জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে আনীত দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে তীব্র কটাক্ষ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী (সচিব পদমর্যাদা) রাশেদ খাঁন। তার দাবি, নানা দুর্নীতির অভিযোগ ও রাজনৈতিক চাপ থেকে দায়মুক্তি পেতে এবং নিজেকে সুরক্ষার স্বার্থেই আসিফ মাহমুদ জামায়াত জোটে যোগ দিয়েছেন। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খাঁন লেখেন, আসিফ মাহমুদ যখন জামায়াতবিরোধী অবস্থান নিয়েছিলেন, আসিফ মাহমুদ যেসময় জামায়াত বিরোধী ছিলেন, সেসময় তার বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ সত্য ছিলো! এবং সেসময় দুর্নীতির অভিযোগে ড. মুহাম্মাদ ইউনূসের অনুরোধ সত্ত্বেও জামায়াতের আমির তাকে ঢাকা-১০ আসনের নমিনেশন পর্যন্ত দেননি। এখন যেহেতু তিনি জামায়াত জোটের রাজনীতির চর্চা করেন, সুতরাং তার বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ ভিত্তিহীন! একজন ব্যক্তি অপরাধী নাকি নিরপরাধ, তা বর্তমানে তিনি জামায়াতের সঙ্গে আছেন কি না তার ওপর নির্ভর করছে বলে মন্তব্য করেন রাশেদ খাঁন। তিনি বলেন, একজন ব্যক্তি অপরাধী নাকি নিরপরাধ ,সেটি নির্ভর করে সে জামায়াতের লোক কি না! জামায়াত করলে বা জামায়াতকে সমর্থন করলে, একজন ব্যক্তির সমস্ত অপরাধ ধুয়েমুছে যায় এবং তিনি পুরোদস্তুর ফেরেস্তা হয়ে যান! আর তাই আসিফ মাহমুদও তার অভিযোগ থেকে দায়মুক্তি পেতে জামায়াত জোটে যোগদান করেছেন! তিনি আরও বলেন, এখন আসিফ মাহমুদ পুরোপুরি নিষ্পাপ ,একদম কলঙ্কমুক্ত! আবার যদি কখনো এনসিপি জামায়াত জোট ছাড়ে, তখন আর দুদক লাগবে না, জামায়াত শিবিরই তার দুর্নীতির বিচারের রায় দিয়ে দিবে! দেখা যাক, আসিফ মাহমুদ আর কতোদিন জমায়াত জোটের রাজনীতি করে নিজেকে সেইফ করতে পারেন! তবে এতোটুকু জানতে পারলাম, বাঁচার জন্য তিনি ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন থেকে সেইফ এক্সিট নিয়েছেন! জামায়াত তাকে ঢাকা দক্ষিণ ছাড়বে না, সাফ জানিয়ে দেওয়ার পর তিনি উত্তরে গেছেন! পরবর্তীতে জামায়াত নেতা সেলিম উদ্দিনকে সমর্থন দিয়ে তিনি বসে পড়বেন! গণঅভ্যুত্থানের একজন গুরুত্বপূর্ণ মুখপাত্রকে জামায়াতের সমর্থনে দুর্নীতি থেকে বাঁচতে এতো বড় ত্যাগ স্বীকার করতে হচ্ছে... খুবই দুঃখজনক , খুবই দুঃখজনক!
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী ও ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছেন এনসিপির আহবায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) এ উপলক্ষে দুই মহানগরের বিভিন্ন ওয়ার্ডের সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত সমন্বয় সভায় তিনি এই ঘোষণা দেন। সভায় সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী অন্বেষণ, ওয়ার্ডভিত্তিক নাগরিক সমস্যা চিহ্নিত করে তা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ এবং জুলাই শহিদ ও আহতদের পরিবারের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ ছাড়া পতিত ও পলাতক আওয়ামী লীগের নাশকতামূলক তৎপরতার বিষয়ে সতর্ক থেকে কঠোর নজরদারি রাখার নির্দেশনা দেন নাহিদ ইসলাম। সভায় ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর মহানগর এনসিপির আহবায়ক ইসহাক সরকার ও আরিফুল ইসলাম আদীবসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
পরদিন অ্যাসাইনমেন্ট জমা দিতে হবে। রাত তিনটায় ঘুম থেকে উঠে পড়তে বসে যেতেন রিশাদ শরিফ। অ্যাসাইনমেন্ট শেষে সকাল ছয়টায় ধরতেন অফিসের ট্রেন। এভাবেই কেটেছে গত দুই বছর। রিশাদ বলছিলেন, ‘স্বপ্ন দেখতে সবাই পছন্দ করে। কিন্তু সেটাকে বাস্তব করাটা আসলে খুব বোরিং হার্ডওয়ার্ক (একঘেয়ে পরিশ্রম), যেটা প্রতিদিন করতে হয়।’ সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির এক্সিকিউটিভ এমবিএতে (ইএমবিএ) ‘ডিনস অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছেন রিশাদ। অক্সফোর্ড ইএমবিএর জানুয়ারি ২০২৪ কোহর্টে (ব্যাচ) প্রথম হয়ে এই স্বীকৃতি পেয়েছেন তিনি। পেশাজীবীদের জন্য এক্সিকিউটিভ এমবিএ স্নাতকোত্তর পর্যায়ের একটি ডিগ্রি। র্যাঙ্কিংয়ে অক্সফোর্ডের এই ডিগ্রি বিশ্বের সেরা। রিশাদের বেড়ে ওঠা ঢাকার মালিবাগে। পড়েছেন সেন্ট যোসেফ হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলে। নটর ডেম কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক। ২০০৯ সালে গাজীপুরের ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি (আইইউটি) থেকে স্নাতক করেন। পরের বছর যোগ দেন ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশে। কাজের সূত্রে গত ছয় বছর সপরিবার যুক্তরাজ্যে আছেন। এখন তিনি ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর অপারেশন স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটির বৈশ্বিক প্রধান। অক্সফোর্ডে তাঁর ইএমবিএর ব্যাচে প্রায় ২৬ দেশের ৬০ জন পেশাজীবী ছিলেন। তাঁদের কেউ ব্যবসায়ী, কেউ রাজনীতিবিদ, প্রযুক্তি উদ্যোক্তা কিংবা চিকিৎসক। প্রত্যেকেরই সংশ্লিষ্ট পেশায় দীর্ঘদিনের কাজের অভিজ্ঞতা আছে। আবার কেন পড়াশোনা রিশাদের পেশাজীবন প্রায় ১৬ বছরের। স্ত্রী ফারহা দিবা সুফিয়ান একজন অর্থনীতিবিদ। তাঁদের দুই সন্তান। ৯ বছরের নাদিন ও ৫ বছরের হামজা। প্রশ্ন ছিল, ‘এই ব্যস্ত জীবনে আবার কেন পড়ালেখার কথা ভাবলেন?’ রিশাদের সহজ উত্তর, ‘আমি এটাকে ব্যক্তি উন্নয়নের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখেছি।’ কথায় কথায় আরও দুটি কারণ জানা গেল। প্রথমত, তিনি সন্তানদের অনুপ্রেরণা দিতে চান। দ্বিতীয়ত, দেশের প্রতিনিধিত্ব করার ভাবনাও তাঁর মাথায় ছিল। রিশাদ বলেন, ‘আমার কোহর্টে, কিংবা এর আগে-পরেও কোনো বাংলাদেশিকে আমি অক্সফোর্ডের ইএমবিএতে পাইনি। অনেকে তো আমাদের দেশকে নেতিবাচকভাবে দেখে। মনে করে শাসনব্যবস্থা ভালো না, গরিব। আমি দেশকে ইতিবাচকভাবে উপস্থাপন করতে চেয়েছি। সে জন্য ভালো রেজাল্ট করার একটা বাড়তি চেষ্টা ছিল।’ এক্সিকিউটিভ এমবিএর জন্য অক্সফোর্ড ছাড়াও লন্ডন বিজনেস স্কুলে আবেদন করেছিলেন রিশাদ। সেখানেও তিনি নির্বাচিত হন। রিশাদ জানালেন, অভিবাসীরা সাধারণত বড় স্বপ্ন দেখার সাহস করে না। সেই অনিশ্চয়তা রিশাদেরও ছিল। তবে তিনি বিশ্বাস করেন, মানুষ তার স্বপ্নের সমানই বড়। বলছিলেন, ‘বাস্কেটবল খেলোয়াড় মাইকেল জর্ডানের একটা কথা আছে। প্রতিটি না নেওয়া শট একটা মিসড শট। অর্থাৎ, তুমি যদি শটটা না-ই নাও, তার মানে তুমি সেটা মিস করলে। শটটা বরং নিয়ে দেখো, জিততেও পারো। আমার মনে হয়, নিজেকে সেই পারমিশনটা দেওয়া উচিত।’ কীভাবে সামলাতেন পরিবার এবং কাজ সামলে প্রথমত ডিগ্রিটা অর্জন করাই ছিল চ্যালেঞ্জিং। একজন বাবা, স্বামী, চাকরিজীবীর দায়িত্বই অনেক বড়। তার সঙ্গে যোগ হয়েছিল আরও একটা পরিচয়—শিক্ষার্থী। তবে গত দুই বছর এই চ্যালেঞ্জ উপভোগও করেছেন তিনি। রিশাদ তাঁর কোহর্টের সহপাঠীদের ভোটে ‘গ্র্যাজুয়েশন স্পিকার’ নির্বাচিত হন। প্রায় ৬০০ মানুষের সামনে বক্তৃতা দেন তিনি। সেই বক্তব্যে গত দুই বছরের পথচলা প্রসঙ্গে রিশাদ বলেন, ‘গত ২৪ মাসের প্রতিটি সপ্তাহে কোনো দিন আমি ছিলাম একজন ব্যর্থ বাবা, কোনো দিন ব্যর্থ কর্মী, কোনো দিন ব্যর্থ বন্ধু আবার কোনো দিন একজন ব্যর্থ স্বামী। প্রতিদিন আপনি সবকিছু ঠিকভাবে করতে পারবেন না। কিন্তু আমি মনে করি, সামগ্রিকভাবে সবকিছুর মধ্যে একটা ভারসাম্য রাখতে হবে।’ রিশাদ মনে করেন, সবকিছু একা করা সম্ভব ছিল না। বিশেষ করে স্ত্রী ফারহার সহযোগিতা পেয়েছেন। বন্ধু ও সহকর্মীরাও তাঁদের জায়গা থেকে সাহায্য করেছেন। রুণদের জন্য কিছু করতে চান ছোটবেলা থেকে খেলাধুলা ভালোবাসতেন রিশাদ। স্কুলে ক্রিকেট, ফুটবল, বাস্কেটবলসহ সব ধরনের খেলাই খেলেছেন। স্কাউটিংও করতেন। বলছিলেন, ‘আমার মনে হয়, পড়ালেখার বাইরে খেলাধুলা গুরুত্বপূর্ণ। এটা আমাদের কঠিন সময়ে শান্ত থাকতে শেখায়, নেতৃত্ব শেখায়।’ প্রতিবছর ডিসেম্বরে দেশে আসেন তিনি। দেশে ‘হ্যামার হেডস’ নামে বন্ধুদের একটা ছোট ক্লাব আছে। দেশে এলে সেখানেই বন্ধুদের সঙ্গে ফুটবল খেলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিতর্ক করতেন। ডিবেটিং ক্লাবের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। বিতর্ক করার পাশাপাশি শেখাতেনও। বিশেষ করে স্কুল ও কলেজ শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে প্রশিক্ষণ দিতেন। বিচারক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। বিতর্কের সুবাদেই তাঁর একটা নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে। দেশের তরুণদের ‘ক্রিটিক্যাল থিংকিং’ ও যোগাযোগ-দক্ষতা উন্নয়নে কাজ করতে চান তিনি। রিশাদ বলেন, ‘জীবনে অসামান্য সব সুযোগ পেয়ে আমি অত্যন্ত ভাগ্যবান ও কৃতজ্ঞ। অর্জিত দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গি কাজে লাগিয়ে যদি কোনোভাবে দেশের উপকারে আসতে পারি, তবে তা হবে আমার সৌভাগ্য।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষিকা মোনামির পাঠদান, পেশাদারিত্ব, সময়ানুবর্তিতা, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আচরণ ও মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মূল্যায়ন ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীদের দেওয়া বেনামি রিভিউতে কেউ তাকে বন্ধুসুলভ ও ভালো শিক্ষক হিসেবে প্রশংসা করেছেন, আবার কেউ তার পাঠদান ও পেশাদারিত্ব নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। সব মিলিয়ে ৫ এর মধ্যে তিনি পেয়েছেন মাত্র ১.৫৯। শিক্ষার্থীদের দেওয়া রেটিংয়ের একটি স্ক্রিনশটে দেখা যায়, পাঁচের মধ্যে ‘শিক্ষক বিষয়বস্তু স্পষ্ট ও কার্যকরভাবে ব্যাখ্যা করেছেন’- এমন প্রশ্নে গড় স্কোর ১ দশমিক ৩৬। ‘ক্লাসে সমালোচনামূলক ও স্বাধীন চিন্তাকে উৎসাহিত করা হয়েছে’- এক্ষেত্রে স্কোর ১ দশমিক ৬০, আর ‘উদাহরণ ও ব্যাখ্যা পাঠ সহজে বুঝতে সহায়তা করেছে’- এ ক্ষেত্রে স্কোর ১ দশমিক ৫২। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সম্পৃক্ততা ও সহায়তার ক্ষেত্রেও রেটিং তুলনামূলক কম। প্রশ্ন করার ও উন্মুক্ত আলোচনায় উৎসাহ দেওয়ার ক্ষেত্রে স্কোর ২ দশমিক ০৪, শিক্ষার্থীদের কাছে সহজে পৌঁছানো ও তাদের প্রতি সাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে ১ দশমিক ৭৬ এবং সব শিক্ষার্থীর সঙ্গে সম্মান ও ন্যায্য আচরণের ক্ষেত্রে ১ দশমিক ৬৮। মূল্যায়ন ও ফিডব্যাকের ক্ষেত্রেও ‘গ্রেডিংয়ের মানদণ্ড স্পষ্ট, ন্যায্য ও স্বচ্ছ’- এমন প্রশ্নে স্কোর ১ দশমিক ৬৮। অ্যাসাইনমেন্ট ও পরীক্ষার ফিডব্যাক সময়মতো এবং গঠনমূলক ছিল কি না- এ প্রশ্নে স্কোর ১ দশমিক ৫৬। সবচেয়ে কম স্কোরগুলোর একটি দেখা গেছে পেশাদারিত্বের ক্ষেত্রে। ‘শিক্ষক সময়ানুবর্তী এবং নিয়মিত ক্লাস নিয়েছেন’- এ প্রশ্নে স্কোর ১ দশমিক ২০। ‘শিক্ষক পেশাগত সততা ও আচরণ বজায় রেখেছেন’- এ ক্ষেত্রে স্কোর ১ দশমিক ২৮। সামগ্রিকভাবেও রেটিং সন্তোষজনক নয়। ‘আমি এই শিক্ষককে অন্য শিক্ষার্থীদের কাছে সুপারিশ করব’- এ প্রশ্নে স্কোর ১ দশমিক ৪৪ এবং ‘সামগ্রিকভাবে আমি এই কোর্সের পাঠদানে সন্তুষ্ট’- এ ক্ষেত্রে স্কোর ১ দশমিক ৫২। তবে রেটিংয়ের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের লিখিত মন্তব্যে ভিন্ন চিত্রও উঠে এসেছে। একজন শিক্ষার্থী লিখেছেন, প্রচলিত ধারণার বিপরীতে মোনামি আসলে একজন ভালো শিক্ষক। তার ভাষ্য, শিক্ষিকা সবসময় বন্ধুসুলভ ও শিক্ষার্থীদের কাছে সহজে পৌঁছানো যায়। তিনি কিছুটা আবেগপ্রবণ হলেও পাঠদানে ভালো কাজ করেন। একই শিক্ষার্থী বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষিকার উপস্থিতি তার পাঠদানের সক্ষমতাকে সংজ্ঞায়িত করে না এবং একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে অপ্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত মন্তব্য করা উচিত নয়। অন্যদিকে কয়েকজন শিক্ষার্থী তার পেশাদারিত্ব ও পাঠদান নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছেন। একজন শিক্ষার্থী লিখেছেন, তার পুরো ছাত্রজীবনে এমন শিক্ষক দেখেননি। ওই শিক্ষার্থীর অভিযোগ, শিক্ষিকার পেশাদারিত্ব ও পাঠদান দক্ষতার ঘাটতি রয়েছে এবং সময় ব্যবস্থাপনাও দুর্বল। এমনকি তিনি পরীক্ষার তারিখও ভুলে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে। আরেক শিক্ষার্থী তাকে ‘সবচেয়ে খারাপ শিক্ষকদের একজন’ হিসেবে উল্লেখ করে সময় ব্যবস্থাপনা, পাঠদানের সক্ষমতা ও পক্ষপাতিত্ব নিয়ে অভিযোগ করেন। ওই শিক্ষার্থীর দাবি, শিক্ষিকা যে পরীক্ষাগুলো নেওয়ার কথা ছিল, সেগুলোর তারিখও ভুলে গেছেন, ফলে শিক্ষার্থীদের অপেক্ষা করতে হয়েছে। একই রিভিউতে আরও দাবি করা হয়, যারা তাকে তোষামোদ করেন তারা তার কাছ থেকে বেশি মনোযোগ ও ভালো নম্বর পান। তবে এসব অভিযোগের কোনো স্বাধীন যাচাই ওই রিভিউগুলোতে নেই। আরেক শিক্ষার্থী আরও তীব্র ভাষায় শিক্ষিকার শ্রেণিকক্ষ পরিচালনা ও পেশাদারিত্বের সমালোচনা করেছেন। ওই শিক্ষার্থীর দাবি, তিনি ক্লাসে এসে মূলত নিজের তৈরি লেকচার পড়েন এবং লেকচারের কিছু অংশ অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধুদের কাছ থেকে তৈরি করা। একই সঙ্গে সময়ানুবর্তিতা ও পেশাদারিত্ব নিয়েও কটাক্ষ করা হয়েছে। সাবেক প্রক্টরিয়াল টিমের দায়িত্ব থেকে সরে আসার পর পক্ষপাতিত্ব কমবে বলে আশা করলেও তা হয়নি বলেও ওই শিক্ষার্থী মন্তব্য করেছেন। ফলে লিখিত রিভিউগুলোতে মোনামির বিষয়ে একদিকে যেমন বন্ধুসুলভ, মানবিক ও ভালো শিক্ষক হিসেবে প্রশংসা রয়েছে, অন্যদিকে পাঠদান, সময়ানুবর্তিতা, পেশাদারিত্ব, মূল্যায়ন ও পক্ষপাতিত্ব নিয়ে গুরুতর অভিযোগও রয়েছে।
জাতীয় সংসদে বিএনপি সরকারের সমালোচনা করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার দেওয়া বক্তব্যের প্রতিবাদে ঝাড়ু মিছিল করেছে বিএনপি। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে এ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। এ সময় সংসদে দেওয়া বক্তব্য প্রত্যাহার না করলে রুমিন ফারহানাকে আশুগঞ্জে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করারও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। শনিবার বিকেলে আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে থেকে ঝাড়ু মিছিলটি বের হয়। মিছিলটি প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। বক্তারা বলেন, জ্বালানি সংকটের অজুহাতে রুমিন ফারহানা অসংসদীয় ভাষায় বিএনপি সরকারের সমালোচনা করেছেন। তার এ বক্তব্য আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপি ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছে। বিতর্কিত এ বক্তব্য প্রত্যাহার না করলে আশুগঞ্জের মাটিতে তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করারও হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা। আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান সিরাজের সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সভায় জেলা বিএনপির সহসভাপতি জাকির হোসেন, আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক কামাল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে ঢাকাসহ সারা দেশে প্রচারপত্র বিতরণ করবে বিএনপি। দেশের নামকরা চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞদের তৈরি করা এই প্রচারপত্রের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে ডেঙ্গু সম্পর্কে সচেতন করা হবে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, রেডিও ও টেলিভিশনে ডেঙ্গু সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান বারবার প্রচারের সিদ্ধান্ত হয়েছে। শনিবার রাতে দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সভা শেষে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সাংবাদিকদের এ কথা জানান। বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় গুলশানের চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ সভা হয়। সভায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রধানমন্ত্রীর নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের বিষয়ে আলোচনা হয়। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সব হাসপাতালে মশারি সরবরাহের বিষয়টি বিশেষভাবে আলোচনায় আসে। এ ছাড়া গার্ল গাইডস, স্কাউটসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও শিক্ষার্থীদের ডেঙ্গু সচেতনতার কাজে সম্পৃক্ত করতে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান নিয়েও আলোচনা হয়। দলের পক্ষ থেকে এ উদ্যোগগুলো সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রচার করা হবে। সভায় স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও হাটবাজারে আবর্জনা রাখার নির্দিষ্ট জায়গা করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। এক দিনের মধ্যে এসব আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে রাখার ব্যবস্থা করতে সচেতনতামূলক কাজ করবে বিএনপি। প্রয়োজনে দলীয়ভাবে এসব কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হবে। আবর্জনা থেকে এডিস মশার বিস্তার ঠেকাতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান রিজভী। ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন উদ্যোগ ও সচেতনতামূলক কর্মসূচির জন্য স্থায়ী কমিটির সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। স্থায়ী কমিটির দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, সাংগঠনিক বিষয়েও সভায় আলোচনা হয়েছে। দলের বিভিন্ন কমিটিতে কেউ মারা গেলে, বহিষ্কৃত হলে বা অন্য কোনো কারণে পদ শূন্য হলে তাঁর ঠিক নিচের পদে থাকা ব্যক্তিকে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী পদোন্নতি দিয়ে শূন্য পদ পূরণের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। দলীয় গঠনতন্ত্রের বিধান অনুযায়ী এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান। ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন প্রসঙ্গে সভায় ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী বাছাইয়ের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। আগামী ২৯ অক্টোবর ওই আসনে নির্বাচন হবে। দলের সাবেক মহাসচিব ও বর্তমান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি হওয়ায় তাঁর আসনটি শূন্য হয়। স্থায়ী কমিটির সভায় এ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য শিডিউল ঘোষণা করা হয়েছে। শিডিউল অনুযায়ী, ১৫ সেপ্টেম্বর পল্টনে দলীয় কার্যালয় থেকে আগ্রহী প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে পারবেন। ১৬ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র পূরণ করে জমা দিতে হবে। ১৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় জাতীয় স্থায়ী কমিটির (মনোনয়ন বোর্ড) সভায় চূড়ান্ত প্রার্থী নির্বাচন করা হবে। সভায় স্থায়ী কমিটির নতুন চার সদস্য রুহুল কবির রিজভী, আমানউল্লাহ আমান, ইসমাইল জবিউল্লাহ ও ফরহাদ হালিম ডোনার প্রথমবারের মতো অংশ নেন। জানা গেছে, সভার শুরুতে নতুন সদস্যদের অভ্যর্থনা জানানো হয়। এ সময় একজন সদস্য বলেন, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব থেকে আসা দুজন নেতা প্রথমবারের মতো বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হলেন। সভায় বিএনপির সপ্তম জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠানের বিষয়ে কোনো আলোচনা বা সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, কাউন্সিল নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। তিনি জানান, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিভিন্ন কমিটির পদ শূন্য হওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, আবদুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান, এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনে উপনির্বাচনে দলীয় প্রার্থী বাছাই করতে ১৫ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র বিক্রি করবে বিএনপি। শনিবার রাতে গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে দলের নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। ব্ঠৈক শেষে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানান, আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করতে পারবেন আগ্রহী প্রার্থীরা। মনোনয়ন ফরম জমা দিতে হবে পরদিন এবং সাক্ষাৎকার হবে ১৮ সেপ্টেম্বর। তিনি বলন, গুলশানে চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে মনোনয়ন বোর্ড প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নেবে। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় ঠাকুরগাঁ-১ আসনটি শূন্য হয়েছে। এ আসনে উপনির্বাচন হবে আগামী ২৯ অক্টোবর। শনিবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় গুলশানে চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে দলের চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকে কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান, এজেডএম জাহিদ হোসেন, রুহুল কবির রিজভী, আমান উল্লাহ আমান, ইসমাইল জবিহউল্লাহ, ফরহাদ হালিম উপস্থিত ছিলেন। এ বৈঠকে আরেকটি সিদ্ধান্তের কথা তুলে ধরে রিজভী বলেন, দলের যেসব কমিটির সদস্য মারা গেছেন কিংবা বহিষ্কার হয়েছেন সেসব শূন্য পদ গঠনতন্ত্র অনুযায়ী পুরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বৈঠকে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারের তিন মাসের যে অভিযান শুরু হয়েছে তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যে আহ্বান জানিয়েছে সেজন্য বৈঠকে তাকে ধন্যবাদ জানানো হয়। “বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সাধারণ মানুষকে সচেতনতার জন্য প্রচারপত্র বিতরণ করা হবে ঢাকাসহ সারাদেশে। দেশের নামকরা যেসব চিকিৎসক রয়েছেন, বিশেষজ্ঞ যারা রয়েছেন তাদের নেতৃত্বে এই প্রচারপত্র তৈরি করা হবে। এছাড়া টিভি-বেতারে সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টির জন্য দলের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠান প্রচার করা হবে। স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও হাটবাজারে আর্বজনা যাতে একটা জায়গায় রাখতে পারে সে বিষয়ে বিএনপি কাজ করবে বলে তুলে ধরেন তিনি।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে চলে যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দীর্ঘ ১৫ বছরের টানা একচ্ছত্র ক্ষমতা ‘তাসের ঘরের’ মতো চুরমার হয়ে যায় সেদিন। এরপর থেকে ভারতেই আছেন তিনি। দুই বছর পর আগামী ডিসেম্বরে দেশের ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা। এদিকে বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের একাংশ মনে করছেন, তাদের দলের সভাপতি শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে দলটি নতুন করে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হওয়ার সুযোগ পাবে। আর তিনি না ফিরলে দলের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। ফলে সব ঝুঁকি মাথায় নিয়ে ঘোষিত সময়েই শেখ হাসিনা দেশে ফিরবেন বলে আশা করছেন তারা। দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক বৈঠকেও এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। এসব আলোচনার অংশ হিসাবে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার আগে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতার দেশে ফেরার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি তার সঙ্গে আরও অনেক নেতাকর্মী দেশে ফিরবেন বলেও ঘোষণা দিয়েছেন। শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ফের শুরু হয়েছে নানা আলোচনা ও গুঞ্জন। তিনি সত্যিই দেশে ফিরবেন কিনা- তা নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যেও। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ডিসেম্বরের মধ্যে শেখ হাসিনার ফেরা কিংবা না ফেরা- দুই পরিস্থিতিরই বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ তাৎপর্য রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তার দেশে ফেরার বিষয়ে যেসব বক্তব্য সামনে আসছে, সেগুলো আসলেই দেশে ফেরার কোনো বাস্তব প্রস্তুতির ইঙ্গিত, নাকি দলীয় নেতাকর্মীদের চাঙা রাখা ও রাজনৈতিকভাবে চাপ তৈরির কৌশল-নানা মহলে সেই আলোচনাও ঘুরপাক খাচ্ছে। কারণ বর্তমান পরিস্থিতি ও বাস্তবতায় তার দেশে ফেরার পথ সহজ নয়, বরং কঠিন। ফিরতে চাইলে বহুমুখী ঝুঁকি নিয়েই তাকে ফিরতে হবে। আবার ঘোষণা দিয়ে দেশে না ফিরলে তার ওপর দলের নেতাকর্মীদের আস্থার সংকট তৈরি হবে। এতে করে মূলত তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের মৃত্যু হবে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা নিছক কোনো বক্তব্য নয়; এর পেছনে রয়েছে সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্র। এর গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক তাৎপর্যও রয়েছে। একই সঙ্গে এই ঘোষণার মধ্যে বড় ধরনের রাজনৈতিক ঝুঁকিও রয়েছে বলে মনে করছেন তারা। তাদের মতে, সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো- ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে শেখ হাসিনা শেষ পর্যন্ত দেশে ফিরতে না পারলে ১ জানুয়ারি থেকেই তার রাজনৈতিক নেতৃত্ব বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়তে পারে। দলের নেতৃত্ব প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এমনকি এরপর তিনি দেশে ফেরার বিষয়ে যে কোনো ঘোষণা দিলে সেটি নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের কাছে আগের মতো বিশ্বাসযোগ্যতা নাও পেতে পারে। তাছাড়া সরকার যেখানে তাকে আইনের মুখোমুখি করতে দেশে ফিরিয়ে আনতে অনড় অবস্থানে রয়েছে, সেখানে তিনি অন্য কোনো অজুহাত হাজির করতে পারবেন না। তাছাড়া তিনিও তো বিচারের মুখোমুখি হতে চান বলে ঘোষণা দিয়েছেন। শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বিন্দুমাত্র নৈতিক অবস্থান নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। যুগান্তরকে তিনি বলেন, জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের পর প্রাণহানির ঘটনায় তার প্রথম দায়িত্ব ছিল মানুষের কাছে দুঃখ প্রকাশ ও অনুশোচনা করা। কিন্তু তার বক্তব্যে এখনো বলপ্রয়োগ ও জেদের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। এই অবস্থান নিয়ে শেখ হাসিনা আবার দেশে ফিরে আওয়ামী লীগকে সংগঠিত করবেন- এটি ‘অমাবস্যার দিনে পূর্ণিমার চাঁদ দেখার মতো একটা স্বপ্ন’। তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনা নিজেই এখন তার উত্তরাধিকার হিসাবে শেখ সেলিমকে দায়িত্ব দেওয়ার কথা বলেছেন। শেখ সেলিমের যদি সেই সৎ সাহস থাকে, তাহলে তিনি দেশে ফিরে আসুক; তাকে তো কেউ বাধা দিচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিকভাবে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে নিষিদ্ধ। সেই নিষেধাজ্ঞার গেজেট চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিটও হয়েছে। বিষয়টি এখন বিচার বিভাগের এখতিয়ারাধীন হওয়ায় এ মুহূর্তে এ নিয়ে মন্তব্য করা কঠিন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামিম যুগান্তরকে বলেন, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বাংলাদেশে অনেক মামলা বিচারাধীন, ট্রাইব্যুনালে একটি মামলায় তিনি দণ্ডপ্রাপ্ত। ফলে আমরা চাই ভারত প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় তাকে গ্রেফতার করে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাবে। এছাড়া তিনি বাংলাদেশে এলে বিমানবন্দরেই গ্রেফতার হবেন। এরপর তার রায় কার্যকর হবে। এর বাইরে আর কোনো সুযোগ নেই। তিনি আরও বলেন, কারণ ট্রাইব্যুনাল আইনে বলা আছে, রায়ের কপি পাওয়ার ৩০ দিন পর আর কোনো আপিল করা যাবে না। অনেক আগেই ৩০ দিন অতিবাহিত হয়েছে, মৃত্যুদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার আপিল করার আর কোনো সুযোগ নেই।
পাকিস্তানের প্রথম গভর্নর জেনারেল মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ৭৮তম মৃত্যুবার্ষিকীতে তাকে ‘শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায়’ স্মরণ করেছে শহিদ শরীফ ওসমান হাদির প্রতিষ্ঠিত সংগঠন ‘ইনকিলাব মঞ্চ’। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাতে সংগঠনটির ফেসবুক পেজে জিন্নাহর একটি সাদাকালো ছবি প্রকাশ করে তাকে স্মরণ করা হয়। ছবির সঙ্গে দেওয়া বার্তায় সংগঠনটি লিখেছে, ‘উপমহাদেশের অন্যতম রাজনীতিবিদ, দ্বিজাতিতত্ত্বের প্রবক্তা, পাকিস্তান রাষ্ট্রের অন্যতম স্বপ্নদ্রষ্টা ও পাকিস্তানের প্রথম গভর্নর জেনারেল কায়েদে আজম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর মৃত্যুবার্ষিকীতে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ।’ পাকিস্তানের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ ১৮৭৬ সালের ২৫ ডিসেম্বর করাচিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৪৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর মারা যান। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর তিনি দেশটির প্রথম গভর্নর জেনারেলের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৪৮ সালের মার্চে ঢাকার রেসকোর্স ময়দান ও কার্জন হলে দেওয়া বক্তব্যে জিন্নাহ উর্দুকে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ঘোষণা করেন। তার এই বক্তব্যের প্রতিবাদে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের ছাত্রসমাজে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। জিন্নাহর ওই অবস্থান বাঙালি জনগোষ্ঠীর মধ্যে গভীর অসন্তোষের জন্ম দেয়। পরবর্তী সময়ে ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে গড়ে ওঠা আন্দোলন ১৯৫২ সালের ঐতিহাসিক রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে রূপ নেয়।
কুমিল্লার দেবিদ্বারে বিএনপিতে যোগ দিয়েও রক্ষা হয়নি কার্যক্রম নিষিদ্ধ সেচ্ছাসেবক লীগ নেতা ও ইউপি সদস্য মো. আলম হাজারীর। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার বড়শালঘর গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মো. আলম হাজারী (৪৫) বড়শালঘর গ্রামের আবুল হাসেম হাজারীর ছেলে। তিনি বড়শালঘর ইউপি সদস্য ও ইউনিয়ন সেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি এবং উপজেলা সেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর ২০২৫ সালের ২১ ডিসেম্বর দেবিদ্বারের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য প্রকৌশলী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর বাসায় আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দেন তিনি। পুলিশ এবং স্থানীয়রা জানায়, আলম হাজারী বিএনপিতে যোগদানের পর এলাকায় অবস্থান করছিলেন। সম্প্রতি শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন, আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও সব রাজবন্দিদের মুক্তির দাবিতে তিনি সক্রিয় হয়ে ওঠেন। পুলিশ শুক্রবার বিকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার দাউদকান্দি এলাকায় বিক্ষোভ মিছিলে অংশগ্রহণের অভিযোগ তুলেন আলম হাজারীর বিরুদ্ধে। দেবিদ্বার থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান বলেন, আলম হাজারী নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের গোপন কার্যক্রমে সক্রিয় রয়েছেন। সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শুক্রবার বিকালে ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার দাউদকান্দিতে আওয়ামী লীগের বিক্ষোভ মিছিলের অর্থ যোগানদাতা ছিলেন তিনি। তার বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী বলেছেন, ‘সমাজ থেকে ধর্ষণ, নারী নির্যাতনসহ সব ধরনের অপরাধ মুছে দেবে বিএনপি।’ শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে মহিলা দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। রিজভী বলেন, ‘নারীর ক্ষমতায়ন ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। এ কাজে মহিলা দলের নেতাকর্মীদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘আজকে বিএনপি ক্ষমতায়, আমাদের প্রত্যেকেই সরকারের অংশ। শুধু পদ-পদবি থাকলেই সরকারের অংশ হতে হবে, তা নয়।’ মহিলা দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে রিজভী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সরকারে মহিলা দলেরও রক্ত-ঘাম আছে। আপনারাও এই সরকারের অংশ।’ নারীর ক্ষমতায়নে সরকারের নেওয়া ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচিকে যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেন, ‘সরকারের এ কর্মসূচি সফল করতে মহিলা দলের নেত্রীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।’ নারীর ক্ষমতায়ন ও সামাজিক নিরাপত্তায় সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরতে মহিলা দলের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বানও জানান তিনি।
নেতাকর্মীদের পদত্যাগে সাংগঠনিক কার্যক্রমে স্থবিরতার পর রাঙামাটিতে নতুন করে জেলা আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। ছয় মাসের জন্য অনুমোদন পাওয়া ৪৯ সদস্যের কমিটিতে প্রিয় চাকমাকে আহ্বায়ক, শাহিদুল ইসলাম খানকে সদস্যসচিব এবং শাহেদুল আলম শাকিলকে সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়েছে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) নতুন এ কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। এর আগে গত ২৬ আগস্ট এনসিপির রাঙামাটি জেলার সাংগঠনিক সমন্বয় সভায় জেলা আহ্বায়ক কমিটি গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। ওই সভায় দলটির কেন্দ্রীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সদস্যসচিব সারোয়ার তুষার ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম সুজা উদ্দিনসহ সংশ্লিষ্ট নেতারা উপস্থিত ছিলেন। রাঙামাটিতে বিভিন্ন সময়ে এনসিপির শীর্ষ নেতাসহ বেশ কয়েকজন নেতা পদত্যাগ করেন। পরে পদত্যাগ করা অনেক নেতাকর্মী অন্য রাজনৈতিক দলেও যোগ দেন। এতে রাঙামাটি পার্বত্য জেলায় দলটির সাংগঠনিক কার্যক্রম অনেকটা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটি আগামী ছয় মাস দায়িত্ব পালন করবে। এ সময়ের মধ্যে দলটির সাংগঠনিক কার্যক্রমকে গতিশীল করতে একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করবে।
আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর রংপুরে দ্বিতীয় লং মার্চ অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ ঘোষণা দেন। এ সময় সরকারের বিরুদ্ধে জনগণের দেওয়া রায় উপেক্ষা এবং প্রতিশ্রুতি পূরণ না করার অভিযোগ তোলে জামায়াত আমির বলেন, ‘জাতির সঙ্গে দেওয়া ওয়াদা সরকার পালন করেনি। জনগণের গণরায় সরকার উপেক্ষা করেছে।’ বিল পাসের সময় জামায়াতের পক্ষ থেকে দেওয়া মতামত প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, কয়েকটি বিষয় ছাড়া তাদের মতামত সরকার আমলে নেয়নি। ভোটের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না করা হলে সেটিকে প্রতারণার শামিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী নির্বাচনের ফলাফল মেনে না নেওয়ায় মুক্তিযুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। একইভাবে জনগণের ভোটের রায় সরকার উপেক্ষা করলে সেটি তারা মেনে নেবেন না বলে জানান তিনি। সংস্কার বাস্তবায়নের গুরুত্ব তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যকর হলে কোনো সরকার স্বেচ্ছাচারিতা করতে পারবে না। সরকার সংস্কার বাস্তবায়ন না করলেও জনগণের রায় থেকে তারা সরে দাঁড়াবেন না। সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়ে তার অবস্থান তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘সরকার ভালো কাজ করলে আমরা সমর্থন করব। খারাপ কাজ করলে তার বিরোধিতা করব এবং প্রতিরোধ গড়ে তুলব।’ র্যাব বিলুপ্ত করে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) গঠনের বিষয়েও সমালোচনা করেন তিনি। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘র্যাব জাতির সঙ্গে চরম অন্যায় করেছে, তাই আমরা এর বিলুপ্তি চেয়েছিলাম। কিন্তু পুরাতন সদস্য এবং আগের সব কার্যক্রম রেখে নতুন মোড়ক দেওয়া হয়েছে এসআরবি গঠনের মাধ্যমে।’ এ ছাড়া সম্পদ বণ্টন আইন নিয়েও আপত্তি জানান জামায়াত আমির। তিনি বলেন, ‘কোরআনের বিপরীতে তারা সম্পদ বণ্টন আইন করেছে। এমন দুঃসাহস ইংরেজরাও করেনি।’
মাত্র ১৬ দিনে সারা দেশ থেকে ৬২৭টি চাঁদাবাজির অভিযোগ জমা পড়েছে বেনামে অভিযোগ গ্রহণকারী প্ল্যাটফর্ম চান্দাবিডিডটকমে। এসব অভিযোগে দাবি করা অর্থের পরিমাণ ১৮ কোটি ৬৫ লাখ ৭৩ হাজার ৬২ টাকা। হিসাবে দেখা গেছে, প্রতিদিন গড়ে এক কোটি ১৬ লাখ টাকার বেশি চাঁদা দাবির অভিযোগ জমা পড়েছে। গত ২৫ আগস্ট থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সংগৃহীত অভিযোগের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, অভিযোগের সংখ্যায় ঢাকা বিভাগ এগিয়ে থাকলেও দাবীকৃত অর্থের পরিমাণে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে খুলনা। মাত্র ৪২টি অভিযোগে খুলনা বিভাগে দাবীকৃত অর্থের পরিমাণ দুই কোটি আট লাখ ৩১ হাজার ৭০ টাকা। অর্থাৎ অভিযোগপ্রতি দাবির গড় অঙ্কের দিক থেকে বিভাগটির অবস্থান সর্বোচ্চ। চান্দাবিডিডটকমের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা বিভাগে ২৬৯টি অভিযোগে দাবীকৃত অর্থ ১২ কোটি ২৮ লাখ ৮০ হাজার ৯৬০ টাকা, যা মোট দাবীকৃত অর্থের প্রায় ৬৬ শতাংশ। সংখ্যার দিক থেকে দ্বিতীয় চট্টগ্রাম বিভাগে ১৩৭টি অভিযোগে দাবীকৃত অর্থ এক কোটি ৫৭ লাখ ৭৬ হাজার ৩৩ টাকা। এ ছাড়া রাজশাহী বিভাগে ৫৬টি অভিযোগে এক কোটি সাত লাখ ৭৩ হাজার ২৮০ টাকা, রংপুরে ৪৩টি অভিযোগে ৯৭ লাখ ৫৩ হাজার ৮৮০ টাকা, সিলেটে ২২টি অভিযোগে ৩৫ লাখ ৭১ হাজার ৫৬৪ টাকা, বরিশালে ৩৩টি অভিযোগে ১৫ লাখ ৭১ হাজার ৫৩৫ টাকা এবং ময়মনসিংহে ২৫টি অভিযোগে ১৪ লাখ ১৪ হাজার ৭৪০ টাকা চাঁদা দাবির তথ্য পাওয়া গেছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার ঐতিহ্যবাহী চুনতীতে শুরু হয়েছে ১৯ দিনব্যাপী ৫৬তম আন্তর্জাতিক মাহফিলে সীরাতুন্নবী (সা.)। দীর্ঘ ৫৬ বছরের পথচলায় এ মাহফিল এখন চুনতি বা লোহাগাড়ার গণ্ডি ছাড়িয়ে দেশের অন্যতম বৃহৎ সীরাত মাহফিলে পরিণত হয়েছে। এতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আলেম-ওলামা ও লাখো ধর্মপ্রাণ মানুষ অংশ নিচ্ছেন। মাহফিলে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর জীবন, আদর্শ, সাম্য, ন্যায়, ইনসাফ ও মানবিকতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করছেন আলেম-ওলামারা। পাশাপাশি ইসলামী শিক্ষা ও মূল্যবোধ চর্চার মাধ্যমে একটি ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক সমাজ গঠনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ঐতিহ্যবাহী এ মাহফিলে উপস্থিত হয়ে ধর্মপ্রাণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দিন পাটওয়ারী। এ সময় তিনি বক্তব্য দেন। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর জীবন ও আদর্শ থেকে ন্যায়, ইনসাফ, মানবিকতা ও মানুষের অধিকার রক্ষার শিক্ষা নিতে হবে। সেই শিক্ষা ধারণ করে একটি বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, ইসলাম ও ইসলামী মূল্যবোধের মর্যাদা রক্ষার পাশাপাশি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে এ দেশের মানুষকে সবসময় সজাগ ও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। দেশের স্বার্থ, মানুষের অধিকার এবং ন্যায় ও ইনসাফের প্রশ্নে কোনো আপস করা যাবে না। তিনি আরও বলেন, আলেম-ওলামা, তরুণ প্রজন্মসহ দেশের সর্বস্তরের মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে একটি স্বাধীন, মর্যাদাশীল ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ নির্মাণে ভূমিকা রাখবে এটাই প্রত্যাশা। চুনতির ঐতিহাসিক সীরাত মাহফিল প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে মহানবী (সা.)-এর আদর্শ ও মানবতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি মানুষের মধ্যে ন্যায়, ইনসাফ ও দেশপ্রেমের চেতনাকে আরও শক্তিশালী করবে বলেও প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মালিকানাধীন গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে হবে বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়ার নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। এ বিষয়ে জারি করা রুল খারিজ করে আদালত এ রায় দেন। আদালতে ড. ইউনূসের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মামুন, ব্যারিস্টার ফিদা এম কামাল। এর আগে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর গ্রামীণ কল্যাণের করা ওই দুটি রিট খারিজ করে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট রায় ঘোষণা করেন বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ। পরে ওই বছরের ২৯ আগস্ট তা প্রত্যাহার করে নেন একই বেঞ্চ। কারণ হিসেবে বলা হয়, দ্বৈত বেঞ্চের দ্বিতীয় বিচারপতি একসময় এসব মামলায় সরকারপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। যেহেতু তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন, সুতরাং রায়টি ডিফেক্টিভ (ত্রুটিপূর্ণ) হবে। তখন প্রধান বিচারপতির কাছে এ মামলার নথি পাঠানো হয়। পরে নতুন বেঞ্চে মামলাটি পাঠানো হয়। পুনর্মূল্যায়নের পর ২০১২-১৩, ২০১৩-১৪, ২০১৪-১৫, ২০১৫-১৬ ও ২০১৬-১৭—এই করবর্ষের জন্য গ্রামীণ কল্যাণের কাছে প্রদেয় কর দাবি ঘিরে গ্রামীণ কল্যাণ ২০১৭ সালে পৃথক দুটি রিট করে। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে আদালত রায় রুল দেন। আজ রুল খারিজ করলেন হাইকোর্টের নতুন এ বেঞ্চ। রিট খারিজ হওয়ায় আয়কর বাবদ গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে ওই অর্থ আদায় করতে পারবে এনবিআর। পরে এনবিআরের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আব্দুস সামাদ আজাদ বলেন,২০১৭ সালে দুটি রিট পিটিশন ফাইল করা হয়।।বিষয়টা হচ্ছে এরকম যে, গ্রামীণ কল্যাণ, গ্রামীণ টেলিকমের সঙ্গে একটি এগ্রিমেন্টে পৌঁছায় যে—গ্রামীণ কল্যাণকে গ্রামীণ টেলিকম কিছু আর্থিক সহায়তা দেবে। সেই আর্থিক সহায়তার প্রতিদান হিসেবে গ্রামীণ টেলিকম তার অর্জিত ডিভিডেন্ড থেকে, গ্রামীণ কল্যাণের শেয়ার থেকে অর্জিত ডিভিডেন্ড থেকে ৪২.৫০% প্রফিট গ্রামীণ কল্যাণকে প্রদান করবে। পরবর্তী সময়ে এটা যখন ইনকাম ট্যাক্স অথরিটি তাদের ফাইলটা আন্ডার সেকশন ১২০-তে রিওপেন করে এবং দেখে যে, গ্রামীণ টেলিকম থেকে গ্রামীণ কল্যাণ যে প্রফিটটা আর্ন করেছে, সেটার ওপর তারা অ্যাট সোর্সে উৎসে কর কর্তন করেনি। যে কারণে এই রিওপেন। পরবর্তী সময়ে এটা রিভিশন ফাইল করে বিফোর দ্য কমিশনার অব ট্যাক্সেস। তার এগেইনস্টে হাইকোর্টে রিট পিটিশন ফাইল করা হয়। আইনজীবী আরও বলেন, দীর্ঘ শুনানির পর আজকে এই মামলাটি হাইকোর্ট ডিভিশনের একটি দ্বৈত বেঞ্চ বিচারপতি মোহাম্মদ মজিবুর রহমান মিয়া এবং বিচারপতি রেজাউল করিম মহোদয়ের বেঞ্চে রায় প্রদান করেন এবং রুলটি ডিসচার্জ করা হয়। যার ফলে এই রায়টি ট্যাক্সেস ডিপার্টমেন্টের পক্ষে, তথা সরকারের পক্ষে আসে। এবং এতে জড়িত রাজস্বের পরিমাণ ৬৬৬ কোটি টাকা। যা এখন ট্যাক্সেস ডিপার্টমেন্ট এই প্রতিষ্ঠান থেকে আইন অনুযায়ী আদায় করতে পারবে এবং ডিমান্ড নোটিশ যথাযথভাবে ইস্যু করবে।
অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ পিছিয়ে আগামী ১১ অক্টোবর নির্ধারণ করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক আব্দুল্লাহ আল মামুনের আদালতে মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন নির্ধারণ ছিল। তবে এ দিন কোনো সাক্ষী আদালতে উপস্থিত হয়নি। এজন্য বিচারক পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য নতুন করে এ তারিখ নির্ধারণ করেন। দুদকের পক্ষের আইনজীবী মীর আহমেদ আলী সালাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন। এর আগে গত ৮ মার্চ মামলার চার্জশিট আমলে নিয়ে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে এ মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। এরপর গত ৩ মে বেনজীরের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন একই আদালত। মামলাটিতে ২৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর দুদকের উপপরিচালক হাফিজুল ইসলাম বাদী হয়ে বেনজীরের বিরুদ্ধে এ মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে গত বছরের ৩০ নভেম্বর তার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন এবং মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে অভিযোগপত্র দেন হাফিজুল ইসলাম। মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়, বেনজীর আহমেদ তার দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে ৬ কোটি ৪৫ লাখ ৩৭ হাজার ৩৬৫ টাকার স্থাবর সম্পদ ও ৫ কোটি ৭৪ লাখ ৮৯ হাজার ৯৬৬ টাকার অস্থাবর সম্পদের ঘোষণা দেন। তবে তদন্তে তার নামে ৭ কোটি ৫২ লাখ ৬৮ হাজার ৯৮৭ টাকার স্থাবর এবং ৮ কোটি ১৫ লাখ ৩১ হাজার ২৬৪ টাকার অস্থাবর সম্পদের সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়। এতে মোট ১৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকার সম্পদ অর্জনের প্রমাণ মিলেছে। অভিযোগপত্রে আরো বলা হয়, বৈধ আয়ের উৎস হিসেবে পাওয়া গেছে ৬ কোটি ৫৯ লাখ ৪২ হাজার ৬৬৮ টাকা। ব্যয় বাদে নিট সঞ্চয় দাঁড়ায় ৪ কোটি ৬৩ লাখ ৫৬ হাজার ৬৭৫ টাকা। ফলে বেনজীর আহমেদ জ্ঞাত আয়বহির্ভূত ১১ কোটি ৪ লাখ ৪৩ হাজার ৫৭৬ টাকার সম্পদ অর্জন করেন। বেনজীর এসব অর্থের অবৈধ উৎস, প্রকৃতি ও মালিকানা গোপন করে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও যৌথ মূলধনী প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ, স্থানান্তর ও রূপান্তর করেছেন।
বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখার সাবেক সভাপতি ও ন্যাশনাল পিপলস অ্যাকশনের (এনপিএ) কেন্দ্রীয় কাউন্সিল সদস্য মেঘমল্লার বসুকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়েছে। শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি হওয়ায় বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান জানান, মঙ্গলবার থেকেই মেঘমল্লার বসুর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় শুরুতে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। তবে বুধবার সন্ধ্যা থেকে তীব্র শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে চিকিৎসকদের সিদ্ধান্তে তাকে আইসিইউ থেকে লাইফ সাপোর্টে স্থানান্তর করা হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অতিরিক্ত মাত্রায় ঘুমের ওষুধ সেবন করায় তার শরীরে এই জটিলতা তৈরি হয়েছে। চিকিৎসকরা তার শারীরিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এর আগে গত সোমবার রাতে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এলাকা থেকে মেঘমল্লার বসুকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করেন তার পরিচিত ব্যক্তিরা। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে চিকিৎসকরা তার পাকস্থলী পরিষ্কার (স্টমাক ওয়াশ) করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউ এবং পরবর্তীতে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়।
অভিনেত্রী ও মডেল আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনাটি একটি ঘৃণ্য ও ন্যক্কারজনক অপরাধ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, যারা নারীদের ওপর আক্রমণ চালায় তারা কাপুরুষ। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর চন্দ্রিমা উদ্যানে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এসব কথা বলেন। রুহুল কবির রিজভী বলেন, নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দল-মত নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষকে সোচ্চার ও ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। গত মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, একজন জুলাই যোদ্ধার ওপর হামলা মানে এই দেশের গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার ওপর হামলা। হামলার ঘটনা তুলে ধরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে পার্কে হাঁটার সময় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কর্মীরা কাপুরুষোচিত হামলা চালান। প্রতিমন্ত্রী সংসদকে আরও জানান, অভিনেত্রী বাঁধন পুলিশের কাছে ও দূতাবাসে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করবেন। বাংলাদেশ দূতাবাস বিষয়টি ইতালির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে অত্যন্ত জোরালোভাবে তুলে ধরবে। বাংলাদেশের বর্তমান নির্বাচিত সরকার এই সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে পিছপা হবে না বলেও জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
সারাদেশের সকল মাদ্রাসার জন্য জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর। সরকারের পরিবেশবান্ধব ‘৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ কর্মসূচির অগ্রগতি পর্যালোচনার জন্য অধিদপ্তরের আওতাধীন সব মাদ্রাসা থেকে বৃক্ষরোপণের তথ্য জরুরি ভিত্তিতে তলব করা হয়েছে। আগামী ২ কর্মদিবসের মধ্যে নির্ধারিত ছকে এই তথ্য পাঠাতে হবে। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রশাসন শাখা থেকে জারি করা এক জরুরি চিঠিতে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়। অধিদপ্তরের উপপরিচালক (প্রশিক্ষণ) মো. চাঁদ মিয়া স্বাক্ষরিত এই নির্দেশনায় দেশের সব মাদ্রাসার অধ্যক্ষ, সুপার এবং ইবতেদায়ী প্রধানদের জরুরি ভিত্তিতে তথ্য প্রেরণের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে। অধিদপ্তরের চিঠিতে বলা হয়েছে, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের গত ৩ সেপ্টেম্বর এক স্মারক নির্দেশনার প্রেক্ষিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তরের আওতাধীন মাদ্রাসাগুলোতে এখন পর্যন্ত কী পরিমাণ চারাগাছ রোপণ করা হয়েছে, তার সঠিক পরিসংখ্যান ও বর্তমান অবস্থা যাচাই করাই এই নির্দেশনার মূল উদ্দেশ্য। যেভাবে তথ্য পাঠাতে হবে সংশ্লিষ্ট সব মাদ্রাসাকে নির্ধারিত ছক পূরণ করে ap-2@dme.gov.bd ইমেল ঠিকানায় তথ্য পাঠাতে হবে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত ছক অনুযায়ী প্রতিটি মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে বাধ্যতামূলকভাবে নিচের তথ্যগুলো দিতে হবে: প্রতিষ্ঠানের নাম ও ধরন এলাকার বিবরণ: জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও গ্রামের নাম। বৃক্ষের বিবরণ: রোপণকৃত গাছের প্রজাতির নাম ও মোট সংখ্যা। রোপণের তারিখ ভৌগোলিক অবস্থান: বৃক্ষরোপণের সুনির্দিষ্ট এলাকা, যা অবশ্যই ভৌগোলিক কো-অর্ডিনেট বা জিপিএস লোকেশনসহ উল্লেখ করতে হবে। তত্ত্বাবধান: চারাগাছগুলোর পরিচর্যাকারী এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত মনিটরিং কর্মকর্তার নাম ও মোবাইল নম্বর। এই নির্দেশনার কার্যকারিতা ও তদারকি নিশ্চিত করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব, সচিবের একান্ত সচিব, দেশের সকল জেলা শিক্ষা অফিসার, সকল উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এবং মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের ব্যক্তিগত সহকারীসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে অনুলিপি পাঠানো হয়েছে। মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্র জানায়, জাতীয় এই সবুজায়ন কর্মসূচিকে সফল করতে এবং রোপণকৃত গাছের যথাযথ পরিচর্যা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতেই এই কঠোর মনিটরিংয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জামায়াতের আমির সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করে আওয়ামী লীগকে নরমালাইজ করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এমন মন্তব্য করেন। তার পোস্টটি যুগান্তরের পাঠকদের জন্য হুবহু দেওয়া হলো- ‘গণঅভ্যুত্থানের ১ মাস যেতে না যেতেই আওয়ামী লীগকে সাধারণ ক্ষমা করেন জামায়াতের আমির! মূলত ভোটের রাজনীতির কারণে তিনি আওয়ামী লীগের প্রতি নমনীয়তা দেখান। আর এটিই হয়ে যায় আওয়ামী লীগের বিচারের পথে বড় বাধা। ধীরে ধীরে আওয়ামী লীগ নরমালাইজড হয়ে যায়। এরপর আওয়ামী লীগের নেতারা বলা শুরু করেন, যারা আওয়ামী লীগ করতেন, তারা জামায়াতে যোগদান করলে পুরো দায়দায়িত্ব নেওয়া হবে। এরপর বিভিন্ন জায়গায় প্রকাশ্যে, বিভিন্ন জায়গায় গোপনে সব আওয়ামী লীগ রাতারাতি জামায়াত হয়ে যায়! আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংকে জামায়াতের ক্ষমতায় যাওয়ার লিপ্সার কারণে আওয়ামী অপরাধীদের সঠিক বিচার হয়নি। আর অপরাধের বিচার না হলে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে যায়। অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের সঙ্গে সেই বেপরোয়া আচরণ পরিলক্ষিত হলো। আওয়ামী লীগ জাস্ট সুযোগের অপেক্ষায় আছে। জামায়াত যতোই আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন করে ভোটব্যাংক বাড়াতে চেষ্টা করুক না কেন, ওরা কখনো কামব্যাক করতে পারলে সবার আগে জামায়াতকে দিয়েই প্রতিশোধ শুরু করবে। তাই জামায়াত-এনসিপির প্রতি অনুরোধ থাকবে আওয়ামী ব্যবসায়ী ও নেতাদের থেকে লংমার্চ বা কর্মসূচির জন্য অর্থ ও প্রাডো গাড়ি নিয়ে পুনর্বাসন বন্ধ করুন। আওয়ামী লীগ জাতির শত্রু, দল হিসেবে আওয়ামী লীগের ও আওয়ামী অপরাধীদের বিচারে সামাজিক ও রাজনৈতিক ঐক্য দরকার। যেহেতু জামায়াতের আমির গণঅভ্যুত্থানের পরপর আওয়ামী লীগকে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করে বিচারের পথে বাধা সৃষ্টি করেছে। সুতরাং জামায়াতের আমিরের উচিত সংসদে জাতির কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়া এবং আওয়ামী লীগের বিচারের দাবিতে রাজনৈতিক ঐক্যমতের প্রস্তাব করা। বিএনপি সরকার বিচার করবে, আর ভোটের জন্য জামায়াত তলে তলে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন করতে চাইলে, ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগ প্রাসঙ্গিক হয়ে ফিরে আসবে।’
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।