অন্যান্য

এআইয়ের ব্যবহার নিয়ে কমিউনিকেশনস পেশাজীবীদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দিয়েছে বাংলাদেশ কমিউনিকেশনস প্রফেশনালস সোসাইটি (বিসিপিএস)
কমিউনিকেশনস পেশাজীবীদের এআই দক্ষতা বাড়াতে বিসিপিএসের মাস্টারক্লাস

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এখন আর ভবিষ্যতের প্রযুক্তি নয়;  কমিউনিকেশনস পেশায় এটি ইতিমধ্যে দৈনন্দিন কাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ টুলস হয়ে উঠেছে। প্রেস বিজ্ঞপ্তি ও প্রতিবেদন লেখা থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কনটেন্ট তৈরি, গবেষণা, তথ্য বিশ্লেষণ ও যোগাযোগ পরিকল্পনায় এআইয়ের ব্যবহার নিয়ে কমিউনিকেশনস পেশাজীবীদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দিয়েছে বাংলাদেশ কমিউনিকেশনস প্রফেশনালস সোসাইটি (বিসিপিএস)। গতকাল শনিবার (৮ আগস্ট) রাজধানীর বাংলামটরের উন্নয়ন সমন্বয় মিলনায়তনে ‘ডেভেলপমেন্ট কমিউনিকেশনসে এআইয়ের ব্যবহার’ শীর্ষক এই মাস্টারক্লাস অনুষ্ঠিত হয়। এতে উন্নয়ন সংস্থা, করপোরেট প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম, সরকারি-বেসরকারি সংস্থা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন খাতের প্রায় ৩৫ জন কমিউনিকেশনস পেশাজীবী অংশ নেন। মাস্টারক্লাসে বিভিন্ন এআই টুলসের ব্যবহার, কার্যকর নির্দেশনা বা প্রম্পট লেখার কৌশল এবং পেশাগত কাজে এআই ব্যবহারের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। বিশেষ করে প্রেস বিজ্ঞপ্তি, প্রতিবেদন, বক্তব্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কনটেন্ট ও যোগাযোগ পরিকল্পনা তৈরিতে এআই কীভাবে কাজে লাগানো যায়, তা নিয়ে অংশগ্রহণকারীরা বাস্তবভিত্তিক অনুশীলনে অংশ নেন। এ ছাড়া গবেষণা ও তথ্য অনুসন্ধান, তথ্য বিশ্লেষণ, কনটেন্টের মানোন্নয়ন এবং দৈনন্দিন কাজের সময় কমিয়ে দক্ষতা বাড়াতে এআই কীভাবে ব্যবহার করা যায়, সে বিষয়েও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। মাস্টারক্লাসটি পরিচালনা করেন নগদের ক্রিয়েটিভ লিড (এআই) মো. আব্দুর রউফ। কমিউনিকেশনস, সৃজনশীল পরিকল্পনা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে তাঁর ১২ বছরের বেশি অভিজ্ঞতা রয়েছে। বিভিন্ন করপোরেট প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সংস্থা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তিনি এআই ব্যবহারের বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এবং বিসিপিএসের গবেষণা পরিচালক মালিহা তাবাসসুম ‘এআই দিয়ে গল্প, নিবন্ধ, উপস্থাপনা ও নানা ধরনের লেখা তৈরি’ শীর্ষক একটি সেশন পরিচালনা করেন। লেখালেখি ও বিভিন্ন ধরনের কনটেন্ট তৈরিতে এআই ব্যবহারের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন তিনি। বিসিপিএসের চেয়ারপারসন টনি মাইকেল গোমেজ বলেন, “এআই কমিউনিকেশনস পেশাজীবীদের বিকল্প নয়; বরং যারা এআই দক্ষতার সঙ্গে ব্যবহার করতে পারবেন, তারাই ভবিষ্যতে এগিয়ে থাকবেন।” তিনি বলেন, এআইয়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পেশাজীবীদের প্রয়োজনীয় দক্ষতা তৈরি করা এখন সময়ের দাবি। কোন দক্ষতাগুলো মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ থাকবে, কোন এআই সরঞ্জামগুলো দৈনন্দিন কাজে কার্যকর এবং কীভাবে প্রযুক্তিটিকে দ্রুত ও মানসম্মতভাবে কাজে লাগানো যায়—মাস্টারক্লাসে এসব বিষয়ে বাস্তবভিত্তিক ধারণা দেওয়া হয়েছে। আয়োজকেরা জানান, দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তিনির্ভর কর্মপরিবেশে কমিউনিকেশনস পেশাজীবীদের দক্ষতা বাড়ানো এবং ভবিষ্যতের কর্মক্ষেত্রের জন্য প্রস্তুত করতে বিসিপিএস এ ধরনের জ্ঞান ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে। মাস্টারক্লাসের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা শুধু বিভিন্ন এআই সরঞ্জাম সম্পর্কে ধারণা নেওয়ার পাশাপাশি নিজেদের নিয়মিত পেশাগত কাজে প্রযুক্তিটির ব্যবহারিক প্রয়োগের সুযোগ পান। এতে কমিউনিকেশনস পেশায় এআইকে মানুষের বিকল্প হিসেবে নয়, বরং কাজকে আরও সহজ ও দক্ষ করার সহায়ক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। প্রশিক্ষণটি সমন্বয় করেন বিসিপিএসের ক্যাপাসিটি বিল্ডিং পরিচালক জাকিয়া হক নীলা।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ০৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
গাইবান্ধা সফরে যাচ্ছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির

গাইবান্ধা সফরে যাচ্ছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।   গত ২১ জুন গাইবান্ধার সাঘাটায় সংঘটিত হামলায় নিহত শিবির নেতা সাইফুল্লাহ বারী ও জামায়াত কর্মী সালাউদ্দিনের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করতে আগামীকাল সোমবার (১০ আগস্ট) গাইবান্ধায় যাবেন তিনি।   রোববার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগ থেকে প্রেরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি এ তথ্য জানানো হয়েছে।   বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় শেষে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের দাবি এবং সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে আয়োজিত জনসমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন ডা. শফিকুর রহমান।   সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া-কাজী আজহার আলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সকাল ১০টায় এ জনসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।   সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চল পরিচালক মাওলানা আবদুল হালিম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিন, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা এবং গাইবান্ধা জেলা আমির আবদুল করিম।   জনসমাবেশে সভাপতিত্ব করবেন গাইবান্ধা-৫ (সাঘাটা-ফুলছড়ি) আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল ওয়ারেছ।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ০৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুলকে মনোনয়ন দেওয়ার সিদ্ধান্ত বিএনপির

বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে মনোনয়ন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রোববার (৯ আগস্ট) বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির দুজন সিনিয়র সদস্য এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।   তারা জানান, বুধবার (১২ আগস্ট) দলীয়ভাবে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে।   মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বর্তমানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন। পাশাপাশি তিনি দলের মহাসচিব পদেও রয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, দেড় যুগের বেশি সময় পর বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেছে। এখন দলের শীর্ষ নেতৃত্ব চাইবে এমন একজনকে রাষ্ট্রপতি করতে, যিনি রাষ্ট্রের সংকটময় মুহূর্তে শক্ত হাতে হাল ধরতে সক্ষম ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য। কেননা, দেশের যেকোনো সংকটকালে রাষ্ট্রপতিকে অভিভাবকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হয়। মির্জা ফখরুল সেটি পারবেন।   মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বিএনপি মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দলের কঠিন সময়ে রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রাম থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দলের বার্তা পৌঁছে দেওয়া এবং মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালনে তার ভূমিকা ছিল অগ্রগণ্য। তার সুচিন্তিত বক্তব্য ও শান্ত রাজনৈতিক কৌশল দলমত নির্বিশেষে রাজনৈতিক মহলে তাকে একটি বিশেষ গ্রহণযোগ্যতা দিয়েছে। এ ছাড়া দেশের ভেতরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও তার সমন্বয়ক ভূমিকা অনস্বীকার্য। তবে মির্জা ফখরুলের ব্যক্তিত্ব, অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতা তাকে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক অভিভাবকের পদে সম্ভাব্য বিবেচনায় শীর্ষ সারিতে রেখেছে।   সংশ্লিষ্টরা জানান, বিএনপিতে বিশ্বস্ততা ও দুঃসময়ের কাণ্ডারি হিসেবে মির্জা ফখরুল অপ্রতিদ্বন্দ্বী। তিনি বাংলাদেশের রাজনীতিতে একজন ‘সাদামাটা ও সজ্জন’ রাজনীতিবিদ হিসেবে সমধিক পরিচিত। দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে তার বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতির অভিযোগ আজ পর্যন্ত মেলেনি। শুধু তা-ই নয়, রাজনৈতিক বিতর্কে শালীনতা বজায় রাখা এবং মার্জিত আচরণের জন্য তিনি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের কাছেও সমানভাবে শ্রদ্ধেয়। বিশেষ করে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিএনপির চরম দুঃসময়ে দলকে ঐক্যবদ্ধ রেখেছেন মির্জা ফখরুল।   বিএনপির নেত্রী ও প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতি এবং বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রবাস জীবনে থেকে অত্যন্ত ধৈর্যের সঙ্গে দলকে ঐক্যবদ্ধ রেখে নেতৃত্ব দিয়েছেন মির্জা ফখরুল। শত শত মামলা, হামলা ও কারাবরণ সত্ত্বেও জিয়া পরিবারের প্রতি তার অবিচল আনুগত্য এবং সাংগঠনিক কর্মতৎপরতা তাকে নেতাকর্মীদের কাছে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। টানা বহু বছর প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দলের জাতীয় রাজনীতি সামলানোর কারণে শীর্ষ পদের জন্য তাকে একজন যোগ্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করেন অনেক নেতাকর্মী ও সমর্থক। রাষ্ট্রপতির মতো আলংকারিক ও নিরপেক্ষ ভারসাম্য বজায় রাখার পদের জন্য তার মেজাজ ও ব্যক্তিত্ব মানানসই বলে মনে করেন অনেকে।   এ ছাড়া রাজনৈতিক অঙ্গনে মির্জা ফখরুলের রয়েছে সর্বজনীন গ্রহণযোগ্যতা। যেহেতু রাষ্ট্রপতি পদটি কোনো একক দলের নয়, বরং তা রাষ্ট্রের। তিনি তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতায় প্রমাণ করেছেন, তিনি উগ্রবাদ বিরোধী এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতিতে বিশ্বাসী। সেইসঙ্গে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার রক্ষা এবং সুশীল সমাজের সঙ্গে তার সুসম্পর্ক তাকে একজন ‘গার্ডিয়ান ফিগার’ হিসেবে উপস্থাপন করে। আন্তর্জাতিকভাবে কূটনৈতিক মহলেও তার আলাদা গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে, যা নতুন সরকারের জন্য বৈশ্বিক সম্পর্ক উন্নয়নে সহায়ক হবে।   ১৯৪৮ সালে ঠাকুরগাঁওয়ে জন্ম নেওয়া মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রয়েছে বর্ণাঢ্য পারিবারিক ইতিহাস। তার বাবা মরহুম রুহুল আমিন (চখা মিয়া) ছিলেন কৃষি প্রতিমন্ত্রী। তার বড় চাচা মির্জা গোলাম হাফিজ ১৯৭৮ থেকে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত ভূমিমন্ত্রী এবং ১৯৭৯ থেকে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত দ্বিতীয় জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯১-১৯৯৬ সাল পর্যন্ত আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছেন।   দেশের বর্ষীয়ান নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম সাবেক শিক্ষক এবং অভিজ্ঞ সংসদ সদস্য। ৭৯ বছর বয়সী এ নেতার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও ধীরস্থির সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তাকে অভিভাবকত্বের আসনে বসানোর জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত করে তুলেছে। মির্জা ফখরুল ১৯৭২ সালে বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে শিক্ষা ক্যাডারে ঢাকা কলেজে অর্থনীতি বিভাগে শিক্ষকতা পেশায় যোগদান করেন। পরবর্তী সময়ে বেশ কয়েকটি সরকারি কলেজে অধ্যাপনা করেন। তিনি বাংলাদেশ সরকারের পরিদর্শন ও আয়-ব্যয় পরীক্ষণ অধিদপ্তরে নিরীক্ষক হিসেবেও কাজ করেন। ১৯৭৯ সালে জিয়াউর রহমানের শাসনামলে তৎকালীন উপপ্রধানমন্ত্রী এসএ বারীর ব্যক্তিগত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পান। ১৯৮২ সালে মরহুম এইচএম এরশাদ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসার পর বারী পদত্যাগ করার আগ পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্ব পালন করেন। বারী পদত্যাগ করার পর মির্জা ফখরুল ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজে অর্থনীতির অধ্যাপক হিসেবে যোগদান করে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত শিক্ষকতা করেন।   মির্জা ফখরুল ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ থেকে বিএনপির মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে প্রথমে কৃষি মন্ত্রণালয় ও পরবর্তীকালে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।   নিয়ম অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয়। এজন্য ইতোমধ্যে সংসদ সচিবালয় থেকে ভোটার তালিকা তথা সংসদ সদস্যদের নাম ইসি সচিবালয়ে পাঠানো হয়েছে। আগামী ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট হবে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ০৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কর্নেল অলিকে প্রার্থী করল জামায়াত

লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে (বীর বিক্রম) রাষ্ট্রপতি প্রার্থী ঘোষণা করেছে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। আজ রবিবার ১১ দলের বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম তার নাম ঘোষণা করেন। নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ১১ দলের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে কর্নেল অলি আহমদকে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। এ বিষয়ে সব দলের পক্ষ থেকে সম্মতি দেওয়া হয়েছে। পরে জামায়াত আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বললেন, আমাদের পক্ষ থেকে সর্বোত্তম ব্যক্তিকে আমরা প্রেসিডেন্ট পদে মনোনয়ন দিয়েছি। তার জন্য সবাই দোয়া করবেন। প্রতিক্রিয়ায় কর্নেল অলি আহমদ বলেছেন, আমি ১১ দলের সবার প্রতি কৃতজ্ঞ। দেশের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞ। আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই এবং একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সর্বসম্মতিক্রমে আমার নাম প্রস্তাব করেছেন। সেজন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। তিনি বললেন, আমরা জাতিকে বলতে চাই আমরা এই জাতির সঙ্গে কখনো বেইমানি করব না। আমরা হারব বা জিতব সেটা প্রশ্ন না। প্রশ্ন হচ্ছে আমরা সর্বদা জনগণের পাশে দাঁড়াব। এর আগে রবিবার দুপুরে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ১১ দলের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক শুরু হয়।   জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে বৈঠকে অংশ নেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, ১১ দলীয় জোটের সমন্বয়ক ড. হামিদুর রহমান আযাদ, এলডিপির কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, জাগপার রাশেদ প্রধান, খেলাফত মজলিসের মামুনুল হক, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ জোটের নেতারা। এর আগে গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার কথা জানায় জামায়াত। রাজধানীর মগবাজারের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ০৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
জাতির সঙ্গে কখনো বেইমানি করব না: কর্নেল অলি

১১ দলীয় ঐক্যের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেছেন, আমি সমগ্র জাতির কাছে কৃতজ্ঞ। ১১ দলীয় ঐক্যজোটের সকলের কাছে কৃতজ্ঞ। আমাদের সকল নেতাকর্মীদের কাছে কৃতজ্ঞ। আপনাদের মাধ্যমে আমরা জাতিকে বলতে চাই, আমরা আমাদের জায়গা থেকে এই জাতির সঙ্গে কখনো বেইমানি করব না।   রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ১১ দলীয় ঐক্যের বৈঠকের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হিসেবে তার নাম ঘোষণা করা হয়। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এসব কথা বলেন।     কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেন, ‘আমরা হারব না জিতব, এটা প্রশ্ন না। প্রশ্নটা হচ্ছে, আমরা জনগণের পাশে সবসময় তাদের স্বার্থ রক্ষার জন্য দাঁড়াব। আজকেও সেই মন-মানসিকতা নিয়ে আমরা সবাই একসঙ্গে হয়েছি। সর্বসম্মতিক্রমে উনারা আমার নাম প্রস্তাব করেছেন। আমি সমগ্র জাতিকে ধন্যবাদ জানাই।’   তিনি বলেন, ‘আমি মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে পরীক্ষিত একজন লোক, যার বিরুদ্ধে দুর্নীতির কোনো অভিযোগ নেই, শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো অভিযোগ নেই। সুন্দরভাবে জীবন যাপন করেছি বিধায় সবাই সর্বসম্মতিক্রমে আমার নাম প্রস্তাব করেছে।’    বৈঠকে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের আমির মামুনুল হক বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত আনন্দিত যে, আমাদের বিবেচনায় বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট পদের জন্য সবচেয়ে যোগ্য একজন ব্যক্তিকে আমরা নির্বাচন ও মনোনয়ন দিতে পেরেছি।’   তিনি বলেন, ‘বর্তমান বাংলাদেশের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ, আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জ এবং আধিপত্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে চলমান লড়াইয়ে, আমরা ১১ দলের পক্ষ থেকে সম্মিলিতভাবে মহান মুক্তিযুদ্ধ ’৭১-এর রণাঙ্গনের বীর যোদ্ধা, বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, জুলাই বিপ্লবের চেতনার একজন বলিষ্ঠ ধারক ও যোদ্ধাকে প্রেসিডেন্ট পদের জন্য প্রার্থী নির্বাচন করেছি।   মামুনুল হক বলেন, ‘আমি আশা করব, আমাদের ১১ দলের বাইরেও, এমনকি বিএনপিরও যারা দেশকে ভালোবাসেন, দেশপ্রেমিক, তারাও আমাদের এই প্রার্থীর যোগ্যতার কথা এবং তার অগ্রগণ্যতার কথা স্বীকার করবেন। সেই হিসাবে আমরা প্রত্যাশা রাখি, তিনি ইনআশাল্লাহ প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে আগামী বাংলাদেশকে সঠিকভাবে নেতৃত্ব দেবেন। আপনাদের সকলের কাছ থেকে আমরা সে সহযোগিতা চাই।   এদিকে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা দেশের কল্যাণের জন্য আমাদের বিবেচনায় সর্বোত্তম ব্যক্তিটাকে দেশের প্রেসিডেন্ট পদে মনোনয়ন দিয়েছি। আপনারা দোয়া করবেন, আমাদের প্রত্যেকটি কাজ যেন জাতির জন্য হয়, জাতির কল্যাণের জন্য হয়। আমরা এ ব্যাপারে ইনশাআল্লাহ কোনো আপস করব না। আমরা সকলের সহযোগিতা চাই।’   তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্রের সৌন্দর্যের জন্য দায়িত্ব হিসেবে আমরা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমরা মনে করি, সর্বক্ষেত্রে রাজনীতি স্বচ্ছ হওয়া উচিত, প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হওয়া উচিত। তাহলে গণতন্ত্রের গতি এবং সুস্বাস্থ্য ফিরে আসবে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ০৯, ২০২৬
বৈঠকে ১১ দলীয় জোটের শরিক দলের নেতারা। ছবি: সংগৃহীত
রাষ্ট্রপতি পদে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ঘোষণা

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে ১১ দলীয় জোট। রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে বৈঠকের পর এ ঘোষণা দেওয়া হয়।    বৈঠক শেষে জোটের অন্যতম শরিক জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক (এনসিপি) নাহিদ ইসলাম জানান, ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ।   এর আগে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা বৈঠকে বসেন। এতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থী নির্বাচন ছাড়াও পারস্পরিক রাজনৈতিক সমঝোতা এবং পরবর্তী করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়।   বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে বৈঠকে অংশ নিয়েছেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পারওয়ার। বৈঠকে কর্নেল (অব.) অলি আহমেদও উপস্থিত ছিলেন।   এ ছাড়া বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ১১ দলীয় জোটের সমন্বয়ক ড. হামিদুর রহমান আযাদসহ জোটের শীর্ষ নেতারা বৈঠকে যোগ দিয়েছেন।

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ০৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ধ্বংসস্তূপ থেকে দেশ গড়ার কাজ করছে বিএনপি: মির্জা ফখরুল

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের রেখে যাওয়া ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করে দেশকে এগিয়ে নিতে বিএনপি কাজ করছে।   তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ যখন দেশকে ধ্বংস করেছে, তখন সেই ধ্বংসস্তূপ থেকে দেশকে রক্ষা করার দায়িত্ব বিএনপির ওপর পড়েছে। বিএনপি যখন দেশকে এগিয়ে নিতে কাজ করছে, তখন একটি মহল ও একটি দল দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করছে। শনিবার (৮ আগস্ট) জাতীয় সংসদের এলডি হল প্রাঙ্গণে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত চিকিৎসকদের সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ফখরুল বলেন, দেশকে আবারও অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এ ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক ও সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি। আমরা অতীতে দেখেছি, যখনই দেশ এগিয়ে যেতে শুরু করে, তখনই একটি মহল জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে দেশকে আবার পেছনে টেনে নেওয়ার অপচেষ্টা করে। চিকিৎসকদের উদ্দেশে বিএনপির মহাসচিব বলেন, চিকিৎসকরা সমাজের সবচেয়ে উচ্চশিক্ষিত শ্রেণির অন্যতম এবং দেশের জন্য তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।  তিনি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার গুরুত্ব এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করতে চিকিৎসকদের প্রতি আহ্বান জানান। মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে নতুন উন্নয়ন, মানুষের মর্যাদা এবং সমতার ভিত্তিতে রাষ্ট্র ও সমাজ প্রতিষ্ঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন বাংলাদেশ গড়ার শপথ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ফখরুল বলেন, ‘আমাদের স্লোগান হচ্ছে সবার আগে বাংলাদেশ।’ সমাবেশের আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এলডি হল প্রাঙ্গণে দুটি গাছের চারা রোপণ করেন। পরে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের সময় প্রধানমন্ত্রী জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। এরপর কবুতর ও বেলুন উড়িয়ে তারা চিকিৎসকদের সমাবেশের উদ্বোধন করেন। ড্যাব সভাপতি অধ্যাপক হারুন আল রশীদ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন— ডা. জুবাইদা রহমান, সমাজ কল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার এবং ড্যাব মহাসচিব জহিরুল ইসলাম শাকিল।

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ০৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
পাটওয়ারীর ওপর আসল মার এখনো শুরু হয়নি’: এমপি মনজুরুল

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সামনে ‘কঠিন’ সময় অপেক্ষা করছে বলে মন্তব্য করেছেন মনজুরুল ইসলাম।   দিনাজপুর-১ আসনে বিএনপি থেকে নির্বাচিত এ সংসদ সদস্য বলেছেন, “পাটওয়ারীর ওপর মার শুরু হয়েছে কেবল। আসল মার তো শুরুই হয়নি।   “একজন এমপি হিসেবেই বলছি, ভবিষ্যৎ অনেক কঠিন তার জন্য।”   শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেটে এক সুধী সমাবেশে তিনি এসব মন্তব্য করেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে এ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।   মনজুরুল ইসলামের মতে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার পরিবার নিয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী যেসব মন্তব্য করেন, তা বাকস্বাধীনতার সীমা লঙ্ঘন করে।   তিনি বলেন, “সে শুধু প্রধানমন্ত্রীই নয়, তার স্ত্রী ও কণ্যাকে নিয়ে যখন কথা বলে, তখন আমরা সহ্য করতে পারি না। কারণ তারা তো এটার কোনো অংশ না। অথচ প্রতিনিয়ত (পাটওয়ারী) এটা করছেন। ‘ফ্রিডম অব স্পিস’ কী! এটা ‘ফ্রিডম অব স্পিস’ নয়।   “তারেক রহমান সাহেব যে ধৈর্যের পরিচয় দিচ্ছেন…বিশ্বাস করুন আপনারা, আমরা যেটা সহ্য করতে পারি না, সেটি উনি (পাটওয়ারী) করছেন। উনার (তারেক রহমান) সম্পর্কে যেসব বাজে ল্যাঙ্গুয়েজ করছে পাটওয়ারী, তুষার…।”   অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কনসাল জেনারেল মোজাম্মেল হক পিটার। এতে অন্যদের মধ্যে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি সালাহ উদ্দীন নোমান চৌধুরী, ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস মিনিস্টার গোলাম মোর্তোজা, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আব্দুল লতিফ সম্রাট , গিয়াস আহমেদ ও জিল্লুর রহমান জিল্লু উপস্থিত ছিলেন।   ‘ইতিহাস বিকৃতি’ বলায় বের করে দেওয়া হয় একজনকে   জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে এদিন বাংলাদেশ কনস্যুলেটে প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী আয়োজন করা হয়।   সেখানে নূর হোসেন নামের এক প্রবাসী নিজেকে জুলাই যোদ্ধা দাবি করেন এবং ‘ইতিহাস বিকৃত করার’ অভিযোগ তোলেন।   এ অভিযোগ তোলার পর বিএনপির নেতাকর্মীরা তাকে অনুষ্ঠানস্থল থেকে বের করে দেন।   উদ্ভূত পরিস্থিতিকে অনাকাঙ্খিত অভিহিত করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য গোলাম ফারুক শাহীন।   তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির ব্যানারে আমরা সকলেই সোচ্চার ছিলাম ফ্যাসিস্ট তাড়ানোর আন্দোলনে। এ নিয়ে বাকবিতণ্ডার কোনো অবকাশ থাকতে পারে না।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ০৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মাঠে নামছে জামায়াত

আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী অংশগ্রহণ করবে। শনিবার (০৮ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টায় রাজধানীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আমিরে জামায়াত ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠক এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   বৈঠকে দলের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।   শনিবার রাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তির তথ্যানুসারে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে। এ লক্ষ্যে রোববার (০৯ আগস্ট) ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে। বিরোধীদলের প্রার্থী দেওয়ার বিষয়টি ১১ দলীয় ঐক্যের ওই বৈঠকে চূড়ান্ত করা হবে।   এ ছাড়া দেশের বিরাজমান সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সংবিধান সংস্কার ইস্যু ও ১১ দলীয় ঐক্য ঘোষিত রাজনৈতিক কর্মসূচিসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয় বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ০৯, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
হাসিনাকে দেশে ফেরাতে ৪০৪ শিক্ষকের তৎপরতা, ব্যবস্থা চেয়ে দাবি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম বলেছেন, গত তিনদিন আগে আমরা দেখেছি, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ জন শিক্ষক শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনতে চাচ্ছেন। আমরা তাদের পর্যবেক্ষণ করছি। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।    তিনি বলেন, কেউ যদি মনে করেন এটা প্রতিহিংসা, তা নয়। আমরা কারও প্রতি প্রতিহিংসা চাই না। কিন্তু কেউ অপরাধ করলে তাকে শাস্তির আওতায় আনতে হবে।   শনিবার (৮ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থান-২০২৪-এর দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত ‘ফ্যাসিস্ট সরকার পতনে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।   উপাচার্য বলেন, কেন একজন ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে তারা দেশে ফিরিয়ে আনতে চাইছেন, আমরা জানি না। যদি কেউ রাষ্ট্রদ্রোহিতার সঙ্গে যুক্ত থাকেন, তাহলে আইনের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার বিচার করবেন।   তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ভিন্নমত পোষণকারী শিক্ষকদের ওপর নজরদারি ও নির্যাতন চালানো হয়েছে। সাদা দলের সভায় আওয়ামী লীগের শিক্ষকদের নজরদারি থাকত। ফলে শিক্ষকরা স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারতেন না। বিভিন্ন সময় শিক্ষকদের তালিকা করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল।   তিনি আরও বলেন, আমরা থেমে যাইনি। কথা বলেছি, রাজপথে নেমেছি, বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছি, অবস্থান নিয়েছি এবং ছাত্রদের পাশে দাঁড়িয়েছি। আজ আমরা যদি সেই বিষয়গুলো ভুলে যাই, তাহলে যারা শহীদ হয়েছেন এবং যারা ১৭ বছর ধরে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে হামলা-মামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তাদের সঙ্গে অন্যায় করা হবে।   জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে উপাচার্য বলেন, শুরুতে শিক্ষার্থীদের দাবি ছিল বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকরা তাদের নৈতিক সমর্থন জানিয়েছিলেন। পরে আন্দোলনের ওপর নির্যাতন বাড়তে থাকলে তা গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। একপর্যায়ে শহীদের সংখ্যা বাড়তে থাকে এবং জুলাইয়ের শেষ দিকে দেশের মানুষ নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখার সুযোগ পায়।   তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী আমাদের ওপর গণহত্যা চালিয়েছে। আর ২০২৪ সালে একই দেশের সরকারপ্রধান দেশের মানুষের ওপর নির্যাতন চালিয়েছেন। দুটি ঘটনার মাত্রা ও প্রেক্ষাপট ভিন্ন। ১৯৭১ সালে আমরা বাংলাদেশ রাষ্ট্র পেয়েছি, আর ২০২৪ সালে বাংলাদেশের পতাকা ও স্বাধীনতার মর্যাদা সমুন্নত রাখার নতুন প্রত্যয় পেয়েছি। দুটোকেই আমাদের মনে রাখতে হবে।   বর্তমান সরকারকে সময় দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে অধ্যাপক ওবায়দুল ইসলাম বলেন, মাত্র পাঁচ মাসের মধ্যে ১৭ বছরের সব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও অন্যায়ের সমাধানে সময় প্রয়োজন।   তিনি আরও বলেন, নতুন বাংলাদেশে কোনো ধরনের বৈষম্য, দমন-পীড়ন কিংবা স্বৈরাচার প্রতিষ্ঠা করা যাবে না। সবার মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে ন্যায়বিচার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে।   শেখ হাসিনার শাসনামলে গুম, খুন, হামলা ও মামলার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের দমন-পীড়নের অবসান ঘটিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। কোনো রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তির প্রতিহিংসার শিকার না করে অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করতে হবে।   শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হলে ন্যায়বিচার, সুশাসন ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এ লক্ষ্যে বর্তমান সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ০৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
তনু হত্যা মামলা: সাবেক সেনাসদস্য হাফিজুর রহমান আবারও গ্রেপ্তার

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় জামিনে মুক্তি পাওয়া সাবেক সেনাসদস্য হাফিজুর রহমানকে (৫২) আবারও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার (৮ আগস্ট) ঢাকার কেরানীগঞ্জের বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তা‌র করে পিবিআই।     পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার আবু ইউসুফ জানান, চেম্বার জজ আদালতের আদেশ প্রতিপালন না করায় এবং একই আদেশে পুলিশের প্রতি গ্রেপ্তারের নির্দেশ থাকায় তাকে আবারও গ্রেপ্তা‌র করা হয়। তাকে কুমিল্লা আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।     চলতি বছরের ২২ এপ্রিল তাকে গ্রেপ্তা‌র করে কারাগারে পাঠানো হয়। ২ আগস্ট হাফিজুর রহমানকে ৬ মাসের অন্তর্বর্তী জামিন দেন হাইকোর্ট।     পরে ৪ আগস্ট তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান। ওই জামিন আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ চেম্বার আদালতে আবেদন করে। ৬ আগস্ট হাইকোর্টের জামিন স্থগিত করেন আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়। অন্যথায় তাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয় পুলিশকে।     ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় একটি বাসায় টিউশনি করতে গিয়ে আর বাসায় ফেরেননি তনু। পরে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসসংলগ্ন ঝোপ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়, তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে।     পরদিন তনুর বাবা (ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অফিস সহায়ক, বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত) ইয়ার হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন।     চলতি বছরের ২২ এপ্রিল রাতে ঢাকার কেরানীগঞ্জের নিজ বাসা থেকে মামলার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে।     গ্রেপ্তার হাফিজুর রহমান সেনাবাহিনীর সাবেক সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার। ২০১৬ সালে তনু হত্যাকাণ্ডের সময় তিনি কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত ছিলেন। ২০২৩ সালে সেনাবাহিনী থেকে তাকে অবসরে পাঠানো হয়।

মারিয়া রহমান আগস্ট ০৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
এশিয়ান টাইগার মশা দমনে ৬ লাখ পুরুষ মশা ছাড়বে যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে মশা দমনে নতুন একটি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি চালু হয়েছে। এ উদ্যোগের আওতায় প্রায় ৬ লাখ পুরুষ এশিয়ান টাইগার মশা ছাড়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এসব মশার শরীরে থাকে ‘ওলবাকিয়া’ নামের একটি প্রাকৃতিক ব্যাকটেরিয়া। পুরুষ মশাগুলো মানুষকে কামড়ায় না।   এসব পুরুষ মশা যখন এই ব্যাকটেরিয়াবিহীন স্ত্রী মশার সঙ্গে মিলিত হয়, তখন স্ত্রী মশার ডিম আর ফুটে না। ফলে নতুন মশার জন্ম বন্ধ হয়ে যায়। এভাবে ধীরে ধীরে মশার সংখ্যা কমিয়ে আনার চেষ্টা করা হয়।   মশা নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান ‘বি সেফ মসকুইটো কন্ট্রোল’-এর প্রতিষ্ঠাতা টড মন্টগোমারি এ উদ্যোগ নিয়েছেন। গ্রীষ্মের শেষ নাগাদ ওয়াশিংটনের বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় প্রায় ৬ লাখ মশা ছাড়ার পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে ২৫ জন গ্রাহক এই কর্মসূচিতে যুক্ত হয়েছেন। প্রত্যেকে ১৬ সপ্তাহ ধরে প্রতি সপ্তাহে ১ হাজার ৫০০টি করে পুরুষ মশা পাচ্ছেন।   মন্টগোমারি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক এলাকায় উষ্ণ ও আর্দ্র দিনের সংখ্যা বাড়ছে। ফলে রোগ ছড়ানো মশার বংশবিস্তার ও সক্রিয় থাকার সময়ও বাড়ছে। তাই মশা নিয়ন্ত্রণে রাসায়নিক কীটনাশকের বিকল্প খুঁজে বের করা প্রয়োজন।   এই পদ্ধতি মূলত এশিয়ান টাইগার মশার বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হচ্ছে। মশাটি যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় প্রজাতি নয়। তবে এটি ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগের জীবাণু ছড়াতে পারে। উত্তর ভার্জিনিয়ায় স্থানীয়ভাবে ডেঙ্গু সংক্রমণের ঘটনা শনাক্ত হওয়ার পর মশাবাহিত রোগ নিয়ে উদ্বেগও বেড়েছে।   মন্টগোমারি জানান, কীটনাশকের ব্যবহার কমানোই তার উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। তার কয়েকজন গ্রাহকও পরিবার ও পোষা প্রাণীর ওপর রাসায়নিকের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বিগ্ন। তাই তারা মশা নিয়ন্ত্রণে এই বিকল্প পদ্ধতি বেছে নিয়েছেন।   ওলবাকিয়া পদ্ধতি অবশ্য নতুন নয়। সিঙ্গাপুরে ২০১৬ সাল থেকে ‘প্রজেক্ট ওলবাকিয়া’ নামে বড় পরিসরে এ ধরনের কর্মসূচি চলছে। সেখানে প্রতি সপ্তাহে এক কোটিরও বেশি পুরুষ মশা ছাড়ার কথা জানা গেছে।   গবেষণায় দেখা গেছে, ওলবাকিয়াযুক্ত মশা ব্যবহারের মাধ্যমে এডিস ইজিপ্টাই মশার সংখ্যা কমানো সম্ভব। একই সঙ্গে ডেঙ্গু সংক্রমণের ঝুঁকিও উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে পারে। এ কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মশা নিয়ন্ত্রণে এই পদ্ধতি নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে।

মোঃ নাহিদ হোসেন আগস্ট ০৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
গুলশানে আ.লীগ নেতাকর্মীদের গোপন বৈঠক, গ্রেপ্তার ৬

রাজধানীর গুলশানের একটি রেস্তোরাঁয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের গোপন বৈঠকের সময় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (০৭ আগস্ট) রাত সাড়ে ৯টার দিকে পুলিশ প্লাজার একটি রেস্তোরাঁ থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।   গ্রেপ্তাররা হলেন— মেহেদী মাসুদ চৌধুরী (৫৫), এস এম রেজওয়ান হাবিব আলিফ (৩৩), নান্নু মিয়া (৩৮), আমিনুর রহমান (৪২), সজল আহমেদ (২৯) ও ইব্রাহিম হোসেন (৩৩)।   গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দাউদ হোসেন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, পুলিশ প্লাজার পঞ্চম তলার একটি রেস্তোরাঁয় কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী গোপন বৈঠক করছেন। পরে সেখানে অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।   তিনি আরও জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, বৈঠক শেষে তাদের রাজধানীতে মিছিলের পরিকল্পনা ছিল। গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ০৮, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে নতুন ভর্তি ২৪৯

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। তবে একই সময়ে নতুন করে ২৪৯ জন ডেঙ্গুরোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার ৬৫৮ জনে।   শুক্রবার (৭ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।   বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ২৪৯ জন ডেঙ্গুরোগীর মধ্যে ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশন ছাড়া) ১৩৯ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১৭ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৬৭ জন, খুলনা বিভাগে ২৩ জন এবং রংপুর বিভাগে ৩ জন রয়েছেন।   একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে কোনো রোগীর মৃত্যু হয়নি। ফলে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৫৯ জনে অপরিবর্তিত রয়েছে।   স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ১৬ হাজার ৩১৮ জন ডেঙ্গুরোগী চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ১ হাজার ২৮১ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।   চলতি বছরের চিত্র স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৭ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত সারাদেশে মোট ১৭ হাজার ৬৫৮ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। যদিও সাম্প্রতিক ২৪ ঘণ্টায় কোনো মৃত্যু হয়নি, তবুও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গু সংক্রমণ প্রতিরোধে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছেন। আগের বছরের তুলনায় পরিস্থিতি   স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী — ২০২৫ সালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হন ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন, মৃত্যু হয় ৪১৩ জনের। ২০২৪ সালে আক্রান্ত হন ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ জন, মৃত্যু হয় ৫৭৫ জনের। ২০২৩ সালে, যা দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ ডেঙ্গু বছর হিসেবে বিবেচিত, আক্রান্ত হন ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন এবং প্রাণ হারান ১ হাজার ৭০৫ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাসাবাড়ি ও আশপাশে জমে থাকা পরিষ্কার পানি অপসারণ, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং জ্বর দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষ করে বর্ষাকালে এডিস মশার বিস্তার রোধে ব্যক্তি সচেতনতার পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

মোঃ নাহিদ হোসেন আগস্ট ০৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
মন্ত্রীদের ১০ লাখ, এমপিদের ৫ লাখ বেতন চান নুর

প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর বলেছেন, জনপ্রতিনিধিদের কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালনের স্বার্থে সংসদ সদস্যদের জন্য সরকারি গাড়ির ব্যবস্থা করা উচিত। একই সঙ্গে তিনি মন্ত্রীদের মাসিক বেতন ন্যূনতম ১০ লাখ টাকা এবং সংসদ সদস্যদের ৫ লাখ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছেন।   শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের আব্দুস সালাম মিলনায়তনে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।   নুরুল হক নুর বলেন, সংসদ সদস্যদের নিয়মিত নির্বাচনী এলাকায় যেতে হয়। অনেক অঞ্চলের সড়কব্যবস্থা ভালো না হওয়ায় নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে সরকারি গাড়ির সুবিধা থাকা প্রয়োজন। তিনি প্রস্তাব দেন, দায়িত্ব পালনকালীন এমপিরা সরকারের দেওয়া একটি গাড়ি ব্যবহার করবেন এবং মেয়াদ শেষে সেটি পরিবহন পুলে ফেরত দেবেন। সচিবসহ অন্য উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাদের মতো এমপিদেরও এ ধরনের সুবিধা দেওয়া উচিত।  

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ০৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
আওয়ামী লীগের রাজনীতি প্রসঙ্গে যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

দেশের মানুষ কখনই আওয়ামী লীগের রাজনীতি গ্রহণ করবে না বলে দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, কিসের হাসিনা, তার চেহারা কী দেখা গেছে? মাঝেমধ্যে শুধু আওয়াজ-টাওয়াজ শোনা যায়। তারা চেষ্টা করছে, বাংলাদেশে কোনো অস্থিরতা সৃষ্টি করা যায় কিনা। বাংলাদেশের মানুষ কখনই তাদের এসব রাজনীতি গ্রহণ করবে না।   শুক্রবার(৭ আগস্ট) দুপুরে কক্সবাজারে ৫০০ শয্যার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকালে তিনি এসব কথা বলেন।   সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ফ্যাসিবাদী সরকারের সময় ইচ্ছেমতো প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা(ইসিএ) ঘোষণা করা হয়েছে। জরিপকার্য পরিচালনার মাধ্যমে ট্যুরিজমের বিকাশের জন্য তা পুনর্বিবেচনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।   স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রকৃতিকে সংরক্ষণ করে পর্যটনের উন্নয়নে সব ধরনের পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। শুধু উঁচু ইমারত নির্মাণই পর্যটন হতে পারে না। কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের সব এলাকাজুড়েই এসব কর্মকাণ্ড হতে হবে। বিশ্বব্যাপী কক্সবাজারের সৌন্দর্যকে ছড়িয়ে দিয়ে ভ্রমণপিপাসুদের আকৃষ্ট করতে হবে। শুধু অবকাঠামো নির্মাণের জন্য গুরুত্ব না দিয়ে, পরিবেশ সংরক্ষণ নিশ্চিত করেই পর্যটন সম্প্রসারণের চেষ্টা করুন।   তিনি আরও বলেন, কক্সবাজারকে ঘিরে উচ্চশিক্ষা ও সামুদ্রিক গবেষণার সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে একটি মেরিন ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা গ্রহণ নেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সামুদ্রিক শিক্ষা, গবেষণা ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।   এর আগে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের(কউক) আবাসিক ফ্ল্যাট উন্নয়ন প্রকল্প-১-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যোগ দেন সালাউদ্দিন আহমদ। এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সমুদ্রসম্পদ এবং সমুদ্রবন্দরকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারলে দেশ বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় করতে সক্ষম হবে। ব্লু ইকোনমির সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। মন্ত্রী জানান, কক্সবাজারের অপরিসীম পর্যটন সম্ভাবনাকে পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের অবদান রাখা সম্ভব।

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ০৭, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
ইবি ছাত্রীর বিরুদ্ধে সহপাঠীদের ব্যক্তিগত ছবি পাঠানোর অভিযোগ

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) জুলাই-৩৬ আবাসিক হলের এক ছাত্রীর বিরুদ্ধে সহপাঠী ও রুমমেটদের ব্যক্তিগত ছবি অনুমতি ছাড়া তার যুক্তরাজ্যপ্রবাসী বয়ফ্রেন্ডের কাছে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষার্থী তুবাউল জান্নাত ঐশী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি যশোর জেলায়। অভিযোগকারী শিক্ষার্থী ও রুমমেটদের দাবি, অভিযুক্ত শিক্ষার্থী হলে অবস্থানরত অনুমতি ছাড়া কয়েকজন ছাত্রীর ব্যক্তিগত ছবি তুলে আবিদ নামে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী প্রেমিকের কাছে পাঠাতেন। সম্প্রতি ওই ব্যক্তির সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সম্পর্কের অবনতি হলে কয়েকটি ছবি ভুক্তভোগীদের কাছে পাঠান আবিদ। এরপর হলটিতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। অনেক শিক্ষার্থী হলের ভেতরে নিজেদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন। তারা দ্রুত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, এ পর্যন্ত অন্তত ১০ জন শিক্ষার্থীর ছবি শনাক্ত করা হয়েছে। তারা অভিযোগের সমর্থনে কিছু স্ক্রিনশটও সংরক্ষণ করেছেন বলে দাবি করেন। ভুক্তভোগী ও অভিযোগকারী শিক্ষার্থীরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে আরও শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। অভিযুক্ত শিক্ষার্থী তুবাউল জান্নাত ঐশী বলেন, যা যা রটানো হচ্ছে, তা অতিরঞ্জিত করে বলা হচ্ছে। এ বিষয়ে জুলাই-৩৬ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. শামছুল হক ছিদ্দিকীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহিনুজ্জামান বলেন, এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকলে তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। অভিযোগ পেলে বিষয়টি অবশ্যই তদন্ত করা হবে। তদন্তে কারা জড়িত তা প্রমাণিত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মারিয়া রহমান আগস্ট ০৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
দুবাইয়ে পলাতক আ. লীগ নেতাদের ৫৩ সম্পত্তির সন্ধান

মরুর শহর দুবাইয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পলাতক নেতাদের পাহাড়সম সম্পদের সন্ধান পাওয়া গেছে। তাদের নামে অন্তত ৫৩টি ফ্ল্যাট, বাড়ি, ভিলা, হোটেল অ্যাপার্টমেন্ট ও অফিস স্পেস থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র এসব তথ্য দিয়ে বলেছেন, বুর্জ খলিফা, মারশা দুবাই, ওয়াদি আল সাফা ও কৃত্রিম দ্বীপ পাম জুমেরায় তারা গড়ে তুলেছেন বিলাসবহুল সম্পদের সাম্রাজ্য। আর এসব করেছেন অর্থ পাচারের মাধ্যমে। দুবাইয়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের সাম্রাজ্য২০২৩ সালের ৩ এপ্রিল গোল্ডেন ভিসার সুবিধায় দুবাইয়ে অর্থ পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানে একটি কমিটি গঠন করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অনুসন্ধান কমিটির প্রথম টিম লিডার করা হয় ও সংস্থাটির উপপরিচালক রামপ্রসাদ মন্ডলকে।পরে তাকে গোপালগঞ্জে বদলি করা হয়।   তিনি জানান, দুবাইয়ে পাচারকারীদের তথ্য সংগ্রহে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে চিঠি চালাচালি হয়। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড্ ডিফেন্স স্টাডিজ (সি৪এডিএস) এবং অর্গানাইজড্ ক্রাইম অ্যান্ড করাপশন রিপোর্টিং প্রজেক্টকে (ওসিসিআরপি) চিঠি দিয়ে তথ্য নেওয়ার চেষ্টা অব্যাহত আছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে ৪৫৯ বাংলাদেশির বিভিন্ন সম্পত্তি কেনার তথ্য ফাঁস করেছিল ওসিসিআরপি। এরপর দুদক, বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ), পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) অনুসন্ধানের নির্দেশ দেন হাই কোর্ট। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানান, সাবেক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের (লোটাস কামাল) বেয়াইন অর্থাৎ মেয়ে নাফিসা কামালের শাশুড়ি বিলকিস ইকবালের নামে দুবাইয়ে একটি ফ্ল্যাট পাওয়া গেছে। মারশা দুবাই এলাকায় থাকা ফ্ল্যাটটির নম্বর ২২০২-০, যা কিনতে ব্যবহৃত পাসপোর্ট নম্বর বি১২০১০৬০। তবে ২০১৭ সালে নাফিসা কামালের শাশুড়ি বিলকিস মারা যান।   আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি, প্রিমিয়ার ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিফজুল বারী মোহাম্মদ ইকবাল ওরফে এইচ বি এম ইকবালের নামে দুবাইয়ের বুর্জ খলিফায় দুটি ফ্ল্যাটের (নম্বর ২৪১০-০ ও ২০০১-০) সন্ধান পাওয়া গেছে। সেখানে তার একটি কমার্শিয়াল স্পেস (নম্বর ৯১০-০) ও একটি অফিস স্পেসও (নম্বর ১২০১-০) রয়েছে। এ ছাড়া পাম জুমেরায় তার নামে একটি বাড়ি (নম্বর পিজেএফআরসি০৪৭) রয়েছে বলে জানা গেছে। এসব সম্পদ কিনতে তিনি তিনটি ভিন্ন পাসপোর্ট ব্যবহার করেছেন, নম্বর যথাক্রমে ০৩৩৯৮৪২, এজি৫১২৩৪১৪ ও ই০৬৯২৭৯২। ২০২৪ সালের ১৮ নভেম্বর এইচ বি এম ইকবাল, তার স্ত্রী এবং একসময়ের চিত্রনায়িকা আঞ্জুমান আরা শিল্পী ও তাদের তিন সন্তানের ব্যাংক হিসাব জব্দ করে বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা (বিএফআইইউ)। আওয়ামী লীগ নেতা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনের সাবেক এমপি সৈয়দ এ কে একরামুজ্জামানের নামে মারশা দুবাইয়ে একটি ফ্ল্যাট (নম্বর ২৩০৯-০) এবং পাম জুমেরার আল শাহলায় আরেকটি ফ্ল্যাট (নম্বর ৭০৩-০) পাওয়া গেছে। এসবে তার ছেলে কামরুজ্জামানেরও মালিকানা রয়েছে বলে জানা গেছে।   সূত্র জানান, সৈয়দ এ কে একরামুজ্জামান (সুখন) একসময় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ছিলেন। ২০২৩ সালের ২৮ নভেম্বর তাঁকে বিএনপির সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়, এরপর তিনি আওয়ামী লীগে যোগ দেন এবং দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এমপি নির্বাচিত হন। পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের নামে দুবাইয়ে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। বুর্জ খলিফায় দুটি এবং নাদ আল শিবায় ২৭টি ফ্ল্যাট থাকার তথ্য মিলেছে। এ ছাড়া পলো রেসিডেন্সে তার নামে বাড়ি রয়েছে (নম্বর এ২, ২বি/আর ২৯৩, ১বি/আর ২৯৩), মেরিনা ভিসতা টাওয়ারে দুটি ফ্ল্যাট (নম্বর ১০৬ ও ৩০২), সানরাইজ বে টাওয়ার-১-এ চারটি ফ্ল্যাট এবং পাম জুমেরায় রয়্যাল বে-তে একটি হোটেল অ্যাপার্টমেন্ট (নম্বর ৮০৫)। এসব কিনতে তিনি যে দুটি বাংলাদেশি পাসপোর্ট ব্যবহার করেছেন তার নম্বর ডিসি৬০০৪০৭৬ ও বিটি০০১৫৮০৭, যাতে বাংলাদেশি ঠিকানা হিসেবে উল্লেখ রয়েছে ৭ সারসন রোড, পোস্ট অফিস বক্স-৪০০০, চট্টগ্রাম। তার ভাই আনিসুজ্জামান চৌধুরীর নামেও পাম জুমেরায় একটি ফ্ল্যাটের (নম্বর ৪৪০৭-০) সন্ধান মিলেছে। এ ছাড়া জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক, যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগ নেতা ইফজাল আহমেদ চৌধুরীর নামে বুর্জ খলিফায় একটি ফ্ল্যাটের (নম্বর ১৩০৩-০) তথ্য পাওয়া গেছে। জানতে চাইলে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের অতিরিক্ত ডিআইজি বাছির উদ্দিন বলেন, আন্তর্জাতিক একটি সংস্থার কাছ থেকে দুবাইয়ে বাংলাদেশিদের বিপুল পরিমাণ সম্পদ থাকার তথ্য পাওয়ার পর হাই কোর্টের নির্দেশে তারা তদন্ত শুরু করেন। তবে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং আইনে মামলা করা হয়েছে। অন্যদের নাম-ঠিকানা নিশ্চিত করা হচ্ছে।   খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জাকের পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তফা আমির মোহাম্মদ ফয়সলের নামে বুর্জ খলিফায় একটি হোটেল অ্যাপার্টমেন্ট (নম্বর ১২এ০৪) পাওয়া গেছে। দুবাইয়ে তার একটি ঠিকানাও পাওয়া গেছে-১১৭ আল হাশেমি বিল্ডিং অ্যাপার্টমেন্ট, ২০১ ফিরোজ আল মরার। এটি কিনতে ব্যবহৃত তার বাংলাদেশি পাসপোর্ট নম্বর বিএফ০৮৯৪৮৫১। আমিরাত আইডি প্রস্তুত প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট দুবাইপ্রবাসী মনোয়ার হোসাইনের সঙ্গে সমাজমাধ্যমে কথা হলে তিনি জানান, বাংলাদেশিদের মধ্যে যাঁরা সম্পদ কিনেছেন, তাদের আইডি প্রস্তুতের সময় নামপরিচয় অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে গোপন রাখা হয়। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ওয়াহিদুজ্জামান বুলবুল বলেন, ‘কেউ যদি দুবাইয়ে বৈধ আয় করে সে আয় দিয়ে সেখানে সম্পদ কেনেন, তাহলে আইনগত কোনো সমস্যা হবে না।’ তবে দুবাই সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো চুক্তি থাকলে তবেই পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি। তথ্যানুসন্ধানে দুবাইয়ে ফ্ল্যাট বা বাড়ি থাকার তথ্য মিলেছে আরও কয়েকজনের নামে। এদের মধ্যে রয়েছেন ২০১৯ সালে বিশেষজ্ঞ পেশাজীবী শ্রেণিতে পুরস্কারপ্রাপ্ত জুরানচন্দ্র ভৌমিক, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী ও মেয়ে শেহতাজ মোনাসি খান, তিতাস গ্যাসের গাজীপুর বিক্রয় অঞ্চলের সাবেক ব্যবস্থাপক সাব্বের আহমেদ চৌধুরীর স্ত্রী রুমানা রিশাত জামান এবং বাংলা একাডেমির সাবেক মহাপরিচালক, ভাষাবিজ্ঞানী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল কালাম মনজুর মোরশেদের মেয়ে মনজুলা মোরশেদ। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘যেসব দেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা কঠিন, দুবাই তার মধ্যে অন্যতম। বাংলাদেশ থেকে যেসব প্রক্রিয়ায় অর্থ পাচার হয়, তার সিংহভাগই হয় আমদানি-রপ্তানি চালান জালিয়াতির মাধ্যমে। তা ছাড়া নামে-বেনামে কাগুজে প্রতিষ্ঠানের বহুস্তরিক প্রতারণামূলক ঋণ ও বিনিয়োগ জালিয়াতির মাধ্যমে বিশাল অর্থ পাচারের পাশাপাশি প্রথাগত হুন্ডি তো রয়েছেই। এসব প্রক্রিয়ায় চলমান আন্তর্জাতিক সংঘবদ্ধ অপরাধের সবচেয়ে আকর্ষণীয় হিসেবে যেসব গন্তব্য সাম্প্রতিককালে বিকশিত হয়েছে তার অন্যতম হাব হয়ে দাঁড়িয়েছে দুবাই। মনে রাখতে হবে, এরূপ অন্য সব গন্তব্যের মতো বাংলাদেশের পাচারকৃত অর্থ এখন সেসব গন্তব্য দেশের অর্থনীতিতে বিনিয়োগ ও সম্পদ হয়ে দাঁড়িয়েছে; যা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে বৈশ্বিক অভিজ্ঞতায় মাত্র এক শতাংশ, তা-ও গড়ে সাত বছর থেকে ১৫-২০ বছরের জটিল প্রক্রিয়ার বিষয়। যদিও কিছু বিরল ব্যতিক্রমও রয়েছে।’ সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

মারিয়া রহমান আগস্ট ০৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
৫ বৈশিষ্ট্যের মানুষ দীর্ঘদিন বাঁচতে পারেন, বলছে গবেষণা

দীর্ঘ ও সুস্থ জীবন সবারই কাম্য। স্বাস্থ্যকর খাবার, নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম ও মানসিক চাপ কমানোর পরামর্শ আমরা প্রায়ই শুনি। তবে মনোবিজ্ঞানভিত্তিক দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা বলছে, ব্যক্তিত্বের কিছু বৈশিষ্ট্যও দীর্ঘায়ুর সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।   ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি ইন সেন্ট লুইসের মনোবিজ্ঞানী জোশুয়া জে. জ্যাকসন ও তাঁর সহকর্মীরা পরিচালিত ৭৫ বছরব্যাপী এক গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষের কিছু আচরণগত বৈশিষ্ট্য দীর্ঘ ও তুলনামূলক সুস্থ জীবনযাপনের সম্ভাবনা বাড়াতে পারে। গবেষণাটি প্রকাশিত হয় আন্তর্জাতিক সাময়িকী Psychological Science-এ।   গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে মূল্যায়ন করেছিলেন তাদের ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা। গবেষকদের মতে, অনেক সময় অন্যরা আমাদের আচরণকে আমরা নিজেরা যতটা বুঝতে পারি, তার চেয়েও নির্ভুলভাবে মূল্যায়ন করতে পারেন।   ১. দায়িত্বশীলতা গবেষণায় দীর্ঘায়ুর সঙ্গে সবচেয়ে শক্তিশালী সম্পর্ক পাওয়া গেছে দায়িত্বশীলতার। যাদের নিয়মানুবর্তী, সতর্ক, পরিকল্পিত ও কাজের ক্ষেত্রে যত্নবান হিসেবে মূল্যায়ন করা হয়েছে, তারা তুলনামূলক বেশি দিন বেঁচেছেন। দায়িত্বশীল মানুষ সাধারণত— অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকি কম নেন, স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন থাকেন, নিয়ম মেনে চলেন, ভবিষ্যৎ ভেবে সিদ্ধান্ত নেন। এসব অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে শারীরিক সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে।   ২. নতুনকে গ্রহণ করার মানসিকতা মুক্ত মানসিকতা বা নতুন অভিজ্ঞতা গ্রহণের আগ্রহও দীর্ঘ জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে গবেষণায় দেখা গেছে। যারা নতুন কিছু শেখার চেষ্টা করেন, ভিন্ন মতামত শুনতে আগ্রহী এবং পরিবর্তনকে সহজভাবে গ্রহণ করেন, তাদের মানসিক সক্রিয়তা তুলনামূলক বেশি থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অভ্যাস— মস্তিষ্ককে সচল রাখে, সৃজনশীলতা বাড়ায়, মানসিক স্থবিরতা কমায়, বার্ধক্যেও চিন্তাশক্তি সক্রিয় রাখতে সাহায্য করতে পারে। ৩. মানসিক স্থিতিশীলতা বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে মানসিক স্থিতিশীলতার সঙ্গে দীর্ঘ জীবনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক পাওয়া গেছে। যারা কঠিন পরিস্থিতিতেও আবেগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন, অযথা উদ্বেগে ভেঙে পড়েন না এবং বাস্তবতাকে শান্তভাবে মোকাবিলা করেন, তাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য তুলনামূলক ভালো থাকে। দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, অনিদ্রা ও অন্যান্য জটিলতার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।   ৪. বন্ধুত্বপূর্ণ ও সহযোগিতাপূর্ণ আচরণ মানুষের সঙ্গে সহজে সম্পর্ক গড়ে তোলা, অন্যকে সাহায্য করা এবং হাসিখুশি থাকা—এসব বৈশিষ্ট্যের সঙ্গেও দীর্ঘ জীবনের সম্পর্ক থাকতে পারে। ৯৫ থেকে ১০০ বছর বয়সী প্রবীণদের ওপর পরিচালিত আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে, তাদের অনেকেই ছিলেন— সামাজিক, সহজ-সরল, সহযোগিতাপূর্ণ, বহির্মুখী, ইতিবাচক মনোভাবসম্পন্ন। সামাজিক সম্পর্ক মানসিক সমর্থন দেয়, একাকীত্ব কমায় এবং মানসিক সুস্থতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।   ৫. আবেগ প্রকাশের অভ্যাস নিজের অনুভূতি সবসময় চেপে রাখার বদলে খোলামেলা আবেগ প্রকাশ করাও উপকারী হতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘজীবী অনেক মানুষ— নিয়মিত হাসতেন, আনন্দ ও দুঃখ অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নিতেন, আবেগ প্রকাশে সংকোচ বোধ করতেন না। আবেগ চেপে রাখলে মানসিক চাপ বাড়তে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ব্যক্তিত্ব কি বদলানো যায়? গবেষকদের মতে, ব্যক্তিত্বের কিছু অংশ জিনগত হলেও এর অনেকটাই অভ্যাস, শিক্ষা, পরিবার ও সামাজিক পরিবেশের মাধ্যমে গড়ে ওঠে। নিচের অভ্যাসগুলো ধীরে ধীরে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সাহায্য করতে পারে— নিয়মিত ও পরিকল্পিত জীবনযাপন, নতুন কিছু শেখা, ইতিবাচক সামাজিক সম্পর্ক তৈরি করা, অনুভূতি প্রকাশ করা, দায়িত্বশীল আচরণ চর্চা করা। গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা গবেষকেরা স্পষ্টভাবে বলেছেন, এটি সম্পর্কভিত্তিক গবেষণা। অর্থাৎ এই বৈশিষ্ট্যগুলো দীর্ঘ জীবন নিশ্চিত করে—এমন সিদ্ধান্ত গবেষণা থেকে সরাসরি দেওয়া যায় না। তবে এসব বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে দীর্ঘ ও সুস্থ জীবনযাপনের ইতিবাচক সম্পর্ক পাওয়া গেছে। অর্থাৎ দীর্ঘায়ুর জন্য শুধু খাবার, ব্যায়াম বা চিকিৎসাই নয়, আমাদের চিন্তাভাবনা, আচরণ, সম্পর্ক এবং দৈনন্দিন ছোট ছোট সিদ্ধান্তও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ০৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বের শীর্ষ ১১ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দেশ

পাহাড়, সমুদ্র, বন, হ্রদ আর তুষারঢাকা পর্বতের অপূর্ব সমন্বয়ে পৃথিবীর কিছু দেশ যেন প্রকৃতির হাতে আঁকা একেকটি জীবন্ত চিত্রপট। ভ্রমণপিপাসীদের কাছে এসব দেশ শুধু পর্যটন গন্তব্য নয়, বরং বিস্ময় আর সৌন্দর্যের এক অনন্য অভিজ্ঞতা।   বিদেশ ভ্রমণের পরিকল্পনা করলে অনেকেই খোঁজেন—কোন দেশটি প্রকৃতির সৌন্দর্যের জন্য সবচেয়ে বেশি পরিচিত? সেই ভাবনা থেকেই তুলে ধরা হলো বিশ্বের এমন ১১টি দেশ, যেগুলো প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য ও মনোমুগ্ধকর ল্যান্ডস্কেপের জন্য বিশেষভাবে জনপ্রিয়।   ১. কানাডা — প্রকৃতির বিশাল ক্যানভাস বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ কানাডা পাহাড়, হ্রদ ও বনভূমির এক অসাধারণ সমাহার। রকি পর্বতমালা, ব্যানফ ও জ্যাসপার ন্যাশনাল পার্ক, ফিরোজা নীল হ্রদ এবং নর্দার্ন লাইটের মুগ্ধতা দেশটিকে প্রকৃতিপ্রেমীদের স্বপ্নের গন্তব্যে পরিণত করেছে।   ২. নিউজিল্যান্ড — রূপকথার মতো সুন্দর সবুজ পাহাড়, আগ্নেয়গিরি, হিমবাহ, ফিয়র্ড ও সমুদ্রসৈকতের অনন্য সমন্বয় নিউজিল্যান্ডকে দিয়েছে ভিন্ন মাত্রা। মিলফোর্ড সাউন্ড, রোটোরুয়া ও টোঙ্গারিরো ন্যাশনাল পার্ক পর্যটকদের সবচেয়ে প্রিয় আকর্ষণগুলোর মধ্যে অন্যতম।   ৩. সুইজারল্যান্ড — আল্পসের মোহনীয় দেশ বরফে ঢাকা আল্পস, সবুজ উপত্যকা ও স্বচ্ছ নীল হ্রদের জন্য সুইজারল্যান্ড বিশ্বজুড়ে পরিচিত। শীতকালে স্কিইং আর গ্রীষ্মে পাহাড়ি পথে ট্রেকিং—দুই ঋতুতেই দেশটি ভিন্ন রূপে ধরা দেয়।   ৪. জাপান — প্রকৃতি ও ঐতিহ্যের মেলবন্ধন বসন্তে চেরি ফুলের গোলাপি আচ্ছাদন, মাউন্ট ফুজির অপরূপ দৃশ্য, আরাশিয়ামার বাঁশের বন এবং ঐতিহ্যবাহী জাপানি বাগান দেশটির সৌন্দর্যকে করেছে অনন্য।   ৫. নরওয়ে — নর্দার্ন লাইটের স্বর্গ গভীর ফিয়র্ড, বরফঢাকা পাহাড়, অসংখ্য জলপ্রপাত এবং আকাশজুড়ে অরোরার রঙিন নৃত্য নরওয়েকে বিশ্বের অন্যতম আকর্ষণীয় প্রাকৃতিক গন্তব্যে পরিণত করেছে।   ৬. অস্ট্রেলিয়া — বৈচিত্র্যের বিস্ময় গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ, ব্লু মাউন্টেইনস, উলুরু এবং বিস্তীর্ণ সমুদ্রসৈকত অস্ট্রেলিয়ার প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যকে করেছে অনন্য ও বিস্ময়কর।   ৭. আইসল্যান্ড — আগুন ও বরফের দেশ আগ্নেয়গিরি, গিজার, হিমবাহ এবং শক্তিশালী জলপ্রপাতের সমন্বয়ে আইসল্যান্ডের প্রকৃতি পৃথিবীর অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় আলাদা অনুভূতি দেয়।   ৮. ইতালি — ইতিহাসের সঙ্গে প্রকৃতির মুগ্ধতা আমালফি উপকূল, ডলোমাইট পর্বতমালা, কোমো হ্রদ এবং টাস্কানির পাহাড়ি অঞ্চল ইতালিকে শুধু ইতিহাসের নয়, প্রকৃতির সৌন্দর্যের দিক থেকেও অসাধারণ করে তুলেছে।   ৯. দক্ষিণ আফ্রিকা — বন্য প্রকৃতির রোমাঞ্চ পাহাড়, সমুদ্র, বনভূমি ও বন্যপ্রাণীর অসাধারণ সমন্বয় দক্ষিণ আফ্রিকাকে দিয়েছে এক ভিন্ন চরিত্র। ক্রুগার ন্যাশনাল পার্কের সাফারি কিংবা টেবিল মাউন্টেনের দৃশ্য পর্যটকদের জন্য স্মরণীয় অভিজ্ঞতা।   ১০. যুক্তরাষ্ট্র — বৈচিত্র্যময় ল্যান্ডস্কেপের দেশ গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন, ইয়েলোস্টোন, ইয়োসেমাইট, নায়াগ্রা জলপ্রপাত এবং আলাস্কার হিমবাহ—সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাহাড়, মরুভূমি, বন, সমুদ্র ও হিমবাহের বিরল বৈচিত্র্য দেখা যায়।   ১১. গ্রীস — নীল সমুদ্রের মায়াবী সৌন্দর্য এজিয়ান সাগরের নীল জলরাশি, সাদা বাড়িঘর আর পাহাড়ি দ্বীপের সৌন্দর্য গ্রীসকে করেছে বিশ্বখ্যাত। সান্তোরিনি ও মিকোনোসের সূর্যাস্ত লাখো পর্যটককে প্রতি বছর আকর্ষণ করে।   কেন এই দেশগুলো বিশেষ? প্রতিটি দেশেরই নিজস্ব প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রয়েছে। তবে পাহাড়, সমুদ্র, বনভূমি, হ্রদ, হিমবাহ ও বন্যপ্রাণীর বৈচিত্র্য—সবকিছু মিলিয়ে এই ১১টি দেশ ভ্রমণপ্রেমীদের ‘বাকেট লিস্ট’-এ সবসময়ই শীর্ষে থাকে। আপনি যদি ভবিষ্যতে বিদেশ ভ্রমণের পরিকল্পনা করেন, তাহলে এই দেশগুলোর যেকোনো একটি রাখতে পারেন আপনার পছন্দের তালিকায়। হয়তো কোনো একদিন নিজের চোখেই দেখে আসবেন প্রকৃতির সেই অপার বিস্ময়।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ০৭, ২০২৬
বীথিকা বিনতে হোসাইন ও আসিফ মাহমুদ
বিএনপির এমপিকে আইনি নোটিশ দিলেন আসিফ মাহমুদ

‘মানহানি’র প্রতিবাদে বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য বীথিকা বিনতে হোসাইনকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ। আজ বৃহস্পতিবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানিয়েছেন আসিফ মাহমুদ নিজেই।   ওই পোস্টে বলা হয়েছে, ‘আপনারা অবগত আছেন যে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকেই পরাজিত ফ্যাসিস্ট শক্তি এবং রাজনৈতিক স্বার্থে কিছু স্বার্থান্বেষী মহল নিয়মিত গণ-অভ্যুত্থানের নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে নানারকম অপপ্রচার এবং চরিত্রহননের চেষ্টা করে যাচ্ছে। বিগত দুই বছর ধরেই নানা রকম অপবাদ এবং অপপ্রচারের শিকার হচ্ছেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তবে এখন পর্যন্ত কেউই কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ কিংবা প্রমাণ উত্থাপন করতে পারেনি।’   এতে উল্লেখ রয়েছে, ‘কয়েকদিন পূর্বে একটি পাবলিক প্রোগ্রামে বিএনপির সংরক্ষিত আসনের নারী এমপি বীথিকা বিনতে হোসাইন অভিযোগ করেন, বিসিবির সদস্য হওয়ার জন্য তার থেকে আসিফ মাহমুদ ৩ কোটি টাকা দাবি করেছেন। বিষয়টি মিডিয়ায় আসার পর আসিফ মাহমুদের পক্ষ থেকে কয়েক দফা তার সঙ্গে যোগাযোগ করে অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ কিংবা সুনির্দিষ্ট ভাবে কে, কার থেকে অর্থ দাবি করেছেন তা জানতে চাওয়া হয়। তিনি একাধিকবার তথ্য দেবেন বলেও কোনো প্রকার তথ্য দেননি। বারবার যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান ‘আমাকে তো এমনটাই বলা হয়েছে’। পরবর্তীতে তিনি জানাবেন বলে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। এতে এটাই প্রতীয়মান হয় যে, তিনি উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে চরিত্রহননের উদ্দেশ্যেই ওই বক্তব্য দিয়েছেন।’   ফেসবুক পোস্টে আরও উল্লেখ রয়েছে, এমতাবস্থায়, আসিফ মাহমুদ তার নামে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন। নোটিশে আগামী সাত দিনের মধ্যে তার অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ উপস্থাপন করতে অনুরোধ করা হয়েছে। অন্যথায়, তাকে বক্তব্য প্রত্যাহার করে প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে। তিনি যদি এর কোনোটিই না করেন, তবে তার বিরুদ্ধে আসিফ মাহমুদ প্রচলিত আইনে মানহানির অভিযোগে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।   এসব ধারাবাহিক অপপ্রচার কেবল ব্যক্তি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে নয়; বরং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের নেতৃত্ব, চেতনা ও অর্জনকে পরিকল্পিতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টার অংশ বলে দাবি করা হয়েছে ওই পোস্টে। এতে বলা হয়েছে, আসিফ মাহমুদ একা নন, জুলাইয়ের পক্ষের আরও অনেকে একই ধরনের মিথ্যাচার ও অপপ্রচারের শিকার হয়েছেন। এখন থেকে মিথ্যাচার, অপপ্রচার ও চরিত্রহননের প্রতিটি অপচেষ্টার জবাব দেওয়া হবে আইনের মাধ্যমেই।

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ০৬, ২০২৬
Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সপ্তাহের সেরা

আন্তর্জাতিক

যুদ্ধ ও রাজনৈতিক সংকটে বাড়ছে ইসরায়েলিদের দেশত্যাগ

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ০৪, ২০২৬