ইডেন মহিলা কলেজে ছাত্রদলের নেত্রীদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে ‘মব’ সৃষ্টি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির। তিনি দাবি করেন, ছাত্রীসংস্থার ‘গুপ্ত কর্মীদের ইন্ধনে’ এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে এবং এর মাধ্যমে ছাত্ররাজনীতি বন্ধের অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। শনিবার (৯ মে) রাত সোয়া ১টায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন তিনি। পোস্টে নাছির বলেন, ছাত্ররাজনীতিতে অংশগ্রহণ, ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা এবং রাজনৈতিক মতপ্রকাশের স্বাধীনতা একজন শিক্ষার্থীর মৌলিক অধিকার। কিন্তু একটি গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মব সৃষ্টি করে ছাত্ররাজনীতিকে বাধাগ্রস্ত করছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, এর আগে আমরা দেখেছি, গুপ্ত সংগঠন শিবির তাদের গুপ্ত শাখার কর্মীদের লেলিয়ে দিয়ে ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করার জন্য মব সৃষ্টি করেছিল বিভিন্ন ক্যাম্পাসে। যারা এই মবের নেতৃত্ব দিয়েছে পরবর্তীতে তারাই গুপ্ত সংগঠনের শীর্ষ নেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। শিবির গুপ্ত রাজনীতির করে ছাত্ররাজনীতিকে দুর্গন্ধময় করে ফেলেছে। তিতুমীর কলেজের একটি ঘটনার উল্লেখ করে এই নেতা বলেন, কয়েকদিন আগে তিতুমীর কলেজে রাতের বেলা গেট ভেঙে মব সৃষ্টি করা হয় এবং ছাত্রদলের নেত্রীদের হেনস্তা করা হয়। তিনি দাবি করেন, ওই ঘটনায় জড়িত এক ব্যক্তি পরে কলেজ শাখা শিবিরের সেক্রেটারি হিসেবে পরিচিত হন। ইডেন কলেজের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে নাছির উদ্দীন বলেন, আজ একইভাবে ছাত্রীসংস্থার গুপ্ত কর্মীদের ইন্ধনে ইডেন কলেজে মব সৃষ্টি করে ছাত্রদলের নেত্রীদের এবং অন্যান্য রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীদের হেনস্তা করা হচ্ছে। ছাত্রীদের হল থেকে বের করে দেওয়া হচ্ছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অবিলম্বে এসব ‘মব সন্ত্রাস’ ও ছাত্রদলের নেত্রীদের হয়রানি বন্ধ না হলে ছাত্রদল কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। কলেজ প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সব শিক্ষার্থীর রাজনৈতিক অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। কোনো ধরনের ‘কূটচাল বা ধোঁকাবাজির’ কাছে নতি স্বীকার না করার আহ্বানও জানান তিনি।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রথম ধাপে উপজেলা ও পৌরসভা নির্বাচনে চেয়ারম্যান ও মেয়র পদে দলসমর্থিত ১০০ প্রার্থীর নাম ঘোষণা করবে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। রোববার (১০ মে) বিকেল ৩টায় জরুরি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই তালিকা প্রকাশ করবে দলটির স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটি। শনিবার (৯ মে) রাত সাড়ে ১১টার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান সারজিস আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, প্রথম ধাপে ১০০ উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌরসভার মেয়র পদপ্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে। এ বিষয়ে সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতেও তথ্যটি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থাকবেন এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান সারজিস আলম, সদস্যসচিব আব্দুল হান্নান মাসউদসহ দলের বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকরা। সংবাদ সম্মেলনটি রাজধানীর বাংলামোটরের রূপায়ণ ট্রেড সেন্টারে এনসিপির অস্থায়ী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হবে।
মাত্র ১৯ দিনের শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। নারায়ণগঞ্জের বাংলাদেশ নবজাতক হাসপাতালে ভর্তি ওই শিশুর শরীরে জ্বর, সারা শরীরে লালচে দাগ (র্যাশ) এবং নিউমোনিয়া শনাক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে শিশুটিকে হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। চিকিৎসকদের ধারণা, শিশুটি হামে আক্রান্ত হয়েছে। রোগটি নিশ্চিত হতে ইতোমধ্যে পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। শনিবার (৯ মে) হাসপাতালের চিফ কনসালট্যান্ট ডা. মো. মজিবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, গত ৫ দিন ধরে শিশুটির তীব্র জ্বর ছিল। ৩ দিন আগে সারা শরীরে র্যাশ দেখা দেয় এবং সে খেতে পারছিল না। এক্স-রেতে নিউমোনিয়া ধরা পড়েছে। শিশুটির মা হামের টিকা নিয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তিনি আরও বলেন, “এত অল্প বয়সী শিশুর হামে আক্রান্ত হওয়া আমাদের জন্য নতুন করে ভাবনার বিষয়। কারণ সাধারণত ছয় মাসের আগে শিশুকে হাম-রুবেলা টিকা দেওয়া যায় না। শিশুটির সুস্থতার জন্য সবাই দোয়া করবেন।
রাজধানীর ইডেন মহিলা কলেজে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিতে মধ্যরাতে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। শনিবার (৯ মে) রাত সাড়ে ১১টার দিকে কলেজের প্রধান গেটের তালা ভেঙে বের হয়ে এসে তারা বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় শিক্ষার্থীদের ‘ছাত্ররাজনীতির ঠিকানা, এই ইডেনে হবে না’ স্লোগান দিতে শোনা যায়। একপর্যায়ে তারা ক্যাম্পাসের কয়েকটি গেট ভেঙে ফেলার চেষ্টা করেন এবং গেটে টানানো বিভিন্ন ব্যানার ও ফেস্টুনে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করেন। তারা ক্যাম্পাসে সব ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব বন্ধের দাবি জানান। এর আগে, শনিবার সন্ধ্যার পর ইডেন কলেজের গেটে লেখা ‘রাজনীতিমুক্ত ক্যাম্পাস’ কথাটি রঙ দিয়ে মুছে দেওয়া হয়। এর জেরেই একদল শিক্ষার্থী আন্দোলনে নামেন। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ক্যাম্পাসে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি বিরাজ করছিল।
যশোরের শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া সম্মিলিত গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে এসএসসি পরীক্ষার্থী নিজ মেয়েকে অনৈতিকভাবে সহযোগিতা করার অভিযোগে ওই প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক ও এক কর্মচারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শনিবার (৯ মে) সকালে শার্শা থানার ওসি মারুফ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। গ্রেফতাররা হলেন প্রধান শিক্ষক শাহানারা খাতুন এবং চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী ফাতেমা খাতুন। এর আগে শুক্রবার দুপুরে উপজেলা প্রশাসনের উপস্থিতিতে তাদের গ্রেফতার করা হয় এবং রাতেই তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। সূত্র জানায়, প্রধান শিক্ষক শাহানারা খাতুনের মেয়ে অহনা খাতুন ঝিকরগাছা উপজেলার কুলবাড়িয়া বিকেএস মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী হিসেবে চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। সে বাগআঁচড়া সম্মিলিত গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রের ৩০১ নম্বর কক্ষে পরীক্ষা দিচ্ছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৮ এপ্রিল ইংরেজি দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষা শেষে প্রধান শিক্ষক শাহানারা খাতুন গোপনে মেয়ের উত্তরপত্র সংগ্রহ করেন। পরে কর্মচারী ফাতেমা খাতুনের সহায়তায় উত্তরপত্রের ভুল সংশোধন করে পুনরায় তা জমা দেওয়া হয়। ঘটনার খবর পেয়ে শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফজলে ওয়াহিদ এবং উপজেলা অ্যাকাডেমিক সুপারভাইজার এ কে এম নুরুজ্জামান সরেজমিনে তদন্ত করেন। শার্শা থানার ওসি মারুফ হোসেন জানান, শুক্রবার রাতেই ১৯৮০ সালের পাবলিক পরীক্ষা আইনে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয় এবং শনিবার সকালে গ্রেফতার দুজনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
বিএনপি সরকারের বিগত প্রায় ৩ মাসের কর্মকাণ্ড সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রচার করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় কী ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে ও কেন নিচ্ছে, সেগুলো সম্পর্কে বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল এবং ছাত্রদলের শীর্ষ নেতাদের প্রচার করতে বলা হয়েছে। জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোর সম্মতিতে যে জুলাই সনদ সই হয়েছে, এর সব পালন করবে বিএনপি। একই সঙ্গে গণভোট নিয়ে মানুষের মধ্যে বিরোধী দল কিভাবে ‘বিভ্রান্তিকর’ তথ্য প্রচার করছে, তা-ও মানুষকে জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শনিবার (৯ মে) রাজধানীর ফার্মগেটে অবস্থিত কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে এক মতবিনিময়সভার আয়োজন করে বিএনপি। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সভায় বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের শীর্ষ নেতারা সারা দেশ থেকে অংশ নেন। সভায় উপস্থিত একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভবিষ্যতে আরো বড় পরিসরে এবং প্রতি ৩ মাস অন্তর এই আয়োজন করবে বিএনপি। এদিন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইন মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়সহ মোট ১১টি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বক্তব্য দেন। তারা তাদের মন্ত্রণালয়ের কর্মকাণ্ড নিয়ে নেতাদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। একই সঙ্গে তাদের পরামর্শ নেন। বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী ১৮০ দিনের কর্মসূচির অগ্রগতি নিয়ে নেতাদের অবহিত করা হয়। বিএনপির পক্ষ উপস্থিত সব নেতাদের লিফলেট দেওয়া হয়, যা তাদের উদ্যোগে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রচার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। লিফলেটে যা রয়েছে অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার ছিল না। নেতারা বলছেন, এটা একদমই ক্লোজডোর পরিবেশের মতো আলোচনা হয়েছে। সব নেতাকে একটি করে লিফলেট দেওয়া হয়েছে। সেখানে যা রয়েছে, তা যেন মানুষের মধ্যে প্রচার করা হয়, সেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। লিফলেটে রয়েছে গণভোটের চারটি প্রশ্নের মধ্যে ‘খ’ নং প্রশ্ন জুলাই সনদের ১৮ ও ১৯ অনুচ্ছেদ পরিপন্থী, যা প্রতারণামূলক। বিএনপি জুলাই সনদ অনুসারে ১০০ সদস্য বিশিষ্ট উচ্চকক্ষ প্রতিষ্ঠা করতে চায়। জুলাই সনদ অক্ষরে-অক্ষরে বাস্তবায়নে বিএনপি সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। গণভোটের ‘ক’ প্রশ্নে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান জুলাই সনদে বর্ণিত প্রক্রিয়ার আলোকে গঠন করবে বিএনপি। গণভোটের ‘গ’ প্রশ্নের আলোকে সংসদে নারী প্রতিনিধি বৃদ্ধি, বিরোধী দল হতে ডেপুটি স্পিকার ও সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচন, মৌলিক অধিকার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, স্থানীয় সরকার, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতাসহ তফসিলে বর্ণিত যে ৩০টি বিষয়ে জুলাই জাতীয় সনদে ঐকমত্য হয়েছে, সেগুলোও বাস্তবায়ন করবে বিএনপি। একই সঙ্গে সংসদে নারী প্রতিনিধি বৃদ্ধি, বিরোধী দল হতে ডেপুটি স্পিকার দেওয়ার ক্ষেত্রে জুলাই সনদের ২২ ও ২৩ নং অনুচ্ছেদ বিরোধী দল ইতিমধ্যেই লঙ্ঘন করেছে। এগুলো মানুষকে জানাতে বলা হয়েছে। মতবিনিময়সভা সম্পর্কে জানতে চাইলে যুবদলের ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার সদস্যসচিব সাজ্জাদুল মিরাজ কালের কণ্ঠকে বলেন, সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে কম আলোচনা হয়েছে। ১৮০ দিনের কর্মসূচি মন্ত্রীরা সভায় ব্যাখ্যা করেছেন। আমরা মন্ত্রণালয়গুলোর কাজ নিয়ে জানতে চেয়েছি, মন্ত্রীরা তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন। প্রতি তিন মাস পর পর এই মতবিনিময়সভা করা হবে। এবার শুধু জেলা পর্যায়ের নেতাদের আনা হয়েছিল। এরপর যদি সম্ভব হয়, উপজেলা পর্যায়ের নেতাদের নিয়েও মতবিনিময় করা হবে। সরকার যেসব প্রকল্প হাতে নিয়েছে সেগুলো সম্পর্কে ব্যাখ্যা করেছে। গণভোট, জুলাই সনদ নিয়ে বিরোধী দল মানুষের কাছে কিভাবে ভুল ব্যাখ্যা দিচ্ছে, তা-ও সভায় তুলে ধরা হয়েছে। ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসির বলেন, সরকারপ্রধান নেতাকর্মীদের থেকে সুনির্দিষ্টভাবে জানতে চেয়েছেন এবং গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীরা তাদের প্রকল্পগুলোতে আর কী কী ব্যবস্থা গ্রহণ করলে মানুষ উপকৃত হতে পারবে, এসব বিষয় নিয়ে আলাপ আলোচনা হয়েছে। নেতাকর্মীরাও বিভিন্ন পরামর্শ দিয়েছেন এবং সরাসরি প্রশ্ন করছেন যে, এটি কেন নেওয়া হয়েছে বা এই পরিকল্পনা নেওয়া ভুল ছিল নাকি সঠিক ছিল? সব বিষয়ে একটা জবাবদিহিতার আওতায় আনা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বলে দিয়েছিলেন, প্রশ্নগুলো যেন জনসম্পৃক্ত হয়। মোট ১১টি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীরা কথা বলেছেন। তিনি বলেন, দেশের সাধারণ মানুষ যেহেতু নেতাকর্মীদের সঙ্গে সম্পৃক্ত- একদম সাধারণ তৃণমূলের মানুষের চিন্তাভাবনাগুলো, মানুষ আসলে সরকারকে নিয়ে কী ভাবছে, কী পরামর্শ দিচ্ছে, তারই একটি সুনির্দিষ্ট প্রতিফলন এই মতবিনিময় সভায় দেখেছি। আশা করি, এটির মাধ্যমে সরকারের জবাবদিহিও নিশ্চিত হবে। একই সঙ্গে সরকারের যে ভুলত্রুটিগুলো হচ্ছে, সেগুলো শুধরে আগামীতে আরো ভালোভাবে এগিয়ে যাবে বলে আমরা প্রত্যাশা রাখছি। সরকারের নীতিনির্ধারণ, পদক্ষেপ এবং আগামীর কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
ক্যাবল অপারেটরদের যৌক্তিক সমস্যা সমাধানে সরকার পাশে থাকবে বলে জানিয়েছেন তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। তিনি বলেন, ক্যাবল অপারেটর, আইএসপি ও সম্প্রচার খাত দেশের লাখো মানুষের কর্মসংস্থানের সঙ্গে জড়িত, তাই এ খাতকে আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে গড়ে তোলা সরকারের দায়িত্ব। রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরা-তে অনুষ্ঠিত আইসিবিসি এক্সপো ২০২৬-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী জানান, স্মার্ট প্রযুক্তি, ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্ক, আইপি টিভি ও ডিজিটাল কনটেন্ট ব্যবস্থার বিস্তারের মাধ্যমে দেশের ক্যাবল টিভি ও টেলিযোগাযোগ খাত নতুন যুগে প্রবেশ করেছে। এ খাত এখন জাতীয় উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সরকার অবকাঠামো উন্নয়ন, নীতিগত সহায়তা, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। একই সঙ্গে গ্রাহকের তথ্য নিরাপত্তা, মানসম্মত সেবা নিশ্চিতকরণ, আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব বৃদ্ধি এবং স্থানীয় কনটেন্ট উৎপাদনে জোর দেওয়ার আহ্বান জানান। তিন দিনব্যাপী এই এক্সপোতে দেশি-বিদেশি ৬৭টি প্রতিষ্ঠান তাদের আধুনিক ক্যাবল টিভি, ব্রডকাস্টিং ও কমিউনিকেশন প্রযুক্তি ও সেবা প্রদর্শন করে। অনুষ্ঠানে কোয়াব সভাপতি এ বি এম সাইফুল হোসেন সোহেলসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলে
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, শুধু জিপিএ-৫ কেন্দ্রিক প্রথাগত শিক্ষা নিয়ে পড়ে থাকলে চলবে না, আমাদের নতুন প্রজন্মকে বিশ্বমানের নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, 'আমাদের মূল লক্ষ্য প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে রূপান্তর করা, যাতে শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারে।' আজ (শনিবার) রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে 'চায়না-বাংলাদেশ এডুকেশন সহযোগিতা ফোরাম-২০২৬'-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকাস্থ চীনা দূতাবাসের উদ্যোগে এবং চীন-বাংলাদেশ শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময় সমিতির ব্যবস্থাপনায় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, 'আমাদের শিল্প এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় সমন্বয় নেই। এই শূন্যতা দূর করতে হবে। আমাদের বিশাল জনশক্তিকে আমরা দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করতে চাই, যারা সরাসরি কর্মসংস্থানের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারবে।' ড. মিলন বলেন, 'আমরা গুণগত শিক্ষা নিশ্চিতে এখনও কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারিনি। তবে এটি অর্জনে যা যা প্রয়োজন, বর্তমান তারেক রহমানের সরকার সবই করবে। শিক্ষকদের উদ্দেশে আমার আহ্বান—শুধু বছর শেষে পরীক্ষা নেওয়া যাবে না। প্রতিদিনের শ্রেণিকক্ষে পাঠদান ও সঠিক মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে হবে।' চীনে উচ্চশিক্ষার সুযোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'চীনের শিক্ষাব্যবস্থা উন্নত এবং খুব বেশি ব্যয়বহুল নয়। বর্তমানে প্রায় ১৬ হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী সেখানে সফলভাবে পড়াশোনা করছে।' তিনি বলেন, বিশ্বায়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমরা সরকার থেকে ‘তৃতীয় ভাষা’ শিক্ষা বাধ্যতামূলক করেছি। বিশেষ করে চীনা ভাষা শিখলে আমাদের শিক্ষার্থীদের জন্য আন্তর্জাতিক শ্রমবাজার ও উচ্চশিক্ষার বিশাল দুয়ার উন্মোচিত হবে। শিক্ষামন্ত্রী আরও জানান, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতে সরকার ইতিমধ্যে পাঠ্যক্রম ও একাডেমিক ক্যালেন্ডারে পরিবর্তন আনছে। চীনের সঙ্গে শিক্ষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন। আরও বক্তব্য দেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আব্দুল খালেক; বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ; বুয়েট উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. বি. এম. বদরুজ্জামান এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মঈনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল। ফোরামে দু’দেশের শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ এবং চীন ও বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
শিক্ষা বোর্ডগুলোর কঠোর নির্দেশনা ও সচেতনতামূলক বার্তার পরও এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নে অনিয়ম বন্ধ হচ্ছে না। নিয়মানুযায়ী কেবল নির্ধারিত পরীক্ষকদের খাতা দেখার কথা থাকলেও অনেক পরীক্ষক সেই খাতা শিক্ষার্থীদের দিয়ে মূল্যায়ন করিয়ে নিচ্ছেন, এমন অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া নম্বর গণনা, বৃত্ত ভরাট করার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজেও শিক্ষার্থী এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরদের ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সম্প্রতি, কিছু কিশোর-তরুণের এসএসসির খাতা দেখার দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ফেসবুক ও টিকটকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবিতে দেখা যায়, পরীক্ষকের বদলে তাঁর ছাত্র বা পরিচিত তরুণরা উত্তরপত্র নিয়ে গোল হয়ে বসে আছে। কেউ খাতা পড়ছে, কেউ নম্বর দিচ্ছে, আবার কেউ অতি গুরুত্বপূর্ণ ওএমআর শিটের বৃত্ত ভরাটের কাজ করছে। খাতা দেখার এসব ছবি ও ভিডিও অনেকে নিজেদের প্রোফাইলে বিভিন্ন ক্যাপশন দিয়ে পোস্ট করেছে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, গত কয়েকদিনে চলমান এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন, নম্বর গণনা এবং বৃত্ত ভরাটের অন্তত ৮টি ভিডিও-রিলস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটক ও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। সেসব ভিডিওতে দেখা গেছে বোর্ড থেকে দেওয়া উত্তরপত্রের বান্ডিল ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাখা হয়েছে শিক্ষার্থী ও কিশোরদের সামনে। কিছু ভিডিওতে রাজশাহী, চট্টগ্রাম, বরিশাল, যশোর ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের খাতা দেখা গেছে। ঢাকা বোর্ডের এবং কুমিল্লাসহ কিছু বোর্ডের ২০২৫ কিংবা তারও আগের এসএসসি পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নের কিছু ভিডিও নতুন করে পোস্ট করে ট্রেন্ডে আনা হয়েছে। এসব ভিডিওতেও দেওয়া হয়েছে চটকদার ক্যাপশনও। এর মধ্যে টিকটকের বেশকিছু ভিডিওতে ক্যাপশন দেওয়া হয়েছে—'সবার সাথে বসে এসএসসি পরীক্ষার খাতা দেখলাম', '২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী, কে কে আছো কমেন্টে জানাও', 'এখানে কার কার ভবিষ্যৎ আছে কমেন্ট করে জানাও' প্রভৃতি। খাতা দেখায় শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করা হয়, জানেন অনেকে! কেন এবং কীভাবে খাতা দেখার মতো স্পর্শকাতর কাজ শিক্ষার্থীদের হাতে চলে যাচ্ছে, তা নিয়ে খোঁজ নিতে গিয়ে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। নাম-পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে রাজধানীর বেশ কয়েকজন পরীক্ষক ও প্রধান পরীক্ষক খাতা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে এমন 'অনিয়ম' হয় বলে একরকম স্বীকার করে নিয়েছেন। তারা বলছেন, সময় স্বল্পতা, অবহেলা এবং বাড়তি আয়ের নেশা থেকে কিছু পরীক্ষক এই প্রতারণার আশ্রয় নেন। নাম-পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে এক পরীক্ষক বলেন, অনেক পরীক্ষক একটি 'মডেল উত্তরপত্র' শিক্ষার্থীদের হাতে ধরিয়ে দেন এবং বলেন সে অনুযায়ী নম্বর দিতে। কিন্তু সৃজনশীল প্রশ্নে শিক্ষার্থীদের উত্তরের বৈচিত্র্য বোঝার মতো গভীরতা বা অভিজ্ঞতা ওইসব তরুণ শিক্ষার্থীর নেই। ফলে যারা একটু ভিন্নভাবে বা নিজের ভাষায় উত্তর লেখে, তারা এই অপেশাদার মূল্যায়নের শিকার হয়ে নম্বর কম পায়। রাজধানীর একটি স্কুলের একজন সিনিয়র শিক্ষক, যিনি দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা বোর্ডের খাতা দেখছেন, তিনি জানান, মূলত সময় বাঁচানোর জন্যই অনেকে এই পথ বেছে নেন। একজন পরীক্ষককে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ৩০০ থেকে ৫০০ খাতা মূল্যায়ন করতে হয়। আবার অনেক শিক্ষক কোচিং সেন্টার বা প্রাইভেট টিউশনিতে ব্যস্ত থাকেন। ফলে তারা খাতাগুলো নিজেরা না পড়ে তাদের বিশ্বস্ত ছাত্র বা বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া পরিচিতদের দিয়ে দেন। তারা কেবল শেষে নম্বরগুলো একবার যাচাই করে স্বাক্ষর করে দেন। আরেক পরীক্ষক জানান, খাতা দেখার চেয়েও বেশি অনিয়ম হয় নম্বর গণনা ও ওএমআর শিট বৃত্ত ভরাটের ক্ষেত্রে। ময়মনসিংহ বোর্ডের এক পরীক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, অনেক পরীক্ষক মনে করেন মূল্যায়নের কাজটা নিজে করলেই হলো, কিন্তু নম্বর যোগ করা বা বৃত্ত ভরাট করা তো যান্ত্রিক কাজ, তাই তারা এই কাজে নিজেদের সন্তান বা স্কুলের শিক্ষার্থীদের বসিয়ে দেন। অথচ এই যোগফল বা বৃত্ত ভরাটে সামান্য ভুল হলেই একজন শিক্ষার্থীর ফলাফল ওলটপালট হয়ে যায়। তিনি আরও বলেন, সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হলো গোপনীয়তা লঙ্ঘন। একটি খাতা যখন শিক্ষকের ড্রয়িং রুম বা ক্লাসরুমে উন্মুক্তভাবে পড়ে থাকে, তখন সেটি আর নিরাপদ থাকে না। যে শিক্ষার্থীরা আজ টিকটকে ভিডিও দিচ্ছে, তারা আসলে জানেই না তারা কত বড় অপরাধ করছে। আর এই সুযোগটা করে দিচ্ছেন খোদ শিক্ষকরাই। এমন অবস্থায় সংশ্লিষ্ট বোর্ড এবং প্রধান পরীক্ষকদের তদারকি আরও বাড়ানোর তাগিদ দেন তিনি। এসএসসির খাতা দেখায় অননুমোদিত ব্যক্তি, কী বলছে আইন? এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিও নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে পাবলিক পরীক্ষার গোপনীয়তা ও মূল্যায়ন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে। ভিডিওগুলোতে কোথাও শিক্ষার্থীদের খাতা দেখতে, কোথাও নম্বর তুলতে, আবার কোথাও ওএমআর বৃত্ত ভরাট করতে দেখা গেছে। অথচ আইন অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত পরীক্ষক বা প্রধান পরীক্ষক ছাড়া অন্য কারও পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নের সুযোগ নেই। এমন অপরাধে কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এসএসসি পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন ও পাবলিক পরীক্ষা পরিচালনা সংক্রান্ত বিধান উল্লেখ রয়েছে 'পাবলিক পরীক্ষা (অপরাধ) আইন, ১৯৮০'তে। আইন অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত পরীক্ষক বা প্রধান পরীক্ষক ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তি পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়ন, নম্বর প্রদান কিংবা ওএমআর শিট পূরণ করতে পারবেন না। আইনের ৪২ এর ১০ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো বিশ্ববিদ্যালয় বা বোর্ড কর্তৃক নিযুক্ত বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত না হয়েও কেউ যদি পাবলিক পরীক্ষার হলে পরীক্ষা পরিচালনা করেন অথবা পরীক্ষার উত্তরপত্র পরীক্ষা করেন, তবে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। আইনে বলা হয়েছে—'যিনি কোনো বিশ্ববিদ্যালয় বা বোর্ড কর্তৃক নিযুক্ত বা ক্ষমতা প্রদত্ত না হওয়া সত্ত্বেও কোনো পরীক্ষার হলে কোনো পাবলিক পরীক্ষা পরিচালনা করেন অথবা কোনো পাবলিক পরীক্ষা সংক্রান্ত কোনো উত্তরপত্র পরীক্ষা করেন, অথবা যিনি অন্য ব্যক্তির পরিচয়ে কিংবা কল্পিত নামে পরীক্ষার হলে পাবলিক পরীক্ষা পরিচালনা করেন, অথবা পাবলিক পরীক্ষার উত্তরপত্র পরীক্ষা করেন, তিনি দুই বৎসর পর্যন্ত কারাদণ্ড কিংবা অর্থদণ্ড অথবা উভয়বিধ দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।' যা বলছেন বিভিন্ন বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকরা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, যশোরের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ড. মো. আব্দুল মতিন ঢাকা পোস্টকে জানান, শিক্ষা বোর্ডের খাতা মূল্যায়নে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে এখন পর্যন্ত তাদের কাছে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আসেনি। অনেক সময় পুরোনো ভিডিও নতুন করে প্রচার করা হয়। তাই যাচাই ছাড়া কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়। তিনি বলেন, পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে কঠোর গোপনীয়তার নীতিমালা অনুসরণ করা হয়। পরীক্ষকদের স্পষ্টভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে নিজেদের বাইরে অন্য কাউকে দিয়ে উত্তরপত্র মূল্যায়ন বা নম্বর দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এ ধরনের অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কারও কাছে যদি সুনির্দিষ্ট তথ্য বা ভিডিও থাকে, তাহলে তা শিক্ষা বোর্ডকে দিতে হবে। প্রয়োজনে পুলিশ, ডিজিএফআই, এনএসআই কিংবা বোর্ডের নিজস্ব তদন্ত টিমের মাধ্যমে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড, বরিশাল-এর পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর জি. এম. শহীদুল ইসলাম বলেন, বোর্ডের নজরে এখন পর্যন্ত এসএসসির খাতা মূল্যায়নের কোনো ভিডিও আসেনি। তিনি ঢাকা পোস্টকে বলেন, এ ধরনের কোনো ভিডিও আমাদের নজরে আসেনি। বিষয়টি ফেকও হতে পারে, আবার অন্য কোনো ঘটনাও হতে পারে। খাতা মূল্যায়নে গোপনীয়তা রক্ষার বিষয়ে তিনি বলেন, পরীক্ষকদের শুরু থেকেই কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। খাতা যেন কোথাও প্রকাশ্যে নেওয়া না হয় এবং সম্পূর্ণ গোপনীয়তার সঙ্গে বাসায় বসে মূল্যায়ন করা হয়—সে বিষয়টি স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে। কোনো শিক্ষার্থী বা অন্য কারও সামনে খাতা উন্মুক্ত না করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, খাতা বিতরণের দিন থেকেই পরীক্ষকদের বারবার সতর্ক করা হয় যেন তারা নিজেরাই মূল্যায়নের কাজ সম্পন্ন করেন। এমনকি পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমেও কোনো কাজ না করানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বাইরের কাউকে দিয়ে করানোর তো প্রশ্নই আসে না। খাতার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করাও পরীক্ষা নীতিমালার পরিপন্থী। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড, চট্টগ্রামের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ড. পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী জানান, এসএসসি পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নসংক্রান্ত কোনো ভিডিও, ছবি কিংবা এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ এখনো বোর্ডের দৃষ্টিগোচর হয়নি। এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকার পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর এস এম কামাল উদ্দিন হায়দারকে ফোন করা হলে তিনি কল রিসিভ করেননি। মন্তব্য পাওয়া যায়নি ১১ বোর্ডের সমন্বয় কমিটির সভাপতির দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের কার্যক্রম সমন্বয় ও তদারকির দায়িত্ব পালন করেন আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকার চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. খন্দোকার এহসানুল কবির। এসব বিষয়ে কথা বলতে তাঁর মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার ফোন করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া গেছে। পরবর্তীতে তাঁকে ক্ষুদেবার্তা পাঠানো হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোতে দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে নতুন নেতৃত্ব আনার উদ্যোগ জোরদার হয়েছে। দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের তৎপরতায় যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের পুনর্গঠন ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও প্রত্যাশা। ঈদুল আজহার আগে বা পরে নতুন কমিটি আসতে পারে—এমন আভাসে পদপ্রত্যাশীদের দৌড়ঝাঁপও বেড়েছে। ত্যাগী, তরুণ ও আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় নেতাদের প্রাধান্য দেওয়ার বার্তা থাকায় সাবেক ছাত্রনেতাদের একটি বড় অংশ এখন নেতৃত্বের আলোচনায় উঠে এসেছেন। বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী ১১টি সংগঠনের কমিটির মধ্যে ১০টিই মেয়াদোত্তীর্ণ। দলীয় গঠনতন্ত্রে নির্দিষ্ট সময় পর নতুন কমিটি গঠনের বিধান থাকলেও দীর্ঘদিন তা বাস্তবায়ন হয়নি। এতে তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত নেতৃত্বের স্বাভাবিক ধারাবাহিকতা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ ছাড়া বিএনপি সরকার গঠনের পর সংসদ ও মন্ত্রিসভার দায়িত্বে যুক্ত হয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় ও অঙ্গ সংগঠনের অনেক নেতা। ফলে দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রমে তাঁদের সময় ও মনোযোগ কমে গেছে। এমন বাস্তব প্রেক্ষাপটে দলীয় অঙ্গ সংগঠন পুনর্গঠনের পথে হাঁটছে বিএনপি। যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদল পুনর্গঠনের পাশাপাশি জাতীয়তাবাদী মহিলা দল, কৃষক দল, তাঁতীদল, মৎস্যজীবী দল, মুক্তিযোদ্ধা দল, জাসাস ও ওলামা দল নিয়ে কাজ করছেন দায়িত্বশীল নেতারা। সূত্রগুলো জানাচ্ছে, গত এপ্রিলের প্রথম থেকেই অঙ্গ সংগঠনগুলো ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি। সে লক্ষ্যে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করে দিকনির্দেশনাও দিয়েছেন তারেক রহমান। বৈঠক থেকে আভাস মিলেছে, ত্যাগী, যোগ্য ও তরুণদের দিয়ে সংগঠনে বড় পরিবর্তন আনা হবে। বিএনপির নীতিনির্ধারকরা বলছেন, সময়োপযোগী ও শক্তিশালী কমিটি গঠনই এখন প্রধান লক্ষ্য। দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা ইউনিটগুলোতে নতুন মুখ আনার মাধ্যমে সংগঠনে গতি ফেরানোর চেষ্টা চলছে। তারা জানান, পদায়নের ক্ষেত্রে কেবল সিনিয়রিটি নয়, গুরুত্ব পাবে বিগত আমলে মামলার সংখ্যা ও পুলিশের হাতে নির্যাতনের চিত্র। যারা বিগত কয়েক বছরে রাজপথে সক্রিয় ছিলেন, তারাই হবেন নতুন কমিটির কান্ডারি। পদপ্রত্যাশীদের লবিং ও তদবিরেও এবার বিশেষ কড়াকড়ি থাকছে। ত্যাগী ও যোগ্য নেতাদের আমলনামা এখন হাইকমান্ডের টেবিলে। তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন এমন কয়েকজন নেতা সম্প্রতি যুগান্তরকে জানিয়েছেন, বিএনপির অঙ্গ সংগঠনগুলোর সাংগঠনিক অভিভাবক তারেক রহমান সংগঠনের বড় পরিবর্তনের আভাস দিয়েছেন। যোগ্য, ত্যাগী এবং তরুণদের হাতে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের দায়িত্ব দিতে চাচ্ছেন তিনি। তাঁরই ধারাবাহিকতায় আগামী ৯ মে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের সাংগঠনিক ইউনিটের শীর্ষ নেতাদের ঢাকায় ডেকেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান। ওই দিন তিনি খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে তাঁদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। প্রায় অভিন্ন সুরে নেতারা জানান, বর্তমান কমিটির ‘সুপার ফাইভে’ থাকা নেতাদের নতুন কমিটিতে থাকা না থাকা নিয়ে গুঞ্জন রয়েছে। তেমনটি হলে আগামীতে নেতৃত্বের সুযোগ পাবেন বিগত দিনের বঞ্চিতরা। এতে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো গতি পাবে এমন দাবিও করেন তারা। ২০২৪ সালে আব্দুল মোনায়েম মুন্নাকে সভাপতি এবং নুরুল ইসলাম নয়নকে সাধারণ সম্পাদক করে জাতীয়তাবাদী যুবদলের আংশিক কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়। ইতোমধ্যে এই কমিটির মেয়াদ প্রায় ২২ মাস পার হলেও তা পূর্ণাঙ্গ করা সম্ভব হয়নি। এর মধ্যে নুরুল ইসলাম নয়ন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। যুবদল নেতারা বলছেন, অনুকূল পরিবেশে আংশিক কমিটি দীর্ঘদিনেও পূর্ণাঙ্গ না করার কারণে বর্তমান কমিটির ব্যর্থতা ফুটে উঠেছে। কয়েক মাস আগে ১৫১ সদস্যের কমিটি অনুমোদনের জন্য বিএনপি হাইকমান্ডের কাছে জমা দিলেও সেটিকে ‘মাইম্যান’ কমিটি হিসাবে উল্লেখ করছেন কেউ কেউ। এমন পরিস্থিতিতে নতুন নেতৃত্বে যুবদলের পুনর্গঠন দাবি জোরালো হচ্ছে। বর্তমান কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের পাশাপাশি যুবদলের শীর্ষ দুই পদে আলোচনায় আছেন, সংগঠনটির সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি মামুন হাসান, সাবেক প্রথম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা শাহীন, সিনিয়র সহসভাপতি রেজাউল কবীর পল, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন তারেক, দপ্তর সম্পাদক নুরুল ইসলাম সোহেল, সাবেক ছাত্রনেতা মাহাবুব হাসান পিংকু, আকরামুল হাসান, ছাত্রদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুনুর রশীদ মামুন, সাইদ ইকবাল টিটু, সাবেক সহ-শিল্প বিষয়ক সম্পাদক আসাদুল আলম টিটু, যুবদল ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক শরীফ উদ্দিন জুয়েল, দক্ষিণের আহ্বায়ক খন্দকার এনামূল হক এনাম, সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম নয়ন, সাবেক ছাত্রনেতা ফজলুর রহমান খোকন, ইকবাল হোসেন শ্যামল, তারেক উজ জামান, কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ। তবে দলের হাইকমান্ডের পছন্দের তালিকায় আছেন গোলাম মাওলা শাহীন, বিল্লাল হোসেন তারেক, নুরুল ইসলাম সোহেল, রবিউল ইসলাম নয়ন ও শরীফ উদ্দিন জুয়েলের নামও। এ ছাড়া ছাত্রদলের বর্তমান সভাপতি রাকিবুল ইসলামের নামও শোনা যাচ্ছে। শ্রাবণের নাম স্বেচ্ছাসেবক দলেও আলোচনা আছে। জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের শীর্ষ দুই পদে আলোচনায় আছেন বর্তমান কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি ইয়াছিন আলী, সহ-সভাপতি ফখরুল ইসলাম রবিন, সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি জহির উদ্দিন তুহিন, কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক কাজী মোখতার হোসাইন, আব্দুর রহিম হাওলাদার সেতু, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক সাদরেজ জামানের নাম। এ ছাড়া কাজী আব্দুল্লাহ আল মামুন, এম জি মাসুম রাসেল, নজরুল ইসলাম নোমান, শেখ ফরিদ হোসেন, ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল ও অধ্যাপক ওয়াহিদ বিন ইমতিয়াজ বকুলের নামও আলোচনায় রয়েছে। তবে আলোচনার প্রথমদিকেই রয়েছে রবিন, নাজমুল, তুহিন, কাজী মোখতার ও জুয়েলের নাম। অবশ্য জুয়েলের নাম যুবদলেও আলোচনা রয়েছে। এদিকে, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের শীর্ষ দুই পদে আলোচনায় আছেন শ্যামল মালুম, আমান উল্লাহ আমান, মো. খোরশেদ আলম সোহেল, সালেহ মো. আদনান, এসএম আবু জাফর, শরীফ প্রধান শুভ, মনজুরুল আলম রিয়াদ, ইজাজুল কবির রুয়েল, মোস্তাফিজুর রহমান, মমিনুল ইসলাম জিসান, ফারুক হোসেন, কাজী জিয়া উদ্দিন বাসিত, আজিজুল হক জিয়ন, ডা. আউয়ালসহ আরও বেশ কয়েকজন। জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির প্রবীণ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন যুগান্তরকে বলেন, দলীয় অঙ্গ সংগঠনের পুনর্গঠনের কার্যক্রম চলমান আছে। নতুন নেতৃত্বে সংগঠনগুলোর বড় পরিবর্তন আসতে পারে। তবে কবে নাগাদ নতুন কমিটি আসবে তা এখনই বলা যাচ্ছে না। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান দায়িত্বশীল নেতাদের নিয়ে কাজ করছেন। আশা করি, দ্রুত সময়ের মধ্যেই অঙ্গ সংগঠন পুনর্গঠন হবে।
ইউনিক গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহা. নূর আলী এবং তার মালিকানাধীন নির্মাণপ্রতিষ্ঠান বোরাক রিয়েল এস্টেটের বিরুদ্ধে ১১৫ কোটি টাকার মানি লন্ডারিংয়ের মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। বৃহস্পতিবার বনানী থানায় মামলাটি করা হয়। সিআইডি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। মামলায় বলা হয়েছে, ঢাকার বনানীতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) নিয়ন্ত্রিত সরকারি জমিতে ‘বনানী সুপার মার্কেট কাম হাউজিং’ প্রকল্পে অনিয়ম, প্রতারণা ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ আনা হয়েছে। সিআইডির তথ্য অনুযায়ী, অনুমোদনহীন ভবনে হোটেল ব্যবসা পরিচালনার মাধ্যমে আসামিরা ১১৫ কোটি ৫৮ লাখ ২৪ হাজার ৭০৭ টাকা মানি লন্ডারিং করেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে। অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, বনানী এলাকায় ১৪তলা ভবন নির্মাণের চুক্তি থাকলেও বোরাক রিয়েল এস্টেট চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে অনুমোদন ছাড়াই ২৮তলা ভবন নির্মাণ করে। পরে সেখানে পাঁচ তারকা হোটেল ‘শেরাটন’ প্রতিষ্ঠা করা হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প শেষ না করে এবং ডিএনসিসিকে প্রাপ্য অংশ না দিয়ে প্রভাব খাটিয়ে একাধিকবার চুক্তি সংশোধন করানোর অভিযোগও রয়েছে। এছাড়া ভবন নির্মাণে রাজউক ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় অনাপত্তিপত্র না নেওয়ায় বিমান চলাচলে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। মামলার বিষয়ে নূর আলী ও বোরাক রিয়েল এস্টেটের পক্ষ থেকে এখনো কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এর আগে মালয়েশিয়ায় লোক পাঠাতে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে নূর আলীসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা হয়েছিল।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বড় জয়ের পর এবার সাংগঠনিক কাজে নজর বিএনপির। আন্দোলন-সংগ্রামের কেন্দ্রবিন্দু ঢাকা মহানগর বিএনপির (উত্তর ও দক্ষিণ) নেতৃত্বে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া গেছে। মূলত সাংগঠনিক গতিশীলতা বৃদ্ধি এবং মাঠপর্যায়ের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নতুন ও পুরোনো নেতৃত্বের সমন্বয়ে কমিটি গঠনে নানামুখী তৎপরতা শুরু করেছে দলটির হাইকমান্ড। যে কোনো সময় ভেঙে দেওয়া হতে পারে দলের ঢাকা মহানগরীর দুই কমিটি। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে দুই মহানগরীর শীর্ষ দুজন নেতা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তার মধ্যে ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমিনুল হক সরকারের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। মহানগর বিএনপির সংশ্লিষ্ট নেতারা বলছেন, রাষ্ট্রীয় ও দাপ্তরিক কাজে তারা ব্যস্ত থাকায় মহানগরের রাজনীতিতে পর্যাপ্ত সময় দিতে পারছেন না। ফলে তৃণমূলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে কিছুটা স্থবিরতা ও শৃঙ্খলার অভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। এমন অবস্থায় ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি ভেঙে নতুনভাবে ঢেলে সাজানো দরকার। এক্ষেত্রে প্রয়োজনে পুরোনো নেতাদেরও দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে। কেননা, অভিজ্ঞদের রয়েছে বিরাট কর্মীবাহিনী এবং সাংগঠনিক দক্ষতা। ফলে আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু রাজধানীতে রাজনৈতিক গতিহীনতা কাটাতে এবং মহানগর বিএনপিকে আরও শক্তিশালী করতে নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে বিএনপির নীতিনির্ধারকরা নেতৃত্বে পরিবর্তন করতে আগ্রহী বলে সূত্রের দাবি। যদিও মহানগর বিএনপির নতুন কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে দুই ধরনের আলোচনা শোনা যাচ্ছে। একটি হলো—এমপি-মন্ত্রী রেখেই দল পরিচালনা করা; অন্যটি হচ্ছে—নতুন-পুরোনো মিলে একটি চৌকশ কমিটি করা। তবে দলটির দায়িত্বশীল নেতারা মহানগর বিএনপির নতুন কমিটি নিয়ে স্পষ্টভাবে কিছু বলছেন না। বরং তারা বলছেন, কমিটি গঠনে দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। তিনি কোন প্রক্রিয়ায় কমিটি দেবেন, সেটি তিনিই ভালো জানেন। বিএনপির নীতিনির্ধারকরা বলছেন, এবারও নতুন ও পুরোনো নেতাদের সমন্বয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ কমিটি গঠন করা হবে। যারা রাজপথে সক্রিয় ছিলেন এবং তৃণমূল নেতাকর্মীদের কাছে গ্রহণযোগ্য—তাদেরই শীর্ষ পদে অগ্রাধিকার থাকবে। শিগগির এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত আসতে পারে। মহানগর বিএনপির নেতৃত্বে পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে বিএনপি তাদের সাংগঠনিক শক্তি নতুন করে জানান দিতে চায়, যা আগামী দিনে যে কোনো রাজনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় বড় ভূমিকা রাখবে। এবার কমিটি গঠনে তিনটি বিষয়কে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে—তৃণমূল পর্যায়ে গ্রহণযোগ্যতা ও সাংগঠনিক দক্ষতা, আন্দোলনে ত্যাগ ও সক্রিয় ভূমিকা এবং বিতর্কমুক্ত ও ক্লিন ইমেজ। এ বিষয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেন, বহু বছর পর বিএনপি সরকার গঠন করেছে। সুতরাং বিএনপির জনগণের প্রতি যে কমিটমেন্ট আছে সেটাও দেখতে হবে, বাস্তবায়ন করতে হবে। যারা সরকারে নেই তারা দলীয় কার্যক্রমগুলো দেখছেন। তবে সারা দেশে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম চলছে, কোথাও সম্মেলনের প্রস্তুতি চলছে। যেসব কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে, সেগুলো এক এক করে দেওয়া হবে। সেখানে ত্যাগী ও পরীক্ষিতরা স্থান পাবেন। এ বিষয়ে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান যে সিদ্ধান্ত দেবেন, সেটিই চূড়ান্ত। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৭ জুলাই রফিকুল আলম মজনুকে আহ্বায়ক এবং তানভীর আহমেদ রবীনকে সদস্য সচিব করে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ এবং সাইফুল আলম নীরবকে আহ্বায়ক ও সাবেক ফুটবলার আমিনুল হককে সদস্য সচিব করে মহানগর উত্তর বিএনপির কমিটি গঠন করা হয়। তবে সাংগঠনিক বিশৃঙ্খলার অভিযোগে পরবর্তী সময়ে মহানগর উত্তর বিএনপির কমিটি ভেঙে দিয়ে ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর আমিনুল হককে আহ্বায়ক ও মোস্তফা জামানকে সদস্য সচিব করে নতুন কমিটি ঘোষণা করে বিএনপি। এতে বাদ দেওয়া হয় সাইফুল আলম নীরবকে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির অধীনে ২৪টি থানা এবং মহানগর উত্তর বিএনপির অধীনে ২৬টি থানা। দক্ষিণ বিএনপির দপ্তর সম্পাদক সাইদুর রহমান মিন্টু জানান, মহানগর দক্ষিণ বিএনপির ২৪টি থানার মধ্যে ২২টিতে আহ্বায়ক কমিটি করা হয়েছে। প্রায় সব ওয়ার্ডেও কমিটি হালনাগাদ করা হয়েছে। মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এ বি এম আব্দুর রাজ্জাক জানান, তাদের মহানগরে ২৬টি থানা এবং ৭১টি ওয়ার্ড ও ৬১৯টি ইউনিট। সবকটিতেই হালনাগাদ কমিটি করা হয়েছে। এদিকে নতুন কমিটির বিষয়ে দলটির কয়েকজন নেতা জানান, এ নিয়ে দলের ভেতরে দুই ধরনের আলোচনা আছে। প্রথমত, বর্তমান নেতৃত্ব কাজ করতে আগ্রহী হলে নতুন কমিটি হবে না। দ্বিতীয়ত, তারা যদি মনে করেন, সরকারি কাজ এবং দলীয় কাজ একসঙ্গে করা যাবে না, তাহলে তারা দলের নীতিনির্ধারককে জানাবেন। এতে নতুন কমিটি গঠন করা হবে। জানা যায়, সাংগঠনিক কাজে গতি বাড়াতে মূল দলসহ বিভিন্ন অঙ্গসহযোগী সংগঠনগুলো গুছিয়ে আনতে চাইছে বিএনপি। এজন্য চলতি বছরেই দলের জাতীয় কাউন্সিলের প্রস্তুতি রয়েছে। মূলত গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভূমিধস বিজয়ের পর এককভাবে সরকার গঠন করেছে বিএনপি। কিন্তু সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড কিছুটা মন্থর গতিতে এগোচ্ছে। এমন অবস্থায় গত ৪ এপ্রিল রাজধানীর গুলশানে দলের নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বসে বিএনপি। সেখানে দলের সাংগঠনিক কাঠামো আরও গতিশীল ও কার্যকর করতে বিভিন্ন নির্দেশনা এসেছে। এর অংশ হিসেবে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপিকে ঢেলে সাজানোর প্রস্তুতি চলছে। মূল দলের কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের আগেই এ কমিটি ঘোষণা করা হতে পারে। বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নিজস্ব চ্যানেলের মাধ্যমে সম্ভাব্য নেতৃত্বের বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। তারা আরও জানান, সরকারে দায়িত্বে আছেন অথবা সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এমন কেউ ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির শীর্ষ পদে জায়গা না পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। আলোচনায় ডজনখানেক নেতা: ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির দুই আহ্বায়কই সংসদ সদস্য হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তার মধ্যে দক্ষিণের আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু ফেনী-১ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। আর উত্তরের আহ্বায়ক আমিনুল হক নির্বাচনে বিজয়ী না হতে পারলেও টেকনোক্র্যাট কোটায় সরকারের ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এ দুজনকে জাতীয় সংসদে ও নিজের নির্বাচনি এলাকায় অনেক সময় দিতে হয়। তারা আর আগের মতো মহানগরীর রাজনীতিতে সময় দিতে পারছেন না বা পারবেন না। যে কারণে ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণের নেতৃত্বে পরিবর্তনের বিষয়টি আলোচনায় আসছে। দুই মহানগরে বিএনপির আগামীর নেতৃত্বে কারা আসছেন—এ নিয়ে দলের ভেতরে-বাইরে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। ঘুরেফিরে অন্তত ডজনখানেক নেতার নাম এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। জানা যায়, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সম্ভাব্য নতুন কমিটিতে শীর্ষ পদের জন্য জোরালোভাবে নাম শোনা যাচ্ছে বর্তমান সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার এবং বর্তমান সহসভাপতি লিটন মাহমুদের। ত্যাগী ও রাজপথের পরীক্ষিত নেতা হিসেবে তাদের নিয়ে কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। এ ছাড়া আলোচনায় রয়েছেন ঢাকা-৫ আসনে ধানের শীষের পরাজিত প্রার্থী নবীউল্লাহ নবী, দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আ ন ম সাইফুল ইসলাম ও দপ্তর সম্পাদক সাইদুর রহমান মিন্টু। উল্লিখিত নেতাদের মধ্যে কাজী আবুল বাশার দীর্ঘদিন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্য সচিব ছিলেন। তিনি সেসময় ফ্যাসিস্ট হাসিনাবিরোধী আন্দোলন সংগ্রামে হামলা-মামলার শিকার হয়েও রাজপথের আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। পুরান ঢাকার স্থানীয় এই নেতার রয়েছে বিশাল কর্মীবাহিনী। কাজী আবুল বাশার প্রায় ১৮ বছর একাধারে সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর এবং অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র ছিলেন। ঢাকা মহানগর দক্ষিণে প্রায় সব কর্মসূচিতে সক্রিয় ছিলেন। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে তাকে ঢাকা-৬ আসনে মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়টি জোর আলোচনায় ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। ফলে তার অনুসারী নেতাকর্মীরা তাকে আবারও ঢাকা দক্ষিণের সভাপতি হিসেবে দেখতে চান। অন্যদিকে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির বর্তমান আহ্বায়ক আমিনুল হক ঢাকা-১৬ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করে জামায়াতের প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন। পরে তাকে সরকারের ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী (টেকনোক্র্যাট) হিসেবে মন্ত্রিসভায় স্থান দেওয়া হয়। তিনিও মহানগরীর রাজনীতিতে আগের মতো সময় দিতে পারছেন না। ফলে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির কমিটিতেও পরিবর্তন আসন্ন। এ ক্ষেত্রে সম্ভাব্য নতুন কমিটির শীর্ষ পদের জন্য আলোচনায় রয়েছেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান সেগুন, বর্তমান কমিটির সদস্য ও সাবেক কমিশনার আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ার, মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এ বি এম আব্দুর রাজ্জাক, যুগ্ম আহ্বায়ক এবং ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক কফিল উদ্দিন আহমেদ, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-১৫ আসনে বিএনপির মনোনয়নবঞ্চিত নেতা মামুন হাসান, উত্তর বিএনপির সদস্য এ জি এম শামসুল হক। বিগত দিনের আন্দোলনগুলোয় তাদের প্রায় সবার সক্রিয় ভূমিকা হাইকমান্ডের নজর কেড়েছে। আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ার বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে মহানগরীর রাজনীতিতে সক্রিয় আছেন। হামলা-মামলা সহ্য করে রাজপথের আন্দোলনে ছিলেন। দলের হাইকমান্ড যদি মহানগর বিএনপির দায়িত্বে আমাকে যোগ্য মনে আমি প্রস্তুত। সাবেক ছাত্রনেতা মোস্তাফিজুর রহমান সেগুন বলেন, তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যার এফ রহমান হলের নির্বাচিত ভিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বিগত ১৭ বছর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে রাজপথে সক্রিয় ছিলেন। দল যেখানে দায়িত্ব দেবে তিনি সেখানে কাজ করবেন। এ জি এম শামসুল হক বলেন, নতুন কমিটির বিষয়ে আলোচনা শুনছি। কিন্তু আমাদের কাছে পরিষ্কার কোনো বার্তা নেই। মামুন হাসান যুবদলের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি ও সাংগঠনিক সম্পাদক। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে তার বিরুদ্ধে অসংখ্য মামলা হয়েছিল। একাধিকবার কারাবরণ করেছেন। তিনি বলেন, দলের প্রয়োজনে যেখানেই দায়িত্ব দেবে, আমি কাজ করতে রাজি। বড় চ্যালেঞ্জ কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব: অনেকেই মনে করেন, বিএনপির সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো এ দুই কমিটিতে কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব গড়ে তোলা। যেখানে দক্ষ, পরিচ্ছন্ন ও জনগ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদেরই অগ্রাধিকার দিতে হবে। একদিকে প্রতিপক্ষের আগাম প্রস্তুতি, অন্যদিকে নিজেদের অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা—এ দুইয়ের মধ্যে সমন্বয় করতে না পারলে নির্বাচনে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে দলটিকে। ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের একাধিক নেতা বলেন, যারা কঠিন সময়ে মাঠে ছিল, এখন তাদের গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। বরং নতুন করে আসা বা বিতর্কিতদের কমিটিতে জায়গা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এ প্রবণতা অব্যাহত থাকলে সংগঠন আরও দুর্বল হবে এবং সিটি নির্বাচনে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। জানতে চাইলে মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন কালবেলাকে বলেন, ‘দলের কমিটি দেওয়া না দেওয়ার পূর্ণ এখতিয়ার বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। নতুন কমিটি গঠনের বিষয়ে এখনো কোনো নির্দেশনা পাইনি। অন্যদিকে মহানগর উত্তর বিএনপির দুজন যুগ্ম আহ্বায়ক জানান, তারা কমিটি গঠনের বিষয়টি মুখে মুখে শুনছেন। তবে তাদের কাছে এখনো কোনো চূড়ান্ত ম্যাসেজ আসেনি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহসভাপতি (ভিপি) ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক সম্পাদক সাদিক কায়েম বিয়ের পিঁড়িতে বসছেন। আগামী ১৩ মে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হবেন বলে জানা গেছে। বিশেষ সূত্রে জানা গেছে, ডাকসুর নেতা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে আকদের অনুষ্ঠান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্ট্রাল মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে। এরপর রাজধানীর একটি কনভেনশন সেন্টারে মূল অনুষ্ঠান হওয়ার কথা রয়েছে। জানা যায়, ডাকসু ভিপির হবু স্ত্রীর নাম আনিকা ফরায়েজি। তিনি এমবিবিএস চিকিৎসক। তার বাড়ি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলায়। বাবা রিলায়েন্স গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান এবং প্রবাসীবাংলা প্রোপার্টিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান। এ ছাড়া তিনি বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন। ডাকসু ভিপির বিয়ের খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করছেন ডাকসুর নেতা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বিশেষ করে ডাকসু নেতা মাজহারুল ইসলামের তৈরি করা একটি বিয়ের কার্ডের ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি আরো আলোচনায় আসে।
পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে হাতকড়াসহ ৫ আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় ফতুল্লা মডেল থানার ২ এসআই ও ৪ কনস্টেবলকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। বুধবার রাতেই তাঁদের পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়। প্রত্যাহার করা দুই পুলিশ কর্মকর্তা হলেন—ফতুল্লা মডেল থানার এসআই আবুল বাশার ও এএসআই আশিক। তবে কনস্টেবলদের নাম জানা যায়নি। এদিকে বৃহস্পতিবার ভোরে দেওভোগ হাসেমবাগ এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ধারালো অস্ত্রসহ রনি নামে এক দুর্বৃত্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সী বলেন, কোনো অপরাধী ছাড় পাবে না। মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে। উল্লেখ্য, গত বুধবার দুপুরে ফতুল্লার পশ্চিম মাসদাইর এলাকার হাশেমবাগে অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কনস্টেবল মো. সোলায়মানের বাড়িতে সন্ত্রাসীরা লুটপাট করার সময় খবর পেয়ে ফতুল্লা মডেল থানার একটি টিম ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে প্রত্যাহারকৃত দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ ৪ কনস্টেবল ছিলেন। ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ লুটপাটের সময় ৫ জনকে আটক করে হাতকড়া পরায় এবং লুট করে নিয়ে যাওয়ার সময় বেশ কিছু আসবাবপত্র উদ্ধার করে। তখন অন্তত ৩০-৩৫ জন দুর্বৃত্ত এসে আটক ৫ জনকে হ্যান্ডকাফসহ ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে পরিত্যক্ত অবস্থায় হাতকড়া উদ্ধার করা হয়। ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মাহাবুব আলম জানান, ফতুল্লার কাশিপুর এলাকার কালু মিয়ার ছেলে রনিকে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনের পর বাংলাদেশের দায়িত্ব বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। বৃহস্পতিবার (৭ মে) বিকালে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের জুলাই স্মৃতি হলে এনসিপিতে যোগদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। নাহিদ ইসলাম বলেন, সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গে একটা নির্বাচন হয়েছে। বাংলাদেশের পার্শ্ববর্তী এলাকা হিসেবে পশ্চিমবঙ্গ আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই নির্বাচন তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়, কিন্তু নির্বাচন নিয়ে আমরা এজন্য কোনো কথা বলতে চাই না। তবে আমরা দেখেছি নির্বাচনের আগে কয়েক লাখ ভোটারের নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া হয়েছে, তাদের ভোটদান থেকে বিরত রাখা হয়েছিল। তাদের অধিকাংশ ছিল মুসলমান এবং মতুয়া সম্প্রদায়ের। এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, আমি সংসদেও এটা বলেছি, সেখানে মুসলমানদের নির্যাতন করা হচ্ছে, তাদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে, এটার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়বে। নির্বাচনের পরেও সেখানে মুসলিম নির্যাতন হচ্ছে, মতুয়া, দলিত ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতন করা হচ্ছে বলে মনে করেন তিনি। তিনি বলেন, আমরা একটা কথা সুস্পষ্টভাবে বলতে চাই- পশ্চিমবঙ্গের এ নির্বাচনের ফলাফলের পরে বাংলাদেশের দায়িত্ব অনেক বেড়ে গিয়েছে। বাংলাদেশকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। এদেশের হিন্দু-মুসলমান-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান সবার নিরাপত্তা এবং নাগরিক অধিকার নিশ্চিতের দায়িত্ব আমাদের নিতে হবে। এই নেতা বলেন, আমাদের শত্রুপক্ষ যারা বাংলাদেশবিরোধী, বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী, তারা নানা উসকানি দেবে, সাম্প্রদায়িকতা ছড়ানোর চেষ্টা করবে, নানা প্রোপাগান্ডা করবে। আমাদের এ বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা এটা দেখিয়ে দেব, দক্ষিণ এশিয়ায় সংখ্যালঘুদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ স্থান হবে এ বাংলাদেশ। বাংলাদেশকে বাংলার মুসলমান, দলিত, মতুয়া সম্প্রদায়সহ সবার দায়িত্ব নিতে হবে এবং তাদের অধিকারের পক্ষে কথা বলতে হবে। এ সময় চট্টগ্রামে এনসিপিতে নতুন যোগদানকারীদের স্বাগত জানিয়ে তিনি দলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আজ যারা নতুন করে যোগদান দিচ্ছেন এবং যারা আগে থেকেই আছেন, সবাইকে একটাই প্রতিজ্ঞা করতে হবে- আমরা নিজেদের মধ্যে কোনো দ্বন্দ্ব রাখব না। যে যেখান থেকেই আসুন না কেন, এনসিপির পতাকাতলে সবাই যোগ্যতা অনুসারে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করব। কারণ ঐক্যই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।
নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ অনুসন্ধানাধীন থাকায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ফারজানা ইসলাম ও তার স্বামী মো. আখতার হোসেনের আয়কর নথি জব্দের আদেশ দিয়েছেন আদালত। আজ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতের বিচারক সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ দেন। ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন বাসস’কে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আবেদনে বলা হয়েছে, ফারজানা ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। তার স্বামী, পুত্র ও তৃতীয় হাতের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ টাকার নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগটি অনুসন্ধানের জন্য অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে। অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ফারজানা ইসলাম ও তার স্বামী মো. আখতার হোসেন একজন আয়কর দাতা। অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ফারজানা ইসলাম ও তার স্বামী মো. আখতার হোসেন কর্তৃক বিপুল পরিমাণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ গোপনের সম্ভাবনা রয়েছে। অভিযোগটি সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ফারজানা ইসলাম ও তার স্বামী মো. আখতার হোসেনের নামীয় মূল আয়কর নথির স্থায়ী অংশ ও বিবিধ অংশসহ সংশ্লিষ্ট যাবতীয় রেকর্ডপত্র/তথ্যাদির সত্যায়িত অনুলিপি ও প্রয়োজনে জব্দকরণের লক্ষ্যে বিজ্ঞ আদালতের যথাযথ আদেশ একান্ত প্রয়োজন।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে পাটের তৈরি ব্যাগ, পোশাক ও ফুটওয়্যার সামগ্রী বিতরণ করা হবে। আর এ লক্ষ্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যেই কাজ শুরু করেছে। আজ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে দেশের শীর্ষস্থানীয় লেদারগুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। সভায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্য একটি পাইলট কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। যার মাধ্যমে প্রথম ধাপে প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মাঝে স্কুলের জন্যে মানসম্মত জুতা বিতরণ করা হবে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে দেশের বড় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের সিএসআর কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সরকারকে অনুদান প্রদান করবে বলে আশ্বাস দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই এই উদ্যোগটি শুধু একটি বিতরণ কর্মসূচি না হয়ে শিশুদের জন্য মর্যাদাপূর্ণ ও সমন্বিত সহায়তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হোক। এজন্য জুতার মান, স্টাইল ও উৎপাদন প্রক্রিয়ায় একটি নির্দিষ্ট সমন্বয় থাকা অত্যন্ত জরুরি এবং দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জুতার গুণগত মানে বড় ধরনের বৈষম্য থাকলে সেটি শিশুদের মধ্যে অসম অভিজ্ঞতা তৈরি করতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মতামতের ভিত্তিতে একটি গ্রহণযোগ্য মান নির্ধারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রাথমিকভাবে প্রত্যেক উপজেলায় দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির সকল শিক্ষার্থীর মাঝে (প্রায় এক লক্ষ শিক্ষার্থী) জুতা বিতরণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যাতে সীমিত পরিসরে দ্রুত ও কার্যকরভাবে পাইলট হিসেবে বাস্তবায়ন করা যায়। এ সময় তিনি টেকনিক্যাল ও কোয়ালিটি স্ট্যান্ডার্ড নির্ধারণে একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন। কমিটিতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, সংশ্লিষ্ট টেকনিক্যাল বিশেষজ্ঞ, লেদার ইন্সটিটিউট ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত করার পাশাপাশি সহযোগী প্রতিটি কোম্পানির একজন প্রতিনিধি রাখার নির্দেশনা দেন এবং ডিজাইন, কোয়ালিটি চেকিং, সার্টিফিকেশন সবকিছু যেন আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী হয়, সেজন্য টেকনিক্যাল এক্সপার্টদের সম্পৃক্ততার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি আরও বলেন, সরকারের ১৮০ দিনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে দ্রুত সময়ের মধ্যে এই পাইলট উদ্যোগ বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। যেহেতু প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়মিতভাবে এ ধরনের জুতা উৎপাদন করে, তাই অল্প সময়ের মধ্যেই কার্যক্রম বাস্তবায়ন সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। বৈঠকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাখাওয়াৎ হোসেন এবং মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সেন্টার ফর পলিসি রিসার্চ অন বিজনেস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (সিপিআরবিডি)-এর সঙ্গে যৌথভাবে মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক বীমায় আন্তর্জাতিক সার্টিফিকেশন চালু করেছে ইউএনডিপি বাংলাদেশ। উদ্যোগটি ইউএনডিপি’র ইন্স্যুরেন্স অ্যান্ড রিস্ক ফাইন্যান্স ফ্যাসিলিটি (আইআরএফএফ)-এর অধীনে বাস্তবায়িত হচ্ছে। ইউএনডিপি থেকে প্রকাশিত এ সংক্রান্ত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, এই সার্টিফিকেশন কর্মসূচির লক্ষ্য হলোÑ স্বল্প আয়ের পরিবার, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, ছোট ও মাঝারি শিল্পোদ্যোগ এবং সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক বীমা সমাধান ডিজাইন, সরবরাহ এবং সম্প্রসারণ করতে সক্ষম কিছু সংখ্যক দক্ষ পেশাদার তৈরি করার মাধ্যমে বাংলাদেশের বীমা পরিকাঠামোকে শক্তিশালী করা। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং ও বীমা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. শহিদুল ইসলাম জাহিদ। তিনি বলেন, অন্তর্ভুক্তিমূলক বীমা স্থিতিশীল ও ন্যায়সঙ্গত অর্থনীতি গড়ে তোলার অপরিহার্য উপাদান। সার্টিফিকেশনটি দক্ষতার ঘাটতি পূরণে এবং সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর চাহিদা পূরণে সক্ষম সমাধান প্রণয়নে পেশাদারদের প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস বিভাগের চেয়ারম্যান ড. আবুল খায়ের বলেন, জাতীয়ভাবে প্রতিষ্ঠিত একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে আন্তর্জাতিক মানকে অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে এই উদ্যোগটি নিশ্চিত করে যে, জ্ঞান শুধু হস্তান্তরই হবে না, বরং তা টেকসইও হবে। এটি বাংলাদেশকে এমন অন্তর্ভুক্তিমূলক ও গ্রাহককেন্দ্রিক বীমা ব্যবস্থা তৈরিতে নেতৃত্ব দেওয়ার অবস্থানে নিয়ে আসবে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন ড. মাহমুদ ওসমান ইমাম। মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন ইউএনডিপি আইআরএফএফ-এর জাতীয় প্রোগ্রাম অফিসার মনিরুল হক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ও এই উদ্যোগের সহ-নেতা ড. অদিতি শামস অনুষ্ঠানটি সমন্বয় করেন।
জামালপুরে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ঘিরে ‘মিল্লি কার্ড’ নামের একটি ব্যতিক্রমধর্মী প্রচারণামূলক পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ‘এনসিপিতে যোগ দিন, মিল্লি কার্ড নিন’ এমন ক্যাপশনযুক্ত একটি ছবি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানোর পর এই আলোচনা সৃষ্টি হয়। বুধবার (৬ মে) জামালপুর জাতীয় ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক আমিমুল ইহসান তার ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্ট ও ছবি শেয়ার করেন। আকর্ষণীয় ও ভিন্নধর্মী এই উদ্যোগটি ইতোমধ্যেই নেটিজেনদের দৃষ্টি কেড়েছে এবং তৈরি করেছে নানা প্রতিক্রিয়া। পোস্টে তিনি লেখেন, ‘জামালপুর এনসিপি কার্ড নিয়ে হাজির। এতো এতো কার্ডের মধ্যে আমরা আপনাদের প্রোভাইড করছি ‘মিল্লি কার্ড’! কার্ড সীমিত!’। এ পোস্টের সঙ্গে তিনি কমেন্ট বক্সে গুগল ফর্মের একটি লিঙ্কও যুক্ত করেন, যেখানে জামালপুর জেলার নাগরিকদের এনসিপির সদস্য হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। এরপরই পোস্টটি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ছবিটি ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কেউ এটিকে সৃজনশীল ও ব্যতিক্রমধর্মী প্রচারণা হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ এটিকে বিভ্রান্তিকর ও বিতর্কিত উদ্যোগ বলেও মন্তব্য করছেন। এ বিষয়ে জামালপুর জাতীয় ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক আমিমুল ইহসান বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ এর একজন মেয়র প্রার্থী ঘোষণা দিয়েছেন তিনি নির্বাচিত হলে আম কার্ড দিবেন, সেখান থেকেই দেখা জামালপুরে তো মিল্লি অনেক জনপ্রিয়। সেটা ভেবেই এইরকম পোস্ট করা।
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, সরকার শিক্ষার গুণগত মান ও শিক্ষকতার মানোন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, শিক্ষার মানোন্নয়ন সরকারের এজেন্ডা। শিক্ষক ও শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে আমাদের এগোতেই হবে। আজ রাজধানীর একটি হোটেলে এক গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, শিক্ষার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তোলা ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই। দেশের মানুষ মানবসম্পদ উন্নয়নে সর্বোচ্চ বিনিয়োগ করছে। অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের জন্য সর্বোচ্চ ব্যয় করছেন। শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আরও বলেন, আমরা বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার মধ্যে আছি। ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গড়তে হলে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। এ সময় মন্ত্রী জানান, তিনি প্রায় ২০ বছর আগে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু এ দীর্ঘ সময় পরও মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য উন্নতি তার চোখে পড়ছে না। ড. মিলন আরও বলেন, ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ কর্মসূচির মাধ্যমে সরকার শিক্ষা খাতে ব্যাপক বিনিয়োগ করছে। প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি)-৫ এ ৫১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। এর আগে পিইডিপি-৪ এ ব্যয় হয়েছে ৩২ হাজার কোটি টাকা। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন। এ ছাড়াও অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ইউনিসেফ বাংলাদেশের শিক্ষা প্রধান দীপা শংকর।
রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে মেধা ও একাডেমিক সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরুপ প্রথমবারের মতো ‘ডিনস এ্যাওয়ার্ড’ প্রদান অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন-১ এর সভাকক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) ও ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ জুনাইদ কবিরের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাবিপ্রবি’র ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. আতিয়ার রহমান। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) আসিফা নার্গিস এবং ফরেস্ট্রি এন্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স বিভাগের চেয়ারম্যান ড. নিখিল চাকমা, সায়েন্স, ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি অনুষদের ডিন ও সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল ইসলাম, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন ও সহযোগী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ রহিম উদ্দিন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাবিপ্রবি’র ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. আতিয়ার রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের এ ডিনস এ্যাওয়ার্ড-ভালো সিজিপিএ অর্জন, বছরজুড়ে পড়াশোনা অব্যাহত রাখা, আন্তরিকতা ও সততা বজায় রাখা, একাডেমিক গ্যাপ না থাকা, পরীক্ষায় ইম্প্রুভমেন্ট না রাখা, ক্লাসে শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিষ্টাচার-শৃঙ্খলা মেনে চলার স্বীকৃতি। প্রতি বছর শিক্ষার্থীদের মেধা, কঠোর পরিশ্রম ও ভালো কাজের স্বীকৃতির জন্য ডিনস এ্যাওয়ার্ড প্রদান অব্যাহত রাখার জন্য তিনি আহ্বান জানান। এ বছর রাবিপ্রবি’তে প্রথমবারের মতো ‘ডিনস এ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছেন ২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী ইতিকা আইচ এবং ফরেস্ট্রি এন্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স বিভাগের শিক্ষার্থী জাফরিন আক্তার শিলা। ডিনস এ্যাওয়ার্ড প্রাপ্ত শিক্ষার্থী ইতিকা ও জাফরিন তাদের অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন এবং তাদের এই সাফল্যের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, পরিবার এবং তাদের সহপাঠীদের ধন্যবাদ জানান। শিক্ষার্থীরা এ ‘ডিনস এ্যাওয়ার্ড’ সামনে চলার পথে অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে বলে আশা করেন। রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিনস এ্যাওয়ার্ড নীতিমালা-২০২৫ অনুযায়ী শিক্ষার্থীদেরকে ক্রেস্ট, সার্টিফিকেট এবং চেক প্রদান করা হয়। নীতিমালা-২০২৫ অনুসারে, স্নাতক (সম্মান) পরীক্ষায় ৩.৭৫ বা তদুর্ধ্ব সিজিপিএ অর্জনকারী শিক্ষার্থী ডিনস এ্যাওয়ার্ডের জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবে এবং কোনো শিক্ষার্থী পুনঃভর্তি/সম্পূরক/মান-উন্নয়ন গ্রহণ করলে এবং আইন শৃঙ্খলা পরিপন্থী কাজে লিপ্ত থাকলে ডিনস এ্যাওয়ার্ড এর জন্য মনোনীত হবে না। এ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।