শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে তুরস্ক। দেশটিতে এ ভূমিকম্পের প্রভাবে একাধিক ভবন ধসে পড়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, তুরস্কের পশ্চিমাঞ্চলে সোমবার রাতে শক্তিশালী ৬ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এতে আগে থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত অন্তত তিনটি ভবন ও একটি দোতলা দোকান ধসে পড়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
জানা গেছে, ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল বালিকেসির প্রদেশের সিনদিরগি শহরে। স্থানীয় সময় রাত ১০টা ৪৮ মিনিটে এটি আঘাত হানে। তুরস্কের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা এএফএডি জানিয়েছে, ভূমিকম্পের গভীরতা ছিল প্রায় ৬ কিলোমিটার (৩.৭ মাইল)।
ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, কম্পন অনুভূত হয়েছে রাজধানী ইস্তাম্বুল এবং আশপাশের বুরসা, মানিসা ও ইজমির প্রদেশেও। ভূমিকম্পের পর বেশ কয়েকটি আফটারশক অনুভূত হয়েছে।
তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলি ইয়েরলিকায়া জানিয়েছেন, ভূমিকম্পে যেসব ভবন ধসে পড়েছে, সেগুলো আগের কম্পনে ক্ষতিগ্রস্ত ছিল এবং বর্তমানে ফাঁকা ছিল।
বালিকেসির প্রদেশের গভর্নর ইসমাইল উস্তাওগলু জানান, সরাসরি ভবনধসের কারণে কেউ আহত না হলেও, আতঙ্কে দৌড়ে পালানোর সময় ২২ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসক দোগুকান কোয়ুনচু আনাদোলু সংবাদ সংস্থাকে বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর খবর নেই, তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ যাচাই চলছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
ইউক্রেনের কাছে ৫০০টি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রির প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। তবে এসব ক্ষেপণাস্ত্র ইউক্রেনে পৌঁছাতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে বলে সতর্ক করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এ তথ্য জানায়। তবে বিক্রির অনুমোদন চূড়ান্ত করতে প্রস্তাবটি পর্যালোচনার জন্য মার্কিন কংগ্রেসে পাঠানো হবে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইউক্রেনের কর্মকর্তারা অভিযোগ করে আসছেন, রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা মোকাবিলায় ব্যবহৃত আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার জন্য তাদের কাছে থাকা প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত দ্রুত কমে আসছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক বিবৃতিতে বলা হয়, প্রস্তাবিত এ বিক্রির ফলে ইউক্রেনের সমন্বিত আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়বে। এর মাধ্যমে দেশটি বর্তমান ও ভবিষ্যতের হুমকি মোকাবিলায় আরও সক্ষম হবে। তবে এসব অস্ত্র কবে নাগাদ ইউক্রেনে সরবরাহ করা হতে পারে, সে বিষয়ে বিবৃতিতে কোনো সময়সীমা উল্লেখ করা হয়নি। এদিকে, শুক্রবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেন, ‘এই ক্ষেপণাস্ত্রের সরবরাহ শুরু হতে কয়েক বছরও লেগে যেতে পারে।’ তিনি বলেন, ‘যে সময় প্রকৃত বিপদ তৈরি হবে এবং পিএসি-৩ ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের জরুরি প্রয়োজন দেখা দেবে, সেই সময়ের জন্য একটি সমাধান খুঁজে বের করতে আমরা আমাদের মার্কিন অংশীদারদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’ জেলেনস্কির বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় মিত্ররা চাইলে নিজেদের বর্তমান মজুত থেকে ইউক্রেনকে এসব ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করতে পারে। পরে নতুন করে কেনা ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে তাদের মজুত পূরণ করা সম্ভব। রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করতে ইউক্রেনের হাতে থাকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষাব্যবস্থাগুলোর একটি হলো প্যাট্রিয়ট। বিশেষ করে আকাশ থেকে ছোড়া বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে এ ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘প্রস্তাবিত এ অস্ত্র বিক্রি ইউরোপে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় ভূমিকা রাখা একটি অংশীদার দেশের নিরাপত্তা জোরদার করবে। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার লক্ষ্যও এগিয়ে যাবে।’ চলতি মাসের শুরুতে রাশিয়ার সঙ্গে ডিজেল জ্বালানি সরবরাহসংক্রান্ত একটি চুক্তি করে ওয়াশিংটন। এরপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের মধ্যে সম্পর্কে উত্তেজনা দেখা দেয়। এ ছাড়া ইউক্রেনের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র তাদের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ সীমিত করছে এবং গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানের কিছু কার্যক্রম বন্ধ রেখেছে। তবে গত ২০ অক্টোবর নরওয়ের রাজধানী অসলোতে মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে জেলেনস্কির বৈঠকের পর দুই দেশের সম্পর্কে কিছুটা উত্তেজনা কমে আসে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রির পুরো ব্যয় ইউক্রেনের মিত্রদেশগুলোর দেওয়া অর্থায়ন থেকে মেটানো হবে। এ জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব তহবিল ব্যবহার করা হবে না।
ইয়েমেনে সৌদি আরব-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে হুতিদের গোপনে গোয়েন্দা তথ্য ও সামরিক সহায়তা দিচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত দেশটি সরাসরি সৌদি আরবের বিরোধী পক্ষকে সহায়তা করছে বলে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যম ড্রপ সাইট নিউজ। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত চারটি সূত্রের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আমিরাত-সমর্থিত ইয়েমেনি সামরিক গোষ্ঠীগুলো হুতিদের লক্ষ্য নির্ধারণে সহায়তা করছে। এমনকি আমিরাতের পক্ষ থেকেও সরাসরি গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, আমিরাতের সঙ্গে হুতিদের যোগাযোগের একটি গোপন চ্যানেল এখনো সক্রিয় রয়েছে। ইয়েমেনের একজন সূত্রের দাবি, সানা-ভিত্তিক প্রশাসনের কাছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ গোয়েন্দা তথ্য পাঠিয়েছে আবুধাবি। আমিরাত-সমর্থিত সামরিক কমান্ডারদের সঙ্গে যোগাযোগের নিজস্ব ব্যবস্থাও গড়ে তুলেছে হুতিরা। তবে এই সহায়তা মূলত ইয়েমেনের অভ্যন্তরে সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর অবস্থান শনাক্ত ও লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। সৌদি আরবের ভেতরে হামলার জন্য গোয়েন্দা সহায়তা দেওয়া হচ্ছে না বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, আমিরাতের এই গোপন তৎপরতার বিষয়ে অবগত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রও। সম্প্রতি এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা আবুধাবিকে সতর্ক করে বলেছেন, ওয়াশিংটন বিষয়টি জানতে পেরেছে এবং এ ধরনের সহায়তা বন্ধ করা উচিত। তবে সূত্রগুলোর দাবি, গোয়েন্দা সহযোগিতা এখনো অব্যাহত রয়েছে। ইয়েমেনে সাম্প্রতিক সংঘাত পরিস্থিতি এই সমীকরণকে আরও জটিল করেছে। গত মাসে ইরান-সমর্থিত আনসারুল্লাহ বাহিনী লোহিত সাগর উপকূলে দ্রুত সামরিক অভিযান চালিয়ে সৌদি-সমর্থিত বাহিনীকে পিছু হটতে বাধ্য করে। এতে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌ-বাণিজ্যপথ বাব আল-মান্দেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে চলে যায়। এরপর থেকে সৌদি আরব সানা ও হুতিদের নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন এলাকায় বিমান হামলা চালাচ্ছে। পাল্টা জবাবে সৌদি ভূখণ্ডেও হামলা চালিয়েছে হুতিরা। আমিরাতের এই অবস্থানের পেছনে সৌদি আরবের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বিরোধ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ২০১৫ সালে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে দুই দেশ একসঙ্গে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটে অংশ নেয়। তবে যুদ্ধের লক্ষ্য ও রাজনৈতিক স্বার্থ নিয়ে শুরু থেকেই তাদের মধ্যে মতপার্থক্য ছিল। আমিরাত মূলত দক্ষিণ ইয়েমেনে নিজেদের প্রভাব প্রতিষ্ঠা এবং মুসলিম ব্রাদারহুড-সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক শক্তি ইস্লাহ পার্টিকে দুর্বল করার দিকে বেশি গুরুত্ব দেয়। এ লক্ষ্যেই ২০১৭ সালে দক্ষিণ ইয়েমেনের বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (এসটিসি) গঠনে সহায়তা করে দেশটি। গত বছরের ডিসেম্বরে আমিরাত-সমর্থিত বাহিনীর সঙ্গে সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি আরও অবনতি হয়। সৌদি আরবের সামরিক অভিযানের মুখে আমিরাতকে ইয়েমেন থেকে সরে যেতে হয়। ফলে দেশটির প্রভাবিত অনেক সামরিক ইউনিট এখনো সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর সঙ্গে পুরোপুরি সমন্বিত হয়নি। তবে আমিরাতের পক্ষ থেকে হুতিদের সহায়তার অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। এসটিসির প্রতিনিধি আমর আল-বাইধ জানিয়েছেন, তাদের বাহিনীর হুতিদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ নেই। অন্যদিকে আনসারুল্লাহর জ্যেষ্ঠ নেতা মোহাম্মদ আল-বুখাইতি বলেছেন, আমিরাত নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখেছে। এদিকে, জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গত ১ আগস্ট থেকে সংঘাত বেড়ে যাওয়ায় ইয়েমেনে আড়াই লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। তায়েজ অঞ্চলে ছয় লাখের বেশি মানুষের কাছে মানবিক সহায়তা পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি। বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরব ও আমিরাতের স্বার্থের সংঘাত ইয়েমেনের যুদ্ধকে আরও জটিল করে তুলছে। এর ফলে শুধু আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য নয়, লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালির আন্তর্জাতিক নৌ-বাণিজ্যও নতুন ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। সূত্র : ড্রপ সাইট নিউজ
যুক্তরাজ্যে পড়তে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছেন এমন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বড় খবর নিয়ে এসেছে দেশটির সরকার। আগামী ৩০ নভেম্বর থেকে স্টুডেন্ট ভিসা পাওয়ার নিয়মে কিছু পরিবর্তন আসছে। সহজ কথায় বলতে গেলে, এখন থেকে যুক্তরাজ্যে টিকে থাকতে হলে পকেটে আগের চেয়ে একটু বেশি টাকা থাকতে হবে। কী কী পরিবর্তন আসছে এবং শিক্ষার্থীদের জন্য এর মানে কী, চলুন এক নজরে দেখে নেওয়া যাক: খরচ বাড়ল লন্ডনে আপনি যদি লন্ডনের ভেতরে পড়াশোনা করার পরিকল্পনা করে থাকেন, তবে জীবনযাত্রার খরচ হিসেবে প্রতি মাসে ১,৫২৯ পাউন্ডের জায়গায় দেখাতে হবে ১,৫৭০ পাউন্ড। নিয়ম অনুযায়ী সাধারণত সর্বোচ্চ ৯ মাসের হিসাব দেখাতে হয়। ফলে আগের ১৩,৭৬১ পাউন্ডের জায়গায় এখন দেখাতে হবে ১৪,১৮০ পাউন্ড। সব মিলিয়ে এক বছরে আপনার খরচ বাড়ছে ৩৬৯ পাউন্ড। লন্ডনের বাইরেও বেড়েছে খরচ লন্ডনের বাইরে একটু কম খরচে পড়াশোনা করবেন ভাবছেন? সেখানেও কিন্তু খরচ কিছুটা বাড়ছে। এতদিন প্রতি মাসে ১,১৭১ পাউন্ড দেখাতে হতো, যা বেড়ে এখন থেকে হবে ১,২০৩ পাউন্ড। ৯ মাসের হিসাবে এই অঙ্কটা ১০,৫৩৯ পাউন্ড থেকে বেড়ে ১০,৮২৭ পাউন্ডে গিয়ে ঠেকবে। অর্থাৎ, লন্ডনের বাইরের শিক্ষার্থীদের জন্য বছরে অতিরিক্ত ২৮৮ পাউন্ড বেশি দেখাতে হবে। টাকার হিসাবটা কীভাবে করবেন? এখানে একটা বিষয় পরিষ্কার রাখা ভালো—জীবনযাত্রার এই বাড়তি খরচ কিন্তু আপনার ইউনিভার্সিটির টিউশন ফির সাথে কোনোভাবেই যুক্ত নয়। টিউশন ফি আপনাকে সম্পূর্ণ আলাদাভাবে দিতে হবে। এর বাইরে ভিসার আবেদন করার ফি এবং হেলথ সারচার্জের খরচ তো আছেই। তাই যুক্তরাজ্যে যাওয়ার মোট বাজেট কষার সময় এই সবগুলো হিসাব আলাদা করে মাথায় রাখতে হবে। টাকা দেখানোর নিয়মকানুন আপনি যদি আগামী ৩০ নভেম্বর কিংবা তার পরে ভিসার জন্য আবেদন করেন, তবেই নতুন এই বর্ধিত নিয়মটি আপনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। ভিসার আবেদন করার আগে আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে এই পুরো টাকাটা টানা ২৮ দিন ঠিকঠাক থাকতে হবে। টাকা কার অ্যাকাউন্টে থাকতে হবে? চিন্তার কিছু নেই, এই টাকা আপনার নিজের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে থাকতে পারে, আবার আপনার বাবা-মায়ের অ্যাকাউন্টেও থাকতে পারে। এছাড়া ব্যাংক ব্যালেন্স ছাড়াও আপনি চাইলে স্টুডেন্ট লোন বা অফিশিয়াল কোনো স্পনসরশিপের কাগজপত্রের ওপর ভরসা করতে পারেন। তবে হ্যাঁ, আপনি যদি ইতোমধ্যে বৈধভাবে অন্তত এক বছর ধরে যুক্তরাজ্যেই বসবাস করে থাকেন, তবে নতুন করে এই আর্থিক প্রমাণ দেখানোর ঝক্কি সাধারণত পোহাতে হবে না। সূত্র: দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট