আন্তর্জাতিক

রাশিয়ার সামরিক গোলাবারুদ কারখানায় বিস্ফোরণ, নিহত ১০

খবর৭১ ডেস্ক, অক্টোবর ২৪, ২০২৫

 রাশিয়ার চেলিয়াবিনস্ক অঞ্চলের কোপেইস্ক শহরে একটি সামরিক গোলাবারুদ কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে কমপক্ষে ১০ জন নিহত ও ১৮ জন আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার মধ্যরাতের পর প্লাস্টমাস কারখানায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় গভর্নর আলেক্সেই টেক্সলার জানান, আগুন এখন নিয়ন্ত্রণে এবং উদ্ধারকাজ শেষ হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এটি ড্রোন হামলা নয়। নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের ফলে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।

রাশিয়ার তদন্ত কমিটি জানিয়েছে, প্রযুক্তিগত প্রক্রিয়ার সময় নিরাপত্তা নিয়ম ভঙ্গের কারণেই বিস্ফোরণ ঘটেছে।

চেলিয়াবিনস্ক অঞ্চলটি রাশিয়ার দক্ষিণ ইউরাল এলাকায় অবস্থিত। ইউক্রেন সীমান্ত থেকে প্রায় ১ হাজার ৮০০ কিলোমিটার দূরে এটির অবস্থান। প্লাস্টমাস কারখানাটি রোস্তেক করপোরেশনের অধীন টেকনোদিনামিকা গ্রুপের অংশ। সেখানে বিস্ফোরক ও গোলাবারুদ তৈরি হয়।

এর আগে, ১৭ অক্টোবর রোস্তেকেরই আরেকটি কারখানায় একই রকম বিস্ফোরণে ছয়জন আহত হন। সাম্প্রতিক কয়েক মাসে রাশিয়ায় সামরিক কারখানায় একাধিক দুর্ঘটনা ঘটায় শিল্প নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সূত্র : তাস, দ্য মস্কো টাইমস, বিবিসি

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
সংগৃহীত ছবি
তাইওয়ানের বিমানের জন্য আকাশসীমা বন্ধের পর সিদ্ধান্ত বদলাল পাকিস্তান

চীনের ‘এক-চীন’ নীতির প্রতি সমর্থন জানিয়ে তাইওয়ানের বিমান সংস্থাগুলোর জন্য নিজেদের আকাশসীমা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তের পর দ্রুত অবস্থান বদলেছে পাকিস্তান।      দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ তাইওয়ানের দুটি প্রধান বিমান সংস্থা চায়না এয়ারলাইনস ও ইভা এয়ারকে আবারও পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে এখনো অস্পষ্টতা রয়েছে।     সরকারি নথি অনুযায়ী, বুধবার তাইওয়ানের এই দুই বিমান সংস্থার যাত্রী ও পণ্যবাহী উড়োজাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়।      নথিতে বলা হয়েছে, এ অনুমতি ২৮ অক্টোবর থেকে ২০২৭ সালের ২৭ মার্চ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।     এর কয়েক ঘণ্টা আগে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়, চীনের ‘এক-চীন’ নীতির প্রতি সমর্থন জানিয়ে পাকিস্তান তাইওয়ানের বিমান সংস্থাগুলোকে নিজেদের আকাশসীমা ব্যবহারে বাধা দিয়েছে।      পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফও এর আগে বলেছিলেন, দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ ‘এক-চীন’ নীতি অনুসরণ করে এবং কেবল চীনের মূল ভূখণ্ডের বিমান সংস্থাগুলোকে পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়।     তবে নিষেধাজ্ঞার খবর প্রকাশের পর এত দ্রুত সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।     পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চায়না এয়ারলাইনস ও ইভা এয়ারের বিরুদ্ধে আকাশসীমা ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারির কোনো আনুষ্ঠানিক নোটিশ দেওয়া হয়নি।      একজন কূটনৈতিক সূত্রও জানিয়েছে, দুই বিমান সংস্থার আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।     এদিকে, বুধবার জারি করা সরকারি নথিতে দুই বিমান সংস্থার উড়োজাহাজ চলাচলের অনুমতি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হলেও আগের কোনো নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের কথা বলা হয়নি। ফলে পাকিস্তান আনুষ্ঠানিকভাবে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল কি না এবং পরে তা প্রত্যাহার করেছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে।       পাকিস্তানের আকাশসীমা এড়িয়ে চলতে গিয়ে এশিয়া থেকে ইউরোপগামী তাইওয়ানের ফ্লাইটগুলোকে বিকল্প পথে যাতায়াত করতে হচ্ছিল। ফ্লাইট চলাচলের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৫ অক্টোবর থেকে চায়না এয়ারলাইনস ও ইভা এয়ারের উড়োজাহাজ পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহার বন্ধ করে। এ সময় অন্তত এক ডজন ফ্লাইট রাশিয়ার আকাশসীমা দিয়ে চলাচল করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।       বিকল্প পথে চলাচলের কারণে ফ্লাইটের দূরত্ব ও যাত্রার সময় বাড়ার পাশাপাশি জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধির আশঙ্কাও তৈরি হয়। পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি পুনর্বহাল হওয়ায় এসব ফ্লাইটের রুট পরিকল্পনায় পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি হয়েছে।     তাইওয়ান পাকিস্তানের এ পদক্ষেপের সমালোচনা করেছে। তবে অনুমতি পুনর্বহালের বিষয়ে দেশটির পক্ষ থেকে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি।     চীনের ‘এক-চীন’ নীতি ঘিরে কূটনৈতিক সমীকরণ চীন তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে এবং ‘এক-চীন’ নীতির আওতায় অন্য দেশগুলোর কাছে তাইওয়ানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক না রাখার প্রত্যাশা করে।      অন্যদিকে, তাইওয়ান নিজস্ব সরকারব্যবস্থার অধীনে পরিচালিত হয় এবং বেইজিংয়ের সার্বভৌমত্বের দাবি প্রত্যাখ্যান করে।     চীনের সঙ্গে পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক, সামরিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডরসহ বিভিন্ন কৌশলগত সহযোগিতা চলমান। এ কারণে তাইওয়ানের বিমান সংস্থাগুলোর আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি নিয়ে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি দুই দেশের সম্পর্ক এবং বেইজিংয়ের ‘এক-চীন’ নীতির প্রভাব নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।     তবে পাকিস্তানের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের পেছনে নির্দিষ্ট কোনো কূটনৈতিক চাপ বা সমঝোতা কাজ করেছে কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

মারিয়া রহমান অক্টোবর ২৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

জাতিসংঘের তথ্যে, আফগানিস্তানে আফিম উৎপাদন বেড়েছে পাঁচ গুণ

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স

ইরানে হামলার প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্রের, শেষ মুহূর্তে ভ্যান্সের চিঠি

এআই নির্মিত প্রতীকী ছবি

ট্রাম্পের হুঁশিয়ারিতে কানাডার ইইউ সদস্যপদ নিয়ে পিছু হটল ইউরোপীয় ইউনিয়ন?

ছবি: সংগৃহীত
ইরানে সম্ভাব্য বড় হামলার প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্রের, সতর্ক করা হলো আরব দেশগুলোকে

ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন শেষ হওয়ার পর ইরানে ব্যাপক মাত্রার সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে ওয়াশিংটন। সম্ভাব্য এই অভিযানের বিষয়ে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি আরব দেশকে আগাম সতর্ক করা হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়ালস্ট্রিট জার্নালের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য হামলা স্বল্প সময়ের হলেও এর তীব্রতা অনেক বেশি হতে পারে। এ কারণে আঞ্চলিক মিত্র দেশগুলোকে সতর্ক থাকার বার্তা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস থেকে ইসরায়েলে একটি প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় রাডার, নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণব্যবস্থা এবং আকাশপথে আসা হুমকি প্রতিহত করার ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে।   একই সঙ্গে ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা হামলার ঝুঁকিতে থাকা কিছু অবস্থান থেকে মার্কিন সেনাদের সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তার বরাতে এ তথ্য জানানো হয়।   মার্কিন সামরিক বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের অস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুত পুনরায় পূরণ করার পাশাপাশি যুদ্ধবিমান এবং বোমারু বিমান প্রস্তুত রাখছে বলে জানা গেছে।   প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সম্ভাব্য অভিযানে অংশ নিতে বিশেষায়িত নৌসেনা ইউনিট ও অতিরিক্ত যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের প্রস্তুতি চলছে। এসব যুদ্ধজাহাজ ইতোমধ্যে ওই অঞ্চলে অবস্থানরত প্রায় ২০টি মার্কিন যুদ্ধজাহাজের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।   তবে সামরিক কৌশলগত কারণে অভিযানের আগে কয়েকটি যুদ্ধজাহাজ সরিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো ইরানে নতুন হামলার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি বলে ওয়ালস্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।   তবে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের লক্ষ্য হিসেবে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও পারমাণবিক স্থাপনাগুলো বিবেচনায় রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।   মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে হামলার সময়সূচি কিংবা সামরিক অভিযানের পরিধি নিশ্চিত করা হয়নি।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান।   তেহরানের পক্ষ থেকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, দেশটির ওপর নতুন করে হামলা চালানো হলে পাল্টা আঘাতের পরিধি আরও বিস্তৃত করা হতে পারে।   এমন পরিস্থিতিতে উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর জ্বালানি অবকাঠামো, বিমানবন্দর এবং অন্যান্য বেসামরিক স্থাপনা হামলার ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে ইরানের হুমকির বিষয়ে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রস্তুতি এবং ইরানের পাল্টা হুঁশিয়ারিতে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।   সূত্র: দ্য ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল ও দ্য জেরুজালেম

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ২৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

পুতিনের মুখে ইলন মাস্কের প্রশংসা

ছবি: সংগৃহীত

বরফ গলছে, বিপর্যয়ের মুখে সুইজারল্যান্ডের আল্পসের অবকাঠামো

ছবি: সংগৃহীত

মিসরে যাত্রীর ব্যাগ থেকে উদ্ধার ৩০টি বিরল প্রজাতির কুমিরছানা

ছবি: সংগৃহীত
করাচি বন্দরে ৬ মাস ধরে দুর্বিষহ জীবন কাটাচ্ছেন ৬ ভারতীয় নাবিক

আট মাস আগে, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি, বিনীত কিশোর মিশ্র চিফ অফিসার হিসেবে 'কেভার' নামের একটি সাধারণ পণ্যবাহী জাহাজে চড়েছিলেন। ইরান ও ওমানের সামুদ্রিক পথ পাড়ি দিয়ে জাহাজটি গত ১৭ এপ্রিল পাকিস্তানের করাচি বন্দরে পৌঁছায়। আর তখন থেকেই বিনীত এবং আরও পাঁচজন ভারতীয় সেই বন্দরে আটকে আছেন। ঘরে ফেরার কোনো নিশ্চয়তা বা স্পষ্ট বার্তা এখনও তাদের কাছে নেই।   মূলত একটি ইরানি কোম্পানি এবং করাচি বন্দর কর্তৃপক্ষের মধ্যকার অভ্যন্তরীণ আর্থিক ও নথিপত্র সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ছয় ভারতীয় নাবিকের জীবনে নেমে এসেছে এই ঘোর অমানিশা। এই বাণিজ্যিক বিরোধের কারণে করাচি বন্দরে জাহাজটিকে জব্দ করা হয় এবং নাবিকদের পাসপোর্ট রেখে দেওয়া হয়।   বিনীতের পরিবার তার নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের কাছে আবেদন জানিয়ে হন্যে হয়ে এক দফতর থেকে অন্য দফতরে ঘুরছেন। বিনীত উত্তর প্রদেশের প্রয়াগরাজের বাসিন্দা এবং দুই সন্তানের জনক।   বিনীতের স্ত্রী নেহা মিশ্র বলেন, ‘আমার সন্তানরা আমাকে জিজ্ঞেস করে, 'মাম্মা, পাপা কবে আসবেন?’ তিনি তাদের খুব সাধারণ একটি জবাব দেন, ‘চলে আসবেন।’   এনডিটিভি-র সাথে আলাপকালে নেহা দাবি করেন, তার স্বামী এবং অন্য নাবিকরা গত ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে করাচি বন্দরে আটকে আছেন এবং তারা কবে মুক্তি পাবেন সে বিষয়ে কোনো নতুন তথ্য নেই।    নেহা বলেন, ‘তিনি ছয় মাসের চুক্তিতে ছিলেন, যা আগস্টে শেষ হয়ে গেছে। তার চুক্তি এবং ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও জাহাজ থেকে তাকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়নি। তার দেশে ফেরার জন্য কোনো ব্যবস্থাও করা হয়নি। তাকে জাহাজ থেকে নামার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না।’    নেহা প্রতি ১৫ থেকে ২০ দিনে একবার তার স্বামীর সাথে মাত্র এক বা দুই মিনিটের জন্য কথা বলার সুযোগ পান। এই সংক্ষিপ্ত ফোনালাপের মাধ্যমেই তিনি জানতে পেরেছেন যে তার স্বামী জাহাজে কতটা কষ্টের মুখোমুখি হচ্ছেন। নেহা আরও যোগ করেন, ‘গত তিন মাস ধরে জাহাজটি সম্পূর্ণ বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছে।’ পরিবারটির দাবি, জাহাজে খাবার ও পানির সরবরাহেও মারাত্মক সমস্যা হচ্ছে।   বিনীতের বাবা সাবেক সেনা কর্মকর্তা ললিত কিশোর মিশ্র বলেন, ‘আমার ছেলে আমাকে জানায় যে তাদের সকালে দুটি বিস্কুট দেওয়া হয়, দুপুরের খাবার আসে বিকেল ৪টায় আর রাতের খাবার আসে প্রায় ১১টায়। জাহাজে কোনো বিদ্যুৎ নেই। তারা অন্ধকারের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।’   নেহা তার শ্বশুরের সাথে একাধিক রাজ্য ও কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের দ্বারস্থ হয়েছেন। কিন্তু সব প্রচেষ্টাই এ পর্যন্ত বৃথা গেছে। তিনি বলেন, তাদের কেবল আশ্বাসই দেওয়া হচ্ছে, কিন্তু বাস্তবে কোনো কাজ হচ্ছে না।   তিনি আরও বলেন, ’আমরা সরকারকে চিঠি লিখেছি, কিন্তু তাদের সাহায্য করার জন্য কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। আমরা চাই তিনি নিরাপদে বাড়ি ফিরে আসুন। বিনীতকে ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করার জন্য আমরা প্রধানমন্ত্রী মোদী, যোগী আদিত্যনাথ এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে আবেদন জানাচ্ছি। আমার দুটি ছোট বাচ্চা আছে। তারা তাদের বাবার জন্য কান্নাকাটি করে।’   পরিবারটি পাকিস্তানের ভারতীয় দূতাবাসের কাছেও বিষয়টি উত্থাপন করেছিল। কিন্তু সেখান থেকেও কোনো সাহায্য মেলেনি। নিরুপায় হয়ে পরিবারটি এখন বিষয়টি তুলে ধরতে দিল্লিতে এসেছে।   ললিত মিশ্র বলেন, ’গত চার দিনে আমরা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, রাষ্ট্রপতির কার্যালয় এবং এমনকি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েও গিয়েছি। আমরা আমাদের আবেদনপত্র জমা দিয়েছি।’ করাচি বন্দরে কেভার নামক পণ্যবাহী জাহাজে বিনীত কিশোর মিশ্রসহ ৬ জন ভারতীয় নাবিক আটকে থাকার ঘটনাটি সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসার পর থেকে ভারত ও পাকিস্তান সরকারের মধ্যে আনুষ্ঠানিক কোনো উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক চুক্তি বা যৌথ উদ্ধার অভিযানের ঘোষণা এখনো পাওয়া যায়নি।   উত্তর প্রদেশের স্থানীয় বিধায়ক এই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নিয়েছেন এবং ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে একটি চিঠি লিখেছেন। আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী, এই ধরনের পরিস্থিতি নিরসনে ভারতের ডিরেক্টরেট জেনারেল অব শিপিং এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট শিপিং কোম্পানি ও এজেন্সির মাধ্যমে আইনি আলোচনা শুরু করার চেষ্টা করছে।   ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার বর্তমান কূটনৈতিক সম্পর্ক অত্যন্ত সীমিত এবং দুই দেশের কোনো রাজধানীতেই বর্তমানে পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্রদূত নেই। ফলে এই ধরনের স্পর্শকাতর বিষয়ে সরাসরি এবং দ্রুত আলোচনা কিছুটা সময়সাপেক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে ভারত সরকার অতীতেও পাকিস্তান বা আন্তর্জাতিক জলসীমায় আটকে পড়া নাবিকদের উদ্ধারে পর্দার আড়ালে সফল কূটনৈতিক আলোচনা চালিয়েছে, তাই পরিবারটি এখন সরকারি হস্তক্ষেপের মাধ্যমে একটি ইতিবাচক সাড়ার অপেক্ষায় রয়েছে।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ২৯, ২০২৬
এআই নির্মিত প্রতীকী ছবি

সহিংস বিক্ষোভে অংশ নিলেই সাড়ে ৭ লাখ টাকা জরিমানা, নতুন আইন আলবেনিয়ায়

সংগৃহীত ছবি

ইউক্রেনের রেলস্টেশনে রুশ ড্রোন হামলায় নিহত ১৩ জন

ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালিতে মাইনের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত তিন তেল ট্যাঙ্কার: আইআরজিসি

0 Comments