অর্থনীতি

সংগৃহীত ছবি
বছরে ৮০০ কোটি ডলারের সুযোগ হারানোর ঝুঁকিতে বাংলাদেশ

নীতিগত সহায়তার দুর্বলতা এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কারণে বাংলাদেশের পোশাকখাত বিলিয়ন ডলারের সম্ভাবনা হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে। জরুরি সংস্কার ও কার্যকর নীতি গ্রহণ না করা হলে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান চাপে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন সংশ্লিষ্ট খাতের উদ্যোক্তা ও বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছে, বর্জ্য পুনর্ব্যবহার (রিসাইক্লিং) খাতে বাংলাদেশের সম্ভাব্য অর্থনৈতিক সুযোগের পরিমাণ বছরে প্রায় ৮ বিলিয়ন (৮০০ কোটি) ডলার। ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ পশ্চিমা বাজারগুলোর নতুন আইন অনুযায়ী পণ্যের উৎপাদন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং পরিবেশবান্ধব সরবরাহব্যবস্থা নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক হবে। সম্প্রতি রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘বাংলাদেশের টেক্সটাইল শিল্পে সার্কুলার রূপান্তর ত্বরান্বিত করা: সুইচটুসিই পাইলট প্রকল্পের অভিজ্ঞতা’ শীর্ষক সেমিনারে এসব বিষয় উঠে আসে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও বিজিএমইএ যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। বিজিএমইএর পরিচালক ও কিউট ড্রেস ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ এইচ এম মোস্তাফিজ বলেন, বৈশ্বিক আইন ও নীতিগত পরিবর্তন পোশাক শিল্পকে এখন অর্থনীতির মূল চালিকা শক্তি ও টেকসই উৎপাদনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপকরণের ব্যবহার বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের গ্রিন ডিল এবং ডিজিটাল প্রোডাক্ট পাসপোর্টের (ডিপিপি) মতো উদ্যোগের কারণে উৎপাদন প্রক্রিয়ায় আরও বেশি স্বচ্ছতা, পণ্যের উৎস শনাক্তকরণ এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় চক্রাকার পদ্ধতি নিশ্চিত করতে হবে। এর ফলে প্রস্তুতকারকদের পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপকরণের ব্যবহার বাড়াতে, নতুন কাঁচামালের ওপর নির্ভরতা কমাতে এবং কার্বন নিঃসরণ হ্রাসে পদক্ষেপ নিতে হবে। মোস্তাফিজ জানান, বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় ৬ লাখ টন টেক্সটাইল বর্জ্য তৈরি হচ্ছে। এর বড় অংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে পুনঃব্যবহার বা প্রক্রিয়াজাত করা হলেও এখনো তা কোনো প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় আসেনি। তবে এই খাতকে আনুষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে আনতে পারলে একদিকে অগ্নিকাণ্ডের মতো স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা ঝুঁকি কমবে, অন্যদিকে আরও সংগঠিত ও নিরাপদ শিল্পভিত্তি গড়ে উঠবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, বর্তমানে ১০০ শতাংশ তুলাভিত্তিক বর্জ্য যান্ত্রিকভাবে পুনর্ব্যবহার করা সম্ভব হলেও রাসায়নিক পুনর্ব্যবহারের সক্ষমতা এখনো সীমিত। বিশেষ করে মিশ্র কাপড় ও মানবসৃষ্ট তন্তু (এমএমএফ) পুনর্ব্যবহারে বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক কাঁচামালের চাহিদা বাড়বে এবং সরবরাহ সীমিত হয়ে পড়বে। ফলে তুলাসহ প্রাকৃতিক বস্তুর ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পুনর্ব্যবহারযোগ্য বিকল্পের দিকে যেতে হবে। ২০২২-২৩ সাল থেকে চক্রাকার অর্থনীতি গড়ে তোলার উদ্যোগ শুরু হলেও এখনো পূর্ণাঙ্গ নীতি ও আইনি কাঠামোর অভাবে অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ বিষয়ে বিজিএমইএর সহসভাপতি বিদিয়া আম্মৃত খান বলেন, তৈরি পোশাক খাতের পুরো বর্জ্য পুনর্ব্যবহার করা গেলে প্রায় ৮ বিলিয়ন (৮০০ কোটি) ডলারের সার্কুলার অর্থনীতি গড়ে তোলা সম্ভব। বর্তমানে বাংলাদেশ তুলাভিত্তিক পোশাক কারখানার বর্জ্যের প্রায় ৩০ শতাংশ পুনর্ব্যবহার করতে সক্ষম। তবে এই বর্জ্যের বড় অংশ ভারত ও পাকিস্তানে রপ্তানি হয়ে পরে পুনর্ব্যবহৃত সুতা হিসেবে দেশে ফিরে আসে। তিনি আরও জানান, বর্তমানে বাংলাদেশে ১৭টি কারখানায় পরীক্ষামূলক এই প্রকল্প চালু রয়েছে, যার বাজারমূল্য কয়েকশ’ মিলিয়ন ডলার। অনুষ্ঠানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বলেন, এলডিসি উত্তরণের পথে বাংলাদেশ এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে আরও ভারসাম্যপূর্ণ বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। তিনি জানান, বাংলাদেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন সতর্কভাবে আলোচনা করছে। তবে এলডিসি উত্তরণ যেকোনো সময়েই হোক না কেন, বাংলাদেশকে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা, চক্রাকার অর্থনীতি এবং পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে হবে। মিলার বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রবৃদ্ধি কৌশলের কেন্দ্রেই রয়েছে চক্রাকার অর্থনীতি, যার লক্ষ্য ২০৫০ সালের মধ্যে কার্বন নিরপেক্ষতা অর্জন। ইউরোপে প্রতিবছর ৫০ লাখ টনের বেশি টেক্সটাইল বর্জ্য তৈরি হয়, যেখানে বাংলাদেশে এ পরিমাণ প্রায় ৬ লাখ টন। সামাজিক পরিস্থিতি, ফাস্ট ফ্যাশন এবং বর্জ্য সংকট মোকাবিলায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন নতুন নীতি গ্রহণ করেছে। ২০২২ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়ন টেকসই ও চক্রাকার টেক্সটাইল নীতি চালু করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, যেখানে পরিবেশবান্ধব নকশা, উৎপাদকদের দায়বদ্ধতা, ডিজিটাল প্রোডাক্ট পাসপোর্ট এবং বিভ্রান্তিকর পরিবেশবান্ধব প্রচারণা ঠেকাতে কঠোর বিধান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। মিলার বলেন, ইউরোপ বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজার এবং তৈরি পোশাক খাত দেশের জিডিপির প্রায় ১১ শতাংশ অবদান রাখে ও প্রায় ৪০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে। তিনি জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ‘সুইচ টু সার্কুলার ইকোনমি’ প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশের রূপান্তরে সহায়তা দিচ্ছে। এই প্রকল্পে এইচঅ্যান্ডএম ও বেস্টসেলারের মতো ব্র্যান্ড পুনর্ব্যবহার ও বর্জ্য ট্রেসেবিলিটি নিয়ে পাইলট প্রকল্প পরিচালনা করছে। পাশাপাশি ইউনিডো ও চ্যাথাম হাউস নীতিগত সহায়তা দিচ্ছে। এ ছাড়া ইউরোপিয়ান ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে চক্রাকার বিনিয়োগে সহায়তার জন্য ব্র্যাক ব্যাংকের সঙ্গে ৬ কোটি ইউরোর ঋণচুক্তি করেছে বলেও জানান তিনি। সূত্র : দ্য ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস

মারিয়া রহমান মে ০৯, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
বেড়েছে ডিমের দাম, হালি ৫০ টাকা

এক সপ্তাহ আগেও খুচরা পর্যায়ে প্রতিটি ডিম বিক্রি হয়েছে সর্বোচ্চ ১১ টাকায়। কিন্তু শুক্রবার রাজধানর কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, খুচরা পর্যায়ে প্রতিটি ডিম ১৩ টাকা ও এক হালি বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা দরে।   এক সপ্তাহের ব্যবধানে খুচরা পর্যায়ে একটি ডিমের দাম বেড়েছে ২ টাকা, আবার হালিতে ৬ টাকা। অন্যদিকে এক ডজন কিনলে দাম ১৪০ টাকা নিচ্ছে।   শনির আখড়া, যাত্রাবাড়ী, কাপ্তান বাজার ও সেগুনবাগিচা কাঁচাবাজারে বেশিরভাগ সবজি আগের দরে বিক্রি হলেও আরও বেড়েছে পেপের দাম। অনেক দিন পরে কমেছে বেগুনের দর। কমেছে কক মুরগি ও গরুর মাংসের দর।   শনির আখড়া বাজারের বিক্রেতা মোহাম্মদ সিয়াম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, এক ডজন ডিমে পাইকারি দাম বেড়েছে ১০ টাকা। গত শুক্রবারও এক ডজন ডিম বিক্রি করতাম ১৩০ টাকায়, গতকাল থেকে ১০ টাকা বাড়ছে, আজকে ১৪০ টাকা ডজন।’   এক ডজন ডিম একই দরে বিক্রি করছেন সেগুনবাগিচা কাঁচাবাজারের মোহাম্মদ রুবেলও।   বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, পরিচিত ক্রেতা হলে এক হালি ৪৮ টাকা বিক্রি করি। এক ডজন নিলে ১৪০ টাকা।’   যাত্রাবাড়ী বাজারের দোকানি আশরাফুল ইসলাম বলেন, ২০ দিন আগেও ১১০ টাকা ডজন বিক্রি করছি, এখন ১৪০ টাকায়।   খুচরা পর্যায়ে তিন সপ্তাহের ব্যবধানে একটি ডিমের দাম আড়াই টাকা বৃদ্ধির হিসাব দিয়ে তিনি বলেন, গরমের সময়ে ডিমের দাম কম থাকে। ‍মুরগির দামও কমে যায়। খামারিরা মুরগি দ্রুত বিক্রি করে দেন, নতুন মুরগি উঠানোর জন্য। গরমে বড় মুরগি মারা যায় বেশি, তাই খামারিরা এক লটে বিক্রি করে দেন।   ডিমের বাজারে এমন অস্থিরতা দেখা গেছে ২০২৩ ও ২০২৪ সালের শেষের দিকে। সেই সময়ে আমদানির অনুমতি দিলে কমে আসে বাজার দর।   রাষ্ট্রায়ত্ত বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) এর ঢাকা মহানগরীর দৈনিক বাজার দরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ১ নভেম্বর এক হালি ডিম বিক্রি হয় ৫২ টাকা দরে। পরে আমদানির সুযোগ দিলে ডিমের দর কমে আসতে থাকে।   ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে ডিমের দাম কমে প্রতি হালি ৪০ টাকায় নেমে আসে। সে বছর সেপ্টেম্বরে আরেক দফা দাম বাড়ে, তখন ভারত থেকে আমদানি করে বাজার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু ১ অক্টোবর ডিমের দর ফের প্রতি হালি ৫৬ টাকায় ওঠে।   পরের মাস অর্থাৎ নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে কিছুটা কমে ৫২ টাকায় নামে সরকারের আমদানির সিদ্ধান্তে। নভেম্বরের মাঝামাঝিতে আমদানিকৃত ডিম বাজারে আসতে শুরু করলে ধীরে ধীরে কমতে ‍শুরু করে দাম।   সেই থেকে প্রতি হালি ডিমের দাম ৪০ থেকে ৪৪ টাকার মধ্যে উঠানামা করছিল, বেশিরভাগ সময়ে ৪০ টাকার মধ্যে ছিল।   টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, গেল এপ্রিলের ৭ তারিখেও ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন বাজারে প্রতি হালি ডিম ৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। মাসটির শেষ দিনে প্রতি হালি ডিমের দাম সর্বোচ্চ ওঠে ৪৫ টাকায়। এখন সেই ডিম বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা হালি দরে।   কমেছে বেগুনের দাম, বাড়তি পেঁপে শনির আখড়া বাজারের সবজি বিক্রেতা সালাহউদ্দিন বলেন, পেঁপে ৮০- ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন তিনি।   তার দাবি, পেঁপে আসছে কম। বড় আকারের হলে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন।   আগের সপ্তাহেও পেপে একই দরে বিক্রি হয়। তিন সপ্তাহ আগেও প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছিল ৩০ টাকায়।   এ বাজারে আগের দরে ঝিঙা ও ধুন্দল ৮০ টাকা কেজি দের বিক্রি হয়।   সেগুনবাগিচা কাঁচাবাজারের বিক্রেতা আশরাফুল ইসলাম বলেন, গোল বেগুন ১০০ টাকা ও লম্বা বেগুনের দর ৮০ টাকা কেজি।   এক সপ্তাহ আগেও গোল বেগুন বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি ১৪০ টাকা ও লম্বা বেগুন ১০০ টাকা কেজি দরে।   এ বাজারে আগের সপ্তাহের দরে ঢেঁড়স বিক্রি হয়, ৪০ থেকে ৬০ টাকা কেজি। টমেটোর দামও দরে ৪০ টাকা থেকে ৫০ টাকায় স্থির।   যাত্রবাড়ীতে করলা বিক্রি হয় আগের সপ্তাহের চেয়ে ৪০ টাকা কমে, প্রতি কেজি ৬০ টাকা দরে।   কাপ্তান বাজারে পটল বিক্রি হয় প্রতি কেজি ৬০-৭০ টাকা দরে, আগের সপ্তাহে ছিল ৮০ টাকা।   যাত্রাবাড়ীতে দেশি শসা হঠাৎ বেড়ে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। আগের সপ্তাহে ছিল ৮০ টাকা কেজি। অন্যদিকে হাইব্রিড শসা এ বাজারে বিক্রি হয় আগের দরে, প্রতি কেজি ৭০ টাকায়।   এ বাজারে কাকরোল বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১০০ টাকা। নতুন এ সবজির দর এক মাস আগে ছিল ১৮০ টাকা কেজি। আগের সপ্তাহে তা কমে হয় ১২০ টাকা।   আগের সপ্তাহের মতো শুক্রবারও যাত্রাবাড়ী বাজারে প্রতি কেজি ৮০ টাকা দরে বিক্রি হয়।   তিন বাজারেই কাঁচা মরিচ বিক্রি হয় ৬০-৭০ টাকা কেজি দরে। আগের সপ্তাহেও এ দরে বিক্রি হয়েছে।   কিছু কমেছে মাংসের দাম শনির আখড়া কাঁচাবাজারে প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হয় ৮০০ টাকা কেজি দরে। আগের সপ্তাহে বিক্রি হয়েছে ৮২০ টাকা দরে।   এ বাজারে আগের সপ্তাহের মতো ছাগলের মাংস ১ হাজার ১০০ টাকা কেজি ও খাসির মাংস ১ হাজার ২০০ টাকায় কেজি বিক্রি হয়।   যাত্রাবাড়ী কাঁচাবাজারে ব্রয়লার মুরগি ১৮০ টাকা দরে বিক্রি করেন মোহাম্মদ ইমন।   বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, কক এক কেজি ৩৪০-৩৫০ টাকা দরে বিক্রি করছেন তিনি।   ব্রয়লার আগের সপ্তাহের দরে বিক্রি হলেও কক মুরগির দাম কমেছে কেজি প্রতি ১০ টাকা।   বেড়েছে মাছের দাম শুক্রবার কয়েকটি মাছের দর আগের সপ্তাহের তুলনায় বাড়তি দেখা যায়। সবচেয়ে ছোট আকারের কাচকি মাছ শনির আখাড়া বাজারে মোহাম্মদ জসিম বিক্রি করছেন ৬০০ টাকা কেজি দরে। আগের সপ্তাহে ছিল ৫০০ টাকা।   অন্যদিকে এ বাজারে মলা মাছ ৬০০ টাকা কেজি বিক্রি হয়, আগের সপ্তাহে ছিল ৪০০ টাকা। প্রতি কেজি শিং মাছ ৩৫০ টাকা থেকে বেড়ে শুক্রবার বিক্রি হয় ৪০০ টাকা কেজি।   শনি আখড়া বাজারে একই দরে বিক্রি হচ্ছে রুই ও তেলাপিয়া মাছ। দুই কেজি ওজনের রুই ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি দরে এবং এক কেজি ওজনের হলে ২২০ টাকা দরে বিক্রি হয়।   দেশি বড় আকারের রুই বিক্রি হচ্ছে ৫০০ টাকা কেজি দরে। আগের সপ্তাহে যা ছিল ৪৫০ টাকা কেজি।   এ বাজারে আগের দরে তেলাপিয়া ১২০ টাকা, ভাটা মাছ ২৫০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা, সরপুটি ২৫০ টাকা, সিলভার কার্প ২২০ টাকা দরে বিক্রি হয়। পাঙ্গাসের দর ২০-৪০ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকা কেজি দরে।   আগের দরে চাষের পাবদা ৩০০ টাকা ও দেশি পাবদা ৬০০ টাকা, টেংরা ৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয় এ বাজারে।   অবশ্য বেড়েছে আইড় মাছের দাম। প্রতি কেজি ১০০ টাকা বেড়ে ১ হাজার ১০০ টাকায় বিক্রির কথা বলেছেন মোহাম্মদ জাকির।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ০৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
দেশের মোট রিজার্ভ ৩৫.৬১ বিলিয়ন ডলার

দেশে বৈদেশিক মুদ্রার মোট রিজার্ভের পরিমাণ ৩৫ দশমিক ৬১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুসারে রিজার্ভের পরিমাণ ৩০ দশমিক ৯৬ বিলিয়ন ডলার।   শুক্রবার (৮ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।   তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার (৭ মে) বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে দেশে রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে তিন হাজার ৯৬ কোটি ৪০ হাজার ডলার। অন্যদিকে, বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব হিসাবে মোট রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে তিন হাজার ৫৬১ কোটি ৬৬ লাখ ৯০ হাজার ডলার। যেখানে গত বুধবার বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে দেশে রিজার্ভ দাঁড়িয়েছিল তিন হাজার ৬৭ কোটি ৪০ লাখ ৭০ হাজার ডলার। অন্যদিকে, বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব হিসাবে মোট রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছিল তিন হাজার ৫৩৩ কোটি সাত লাখ ২০ হাজার ডলার।    গত রোববার বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে দেশে রিজার্ভ ছিল তিন হাজার ৫১ কোটি ২২ লাখ ৯০ হাজার ডলার। অন্যদিকে, বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব হিসাবে মোট রিজার্ভের পরিমাণ ছিল তিন হাজার ৫২০ কোটি ৪৭ লাখ ২০ হাজার ডলার।   এর আগে ২৩ এপ্রিল বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে দেশে রিজার্ভ ছিল তিন হাজার ৪৮ কোটি ৪০ লাখ ১০ হাজার ডলার।    অন্যদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব হিসাবে মোট রিজার্ভের পরিমাণ ছিল তিন হাজার ৫১১ কোটি ৭৫ লাখ ডলার। গত ১৬ এপ্রিল বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে দেশে রিজার্ভ দাঁড়িয়েছিল তিন হাজার ৩৬ কোটি ৬২ লাখ ৪০ হাজার ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব হিসাবে মোট রিজার্ভের পরিমাণ ছিল তিন হাজার ৫০৩ কোটি ৮০ লাখ ডলার।   এরও আগে ১৫ এপ্রিল বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে দেশে রিজার্ভ ছিল তিন হাজার ২০ কোটি ১৭ লাখ ১০ হাজার ডলার। অন্যদিকে, বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব হিসাবে মোট রিজার্ভের পরিমাণ ছিল তিন হাজার ৪৮৭ কোটি ৩৩ লাখ ২০ হাজার ডলার। এর আগে ৯ এপ্রিল বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভ ছিল দুই হাজার ৯৯৫ কোটি ২৬ লাখ ৬০ হাজার ডলার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে ছিল তিন হাজার ৪৬৪ কোটি ৫০ লাখ ৪০ হাজার ডলার।   চার মাসে আগে গত ৮ জানুয়ারি আইএমএফের হিসাব অনুযায়ী, রিজার্ভ ছিল দুই হাজার ৭৮৪ কোটি ৫৩ লাখ ৮০ হাজার ডলার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিজস্ব হিসাবে ছিল তিন হাজার ২৪৩ কোটি ৯৫ লাখ ১০ হাজার ডলার। সেই তুলনায় বর্তমান রিজার্ভ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেড়েছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ০৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
আবারও বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম

এশিয়ার বাজারে তেলের দাম আরও বেড়েছে। হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার কারণে দামের ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে।   শুক্রবার (৮ মে) বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরানের ‘উসকানিহীন’ হামলা প্রতিহত করা হয়েছে। এসব হামলার মধ্যে ছিল ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও ছোট নৌযানের ব্যবহার। মার্কিন নৌজাহাজগুলো উপসাগর ছেড়ে হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় আত্মরক্ষার্থে পাল্টা হামলাও চালানো হয়েছে।   সকালবেলার লেনদেনে বৈশ্বিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ১০১ দশমিক ৬০ ডলারে পৌঁছেছে। যদিও সেশনের শুরুতে দাম ২ শতাংশেরও বেশি বেড়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রে লেনদেন হওয়া অপরিশোধিত তেলের দামও ১ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ৯৫ দশমিক ৮৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে।   মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি এখনো বহাল রয়েছে। শান্তি আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দিতে গত ২১ এপ্রিল যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানোর ঘোষণা দেন তিনি।   হামলার পর ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা এখনো চলছে এবং ওয়াশিংটনের দাবি আগের মতোই রয়েছে। তেহরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে পারবে না।   তিনি বলেন, আলোচনা খুব ভালোভাবে এগোচ্ছে। তবে তাদের বুঝতে হবে, যদি চুক্তি না হয়, তাহলে তাদের অনেক ভোগান্তির মুখে পড়তে হবে। আমার বিশ্বাস, তারা এই চুক্তি আমার চেয়েও বেশি চায়।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ০৮, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
আকুর বিল পরিশোধ, ৩৪ বিলিয়নের নিচে নামল দেশের রিজার্ভ

এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) মার্চ ও এপ্রিল মাসের আমদানি বিল পরিশোধ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ফের ৩৪ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে এসেছে। বৃহস্পতিবার ( ৭ মে) ১৫১ কোটি ডলার ডলারের সমপরিমাণ অর্থ আকুকে পরিশোধ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সাধারণত আকুর সদস্য দেশগুলোর মধ্যে লেনদেনের জন্য দুই মাস পরপর এ ধরনের বিল পরিশোধ করতে হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বুধবার (৬ মে) পর্যন্ত দেশের মোট (গ্রোস) বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৫ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন ডলারে এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম-৬ হিসাব পদ্ধতিতে রিজার্ভের পরিমাণ ৩০ দশমিক ৬৭ বিলিয়ন ডলার। আকুর বিল পরিশোধের পর রিজার্ভ কত হয়েছে, তা জানায়নি কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তবে হিসাব করলে দেখা যায়, ১৫১ কোটি ডলার ডলার পরিশোধের পর দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে ৩৩ দশমিক ৮০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের কাছাকাছি এবং বিপিএম-৬ রিজার্ভ ২৯ দশমিক ১২ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। এর বাইরে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিট বা প্রকৃত রিজার্ভের আরেকটি হিসাব রয়েছে, যা সবসময় প্রকাশ করা হয় না। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের নিট ইন্টারন্যাশনাল রিজার্ভ (এনআইআর) বা ব্যয়যোগ্য নিট রিজার্ভ ২৭ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি রয়েছে। প্রতি মাসে সাড়ে ৫ বিলিয়ন ডলার করে এ রিজার্ভ দিয়ে প্রায় ৫ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো যাবে। সাধারণত একটি দেশের ন্যূনতম ৩ মাসের আমদানি খরচের সমান রিজার্ভ থাকতে হয়। সেই মানদণ্ডে বাংলাদেশ এখন ভালো অবস্থানে রয়েছে। একটি দেশের অর্থনীতির অন্যতম সূচক হলো বৈদেশিক মুদ্রার মজুত বা রিজার্ভ। আকু কী? আকু হলো- একটি আন্তর্দেশীয় লেনদেন নিষ্পত্তি ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, ইরান, মালদ্বীপ, মিয়ানমার, নেপাল, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার মধ্যকার লেনদেনের দায় পরিশোধ করা হয়। ইরানের রাজধানী তেহরানে আকুর সদর দপ্তর। এ ব্যবস্থায় সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রতি দুই মাস অন্তর আমদানির অর্থ পরিশোধ করে। তবে এখন আকুর সদস্য পদ নেই শ্রীলঙ্কার। অর্থনৈতিক সংকটের কারণে দীর্ঘদিন যাবৎ আমদানি ব্যয় পরিশোধের বিভিন্ন শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় দেশটির আকু সদস্য পদ সাময়িক স্থগিত করা হয়েছে। জাতিসংঘের এশিয়া অঞ্চলের অর্থনীতি ও সামাজিক কমিশনের (এসক্যাপ) ভৌগোলিক সীমারেখায় অবস্থিত সব দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর জন্য আকুর সদস্য পদ উন্মুক্ত।

মারিয়া রহমান মে ০৭, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
বিশ্ববাজার মাতাচ্ছে সাতক্ষীরার সফটশেল কাঁকড়া

সুন্দরবন সংলগ্ন সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলায় চাষ হওয়া নরম খোসার (সফটশেল) কাঁকড়া আন্তর্জাতিক বাজারে বিপুল চাহিদা তৈরি করেছে।  বর্তমানে সফটশেল (নরম খোসার) কাঁকড়া সাতক্ষীরা জেলার মানুষের ভাগ্য বদলাতে শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় এ অঞ্চলে কাঁকড়া উৎপাদনের জন্য প্রতি বছর গড়ে উঠছে নতুন নতুন খামার, যা জেলা তথা দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সম্প্রতি সাতক্ষীরা জেলা সরেজমিনে পরিদর্শন করে ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর সূত্রে এই সব তথ্য পাওয়া গেছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য মতে, ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের জুলাই থেকে জুন মাসে কাঁকড়া রপ্তানি হয়েছে ১৩ দশমিক ৭৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।  গত ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরের একই সময়ে (জুলাই-জুন) এ রপ্তানি ছিলো ৯ দশমিক ২৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, এতে বিগত বছরে চেয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪৮ দশমিক ৭০ শতাংশ। কেবল চলতি বছরের জুন মাসে রপ্তানি হয়েছে ১ দশমিক ৫৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। সংশ্লিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশে বর্তমান বাণিজ্যিকভাবে চাষ যোগ্য কাঁকড়ার মধ্যে শিলা কাঁকড়া অন্যতম।  শিলা কাঁকড়া খোলস বদলের সময় প্রায় তিন ঘণ্টা খোলস বিহীন থাকে। তখন কাঁকড়ার ওপর শুধু একটি নরম আবরণ থাকে। ঠিক সেই সময় কাকড়াঁগুলো বিক্রির জন্য উপযুক্ত হয়।  আন্তর্জাতিক বাজারে সফটশেল (নরম খোসা) কাঁকড়ার উচ্চমূল্যে বিক্রি হয়, যার কারণে অনেক চাষি চিংড়ি ছেড়ে এখন কাঁকড়া চাষে ঝুঁকছেন। লাভ বেশি হওয়ায় চাষীরা এখন চিংড়ি চাষ ছেড়ে কাকড়াঁতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন বেশি।  বর্তমানে সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর ছাড়াও সদর উপজেলা ও কালিগঞ্জ উপজেলাসহ অন্যান্য স্থানেও সফটশেল কাঁকড়া চাষ হচ্ছে। কাঁকড়া চাষে পুকুরের পানির উপরিস্তর ব্যবহৃত হয়। যাতে অব্যবহৃত থাকে পানির নিচের স্তর। পুকুরের পানির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য কাঁকড়ার পাশাপাশি সাদা মাছ যেমন রুই, কাতলা ও তেলাপিয়াসহ নানা মাছ চাষ করে লাভবান হচ্ছেন অনেক চাষী।  সফটশেল কাঁকড়া সাধারণত খাঁচা পদ্ধতিতে চাষ হয়। যাতে পানির ওপরে খাঁচাগুলোতে কাঁকড়া চাষ করলে নিচের স্তরের পানিতে সাদা মাছের চাষ করা যায়।  সফটশেল কাঁকড়া দ্রুত প্রক্রিয়াজাত ও রান্না করা যায় বলে আন্তর্জাতিক বাজারে এর চাহিদা বেশি। বর্তমানে সফটশেল কাঁকড়া চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া ও ভিয়েতনামসহ বিভিন্ন এশীয় দেশে রপ্তানি হচ্ছে। কাঁকড়া শুধু সাতক্ষীরা জেলার মানুষের আয়েরই উৎস নয়, বরং কাঁকড়া চাষের মাধ্যমে এই অঞ্চলে মানুষের বেকারত্বও দূর করছে। পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও এই কাজ করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন।  সরেজমিনে শ্যামনগর উপজেলার কয়েকটি কাঁকড়ার খামারে গিয়ে দেখা যায়, কাঁকড়ার খামারে কর্মব্যস্ত দিন কাটাচ্ছেন নারী ও পুরুষরা। কেউ ছোট ছোট করে কাটছেন কাঁকড়ার খাবার তেলাপিয়া মাছ এবং কেউ কেউ নিয়ম করে দেখছেন কাঁকড়ার খোলস পাল্টাচ্ছে কি-না। খুলনা মৎস্য পরিদর্শন ও মাননিয়ন্ত্রণ দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সফটশেল কাঁকড়া রপ্তানিতে গত দুই অর্থবছরে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে (জুলাই থেকে এপ্রিল) বাংলাদেশ থেকে ১২০৭.৭৬ মেট্রিক টন সফটশেল কাঁকড়া রপ্তানি হয়, যার বাজার মূল্য ১৬.৪৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এরআগে অর্থাৎ ২০২৪-২৫ সালে রপ্তানির পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ১,১৬৬.৮৮ মেট্রিক টনে। যার বাজার মূল্য ছিল ১৪.২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। শ্যামনগরের চাষি মোহাম্মদ শামীম বলেন, ‘আমাদের এই অঞ্চলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে প্রায়ই নানা ধরনের ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। অনেক সময় ভাইরাসের আক্রমণেও কাঁকড়া পোনা মারা যায়, যা বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করে। তারপরও অন্যান্য কাঁকড়া চাষের তুলনায় সফটশেল কাঁকড়া চাষ লাভজনক হওয়ায় আমরা এটি চাষ করছি। পাশাপাশি পুকুরে সাদা মাছও চাষ করছি, যাতে আর্থিকভাবে কিছুটা বাড়তি লাভ পাওয়া যায়।’ আরেক চাষি আবদুল্লাহ আল কাইয়ুম বলেন, ‘আমাদের এলাকায় এখন মোটামুটি সবাই সফটশেল কাঁকড়া চাষের সঙ্গে যুক্ত। এই কাঁকড়া বিশেষ বক্সের মধ্যে চাষ করতে হয়। প্রতিটি বক্স তৈরিতে খরচ হয় প্রায় ১১০ টাকা। আমার খামারে প্রায় ১২ হাজার বক্স রয়েছে। বর্তমানে বাজারে সফটশেল কাঁকড়ার চাহিদা অনেক বেশি, তবে সেই তুলনায় যোগান কম।’ সাতক্ষীরা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জি এম সেলিম বাসস’কে বলেন, ‘সফটশেল কাঁকড়ার উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে আমরা বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নিয়েছি। চাষিদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, যাতে তারা আধুনিক ও টেকসই পদ্ধতিতে কাঁকড়া চাষ করতে পারেন।’

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মে ০৭, ২০২৬ 0
জিডিপিতে এসএমই খাতের অবদান ৩৫ শতাংশে উন্নীত করা সরকারের লক্ষ্য

অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করার কৌশল হিসেবে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতের অবদান ৩৫ শতাংশে উন্নীত করতে কাজ করছে সরকার। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিল্পের বহুমুখীকরণ এবং গ্রামীণ অর্থনীতি বিকাশে এসএমই খাত ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। জাতীয় অর্থনীতিতে এই খাতের অবদান আরও শক্তিশালী করাই নতুন এই লক্ষ্যমাত্রার মূল লক্ষ্য। সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, বর্তমানে জিডিপিতে এসএমই খাতের অবদান প্রায় ২৭ থেকে ৩০ শতাংশ। নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, সুনির্দিষ্ট নীতি প্রণয়ন, অর্থায়নের সহজ প্রবেশাধিকার এবং উদ্যোক্তা উন্নয়ন কর্মসূচি সম্প্রসারণের মাধ্যমে আগামী বছরগুলোতে এই খাত জাতীয় অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্যভাবে অবদান রাখতে পারবে। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সরকার জাতীয় এসএমই নীতিমালা বাস্তবায়ন করছে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ক্ষুদ্র ব্যবসায় ঋণের প্রবাহ বাড়ানো এবং এসএমই ক্লাস্টারগুলোতে ডিজিটাল রূপান্তরকে উৎসাহিত করা হচ্ছে। অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে নারী উদ্যোক্তা ও স্টার্টআপদের সহায়তা করতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এসএমই উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন, দক্ষতা উন্নয়ন এবং বাজার সংযোগ সহজতর করতে সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে এসএমই ফাউন্ডেশন ও বাংলাদেশ ব্যাংক। এসএমই ফাউন্ডেশনের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারজানা খান বাসস’কে বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে ৩৫ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হলে তা কেবল জিডিপি প্রবৃদ্ধিই বাড়াবে না, বরং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকেও শক্তিশালী করবে। তিনি উল্লেখ করেন, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা, প্রযুক্তির ঘাটতি এবং বাজারে প্রবেশের বাধার মতো বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত প্রচেষ্টা অপরিহার্য।  তিনি জানান, এসএমই উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন সহজ করতে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক পুনঃঅর্থায়ন স্কিম, স্বল্প সুদে ঋণ এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য বিশেষ ঋণ সুবিধাসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দ্রুত ডিজিটাল প্রযুক্তি গ্রহণ এসএমই খাতের চিত্র বদলে দিচ্ছে। ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম, মোবাইল আর্থিক সেবা এবং ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেমের মাধ্যমে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা তাদের বাজারের পরিধি ও পরিচালনা দক্ষতা বাড়াতে পারছেন। প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে ব্যবসায়ীদের প্রতিযোগিতায় টিকিয়ে রাখতে প্রশিক্ষণ, সক্ষমতা বৃদ্ধি ও বাজার সংযোগ সৃষ্টির বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে এসএমই ফাউন্ডেশন। ফারজানা খান বলেন, নীতি সহায়তা, সক্ষমতা উন্নয়ন এবং আর্থিক সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে এসএমই খাতকে শক্তিশালী করতে ফাউন্ডেশনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ফারজানা খান আরও বলেন, একটি জাতীয় ফোকাল সংস্থা হিসেবে এসএমই ফাউন্ডেশন ক্ষুদ্র ব্যবসার টেকসই উন্নয়ন ও প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়াতে সরকারি সংস্থা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি খাতে অংশীদারদের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছে। তিনি আরও জানান, বছরের পর বছর ধরে ফাউন্ডেশনটি উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ,  বৈচিত্র্যময় পণ্য কর্মসূচি, ক্লাস্টার-ভিত্তিক শিল্প উন্নয়ন ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং দেশি-বিদেশি বাজারে প্রবেশাধিকার বাড়াতে বাজার সংযোগের মতো উদ্যোগগুলো বাস্তবায়ন করে আসছে। তিনি জানান, বিশেষ করে উৎপাদন, কৃষি-প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং সেবা খাতের উদ্যোক্তাদের জন্য ঋণের প্রক্রিয়া সহজ করতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কাজ করে ফাউন্ডেশনটি অর্থায়নের সুযোগ নিশ্চিত করছে। এছাড়া, ব্যবসায়িক কর্মকা-ে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে সুনির্দিষ্ট প্রশিক্ষণ, মেন্টরশিপ এবং সহায়তা সেবার মাধ্যমে নারী উদ্যোক্তাদের বিকাশে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। শিল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, ক্লাস্টার উন্নয়ন কর্মসূচিগুলো হালকা প্রকৌশল (লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং), হস্তশিল্প, পাটজাত পণ্য এবং কৃষিভিত্তিক পণ্যের মতো ঐতিহ্যবাহী শিল্পগুলোকে শক্তিশালী করেছে, যা তৃণমূল পর্যায়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বিশেষ অবদান রাখছে। উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সত্ত্বেও এসএমই মালিকরা দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের সীমিত সুযোগ, সুদের উচ্চ হার, অপর্যাপ্ত অবকাঠামো এবং দক্ষ জনশক্তির অভাবের মতো নানা চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করে চলেছেন। দেশি ও আন্তর্জাতিক উভয় বাজারে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়াতে উদ্যোক্তারা নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রক্রিয়াগুলো সহজীকরণ এবং উন্নত লজিস্টিক সহায়তার দাবি জানিয়েছেন। রংপুরে সামান্য পুঁজিতে শুরু হওয়া একটি ক্ষুদ্র কৃষি-প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রতিষ্ঠান এখন একটি লাভজনক উদ্যোগে পরিণত হয়েছে এবং সেখানে ২০ জনেরও বেশি স্থানীয় কর্মী কাজ করছেন।। এসএমই অর্থায়ন প্রকল্পের সহায়তায় এই ব্যবসাটি এখন একাধিক জেলায় প্যাকেটজাত কৃষি পণ্য সরবরাহ করছে, যা গ্রামীণ দারিদ্র্য বিমোচনে এই খাতের সম্ভাবনারই বহিঃপ্রকাশ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অর্গানাইজেশন স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড লিডারশিপ বিভাগের চেয়ারম্যান মো. রাশেদুর রহমান বলেন, প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে এসএমই ক্লাস্টারগুলোকে শক্তিশালী করা, প্রযুক্তির সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা এবং রপ্তানি সক্ষমতা বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি। ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টিতে সরকারি ও বেসরকারি অংশীজনদের মধ্যে সমন্বিত প্রচেষ্টার গুরুত্বের ওপরও জোর দেন তিনি। রাশেদুর রহমান ঢাবির ইনোভেশন, ক্রিয়েটিভিটি অ্যান্ড এন্টারপ্রেনারশিপ সেন্টারেরও নির্বাহী পরিচালক। তিনি বলেন, নিরবচ্ছিন্ন নীতি সহায়তা এবং ও উদ্ভাবন অব্যাহত থাকলে উন্নত অর্থনীতি হওয়ার পথে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার মূল ভিত্তি হয়ে থাকবে এসএমই খাত। এদিকে, ডাচ-বাংলা ব্যাংক লিমিটেডের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ এসএমই খাতকে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হিসেবে অভিহিত করেছেন। সেইসঙ্গে তিনি কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং তৃণমূল পর্যায়ের শিল্পায়নে এই খাতের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি জানান, কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের উদ্যোক্তাদের নিয়ে এসএমই একটি বৈচিত্র্যময় গ্রাহক ভিত্তি গড়ে তুলেছে। ব্যাংকটি তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী চলতি মুলধন (ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল), মেয়াদী ঋণ এবং নারী উদ্যোক্তাদের জন্য অর্থায়নসহ বিভিন্ন ঋণ সুবিধার মাধ্যমে সক্রিয়ভাবে সেবা প্রদান করে আসছে। তার মতে, এসএমই অর্থায়ন কেবল একটি ব্যবসায়িক খাতই নয়, বরং এটি জাতীয় উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ একটি কৌশলগত অগ্রাধিকার; বিশেষ করে প্রধান শহরগুলোর বাইরে উদ্যোক্তা তৈরিতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন পুনঃঅর্থায়ন স্কিম এবং স্বল্প সুদের কর্মসূচিতে ব্যাংকের অংশগ্রহণ এই অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন। তবে এসএমই অর্থায়নে দীর্ঘস্থায়ী কিছু চ্যালেঞ্জের কথাও তুলে ধরেন তিনি। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সঠিক আর্থিক দলিলপত্রের অভাব, জামানতনির্ভর ঋণের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীলতা এবং ছোট অংকের ঋণে বেশি পরিচালন ও তদারকি ব্যয় এ খাতের প্রধান সমস্যা। তিনি বলেন, এসব চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও সঠিক সহযোগিতা পেলে এসএমই খাত ব্যাংক ঋণ পাওয়ার যোগ্য এবং অনেক ক্ষেত্রে উদ্যোক্তাদের ঋণ পরিশোধের আচরণও সন্তোষজনক। কৌশলগত অবস্থান থেকে তিনি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছে আরও কার্যকরভাবে পৌঁছাতে প্রযুক্তি-নির্ভর ব্যাংকিং সেবা সম্প্রসারণ, বিশেষায়িত পণ্যের মাধ্যমে নারী উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করা এবং তাদের মধ্যে আর্থিক সক্ষমতা ও ঋণ শৃঙ্খলা জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি আশা করেন, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার উন্নয়ন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতি সহায়তা এবং ডিজিটাল উদ্ভাবনের ফলে এসএমই খাত ব্যাংক ও জাতীয় অর্থনীতি উভয় ক্ষেত্রেই প্রবৃদ্ধির অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হিসেবে টিকে থাকবে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মে ০৭, ২০২৬ 0
ছবি : পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
সংযোগ, বাণিজ্য সহযোগিতা নিয়ে বাংলাদেশ-চীন আলোচনা

বাংলাদেশ ও চীন পরস্পরের মধ্যে সংযোগ, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, বহুপক্ষীয় প্ল্যাটফর্ম ও আঞ্চলিক বিষয়ে সহযোগিতা সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা করেছে। একই সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে দুই দেশ তাদের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক পুনর্ব্যক্ত করেছে। বেইজিংয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান আজ চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের (আইডিসিপিসি) মন্ত্রী লিউ হাইজিংয়ের সঙ্গে বৈঠককালে এ আলোচনা হয় বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। বৈঠকে উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও চীনের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক পর্যালোচনা করে। বিশেষ করে সংযোগ জোরদার, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, বহুপক্ষীয় সহযোগিতা  জোরদার এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক বিষয়ে মতবিনিময়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। ড. খলিলুর রহমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একটি সংযুক্ত, অর্থনৈতিকভাবে প্রাণবন্ত এবং বৈশ্বিকভাবে সম্পৃক্ত বাংলাদেশ গড়ার দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। উভয় পক্ষ ‘এক চীন নীতি’র প্রতি নিজেদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে এবং কৌশলগত বিভিন্ন খাতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও গভীর করার প্রস্তুতির কথাও জানায়।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মে ০৭, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশন শুরু ৭ জুন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশন শুরু হবে ৭ জুন, রোববার। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ, বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে এদিন বিকেল ৩টায় সংসদের অধিবেশন শুরু হবে। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের (১) দফায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এই অধিবেশন আহ্বান করেছেন। সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এই অধিবেশনে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট পেশ করবেন। এই বাজেট অধিবেশন হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মে ০৭, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
চিপের রমরমা ব্যবসায় ইতিহাস গড়ল স্যামসাং, বাজারমূল্য ছাড়াল ১ ট্রিলিয়ন ডলার

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির জন্য উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন চিপের চাহিদা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায়, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রযুক্তি জায়ান্ট স্যামসাং ইলেকট্রনিকসের বাজারমূল্য বুধবার প্রথমবারের মতো ১ ট্রিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে। এই খাতে দ্রুত বর্ধমান চাহিদার ফলে কোম্পানির শেয়ারমূল্য লাফিয়ে বেড়েছে এবং দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধান শেয়ারবাজার কসপি সূচক ইতিহাসে সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র। কোম্পানিটি এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। দেশীয় প্রতিদ্বন্দ্বী এসকে হাইনিক্স-এর সঙ্গে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন চিপ সরবরাহের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। দ্রুত পরিবর্তনশীল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) শিল্পের সঙ্গে তাল মেলাতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এ সব চিপের ওপর নির্ভর করছে, ফলে এর চাহিদাও দ্রুত বাড়ছে। গত সপ্তাহে কোম্পানিটি জানায়, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে তাদের মুনাফা রেকর্ড পরিমাণ বেড়েছে।  এই ঘোষণা এমন এক সময় এসেছে, যখন দক্ষিণ কোরিয়া সরকার যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের পাশাপাশি বিশ্বের শীর্ষ তিনটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) শক্তির একটি হিসেবে নিজেদের অবস্থান গড়ে তুলতে জোরালোভাবে কাজ করছে। বুধবার সকালের লেনদেনে স্যামসাংয়ের শেয়ারের দাম প্রায় ১২ শতাংশ বেড়ে যায়, যার ফলে বাজারমূল্য প্রথমবারের মতো ১ ট্রিলিয়ন ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে। একই সময়ে এসকে হাইনিক্স-এর শেয়ারও প্রায় ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। এর প্রভাবে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধান শেয়ারবাজার সূচক কসপি ৫ শতাংশেরও বেশি বেড়ে প্রথমবারের মতো ৭,০০০ পয়েন্ট ছাড়িয়ে যায়। গত এক বছরে এআই প্রযুক্তির দ্রুত প্রসারের কারণে স্যামসাংয়ের শেয়ারমূল্য প্রায় ৩০০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। আন্তর্জাতিক আর্থিক সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের তথ্য অনুযায়ী, স্যামসাং এখন তাইওয়ান সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানির পর দ্বিতীয় এশীয় প্রতিষ্ঠান, যার বাজারমূল্য ১ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়াল। গত সপ্তাহে কোম্পানিটি জানায়, তাদের পরিচালন মুনাফা বছরে ৭৫০ শতাংশ বেড়ে প্রথম প্রান্তিকে রেকর্ড ৫৭.২ ট্রিলিয়ন ওন (প্রায় ৩৯.৩ বিলিয়ন ডলার) হয়েছে। স্যামসাং এই প্রবৃদ্ধির পেছনে ‘এআই প্রযুক্তির উদ্ভাবন ও দ্রুত বাজারে সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা’-কে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে।  কোম্পানিটি আশা করছে, দ্বিতীয় প্রান্তিকেও এআই অবকাঠামো সম্প্রসারণের কারণে মেমরি চিপের চাহিদা অব্যাহত থাকবে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মে ০৬, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
শেয়ারবাজারে দরপতন, লেনদেন ৭৬৭ কোটি টাকা

দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) আজ সূচকের পতনের মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে।  অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারের দাম কমায়, বাজারে নেতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। দিনভর লেনদেনে ডিএসইতে মোট ৩৯১টি কোম্পানির ২৪ কোটি ৭২ লাখ ৭৬ হাজার ৪৩৩টি শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিট হাতবদল হয়।  এতে লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় ৭৬৭ কোটি ৬৮ লাখ ৩১ হাজার ৮৪০ টাকা।  সূচকের মধ্যে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স (ডিএসইএক্স) আগের কার্যদিবসের তুলনায় ১৮ দশমিক ৮৬ পয়েন্ট কমে ৫,২৪৮ দশমিক ৩৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।  ডিএসই-৩০ সূচক ৮ দশমিক ০৮ পয়েন্ট কমে ২,০০৯ দমমিক ০৯ পয়েন্টে ও শরিয়াহ সূচক (ডিএসইএস) ১ দশমিক ৯২ পয়েন্ট কমে ১,০৫৮ দশমিক ৫১ পয়েন্টে নেমে আসে। লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে দর বেড়েছে ১০৮টির, কমেছে ২১৬টির ও অপরিবর্তিত রয়েছে ৬৭টির শেয়ার। লেনদেনের ভিত্তিতে শীর্ষ ১০ কোম্পানির মধ্যে ছিল- মুন্নু সিরামিকস, ডমিনেজ স্টিল, মালেক স্পিনিং, টেকনো ড্রাগ, জিকিউ বলপেন, তৌফিকা ফুড, সিটি ব্যাংক, বেক্সিমকো ফার্মা, উত্তরা ব্যাংক ও মীর আখতার। দর বৃদ্ধির শীর্ষ ১০ কোম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে- মুন্নু সিরামিকস, মোজাফফর হোসেন স্পিনিং মিলস, সিলকো ফার্মা, সিকদার ইন্স্যুরেন্স, এপেক্স স্পিনিং, সায়হাম টেক্সটাইল, টেকনো ড্রাগ, মালেক স্পিনিং, এপেক্স ট্যানারি ও জেএমআই হাসপাতাল। অন্যদিকে দর পতনের শীর্ষ ১০ কোম্পানির তালিকায় রয়েছে- ফারইস্ট ফাইন্যান্স, ইন্ট্রাকো রিসোর্সেস, প্রিমিয়ার লিজিং, ইউনাইটেড ইন্স্যুরেন্স, বিআইএফসি, হামিদ ফেব্রিক্স, প্রাইম ফাইন্যান্স, বিডি ওয়েল্ডিং, তাকাফুল ইন্স্যুরেন্স ও কেপিসিএল।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মে ০৬, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
আইসিবিকে ১৫ লাখ টাকা জরিমানা করলো বিএসইসি

সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনের দায়ে ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি)-কে ১৫ লাখ টাকা জরিমানা করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।   বুধবার (৬ মে) কমিশনের পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।   বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, ভ্যানগার্ড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড পরিচালিত ‘ভ্যানগার্ড এএমএল রূপালী ব্যাংক ব্যালেন্সড ফান্ড’ থেকে বিধি-বহির্ভূতভাবে দুটি কোম্পানিতে মোট সাড়ে ৭ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে।   এর মধ্যে বেঙ্গল পলি অ্যান্ড পেপার স্যাক লিমিটেড-এ দেড় কোটি টাকা এবং এএফসি হেলথ লিমিটেড-এ ৬ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়, যা সিকিউরিটিজ আইন পরিপন্থী বলে উল্লেখ করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।   কমিশনের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ডটির ট্রাস্টি হিসেবে দায়িত্ব পালনে আইসিবি যথাযথ তদারকি করতে ব্যর্থ হয়েছে। এর ফলে ইউনিটধারীদের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হয়েছে। এ কারণেই প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ১৫ লাখ টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়েছে।   এর আগে মঙ্গলবার কমিশনের চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ১০১২তম কমিশন সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।   এদিকে, বিনিয়োগগুলোর বিপরীতে হঠাৎ করে ৯৯ শতাংশ প্রভিশন রাখা হলেও তা নিরীক্ষা প্রতিবেদনে যথাযথভাবে উপস্থাপন করেনি মালেক সিদ্দিকী ওয়ালী অ্যান্ড কোং। এ কারণে নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বিষয়টি ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল (এফআরসি)-এ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আক্তারুজ্জামান মে ০৬, ২০২৬ 0
রিহ্যাব প্রেসিডেন্ট ড. আলী আফজাল। ফাইল ছবি
দেশের প্রতিটি জেলায় জমির শ্রেণি বিন্যাস করে দেওয়ার আহবান রিহ্যাব প্রেসিডেন্টের

বাংলাদেশের চাষযোগ্য জমির এক ইঞ্চিও নষ্ট করা যাবে না। এ জন্য এখন থেকেই সরকারকে দেশের প্রতিটি জেলায় জোনিং করে জমির শ্রেণি বিন্যাস করে দেওয়ার আহবান জানিয়েছেন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব) প্রেসিডেন্ট ড. আলী আফজাল। আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রনালয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমনের সাথে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। রিহ্যাব প্রেসিডেন্ট বলেন, রাজধানী ঢাকাকে বাসযোগ্য নগরীতে রুপান্তরের জন্য যেমনি ডিটেইল এরিয়া প্লান (ড্যাপ) তৈরী করা হয়েছে। এমনিভাবে সারাদেশের প্রতিটি জেলায়ও জমির প্রকৃতি নির্ধারণ করে আবাসন, শিল্পায়ন ও কৃষি জমি রক্ষা করতে হবে। তা না হলে ভবিষ্যৎ প্রজম্মের কাছে আমাদের জবাবদিহিতার কোন সুযোগ থাকবেনা।  তিনি বলেন, কৃষি জমি নষ্ট করা যাবে না, সে ক্ষেত্রে বিকল্প একটাই যে আমাদের ভার্টিকালি যেতে হবে। হাই রাইজ বিল্ডিং করতে হবে ।  তিনি বলেন, গৃহায়ন মন্ত্রীর সাথে সাক্ষাতে আমরা বলেছি হাইট স্টেশন তুলে দিতে হবে। বিশেষ করে এয়ারফেস সহ রাষ্ট্রের রাডার সহ গুরুত্বপূর্ণ যে জায়গাগুলো আছে সেই জায়গা ছাড়া বাকি জায়গাতে হাইট স্টেশন রাখার কোন দরকার নেই। যেটা আমরা অনেক উদাহরণ দিয়ে বলেছি যেমনটা বলেছি ব্যাংককের কথা। কারণ ব্যাংককে সরকার তাদের দেশের জমির এক ইঞ্চিও নষ্ট করেনা।  তিনি বলেন, আমরা গৃহায়ন মন্ত্রীকে এটাও বলেছি যে শুধু ঢাকার জন্য একটা প্লান করে  বসে থাকলে হবেনা। আমরা বলেছি গোটা বাংলাদেশটাকে জোনিং করতে হবে। যেখানে কৃষি সমৃদ্ব এলাকা সেখানে কৃষিকে প্রাধান্য দিতে হবে। কৃষি জমির এক ইঞ্চিতেও শিল্পায়ন বা আবাসন করা যাবেনা। আবার যেখানে শিল্পায়ন করতে হবে সেখানেও উচু ভবন তৈরীর প্লান থাকতে হবে।  রিহ্যাব প্রেসিডেন্ট বলেন, আগের সরকরের আমলে তৈরী করা ড্যাপ -এ অনেক অসংগতি রয়েছে সেগুলো চিহ্নিত করে নতুনভাবে সাজাতে হবে। যেমন ধরেন রাজধানীর মিরপুরের একটি এলাকায় আশপাশে সব ১০ থেকে ১৫ তলা ভবন। সেখানে আজগুবি ভাবে ড্যাপে দেখানো আছে ১৫ ফিট সড়ক। আসলে সেখানে এই ধরনের কোন সড়ক নেই। আর এই আজগুবি সড়কের অযুহাতে রাজউক প্লান দিচ্ছেনা এলাকাবাসীকে। এটা সাধারণ গ্রাহকদের জন্য ভোগান্তির কারন।  তিনি বলেন, ড্যাপ সংশোধন বিষয়ে গৃহায়ন মন্ত্রী তাদের কথা মনযোগ সহকারে শুনেছেন। এবং ড্যাপের বিষয়ে কি ধরনের ক্রটি বিচ্যুতি রয়েছে তা চিহ্নিত করে সুনির্দিষ্টভাবে আবেদন করে তা তুলে ধরতে বলেছেন। সে অনুযায়ী এ বিষয়ে তারা সরকারকে তাদের সুপারিশ তুলে ধরবেন।  রিহ্যাব প্রেসিডেন্ট বলেন, একই সাথে আমরা বলার চেষ্টা করেছি রাষ্ট্রকে আবাসন খাতের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট রূপরেখা দিতে হবে। যাতে যত্রতত্র আবাসনের নামে মুল্যবান জমি নষ্ট না হয়।  তিনি বলেন, আমরা চাই দেশের উন্নয়ন, দেশের আবাসন সেক্টরের উন্নয়ন।  তিনি বলেন, বাংলাদেশ ছোট্ট একটা দেশ। ১৮ কোটি মানুষের দেশ। এই দেশে পপুলেশন বাড়বে ল্যান্ড কিন্তু বাড়বে না। আমরা পরিসংখ্যানে দেখেছি ২১শ সালে পপুলেশন প্রায় ৩৫ কোটি হবে। এই ৩৫ কোটি মানুষের আবাসন দিতে হবে একই সাথে কিন্তু রাষ্ট্র খাওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে সেজন্য আমরা বলেছি যে, বাংলাদেশের চাষযোগ্য জমির এক ইঞ্চিও নষ্ট করা যাবে না। তাহলে বিকল্প একটাই যে আমাদেরকে ভার্টিকাল এক্সপেশনে যেতে হবে। হাই রাইজ বিল্ডিং করতে হবে। পাশাপাশি ঢাকাকে বাসযোগ্য নগরীতে রূপান্তর করতে হবে।  গৃহায়ন মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, রিহ্যাবের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আব্দুর রাজ্জাক, ভাইস প্রেসিডেন্ট বরকতুল্লাহ, ডাইরেক্টর এবং ইটিভির এমডি তাসনোভা মাহবুব সালাম, মোস্তাফিজুর রহমান এমপিসহ রিহ্যাবের নব নির্বাচিত কমিটির নেতৃবৃন্দ। 

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মে ০৫, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
ইলেকট্রিক ও হাইব্রিড গাড়িতে ঋণ মিলবে ৮০ লাখ টাকা, বাড়ল ব্যক্তিগত ঋণের সীমাও

দেশে পরিবেশবান্ধব যানবাহনের ব্যবহার বাড়াতে ইলেকট্রিক ও হাইব্রিড গাড়ি ক্রয়ে ঋণের সীমা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এসব গাড়ি কিনতে একজন গ্রাহক ব্যাংক থেকে সর্বোচ্চ ৮০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন, যা আগে ছিল ৬০ লাখ টাকা। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত ঋণের সীমাও বাড়ানো হয়েছে।  আজ মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১ থেকে জারি করা এক সার্কুলারে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, সাধারণ গাড়ির ক্ষেত্রে ঋণের সর্বোচ্চ সীমা ৬০ লাখ টাকা অপরিবর্তিত থাকলেও ইলেকট্রিক ও হাইব্রিড গাড়ির জন্য বাড়তি সুবিধা দেওয়া হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় এসব পরিবেশবান্ধব গাড়ির ক্ষেত্রে ঋণ প্রদানে ব্যাংকগুলোকে আরও নমনীয় হতে বলা হয়েছে। সাধারণ গাড়ির জন্য ঋণ-ইক্যুইটি অনুপাত ৬০:৪০ থাকলেও, ইলেকট্রিক ও হাইব্রিড গাড়ির ক্ষেত্রে তা বাড়িয়ে ৮০:২০ নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ, কোনো হাইব্রিড বা ইলেকট্রিক গাড়ির দাম এক কোটি টাকা হলে ব্যাংক থেকে সর্বোচ্চ ৮০ লাখ টাকা ঋণ পাওয়া যাবে, বাকি ২০ লাখ টাকা গ্রাহককে নিজস্ব অর্থায়নে বহন করতে হবে। এছাড়া ব্যক্তিগত ঋণের ক্ষেত্রেও সীমা বাড়িয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। জামানত ছাড়া একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা ঋণ নিতে পারবেন। তবে যথাযথ জামানত থাকলে ব্যাংকগুলো বেশি ঋণ দিতে পারবে, কিন্তু কোনো অবস্থায়ই তা ৪০ লাখ টাকার বেশি হবে না। ব্যক্তিগত ঋণের সীমা নিয়ে সার্কুলারে বলা হয়েছে, গত কয়েক বছরে দেশে ভোক্তা পণ্যের বাজার দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। ক্রমবর্ধমান মাথাপিছু আয়ের পাশাপাশি দেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ভোক্তার খরচ করার সামর্থ্য বাড়িয়েছে। বিদ্যমান বাজারমূল্য এবং ভোক্তাপণ্যের ক্রমবর্ধমান চাহিদাকে বিবেচনায় নিয়ে ভোক্তা ঋণেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। সার্কুলারে বলা হয়েছে, ব্যাংকগুলোকে এমনভাবে ভোক্তা অর্থায়ন (কনজ্যুমার ফাইন্যান্স) করতে হবে, যাতে কোনোভাবেই তা মোট ঋণের প্রবৃদ্ধির হার ব্যাংকের মোট ঋণের প্রবৃদ্ধির হারকে অতিক্রম না করে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মে ০৫, ২০২৬ 0
প্যারিসে জি-৭ ভুক্ত দেশগুলোর বাণিজ্যমন্ত্রীদের বৈঠক

 জি-৭ ভুক্ত দেশগুলোর বাণিজ্যমন্ত্রীরা মঙ্গলবার ও বুধবার প্যারিসে বৈঠকে বসছেন। তবে এই বৈঠকে ইউরোপীয় যানবাহনের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের সাম্প্রতিক হুমকি সরাসরি আলোচনায় আসছে না। জি-৭-এর ফরাসি সভাপতিত্বে এটি বাণিজ্যমন্ত্রীদের দ্বিতীয় বৈঠক। এই দ্বিতীয় বৈঠকটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এই প্রণালী দিয়েই সাধারণত বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল প্রবাহিত হয়। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র। ফ্রান্সের জুনিয়র বা উপ-বাণিজ্যমন্ত্রী নিকোলাস ফোরিসিয়ারের কার্যালয় জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব নিয়ে অনানুষ্ঠানিক আলোচনাই মঙ্গলবারের বৈঠকে প্রাধান্য পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত শুক্রবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের ব্যক্তিগত গাড়ি ও ট্রাকের ওপর শুল্ক বাড়ানোর হুমকি দেন, তবে এই বিষয়টি আলাদাভাবে আলোচনা হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার ফরাসি রাজধানীতে ইইউ বাণিজ্য কমিশনের সদস্য মারোস শেফকোভিচের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।   গত গ্রীষ্মে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে একটি চুক্তি হয়, যেখানে ইউরোপীয় গাড়ি ও যন্ত্রাংশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশে সীমাবদ্ধ রাখা হয়।  যদিও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অন্যান্য অনেক দেশের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন। ফরাসি দপ্তর জানিয়েছে, ‘এ মুহূর্তে অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া দেখানোর প্রয়োজন নেই। সময় হলে ইউরোপীয় দেশগুলো নিজেদের মধ্যে বিষয়টি আলোচনা করবে, তবে জি-৭-এর কাঠামোর মধ্যে এই আলোচনা নয়। বুধবার জি-৭ দেশগুলোর (যুক্তরাজ্য, কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, জাপান ও যুক্তরাষ্ট্র) মন্ত্রীরা চারটি প্রধান অগ্রাধিকার নিয়ে আলোচনা করবেন।  এর মধ্যে প্রথম অগ্রাধিকার হলো— শিল্প খাতে অতিরিক্ত উৎপাদন মোকাবিলায় সম্মিলিত ও কার্যকর উপায় খুঁজে বের করা। 

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মে ০৫, ২০২৬ 0
ফাইল ছবি
ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে চামড়া ব্যবসায়ীদের ঋণ বিতরণে নির্দেশ বাংলাদেশ ব্যাংকের

আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে কোরবানিকৃত পশুর কাঁচা চামড়া সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিপণন কার্যক্রম নির্বিঘ্ন করতে চামড়া ব্যবসায়ীদের অনুকূলে ঋণ বিতরণের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংক মঙ্গলবার জারিকৃত এক সার্কুলার লেটারে এ তথ্য জানিয়েছে। এতে জানানো হয়, চামড়া শিল্প দেশীয় কাঁচামালনির্ভর একটি গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানিমুখী খাত, যা জাতীয় প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন ও সাশ্রয় এবং মূল্য সংযোজনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। প্রতি বছর এ শিল্পে ব্যবহৃত মোট কাঁচামালের একটি বড় অংশই আসে পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে কোরবানিকৃত পশুর চামড়া থেকে। ফলে এই সময়ে কাঁচা চামড়া সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, এ সময়ে যদি কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ীদের কাছে পর্যাপ্ত অর্থের জোগান নিশ্চিত করা যায়, তাহলে জাতীয় সম্পদ হিসেবে বিবেচিত চামড়া ক্রয়, সংরক্ষণ ও বিপণন কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে। এ লক্ষ্যেই ব্যাংকসমূহকে ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের অনুকূলে চলতি মূলধন ঋণ সীমা মঞ্জুর ও দ্রুত বিতরণের নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। সার্কুলারে আরও বলা হয়, এ ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোকে শুধু অনুমোদনেই সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তবায়নে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। যাতে তৃণমূল পর্যায়ে চামড়া ক্রয় কার্যক্রমে জড়িত ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরাও সহজে এ সুবিধা পেতে পারেন। চামড়া সংগ্রহের সঙ্গে জড়িত সকল পর্যায়ে অর্থায়নের প্রবাহ নিশ্চিত করতে ব্যাংকগুলোকে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে বলা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক আরও জানিয়েছে, যেসব চামড়া ব্যবসায়ীর পূর্বে পুনঃতফসিলকৃত ঋণ রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে নতুন ঋণ সুবিধা প্রদানের সময় পুনঃতফসিলকৃত ঋণের বিপরীতে কম্প্রোমাইজড অর্থ আদায়ের বাধ্যবাধকতা সাময়িকভাবে শিথিল করা হয়েছে। এ শিথিলতা ৩০ জুন পর্যন্ত বহাল থাকবে, যাতে ব্যবসায়ীরা সহজে নতুন ঋণ সুবিধা গ্রহণ করতে পারেন এবং কাঁচা চামড়া ক্রয় কার্যক্রমে অংশ নিতে সক্ষম হন। এছাড়া, ব্যাংকগুলোকে ২০২৬ সালে কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া ক্রয়ের জন্য একটি নির্দিষ্ট ঋণ বিতরণ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যমাত্রা ২০২৫ সালের ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় কম নির্ধারণ করা যাবে না। নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা এবং বাস্তবায়িত ঋণ বিতরণের তথ্য নির্ধারিত ফরম্যাটে আগামী ৩১ জুলাই তারিখের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগে পাঠাতে হবে। সার্কুলারে আরও উল্লেখ করা হয়, এ নির্দেশনাগুলো কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের চামড়া খাতের উৎপাদন ও বিপণন কার্যক্রমে গতি আসবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা আয়ে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। একই সঙ্গে এ খাতে জড়িত বিপুল সংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান ও আয় বৃদ্ধিতেও সহায়ক ভূমিকা রাখবে। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এ নির্দেশনা ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জারি করা হয়েছে এবং তা অবিলম্বে কার্যকর হবে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মে ০৫, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
শেয়ারবাজারে দরপতন: সূচক ও লেনদেনে কমতির ধারা

সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবসে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) নেতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। মঙ্গলবার অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমায় প্রধান সূচকগুলোর পাশাপাশি লেনদেনেও পতন হয়েছে।   দিনভর লেনদেনে অংশ নেওয়া ৩৯৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে ১০৭টির, বিপরীতে কমেছে ২২৭টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৫৯টির দর।   এই দরপতনের প্রভাবে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১১ পয়েন্ট হারিয়ে নেমে এসেছে ৫ হাজার ২৬৭ পয়েন্টে। একইভাবে, বড় মূলধনী ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক ৬ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ১৭ পয়েন্টে। তবে শরিয়াহভিত্তিক ডিএসইএস সূচক ৬ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৬০ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে।   লেনদেনেও দিনের শেষে কিছুটা মন্দাভাব দেখা যায়। মোট লেনদেন হয়েছে ৮৩২ কোটি ২৯ লাখ টাকা, যা আগের কার্যদিবসের ৮৭৬ কোটি ৯৫ লাখ টাকার তুলনায় ৪৪ কোটি ৬৬ লাখ টাকা কম।   অন্যদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) বেশিরভাগ শেয়ারের দাম কমেছে। এখানে লেনদেন হওয়া ১৯৮টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দর বেড়েছে ৭০টির, কমেছে ১০২টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২৬টির দর। তবে সামগ্রিক সূচক সিএএসপিআই ২১ পয়েন্ট বেড়ে ১৪ হাজার ৮০৫ পয়েন্টে পৌঁছেছে।   এই বাজারে মোট ১৫ কোটি ১৭ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিনের ১৬ কোটি ৭৭ লাখ টাকার তুলনায় কম।

আক্তারুজ্জামান মে ০৫, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া: বাণিজ্যমন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিদ্যমান বাণিজ্যচুক্তি বর্তমান সরকারের উদ্যোগে নয়, বরং রাষ্ট্রীয় ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে “উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া”—এমন মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।   মঙ্গলবার (৫ মে) সচিবালয়ে মার্কিন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “রাষ্ট্রের মধ্যে সম্পাদিত কোনো চুক্তি ব্যক্তিগত চুক্তির মতো নয় যে ইচ্ছামতো বাতিল করা যাবে।”   বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডন লিঞ্চ-এর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল অংশ নেয়।   মন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার এই বাণিজ্যচুক্তি পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। “যেকোনো আন্তর্জাতিক চুক্তিতে ‘উইন-উইন’ পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা থাকে। তাই এ চুক্তি নিয়ে অযথা উদ্বেগের কিছু নেই,” যোগ করেন তিনি।   সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত প্রক্রিয়া শুরুর বিষয়েও কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাখ্যা চেয়েছে এবং প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে নিজেদের অবস্থান ইতোমধ্যে তুলে ধরা হয়েছে।   দেশের স্বার্থ রক্ষাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, “চুক্তির কোনো ধারা যদি বাংলাদেশের স্বার্থের পরিপন্থী হয়, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ রয়েছে।” এ কারণে এ বিষয়ে অযথা আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।   উল্লেখ্য, গত ৯ ফেব্রুয়ারি ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত অতিরিক্ত শুল্কের প্রভাব কমাতে ঢাকা ও ওয়াশিংটনের মধ্যে একটি পারস্পরিক শুল্ক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

মোঃ নাহিদ হোসেন মে ০৫, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
টিকে গ্রুপের গ্যাস বিল জালিয়াতি : চাপ কারসাজিতে ১৩.৭২ কোটি টাকা আত্মসাৎ

গ্যাসের চাপ কারসাজি করে ১৩ কোটি ৭২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে টিকে গ্রুপের প্রতিষ্ঠান সামুদা কেমিক্যাল কমপ্লেক্স লিমিটেডের বিরুদ্ধে। গ্যাস চুরির এই অভিনব জালিয়াতির ঘটনায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে টিকে গ্রুপকে বকেয়া এরিয়ার গ্যাস বিল হিসেবে ১৩ কোটি ৭২ লাখ টাকা পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কম্পানির সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থাপক আব্দুল বাতিনকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। চট্টগ্রামের বাহির সিগন্যাল এলাকায় অবস্থিত টিকে গ্রুপের সামুদা কেমিক্যাল কমপ্লেক্স লিমিটেডের গ্যাস ব্যবহারে জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে। প্রকৃত প্রেসার ২.৯৬৯ পিএসআইজি হওয়ার কথা থাকলেও ২.৬২৯ দেখিয়ে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ২০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কম্পানির বিক্রয় উত্তর-১ বিভাগ থেকে ইস্যু করা চিঠিতে বলা হয়েছে, চুক্তি অনুযায়ী ২ বার (২৯ পিএসআইজি) চাপের ভিত্তিতে গ্যাস সরবরাহ করা হয়। গ্যাস বিপণন নিয়মাবলী-২০১৪ অনুযায়ী ২৯ পিএসআইজি চাপের জন্য প্রেসার ফ্যাক্টর বা চাপ শুদ্ধিগুণকের মান হবে ২.৯৬৯। এই নিয়ম ২০১০ সাল থেকে বিল প্রক্রিয়ায় প্রয়োগ করা হচ্ছিল। কিন্তু ২০১৮ সালের ২২ জুলাই ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরি করার সময় জালিয়াতির মাধ্যমে প্রেসার ফ্যাক্টর ২.৬২৯ দেখিয়ে বিল ইস্যু করা হয়। এর ফলে ২০১৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সরবরাহকৃত গ্যাসের সঠিক পরিমাণ অনুযায়ী বিল আদায় হয়নি এবং প্রতি মাসে প্রায় ২০ লাখ টাকা কম জমা পড়েছে সামুদা কেমিক্যালের। কর্ণফূলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কম্পানির ইস্যু করা চিঠিতে বলা হয়েছে, বিদ্যমান চুক্তি অনুযায়ী গ্যাসের প্রেসার ফ্যাক্টর ২.৯৬৯-এর ভিত্তিতে ২০১৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সঠিক পরিমাণের ভিত্তিতে ১৩ কোটি ৭২ লাখ টাকা আদায়যোগ্য। ওই টাকা পে-অর্ডার অথবা রাজস্ব শাখায় জমা দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে বড় ধরনের জালিয়াতি করলেও ব্যবস্থাপক আব্দুল বাতিনকে শুধুমাত্র অন্যত্র বদলি করে দায় সারা হয়েছে। গ্যাস কম্পানির এত বড় ক্ষতি করায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তার অধীনে থাকা অন্যান্য কম্পানির চাপ যাচাই করে দেখার দাবি উঠেছে। কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সালাউদ্দিন বলেছেন, এখনো তারা এরিয়ার বিল জমা দেয়নি। সম্ভবত বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে এ সংক্রান্ত একটি মামলা চলমান। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিইআরসির নির্দেশনার প্রেক্ষিতে ওই ঘটনায় কয়েকজন অফিসারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ ইস্যু করা হয়েছে। টিকে গ্রুপের বিরুদ্ধে নানা ধরনের জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে। তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠান কর্ণফুলী স্টিল মিলস লিমিটেডের ক্যাপটিভ বিদ্যুতে গ্যাস সংযোগে মহাজালিয়াতির ঘটনা ব্যাপক সমালোচিত হয়েছে। এনওসি না থাকায় টিকে এ সংযোগ পেতে অন্ধকার পথ অবলম্বন করেছে। জালিয়াতির মাধ্যমে তারা এমন সব গোজামিল করেছে যা খালি চোখে সহজেই দৃশ্যমান।  ফৌজদারহাট বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের এখতিয়ার না থাকলেও ভূয়া চিঠির মাধ্যমে টিকে গ্যাস সংযোগ অনুমোদন পায়। ২০২১ সালের ৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত কম্পানির ১৬৯তম বোর্ডসভায় টিকে গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান কর্নফুলী স্টিল মিলস লিমিটেডের ১৬.৮ মেগাওয়াট ক্যাপটিভে গ্যাস সংযোগের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। কেজিডিসিএলের একজন সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, তার সময়ে টিকে গ্রুপের অনেক ভুয়া কাগজ তিনি ধরেছিলেন। তাদের কাগজপত্র আরো যাচাই করলে আরো অনেক জালিয়াতি পাওয়া যাবে। তিনি জানান, আগের সরকারের সময়ে তারা জ্বালানি উপদেষ্টার (তৌফিক ই-ইলাহী চৌধুরী) দপ্তর থেকে বিভিন্ন বিষয়ে চাপ প্রয়োগ করত। টিকে গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের গ্রুপ ডিরেক্টর মোহাম্মাদ মোস্তফা হায়দারকে ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। এ ছাড়া নিউজের বিষয়ে কথা বলার জন্য পাঠানো এসএমএস-এও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

মারিয়া রহমান মে ০৪, ২০২৬ 0
ফাইল ছবি
পশ্চিমবঙ্গে ভোট গণনাকে ঘিরে বুড়িমারী স্থলবন্দরে আমদানি-রপ্তানি স্থগিত

ভারতের ১৭তম পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনা নির্বিঘ্ন করতে গতকাল রোববার সকাল ৬টা থেকে আন্তর্জাতিক সীমান্তে মানুষ ও যানবাহন চলাচল বন্ধ করেছে ভারতীয় প্রশাসন। এর প্রভাব পড়েছে লালমনিরহাটের পাটগ্রামের বুড়িমারী স্থলবন্দরে। যেখানে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। কোচবিহার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শ্রী জিতিন যাদব এবং জলপাইগুড়ি জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শ্রী সন্দীপ কুমার ঘোষ স্বাক্ষরিত পৃথক নির্দেশনায় জানানো হয়, ভোট গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে যাতায়াত বন্ধ থাকবে। চ্যাংড়াবান্ধা স্থলবন্দর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন এই তথ্য বুড়িমারী সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনকে অবহিত করে। তবে জরুরি চিকিৎসা, বৈধ ভ্রমণ এবং পচনশীল পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে শর্তসাপেক্ষে চলাচলের অনুমতি রাখা হয়েছে। বুড়িমারী সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফারুক হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক এ এস এম নিয়াজ নাহিদ জানান, ৩ ও ৪ মে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকবে এবং ৫ মে থেকে স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু হবে। বুড়িমারী স্থল শুল্ক স্টেশনের সহকারী কমিশনার মতলেবুর রহমান বলেন, আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকলেও কাস্টমসের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম চালু রয়েছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মে ০৪, ২০২৬ 0
এপ্রিল মাসে তুরস্কের বার্ষিক মুদ্রাস্ফীতি বেড়ে পৌঁছেছে ৩২.৩৭ শতাংশে

তুরস্কে বার্ষিক মূল্যস্ফীতি আবার বেড়ে এপ্রিল মাসে ৩২ দশমিক ৩৭ শতাংশে পৌঁছেছে, যা মার্চ মাসে ছিল ৩০ দশমিক ৯ শতাংশ।  সোমবার প্রকাশিত সরকারি তথ্য অনুযায়ী এ তথ্য জানা গেছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র। মাসিক ভিত্তিতেও ভোক্তা মূল্য দ্রুত হয়েছে। মার্চের ১ দশমিক ৯ শতাংশ থেকে বেড়ে এপ্রিলে ভোক্তা মূল্য বেড়েছে ৪ দশমিক ১৮ শতাংশ।  মূলত বাসস্থান, পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানি খরচ বৃদ্ধির কারণে, এই চাপ তৈরি হয়েছে বলে জানায় তুর্কি পরিসংখ্যান ইনস্টিটিউট বা টিইউআইকে।   এই পরিসংখ্যান নিয়ে দ্বিমত পোষণ করেছেন অর্থনীতিবিদদের সংগঠন ইনফ্লেশন রিসার্চ গ্রুপ (ইএনএজি)।   তাদের হিসাব অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে বার্ষিক মূল্যস্ফীতি ৫৫ দশমিক ৩৮ শতাংশে পৌঁছেছে। ইএনএজি দীর্ঘদিন ধরেই তুরস্কের সরকারি মূল্যস্ফীতি পরিসংখ্যান নিয়ে প্রশ্ন তুলে আসছে। তুরস্ক ২০১৯ সাল থেকে দুই অঙ্কের মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে লড়াই করছে। বিগত চার বছর ধরে এর বার্ষিক মুদ্রাস্ফীতি ৩০ শতাংশের ওপরে রয়েছে। গত ২০২৪ সালের মে মাসে মূল্যস্ফীতি ৭৫ শতাংশের সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছেছিল।  এরপর তা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মে ০৪, ২০২৬ 0
Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সপ্তাহের সেরা

ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক

ইরান যুদ্ধের দুই মাস : লাভ হলো কার?

আক্তারুজ্জামান মে ০৪, ২০২৬ 0