অর্থনীতি

ছবি : সংগৃহীত
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের এমডি পদে আবেদুর রহমান সিকদার মনোনীত

নবগঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে আবেদুর রহমান সিকদারের নিয়োগে পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন হয়েছে। এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনাপত্তিপত্র (এনওসি) পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এনওসি পাওয়া গেলে দ্রুতই নতুন দায়িত্ব গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করবেন তিনি।   মঙ্গলবার (২৩ জুন) অনুষ্ঠিত ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের সভায় এমডি নিয়োগের বিষয়টি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে ব্যাংকটির একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। পর্ষদের অনুমোদনের পর নিয়ম অনুযায়ী ব্যাংকের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনাপত্তিপত্রের জন্য আবেদন করবে এবং অনাপত্তিপত্র মিলছে এমডি হিসেবে ব্যাংকে যোগদান করতে পারবেন।   যোগদানের বিষয়ে জানতে চাইলে বুধবার (২৪ জুন) আবেদুর রহমান সিকদার ঢাকা পোস্টকে বলেন, সরকার তাকে নিয়োগ দিলেও একটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের আগে কয়েকটি আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়।   তিনি বলেন, ‘প্রথমে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন প্রয়োজন হয়। এরপর পর্ষদের আবেদনের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনাপত্তিপত্র গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি আমার বর্তমান কর্মস্থল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে অব্যাহতি নেওয়ার বিষয়টিও সম্পন্ন করতে হবে।’   আবেদুর রহমান সিকদার বলেন, ‘সব ধরনের প্রক্রিয়া শেষ করেই নতুন দায়িত্বে যোগ দেব। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব দায়িত্ব গ্রহণের চেষ্টা করব।’   আবেদুর রহমান সিকদার বর্তমানে বেসরকারি ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।   এদিকে এমডি না থাকায় সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের সার্বিক কার্যক্রম অনেকটা স্থবির হয়ে আছে। পাঁচটি সংকটে থাকা ব্যাংকের সম্পদ, দায়, জনবল ও প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা একীভূত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো এগিয়ে নিতে একজন পূর্ণকালীন প্রধান নির্বাহীর প্রয়োজন হলেও পদটি শূন্য রয়েছে।   বিশেষ করে আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেওয়ার কার্যক্রম, বড় অঙ্কের লেনদেন অনুমোদন, পুনর্গঠন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং নতুন সাংগঠনিক কাঠামো চূড়ান্ত করার কাজগুলোতে বিলম্ব হচ্ছে। ফলে অনেক গ্রাহক সময়মতো তাদের আমানত উত্তোলন করতে পারছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে।   এ ছাড়া পাঁচটি ব্যাংকের তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থা, কোর ব্যাংকিং সিস্টেম (সিবিএস), জনবল ও শাখা কার্যক্রম একীভূত করার কাজও প্রত্যাশিত গতিতে এগোচ্ছে না। সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন এমডি দায়িত্ব গ্রহণ করলে এসব কাজের গতি বাড়বে এবং ব্যাংকটির স্বাভাবিক কার্যক্রম চালু করা সহজ হবে।   দেশের ব্যাংক খাতে চলমান তারল্য সংকট মোকাবিলায় আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের সম্পদ ও দায় একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করেছে সরকার।   এদিকে বুধবার জাতীয় সংসদে দেওয়া তথ্যে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক এবং ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসিকে 'ব্যাংক রেজল্যুশন স্কিম, ২০২৫'-এর আওতায় এনে তাদের সম্পদ ও দায় নবগঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে স্থানান্তর করা হয়েছে।   তিনি জানান, 'আমানত সুরক্ষা আইন, ২০২৬'-এর আওতায় এসব ব্যাংকের গ্রাহকদের প্রাথমিকভাবে সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা পর্যন্ত পরিশোধ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার কার্যক্রমও শুরু হয়েছে।   সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংককে দ্রুত কার্যকর করতে সরকার ইতোমধ্যে পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান নিয়োগ দিয়েছে এবং তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। পাশাপাশি করপোরেট সুশাসন নিশ্চিত করতে কোম্পানি সেক্রেটারি, চিফ ফাইন্যান্স অফিসার (সিএফও) এবং চিফ টেকনোলজি অফিসার (সিটিও) নিয়োগের প্রক্রিয়াও চলছে।   সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এমডি হিসেবে আবেদুর রহমান সিকদারের যোগদান ব্যাংকটির পুনর্গঠন, গ্রাহকদের আস্থা পুনরুদ্ধার এবং স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে আমানত ফেরত, তারল্য ব্যবস্থাপনা এবং পাঁচটি ব্যাংকের একীভূত কার্যক্রম পরিচালনায় তার নেতৃত্ব বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।   আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে ব্যর্থ হওয়ায় পাঁচটি ব্যাংককে একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হয়। ৩৫ হাজার কোটি টাকার পরিশোধিত মূলধন নিয়ে যাত্রা শুরু করা ব্যাংকটিতে সরকারের অংশীদারিত্ব রয়েছে ২০ হাজার কোটি টাকা। বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকা আমানতকারীদের জমার বিপরীতে শেয়ারে রূপান্তর করা হয়েছে। গত বছরের ৩০ নভেম্বর ব্যাংকটির কার্যক্রম পরিচালনার অনুমোদন দেওয়া হয়।

মারিয়া রহমান জুন ২৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
সঞ্চয়পত্র বিক্রিতে কঠোর হলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক

সঞ্চয়পত্র বিক্রির তালিকাভুক্ত ব্যাংক হওয়া সত্ত্বেও গ্রাহকদের বিভিন্ন উপায়ে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগে নিরুৎসাহিত করার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দেশের সব তফসিলি ব্যাংককে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সঞ্চয়পত্র বিক্রি কার্যক্রম অব্যাহত রাখা এবং গ্রাহকদের প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে ব্যাংকগুলোকে সতর্ক করা হয়েছে।   বুধবার (২৪ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেট ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্ট (ডিএমডি) থেকে জারি করা এক সার্কুলারে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের (সিইও) কাছে চিঠিটি পাঠানো হয়েছে। সার্কুলারে বলা হয়, সম্প্রতি বিভিন্ন পর্যায়ের গ্রাহকদের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে যে, সঞ্চয়পত্র বিক্রির জন্য অনুমোদিত থাকা সত্ত্বেও কিছু ব্যাংক নানা প্রক্রিয়ায় গ্রাহকদের সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগে নিরুৎসাহিত করছে। বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংকের নজরে এসেছে। এ অবস্থায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক সঞ্চয়পত্র রুলস, ১৯৭৭-এর অনুচ্ছেদ-৩ অনুযায়ী ব্যাংকগুলোকে সঞ্চয়পত্রের ইস্যু অফিস হিসেবে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের কাছে সঞ্চয়পত্র বিক্রিতে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান এবং সেবার মান নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। নির্দেশনায় আরো বলা হয়েছে, ব্যাংকগুলোর শাখা পর্যায়ে সঞ্চয়পত্র সংক্রান্ত কার্যক্রম নিয়মিত তদারকি করতে হবে। পাশাপাশি গ্রাহকদের অভিযোগ গ্রহণের ব্যবস্থা শাখার দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন এবং অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ডিএমডির পরিচালক ইস্তেকমাল হোসেন সই করা নির্দেশনায় সঞ্চয়পত্র বিক্রিসহ সংশ্লিষ্ট সব সেবা যথাযথভাবে নিশ্চিত করার জন্য ব্যাংকগুলোকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ২৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
সংকটাপন্ন ব্যাংকগুলোকে ৭৫ হাজার কোটি টাকার বেশি তারল্য সহায়তা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক

দেশের ব্যাংকিং খাতে তারল্য সংকট মোকাবিলা এবং আমানতকারীদের অর্থ উত্তোলন স্বাভাবিক রাখতে সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকগুলোকে ৭৫ হাজার ৯০৩ কোটি টাকার বেশি জরুরি সহায়তা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। জাতীয় সংসদে দেওয়া এক লিখিত উত্তরে এ তথ্য জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।   মঙ্গলবার (২৪ জুন) সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মোসাম্মৎ শারমীন আক্তারের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, তারল্য সংকটে থাকা বিভিন্ন ব্যাংককে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালের ১৫ জুন পর্যন্ত এই সহায়তার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭৫ হাজার ৯০৩ কোটি ১১ লাখ টাকা।   তবে তিনি জানান, একই ধরনের সংকটে থাকা ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে (এনবিএফআই) এখন পর্যন্ত কোনো তারল্য সহায়তা দেওয়া হয়নি।   অর্থমন্ত্রী বলেন, আর্থিক খাতের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সরকার ‘ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬’ প্রণয়ন করেছে। নতুন আইনের আওতায় সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পুনর্গঠন, একীভূতকরণ এবং প্রয়োজনীয় সংস্কারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।   গত কয়েক বছরে দেশের কয়েকটি বেসরকারি ও শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক তারল্য সংকটে পড়ে গ্রাহকদের অর্থ উত্তোলনে সীমাবদ্ধতা আরোপ করতে বাধ্য হয়। এতে আমানতকারীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয় এবং অনেক গ্রাহক তাদের জমাকৃত অর্থ সময়মতো উত্তোলনে সমস্যার সম্মুখীন হন।   অর্থনীতিবিদদের মতে, খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি, দুর্বল করপোরেট সুশাসন, ঝুঁকিপূর্ণ ঋণ বিতরণ এবং দীর্ঘদিনের অনিয়ম ব্যাংক খাতের সংকটকে আরও গভীর করেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকিং খাতে সংস্কার কার্যক্রম জোরদার করেছে।   বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকগুলোর জন্য বিশেষ তারল্য সহায়তা, আন্তঃব্যাংক সহযোগিতা এবং বিভিন্ন নীতিগত সুবিধা চালু করেছে, যাতে গ্রাহকদের স্বাভাবিক ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করা যায় এবং আর্থিক খাতে আস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়।

আক্তারুজ্জামান জুন ২৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
সাড়ে চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ

দীর্ঘ সাড়ে চার বছর পর দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবারও ৩৬ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বুধবার (২৪ জুন) দেশের মোট বা গ্রস বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৬ দশমিক ১০ বিলিয়ন ডলারে।   কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০২২ সালের অক্টোবরে রিজার্ভ ৩৬ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে যায়। পরবর্তী সময়ে ধারাবাহিকভাবে কমতে কমতে ২০২৪ সালের আগস্টে তা ২৫ বিলিয়ন ডলারের ঘরে নেমে আসে। একই বছরের সেপ্টেম্বরে রিজার্ভ আরও কমে প্রায় ২৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়।   তবে এরপর পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে শুরু করে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। বাজার থেকে ডলার ক্রয়, বৈদেশিক দায় পরিশোধে কৌশলগত ব্যবস্থাপনা এবং প্রবাসী আয় বৃদ্ধির উদ্যোগ এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য।   বিশেষ করে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়াতে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়। ফলে সাম্প্রতিক সময়ে প্রবাসী আয় ইতিবাচক ধারায় রয়েছে, যা রিজার্ভ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।   চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে রিজার্ভ ৩৫ বিলিয়ন ডলারের ঘরে পৌঁছায়। এরপরও ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি অব্যাহত থাকে। সর্বশেষ ৫৬ মাস পর দেশের গ্রস রিজার্ভ আবারও ৩৬ বিলিয়ন ডলারের সীমা অতিক্রম করলো।   অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) নির্ধারিত বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে হিসাব করলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ বর্তমানে ৩১ দশমিক ৫৫ বিলিয়ন ডলার।

আক্তারুজ্জামান জুন ২৫, ২০২৬
সংকটে থাকা ব্যাংকগুলোকে ৭৫৯০৩ কোটি টাকা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক

আর্থিক সংকটে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে হিমশিম খাওয়া ব্যাংকগুলোকে বাংলাদেশ ব্যাংক ৭৫ হাজার ৯০৩ কোটি টাকার বেশি জরুরি তারল্য সহায়তা দিয়েছে বলে জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।   ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৪তম দিন মঙ্গলবার (২৪ জুন) প্রশ্নোত্তর পর্বে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মোসাম্মৎ শারমীন আক্তারের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ তথ্য জানান।     লিখিত প্রশ্নে শারমীন আক্তার জানতে চান, তারল্য সংকটের কারণে যেসব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান গ্রাহকদের সঞ্চিত অর্থ ফেরত দিতে পারছে না, সেসব প্রতিষ্ঠান থেকে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত পাওয়া নিশ্চিত করতে সরকার কোনও পদক্ষেপ নিয়েছে কিনা?     লিখিত জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘যেসব ব্যাংক তারল্য সংকটের কারণে গ্রাহকদের অর্থ পরিশোধে সমস্যায় পড়েছে, সেসব ব্যাংককে বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে জরুরি তারল্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালের ১৫ জুন পর্যন্ত এ সহায়তার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭৫ হাজার ৯০৩ কোটি ১১ লাখ টাকা।’ তবে আর্থিক সংকটে থাকা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে কোনও ধরনের তারল্য সহায়তা দেওয়া হয়নি বলে তিনি সংসদকে জানান।   অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ‘তারল্য সংকটে থাকা ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে করণীয় নির্ধারণে সরকার ইতোমধ্যে “ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬” প্রণয়ন করেছে। আইন অনুযায়ী সমস্যাগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর পুনর্গঠন, একীভূতকরণ বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।’   প্রসঙ্গত, গত দেড় বছরে দেশের কয়েকটি শরিয়াহভিত্তিক ও বেসরকারি ব্যাংক তীব্র তারল্য সংকটে পড়ে। বিশেষ করে, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, সোস্যাল ইসলামী ব্যাংকসহ কয়েকটি ব্যাংকে আমানত উত্তোলনে চাপ তৈরি হয়। অনেক গ্রাহক এককালীন বড় অঙ্কের অর্থ তুলতে না পারা এবং দীর্ঘ সময় অপেক্ষার অভিযোগ করেন। ব্যাংক খাতে অনিয়ম, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দুর্বল তদারকি, উচ্চ খেলাপি ঋণ এবং বিতর্কিত ঋণ বিতরণকে এ সংকটের অন্যতম কারণ হিসেবে অর্থনীতিবিদরা চিহ্নিত করেছেন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ব্যাংক খাত সংস্কার, দুর্বল ব্যাংক পুনর্গঠন এবং আমানতকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ জোরদার করা হয়।   বাংলাদেশ ব্যাংক এরই অংশ হিসেবে সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকগুলোকে বিশেষ তারল্য সহায়তা, আন্তব্যাংক সহায়তা এবং নীতিগত সুবিধা দিয়ে গ্রাহকদের অর্থ উত্তোলন অব্যাহত রাখার চেষ্টা করে আসছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুন ২৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
সব ব্যাংকে সঞ্চয়পত্র বিক্রি চালু রাখার নির্দেশনা

সঞ্চয়পত্র বিক্রি অব্যাহত রাখার জন্য সব ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীদের নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। পাশাপাশি গ্রাহকদের অভিযোগের বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিতেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   আজ বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেট ম্যানেজমেন্ট বিভাগ থেকে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীদের সঞ্চয়পত্র নিয়ে নতুন নির্দেশনার চিঠি দেওয়া হয়েছে।   ব্যাংকগুলোয় সঞ্চয়পত্র বিক্রি হচ্ছে না—কয়েক দিন ধরেই এমন অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উঠে এসেছে।   বাংলাদেশ ব্যাংকের চিঠিতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি বিভিন্ন পর্যায়ের গ্রাহকদের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে যে তফসিলি ব্যাংকগুলো সঞ্চয়পত্র বিক্রির তালিকাভুক্তিতে থাকা সত্ত্বেও গ্রাহকদের নানা প্রক্রিয়ায় সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগে নিরুৎসাহিত করছে।   চিঠিতে আরও বলা হয়, সঞ্চয়পত্র রুলস, ১৯৭৭–এর অনুচ্ছেদ নম্বর–৩–এর নির্দেশনা মোতাবেক সঞ্চয়পত্রের ইস্যু অফিস হিসেবে বিনিয়োগকারীদের কাছে সঞ্চয়পত্র বিক্রিতে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান এবং সেবার মান নিশ্চিত করতে শাখাগুলোর সঞ্চয়পত্র–সংক্রান্ত কার্যক্রম নিয়মিত তদারকিতে রাখার জন্য পরামর্শ প্রদান করা হলো। গ্রাহকদের তাৎক্ষণিক অভিযোগ গ্রহণের প্রক্রিয়া শাখাগুলোর দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শনের জন্য ও অভিযোগগুলোর বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের পরামর্শ দেওয়া হলো।   বর্তমানে জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের চার ধরনের সঞ্চয়পত্র আছে। এগুলো হলো পরিবার সঞ্চয়পত্র, পেনশনার সঞ্চয়পত্র, পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র ও তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র। পরিবার সঞ্চয়পত্র ছাড়া অন্য সব সঞ্চয়পত্রে ব্যক্তির পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানও বিনিয়োগ করতে পারে। মেয়াদ পূর্তি সাপেক্ষে সঞ্চয়পত্রে সুদের হার ১১ দশমিক ৭৭ শতাংশ থেকে ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ। সঞ্চয় অধিদপ্তরের পাশাপাশি তফসিলি ব্যাংক থেকে সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়।

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ২৫, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
জুনেও রেমিট্যান্সের রেকর্ড গতি, ২৩ দিনেই ২২৩ কোটি ডলার

চলতি জুনের প্রথম ২৩ দিনে দেশে ২২৩ কোটি ৮০ লাখ ডলার পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। প্রতি ডলার প্রতি ডলার ১২২ টাকা ধরে দেশীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ ২৭ হাজার কোটি টাকার বেশি।    এই হিসেবে প্রতিদিন গড়ে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ৯ কোটি ৭৩ লাখ ডলার। বুধবার (২৪ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।   কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি জুন মাসের প্রথম ২৩ দিনে ২২৩ কোটি ৮০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। যেখানে গত বছরের একই সময়ে দেশে ২২০ কোটি ৯০ লাখ ডলার পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা। অর্থাৎ, বছর ব্যবধানে বেড়েছে রেমিট্যান্স প্রবাহ।   সবমিলিয়ে চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে মঙ্গলবার (২৩ জুন) পর্যন্ত দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ৩ হাজার ৪৯৯ কোটি ৫০ লাখ ডলার। যেখানে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময় পর্যন্ত দেশে মোট ২ হাজার ৯৭১ কোটি ৫০ লাখ ডলার পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা। অর্থাৎ, রেমিট্যান্স বেড়েছে ১৭ দশমিক ৮০ শতাংশ।   এর আগে গত মে মাসে দেশে ২৯৭ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল। প্রতি ডলার ১২২ টাকা ধরে দেশীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৩৬ হাজার ২৩৪ কোটি টাকা। যা দেশের ইতিহাসে এক মাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স।

মারিয়া রহমান জুন ২৪, ২০২৬
ঋণ নিয়ে ঋণ শোধ, বাড়ছে অর্থনীতির চাপ

বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণ ব্যবস্থাপনায় নতুন এক বাস্তবতা স্পষ্ট হয়ে উঠছে। উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে যে পরিমাণ নতুন ঋণ আসছে, তার প্রায় পুরোটাই চলে যাচ্ছে অতীতে নেওয়া ঋণের সুদ ও আসল পরিশোধে। ফলে বৈদেশিক অর্থায়ন থেকে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নতুন করে যে অর্থ যোগ হওয়ার কথা, তার পরিমাণ দ্রুত কমে আসছে। একই সময়ে কমেছে নতুন ঋণ ও অনুদানের প্রতিশ্রুতি এবং কমেছে অর্থছাড়ও। ফলে বৈদেশিক অর্থায়নের ওপর নির্ভরশীল উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর ভবিষ্যৎ অর্থায়ন নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।   অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) প্রকাশিত চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই-মে সময়ের (১১ মাস) বৈদেশিক সহায়তা সংক্রান্ত সর্বশেষ প্রতিবেদনের তথ্য বিশ্লেষণে এমন চিত্র উঠে এসেছে।   তথ্য বলছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান হিসেবে বাংলাদেশ পেয়েছে ৪৫৭ কোটি ৭১ লাখ ৫০ হাজার ডলার। একই সময়ে পূর্বে নেওয়া বৈদেশিক ঋণের সুদ ও আসল পরিশোধে ব্যয় হয়েছে ৪১৩ কোটি ২৩ লাখ ডলার। অর্থাৎ বিদেশি সহায়তা হিসেবে যে অর্থ এসেছে, তার ৮৯ দশমিক ২৮ শতাংশই চলে গেছে ঋণ পরিশোধে। হিসাব করলে দেখা যায়, পুরো অর্থছাড়ের মধ্যে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের জন্য অবশিষ্ট রয়েছে মাত্র ৪৪ কোটি ৪৮ লাখ ৫০ হাজার ডলার।   অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এটি এমন এক পরিস্থিতি, যেখানে নতুন ঋণ নিয়ে পুরোনো ঋণ শোধ করার প্রবণতা দৃশ্যমান হয়ে উঠছে। যদিও সরকার সরাসরি নতুন ঋণের অর্থ দিয়ে পুরোনো ঋণ পরিশোধ করছে না, তবে সামগ্রিক বৈদেশিক অর্থপ্রবাহের হিসাবে নতুন যে অর্থ আসছে তার অধিকাংশই ঋণ পরিশোধে চলে যাওয়ায় কার্যত একই ধরনের চাপ তৈরি হচ্ছে।   রেকর্ড পরিমাণ ঋণ পরিশোধ   ইআরডির তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের ১১ মাসে বৈদেশিক ঋণের সুদ ও আসল বাবদ মোট ৪১৩ কোটি ২৩ লাখ ডলার পরিশোধ করা হয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৫০ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা। দেশের ইতিহাসে এক অর্থবছরের ১১ মাসে বিদেশি ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে এটি সর্বোচ্চ।   গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ে পরিশোধ করা হয়েছিল ৩৭৮ কোটি ৪৬ লাখ ১০ হাজার ডলার। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে ঋণ পরিশোধ বেড়েছে ৩৪ কোটি ৭৬ লাখ ৯০ হাজার ডলার বা প্রায় ৯ শতাংশ।   পরিশোধের এই অর্থের মধ্যে সুদ বাবদ গিয়েছে ১৪৪ কোটি ৭৯ লাখ ৭০ হাজার ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে সুদ পরিশোধের পরিমাণ ছিল ১৪০ কোটি ১২ লাখ ৪০ হাজার ডলার। অন্যদিকে ঋণের আসল পরিশোধ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৬৮ কোটি ৪৩ লাখ ৩০ হাজার ডলারে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ২৩৮ কোটি ৩৩ লাখ ৭০ হাজার ডলার।   অর্থাৎ শুধু সুদ নয়, আসল ঋণ পরিশোধের চাপও দ্রুত বাড়ছে।   কেন বাড়ছে ঋণ পরিশোধের চাপ   অর্থনীতিবিদ ও সরকারি কর্মকর্তাদের মতে, এর পেছনে প্রধান কারণ গত এক দশকে নেওয়া বড় বড় অবকাঠামো প্রকল্পের বৈদেশিক ঋণ।   পদ্মা সেতুর রেল সংযোগ, মেট্রোরেল, কর্ণফুলী টানেল, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, মাতারবাড়ী প্রকল্পসহ বিভিন্ন বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়নে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক ঋণ নেওয়া হয়েছিল। এসব ঋণের অনেকগুলোর গ্রেস পিরিয়ড বা অবকাশকাল শেষ হয়ে যাওয়ায় এখন নিয়মিত কিস্তি ও সুদ পরিশোধ শুরু হয়েছে।   এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন। কয়েক বছর আগেও এক ডলারের বিনিময় মূল্য ৮৫-৯০ টাকার মধ্যে থাকলেও বর্তমানে তা ১২২ টাকার কাছাকাছি। ফলে একই পরিমাণ ডলার পরিশোধ করতে সরকারের অনেক বেশি টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে।   ফলে বৈদেশিক ঋণের চাপ শুধু ডলারের হিসাবে নয়, টাকার হিসাবেও দ্রুত বাড়ছে।   কমছে নতুন ঋণের প্রতিশ্রুতি   ঋণ পরিশোধের চাপ যখন বাড়ছে, তখন নতুন ঋণ ও অনুদানের প্রতিশ্রুতি কমে যাওয়ার বিষয়টিও উদ্বেগের।   চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে মোট ৪২২ কোটি ৫৩ লাখ ৯০ হাজার ডলারের ঋণ ও অনুদান প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ৫৬০ কোটি ৮১ লাখ ৬০ হাজার ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে প্রতিশ্রুতি কমেছে ১২৬ কোটি ৩২ লাখ ৭০ হাজার ডলার।   বিশেষভাবে কমেছে অনুদান। চলতি অর্থবছরে অনুদান প্রতিশ্রুতি এসেছে মাত্র ১৫ কোটি ৮৭ লাখ ৬০ হাজার ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় অর্ধেকেরও কম।   বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশের পথে এগিয়ে যাওয়ায় এবং স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রস্তুতি নেওয়ায় অনুদানভিত্তিক সহায়তা ক্রমেই কমে আসছে। ভবিষ্যতে আরও বেশি অর্থ বাজারভিত্তিক বা তুলনামূলক উচ্চ সুদের ঋণ থেকে সংগ্রহ করতে হতে পারে।   অর্থছাড়েও বড় ধাক্কা   শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তব অর্থছাড়েও বড় ধরনের পতন দেখা গেছে।   চলতি অর্থবছরের জুলাই-মে সময়ে বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান মিলিয়ে অর্থছাড় হয়েছে ৪৫৭ কোটি ৭১ লাখ ৫০ হাজার ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে অর্থছাড় হয়েছিল ৫৬০ কোটি ৮১ লাখ ৬০ হাজার ডলার। অর্থাৎ অর্থছাড় কমেছে ১০৩ কোটি ১০ লাখ ১০ হাজার ডলার।   অর্থনীতিবিদদের মতে, প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি, ক্রয় প্রক্রিয়ার জটিলতা, প্রশাসনিক বিলম্ব এবং উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতির শ্লথগতির কারণে অনেক ক্ষেত্রে প্রতিশ্রুত ঋণের অর্থ সময়মতো ছাড় করা সম্ভব হচ্ছে না।   ফলে একদিকে নতুন ঋণ কম আসছে, অন্যদিকে পুরোনো ঋণ পরিশোধের চাপ বাড়ছে—যা বৈদেশিক অর্থায়নের ভারসাম্যকে দুর্বল করে দিচ্ছে।   কারা সবচেয়ে বেশি অর্থ ছাড় করেছে   ইআরডির তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের ১১ মাসে সবচেয়ে বেশি অর্থ ছাড় করেছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটি প্রায় ৯৬ কোটি ডলার ঋণ দিয়েছে।   দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে রাশিয়া, যারা প্রায় ৯৩ কোটি ডলার ছাড় করেছে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) দিয়েছে প্রায় ৭৮ কোটি ডলার, চীন ৫৩ কোটি ডলার, জাপান ৪৩ কোটি ডলার এবং ভারত ২৫ কোটি ডলার ঋণ ছাড় করেছে।   এ থেকে বোঝা যায়, বাংলাদেশের উন্নয়ন অর্থায়নে এখনো বহুপাক্ষিক সংস্থাগুলোর পাশাপাশি কয়েকটি দ্বিপক্ষীয় উন্নয়ন অংশীদারের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।   সামনে কী ঝুঁকি   বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন মনে করেন, আগামী কয়েক বছরে বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের চাপ আরও বাড়বে। কারণ বড় প্রকল্পগুলোর ঋণ পরিশোধের মূল সময় এখন শুরু হয়েছে। আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের পরিমাণ বছরে পাঁচ থেকে ছয় বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।   তার মতে, রাজস্ব আদায়, রপ্তানি আয় ও রেমিট্যান্স প্রবাহ পর্যাপ্ত হারে না বাড়লে ঋণ পরিশোধের চাপ অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।   অপরদিকে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের( সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন মনে করেন, এখন থেকে ঋণ গ্রহণে আরও বেশি সতর্ক হতে হবে। শুধু ঋণ নিলেই হবে না, সেই ঋণের অর্থ এমন প্রকল্পে বিনিয়োগ করতে হবে যেখান থেকে অর্থনৈতিক রিটার্ন পাওয়া যায় এবং যা ভবিষ্যতে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে সহায়তা করে।   সতর্কবার্তা অর্থনীতির জন্য   বাংলাদেশ এখনো ঋণ সংকটে পড়েনি। বৈদেশিক ঋণের অনুপাত আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী সহনীয় পর্যায়েই রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিচ্ছে—নতুন ঋণের প্রবাহ কমছে, অনুদান কমছে, অথচ ঋণ পরিশোধের চাপ দ্রুত বাড়ছে।   ফলে উন্নয়ন অর্থায়নের যে সুবিধা বৈদেশিক ঋণ থেকে পাওয়ার কথা, তার বড় অংশই এখন পুরোনো দায় পরিশোধে ব্যয় হচ্ছে। এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েক বছরে সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, উন্নয়ন ব্যয় এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে।   অর্থনীতিবিদদের ভাষায়, এখন সময় এসেছে ঋণ গ্রহণের পরিমাণ নয়, বরং ঋণের গুণগত ব্যবহার, প্রকল্পের অর্থনৈতিক ফলন এবং বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সক্ষমতাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার। কারণ ঋণ তখনই টেকসই হয়, যখন সেই ঋণ ভবিষ্যতে নিজেই নিজের পরিশোধের সক্ষমতা তৈরি করে। বর্তমানে বাংলাদেশের জন্য সেটিই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুন ২৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
সোনার বাজারে বড় ধস, ভরিতে দাম কমলো ৫,৪৮২ টাকা

দেশের বাজারে সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভ্যাটসহ স্বর্ণালংকারে দাম প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৪৮২ টাকা কমানো হয়েছে।   বুধবার (২৪ জুন) সকাল ১০টা থেকে নতুন এ দাম কার্যকর হয়েছে। বাজুস জানায়, দেশে তেজাবি সোনা ও রুপার দাম কমেছে। এমন অবস্থায় বুধবার সকালে বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটি বৈঠকে করে এ দাম নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেয়েছে। নতুন দাম অনুযায়ী, এখন ভ্যাটসহ সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণালংকারে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৫ হাজার ২৯০ টাকা। এ ছাড়া ভ্যাটসহ ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম দুই লাখ ১৫ হাজার ১৪২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি এক লাখ ৮৪ হাজার ৭৫৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম এক লাখ ৫০ হাজার ৯৩২ টাকা। সোনার দামের সঙ্গে কমানো হয়েছে রুপার দামও। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৮৪১ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৪ হাজার ৬০৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৩ হাজার ৯৬৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ২ হাজার ৯৭৪ টাকা।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ২৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ–চীন বাণিজ্য সম্পর্ক নতুন মোড় নিচ্ছে

বাংলাদেশকে শতভাগ পণ্যে শুল্কমুক্ত বাণিজ্য সুবিধা দিচ্ছে চীন। তবে এ সুবিধা পেয়েও দেশটিতে পণ্য রপ্তানি বাড়ানো যায়নি। দুই দেশের মধ্যে প্রায় ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বার্ষিক বাণিজ্যের মধ্যে ১৯ বিলিয়ন ডলারই চীনের অনুকূলে; বাংলাদেশের বাণিজ্য ১ বিলিয়ন ডলারেরও কম। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে এ বৈষম্য কমানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।   সূত্রগুলো জানায়, প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন, জ্বালানি ও প্রযুক্তি সহযোগিতাসহ ১৫ থেকে ১৭টি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হতে পারে। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বাণিজ্যঘাটতি কমানো, এলডিসি-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং বড় উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে চীনা অর্থায়ন। সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রকল্পে অর্থায়নের বিষয়টি এত গুরুত্ব পাচ্ছে যে, বাংলাদেশের অবকাঠামো প্রকল্পে সহজ শর্তে অর্থায়নের জন্য চীনের এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। এ ছাড়া দুই দেশের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্যচুক্তির (এফটিএ) বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।   বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে চীন শতভাগ পণ্যে শুল্ক সুবিধা দিচ্ছে। এলডিসি উত্তরণের পর এই সুবিধা আর পাওয়া যাবে না।   সে কারণে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) দুই দেশের জন্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কর্মকর্তারা জানান, এফটিএ চুক্তি করতে দুই দেশের মধ্যে একটি যৌথ সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সফরে সমীক্ষার রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য ‘ভৌত বা প্রত্যক্ষ আলোচনা’ শুরুর বিষয়ে অগ্রগতি হতে পারে।   কৃষিপণ্য রপ্তানিতে সমঝোতা স্মারক : চীনে কৃষিপণ্য বিশেষ করে আম ও কাঁঠাল রপ্তানিতে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হতে পারে। চীনের জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব কাস্টমস সম্প্রতি বাংলাদেশি তাজা আম আমদানির ফাইটোস্যানিটারি (উদ্ভিদ স্বাস্থ্যবিষয়ক) প্রয়োজনীয়তা অনুমোদন করেছে। এ সফরে এ-সংক্রান্ত দ্বিপক্ষীয় প্রোটোকল চূড়ান্ত ও কার্যকর হতে পারে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. রফিকুল ই মোহামেদ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, বাংলাদেশের কৃষি খাতের জন্য এ সফরের সবচেয়ে বড় অর্জন হতে পারে চীনের বিশাল বাজারে আম ও কাঁঠাল রপ্তানির প্রটোকল স্বাক্ষর।    বাণিজ্য ও বিনিয়োগ-সংক্রান্ত যেসব বিষয় আলোচনায় থাকছে : প্রধানমন্ত্রীর সফরে পণ্য রপ্তানির পাশাপাশি সেবা খাতে চীনের বিনিয়োগ বাড়িয়ে বাণিজ্যঘাটতি কমানোর বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ বাড়াতে সম্প্রতি চট্টগ্রামের আনোয়ারায় একটি ইকোনমিক জোনের অনুমোদন দিয়েছে সরকার। মোংলায় দ্বিতীয় আরেকটি চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার বিষয়ে বড় ধরনের অগ্রগতি হতে পারে। ডিজিটাল অর্থনীতি এবং তথ্য-প্রযুক্তিতে দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগ জোরদার করতে একটি বিশেষ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হতে পারে। দুই দেশের মুদ্রা বিনিময় সহজ করতে বাংলাদেশে চীনের ব্যাংক প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবের পাশাপাশি ‘বাংলাদেশ ব্যাংক’ এবং চীনের ‘ন্যাশনাল ফাইন্যান্সিয়াল রেগুলেটরি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন’-এর মধ্যে ব্যাংকিং ও ইন্স্যুরেন্স নিয়ন্ত্রণ-সংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে। এ ছাড়া অবকাঠামো খাতে সহায়তা হিসেবে মোংলা পোর্টের আধুনিকায়ন ও সংস্কারের জন্য একটি ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তি সইয়ের জন্য চূড়ান্ত করা হয়েছে। চীন-বাংলাদেশ মৈত্রী সেতু সংস্কার ও নতুন নবম চীন-বাংলাদেশ মৈত্রী সেতু নির্মাণ প্রকল্প নিয়ে দুই দেশের মধ্যে লেটার অব এক্সচেঞ্জ বিনিময় হতে পারে। বহুল আলোচিত তিস্তা মহাপরিকল্পনা এবং সমন্বিত নদী ব্যবস্থাপনা নিয়ে চীনের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হবে। বাংলাদেশ চীনের গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ (এউও)-এ আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হতে সমঝোতা স্মারক সই করতে পারে। এ ছাড়া ব্রিকস ও আরসিইপি জোটে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তিতে চীনের সমর্থন চাওয়া হবে।   বাংলাদেশ-চীন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিসিসিসিআই) প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ খোরশেদ আলম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, চীন আমাদের শতভাগ শুল্ক সুবিধার মাধ্যমে যে সুযোগটি দিয়েছে তা কাজে লাগানো যায়নি। এখন সময় তো কাজে লাগানোর। আমরা ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ নামে একটি ব্রান্ড হিসেবে চীনে পরিচিত হতে চাই।   সে লক্ষ্যে, প্রধানমন্ত্রীর সফর কেন্দ্র করে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূতের কাছে কিছু সুনির্র্দিষ্ট প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বিসিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে। এর মধ্যে চীনের বিভিন্ন শহরে ৩০টি আউটলেট স্থাপন, যেখানে বাংলাদেশি পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রি হবে; টেকনোলজি ট্রান্সফার : চীনা প্রযুক্তি বিষয়ে বাংলাদেশিদের দক্ষতা বাড়াতে ২০টি পলিটেকনিক স্কুল স্থাপন; এবং বাংলাদেশে একটি ব্যাংক স্থাপন, যার মাধ্যমে দুই দেশের মুদ্রা বিনিময়ের পাশাপাশি বাণিজ্যিক এলসি করার সুযোগ সৃষ্টি হবে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ২৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
স্বর্ণ ও রুপার আজকের বাজারদর

দেশের বাজারে টানা ২ দফা কমার পর ফের স্বর্ণের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এবার ভরিতে ৪ হাজার ৪৩২ টাকা বাড়িয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩০ হাজার ৭৭২ টাকা নির্ধারণ করেছে সংগঠনটি।   সোমবার (২২ জুন) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাজুস। নতুন এ দাম সেদিন সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হয়েছে। আজ বুধবার (২৪ জুন) নির্ধারিত ওই দামেই স্বর্ণ বিক্রি হবে।    নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৩০ হাজার ৭৭২ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২০ হাজার ৩৯১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৯ হাজার ২৪৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৪ হাজার ৬০৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।   বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য বেড়েছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ভ্যাটসহ স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।   চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ৭৯ বার সমন্বয় করা হয়েছে স্বর্ণের দাম। যেখানে দাম ৪০ দফা বাড়ানো হয়েছে, কমানো হয়েছে ৩৮ দফা ও ১ দফা ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে। আর গত ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল; যেখানে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল, আর কমানো হয়েছিল ২৯ বার।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ২৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
রিজার্ভ চুরির পরও সুইফটের সার্ভার রুমে নিরাপত্তা দুর্বলতা, বলছে অন্তর্বর্তী সরকারের কমিটি

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির প্রায় এক দশক পরও বিদেশি অর্থ লেনদেনের বৈশ্বিক মাধ্যম সুইফট পরিচালনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকে থাকা নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বেশ কিছু দুর্বলতা ও অসঙ্গতি রয়ে গেছে; যেগুলো সংশোধনে ধাপে ধাপে কাজ করার কথা বলেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।   বিশ্বজুড়ে চাঞ্চল্য তৈরি করা রিজার্ভ চুরির এ ঘটনার প্রায় সাড়ে ১০ বছর পর গত সপ্তাহে মামলার অভিযোগপত্র চূড়ান্ত করার প্রস্তুতির খবরের মধ্যে সুইফটের সার্ভার রুমে নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যাপ্ত না থাকার বিষয়গুলো সামনে আসে।   অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত পর্যালোচনা কমিটির সদস্যরা বাংলাদেশ ব্যাংকের সুইফট সার্ভার রুম পরিদর্শন শেষে এ নিয়ে যে প্রতিবেদন দেন তাতে এসব দুর্বলতা ও অসঙ্গতির তথ্য উঠে আসে।   তাদের পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে সাইবার নিরাপত্তা অবকাঠামো আধুনিকায়ন, লগ বিশ্লেষণ ব্যবস্থা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, বিকল্প দুর্যোগ পুনরুদ্ধার কেন্দ্রের সক্ষমতা, স্বয়ংক্রিয় ব্যাকআপ, নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের ইন্টারনেট সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানে ফায়ারওয়াল ব্যবহার না করার মত দুর্বলতা দেখতে পাওয়ার কথা তুলে ধরা হয়।   ২০২৫ সালের ১ জুলাই পরিদর্শনকালে তারা ‘ডিফল্ট প্যারামিটারে’ ওয়েব ব্রাউজার ব্যবহার করা, আন্তর্জাতিকভাবে বহুল ব্যবহার হয় না এমন ভিপিএন ব্যবহার করার মত বিষয়ও দেখতে পান বলে তুলে ধরেন তাদের পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে।   সুফইট সার্ভার রুম পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে কমিটির এক সদস্য বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, তারা সুইফট পরিচালনা ব্যবস্থায় অ্যান্টি মানি লন্ডারিং সফটওয়্যার দেখতে পান নাই। এতে কারা তথ্য পাঠাচ্ছে তাদের পরিচয় (কেওয়াইসি) জানা যায় না। একই সঙ্গে তাদের দেওয়া তথ্যগুলো সঠিক কিনা সেটিও বোঝা যায় না।   পরিদর্শনকালে সুইফটের ট্রানজেকশনের যে প্রোফাইল সেটির ‘ভ্যালিডেশনের’ ব্যবস্থাও দেখতে পান নাই তারা।   কমিটির এ সদস্য বলেন, এ ধরনের ব্যবস্থাপনায় আসলে হ্যাকিং যেকোনো সময় করতে পারত, আগে-পরে। অর্থাৎ বাংলাদেশের সুইফটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা খুব একটা সুবিধার না।   রিজার্ভ চুরির ১০ বছর পর অবস্থা কতখানি বদলেছে সেই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা যে অবস্থায় পেয়েছি কিছু সামান্য কিছু ইমপ্রুভমেন্ট পেয়েছি; কিন্তু সেই ইমপ্রুভমেন্ট এনাফ ছিল না আর কি।   তারপরে আমরা বিভিন্ন বিষয়ে কারিগরি (ক্রুটি) ধরার পরে মানে ওখানকার প্রকৌশলীরাও বুঝতে পারছে যে আসলে তাদের সিকিউরিটি এনাফ ছিল না।   এক দশকের বেশি সময় আগে ২০১৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি হ্যাকাররা সুইফড কোড ব্যবহার করে নিউ ইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ থেকে প্রায় ১০ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার হাতিয়ে নেয়।   আলোচিত এ রিজার্ভ চুরির ঘটনায় অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫ সালের জুলাইয়ে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলকে প্রধান করে ছয় সদস্যের পর্যালোচনা কমিটি গঠন করা হয়।   কমিটিতে থাকা প্রধান উপদেষ্টার তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব ২০২৫ সালের ১ জুলাই প্রধান উপদেষ্টার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়ক বিশেষ সহকারী খোদা বকস চৌধুরীকে নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকে থাকা সুইফটের সার্ভার রুম পর্যবেক্ষণ করেন। সুইফট পরিচালনায় ব্যবস্থাপনা নিয়ে সেসময় তাদের দেওয়া পর্যবেক্ষণের মধ্যে আরও রয়েছে-   >> এক্সডিআর/এনডিআর ডিভাইস সংযোগবিহীন অবস্থায় পাওয়া যাওয়া; >> সার্ভার রুম যে তলায় অবস্থিত সেখানকার সভাকক্ষে অবস্থিত নেটওয়ার্ক র‌্যাকে যথাযথ ফায়ার সেফটি ও এনভায়রনমেন্ট মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা না থাকা; >> সুইফট সার্ভার রুমের কেবল ম্যানেজমেন্ট না থাকা; >> সার্ভার রুমের সৎরক্ষিত কেবলগুলোর কয়েকটিতে সোর্স ও ডেস্টিনেশনের ট্যাগ না থাকা; >> অ্যান্টি মানি লন্ডারিং টুল ব্যবহার না করা; >> নতুন জেনারেশনাল সুইফট সফটওয়্যার মাইগ্রেশন না থাকা   এই দুই সদস্যের পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে সুইফট ব্যবস্থাপনায় দক্ষ জনবল গড়ে তোলার পরামর্শ দেওয়া হয়।   পরে তাদের পরিদর্শন প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তৈরি বাংলাদেশ ব্যাংকের অগ্রগতি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- রিজার্ভ চুরির পর নিরাপত্তা জোরদারে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হলেও প্রায় এক দশক পেরিয়ে গেলেও গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ক্ষেত্রে কাজ এখনও বাকি রয়েছে।   এসব খুঁজে পাওয়া এসব দুর্বলতা ও অসঙ্গতির বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, সরকার গঠিত কমিটির সুপারিশগুলো বাস্তবায়নের কাজ চলছে।   যেহেতু একটা কমিটি সাজেশন দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক অবশ্যই সেই সাজেশনগুলো মেনে চলছে এবং সবগুলোতো আর তাৎক্ষণিকভাবে বাস্তবায়ন সম্ভব না। সবগুলো এক্সেপ্ট করে নিয়েছে এবং সবগুলো একটার পরে একটা বাস্তবায়ন করছে।   তবে এখনও কোনটি কোনটি অসম্পূর্ণ তা বলেননি তিনি।   রিজার্ভ চুরি নিয়ে বিভিন্ন সময়ে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের এমন তদন্তের পাশাপাশি প্রায় এক দশক ধরে অর্থ চুরির মামলার তদন্ত করছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। পুলিশের বিশেষ এ ইউনিট তদন্ত কাজ শেষে অভিযোগপত্র চূড়ান্ত করেছে বলে খবরে এসেছে।   খসড়া অভিযোগপত্র চলতি বছরের মার্চে আইনি মতামতের জন্য অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে, যাতে সাবেক গভর্নর আতিউর রহমান ও ৯ বাংলাদেশিসহ দেশি-বিদেশি ৬৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনার খবর প্রকাশিত হয়েছে।   মামলার তদন্ত শুরু থেকেই করছে সিআইডি। সর্বশেষ গত ১৮ মে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার তারিখ ৯৫তম বারের মতো পিছিয়ে যায়। আদালত নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছে ২ জুলাই।   অন্তর্বর্তী সরকারের কমিটির পরিদর্শন রিজার্ভ চুরির তদন্তের অগ্রগতি, দায়দায়িত্ব নির্ধারণ এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঠেকাতে সুপারিশ দিতে ২০২৫ সালের মার্চে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলকে প্রধান করে ছয় সদস্যের এই পর্যালোচনা কমিটি গঠন করে।   কমিটির অন্য সদস্যরা ছিলেন - জ্বালানি উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান, টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব, গভর্নর আহসান এইচ মনসুর, বিমান বাংলাদেশে এয়ারলাইনসের পরিচালক আলী আশফাক ও রূপালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান নজরুল হুদা।   পরিদর্শনের পর তাদের দেওয়া এ বিষয়ক প্রতিবেদনে বলা হয়, রিজার্ভ চুরির সময়কার কিছু দুর্বলতা ইতোমধ্যে সংশোধন করা হয়েছে। তারা আরও যেসব দুর্বলতা ও অসঙ্গতি খুঁজে পেয়েছিলেন সেগুলো চিহ্নিত করে সংশোধনের সুপারিশ করেন।   পরে তাদের পরির্দশন প্রতিবেদন নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব ছাড়ার সপ্তাহ দুয়েক আগেও চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে তদন্ত দলের বিস্তারিত আলোচনা হয়। সেখানে পরিদর্শন প্রতিবেদনের সুপারিশের কোনগুলো বাস্তবায়ন হয়েছে, কোনগুলো বাস্তবায়ন হয়নি তা তুলে ধরা হয়।   এ বৈঠকের পর বাংলাদেশ ব্যাংক একটি অগ্রগতি প্রতিবেদন তৈরি করে। যাতে বলা হয়, বর্তমানে সুইফট সার্ভার সার্বক্ষণিক চালু রাখা হয় না। শুধু লেনদেন নিষ্পত্তির সময় হার্ডওয়্যার সিকিউরিটি মডিউল ব্যবহার করা হয়।   পাসওয়ার্ড নিয়মিত পরিবর্তন করা হচ্ছে এবং প্রতিবার লগইনের সময় ‘মাল্টি ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন’ ও এককালীন পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা হচ্ছে। আগের ভিপিএনের পরিবর্তে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ভিপিএন ব্যবস্থা চালুর কথাও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।   এছাড়া ব্যবস্থাপনা, পরিবেশগত পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং সার্ভার রুমের অবকাঠামোতেও উন্নয়ন আনার কথা বলেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।   একই প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক মানের বিভিন্ন নিরাপত্তা টুল সংগ্রহ ও বাস্তবায়ন, অ্যান্টি মানি লন্ডারিং টুল চালু, স্বয়ংক্রিয় ব্যাকআপ, নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র, লগ সংরক্ষণ, নিরাপত্তা নকশা প্রস্তুত এবং বিকল্প সাইটের জনবল নিয়োগসহ বেশ কিছু কাজ এখনও প্রক্রিয়াধীন বলে তুলে ধরা হয়।   সব কাজ শেষ কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে দেওয়া হয়।   ‘সর্বনিম্ন দরদাতা’ নির্ভর নিরাপত্তা প্রতিবেদনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ ছিল সাইবার নিরাপত্তা সফটওয়্যার কেনায় সর্বনিম্ন দরদাতার ওপর নির্ভরতা। তদন্ত দলকে জানানো হয়, উন্মুক্ত দরপত্রে সর্বনিম্ন দরদাতার কাছ থেকে কিছু নিরাপত্তা সফটওয়্যার সংগ্রহ করা হয়েছে।   কমিটির পর্যবেক্ষণ ছিল, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মত গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে শুধু কম দাম নয়, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এবং উচ্চমানের নিরাপত্তা সমাধানকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন।   প্রতিবেদনে মাইক্রোসফট, আইবিএমসহ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নিরাপত্তা প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের সুপারিশও করা হয়।   পরিদর্শক দলের সুপারিশ নতুন করে এ ঘটনার তদন্তে কমিটির উদ্দেশ্য ছিল ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে সেটার উপায় বের করা। এজন্য তারা বেশ কিছু সুপারিশ করে। সেগুলোর মধ্যে ছিল-   >> জাস্ট ইন টাইম অ্যাকসেস নিশ্চিত করা >> উচ্চমানের হার্ডওয়্যার সিকিউরিটি মডিউল ব্যবহার >> সুইফট জোনে ইউএসবি ও মোবাইল ফোন ব্যবহার সীমিত করা >> ব্যবহারকারীর আচরণ বিশ্লেষণ ব্যবস্থা চালু করা >> ফাইল অখণ্ডতা পর্যবেক্ষণ >> নিরাপদ ওয়েব গেটওয়ে >> কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক অস্বাভাবিক কার্যক্রম শনাক্তকরণ ব্যবস্থা >> সাইবার ঝুঁকি নিবন্ধন চালুর সুপারিশ >> সিসিটিভি ভিডিওর একাধিক ব্যাকআপ সংরক্ষণ   ‘সব বাস্তবায়ন একদিনে সম্ভব নয়’ পর্যালোচনা কমিটির পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, সুইফট সার্ভার রুমের দুর্বলতা ও অসঙ্গতির যেসব বিষয় অন্তর্বর্তী সরকারের পর্যালোচনা কমিটি তুলে ধরেছে সেগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের কাজ চলছে।   সর্বনিম্ন দরদাতার পরিবর্তে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানের সফটওয়্যার কেনার সুপারিশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকারি ক্রয়বিধির বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হয়।   আমি তিনটা প্রতিষ্ঠান বিড করল, আমি সব লোয়েস্ট বিডারেরটা না নিয়ে সেকেন্ড বা থার্ড বিডারেরটা নিলাম, তখন প্রশ্ন উঠবে কেন নিলাম। রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রেও জবাবদিহি আছে। তার মতে, তথ্যপ্রযুক্তি নিরাপত্তা একটি চলমান প্রক্রিয়া।   আজকে যে সফটওয়্যারকে সবচেয়ে নিরাপদ মনে হচ্ছে, কয়েক বছর পর সেটিও কোনো না কোনোভাবে আক্রমণের মুখে পড়তে পারে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ২৪, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
রেমিট্যান্সে নতুন রেকর্ড, এক বছরে ৩০.৩২ বিলিয়ন ডলার আয়

বাংলাদেশ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রেকর্ড ৩০.৩২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় অর্জন করেছে। দেশের অর্থনীতি সচল রাখতে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের এই অসামান্য অবদান আবারও প্রমাণিত হলো।   মঙ্গলবার (২৩ জুন) জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের চতুর্দশ বৈঠকে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানার এক প্রশ্নের জবাবে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এ তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এই প্রশ্নোত্তর পর্বটি টেবিলে উপস্থাপিত হয়।   সংসদে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, একক দেশ হিসেবে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স পেয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে। বিদায়ী অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবাসী বাংলাদেশিরা ৪.৭৩ বিলিয়ন ডলার পাঠিয়েছেন, যা দেশের মোট রেমিট্যান্সের প্রায় ১৫.৬ শতাংশ।   রেমিট্যান্স আহরণে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে সৌদি আরব। মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশ থেকে এসেছে ৪.২৬ বিলিয়ন ডলার। এর ঠিক পরপরই তৃতীয় অবস্থানে থাকা সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) থেকে এসেছে ৪.১৭ বিলিয়ন ডলার। এই শীর্ষ তিন দেশ সম্মিলিতভাবে ১৩.১৬ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়েছে, যা মোট প্রবাসী আয়ের প্রায় ৪৩.৪ শতাংশ।   তালিকায় চতুর্থ স্থানে রয়েছে যুক্তরাজ্য, যেখান থেকে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ৩.১৭ বিলিয়ন ডলার। এর পরের অবস্থানে থাকা মালয়েশিয়া থেকে এসেছে ২.৮০ বিলিয়ন ডলার।   মন্ত্রীর দেওয়া এই পরিসংখ্যান দেশের অর্থনীতিতে উপসাগরীয় অঞ্চলের শ্রমবাজারের একচ্ছত্র আধিপত্যকে আবারও সামনে এনেছে। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, কুয়েত, কাতার এবং বাহরাইন—এই ছয়টি দেশ থেকে সম্মিলিতভাবে প্রায় ১৩.৬৬ বিলিয়ন ডলার এসেছে, যা মোট রেমিট্যান্স প্রবাহের প্রায় ৪৫ শতাংশ।   এদিকে ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যেও রেমিট্যান্সের গতি বেশ ভালো ছিল। এর মধ্যে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে ইতালি, যেখান থেকে এসেছে ১.৬৫ বিলিয়ন ডলার। ইউরোপীয় অঞ্চলের অন্যান্য দেশের মধ্যে ফ্রান্স থেকে ৩৩৫.৫৯ মিলিয়ন ডলার এবং গ্রিস থেকে ১৮৫.২১ মিলিয়ন ডলার এসেছে। এ ছাড়া জার্মানি থেকে ১৮০.৬২ মিলিয়ন ও পর্তুগাল থেকে এসেছে ১০২.৪৩ মিলিয়ন ডলার।   প্রচলিত শ্রমবাজারের বাইরে অন্য দেশগুলো থেকেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে রেমিট্যান্স এসেছে। দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ২২৭.০৪ মিলিয়ন ডলার, কানাডা থেকে ২২৩.৯৮ মিলিয়ন ডলার, অস্ট্রেলিয়া থেকে ১৭৭.০৯ মিলিয়ন ডলার এবং জর্ডান থেকে ১৬৮.১৭ মিলিয়ন ডলার পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা।   এর পাশাপাশি দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ৪০২.৯১ মিলিয়ন ডলার, মালদ্বীপ থেকে ১৪১.০৯ মিলিয়ন ডলার, মরিশাস থেকে ১৪৩.৭১ মিলিয়ন ডলার, জাপান থেকে ১০৫.৯৪ মিলিয়ন ডলার এবং ব্রুনাই দারুসসালাম থেকে ৮৭.৩৮ মিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স দেশে এসেছে।

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ২৩, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
সৌর শক্তিতে পাকিস্তানের অগ্রগতি থেকে শিক্ষা নিতে হবে: সিপিডি

বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতকে গতিশীল করতে নীতিগত সংস্কার, কর ও শুল্ক হ্রাস এবং সহজ অর্থায়ন নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, পাকিস্তানের সাম্প্রতিক ‘সৌর বিপ্লব’ বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষার ক্ষেত্র হতে পারে, বিশেষ করে রুফটপ সোলার ও বিতরণভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্প্রসারণে।     মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘পাকিস্তানে সৌর বিপ্লব: জাতীয় বাজেটের দৃষ্টিকোণ থেকে বাংলাদেশের জন্য শিক্ষা’ শীর্ষক এক সংলাপের আয়োজন করে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।     সংলাপে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে অগ্রসর হওয়ার রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা ইতিবাচক হলেও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কাঠামোগত চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।     সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, “পাকিস্তানে স্বল্প সময়ে সৌরবিদ্যুতের বিস্তৃত ব্যবহার বিদ্যুৎ খাতের চিত্র বদলে দিয়েছে। বাংলাদেশও জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে পারে।”     তিনি জানান, এবারের বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বৈদ্যুতিক যান (ইভি) ও ব্যাটারি শিল্পে কিছু কর ও রাজস্ব সুবিধা রাখা হয়েছে। তবে কৃষি খাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।     তিনি আরও বলেন, “জাতীয় রুফটপ সোলার কর্মসূচির অগ্রগতি গুরুত্বপূর্ণ, যেখানে সরকারি প্রতিষ্ঠানের ছাদ ব্যবহার করে প্রায় ৩ হাজার ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।”     সংলাপে উপস্থাপিত ‘সোলার রাশ’ শীর্ষক প্রবন্ধে মোহাম্মদ বাসিত ঘৌরি বলেন, “বাংলাদেশ সৌরবিদ্যুতের রূপান্তরের এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। তবে উচ্চ কর, অর্থায়নের সীমাবদ্ধতা এবং নীতিগত জটিলতা এ খাতের অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করছে।”     তিনি জানান, ২০২৫ অর্থবছরে পাকিস্তানে সৌর প্যানেল আমদানি ১৭ দশমিক ৯ গিগাওয়াটে পৌঁছেছে, যা দেশটির গ্রিড সক্ষমতার চেয়েও বেশি। বর্তমানে দেশটিতে প্রায় ২৮ থেকে ৩৮ গিগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ স্থাপিত হয়েছে, যার বড় অংশই বিতরণভিত্তিক ব্যবস্থায়। তার ভাষ্যে, বিদ্যুতের উচ্চমূল্য ও গ্রিড ব্যবস্থার ওপর আস্থাহীনতা পাকিস্তানে সৌরবিদ্যুতের দ্রুত বিস্তারের প্রধান কারণ। পাশাপাশি চীনে উৎপাদন বৃদ্ধির কারণে সৌর প্যানেলের দাম কমে যাওয়া এই খাতে ‘সোলার রাশ’ তৈরি করেছে।     তিনি আরও বলেন, “পাকিস্তানে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ৭৩ লাখ পরিবার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে, যার বড় অংশই গ্রামীণ এলাকায়।” সৌরবিদ্যুতের কারণে বিপুল পরিমাণ কার্বন নিঃসরণ কমেছে এবং আমদানি ব্যয় সাশ্রয় হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।    সংলাপে উপস্থাপিত আরেকটি গবেষণা প্রবন্ধে বলা হয়, বাংলাদেশের সোলার হোম সিস্টেম একসময় বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অফ-গ্রিড কর্মসূচি ছিল এবং দুই কোটির বেশি মানুষকে বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় এনেছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এই কর্মসূচির গতি কমে এসেছে এবং অনেক সিস্টেম অকার্যকর হয়ে পড়েছে।     গবেষণায় বলা হয়, দেশে বর্তমানে নেট-মিটারিংভিত্তিক রুফটপ সোলার স্থাপনার সংখ্যা সীমিত হলেও তা ধীরে ধীরে বাড়ছে। তবে উচ্চ কর, নেট মিটারিং অনুমোদনের জটিলতা, অর্থায়নের ঘাটতি এবং প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়হীনতা খাতটির বড় বাধা হিসেবে কাজ করছে।     অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ বলেন, “সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে কর-সুবিধা দিয়েছে এবং সেচ পাম্পসহ বিভিন্ন খাতে সৌরশক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে।”     বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক নীতি সহায়তা ও বিনিয়োগ পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশও পাকিস্তানের মতো দ্রুতগতির সৌর রূপান্তরের পথে এগোতে পারে। 

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ২৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
প্রবাসীদের জন্য নতুন ‘টাকা হিসাব’ চালু করল বাংলাদেশ ব্যাংক

প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য অফশোর ব্যাংকিং ব্যবস্থায় নতুন সুবিধা চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মাধ্যমে এখন থেকে প্রবাসীরা ‘অনিবাসী বিনিময়যোগ্য টাকা হিসাব’ খুলতে পারবেন, যা রেমিট্যান্স ব্যবস্থাকে আরও সহজ ও বিনিয়োগবান্ধব করবে।   মঙ্গলবার (২৩ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংক এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠিয়েছে।   নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রবাসীরা অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটের (ওবিইউ) মাধ্যমে এই হিসাব খুলতে পারবেন। এটি সঞ্চয়ী, চলতি বা স্থায়ী আমানত—যেকোনো ধরনের হতে পারে।   এই অ্যাকাউন্টে বৈধ চ্যানেলে পাঠানো রেমিট্যান্স, অন্য অনিবাসী হিসাব থেকে স্থানান্তরিত অর্থ, অর্জিত সুদ বা মুনাফা এবং অনুমোদিত বিনিয়োগ থেকে প্রাপ্ত আয় জমা রাখা যাবে।   বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, এই হিসাবের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এর পূর্ণ প্রত্যাবাসনযোগ্যতা। অর্থাৎ জমাকৃত অর্থ এবং এর ওপর অর্জিত লাভ যেকোনো সময় কোনো বাধা ছাড়াই বিদেশে ফেরত নেওয়া যাবে।   এছাড়া এই অর্থ দেশের ভেতরে বিভিন্ন খাতে ব্যবহার করা যাবে। এর মধ্যে রয়েছে বৈদেশিক বিনিয়োগ, শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ, স্থানীয় পেমেন্ট এবং অন্যান্য বৈদেশিক মুদ্রা অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর।   নতুন ব্যবস্থায় প্রবাসীরা এই অ্যাকাউন্টের ব্যালেন্সকে জামানত হিসেবে ব্যবহার করে স্থানীয় ব্যাংক থেকে ঋণও নিতে পারবেন। তবে এই ঋণ কৃষি, প্ল্যান্টেশন বা আবাসন খাতে ব্যবহার করা যাবে না।   অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ রেমিট্যান্স প্রবাহকে আরও শক্তিশালী করবে এবং প্রবাসীদের জন্য বাংলাদেশে বিনিয়োগের নতুন সুযোগ তৈরি করবে।

আক্তারুজ্জামান জুন ২৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বব্যাংকের ১৫০ কোটি ডলার বাজেট সহায়তা পাচ্ছে বাংলাদেশ

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট সহায়তা হিসেবে বাংলাদেশকে ১৫০ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্বব্যাংক। চলতি জুন মাসের শেষ দিকে সংস্থাটির নির্বাহী পর্ষদ তিনটি পৃথক ঋণ কর্মসূচির আওতায় এ অর্থ অনুমোদন করতে পারে।   দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, জ্বালানি আমদানি ব্যয় এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে এই সহায়তাকে অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।   সহায়তার খাতভিত্তিক বরাদ্দ: ৮০ কোটি ডলার : র‍্যাপিড রেসপন্স অপশন (RRO) উইন্ডোর আওতায় বিদ্যমান প্রকল্প সহায়তা। ৪০ কোটি ডলার : আর্থিক খাত ও ব্যাংকিং খাত সংস্কার কার্যক্রমে। ৩০ কোটি ডলার : জরুরি সার আমদানি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে।   সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ওয়াশিংটন ও ঢাকায় কয়েক দফা আলোচনা শেষে এ সহায়তার বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে।   অর্থ মন্ত্রণালয়ের হিসাব বলছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত এবং জ্বালানি ও সারের আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে বাংলাদেশের অতিরিক্ত প্রায় ২৬১ কোটি ডলার প্রয়োজন হতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে বিশ্বব্যাংকের নতুন ঋণ সহায়তা সরকারের বাজেট ব্যবস্থাপনা ও বৈদেশিক অর্থায়নের চাপ কমাতে সহায়ক হবে।   বিশ্লেষকদের মতে, এই অর্থায়ন স্বল্পমেয়াদে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সাহায্য করলেও দীর্ঘমেয়াদে ব্যাংকিং খাত সংস্কার, রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক ঋণের দক্ষ ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

আক্তারুজ্জামান জুন ২৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
দেউলিয়া ৫ প্রতিষ্ঠানের ক্ষুদ্র আমানতকারীদের জন্য স্বস্তির খবর

দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে হাজার হাজার আমানতকারীর কাছে আতঙ্কের নাম হয়ে আছে দেশের কয়েকটি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই)। মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও টাকা ফেরত না পাওয়া, প্রতিষ্ঠানগুলোর সামনে বিক্ষোভ, আদালত ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার দ্বারে দ্বারে ঘোরাঘুরি; সব মিলিয়ে বহু পরিবার আর্থিক অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটিয়েছে। অবশেষে সেই সংকট নিরসনে বড় পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক।   কেন্দ্রীয় ব্যাংক সিদ্ধান্ত নিয়েছে, কার্যত দেউলিয়া হয়ে পড়া পাঁচটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক নিয়োগ করে ধাপে ধাপে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। প্রথম পর্যায়ে ব্যক্তি আমানতকারীদের সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ফেরত দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই অর্থের জোগান আসবে সরকারি তহবিল থেকে, অর্থাৎ জনগণের করের অর্থ ব্যবহার করে ক্ষতিগ্রস্ত আমানতকারীদের স্বস্তি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র বলছে, প্রশাসক নিয়োগের পর প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রকৃত আর্থিক অবস্থা মূল্যায়ন করে অবসায়ন বা লিকুইডেশনের প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। একই সঙ্গে ছোট আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার কাজও শুরু হবে। এর জন্য সরকারের নীতিগত সম্মতি ইতোমধ্যে পাওয়া গেছে এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটেও প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রাখা হয়েছে।   কোন পাঁচ প্রতিষ্ঠান বন্ধের পথে যেসব আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে অবসায়নের আওতায় আনার প্রস্তুতি চলছে, সেগুলো হলো এফএএস ফাইন্যান্স, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, আভিভা ফাইন্যান্স, পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এই পাঁচ প্রতিষ্ঠানে প্রায় ২৭ হাজার ব্যক্তি আমানতকারীর মোট জমা রয়েছে প্রায় ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। বছরের পর বছর ধরে এসব আমানতকারীর বড় অংশই নিজেদের অর্থ ফেরত পাননি। প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক অবস্থার চিত্র আরও ভয়াবহ। গত ডিসেম্বর শেষে এফএএস ফাইন্যান্সের খেলাপি ঋণের হার দাঁড়িয়েছে ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ। ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের ৯৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ, ফারইস্ট ফাইন্যান্সের ৯৮ দশমিক ৫০ শতাংশ, পিপলস লিজিংয়ের প্রায় ৯৫ শতাংশ এবং আভিভা ফাইন্যান্সের ৯৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ ঋণ খেলাপিতে পরিণত হয়েছে। অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রায় পুরো ঋণপোর্টফোলিওই অকার্যকর হয়ে গেছে।   কীভাবে ফেরত দেওয়া হবে আমানতের টাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রশাসক নিয়োগের পর প্রথম ধাপে ব্যক্তি আমানতকারীদের মধ্যে যাদের জমার পরিমাণ ১০ লাখ টাকা বা তার কম, তাদের অর্থ পরিশোধ করা হবে। এতে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন ক্ষুদ্র ও মধ্যম আয়ের আমানতকারীরা, যাদের অনেকেই সঞ্চয়ের পুরো অর্থ এসব প্রতিষ্ঠানে রেখেছিলেন। তবে ১০ লাখ টাকার বেশি জমা রাখা ব্যক্তিরা অর্থাৎ বড় ব্যক্তি আমানতকারী ইচ্ছে করলে ক্ষুদ্র ও মধ্যম আমানতকারীদের সঙ্গে প্রথমে ১০ লাখ টাকা নিতে পারবেন। ধারণা করা হচ্ছে সবাইকে ১০ লাখ টাকা দেওয়ার কিছু দিন পরে বাকী টাকা কিভাবে দেওয়া হবে সেটা নিয়ে নতুন করে সিদ্ধান্ত নেবে বাংলাদেশ ব্যাংক।  কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা মনে করছেন, সীমিত সম্পদ ও বিপুল দায়ের মধ্যে প্রথমে ছোট আমানতকারীদের সুরক্ষা দেওয়া সবচেয়ে জরুরি। কারণ বড় অঙ্কের আমানতকারীদের তুলনায় সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হয়েছেন।   তবে প্রশ্ন হচ্ছে, যাদের জমা ১০ লাখ টাকার বেশি, তাদের কী হবে? বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র বলছে, প্রথম ধাপের অর্থ পরিশোধের পর প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পদ, উদ্ধারযোগ্য ঋণ, বিক্রয়যোগ্য সম্পত্তি এবং সরকারের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। অর্থাৎ বড় আমানতকারী, প্রাতিষ্ঠানিক আমানতকারী এবং অন্যান্য পাওনাদারদের অর্থ কীভাবে ও কোন ক্রমে পরিশোধ করা হবে, তা প্রশাসক নিয়োগের পর বিস্তারিত মূল্যায়নের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অবসায়ন প্রক্রিয়ায় সাধারণত প্রতিষ্ঠানের সম্পদ বিক্রি, উদ্ধারযোগ্য ঋণ আদায় এবং দায়-দেনার তালিকা প্রস্তুতের মাধ্যমে পাওনাদারদের অর্থ পরিশোধ করা হয়। ফলে ১০ লাখ টাকার বেশি আমানতধারীদের অর্থ ফেরতের বিষয়টি সময়সাপেক্ষ হতে পারে। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সরাসরি তদারকি থাকায় আগের তুলনায় একটি সুসংগঠিত কাঠামোর মাধ্যমে অর্থ ফেরতের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এ প্রসঙ্গে আমানতকারীদের সংগঠন ‘অ্যালায়েন্স অব ৬ এনবিএফআইস ডিপোজিটরস ফর রিকভারি’-এর আহ্বায়ক জাফর খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ক্ষুদ্র আমানতকারীদের সুরক্ষার লক্ষ্যে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত আমানত সম্পূর্ণ ফেরত দেওয়ার উদ্যোগকে তারা ইতিবাচকভাবে দেখছেন। দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তিতে থাকা ছোট আমানতকারীদের স্বস্তি দিতে এ ধরনের পদক্ষেপ প্রয়োজন বলেও তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, তবে সংকটাপন্ন পাঁচটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সব আমানতকারী একই ধরনের অনিয়ম ও দুর্যোগের শিকার হয়েছেন। ফলে সমস্যার সমাধানও হতে হবে ন্যায়সঙ্গত, সমতাভিত্তিক ও বৈষম্যহীন। শুধু ক্ষুদ্র আমানতকারীদের জন্য নয়, ছোট-বড় সব ধরনের আমানতকারীর জন্য একটি সময়বদ্ধ, স্বচ্ছ ও বাস্তবসম্মত অর্থ ফেরত নীতিমালা (রিপেমেন্ট রোডম্যাপ) ঘোষণা করা প্রয়োজন। জাফর খানের মতে, এমন একটি পরিকল্পনা থাকা উচিত, যেখানে সব আমানতকারী তাদের জমাকৃত অর্থ ধাপে ধাপে হলেও সমানুপাতিক ভিত্তিতে ফেরত পাওয়ার নিশ্চয়তা পাবেন। অন্যথায় একটি নির্দিষ্ট শ্রেণির আমানতকারীর স্বার্থ রক্ষা হলেও বাকি আমানতকারীরা দীর্ঘ অনিশ্চয়তার মধ্যে থেকে যাবেন, যা আর্থিক খাতের প্রতি জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। এসব প্রতিষ্ঠানে আমানত রাখা অর্থ কেবল সংখ্যা নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের জীবনভর সঞ্চয়, প্রবাসী পরিবারের কষ্টার্জিত উপার্জন, বিধবা নারীর নিরাপত্তা, মধ্যবিত্তের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং ব্যবসায়ীদের মূলধন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তার ভাষ্য, তাই বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি তাদের আহ্বান, এমন একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতিমালা গ্রহণ করা হোক, যা সকল আমানতকারীর প্রতি ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে, আর্থিক খাতে আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করবে এবং ভবিষ্যতের সঞ্চয়কারীদের জন্য নিরাপত্তার বার্তা দেবে।   কেন এই অবস্থায় পৌঁছাল প্রতিষ্ঠানগুলো এই পাঁচ প্রতিষ্ঠানের পতনের পেছনে রয়েছে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্বল তদারকি এবং প্রভাবশালী গোষ্ঠীর ঋণ কেলেঙ্কারি। আভিভা ফাইন্যান্সের নিয়ন্ত্রণে ছিলেন চট্টগ্রামের আলোচিত ব্যবসায়ী সাইফুল আলম (এস আলম)। অন্যদিকে এফএএস ফাইন্যান্স, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, পিপলস লিজিং ও ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের নিয়ন্ত্রণ ছিল বহুল আলোচিত আর্থিক কেলেঙ্কারির নায়ক প্রশান্ত কুমার (পি কে) হালদারের হাতে। তাদের সময়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে বিপুল অঙ্কের ঋণ বিতরণ করা হয়, যার বড় অংশই পরে খেলাপিতে পরিণত হয়। অভিযোগ রয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে নামে-বেনামে অর্থ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ফলে আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেওয়ার মতো সক্ষমতা হারিয়ে ফেলে প্রতিষ্ঠানগুলো।   প্রশাসক নিয়োগের পর কী হবে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথমে পাঁচ প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ বিলুপ্ত করা হবে। এরপর প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে সব ধরনের আর্থিক কার্যক্রম, সম্পদ ও দায়-দেনা কেন্দ্রীয়ভাবে পর্যালোচনা করা হবে। প্রশাসকরা প্রতিষ্ঠানের সম্পদের প্রকৃত অবস্থা, উদ্ধারযোগ্য ঋণ, আদালতে থাকা মামলার অগ্রগতি এবং সম্ভাব্য নগদ প্রবাহ মূল্যায়ন করবেন। একই সঙ্গে আমানতকারীদের তথ্য যাচাই করে অর্থ ফেরতের তালিকাও প্রস্তুত করা হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা জানান, লোকসানি ও অকার্যকর প্রতিষ্ঠানগুলো সচল রাখার জন্য বছরের পর বছর ব্যয় করার পরিবর্তে দ্রুত অবসায়নের মাধ্যমে আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষা করাই এখন প্রধান লক্ষ্য।   অবসায়নের তালিকা কেন ছোট হলো গত বছর উচ্চ খেলাপি ঋণ ও আমানত ফেরতে ব্যর্থ হওয়ায় ২০টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। পরবর্তীতে তাদের মধ্যে কয়েকটির পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা মূল্যায়ন করে ছয়টি প্রতিষ্ঠান বন্ধ বা অবসায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরবর্তীতে জিএসপি ফাইন্যান্স, প্রাইম ফাইন্যান্স ও বিআইএফসি তালিকা থেকে বাদ পড়ে। সর্বশেষ প্রিমিয়ার লিজিংকেও আপাতত অবসায়নের তালিকার বাইরে রাখা হয়েছে। ফলে এখন পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করেই চূড়ান্ত প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।   আস্থা ফেরানোর বড় পরীক্ষা ব্যাংকিং ও আর্থিক খাত বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগ শুধু পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের আমানতকারীদের জন্য নয়, পুরো আর্থিক খাতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা অর্থ ফেরত দেওয়া গেলে আর্থিক খাতের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা কিছুটা হলেও পুনরুদ্ধার হবে। তবে একই সঙ্গে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, শুধুমাত্র সরকারি অর্থ দিয়ে ক্ষতি পুষিয়ে দিলেই সমস্যার সমাধান হবে না। যারা অনিয়ম ও লুটপাটের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করেছে, তাদের সম্পদ জব্দ ও অর্থ পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়াও সমান গুরুত্বের সঙ্গে এগিয়ে নিতে হবে। অন্যথায় জনগণের করের অর্থ দিয়ে ক্ষতি পূরণ করা হলেও দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর জবাবদিহি নিশ্চিত হবে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান সম্প্রতি বলেছেন, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর আমানত ফেরত নিয়ে দীর্ঘ ১২ বছর ধরে সমস্যা চলছে। আগামী এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত আমানতকারীদের জন্য দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাবে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে, দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা হাজারো আমানতকারীর অর্থ ফেরতের পথ খুলবে। তবে ১০ লাখ টাকার বেশি আমানতধারীরা কবে, কীভাবে এবং কতটুকু অর্থ ফেরত পাবেন—সেই প্রশ্নের উত্তর এখনও ভবিষ্যতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ২৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
দ্রুত পেনশন কার্যক্রম সম্পাদনের তাগিদ সিএজি’র

সম্মানিত পেনশনারদের পেনশন কার্যক্রম দ্রুত ও স্বচ্ছতার সাথে সম্পাদনের লক্ষ্যে বাংলাদেশের কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল (সিএজি) মো. নূরুল ইসলাম-এর সভাপতিত্বে সোমবার (২২ জুন) সিএজি কার্যালয়ে সিজিএ, সিজিডিএফ এবং এডিজি (অর্থ), বাংলাদেশ রেলওয়ে কার্যালয়ের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে Online Pension Tracking & Management System (OPTMS)-এর অগ্রগতি পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।    উক্ত সভায় Online Pension Tracking & Management System (OPTMS)-এর সর্বশেষ অগ্রগতির ওপর একটি উপস্থাপনা প্রদান করা হয় । উপস্থাপনায় জানানো হয় যে, হিসাব মহানিয়ন্ত্রক এর কার্যালয়, কন্ট্রোলার জেনারেল ডিফেন্স ফাইন্যান্স এর কার্যালয় এবং অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অর্থ) এর কার্যালয় সমূহে অবসর-উত্তর (Post-Retirement) অটোমেশনের সফলতার ধারাবাহিকতায় অবসর-পূর্ব (Pre-retirement) পর্যায়ের কার্যক্রমকে ডিজিটাল ও স্বয়ংক্রিয় করার লক্ষ্যে Online Pension Tracking & Management System (OPTMS) প্রস্তুত করা হয়েছে। এই সিস্টেসের মাধ্যমে সম্মানিত পেনশনার পেনশন আবেদন জমাদানের পর তার পেনশন ফাইলের সর্বশেষ অগ্রগতি কোন কার্যালয়ের কোন পর্যায়ে রয়েছে তা নিজেই অনলাইনে দেখতে পাবেন। উক্ত কার্যক্রম সফলভাবে ও অতি দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সিজিএ, সিজিডিএফ ও এডিজি (অর্থ), বাংলাদেশ রেলওয়ে কার্যালয়কে এসপিএফএমএস কর্মসূচির সংশ্লিষ্ট কম্পোনেন্টের কারিগরি টিমের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ ও  সর্বাত্মাক সহাযোগিতা নিশ্চিতকরণের জন্য সিএজি মো. নূরুল ইসলাম নির্দেশ প্রদান করেন।  সভায় OPTMS-এ সিজিএ কার্যালয়ের সুপারিশসমূহ অন্তর্ভুক্তকরণ, সিজিডিএফ ও এডিজি (অর্থ), বাংলাদেশ রেলওয়ে এর সংশ্লিষ্ট Business Process দ্রুত প্রস্তুত ও প্রেরণ, ইএলপিসি (ELPC) ইস্যুর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন এবং সার্ভিস স্টেটমেন্ট সংক্রান্ত বিষয়ে পেনশনভোগীদের ভোগান্তি হ্রাসে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা প্রদান করেন। বাংলাদেশের কম্পট্রোলার এন্ড অডিটর জেনারেল (সিএজি) আশা প্রকাশ করেন যে, সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগে OPTMS দ্রুত পূর্ণাঙ্গ রূপ লাভ করবে এবং এর মাধ্যমে দেশের পেনশনভোগীরা অধিক স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও সময়োপযোগী ডিজিটাল পেনশন সেবা লাভ করবেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ২৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
স্বর্ণ বেচাকেনায় ভ্যাট কমেছে, স্বস্তিতে ক্রেতা-বিক্রেতা

এবারের বাজেটে, স্বর্ণের গয়না কেনার ক্ষেত্রে ভ্যাট কমানোর ঘোষণা আসায় অনেকটাই স্বস্তিতে ক্রেতা-বিক্রেতারা। স্বর্ণ ও গয়না কেনাবেচায় ৫ শতাংশ ভ্যাটের বদলে, ভরিপ্রতি নির্দিষ্ট আড়াই হাজার টাকা ভ্যাটের প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে ক্রেতাদের খরচ কমবে। তবে ব্যক্তিগত স্বর্ণালঙ্কার বিক্রির মুনাফার ওপর ১৫ শতাংশ হারে নতুন করের প্রস্তাব করা হয়েছে।    ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের পর থেকেই দেশে স্বর্ণের বাজার ঊর্ধ্বমুখী হতে থাকে। এরপর বৈশ্বিক নানা সংকটে এ ধাতুটির দাম প্রায়ই ওঠানামা করতে দেখা যায়। এ অনিশ্চয়তায় স্বর্ণ কেনায় দ্বিধায় পড়েন ক্রেতারা।     এমন বাস্তবতায় বাজেটে, স্বর্ণের কর ও ভ্যাটে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। যার সুবিধা পাবে সাধারণ ক্রেতারা। গয়না কেনায় তাদের খরচ অনেকটাই কমবে।   বাজেটে স্বর্ণালংকার কেনার ক্ষেত্রে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যমান ৫ শতাংশ ভ্যাটের পরিবর্তে ভরিপ্রতি নির্দিষ্ট আড়াই হাজার টাকা ভ্যাট নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে ভরিতে খরচ কমবে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা। আর, উৎসে কর ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে দশমিক ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।    বেশি আলোচনায় এসেছে, বাজেটে ব্যক্তিগত স্বর্ণ বিক্রির ওপর নতুন কর। প্রস্তাব অনুযায়ী, করদাতার আয়কর রিটার্নে ঘোষিত স্বর্ণ, মূল্যবান পাথরসহ বিভিন্ন সম্পদ বিক্রি করে লাভ হলে সেই মুনাফার ওপর ১৫ শতাংশ হারে ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স দিতে হবে।     বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন-বাজুসের মুখপাত্র আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘নতুন ব্যবস্থা চালু হলে স্বর্ণালংকারের বাজারে স্বচ্ছতা বাড়বে, পাশাপাশি ক্রেতাদের ব্যয়ও কমবে।’   বাজেটে জুয়েলারি শিল্পের আধুনিকায়ন ও রপ্তানি বহুমুখীকরণে শুল্কমুক্তভাবে কাঁচামাল আমদানি এবং অলঙ্কার রপ্তানি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা আনতে বন্ডেড ওয়‍্যার হাউস পদ্ধতির আওতায় নতুন প্রজ্ঞাপন জারির প্রস্তাব করা হয়েছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ২২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে দুই বছর লাগবে, সমৃদ্ধির আশা চতুর্থ-পঞ্চম বছরে: অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, দেশের অর্থনীতি বর্তমানে একটি ভঙ্গুর পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই অবস্থা থেকে স্থিতিশীল ও স্থিতিস্থাপক অর্থনীতিতে পৌঁছাতে অন্তত দুই বছর সময় লাগবে। তবে তৃতীয় বছর থেকে ইতিবাচক পরিবর্তন দৃশ্যমান হবে এবং চতুর্থ ও পঞ্চম বছর হবে সমৃদ্ধির সময়।   সোমবার (২২ জুন) রাজধানীতে ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক (ইউএপি)-এ অনুষ্ঠিত ‘দ্য ফিসকাল কম্পাস ২০২৬: বিয়ন্ড দ্য নাম্বার্স, শেপিং বাংলাদেশস ফিউচার, প্রপোজড ন্যাশনাল বাজেট ২০২৬-২০২৭’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) এবং ইউএপি।   অর্থমন্ত্রী বলেন, এবারের বাজেট প্রণয়ন ছিল অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। হাতে সময় ছিল মাত্র দেড় মাস, কিন্তু জনগণের প্রত্যাশা ছিল অনেক বেশি। এমন পরিস্থিতিতে অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা সহজ নয়, বিশেষ করে যখন দেশ নানা অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে রয়েছে।   তিনি বলেন, বাজেটের অন্যতম মূল লক্ষ্য হলো অর্থনীতির গণতান্ত্রিকীকরণ। নাগরিকদের শুধু দর্শক হিসেবে নয়, বরং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সক্রিয় অংশীদার হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বৃহত্তর অংশগ্রহণ, অন্তর্ভুক্তি এবং সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে একটি নতুন অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হয়েছে।   সৃজনশীল অর্থনীতির ওপর গুরুত্বারোপ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বহু প্রতিভাবান মানুষ ও ঐতিহ্যভিত্তিক শিল্প রয়েছে, যা এখনো পূর্ণ সম্ভাবনায় বিকশিত হয়নি। দক্ষতা উন্নয়ন, বাজার সম্প্রসারণ এবং পণ্যের বাণিজ্যিকীকরণের মাধ্যমে এসব খাতকে এগিয়ে নেওয়া হবে।   তিনি জানান, স্থানীয় পণ্যকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে দিতে সরকার কাজ করছে। অনলাইন মার্কেটপ্লেসসহ বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের মাধ্যমে বাংলাদেশের কারুশিল্প ও ঐতিহ্যবাহী পণ্যের নতুন বাজার সৃষ্টি সম্ভব। পাশাপাশি সংগীত, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যনির্ভর শিল্প খাতেও ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।   অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, অপ্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক বাধা কমিয়ে নাগরিকদের জন্য অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানো হবে। শুধু রাজনৈতিক স্বাধীনতা নয়, অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রেও মানুষের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।   অনুষ্ঠানে অর্থনীতিবিদ, ব্যাংকার, ব্যবসায়ী নেতা, শিক্ষাবিদ এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তারা অংশ নেন।

আক্তারুজ্জামান জুন ২২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
পাঁচ আর্থিক প্রতিষ্ঠান, দায়িত্বে বসছে প্রশাসক

আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে না পারা দেশের ব্যাংকবহির্ভূত পাঁচটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে (এনবিএফআই) আটকে থাকা টাকা আমানতকারীদের ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। জনগণের করের টাকা থেকে সরকার এই অর্থ জোগান দেবে। তার আগে পাঁচ প্রতিষ্ঠান বন্ধ বা অবসায়ন করা হবে। এ জন্য প্রতিষ্ঠানগুলোয় প্রশাসক বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে এই প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হবে।   বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, প্রশাসক নিয়োগের পর প্রতিষ্ঠানগুলোর ছোট ছোট আমানতকারীর টাকা ফেরত দেওয়া উদ্যোগ নেওয়া হবে। টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়ে এরই মধ্যে সরকারের সম্মতি পেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তারপরও প্রশাসক নিয়োগের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়েছে।   বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, অবসায়ন বা বন্ধের তালিকায় যে পাঁচ আর্থিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে, সেগুলো হলো এফএএস ফাইন্যান্স, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, আভিভা ফাইন্যান্স, পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস ও ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস। এই পাঁচ প্রতিষ্ঠানে ২৭ হাজার আমানতকারীর প্রায় ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা জমা রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রশাসক নিয়োগের পর শুরুতে ব্যক্তি আমানতকারীরা ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ফেরত পাবেন।   বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ডিসেম্বর শেষে এফএএস ফাইন্যান্সের খেলাপি ঋণের হার দাঁড়িয়েছে ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ, ফারইস্ট ফাইন্যান্সের ৯৮ দশমিক ৫০ শতাংশ, আভিভা ফাইন্যান্সের ৯৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ, পিপলস লিজিংয়ের প্রায় ৯৫ শতাংশ ও ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের ৯৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ, অর্থাৎ এসব প্রতিষ্ঠানের প্রায় শতভাগ ঋণই খেলাপি।   প্রতিষ্ঠান পাঁচটির মধ্যে আভিভা ফাইন্যান্সের চেয়ারম্যান ছিলেন চট্টগ্রামের বিতর্কিত ব্যবসায়ী সাইফুল আলম (এস আলম)। অন্য চারটির নিয়ন্ত্রণ ছিল আর্থিক প্রতিষ্ঠান কেলেঙ্কারির দায়ে বহুল আলোচিত ব্যক্তি প্রশান্ত কুমার (পি কে) হালদার। তাঁদের মেয়াদে এসব প্রতিষ্ঠান থেকে নামে-বেনামে টাকা তুলে নেওয়া হয়। ফলে দীর্ঘদিন ধরে আমানতকারীরা টাকা ফেরত পাচ্ছেন না। সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এসব প্রতিষ্ঠান সচল বা অবসায়ন করে আমানতকারীদের দুর্ভোগ লাঘবের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত কাজটি তারা শেষ করে যেতে পারেনি। এ অবস্থায় বর্তমান সরকারও অন্তর্বর্তী সরকারের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখেছে। এ জন্য ২০২৬–২৭ সালের প্রস্তাবিত বাজেটে এই খাতের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে।   নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, প্রশাসক নিয়োগের পর প্রথমে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যক্তি আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেওয়া হবে। পরে অন্যদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। এসব প্রতিষ্ঠান বাঁচিয়ে রেখে শুধু শুধু খরচ বাড়ানোর কোনো প্রয়োজন নেই। এ জন্য যত দ্রুত সম্ভব, অবসায়নের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।   বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, প্রথমে প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালনা পর্ষদ বিলুপ্ত করা হবে। এরপর এসব প্রতিষ্ঠান একীভূত করে ব্যাংকগুলোর মতো প্রশাসক নিয়োগ করা হবে। বর্তমানে শরিয়াহভিত্তিক পাঁচ ব্যাংক একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠনের প্রক্রিয়া চলছে।   উচ্চ খেলাপি ঋণ এবং আমানত ফেরত দিতে ব্যর্থ হওয়ায় কেন ২০টি এনবিএফআই বন্ধ করা হবে না মর্মে গত বছরের মে মাসে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে নোটিশ দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মধ্যে ৯টি প্রতিষ্ঠানের পুনরুদ্ধার বা ঘুরে দাঁড়ানোর কর্মপরিকল্পনা সন্তোষজনক না হওয়ায় সেগুলো বন্ধ বা অবসায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে চলতি বছরের জানুয়ারিতে সেখান থেকে তিনটি প্রতিষ্ঠান বাদ দিয়ে ছয়টি বন্ধ বা অবসায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তখন জিএসপি ফাইন্যান্স, প্রাইম ফাইন্যান্স ও বিআইএফসিকে বাদ দেওয়া হয়। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে প্রিমিয়ার লিজিংকে বাদ দিয়ে পাঁচটি প্রতিষ্ঠান বন্ধ বা অবসায়নের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়। সরকারি দলের একজন নেতা প্রিমিয়ার লিজিং সচল করার উদ্যোগ নেবে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে জানিয়েছেন। এ জন্য প্রতিষ্ঠানটিকে আপাতত অবসায়নের তালিকার বাইরে রাখা হয়েছে।   বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান ১২ জুন বাজেট–পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর টাকা ফেরত দেওয়া নিয়ে ১২ বছর ধরে সমস্যা হচ্ছে। আগামী এক–দুই সপ্তাহের মধ্যে এসব প্রতিষ্ঠানের আমানতকারীরা টাকা ফেরত পাবেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ২২, ২০২৬
Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

সপ্তাহের সেরা

ছবি: সংগৃহীত
জাতীয়

চীন সফরে একাধিক সমঝোতা, ১৭টি চুক্তি সইয়ের সম্ভাবনা

মোঃ নাহিদ হোসেন জুন ২০, ২০২৬