে কোনো প্রতিষ্ঠানের পূর্ববর্তী কাজের অভিজ্ঞতা যেমন তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সত্য বা মিথ্যা প্রমাণ করে না, তেমনি রাজনৈতিক যোগাযোগের অভিযোগও কেবল সম্পর্কের দাবি বা অনুমানের ভিত্তিতে চূড়ান্তভাবে প্রতিষ্ঠিত করা যায় না। সাংবাদিকতার দৃষ্টিকোণ থেকে এ ধরনের বিষয়ে অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য এবং যাচাইযোগ্য দাপ্তরিক তথ্য—এই তিনটি বিষয় পৃথকভাবে উপস্থাপন করাই অধিকতর বস্তুনিষ্ঠ পদ্ধতি। ডিভাইন আইটির প্রতিবাদে প্রতিবেদনে উল্লিখিত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরাসরি অস্বীকার করা হয়েছে। এসব দাবির সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি ও স্বাধীন যাচাইয়ের সুযোগ রয়েছে কি না, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। খবর৭১ মনে করে, দেশীয় তথ্যপ্রযুক্তি খাতের যেকোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিকে ঘিরে অভিযোগের ক্ষেত্রে তথ্যের যথাযথ যাচাই, সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য এবং প্রমাণভিত্তিক সাংবাদিকতা নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে অনিয়মের অভিযোগ থাকলে তা যথাযথ তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অনুসন্ধান ও প্রকাশ করাও গণমাধ্যমের দায়িত্ব
তথ্যপ্রযুক্তি (আইসিটি) খাতের পেশাজীবী সাংবাদিকদের নিবন্ধিত সংগঠন বাংলাদেশ আইসিটি জার্নালিস্ট ফোরাম (বিআইজেএফ) বার্ষিক সাধারণ সভা করেছে। টানা চার ঘণ্টাব্যাপী সদস্যদের স্বতঃস্ফূর্ত মত প্রকাশের মধ্য দিয়ে সভা শেষ হয়। সভাপতি হিটলার এ হালিমের সভাপতিত্বে রাজধানীর ধানমন্ডিতে অবস্থিত বিসিএস অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত বার্ষিক সাধারণ সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের সহসভাপতি ভূঁইয়া মোহাম্মাদ ইনাম লেনিন। বার্ষিক সব কার্যক্রম নিয়ে প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন সাধারণ সম্পাদক সাব্বিন হাসান। নির্বাহী কমিটির নিয়মিত মাসিক সভা, বৈঠকের সিদ্ধান্ত নথিভুক্ত, সাংগঠনিক কার্যক্রমকে অংশগ্রহণমূলক করা ছাড়াও সদস্যদের দক্ষতা উন্নয়নে নেওয়া প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করেন তিনি। সাধারণ সম্পাদক সাব্বিন হাসান বলেন, বর্তমান কমিটি প্রায় শতভাগ সদস্যের ভোটে নির্বাচিত। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে প্রায় নিয়মিত সব ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের কারণে সারাদেশের সার্বিক পরিস্থিতি কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে গেছে। আইসিটি ঘরানার সব সংগঠন এখনও স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরতে পারেনি। বিআইজেএফ-ও এ সংকটের বাইরে নয়। সীমাবদ্ধতার মধ্যে থেকেও সর্বোত্তম চেষ্টা ছিল কার্যক্রম এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার। কমিটিতে নবীন-প্রবীণ মিলিয়ে ছয়জন ছিল নতুন মুখ। নিজেদের প্রথম লক্ষ্য ছিল কোষাধ্যক্ষের পদকে সক্রিয়, কার্যকর ও দৃশ্যমান করা। এতে সাধারণ সদস্যদের কাছে আর্থিক স্বচ্ছতার বিষয়টি সুস্পষ্ট হয়। সদস্যদের দক্ষতা উন্নয়নসহ ইন্ডাস্ট্রিতে সংগঠনের ইনক্লুশনে বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটি কাজ করছে। বিধি অনুযায়ী, জুলাই ২০২৪ থেকে জুন ২০২৫ সময়ের অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন কোষাধ্যক্ষ সাইফুল ইসলাম। আর্থিক প্রতিবেদনে উপস্থাপনে তিনি বলেন, হিসাব-নিকাশে যথাসাধ্য স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয়েছে। বর্তমান কমিটি আর্থিক লেনদেনের বেশিরভাগ ব্যাংকের মাধ্যমে সম্পাদন করেছে। সব ধরনের হিসাব-নিকাশ যথাযথ প্রক্রিয়ায় লিপিবদ্ধ। আর্থিক লেনদেন সমর্থিক জরুরি কাগজপত্র ও প্রমাণাদি সংরক্ষণ করা হয়েছে। আর্থিক প্রতিবেদনের ওপর আলোচনা শেষে নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন সর্বসম্মতিক্রমে উপস্থিত সদস্যরা অনুমোদন করেন। বিদ্যমান নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান এনকে রয় অ্যান্ড কোং দিয়ে পরের আর্থিক হিসাব নিরীক্ষার দায়িত্ব দেওয়া হয়। সভায় দুই তৃতীয়াংশের বেশি সদস্যদের উপস্থিতিতে কণ্ঠভোটে উপস্থাপিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদিত হয়। সভাপতি হিটলার এ হালিম বলেন, বর্তমান নির্বাহী কমিটি সাংগঠনিক সব কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করেছে। সদস্যদের মত প্রকাশ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে গ্রুপে সমালোচনার সুযোগ ছিল উন্মুক্ত। চলতি কমিটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নির্বাচন ও নিয়মিত আয়োজন সম্পন্ন করতে সচেষ্ট। বিআইজেএফকে সাংগঠনিকভাবে সংগঠিত ও সুদৃঢ় করতে ধারাবাহিক সব কাজ করেছে ইসি। ভবিষ্যতে নির্বাহী কমিটিতে যারা আসবেন, তারা যেন এমনই ধারাবাহিকতা রাখতে পারেন সেই প্রত্যাশাই করছি। সদস্যের অধিকাংশই স্বতঃস্ফূর্তভাবে বার্ষিক সাধারণ সভায় তাদের মতামত, পরামর্শ ও প্রত্যাশার ব্যক্ত করেন। সদস্যরা যথাযথ আর্থিক প্রতিবেদন, জবাবদিহিতা ও অংশগ্রহণমূলক কার্যক্রমের জন্য নির্বাহী কমিটিকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। সদস্যদের প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশগ্রহণ করেন সভাপতি, সহসভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। বিবিধ আলোচ্যসূচিতে সংগঠনকে ক্রিয়াশীল, সমৃদ্ধ ও ইন্ডাস্ট্রিবান্ধব করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন সদস্যরা। সংগঠনের স্বার্থ সংক্রান্ত বিষয়ে উন্মুক্ত আলোচনা হয়। সভায় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম তুষার, প্রকাশনা ও গবেষণা সম্পাদক মো. মাহবুবুর রহমান, কার্যনির্বাহী সদস্য মো. এনামুল করিম অংশ নেন। বিআইজেএফের এজিএমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার বার্তা তথ্যপ্রযুক্তি (আইসিটি) খাতের পেশাজীবী সাংবাদিকদের সংগঠন বাংলাদেশ আইসিটি জার্নালিস্ট ফোরাম (বিআইজেএফ) বার্ষিক সাধারণ সভা করেছে। রাজধানীর ধানমন্ডিতে বিসিএস অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত সভায় সদস্যদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে প্রায় চার ঘণ্টা আলোচনা হয়। বিআইজেএফের সভাপতি হিটলার এ হালিমের সভাপতিত্বে সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের সহসভাপতি ভূঁইয়া মোহাম্মাদ ইনাম লেনিন। সভায় ২০২৪-২৫ মেয়াদের সাংগঠনিক কার্যক্রমের প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন সাধারণ সম্পাদক সাব্বিন হাসান। তিনি বলেন, ‘নির্বাহী কমিটির নিয়মিত সভা, সিদ্ধান্ত নথিভুক্তকরণ, সদস্যদের অংশগ্রহণমূলক কার্যক্রম এবং দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ আয়োজন করা হয়েছে।’ সাব্বিন হাসান বলেন, ‘বর্তমান কমিটি প্রায় শতভাগ সদস্যের ভোটে নির্বাচিত হয়েছে। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনার চেষ্টা করা হয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিভিন্ন সংগঠনের মতো বিআইজেএফও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। সীমাবদ্ধতার মধ্যেও সংগঠনের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান কমিটির অন্যতম লক্ষ্য ছিল কোষাধ্যক্ষের দপ্তরকে সক্রিয় ও কার্যকর করা, যাতে সদস্যদের কাছে আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা যায়। পাশাপাশি সদস্যদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং আইসিটি শিল্পে সংগঠনের সম্পৃক্ততা বাড়াতেও কাজ করা হয়েছে।’ সভায় জুলাই ২০২৪ থেকে জুন ২০২৫ অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন কোষাধ্যক্ষ সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে অধিকাংশ লেনদেন ব্যাংকের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়েছে। সব হিসাব যথাযথভাবে নথিভুক্ত এবং আর্থিক লেনদেনের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংরক্ষণ করা হয়েছে। আলোচনা শেষে উপস্থিত সদস্যরা সর্বসম্মতিক্রমে নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদন করেন। পরবর্তী অর্থবছরের হিসাব নিরীক্ষার দায়িত্বও এনকে রয় অ্যান্ড কোংকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। সভাপতি হিটলার এ হালিম বলেন, ‘সাংগঠনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে বর্তমান নির্বাহী কমিটি কাজ করেছে। সদস্যদের মতামত ও সমালোচনার সুযোগ উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনসহ সংগঠনের নিয়মিত কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।’ সভায় সদস্যরা সংগঠনের কার্যক্রম, আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির প্রশংসা করেন। প্রশ্নোত্তর পর্বে সভাপতি, সহসভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সদস্যদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। পাশাপাশি সংগঠনকে আরও সক্রিয়, সমৃদ্ধ ও আইসিটি শিল্পবান্ধব করার বিষয়ে মতামত ও পরামর্শ দেন সদস্যরা। সভায় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম তুষার, প্রকাশনা ও গবেষণা সম্পাদক মো. মাহবুবুর রহমান এবং কার্যনির্বাহী সদস্য মো. এনামুল করিম উপস্থিত ছিলেন।
গ্রামীণফোনের বিনা মূল্যের অনলাইন লার্নিং প্ল্যাটফর্ম ‘গ্রামীণফোন একাডেমি’ ৪ লাখ নিবন্ধনের মাইলফলক অর্জন করেছে। প্ল্যাটফর্মটিতে থাকা বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের মধ্যে চাহিদার শীর্ষে রয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর (এআই) বিভিন্ন কোর্স। গত আট মাসে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ৪০ হাজার তরুণ-তরুণী বিভিন্ন এআই কোর্সে অংশ নিয়েছেন। আজ সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে গ্রামীণফোন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গ্রামীণফোন একাডেমি এমন সময় এই মাইলফলক অর্জন করেছে, যখন এআই ও অন্যান্য প্রযুক্তি মানুষের শেখা, কাজের ধরন ও ক্যারিয়ার গঠনের পদ্ধতি বদলে দিচ্ছে। একই সঙ্গে কর্মসংস্থান ও কর্মক্ষেত্রে উৎপাদনশীলতা বাড়াতে ডিজিটাল দক্ষতার গুরুত্বও ক্রমশ বাড়ছে। এই বাস্তবতায় তরুণদের ভবিষ্যতের এআইনির্ভর অর্থনীতির জন্য প্রস্তুত করতে বিভিন্ন ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জনের সুযোগ আরও বিস্তৃত করছে গ্রামীণফোন একাডেমি। গ্রামীণফোন একাডেমির এআই প্রোগ্রামে প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিং, এআই এজেন্টস, ক্রিয়েটিভ ইন্টেলিজেন্স, ওয়ার্কফ্লো অটোমেশন, এআইয়ের সহায়তায় পোর্টফোলিও তৈরি, কোডিং ছাড়াই অ্যাপ নির্মাণ, এআইনির্ভর ইউজার এক্সপেরিয়েন্স (ইউএক্স) এবং মেশিন লার্নিংয়ের মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ইতোমধ্যে গ্রামীণফোন একাডেমির বিভিন্ন কোর্স সফলভাবে সম্পন্ন করে সনদ অর্জন করেছেন ৫০ হাজার শিক্ষার্থী। শুধু শ্রেণিকক্ষের জ্ঞান অর্জন নয়, নতুন দক্ষতাকে বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করে সম্ভাবনার নতুন দ্বার উন্মোচনেও শিক্ষার্থীদের সহায়তা করছে এই প্ল্যাটফর্ম। গ্রামীণফোনের হেড অব এনভায়রনমেন্টাল, সোশ্যাল অ্যান্ড গভর্ন্যান্স (ইএসজি) ফারহানা ইসলাম বলেন, ‘প্রতিবছর প্রায় ২২ লাখ মানুষ বাংলাদেশের কর্মসংস্থান বাজারে প্রবেশ করছেন, যেখানে দেশের মোট বেকার জনসংখ্যার ৭৮ দশমিক ৯ শতাংশই তরুণ। একই সঙ্গে প্রযুক্তির দ্রুত রূপান্তর কর্মক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় দক্ষতার ধরনেও বড় পরিবর্তন নিয়ে আসছে। তাই পরিবর্তনশীল ডিজিটাল অর্থনীতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে তরুণদের জন্য সময়োপযোগী ও সহজলভ্য শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গ্রামীণফোন একাডেমিতে ৪ লাখ নিবন্ধনের এই মাইলফলক এবং আমাদের এআই কোর্সগুলোতে তরুণদের ব্যাপক অংশগ্রহণ প্রমাণ করে, এই পরিবর্তনের যুগে শেখার ও নিজেদের গড়ে তোলার জন্য তরুণরা কতটা আগ্রহী। গ্রামীণফোন একাডেমির মাধ্যমে আমরা শেখার এই আগ্রহকে এমন দক্ষতায় রূপান্তর করতে চাই, যা ভবিষ্যতে তাদের জন্য নতুন ও অর্থবহ সুযোগ তৈরি করবে।’ গ্রামীণফোন একাডেমি তরুণদের জন্য ডিজিটাল, পেশাগত ও উদীয়মান প্রযুক্তির দক্ষতা অর্জনে সহজ সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে, যেখানে এআই ও ভবিষ্যৎ কর্মবাজারের উপযোগী সক্ষমতা তৈরির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তরুণদের কর্মসংস্থান উপযোগী করে তোলার পাশাপাশি বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতিতে তাঁদের আরও কার্যকর ও সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই গ্রামীণফোনের লক্ষ্য। গ্রামীণফোন একাডেমির ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে বিভিন্ন কোর্সে নিবন্ধন করা যাবে।
চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত বাংলাদেশে প্রায় ১৯১ মিলিয়ন বা ১৯ কোটি ১০ লাখ মোবাইল সংযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর রেডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন হোটেলের গ্র্যান্ড বলরুমে এশিয়া-প্যাসিফিক টেলিকমিউনিটি (এপিটি) ওয়্যারলেস গ্রুপের ৩৭তম সভার (এডব্লিউজি-৩৭) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় শুধু সংযোগ বাড়ানো নয়, গুণগত মান, সাশ্রয়ী মূল্য, নির্ভরযোগ্যতা ও অর্থবহ কানেক্টিভিটি নিশ্চিত করাই বাংলাদেশের প্রধান লক্ষ্য বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী। মন্ত্রী বলেন, ‘২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত বাংলাদেশে প্রায় ১৯১ মিলিয়ন (১৯ কোটি ১০ লাখ) মোবাইল সাবস্ক্রিপশন রয়েছে যার মধ্যে ১০৮ মিলিয়নের (১০ কোটি ৮০ লাখ) বেশি গ্রাহক ফোরজি সেবা ব্যবহার করছেন। তিনি জানান, দেশে ৪৯ হাজারের বেশি ফোরজি সাইট, প্রায় ৪৬ হাজার টাওয়ার এবং এক লাখ ৭৩ হাজার কিলোমিটার ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্ক রয়েছে।’ ফকির মাহবুব আনাম বলেন, ‘তাই এখন শুধু সংযোগ বাড়ানো নয়, গুণগত মান, সাশ্রয়ী মূল্য, নির্ভরযোগ্যতা ও অর্থবহ কানেক্টিভিটি নিশ্চিত করাই প্রধান লক্ষ্য। একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সাইবার নিরাপত্তা, সফটওয়্যার, হার্ডওয়্যার ও ফাইভজিসহ ভবিষ্যৎ প্রযুক্তিতেও বাংলাদেশের সক্ষমতা বাড়াতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘সরকার দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট সংযোগ সম্প্রসারণ, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ডিজিটাল অবকাঠামো শক্তিশালী করা, সুস্থ প্রতিযোগিতা নিশ্চিত ও টেলিযোগাযোগ সেবা আরও সাশ্রয়ী করার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, সফটওয়্যার, হার্ডওয়্যার এবং প্রযুক্তিনির্ভর অন্যান্য শিল্পে ডিজিটাল সক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমে বৈশ্বিক ডিজিটাল অর্থনীতিতে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করার লক্ষ্য রয়েছে।’ বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে এপিটির মহাসচিব ড. মাসানোরি কোন্দো এবং এপিটির ওয়্যারলেস গ্রুপের সভাপতি ড. দাইজুং কিম, এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের এবং টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থার উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি ও বিশেষজ্ঞসহ ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব বিলকিস জাহান রিমি, বিটিআরসির ভাইস চেয়ারম্যান, কমিশনারবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
বড় ধরনের কারিগরি বিভ্রাটের কারণে চ্যাটজিপিটি ব্যবহারে সমস্যা দেখা দিয়েছে। ওপেনএআইয়ের এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চ্যাটবটের ওয়েবসাইটে ঢুকতে গিয়ে অনেক ব্যবহারকারী নানা ধরনের অস্বাভাবিক আচরণের মুখোমুখি হচ্ছেন। কারও কারও ক্ষেত্রে ওয়েবসাইট থেকে একটি অচেনা ফাইল ডাউনলোডের চেষ্টাও দেখা গেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় রাত ৯টার দিকে এ সমস্যা দেখা দেয়। তবে (বৃহস্পতিবার রাত ১০টা) এ সমস্যা ঠিক হয়েছে। চ্যাটজিপিটি ব্যবহারে সমস্যা নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেই সংবাদ হয়েছে। ডাউনডডিটেকটরের ওয়েবসাইট চ্যাটজিপিটি বিভ্রাট নিয়ে অনেক অভিযোগও জমা পড়েছে। চ্যাটজিপিটি কাজ না করায় অনেক ব্যবহারকারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মজা করে বলেছেন, এবার কাজে নিজেদের মেধাই ব্যবহার করতে হবে। তবে এই বিভ্রাটের প্রভাব শুধু চ্যাটজিপিটিতেই সীমাবদ্ধ নয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বিভিন্ন সুবিধার জন্য ওপেনএআইয়ের প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল বেশ কিছু ওয়েবসাইট ও অ্যাপেও সমস্যা দেখা দিয়েছে। এদিকে চ্যাটজিপিটির পাশাপাশি প্রতিদ্বন্দ্বী কয়েকটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সেবায়ও সমস্যার কথা জানিয়েছেন কিছু ব্যবহারকারী। অ্যানথ্রপিকের ক্লড এবং এক্সের গ্রক ব্যবহারের ক্ষেত্রেও এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে এসব সেবায় সমস্যার ব্যাপকতা তুলনামূলকভাবে কম ছিল। অনেক ব্যবহারকারী স্বাভাবিকভাবে সেবাগুলো ব্যবহার করতে পেরেছেন। বন্ধ হওয়ার বিষয়ে চ্যাটজিপিটিকের প্রশ্ন করলে উত্তর আসে এমন, ‘...তবে আজকের ঘটনাটা শুধু চ্যাটজিপিটিতেই সীমাবদ্ধ ছিল না-ক্লড ও গ্রকও একই সময়ে সমস্যায় পড়েছিল, আর কিছু অঞ্চলে জেমিনাইতের সমস্যা দেখা যায়। আর মজার ব্যাপার হলো, ৩ সেপ্টেম্বরের আগেও কয়েক দিনের মধ্যে চ্যাটিজিপিটিতে একাধিক ছোটখাটো ইনসিডেন্ট হয়েছিল—যেমন ৩১ আগস্ট ওয়ার্ক মোডে ল্যাটেন্সি/এরর এবং ১ সেপ্টেম্বর ফ্রি/গো ব্যবহারকারীদের কথোপকথনে এলিভেটেড এররস হয়েছিল। তাই আপনি যদি আজ আমাকে কিছুক্ষণ আগে না পেয়ে থাকেন, সম্ভবত আপনার দোষ ছিল না।’ সূত্র: ইনডিপেনডেন্ট ডটকো ডটইউকে, ডাউনডডিটেক্টর, হিন্দুস্তান টাইমস
কম্পিউটারের জগতে নতুন এক প্রযুক্তি নিয়ে পরীক্ষা চালাচ্ছে সিঙ্গাপুর। প্রচলিত সিলিকন চিপের পাশাপাশি এবার কম্পিউটিংয়ের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে ল্যাবে তৈরি জীবন্ত মানব নিউরন। লক্ষ্য হলো কম শক্তি ব্যবহার করে আরও দক্ষ ও অভিযোজনক্ষম কম্পিউটিং ব্যবস্থা তৈরি করা।সম্প্রতি ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদন এ তথ্য জানায়। সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (NUS) ইয়ং লু লিন স্কুল অব মেডিসিন, ডেটা সেন্টার প্রতিষ্ঠান ডেওয়ান এবং অস্ট্রেলিয়ার বায়োলজিক্যাল কম্পিউটিং কোম্পানি কর্টিক্যাল ল্যাবস যৌথভাবে এই প্রকল্পে কাজ করছে। তাদের তৈরি প্রোটোটাইপে একটি সার্ভার র্যাকে ২০টি CL1 বায়োলজিক্যাল কম্পিউটিং ইউনিট রয়েছে। প্রতিটি ইউনিটে ল্যাবে তৈরি মানব নিউরন সিলিকন প্ল্যাটফর্মের ওপর স্থাপন করা হয়েছে। ক্ষুদ্র ইলেকট্রোডের মাধ্যমে এসব নিউরনের কাছে বৈদ্যুতিক সংকেত পাঠানো হয় এবং নিউরন থেকে ফিরে আসা সংকেত কম্পিউটার বিশ্লেষণ করে। এভাবে জীবন্ত কোষও তথ্য প্রক্রিয়াকরণের অংশ হয়ে ওঠে। পুরো ২০ ইউনিটে প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ নিউরন রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রচলিত কম্পিউটারে তথ্য প্রক্রিয়াকরণ হয় সিলিকন চিপের ইলেকট্রনিক সার্কিট ও ট্রানজিস্টরের মাধ্যমে। নতুন ব্যবস্থায় জীবন্ত নিউরন বৈদ্যুতিক সংকেত গ্রহণ করে, প্রতিক্রিয়া জানায় এবং সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে। এ কারণেই প্রযুক্তিটিকে বায়োলজিক্যাল কম্পিউটিং বলা হচ্ছে। এই প্রযুক্তির অন্যতম লক্ষ্য বিদ্যুৎ সাশ্রয়। মানুষের মস্তিষ্ক খুব কম শক্তি ব্যবহার করে বিপুল তথ্য প্রক্রিয়া করতে পারে। গবেষকেরা দেখতে চাইছেন, নিউরনের এই বৈশিষ্ট্য কম্পিউটিংয়েও কাজে লাগানো যায় কি না। ভবিষ্যতে রোবট, সাইবার নিরাপত্তা, প্রতারণা শনাক্তকরণ, ওষুধ আবিষ্কার এবং স্নায়ুরোগ নিয়ে গবেষণায় এর ব্যবহার হতে পারে। তবে এটি পুরোপুরি সিলিকনবিহীন কম্পিউটার নয়। জীবন্ত নিউরনগুলোকে সিলিকন হার্ডওয়্যারের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি কোষগুলোকে জীবিত রাখতে বিশেষ পরিবেশ, পুষ্টি ও গ্যাস সরবরাহের প্রয়োজন হয়। সিঙ্গাপুরের এই প্রকল্প তাই প্রচলিত কম্পিউটারের বিকল্প হিসেবে নয়, বরং ভবিষ্যতের কম শক্তি-নির্ভর কম্পিউটিংয়ের সম্ভাবনা যাচাইয়ের একটি পরীক্ষামূলক উদ্যোগ। গবেষকেরা মনে করছেন, এই প্রযুক্তি সফল হলে ভবিষ্যতে কম্পিউটিংয়ের ধারণাই বদলে যেতে পারে। সিলিকন চিপের পাশাপাশি জীবন্ত কোষও তখন কম্পিউটারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠতে পারে।
ব্যবসায়িক কাজ, দ্রুত যাতায়াত, পর্যটন কিংবা ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য হেলিকপ্টার কেনার আগ্রহ রয়েছে অনেকের। তবে ব্যক্তিগত হেলিকপ্টার কেনা শুধু বড় অঙ্কের অর্থ খরচের বিষয় নয়; এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে জ্বালানি, রক্ষণাবেক্ষণ, পাইলট, বিমা, হ্যাঙ্গার, প্রশিক্ষণ এবং পরিচালনসংক্রান্ত নানা ব্যয়। হেলিকপ্টারের দামও একেক মডেলে একেক রকম। আসনসংখ্যা, ইঞ্জিনের ধরন, উড্ডয়ন সক্ষমতা, রেঞ্জ, অ্যাভিওনিকস এবং অতিরিক্ত সরঞ্জামের ওপর নির্ভর করে দাম কয়েক লাখ ডলার থেকে কয়েক মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত হতে পারে। ব্যক্তিগত ব্যবহারে বহুল পরিচিত হেলিকপ্টারগুলোর একটি হলো Robinson R22। এটি তুলনামূলক ছোট ও হালকা হেলিকপ্টার এবং প্রশিক্ষণ ও ব্যক্তিগত ব্যবহারে জনপ্রিয়। এতে চার সিলিন্ডারের Lycoming O-360 পিস্টন ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়। এর চেয়ে বড় Robinson R44 সিরিজে চারজন পর্যন্ত যাত্রী বহনের সুবিধা রয়েছে। R44 Raven II মডেলে Lycoming IO-540 ফুয়েল-ইনজেক্টেড ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয় এবং নির্মাতা এটিকে বহুমুখী ব্যবহারের জন্য তৈরি করেছে। অন্যদিকে আরও বড় ও শক্তিশালী R66 সিরিজে টারবাইন ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়। ফলে ব্যক্তিগত হেলিকপ্টার কেনার ক্ষেত্রে ‘একটি নির্দিষ্ট দাম’ বলা সম্ভব নয়; মডেল ও কনফিগারেশনের ওপর মোট দাম ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হয়। আরও বড় শ্রেণির হেলিকপ্টারের দাম কয়েক মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত যেতে পারে। যেমন Robinson-এর নতুন R88 মডেলের ঘোষিত প্রারম্ভিক মূল্য ৩৩ লাখ ডলার। হেলিকপ্টারের জ্বালানি খরচ নিয়ে প্রচলিত একটি ভুল ধারণা হলো—সব ব্যক্তিগত হেলিকপ্টারে ঘণ্টায় শত শত লিটার জ্বালানি লাগে। বাস্তবে খরচ মডেলভেদে অনেকটাই আলাদা। হেলিকপ্টারের ইঞ্জিনের ধরন, উড্ডয়নের ওজন, গতি, উচ্চতা, আবহাওয়া এবং ব্যবহারের ধরন অনুযায়ী জ্বালানি খরচ পরিবর্তিত হয়। পিস্টন-ইঞ্জিনের ছোট হেলিকপ্টার সাধারণত বড় টারবাইন হেলিকপ্টারের তুলনায় কম জ্বালানি ব্যবহার করে। উদাহরণ হিসেবে Robinson R44-এর ক্ষেত্রে নির্মাতা জ্বালানি দক্ষতাকে এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হিসেবে উল্লেখ করেছে। এর অ্যারোডাইনামিক ডিজাইনও গতি ও জ্বালানি সাশ্রয়ের কথা মাথায় রেখে তৈরি করা হয়েছে। তাই নির্দিষ্ট কোনো মডেল না জেনে ‘প্রতি ঘণ্টায় ৮০০ লিটার’ বা ‘প্রতি কিলোমিটারে ৫ লিটার’—এমন একটি নির্দিষ্ট হিসাব সব ব্যক্তিগত হেলিকপ্টারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। হেলিকপ্টার কেনার পর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণই মালিকের অন্যতম বড় ব্যয়ের জায়গা। নির্ধারিত সময় পরপর ইঞ্জিন, রোটর, ট্রান্সমিশন, ফ্লাইট কন্ট্রোল, অ্যাভিওনিকস এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ পরীক্ষা করতে হয়। এর সঙ্গে রয়েছে—পাইলটের বেতন ও প্রশিক্ষণ, বিমা, হ্যাঙ্গার বা নিরাপদ পার্কিংয়ের খরচ, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, যন্ত্রাংশ পরিবর্তন, ইঞ্জিন ও অন্যান্য বড় কম্পোনেন্টের ওভারহল, জ্বালানি, বিমান চলাচলসংক্রান্ত ফি ও প্রশাসনিক ব্যয় ফলে হেলিকপ্টারের প্রকৃত মালিকানা ব্যয় শুধু কেনার মূল্য দিয়ে হিসাব করলে পুরো চিত্র পাওয়া যায় না। বাংলাদেশে ব্যক্তিগত হেলিকপ্টার পরিচালনার ক্ষেত্রে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (CAAB) বিধি ও অনুমোদন গুরুত্বপূর্ণ। CAAB-এর ওয়েবসাইটে দেশীয় হেলিকপ্টার পরিচালনা, রাতের হেলিকপ্টার ফ্লাইট এবং অন্যান্য অপারেশনসংক্রান্ত নির্দেশনা ও সার্কুলার প্রকাশ করা হয়। তাই বিদেশ থেকে হেলিকপ্টার কিনে বাংলাদেশে আনার ক্ষেত্রে শুধু বিক্রেতাকে মূল্য পরিশোধ করলেই হবে না। আমদানি, নিবন্ধন, বিমান চলাচলের অনুমোদন, নিরাপত্তা এবং পরিচালনসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নিয়ম মেনে চলতে হবে। হেলিকপ্টারের অন্যতম বড় সুবিধা হলো রানওয়ের ওপর নির্ভরতা তুলনামূলক কম। নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে এটি সীমিত জায়গা থেকে উড্ডয়ন ও অবতরণ করতে পারে। ফলে এমন অনেক জায়গায় যাতায়াত সম্ভব হয় যেখানে সাধারণ উড়োজাহাজ পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় রানওয়ে নেই। জরুরি চিকিৎসাসেবা, দুর্গম এলাকায় যাতায়াত, পর্যটন, শিল্পকারখানা পরিদর্শন, সংবাদ সংগ্রহ, উদ্ধারকাজ এবং বিভিন্ন ধরনের বিশেষায়িত কাজে হেলিকপ্টারের ব্যবহার রয়েছে। ব্যক্তিগত হেলিকপ্টার কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে প্রথমেই নির্ধারণ করতে হবে কী কাজে এটি ব্যবহার করা হবে। দুই বা চার আসনের ছোট পিস্টন হেলিকপ্টার ব্যক্তিগত ও প্রশিক্ষণমূলক ব্যবহারের জন্য যথেষ্ট হতে পারে। আবার বেশি যাত্রী, দীর্ঘপথ কিংবা বিশেষ কাজে বড় টারবাইন হেলিকপ্টার প্রয়োজন হতে পারে। এরপর ক্রয়মূল্যের পাশাপাশি বছরে কত ঘণ্টা উড্ডয়ন করা হবে, প্রতি ঘণ্টায় জ্বালানি ও রক্ষণাবেক্ষণে কত খরচ হবে, পাইলট ও হ্যাঙ্গারের খরচ কত এবং বড় ধরনের রক্ষণাবেক্ষণের সময় সম্ভাব্য ব্যয় কত—এসব হিসাব করা জরুরি। অর্থাৎ, ব্যক্তিগত হেলিকপ্টার কেনার ক্ষেত্রে মূল প্রশ্ন শুধু ‘কত টাকা দিয়ে কিনব’ নয়; বরং ‘কত টাকা খরচ করে নিয়মিত পরিচালনা করতে পারব’—সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
বিশ্বের দ্রুততম মানব উসাইন বোল্টকে দৌড়ে হারিয়ে দিতে সক্ষম নতুন মানবাকৃতির রোবট তৈরি করেছেন চীনের বিজ্ঞানীরা। ট্র্যাকে দৌড়ানোর একটি ভিডিওতে ‘সুপারম্যান’ নামের এই প্রোটোটাইপ রোবটকে ঘণ্টায় ২৮.৩ মাইল বা প্রতি সেকেন্ডে ১২.৬৬ মিটার গতি তুলতে দেখা গেছে। ২০০৯ সালের ওয়ার্ল্ড অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপে জ্যামাইকান স্প্রিন্টার উসাইন বোল্ট ঘণ্টায় ২৭.৭৮ মাইল বা প্রতি সেকেন্ডে ১২.৪২ মিটার গতিতে দৌড়ে বিশ্ব রেকর্ড গড়েছিলেন। আর তাই প্রযুক্তি ও গতিবিদ্যার সীমানা ছাড়িয়ে মানুষের শারীরিক সক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে নতুন রোবটটি। উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন রোবট কুকুর ও মানবাকৃতির রোবট তৈরির জন্য পরিচিত চীনের হাংঝৌভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ইউনিট্রি রোবটটির নকশা করেছে। ভিডিওর আরেকটি অংশে দেখা গেছে, স্থির অবস্থা থেকে রোবটটি ওপরের দিকে দুই মিটার লাফ দিচ্ছে, যা ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রিস্টোফার স্পেলের গড়া ১.৭ মিটার বা ৫ ফুট ৭ ইঞ্চির লম্বালম্বি লাফানোর বিশ্ব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। ইউনিট্রি তাদের এক্স অ্যাকাউন্টে ভিডিও প্রকাশ করে লিখেছে, ‘ইউনিট্রির নতুন রোবটের ট্রেইলার: সুপারম্যান ভেঙে দিচ্ছে মানবজাতির সীমা।’ প্রতিষ্ঠানটির তথ্যমতে, রোবটটি তৈরি করতে মাত্র তিন মাসের কিছু বেশি সময় লেগেছে। এর পায়ের দৈর্ঘ্য মাত্র ০.৮৫ মিটার বা ২.৮ ফুট। ছোট পদক্ষেপ নিয়ে এমন বিস্ময়কর গতি তোলা অত্যন্ত চমকপ্রদ। রোবটের উচ্চতা, ওজন, ব্যাটারি ক্ষমতা কিংবা লাফানোর পরীক্ষা কতবার করা হয়েছে সেই বিস্তারিত কারিগরি তথ্য এখনো প্রকাশ করেনি ইউনিট্রি। এর আগে ইউনিট্রির তৈরি এইচ১ মডেলের মানবাকৃতির রোবট প্রতি সেকেন্ডে ১০ মিটার বা ঘণ্টায় ২২.৩ মাইল গতিতে দৌড়ে শিরোনামে এসেছিল। রোবটটির দৌড়ানোর ধরন নিয়ে অনেকে রসিকতা করলেও এটির ক্ষমতা সবাইকে চমকে দিয়েছে। রোবটটির দ্রুতগতিতে লাফ দেওয়া ও দৌড়ানোর এই ক্ষমতা প্রমাণ করে আগামী দিনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাচালিত যন্ত্র মানুষের দৈনন্দিন কাজ এবং উদ্ধার অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। প্রযুক্তি বিশ্লেষক মা জিহুয়ার ধারণা, ভবিষ্যতে হিউম্যানয়েড রোবট কঠিন ভূখণ্ড, দুর্যোগপূর্ণ এলাকা ও বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে সহজে কাজ করতে পারবে। সূত্র: ডেইলি মেইল
বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ মোবাইল চিপ নির্মাতা কোয়ালকম আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে তাদের বিভিন্ন সেমিকন্ডাক্টর পণ্যের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সময়ে প্রকাশিত কোম্পানির তৃতীয় প্রান্তিকের আর্থিক ফলাফলেও দেখা গেছে, স্মার্টফোন বাজারে চাপ বাড়লেও উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি ও সরবরাহ শৃঙ্খলের সংকট মোকাবিলায় মূল্য সমন্বয়ের পথেই হাঁটছে প্রতিষ্ঠানটি। যার ফলে সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে আগামী প্রজন্মের অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনগুলোর খুচরা দামে। এক বিজ্ঞপ্তিতে কোয়ালকম জানায়, গত কয়েক মাসে মেমোরি ও সাবস্ট্রেটসহ যাবতীয় কাঁচামালের দাম যেমন বেড়েছে, তেমনই বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চালিত ডেটা সেন্টার তৈরির বিশাল জোয়ার চিপের বাজারে নতুন সংকট তৈরি করেছে। এই চাপ আরও বেড়েছে কোয়ালকমের প্রধান উৎপাদন অংশীদার তাইওয়ান সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানিকে (টিএসএমসি) ঘিরে। সাধারণত অ্যাপল, এনভিডিয়া, কোয়ালকমসহ বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য চিপ তৈরি করে থাকে টিএসএমসি। যদিও প্রতিষ্ঠানটি উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর কাজ করছে, তবুও ধারণা করা হচ্ছে সরবরাহ সংকট ২০২৭ সাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। নিকি এশিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টিএসএমসি গ্রাহক ও অর্ডারের পরিমাণভেদে চিপের উৎপাদন মূল্য ৫ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। আর সেই অতিরিক্ত ব্যয় এবং নিজস্ব মুনাফার মার্জিন ধরে রাখতেই কোয়ালকমও গ্রাহকদের জন্য চিপের দাম বাড়াচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কোয়ালকমের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ক্রিস্টিয়ানো অ্যামন আর্থিক ফলাফল প্রকাশের সময় বলেন, সরবরাহ শৃঙ্খলে ব্যয় বৃদ্ধি এবং বাজার পরিস্থিতির কারণে এখন মূল্য সমন্বয় অত্যাবশ্যক হয়ে পড়েছে। তিনি আরও জানান, প্রতিষ্ঠানটির সাম্প্রতিক প্রান্তিকে মোট রাজস্ব ৯.৯৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছালেও মূল হ্যান্ডসেট চিপ খাতে আয় ২০ শতাংশ কমে ৫.০৯ বিলিয়ন ডলারে ঠেকেছে। অতিরিক্ত মূল্যের দরুন অনেক গ্রাহকই এখন দামি ফ্ল্যাগশিপের পরিবর্তে সাশ্রয়ী ফোনের দিকে ঝুঁকছেন। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, কোয়ালকমের স্ন্যাপড্রাগন প্রসেসরের ওপর স্যামসাং, শাওমি, ওয়ানপ্লাস, অনার, মটোরোলা, আসুসসহ অধিকাংশ অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন ম্যানুফ্যাকচারার নির্ভরশীল। যার ফলে চিপের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব শেষ পর্যন্ত নতুন স্মার্টফোনের খুচরা দামেই পড়ার সম্ভাবনা সর্বাধিক। বিশেষ করে ২০২৬ সালের শেষ ভাগ এবং ২০২৭ সালের শুরুতে বাজারে আসা ফ্ল্যাগশিপ ও প্রিমিয়াম অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনগুলোর দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন শিল্পসংশ্লিষ্টরা। সূত্র: কোয়ালকম ডট কম
ডেস্কটপে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করতে গিয়ে অনেকেই লগ-ইন, মেসেজ পাঠানো, ছবি-ভিডিও আপলোড বা ডাউনলোডের সমস্যায় পড়ছেন। হোয়াটসঅ্যাপ জানিয়েছে, এ ধরনের সমস্যার সবচেয়ে সাধারণ কারণ হলো দুর্বল বা অস্থিতিশীল ইন্টারনেট সংযোগ। হোয়াটসঅ্যাপ ডেস্কটপ অ্যাপে লগ-ইন করার পর যদি হলুদ ব্যানারে ‘Computer not connected’ লেখা দেখা যায়, তাহলে বুঝতে হবে ডিভাইসটি ইন্টারনেটের সঙ্গে সংযুক্ত নয় বা সংযোগে সমস্যা আছে। সমস্যা সমাধানে প্রথমে ইন্টারনেট সংযোগ পরীক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছে হোয়াটসঅ্যাপ। ইন্টারনেট ঠিক থাকলেও সমস্যা থাকলে কয়েকটি পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে। প্রথমে হোয়াটসঅ্যাপ ডেস্কটপ অ্যাপ বন্ধ করে আবার চালু করতে হবে। এরপরও কাজ না হলে অ্যাপ থেকে লগ-আউট করে পুনরায় লগ-ইন করতে হবে। প্রয়োজনে হোয়াটসঅ্যাপ ডেস্কটপ অ্যাপটি আনইনস্টল করে নতুন করে ডাউনলোড করা যেতে পারে। এ ছাড়া কম্পিউটার বন্ধ করে অন্তত ৩০ সেকেন্ড অপেক্ষা করে আবার চালু করলেও অনেক সময় সংযোগ সমস্যার সমাধান হয়। হোয়াটসঅ্যাপ জানিয়েছে, অফিস, বিশ্ববিদ্যালয় বা পাবলিক ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক থেকেও অনেক সময় সংযোগে সমস্যা তৈরি হতে পারে। এ ক্ষেত্রে অন্য কোনো নেটওয়ার্ক বা মোবাইল হটস্পট ব্যবহার করে দেখতে বলা হয়েছে। কিছু নেটওয়ার্কে হোয়াটসঅ্যাপের ট্রাফিক বন্ধ থাকায় সমস্যা হতে পারে। তাই নেটওয়ার্ক সেটিংসে ‘web.whatsapp.com’ বা ‘whatsapp.net’-এর ট্রাফিক অনুমোদন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া নিরাপদ ও ভালো অভিজ্ঞতার জন্য হোয়াটসঅ্যাপের সর্বশেষ সংস্করণ ব্যবহার করার কথাও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। সূত্র: https.whatsapp.com/How to fix connection issues in windows
চাঁদ যখন সূর্য ও পৃথিবীর মাঝখানে এসে পড়ে এবং সূর্যের আলো পৃথিবীতে আসতে বাধা পায়, তখন তাকে সূর্যগ্রহণ বলে। আগামী ১২ আগস্ট পৃথিবীতে এমন বিরল দৃশ্যের দেখা মিলতে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞান ইউনিয়ন এবং বিশ্বখ্যাত মহাকাশ গবেষণা সংস্থাগুলোর তথ্যানুযায়ী, আগামী ১২ আগস্ট একটি বিরল পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ সংঘটিত হবে। মহাকাশ গবেষণা সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, নিয়মিত বিরতিতে প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে ২ থেকে ৫টি সূর্যগ্রহণ ঘটে। তবে পৃথিবীর নির্দিষ্ট কোনো একটি স্থান থেকে একটি পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখার জন্য গড়ে প্রায় ৩৭৫ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে। সর্বশেষ পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ হয়েছিল ২০২৪ সালের ৮ এপ্রিল.এই মহাজাগতিক ঘটনাটি ‘গ্রেট নর্থ আমেরিকান এক্লিপ্স’ নামে পরিচিত, কারণ এটি মূলত উত্তর আমেরিকা মহাদেশের ওপর দিয়ে অতিক্রম করেছিল। তবে ইউরোপ মহাদেশের মূল ভূখণ্ডে দীর্ঘ ২৭ বছর পর এই পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণটি ঘটতে যাচ্ছে। এর আগে ১৯৯৯ সালের ১১ আগস্ট ইউরোপের মূল ভূখণ্ডে শেষবারের মতো পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা গিয়েছিল। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা ও ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এই পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণের বলয় গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, উত্তর রাশিয়া, আটলান্টিক মহাসাগর এবং স্পেনের ওপর দিয়ে অতিক্রম করবে। এর পাশাপাশি পর্তুগালের একটি ছোট অংশ থেকেও এই দৃশ্য দেখা যাবে। এ ছাড়া উত্তর গোলার্ধের বহু অঞ্চল—যেমন যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কা থেকে উত্তর ক্যারোলিনা, কানাডা, ইউরোপের অধিকাংশ এলাকা (যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস, আয়ারল্যান্ড এবং স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশ) এবং উত্তর-পশ্চিম আফ্রিকার বাসিন্দারা আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখতে পাবেন। ইউরোপ ও আফ্রিকার পশ্চিম উপকূলে যখন সূর্য ডুববে, তখনো গ্রহণ থাকবে; ফলে সেখানে একটি বিরল ‘সূর্যাস্ত সূর্যগ্রহণ’ দেখার সুযোগ মিলবে। নাসা বলছে, ইউরোপের মূল ভূখণ্ড (যেমন—ফ্রান্স) এবং উত্তর-পশ্চিম আফ্রিকার বাসিন্দাদের জন্য এটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় হবে, কারণ সেখানে সূর্যাস্তের ঠিক আগ মুহূর্তে আংশিক সূর্যগ্রহণ চলবে. ফলে দিগন্তে একটি রক্তিম ও আংশিক ঢাকা পড়া সূর্যের বিরল দৃশ্য তৈরি হবে। নাসার তথ্য অনুযায়ী, চাঁদের মূল অন্ধকার ছায়া বা ‘আমব্রা’ পৃথিবীর ওপর প্রায় ২৯৩ কিলোমিটার প্রশস্ত একটি পথ তৈরি করে এগিয়ে যাবে। গ্রহণটি গ্রিনিচ মান সময় ৫টায় উত্তর মেরুর কাছাকাছি রাশিয়ার সাইবেরিয়ান উপকূল এবং আর্কটিক মহাসাগর থেকে শুরু হবে। এরপর ছায়াটি উত্তর মেরুকে ঘেঁষে পূর্ব গ্রিনল্যান্ড এবং আইসল্যান্ডের পশ্চিম উপকূল অতিক্রম করে আটলান্টিক মহাসাগরে প্রবেশ করবে। মহাসাগর পেরিয়ে এটি স্পেনের উত্তরাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চল এবং পর্তুগালের একেবারে উত্তর-পূর্ব কোণ দিয়ে গিয়ে ভূমধ্যসাগরের বালিয়ারিক দ্বীপপুঞ্জে সূর্যাস্তের মাধ্যমে শেষ হবে। আর্থস্কাই এস্ট্রোনমির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই গ্রহণের সর্বোচ্চ স্থায়িত্ব হবে ২ মিনিট ১৮.২ সেকেন্ড। আইসল্যান্ডের পশ্চিম উপকূল থেকে মাত্র ৪৫ কিলোমিটার দূরে ডেনমার্ক প্রণালিতে এই সর্বোচ্চ স্থায়িত্ব দেখা যাবে। গ্রিনল্যান্ডের ভূমিতে এটি সর্বোচ্চ ২ মিনিট ১৬ সেকেন্ড, আইসল্যান্ডের রাজধানী রেইকিয়াভিকে ১ মিনিট ৪১ সেকেন্ড এবং স্পেনের উত্তরাঞ্চলে ১ মিনিট থেকে ১ মিনিট ৪৯ সেকেন্ড পর্যন্ত স্থায়ী হবে। মার্কিন জ্যোতির্বিজ্ঞানী ফ্রেড এস্পেনাক ও নাসা গডার্ড স্পেস ফ্লাইট সেন্টারের অফিশিয়াল তথ্য অনুযায়ী, পূর্ণগ্রাসের মূল পথের ভেতরের এলাকাগুলোতে সূর্য ১০০% ঢাকা পড়বে। এর বাইরে চারপাশের হাজার কিলোমিটার এলাকা জুড়ে আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে। শতভাগ পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে আইসল্যান্ডের রেইকিয়াভিক, স্পেনের বিলবাও, জারাগোজা, ভ্যালেন্সিয়া, ওভিয়েডো, লা করুনা, এবং পালমা দ্বীপ, গ্রিনল্যান্ডের পূর্ব উপকূল, রাশিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং পর্তুগালের একেবারে উত্তর-পূর্বের সীমান্ত এলাকা। ৯০ শতাংশ সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে যুক্তরাজ্যের কর্নওয়াল ও ল্যান্ডস এন্ড, ফ্রান্সের প্যারিস, পর্তুগালের লিসবন, মরক্কোর উত্তর অংশ। এছাড়া ৮০ শতাংশ পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণের দেখা মিলবে জার্মানি, ইতালি, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস এবং স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশগুলো থেকে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যসমূহ (আলাস্কা থেকে উত্তর ক্যারোলিনা), উত্তর-পশ্চিম আফ্রিকার অন্যান্য অংশ এবং কানাডার পূর্ব ও উত্তরাঞ্চল থেকেও ১০ থেকে ৫০ শতাংশ সূর্যগ্রহণের দেখা মিলবে।
ফেসবুকে ভুয়া বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি অ্যাকাউন্ট শনাক্ত করা সহজ করতে নতুন ‘ফেসবুক ভেরিফায়েড’ ব্যাজ চালু করেছে মেটা। নতুন এই ব্যাজের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা সহজেই বুঝতে পারবেন কোনো প্রোফাইলটি প্রকৃত একজন মানুষের। এই সুবিধাটি মূলত সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য আনা হয়েছে। সেলিব্রিটি বা পরিচিত ব্যক্তিদের জন্য নয়। বিশেষ করে মার্কেটপ্লেস, ডেটিং এবং গ্রুপসে প্রতারণা কমিয়ে ব্যবহারকারীদের মধ্যে আস্থা বাড়ানোই এর লক্ষ্য। ভেরিফিকেশন পেতে ব্যবহারকারীকে একটি ছোট ভিডিও সেলফি ধারণ করতে হবে। এরপর সেটি প্রোফাইলে থাকা ছবির সঙ্গে মিলিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করবে ফেসবুক। এই সেবা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। তবে এটি ব্যবহার করতে হলে ব্যবহারকারীর বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে, অ্যাকাউন্টটি ভালো অবস্থায় থাকতে হবে এবং মেটার নিরাপত্তা ও কমিউনিটি নীতিমালা পূরণ করতে হবে। তবে পেজ এবং প্রফেশনাল মোডে থাকা প্রোফাইলগুলো আপাতত এই সুবিধা পাবে না। ভেরিফিকেশন সম্পন্ন হলে ব্যাজটি ব্যবহারকারীর প্রোফাইল, মার্কেটপ্লেসের তালিকা এবং ডেটিং প্রোফাইলে দেখা যাবে। ভবিষ্যতে ফেসবুকের নিউজ ফিডের পোস্টেও এই ব্যাজ দেখানো হবে বলে জানিয়েছে মেটা। তবে মেটা জানিয়েছে, এই ব্যাজ থাকার অর্থ শুধু অ্যাকাউন্টটি একজন প্রকৃত মানুষের এটি নিশ্চিত হওয়া। এর মানে এই নয় যে, ওই ব্যবহারকারী সব সময় ফেসবুকের সব নীতিমালা মেনে চলছেন। প্রাথমিকভাবে কয়েকটি দেশে এই সুবিধা চালু করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বিশ্বের অন্যান্য দেশেও এটি চালু করা হবে বলে জানিয়েছে মেটা। সূত্র: নিউজ বাইট
অনলাইন অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা গুরুত্বপূর্ণ। শুধু একটি পাসওয়ার্ডের ওপর নির্ভর করলে অনেক ক্ষেত্রেই অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার ঝুঁকি থেকে যায়। এ কারণেই প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরে দুই ধাপের নিরাপত্তা (টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন বা 2FA) চালু রাখার পরামর্শ দিয়ে আসছেন। এটি চালু থাকলে পাসওয়ার্ড জানলেও অন্য কেউ সহজে আপনার অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করতে পারবে না। তবে অনেকেই এখনও এই সুবিধা ব্যবহার করেন না বা এর গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন নন। টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন কী টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন এমন একটি নিরাপত্তা ব্যবস্থা, যেখানে শুধু পাসওয়ার্ড দিলেই অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করা যায় না। লগইনের সময় অতিরিক্ত একটি পরিচয় যাচাই করতে হয়। এটি হতে পারে মোবাইলে আসা কোড, অথেনটিকেটর অ্যাপের কোড বা নিরাপত্তা কী। কেন এটি ব্যবহার করা উচিত ১. পাসওয়ার্ড ফাঁস হলেও অ্যাকাউন্ট সুরক্ষিত থাকে: ফিশিং, তথ্য ফাঁস বা অন্য কোনও উপায়ে আপনার পাসওয়ার্ড ভিন্ন কারো হাতে চলে গেলেও অতিরিক্ত নিরাপত্তা ধাপ ছাড়া অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করা কঠিন হয়ে পড়ে। ২. ই-মেইল অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা বাড়ায়: আপনার ই-মেইল অনেক সময় অন্য অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধারের মাধ্যম হিসাবে ব্যবহৃত হয়। তাই ই-মেইলে টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন চালু থাকলে অন্যান্য অ্যাকাউন্টও তুলনামূলক নিরাপদ থাকে। ৩. সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম হ্যাক হওয়ার ঝুঁকি কমায়: ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, এক্স (সাবেক টুইটার) কিংবা লিংকডইনের মতো প্ল্যাটফর্মে এই সুবিধা চালু থাকলে অননুমোদিত লগইন অনেকটাই ঠেকানো সম্ভব। ৪. আর্থিক লেনদেনের নিরাপত্তা বাড়ায়: মোবাইল ব্যাংকিং, ইন্টারনেট ব্যাংকিং বা ডিজিটাল ওয়ালেট ব্যবহারকারীদের জন্য এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি আর্থিক তথ্য সুরক্ষায় অতিরিক্ত একটি স্তর যোগ করে। কোন পদ্ধতি সবচেয়ে নিরাপদ সব ধরনের টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন সমান নিরাপদ নয়। অথেনটিকেটর অ্যাপ (যেমন Google Authenticator বা Microsoft Authenticator) তুলনামূলক বেশি নিরাপদ। এসএমএসের মাধ্যমে কোড সহজলভ্য হলেও নিরাপত্তার দিক থেকে কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। হার্ডওয়্যার সিকিউরিটি কী সবচেয়ে নিরাপদ পদ্ধতি হিসেবে বিবেচিত হলেও এটি সাধারণ ব্যবহারকারীদের মধ্যে এখনো খুব বেশি প্রচলিত নয়। কোন কোন অ্যাকাউন্টে আগে চালু করবেন নিরাপত্তার স্বার্থে নিচের অ্যাকাউন্টগুলোতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন চালু করা উচিত। ব্যক্তিগত ই-মেইল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মোবাইল ব্যাংকিং ও ইন্টারনেট ব্যাংকিং ক্লাউড স্টোরেজ অফিস বা প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল অ্যাকাউন্ট যে ভুলগুলো এড়িয়ে চলবেন অনেক ব্যবহারকারী কিছু সাধারণ ভুল করেন, যা নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়াতে পারে। পুনরুদ্ধার (রিকভারি) কোড সংরক্ষণ না করা ফোনে আসা নিরাপত্তা কোড অন্যের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া সন্দেহজনক ওয়েবসাইটে লগইন করা একই পাসওয়ার্ড একাধিক অ্যাকাউন্টে ব্যবহার করা শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা গুরুত্বপূর্ণ, তবে বর্তমান সময়ে সেটি একাই যথেষ্ট নয়। দুই ধাপের নিরাপত্তা চালু করলে সাইবার অপরাধীদের জন্য আপনার অ্যাকাউন্টে অননুমোদিত প্রবেশ করা অনেক কঠিন হয়ে যায়। মাত্র কয়েক মিনিট সময় নিয়ে এই সুবিধা চালু করা সম্ভব, কিন্তু এর মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য, গুরুত্বপূর্ণ নথি এবং আর্থিক অ্যাকাউন্ট আরও নিরাপদ রাখা যায়। তাই যেসব অনলাইন সেবায় এই সুবিধা রয়েছে, সেখানে টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন চালু রাখাই হতে পারে আপনার ডিজিটাল নিরাপত্তার অন্যতম কার্যকর পদক্ষেপ।
বর্তমান সময়ে পথ চিনে গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য গুগল ম্যাপস আমাদের নিত্যসঙ্গী। তবে অনেক সময় দেখা যায় ম্যাপে আমাদের অবস্থান একদম নিখুঁতভাবে দেখাচ্ছে না। তাই গুগল ম্যাপস আপনার সঠিক অবস্থান শনাক্ত করতে পেরেছে কি না এবং অবস্থান নির্ভুল করার উপায় নিয়ে এই ফিচার। মূলত গুগল ম্যাপস আপনার বর্তমান অবস্থান বোঝানোর জন্য একটি নীল বিন্দু (Blue Dot) ব্যবহার করে। লক্ষ্য করলে দেখবেন, এই বিন্দুর চারপাশে একটি হালকা নীল রঙের বৃত্ত থাকে। এই বৃত্তটিই মূলত আপনার অবস্থানের নির্ভুলতা নির্দেশ করে। ছোট বৃত্ত: যদি নীল বিন্দুর চারপাশের বৃত্তটি আকারে ছোট হয়, তবে বুঝতে হবে অ্যাপটি আপনার অবস্থান খুব নির্ভুলভাবে শনাক্ত করেছে। বড় বৃত্ত: বৃত্তটি বড় হওয়ার অর্থ হলো গুগল আপনার অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত নয়। এটি নির্দেশ করে যে, আপনি ওই পুরো নীল এলাকার ভেতরে যেকোনো জায়গায় থাকতে পারেন। এটি কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি নয়; বরং ফোনের পাওয়া সিগন্যালের ওপর ভিত্তি করে গুগল ম্যাপস আপনার অবস্থান সম্পর্কে কতটা আত্মবিশ্বাসী, এটি তারই একটি নির্দেশক। কেন নির্ভুলতা কমে যায়? গুগল ম্যাপস আপনার অবস্থান শনাক্ত করতে জিপিএস (GPS) স্যাটেলাইট, ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক এবং মোবাইল টাওয়ারের সিগন্যাল ব্যবহার করে। সিগন্যাল শক্তিশালী হলে অবস্থান নিখুঁত হয়। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে নির্ভুলতা কমে যেতে পারে: বিল্ডিংয়ের ভেতরে থাকলে অথবা মাটির নিচে বা আন্ডারগ্রাউন্ডে যাতায়াত করলে। চারপাশে অনেক উঁচু দালান থাকলে, যা জিপিএস সিগন্যালকে বাধাগ্রস্ত করে। অবস্থান নির্ভুল করার উপায় যদি দেখেন ম্যাপে নীল বৃত্তটি অনেক বড় দেখাচ্ছে, তবে নিচের পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করে নির্ভুলতা বাড়ানো সম্ভব: ওয়াই-ফাই চালু রাখা: কোনো নির্দিষ্ট ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত না থাকলেও ফোনের ওয়াই-ফাই অপশনটি চালু রাখুন। গুগল ম্যাপস আশেপাশের ওয়াই-ফাই রাউটার থেকে সংকেত নিয়ে আপনার অবস্থান আরও নির্ভুল করতে পারে। কম্পাস ক্যালিব্রেট করা: ফোনের সেন্সরগুলোকে ঠিক করতে আপনার ফোনটি হাতে নিয়ে বাতাসে ইংরেজিতে আট অক্ষরের ভঙ্গিতে কয়েকবার ঘোরান। এটি ফোনের কম্পাসকে পুনরায় বিন্যস্ত করতে সাহায্য করে। খোলা স্থানে আসা: সম্ভব হলে উঁচু দালান বা ছাদযুক্ত এলাকা থেকে সরে এসে খোলা জায়গায় দাঁড়ান, যাতে আপনার ফোন জিপিএস স্যাটেলাইটের সাথে পরিষ্কার সংযোগ পায়। আপনার ফোনের কম্পাস সঠিকভাবে ক্যালিব্রেট হলে এবং শক্তিশালী সিগন্যাল পেলে বড় নীল বৃত্তটি ছোট হয়ে আসবে, যার মানে হলো গুগল ম্যাপস এখন আপনার সঠিক অবস্থান শনাক্ত করতে পারছে। তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
প্রায় দুই ঘণ্টা পর বিভ্রাট শেষে আবারও সচল হয়েছে ফেসবুকের ডেস্কটপ ভার্সন। এর আগে রোববার (১৯ জুলাই) দুপুর থেকে বিভ্রাটের কারণে বাংলাদেশের ব্যবহারকারীদের একাংশ ভোগান্তিতে পড়েছেন। ডাউন ডিটেক্টরের তথ্য অনুযায়ী, রোববার দুপুর দেড়টা থেকে ফেসবুকের বিভিন্ন সেবা ব্যবহারে সমস্যা নিয়ে অভিযোগ আসতে থাকে। মাত্র কয়েক মিনিটেই অভিযোগকারীর সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। ডেস্কটপে ফেসবুক ব্যবহারকারীরা লগইন, নিউজফিড দেখা ও বিভিন্ন ফিচার ব্যবহারে সমস্যার অভিযোগ করেন। তবে মোবাইল অ্যাপে এমন সমস্যা তুলনামূলক কম দেখা যাচ্ছিল। অবশেষে দুই ঘণ্টা পর ডেস্কটপ ভার্সনের বিভ্রাটের অবসান হয়েছে। ব্যবহারকারীদের অভিযোগ, বিভ্রাটের ফলে ফেসবুকে লগ-ইন করতে পারছিলেন না তারা। অনেকে অ্যাপ বা ওয়েবসাইট লোড হতে দেরি হওয়া এবং ফিড আপডেট না হওয়ার মতো সমস্যার কথা জানিয়েছেন তারা।
মহাকাশে মানুষের তৈরি স্পেস স্টেশনে বসবাসের গল্প আমরা সবাই জানি। কিন্তু এবার পৃথিবীর বুকেই এক নতুন রোমাঞ্চকর অধ্যায়ের সূচনা হলো। সমুদ্রের গভীর অন্ধকূপ ও রহস্যময় তলদেশে অবশেষে চালু হলো মানুষের তৈরি প্রথম সম্পূর্ণ কার্যকর সাবসি হ্যাবিট্যাট বা পানির নিচের কৃত্রিম বাসস্থান। আপনি কি সমুদ্রকে এতটাই ভালোবাসেন যে ল্যাবরেটরি, ডরমিটরি ও ডাইভিং ভেসেলের সংমিশ্রণে তৈরি একটি কাঠামোর ভেতরে সমুদ্রের তলদেশে দিনের পর দিন কাটিয়ে দিতে রাজি আছেন? খুব শিগগির অ্যাকুয়ানটস বা জলচারীদের একটি বিশেষ দল ঠিক এই কাজটিই করতে যাচ্ছে। সমুদ্র প্রকৌশল সংস্থা ডিপের তৈরি স্বল্পমেয়াদি পানির নিচের বাসস্থান ভ্যানগার্ডে তাঁরা বসবাস শুরু করবেন। ২০২১ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বেসরকারি প্রতিষ্ঠানটির হাত ধরেই প্রথমবারের মতো মানুষ সমুদ্রের তলদেশে দীর্ঘ সময় কাটানোর এক অভূতপূর্ব সুযোগ পাচ্ছেন। তবে ভ্যানগার্ড কেবল শুরু। ২০২৭ সালের মধ্যে তারা সেন্টিনেল নামের আরও একটি উচ্চাভিলাষী প্রকল্প চালু করার পরিকল্পনা করছে, যার মাধ্যমে সমুদ্রের যেকোনো মহীসোপানে স্বল্পমেয়াদি বা স্থায়ীভাবে মানববসতি স্থাপন করা সম্ভব হবে। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা কিজ ন্যাশনাল মেরিন স্যাঙ্কচুয়ারির টেনেসি রিফের পানির ১৭ মিটার গভীরে একটি স্থায়ী প্ল্যাটফর্মের ওপর এই ভ্যানগার্ড স্থাপন করা হয়েছে। এখানে একসঙ্গে চারজন ক্রু মেম্বার থাকতে পারবেন। ভ্যানগার্ডের অন্যতম প্রথম ক্রু মেম্বার এবং নাসার প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত অ্যাকুয়ানট ডন কার্নাগিস জানান, বিজ্ঞানীদের জন্য পানির নিচে একটানা সময় কাটানো গবেষণার ক্ষেত্রে এক বিশাল আশীর্বাদ। সাধারণত সমুদ্রের গভীর থেকে কোনো নমুনা বা স্পেসিমেন যখন ওপরে আনা হয়, তখন চাপের দ্রুত পরিবর্তনের কারণে তার আণবিক বা কোষীয় গঠনে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটে। ফলে বিজ্ঞানীরা সমুদ্রের গভীরে উপাদানটি আসলে কেমন অবস্থায় ছিল, তা নিখুঁতভাবে বুঝতে পারেন না। কিন্তু ভ্যানগার্ডের ভেতরে বসেই বিজ্ঞানীরা সমুদ্রের তলদেশের চাপ অপরিবর্তিত রেখে একদম রিয়েল-টাইমে সেসব নমুনা পরীক্ষা করতে পারবেন। ভ্যানগার্ড মূলত একটি বড় ডিকম্প্রেশন চেম্বারের মতো কাজ করে, যা এর ভেতরের বাতাস এবং বায়ুচাপ নিয়ন্ত্রণ করে। এর ভেতরের বাসিন্দারা মূলত স্যাচুরেশন ডাইভার হিসেবে থাকবেন। এর ফলে তারা প্রথাগত স্কুবা ডাইভিংয়ের মতো মাত্র ৬০ মিনিটের সীমাবদ্ধতা ভেঙে কয়েক সপ্তাহ বা মাসজুড়ে সমুদ্রের তলদেশে কাটাতে পারবেন। তাঁরা একটি আম্বিলিক্যাল কর্ড বা বিশেষ পাইপের মাধ্যমে ভ্যানগার্ড থেকে সরাসরি বাতাস নিয়ে বাইরে কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত পানির নিচে কাজ করতে পারবেন। সবচেয়ে মজার বিষয় হলো ভ্যানগার্ডের মুন পুল, যা মূলত নিচের দিকে থাকা একটি খোলা দরজা। যেহেতু ভেতরের ও বাইরের বায়ুচাপ সমান রাখা হয়, তাই এই দরজাটি সরাসরি সমুদ্রের তলদেশের দিকে খোলা থাকলেও ভেতরে পানি ঢুকে পড়ে না। ডাইভাররা সরাসরি হ্যাবিট্যাটের মেঝে থেকেই সাগরে ঝাঁপ দিতে পারেন। পানির নিচের এই স্টেশনটির সঙ্গে ভূপৃষ্ঠের সংযোগকারী একটি আম্বিলিক্যাল কেব্লের মাধ্যমে যুক্ত থাকে একটি ভাসমান বয়া। এই বয়াটি ক্রুদের জন্য বাতাস, বিদ্যুৎ এবং স্যাটেলাইট যোগাযোগের ব্যবস্থা করে। ফলে অনশোর বা মূল ঘাঁটির সঙ্গে ক্রুরা ২৪ ঘণ্টা যোগাযোগ রাখতে পারেন। এখানে ব্যবহারের জন্য স্বাদুপানির ট্যাংক রয়েছে এবং বর্জ্য বা পয়ঃনিষ্কাশনের পানি ভেতরে রিসার্কুলেট না করে সরাসরি নিষ্কাশন করে নিরাপদে অপসারণ করা হয়। যদিও বর্তমানে ভ্যানগার্ডকে বৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং সামুদ্রিক পরিবেশ পুনরুদ্ধারের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে, তবে এর পেছনে আরও অনেক বাণিজ্যিক এবং প্রতিরক্ষা–সংক্রান্ত স্বার্থও জড়িয়ে রয়েছে। ডিপের অংশীদারদের তালিকায় রয়েছে এমন সব কোম্পানি যারা মহাকাশ প্রযুক্তি, তেল-গ্যাস অনুসন্ধান, নবায়নযোগ্য শক্তি এবং প্রতিরক্ষা খাতের সঙ্গে যুক্ত। বিজ্ঞানী ডন কার্নাগিস আরও বলেন, ‘আমরা সাবসি হ্যাবিট্যাট বা সমুদ্রের নিচের বাসস্থানকে সাধারণ মানুষের কাছেও নিয়ে যেতে চাই। ভবিষ্যতে বিজ্ঞানী ছাড়াও শিল্পী, ইতিহাসবিদ, শিক্ষার্থী, শিক্ষাবিদ এমনকি রাজনীতিবিদদেরও এখানে নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে তারা সমুদ্রের তলদেশের পরিবেশ ও জীবন সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা লাভ করতে পারেন। সূত্র: সায়েন্স অ্যালার্ট
ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের ‘আসক্তি তৈরির ছক’ (অ্যাডিকটিভ ডিজাইন) পরিবর্তনের জন্য মেটাকে নির্দেশ দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। তা না হলে প্রতিষ্ঠানটিকে বড় অঙ্কের জরিমানার মুখোমুখি হতে হবে বলে শুক্রবার সতর্ক করা হয়েছে। ব্রাসেলস থেকে এএফপি জানায়, ইইউর অভিযোগ, মার্কিন প্রযুক্তি জায়ান্ট মেটা বিশেষ করে শিশু ও ঝুঁকিপূর্ণ প্রাপ্তবয়স্ক ব্যবহারকারীদের জন্য প্ল্যাটফর্ম দুটির ঝুঁকি কমাতে ব্যর্থ হয়েছে। কারণ, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে এমন কিছু বৈশিষ্ট্য রাখা হয়েছে, যা ব্যবহারকারীদের দীর্ঘ সময় ধরে প্ল্যাটফর্মে আটকে রাখার জন্য তৈরি। এসব বৈশিষ্ট্যের মধ্যে রয়েছে অবিরাম স্ক্রল (ইনফিনিট স্ক্রল), অত্যন্ত ব্যক্তিকেন্দ্রিক নিউজ ফিড এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিডিও চালু (অটোপ্লে) হওয়ার ব্যবস্থা। ইইউর প্রযুক্তিবিষয়ক প্রধান হেনা ভিরক্কুনেন এক বিবৃতিতে বলেন, ‘ইউরোপের মানুষের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষা করা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোর অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।’ অনলাইনে ব্যবহারকারী, বিশেষ করে শিশুদের সুরক্ষা জোরদারে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বিগ টেক কোম্পানিগুলোর ওপর চাপ বাড়িয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। শুক্রবার প্রকাশিত প্রাথমিক মূল্যায়নে ইউরোপীয় কমিশন জানায়, ইইউর ডিজিটাল কনটেন্টবিষয়ক বিধি লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়ায় মেটাকে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের ডিজাইনে পরিবর্তন আনতে হবে।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) একদল প্রকৌশলীর হাতে গড়ে ওঠা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাচালিত কর্মী ব্যবস্থাপনা প্ল্যাটফর্ম টিপসই এখন ব্যবহৃত হচ্ছে বিশ্বের ১১টি দেশে। বাংলাদেশ, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মরিশাস, মালয়েশিয়া, তুরস্ক, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের বিমানবন্দর, ব্যাংক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কারখানা, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ও এনজিওতে ব্যবহৃত হচ্ছে দেশে তৈরি এই প্রযুক্তি। ইনোভেস টেকনোলজিসের এই প্ল্যাটফর্ম বর্তমানে ১০ হাজারের বেশি সক্রিয় যন্ত্রের মাধ্যমে ১ হাজার ২০০টির বেশি প্রতিষ্ঠান ও ২ লাখ ৩৮ হাজারের বেশি ব্যবহারকারীকে সেবা দিচ্ছে। সফটওয়্যার, বায়োমেট্রিক ও প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ২০২৫ সালে দেশে ও আন্তর্জাতিক বাজারে তাদের প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় তিন গুণ। বিশ্ববাজারে এই সম্প্রসারণের ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি নিজেদের ব্র্যান্ড পরিচিতিতেও পরিবর্তন এনেছে প্রতিষ্ঠানটি। বাংলাদেশে তৈরি সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার সমাধান সাধারণত স্থানীয় বাজার পার হয়ে বিদেশে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার নজির তুলনামূলক কম। টিপসইয়ের ক্ষেত্রে মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একাধিক দেশে একযোগে ব্যবহার শুরু হয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানটি এখন ইউরোপ ও এশিয়ার আরও কিছু দেশে উপস্থিতি বাড়ানোর চেষ্টা করছে। এই সম্প্রসারণে বিনিয়োগকারী হিসেবে যুক্ত আছে অ্যাক্সিলারেটিং এশিয়া ও অরবিট ভেঞ্চারস। আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানে বিদেশি বিনিয়োগ আসার এই ধরনের ঘটনা দেশের স্টার্টআপ খাতের জন্য একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। টিপসইয়ের বিপণন বিভাগের প্রধান অর্ণব সিকদার বলেন, ‘আমাদের প্রযুক্তি এগিয়েছে, প্ল্যাটফর্মও বড় হয়েছে। নতুন বাজারে যাওয়া এবং বাংলাদেশে তৈরি এই প্রযুক্তিকে আন্তর্জাতিক পরিসরে পরিচিত করানোই এখন আমাদের লক্ষ্য।’ আগামী কয়েক মাসের মধ্যে টিপসইয়ের সফটওয়্যার প্ল্যাটফর্ম, যন্ত্র, ওয়েবসাইট ও মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনজুড়ে ধাপে ধাপে নতুন ব্র্যান্ড পরিচিতি চালু করা হবে।
ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো মানুষের সাহায্য বা তদারকি ছাড়াই সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাইবার আক্রমণ চালিয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই। নিরাপত্তা গবেষকদের উন্মোচন করা এ ঘটনা প্রযুক্তি বিশ্বে বড় মাইলফলক হলেও সাইবার নিরাপত্তার ক্ষেত্রে নতুন আতঙ্ক তৈরি করেছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্ট। এ ঘটনায় মানুষের সাহায্য ছাড়াই শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সম্পূর্ণ এক সাইবার আক্রমণ চালিয়েছে একটি এআই এজেন্ট। এআই প্রযুক্তি সাইবার অপরাধীদের কাজকে আরও সহজ করে দিচ্ছে। সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় এ সাইবার আক্রমণে এক র্যানসমওয়্যার আক্রমণ চালিয়েছে এআই। র্যানসমওয়্যার সাইবার আক্রমণে ভুক্তভোগীরা সাধারণত নিজেদের ডেটা বা তথ্যের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার জন্য অপরাধীদের মুক্তিপণ দিতে বাধ্য হয়। মার্কিন ক্লাউড নিরাপত্তা কোম্পানি ‘সিসডিগ’-এর একটি গবেষক দল বলেছে, এ এআই আক্রমণকারীটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘জেডপাফার’, যা প্রথমে দুর্বল ও অরক্ষিত সার্ভারে অনুপ্রবেশ করে সার্ভার থেকে প্রয়োজনীয় পাসওয়ার্ড এবং লগইন তথ্য খুঁজে বের করে। সবশেষে মূল প্রোডাকশন ডেটাবেইসটি লক বা এনক্রিপ্ট করে ডেটাবেইসটি আনলকের বিনিময়ে বিটকয়েনের মাধ্যমে মুক্তিপণ দাবি করে জেডপাফার। এ পুরো বিষয়টি নিয়ে এক ব্লগ পোস্টে সিসডিগ-এর থ্রেট রিসার্চ ডিরেক্টর মাইকেল ক্লার্ক লিখেছেন, “র্যানসমওয়্যার যখন থেকে একটি হুমকি হিসেবে তৈরি হয়েছে, তখন থেকেই এর পেছনে কোনো না কোনো মানুষ সরাসরি জড়িয়ে ছিল বা একজন মানুষ এর স্ক্রিপ্ট বা কোড লিখে দিয়েছিল। “তবে সিসডিগ থ্রেট রিসার্চ টিম এমন ঘটনা লিপিভুক্ত করেছে, যা আমাদের মতে প্রথম ‘এজেন্টিক র্যানসমওয়্যার’-এর প্রমাণ। এ এমন এক চাঁদাবাজির ঘটনা, যা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সম্পূর্ণভাবে লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল বা এলএলএম-এর মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছে। এআই অ্যাপ্লিকেশন তৈরির ওপেন-সোর্স টুল ‘ল্যাংফ্লো’-এ প্রবেশাধিকার পাওয়ার পরপরই এআই মডেলটি আলিবাবা, টেনসেন্ট ও হুয়াওয়ের মতো ‘চীনা ক্লাউড সেবাদাতাদের লক্ষ্য করে’ লগইন তথ্য ও পাসওয়ার্ড খুঁজতে শুরু করে। এ স্বয়ংক্রিয় অভিযানটি বাস্তব সময়ে বা রিয়াল-টাইমে নিজস্ব কৌশল পরিবর্তন ও খাপ খাইয়ে নিতে পেরেছিল, যার কাজের গতি ছিল দক্ষ যে কোনো মানব অপারেটরের চেয়েও দ্রুত। আক্রমণটি সম্পর্কে সিসডিগ-এর গবেষক মাইকেল ক্লার্ক বলেছেন, “সবচেয়ে বিস্ময়কর বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, এই এলএলএম-এর আচরণ। এ অভিযানটি রিয়াল-টাইমে পরিস্থিতির সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিচ্ছিল এবং কোনো ধাপে ব্যর্থ হলে সংশোধিত প্যারামিটার ব্যবহার করে পুনরায় চেষ্টা করছিল। “এক পর্যায়ে দেখা যায়, লগইন ব্যর্থ হওয়ার পর কেবল ৩১ সেকেন্ডের মধ্যে মডেলটি সমস্যার সমাধান করে সফলভাবে লগইন করে ফেলেছে।” সিসডিগ-এর গবেষকেরা আরও উদ্বেগজনক বিষয় লক্ষ্য করেছেন, যেখানে ভুক্তভোগী ব্যক্তি বা কোম্পানি যদি মুক্তিপণ পরিশোধও করত তবুও তারা নিজেদের হারিয়ে যাওয়া ডেটা আর ফেরত পেতেন না। কারণ এ এআই এজেন্টটি কোনো ব্যাকআপ না রেখেই মূল ডেটা বা তথ্য আগেই সম্পূর্ণ মুছে ফেলেছিল। গবেষণার এসব ফলাফল এখনও পিয়ার রিভিউড না হলেও এতে ক্রমাগত সাইবার ঝুঁকির স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে। এর থেকে প্রমাণ মেলে, মানুষের কোনো রকম তদারকি ছাড়াই জটিল সব সাইবার আক্রমণ চালাতে বিভিন্ন এআই সিস্টেম দিন দিন আরও সক্ষম হয়ে উঠছে। গেল মাসে বিরল এক যৌথ সতর্কবার্তায় পাঁচ দেশের নিরাপত্তা জোট ‘ফাইভ আইস’ বলেছে, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও সরকারগুলোর ওপর বড় ধরনের বিপর্যয় তৈরি করা থেকে এআই এখন কেবল ‘কয়েক মাস দূরে’ রয়েছে। সেই সতর্কবার্তায় আরও বলা হয়েছে, “সামনের দিকের বিভিন্ন এআই মডেল বর্তমান শিল্প খাতের প্রত্যাশাকে ছাড়িয়ে যাবে, যা সাইবার জগতের আক্রমণ ও প্রতিরক্ষা উভয় সক্ষমতাকেই মৌলিকভাবে বদলে দেবে। ফলে পরিস্থিতি ঠেকাতে পুরো কোম্পানি ও সার্বিকভাবে গোটা সমাজকে একসঙ্গে এগিয়ে আসতে হবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।