রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন বলেছেন, জুলাই যোদ্ধাদের আত্মত্যাগ জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার পাশাপাশি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও এগিয়ে নেওয়ার পথকে সুগম করেছে।
সোমবার বঙ্গভবনে এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় তার সঙ্গে ন্যাশনাল ডিফেন্স কোর্স ও আর্মড ফোর্সেস ওয়ার কোর্সের প্রতিনিধি দল সৌজন্য সাক্ষাৎ করে।
সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি উপস্থিত অতিথিদের উদ্দেশ্যে দেওয়া বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধে বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান ও ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করেন।
তিনি বলেন, জুলাই যোদ্ধাদের এ আত্মত্যাগ আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাওয়ার পথকে সুগম করেছে।
রাষ্ট্রপতি মুক্তিযুদ্ধ, জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশন, পার্বত্য এলাকায় শান্তি প্রতিষ্ঠায় সশস্ত্রবাহিনীর আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জানান। বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষাসহ যেকোনো সংকট ও দুর্যোগ মোকাবিলা এবং বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় সশস্ত্রবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথাও তুলে ধরেন তিনি।
এ সময় কোর্সে অংশগ্রহণকারী সদস্যদের পেশাদারিত্ব বজায় রেখে কাজ করার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি।
অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আদিল চৌধুরী, জন বিভাগের সচিব খান মো. নুরুল আমিনসহ সশস্ত্র বাহিনী ও রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়া ৪ লাখ ২২ হাজার ৯০৫ শিক্ষার্থীর পরীক্ষা আগামী এক মাসের মধ্যে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। শিক্ষার্থীদের যেন অতিরিক্ত আরও একটি বছর অপেক্ষা করতে না হয়, সে লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন। শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এবারের পরীক্ষায় এক বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে ২ লাখ ৯৮ হাজার ৪০ জন এবং দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে ১ লাখ ২৪ হাজার ৮৬৫ জন। সব মিলিয়ে এক বা দুই বিষয়ে ফেল করা শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪ লাখ ২২ হাজার ৯০৫। এবার মোট অকৃতকার্য হয়েছে ৫ লাখ ৯৪ হাজার ৪১৩ জন। তিনি জানান, এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের এক মাসের মধ্যে পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে পরীক্ষার নির্দিষ্ট সময়সূচি নির্ধারণের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হবে। সাত বা ১৫ দিনের মধ্যে পরীক্ষা নিলে প্রস্তুতির ঘাটতি থাকতে পারে। আবার বেশি দেরি হলে ভর্তি কার্যক্রমে সমস্যা তৈরি হতে পারে। তাই এক মাসের বেশি সময় দেওয়ার সুযোগ নেই বলে জানান তিনি। শিক্ষামন্ত্রী জানান, এসএসসি পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আগামী ১ থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত আবেদন করা যাবে। আবেদন পাওয়ার পর খাতা পুনর্নিরীক্ষণ করা হবে। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত বছর প্রায় ১৩ লাখ খাতা পুনর্নিরীক্ষণের জন্য জমা পড়েছিল। যাচাই শেষে ৪৫ হাজার শিক্ষার্থীর গ্রেড পরিবর্তন হয়। তাদের মধ্যে প্রায় ৫ হাজার শিক্ষার্থী ফেল থেকে পাস করে এবং ৩ হাজার ৭৯ জন নতুন করে জিপিএ-৫ পায়। পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন ও ফল প্রকাশে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পরীক্ষকদের প্রশিক্ষণ এবং খাতা মূল্যায়নে গুরুতর ভুল হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রতিটি শিক্ষার্থী যেন তার প্রাপ্য ফল পায়, তা নিশ্চিত করতে কাজ চলছে। এবার এসএসসি পরীক্ষায় পাসের হার কমে ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ হয়েছে। গত বছর এ হার ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ। পাসের হার কমে যাওয়াকে সন্তোষজনক মনে করেন না বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের শেখার পদ্ধতি, অভিভাবকদের ভূমিকা ও শিক্ষার পরিবেশসহ বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা হবে। এ ক্ষেত্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, শিক্ষা বোর্ড, শিক্ষক ও অভিভাবকদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে। বিষয়ভিত্তিক ফলাফল সম্পর্কে তিনি জানান, ইংরেজিতে ২ লাখ ৪৩ হাজার ৫২৮ জন এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ে ১৩ হাজার ৮৪৯ জন অকৃতকার্য হয়েছে। ইংরেজি বিষয়ে শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা কমাতে শিক্ষক প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এবার শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও বেড়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের অবস্থা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনে আশপাশের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একীভূত করার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। তবে এতে শিক্ষকদের চাকরি হারানোর আশঙ্কা নেই বলে তিনি আশ্বস্ত করেন। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত থাকা, বাড়িতে পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং মোবাইল আসক্তি ও মাদক থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান তিনি। আগের বছরগুলোতে পাসের হার বেশি থাকার বিষয়টি নিয়েও পর্যালোচনা করা হবে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী। খাতা মূল্যায়ন, পরীক্ষক ও শিক্ষকদের ভূমিকা এবং ফল প্রকাশের প্রক্রিয়ায় কোনো ত্রুটি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ মিলিয়ে এবার প্রায় ১৩ লাখ ৪০ হাজার আসন রয়েছে, যেখানে পাস করেছে প্রায় ১২ লাখ শিক্ষার্থী। ভর্তি নীতিমালা ও শিক্ষার্থীদের যোগ্যতা নির্ধারণ সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব বিষয় হলেও শিক্ষার্থীদের ভর্তির সুযোগ নিশ্চিত করার কথা জানান তিনি। এ ছাড়া প্রশ্নপত্র পরিবর্তন এবং সংঘবদ্ধভাবে ফল পরিবর্তনের অপচেষ্টার কিছু ঘটনা শনাক্ত হয়েছে বলে দাবি করেন শিক্ষামন্ত্রী। এসব অভিযোগের পাশাপাশি পরীক্ষা পদ্ধতি, শিক্ষা বোর্ড ও খাতা মূল্যায়নের দুর্বলতাগুলোও পর্যায়ক্রমে খতিয়ে দেখা হবে বলে জানান তিনি।
সরকারকে সময় থাকতে সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ। তিনি বলেছেন, সরকারের ভুল সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ডের চূড়ান্ত দায় প্রধানমন্ত্রীকেই নিতে হবে। সংকট তৈরি হলে বর্তমানে যারা সরকারের পাশে রয়েছেন, তাদের অনেকেই দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে পারেন। শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-খুলনা-ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন। অলি আহমেদ বলেন, দেশের প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাকে কার্যকর করতে হলে প্রতিটি দপ্তর ও পদের জন্য সুনির্দিষ্ট নিয়মনীতি থাকা প্রয়োজন। শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা ছাড়া কোনো দেশের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। তিনি ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের উদাহরণ টেনে বলেন, এসব দেশে রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যক্তি পরিবর্তনের চেয়ে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার কার্যকারিতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বাংলাদেশে সেই ব্যবস্থা যথাযথভাবে গড়ে ওঠেনি বলে মন্তব্য করেন তিনি। বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় সরকার কার্যালয়ে বিএনপির দলীয় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ তোলেন এলডিপি চেয়ারম্যান। তার দাবি, জেলা কার্যালয়, জেলা পরিষদ, বিভিন্ন করপোরেশন, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভায় দলীয় প্রভাব তৈরি হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সরকারি দরপত্র নিয়ন্ত্রণ এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। অলি আহমেদ বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয় প্রভাবমুক্ত রেখে নিয়ম ও নীতিমালার ভিত্তিতে পরিচালনা করা প্রয়োজন। অন্যথায় প্রশাসনিক কার্যক্রমের স্বাভাবিক গতি বাধাগ্রস্ত হবে। প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে অলি আহমেদ বলেন, সরকার পরিচালনায় একের পর এক ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে শেষ পর্যন্ত তার দায় নেতৃত্বকেই বহন করতে হবে। তাই পরিস্থিতি জটিল হওয়ার আগেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। তিনি ১৯৯৬ সালের রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে বলেন, অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়া প্রয়োজন। তৎকালীন রাজনৈতিক সংকটের পুনরাবৃত্তি এড়াতে সরকারকে বিরোধী দলের বক্তব্য ও পরামর্শ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করার আহ্বান জানান তিনি। অলি আহমেদ বলেন, বিরোধী দলের দায়িত্ব হচ্ছে সরকারকে সঠিক পথে পরিচালিত হতে সহায়তা করা এবং ভুলত্রুটি তুলে ধরা। তবে সরকার পরামর্শ গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি। সরকারকে দক্ষ, অভিজ্ঞ ও যোগ্য ব্যক্তিদের পরামর্শ নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন এলডিপি চেয়ারম্যান। তার মতে, দেশের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা ও দক্ষতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, দেশের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, প্রশাসনিক ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং জনগণের শান্তি নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত সরকারের প্রধান লক্ষ্য। বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে অলি আহমেদ আবারও প্রধানমন্ত্রীকে সতর্ক করে বলেন, সময় থাকতে ভুল সংশোধন না করলে ভবিষ্যতে সরকারকে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতে পারে। সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, এবি পার্টির সভাপতি মজিবুর রহমান মঞ্জু, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধানসহ ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন দলের শীর্ষ নেতারা।
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে বিএনপির অবস্থানের কঠোর সমালোচনা করেছেন আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ক্ষমতায় থেকেও গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে জনগণ বিএনপিকে বিশ্বাসঘাতক হিসেবে চিহ্নিত করবে। শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেটে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-খুলনা-ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা নিয়ে জুলাই সনদ প্রণয়ন করা হয়েছে। ক্ষমতাসীন বিএনপি এই সনদ বাস্তবায়ন না করলে জনগণের আস্থা হারাবে। একই সঙ্গে কোনো কারণে সরকারকে ক্ষমতা ছাড়তে হলে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য ব্যর্থ হওয়ার দায়ও তাদের বহন করতে হবে। গণভোটে চার কোটি মানুষের অংশগ্রহণের কথা উল্লেখ করে এবি পার্টির চেয়ারম্যান অভিযোগ করেন, বিএনপি জুলাই সনদের বাস্তবায়ন নিয়ে নানা জটিলতা তৈরি করছে। গণভোটে অংশ নেওয়া জনগণের দাবিকে সামনে রেখে বৃহত্তর ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, জুলাই সনদ কেবল একটি লিখিত দলিল নয়; এটি জনগণের দীর্ঘ সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের প্রতিফলন। সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে আবারও রাজপথে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মজিবুর রহমান মঞ্জু। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও তার দৃশ্যমান বাস্তবায়ন হয়নি। দেশের শিল্প খাতের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি দাবি করেন, সংসদে বাণিজ্যমন্ত্রী চার শতাধিক কারখানা বন্ধ হওয়ার তথ্য দিয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে সরকারের কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি কতটা বাস্তবসম্মত, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। বিএনপির সাংগঠনিক পরিস্থিতি নিয়ে সমালোচনা করে মঞ্জু দাবি করেন, দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে ইতোমধ্যে প্রায় আট হাজার নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করতে হয়েছে। পাশাপাশি দলটির অভ্যন্তরীণ সংঘাতে প্রাণহানির ঘটনাও বেড়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। আওয়ামী লীগের অতীত শাসনামলের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা করে তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর আচরণ ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে পরিবর্তন না এলে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ সম্ভব হবে না। সমাবেশে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্ভাব্য দেশে ফেরা প্রসঙ্গেও বক্তব্য দেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান। তিনি জুলাইয়ের ঘটনাবলির স্মৃতি তুলে ধরে শেখ হাসিনাকে দ্রুত দেশে ফেরার আহ্বান জানান। চলমান লংমার্চের পর আন্দোলনের পরবর্তী ধাপ হিসেবে রাজধানীতে বড় ধরনের সমাবেশ আয়োজনের পরিকল্পনার কথা জানান মজিবুর রহমান মঞ্জু। দাবি আদায়ে অতীতে বিএনপির পালন করা বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচির আদলেও আন্দোলন গড়ে তোলার ইঙ্গিত দেন তিনি। তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনে নিহত ও আহত ব্যক্তিদের আত্মত্যাগের সঙ্গে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। সমাবেশে বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।