অর্থনীতি

ছবি: সংগৃহীত
আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের চার স্বতন্ত্র পরিচালক সরে দাঁড়ালেন

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনার পর আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের চার স্বতন্ত্র পরিচালক পদত্যাগ করেছেন। ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ব্যাংকটির আগের পরিচালনা পর্ষদ বাতিল করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক যে নতুন পর্ষদ গঠন করেছিল, ওই চারজন সেই পর্ষদের সদস্য ছিলেন।   পদত্যাগ করা চার পরিচালক হলেন—বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক মো. শাহীন উল ইসলাম, এনআরবি ব্যাংকের সাবেক উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) মো. আব্দুল ওয়াদুদ, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট মোহাম্মদ আশরাফুল হাসান (এফসিএ) এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এম আবু ইউসুফ।   ২০২৪ সালের ৩ অক্টোবর লঙ্কাবাংলা ফাইন্যান্সের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক খাজা শাহরিয়ারকে চেয়ারম্যান করে পাঁচ স্বতন্ত্র পরিচালকের সমন্বয়ে ব্যাংকটির নতুন পর্ষদ গঠন করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। বর্তমানে ওই পাঁচজনের মধ্যে খাজা শাহরিয়ারই শুধু স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন।   কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগেই ওই স্বতন্ত্র পরিচালকদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে পুরোনো মালিকপক্ষের প্রতিনিধিদের ফিরিয়ে আনা হলে আগের স্বতন্ত্র পরিচালকদের পদত্যাগের বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়।   ওই কর্মকর্তা আরও জানান, চলতি বছরের ১৫ জুলাই পুরোনো মালিকপক্ষের সংশ্লিষ্টদের নিয়ে নতুন পর্ষদ গঠনের পর স্বতন্ত্র পরিচালকেরা বিভিন্ন বিষয়ে অস্বস্তির মধ্যে ছিলেন।   গত ১৫ জুলাই আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের জন্য ১৩ সদস্যের নতুন পরিচালনা পর্ষদ অনুমোদন করে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন পরিচালকদের মধ্যে পাঁচজন চট্টগ্রামভিত্তিক কেডিএস গ্রুপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে জানা গেছে।   এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ছিলেন এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলম মাসুদের ভাই আব্দুস সামাদ লাবু। নতুন পর্ষদে যুক্ত হওয়া কয়েকজন পরিচালক আগের পর্ষদেও ছিলেন।   নতুন পর্ষদে বদিউর রহমানকে চেয়ারম্যান এবং লিয়াকত আলী চৌধুরীকে ভাইস চেয়ারম্যান করা হয়েছে। পরিচালক হিসেবে রয়েছেন কেডিএস গ্রুপের চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান, তাঁর ছেলে সেলিম রহমান, কেডিএস গার্মেন্টসের প্রতিনিধি মাহবুব আহমেদ, মোহাম্মদ আব্দুস সালাম, নাজমুল আহসান খালেদ, মো. এনায়েত উল্লা, আহামেদুল হক, মোহাম্মদ ইমাদুর রহমান, মো. রফিকুল ইসলাম, আনোয়ার হোসাইন ও মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ।   এনায়েত উল্লা সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৭ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।   নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠনের পর চার স্বতন্ত্র পরিচালকের পদত্যাগের মধ্য দিয়ে ব্যাংকটির পরিচালনা কাঠামোয় আরও একটি পরিবর্তন এলো।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
করদাতার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ছাড়াই করসেবা, নতুন ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ

করব্যবস্থায় অনিয়ম, দুর্নীতি ও করদাতাদের হয়রানি কমাতে নতুন ডিজিটাল ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় করদাতাদের সঙ্গে কর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সরাসরি যোগাযোগের প্রয়োজন হবে না। ঘরে বসেই রিটার্ন দাখিল, নিরীক্ষার জবাবসহ করসংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পন্ন করা যাবে।   রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কাকরাইলে আইডিইবি ভবনে ঢাকা ট্যাকসেস বার অ্যাসোসিয়েশনের ২০২৬-২৭ মেয়াদের নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানান এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আহসান হাবিব।   এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, এমন একটি করব্যবস্থা গড়ে তোলার কাজ চলছে, যেখানে করদাতাকে কর অফিসে গিয়ে কর্মকর্তার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে হবে না। অনলাইনে রিটার্ন জমা দেওয়ার পাশাপাশি নিরীক্ষা সংক্রান্ত কোনো প্রশ্ন বা আপত্তির জবাবও অনলাইনে দেওয়া যাবে। কোনো ভুল বা অসঙ্গতি থাকলে তার ব্যাখ্যাও ডিজিটাল মাধ্যমেই দেওয়ার সুযোগ থাকবে।   তিনি বলেন, এ ধরনের ব্যবস্থা চালু হলে করদাতাদের হয়রানি এবং অনিয়মের সুযোগ অনেকাংশে কমে আসবে। একই সঙ্গে কর প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়বে।   অনুষ্ঠানে এনবিআর চেয়ারম্যান জানান, চলতি বাজেটে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা। এ লক্ষ্য অর্জনে এনবিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি কর আইনজীবীদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। এখনো দেশের অনেক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান করজালের বাইরে রয়েছে। তাদের করব্যবস্থার আওতায় আনার পাশাপাশি নিয়ম অনুযায়ী রাজস্ব আদায়ে সহযোগিতা প্রয়োজন।   রাষ্ট্রের উন্নয়ন ও জনসেবার সঙ্গে কর প্রদানের সম্পর্ক তুলে ধরে তিনি বলেন, জনগণের করের অর্থেই সড়ক, সেতু, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন অবকাঠামো ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। তাই রাষ্ট্রীয় সুবিধা গ্রহণের পাশাপাশি নাগরিকদেরও যথাযথভাবে কর পরিশোধ করা দায়িত্ব।   করদাতা ও ব্যবসায়ীদের কোনো ধরনের ঘুষ না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আহসান হাবিব বলেন, কর আদায় বা প্রশাসনিক কাজে কোনো কর্মকর্তা কিংবা জনপ্রতিনিধিকে ঘুষ দেওয়া উচিত নয়। করব্যবস্থার অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধে করদাতা, আইনজীবী ও কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।   অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেন, রাষ্ট্র পুনর্গঠনে কর আইনজীবীদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট বাস্তবায়নে রাজস্ব সংগ্রহ বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। দেশের প্রায় ৪২ হাজার কর আইনজীবী সম্মিলিতভাবে কাজ করলে রাজস্ব আয় আরও বাড়ানো সম্ভব।   তিনি করজালের বাইরে থাকা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে করব্যবস্থার আওতায় আনার পাশাপাশি করদাতাদের হয়রানি বন্ধ এবং কর প্রশাসনে দুর্নীতি ও অনিয়ম প্রতিরোধে কর আইনজীবীদের সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান।   অনুষ্ঠানে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহেরসহ এনবিআরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কর আইনজীবী এবং ঢাকা ট্যাকসেস বার অ্যাসোসিয়েশনের নবনির্বাচিত কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।   ঢাকা ট্যাকসেস বার অ্যাসোসিয়েশনের ২০২৬-২৭ মেয়াদের নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কর আইনজীবী ফোরামের (নীল প্যানেল) প্রার্থীরা পূর্ণ বিজয় অর্জন করেন। সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন মো. মিজানুর রহমান (দুলাল)। সিনিয়র সহসভাপতি হয়েছেন এ কে এম শহীদুল ইসলাম, সহসভাপতি মো. আবুল কালাম মজুমদার এবং সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন অ্যাডভোকেট আশরাফ হোসেন খান।   নবনির্বাচিত সভাপতি মো. মিজানুর রহমান বলেন, জাতীয় রাজস্ব সংগ্রহে কর আইনজীবীরা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। তবে তাঁদের কাজের পরিবেশ উন্নত করা প্রয়োজন। সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে ৪২ জন কর আইনজীবীর জন্য পর্যাপ্ত জায়গা নেই। বর্তমানে মাত্র ১০ বাই ১২ ফুটের একটি কক্ষে তাঁদের কাজ করতে হচ্ছে।   কর আইনজীবীদের জন্য আলাদা ও নির্ধারিত কক্ষ বরাদ্দের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, উপযুক্ত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে তাঁদের পেশাগত কার্যক্রম আরও কার্যকর ও স্বাচ্ছন্দ্যময় হবে।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন সিদ্ধান্ত: জামানত ছাড়াই তরুণদের অর্থ সহায়তা

দেশের তরুণ সমাজকে স্বাবলম্বী উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে, আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করতে একটি নতুন অর্থায়ন কর্মসূচি চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস ডিপার্টমেন্ট থেকে ‘উদ্যোগ: উপজেলাভিত্তিক তরুণ উদ্যোক্তা অনুসন্ধান, চিহ্নিতকরণ ও অর্থায়ন কর্মসূচি’ শীর্ষক এই নতুন নীতিমালা জারি করা হয়।     দেশের সকল তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো এই নীতিমালার আওতায় নির্বাচিত তরুণ উদ্যোক্তারা সম্পূর্ণ বিনা জামানতে সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থায়ন সুবিধা লাভ করবেন।       নীতিমালা অনুযায়ী, এই তহবিলের সুফল পেতে হলে আবেদনকারীর বয়স আবেদনের শেষ তারিখে সর্বোচ্চ ২৮ বছর হতে হবে এবং তাকে সংশ্লিষ্ট উপজেলার স্থায়ী বাসিন্দা ও বাংলাদেশি নাগরিক হতে হবে। তবে ঋণখেলাপি ব্যক্তি, পূর্বে কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ব্যবসায়িক ঋণ গ্রহণকারী এবং সরকারি, আধাসরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা এই কর্মসূচির আওতাভুক্ত হবেন না। কারিগরি স্টার্টআপ, কৃষি, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, হালকা প্রকৌশল, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও হস্তশিল্পসহ যেকোনো বৈধ নতুন বা বিদ্যমান ব্যবসায়িক উদ্যোগ এই অর্থায়নের জন্য বিবেচিত হবে।     ব্লেন্ডেড ফাইন্যান্স: অর্ধেক ঋণ ও অর্ধেক অনুদান: ব্যবসায়ের প্রকৃত প্রয়োজন ও সম্ভাব্য ব্যয় মূল্যায়ন করে একজন উদ্যোক্তাকে সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত ‘ব্লেন্ডেড ফাইন্যান্স’ প্রদান করা হবে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা ব্যাংকঋণ এবং বাকি ১০ লাখ টাকা ম্যাচিং গ্র্যান্ট বা অনুদান হিসেবে দেওয়া হবে। উদাহরণস্বরূপ—কোনো উদ্যোক্তার ব্যবসায় ১২ লাখ টাকার প্রয়োজন হলে তিনি ৬ লাখ টাকা ঋণ এবং ৬ লাখ টাকা অনুদান পাবেন, যা একই সময়ে তার ব্যাংক হিসাবে জমা হবে। তবে শর্ত রয়েছে যে, ঋণের অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে কিংবা অর্থের কোনো অপব্যবহার করা হলে অনুদানের অংশটিও সুদমুক্ত ঋণে রূপান্তরিত হবে এবং পরবর্তী সময়ে প্রচলিত আইন অনুযায়ী তা আদায় করা হবে।     উদ্যোক্তা বাছাই প্রক্রিয়া ও অতিরিক্ত সহায়তা: স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় যোগ্য উদ্যোক্তা বাছাইয়ের জন্য প্রতিটি উপজেলায় একটি করে লিড ব্যাংক নির্ধারণ করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। যেকোনো তফসিলি ব্যাংকের শাখা থেকে আবেদন ফরম সংগ্রহ ও জমা দেওয়া যাবে। পরবর্তীতে উপজেলা ও জেলা লিড ব্যাংকের মাধ্যমে আবেদনগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগে পাঠানো হবে। ব্যবসায়িক পরিকল্পনা, বাজার সম্ভাবনা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির সক্ষমতা যাচাইয়ের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক, তফসিলি ব্যাংক, সফল উদ্যোক্তা, শিল্প খাত ও শিক্ষাবিদদের সমন্বয়ে গঠিত একটি বিশেষ প্যানেল কাজ করবে। চূড়ান্ত বাছাইয়ের পর মনোনীত উদ্যোক্তাদের ১৭ কার্যদিবসের মধ্যে ঋণ অনুমোদনের ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া, শুধু অর্থায়ন প্রদানই নয়, বরং অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলো উদ্যোক্তাদের আর্থিক সাক্ষরতা প্রশিক্ষণ, মেন্টরিং, বাজার সংযোগ এবং ট্রেড লাইসেন্স বা ব্যবসা নিবন্ধনের ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করবে।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণের সুযোগ দেবে ব্যাংক

শুধু ঋণ বিতরণ নয়, উপজেলা পর্যায় থেকে সম্ভাবনাময় তরুণদের খুঁজে বের করে তাদের ব্যবসায়ী হিসেবে গড়ে তুলতে উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ জন্য দেশের প্রতিটি উপজেলায় ব্যাংকগুলোকে স্থানীয় উদ্যোক্তা শনাক্ত, প্রশিক্ষণ ও অর্থায়নের প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা হচ্ছে।   ব্যবসার ধারণা থাকলেও অর্থের অভাবে যারা উদ্যোগ নিতে পারছেন না, তাদের ব্যাংকিং ব্যবস্থার আওতায় আনার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।   বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন ‘উদ্যোগ’ কর্মসূচির মাধ্যমে ২৮ বছর বয়স পর্যন্ত তরুণদের ব্যবসা শুরু ও সম্প্রসারণে অর্থায়ন করা হবে। কর্মসূচির সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো, উদ্যোক্তার ব্যবসায়িক প্রয়োজন অনুযায়ী ঋণের পাশাপাশি সমপরিমাণ অনুদানের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। অর্থাৎ একজন উদ্যোক্তাকে সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত সমন্বিত অর্থায়ন দেওয়া যাবে।   এর মধ্যে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা ব্যাংকঋণ এবং সমপরিমাণ অর্থ অনুদান হিসেবে দেওয়া হবে। তবে অর্থায়নের পরিমাণ নির্ধারণ হবে ব্যবসার প্রকৃত প্রয়োজন ও ব্যয় পরিকল্পনা যাচাই করে।   বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, দেশের অনেক তরুণের ব্যবসার আগ্রহ ও ধারণা থাকলেও ব্যাংকঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়ায় জামানত, ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ঘাটতি। আবার উপজেলা পর্যায়ে অনেক সম্ভাবনাময় ব্যবসা থাকলেও সেগুলো প্রাতিষ্ঠানিক অর্থায়নের আওতায় আসে না।   নতুন কর্মসূচিতে এসব বাধা কমিয়ে স্থানীয় পর্যায়েই উদ্যোক্তা খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হচ্ছে।   এই কর্মসূচিতে কারা আবেদন করতে পারবেন এই কর্মসূচিতে সংশ্লিষ্ট উপজেলার স্থায়ী বাসিন্দা তরুণেরা আবেদন করতে পারবেন। আবেদনকারীর নিজের ব্যবসায়িক উদ্যোগ অথবা বাস্তবসম্মত ব্যবসার পরিকল্পনা থাকতে হবে। আগে কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ব্যবসার জন্য ঋণ নেওয়া ব্যক্তি, ঋণখেলাপি এবং সরকারি, আধা সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিরা এই সুবিধার আওতায় আসবেন না।   উপজেলায় ব্যাংকগুলোর নতুন ভূমিকা উদ্যোগ কর্মসূচিতে ব্যাংকের ভূমিকা শুধু ঋণ দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়নি।   সংশ্লিষ্ট উপজেলার সব তফসিলি ব্যাংকের শাখাকে স্থানীয়ভাবে প্রচার চালিয়ে সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তা খুঁজে বের করতে বলা হয়েছে। আবেদন গ্রহণ থেকে শুরু করে উদ্যোক্তা নির্বাচনের প্রক্রিয়াতেও ব্যাংকগুলো যুক্ত থাকবে।   বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিটি উপজেলায় একটি তফসিলি ব্যাংককে লিড ব্যাংক হিসেবে দায়িত্ব দেবে। জেলা পর্যায়ের আবেদন ও কার্যক্রমও এই লিড ব্যাংকের মাধ্যমে সমন্বয় করা হবে। ফলে কেন্দ্রীয়ভাবে শুধু অর্থ বরাদ্দ না দিয়ে স্থানীয় ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে উদ্যোক্তা তৈরির কাঠামো গড়ে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে।   আবেদনকারীদের সংশ্লিষ্ট উপজেলার যেকোনো তফসিলি ব্যাংকের শাখায় আবেদন করার সুযোগ থাকবে। যে ব্যাংকে আবেদন করা হবে, সেখানে আগে থেকে হিসাব থাকা বাধ্যতামূলক নয়। জাতীয় পরিচয়পত্র, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ, ছবি, নির্ধারিত আবেদন ফরম এবং স্থায়ী বাসিন্দার প্রমাণপত্র দিতে হবে।   জামানত ছাড়াই অর্থায়ন তরুণদের ব্যাংকঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে বড় বাধা হলো জামানত। নতুন কর্মসূচিতে এই বাধা কমাতে সহায়ক জামানত ছাড়াই ঋণ দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। ফলে জমি, বাড়ি বা অন্য কোনো সম্পদ জামানত দেওয়ার মতো সক্ষমতা না থাকলেও সম্ভাবনাময় ব্যবসায়িক পরিকল্পনা থাকলে তরুণেরা অর্থায়নের সুযোগ পাবেন।   তবে জামানত না থাকলেও ঋণ পাওয়ার প্রক্রিয়াটি পুরোপুরি শিথিল নয়। উদ্যোক্তা নির্বাচন হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যাংক নিজস্ব ঋণনীতি ও প্রচলিত নিয়ম অনুসরণ করে ঋণ অনুমোদন করবে। চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত উদ্যোক্তার ঋণ অনুমোদনের প্রক্রিয়া ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে শেষ করার নির্দেশনা রয়েছে।   কোনো আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হলে তার কারণ লিখিতভাবে সংরক্ষণ করতে হবে এবং বাংলাদেশ ব্যাংককে তা জানাতে হবে। এর ফলে উদ্যোক্তা বাছাই ও ঋণ অনুমোদনে জবাবদিহি নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে।   ঋণের সঙ্গে ব্যবসা শেখানোর ব্যবস্থা কর্মসূচিটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো অর্থায়নের পাশাপাশি উদ্যোক্তাদের প্রস্তুত করার উদ্যোগ। শুধু টাকা দিলেই নতুন ব্যবসা টেকসই হবে না—এ বিষয়টি বিবেচনায় রেখে আর্থিক সাক্ষরতা, প্রশিক্ষণ, মেন্টরের পরামর্শ এবং ব্যবসায়িক পরিকল্পনা তৈরিতে সহায়তার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।   নতুন উদ্যোক্তাদের ট্রেড লাইসেন্স ও টিআইএনসহ প্রয়োজনীয় ব্যবসায়িক নিবন্ধনের ক্ষেত্রেও সহায়তা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি বাজারের সঙ্গে উদ্যোক্তাদের যোগাযোগ তৈরি করার উদ্যোগ থাকবে। অর্থাৎ ব্যবসা শুরু করার জন্য অর্থের পাশাপাশি ব্যবসা পরিচালনার প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও বাজার পাওয়ার বিষয়টিকেও কর্মসূচির অংশ করা হয়েছে।   কৃষি থেকে প্রযুক্তি পর্যন্ত সুযোগ উদ্যোগ কর্মসূচিতে নির্দিষ্ট কোনো একটি খাতকে সীমাবদ্ধ করা হয়নি। কৃষি, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, মৎস্য, পশুপালন, হস্তশিল্প, পর্যটন, সেবা, হালকা প্রকৌশল, সৌরবিদ্যুৎ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসা এর আওতায় আসতে পারে।   ডিজিটাল পেমেন্ট, ই-কমার্স, ফিনটেক, এডটেক, এগ্রিটেক ও হেলথটেকের মতো নতুন খাতেও তরুণ উদ্যোক্তাদের উদ্যোগ বিবেচনার সুযোগ রাখা হয়েছে। ফলে উপজেলা পর্যায়ে স্থানীয় সম্পদ ও চাহিদার ভিত্তিতে ব্যবসা তৈরির পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর নতুন উদ্যোগ গড়ে তোলার সুযোগও থাকছে।   বাছাইয়ে গুরুত্ব পাবে ব্যবসার সম্ভাবনা উদ্যোক্তা নির্বাচনে শুধু বয়স বা আবেদন করার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে না। ব্যবসার ধারণা কতটা বাস্তবসম্মত, পণ্য বা সেবার বাজার কতটা সম্ভাবনাময়, উদ্যোক্তার সক্ষমতা, আর্থিক পরিকল্পনা এবং কর্মসংস্থান তৈরির সুযোগ—এসব বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হবে।   এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক, সফল উদ্যোক্তা, ব্যাংকার, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, শিল্প খাতের বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষাবিদদের সম্পৃক্ত করার কথা বলা হয়েছে। এতে স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত প্রভাবের বদলে ব্যবসার সম্ভাবনা ও উদ্যোক্তার সক্ষমতার ভিত্তিতে বাছাই করার সুযোগ তৈরি হবে।   টাকা দেওয়ার পরও নজরদারি উদ্যোক্তার হাতে অর্থ দেওয়ার পরও ব্যাংককে ব্যবসার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করতে হবে। বিক্রি, নগদ প্রবাহ, ঋণ পরিশোধ এবং কর্মসংস্থান তৈরির অগ্রগতির তথ্য নিয়মিত নজরদারির আওতায় থাকবে।   বিশেষ করে অনুদানের অর্থ নির্ধারিত কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে কি না, সেটি গুরুত্বপূর্ণ। ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে বা অনুদানের অর্থ অনুমোদিত কাজে ব্যবহার না করলে অনুদানের সমপরিমাণ অর্থও ঋণে পরিণত হবে। ফলে অনুদান পাওয়ার পর অর্থ অন্য কাজে সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ থাকছে না।   বাংলাদেশ ব্যাংকের এই উদ্যোগের মূল পরিবর্তন হলো, উপজেলা পর্যায়ে ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে উদ্যোক্তা তৈরির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করা। অর্থের পাশাপাশি প্রশিক্ষণ, মেন্টরিং, ব্যবসা নিবন্ধন ও বাজারসংযোগের ব্যবস্থা থাকায় কর্মসূচিটি শুধু ঋণ বিতরণের প্রকল্প না হয়ে স্থানীয় পর্যায়ে নতুন ব্যবসা তৈরির একটি কাঠামো হিসেবে কাজ করতে পারে। তবে প্রকৃত উদ্যোক্তা বাছাই, অর্থ ছাড়ে গতি এবং অর্থের ব্যবহার তদারকিই শেষ পর্যন্ত কর্মসূচিটির সফলতা নির্ধারণ করবে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
এলসি ছাড়াই চুক্তিতে পণ্য আমদানির সুযোগ, নতুন নির্দেশনা বাংলাদেশ ব্যাংকের

বাণিজ্য খাতের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আমদানি নীতি আদেশ ২০২৬-২০২৯ বাস্তবায়নে চূড়ান্ত নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন নীতিমালার আওতায় এখন থেকে ঋণপত্র বা এলসি খোলা ছাড়াই কেবল ক্রয়-বিক্রয় চুক্তির মাধ্যমে পণ্য আমদানির সুযোগ পাবেন ব্যবসায়ীরা।   বাণিজ্য মন্ত্রণালয় গত ২৪ আগস্ট আমদানি নীতি আদেশ ২০২৬-২০২৯ জারি করে। ওই আদেশের আলোকে রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ পলিসি ডিপার্টমেন্ট-১ এ সার্কুলার জারি করেছে।   কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন সার্কুলার অনুযায়ী, শিল্প ও বাণিজ্যিক খাতে আমদানিযোগ্য সকল পণ্য কোনো ধরনের মূল্যসীমা ছাড়াই কেবল চুক্তির ভিত্তিতে আমদানি করা সম্ভব হবে। এর পাশাপাশি আমদানি মূল্য পরিশোধের ক্ষেত্রে উন্মুক্ত হিসাব বা ওপেন অ্যাকাউন্ট পদ্ধতি ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে, যা আমদানিকারকদের নগদ প্রবাহ ব্যবস্থাপনায় বাড়তি স্বস্তি দেবে।   তবে এলসি ছাড়া আমদানির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বৈদেশিক মুদ্রা বিধিবিধান যথাযথভাবে পরিপালন করতে হবে বলে স্পষ্ট করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।   এর ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে আমদানিকারকদের জন্য পণ্য সংগ্রহ ও মূল্য পরিশোধের ক্ষেত্রে আগের তুলনায় আরও বেশি নমনীয়তা তৈরি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।   বিশেষ করে নিয়মিত আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এ ব্যবস্থা লেনদেন ব্যবস্থাপনাকে আরও সহজ করতে পারে।   রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উৎপাদন উপকরণ আমদানি ও স্থানীয়ভাবে সংগ্রহের ক্ষেত্রেও নতুন নীতিতে যুক্ত করা হয়েছে। নতুন নীতিমালার ২৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যাক-টু-ব্যাক এলসির মাধ্যমে স্থানীয় উৎস থেকে দেশীয় মুদ্রায় এবং ‘ফ্রি-অব-কস্ট’ বা বিনা মূল্যে উৎপাদনের কাঁচামাল সংগ্রহ করতে পারবে। একইসঙ্গে বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধার যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে উৎপাদন ব্যয় কমানোর পথ উন্মুক্ত করা হয়েছে।   বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, আমদানি করা পণ্য এবং স্থানীয়ভাবে উৎপাদন উপকরণ সংগ্রহ-সংক্রান্ত লেনদেন নিষ্পত্তির সময় এডি ব্যাংকগুলোকে আমদানি নীতি আদেশ যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে।   সার্কুলারে বলা হয়েছে, আমদানি নীতি আদেশ ২০২৬–২০২৯ আগামী ৩১ ডিসেম্বর ২০২৯ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। এর মধ্যে নতুন কোনো আমদানি নীতি আদেশ জারি না হলে বর্তমান আদেশের বিধানই কার্যকর থাকবে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
প্রথমবার ভারত থেকে বাংলাদেশে ইলিশ আমদানি

প্রতিবার বাংলাদেশ থেকে জাতীয় মাছ ইলিশ প্রতিবেশী দেশ ভারতে গেলেও এবার ঘটেছে উল্টো ঘটনা। দেশের বাজারে ইলিশের জোগান কমে যাওয়ায় এবার প্রথমবারের মতো ভারত থেকে ইলিশ আমদানি করা হয়েছে। গত দুই মাসে ভারতের গুজরাতের ভরুচ এবং পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া পাইকারি মাছবাজার থেকে প্রায় ৫০০ মেট্রিক টন ইলিশ বাংলাদেশে এসেছে বলে জানা গেছে।   শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে এ বছর ইলিশের উৎপাদন কমে যাওয়ায় ঘাটতি মেটাতে ভারত থেকে মাছ আমদানি করছেন ব্যবসায়ীরা। আমদানি করা ইলিশের একটি অংশ দেশে বিক্রির পাশাপাশি প্রক্রিয়াজাত করে বিদেশেও পাঠানো হচ্ছে।   হাওড়া পাইকারি ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক সৈয়দ আনোয়ার মকসুদ বলেন, সাধারণত বাংলাদেশ থেকে ভারতে বোয়াল, রুই, পারশে ও ট্যাংরাসহ বিভিন্ন মাছ যায়। কিন্তু এবার বাংলাদেশে ইলিশের ঘাটতি থাকায় প্রথমবারের মতো ভারত থেকে বাংলাদেশে ইলিশ পাঠানো হয়েছে।   তার দাবি, বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও সিলেটের বাজারে ডিমওয়ালা ইলিশের চাহিদা বেশি। গুজরাতে ডিমওয়ালা ইলিশ বেশি পাওয়া যাওয়ায় সেখান থেকেই বাংলাদেশে মাছ পাঠানো হচ্ছে। আমদানি করা ইলিশের ডিমও আলাদা করে বাংলাদেশে বিক্রি হচ্ছে বলে জানান তিনি।   প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গুজরাত থেকে আসা ইলিশ প্রক্রিয়াজাত করে বিদেশে রফতানি করা হচ্ছে। পাশাপাশি কিছু ইলিশ শুকিয়ে নোনা ইলিশ হিসেবেও বাংলাদেশের স্থানীয় বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে।   বিশ্বের মোট ইলিশের বড় অংশ বাংলাদেশে আহরণ করা হলেও চলতি মৌসুমে ইলিশের জোগান কমেছে। এর প্রভাব পড়েছে স্থানীয় বাজারেও। ফলে অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে ব্যবসায়ীদের একটি অংশ ভারত থেকে ইলিশ আমদানির পথে হাঁটছেন বলে দাবি করা হয়েছে প্রতিবেদনে।   এদিকে প্রতি বছর দুর্গাপূজার আগে বাংলাদেশ থেকে ভারতে ইলিশ যাওয়ার বিষয়টি দুই বাংলায় আলোচনায় থাকে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সীমিত পরিমাণে ইলিশ ভারতে গেলেও এবার সেই জোগান নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।   ভারতীয় ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকেও বাংলাদেশ সরকারের কাছে ইলিশ রফতানির আবেদন করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এ বছর বাংলাদেশ থেকে ভারতে কত ইলিশ যাবে, কিংবা আদৌ যাবে কি না—তা এখনো স্পষ্ট নয়।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতি করার লক্ষ্য সরকারের

  বাংলাদেশকে ঋণনির্ভর ও দুর্নীতিগ্রস্ত অবস্থা থেকে বের করে উৎপাদনমুখী অর্থনীতিতে নিয়ে যেতে চায় সরকার। এই লক্ষ্য সামনে রেখে ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।   শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে ‘সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ’ আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে এসব কথা বলেন তিনি।   অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, ‘এই লক্ষ্য অর্জনে সরকার পঞ্চবার্ষিকী অর্থনৈতিক কৌশল নিয়ে এগোচ্ছে। অতীতের পরিকল্পনাগুলোর মতো এটি যেন শুধু অনুমোদনের পর মৃত দলিলে পরিণত না হয়, সে লক্ষ্যেই নতুনভাবে পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে।’   অতীতে ঋণ বাড়ানো হলেও অনেক ক্ষেত্রে তার যথাযথ মূল্য পাওয়া যায়নি উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, একই সঙ্গে বড় প্রকল্পের নামে বড় ধরনের দুর্নীতি হয়েছে। সেই ধারা থেকে বেরিয়ে আসতে সরকার নতুন অর্থনৈতিক মডেলের কথা বলছে।   তিনি বলেন, ‘আমাদের নতুন মডেল হচ্ছে বিনিয়োগ। সেটি হচ্ছে উৎপাদনমুখী বিনিয়োগ। আমরা বাংলাদেশকে ম্যানুফ্যাকচারিং হাবে পরিণত করতে চাই এবং ম্যানুফ্যাকচারিং গেটওয়েতে পরিণত করতে চাই।’   অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক ভূ-অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্নের কারণে শিল্পনীতির দিকে নতুন করে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। উৎপাদন বাড়লে কর্মসংস্থান তৈরি হবে এবং সেই কর্মসংস্থানের বড় অংশ আনুষ্ঠানিক খাতে হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।   তিনি বলেন, সরকারের পরিকল্পনাগুলো তথ্যনির্ভরভাবে তৈরি করা হচ্ছে।   ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, অতীতের শাসনামলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো ভেঙে দেওয়া হয়েছে এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করা হয়নি। অর্থনৈতিক সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ হলেও একটি দেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো প্রতিষ্ঠান।   তার প্রশ্ন, ‘প্রতিষ্ঠানটা কার জন্য? কে আইন তৈরি করছে? কে আইনের বা প্রতিষ্ঠানের ফলে লাভবান হচ্ছে বা সুবিধাবাদী হচ্ছে এবং কে আসলে পরিবর্তন করতে পারে?’   তিনি বলেন, জ্বালানি খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে স্বজনতোষী ও পৃষ্ঠপোষকতানির্ভর সংস্কৃতি চালু ছিল। এর ফলে একদিকে বেকারত্ব বেড়েছে, অন্যদিকে বেড়েছে বৈষম্য।   বর্তমান সরকারের লক্ষ্য অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ে তোলা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দর্শন হচ্ছে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। অর্থাৎ সবাইকে নিয়ে বাংলাদেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ এবং সবার বাংলাদেশ।   ড. তিতুমীর বলেন, অতীতে একটি অলিগার্কিক ও পৃষ্ঠপোষকতানির্ভর শাসনব্যবস্থা গড়ে উঠেছিল। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে শুরু করে উপজেলা পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে ভাগবাটোয়ারার একটি ব্যবস্থা চালু ছিল। এই ব্যবস্থার প্রভাব এখনো বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে রয়ে গেছে।   বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে এবং এর বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি।   তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক, মানবিক ও কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সরকারের একটি সুস্পষ্ট ভিশন রয়েছে। সেই ভিশনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কৌশল ও লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।   পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা প্রসঙ্গে অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, অতীতে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদে অনুমোদনের পর অনেক পরিকল্পনাই কার্যত মৃত দলিলে পরিণত হতো। এবার সেই অভিজ্ঞতা থেকে বেরিয়ে এসে নতুন অর্থনৈতিক কৌশল তৈরি করা হয়েছে।   ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্য সামনে রেখে এই কৌশল নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যবস্থাও নেই।   ড. তিতুমীর বলেন, বিভিন্ন হিসাব অনুযায়ী আগের শাসনামলের শেষ দিকে প্রায় এক কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে গেছে। অথচ কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে ন্যাশনাল সোশ্যাল সিকিউরিটি স্ট্র্যাটেজি তৈরি করা হলেও এর শেষ বছরে এত মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে।   এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে সরকারের পঞ্চবার্ষিক অর্থনৈতিক কৌশলে তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। এগুলো হলো, পুনরুদ্ধার, পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং দ্রুত পুনর্গঠনের মাধ্যমে সমৃদ্ধির পথে যাত্রা।   তিনি বলেন, ‘প্রথম বিষয় হচ্ছে পুনরুদ্ধার, অর্থাৎ রিকভারি। দ্বিতীয় হচ্ছে রেস্টোরেশন, অর্থাৎ পুনঃপ্রতিষ্ঠা। আর তৃতীয় হচ্ছে রিকনস্ট্রাকশন ফর এক্সিলারেশন, অর্থাৎ দ্রুততার সঙ্গে পুনর্গঠনের মাধ্যমে সমৃদ্ধির পথে যাত্রা।’   সরকারের লক্ষ্য উৎপাদন বাড়ানোর মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা বলেও জানান প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা। তিনি বলেন, উৎপাদন ঠিক হলে কর্মসংস্থান হবে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়লে অর্থনীতির কাঠামোও শক্তিশালী হবে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬
সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণ সাড়ে ১১ লাখ কোটি টাকা ছাড়াল

সর্বশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছর শেষে সরকারের অভ্যন্তরীণ পুঞ্জীভূত ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ লাখ ৫৩ হাজার ৬৩৫ কোটি টাকা। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণের এই পরিসংখ্যান সাড়ে ১১ লাখ কোটি টাকার রেকর্ড সীমা অতিক্রম করল। এক বছরে ঋণ বেড়েছে প্রায় ১ লাখ ৩২ হাজার কোটি টাকা।   বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সরকারের পুঞ্জীভূত অভ্যন্তরীণ ঋণ ছিল ১০ লাখ ২২ হাজার কোটি টাকা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত অর্থবছরে ব্যাংক ব্যবস্থা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও সঞ্চয়পত্র থেকে সরকার ঋণ করেছে ১ লাখ ৩১ হাজার ৯০৪ কোটি টাকা।    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত অর্থবছরে ব্যাংকব্যবস্থা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও সঞ্চয়পত্র থেকে সরকার ঋণ করেছে ১ লাখ ৩১ হাজার ৯০৪ কোটি টাকা। এ সময়ে সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণ গ্রহণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু সরকার এ সময় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৬ হাজার ৯০৪ কোটি টাকা বেশি ঋণ নেয়। ফলে অর্থবছর শেষে সরকারের পুঞ্জীভূত অভ্যন্তরীণ ঋণ রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছে যায়।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ব্রিটিশ আমলের বাণিজ্যনীতির ছায়া এখনো বাংলাদেশে

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রবেশ করতে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের ট্রেড লাইসেন্স, ট্যাক্সপেয়ার আইডেন্টিটিফিকেশন নাম্বার (টিআইএন), বিজনেস আইডেন্টিটিফিকেশন নাম্বার (বিআইএন), ভ্যাট, কাস্টমস নিবন্ধনসহ ধাপে ধাপে নানা প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা পার হতে হয়।   এত সব কাগজপত্রের ঝামেলাই যথেষ্ট নয়, এর সঙ্গে ব্যবসায়ীদের আলাদাভাবে আমদানি নিবন্ধন সনদ (আইআরসি) ও রপ্তানি নিবন্ধন সনদ (ইআরসি) নিতে হচ্ছে। এসবই মূলত ব্রিটিশ আমলের বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার অবশিষ্টাংশ। ব্যবসায়ীরা বলছেন, বর্তমান অর্থনীতিতে এগুলোর কোনো প্রয়োজন নেই।   এই ব্যবস্থার শেকড় প্রোথিত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কালে। বিশ্বযুদ্ধের সময় আন্তর্জাতিক নৌ পরিবহন ব্যবস্থা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ায় যুদ্ধ সরঞ্জাম ও জরুরি পণ্য ছাড়া অন্যান্য পণ্যের বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণে ১৯৩৯ সালে ডিফেন্স অভ ইন্ডিয়া রুলস বা ভারত প্রতিরক্ষা বিধি জারি করেছিল তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার।    দেশভাগের পর নবগঠিত পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানে বৈদেশিক মুদ্রার মারাত্মক অভাব দেখা দিলে আমদানি নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত রাখতে ব্রিটিশদের জারি করা বিধি আরও বিস্তৃত করে ১৯৫০ সালে আমদানি-রপ্তানি (নিয়ন্ত্রণ) আইন প্রণয়ন করে পাকিস্তান সরকার। প্রায় আট দশক পরও সেই পুরোনো নিয়ন্ত্রণ কাঠামোরই বড় একটি অংশ বহন করছে বাংলাদেশ।    ওই আইনের আওতায় এখনও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রবেশ করতে ব্যবসায়ীদের আলাদাভাবে আইআরসি ও ইআরসি নিতে হচ্ছে। আগে এই সনদ প্রতিবছর নবায়ন করতে হতো, এখন পাঁচ বছর মেয়াদে নবায়ন করা যায়। এ সনদ ইস্যু ও নবায়নের জন্য ঢাকায় আমদানি ও রপ্তানি প্রধান নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়সহ সারা দেশে মোট ১৪টি আঞ্চলিক দপ্তর রয়েছে।   মজার বিষয় হলো, যে পাকিস্তান সরকার ১৯৫০ সালে আমদানি-রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের আইন প্রণয়ন করেছিল, তারাই ২০০২ সালে আইনটি বাতিল করে দিয়েছে। ফলে পাকিস্তানে আমদানি-রপ্তানির জন্য বাংলাদেশের আইআরসি-ইআরসির মতো আলাদা সনদ নেওয়ার প্রয়োজন হয় না। দেশটির ব্যবসায়ীদের কাস্টমসের ওয়েবভিত্তিক ট্রেডার রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করতে হয়।   এ অবস্থায় আইআরসি ও ইআরসি সনদ গ্রহণ ও তা নবায়নের প্রয়োজনীয়তার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।    বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ফরেন ট্রেড ইনস্টিটিউটের (বিএফটিআই) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তফা আবিদ খান এ সনদগুলোর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।   তিনি টিবিএসকে বলেন, 'যে আইনের আওতায় বাংলাদেশে আমদানি-রপ্তানি সনদ ইস্যু করা হয়, সেই আইন দুই যুগ আগে পাকিস্তান বাতিল করেছে। শ্রীলঙ্কায় এ ধরনের কোনো সনদ নিতে হয় না। ভারতে স্থায়ীভাবে একবার সনদ নিতে হয়, তা আর নবায়ন করতে হয় না।    'বাংলাদেশে ডি-রেগুলেশনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তাই ইআরসি ও আইআরসি সনদ নেওয়া ও তা নবায়নের বদলে বিজনেস আইডেনটিফিকেশন নাম্বার ব্যবহারের মাধ্যমেই আমদানি-রপ্তানির সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন।'   আইআরসি ও ইআরসির খরচ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ২০২২ সালের এক গণবিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে যুক্ত আমদানিকারক, রপ্তানিকারক ও অন্যান্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে আমদানি ও রপ্তানি প্রধান নিয়ন্ত্রকের দপ্তর থেকে অন্তত ৪৯ ধরনের সনদ ও অনুমতিপত্র নিতে হয়।   আমদানিকারকদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা মূল্যের পণ্য আমদানির জন্য আইআরসি ফি শুরু হয় ৫ হাজার টাকা থেকে, এর নবায়ন ফি ৩ হাজার টাকা। সর্বোচ্চ ক্যাটাগরিতে এই আইআরসি ফি বেড়ে দাঁড়ায় ৮০ হাজার টাকা, নবায়ন ফি হয় ৩২ হাজার টাকা।   রপ্তানিকারকদের জন্য রয়েছে ছয় ধরনের নিবন্ধন সনদ। এর প্রতিটির প্রাথমিক ফি শুরু হয় ১০ হাজার টাকা থেকে, নবায়ন ফি ৭ হাজার টাকা। অন্যদিকে ইনডেনটিং সেবার ইআরসি নেওয়ার ফি ৫০ হাজার টাকা, নবায়ন ফি ২৫ হাজার টাকা।   ব্যবসায়ীরা বলছেন, এই ঝামেলা কেবল সনদ নেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, নির্ধারিত ফি দিয়ে এসব সনদ নবায়নের বাধ্যবাধকতাও রয়েছে। ফলে আমদানি-রপ্তানিকারকদের সময় ও পরিচালন ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি তৈরি হচ্ছে অপ্রয়োজনীয় আমলাতান্ত্রিক জটিলতা।   তারা বলছেন, ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য এই চাপ আরও বেশি। বড় প্রতিষ্ঠানগুলো যেখানে নিজস্ব কমপ্লায়েন্স ও প্রশাসনিক টিম রাখতে পারে, সেখানে ছোট ব্যবসায়ীদের অনেক ক্ষেত্রেই তৃতীয় পক্ষের সহায়তা নিতে হয়। এতে আমদানি-রপ্তানির প্রকৃত খরচের বাইরে অতিরিক্ত প্রশাসনিক ব্যয় তৈরি হয়।   সনদ নেওয়া যেখানে বাধ্যতামূলক, সেখানে এগুলো ইস্যু ও নবায়নের জন্য সারা দেশে প্রধান নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের আঞ্চলিক দপ্তর আছে মাত্র ১৪টি। ফলে বিভিন্ন জেলার ব্যবসায়ীদের সনদ-সংক্রান্ত কাজের প্রয়োজনে অন্য এলাকায় ছুটতে হয়, যা তাদের বাড়তি সময় ও ব্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। আঞ্চলিক দেশগুলোর তুলনায় ভিন্ন চিত্র এশিয়ার বৃহৎ ও উন্নত দেশগুলোর ব্যবসায়ীদের আমদানি-রপ্তানির ক্ষেত্রে সাধারণত এ ধরনের সনদ নেওয়ার প্রয়োজন হয় না। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ রপ্তানিকারক চীনেও বাংলাদেশের আইআরসি ও ইআরসির মতো সনদের ব্যবস্থা নেই। কেবল কাস্টমস নিবন্ধনের মাধ্যমেই দেশটির ব্যবসায়ীদের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে যুক্ত হওয়ার সুযোগ রয়েছে।  ভিয়েতনামেও সাধারণ পণ্য আমদানি-রপ্তানির ক্ষেত্রে কোনো পৃথক সনদের বাধ্যবাধকতা নেই। একইভাবে, মালয়েশিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো বাণিজ্যনির্ভর অর্থনীতিতেও বাংলাদেশের মতো পৃথক আইআরসি-ইআরসি নেওয়ার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।   ফেডারেশন অভ বাংলাদেশ চেম্বারস অভ কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (এফবিসিসিআই) প্রশাসক মো. ফজলুল হক বলেন, এখনকার আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিস্থিতি বিবেচনায় আইআরসি ও ইআরসি সনদের কোনো প্রয়োজন নেই।    ব্যবসা-বিনিয়োগ ও দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে হলে আমাদের ডি-রেগুলেশনে জোর দিতে হবে এবং পৃথিবীর বেস্ট প্র্যাকটিসগুলোকে অনুসরণ করতে হবে। সেটা না পারলেও অন্তত এই অঞ্চলের বেস্ট প্র্যাকটিস অনুসরণ করা জরুরি,' টিবিএসকে বলেন তিনি।   ফজলুল হক জানান, বাংলাদেশে কোন কোন পণ্য আমদানি করা যাবে না এবং কোন পণ্য আমদানি করতে হলে সরকারের কোন দপ্তর থেকে অনুমোদন নিতে হবে, তা আমদানি নীতি আদেশে উল্লেখ আছে। 'কাস্টমস প্রসিডিউর অনুসরণ করেই আমদানি করতে হয়। তাই আমদানি করার জন্য পৃথক আমদানি সনদ গ্রহণের কোনো প্রয়োজনীয়তা নেই।'   'একইভাবে, যেসব পণ্য রপ্তানি করা নিষিদ্ধ, তার তালিকা রপ্তানি নীতি আদেশে রয়েছে এবং রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো এক্ষেত্রে পুরো দায়িত্ব পালন করতে পারে। তাই পৃথকভাবে রপ্তানি সনদ নেওয়া বা আমদানি-রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের প্রয়োজন নেই,' বলেন তিনি। ব্যয়বহুল বোঝা আইআরসি ও ইআরসি ব্যবস্থা এমন এক সময়ে তৈরি হয়েছিল, যখন বৈদেশিক বাণিজ্য ছিল রাষ্ট্রীয়ভাবে কঠোর নিয়ন্ত্রণের বিষয়। কিন্তু বর্তমানের ডিজিটাল বাণিজ্যব্যবস্থা, স্বয়ংক্রিয় কাস্টমস প্রক্রিয়া, ব্যাংকিং নজরদারি এবং কর ব্যবস্থার কারণে ব্যবসায়ীর পরিচয় ও লেনদেন সম্পর্কে সরকারের কাছে তথ্য সংগ্রহের অনেক বেশি কার্যকর উপায় রয়েছে।   এফবিসিসিআই প্রশাসক ফজলুল হক বলেন, আইআরসি ও ইআরসি গ্রহণের বাধ্যবাধকতা তুলে দিলে ব্যবসায়ী ও সরকার—উভয়েরই সুবিধা হবে। 'ব্যবসায়ীরা হয়রানি ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা থেকে রক্ষা পাবেন, অন্যদিকে এই সনদ ইস্যু ও নবায়নের জন্য সরকার যে বিরাট দপ্তর পরিচালনা করছে, তারও প্রয়োজন হবে না।'   অপ্রয়োজনীয় বিধিবিধান পর্যালোচনা করছে সরকার বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খান টিবিএসকে জানান, ব্যবসা ও বিনিয়োগের সুবিধার্থে সরকার ডিরেগুলেশনের উদ্যোগ নিয়েছে। বাণিজ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন একটি কমিটি পর্যালোচনা করছে কোন কোন ক্ষেত্রে নিয়মকানুন সহজ করা যায়।   তিনি বলেন, '১৯৫০ সালের আমদানি-রপ্তানি (নিয়ন্ত্রণ) আইনও আইনও পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে আমরা ইতোমধ্যে একটি বৈঠক করেছি। প্রথম ধাপে আমরা খতিয়ে দেখব এই আইনের অধীনে যেসব সনদ নিতে হয়, সেগুলোর কোনগুলোর এখন আর প্রয়োজন নেই। সেই বাধ্যবাধকতাগুলো তুলে দেওয়া হবে।'   বাণিজ্য সচিব আরও বলেন, 'যদি দেখা যায়, এই আইনেরই কোনো প্রয়োজন নেই, তবে সরকার অবশ্যই বিষয়টি নতুন করে বিবেচনা করবে। আর যদি আইনটি রাখা প্রয়োজনীয় মনে হয়, তবে বর্তমান বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এটি সংশোধন ও সহজ করা হবে।

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ময়দা-চিনির মূল্যবৃদ্ধিতে বাড়ছে রুটির দাম, চাপে নিম্নআয়ের মানুষ

রিকশা ও রিকশাভ্যান চালক, দিনমজুরদের সকাল, দুপুর কিংবা বিকালের ক্ষুধা মেটাতে চায়ের সঙ্গে বনরুটি বা স্লাইস কেকের মতো বেকারি পণ্যই ভরসা, যার দাম বাড়ার ঘোষণা আসছে এবার।   মোহাম্মদপুরের শিয়া মসজিদের পূর্ব পাশের কোণায় ফুটপাতের চা দোকানের মালিক ষাটোর্ধ্ব রহমতউল্লাহ বলেন, চা দিয়া একটা রুটি চুবাইয়া খায় মানুষজন। সেটাও দাম বাড়বো। সাপ্লাইয়ার বলে গেল শনিবার থেকে বাড়তি দেওয়া লাগবো।   তিনি বলেন, “প্রতিটা মিনিমাম পাঁচ টাকার নিচে বাড়াইবো না। বাড়লে ঝামেলা দেখা দিবে। খাওয়ার পর বেশি দাম শুনে কথা কাটাকাটি হইবো। আমাদের কাস্টমার কমে যাইবো।”   চকবাজার এলাকা থেকে বেকারি পণ্য কিনে রায়েরবাজারের পাড়া-মহল্লায় ভ্যানে ঘুরে ঘুরে বিক্রি করেন রিপন শেখ। বেকারি পণ্যের দাম বাড়বে শুনে তিনিও চিন্তিত।   রায়েরবাজারের বিপরীত পাশে বাগানবাড়ি গলিতে বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে কথা হয় তার সঙ্গে।   রিপন বলেন, “আমাদের সীমিত লাভ। দোকানের চাইতে আমরা একটু কম দামে বিক্রি করি। এখন যে দামে বিক্রি করি, মোটামুটি কিছু থাকে।   “বেকারিতে দাম বাড়ালে আমাদেরও দামটা বাড়াতে হবে। তখন জনগণ আমাদের কাছ থেকে খাইতে চাইবে না। যার কারণে আমরা অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হব।”   ভ্রাম্যমাণ এ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বলেন, ২০০ টাকা কেজি বা তার কাছাকাছি দরে ড্রাই কেক, বিস্কুটসহ অন্য বেকারি পণ্য বিক্রি করেন তিনি।   “কেজিতে ২০ টাকাও যদি বাড়ায়, কমসে কম আড়াইশ’ টাকা কেজি বিক্রি করতে হবে আমাদের। আমাদের তো ২০/৩০ টাকা লাভ রাখতে হবে। এটাও যদি না থাকে, সারাদিন ঘাম ঝরাইয়া, এই গাড়ি (ভ্যান) নিয়া হাইটা আমাদের কিছুই থাকবে না।”   বেকারি পণ্য তৈরির কাঁচামালের দাম যেন নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়, সরকারের প্রতি সেই আহ্বান রেখে রিপন বলেন, “এই যে আটা, চিনি-এগুলোর দাম বাড়ায়, বেকারির তো কোনো দোষ নাই। সরকার যদি না চাইতো এগুলোর দাম বাড়তো না।”   বান, পাউরুটি, বিস্কুট ও কনফেকশনারি পণ্যের প্রধান কাঁচামালের মধ্যে রয়েছে ময়দা, ভোজ্যতেল, ডালডা ও চিনি। এসব কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় বেকারি পণ্যের দাম সমন্বয়ের কথা বলছেন এ খাতের ছোট ব্যবসায়ীরা।   রাজধানীর বছিলা এলাকার একটি বেকারির স্বত্বাধিকারী মনির খান বলেন, “খরচ অনেক বাড়ছে। সবকিছু আগের চেয়ে ডবল হয়ে গেছে। ময়দার বস্তা কিনতে হয় ৩২০০ টাকা দরে। দুই মাস আগে কিনেছি ২৪০০ টাকায়।”   দাম বাড়ার পাশাপাশি বিক্রি কমার কথা বলেছেন তিনি। “মানুষ কি করবে। সব কিছুর দাম বাড়ার কারণে বেকারি পণ্যের বেচাকেনাও কমে গেছে। ভাত খাওয়ার পরেই মানুষ অন্য কিছু খাওয়ার চিন্তা করে।”   মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজারে ৫০ কেজির এক বস্তা ময়দা বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ১০০ টাকায়। যা এক বছর আগে ছিল ২ হাজার ৩০০ টাকা।   এক বছরের ব্যবধানে প্রতি বস্তা (৫০ কেজি) চিনির দাম ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা দাম বেড়ে হয়েছে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা।   বাজারে প্রতি ১৮৫ কেজির সয়াবিন তেলের ড্রামের দাম এক বছরের ব্যবধানে ৫ হাজার টাকা বেড়ে ৩৪ হাজার ৫০০ থেকে ৩৫ হাজার টাকার মধ্যে ওঠানামা করছে।   ১৬ কেজির এক কার্টন ডালডার দাম ৮০০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে মানভেদে ৩ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ৪ হাজার টাকা।   এছাড়া ইস্টসহ বেকারি পণ্য তৈরিতে ব্যবহৃত অন্য উপকরণের দামও বেড়েছে।   এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট। একদিকে কাঁচামালের দাম বাড়ছে, অন্যদিকে উৎপাদনে প্রয়োজনীয় জ্বালানিরও সংকট তৈরি হয়েছে।   পাইপলাইনের গ্যাসের বিকল্প হিসেবে সিলিন্ডার ব্যবহার করতে হচ্ছে অনেক বেকারিকে। তাতে বাড়ছে উৎপাদন খরচ।   এ পরিস্থিতিতে পণ্যের দাম সমন্বয়ের ঘোষণা দিয়েছে বেকারি পণ্যের ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ ব্রেড, বিস্কুট ও কনফেকশনারি প্রস্তুতকারক সমিতি।   শনিবার থেকে নতুন দামে বনরুটি ও বিস্কুট বিক্রি শুরু হবে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।   তবে সব পণ্যে একইভাবে দাম বাড়ানো হচ্ছে না। কম দামের কিছু পণ্যের ওজন কমানো হবে, আর তুলনামূলক বেশি দামের পণ্যের দাম বাড়ানো হবে।   ২০২২ সালের জুনে রুটি, বিস্কুট, কেকসহ নিত্যদিনের বেকারি পণ্যের দাম ২০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছিল। সেটিকে বেকারি পণ্যের দামের ‘ইতিহাসে সর্বোচ্চ’ বৃদ্ধি বলা হয়েছিল।   এবার কত শতাংশ পর্যন্ত দাম বাড়ানো হচ্ছে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্রেড, বিস্কুট ও কনফেকশনারি প্রস্তুতকারক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন বলেন, বড় কোনো মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণা দেওয়া হয়নি।   তিনি বলেন, “আমরা কোথাও বলিনি ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়াবো। ব্যবসায়িক বাস্তবতায় সব মালিকরা একত্রিত হয়ে একটু সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”   রাজধানী ঢাকার নারিন্দা এলাকায় কয়েক পুরুষ ধরে বেকারি পণ্যের ব্যবসায় যুক্ত জালাল ‍উদ্দিনের পরিবার।   তিনি বলেন, ৪০ বা ৫০ টাকা দামের পণ্যের দাম বাড়বে। এগুলোতে ১০ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত বাড়বে। ১২ টাকার কেক হবে ১৫ টাকা।   “আমরা শুধু একটা আইটেমে (বনরুটি) ওজন কমাচ্ছি। এগুলো খেটে খাওয়া মানুষ খায়—তাই দাম ১০ টাকাই রাখছি।   “দাম ঠিক থাকলেও আগে যেখানে ৪০০ গ্রাম ওজনের যে পাউরুটি মিলত, তা কমে ৩২০ থেকে ৩৫০ গ্রামে নেমে আসবে।”   কাঁচামালের দাম বাড়ার কারণে দাম সমন্বয় না করে উপায় নেই দাবি করে জালাল উদ্দিন বলেন, “গত ছয় মাসের ভেতরে ময়দা ২৫শ’ টাকা থেকে ৩ হাজার ২০০ টাকা হয়ে গেছে। আজকেও তিনশ’ টাকা বস্তায় বেড়েছে। চিনির দাম বেড়েছে। তেলের দাম সরকার ঘোষণা দিয়েই বাড়িয়েছে।”   সমিতির তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশে ক্ষুদ্র বেকারি রয়েছে প্রায় ৭ হাজার। এর মধ্যে রাজধানীতে সাত শতাধিক। এসব বেকারির সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ২০ লাখ মানুষ জড়িত বলে দাবি সংগঠনটির।   সংগঠনের দীর্ঘদিনের এই সভাপতি বলেন, কাঁচামালের দাম আরেক দফা বাড়লে আর পণ্যের দাম বাড়ানো সম্ভব হবে না।   বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের কথাও তুলে ধরেন তিনি। “পাইপলাইনে গ্যাস না থাকায় এলপিজি ব্যবহার করতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে ঠিকমতো উৎপাদন করা যাচ্ছে না। শ্রমিকদের বসে থাকতে হচ্ছে। ফলে খরচও বাড়ছে।”   বেকারি মালিক সংগঠনের তথ্য অনুযায়ী, বেকারি ভেদে ১০ টাকা দামের গোল বনরুটির ওজন এখন ৪০ গ্রাম, ৫ গ্রাম কমানো হবে। এখন ৪০০ গ্রামের ওজনের পাউরুটির দাম ৫০ থেকে ৬০ টাকা। দাম ঠিক থাকলে ৪০০ গ্রাম ওজন কমে ৩২০ থেকে ৩৫০ গ্রামে নেমে আসবে। যদি দাম বাড়ানো হয় তাহলে ৫ থেকে ১০ টাকা বাড়বে।   শিয়া মসজিদ এলাকার চা দোকানের রহমতউল্লাহর সঙ্গে যখন কথা হচ্ছিল, সেখানে ছিলেন রিকশাচালক আমিন।   তিনি বলছিলেন, কয়েক ট্রিপ রিকশা চালানোর পর কিছু খেতে হয়। চায়ের সঙ্গে বনরুটি বা দুই/এক পিস কেক খেয়ে থাকেন।   একবার খেতে যে খরচ হয়, তা তুলে ধরে আমিন বলেন, “এখনই আসে একবারে ৩০/৪০ টাকা। দাম বাড়ালেই সেটা পড়বে ৫০ টাকা। সবকিছুর দাম বাড়াইলে আমরা যামু কৈ? প্যাডে কিছু না দিলে রিকশাই বা চালামু কেমনে?”   মহাখালী এলাকার একটি চায়ের দোকানের স্বত্বাধিকারী মো. মানিক বেকারি পণ্যের দাম বাড়ানোকে অযৌক্তিক বলে মনে করছেন।   বনরুটি ও কেক তৈরির জন্য দরকারি উপকরণের দামের হিসাব দিয়ে তিনি দাবি করেন, ১০ টাকার একটি গোল বনরুটির ওজন ৫০ গ্রাম। বানাতে খরচ পড়ছে আড়াই টাকা, বেকারি ব্যবসায়ীরা বিক্রি করছেন ৫ টাকা। তাদের ৫০ শতাংশ লাভ থাকছে।   মানিক বলেন, “তাহলে দাম বাড়াতে হবে কেন?” তবে বেকারি পণ্যের দাম বাড়ানোকে পুরোপুরি অস্বাভাবিক মনে করছেন না কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি এ এইচ এম সফিকুজ্জামান। এতে যে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ বাড়বে সে কথাও বলেছেন তিনি।   জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সাবেক এই মহাপরিচালকের ভাষ্য, বেকারি শিল্পের সঙ্গে যুক্ত প্রায় প্রতিটি উপকরণের দাম বেড়েছে। ফলে ব্যবসা চালিয়ে রাখতে হলে হয় দাম বাড়াতে হবে, নয়তো উৎপাদন বন্ধ করতে হবে।   “এখন দেখার বিষয় তারা অযৌক্তিকভাবে বাড়াচ্ছে কিনা।”   সফিকুজ্জামানের অভিযোগ, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়লেও তা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেই। দাম নিয়ন্ত্রণে আনা না গেলে যে যার মতো দাম বাড়াবে, আর তাতে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে।   দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য বলছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৮ দশমিক ৩২ শতাংশ। আগস্টে তা কমে হয়েছে ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ, যা ১০ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন।   তবে বাজারের বাস্তবতার সঙ্গে এই পরিসংখ্যানের মিল নেই বলে মনে করেন সাবেক এই আমলা।   তিনি বলেন, “পণ্যের দাম বাড়ার কারণে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পণ্যের দাম বাড়াতে হচ্ছে। বাজারে সবকিছুর দাম বাড়তি। চুরি বন্ধ না করে বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে সবার ওপরে বিলের বোঝা চাপিয়ে দিয়েছে।   কিন্তু বিবিএস তথ্য দিয়েছে মূল্যস্ফীতি কমেছে। বাজারে তার কোনো প্রতিফলন নেই।”   সাবেক সচিব সফিকুজ্জামান বলেন, “আমি যখন সরকারে ছিলাম, আমি নিজেও বিবিএসের ডেটায় আস্থা রাখতাম না।”

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
দেশের বাজারে সোনার দাম ফের কমলো, অপরিবর্তিত রুপা

দেশের বাজারে গত বুধবার সোনার দাম আরো কমানো হয়েছে। এ দিন সবচেয়ে ভালো মানের প্রতি ভরি সোনার দাম কমানো হয়েছে ১ হাজার ১০৮ টাকা, যা ওই দিন সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হয়েছে।   এরপর নতুন করে দাম সমন্বয় করা হয়নি। ফলে আজ শুক্রবারও সর্বশেষ নির্ধারিত দামেই বিক্রি হচ্ছে সোনার ভরি।    নতুন দাম অনুযায়ী, ভালো মানের—অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম নির্ধারণ হয়েছে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৩৮ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ১ হাজার ৪৯ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৩ হাজার ৫৪১ টাকা।     এ ছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ৯৩৩ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৯১ হাজার ৯৩১ টাকা। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ৭০০ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার ৮২২ টাকা।       এর আগে গত ৬ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা থেকে ভ্যাটসহ সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার গয়নার দাম ২ হাজার ২১৬ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ৩৫ হাজার ১৪৬ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ২ হাজার ১০০ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ২৪ হাজার ৫৯০ টাকা।     ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ১ হাজার ৭৫০ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয় ১ লাখ ৯২ হাজার ৮৬৪ টাকা। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ হাজার ৪৫৮ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয় ১ লাখ ৫৭ হাজার ৫২২ টাকা।      এদিকে সোনার দাম কমানো হলেও রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ১৩২ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৯৫৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ২৫৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি রুপার গয়নার দাম ৩ হাজার ২০৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
আয়-ব্যয়ের গরমিল ধরবে এআই, কর ফাঁকিবাজদের হবে ডিজিটাল প্রোফাইল

কর ফাঁকি রোধ এবং রাজস্ব আদায় বাড়াতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও উপাত্তনির্ভর প্রযুক্তির সাহায্যে করদাতাদের ঘোষিত আয়ের সঙ্গে বাস্তব ব্যয়ের সামঞ্জস্য যাচাইয়ের লক্ষ্যে বড় পদক্ষেপ নিচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। নতুন এই ব্যবস্থায় প্রতিটি করদাতার একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্রোফাইল তৈরি করা হবে। সেখানে রিটার্নে প্রদর্শিত আয়ের পাশাপাশি ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার, স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ, বিদেশ ভ্রমণ, ব্যাংক লেনদেন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের ব্যয়ের তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্ত হবে। কোনো করদাতার আয় ও ব্যয়ের মধ্যে বড় ধরনের অসঙ্গতি বা গরমিল দেখা দিলে প্রযুক্তি তা নিজে থেকেই ধরে ফেলবে। এতে ফাঁকিবাজদের সহজে চিহ্নিত করে উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় রাখা সম্ভব হবে। কর ফাঁকি রোধ ও করজাল সম্প্রসারণে করদাতার আর্থিক কর্মকান্ডের বিভিন্ন উৎসের তথ্য এক জায়গায় এনে বিশ্লেষণের উদ্যোগ নিয়েছে এনবিআরের কর বিভাগ। আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে ইনকাম ট্যাক্স ডেটা ওয়্যারহাউস স্থাপনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সংস্থাটি।   এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, দেশের কর-জিডিপি অনুপাত বাড়াতে এ মহাপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশে কর-জিডিপির অনুপাত ৬.৮ শতাংশ। ২০৩৫ সালের মধ্যে এটি ১৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় করদাতার ব্যাংক হিসাব, জমি ও গাড়ি কেনাবেচা এবং শেয়ারবাজারের বিনিয়োগের তথ্য অটোমেটেড সিস্টেমে চলে আসবে। উদাহরণ হিসেবে এনবিআর জানায়, কোনো করদাতা বছরে ১০ লাখ টাকা আয় দেখালে এবং একই সময়ে ব্যাংকে কোটি টাকা জমা বা দামি গাড়ি ক্রয় করলে এআই তা সঙ্গে সঙ্গে চিহ্নিত করবে।   ট্যাক্স আইডেনটিফিকেশন নম্বর (টিআইএন) না থাকলেও করযোগ্য অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে যুক্ত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হবে। একইভাবে টিআইএন থাকার পরও যারা রিটার্ন দাখিল করেন না, তাদেরও স্বয়ংক্রিয়ভাবে চিহ্নিত করা সম্ভব হবে। এ জন্য টিআইএন ডেটাবেস পরিশোধন করে করদাতাদের কার্যক্রম অনুযায়ী বিভিন্ন শ্রেণিতে ভাগ করার পরিকল্পনা রয়েছে। নিয়মিত রিটার্ন দাখিল ও কর প্রদানকারীদের ‘অ্যাকটিভ ট্যাক্সপেয়ার’, রিটার্ন দাখিল করলেও করযোগ্য আয় না থাকা ব্যক্তিদের ‘রিটার্ন ফাইলার বাট নো ট্যাক্স’, টিআইএন থাকার পরও রিটার্ন না দেওয়া ব্যক্তিদের ‘নন-ফাইলার’ এবং দীর্ঘদিন কোনো কার্যক্রম নেই এমন টিআইএনকে ‘ডরম্যান্ট’ হিসেবে চিহ্নিত করা হবে। অন্যদিকে টিআইএন না থাকলেও করযোগ্য অর্থনৈতিক কর্মকান্ড রয়েছে এমন ব্যক্তিদের ‘পটেনশিয়াল ট্যাক্সপেয়ার’ হিসেবে শনাক্ত করা হবে। প্রতিটি করদাতার জন্য একটি সমন্বিত করদাতা প্রোফাইল তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে। এতে ঘোষিত আয়, পরিশোধ করা কর, ব্যাংক লেনদেন, স্থাবর সম্পত্তি, গাড়ি, কোম্পানিতে মালিকানা, শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ, আমদানি-রপ্তানি, উৎসে কর, বিদেশ ভ্রমণ এবং অন্যান্য বড় ব্যয় ও সম্পদের তথ্য একত্রে রাখা হবে। এর ফলে একজন করদাতার আয়, ব্যয় ও সম্পদ অর্জনের মধ্যে সামঞ্জস্য রয়েছে কি না, তা সহজেই যাচাই করা যাবে। এ ছাড়া করপোরেট কর ফাঁকি বন্ধে কোম্পানিগুলোর জন্য বিশেষ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কাঠামো তৈরির কাজ চলছে।   বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ড. মো. আইনুল ইসলাম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, রাজস্ব খাতের ডিজিটালাইজেশন এ প্রস্তাবটি দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন মহল থেকে আলোচিত হচ্ছে, তবে মাঠপর্যায়ে এর কার্যকর কোনো বাস্তবায়ন দৃশ্যমান হয়নি।   তবে এনবিআরের এ বাস্তবসম্মত সুপারিশগুলো যদি দ্রুত ও সঠিকভাবে প্রয়োগ করা যায়, তবে দেশের ভঙ্গুর রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় এক বৈপ্লবিক, ইতিবাচক ও টেকসই পরিবর্তন আসবে।

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬
রপ্তানি বহুমুখীকরণে হংকং ও শ্রীলঙ্কায় নতুন বাজার খুঁজছে বাংলাদেশ

রপ্তানি বহুমুখীকরণ ও বৈশ্বিক বিনিয়োগ আকর্ষণে বাংলাদেশকে আরো প্রতিযোগিতামূলক অর্থনীতিতে পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তৈরি পোশাকের ওপর অতিনির্ভরতা কমিয়ে হংকংয়ের বাজারে ফল, পাট ও চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানি বাড়ানোর পাশাপাশি শ্রীলঙ্কায় আলু ও পেঁয়াজের বাজার ধরতে বাণিজ্যিক উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।     একই সঙ্গে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে ব্যবসার খরচ কমানো, কাস্টমস ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, আমদানি-রপ্তানি প্রক্রিয়া সহজ করা এবং নীতির ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) হংকংয়ে অনুষ্ঠিত ১১তম ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড সামিট ২০২৬’-এর বিভিন্ন সাইড ইভেন্ট ও সেমিনারে এসব উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন বাণিজ্য এবং শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।     হংকংয়ে পোশাকের বাইরে নতুন পণ্য হংকং ট্রেড ডেভেলপমেন্ট কাউন্সিলের নির্বাহী পরিচালক সোফিয়া চংয়ের সঙ্গে বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, হংকংয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি তাজা ফল, পাট ও চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানি বাড়াতে হবে।     ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ ও হংকংয়ের মধ্যে মোট বাণিজ্য হয়েছে ৪১৫ মিলিয়ন ডলার।     এর মধ্যে বাংলাদেশ হংকং থেকে ৩০৭ মিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করেছে। বিপরীতে রপ্তানি করেছে ১০৮ মিলিয়ন ডলারের পণ্য। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে হংকংয়ে বাংলাদেশের রপ্তানি সামান্য বেড়ে ১০৯ দশমিক ৫১ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।     বাংলাদেশের আম, কাঁঠাল ও লেবুসহ বিভিন্ন প্রিমিয়াম ফল হংকংয়ের সুপারমার্কেট ও আমদানিকারকদের কাছে পৌঁছে দিতে ব্যবসায়ী পর্যায়ে (বিটুবি) ম্যাচমেকিং আয়োজনের প্রস্তাব দেন মন্ত্রী।       এ ছাড়া পাট ও পাটজাত পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ, ই-সার্টিফিকেট অব অরিজিন চালু, কাস্টমস ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং যৌথ লজিস্টিকস সুবিধা উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।       শ্রীলঙ্কায় আলু-পেঁয়াজের সম্ভাবনা শ্রীলঙ্কার বাজারেও নতুন সম্ভাবনা খুঁজছে বাংলাদেশ। দেশটির বাণিজ্যমন্ত্রী ওয়াসান্থা সামারাসিংহের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশ থেকে আলু ও পেঁয়াজ রপ্তানির সম্ভাবনা যাচাইয়ে শিগগিরই একটি বাণিজ্য প্রতিনিধি দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়।     প্রতিনিধি দলে পটেটো অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরা থাকবেন। তারা শ্রীলঙ্কার স্থানীয় ব্যবসায়ী ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকারীদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।     পাশাপাশি স্থানীয় বাজারের চাহিদা, সরবরাহব্যবস্থা ও ব্যবসার সুযোগ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করবেন। প্রয়োজনে শ্রীলঙ্কায় গুদামসহ অন্যান্য অবকাঠামো তৈরির সম্ভাবনাও যাচাই করা হবে। এর মাধ্যমে শুধু পণ্য রপ্তানি নয়, স্থানীয় বাজারে দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তোলার সুযোগও তৈরি হতে পারে।       বিনিয়োগে কমাতে হবে ব্যবসার খরচ হংকংয়ে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের আয়োজনে ‘বাংলাদেশে বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক বিনিয়োগ আকর্ষণে বাংলাদেশের ব্যবসায়িক পরিবেশকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে হবে।     তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীদের জন্য সরবরাহ, পরিবহন এবং আমদানি-রপ্তানি ব্যয় কমানো জরুরি। একই সঙ্গে কাস্টমস অটোমেশন এবং ব্যবসা শুরুর প্রক্রিয়া আরো সহজ করতে হবে।       মন্ত্রী জানান, কাস্টমসের অপ্রয়োজনীয় বিধিনিষেধ কমানো, ঝুঁকিভিত্তিক পণ্য খালাস এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রম ডিজিটাল করার উদ্যোগ চলছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ব্যবসার সময় ও খরচ কমার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের সক্ষমতা বাড়বে।     বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নের অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়টিও তুলে ধরেন বাণিজ্যমন্ত্রী। বন্দরের কার্যক্রমে আন্তর্জাতিক অপারেটরদের সম্পৃক্ততা এবং মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশের লজিস্টিকস সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগের কথা জানান তিনি।     বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের জন্য অবকাঠামো ও লজিস্টিকস সুবিধার পাশাপাশি নীতির ধারাবাহিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেন মন্ত্রী।     তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীদের আস্থা ধরে রাখতে নীতির স্থিতিশীলতা ও ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে হবে। ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি হলে বাংলাদেশ শুধু রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ নয়, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিনিয়োগের প্রতিযোগিতায়ও আরো শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারবে।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬
চীন-বাংলাদেশ বাণিজ্য বৃদ্ধিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বিসিসিসিআইর ৬ দফা প্রস্তাব পেশ

বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরো জোরদার করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে ছয়টি প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিসিসিসিআই)। প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে বন্ডেড ওয়্যারহাউসের অপব্যবহার বন্ধ, চীনে বাংলাদেশি পণ্যের স্থায়ী প্রদর্শনী কেন্দ্র স্থাপন এবং বড় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বাড়ানো।     বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিসিসিসিআই সভাপতি মোহা. খোরশেদ আলমের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল সচিবালয়ে বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এসব প্রস্তাব তুলে ধরে।       বৈঠকে বন্ডেড ওয়্যারহাউসের অপব্যবহারের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়। বিসিসিসিআই বলেছে, বন্ডেড সুবিধায় আমদানি করা পণ্য অনুমোদন ছাড়া স্থানীয় বাজারে বিক্রি হওয়ায় নিয়ম মেনে ব্যবসা করা প্রতিষ্ঠানগুলো অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়ছে। একই সঙ্গে এ ধরনের অনিয়ম চীনের সম্ভাব্য বিদেশি বিনিয়োগকারীদেরও নিরুৎসাহিত করছে।       সংগঠনটি বন্ডেড পণ্যের ব্যবহার ও ব্যবস্থাপনায় আরো কঠোর নজরদারি এবং আইন প্রয়োগের দাবি জানিয়েছে। তাদের মতে, এতে বৈধ ব্যবসায়ীদের জন্য সমান প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি হবে এবং বিদেশি বিনিয়োগের আস্থাও বাড়বে।       বিসিসিসিআইর অন্য প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে চীনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরে বাংলাদেশি পণ্যের জন্য অন্তত ২০টি স্থায়ী প্রদর্শনী কেন্দ্র স্থাপন। পাশাপাশি চীনের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি বাড়াতে কার্যকর উদ্যোগ এবং দেশটির বড় বড় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় বাংলাদেশের অংশগ্রহণ আরো জোরদারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।       এ ছাড়া বাংলাদেশে একটি চীনা ব্যাংকের শাখা স্থাপনে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা এবং চীনের সঙ্গে কারিগরি ও কারিগরি শিক্ষাভিত্তিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের প্রস্তাব দিয়েছে সংগঠনটি।       বৈঠকে কুনমিংয়ে অনুষ্ঠিত ১০ম চায়না-সাউথ এশিয়া এক্সপোতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেন প্রতিনিধিদলের সদস্যরা। তারা বলেন, এ ধরনের আন্তর্জাতিক মেলায় বাংলাদেশি পণ্যের প্রচার এবং চীনা বিনিয়োগ আকর্ষণের আরো সুযোগ রয়েছে।       বৈঠকে বিসিসিসিআইর সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট হান জিংচাও, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট এ জেড এম আজিজুর রহমান, মহাসচিব জামিলুর রহমান এবং নির্বাহী পরিচালক মো. আবু তাহের উপস্থিত ছিলেন।  

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
কাঁচামাল ও শক্তি সংকটে বেকারি পণ্যের দাম ২০ শতাংশ বাড়ছে

কাঁচামালের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি এবং তীব্র বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের কারণে আগামী শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) থেকে সব ধরনের বেকারি পণ্যের দাম ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্রেড, বিস্কুট অ্যান্ড কনফেকশনারি প্রস্তুতকারক সমিতি। সংগঠনটি জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা এবং লোকসান সামলানো অসম্ভব হয়ে পড়ায় তারা এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন।     বেকারি ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভোজ্যতেল, আটা, ময়দা ও চিনির মতো প্রধান চারটি কাঁচামালের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। গত এক মাসের ব্যবধানে খোলা ও প্যাকেজে মোড়ানো চিনির দাম কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা এবং আটা-ময়দার দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।       এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে গ্যাস ও বিদ্যুতের তীব্র সংকট। গ্যাস-বিদ্যুতের অভাবে অনেক বেকারি কারখানা এখন দিনের দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকছে। ফলে কারখানা সচল রাখা, নিয়মিত কর্মীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করা এবং সব মিলিয়ে উৎপাদন খরচ সামলানো ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।       এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্রেড, বিস্কুট অ্যান্ড কনফেকশনারি প্রস্তুতকারক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন জানান, কাঁচামালের দাম বৃদ্ধির ফলে প্রতিটি পণ্যের উৎপাদন ব্যয় বহুগুণ বেড়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে আগের দামে পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। তাই বাধ্য হয়েই আগামী ১২ সেপ্টেম্বর থেকে বর্ধিত দামে বেকারি পণ্য সরবরাহের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত সহযোগিতা না পাওয়া গেলে এই খাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা পথে বসে যাবেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে অর্থ উত্তোলন অব্যাহত: তৃতীয় দিনে ৩৮১ কোটি

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক থেকে অর্থ উত্তোলনের তৃতীয় দিনে ১০ হাজার ৬৯৭ জন গ্রাহক মোট ৩৮১ কোটি টাকা উত্তোলন করেছেন। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) এসব গ্রাহক তাঁদের জমা অর্থ উত্তোলন করেন।     একই সময়ে ব্যাংকে অর্থের প্রবাহ ও স্বাভাবিক লেনদেন কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।     ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে গ্রাহকদের টাকা উত্তোলনের জন্য আবেদন গ্রহণ শুরু হয়। প্রথম দিন ১৮ হাজার ৪৬ জন গ্রাহক মোট ১ হাজার ৩২৫ কোটি টাকা উত্তোলনের আবেদন করেন। এর বিপরীতে ৭ সেপ্টেম্বর ৮ হাজার ১২৫ জন গ্রাহক ৩১৯ কোটি টাকা উত্তোলন করেন।     ওইদিন ব্যাংকের ক্যাশে ৯৩ কোটি টাকা এবং আরটিজিএস, বিইএফটিএন ও ক্লিয়ারিং-এর মাধ্যমে ৫১ কোটি টাকা রিসিভ হয়। অর্থাৎ, ৭ সেপ্টেম্বর ব্যাংকে সর্বমোট ১৪১ কোটি টাকা প্রবাহিত হয়। এদিন ক্যাশ ও অন্যান্য মাধ্যমে মোট ১৬ হাজার ৬০০টি লেনদেন সম্পন্ন হয়।     দ্বিতীয় দিনে, অর্থাৎ ২ সেপ্টেম্বর, মোট ১৯ হাজার ৬১৩ জন গ্রাহক ১ হাজার ১৬ কোটি টাকা উত্তোলনের আবেদন করেন।     এর বিপরীতে ৮ সেপ্টেম্বর ৭ হাজার ২৩৪ জন গ্রাহক মোট ৩৪০ কোটি টাকা উত্তোলন করেন।     ৮ সেপ্টেম্বর ব্যাংকের ক্যাশে ৯০ কোটি টাকা এবং আরটিজিএস, বিইএফটিএন ও ক্লিয়ারিং-এর মাধ্যমে ১০৫ কোটি টাকা রিসিভ হয়। ফলে ওইদিন ব্যাংকে মোট ১৯৫ কোটি টাকা অর্থপ্রবাহ হয়েছে। এদিন মোট ১৬ হাজার ৫০টি লেনদেন সম্পন্ন হয়।       এদিকে, ৩ সেপ্টেম্বর মোট ২১ হাজার ৮৬ জন গ্রাহক ৯৬৩ কোটি টাকা উত্তোলনের আবেদন করেন।     এর বিপরীতে বুধবার তৃতীয় দিনে ১০ হাজার ৬৯৭ জন গ্রাহক মোট ৩৮১ কোটি টাকা উত্তোলন করেছেন। সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. আবেদুর রহমান শিকদার বলেন, ‘গ্রাহকদের অর্থ পরিশোধের পাশাপাশি ব্যাংকে অর্থের প্রবাহও অব্যাহত রয়েছে। যেকোনো ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে স্বাভাবিকভাবেই লেনদেন কার্যক্রম চলছে এবং এই ধারা অব্যাহত থাকবে।’     ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গ্রাহকদের আবেদন অনুযায়ী অর্থ পরিশোধ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। প্রতিদিন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক গ্রাহক তাঁদের অর্থ উত্তোলন করছেন। একইসঙ্গে ব্যাংকে অর্থের প্রবাহ এবং স্বাভাবিক লেনদেন কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
হরমুজে ইরান-মার্কিন উত্তাপ: অত্যাধুনিক মার্কিন ড্রোন জব্দের দাবি আইআরজিসির

পারস্য উপসাগরের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর একটি আধুনিক চালকবিহীন সাবমেরিন জব্দের দাবি করেছে ইরান। এর আগে পাঁচটি ইরানি অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকার ধ্বংস করেছে বলে দাবি করেছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।     ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সরকারি সংবাদমাধ্যম সেপাহ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জটিল গোয়েন্দা অভিযানের মাধ্যমে ‘ডাইভ-এলডি’ নামে পরিচিত ওই আনম্যানড আন্ডারওয়াটার ভেহিকলটি আটক করা হয়।     আইআরজিসির নৌবাহিনী দাবি করেছে, যানটিতে বিশ্বের আধুনিকতম সাবসারফেস প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। এসংক্রান্ত একটি ভিডিও ফুটেজও প্রকাশ করেছে তারা।     পৃথক এক বিবৃতিতে আইআরজিসি দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালির ওপর একটি মার্কিন এমকিউ-৯ রিপার ড্রোনও তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভূপাতিত করেছে।     কী বলছে যুক্তরাষ্ট্র? অত্যাধুনিক চালকবিহীন সাবমেরিন জব্দে ইরানের দাবির পর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, আঞ্চলিক জলসীমা জরিপের সময় একদিনেরও বেশি আগে তাদের একটি পানির নিচে চলাচলকারী ড্রোনে ত্রুটি দেখা দিয়েছিল। তবে সেটিই ইরানের হাতে পড়েছে কি না, তা স্পষ্ট করেনি পেন্টাগন।     পেন্টাগনের এক মুখপাত্র বলেন, ড্রোনটি চলমান সামরিক অভিযানে সহায়তার জন্য আঞ্চলিক জলসীমা পর্যবেক্ষণ করছিল। এটি পুরনো মডেলের ছিল এবং এতে কোনো সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহের ব্যবস্থা বা শ্রেণিবদ্ধ সোনার ও রাডার সরঞ্জাম ছিল না।       মার্কিন নৌবাহিনী বর্তমানে পানির নিচে ও পানির ওপর চলাচলকারী চালকবিহীন বিভিন্ন ব্যবস্থা উন্নয়নে বড় ধরনের বিনিয়োগ করছে। বিশাল সমুদ্রাঞ্চল পর্যবেক্ষণ, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং শত্রুপক্ষের জাহাজ ও সাবমেরিন শনাক্ত করার ক্ষেত্রে এসব ব্যবস্থা ব্যবহারের পাশাপাশি এতে নাবিকদের ঝুঁকিও কমে।       ডাইভ-এলডি মূলত কী? প্রতিরক্ষাবিষয়ক মার্কিন সংবাদমাধ্যম ডিফেন্সস্কুপের ২০২৪ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ডাইভ-এলডির প্রতিটি ইউনিটের দাম প্রায় ২৫ লাখ ডলার।      নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যান্ডুরিলের তথ্য অনুযায়ী, এটি ঘাঁটিতে ফিরে না গিয়ে সর্বোচ্চ ১০ দিন পর্যন্ত কাজ করতে পারে এবং প্রায় ৬ হাজার মিটার গভীরতায় ডুব দিতে সক্ষম।     মার্কিন চাপ বৃদ্ধি এদিকে, ইরানের বিপ্লবী গার্ডের একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজে হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র পাঁচটি ইরানি অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকার ধ্বংস করেছে বলে দাবি করেছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।     গত দুই দিনে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে মার্কিন যুদ্ধজাহাজে ইরানের দুটি হামলার প্রচেষ্টার জবাবে এসব হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি সেন্টকমের। ইরানের ওপর চাপ আরো বাড়াতে দেশটির বাকি সব এয়ারলাইনসকে লক্ষ্য করে ২৭টি ইরানি বিমান সংস্থাকে বিশেষভাবে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় (এসডিএন) যুক্ত করেছে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়।      ওয়াশিংটনের অভিযোগ, ইরানের বাণিজ্যিক বিমান সংস্থাগুলো দেশটির ‘অস্থিতিশীলতামূলক কর্মকাণ্ডে’ সহায়তা করে এবং আইআরজিসি অস্ত্র সংগ্রহ ও পরিবহন এবং সদস্যদের যাতায়াতে এসব বিমান সংস্থা ব্যবহার করে।     পাল্টা অবস্থানে ইরান দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, ‘আগ্রাসীদের’ সম্পূর্ণ অনুশোচনায় না আনা পর্যন্ত শক্ত অবস্থানে প্রতিরোধ চালিয়ে যাবে ইরান।      সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ইরান সব সময় যুদ্ধের বিরোধিতা করেছে এবং পশ্চিম এশিয়ায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুদ্ধ উসকে দেওয়ার প্রবণতা থেকে বিরত থাকা প্রয়োজন। আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষায় ইরান যেভাবে সাহসের সঙ্গে প্রতিরোধ করেছে, ভবিষ্যতেও শক্ত অবস্থানে সেই প্রতিরোধ অব্যাহত থাকবে।     প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে যৌথ হামলা চালায়। জবাবে ইরান ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটি ও সামরিক স্থাপনায় দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় এবং হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ আরো কঠোর করে।     এরপর গত ১৮ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) সই করে। চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে ৬০ দিনের মধ্যে আলোচনায় বসার কথা ছিল দুই দেশের। সেই সময়সীমা ১৭ আগস্ট শেষ হলেও সাম্প্রতিক উত্তেজনার পর আলোচনার ভবিষ্যৎ এখনো স্পষ্ট নয়।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
বিইআরসি’র নতুন মূল্য নির্ধারণ: সেপ্টেম্বরে লিটার প্রতি বাড়ল ৬ টাকা

আগস্টে বড় ধরনের মূল্য বৃদ্ধির পর সেপ্টেম্বর মাসের জন্যও আরেক দফায় বেড়েছে জেট ফুয়েলের দাম। সেপ্টেম্বরে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ১৫৯ টাকা ৫২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১৬৫ টাকা ৬৫ পয়সা করা হয়েছে।     এ ছাড়া আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জন্য প্রতি লিটার ফুয়েলের দাম ১ দশমিক শূন্য ৩৫৮ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১ দশমিক শূন্য ৭৭০ করা হয়েছে।     টানা তিন দফায় উড়োজাহাজের জ্বালানি জেট ফুয়েলের দাম কমার পর গত আগস্টে এসে এই জ্বালানির দাম লিটারে ২৮ টাকা ৫৩ পয়সা হারে বাড়িয়েছিল সরকার। সেপ্টেম্বরে এসে দাম লিটার প্রতি ৬ টাকা ১৩ পয়সা বাড়ল।      গত মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাতে জেট ফুয়েলের নতুন দর ঘোষণা করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন বিইআরসি।       কমিশনের আদেশে বলা হয়, গত ৫ আগস্ট থেকে ৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে জেট এ-১-এর প্লাটস রেটের গড়, একই সময়ে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) এলসি সেটেলমেন্টে ডলারের বিনিময় হার বিবেচনায় শুনানি শেষে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।       সবশেষ জুলাই মাসে জুলাই মাসে অভ্যন্তরীণ রুটে প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ১৯ টাকা ২২ পয়সা কমিয়ে অভ্যন্তরীণ রুটে প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ১৩০ টাকা ৯৯ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তার আগে জুনের জন্য দাম ১৬৫ টাকা ৮৮ পয়সা থেকে কমিয়ে ১৫০ টাকা ২১ পয়সা করা হয়। ২৩ মে মধ্যবর্তী সমন্বয়ে দাম ২০৫ টাকা ৪৫ পয়সা থেকে কমিয়ে ১৬৫ টাকা ৮৮ পয়সা করা হয়েছিল।   এর আগে ৭ মে প্রতি লিটার দাম ২২৭ টাকা ৮ পয়সা থেকে কমিয়ে ২০৫ টাকা ৪৫ পয়সা নির্ধারণ করা হয়।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক বাজারের চেয়ে বেশি দামে এলএনজি কিনছে বাংলাদেশ

আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির যে মূল্য চলছে, তার চেয়ে বেশি দামে স্পট মার্কেট থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস কিনতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। সম্প্রতি তিনটি এলএনজি কার্গো কিনতে পেট্রোবাংলার ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক মূল্যসূচকের তুলনায় এসব কার্গোর জন্য প্রায় ৩০০ কোটি টাকা বেশি দিতে হয়েছে।   গত সপ্তাহে ২৫ ও ২৬ সেপ্টেম্বর সরবরাহের জন্য একটি এলএনজি কার্গোর দর প্রতি ইউনিট ২৭ দশমিক ৫৪ ডলার প্রস্তাব করে আরামকো ট্রেডিং সিঙ্গাপুর। একই সময়ে জাপান কোরিয়া মার্কার বা জেকেএম মূল্য ছিল ২৪ দশমিক ০৯ ডলার। অন্য একটি কার্গোর জন্য বিপি সিঙ্গাপুরের দর ছিল প্রতি ইউনিট ২৮ দশমিক ০৩ ডলার। ওই সময়ে জেকেএম মূল্য ছিল প্রায় ২৫ ডলার। আবার ৫ ও ৬ অক্টোবর সরবরাহের জন্য বিটল ইশয়া লিমিটেডের প্রস্তাবিত দর ছিল ২৬ দশমিক ৬৬৮৮ ডলার, যেখানে জেকেএম মূল্য ছিল প্রায় ২৫ ডলার। আন্তর্জাতিক সূচকের তুলনায় কেন বেশি দাম আরপিজিসিএলের তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট সময়ে স্পট মার্কেটে প্ল্যাটস ও জেকেএম সূচকের মূল্য ছিল ২২ দশমিক ৮২ থেকে ২৪ দশমিক ৬১ ডলারের মধ্যে। ফলে বাংলাদেশকে প্রতিটি কার্গোর জন্য আন্তর্জাতিক সূচকভিত্তিক মূল্যের তুলনায় বেশি অর্থ পরিশোধ করতে হয়েছে। এ নিয়ে জ্বালানি বিভাগকে দেওয়া ব্যাখ্যায় আরপিজিসিএল ও পেট্রোবাংলা কয়েকটি কারণ তুলে ধরেছে। তাদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক এলএনজি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে স্পট মার্কেটের দামেও। গ্যাসের মান নিয়েও রয়েছে সীমাবদ্ধতা পেট্রোবাংলার নির্ধারিত গ্যাসের মান ও হিটিং ভ্যালুর শর্তও এলএনজি কেনার ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এই নির্দিষ্ট মানদণ্ডের কারণে অনেক আন্তর্জাতিক সরবরাহকারী টেন্ডারে অংশ নিতে আগ্রহী হচ্ছেন না। সরবরাহকারীর সংখ্যা কমে গেলে স্বাভাবিকভাবেই প্রতিযোগিতাও কমে যায়। আর প্রতিযোগিতা কম থাকলে দর বাড়ার সুযোগ তৈরি হয়। স্বল্প সময়ে সরবরাহের টেন্ডারেও বাড়ছে দাম পেট্রোবাংলার ব্যাখ্যায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে। স্পট মার্কেট থেকে অল্প সময়ের মধ্যে এলএনজি সরবরাহ নিশ্চিত করতে টেন্ডার আহ্বান করা হলে অনেক সরবরাহকারী এতে অংশ নিতে পারেন না। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কিছু কোম্পানি এলএনজি সরবরাহে আগ্রহী থাকলেও স্বল্প সময়ের মধ্যে কার্গো প্রস্তুত ও সরবরাহ নিশ্চিত করা তাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। ফলে টেন্ডারে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। জ্বালানি ব্যয়ে বাড়তি চাপ আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় বেশি দামে এলএনজি কেনার ফলে দেশের জ্বালানি খাতে বাড়তি ব্যয়ের চাপ তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা এবং সরবরাহকারীদের সীমিত অংশগ্রহণ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। পেট্রোবাংলা ও আরপিজিসিএলের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি, এলএনজির নির্দিষ্ট মানের প্রয়োজনীয়তা এবং দ্রুত সরবরাহের শর্ত মিলিয়ে বর্তমান সময়ে স্পট মার্কেট থেকে গ্যাস কেনার ব্যয় বেড়েছে।

মোঃ নাহিদ হোসেন সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
টানা ২ দফায় কত কমল স্বর্ণের দাম

দেশের বাজারে টানা দুই দফায় কমেছে স্বর্ণের দাম। এর মধ্যে সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ভরিতে মোট ৩ হাজার ৩২৪ টাকা কমেছে।    বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ভরিতে ১ হাজার ১০৮ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৩৮ টাকা নির্ধারণ করেছে। নতুন এ দাম সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।   এর আগে গত রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ হাজার ২১৬ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ৩৫ হাজার ১৪৬ টাকা নির্ধারণ করেছিল বাজুস।   অর্থাৎ, মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে দুই দফায় ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম কমেছে ৩ হাজার ৩২৪ টাকা।    এখন কত দামে বিক্রি হচ্ছে বাজুসের সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩৪ হাজার ৩৮ টাকা। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরির দাম ১ হাজার ৪৯ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ২৩ হাজার ৫৪১ টাকা করা হয়েছে।   এ ছাড়া ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৯৩৩ টাকা কমিয়ে ১ লাখ ৯১ হাজার ৯৩১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৭০০ টাকা কমিয়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার ৮২২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।   বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের দাম কমায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।   এর আগে কত ছিল গত ৬ সেপ্টেম্বরের আগে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ছিল ২ লাখ ৩৭ হাজার ৩৬২ টাকা। সেখান থেকে প্রথম দফায় ২ হাজার ২১৬ টাকা কমে দাম দাঁড়ায় ২ লাখ ৩৫ হাজার ১৪৬ টাকা।   এরপর দ্বিতীয় দফায় আরও ১ হাজার ১০৮ টাকা কমিয়ে বর্তমান দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৩৮ টাকা।   বাজুসের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এ মূল্য কার্যকর থাকবে।   বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, অলংকারের নকশা অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য হবে। বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত থাকায় গ্রাহকের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না। মজুরি ও পাথর বাদ দিয়ে অলংকার এক্সচেঞ্জের ক্ষেত্রে ১২ শতাংশ এবং পারচেজের ক্ষেত্রে ১৮ শতাংশ বাদ দিতে হবে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৬
সুগন্ধি চাল রফতানিতে ৫০ শতাংশ কোটা কমালো সরকার

দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে চালের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বাজারে সম্ভাব্য মূল্যচাপ নিয়ন্ত্রণে সুগন্ধি চাল রফতানিতে অনুমোদিত কোটা ৫০ শতাংশ কমিয়েছে সরকার।   বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রফতানি-২ শাখা থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে আগে অনুমোদিত ২৭৮টি প্রতিষ্ঠানকে বরাদ্দ করা সুগন্ধি চাল রফতানির পরিমাণ অর্ধেকে পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। সংশোধিত বরাদ্দ অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং অনুমোদনের মেয়াদ এ বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বহাল থাকবে।   সরকারের এ সিদ্ধান্তের ফলে বৃহৎ খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে মাঝারি ও ক্ষুদ্র পর্যায়ের রফতানিকারকরাও আগের অনুমোদিত পরিমাণের অর্ধেকের বেশি সুগন্ধি চাল রফতানি করতে পারবেন না।   রফতানিতে যুক্ত হচ্ছে ১০টি বাধ্যতামূলক শর্ত   কোটা কমানোর পাশাপাশি রফতানি কার্যক্রমে নজরদারি, জবাবদিহি ও বৈদেশিক মুদ্রা প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে ১০টি শর্ত আরোপ করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।   শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে— রফতানি নীতি ২০২৪–২৭ এর বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে; অনুমোদন ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে এবং প্রতিটি চালান রফতানির আগে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ পণ্যের মান ও সত্যতা যাচাই করবে।   এছাড়া প্রতিটি কনসাইনমেন্ট জাহাজীকরণের পর সংশ্লিষ্ট নথিপত্র বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রফতানি-২ শাখায় জমা দিতে হবে; ভবিষ্যতে নতুন রফতানি অনুমোদনের আবেদন করলে আগের অনুমোদিত কোটার বিপরীতে প্রকৃত রফতানির পূর্ণাঙ্গ তথ্য ও প্রমাণ দিতে হবে; কোনও অবস্থাতেই সংশোধিত অনুমোদিত পরিমাণের বেশি চাল রফতানি করা যাবে না; আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের মূল্য সুরক্ষায় প্রতি কেজি সর্বনিম্ন এফওবি রফতানিমূল্য ১ দশমিক ৬০ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। অনুমোদন সম্পূর্ণ অহস্তান্তরযোগ্য; সাব-কন্ট্রাক্ট বা অন্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে রফতানি করা যাবে না; জনস্বার্থে সরকার যেকোনও সময় কারণ দর্শানো ছাড়াই অনুমোদন বাতিল করতে পারবে এবং রফতানি আয় দেশে প্রত্যাবাসনের প্রমাণ হিসেবে প্রসিডস রিয়ালাইজেশন সার্টিফিকেট দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।   এর আগে দুই দফায় ২৭৮টি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ৪৫ হাজার ২৭০ মেট্রিক টন সুগন্ধি চাল রফতানির অনুমতি দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ৩০ আগস্ট পর্যন্ত ১২৯টি প্রতিষ্ঠান মোট ২ হাজার ৪ শত ১৯ মেট্রিক টন সুগন্ধি চাল রফতানি করতে সক্ষম হয়।   সরকারের নীতিগত অবস্থান হলো, রফতানি থেকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন গুরুত্বপূর্ণ হলেও খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ বাজারের সরবরাহ ও মূল্যস্থিতিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। সেই বিবেচনায় সুগন্ধি চাল রফতানির অনুমোদিত কোটা ৫০ শতাংশ কমানো এবং রফতানির ক্ষেত্রে মূল্য, পরিমাণ, নথিপত্র ও বৈদেশিক মুদ্রা প্রত্যাবাসনসংক্রান্ত কঠোর শর্ত আরোপ করা হয়েছে।   নতুন ব্যবস্থায় রফতানিকারকদের অনুমোদিত সীমার মধ্যে থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে এবং ভবিষ্যৎ অনুমোদনের ক্ষেত্রে আগের রফতানি-কার্যক্রমের পূর্ণাঙ্গ হিসাব দিতে হবে। এর ফলে সুগন্ধি চাল রফতানিতে একদিকে যেমন নিয়ন্ত্রণ বাড়বে, অন্যদিকে রফতানি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিও বাড়বে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।   বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. কামাল হোসেন জানান, সরকারের এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য রফতানি পুরোপুরি বন্ধ করা নয়; বরং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও বাজার স্থিতিশীলতা বজায় রেখে নিয়ন্ত্রিত ও টেকসইভাবে সুগন্ধি চাল রফতানি পরিচালনা করা।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২৬
Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সপ্তাহের সেরা

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
জাতীয়

বাংলাদেশিদের জন্য ওমানের শ্রমবাজার উন্মুক্ত করতে ঢাকায় বৈঠক

মোঃ নাহিদ হোসেন সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৬