২০২৭ সালের হজের নিবন্ধনের অর্থ জমাদানের সুবিধার্থে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) ও ২৬ সেপ্টেম্বর (শনিবার) হজ-সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের শাখাগুলো খোলা রাখার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘সুপারভাইজরি ডেটা ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড অ্যানালিটিক্স ডিপার্টমেন্ট (এসডিএডি)’ থেকে এ-সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করা হয়। সার্কুলারটি দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে। সার্কুলারে জানানো হয়, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৭ সালের হজের নিবন্ধনের অর্থ জমাদানের সুবিধার্থে হজ নিবন্ধনের অর্থ গ্রহণকারী ব্যাংকের শাখাগুলো ২৫ ও ২৬ সেপ্টেম্বর স্বাভাবিক সময়সূচি অনুযায়ী খোলা রাখতে হবে। একই সঙ্গে নির্ধারিত লেনদেনের সময় শেষ হওয়ার পরও যতক্ষণ পর্যন্ত হজ নিবন্ধনের অর্থ জমাদানকারী ব্যক্তি উপস্থিত থাকবেন, ততক্ষণ পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করে অর্থ গ্রহণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। ব্যাংক কম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় অর্পিত ক্ষমতাবলে জনস্বার্থে এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
দেশের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত দুটি মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিটের দামে সাম্প্রতিক সময়ে উল্লেখযোগ্য উত্থান দেখা গেছে। তবে এ দরবৃদ্ধির পেছনে কোনো মূল্য সংবেদনশীল তথ্য (পিএসআই) প্রকাশ না হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। ফান্ড দুটি হলো ফনিক্স ফাইন্যান্স ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড এবং প্রাইম ফাইন্যান্স ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য থেকে বিষয়টি জানা গেছে। ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, ফান্ড দুটির ইউনিটের দাম ও লেনদেনের পরিমাণে অস্বাভাবিক পরিবর্তন লক্ষ্য করার পর গত ২২ সেপ্টেম্বর সংশ্লিষ্ট সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানির কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। জবাবে উভয় সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি জানিয়েছে, তাদের কাছে বর্তমানে এমন কোনো অপ্রকাশিত তথ্য নেই, যা ফান্ডের ইউনিটের দাম বা লেনদেনে প্রভাব ফেলতে পারে। অর্থাৎ ইউনিটের সাম্প্রতিক দরবৃদ্ধির সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো অপ্রকাশিত মূল্য সংবেদনশীল তথ্য তাদের কাছে নেই বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানগুলো। ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, ফনিক্স ফাইন্যান্স ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিটের দাম গত তিন মাসে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ২৪ জুন যেখানে প্রতিটি ইউনিটের দাম ছিল ৮ টাকা ৫০ পয়সা, সেখানে ২২ সেপ্টেম্বর তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৮ টাকা ৫০ পয়সায়। অর্থাৎ এ সময়ে ইউনিটপ্রতি দাম বেড়েছে ১০ টাকা বা প্রায় ১১৭ দশমিক ৬৫ শতাংশ। অন্যদিকে, প্রাইম ফাইন্যান্স ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিটের দামও গত এক মাসে বড় ধরনের বৃদ্ধি পেয়েছে। ৩০ আগস্ট ইউনিটটির দাম ছিল ২০ টাকা ৮০ পয়সা। ২২ সেপ্টেম্বর তা বেড়ে হয় ৩১ টাকা ২০ পয়সা। এতে ইউনিটপ্রতি দাম বেড়েছে ১০ টাকা ৪০ পয়সা বা ৫০ শতাংশ। দাম বাড়ার পাশাপাশি ফান্ড দুটির লেনদেনের পরিমাণেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা গেছে। কয়েকটি কার্যদিবসে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেশি ইউনিট লেনদেন হয়েছে। বাজারসংশ্লিষ্টরা সাধারণত কোনো ফান্ডের দামে অস্বাভাবিক পরিবর্তন হলে এর পেছনে কোনো মৌলিক কারণ বা প্রকাশিত তথ্য রয়েছে কি না, তা গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করেন। তবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর দেওয়া ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বর্তমানে এমন কোনো অপ্রকাশিত তথ্য নেই যা এই দরবৃদ্ধির কারণ হিসেবে উল্লেখ করা যায়।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরানের সঙ্গে আমেরিকা-ইসরায়েলের সংঘাতের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও জাহাজ ভাড়া (ফ্রেইট চার্জ) বেড়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে আমদানি-নির্ভর বাংলাদেশের ওপর। ফলে গত ছয় মাসে (মার্চ-আগস্ট) জ্বালানি তেল আমদানিতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে প্রায় ২৩ হাজার কোটি টাকা। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিপিসি’র চেয়ারম্যান ড. মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য ও আমদানি ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। আমদানি ব্যয় বাড়লেও সরকার জনগণের কথা বিবেচনা করে এতদিন জ্বালানি তেলের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখার চেষ্টা করেছে। এতে গত প্রায় ছয় মাসে বিপিসিকে অতিরিক্ত ২৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করতে হয়েছে।’ জ্বালানি বিভাগ জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে মার্চ থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি তেলের দাম এবং ফ্রেইট চার্জ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এ পরিস্থিতি এখনো অব্যাহত রয়েছে। ফলে মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত বিপিসি’র অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। ছয় মাসের এই অতিরিক্ত ব্যয় হিসাবে মাসে গড়ে প্রায় ৩ হাজার ৮১৩ কোটি টাকা করে বিপিসির ওপর বাড়তি চাপ পড়েছে। বিপিসি চেয়ারম্যান বলেন, ‘জ্বালানি তেলের দামের পাশাপাশি পরিবহন ও হ্যান্ডলিং ব্যয়ও বিপুল হারে বেড়েছে। আগে যেখানে জাহাজ ভাড়া ছিল ৩ থেকে ৪ ডলার, বর্তমানে তা বেড়ে ১৫ থেকে ১৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ জাহাজ ভাড়ার ক্ষেত্রেই ব্যয় আগের তুলনায় প্রায় চার থেকে ৫ গুণ বেড়েছে।’ তিনি বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় না করা হলে বিপিসিকে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৩ হাজার ৮০০ থেকে ৪ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় করতে হয়।’ বিপিসি সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণে জ্বালানি তেলের মজুত রয়েছে। আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহে কোনো ধরনের সমস্যা হবে না। পাশাপাশি আমদানি কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে। সূত্র জানায়, বর্তমান আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য অনুযায়ী ডিজেলে বিপিসি’র লিটারপ্রতি লোকসান প্রায় ৭০ টাকা। এ হিসাবে প্রতিদিন লোকসানের পরিমাণ প্রায় ১০৯ কোটি টাকা। শুধু ডিজেলেই বছরে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা লোকসান হতে পারে। বিপিসি চেয়ারম্যান জানান, পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা সমন্বয় করা হলে বিপিসির বছরে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা লোকসান কমানো সম্ভব হবে।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান আবু হেনা রহমাতুল মুনীম ও সাবেক প্রথম সচিব ঈদতাজুল ইসলামের নামে থাকা ২৫টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ (ফ্রিজ) করার আদেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মো. আলমগীর শুনানি শেষে এই আদেশ দেন। দুদকের আইনজীবী তরিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করে তিনি জানান, দুদকের উপপরিচালক মো. সাইদুজ্জামান ২৫টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করেন। আদালতে জমা দেওয়া দুদকের আবেদনে বলা হয়, আবু হেনা রহমাতুল মুনীম, ঈদতাজুল ইসলাম ও অন্যদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগের অনুসন্ধান চলছে। অনুসন্ধানকালে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের এসব ব্যাংক হিসাবে সন্দেহজনক ও অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। দুদকের আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, অভিযোগসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এসব ব্যাংক হিসাবে থাকা অস্থাবর সম্পদ বিভিন্ন মাধ্যমে হস্তান্তর বা বেহাত করার চেষ্টা করছেন। অনুসন্ধান কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার আগেই এই সম্পদ হস্তান্তর, রূপান্তর বা স্থানান্তর হয়ে গেলে সুষ্ঠু অনুসন্ধান কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই অনুসন্ধানের স্বার্থে হিসাবগুলোতে থাকা অস্থাবর সম্পদ অবিলম্বে অবরুদ্ধ করা প্রয়োজন।
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পরও পণ্যের বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে না বলে আশা প্রকাশ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব ঠেকাতে পণ্যের সরবরাহব্যবস্থা সচল রাখা এবং বাজারে নজরদারি জোরদারের ওপর সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সিলেটের লাক্কাতুরা চা বাগানের ফ্যাক্টরি মাঠে চা শ্রমিকদের মধ্যে রেইনকোট বিতরণ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী। খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। অনেক দেশে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্থানীয় বাজারে জ্বালানির দাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিবর্তিত হয়। বাংলাদেশে সরকার দাম নির্ধারণ করায় এখানে মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টি মানুষের কাছে সরাসরি দৃশ্যমান হয়। তিনি বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে পরিবহন ও পণ্য সরবরাহের ব্যয় বাড়ার আশঙ্কা থাকে। সরবরাহব্যবস্থার কোথাও অসংগতি তৈরি হলে তার প্রভাব পণ্যের দামে পড়তে পারে। সরকার এসব জায়গা চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করছে। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এই মূল্যবৃদ্ধির কারণে যেন অন্য পণ্যের ওপর প্রভাব না আসে, মূল্যস্ফীতি না বাড়ে, সে জন্য সরবরাহ শৃঙ্খল যেন নিরবচ্ছিন্ন থাকে, এটির জন্য আমরা কাজ করছি।’ সম্প্রতি আমদানিকারক ও ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বৈঠকের কথাও জানান তিনি। সেখানে পণ্য আমদানি, পরিবহন ও বাজারে সরবরাহের ক্ষেত্রে কোথায় সমস্যা রয়েছে, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, যোগাযোগব্যবস্থা ও সরবরাহ শৃঙ্খলের যেসব জায়গায় অসংগতি রয়েছে, সেগুলো দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলার চেষ্টা চলছে। গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক, উৎপাদনও বাড়ছে গ্যাস সরবরাহ নিয়ে সাম্প্রতিক যে সংকট তৈরি হয়েছিল, সেটিও কেটে গেছে বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। তার ভাষ্য, এফএসআরইউতে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে কিছুদিন গ্যাস সরবরাহে সমস্যা হয়েছিল। বর্তমানে সেই সমস্যা নেই। গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ায় আমদানি করা কাঁচামাল ও পণ্য প্রক্রিয়াজাতকারী কারখানাগুলোও স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরেছে বলে জানান তিনি। খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, চিনি ও সয়াবিনসহ আমদানি করা বিভিন্ন পণ্য দেশে প্রক্রিয়াজাত করা হয়। এসব পণ্যের কারখানাগুলো এখন পুরোদমে চলছে। ফলে বাজারে সরবরাহ নিয়ে বড় ধরনের সংকট হওয়ার কথা নয়। সরবরাহব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা গেলে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে বাজারে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার আশা, পণ্যের দাম স্থিতিশীল থাকবে এবং মূল্যবৃদ্ধির উল্লেখযোগ্য কোনো অভিঘাত বাজারে দেখা যাবে না। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব বিভিন্ন খাতে ছড়িয়ে পড়তে পারে উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাজারে পর্যাপ্ত পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি অসাধু ব্যবসায়ীরা যাতে পরিস্থিতির সুযোগ নিতে না পারে, সেদিকেও নজর রাখা হবে। সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমাতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে বলেও জানান তিনি। চা বাগানের আয় বাড়ানোর উদ্যোগ অনুষ্ঠানে সিলেটের বিভিন্ন চা বাগানের ১ হাজার ৯৮০ জন শ্রমিকের মধ্যে রেইনকোট বিতরণ করা হয়। চা বাগানের আয় বাড়ানোর জন্য সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাগানগুলোকে লাভজনক করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে কয়েক দিন আগেও বৈঠক হয়েছে। চা গাছের ক্ষতি না করে বাগানের জমিতে কাঠ ও মসলাজাতীয় গাছসহ অন্য কোনো গাছ লাগানোর সুযোগ রয়েছে কি না, তা নিয়ে আলোচনা চলছে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি যেসব বাগানে সুযোগ রয়েছে, সেখানে সৌরবিদ্যুতের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনার কথাও জানান। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এসব উদ্যোগের মূল লক্ষ্য বাগানের আয় বাড়ানো। আয় বাড়লে চা শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির সুযোগও তৈরি হবে। চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা, স্কুলবিহীন বাগানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন এবং বাগানের সড়ক সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও মজুরিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে পরিকল্পিতভাবে কাজ করা হচ্ছে।
দেশের শেয়ারবাজারে বহুজাতিক কোম্পানি মারিকো বাংলাদেশ লিমিটেডের শেয়ার থেকে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের টানা বিক্রি অব্যাহত রয়েছে। চলতি বছরের মার্চ থেকে আগস্ট—ছয় মাসে কোম্পানিটির প্রায় ৩ লাখ ১৫ হাজার শেয়ার বিক্রি করেছেন বিদেশি বিনিয়োগকারীরা। এসব শেয়ারের বাজারমূল্য প্রায় ৮৫ কোটি টাকা। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তথ্য অনুযায়ী, মার্চে মারিকো বাংলাদেশের মোট শেয়ারের ১ দশমিক ৯১ শতাংশ বিদেশি বিনিয়োগকারীদের হাতে ছিল। আগস্ট শেষে তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র শূন্য দশমিক ৯১ শতাংশে। অর্থাৎ ছয় মাসে কোম্পানিটির মোট শেয়ারের হিসাবে বিদেশি মালিকানা কমেছে ১ শতাংশ পয়েন্ট। ডিএসইর মাসভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, মার্চের পর থেকেই ধারাবাহিকভাবে মারিকোর শেয়ার কমিয়েছেন বিদেশিরা। এপ্রিলে বিদেশি মালিকানা নেমে আসে ১ দশমিক ৮৫ শতাংশে। মে মাসে তা আরও কমে দাঁড়ায় ১ দশমিক ৮০ শতাংশে। জুনে ১ দশমিক ৫৩ শতাংশ এবং জুলাইয়ে শূন্য দশমিক ৯৯ শতাংশে নামে। সর্বশেষ আগস্টে তা আরও কমে শূন্য দশমিক ৯১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। মারিকোর অন্যতম প্রধান বিদেশি বিনিয়োগকারী নরওয়ের সার্বভৌম সম্পদ তহবিলও কোম্পানিটির শেয়ার কমিয়েছে। বিশ্বের বৃহত্তম এই সার্বভৌম সম্পদ তহবিলের হাতে থাকা মারিকোর শেয়ার ২০২৫ সালে শূন্য দশমিক ৬৭ শতাংশ থেকে ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে কমে শূন্য দশমিক ৫২ শতাংশে নেমে এসেছে। বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, একসময় তালিকাভুক্ত বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর মধ্যে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে পছন্দের শেয়ার হিসেবে বিবেচিত ছিল মারিকো। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সামষ্টিক অর্থনীতির বিভিন্ন চাপের কারণে কোম্পানিটির প্রতি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কিছুটা কমেছে। তাদের মতে, কোম্পানিটির মূল ব্যবসায় বড় ধরনের অবনতি না ঘটলেও সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলছে। তবে বিদেশি মালিকানা কমলেও তালিকাভুক্ত বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর মধ্যে বিদেশি বিনিয়োগের দিক থেকে এখনও তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে মারিকো বাংলাদেশ। এ ক্ষেত্রে কোম্পানিটির ওপরে রয়েছে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ এবং বাটা শু কোম্পানি (বাংলাদেশ)। আগস্ট শেষে মারিকো বাংলাদেশের মোট শেয়ারের ৯০ শতাংশ স্পনসর ও পরিচালকদের হাতে রয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে ৬ দশমিক ৭২ শতাংশ, সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে ২ দশমিক ৩৭ শতাংশ এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে শূন্য দশমিক ৯১ শতাংশ শেয়ার। এদিকে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বিক্রির সময়ে কোম্পানিটির মুনাফাতেও পতন হয়েছে। চলতি ২০২৬ সালের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে মারিকো বাংলাদেশের কর-পরবর্তী নিট মুনাফা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১২ দশমিক ৩৮ শতাংশ কমে ১৭০ কোটি ৪৭ লাখ টাকায় নেমে এসেছে। গত চার বছরের মধ্যে এটাই কোম্পানিটির প্রথম কোনো প্রান্তিকে মুনাফা কমার ঘটনা। তবে একই সময়ে কোম্পানিটির আয় বেড়েছে। এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে মারিকোর রাজস্ব ৪ শতাংশ বেড়ে ৫৩১ কোটি ৮৬ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। কোম্পানি জানিয়েছে, কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি এবং আর্থিক আয় কমে যাওয়ায় মুনাফায় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এ সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) কমে ৫৪ টাকা ১২ পয়সায় নেমেছে, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৬১ টাকা ৭৭ পয়সা। একইভাবে শেয়ারপ্রতি পরিচালন নগদ প্রবাহ ৬৬ টাকা ৭৩ পয়সা থেকে কমে ২০ টাকা ২৮ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। সরবরাহকারীদের অর্থ পরিশোধ বেড়ে যাওয়ায় নগদ প্রবাহে এই চাপ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে কোম্পানি। অন্যদিকে, ৩০ জুন ২০২৬ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভি) বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪৬ টাকা ১৪ পয়সায়। মার্চে এই মূল্য ছিল ৯২ টাকা ২ পয়সা। মুনাফা কমলেও শেয়ারহোল্ডারদের জন্য বড় অঙ্কের অন্তর্বর্তী ক্যাশ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে মারিকো বাংলাদেশ। কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ ৫০০ শতাংশ অন্তর্বর্তী ক্যাশ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে, অর্থাৎ প্রতিটি শেয়ারের বিপরীতে ৫০ টাকা ক্যাশ ডিভিডেন্ড দেওয়া হবে। কোম্পানিটির ভারতীয় মূল কোম্পানি মারিকো লিমিটেডে মুনাফা পাঠানোর ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেও এই উচ্চ ডিভিডেন্ডকে দেখা হচ্ছে।
বাংলাদেশে প্রতি ১০০ জন শিক্ষিত তরুণের মধ্যে ৩৬ জন বেকার। শিক্ষিত তরুণদের মধ্যে বেকারত্বের হার ৩৬ শতাংশ। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। আইএমএফের ফিন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ম্যাগাজিনের সেপ্টেম্বর সংস্করণে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। আইএমএফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এশিয়াজুড়ে তরুণদের মধ্যে বেকারত্বের হার বেশ বেশি। বেশি শিক্ষিত তরুণদের মধ্যেই এই হার সর্বোচ্চ। প্রথম আলোর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে। আইএমএফ বলছে, এআই প্রবৃদ্ধি ও উৎপাদনশীলতা বাড়াতে পারে, তবে দক্ষতা বৃদ্ধির তুলনায় এআই গ্রহণের গতি বেশি হলে এই প্রযুক্তি তরুণ কর্মীদের শ্রমবাজারের ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। শুধু বাংলাদেশ নয়; ভারত, শ্রীলঙ্কা, ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, ফিলিপাইনসহ বিভিন্ন দেশের শিক্ষিত তরুণদের মধ্যে বেকারত্বের হার কত, তা–ও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। বাংলাদেশে শিক্ষিত বেকার বেশি কেন দেশের শিক্ষিত তরুণদের চাকরি খোঁজার অন্যতম অনলাইন প্ল্যাটফর্ম হলো বিডিজবস ডটকম। কেন বাংলাদেশে শিক্ষিত তরুণদের মধ্যে বেকার বেশি—এ বিষয়ে বিডিজবস ডটকমের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফাহিম মাশরুর প্রথম আলোকে বলেন, গত ২০ বছরে স্নাতক ডিগ্রিধারী বেশ বেড়েছে। ২০১০ সালে শ্রমশক্তির মাত্র ৩ দশমিক ৯ শতাংশ স্নাতক ডিগ্রিধারী ছিল। ২০২২ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ শতাংশ। এক যুগে এমন স্নাতক ডিগ্রিধারী আড়াই গুণ বেড়েছে। কিন্তু চাকরির বাজার খুব একটা বদলায়নি। অর্থনৈতিক কাঠামোও পরিবর্তন হয়নি। নতুন স্নাতক ডিগ্রিধারী নেওয়ার মতো নতুন শিল্পকারখানা তৈরি হয়নি। ফাহিম মাশরুরের মতে, প্রতিবছর ২২ থেকে ২৩ লাখ তরুণ-তরুণী শ্রমবাজারে আসেন। তাঁদের মধ্যে সাড়ে সাত লাখ তরুণ স্নাতক ডিগ্রিধারী। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ২০২৪ সালের শ্রমশক্তি জরিপ অনুসারে, দেশে ২৬ লাখ ২৪ হাজার বেকার আছেন। তাঁদের মধ্যে ২০ লাখ ৩২ হাজার তরুণ-তরুণী। যাঁদের বয়স ১৫ থেকে ২৯ বছর। এই বেকারদের মধ্যে প্রায় ২৯ শতাংশই উচ্চশিক্ষিত বা স্নাতক ডিগ্রিধারী। বিবিএসের তথ্য-উপাত্ত বলছে, চাকরিপ্রত্যাশী ১৭ শতাংশের বেশি উচ্চ শিক্ষিত (স্নাতক ডিগ্রিধারী) তরুণ-তরুণী দুই বছরের বেশি সময় ধরে বেকার থাকেন। ১ থেকে ২ বছর বেকার থাকেন ১৫ শতাংশের বেশি উচ্চশিক্ষিত তরুণ। এর মানে, উচ্চশিক্ষিত তরুণদের প্রতি তিনজনে একজনকে এক বছরের বেশি সময় বেকার থাকেন। অন্য দেশের কী অবস্থা আইএমএফের প্রতিবেদন অনুসারে, শ্রীলঙ্কায় শিক্ষিত তরুণদের মধ্যে ৪৩ শতাংশ বেকার থাকেন। আর ভারতে তা ৪০ শতাংশের বেশি। এ ছাড়া ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও ফিলিপাইনে এমন বেকারত্বের হার ২০ শতাংশের বেশি। আইএমএফ বলছে, উচ্চশিক্ষিত তরুণেরা তাঁদের যোগ্যতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ চাকরি খুঁজে পেতে হিমশিম খাচ্ছেন। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার শ্রমবাজারে এআইয়ের ব্যবহার বাড়তে থাকায় আগামী বছরগুলোতে উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন কর্মীদের চাকরির সুযোগ কমে যেতে পারে, এমন আশঙ্কা অনেকের। আইএমএফ বলছে, সমস্যাটি শুধু বেকারত্বের সংখ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। চাকরির সুযোগ থাকা সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও স্নাতকদের দক্ষতার মধ্যে একটি স্থায়ী অসামঞ্জস্য রয়েছে। এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) মডেল ব্যবহার করে জটিল অনেক কাজ বিনা মূল্যে করিয়ে নেওয়া যায়। ফলে প্রতিষ্ঠানের বেতনভুক্ত অনেক প্রাথমিক পর্যায়ের কারিগরি পদের প্রয়োজন কমে যাচ্ছে। আইএমএফের প্রতিবেদন অনুসারে, আগামী এক দশকে উন্নয়নশীল অর্থনীতিগুলোতে প্রায় ১২০ কোটি মানুষ শ্রমবাজারে প্রবেশ করবে। অর্ধশতাব্দীর বেশি আগে বিশ্বের উদীয়মান বাজার ও উন্নয়নশীল অর্থনীতিগুলোতে কর্মজীবনে প্রবেশের অপেক্ষায় থাকা তরুণ-তরুণীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৫০ কোটি। এর আগে গত জুনে প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের দ্য গ্লোবাল জবস চ্যালেঞ্জ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই তরুণ-তরুণীরা সম্ভবত ইতিহাসের সবচেয়ে বড় যুবগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করবে। আগের যেকোনো দশকের তুলনায় এই সংখ্যা বেশি হবে এবং এই শতাব্দীর বাকি সময়ের যেকোনো দশকের পূর্বাভাসের চেয়েও বেশি হবে।
টানা সাড়ে পাঁচ বছরের মধ্যে এই মুহূর্তে মার্কিন ডলারের বিপরীতে বাংলাদেশের মুদ্রা সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রার তারল্য পরিস্থিতির উন্নতি ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধির ফলে স্থানীয় মুদ্রার ওপর চাপ কমেছে। এতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতার নতুন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুন থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত এক বছরে ডলারের বিপরীতে টাকার মূল্য পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে ০.০৬ শতাংশ বেড়েছে। চলতি বছরের ৩০ আগস্ট থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টাকার মূল্য আরও ০.৭৭ শতাংশ বেড়েছে। এ সময় ডলারের বিনিময় হার ১২৩ টাকা ৯৫ পয়সা থেকে কমে ১২৩ টাকায় নেমে এসেছে। এর মধ্য দিয়ে সাড়ে পাঁচ বছর ধরে চলা টাকার মূল্যমানের ধারায় পরিবর্তন আরও স্পষ্ট হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে ডলারের দর ছিল ৮৫ টাকা ৮০ পয়সা। ধারাবাহিকভাবে বেড়ে তা ১২৩ টাকা ৯৫ পয়সায় উঠেছিল। তবে চলতি বছরের দ্বিতীয়ার্ধে এসে সেই প্রবণতা ঘুরতে শুরু করেছে। এ বিষয়ে এনআরবিসি ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও আর্থিক খাতের বিশ্লেষক মো. আলী হোসেন প্রধানিয়া বলেন, ‘রেমিট্যান্স প্রবাহ ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ার পাশাপাশি টাকার শক্তিশালী হওয়া দেশের বৈদেশিক খাতে স্থিতিশীলতা বাড়াতে সহায়তা করবে।’ তিনি বলেন, ‘রেমিট্যান্সের প্রবাহ বাড়ায় আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং চ্যানেলে বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহও বাড়ছে। একই সঙ্গে রিজার্ভ বাড়ায় আমদানি ও অন্যান্য বৈদেশিক পরিশোধের দায় মেটাতে দেশের সক্ষমতা বাড়ছে।’ তার মতে, এতে বিদেশি ও আমদানিকারকদের কাছে দেশের একটি ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি হবে’। বিনিময় হার আরও স্থিতিশীল হলে বিদেশি বিনিয়োগকারী এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ীদের আস্থাও বাড়বে। আলী হোসেন প্রধানিয়া বলেন, ‘টাকা শক্তিশালী হওয়ায় জ্বালানি, খাদ্য, শিল্পের কাঁচামাল, যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য আমদানি উপকরণের জন্য স্থানীয় মুদ্রায় ব্যয় কমবে। এতে ব্যবসায়ীদের আমদানি ব্যয় ব্যবস্থাপনা সহজ হবে এবং দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে ব্যয়ের চাপও কমতে পারে।’ তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম অস্থির থাকলেও আমদানির ক্ষেত্রে ডলারে পরিশোধ করা অর্থের বিপরীতে তুলনামূলক কম টাকা ব্যয় করতে হলে মূল্যস্ফীতির চাপও কিছুটা কমতে পারে।’ বৈদেশিক মুদ্রার প্রাপ্যতা বাড়ায় আমদানিকারকদের বৈধ ঋণপত্র (এলসি) খোলা ও পরিশোধ করাও সহজ হবে। আগের মতো ডলারের সংকটে বৈদেশিক পরিশোধে যে চাপ তৈরি হয়েছিল, তা এড়ানো সম্ভব হবে বলে মত প্রকাশ করেন তিনি। রেমিট্যান্সের ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধিকে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এটি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার একটি স্থিতিশীল উৎস হিসেবে কাজ করছে এবং লেনদেনের ভারসাম্যকে শক্তিশালী করছে।’ তবে টাকার বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখতে রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয় বাড়ানো, আমদানি ব্যবস্থাপনায় সতর্কতা এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ধারাবাহিকভাবে বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। তিনি বলেন, ‘আমি আশা করি, এই প্রবণতা অব্যাহত থাকবে।’ বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রার তারল্য পরিস্থিতির উন্নতি এবং বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেনে নিবিড় নজরদারির ফলে দেশের বৈদেশিক খাতের অবস্থানে উন্নতি হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক রেমিট্যান্স প্রবাহ, আমদানি পরিশোধ এবং বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। এর ফলে বাড়তি ডলারের সরবরাহ যাতে আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং চ্যানেলে যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয় এবং বৈধ বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা নির্বিঘ্নে পূরণ হয়, তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।’ একই সঙ্গে অর্থপাচার, বাণিজ্যভিত্তিক আর্থিক অনিয়ম এবং বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের অপব্যবহার ঠেকাতেও লেনদেন পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ব্যাংক ও অনুমোদিত ডিলার শাখাগুলোর নিয়মিত তদারকিও অব্যাহত রয়েছে। রেমিট্যান্স সম্পর্কে আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘আনুষ্ঠানিক চ্যানেলে প্রবাসী আয় বাড়ায় বৈদেশিক মুদ্রার তারল্য পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে এবং দেশের বৈদেশিক অবস্থানও শক্তিশালী হচ্ছে।’ আমদানি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘প্রকৃত আমদানির প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি অনিয়ম বন্ধে আমদানি-সংশ্লিষ্ট বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।’ আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘বাজারে বৈদেশিক মুদ্রার তারল্য বাড়ার সময় বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন ব্যাংক থেকে বৈদেশিক মুদ্রা কিনেছে। এতে আগের বৈদেশিক মুদ্রার চাপের সময়ে কমে যাওয়া রিজার্ভ পুনর্গঠনেও সহায়তা হয়েছে।’ তার মতে, ‘রিজার্ভের শক্তিশালী অবস্থান ও বৈদেশিক মুদ্রার তারল্য বৃদ্ধি বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের জন্য ইতিবাচক। একই সঙ্গে আমদানি ও অন্যান্য বৈদেশিক পরিশোধের দায় মেটাতে দেশের সক্ষমতাও বাড়িয়েছে।’ বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে ৭.৭০২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এ প্রবাহ বেড়েছে ১৩.৮ শতাংশ। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি হয়েছে। গত ৮ সেপ্টেম্বর দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৬.৪৪ বিলিয়ন ডলারে। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে যা ছিল ২৪.৮৬ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ দুই বছরে রিজার্ভ বেড়েছে ৪৬.৬ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের বিপিএম৬ পদ্ধতিতে হিসাব করা রিজার্ভ একই সময়ে ৫৮.৮ শতাংশ বেড়ে ৩১.৫৩ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। অর্থনীতির জন্য টাকার সাম্প্রতিক শক্তিশালী হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। কারণ তুলনামূলক শক্তিশালী টাকা থাকলে জ্বালানি, খাদ্য, শিল্পের কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতির মতো আমদানি পণ্যের স্থানীয় মুদ্রায় ব্যয় কমে। একই সঙ্গে বিদেশি মুদ্রায় নেওয়া দায় পরিশোধের ক্ষেত্রেও টাকার হিসাবে ব্যয়ের চাপ কমে। রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রার তারল্য পরিস্থিতির উন্নতি ও রিজার্ভ বৃদ্ধির সঙ্গে টাকার সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক খাতের অবস্থান শক্তিশালী হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। ফলে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে দেশের সক্ষমতাও বাড়ছে।
জ্বালানি তেলের দাম এক লাফে লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানোর পরও রাজধানীর বাজারে তাৎক্ষণিক বড় কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। তবে পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, এতে পণ্য পরিবহন খরচ বেড়ে গিয়ে বাজারে ঊর্ধ্বগতির শঙ্কা তৈরি হয়েছে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কয়েকটি বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য জানা গেছে। তবে গতকাল ও আজকের মধ্যে অধিকাংশ পণ্যের দামে তেমন কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। খুচরা বিক্রেতা ও বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলেন, জ্বালানি তেলের বাড়তি দাম পরিবহন খরচে পুরোপুরি প্রতিফলিত হতে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে। এরপর ধীরে ধীরে নিত্যপণ্যের বাজারে এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সরকার রোববার রাতে ডিজেল, অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিনের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। নতুন দামে প্রতি লিটার ডিজেল ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা এবং অকটেন ১৬৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন দাম ২১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হয়েছে। কয়েকটি খুচরা বাজার ঘুরে দেখা যায়, চাল, ডাল, আটা, ময়দা, চিনি, তেল, সবজি, মাছ ও মাংসের দামে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব এখনো স্পষ্ট নয়। বিক্রেতারা বলছেন, আজকের বাজারে যে পণ্য বিক্রি হচ্ছে, তার বড় অংশ আগেই পরিবহন করে বাজারে আনা হয়েছে। ফলে নতুন জ্বালানি দরে পরিবহন খরচের হিসাব এখনো পুরোপুরি যুক্ত হয়নি। মালিবাগ বাজারের সবজি বিক্রেতা আবু হোসেন বলেন, ‘আজ আলাদা করে দাম বাড়ানোর মতো পরিস্থিতি হয়নি। তবে পাইকারি বাজার থেকে আগামী দু-একদিনে বেশি দামে পণ্য কিনতে হলে খুচরা দামও বাড়াতে হবে।’ রামপুরার এক মুদি দোকানি বলেন, ‘পরিবহন খরচ বাড়লে শুধু একবার পণ্য আনার খরচ বাড়বে না। পাইকার থেকে খুচরা—প্রতিটি ধাপে খরচ বাড়বে। তখন পণ্যের দামে সেটার প্রভাব পড়বে।’ বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলেন, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব সবচেয়ে আগে পড়তে পারে পণ্য পরিবহনে। কৃষিপণ্য উৎপাদন থেকে শুরু করে তা জেলা বা মোকামে নেওয়া, সেখান থেকে রাজধানীর পাইকারি বাজারে আনা এবং পরে খুচরা দোকানে পৌঁছানো—প্রতিটি ধাপেই পরিবহন ব্যবস্থার ওপর নির্ভরতা রয়েছে। ফলে ডিজেলের দাম বাড়ার প্রভাব একধাপে না এসে কয়েকটি ধাপে বাজারে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এসব বিষয়ে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন, এ ঘোষণার পর মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। কারণ জ্বালানি তেলের দামের সঙ্গে মানুষের জীবন-জীবিকার প্রায় সব বিষয়ই আন্তঃসম্পর্কিত। নাজের হোসাইন বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে শিল্প-কলকারখানা, অফিস-আদালত, ব্যবসা-বাণিজ্য ও বাসাবাড়িসহ সব জায়গায়ই খরচ বাড়বে। এসব খরচ বাড়লে শেষ পর্যন্ত বাড়তি টাকা ভোক্তার পকেট থেকেই যাবে। এতে মানুষের খরচের পাল্লা ভারী হবে। একইসঙ্গে অন্যান্য পণ্য ও সেবার সঙ্গে জ্বালানি তেলের সম্পর্ক থাকায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও আরেক দফা বাড়তে পারে। তিনি বলেন, এর আগে ব্যবসায়ীরা ইরান-সংকটসহ বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে পণ্যের দাম বাড়িয়েছেন। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের দাম দফায় দফায় বাড়ার কারণ দেখিয়েও তারা বিভিন্ন সময়ে দাম বাড়িয়েছেন। এবারও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে তারা আরেক দফা দাম বাড়াবেন। এরই মধ্যে চিনি, সয়াবিন তেল, ময়দা, আটা, গরুর দুধসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বেড়েছে। এখন এসব পণ্যের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ঊর্ধ্বমুখী বাজার পরিস্থিতির ছাপ পড়েছে রং ও হার্ডওয়্যার সরঞ্জামের বাজারেও। দুই বছরের ব্যবধানে রকমভেদে রং ও বিভিন্ন সরঞ্জামের দাম বেড়েছে ১০ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত। এমনকি গত ছয় মাসের ব্যবধানে দুই দফায় বেড়েছে রঙের দাম। বাজারের এই অস্থিরতার কারণ হিসেবে জ্বালানি তেল, লোহা ও ডলারের মূল্যবৃদ্ধিসহ বৈশ্বিক যুদ্ধাবস্থাকে দায়ী করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। সবশেষ রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় আগামী মাসে আরও এক দফা মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই বাজার পরিস্থিতির কারণে প্রভাব পড়ছে কেনাবেচায়ও। যশোরের হার্ডওয়্যার বাজার ঘুরে এমন চিত্র উঠে এসেছে। যশোর শহরে ছোট-বড় মিলিয়ে দুই শতাধিক হার্ডওয়্যার ও রঙের দোকান রয়েছে। এর মধ্যে যশোর হার্ডওয়্যার দোকান মালিক সমিতির সদস্য সংখ্যা ১২০। শহরের বিভিন্ন হার্ডওয়্যার দোকান ঘুরে দেখা গেছে, এখানে সাধারণ ডিসটেম্পার প্রতি গ্যালন (৩ দশমিক ৬৪ লিটার) ৫০০-৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ছয় মাস আগে এই রঙের দাম ছিল ৪৫০-৬০০ টাকা। প্লাস্টিক পেইন্ট ১৩০০-১৮০০ টাকা গ্যালন দরে বিক্রি হচ্ছে। ছয় মাসে আগে এই রং ১১০০-১৬০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। রঙের কাজে ব্যবহৃত তারপিন (৪ লিটার) বিক্রি হচ্ছে ১১০০ টাকায়, যা ছয় মাস আগে ছিল ৯৬০ টাকা। ইমালশন রং, কোম্পানিভেদে এটি ‘ওয়েদার কোট’ নামেও পরিচিত। এই রং প্রতি গ্যালন ১৭০০-২০০০ টাকা এবং ১৮ লিটারের ড্রাম ৭৮০০-১০০০০ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে। যা আগে গ্যালন ১৫০০-১৮০০ টাকা এবং ড্রাম ৬-৯ হাজার টাকার মধ্যে ছিল। তবে কোম্পানি ও পেইন্টের কালারভেদে বাজারে দামেরও কিছু তারতম্য রয়েছে। যশোরের বাজারে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে বার্জার ও এশিয়ান পেইন্টের রং। এর বাইরে এলিট পেইন্ট, রক্সি, ডুলাক্সসহ আরও কয়েকটি কোম্পানির পণ্য রয়েছে। যশোর শহরের চিত্রা মোড়ের কালাম হার্ডওয়্যার স্টোরের স্বত্বাধিকারী মো. আবুল কালাম জানান, গত ছয় মাসে রং-তারপিনের দাম দুই দফায় বেড়েছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে কোম্পানিগুলো রঙের দাম বাড়িয়েছে। কোনো কোনো রঙের দাম ২০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। ফলে বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। বেচাকেনা অনেক কমে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে রঙের কাজ করা শহরের শংকরপুর এলাকার রংমিস্ত্রি মোহাম্মদ আলী জানান, বর্ষা চলে গেলে রঙের কাজ বেশি হয়। সামনেই সেই সিজন। কিন্তু জিনিসের দাম বেড়ে গেলে অনেকে কাজ করাতে চান না। ফলে বাজারও যেমন মন্দা হয়, তেমনি তারাও কাজের অভাবে পড়েন। বাজারে রং ছাড়াও হার্ডওয়্যার পণ্যের মধ্যে পেরেক বা তারকাঁটা প্রতিকেজি ১২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। যদিও কয়েক মাস আগে এই পেরেকের দাম ১৬০ টাকা পর্যন্ত কেজি পৌঁছেছিল। অবশ্য দুই বছর আগে পেরেকের দাম ৮০-৯০ টাকা কেজি ছিল। আর তার (রড বাঁধার কাজে ব্যবহৃত) প্রতিকেজি ১২০ টাকা থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এই তারের দামও ১৬০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। দুই বছর আগে এর দাম ছিল ১০০ টাকার নিচে। পাশাপাশি হার্ডওয়্যারের অন্যান্য সামগ্রী, যেমন-দরজার কবজা, ছিটকিনি, হ্যাজবোল্টসহ প্রায় সব পণ্যেরই কমবেশি দাম বেড়েছে। যশোরের হাটখোলা রোডের হার্ডওয়্যার পণ্য বিক্রেতা নিউ যশোর ট্রেডিংয়ের স্বত্বাধিকারী অখিল রায় বলেন, ‘রডের দাম বাড়লে অনেক হার্ডওয়্যার পণ্য বিশেষ করে পেরেক, তারের দাম বেড়ে যায়। রডের দাম যখন ১০৮ টাকা কেজিতে পৌঁছেছিল, তখন পেরেক-তারের দাম ১৬০ টাকায় গিয়ে ঠেকেছিল। এখন একটু কমেছে। আর হার্ডওয়্যারের অন্যান্য পণ্য যেগুলো বিদেশ থেকে আসে, সেগুলোর দাম ডলারের দামের ওপরেও নির্ভর করে। তবে সব পণ্যের দামই গড়ে ২০ টাকা হারে বেড়ে গেছে।’ যশোর হার্ডওয়্যার দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মানিক চন্দ্র কর। তিনি জানান, গত ছয় মাসে দুই দফায় রঙের দাম বেড়েছে। সবশেষ রোববার মধ্যরাতে ফের জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় অক্টোবরে রঙের দাম আরও এক দফা বৃদ্ধির আভাস রয়েছে। বড় কোম্পানিগুলো দাম বাড়িয়ে দিলে সঙ্গে সঙ্গে অন্যরাও দাম বাড়িয়ে দেন। তিনি বলেন, মূলত বর্ষা মৌসুম পার হলে কাজ বাড়ে। তখন রংসহ হার্ডওয়্যার পণ্যের চাহিদাও বাড়ে। এখন এমনিতেই মূল্যবৃদ্ধির কারণে বাজার পরিস্থিতি মন্দা। তার ওপর আগামী মাসে আবার দাম বাড়লে কী হবে তা নিয়ে তারা শঙ্কায় রয়েছেন।
চলতি সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম ১৯ দিনে দেশে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স এসেছে ১৮০ কোটি ৭০ লাখ ৭০ হাজার মার্কিন ডলার, যা দেশীয় মুদ্রায় দাঁড়ায় ২৩ হাজার ৮৭ কোটি ৯৬ লাখ ১০ হাজার টাকা (প্রতি ডলার ১২৩ টাকা হিসাবে)। এ রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি সেপ্টেম্বরের প্রথম ১৯ দিনে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে প্রবাসী আয় এসেছে ১৩৬ কোটি ৯ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৩৪ কোটি ৬৬ লাখ ৬০ হাজার ডলার ও বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ১৬ কোটি ৫৫ লাখ ডলার। এ ছাড়া বিদেশি ব্যাংকগুলোর শাখার মাধ্যমে প্রবাসী আয় এসেছে ৩৯ লাখ ৪০ হাজার ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, এই ১৯ দিনে দেশের ব্যাংকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রবাসী আয় এসেছে ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে। ব্যাংকটির মাধ্যমে প্রবাসী আয় এসেছে ৩২ কোটি ৮২ লাখ ৫০ হাজার ডলার। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে অগ্রণী ব্যাংক। এই ব্যাংকটির মাধ্যমে এসেছে ১৬ কোটি ৬৫ লাখ ৯০ হাজার ডলার। পরের অবস্থানে থাকা বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ১৬ কোটি ৫৫ লাখ ডলার। এরপর ব্র্যাক ব্যাংকের মাধ্যমে ১১ কোটি ৯৮ লাখ ৮০ হাজার ডলার এসেছে।
দেশে গ্যাসের উৎপাদন বেড়ে ২ হাজার ৬০০ দশমিক ১ মিলিয়ন ঘনফুটে (এমএমসিএফডি) দাঁড়িয়েছে। ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ১৮ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার হিসাবে এ উৎপাদন হয়েছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) পেট্রোবাংলার দৈনিক গ্যাস ও কনডেনসেট উৎপাদন এবং বিতরণ প্রতিবেদনে এ তথ্য পাওয়া গেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ১১৯টি উৎপাদনশীল কূপ রয়েছে। এসব কূপের গ্যাস উৎপাদন সক্ষমতা ৩ হাজার ৮৫৪ এমএমসিএফডি। এর বিপরীতে উৎপাদন হয়েছে ২ হাজার ৬০০ দশমিক ১ এমএমসিএফডি। দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি উৎপাদন করেছে আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানিগুলো (আইওসি)। তাদের ৪৩টি উৎপাদনশীল কূপের সক্ষমতা ১ হাজার ৬১৫ এমএমসিএফডি। এসব কূপ থেকে গ্যাস উৎপাদন হয়েছে ৮৯১ দশমিক ৫ এমএমসিএফডি। বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেডের (বিজিএফসিএল) ৪৪টি উৎপাদনশীল কূপের সক্ষমতা ৮৫১ এমএমসিএফডি। প্রতিষ্ঠানটি উৎপাদন করেছে ৪৮২ দশমিক ৩ এমএমসিএফডি। এর মধ্যে তিতাস গ্যাসক্ষেত্র থেকে ৩২৯ দশমিক ৪ এমএমসিএফডি, হবিগঞ্জ থেকে ১০০ দশমিক ১, বাখরাবাদ থেকে ২৬ দশমিক ৪, নরসিংদী থেকে ২২ দশমিক ২ এবং মেঘনা থেকে ৪ দশমিক ২ এমএমসিএফডি গ্যাস উৎপাদন হয়েছে। সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেডের (এসজিএফএল) ১৭টি উৎপাদনশীল কূপের সক্ষমতা ১৪৩ এমএমসিএফডি। প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন ১৪০ দশমিক ৫ এমএমসিএফডি। অন্যদিকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেডের (বাপেক্স) ১৫টি উৎপাদনশীল কূপের সক্ষমতা ১৪৫ এমএমসিএফডি হলেও উৎপাদন হয়েছে ১০৩ দশমিক ৭ এমএমসিএফডি। প্রতিবেদনে আরও দেখা যায়, এলএনজি আমদানির মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহকারী আরপিজিসিএল ১ হাজার ১০০ এমএমসিএফডি সক্ষমতার বিপরীতে ৯৮২ দশমিক ১ এমএমসিএফডি গ্যাস সরবরাহ করেছে। মোট গ্যাস সরবরাহের ৩৭ দশমিক ৮ শতাংশ এসেছে এলএনজি থেকে। এদিকে ২৪ ঘণ্টায় গ্যাস উৎপাদনের পাশাপাশি ৫ হাজার ৬৯৫ ব্যারেল কনডেনসেট উৎপাদন হয়েছে। এর মধ্যে আইওসিগুলোর গ্যাসক্ষেত্র থেকে এসেছে ৪ হাজার ৬৪৯ দশমিক ৭ ব্যারেল, বিজিএফসিএল থেকে ৩৭৭ ব্যারেল, এসজিএফএল থেকে ৬১১ দশমিক ১ ব্যারেল এবং বাপেক্সের ক্ষেত্রগুলো থেকে ৫৭ দশমিক ১ ব্যারেল কনডেনসেট উৎপাদন হয়েছে।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সফর উপলক্ষে আগামী সপ্তাহে একটি রাষ্ট্রীয় নৈশভোজ আয়োজন করতে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প, যেখানে প্রযুক্তি খাতের বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতাও থাকবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ তালিকায় ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) স্যাম অল্টম্যান এবং অ্যাপলের নির্বাহী চেয়ারম্যান টিম কুকের মতো ব্যক্তির নাম থাকার খবর এসেছে সংবাদমাধ্যমে। এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জেনসেন হুয়াংও থাকবেন বলে ফক্স নিউজের খবরে বলা হয়েছে। ট্রাম্প-শির রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে প্রযুক্তি খাতের নেতাদের সম্ভাব্য উপস্থিতির খবরটি এমন সময় এলো, যখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির উন্নয়ন, এর পরিচালনা ও চিপ নিয়ে বিশ্বরাজনীতিতে বেশ উত্তেজনা চলছে। এসব বিষয় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন এমন প্রতিযোগিতায় নেমেছে, যেখানে দুই পরাশক্তিই আরও উন্নত এআই প্রযুক্তি উদ্ভাবন করতে চাইছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সক্ষমতা বাড়াতে বিশেষায়িত যেসব চিপ রয়েছে, সেগুলোতে চীনের প্রবেশাধিকার সীমিত করে দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। এর অংশ হিসেবে চীনে এনভিডিয়ার তৈরি চিপ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। হুয়াং এ ধরনের নিষেধাজ্ঞার সমালোচনা করে আসছেন। গত মে মাসে তিনি এ কথাও বলেন যে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা থাকলেও চীনের কাছে প্রয়োজনীয় ‘সব চিপই’ আছে। প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিকের মতো মার্কিন কোম্পানিগুলো ‘ফ্রন্টিয়ার মডেল’ ব্যবহার করে আসছে। এসব মডেল লাইসেন্স ছাড়া এগুলো ব্যবহারের সুযোগ নেই। অন্যদিকে, চীনের প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো ফ্রন্টিয়ার মডেলের সঙ্গে তাল মেলাতে ‘ডিস্টিলেশন’ পদ্ধতি ব্যবহার করছে। এ পদ্ধতিতে মূলত উন্মুক্ত মডেলের জ্ঞান ও সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে শক্তিশালী এই মডেল তৈরি করা হয়। মানুষের ওপর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব কীভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়, তা নিয়ে অল্টম্যান ও প্রযুক্তি খাতের নেতারা আলোচনা চালিয়ে আসছেন। সম্প্রতি হুয়াং সাংবাদিকদের বলেন, “নিরাপদভাবে প্রযুক্তি উদ্ভাবন করা এবং এর যথাযথ পরীক্ষা চালানোর দায়িত্ব এআই কোম্পানিগুলোর ওপরেই পড়ে। কোনো প্রযুক্তি প্রস্তুত না হলে সেটি প্রকাশ করা ঠিক না। নিজের সাধ্যের গতিতে এগোতে হবে, তার চেয়ে বেশি গতিতে নয়।” বিদেশি কোনো নেতাকে সর্বোচ্চ পর্যায়ের যেসব কূটনৈতিক সম্মান দেওয়া হয়, রাষ্ট্রীয় নৈশভোজ তার একটি। গত মে মাসে চীন সফরের সময় ট্রাম্পের সম্মানে রাষ্ট্রীয় নৈশভোজ আয়োজন করেছিলেন শি। ওই অনুষ্ঠানেও ইলন মাস্ক, হুয়াং ও কুক উপস্থিত ছিলেন। তখন কুক ছিলেন অ্যাপলের সিইও পদে। সম্প্রতি তিনি কোম্পানিটির নির্বাহী চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিয়েছেন। দ্বিতীয় মেয়াদে মার্কিন প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি হতে যাচ্ছে ট্রাম্পের আয়োজনে দ্বিতীয় রাষ্ট্রীয় নৈশভোজ। এর আগে ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লস ও রানি ক্যামিলার সফর উপলক্ষে তিনি প্রথম রাষ্ট্রীয় নৈশভোজের আয়োজন করেছিলেন। প্রথম মেয়াদে ২০১৮ সালে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাক্রোঁ এবং ২০১৯ সালে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসনের সম্মানে রাষ্ট্রীয় নৈশভোজ আয়োজন করেছিলেন ট্রাম্প।
সরকারের গ্যারান্টি থাকা সত্ত্বেও সঞ্চয়কারীদের আগ্রহ হারাচ্ছে প্রাইজবন্ড। একদিকে নতুন করে প্রাইজবন্ড কেনা কমেছে, অন্যদিকে এ খাত থেকে মূল অর্থ ও পুরস্কারের অর্থ দেওয়ার পরিমাণও তলানিতে ঠেকেছে। ফলে প্রাইজবন্ড থেকে সরকারের সরাসরি ঋণ পাওয়ার সুযোগ সংকুচিত হয়ে এসেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রচারের অভাব এবং বাজারে আরও সহজলভ্য ও লাভজনক বিকল্প সঞ্চয় মাধ্যম থাকায় প্রাইজবন্ডের প্রতি মানুষের এই অনীহা। পরিস্থিতি সামাল দিতে ও প্রাইজবন্ডকে আবার জনপ্রিয় করতে ১ হাজার টাকা মূল্যমানের নতুন প্রাইজবন্ড চালুর পাশাপাশি পুরস্কারের অঙ্ক বড় করার প্রস্তাব দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। জনগণের জন্য সরকারের বিনিয়োগ প্রকল্প বা সঞ্চয়ী উপকরণ হিসেবে ১৯৭৪ খ্রিষ্টাব্দে প্রথম প্রাইজবন্ড চালু করা হয়। বর্তমানে বাজারে ১০০ টাকা মূল্যমানের প্রাইজবন্ড চালু রয়েছে। ১৯৯৫ খ্রিষ্টাব্দে এটি চালু করা হলেও প্রথমদিকে ১০ টাকা ও ৫০ টাকা মূল্যমানের প্রাইজবন্ড ছিল। মূল্যস্ফীতির হার বাড়ার কারণে সেগুলো ১৯৯৫ খ্রিষ্টাব্দে বাতিল করা হয়। শুরুর দিকে এই বন্ড বিয়ে, জন্মদিন বা নানা পারিবারিক উৎসবে উপহার হিসাবে দেওয়ার রেওয়াজ ছিল। প্রিয়জনদের নানা উপলক্ষ্যেও দেওয়া হতো প্রাইজবন্ড। কারণ এটি বেশ সহজলভ্য। একই সঙ্গে যার হাতে যাবে সেই হবে এর মালিক। সময়ের বিবর্তনে এর গুরুত্ব ও জনপ্রিয়তা কমেছে। নগদ টাকার বিনিময়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের যে কোনো শাখা অফিস, বাণিজ্যিক ব্যাংকের শাখা, ডাকঘর ও জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের যে কোনো শাখা থেকে খুব সহজে নগদ টাকার বিনিময়ে প্রাইজবন্ড কেনা যায়। এটি কেনার ক্ষেত্রে কোনো বিনিয়োগ সীমা নেই। এতে কোনো সুদ বা মুনাফা দেওয়া হয় না। তবে প্রতি তিন মাস পরপর বছরে চারবার এর লটারির ড্র অনুষ্ঠিত হয়। এর মাধ্যমে পুরস্কার দেওয়া হয়। প্রাইজবন্ডের ৪৬টি সিরিজ রয়েছে। অর্থাৎ প্রতিটি নম্বরের ৪৬টি প্রাইজবন্ড আছে। প্রতি সিরিজের জন্য রয়েছে পুরস্কার। মোট ৪৬টি পুরস্কার দেওয়া হয়। এর মধ্যে প্রথম পুরস্কার ১টি ৬ লাখ টাকা, দ্বিতীয় পুরস্কার ১টি সোয়া ৩ লাখ টাকার। তৃতীয় পুরস্কার ২টি প্রতিটি ১ লাখ টাকা করে, চতুর্থ পুরস্কার ২টি প্রতিটি ৫০ হাজার টাকা করে এবং পঞ্চম পুরস্কার ৪০টি প্রতিটি ১০ হাজার টাকা করে। প্রতি সিরিজের জন্যই এসব পুরস্কার রয়েছে। সব মিলে প্রতি ড্রতে ১৬ লাখ ২৫ হাজার টাকার পুরস্কার দেওয়া হয়। ড্র অনুষ্ঠিত হওয়ার দুই বছরের মধ্যে পুরস্কার দাবি করতে হয়। অর্থ স্থানান্তরের আগে ২০ শতাংশ হারে আয়কর কেটে রাখা হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের তুলনায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রাইজবন্ড বিক্রির সংখ্যা বেশ কমেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৯৯ কোটি ৩০ লাখ টাকার প্রাইজবন্ড বিক্রি হয়েছিল। গত অর্থবছরে বিক্রি হয়েছে ৭৭ কোটি ৯০ লাখ টাকার প্রাইজবন্ড। এক বছরের ব্যবধানে এর বিক্রি কমেছে ২১ কোটি ৪০ লাখ টাকার বা ২১ দশমিক ৫৫ শতাংশ। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মূল বিনিয়োগ বাবদ পরিশোধ করা হয়েছে ৬৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা। একই সময়ে লটারির ড্র বাবদ পরিশোধ করা হয়েছে ৪৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা। মূল অর্থ পরিশোধ বাবদ অর্থ বাদ দিয়ে নিট বিক্রি ছিল ৩২ কোটি ৪০ লাখ টাকা। মূল টাকা ও লটারির ড্র এই দুটি মিলে মোট পরিশোধ করা হয়েছে ১১৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা। অর্থাৎ গ্রস বিক্রির চেয়ে পরিশোধ করা হয়েছে ১৫ কোটি ১০ লাখ টাকা বেশি। এই বাড়তি অর্থ সরকারকে অন্য খাত থেকে এনে জোগান দিতে হয়েছে। গত অর্থবছরে এ খাতেও অর্থ পরিশোধ কম হয়েছে। মূল অর্থ পরিশোধ করা হয় ৫৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং লটারির ড্র বাবদ পরিশোধ করা হয় ২৮ কোটি ২০ লাখ টাকা। মূল অর্থ পরিশোধ বাদ দিয়ে নিট বিক্রি হয়েছিল ২১ কোটি ৫০ লাখ টাকার। মূল অর্থ ও লটারির ড্র এ দুটি মিলে পরিশোধ করা হয় ৮৪ কোটি ৭০ লাখ টাকা। গ্রস বিক্রির চেয়ে পরিশোধ বেশি করা হয় ৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা। এ অর্থও অন্য খাত থেকে জোগান দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনের তথ্যে দেখা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তুলনায় গত অর্থবছরে প্রাইজবন্ডের মূল অর্থ পরিশোধ কমেছে ১০ কোটি ৩০ লাখ টাকা বা ১৫ দশমিক ৪৫ শতাংশ। একই সময়ে লটারির ড্র বাবদ পরিশোধ কমেছে ১৯ কোটি ৪০ লাখ টাকা বা ৪০ দশমিক ৭৬ শতাংশ। ওই সময়ে নিট বিক্রি কমেছে ১০ কোটি ৯০ লাখ টাকা বা ৩৩ দশমিক ৬৫ শতাংশ। অথচ আগে প্রাইজবন্ডের বিক্রি বেশি ছিল। ফলে তা থেকে নিয়মিত অর্থ পরিশোধ করেও উদ্বৃত্ত থাকত। যা সরকার জনগণের কাছ থেকে ঋণ হিসাবে নিত। এখন এর বিক্রি কমায় সরকার নিট ঋণ নিতে পারছে না। প্রাইজবন্ডের বিক্রি কমে যাওয়ার কারণ প্রচারণার ঘাটতি, মূল্যস্ফীতি এবং বিকল্প সঞ্চয় মাধ্যমের আকর্ষণ প্রধান ভূমিকা পালন করছে বলে মনে করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা। তরুণ প্রজন্মের কাছে প্রাইজবন্ড সম্পর্কিত স্বচ্ছ ধারণার অভাব রয়েছে, কারণ এ বিষয়ে আগের মতো আর জোরালো প্রচারণা চালানো হয় না। মূল্যস্ফীতি বাড়ার কারণে ১০০ টাকা এখন তেমন মূল্যবান না। সময়ের প্রয়োজনে এখন ১ হাজার টাকা, ৫০০ টাকা মূল্যমানের প্রাইজবন্ড ছাড়া যেতে পারে। এছাড়া ব্যাংকগুলোতে এখন নানা ধরনের সঞ্চয়ী উপকরণ আছে। সেগুলো নিয়ে বেশ প্রচারও চলছে। ফলে গ্রাহকরা এখন সেদিকে ঝুঁকছেন। তবে প্রাইজবন্ডের সুবিধাগুলোর প্রচার করা দরকার। পাশাপাশি এর মুনাফার ওপর কর তুলে দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করা যেতে পারে, বলেন এই কর্মকর্তা।
বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেডের (বিজিএফসিএল) তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ২৮ নম্বর কূপ থেকে আগামীকাল জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে ১২.৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে তিতাস-২৯, ৩০ ও ৩১ এবং বাখরাবাদ-১১ কূপ থেকে আরও ৫৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস গ্রিডে যুক্ত হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বিএনপি সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দেশীয় উৎস থেকে গ্যাসের সরবরাহ বাড়াতে নতুন কূপ খনন ও বিদ্যমান গ্যাসক্ষেত্রের উন্নয়ন কার্যক্রমের সুফল হিসেব এ গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে। বিজিএফসিএলের কর্মকর্তারা জানান, তিতাস-২৮, ২৯, ৩০ ও ৩১ এবং বাখরাবাদ-১১ কূপ খননের কাজ এগিয়ে চলছে। এসব কূপের কাজ শেষ হলে আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে মোট প্রায় সাড়ে ৬৭ মিলিয়ন ঘনফুট অতিরিক্ত গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হবে। বিজিএফসিএলের মহাব্যবস্থাপক (অপারেশন) প্রকৌশলী মো. আশরাফুল আলম বলেন, বিজিএফসিএলের আওতাধীন তিতাস-২৮ নম্বর কূপ আগামীকাল বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী উদ্বোধন করবেন। উদ্বোধনের পরপরই কূপটি জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সংযুক্ত করা হবে। এতে আমদানি-নির্ভরতার চাপ কমিয়ে দেশীয় উৎস থেকে গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানো সম্ভব হবে। ‘তিতাস ও কামতা ফিল্ডে ৪টি মূল্যায়ন-কাম-উন্নয়ন কূপ খনন’ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী এ কে এম জসীম উদ্দিন বাসসকে বলেন, তিতাস-২৮ নম্বর কূপের খননকাজ প্রায় এক মাস আগে শেষ হয়েছে। কূপটির গভীরতা প্রায় ১৩ হাজার ফুট। উদ্বোধনের পরপরই এটি জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা হবে। তিনি জানান, প্রায় ৮০০ কোটি টাকা ব্যয়ে তিতাস-২৮, ২৯, ৩০ ও কামতা-২ নম্বর কূপ খননের কাজ শুরু হয়েছে। এর মধ্যে তিতাস-২৮ নম্বর কূপ আগামীকাল উৎপাদনে যাবে। অন্য কূপগুলোর কাজও দ্রুত শেষ করে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে। বিজিএফসিএলের গভীর অনুসন্ধান গ্যাস কূপ খনন প্রকল্পের পরিচালক মো. মাহমুদুল নবাব জানান, তিতাস-৩১ নম্বর গভীর অনুসন্ধান কূপের খননকাজ চলতি বছরের ১৯ এপ্রিল শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে কূপটির খনন গভীরতা প্রায় ৪ হাজার ৯২০ মিটারে পৌঁছেছে। কূপটির লক্ষ্যমাত্রা গভীরতা ৫ হাজার ৬০০ মিটার, যা প্রায় ১০০ মিটার কমবেশি হতে পারে। তিনি বলেন, গভীরতার কারণে কূপটির খনন ও পরবর্তী কার্যক্রম সম্পন্ন করতে তুলনামূলক বেশি সময় লাগছে। কোনো ধরনের ভূতাত্ত্বিক জটিলতা দেখা না দিলে আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে তিতাস-৩১-এর কাজ শেষ করার আশা রয়েছে। কূপটি সফলভাবে সম্পন্ন হলে সেখান থেকে দৈনিক প্রায় ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হতে পারে। মাহমুদুল নবাব জানান, তিতাস-২৯ নম্বর কূপের মূল খননকাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। বর্তমানে কূপটির লগিংসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক কার্যক্রম চলছে। এসব কাজ শেষ করে আগামী এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে কূপটি উৎপাদনের জন্য প্রস্তুত করা সম্ভব হবে। তিতাস-২৯ থেকে দৈনিক প্রায় ১০ থেকে ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া তিতাস-৩০ নম্বর কূপের কাজও আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। কূপটি থেকে দৈনিক প্রায় ১০ থেকে ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়ার প্রত্যাশা করছে বিজিএফসিএল। বিজিএফসিএলের কর্মকর্তারা জানান, তিতাস-৩১-এর কাজ শেষ হওয়ার পর বাখরাবাদ গ্যাসক্ষেত্রের ১১ নম্বর গভীর কূপের খননকাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। কূপটির লক্ষ্যমাত্রা গভীরতা ৪ হাজার ৫০০ মিটার, যা প্রায় ১০০ মিটার কমবেশি হতে পারে। সফলভাবে খনন ও পরীক্ষা সম্পন্ন হলে বাখরাবাদ-১১ থেকে দৈনিক প্রায় ১০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে। তিতাস-২৯, ৩০ ও ৩১ নম্বর কূপ থেকে সর্বোচ্চ প্রায় ৪৫ মিলিয়ন ঘনফুট এবং বাখরাবাদ-১১ থেকে প্রায় ১০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর সঙ্গে তিতাস-২৮ থেকে সাড়ে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট যোগ হলে পাঁচটি কূপ থেকে সর্বোচ্চ প্রায় সাড়ে ৬৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হতে পারে। তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের মজুত প্রসঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে এর মজুত আনুমানিক দেড় ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ) বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তিতাস-৩১ একটি অনুসন্ধানমূলক কূপ হওয়ায় এর মাধ্যমে নতুন গ্যাসের মজুত আবিষ্কারের সম্ভাবনা রয়েছে। প্রাথমিকভাবে কূপটির মাধ্যমে আরও প্রায় দুই টিসিএফ গ্যাসের মজুত যুক্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এ মজুদের পরিমাণ নিশ্চিত করতে কূপটির খনন শেষ হওয়ার পর বিভিন্ন স্তরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে। পরীক্ষার ফল পাওয়ার পরই নতুন মজুতের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
হস্তচালিত তাঁতের খটখট শব্দে একসময় সরব ছিল বিভিন্ন এলাকা। ধীরে ধীরে শব্দটা ক্ষীণ হতে শুরু করেছে। হয়তো একদিন একেবারেই এই শব্দ বন্ধ হয়ে যাবে। এটা অন্য মানুষের কাছে কাঠখোট্টার এক শব্দ, কিন্তু এ শব্দ এই পাড়ার বাসিন্দাদের জীবনেরই ছন্দ। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে পাড়ার বাসিন্দাদের জীবনের সুখ-দুঃখ, ভালোবাসা, উত্থান-পতন। এখানকার মানুষকে একদিন জীবনের নতুন ছন্দ খুঁজতে হবে। দেশের হস্তচালিত তাঁতিদের দুর্দিন চলছে। বন্ধ হয়ে যাচ্ছে সিরাজগঞ্জ জেলার গৃহস্থালি ও শিল্পকারখানার ঐতিহ্যবাহী তাঁতগুলো। নিরুপায় হয়ে পেশা পরিবর্তন করছেন তাঁতিরা। বিদ্যুৎ সংকট, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং কাপড়ের চাহিদা কমে যাওয়ায় সিরাজগঞ্জের নয়টি উপজেলায় প্রায় ৪৫ হাজার তাঁত কারখানা বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। এতে অন্তত ৯৬ হাজার ২৫০ শ্রমিক বেকার হয়ে বসে আছেন। তবে তাঁত কারখানাগুলো স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়নি বলে জানিয়েছেন মালিক ও শ্রমিকরা। তাদের ভাষ্য, ঈদের আগে কাপড়ের চাহিদা বাড়লে অনেক মালিক বন্ধ তাঁত কারখানা আবার চালু করেন। চাহিদা কমে গেলে এবং উৎপাদন ব্যয় বেড়ে গেলে সেগুলো আবার বন্ধ হয়ে যায়। এখন সেই অবস্থা চলছে। বর্তমানে বন্ধ থাকা ৪৫ হাজার তাঁত কারখানার মধ্যে কিছু সাময়িক এবং বেশিরভাগই স্থায়ীভাবে বন্ধ আছে। গত চার-পাঁচ বছর ধরে এ অবস্থা চলছে। ঈদ এলে কিছু চালু হয়, বাকিগুলো বন্ধই থাকে সবসময়। বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের চারটি বেসিক সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, সিরাজগঞ্জ সদর, বেলকুচি, উল্লাপাড়া, কামারখন্দ, এনায়েতপুর, কাজিপুর, রায়গঞ্জ, তাড়াশ ও শাহজাদপুর উপজেলায় মোট তাঁত কারখানা রয়েছে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৭০০টি। এর মধ্যে সিরাজগঞ্জ সদরের ৩২ হাজার ১৫০টি তাঁত কারখানার মধ্যে ১০ হাজার, বেলকুচির ৭০ হাজারের মধ্যে ১৫ হাজার, উল্লাপাড়ার ২৫ হাজার ২০০টির মধ্যে ৩ হাজার ৫০০ এবং শাহজাদপুরের ৩০ হাজার ৩৫০টির মধ্যে ১০ হাজার তাঁত কারখানা বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। অর্থাৎ এসব উপজেলায় মোট তাঁতের প্রায় ২৪ দশমিক ৪ শতাংশ বর্তমানে উৎপাদনের বাইরে রয়েছে। সংখ্যার হিসাবে সবচেয়ে বেশি তাঁত কারখানা বন্ধ রয়েছে বেলকুচিতে, ১৫ হাজার। তবে মোট তাঁত কারখানার অনুপাতে বন্ধের হার সবচেয়ে বেশি শাহজাদপুরে, প্রায় ৩২ দশমিক ৯ শতাংশ। এরপর সিরাজগঞ্জ সদর ৩১ দশমিক ১ শতাংশ এবং উল্লাপাড়া প্রায় ১৩ দশমিক ৯ শতাংশ। প্রতি তাঁত কারখানায় গড়ে ২ দশমিক ৫ জন শ্রমিক কাজ করেন—এই হিসাবে বন্ধ থাকা তাঁতের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত আনুমানিক ৯৬ হাজার ২৫০ শ্রমিক বর্তমানে বেকার হয়ে বসে আছেন। তাঁত মালিক ও শ্রমিকরা জানান, তাদের অনেকে অটোরিকশা চালানো, কৃষিকাজ, হোটেলে কাজসহ বিভিন্ন পেশায় চলে যাচ্ছেন। বন্ধের কারণ কী উল্লাপাড়ার বালসাবাড়ি এলাকার পাওয়ারলুম শ্রমিক আব্দুর রউফ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আগে দুটি তাঁত কারখানায় দিনে আটটি লুঙ্গি উৎপাদন হতো। এখন একই তাঁতে উৎপাদন হচ্ছে চারটি। আমার সাপ্তাহিক আয়ও ৪ হাজার টাকা থেকে কমে দুই হাজার টাকায় নেমে এসেছে। উৎপাদন কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ লোডশেডিং। প্রতিদিন চার-পাঁচ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। এতে তাঁত মালিকদের জেনারেটর ব্যবহার করতে হয়। মহাজনরা বাড়তি খরচের কারণে নিয়মিত জেনারেটর চালাতে চান না। কখনও কখনও আমাদের অনুরোধে কাজ করার জন্য জেনারেটর চালান। কিন্তু জেনারেটর খরচ চালিয়ে খরচ উঠানো কোনোভাবেই সম্ভব হচ্ছে না। এজন্য কারখানা বন্ধ করে দিতে হয়েছে।’ উল্লাপাড়া পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ৪৪ মেগাওয়াট। বিপরীতে সরবরাহ ছিল ৩২ মেগাওয়াট। ফলে ঘাটতি ছিল ১২ মেগাওয়াট। একই দিন বেলকুচিতে চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে ঘাটতি ছিল প্রায় ৩ মেগাওয়াট। তাদের হিসাবে, দিনে তিন-চার ঘণ্টা লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। বাড়ছে উৎপাদন ব্যয়, কমছে বিক্রি বিদ্যুৎ সংকটের পাশাপাশি সুতা, রঙ ও অন্যান্য কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় তাঁত কারখানার মালিকদের ওপর চাপ আরও বেড়েছে। এমনটি জানিয়েছেন উল্লাপাড়ার মহাজন মনিরুল ইসলাম। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘দুই বছর আগে আমার ১২টি পাওয়ারলুম থেকে প্রতি সপ্তাহে ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকার কাপড় বিক্রি হতো। এখন বিক্রি নেমে এসেছে ৫০ হাজার থেকে ৬০ হাজার টাকায়। অর্থাৎ গড়ে বিক্রি প্রায় ৪২ শতাংশ কমেছে।’ তিনি বলেন, ‘জেনারেটর চালাতে এখন প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার টাকা অতিরিক্ত খরচ হয়। কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি ও লোডশেডিংয়ের কারণে তাঁত চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।’ একই কথা বলেছেন আরেক মহাজন ইব্রাহিম হোসেন। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন, তিন বছর আগে তার ১২টি তাঁত ছিল। এখন মাত্র দুটি চালু আছে। বাকিগুলো বন্ধ করে দিয়েছেন। লোকসানের কারণে বাকি তাঁতগুলো বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কাঁচামালের দাম বেড়েছে, আবার কাপড়ের চাহিদাও কমেছে। আরও লোকসান এড়াতে তাঁতগুলো বন্ধ করতে হয়েছে।’ ঈদের আগে বাড়ে উৎপাদন তাঁত মালিকরা জানান, ঈদের আগে পরিস্থিতি কিছুটা পরিবর্তন হয়। ঈদ সামনে রেখে লুঙ্গি, গামছা, শাড়িসহ বিভিন্ন কাপড়ের চাহিদা বাড়লে সাময়িকভাবে বন্ধ থাকা কিছু তাঁত আবার চালু করা হয়। ঈদের মৌসুমে উৎপাদন বাড়লেও উৎসবের পর আবার তা কমে যায়। সিরাজগঞ্জের তাঁতশিল্পে লুঙ্গি, গামছা, শাড়িসহ বিভিন্ন ধরনের কাপড় উৎপাদন হয়। জেলার তৈরি তাঁতের শাড়ি ও গামছা দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি হয়। কিছু পণ্য বিদেশেও রফতানি করা হয়। জেলার ব্র্যান্ডিং হিসেবে সরকারি তথ্যেও তাঁতশিল্পকে জেলার অন্যতম প্রধান শিল্প হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এক-তৃতীয়াংশ কমেছে হাটের ক্রেতা-বিক্রেতা উৎপাদন ও চাহিদা কমে যাওয়ার প্রভাব পড়েছে শাহজাদপুরের কাপড়ের হাটেও। শাহজাদপুর কাপড়ের হাট কমিটির সদস্য মাসুম মিয়া বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘একসময় দেশের সর্ববৃহৎ এই কাপড়ের হাট ক্রেতা-বিক্রেতায় কানায় কানায় পূর্ণ থাকতো। দেশের বিভিন্ন এলাকার ক্রেতা-বিক্রেতারা এখানে আসতেন। এমনকি ভারত থেকেও নিয়মিত ক্রেতারা শাড়ি, লুঙ্গিসহ বিভিন্ন ধরনের কাপড় কিনতে আসতেন।’ তবে তাঁত কারখানাগুলো স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়নি বলে জানিয়েছেন মালিক ও শ্রমিকরা। তবে তাঁত কারখানাগুলো স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়নি বলে জানিয়েছেন মালিক ও শ্রমিকরা তিনি বলেন, ‘এখন হাটের চিত্র অনেকটাই ভিন্ন। আগের মতো ক্রেতা-বিক্রেতার উপস্থিতি নেই। উৎপাদন ও কাপড়ের চাহিদা কমে যাওয়ায় হাটে ক্রেতা-বিক্রেতার সংখ্যা প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কমে গেছে।’ বাজার সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি জানান, জেলার প্রধান কাপড়ের বাজারে আগে প্রতি সপ্তাহে ৩০০ থেকে ৪০০ কোটি টাকার লেনদেন হতো। এখন তা কমে ১০০ থেকে ১৫০ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ আগের তুলনায় গড়ে সাপ্তাহিক লেনদেন প্রায় ৬৪ শতাংশ কমেছে। বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপস্থিতিও কমেছে। পেশা বদলাচ্ছেন শ্রমিকরা প্রায় ৪০ বছর ধরে তাঁতশিল্পে কাজ করা ছুরমান আলী বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, তার মালিকের ১২টি তাঁতের মধ্যে ১০টিই বন্ধ রয়েছে। তিনি বলেন, ‘সুতা ও রঙের দাম বেড়েছে, কিন্তু কাপড়ের চাহিদা আর আগের মতো নেই। এর মধ্যে থাকে না বিদ্যুৎ। এভাবে বাকি কারাখানা চালানোও কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।’ ৫০ বছরের বেশি বয়সী মোশাররফ হোসেন তাঁত কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর পেশা পরিবর্তন করেছেন। ছোটবেলা থেকেই তাঁতশিল্পে কাজ করা এই ব্যক্তি এখন একটি হোটেলে খাবার পরিবেশনের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। তার মতো অনেক শ্রমিকই নিয়মিত কাজ না পাওয়ায় অন্য পেশায় চলে গেছেন। তাঁত মালিক ও শ্রমিকরা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, সুতা, রঙ ও অন্যান্য কাঁচামালের দাম কমাতে পদক্ষেপ এবং তাঁতের কাপড়ের বাজার সম্প্রসারণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেন, উৎপাদন ব্যয় ও বাজারের অনিশ্চয়তা কমানো না গেলে সাময়িকভাবে বন্ধ থাকা কিছু তাঁত শেষ পর্যন্ত স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
বাংলাদেশের আকাশসীমা ব্যবহার করে বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলোর যাতায়াত (ওভারফ্লাই) থেকে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় করেছে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। বিগত অর্থবছরে (জুলাই থেকে জুন) কেবল ওভারফ্লাই ফি বাবদ বিমানবন্দরে মোট আয় হয়েছে ৮০৫ কোটি ১ লাখ ৬০ হাজার ৩৬৫ টাকা ২০ পয়সা। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালকের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত 'রেভিনিউ আর্নড ওভারফ্লাই রিপোর্ট' থেকে এই তথ্য জানা গেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আলো ছড়াচ্ছে শাহজালালে স্থাপিত নতুন এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল টাওয়ার (এটিসি)। নতুন এটিসি টাওয়ারের ফলে একদিকে যেমন আকাশ সুরক্ষিত হয়েছে তেমনি ফ্লাইং ওভার চার্জ আদায়ের গতিও বেড়েছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে অত্যাধুনিক এই রাডার সিস্টেম স্থাপনের কাজ শেষ হয়। তারপর থেকেই মূলত অপারেশনে যায় এটিসি টাওয়ার। তবে গত ২০ এপ্রিল এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সাবেক বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম। অর্থবছর অনুযায়ী আয়ের বিশ্লেষণ: প্রতিবেদনে বিগত এক বছরের রাজস্ব আয়কে দুই ভাগে ভাগ করে দেখানো হয়েছে। ২০২৫ সালের জুলাই – ডিসেম্বর বছরের প্রথম ছয় মাসে ওভারফ্লাই ফি বাবদ মোট আয় হয়েছে ৩৮৮ কোটি ১০ লাখ ১৫ হাজার ৪৫১ টাকা ২০ পয়সা। এর মধ্যে জুলাইয়ে আয় হয়েছে ৪৮ কোটি ১৮ লাখ ৫৪ হাজার ৬৮৫ টাকা ৩৩ পয়সা, আগস্টে ৪৪ কোটি ৭৫ লাখ ২৭ হাজার ৪৭৮ টাকা ৯৬ পয়সা, সেপ্টেম্বরে ৮৬ কোটি ৬৩ লাখ ৩৮ হাজার ৫১৭ টাকা ৬০ পয়সা, অক্টোবরে ৭৩ কোটি ৬৪ লাখ ৭৩ হাজার ৩৮৮ টাকা ৫৯ পয়সা, নভেম্বরে ৬২ কোটি ১১ লাখ ৩২ হাজার ৯৪৫ টাকা ১৪ পয়সা, ডিসেম্বরে ৭২ কোটি ৭৬ লাখ ৮৮ হাজার ৪৩৫ টাকা ৫৮ পয়সা। ২০২৬ সালের জানুয়ারি – জুন পরবর্তীতে চলতি বছরের ছয় মাসে আয়ের পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৪১৬ কোটি ৯১ লাখ ৪৪ হাজার ৯১৪ টাকায়। এর মধ্যে জানুয়ারিতে ৮০ কোটি ১৬ লাখ ৫৬ হাজার ২৬৬ টাকা, ফেব্রুয়ারিতে ৬৯ কোটি ৫৮ লাখ ২৬ হাজার ২২৬ টাকা, মার্চে ৬২ কোটি ১৭ লাখ ৮০ হাজার ১০৮ টাকা, এপ্রিলে ৬৭ কোটি ৫২ লাখ ৬৭ হাজার ৪৭৬ টাকা, মে তে ৭০ কোটি ৪৭ লাখ ৫২ হাজার ২৫০ টাকা এবং জুনে ৬৬ কোটি ৯৮ লাখ ৬২ হাজার ৩১৮ টাকা। এভিয়েশন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক আকাশপথে বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থানের গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। দেশের আকাশসীমা দিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক রুটের ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ায় ওভারফ্লাই ফি থেকে অর্জিত এই রাজস্ব দেশের অর্থনীতিতে অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক এস এম রাগিব সামাদ বলেন, ‘আমাদের নতুন এটিসি টাওয়ার চালুর পর থেকে আমাদের ফ্লাইং ওভার চার্জ আদায় বেড়েছে। এটি এই টাওয়ার স্থাপনের সফলতা।’ তিনি বলেন, ‘এর পাশাপাশি আমাদের পুরো দেশের আকাশসীমা শতভাগ নজরদারী স্থাপিত হয়েছে। ফলে আমাদের রাডার ফাঁকি দিয়ে কোনও ফ্লাইট দেশের আকাশে প্রবেশ করতে পারবে না। এটি আমাদের জন্য যুগান্তকারী একটি পদক্ষেপ।’ বেবিচকের মুখপাত্র কাওছার মাহমুদ বলেন, ‘এটি অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সম্পন্ন টাওয়ার, যা দ্বারা ফ্লাইট নিরাপদে ওঠানামার পাশাপাশি পুরো দেশের আকাশসীমা নজরদারির আওতায় এসেছে। দেশের আকাশসীমায় প্রবেশকারী কোনও ফ্লাইট নজরদারির বাইরে থাকবে না। আগে যে রাডার ও নেভিগেশন ব্যবস্থাটি ছিল সেটি অনেক পুরোনো। ওই ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশের পুরো আকাশসীমা নজরদারির আওতায় আসতো না, বিশেষ করে বঙ্গোপসাগরের অংশ। এতে আর্থিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হয় বাংলাদেশ।’ তিনি আরও বলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী, অন্য কোনও দেশের উড়োজাহাজ বাংলাদেশের আকাশসীমা ব্যবহার করলে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ফি নেওয়ার বিধান আছে। আকাশসীমা একবার ব্যবহারের জন্য ‘ফ্লাইং ওভার চার্জ’ নামের এই ফি পেতো না বাংলাদেশ। কিন্তু বর্তমানে এই ফি আমরা পাচ্ছি। পাশাপাশি আমাদের আকাশে শতভাগ নিজেদের কর্তৃত্ব স্থাপিত হয়েছে।’
ব্যাংকের প্রাতিষ্ঠানিক শেয়ারহোল্ডারদের জন্য বড় দুঃসংবাদ দিল বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে কোনো কোম্পানি তার নিজস্ব সম্পদের তুলনায় বেশি পরিমাণে ব্যাংকের শেয়ার আর কিনতে পারবে না। একই সঙ্গে শেয়ারধারী কোম্পানির পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালক হিসেবে শুধু ওই কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালককে (এমডি) মনোনয়ন দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। যা দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে। এর ফলে বেনামি বা শেল কোম্পানির মাধ্যমে শেয়ার কিনে ব্যাংকের মালিকানায় আসা কঠিন হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ব্যাংকের মালিকানা কাঠামোয় স্বচ্ছতা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর ফলে শেয়ারধারক কোম্পানির অসামঞ্জস্যপূর্ণ বিনিয়োগ প্রবণতা কমবে এবং মনোনীত পরিচালকদের ভূমিকা আরও নিশ্চিত হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আমানতকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণের বিষয়টিও বিবেচনায় নিয়ে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কোনো শেয়ারধারক কোম্পানি সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালক মনোনয়নের ক্ষেত্রে শুধু ওই কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালককে মনোনয়ন দিতে পারবে। ফলে ব্যাংকের প্রাতিষ্ঠানিক শেয়ারহোল্ডারদের শেয়ার ধারণ ও পরিচালক মনোনয়নের ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম কার্যকর হলো।
বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্প ও সেবা খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো পুনরায় চালুর লক্ষ্যে ২০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ স্কিম চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ স্কিমের আওতায় গ্রাহক পর্যায়ে ঋণের সর্বোচ্চ সুদহার নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ শতাংশ। একই সঙ্গে ঋণগ্রহীতাদের জন্য রাখা হয়েছে ছয় মাসের গ্রেস পিরিয়ড। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১ থেকে এ-সংক্রান্ত সার্কুলার জারি করা হয়। সার্কুলারে বলা হয়েছে, ‘বন্ধ শিল্প ও সেবা খাত সহায়ক প্রাক-অর্থায়ন স্কিম’-এর মাধ্যমে ব্যাংকগুলোকে অর্থায়ন করে বন্ধ প্রতিষ্ঠানগুলো পুনরায় চালুর সুযোগ তৈরি করা হবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় প্রাক-অর্থায়ন সরবরাহ করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। নীতিমালা অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে নেওয়া প্রাক-অর্থায়নের বিপরীতে ব্যাংকগুলোকে ৪ শতাংশ সুদ দিতে হবে। তবে অর্থ পাওয়ার পর প্রথম ছয় মাস এ সুদ পরিশোধের প্রয়োজন হবে না। গ্রেস পিরিয়ড শেষ হলে ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে বাংলাদেশ ব্যাংককে সুদ পরিশোধ করতে হবে। একই সময়ে প্রথম দুই ত্রৈমাসিকের বকেয়া সুদও পরিশোধ করতে হবে। অন্যদিকে, স্কিমের আওতায় ব্যাংকগুলো যে ঋণ গ্রাহকদের দেবে, তার সুদহার সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। গ্রাহকদের ক্ষেত্রেও ছয় মাসের গ্রেস পিরিয়ড রাখা হয়েছে। অর্থাৎ ঋণ বিতরণের পর প্রথম ছয় মাস কোনো সুদ আদায় করা যাবে না। এরপর থেকে সুদ আদায় শুরু হবে এবং প্রথম দুই ত্রৈমাসিকের বকেয়া সুদও আদায় করতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, তহবিলের প্রাপ্যতা সাপেক্ষে স্কিমের মেয়াদকালীন তিন বছরের মধ্যে যেকোনো সময় ব্যাংকগুলো প্রাক-অর্থায়নের জন্য আবেদন করতে পারবে। স্কিমের অর্থ নির্ধারিত খাতে ব্যবহার হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ঋণের ব্যবহার ও আদায়ের পরিস্থিতি নিয়মিত তদারক করতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গ্রেস পিরিয়ড শেষ হওয়ার পর নির্ধারিত নিয়মে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে সুদ পরিশোধের হিসাবও নিষ্পত্তি করতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। সার্কুলারে উল্লেখিত নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সঙ্গে সচিব কমিটির বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহ দ্রুত ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খান। আজ বুধবার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন সংক্রান্ত সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব নির্দেশনা দেন। সভায় সরকারি মামলা যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে পরিচালনা, ভূমি সংক্রান্ত বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তি, জেলা প্রশাসক সম্মেলনে গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহ মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন এবং এসব কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যালোচনার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়। বাণিজ্য সচিব সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বলেন, সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তসমূহ যেন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়িত হয়, সে জন্য প্রতিটি কার্যক্রমে নিয়মিত মনিটরিং, কার্যকর সমন্বয় ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা সরকারি মামলা ও ভূমি-সংক্রান্ত জটিলতা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণেরও নির্দেশ দেন তিনি। সভায় আইন ও বিধিমালা প্রণয়ন এবং বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি, কর্মকর্তাদের কর্মদক্ষতা পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজন ভিত্তিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দাপ্তরিক কার্যক্রমে আরও গতি ও পেশাদারিত্ব আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। তিনি আরো বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে দপ্তর সংস্থার শূন্য পদে জনবল নিয়োগ তরান্বিত করতে হবে এবং একই সাথে অপ্রয়োজনীয় পদ থাকলে তা বিলুপ্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে। এছাড়া বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের গৃহীত অগ্রাধিকার প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন বাণিজ্য সচিব। এছাড়া বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও এর অধীন দপ্তর-সংস্থার গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহ দ্রুত বাস্তবায়ন, নিয়মিত ফলোআপ এবং সরকারি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও দক্ষতা আরও জোরদারের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণির সভাপতিত্বে সচিবদের নিয়ে গঠিত সচিব কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করতে যৌথ ‘রাশিয়া-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল’ গঠনে আগ্রহ প্রকাশ করেছে মস্কো চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি। একই সঙ্গে দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বাড়াতে মস্কোতে ‘রাশিয়া-বাংলাদেশ বিজনেস ফোরাম’ আয়োজনের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার খোজিন। আজ বুধবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানে এফবিসিসিআই কার্যালয়ে সংগঠনটির প্রশাসক মো. ফজলুল হকের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা জানান। রাষ্ট্রদূত বলেন, আগামী নভেম্বরের শুরুতে ঢাকায় অনুষ্ঠেয় বাংলাদেশ-রাশিয়া আন্তঃসরকার কমিশনের বৈঠকে বিজনেস কাউন্সিল গঠনের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে। তিনি জানান, দুই দেশের উদ্যোক্তাদের মধ্যে সরাসরি ব্যবসায়িক যোগাযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে মস্কোতে বিজনেস ফোরাম আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফোরামে বাংলাদেশ থেকে অংশগ্রহণকারী ব্যবসায়ীদের ব্যবসায়িক প্রোফাইলের ভিত্তিতে সরাসরি বিটুবি বৈঠকসহ বিভিন্ন সেশনের আয়োজন করা হবে। বৈঠকে এফবিসিসিআই প্রশাসক মো. ফজলুল হক বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধিতে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি নতুন ও সম্ভাবনাময় খাতগুলোতে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি রাশিয়ার বাজারে বাংলাদেশের ওষুধ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য এবং সিরামিক পণ্য রপ্তানি বাড়ানোর পাশাপাশি মানবসম্পদ রপ্তানির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। জবাবে রুশ রাষ্ট্রদূত জানান, বাংলাদেশ থেকে জেনেরিক ওষুধ আমদানির বিষয়ে রাশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়াগত ও আইনি বিষয় পর্যালোচনা করছে। তিনি বলেন, রাশিয়ায় তীব্র শীতের উপযোগী ভারী জুতা ও চামড়াজাত পণ্যেরও ভালো চাহিদা রয়েছে। কৃষি, মৎস্য, জাহাজ নির্মাণ শিল্প ও সেবা খাতে কাজের সুযোগ তৈরি হওয়ায় সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাশিয়া প্রায় তিন হাজার বাংলাদেশি কর্মীকে ভিসা দিয়েছে বলেও জানান তিনি। বৈঠকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের অগ্রগতির বিষয়ে রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার খোজিন বলেন, প্রকল্পের কারিগরি বিষয়গুলো দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে প্রায় চার হাজার রুশ বিশেষজ্ঞ ও প্রকৌশলী কাজ করছেন। আগামী মাসের মধ্যে প্রথম ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের লক্ষ্য নিয়ে কাজ এগিয়ে চলছে। বৈঠক শেষে উভয় পক্ষ আশা প্রকাশ করে, সরকার ও বেসরকারি খাতের সম্মিলিত উদ্যোগে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার বাণিজ্যিক সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও জোরদার হবে। এছাড়াও, আজ বিকেলে এফবিসিসিআই প্রশাসকের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত শ্রীলঙ্কার হাইকমিশনার ধর্মপাল উইরাক্কোডি। বৈঠকে হাইকমিশনার জানান, আগামী বছরের ১৪ থেকে ১৭ জানুয়ারি কলম্বোয় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা ‘শ্রীলঙ্কা এক্সপো ২০২৭’ অনুষ্ঠিত হবে। তিনি এফবিসিসিআইয়ের নেতৃত্বে বাংলাদেশ থেকে একটি বাণিজ্য প্রতিনিধি দলকে মেলায় অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানান। এফবিসিসিআই প্রশাসক মো. ফজলুল হক শ্রীলঙ্কা এক্সপো ২০২৭-এ বাংলাদেশের বাণিজ্য প্রতিনিধি দল পাঠানোর বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া দেন। উভয় বৈঠকে এফবিসিসিআই মহাসচিব মো. আলমগীরসহ রুশ দূতাবাস ও শ্রীলঙ্কান হাইকমিশনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।