আর্থিক খাতে সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং আমানতকারী ও অন্যান্য পাওনাদারের স্বার্থ সংরক্ষণের লক্ষ্যে চারটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে অকার্যকর ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানগুলোকে রেজল্যুশনের আওতায় এনে প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। অকার্যকর ঘোষণা করা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো— আভিভা ফাইন্যান্স লিমিটেড, ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড, এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড। রোববার (৯ আগস্ট) রাতে বাংলাদেশ ব্যাংক এ তথ্য জানিয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্তের পর এসব প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সক্ষমতা ও পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা পর্যালোচনা করে অকার্যকর ঘোষণা ও রেজল্যুশনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বড় অঙ্কের মূলধন ঘাটতি, উচ্চমাত্রার শ্রেণিকৃত ঋণ ও বিনিয়োগ, প্রয়োজনীয় তারল্য সংরক্ষণে ব্যর্থতা, আয়ক্ষমতার অবনতি এবং আমানতকারী ও অন্যান্য পাওনাদারের দায় পরিশোধে অক্ষমতার মতো বিষয়গুলোকে এ সিদ্ধান্তের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এদিকে, রেজল্যুশন কার্যক্রম দ্রুত ও কার্যকরভাবে পরিচালনার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের প্রশাসক এবং সহ-প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। তারা এসব প্রতিষ্ঠানের প্রশাসন, সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়া প্রত্যক্ষভাবে নিয়ন্ত্রণ করবেন। বাংলাদেশ ব্যাংক আশা করছে, এ পদক্ষেপের মাধ্যমে আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ও সুশাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠার পাশাপাশি আমানতকারী ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট পক্ষের স্বার্থ সংরক্ষণে কার্যকর অগ্রগতি হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক আরও জানিয়েছে, আর্থিক খাতের প্রতি জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই আইন অনুযায়ী এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে এফএএস ফাইন্যান্সের খেলাপি ঋণের হার দাঁড়িয়েছে ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ। ফারইস্ট ফাইন্যান্সে এ হার ৯৮ দশমিক ৫০ শতাংশ, আভিভা ফাইন্যান্সে ৯৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ে ৯৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ। এর আগে আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে ব্যর্থতা, উচ্চ খেলাপি ঋণ এবং মূলধন ঘাটতিকে ভিত্তি ধরে গত বছর ৯টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে ‘অপরিচালনযোগ্য’ হিসেবে চিহ্নিত করেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। অকার্যকর ঘোষণা করা চারটি প্রতিষ্ঠানের বাহিরে বাকি পাঁচ আর্থিক প্রতিষ্ঠান হলো :- পিপলস লিজিং, বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি), প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স, জিএসপি ফাইন্যান্স এবং প্রাইম ফাইন্যান্স। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সংকটে থাকা ৯টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক আমানত রয়েছে ১৫ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৩ হাজার ৫২৫ কোটি টাকা ক্ষুদ্র আমানতকারীদের এবং বাকি ১১ হাজার ৮৪৫ কোটি টাকা বিভিন্ন ব্যাংক ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানের। সবচেয়ে বেশি ব্যক্তি আমানত আটকে আছে পিপলস লিজিংয়ে, যার পরিমাণ ১ হাজার ৪০৫ কোটি টাকা। এছাড়া আভিভা ফাইন্যান্সে ৮০৯ কোটি, ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ে ৬৪৫ কোটি এবং প্রাইম ফাইন্যান্সে ৩২৮ কোটি টাকা আটকে রয়েছে সাধারণ আমানতকারীদের। বর্তমানে দেশে মোট ৩৫টি ব্যাংক-বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে ২০টিকে সমস্যাগ্রস্ত হিসেবে চিহ্নিত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এসব প্রতিষ্ঠানের মোট ঋণ ২৫ হাজার ৮০৮ কোটি টাকা, যার মধ্যে ২১ হাজার ৪৬২ কোটি টাকাই খেলাপি। অর্থাৎ খেলাপি ঋণের হার ৮৩ দশমিক ১৬ শতাংশ। বিপরীতে এসব ঋণের বন্ধকি সম্পদের মূল্য মাত্র ৬ হাজার ৮৯৯ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ২৬ শতাংশ। অন্যদিকে তুলনামূলক ভালো অবস্থানে থাকা ১৫টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণের হার প্রায় ৭ শতাংশ। ২০২৪ সালে প্রতিষ্ঠানগুলো ১ হাজার ৪৬৫ কোটি টাকা মুনাফা করেছে এবং তাদের মূলধন উদ্বৃত্ত রয়েছে ৬ হাজার ১৮৯ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের জুন শেষে আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতের মোট খেলাপি ঋণ দাঁড়ায় ২৭ হাজার ৫৪১ কোটি টাকা, যা খাতটির বিতরণ করা মোট ঋণের ৩৫ দশমিক ৭২ শতাংশ।
দেশীয় ও আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনসের জন্য জেট ফুয়েলের দাম ২১ শতাংশের বেশি বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। এতে ভ্রমণ ব্যয় বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দেশীয় রুটে বাংলাদেশি ক্রেতাদের জন্য জেট এ-১ ফুয়েলের প্রতি লিটারের দাম ১৩০ টাকা ৯৯ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১৫৯ টাকা ৫২ পয়সা করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে দেশি ও বিদেশি এয়ারলাইনসের জন্য শুল্ক ও মূল্য সংযোজন করমুক্ত জেট ফুয়েলের দাম প্রতি লিটার শূন্য দশমিক ৮৫৫৬ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১ দশমিক শূন্য ৩৫৮ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। আজ রোববার এক আদেশে জেট ফুয়েলের নতুন দাম ঘোষণা করে বিইআরসি। নতুন দর আজ রাত থেকে কার্যকর হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জেট ফুয়েলের দাম বাড়ায় এয়ারলাইনসের পরিচালন ব্যয় বাড়তে পারে এবং শেষ পর্যন্ত দেশি ও আন্তর্জাতিক রুটের ভাড়ায় এর প্রভাব পড়বে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ও পদ্মা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে বিইআরসি আজ বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন আইন, ২০০৩-এর অধীনে গণশুনানি করেছে। ৫ জুলাই থেকে ৪ আগস্ট পর্যন্ত জেট এ-১ এর প্ল্যাটস দর এবং বিপিসির ঋণপত্র নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে মার্কিন ডলারের বিনিময় হার বিবেচনায় নিয়ে বিইআরসি আগস্ট মাসের জন্য দাম সমন্বয় করেছে। এভিয়েশন অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি মোফিজুর রহমান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, জেট ফুয়েলের দাম বাড়ায় এয়ারলাইনসের ওপর ব্যয়ের চাপ বাড়বে। এর প্রভাব যাত্রী ভাড়ায় পড়া উচিত। তিনি বলেন, জ্বালানির দাম প্রতি লিটার ২৩০ টাকা হয়েছে। এতে যাত্রীপ্রতি ভাড়া প্রায় ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা বাড়ানো যৌক্তিক। মোফিজুর রহমান বলেন, জ্বালানির দাম বাড়ার তাৎক্ষণিক প্রভাব এয়ারলাইনসের ওপরই পড়বে। কারণ তাদের পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাবে। বেসরকারি এয়ারলাইনস কোম্পানি নভোএয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মফিজুর রহমান ডেইলি স্টারকে বলেন, বাড়তি ব্যয় টিকিটের দাম বাড়িয়ে যাত্রীদের ওপর না চাপালে এয়ারলাইনসগুলো সেই ব্যয় পুষিয়ে নিতে পারবে না। এতে লোকসানে পড়তে পারে। ঢাকাভিত্তিক আরেক বেসরকারি এয়ারলাইনস এয়ার অ্যাস্ট্রার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইমরান আসিফ ডেইলি স্টারকে বলেন, দুই সপ্তাহ পরও জ্বালানির দাম না কমলে আমরা এর প্রভাব মূল্যায়ন করব এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করব।
সংসারের ছোটখাটো জরুরি খরচ মেটাতে হঠাৎ টাকার প্রয়োজন হলেও অনেকের হাতে তখন পর্যাপ্ত নগদ থাকে না। বিশেষ করে মাসের শেষ দিকে বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি কিংবা মোবাইল ফোনের বিল পরিশোধ অথবা প্রয়োজনীয় রিচার্জ করতে গিয়ে অনেককে পরিচিতজনের কাছ থেকে ধার করতে হয়। কেউ কেউ আবার ক্ষুদ্র ঋণের জন্য ব্যাংক বা অন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের দ্বারস্থ হন। এবার এই ধরনের ছোট অঙ্কের জরুরি প্রয়োজন মেটাতে ডিজিটাল মাধ্যমে ঋণের সুযোগ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন এই ব্যবস্থায় মোবাইল ব্যাংকিং বা ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ৫০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ নেওয়া যাবে। ঋণ নেওয়ার পর ৩০ দিনের মধ্যে পুরো অর্থ পরিশোধ করতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই ঋণের ওপর কোনো সুদ আরোপ করা হবে না। তবে ঋণের পরিমাণ অনুযায়ী নির্দিষ্ট হারে সেবামূল্য নেওয়ার সুযোগ থাকবে ব্যাংকগুলোর। বাংলাদেশ ব্যাংকের খসড়া নীতিমালায় ক্ষুদ্র অঙ্কের এই ডিজিটাল ঋণ চালুর কথা বলা হয়েছে। জনসাধারণ ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত নেওয়ার জন্য খসড়াটি প্রকাশ করা হয়েছে। মতামত ও পরামর্শ পর্যালোচনা শেষে চূড়ান্ত নীতিমালা জারি করা হবে। কেন এই ক্ষুদ্র ঋণের উদ্যোগ বাংলাদেশে ডিজিটাল আর্থিক লেনদেন দ্রুত বাড়লেও এখনো বিপুলসংখ্যক মানুষ দৈনন্দিন ছোটখাটো প্রয়োজন মেটাতে নগদ অর্থের ওপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে মাসের শেষ দিকে হাতে নগদ টাকা না থাকলে বিদ্যুৎ বা অন্যান্য ইউটিলিটি বিল পরিশোধ কিংবা মোবাইল ফোনে রিচার্জ করা অনেকের জন্য সমস্যার হয়ে দাঁড়ায়। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিকল্পিত এই ব্যবস্থা মূলত সেই জায়গাটিই পূরণ করতে চায়। অর্থাৎ গ্রাহকের হাতে তাৎক্ষণিক নগদ টাকা না থাকলেও ডিজিটাল মাধ্যমে অল্প পরিমাণ অর্থ ধার নিয়ে প্রয়োজনীয় বিল বা রিচার্জ করা যাবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, এ ধরনের ব্যবস্থা দেশের নগদবিহীন অর্থনীতি গড়ে তোলা এবং ডিজিটাল আর্থিক সেবার ব্যবহার বাড়াতে ভূমিকা রাখবে। এটি বড় অঙ্কের ভোগ্যঋণ নয়; বরং দৈনন্দিন জীবনের খুব ছোট ও তাৎক্ষণিক আর্থিক প্রয়োজন মেটানোর জন্য একটি স্বল্পমেয়াদি ঋণব্যবস্থা। ফলে ব্যাংকিং সেবার বাইরে থাকা বা ব্যাংক থেকে প্রচলিত ঋণ নেওয়ার সুযোগ না পাওয়া অনেক মানুষও এর আওতায় আসতে পারেন। ৫০ টাকা থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ খসড়া নীতিমালায় ঋণের পরিমাণ সর্বনিম্ন ৫০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ঋণের অঙ্ক যত বাড়বে, নির্ধারিত সেবামূল্যও তত বাড়বে। প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, ৫০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত ঋণে সর্বোচ্চ ৫ টাকা সেবামূল্য; ২৫১ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত ১০ টাকা; ৫০১ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত ১৫ টাকা; ১ হাজার থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত ২৫ টাকা; ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত ৩৫ টাকা; ৩ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৫০ টাকা সেবামূল্য নেওয়া যাবে। অর্থাৎ কেউ সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা ঋণ নিলে ৩০ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৫০ টাকা পরিশোধ করতে হবে। এর বাইরে কোনো সুদ বা অতিরিক্ত চার্জ নেওয়ার সুযোগ থাকবে না। সুদ নেই, তবে সেবামূল্য থাকবে প্রস্তাবিত ব্যবস্থার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো—ঋণের ওপর কোনো সুদ নেওয়া হবে না। এর পরিবর্তে ঋণের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত সেবামূল্য নেওয়া যাবে। তবে ব্যাংকগুলো ইচ্ছেমতো অতিরিক্ত অর্থ আদায় করতে পারবে না। অনুমোদিত সেবামূল্যের বাইরে সুদ, জরিমানা, প্রক্রিয়াকরণ ফি কিংবা অন্য কোনো অতিরিক্ত চার্জ নেওয়া নিষিদ্ধ থাকবে। এমনকি কোনো গ্রাহক নির্ধারিত ৩০ দিনের আগেই ঋণ পরিশোধ করে দিলে তার কাছ থেকে বাড়তি কোনো আগাম পরিশোধ ফি নেওয়া যাবে না। এর ফলে ক্ষুদ্র ঋণের ক্ষেত্রে গ্রাহকের ওপর অতিরিক্ত খরচের চাপ কম থাকবে। একই সঙ্গে ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও সেবাটি পরিচালনার একটি নির্দিষ্ট কাঠামো তৈরি হবে। পুরো প্রক্রিয়াই হবে ডিজিটাল নতুন ব্যবস্থায় ঋণ নিতে গ্রাহককে ব্যাংকের শাখায় গিয়ে কাগজপত্র জমা দিতে হবে না। পুরো প্রক্রিয়াটি ডিজিটাল মাধ্যমে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। কাগজে স্বাক্ষরের পরিবর্তে গ্রাহকের জীবমিতিক পরিচয় যাচাই এবং ডিজিটাল সম্মতি নেওয়া হবে। অর্থাৎ গ্রাহকের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমেই ঋণের আবেদন, অনুমোদন, অর্থ ছাড় এবং পরিশোধের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যাবে। এতে একদিকে যেমন সময় ও কাগজপত্রের ঝামেলা কমবে, অন্যদিকে ছোট অঙ্কের ঋণ দেওয়ার পরিচালন ব্যয়ও কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। জরুরি সময়ে বড় সুবিধা হতে পারে ধরা যাক, মাসের শেষ দিকে একজন গ্রাহকের হাতে নগদ অর্থ নেই। অথচ বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের শেষ সময় চলে এসেছে। আবার কারও মোবাইল ফোনে জরুরি রিচার্জ প্রয়োজন। এমন পরিস্থিতিতে পরিচিতজনের কাছ থেকে টাকা ধার করা কিংবা কোনো অনানুষ্ঠানিক উৎস থেকে অর্থ নেওয়ার বদলে ডিজিটাল মাধ্যমেই প্রয়োজনীয় অর্থ পাওয়া যেতে পারে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য এই সুবিধা তাৎক্ষণিক আর্থিক চাপ সামলানোর একটি বিকল্প তৈরি করতে পারে। এ ছাড়া ডিজিটাল লেনদেনের ইতিহাস তৈরি হওয়ার কারণে ভবিষ্যতে গ্রাহকের আর্থিক আচরণ মূল্যায়নের সুযোগও তৈরি হতে পারে। নিয়মিত ঋণ নিয়ে সময়মতো পরিশোধ করলে একজন গ্রাহকের আর্থিক সক্ষমতা ও পরিশোধের অভ্যাস সম্পর্কে ব্যাংকগুলোর কাছে তথ্য জমা হতে পারে। নগদ অর্থের ব্যবহার কমানোর সুযোগ বাংলাদেশে ডিজিটাল লেনদেনের পরিমাণ বাড়লেও দৈনন্দিন ছোটখাটো লেনদেনে নগদের ব্যবহার এখনো উল্লেখযোগ্য। বিল পরিশোধ ও মোবাইল রিচার্জের মতো প্রয়োজনীয় খরচও যদি ডিজিটাল ঋণের মাধ্যমে সম্পন্ন করা যায়, তাহলে নগদ অর্থের ওপর নির্ভরতা আরও কমতে পারে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যও হচ্ছে একটি আধুনিক ও কম নগদনির্ভর অর্থনীতি তৈরি করা। সেই বিবেচনায় ক্ষুদ্র ডিজিটাল ঋণব্যবস্থা ডিজিটাল আর্থিক সেবার বিস্তারে নতুন একটি স্তর যোগ করতে পারে। এতে শুধু ঋণ নেওয়াই নয়, ঋণ পরিশোধও হবে ডিজিটাল মাধ্যমে। ফলে একজন গ্রাহকের পুরো লেনদেন একটি ডিজিটাল ব্যবস্থার মধ্যে চলে আসবে। তবে ঝুঁকিও রয়েছে ক্ষুদ্র ঋণ সহজলভ্য হলে এর অপব্যবহারের ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে একজন গ্রাহক যদি প্রয়োজনের তুলনায় বেশি বা বারবার ঋণ নিতে থাকেন, তাহলে অল্প অঙ্কের ঋণও একসময় বড় আর্থিক বোঝায় পরিণত হতে পারে। কারণ ৫ হাজার টাকা খুব বড় ঋণ না হলেও একই ব্যক্তি যদি নিয়মিত একাধিকবার এই সুবিধা ব্যবহার করেন, তাহলে তার মোট দায় উল্লেখযোগ্য হয়ে উঠতে পারে। এ কারণে ঋণ অনুমোদনের ক্ষেত্রে গ্রাহকের পরিশোধ সক্ষমতা, আগের ঋণ পরিশোধের ইতিহাস এবং একই সময়ে অন্য কোনো ডিজিটাল ঋণ রয়েছে কি না—এসব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে গ্রাহক যেন সেবামূল্য, পরিশোধের সময়সীমা এবং ঋণ খেলাপি হলে কী হবে—এসব বিষয় সহজ ভাষায় বুঝতে পারেন, সেটিও নিশ্চিত করা জরুরি। আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে নতুন সম্ভাবনা বাংলাদেশে বিপুলসংখ্যক মানুষ এখন মোবাইল ফোন ও ডিজিটাল আর্থিক সেবা ব্যবহার করেন। কিন্তু তাদের অনেকেরই প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থায় পর্যাপ্ত ঋণ পাওয়ার সুযোগ নেই। বিশেষ করে খুব ছোট অঙ্কের প্রয়োজনের জন্য ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ এবং ব্যয়বহুল। সেই জায়গায় ৫০ টাকা থেকে ৫ হাজার টাকার এই ডিজিটাল ঋণব্যবস্থা একটি নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। কারণ এখানে ঋণের অঙ্ক ছোট, সময়সীমা মাত্র ৩০ দিন এবং আবেদন থেকে অর্থ গ্রহণ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াই ডিজিটাল। ফলে ব্যাংক ও গ্রাহক—উভয়ের জন্যই এটি তুলনামূলকভাবে সহজ হতে পারে। খসড়া থেকে চূড়ান্ত নীতিমালার অপেক্ষা তবে এখনই এই সুবিধা চালু হচ্ছে না। বাংলাদেশ ব্যাংক বর্তমানে খসড়া নীতিমালা নিয়ে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত নিচ্ছে। মতামত ও পরামর্শ পর্যালোচনার পর চূড়ান্ত নীতিমালা জারি করা হবে। চূড়ান্ত নীতিমালায় ঋণ দেওয়ার যোগ্যতা, গ্রাহকের সীমা, ঋণ পরিশোধের পদ্ধতি, তথ্য সংরক্ষণ, গ্রাহক সুরক্ষা এবং ঋণ খেলাপি হলে করণীয়সহ বিভিন্ন বিষয় আরও স্পষ্ট হতে পারে। সবকিছু ঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে ক্ষুদ্র অঙ্কের জরুরি আর্থিক প্রয়োজন মেটানোর ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ একটি ডিজিটাল সেবা হয়ে উঠতে পারে। বড় ঋণ নয়, ছোট প্রয়োজনেই নজর সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের এই উদ্যোগকে বড় অঙ্কের ঋণ বিতরণের নতুন কোনো কর্মসূচি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং এটি এমন একটি ব্যবস্থা, যার লক্ষ্য মানুষের দৈনন্দিন জীবনের ছোট কিন্তু জরুরি আর্থিক প্রয়োজন মেটানো। হাতে টাকা না থাকলেও যাতে বিদ্যুৎ বিল, অন্যান্য ইউটিলিটি বিল কিংবা মোবাইল রিচার্জ আটকে না থাকে—সেই প্রয়োজন থেকেই এই উদ্যোগের পরিকল্পনা। সুদবিহীন এবং নির্ধারিত সেবামূল্যের এই ঋণব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা গেলে ডিজিটাল লেনদেন বাড়ার পাশাপাশি ছোট অঙ্কের জরুরি অর্থের জন্য অনানুষ্ঠানিক ধারদেনার ওপর মানুষের নির্ভরতাও কমতে পারে। তবে এর সফলতা নির্ভর করবে সহজলভ্যতার সঙ্গে দায়িত্বশীল ঋণ ব্যবস্থাপনা, গ্রাহক সুরক্ষা এবং অতিরিক্ত ঋণগ্রহণ ঠেকানোর কার্যকর ব্যবস্থার ওপর। কারণ ডিজিটাল ঋণের আসল সাফল্য শুধু কত টাকা বিতরণ হলো, তা দিয়ে নয়; বরং কত মানুষ নিরাপদে, স্বচ্ছভাবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী এই সুবিধা ব্যবহার করতে পারলেন—তার ওপরই নির্ভর করবে।
যশোরের শার্শা উপজেলার বেনাপোলসহ বিভিন্ন বাজারে কাঁচা মরিচের দাম কমে অর্ধেক দামে ১৬০ টাকায় হচ্ছে। পাঁচ দিন আগেও এসব বাজারে ৩০০ টাকায় কাঁচা মরিচ বিক্রি হয়েছে। সারা দেশে কাঁচা মরিচের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকার ভারত থেকে কাঁচা মরিচ আমদানি শুরু করে। গত পাঁচ দিনে ভারত থেকে বেনাপোল দিয়ে ৮০ টন কাঁচা মরিচ আমদানি হয়েছে। গত সোমবার প্রথম চালানে রাত ৮টার দিকে একটি ভারতীয় ট্রাকে ৯ হাজার ২০০ কেজি (৯ দশমিক ২ টন), মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দ্বিতীয় চালানে তিনটি ট্রাকে ৪২ হাজার ২২০ কেজি (৪২ দশমিক ২২ টন), বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় একটি ট্রাকে ১৪ হাজার কেজি (১৪ টন) এবং শনিবার (৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় একটি ট্রাকে ১৫ হাজার কেজি (১৫ টন) কাঁচা মরিচ বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করে। এ নিয়ে গত পাঁচ দিনে ৮০ টন কাঁচা মরিচ বেনাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি হয়েছে। আমদানি শুরু হওয়ায় শার্শা উপজেলার সব বাজারে মরিচের দাম অর্ধেক কমে বর্তমানে বাজারে ১৫০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মরিচ আমদানিকারক রফিকুল ইসলাম জানান, ভারত থেকে ৩০৫ ডলারে প্রতি টন কাঁচা মরিচ আমদানি করা হচ্ছে। যা বাংলাদেশি টাকায় প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ আমদানিতে সব মিলিয়ে খরচ হয়েছে প্রায় ১৩৫ টাকা। সামান্য লাভ রেখে আমরা বাজারে বিক্রি করছি। আমদানি বাড়লে বাজারে মরিচের দাম আরও কমে আসবে। তবে কাস্টমসের হয়রানি ও পণ্য ছাড়করণে জটিলতার কারণে রাজস্ব বেশি গুনতে হচ্ছে। এতে আমদানিকারকরা লোকসানের মুখে পড়ছেন এবং আমদানি খরচ বেড়ে যাচ্ছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যে জানা গেছে, সরকারের অনুমতি পাওয়ার পর ভারতের বিভিন্ন প্রদেশ, বিশেষ করে নাসিক থেকে কাঁচা মরিচ আমদানি শুরু হয়েছে। প্রথম ধাপে ৬৯ জন ব্যবসায়ী মোট ২৯ হাজার ৭১০ টন কাঁচা মরিচ আমদানির অনুমতিপত্র (আইপি) পেয়েছেন এবং সোমবার থেকেই আমদানি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এদিকে, বেনাপোল বন্দরের কাঁচা বাজারে পাঁচ দিন আগেও প্রতিকেজি কাঁচা মরিচ ৩০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেলেও আজ রবিবার (৯ আগস্ট) সকাল থেকে দাম কমে বিক্রি হচ্ছে ১৫০-১৮০ টাকায়। বিক্রেতারা আশা করছেন আমদানি বাড়লে বাজারে দাম কমে একশ’র নিচে নেমে আসবে। ভারত থেকে আমদানিকৃত কাঁচা মরিচের চালান বন্দরে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে তার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাঠানোই দ্রুত দাম কমে আসছে। এ চালানের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান হলো শিমু এন্টারপ্রাইজ এবং বন্দর থেকে খালাস কার্যক্রমে সহযোগিতা করছেন সি অ্যান্ড এফ এজেন্ট শিমু শিপিং লাইন্স। বেনাপোল স্থলবন্দরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক পরিচালক (ট্রাফিক) রুহুল আমিন জানান, মরিচবাহী ট্রাক বন্দরে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই দ্রুত কাগজপত্রের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে খালাসের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সীমান্তের ওপারে আরও কাঁচা মরিচবাহী অনেকগুলো ট্রাক বন্দরে প্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে।
এক দিনের ব্যবধানে দেশের বাজারে সোনার দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এবার ভরিতে বাড়ানো হয়েছে ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা, যা আজ শনিবার সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হয়েছে। এক বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য বেড়েছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ভ্যাটসহ স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন দাম অনুযায়ী, ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৩৮ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২৩ হাজার ৫৪১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯১ হাজার ৯৩১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৬ হাজার ৮২২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বাজুস জানিয়েছে, পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই দাম কার্যকর থাকবে। এর আগে, সবশেষ গতকাল শুক্রবার সকালে সোনার দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। এদিন ভরিতে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমানো হয়। এদিকে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হলেও দেশের বাজারে অপরিবর্তিত রয়েছে রুপার দাম। বর্তমানে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ৮৯৯ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৬৬৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ২৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা ৩ হাজার ৩৩ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।
বাংলাদেশের থেকে আনারস নেওয়ার অনুমতি দিয়েছে পাকিস্তান সরকার। ইসলামাবাদে বাংলাদেশ হাই কমিশন শুক্রবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য দিয়েছে। হাই কমিশন বলছে, পাকিস্তানে বাংলাদেশের আনারসের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। পাকিস্তানে বাংলাদেশের আনারস রপ্তানির সুযোগ তৈরি হওয়ার মধ্য দিয়ে দুই দেশের মধ্যে অন্যান্য কৃষিপণ্য ও ফলের আমদানি-রপ্তানি প্রসার এবং ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধির পথ সুগম হয়েছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ইসলামাবাদে বাংলাদেশ হাইকমিশন, করাচির উপহাইকমিশন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, কৃষি মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পাকিস্তানের সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও কর্তৃপক্ষের মধ্যে কয়েক বছর যাবত ক্রমাগত যোগাযোগ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের ফলে এ সুযোগ তৈরি হয়েছে।
দেশের বাজারে সোনার দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভ্যাটসহ স্বর্ণালংকারে দাম প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ২৬৬ টাকা পর্যন্ত কমানো হয়েছে। গতকাল একদিনে ভরিতে বাড়িয়েছিল ৯ হাজার ৮৫৬ টাকা। শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকাল ১০টা থেকে সোনার এই নতুন দাম কার্যকর করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস জানিয়েছে, আজ সকাল ৯টায় বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির এক বৈঠকে এই নতুন দাম নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, এখন ভ্যাটসহ সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণালংকারের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৯ হাজার ৬৬৪ টাকা। যা গতকাল ছিল ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকা। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৯ হাজার ৩৪২ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা এখন থেকে বিক্রি হবে ১ লাখ ৮৮ হাজার ৩৭৪ টাকায় এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার নতুন দাম ১ লাখ ৫৩ হাজার ৮৪৮ টাকা। সোনার দাম কমানো হলেও অপরিবর্তিত আছে রুপার দাম। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৮৯৯ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৪ হাজার ৬৬৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ২৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ২৬৬ টাকা।
আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর প্রায় দুই সপ্তাহ বন্ধ থাকার পর এক্সিলারেট এনার্জির এলএনজি টার্মিনাল থেকে আবারও জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ভোর ৩টা ১০ মিনিট থেকে এক্সিলারেট এনার্জির এলএনজি টার্মিনাল থেকে ১১৫ মিলিয়ন ঘনফুট হারে গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে। এর ফলে জাতীয় গ্রিডে মোট এলএনজি সরবরাহ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৬২ এমএমএসসিএফডি। বৃহস্পতিবার অনলাইন গণমাধ্যম ‘বাংলা ট্রিবিউনে’ প্রকাশিত এক সংবাদ থেকে এ তথ্য জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এলএনজি সরবরাহ ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের পরিমাণ আরও বাড়বে। আগামী চার থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে টার্মিনালটি পূর্ণ সক্ষমতায় গ্যাস সরবরাহ শুরু করতে পারে। এতে সারাদেশে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতিরও উন্নতি হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। আগুন লাগার পর টার্মিনালটি প্রায় দুই সপ্তাহ বন্ধ থাকায় দেশে তীব্র গ্যাস সংকট তৈরি হয়। এর প্রভাব পড়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও, ফলে বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন বাসাবাড়ির গ্রাহকরা। রাজধানীসহ দেশের অনেক এলাকায় দিনের বেশির ভাগ সময় চুলায় গ্যাস ছিল না বা চাপ ছিল খুবই কম। ফলে অনেক পরিবার রান্না করতে পারেনি। কেউ ইলেকট্রিক চুলা বা রাইস কুকার ব্যবহার করেছেন, আবার অনেকে হোটেল থেকে খাবার কিনে খেতে বাধ্য হয়েছেন। গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়ে শিল্পকারখানাতেও। গ্যাসের স্বল্পতায় অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার কথা জানায়। একই সঙ্গে সিএনজি স্টেশনগুলোতেও গ্যাসের চাপ কম থাকায় দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করতে হয়েছে চালকদের। অনেক স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধও রাখা হয়। সংশ্লিষ্টদের আশা, টার্মিনালটি পুরোপুরি সচল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাসাবাড়ি, শিল্পকারখানা ও সিএনজি খাতে গ্যাস সরবরাহ ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসবে।
দেশের বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ৩৩ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুন শেষে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৪৭ শতাংশে, যা ১৯৯৩ সালের পর সর্বনিম্ন। অর্থনীতিবিদদের মতে, শিল্প ও ব্যবসা খাতে নতুন বিনিয়োগের স্থবিরতা, গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট, উচ্চ ঋণসুদ, খেলাপি ঋণের চাপ এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে ঋণপ্রবাহে বড় ধরনের ধীরগতি দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, জুন শেষে বেসরকারি খাতে মোট ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৮ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা। ঋণের পরিমাণ বাড়লেও প্রবৃদ্ধির হার ধারাবাহিকভাবে কমছে। গত বছরের জুলাইয়ে যেখানে এ হার ছিল ১০ দশমিক ১৩ শতাংশ, এক বছরের ব্যবধানে তা কমে ৪ দশমিক ৪৭ শতাংশে নেমেছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, করোনা মহামারির সবচেয়ে কঠিন সময়েও বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি সাড়ে ৭ শতাংশের নিচে নামেনি। অর্থনীতিবিদদের ভাষ্য, ঋণপ্রবাহ কমে যাওয়ার অর্থ হচ্ছে নতুন বিনিয়োগের গতি মন্থর হয়ে পড়া। এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে শিল্প উৎপাদন, ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং কর্মসংস্থানে। কারণ দেশে নতুন কর্মসংস্থানের বড় অংশই সৃষ্টি হয় বেসরকারি খাতের মাধ্যমে। ব্যাংকাররা বলছেন, বর্তমানে অধিকাংশ ব্যাংক নতুন ঋণ বিতরণের চেয়ে পুরোনো ঋণ আদায়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। খেলাপি ঋণের উচ্চ চাপ এবং অনেক ব্যাংকের দুর্বল আর্থিক অবস্থার কারণে বড় ঋণ অনুমোদনের ক্ষেত্রে তারা সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, দেশ কার্যত এক ধরনের অর্থনৈতিক সংকটকাল অতিক্রম করছে। রপ্তানি চাহিদা কমে যাওয়া, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস, গ্যাস সংকট এবং সামগ্রিক অনিশ্চয়তার কারণে উদ্যোক্তারা নতুন বিনিয়োগে আগ্রহ হারাচ্ছেন। একই সঙ্গে উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে ঋণের চাহিদা কমেছে। রপ্তানি আদেশ কম থাকায় আমদানি ঋণপত্র (এলসি) খোলাও প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। ব্যবসায়ীদের মতে, শুধু উচ্চ সুদহার নয়, একাধিক কাঠামোগত সমস্যাও বিনিয়োগে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটে অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান উৎপাদন কমিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছে। আবার অনেক নতুন শিল্পপ্রকল্প বিনিয়োগ সম্পন্ন হওয়ার পরও গ্যাস সংযোগ না পাওয়ায় উৎপাদন শুরু করতে পারেনি। এর পাশাপাশি ডলারের বাজারে অস্থিরতা, কাঁচামাল আমদানির অনিশ্চয়তা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ এবং নীতিগত অনিশ্চয়তাও উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগ সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করছে। নতুন ঋণ বিতরণে ব্যাংকগুলোর সতর্কতার আরেকটি বড় কারণ খেলাপি ঋণের ঊর্ধ্বগতি। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫ লাখ ৮৯ হাজার কোটি টাকা, যা মোট বিতরণ করা ঋণের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। এ অবস্থায় অনেক ব্যাংক বড় শিল্পঋণের পরিবর্তে তুলনামূলক কম ঝুঁকির এসএমই ঋণ কিংবা সরকারি ট্রেজারি বিল ও বন্ডে বিনিয়োগকে বেশি নিরাপদ মনে করছে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, বর্তমান নিম্ন ঋণ প্রবৃদ্ধিকে পুরোপুরি নেতিবাচকভাবে দেখার সুযোগ নেই। তাদের মতে, অতীতে বেসরকারি খাতে উচ্চ ঋণ প্রবৃদ্ধির বড় অংশই প্রভাবশালী গ্রাহকদের হাতে কেন্দ্রীভূত হয়েছিল। পরবর্তীতে এসব ঋণের উল্লেখযোগ্য অংশ খেলাপিতে পরিণত হয় এবং অর্থ পাচারের ঘটনাও সামনে আসে। ফলে বর্তমানে অপেক্ষাকৃত সতর্ক ঋণ বিতরণকে তারা ইতিবাচক দৃষ্টিতেও দেখছেন। অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি নীতিসুদ (রেপো) হার ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৯ দশমিক ৫ শতাংশ করেছে। প্রায় ছয় বছর পর এটিই প্রথম নীতিসুদ কমানোর সিদ্ধান্ত। এর ফলে ব্যাংকগুলোর অর্থ সংগ্রহের ব্যয় কমবে এবং ধীরে ধীরে ঋণের সুদও কমতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। এ ছাড়া সরকার উৎপাদনমুখী খাতের জন্য ৬০ হাজার কোটি টাকার স্বল্পসুদের প্রণোদনা তহবিল ঘোষণা করেছে। বড় বিনিয়োগ প্রকল্পে অর্থায়ন সহজ করতে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সোনালী ব্যাংকের ঋণসীমাও শিথিল করা হয়েছে। তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, শুধু সুদহার কমিয়ে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া সম্ভব নয়। গ্যাস-বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা, নীতিগত স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, করব্যবস্থার সংস্কার, প্রশাসনিক জটিলতা কমানো এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি না হলে বিনিয়োগে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে না। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম ১৮ মাসে এক কোটি কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্য ঘোষণা করেছে। তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের গতি না ফিরলে সেই লক্ষ্য অর্জন কঠিন হবে। কারণ দেশের নতুন কর্মসংস্থানের প্রায় ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশই আসে বেসরকারি খাত থেকে। বাংলাদেশ ব্যাংক আশা করছে, নীতিসুদ কমানো, প্রণোদনা কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিবেশের উন্নতির মাধ্যমে আগামী কয়েক মাসে ঋণপ্রবাহে গতি ফিরবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডিসেম্বরের মধ্যে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৮ শতাংশ এবং অর্থবছর শেষে ৮ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। তবে বিশ্লেষকদের অভিমত, শুধু লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করলেই হবে না; বাস্তব খাতে উদ্যোক্তাদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে। গ্যাস ও বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ, খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ, নীতিগত স্থিতিশীলতা এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা না গেলে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহে উল্লেখযোগ্য উন্নতি সম্ভব হবে না।
দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মোট (গ্রস) রিজার্ভ ৩৬ দশমিক ৫৯৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ৪ আগস্ট পর্যন্ত দেশের মোট (গ্রস) বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ ৩৬ দশমিক ৫৯২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এদিকে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের আগস্ট মাসের প্রথম তিন দিনে (১-৩ আগস্ট) দেশে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স এসেছে ৪০৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। যা গত বছরের একই সময়ের ২২০ মিলিয়ন ডলারের তুলনায় ৮৪ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, শুধু ৩ আগস্ট একদিনেই দেশে ১৩৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে ৩ আগস্ট পর্যন্ত (জুলাই-৩ আগস্ট) মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৩ দশমিক ২৬৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে এ অঙ্ক ছিল ২ দশমিক ৬৯৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ৩ আগস্ট পর্যন্ত রেমিট্যান্স প্রবাহ আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২০ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবান ধাতুর দামে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবার রুপা, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দাম বেড়েছে। খবর রয়টার্সের। বাজারের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স রুপার দাম শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ৫৮ দশমিক ৬৬ ডলারে পৌঁছেছে। এদিকে, প্লাটিনামের দাম ১ দশমিক ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৬৫৩ দশমিক ৫৩ ডলারে লেনদেন হয়েছে। অন্যদিকে, প্যালাডিয়ামের দাম ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ২৮০ দশমিক ৫০ ডলারে উন্নীত হয়েছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সুদনীতি এবং ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে মূল্যবান ধাতুর বাজারে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বজায় রয়েছে। এদিকে মঙ্গলবার গ্রিনিচ মান সময় সকাল ৯টা ৫ মিনিটে স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম প্রায় অপরিবর্তিত থেকে ৪,০৫২ দশমিক ৮৬ ডলারে লেনদেন হয়। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণের ফিউচার চুক্তির দাম শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪,১১১ দশমিক ৭০ ডলারে পৌঁছায়।
মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্বুদ্ধ করা এবং রাজস্ব আহরণের গতি বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো রাজস্ব সম্মেলনের আয়োজন করতে যাচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। আগামী ১৮ আগস্ট রাজধানীতে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সম্মেলনকে সফল করতে ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু করেছে এনবিআর। স্থান নির্বাচন, সাজসজ্জা, নিরাপত্তা, অতিথি আপ্যায়ন, অতিথি তালিকা প্রণয়ন ও অভ্যর্থনাসহ বিভিন্ন দায়িত্ব পালনের জন্য ছয়টি উপ-কমিটি গঠন করে রবিবার অফিস আদেশ জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি সার্বিক তদারকির জন্য ৩১ সদস্যের একটি কেন্দ্রীয় স্টিয়ারিং কমিটিও গঠন করা হয়েছে। এ কমিটির সভাপতি করা হয়েছে এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিবকে। সদস্য সচিবের দায়িত্ব পেয়েছেন কর পরিদর্শন পরিদপ্তরের মহাপরিচালক সৈয়দ মহিদুল হাসান। এনবিআর কর্মকর্তারা জানান, রাজস্ব আহরণে গতি আনা এবং মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আরো উৎসাহিত করাই এ সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য। সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং এনবিআরের নতুন চেয়ারম্যান রাজস্ব প্রশাসনের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা ও সংস্কার কার্যক্রম নিয়ে বক্তব্য রাখবেন বলে জানা গেছে। সম্মেলনে প্রায় ১ হাজার ৫০০ অতিথির অংশগ্রহণের কথা রয়েছে। আমন্ত্রিতদের মধ্যে থাকবেন অর্থমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা, তিন বাহিনীর প্রধান এবং অর্থনীতি, রাজস্ব ও বাণিজ্য খাতের বিভিন্ন পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও বিশেষজ্ঞরা। এর আগে কর ও কাস্টমস ক্যাডারের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৩ সালে প্রথমবারের মতো রাজস্ব সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছিল। রাজধানীর চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ওই দুই দিনব্যাপী সম্মেলনে এনবিআরের কার্যক্রম নিয়ে প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন, ভ্যাট, শুল্ক ও আয়কর বিষয়ে পৃথক সেমিনার, তথ্য বুথ এবং রাজস্ব ব্যবস্থার ইতিহাস তুলে ধরতে রেভিনিউ মিউজিয়াম প্রদর্শনের ব্যবস্থা ছিল। এনবিআরের কর্মকর্তাদের প্রত্যাশা, দ্বিতীয় রাজস্ব সম্মেলন মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করবে এবং সরকারের রাজস্ব আহরণ কার্যক্রমকে আরো গতিশীল করতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ফাঁসির দণ্ড পাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিল্লি থেকে যাতে কোনো রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে বা কর্মকাণ্ড না চালাতে পারে, সে বিষয়ে ভারতের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, সোমবার ঢাকায় ভারতীয় হাই কমিশনার দীনেশ ত্রিদেবী উপদেষ্টার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে এ সহযোগিতা চান তিনি। বৈঠকে আলোচনার বিষয়বস্তু তুলে ধরে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “পলাতক শেখ হাসিনা ৫ অগস্ট প্রকাশ্যে বক্তব্য রাখতে পারেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া এ খবর আলোচনায় উঠে আসে। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হাই কমিশনারকে বলেন, পলাতক শেখ হাসিনাসহ কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের কোনো ব্যক্তি যাতে ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে রাজনৈতিক বক্তব্য প্রদান বা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে কোনো কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে না পারে, সে বিষয়ে ভারতের সহযোগিতা প্রত্যাশা করে বাংলাদেশ। পররাষ্ট্র উপদেষ্টাকে উদ্ধৃত করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, এ ধরনের কার্যক্রম দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ইতিবাচক অগ্রগতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
চট্টগ্রামে চারটি সার কারখানার মধ্যে তিনটিতে উৎপাদন স্বাভাবিক নেই। চট্টগ্রাম ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল) গ্যাস সংকটে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। কাঁচামাল সংকটে ডিএপি ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএপিএফসিএল) উৎপাদনও বন্ধ। অন্যদিকে, গ্যাস সংকটের কারণে কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডে (কাফকো) উৎপাদন সীমিত করা হয়েছে। ফলে আসন্ন আমন মৌসুমে সার সরবরাহ নিয়ে কৃষকদের মধ্যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) অধীনে চট্টগ্রামে চারটি সার কারখানা রয়েছে। এগুলো হলো— চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল), কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো), ডিএপি ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) এবং টিএসপি কমপ্লেক্স লিমিটেড। এর মধ্যে সিইউএফএল ও কাফকো ইউরিয়া সার, ডিএপিএফসিএল ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট (ডিএপি) এবং টিএসপি কমপ্লেক্স টিএসপি সার উৎপাদন করে। চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত সিইউএফএল গ্যাস সংকটের কারণে ২০২৬ সালের ৪ মার্চ থেকে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। এর আগেও গ্যাস সরবরাহের অনিয়ম ও যান্ত্রিক সমস্যার কারণে কারখানাটি দীর্ঘ সময় বন্ধ ছিল। সিইউএফএলের সাম্প্রতিক উৎপাদন পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক। কারখানাটির প্রধান রসায়নবিদ উত্তম চৌধুরীর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এখন পর্যন্ত সিইউএফএলে প্রায় ৬৫ হাজার টন ইউরিয়া উৎপাদন হয়েছে। এর আগের অর্থবছরে উৎপাদন হয়েছিল প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার টন। নিয়মিত গ্যাস সরবরাহ পাওয়া গেলে চলতি অর্থ বছরে উৎপাদন প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টন পর্যন্ত হতে পারত বলে জানান তিনি। এদিকে, কাঁচামাল সংকটের কারণে আনোয়ারায় অবস্থিত দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট (ডিএপি) সার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ডিএপিএফসিএলে টানা এক মাস চার দিন ধরে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। সারটির প্রধান কাঁচামাল ফসফরিক অ্যাসিডের সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ জুন সকাল ৮টা থেকে কারখানাটিতে সার উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন এই কারখানা দেশের কৃষিখাতে ব্যবহৃত ডিএপি সার উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দীর্ঘদিন উৎপাদন বন্ধ থাকলে ভবিষ্যতে সার সরবরাহ ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। কারখানা সূত্র জানায়, ডিএপি সার উৎপাদনের প্রধান কাঁচামাল ফসফরিক অ্যাসিড আমদানির জন্য গত জানুয়ারিতে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) ই-জিপির মাধ্যমে দরপত্র আহ্বান করে। ২০ হাজার টন ফসফরিক অ্যাসিড সরবরাহের কার্যাদেশ পায় মেসার্স আর কে এন্টারপ্রাইজ। চুক্তি অনুযায়ী জুনের মধ্যেই কাঁচামাল সরবরাহের কথা ছিল। তবে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের সংঘাতের প্রভাবে আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ায় কাঁচামাল সরবরাহে জটিলতা তৈরি হয়। ডিএপিএফসিএলের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ১ লাখ মেট্রিক টন। কারখানাটির দুটি ইউনিটের সম্মিলিত দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা ৮০০ মেট্রিক টন। এ বিষয়ে ডিএপিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মঈনুল হক ঢাকা পোস্টকে বলেন, ফসফরিক অ্যাসিড সংকটের কারণে কারখানার উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। আমরা দ্রুত উৎপাদনে যাওয়ার চেষ্টা করছি। অন্যদিকে, কর্ণফুলী উপজেলার রাঙ্গাদিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশের বৃহত্তম যৌথ বিনিয়োগের সার কারখানা কাফকোতেও গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে। গ্যাস সরবরাহ সীমিত হওয়ায় কারখানাটির উৎপাদন নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। কাফকোর দৈনিক ইউরিয়া উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ১ হাজার ৭২৫ মেট্রিক টন এবং অ্যামোনিয়া উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ১ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন। কাফকোর চিফ পার্সোনেল আবদুল্লাহ ফারুক ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমাদের কারখানায় উৎপাদন চালু আছে। তবে গ্যাস ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চট্টগ্রামে লবণাক্ত পানির আগ্রাসনে আশঙ্কাজনক হারে কমছে বোরো ধানের আবাদ। উপকূলীয় বিভিন্ন এলাকায় শুষ্ক মৌসুমে জমিতে লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়ায় সেচের পানির সংকট দেখা দিচ্ছে। ফলে অনেক জমি বোরো চাষের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। এতে বোরো মৌসুমে ধান উৎপাদন কমার পাশাপাশি কৃষকদের আমন ধানের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়ছে। কৃষি অফিসের সূত্র অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে চট্টগ্রাম জেলায় আমন ধানের আবাদ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৮৯ হাজার ৯৮০ হেক্টর। জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও উপকূলীয় এলাকায় এ লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী আমন আবাদ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। চট্টগ্রাম জেলা কৃষি অফিস সূত্র অনুযায়ী, জেলায় সারের চাহিদা রয়েছে ইউরিয়া ৪৭ হাজার ৩৬৬ মেট্রিক টন, টিএসপি ২৪ হাজার ৬২৭ মেট্রিক টন, ডিএপি ২৫ হাজার ৫৪২ মেট্রিক টন এবং এমওপি ১২ হাজার ৮৪৩ মেট্রিক টন। তবে বিভিন্ন উপজেলার মাঠপর্যায়ের কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে ভিন্ন চিত্র পাওয়া গেছে। কৃষকদের আশঙ্কা, বর্তমানে গুদামে পর্যাপ্ত সার মজুত থাকলেও উৎপাদনকারী কারখানাগুলো দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলে আমন মৌসুমের মাঝামাঝি সময়ে সরবরাহে চাপ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে ইউরিয়া ও ডিএপি সারের সরবরাহ স্বাভাবিক না থাকলে চাহিদার সময়ে সার পেতে ভোগান্তিতে পড়তে পারেন তারা। কৃষকদের ভাষ্য, আমন মৌসুমে জমিতে সময়মতো সার প্রয়োগ করা না গেলে ফলন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই শুধু মজুতের পরিমাণ নয়, উপজেলা পর্যায়ে ডিলারদের মাধ্যমে নির্ধারিত দামে নিয়মিত ও পর্যাপ্ত সার সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। উৎপাদনকারী কারখানাগুলো দ্রুত চালু করা না গেলে ভবিষ্যতে কৃত্রিম সংকট কিংবা বাড়তি দামে সার বিক্রির সুযোগ তৈরি হতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন তারা। আনোয়ারা ও বোয়ালখালী উপজেলার একাধিক কৃষক বলেন, বোরো আবাদ কমে যাওয়ায় আমনই এখন অনেক কৃষকের প্রধান ভরসা। ফলে আমন মৌসুমে সারের সরবরাহে কোনো ধরনের বিঘ্ন দেখা দিলে তা সরাসরি কৃষকের উৎপাদন খরচ ও ধানের ফলনে প্রভাব ফেলতে পারে। তাদের দাবি, আমন মৌসুম শুরুর আগেই ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে সারের মজুত ও বিতরণব্যবস্থা কঠোরভাবে তদারকি করা হোক। এদিকে, দেশের শিল্প খাতে চলমান গ্যাস সংকটসহ অন্যান্য সমস্যা দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শিল্প উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। তবে সার সংকটের বিষয়টি উড়িয়ে দিয়েছেন কৃষি ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। গত ২৮ জুলাই গাজীপুরের জয়দেবপুরে কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রতিষ্ঠানসমূহ পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, দেশে সারের কোনো ঘাটতি নেই। সার নিয়ে সংকটের যে গুজব ছড়ানো হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। সরকার নির্ধারিত ন্যায্যমূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি করে কেউ কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কৃষিমন্ত্রী বলেন, দেশে পর্যাপ্ত সার মজুত রয়েছে। পাশাপাশি পাইপলাইনে পর্যাপ্ত সার সরবরাহ ও প্রাপ্যতা রয়েছে। কিছু অসাধু ব্যক্তি সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি করে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে সরকার অত্যন্ত সতর্ক রয়েছে। সার সরবরাহ ও বিক্রয় পরিস্থিতি আরও কঠোরভাবে মনিটরিং করা হবে। কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির যেকোনো অপচেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপপরিচালক আপ্রু মারমা ঢাকা পোস্টকে বলেন, চট্টগ্রামে সার সংকটের কোনো আশঙ্কা নেই। বর্তমানে যে পরিমাণ রাসায়নিক সার মজুত রয়েছে, তা দিয়ে অন্তত তিন মাসের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব।
তারল্য সরবরাহ ও বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ বাড়াতে নীতি সুদহার কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংক এক বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে। এতে বলা হয়, নীতি সুদহার কমানোর এ সিদ্ধান্ত ২ আগস্ট থেকে কার্যকর হবে। তারল্য ব্যবস্থাপনা ঠিক রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংকের মনিটারি পলিসি বিভাগ নীতি সুদহার কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, বৃহস্পতিবার মনিটারি পলিসি কমিটির (এমপিসি) ১৩তম চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ও কমিটির সভাপতি মো: মোস্তাকুর রহমান এফসিএমএ-এর সভাপতিত্বে বোর্ডের মিটিং রুমে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ডেপুটি গভর্নর ড. মো: হাবিবুর রহমান, আইআরএনএম-এর নির্বাহী পরিচালক ড. মুস্তফা কামাল মুজেরী, বিআইডিএস-এর মহাপরিচালক ড. এ কে এনামুল হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান ড. ফেরদৌসী নাহার, বাংলাদেশ ব্যাংকের চিফ ইকোনমিস্ট ড. মোহাম্মদ আক্তার হোসেন এবং নির্বাহী পরিচালক ড. ইমাম আবু সাইদসহ কমিটির অন্যান্য সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সভায় উপস্থিত সদস্যরা অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি, দেশীয় বিনিয়োগ, বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির শ্লথ গতিধারাসহ আন্তর্জাতিক লেনদেন ভারসাম্য সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন অর্থনৈতিক চলকসমূহের গতিপ্রকৃতি পর্যালোচনার পর নীতি সুদহার কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তারল্য ব্যবস্থাপনা ঠিক রাখা এবং সম্প্রসারণমূলক মুদ্রানীতির অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের মনিটারি পলিসি বিভাগ। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নীতি সুদহার বা রেপো রেট ১০ শতাংশ থেকে দশমিক ৫০ শতাংশীয় পয়েন্ট কমিয়ে ৯ দশমিক ৫০ শতাংশে পুন:নির্ধারণ করা হয়েছে। এর ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ব্যাংকগুলো যে টাকা ধার করবে, তার সুদহার কমবে। অর্থাৎ বাংলাদেশ ব্যাংক এবার সম্প্রসারণমূলক মুদ্রা সরবরাহের পথে হাঁটছে। এছাড়া নীতি সুদহার করিডোরের ঊর্ধ্বসীমা স্ট্যান্ডিং ল্যান্ডিং ফ্যাসিলিটি (এসএলএফ) সুদহার ১১ দশমিক ৫০ শতাংশ থেকে দশমিক ৫০ শতাংশীয় পয়েন্ট কমিয়ে ১১ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে এবং আভার নাইট রেপো সুদহার নীতি ৭ দশমিক ৫০ শতাংশে অপরিবর্তিত থাকবে। খাত সংশ্লিষ্টরা জানান, নীতি সুদহার কমানোর ফলে ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে তুলনামূলক কম সুদে অর্থ ধার নিতে পারে। এর ফলে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের কাছেও ব্যাংকগুলো কম সুদে ঋণ দিতে পারে। এতে ঋণ নেওয়ার আগ্রহ বাড়ে এবং বাজারে অর্থের সরবরাহ বৃদ্ধি পায়। তবে অর্থের সরবরাহ ও ভোগ চাহিদা বাড়লে, পণ্যের দামও বাড়তে পারে। এর ফলে মুদ্রাস্ফীতির চাপ সৃষ্টি হতে পারে বলে মনে করছেন-অর্থনীতিবিদরা। চলতি অর্থবছরের মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতে ঋণের লক্ষ্য বেশি থাকলেও তা পূরণ হয়নি। ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ৮ শতাংশ লক্ষ্য ঠিক করেছিল। কিন্তু চলতি বছরের মে মাসে বেসরকারি খাতে ব্যাংক ঋণের প্রবৃদ্ধি কমে ৫ শতাংশে নেমে এসেছে। এমন পরিস্থিতিতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথমার্ধের মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৬ দশমিক ৮ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে প্রবৃদ্ধি অর্জনের তুলনায় বাড়ানো হয়েছে। এদিকে অভ্যন্তরীণ ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ধরা হয়েছে ১০ দশমিক ৫ শতাংশ।
তিন দিনের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এবার ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়িয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৩ হাজার ৭৪ টাকা নির্ধারণ করেছে সংগঠনটি। শুক্রবার (৩১ জুলাই) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাজুস। নতুন এ দাম শুক্রবার সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য বেড়েছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ভ্যাটসহ স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ২৩ হাজার ৭৪ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৩ হাজার ৪৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮২ হাজার ৯৫০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৪৯ হাজার ৪৭৪টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বাজুস জানিয়েছে, সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই নতুন দর কার্যকর থাকবে। তবে অলঙ্কারের ডিজাইন অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য। অলঙ্কার বিক্রয়মূল্যের মধ্যে ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকায় গ্রাহকদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট নেওয়া যাবে না। এছাড়া অলঙ্কার কেনাবেচা বা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে বাজুসের আগের নিয়মাবলী বহাল থাকবে। এর আগে, সবশেষ মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সেদিন ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা কমিয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৭ টাকা নির্ধারণ করেছিল সংগঠনটি। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১০ হাজার ৯৪৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮১ হাজার ২০০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৪৮ হাজার ১৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। স্বর্ণের দাম বাড়ানোর হলেও দেশের বাজারে অপরিবর্তিত রয়েছে রুপার দাম। বর্তমানে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ৬০৭ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৩ হাজার ৭৯১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা ২ হাজার ৮৫৮ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।
উচ্চ মূল্যস্ফীতির মধ্যেই নীতি সুদহার কমাল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। প্রধান নীতি সুদহার রেপো রেট ৫০ বেসিস পয়েন্ট কমিয়ে সাড়ে ৯ শতাংশ করা হয়েছে। আগামী রোববার থেকে যা কার্যকর হবে। ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে রেপোর সুদ ১০ শতাংশে অপরিবর্তিত ছিলো। আর আন্তঃব্যাংক ধারের ক্ষেত্রে সুদহারের সর্বোচ্চ সীমা স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি (এসএলএফ) রেট সাড়ে ১১ থেকে কমিয়ে ১১ শতাংশ করা হয়েছে। তবে ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকে টাকা রাখতে স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি (এসডিএফ) সুদহার সাড়ে ৭ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত মুদ্রানীতি কমিটির বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক এমন এক সময়ে নীতিসুদহার কমানোর ঘোষণা দিল যখন বেশিরভাগ জিনিসের দর চড়া। সর্বশেষ গত জুন মাসের গড় মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৮ দশমিক ৬৮ শতাংশে উঠেছে। আগের মাস শেষে যা ৮ দশমিক ৬৩ শতাংশ ছিলো। গত এপ্রিলে ছিলো ৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ। চলতি অর্থবছর শেষে সরকার গড় মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫০ শতাংশে নামানোর লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে। গত অর্থবছরও একই রকম লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হলেও তা সফল হয়নি। মূল্যস্ফীতি কমানোর জন্য বৈশ্বিকভাবেই নীতি সুদহার বেশি রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়। বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর গত ফেব্রুয়ারিতে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. আহসান এইচ মনসুরকে সরিয়ে মো. মোস্তাকুর রহমানকে গভর্নর নিয়োগ দেয়। তিনি যোগদান করেই নীতি সুদহার কমাতে মুদ্রানীতি কমিটির একটি বৈঠক ডাকেন। তবে বৈঠক হওয়ার আগেই ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার কারণে সেই বৈঠক স্থগিত হয়। গত ৩০ জুন চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধের জন্য সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সেখানে সুদহার না কমানোর যুক্তি হিসেবে বলা হয়– উচ্চ মূল্যস্ফীতির গতি ধারা ও বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে আপাতত সুদহার না কমানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। এক মাস না যেতেই সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আহসান মনসুর গভর্নর থাকতে স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছিলেন– মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশের নিচে না নামা পর্যন্ত নীতি সুদহার কমানো হবে না। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এই সময়ে তিনি গভর্নর থাকলে সুদহার বাড়িয়ে ১২ শতাংশ করতেন। সুদহার কমানোর সিদ্ধান্ত তুলে ধরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আজ প্রকাশিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মুদ্রানীতি কমিটি অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি এবং দেশীয় বিনিয়োগ, বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির শ্লথ গতিধারাসহ আন্তর্জাতিক লেনদেন ভারসাম্য সংক্রান্ত বিষয়ে বিশদ আলোচনা করে নীতি সুদহার কমানোর এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সভাকক্ষে মুদ্রানীতি কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয় গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের সভাপতিত্বে। বৈঠকে কমিটির সদস্য ও ডেপুটি গভর্নর ড. মো. হাবিবুর রহমান, অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তফা কামাল মুজেরী, বিআইডিএসের মহাপরিচালক ড. এ কে এনামুল হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যানন ড. ফিরদৌসি নাহার, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মোহাম্মদ আকতার হোসেন এবং নির্বাহী পরিচালক ড. ইমাম আবু সাঈদ উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ ব্যাংক চলতি মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন কমিয়ে ৬ দশমিক ৮০ শতাংশ ধরেছে। আগের মুদ্রানীতিতে গত জুন পর্যন্ত সাড়ে ৮ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা ছিলো। তবে মে পর্যন্ত অর্জিত হয়েছে ৪ দশমিক ৯৮ শতাংশ। কেন্দ্রীয় ব্যাংক কম সুদ ঋণ দিতে ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে।
রপ্তানি বৃদ্ধি, পরিবেশগত মানদণ্ড প্রতিপালন জোরদার এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে দেশের চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যশিল্পের বিকাশ ও উন্নয়নে সহায়তা করার জন্য ২ হাজার কোটি টাকার একটি প্রাক-অর্থায়ন স্কিম চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আজ বৃহস্পতিবার জারি করা বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিজস্ব তহবিল থেকে গঠিত এই স্কিমের মাধ্যমে চামড়াশিল্পকে টেকসই, পরিবেশবান্ধব এবং আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিযোগিতামূলক শিল্পে পরিণত করতে সহায়তা দেওয়া হবে। এই স্কিমের আওতায় কারখানা নির্মাণ ও সম্প্রসারণ, যন্ত্রপাতি ক্রয় এবং পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো যেমন-ইফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্লান্ট (ইটিপি), স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্লান্ট (এসটিপি), ডাম্পিং ইয়ার্ড এবং কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা স্থাপনে অর্থায়ন করা হবে। এ ছাড়া লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপ (এলডব্লিউজি) সনদ অর্জনের ব্যয়, বিদ্যমান ট্যানারি আধুনিকীকরণ এবং চামড়াশিল্পে ব্যবহৃত রাসায়নিক, আনুষঙ্গিক উপকরণ ও অন্যান্য সহায়ক পণ্যের দেশীয় উৎপাদনেও এ তহবিল থেকে সহায়তা দেওয়া হবে। স্কিমের আওতায় ঋণগ্রহীতারা সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ সুদে ঋণ পাবেন। অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলোকে বাংলাদেশ ব্যাংক ৪ শতাংশ সুদে পুনরর্থায়ন (রিফিন্যান্স) সুবিধা দেবে। রিভলভিং ভিত্তিতে তিন বছর মেয়াদে এই তহবিল পরিচালিত হবে। নতুন কারখানা নির্মাণে সর্বোচ্চ সাত বছর মেয়াদি ঋণ দেওয়া হবে, যার মধ্যে দুই বছর গ্রেস পিরিয়ড থাকবে। বিদ্যমান কারখানা আধুনিকীকরণে সর্বোচ্চ চার বছর মেয়াদি ঋণ দেওয়া হবে, যার মধ্যে ছয় মাস গ্রেস পিরিয়ড থাকবে। কার্যকর মূলধন (ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল) ঋণের মেয়াদ হবে এক বছর, যা সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত নবায়ন করা যাবে। বাংলাদেশের সব তফসিলি ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস বিভাগের সঙ্গে চুক্তি সাপেক্ষে এই স্কিমে অংশ নিতে পারবে। স্কিমের আওতায় নতুন চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানার জন্য সর্বোচ্চ ৩০ কোটি টাকা, নতুন চামড়াজাত পণ্য উৎপাদন অবকাঠামোর জন্য ২০ কোটি টাকা, বিদ্যমান স্থাপনা আধুনিকীকরণের জন্য ১০ কোটি টাকা এবং সহায়ক পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের কার্যকর মূলধনের জন্য সর্বোচ্চ ৫ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হবে। টেকসই উৎপাদন নিশ্চিত করতে স্কিমের আওতায় বেশ কয়েকটি শর্তও আরোপ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। চামড়া প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে অর্থায়ন পাওয়ার দুই বছরের মধ্যে এলডব্লিউজি সনদ অর্জন করতে হবে। একই সময়ের মধ্যে উপকারভোগী প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার অন্তত ১০ শতাংশ সৌরবিদ্যুৎ থেকে নিশ্চিত করতে হবে। এ ছাড়া শ্রমিকদের পেশাগত স্বাস্থ্যঝুঁকি দূরীকরণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ব্যাংক কম্পানি আইন ১৯৯১ অনুযায়ী খেলাপি হিসেবে শ্রেণীকৃত ঋণগ্রহীতারা এই স্কিমের আওতায় অর্থায়নের জন্য যোগ্য বিবেচিত হবেন না। এ ছাড়া একই উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক্সপোর্ট ডেভেলপমেন্ট ফান্ড (ইডিএফ) এবং গ্রিন ট্রান্সফরমেশন ফান্ড (জিটিএফ) থেকে ইতিমধ্যে সহায়তা পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোও এই স্কিমের সুবিধা পাবে না।
কার্ড থেকে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (এমএফএস) ব্যক্তিগত হিসাবে ‘অ্যাড মানি’ বা টাকা স্থানান্তরের ক্ষেত্রে নতুন নিরাপত্তা নির্দেশনা বাস্তবায়নের সময়সীমা চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর আগে এই প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা কার্যকর করার জন্য আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছিল, সময়সীমা পেরিয়ে গেলে ১ আগস্ট থেকে কার্ড থেকে এমএফএস হিসাবে অ্যাড মানি করার সুবিধা বন্ধ হয়ে যাবে। নতুন নির্দেশনায় সেই সময়সীমা আরও ছয় মাস বাড়ানো হলো। ১ জানুয়ারি থেকে কঠোর ব্যবস্থা: বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, সংশোধিত সময়সীমার মধ্যে কোনো ব্যাংক বা এমএফএস প্রতিষ্ঠান নতুন নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হলে আগামী ১ জানুয়ারি থেকে ওই প্রতিষ্ঠানের কার্ড থেকে এমএফএস হিসাবে অ্যাড মানি করার সুবিধা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হবে। কী থাকছে নতুন নিয়মে? নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী— নিজের নামে নিবন্ধিত এমএফএস হিসাবে অন্য কোনো ব্যক্তির কার্ড ব্যবহার করে টাকা আনা যাবে না। কার্ডধারী ও এমএফএস হিসাবধারী একই ব্যক্তি হতে হবে। নামের মিল না থাকলে কার্ড সংযুক্ত করা যাবে না। প্রথমবার যুক্ত করতে হবে ‘টোকেন লেনদেন’ প্রযুক্তিগত ও নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে প্রথমবার কোনো নতুন কার্ড এমএফএস ওয়ালেটে যুক্ত করার সময় সর্বোচ্চ ৫০০ টাকার একটি পরীক্ষামূলক বা ‘টোকেন লেনদেন’ করতে হবে। এই লেনদেন সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার ২৪ ঘণ্টা পর সংশ্লিষ্ট কার্ডটি ওই এমএফএস হিসাবের সঙ্গে স্থায়ীভাবে যুক্ত হবে এবং এরপর নিয়মিত লেনদেন চালু হবে। ‘মার্চেন্ট পেমেন্ট’ নয়, ‘ফান্ড ট্রান্সফার’: এতদিন কার্ড থেকে এমএফএসে টাকা আনার প্রক্রিয়াটি অনেক ক্ষেত্রে ‘মার্চেন্ট পেমেন্ট’ হিসেবে দেখানো হতো। এখন থেকে এটি সরাসরি ‘ফান্ড ট্রান্সফার’ হিসেবে চিহ্নিত করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এছাড়া কোন নির্দিষ্ট এমএফএস ওয়ালেট নম্বরে টাকা জমা হচ্ছে, সেই তথ্য কার্ড ইস্যুকারী ব্যাংকের কাছে স্পষ্ট ও দৃশ্যমান থাকতে হবে। আগের অন্যান্য নিয়ম বহাল: বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এমএফএস ব্যক্তিগত হিসাবের মাধ্যমে অন্যান্য নিয়মিত লেনদেনের ক্ষেত্রে আগের নিয়মগুলো যথারীতি বহাল থাকবে। সংশোধিত সময়সীমা ও নতুন নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
বাংলাদেশে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের আর্থিক ব্যবস্থাপনা, সুশাসন, সরকারি ক্রয় ও জবাবদিহি পর্যালোচনার পাশাপাশি একটি বড় সামাজিক-অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রকল্পের ফলাফল মূল্যায়নে আগামী আগস্টে ঢাকায় আসছে বিশ্বব্যাংকের দুটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল। বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, ৯ থেকে ১৩ আগস্ট গভর্ন্যান্স গ্লোবাল প্র্যাকটিসের একটি প্রতিনিধিদল এবং ৯ থেকে ১৬ আগস্ট রেজিলিয়েন্স, এন্টারপ্রেনারশিপ অ্যান্ড লাইভলিহুড ইমপ্রুভমেন্ট (রেলি) প্রকল্পের লার্নিং অ্যান্ড রেজাল্টস নোট মিশন বাংলাদেশ সফর করবে। বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানের অপারেশনস ম্যানেজার গেইল এইচ মার্টিন পৃথক দুটি চিঠিতে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ আহসান কিবরিয়া সিদ্দিকীকে এ বিষয়ে অবহিত করেছেন। গভর্ন্যান্স গ্লোবাল প্র্যাকটিসের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন প্র্যাকটিস ম্যানেজার হিশাম আহমেদ ওয়ালি এবং সিনিয়র অপারেশনস অফিসার আলেকসান্দার কোচেভস্কি। সফরকালে তারা অর্থ মন্ত্রণালয়, বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন ইউনিট (পিআইইউ) এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এসব বৈঠকে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পগুলোর আর্থিক ব্যবস্থাপনা, সরকারি ক্রয়, ফিডিউশিয়ারি ও নন-ফিডিউশিয়ারি বিষয়, জবাবদিহি এবং চলমান সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার উপায় নিয়ে আলোচনা হবে। অন্যদিকে রেলি প্রকল্পের মূল্যায়ন মিশনের নেতৃত্ব দেবেন টাস্ক টিম লিডার ও সিনিয়র এগ্রিকালচার স্পেশালিস্ট সামিনা ইয়াসমিন। তার সঙ্গে কৃষি, অর্থনীতি, আর্থিক ব্যবস্থাপনা, সরকারি ক্রয়, পরিবেশ, সামাজিক উন্নয়ন, প্রকল্প মূল্যায়ন এবং রেজিলিয়েন্স সূচক বিশ্লেষণের বিশেষজ্ঞরা থাকবেন। এছাড়া জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) একজন বিশেষজ্ঞও মিশনে অংশ নেবেন। বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, এই মিশনের লক্ষ্য হলো রেলি প্রকল্পের ফলাফল, উন্নয়নগত প্রভাব, আর্থিক ও অর্থনৈতিক দক্ষতা মূল্যায়নের পাশাপাশি বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা, সফলতা এবং উত্তম চর্চা নথিভুক্ত করা। এজন্য প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই করা হবে। প্রতিনিধিদলটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ (এফআইডি), বাস্তবায়নকারী সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও বৈঠক করবে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, আগস্টে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই দুটি মিশনের মাধ্যমে বিশ্বব্যাংক একদিকে উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর সুশাসন, আর্থিক শৃঙ্খলা ও জবাবদিহি পর্যালোচনা করবে, অন্যদিকে রেলি প্রকল্পের বাস্তব ফলাফল ও উন্নয়নগত প্রভাব মূল্যায়ন করবে। তাদের মতে, এসব মূল্যায়নের সুপারিশ ভবিষ্যতে প্রকল্প বাস্তবায়নের মানোন্নয়ন এবং বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত কর্মসূচিগুলো আরও কার্যকর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সৌজন্যে: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড
বাংলাদেশে কার্যরত বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ঋণ বিতরণে সংকোচনের ধারা অব্যাহত থাকলেও মুনাফা, আমানত এবং বৈদেশিক বাণিজ্যসংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। ২০২৫ সালের দ্বিতীয়ার্ধে এসব ব্যাংকের কর-পরবর্তী নিট মুনাফা বেড়েছে ৯২৩ কোটি টাকা। একই সময়ে আমানত সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে এবং রপ্তানি আয়ে শক্ত অবস্থান বজায় রেখেছে ব্যাংকগুলো। তবে ঋণ বিতরণ ও ব্যাংকিং খাতে বাজার অংশীদারি কমেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত ‘বাংলাদেশে বিদেশি ব্যাংকগুলোর কার্যক্রম : প্রবণতা ও পরিচালনাগত পর্যবেক্ষণ (জুলাই-ডিসেম্বর ২০২৫)’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে দেশে কার্যরত বিদেশি ব্যাংকগুলোর কর-পরবর্তী নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৭৩৮ কোটি টাকার বেশি। এর ছয় মাস আগে, জুন শেষে এ মুনাফার পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৮১৫ কোটি টাকার কিছু বেশি। ফলে ছয় মাসের ব্যবধানে ব্যাংকগুলোর নিট মুনাফা বেড়েছে ৯২৩ কোটি টাকা। একই সময়ে বিদেশি ব্যাংকগুলোর মোট আমানত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৭ হাজার ৫৬৭ কোটি টাকা, যা জুনের তুলনায় ৭৭ কোটি টাকার বেশি। যদিও আমানতের পরিমাণ বেড়েছে, দেশের সামগ্রিক ব্যাংকিং খাতে বিদেশি ব্যাংকগুলোর আমানতের অংশ ৪ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে কমে ৪ দশমিক ২ শতাংশে নেমে এসেছে। অন্যদিকে ঋণ বিতরণে উল্লেখযোগ্য সংকোচন হয়েছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর শেষে বিদেশি ব্যাংকগুলোর মোট ঋণ ছিল ৫১ হাজার ৯৭০ কোটি টাকা। এক বছরের ব্যবধানে তা কমে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে দাঁড়িয়েছে ৪৬ হাজার ১২২ কোটি টাকায়। অর্থাৎ বছরে ঋণ কমেছে প্রায় ৫ হাজার ৮৪৮ কোটি টাকা বা ১১ দশমিক ৩ শতাংশ। শুধু জুলাই থেকে ডিসেম্বর—এই ছয় মাসেই ঋণ কমেছে ২ হাজার ২৩২ কোটি টাকার বেশি। ফলে দেশের মোট ব্যাংক ঋণের মধ্যে বিদেশি ব্যাংকগুলোর অংশও ৩ দশমিক ১ শতাংশ থেকে কমে ২ দশমিক ৬ শতাংশে নেমে এসেছে। খাতভিত্তিক ঋণ বিতরণের চিত্রে দেখা যায়, শিল্প খাতই বিদেশি ব্যাংকগুলোর প্রধান ঋণগ্রহীতা। মোট ঋণের ৫২ শতাংশ গেছে শিল্প খাতে। ব্যবসা ও বাণিজ্য খাতে বিতরণ হয়েছে ২০ শতাংশ, ভোক্তা ঋণে ১৬ শতাংশ এবং বাকি অংশ গেছে অন্যান্য খাতে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিল্প খাতে ঋণ কিছুটা বাড়লেও ব্যবসা ও বাণিজ্য খাতে ঋণ বিতরণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। বৈদেশিক বাণিজ্য অর্থায়নে বিদেশি ব্যাংকগুলোর ভূমিকা এখনো গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর সময়ে এসব ব্যাংকের মাধ্যমে ৪ দশমিক ১২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের রপ্তানি আয় দেশে এসেছে, যা ওই সময়ে দেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ১৮ দশমিক ৮ শতাংশ। একই সময়ে এসব ব্যাংকের মাধ্যমে ৪ দশমিক ২৯ বিলিয়ন ডলারের আমদানি বিল পরিশোধ হয়েছে, যা মোট আমদানির ১৩ দশমিক ১ শতাংশের সমান। তবে প্রবাস আয় আহরণে বিদেশি ব্যাংকগুলোর অংশগ্রহণ এখনো খুবই সীমিত। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোট রেমিট্যান্সের মাত্র শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ এসব ব্যাংকের মাধ্যমে দেশে এসেছে। আর্থিক সক্ষমতার বিভিন্ন সূচকেও বিদেশি ব্যাংকগুলো তুলনামূলক ভালো অবস্থানে রয়েছে। তাদের মূলধন পর্যাপ্ততার হার নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্ধারিত ন্যূনতম সীমার চেয়ে বেশি। একই সঙ্গে তারল্য পরিস্থিতিও শক্তিশালী এবং খেলাপি ঋণের হার তুলনামূলকভাবে কম, যা ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় ব্যাংকগুলোর সক্ষমতার ইঙ্গিত দেয়। তবে বিশ্লেষকদের মতে, ধারাবাহিকভাবে ঋণ বিতরণ কমে যাওয়া এবং ব্যাংকিং খাতে বাজার অংশীদারি সংকুচিত হওয়া বিদেশি ব্যাংকগুলোর জন্য দীর্ঘ মেয়াদে উদ্বেগের বিষয়। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য অর্থায়ন, বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন এবং বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের ব্যাংকিং সেবায় এসব ব্যাংকের শক্ত অবস্থান এখনো দেশের আর্থিক খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।